BECK: Mongolian Chop Sqad [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

beck_mongolian_chop_squad

Anime: BECK: MONGOLIAN CHOP SQUAD
Genre: Music, Slice of life, Comedy-drama
Episode: 26
Year: 2004
Studio: Madhouse
¤
কুরবানির ছুটিতে কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম। একটা এনিমে দেখবো দেখবো করছিলাম। এক সিনিয়রের পরামর্শে বেক নামালাম ও দেখলাম। মিউজিক বোধহয় আসলেই জীবনের কথা বলে আর এজন্যই সব মিউজিক ভিত্তিক এনিমেগুলা ভালো হয়। BECK ও এর ব্যতিক্রম নয়। ছাব্বিশটা পর্ব আর হাতে সময় ছিল সাত দিন। কিন্তু ডেটলাইন শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই এনিমেটা দেখে শেষ করি। ক্লাসিকাল মিউজিক নিয়ে কিছু এনিমে দেখা হলেও রক মিউজিক নিয়ে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা। শিগাতসুর পর আরেকটা এনিমে পেলাম যার মধ্যে অনেকগুলো ভালো ভালো অরিজিনাল সং আছে।
¤
কাহিনী আবর্তিত হয় তানাকা কয়ুকি নামক এক নিরীহ মিডল স্কুল বালককে ঘিরে। ক্রমাগত বুলিংয়ের শিকার হওয়া কয়ুকি যখন পৃথিবীর সব ধরণের এলিমেন্টের উপর আকর্ষন হারিয়ে ফেলছিল ঠিক তখনই ঘটনাচক্রে BECK নামক এক অদ্ভুত দর্শন কুকুরের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। কিছু অল্প বয়স্ক বালকের কবল থেকে কুকুরটাকে রক্ষা করার পর কুকুরটির মালিক রিয়ুসকে মিনামি তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। পরবর্তিতে বন্ধু মারফত কয়ুকি জানতে পারে যে, রিয়ুসকে নিজেকে বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড ‘THE DYING BREED’ এর লিড গিটারিস্ট এডি লি এর বন্ধু বলে দাবি করে। রিয়ুসকে আট বছর USA এ তে কাটানোতে জাপানিজের চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি দক্ষ। তারপর কয়ুকি আবিষ্কার করে যে, রিয়ুসকে আসলেই একজন প্রতিভাবান গিটারিস্ট এবং তাকে নেকস্ট জিমি পেইজ নামে ডাকা হয়। রিয়ুসকে ‘SERIAL MAMA’ নামক একটা ব্যান্ডের সদস্য যারা কিনা বিভিন্ন কনসার্ট হলে লাইভ পারফরম্যান্স করে থাকে।কিন্তু ব্যান্ডের আরেক সদস্য এইজির সাথে রিয়ুসকের দ্বন্দ্ব বাঁধে এবং এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সিরিয়াল মামা ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। রিয়ুসকে ও এইজি উভয়েই একটি আল্টিমেট ব্যান্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নেয় এবং সেই লক্ষ্যে নতুন মেম্বার খোঁজা শুরু করে। রিয়ুসকে তায়রা কুন নামের এক প্রতিভাবান বেসিস্টকে বেস গিটারিস্ট হিসেবে পাশে পায়। নিমরাজি হওয়ার পরও চিবা কুনকে সে দলে নেয় ভোকাল হিসেবে যে কিনা কারাতেতেও পারদর্শী। আর কোগা সান নামক একজনকে ড্রামার হিসেবে ব্যান্ডে নেওয়া হয়। ব্যান্ডের নাম দেওয়া হয় রিয়ুসকের অদ্ভুতদর্শন কুকুর BECK এর নামে। এই ফাঁকে রিয়ুসকের সাথে কয়ুকির ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে ও এরই প্রভাবে সারাজীবন আইডল মার্কা গান শোনা কয়ুকি রক মিউজিকের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। সে BECK এর বিভিন্ন লাইভ শো তে উপস্থিত থাকা শুরু করে। এরকম এক শো তেই রিয়ুসকে তার চতুর্দশী কিশোরি বোন মাহো মিনামির সাথে কয়ুকির পরিচয় করিয়ে দেয়। সমবয়সী হওয়ায় মাহো আর কয়ুকির মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পশ্চিমা সংষ্কৃতির স্পর্শে বেড়ে উঠা মাহোর সাহসী চলাফেরা কয়ুকির মনে ভালোবাসার অনুভূতির সঞ্চার করে। মাহো নিজেও খুব ভালো গায়কির অধিকারী কিন্তু তারপরও সে মিউজিকে ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। একদিন রিয়ুসকের আস্তানা হতে ফেরার সময় সুইমিং পুলের পানিতে চাঁদের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখে অদ্ভুত সুরেলা কণ্ঠে মাহো ‘THE DYING BREED’ এর ‘MOON ON THE WATER’ গাওয়া শুরু করে। সঙ্গে থাকা কয়ুকিও তখন আবেগবশত গানটির প্রথম চার লাইন গেয়ে উঠে। তখনই মাহো কয়ুকির প্রতিভা অনুধাবণ করতে পারে এবং কয়ুকিকে BECK এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রিয়ুসকেকে অনুরোধ করে। ইতোমধ্যে কয়ুকি সাইটো সান নামক এক সাবেক সাঁতারু ও সঙ্গীতপ্রেমীর কাছে গিটারের তালিম নেওয়া শুরু করে। পরবর্তিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কয়ুকি BECK এর সদস্যপদ পায়। সাথে সঙ্গী হিসেবে পায় ট্রান্সফার হওয়া স্কুল ফ্রেন্ড সাকুরাই ওরফে সাক্কুকে যাকে কিনা কোগা সানের বদলে ড্রামার হিসেবে দলে নেওয়া হয়। শুরু হয় একদল নবীন অভিযাত্রী কাঁটাভরা পথে দুর্গম যাত্রা…
¤
বেক নিয়ে কথা বলতে গেলে এর গ্রাফিক্স নিয়ে কিছু কথা বলতেই হবে। এনিমেটা যে ম্যাডহাউজের তা একটুও আন্দাজ করতে পারি নি। এনিমেশন খুবই পুরনো ধাঁচের তবে তাতে পশ্চিমা সংষ্কৃতির ধাঁচটা ভালোভাবেই উঠে এসেছে। আর ক্যারেকটার ডিজাইন খুবই সাদামাটা। এতই সাদামাটা যে কোন চরিত্রকে অনিন্দ্যসুন্দর করে উপস্থাপন করার চেষ্টাই করা হয় নি (মানে এক দৃষ্টিতে ক্রাশ খাওয়ার মত করে কাউকে ডিজাইন করা হয় নি)। তবে গিটারগুলোর ডিজাইনে অসাধারণ কম্পিউটার গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে। গিটারগুলোকে অনেকটা বাস্তবই মনে হয়েছে বটে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Lucille আর White Falcon এর ডিজাইন দুটো।
¤
বেক এনিমেটার মূল আকর্ষনই হল মিউজিক যেখানে অরিজিনাল সংগুলাই মূখ্য, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকই বরং গৌণ। অসাধারণ একগাদা অরিজিনাল সং ব্যবহৃত হয়েছে এনিমেটাতে। বেক মূলত হিপহপ ও ওল্ড ব্লুজ রক ঘরানার গান পরিবেশন করে থাকে। এর মধ্যে চিবা কুনের গাওয়া ‘BRAINSTORM’ ও ‘SPICE OF LIFE’ গান দুটো উপভোগ্য। তবে মূল আকর্ষন হল কয়ুকির গাওয়া ব্লুজ রক গানগুলো। তার গাওয়া ‘FACE’, ‘MOON ON THE WATER’, ‘SLIP OUT’ গানগুলো আন্তর্জাতিক মানের বলে মনে করি। আর সাথে আছে একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে গাওয়া দ্য বিটলসের ‘I’ve got a feeling’ অসাধারণ গিটারওয়ার্কও এনিমেটার অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।আর BEAT CRUSEDARS এর গাওয়া ওপেনিং ‘HIT IN THE USA’ গানটা একেবারেও স্কিপ করতে পারবেন না। প্রথম এন্ডিং ‘MY WORLD DOWN’ গানটাও ভালো মানের।
¤
সর্বোপরি এনিমেটাকে আমি মাস্টারপিসের ক্যাটাগরিতে রাখতে চাইবো। কারণ এরকম একটা অপরিচিত সংষ্কৃতিকে কেন্দ্র করে শক্ত কাহিনীর গাঁথুনি দিয়ে এনিমেটাকে অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে এবং কাজটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাসপেন্স, থ্রিল, হালকা মিস্ট্রি, রোমান্স, ম্যাচিউরড কনটেন্ট, ব্যাকস্টেজ পলিটিকস সবকিছুই অত্যন্ত পরিমাণমত দেখানো হয়েছে। এনিমেটা সাবে দেখলেও এত বেশি ইংরেজি সংলাপ আছে যে মাঝে মাঝে মনে হত ইংলিশ ডাব দেখছি। আর মাহো আর কয়ুকির রিলেশন দেখে একটা জিনিসই শিখেছি আর তা হল, “বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে নেই।” আর মাহোর প্রতি রিয়ুসকের দায়িত্বপরায়ণতা দেখে আমি পুরা তব্দা খাইছি।

Comments