এনিমে সায়েন্স ৩ – স্পাইরাল ভার্সেস এন্টি স্পাইরাল

এসে গেছি আবারও এনিমে সায়েন্স সেগমেন্ট এর তৃতীয় পর্ব নিয়ে।

আগের পর্ব দুটিতে স্পাইস এন্ড উলফ ওরফে মসল্লা এবং নেকড়ের প্রথম ৬ টি পর্বের প্রেক্ষাপটে মধ্যযুগের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

AS3

এবারের পর্বে থাকবে Tengen Toppa Gurren Lagann এর স্পাইরাল এবং এন্টি স্পাইরালের সায়েন্টিফিক বর্ণনা (এনিম লজিকে) এবং সেই সাথে দুই ক্ষমতার মধ্যে বিরোধের কারনও বর্ণনা করা হবে।

মাস দুয়েক আগে এনিমখোর গ্রুপের একজন সদস্য Gurren Lagann দেখে চমৎকৃত হয়ে নিজের রিএক্সন পোস্টে স্পাইরাল ক্ষমতা আসলে কি জিনিস সে ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল। কমেন্টে আমি মোটামোটিভাবে একটা ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়েছিলাম।এই লেখাটা মূলত সেই কমেন্টের ব্যাখ্যার সামান্য কিছুটা বিস্তৃতি।

যাই হোক, তাহলে শুরু করি আমাদের আজকের সেগমেন্ট।

তবে তার আগে…..

যারা যারা এনিমটি দেখেননি তাদের জন্য স্পয়লার এলারট>>>>>

.

.

.

.

.
স্পাইরাল ক্ষমতা

স্পাইরাল পাওয়ার হল পাওয়ার অফ ইভল্যুশন বা বিবর্তন এর ক্ষমতা যার উপর নির্ভর করে সমগ্র ইউনিভার্স উন্নতি করছে। মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুই স্পাইরালের মত ঘুরছে, যেমনঃ বিগ ব্যাং এর পর থেকে সমগ্র ইউনিভার্স, গ্যালাক্সিগুলো, গ্যালাক্সির ভিতরের সোলার সিস্টেমগুলো, সোলার সিস্টেমগুলোর ভিতরের সূর্যগুলো, এর চারপাশের গ্রহগুলো, উপগ্রহগুলো এবং এমনকি আমাদের শরীরের ইলেকট্রনগুলোও ঘূর্ণায়মান। বলাই বাহুল্য যে আমাদের শরীরের ডিএনএ এর কাঠামোও স্পাইরাল বা প্যাঁচানো সিঁড়ির মত। অর্থাৎ সবকিছুই স্পাইরাল অবস্থায় আছে। স্পাইরাল শক্তি দিয়ে ইভল্যুশন বা উন্নতি সম্ভব যার কারনে তারা মেটালের রোবট বা গানম্যানগুলোর মধ্যেও এত দ্রুত বার বার কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয় এবং তাও আবার এটমিক বা আনিবিক লেভেলে। আর একটি ড্রিল যা কিনা স্পাইরাল হিসেবে ঘুরে তা দিয়ে যে কতকিছু করে ফেলা যায় সেটা তো আমরা দৈনন্দিন জীবনেই দেখছি!

এই কারনেই মনে হয় এনিমের নাম হয়েছে গুরেন লাগান। খুব সম্ভবত এর আসল অর্থ হল ঘুরান লাগান! আপনারা দেখবেন যে এনিমে বার বার ড্রিল মেশিনকে বা ড্রিলিং করাকে বেশ হাইলাইট করা হয়েছে। ড্রিল মেশিন যেহেতু ঘুরিয়ে ঘুরিয়েই লাগায় সেক্ষেত্রে বলতেই হবে যে এনিমটির নামকরন বেশ সার্থক হয়েছে। :v

এছাড়াও স্পাইরাল ক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ হল আমাদের এসাইনমেন্টগুলোকে স্পাইরাল বাইন্ডিং করা। দেখবেন যে সাধারণ স্টাবলারের পিন মেরে দেওয়ার থেকে স্পাইরাল বাইন্ডিং করে দিলে টিচারেরা তুলনামূলক খুশি হয়। এ থেকেই বাস্তব জীবনে স্পাইরাল ক্ষমতার কিছু আভাস আমরা পেতে পারি!  😛

 

 

 

এন্টি স্পাইরাল ক্ষমতা

এন্টি স্পাইরাল হল স্পাইরালের ঠিক উল্টো। স্পাইরাল যেখানে সব সময় উন্নতির দিকে যেতে চায় এন্টি স্পাইরাল সেখানে হতে চায় স্থবির। অর্থাৎ উন্নতির ঠিক উল্টো দিক বা অবনতিই হল এন্টিস্পাইরাল।

এখন প্রশ্ন হল যে স্পাইরাল এবং এন্টি স্পাইরালের এই দ্বন্দ্ব কিভাবে শুরু হল?

আসলে যারা এখানে এন্টি স্পাইরাল তারা নিজেরাও এক সময় স্পাইরাল প্রাণী ছিল। তারা প্রযুক্তিতে উন্নতির চরম শিখরে গিয়ে জানতে পারে যে এই উন্নতিই মহাবিশ্বের ধংসের কারন হয়ে দাঁড়াবে। স্পাইরাল প্রাণীরা স্পাইরাল শক্তি দ্বারা বিবর্তিত হতে হতে এত উন্নত হয়ে যাবে যে একটা সময় ইন্ডিভিজুয়াল একেকটা সত্ত্বা একেকটা গ্যালাক্সির মত কাজ করবে। অর্থাৎ একটি মানুষ তখন একটি গ্যালাক্সির মত শক্তিশালী হয়ে যাবে! সেই গ্যালাক্সিগুলো একটি আরেকটির আকর্ষণ শক্তির টানে মিশে গিয়ে সুপার ব্ল্যাক হোল তৈরি করবে যা মহাবিশ্বের বাকি পদার্থগুলোকেও শুষে নিতে থাকবে। এভাবে সমগ্র ইউনিভার্স ধ্বংস হয়ে বিগ ব্যাং এর পূর্ববর্তি অবস্থা অর্থাৎ প্রাইমরডিয়াল বা প্রিমরডিয়াল ফায়ার বলে পরিনত হয়ে যাবে।

এই কারনে তারা নিজেদের ধ্বংস ঠেকানোর জন্য তাদের গ্রহের সকল উন্নত প্রাণীদেরকে চিরদিনের জন্য নিদ্রায় পাঠিয়ে দেয় যাতে করে আর কোন ইভল্যুশন বা উন্নতি না হয় তাদের। এভাবে তারা এন্টি স্পাইরাল বা স্থবির ক্ষমতা সম্পন্ন একটিমাত্র প্রাণীতে পরিনত হয় তাদের সকলের মানসিক ক্ষমতা এবং সকল প্রজুক্তিগত ক্ষমতা একত্রিত করে।

এরপরে এই এন্টিস্পাইরালেরা মহাবিশ্ব রক্ষা করার এই গুরু দায়িত্ব নিয়ে গরুর মত স্পাইরাল প্রাণীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দেয়। তারপর বিশাল যুদ্ধের পর মহাবিশ্বের উন্নত প্রাণীদেরকে বিলুপ্তপ্রায় করে দিয়ে, সকল স্পাইরাল জাতিকে ওয়েডিং রিং এরপরিবর্তে সাফারিং দিয়ে বোরিং অনুন্নত একটা মহাবিশ্বকে পুরো উদ্ধার করে ফেলে!!

যদিও এরকম একটা মহাবিশ্বের কি প্রয়োজন আছে সে ব্যাপারে তারা কথা বলতে বেশ অনীহা প্রকাশ করেছিল!!!

আজকের মত আমি পাভেল আহমেদ তাহলে এখানেই শেষ করছি।

ভালো থাকুন

সুস্থ থাকুন

সুখে থাকুন

শান্তিতে থাকুন এবং…..

এনিম দেখুন

ইচ্ছা করলে মাঙ্গা আর লাইট নভেলও পড়তে পারেন

চাইলে ভিজুয়াল নভেল নিয়েওনড়েচড়ে বসতে পারেন!

Comments