Clannad লিখেছেন Sumaiya Kabir

আমার প্রথম রিভিও:
“Clannad” – নামটা একটু অদ্ভুত। ইন্টারনেটে সার্চ দিলে দুটো জিনিস পাবেন, একটা গেম, আরেকটা আইরিশ ব্যান্ড। মেইন সিনারিও রাইটার ধারণা করেছিলেন যে আইরিশ ভাষায় “Clan” বা বংশ কিংবা পরিবার থেকে “Clannad”। কিন্তু আসলে সেটা ভুল ধারণা ছিল। অ্যানিমের Genre মূলত রোম্যান্টিক কমেডি, ট্র্যাজেডি, স্লাইস অফ লাইফ, গ্রয়িং উপ, ফ্যান্টাসি এবং হাল্কা সাই-ফাই।
নামের আদিকথা থেকেই বুঝতে পারছেন, অ্যানিমেটা আসলে পরিবারকে নিয়ে। সব ধরনের পরিবারকেই এখানে হাইলাইট করা হয়েছে। নাগিসা’র দুটি পারফেক্ট পরিবার, তোমোয়া’র দুটি সিঙল প্যারেন্ট পরিবার, ফুকো ও তার বড় বোনের ছোট্ট পরিবার, কোতোমি’র শূন্য পরিবার, তোমোয়ো সাকাগামি’র সবাই থেকেও নেই পরিবার, ক্যো এবং রিও এই দুই জমজ বোনের সম্পর্ক এবং সোনোহারা ও তার বোন মেই এর সম্পর্ক। এমন হতেই পারে না যে এ অ্যানিমেতে দেখানো পরিবার, ও পারিবারিক নানা সম্পর্কের একটির সাথেও আপনি রিলেট করতে পারবেন না। এখানে নাগিসা ও তোমোয়া’র দুটো করে পরিবার কেন বলা হল, অ্যানিমেটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া দাঙ্গো দাইকাযোকু তো আছেই! এই সীমিংলী চাইল্ডিশ থিমটার তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। অ্যানিমেতে দাঙ্গো দাইকাযোকু’র গান শুনে একবার হলেও আপনার কান্না আসবে।

10552550_516192525180488_4591367537532376086_nপ্রথমে যখন অ্যানিমেটা শুরু হল, নায়কের ভইস-অভার শুনে একটু ভ্রু কুচকে তাকালাম। “কোনো মাচি গা কিরাইদা। ” অর্থাৎ , “এ শহরকে আমি ঘৃণা করি। কারণ, এ শহর ভর্তি সেসব স্মৃতিতে যা আমি ভুলে যেতে চাই। ” সিনগুলি প্রায় সাদাকালো, দেখেই মনে হচ্ছে কত না জানি মেলাংকলি কাহিনী। আমি বিরক্ত। এসব কি তাহলে প্রথম থেকেই অ্যানিমেটাকে কাক্কোই বানানোর ব্যর্থ প্রয়াস? হাটতে হাটতে নায়ক এক সাকামিচি (স্লোপ) এর নিচে এসে দাঁড়ালো। কাছেই আবার পটেনশিয়াল নায়িকা। নায়িকার উদ্ভট ভঙ্গিতে নিজের সাথে কথা বলা দেখে নায়ক থমকে গেল। এরপর নায়িকার সে কথাগুলো শোনা, এবং নায়িকার কথার চকিত উত্তর। নায়িকা নাগিসা ফুরুকায়া যখন ফিরে তাকালো, স্ক্রিন ফ্লিকার করে উঠল। যখন প্রথম কথা বলল, তখনই প্রথম রঙ্গিন হল আমার মনিটর, এবং নায়ক, অকাযাকি তোমোয়া’র জীবন। কানে ভেসে এলো অপূর্ব বাকগ্রাউন্ড মিউসিক। প্রথমবারের মত, অ্যানিমেটা নিয়ে আশাবাদী হলাম। শুরু হল নাগাই, নাগাই ( দীর্ঘ, অতি দীর্ঘ ) ঊর্ধ্ববর্তী যাত্রা।
অ্যানিমের এই প্রথম কয়েকটি সিনের এত বিশদ বিশ্লেষণ এর কারণ দুটো।
১। সিনগুলো অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানিমেতে বারবার ফিরে আসবে এ সিনগুলো।
২। সিনগুলো দেখে প্রথমে আমার মত অনেকেই ইম্প্রেসড হননি। হয়ত প্রথমেই অ্যানিমেটার উপর গিভ উপ করে দারুণ ভুল করেছেন।

এরপর তোমোয়া আর নাগিসা দুজনের স্কুললাইফে বন্ধুত্ব, আরো অনেক বন্ধু পাবার কাহিনী, তাদের জীবনের সবচেয়ে প্রেসিং প্রব্লেমগুলো একে একে সল্ভ করার মিলিত প্রয়াস।
এসবের মাঝে আবার অন্য আরেক জগতের ঝলক। শেষ হয়ে যাওয়া এক পৃথিবীতে, একা একটি মেয়ের একাকি অস্তিত্ব। সে জগতে ভেসে বেরায় কোটি কোটি রহস্যময় আলো, যা নাকি অন্য কোনো অলটারনেট পৃথিবীর ছায়া। সেসব আলোর মধ্যে একটি আলো মেয়েটিকে লক্ষ্য করে, মেয়েটির ঘরে এসে ঢুকে। মেয়েটি সে আলোকে একটি রোবট-সদৃশ দেহ তৈরি করে দেয়। শুরু হয় তাদের একে অপরকে সঙ্গ দেওয়া অদ্ভুত এক জীবন। এরপর পাশাপাশি চলতে থাকে এ দুটি সীমিংলী উনরিলেটেড কাহিনী।
ফুকো, কোতোমি, ক্যো, রিও , তোমোয়ো এবং সব শেষে নাগিসা। একে একে সবার আলাদা আলাদা গল্প আমাদের সামনে আসে। Clannad – এর শেষে মনে হয় আমরা যেন জেনে গেলাম সব রহস্যের সমাধান। কিন্তু না! অ্যানিমের প্রধান চরিত্র, তোমোয়া’র কাহিনী যে বাকি!
Clannad অনেকের কাছেই বোরিং মনে হয়েছে। অনেকেই গিভ উপ করেছেন।
কিন্তু আমার কাছে লাগেনি। ফুকো আর কোতোমি’র গল্প ব্যথিত করেছে, তোমোয়া আর তার বেস্ট ফ্রেন্ড য়্যোহেই এর কমেডি দেখে হোহো করে হেসে উঠেছি। মাঝে মাঝে প্রেসিং কোনো স্টোরি লাইন এর অভাব হয়ত আমিও অনুভব করেছি, কিন্তু দমে যায়নি। দমে না যাওয়ার রিওয়ার্ড আমি পেয়েছি। নাগিসা’র পারফেক্ট পরিবারের পিছনের সাক্রিফাইস, অ্যাক্টিং ক্লাবের পরিণতি সিজন ফিনালে হিসেবে অসাধারণ ছিল।

এরপর আসি “Clannad After Story” তে। এর প্রথম দিকে সাগারা’র কাহিনী, য়্যোশিনো য়্যুস্কে’র কাহিনী অসম্ভব ভাল লেগেছে। এরপর শুরু হয় সিজন ২ এর প্রধান কাহিনী। নাগিসা’র সাথে তোমোয়া’র এক নতুন জীবনের আরম্ভ। ছোট্ট এক এপার্টমেন্টে থেকে, দুজনেরই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ। নানা প্রতিকুলতা পার হয়ে নাগিসা আর তোমোয়া পারফেক্ট একটি ফ্যামিলি তৈরিতে মশগুল। এরপর পরিবারে নতুন একটি সদস্যের আবির্ভাব ঘটে। এতে তো তোমোয়া আর নাগিসা’র পরিবারিক জীবন পূর্ণতা লাভ করারই কথা, কিন্তু তাই হয় কি? তোমোয়া’র ঘৃণিত এ শহর কি তার জীবন, তার পরিবার নিয়ে কখনই খেলা বন্ধ করবে না?
তারই ফাঁকে ফাঁকে আবার সেই রহস্যময় পৃথিবী থেকে একসাথে পালিয়ে যাবার চেষ্টা মেয়েটি এবং রোবটটির। পুরো পৃথিবী বরফে ঢেকে গেলে মুক্তির আর কোনো আশা থাকবে না। তারা কি পারবে, জন-মানব পূর্ণ পৃথিবীতে কোনোভাবে ফিরে যেতে? নাকি দুটি সীমিংলী উনরিলেটেড জগতের মধ্যে কোন সম্পর্ক স্থাপিত হবে?
জানতে হলে দেখে ফেলুন Clannad.

মনোযোগী দর্শক হয়ত স্টাইনস;গেট এর সাথে অ্যানিমেটির কাঠামোগত মিল ধরতে পারবেন। দুটোই রোল প্লেয়িং গেম বা ভিসুয়াল নভেল এর উপর বেসড। এ ধরণের গেম এ অনেক গুলো এন্ডিং থাকে তাই Clannad বা Clannad After Story এর শেষ এপিসোড দেখে ভড়কে যাবেন না।

Clannad After Story দেখে কাঁদেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। অডস আর, শেষ করতে পারলে আপনিও কাঁদবেন। তাই এই অ্যানিমেটাকে আরেকটা সুযোগ দিন, আপনাকে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবার।

Comments