ব্যাটল রয়াল মাঙ্গা প্লাস মুভি রিভিউ – Torsha Fariha

মাঙ্গা- ব্যাটল রয়াল
ভলিউম- ১৫ (প্রতি ভলিউমে ৮ টা করে চ্যাপ্টার)
জানরা- Dystopian, thriller, horror Alternative history.
মুভি- ১১৩ মিনিট (অরিজিনাল রিলিজ)
ডিরেক্টর- কিনজি ফুকাসাকু।

১৯৯৬ সালে কউশুন তাকামি একটি নভেল লেখেন ‘ব্যাটল রয়াল’ নামে। যদিও সেটা ১৯৯৯ সালের আগে পাবলিশ করা যায় নি। যার পেছনে একটা কারণ ছিল এর কন্টেন্ট। এমনকি এই নভেলটা ১৯৯৭ সালে এক হরর বই কন্টেন্টের ফাইনাল রাউন্ড থেকে রিজেক্ট করা হয়। কারণ যেই একই- বই এর কন্টেন্ট। 

সবার আগ্রহ হতেই পারে কি সেই বিষয়বস্তু যা এত কন্ট্রোভার্সির জন্ম দিয়েছে সেই সময়।

সে এক কাল্পনিক সময়ের কথা। জাপান তখন রিপাবলিক অফ গ্রেটার ইস্ট এশিয়ার মেম্বার। Shiroiwa junior high school এর এক সেকশন ভর্তি ছেলে মেয়েকে স্টাডি ট্যুরের নাম করে স্কুল অথরিটি নিয়ে যায় একটা জনমানুষ শূন্য দ্বীপে। 

সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারে একটা মিলিটারি রিসার্চ প্রজেক্টে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। রিসার্চের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া- যাতে তারা কোন ধরণের অর্গানাইজড বিদ্রোহের কথা মাথায় না আনতে পারে। প্রত্যেক বছর খুব গোপনীয়তার সাথে কোন স্কুলের কোন সেকশান এই প্রোগ্রামে অংশ নিবে সেটা ঠিক করা হয়। 

তো এই প্রজেক্টে (গেইম বলা বেশি যুক্তিযুক্ত) তাদেরকে এই দ্বীপের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। প্রত্যেকের মূল লক্ষ্য থাকবে সারভাইভাল। সেটা প্রতিকূল পরিবেশের জন্য না বরং তাদের এতদিনের ক্লাসমেটদের জন্য। কারণ তাদের প্রত্যেকের টাস্ক হচ্ছে – একে অপরকে খুন করা। ততক্ষণ পর্যন্ত- যতক্ষণ না শুধু একজন বেঁচে থাকে। 

এটা এমন একটা গেইম যেখান থেকে কোন এস্কেপ নেই- এমনকি কেউ যদি চায়ও সে আর তার ফ্রেন্ড শুধু বেঁচে থাকবে – সেটাও সম্ভব না। একটা ট্র্যাকিং ডিভাইস সবসময় তাদের গলায় মেটাল কলার হিসেবে লাগানো থাকে। আমাদের নায়ক Shuya nanahara আর নায়িকা noriko nakagawa. পুরো কাহিনীতে আমরা দেখতে পাব কিভাবে তারা এই জটিল পরিস্থিতির ভেতর নিজেদের রক্ষার করছে। সেই সাথে আছে ক্লাসের অন্যান্যদের কাহিনীও।

সংক্ষেপে এটাই ব্যাটল রয়ালের কাহিনী। কাহিনী পড়ে কি সাম্প্রতিক কালের হাঙ্গার গেইমসের কথা মনে পড়ছে? খুব স্বাভাবিক। উইকি পড়লে সহজেই জানতে পারবেন মুভিটা রিলিজ হওয়ার পর একটা জোর সমালোচনা উঠেছিল আইডিয়া নকলের অভিযোগে। যদিও লেখিকা বলেছেন সমালোচনার আগে তিনি ‘ব্যাটল রয়াল’ এর নামই জানতেন না।  

অবশ্য এটা নতুন না। ক্রিটিকরা এরকম আরো কিছু মুভির ভেতর ব্যাটল রয়ালের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষ্য করেন। যেমন- কিল থিওরি, দ্য টুর্নামেন্ট, গান্টজ আর একটা ভিডিও গেইম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড এন্ডস উইথ ইউ’। আসলে তাকামির বইয়ের আইডিয়া এত বেশি মৌলিক যে সেটা ক্রিটিকরা লক্ষ্য না করে পারেননি। (ব্যাটল রয়ালের সাথে কিঞ্চিৎ একটা সিমিলারটি আছে স্টিফেন কিং এর ‘লং রান’ এর। স্টিফেন কিং সেটা নিজে বলেন। অবশ্য মিলটা খুবই অল্প। বই এর কাহিনী পড়ে আমার তাই মনে হয়েছে। কিং নিজেও পরে বলেছেন এটা তেমন কোন ম্যাটার না।) 
এবার আসি জনপ্রিয়তার কথায়। এটা সেসময়ের একটা বেস্ট সেলার বই ছিল – তার এমন বিষয়বস্তু থাকার কারণেও। উইকিতে সেসব বিশদ আছে। সেই নভেল ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, ইটালিয়ান,হাঙ্গেরিয়ান, রাশিয়ান- এরকম বহু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।

মাঙ্গা এডাপ্টেশনের কথায় আসি। এই নভেলের মাঙ্গা নভেলের লেখক নিজেই লিখেছেন। তিনি তার এ সম্পর্কে বলেছেন – নভেলের চেয়ে আরো বেশি বিস্তৃত মাঙ্গাটা। প্রত্যেকটি চরিত্রের উপর প্রায় সমান নজর দেয়া হয়েছে- তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে সারভাইভাল- সব। 
এটা সত্যি যে আমি মাঙ্গা পড়ি নাই। উইকি ঘেঁটে কথাগুলা বললাম।

এবার মুভির কথা। মুভি নিয়ে কথা বলার আগে আমি একটা জিনিস উল্লেখ করতে চাই। সেটা হল মুভিটা ঠিক নভেলের মতই সুন্দর। অনেক সময় মুভিতে যেটা হয় অনেক কাহিনী বাদ পড়ে যায় যেটা অনেকেই পছন্দ করেননা। এখানেও একই জিনিস হয়েছে তবে পার্থক্য আছে। মেকিংটা এত সুন্দর আর বাস্তবসম্মত যে কোন খুঁত ধরার অবকাশই থাকে না। (মুভির IMDb রেটিং ৭.৮)
মুভিটা আমি দেখেছি এবং এটা আমার খুব পছন্দের। আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই এই মুভিটা বিখ্যাত ডিরেক্টর টারান্টিনোর খুব পছন্দের। তিনি এই মুভিটা সতেরো বার দেখেছেন এবং উল্লেখ করেছেন এই মুভির মেকিং এবং কাহিনী তাঁকে খুব ইন্সপায়ার করেছে।

তাই বলছি কেউ যদি মাঙ্গা নাও পড়েন অ্যাটলিস্ট মুভিটা দেইখেন। যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। 
কেন দেখবেন/পড়বেন- কারণটা হল কাহিনীটা খুবই মৌলিক। অনেকটা সেই মধ্যযুগের গ্রিক গ্ল্যাডিয়েটরদের গেইমের মত। পার্থক্য আছে অবশ্য। ওরা ছিল গ্ল্যাডিয়েটর যারা নিজেদের পেশাই করে নিয়েছিল সেটা। আর এদিকে কিছু টিনএজ ছেলেপিলে যারা একটু আগ পর্যন্তও বন্ধু ছিল একে অপরের। এবং এই কারণেই কাহিনীটা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর, কৌতূহল উদ্দীপক। একদিকে নিষ্ঠুরতা অপরদিকে ফ্রেন্ডশিপ, প্রেম – সবার উপরে এক অমোঘ নিয়তি- সব মিলিয়ে যেমন অস্বস্তিকর তেমনই খুব মানবিক এক কাহিনী। নিজেকে ওদের জায়গায় কল্পনা করে আপনার গা শিউরে উঠবে একই সাথে কৌতূহলও জাগবে ‘শেষে কি হল?’

কেন দেখবেন/পড়বেন না- সত্যি বলতে একটা সেইরকম হরর মুভিও আপনার মনে এতটা ছাপ ফেলবে না- যতটা ফেলবে ‘ব্যাটল রয়াল’। মুভিতে প্রচুর ভায়োলেন্স সীন আছে যেগুলো দেখলে সত্যি গা গুলায় আসে। manga is far more sexually graphic than the novel and film versions, but like them, is noted for its intense, gory violence. তাই যারা এসব সহ্য করতে পারেননা তাদের না দেখাই বা পড়াই ভালো।

ব্যাটল রয়াল নিয়ে আমার অনুভূতির কথা বলি। আমি এক সকালে মুভিটা দেখে মিশ্র একটা অনুভূতি হয়েছিল। একই সাথে রাগ, ঘৃণা, ভয় – এই তিনটা এক সাথে কাজ করেছিল আমার উপর। এবং শেষ হওয়ার পর সত্যি মনে হচ্ছিল আমি যেন এই মাত্র সেই দ্বীপ থেকে আমার বাসায় এসে পড়লাম। একটা মুভি কতটা গভীরেই না মানুষকে নিয়ে যেতে পারে! 

হুট করে আমাদের মত কাউকে যখন এরকম জীবন- মৃত্যুর একটা খেলায় নামিয়ে দেয়া হবে তখন আমাদের মধ্যে কিছু স্বাভাবিক রিফ্লেক্স কাজ করবে। এই রিফ্লেক্স পারসোনালিটি অনুযায়ী ভ্যারি করে। কেউ শুরু থেকেই পাগলের মত কাউকে মারা শুরু করবে, কেউ গা ঢাকা দেবে, কেউ অপেক্ষা করবে বাকিরা কখন শেষ হবে , কেউ এই চাপ সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করবে, কেউ কেউ যৌথ বাহিনীর গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে অবিশ্বাস আর প্যানিকের মধ্যে একজন আরেকজনকে খুন করবে আর কেউ হয়তো নিজের চরিত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা খুনিটাকে এক ঝটকায়বের করবে, আর কেউ হয়তো বিদ্রোহী হয়ে পালানোর চিন্তা করবে। হ্যা এরকমই হবে আমাদের ক্ষেত্রে। কারণ আমরা ট্রেইনড না, কারণ আমরা প্রস্তুত না। 

অনেকটা এরকম সাইকোলোজি নিয়েই একটা স্টাডি আছে বইটায়, মুভিটায়। না দেখলে বা পড়লে সত্যি একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস মিস করবেন। 

(ব্যাটল রয়ালের একটা সেকেন্ড সিজন এবং মুভি আছে। কিন্তু সেটা তাকামির লেখা না বলে রিভিউ দিলাম না। )

 

Comments