নারুতো (একটা প্রায় বায়াসড রিভিউ টাইপ লেখা) – Shafiul Munir

ফুটবল খেলায় হাফ টাইমে ৩-০ গোলে পিছিয়ে আছি, প্রতিপক্ষ একের পর এক আক্রমণ করছে, আমরা একটুও পেরে উঠছি না, সামনে হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। কি করব? হাল ছেড়ে দেব পরাজয় মেনে? নাকি অসম্ভবকে চ্যালেঞ্জ করে কোন বাধাকে পরোয়া না করে এগিয়ে যাব ‘হার না মানা’ মনোবল নিয়ে?

একের পর এক পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে, টিউশন পাওয়া যাচ্ছে না, যাকে খুব ভালো ফ্রেন্ড ভাবতেন সেও দূরে সরে যাচ্ছে, যেটা করছেন সেটাতেই লুজার হচ্ছেন, জীবনের প্রতিটি প্রান্তে কুয়াশা ঢাকা অশুভের ছায়ায় দিশেহারা। কি করব? কি করবেন? সবকিছু ছেড়ে বনে বাদাড়ে চলে যেতে পারেন, আত্মহত্যা করতে পারেন, হতাশ হয়ে মদ-গাজায় দুঃখ ভুলতে পারেন, কিংবা উজুমাকি নারুতোর মত নিয়তির নিষ্ঠুরতা আর চারপাশের প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলে উঠতে পারেন, “Give up trying to make me give up.”

শুধু মনোবলের দৃঢ়তা নয়, আছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ট্যালেন্টের সুউচ্চ দেয়ালকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া, অসম্ভব টার্গেটকে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে বিশ্বাস করে প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া। একটা এনিমে ক্যারেক্টার এভাবেই আমাদের নিতান্ত তুচ্ছ অবমানবতা আর মানবতার সন্ধিস্থলে নিয়ে আসতে পারে অতিমানবীয় দৃঢ়তা, আর হয়ত সত্যিই বদলে দিতে পারে অনেকগুলো জীবন। আমার কাছে তাই নারুতো এনিমেটা শুধু একটা ফিকশন নয়, আর নারুতো একটা কাল্পনিক নিনজা নয়, আমার প্রতিদিনের জীবনে একটা বিশাল অনুপ্রেরণা আর আইডল। সামুরাই এক্স, ডিবিজেড আর পোকেমন দিয়ে শুরু করলেও আমার এনিমে জগতের প্রথম প্রেম নারুতো, এরপর দেখেছি আরো অনেক ভালো কিছু এনিমেও, কিন্তু প্রথম ভালবাসায় আজো কেউ ভাগ বসাতে পারে নি।

যদি ফাইটিং আর কাহিনীর ব্যাপকতা ও সৌন্দর্য্যের কথা বলা হয় তাহলে সবসময় আসবে বিগ থ্রির সবচেয়ে বেশি সমালোচিত এই এনিমেটি, সমালোচনাগুলো যথেষ্ট যোক্তিক, বর্তমান নারুতো শিপ্পুডেনের নাম এখন অনেকে বলে থাকেন ফিলার শিপ্পুডেন কিংবা উচিহা শিপ্পুডেন। মূল কারণ, একের পর এক বিশাল বিশাল সব ফিলার আর কাহিনী নিয়ে অদ্ভুতভাবে ক্রমাগত মোচরানো। মূল চরিত্র নারুতোর চাইতে যেন উচিহারাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে একটা সময় পর, আর একদম বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে সেটাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই। তবে একদিকে যেমন সাসকে, মাদারা, ওবিতো কিংবা ইটাচির মত উচিহারা আছে, তেমনি ছিল/আছে কাকাশি, জিরাইয়া, গারা, হাশিরামা, বি, সুনাদে, শিকামারু বা অন্যান্যরা।, এই যে এত্তগুলো চরিত্র একসাথে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারাটাই, সম্ভবত এখানেই নারুতোর মূল সার্থকতা।

নারুতো ২০১৪ তে শেষ হতে যাচ্ছে। কিশি ফুরিয়ে গেছেন, তিনি এখন গাজা খেয়ে লিখেন, তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের ক্যারেক্টার স্টুপিড সাসকে, তার কাছে ভালো আর কি আশা করা যায়? তবে তারপর আমি এটাও ভাবি যে লোকটা এত্ত অসাধারণ সব প্লট সৃষ্টি করেছে, ইটাচি, জিরাইয়া, শিকামারু, মাদারা, কাকাশিদের মত অস্থির সব ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছেন, লি-গারা, নারুতো-নেজি, নারুতো-গারা, পেইন-নারুতো, ইটাচি-সাসকে সহ অসংখ্য অস্থির লেভেলের ফাইটিং সিন দেখেয়িছেন তার কাছ থেকে একটা ভয়ংকর সুন্দর আর অদ্ভুত সমাপ্তি আশা করাটা কি খুব বেশি আশা করা??

যাই হোক, আমি খুব খুশি এবং কৃতজ্ঞ যে এরকম একটা জিনিস আমি আমার জীবনে দেখে যেতে পেরেছি।

Comments