অ্যানিমে ডিকোড – নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন ১:পটভূমি – ফাহিম বিন সেলিম

নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন অ্যানিমেটার এক্সপ্লেনেশন ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়ানো ছিটানো আছে। আবার ইউটিউবেও বেশ কিছু সংক্ষিপ্ত বর্ণণা ভিডিও আছে। বাংলায় সে সবকিছু একসাথে রাখার জন্য এই প্রচেষ্টা আর নিজেও মাঝে মাঝে ডিটেইলস ভুলে যাই, তাই ভালো একটা রিমাইন্ডারও। অ্যানিমেটা না দেখলে না পড়াই ভালো।

ফার্স্ট এনসেস্ট্রাল রেস বা ফার(First Ancestral Race or FAR)
ফার্স্ট এনসেস্ট্রাল রেস হল গড লাইক বিয়িং, অথবা বলা যায় তারা ইভাঙ্গেলিওন ইউনিভার্সের গড। ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগের মিল্কিওয়ে গ্যাকাক্সির প্রথম সেন্টিয়েন্ট লাইফ। তারা একই সাথে “নলেজ” ও “লাইফ”-এর অধিকারী(ট্রি অফ নলেজ, ট্রি অফ নলেজ রেফারেন্স), যা তাদের বানিয়েছে একই সাথে (প্রায়)অমর এবং মহাজ্ঞানী। তো এই ফার-রা কোন এক কারণে বিলুপ্তির সম্মুক্ষীন হলে তাদের বংশধারা বজায় রাখতে মহাকাশ জুড়ে “সীড অফ লাইফ(Seed of Life)” ছড়াতে শুরু করল। তারা চায় বংশবৃদ্ধি করতে এবং একই সাথে তারা চায় যাতে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন তাদের সমকক্ষ না হয়। এজন্য “সীড”-গুলো “নলেজ” অথবা “লাইফ”-এর কেবল একটি বহন করে। এই সীড আবার তিনটি জিনিসের সমন্বয় –

১/মুন(বা এগ) – যা ফ্রুট অফ লাইফ বা Fruit of Life(উচ্চতর শারীরিক ক্ষমতা) অথবা ফ্রুট অফ নলেজ বা Fruit of Knowledge(উচ্চতর জ্ঞান) বহনকারী;

২/ল্যান্স অফ লংগিনাস(Lance of Longinus) – ফার-রা চেয়েছিল যাতে কোন কারণে একই গ্রহে একই সাথে “ফ্রুট অফ লাইফ” এবং “ফ্রুট অফ নলেজ” বহনকারী প্রানীর মিলন না হয়(এডাম, ইভ, ডেভিল এবং ইডেন রেফারেন্স)। আর এ কারণেই ল্যান্স অফ লংগিনাস রাখা। কোন কারণে একই গ্রহে একই সাথে “ফ্রুট অফ লাইফ” এবং “ফ্রুট অফ নলেজ” বহনকারী মুন চলে আসলেও যেকোন একটির ল্যান্স অফ লংগিনাস তার কার্‍্যকার হওয়া থেকে বিরত রাখবে;

৩/(ডেড সী)স্ক্রোল(Dead Sea Schrolls)[সত্যিকারের ডেড সী স্ক্রোল রেফারেন্স] – অনেকটা ম্যানুয়াল এবং ভবিষ্যতবাণীর মত। কোন গ্রহে প্রাণের শুরু হলে এরপর কী কী হতে পারে, একই সাথে সীড অফ লাইফ-এর ব্যবহার, কার্যাবলী এতে উল্লেখিত।


অ্যানিমেতে এই ফার-দের কোন উল্লেখ নাই। কিন্তু ইভাঙ্গেলিওন গেমস-এ আছে। অবশ্য অ্যানিমেতে রেফারেন্স দ্বারা তাদের অস্তিত্ব বুঝা যায়। অ্যানিমের এক পর্যায় “মোনোলিথ” দেখা যায়, যেটা স্ট্যানলী কিউব্রিকের “২০০১ – এ স্পেস অডিসি” চলচ্চিত্রের সদৃশ। আর সেই চলচ্চিত্রেও কোন এক প্রকার গডলাইক বিয়িং(ফার্স্টবোর্ন) মানবজাতির ইভোল্যুশনের জন্য দায়ী।



ফার্স্ট ইমপ্যাক্ট(First Impact)
ফার্স্ট এনসেস্ট্রাল রেসের ছড়ানো অজানা সংখ্যক সীড অফ লাইফ মহাকাশব্যাপী বিভিন্ন গ্রহে প্রাণের বিস্তার করে। কিন্তু এরই মাঝে পৃথিবী হল আলাদা। পৃথিবীতে প্রথম আসে “ফ্রুট অফ লাইফ” বহনকারী “হোয়াইট মুন”, যা আঘাত হানে বর্তমানের অ্যান্টার্ক্টিকা মহাদেশে। হোয়াইট মুনের এগ “অ্যাডাম” পৃথিবীতে প্রাণের শুরু ঘটায়। কিন্তু ৪ বিলিয়ন বছর আগে ঘটনাক্রমে “ফ্রুট অফ নলেজ” বহনকারী “ব্ল্যাক মুন”-ও পৃথিবীতে আছড়ে পরে! এই বিস্ফোরনই ফার্স্ট ইমপ্যাক্ট নামে পরিচিত।
এই প্রচন্ড বিস্ফোরনে ব্ল্যাক মুনের বাইরের অংশ বিশেষ ধ্বংস হয়ে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থায়ী হয়, যা বর্তমানে “চাঁদ” নামে পরিচিত। যদিও   ব্ল্যাক মুনের অভ্যন্তরীন “ফ্রুট অফ নলেজ”-এর কোন ক্ষতি হয়নি কিন্তু তার ল্যান্স অফ লংগিনাস মহাশুন্যে বিলীন হয়ে যায় অথবা ধ্বংস হয়ে যায়।
এখন পৃথিবী হল আলাদা, কারণ তার দুটি সীড অফ লাইফই আছে – নলেজ ও লাইফ। কিন্তু ব্ল্যাক মুনের ল্যান্স অফ লংগিনাস ধ্বংসপ্রাপ্ত। তাই তখনও প্রাণের প্রথম পর্যায়ে থাকা “অ্যাডাম”-এর ল্যান্স অফ লংগিনাস তার নিজের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়। আর নতুন করে ব্ল্যাক মুনের এগ “লিলিথ” বংশবিস্তার শুরু করে। লিলিথের রক্ত বা এলসিএল সারা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পরে, যাকে বলা হয় প্রিমর্ডিয়াল উজ(Premordial Ooz)। আর এই প্রিমর্ডিয়াল উজ থেকেই একে একে তৈরী হয় প্রথম এককোষী জীব থেকে ক্রমশ কালের প্রবাহে মানুষ।

Comments