Initial D music video by Asiful haque

 

ID

কার রেসিং এর মুভিগুলা কেন যেন কখনই আমাকে খুব বেশী টানে না। তাই এনিমের শুরুতে যখন নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে এই এনিমটা কার রেসিং নিয়ে এবং পাশাপাশি আরও ২-১ টা জিনিস দেখে ধারণা হল হয়ত কয়েক পর্ব পরেই এইটা দেখা বাদ দিতে বাধ্য হব। কিন্তু ২-৩ টা এপিসোড দেখার পরেই বুঝতে পারলাম আমি কতটুকু ভুল ভেবেছিলাম !!!! কোনরকম বিরতি ছাড়াই টানা ৪ টা সিজন শেষ করে বলতে পারি একটা A গ্রেডের এনিম।

মাউন্ট আকিনার একটা পেট্রোল পাম্পে কাজ করে কিছু বন্ধু। সবাই মোটামুটি কার রেসিং নিয়ে চরমভাবে আগ্রহী। তাদের একটা দলও আছে। কিন্তু তাদের একজন ফুজিওয়ারা তাকুমি। খুব সাধারণ একটা ছেলে, যে কিনা কোন কাজেই খুব উৎসাহী না, কোন সিচুএশন সহজে ধরতে পারে না। গাড়ি নিয়ে যার কোন রকম আগ্রহ কিংবা জ্ঞান নেই। নিজেদের গাড়ির মডেলটাও সে বলতে পারে না। ঠেকায় পরে বাবার বেবসায় সাহায্য করার জন্য ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে নিয়মিত গাড়ি চালায়। গাড়িটা আবার বেশ পুরনো মডেলের। কিন্তু নিয়মিত চালানোর ফলে এই গাড়ি নিয়েই তাকুমি অসম্ভব সব ড্রিফটের কাজ শিখে গেছে। গাড়ির স্টিয়ারিং হুইলের পিছনে তাকুমি অন্য এক মানুষ। অবলীলায় এমন সব মুভ দেয় যা অনেক প্রফেশনাল রাও ভয়ে পারফর্ম করে না। ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ঘটনাক্রমে একদিন পাশের এলাকার এক বিখ্যাত রেসারের সাথে তার রেসে নামতে হয়। এবং সকলকে অবাক করে দিয়ে সে রেসে জিতেও যায়। আর তার সামনে খুলে যায় রোমাঞ্চকর রেসিং জগতের দরজা

এনিমটার সবচেয়ে ভাল লেগেছে ফাস্ট পেইস। কোন জায়গায় ঘটনা ঝুলে যায় নাই। একবার ভাল লেগে গেলে মনিটরের সামনে চুম্বকের মত টেনে বসিয়ে রাখবে।

এনিমের আরেকটা দিক ভাল লাগছে যে এইটার রোমান্টিক সাইডটা। এইখানে প্রায় সব গুলা চরিত্রই রেসিং এ উন্নতি করার জন্য তাদের প্রিয়জনকে বিদায় জানায়। এবং সেই পার্ট গুলাও ভাল লাগছে।

এনিমে গাড়ি চালানোর এবং বিভিন্ন মডেলের গাড়ির কোন দিক ভাল, কোন দিক খারাপ এই নিয়াও বেশ ভাল আলোচনা করছে।

তবে এনিমের আর্ট সাইড টা বেশী ভাল লাগে নাই। ক্যারেক্টার ড্রইং অনেকটা “ক্রুড” ফর্মে করা। খুব সম্ভব রেসিং সিন গুলাকে বেশী গ্লেমারাস করার জন্য এই কাজ করছে। তবে এই দিকটা আমার কাছে খারাপ লাগছে।

এনিমের সাউন্ড ট্র্যাক গুলা যথেষ্ট ডিসেন্ট। শুনতে ভালই লাগছে।

সব মিলিয়ে বেশ ভাল একটা এনিম, সময় কাটানোর জন্য পারফেক্ট। নাম্বারিং করতে বললে আমি এই এনিমটাকে ১০০ তে ৭৫ দিব।

তাহলে যাদের কার রেসিং নিয়ে আগ্রহ আছে, তারা দেরি না করে দেখা শুরু করে দিন এই অসাধারণ এনিমটি।

বিকালের দিকে মাথায় ক্যারা উঠল; AMV বানামু। গুতাগুতি শুরু করলাম; এই জিনিস ক্যামনে বানায় – এই নিয়া। ঘাইটা ঘুইটা যা পাইলাম এবং সকলে যা বলল; তার সারমর্ম – দুই চাইরটা ভিডিও মিডিও কাইট্টা সাউন্ড জোড়া লাগায় নরমাল কিছু একটা দাঁড় করানো তেমন কঠিন কিছু না। কিছু টিউটোরিয়াল ফিউটোরিয়ালও উৎসাহের চোটে নামায় দেইখা ফালাইলাম। এরপর শুরু হইল কাহিনী? কোন এনিম নিয়া বানামু? ফাস্টে ভাবলাম; ওয়ান পিস নিয়া বানাই; ইউটিউব ঘাইটা দেখি ওই জিনিস লাখখানেকের উপর আছে। অনেক ভাইবা চিন্তা ইনিশিয়াল ডি সিলেক্ট করলাম; কিন্তু সমস্যা হইল; ভিডিও কাইট্টা যে AMV বানামু; সেইরকম ভাল রেজুলেশনের ভিডিও পাই না !!! আইচ্ছা; সেইটাও না হয় গেল; ভাল একটা গানও পছন্দ হয় না !!! সব জোগাড় কইরা যখন ঘন্টা তিনেক আগে কাজে হাত দিলাম; বোঝা গেল; টিউটোরিয়াল এবং বিভিন্ন সাইটে কোন কিছুকে “relatively easy” বলিলে সেইটা সাথে সাথে ভুলিয়া যাইতে হবে !!! সেই লেভেলের পেইন !! পেইন টেইন নিয়া শেষমেশ এই জঘন্য কিছু(এইটারে AMV বলা যাইব বইলা মনে হইতেসে না  :/) একটা বানাইলাম; তাও দেড় মিনিট হয় নাই !!! তারপর তো আপলোডের যুদ্ধ আছেই !! যাই হোক; শেষ মেশ কিছু একটা বানাইতে পারসি – এতেই খুশি। সমালোচনা না আসার কোন কারণ নাই; তবে শুধু “ভুল হইসে” না বইলা “এইটা এইভাবে না কইরা এইভাবে করলে বেটার হইত” টাইপ কমেন্ট বেশি আশা করতেসি
http://www.youtube.com/watch?v=QNhdJQd9ECs

“Zetsuen no Tempest: The Civilization Blaster” by Itmam Hasan Dipro

“Zetsuen no Tempest: The Civilization Blaster”
অ্যাকশান, রোমান্স, ম্যাজিক, কাব্যিক ডায়লগ এর এই আনিমেটা এক কথায় অসাধারণ।কাহিনি বেশ ইন্টেরেস্টিং , শেক্সপিওর এর কমেডি এবং ট্রেজেডি এর বিভিন্ন কনসেপ্ট ব্যাবহার করায় বেশ দ্রুত টাইম পাস হয়।এছারা সাউন্ড ট্র্যাক গুলা খুব ভাল হওয়ায় ওভারঅল বেশ ভাল একটা আনিমে ।যারা দেখেন নাই তারা তাড়াতাড়ি আনিমে টা দেখেন।আশা করি খুব ভাল লাগবে।

http://myanimelist.net/anime/14075/Zetsuen_no_Tempest

ZnT

Honey and Clover by Farzana Kabir Orpia

Honey and Clover‘honey and clover’ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কে কে? এই anime টা শুরুতে আমার একেবারে ভালো লাগেনি। আমার বোন জোর করে দেখাইসিল। কষ্ট করে প্রথম ৭/৮ টা এপিসোড দেখসিলাম। shounen genre এর এনিমে দেখার ফলে এইরকম piece of life এনিমে বোরিং এরকম একটা ধারণা ছিল। কিন্তু ইয়ামাদা মেয়েটা আমাকে impress করে ফেললো। ইয়ামাদার ফিলিংস, তাকেমোতোর সাইকেল জার্নি…. আসলে পুরো anime টাই অসাধারণ। আমার সবচেয়ে প্রিয় scene- ড্রাঙ্ক ইয়ামাদাকে মায়ামা যখন পিঠে করে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসে। আর সবচেয়ে কষ্টের scene- তাকেমোতো যখন মরিতার মত করে জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বাইরে যেতে চায়, কিন্তু পড়ে যায়।
যারা এখনও দেখেননি তাদের প্রতি আমার সাজেশন- fantasy আর action নাই জন্য honey and clover কে অবহেলা করবেন না 

Hunter X Hunter by Monirul Islam Munna

গত কয়েকদিন Hunter X Hunter দেখতেছিলাম, একটা ছোট্ট রিভিও লিখতে ইচ্ছা হল। তাই লিখে ফেললাম। 

HUNTER X HUNTER এর প্রধান চরিত্র Gon Freecsকে নিয়ে বলতে গেলে,সব চেয়ে বেস্ট উপায় যেটা হবে সেটা হচ্ছে গন হচ্ছে HXH এর Naruto Uzumaki [পুরপুরি রিফ্লেক্ত করে না,কিছু চরিত্র যেমন ‘হার না মানা’,’সহজে কারো বন্ধু হয়ে যাওয়া’,’সততা’…এইরকম কিছু ব্যাপার সেপার মিলে যায় আরকি  ] । ছোট্ট গন ছোটবেলা থেকেই জানত যে তার বাবা মা বেচে নেই। সে তার অ্যান্টের কাছেই থাকে এবং তিনি গণের দেখভাল করেন। কিন্তু গল্পের শুরুতেই কাকতালীয়ভাবে জানতে পারে যে তার বাবা বেঁচে আছেন এবং তিনি অনেক বড় মাপের একজন হান্টার।
‘হান্টার’ শব্দটা শুনলে মনে হতে পারে যে শুধু পশুপাখি শিকারী ,কিন্তু এই এনিমে হান্টারের একটু ভিন্ন দিক তুলে ধরসে, পৃথিবীর বিভিন্ন আনাচে কানাচে যে সব mystery আর অজানা রহস্য আছে , সে গুলা আবিষ্কার করে এই ‘হান্টার’। তবে এই হান্টাররা সবাই দক্ষ ফাইটার, বিভিন্ন ধরনের হান্টার যেমন আছে, তেমনি ওদের পাওয়ারও ভিন্ন। 
তবে কেউ চাইলেই হান্টার হতে পারে না, অনেক দুঃসাধ্য কঠোর পথ পাড়ি দিয়ে , হাজার হাজার কম্পেটিটরকে ডিঙিয়ে ‘Hunter Exam’ নামক পরীক্ষায় পাস করতে পারলেই একমাত্র এই হান্টার হওয়ার লাইসেন্স পাওয়া যায়। গণকে পাড়ি দিতে হয় সেই, দুঃসাধ্য কঠোর পথ, আর সেই পথ ধরেই চলতে থাকে এনিমটা। 

HXH এনিমটা প্রথম আসে ১৯৯৮ তে ৬২ এপিসোড সহ। এরপর আরও ৩০টা OVA বের করে,কিন্তু OVA গুলাও মূল মাঙ্গার কাহিনী ফলো করে। তো বলা যায় মোট ৯২টা পর্ব।
এরপর ২০১১তে এনিমটা আবার রিমেইক করা হয়,একি কাহিনী নিয়ে। কেউ যদি পুরানটা, আই মিন ‘৯৮ এরটা দেখে থাকেন, তবে ‘১১(নতুনটার) এর ৭৫ নাম্বার পর্ব থেকে দেখলেই হবে।
আর না দেখে থাকলেই নতুনটাই দেখা শুরু করুন 
Happy hunting

HxH

প্রিন্সেস মনোনকি: প্রকৃতি ও প্রেমের অশ্রুত কণ্ঠস্বর by তুহিন তালুকদার

[লেখা টি পূর্বে মুখ ও মুখোশ ফিল্ম ম্যাগাজিন এ প্রকাশিত মূল লেখার লিঙ্ক]
প্রিন্সেস মনোনকি: প্রকৃতি ও প্রেমের অশ্রুত কণ্ঠস্বর

প্রকৃতির কোলে জন্ম মানুষের। অন্য সব প্রাণী, পাখি, উদ্ভিদ, জলজ, কীট পতঙ্গ আর সরীসৃপের মত মানুষও ছিল প্রকৃতির অভিন্ন সন্তান। পৃথিবীর মাটি, আলো, বাতাস, জলই ছিল তার জীবনের অনুষঙ্গ। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম ভেঙ্গে মানুষই প্রথম বেরিয়ে আসার দুঃসাহস করেছিল। আজকের এই সভ্যতা, স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎকর্ষের মূলে আছে এই দুঃসাহস। মানুষই প্রথম প্রকৃতির ইচ্ছায় নিজের জীবন যাপনের বদলে প্রকৃতিকে নিজের ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। কিন্তু এমনই সর্বনাশা মানুষের স্বভাব যে, প্রকৃতিকে বশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর, তার সাথে সদ্ভাব বজায় না রেখে একে কুক্ষিগত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত লোভের বশে গড়ে তোলে অপরিকল্পিত নগর। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে দুর্যোগের রূপে মাঝে মাঝেই প্রকাশ পেয়েছে প্রকৃতির সন্তাপ। মানুষের নির্বোধ লোভের বলি হয়েছে গাছপালা, বন্য প্রাণী, বাস্তুসংস্থান এবং ফলত মানুষ নিজে। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কহীন, একরোখা নগরায়নের অশুভ পরিণামকে চিত্রায়িত করে ১৯৯৭ সালে জাপানের স্টুডিও ঘিবলিতে নির্মিত হয় মনোনকি হিমে বা প্রিন্সেস মনোনকি অ্যানিমেশন ফিল্ম। পরিবেশ রক্ষার বহু উচ্চারিত কথাগুলো আওড়ানো হয়নি এতে। মধ্যযুগের জাপানের সংস্কৃতি, এর পৌরাণিক নির্যাস, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, বন্য প্রাণী ও বনভূমির আত্মিক সম্পর্ক, বিভিন্ন জাতির মধ্যে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ, নারীর ক্ষমতায়ন, শারীরিক অক্ষমদের পুনর্বাসন সবই উঠে এসেছে কাহিনীর পরতে পরতে। একটি সার্থক মহাকাব্যে যেভাবে চরিত্রের বিকাশ, ঘটনার প্রবাহমানতা আর সুবৃহৎ দৃশ্যপট থাকে, ১৩৩ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটিতে তাই সফলভাবে করে দেখানো হয়েছে।

ফিল্মটির পরিচালক হায়াও মিয়াযাকি অ্যানিমেশন জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী। অর্ধশতাধিক বছর ধরে তিনি অ্যানিমেশনের সাথে জড়িত। তাঁর অ্যানিমেশন বাণিজ্যিক সাফল্য এবং সমালোচকের প্রশংসা দুই-ই অর্জন করেছে। বিখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচক রজার এবার্ট তাঁকে জাপানের জাতীয় সম্পদ (National treasure of Japan) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁকে তুলনা করা হয় ওয়াল্ট ডিজনি এবং ব্রিটিশ অ্যানিমেটর নিক পার্কের সাথে। হাতে আঁকা অ্যানিমেশন দিয়েই তিনি বাঘা বাঘা অ্যানিমেটরকে টেক্কা দিয়েছেন, যারা প্রচুর সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছিলেন।

প্রিন্সেস মনোনকির গল্পটি জাপানের ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনীর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে। মুরোমাশি যুগে (১৩৩৭ – ১৫৭৩ খ্রিঃ) জাপানের পূর্বাঞ্চলে এমিশি জাতির বাস ছিল। এর রাজপুত্র আশিটাকার অভিযানই গল্পের মূল প্রসঙ্গ। শুরুতেই আমরা দেখি জঙ্গলের ভেতর থেকে এক অতিকায় শূকর বেরিয়ে আসে। এর সারা শরীর সাপের মত কিলবিলে পদার্থে ভর্তি। দানবটি এমিশি গ্রামকে আক্রমণ করতে গেলে রাজপুত্র আশিটাকা তাকে ফিরে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু অপারগ হয়ে, তীর মেরে হত্যা করতে বাধ্য হয়। কিন্তু লড়াইয়ের সময় দানবটির সর্পিলাকার শুঙ্গ তার ডান হাতে স্থায়ী দাগ রেখে যায়।

 

শূকর দেবতা বা তাতারি গামি

শূকর দেবতা বা তাতারি গামি

গ্রামের প্রবীণ, জ্ঞানী বৃদ্ধা হিসামা পাথর ও কাঠের টুকরা দিয়ে ভবিষ্যৎ গণনা করে বলেন শূকরটি ছিল পশ্চিমের দেশের বনরক্ষী দেবতা। তার ভেতরে বিষাক্ত লোহার গুলি ঢুকে তাকে পাগল করে তোলে। তীব্র কষ্টে ও ঘৃণায় তার হৃদয় পূর্ণ হয়ে তাকে দানবে পরিণত করে। আশিটাকার হাতের দাগটি বড় হতে হতে তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে এবং তাকে অবর্ণনীয় কষ্ট সয়ে মরতে হবে। ক্ষতের কষ্ট সত্ত্বেও ঘৃণার বশবর্তী না হয়ে পশ্চিমের দেশে এর আরোগ্য খুঁজতে হবে। তার গোষ্ঠীর নিয়ম অনুযায়ী তাকে চুলের গোছা কেটে, গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়ে সে রাতেই বেরিয়ে যেতে হয়।

জঙ্গল, পর্বত, বন্ধুর রাস্তা, সমতল ভূমি, নদী পেরিয়ে তার যাত্রা চলতে থাকে। একটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দেখে সেখানে খুনে সামুরাইরা লুঠ আর হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের তীর ছুঁড়তে গিয়ে লক্ষ্য করে, তার হাতে অদ্ভুত নাড়াচাড়া। তীর মেরে সে দুই সামুরাইয়ের শরীর থেকে হাত আর ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দ্রুত সরে যায়। সে নিজেই অবাক হয়ে যায় তার অভূতপূর্ব শক্তিতে। পথে এক সন্ন্যাসীর সাথে দেখা হয়। সন্ন্যাসী তাকে জানায়, পশ্চিমের দেশে পর্বতের উপর বনের দেবতা প্রধানের বাস। কিন্তু সেখানে সব প্রাণীই বিপুলাকার, তাই মানুষের জন্য বিপদজনক।

বনের কাছে ছিল নতুন শহর তাতারা বা (লৌহনগরী)। নেকড়ে দলের সাথে মানুষের লড়াইয়ে নেকড়ে প্রধান মোরো গুলিবিদ্ধ হয় এবং কয়েকজন মানুষ নিখোঁজ হয়। আশিটাকা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহতদের স্বজনরা উল্লসিত হয় এবং আশিটাকা বীরের অভ্যর্থনা পায়। সে দেখে তাতারা বা এক বিরাট কর্মযজ্ঞের শহর। সেখানে সে জানতে পারে এর প্রধান লেডী এবোশী গণিকালয় থেকে নারীদের কিনে এনে লৌহনগরীর হাপর চালানোর কাজ দেন। এবোশীই নাগো নামের শূকর দেবতাকে গুলি করেছিলেন। তিনি কুষ্ঠ রোগীদের পুনর্বাসন করে মারণাস্ত্র তৈরীর কাজ দিয়ে রেখেছেন। তাকে লোহা প্রক্রিয়াজাত করণ ও অস্ত্র তৈরির এলাকাটি ঘুরে দেখান হয়। আশিটাকা জানতে পারে বনের অধীশ্বর শিশি গামিকে হত্যা করলে বনের রাজকন্যা প্রিন্সেস মনোনকি আবার মানুষে পরিণত হবে। এবোশী একাজে তার সাহায্য চায় এবং তার ক্ষত সারিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়। আশিটাকা নারী শ্রমিকদের কাজের এলাকাটিও দেখে এবং তাদের সাথে কিছুক্ষণ হাপর চালায়।

লেডি এবোশী

লেডি এবোশী

সে রাতে এবোশীকে হত্যা করার জন্য প্রিন্সেস মনোনকি শহরে আচমকা আক্রমণ করে বসে। সে ছিল নেকড়ে মোরোর পালক মেয়ে সান। সান ও এবোশী দ্বন্দ্বযুদ্ধে মুখোমুখি হলে আশিটাকা তাদের দুজনকে অজ্ঞান করে লড়াই থামায়। সানকে নিয়ে শহর ত্যাগ করার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। সান তাকে শিশি গামির কাছে নিয়ে গেলে তিনি গুলির ক্ষত সারিয়ে দেন কিন্তু তার হাতের দাগ আগের মতই থেকে যায়। সান মুমূর্ষু আশিটাকাকে শুশ্রূষা করে বাঁচিয়ে তোলে।

এদিকে সন্ন্যাসী জিগো বাউ বনদেবতাকে হত্যা করার জন্য তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। কারণ, রাজ্যের সম্রাট অমরত্ব পাওয়ার জন্য শিশি গামির মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সে জানতে পারে, বনের শূকর জাতি তাদের প্রধান ওক্কোটোর নেতৃত্বে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ যুদ্ধে এবোশীর মারণাস্ত্রের সামনে শূকর জাতি টিকতে পারে না। সে সাথে নিহত হয় তাতারা বার প্রচুর মানুষ। শূকরদের হারিয়ে এবোশী জিগো বাউয়ের যোদ্ধাদের নিয়ে বনদেবতা শিশি গামিকে হত্যা করতে যায়।

এবোশীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সম্রাট আসানোর যোদ্ধারা লৌহনগরী আক্রমণ করে দখল করে নেওয়া চেষ্টা করে। আশিটাকা এই খবর নিয়ে বনদেবতার সরোবরে এবোশীর কাছে যায় এবং তাকে নিজের শহরের রক্ষার্থে ফিরে যেতে বলে কিন্তু এবোশী তার কথা শোনে না। যুদ্ধে গুরুতর আহত ওক্কোটো, সান, মোরো সবাই সরোবরে ছিল। গুলিবিদ্ধ ওক্কোটো ক্রমে তাতারি গামির মত দানবে পরিণত হতে থাকে। শিশি গামি এসে ওক্কোটো এবং মোরো উভয়ের প্রাণ নিয়ে নেয়। এবোশী গুলি করে শিশি গামির মাথা আলাদা করে ফেলেন আর জিগো বাউয়ের লোকজন সেটা বাক্সবন্দী করে নিয়ে যায়। মোরো মৃত্যুর আগ মুহূর্তে এবোশীর একটি  হাত কামড়ে ছিন্ন করে ফেলে।

মাথা হারানোর পর শিশি গামি ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ে যায়। তাঁর বিক্ষিপ্ত শরীর হন্যে হয়ে মাথাটি খুঁজতে থাকে। প্রলয় নেমে আসে চারদিকে। সেই বিক্ষিপ্ত শরীরের অংশ যাকে স্পর্শ করে সেই মারা যায়। জিগো বাউ মাথাটি নিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। সূর্য ওঠার মধ্যে যদি শিশি গামি মাথাটি ফের না পান তাহলে তিনি আর জীবিত থাকবেন না। আশিটাকা ও সান তাঁর মাথাটি উদ্ধার করে শিশি গামিকে ফেরত দেয়। আবার সজীব হয়ে উঠেন শিশি গামি। লৌহনগরীসহ সকল প্রকৃতিবিরোধী অশুভ প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে, বনের শ্যামলিমা ফিরিয়ে দিয়ে মিলিয়ে যান তিনি। আশিটাকা ও সানের শরীর থেকে সকল অভিশাপের দাগ সরে যায়। এবোশী নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং আশিটাকাকে নিয়ে নতুন করে আরেকটি শহর গড়ার কথা ভাবেন, এ শহরটি হবে লৌহনগরীর চেয়েও ভাল আর প্রকৃতিবান্ধব।

প্রিন্সেস মনোনকিতে অদ্ভুত সুন্দর কাহিনীর মধ্যে সন্নিবিষ্ট হয়েছে কিছু কাল্পনিক প্রাণী। শূকর দেবতা বা তাতারি গামি, যার শরীরের বাইরের দিকটা ছিল কিলবিলে সর্পিলাকার। আকাশিশি বা লাল হরিণ ইয়াক্কুল, যার শিং বাঁকানো, গলায় কেশর ও ঘোড়ার মত দৌড়ানোর ক্ষমতা। জঙ্গলের অধীশ্বর শিশি গামির দিন ও রাতের জন্য বরাদ্দ দুই রূপ। দিনে আঁকাবাঁকা একগুচ্ছ শিংযুক্ত হরিণ যার মুখটি মানুষের মত আর রাতের বেলা সুদীর্ঘ, স্বচ্ছ, নীলচে শরীর। এগুলো সবই মিয়াযাকির সৃষ্টিশীল কল্পনার ফসল।

প্রিন্সেস মনোনকির কাল্পনিক প্রাণী – ইয়াক্কুল, শিশি গামির দিন ও রাতের রূপ

প্রিন্সেস মনোনকির কাল্পনিক প্রাণী – ইয়াক্কুল, শিশি গামির দিন ও রাতের রূপ

মূলত হাতে আঁকা প্রিন্সেস মনোনকির ফ্রেমগুলো ডিজনির আধুনিকতম অ্যানিমেশনের সাথে তুলনীয়। এর সাথে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের টেক্সচার ম্যাপিং, থ্রিডি রেন্ডারিং, মরফিং, পার্টিক্যাল ও ডিজিটাল কম্পোজিশান ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোও আঁকার মধ্যে গভীর মনোযোগ পেয়েছে। পানিতে কিছু ডুবালে সৃষ্ট তরঙ্গ, জলের নিচে পায়ের ছাপ, পাতার ফাঁকে সূর্যের আলো, জঙ্গলের ভেতর আলো ছায়ার খেলা, জলের উপর দিয়ে শিশি গামি আলতোভাবে হেঁটে গেলে সুন্দর তরঙ্গ সৃষ্টি, বাতাসে ঘাসের নড়াচড়া, পাথরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করলে তার রঙ বদলে যাওয়া, বৃষ্টি এলে রোদ সরে গিয়ে আঁধার ঘনিয়ে আসা, আশিটাকা চোখের নিচে কাটা নিয়ে ভারী গেইট ঠেলে খুলতে গেলে ক্ষত থেকে রক্ত ছলকে ওঠাসহ কোন কিছুই আর্ট ডিজাইন থেকে বাদ পড়েনি। ফিল্মটির ১,৪৪,০০০ অ্যানিমেশন সেলের সবই মিয়াযাকি তত্ত্বাবধান করেছেন এবং ৮০,০০০ টি নিজে সংশোধন করেছেন।

ফিল্মটিতে কণ্ঠশিল্পীরা সম্পূর্ণ দরদ দিয়ে কাজ করেছেন। এমনকি ভাষান্তরিত ইংরেজীতেও দক্ষ কন্ঠকুশলীদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যারা এর ভাবগাম্ভীর্য খর্ব হতে দেয় নি এতটুকু। সিনেমাটির আবহ সঙ্গীত মন হরণ করার মত। বিখ্যাত সঙ্গীতকার জো হিসাইশি কাহিনীর গতিপ্রকৃতি হিসেবে যখন যে ধরণের সুর দরকার যেন তাই এনে হাজির করেছেন এবং প্রয়োজনবোধে করেছেন নিঃশব্দের ব্যবহার। ছবিটিতে দুটি গান ছিল। তাতারা মহিলাদের কাজের সময় সকলের সুর করে গাওয়া গান এবং কাহিনীর মূল গান বা থিম সং। দুটি গানের কথাই লিখেছেন গীতিকার মিয়াযাকি। প্রিন্সেস মনোনকি দেখতে গিয়ে তাঁর এই প্রতিভাটির কথাও জানা গেল। বনের প্রধান দেবতা শিশি গামির উপস্থিতির সময় কোন শব্দ ব্যবহার হয় নি, যেন চারদিকে সবাই সুনসান নীরবতায় তাঁকে প্রত্যক্ষ করছে, সেই সাথে আমরাও।

মিয়াযাকির ছবির বিশেষত্ব হল তিনি সাধারণত খলচরিত্র বা ভিলেন ছাড়া কাহিনী তৈরি করেন। এখানেও আপাতভাবে লেডী এবোশীকে খল মনে হলেও এ চরিত্রেরও আছে শুভ দিক। তিনি সমাজের অস্পৃশ্য কুষ্ঠরোগীদের মানুষ হিসেবে দেখেছিলেন। তিনিই প্রথম তাঁদেরকে নিজের শহরে এনে ক্ষত ধুয়ে ব্যান্ডেজ করে দেন এবং রাইফেল তৈরির কাজ দেন। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে নারী যৌনকর্মীদের সংগ্রহ করে তাতারা বা শহরে এনে লৌহশিল্পের কারখানায় হাপর চালানোর কাজ দেন। সেই কাজ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য হলেও নারীকর্মীরা বলেন, তাঁদের আগের কাজের তুলনায় একাজ অনেক বেশি মানবিক। এবোশীর মধ্যে ছিল নেতৃত্ব দানের অসামান্য যোগ্যতা। তাই তাঁর শহরের নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি উচ্চ শ্রদ্ধার আসনে স্থিত। জঙ্গলের দেবতাদেরও তিনি অকুতোভয়ে লড়াই করতেন। এক্ষেত্রে তিনি শুভ পক্ষ অবলম্বন না করলেও তাঁর সাহস প্রশংসনীয়।

আশিটাকা ও সানের প্রেমের চিত্রায়ন ছবিটির একটি বিশেষ দিক। তারা পরস্পর ভিন্ন মতের অনুসারী। সান চরম মানুষ বিদ্বেষী আর আশিটাকা যেকোনো ধরণের সহিংসতা বিরোধী। তারা প্রত্যেকেই একে অপরের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। সানের প্রাণ বাঁচাতে আশিটাকা গুলিবিদ্ধ হয়। মুমূর্ষু আশিটাকাকে দীর্ঘদিন শুশ্রূষা করে বাঁচায় সান। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও অপদেবতায় পরিণত হওয়া ওক্কোটোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সানকে বাঁচাতে চায় আশিটাকা। কিন্তু গল্পের কোথাও কাউকে প্রেম নিবেদন করতে দেখা যায় নি। যেন একে অপরের মনের কথা এতটাই নিশ্চিতভাবে জেনে গিয়েছিল যে, মুখ ফুটে বলার প্রয়োজন হয় নি। গল্পের শেষেও তারা একত্রে থাকার কথা বলে নি। সান তার আরণ্যক জীবন বেছে নেয় আর আশিটাকা তাতারা বা শহরকে নতুনভাবে গড়তে যায়। তারা মাঝে মাঝে দেখা করার প্রতিশ্রুতি করে। প্রত্যেকে নিজের নিজের জীবনযাত্রায় থেকে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখা পৃথিবীর যে কোন দেশের কাহিনীতেই বিরল।

পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এখানে বার বার উচ্চারিত হয়েছে ঘৃণা পুষে না রাখার কথা। ঘৃণা হচ্ছে জ্বলন্ত কয়লার মত। যার হাতে থাকে তাকেও জ্বালায়, যাকে ছুঁড়ে মারা হয় তাকেও পোড়ায়। ভবিষ্যৎ বক্তা হিসামা আশিটাকাকে বলেছিলেন, ঘৃণার বশবর্তী না হয়ে আরোগ্য খুঁজতে। আশিটাকাও এবোশী আর বনের প্রাণীদের যুদ্ধে কোন পক্ষ না নিয়ে বার বার ঘৃণাহীন সহাবস্থানের কথা বলেছিল। সান আর এবোশীর দ্বন্দ্বযুদ্ধে সে দুজনকে থামিয়ে দিয়ে শহরবাসীর উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করে সেই অমোঘ উক্তি, যা পুরো ছবিটির সার বক্তব্য। সে বলে, ‘Look, everyone! This is what hatred looks like. This is what it does when it catches hold of you. It’s eating me alive and very soon now it will kill me! Fear and anger only make it grow faster.’

সবার অধিকার রক্ষা করে মানবিক নগর গড়ার বার্তাই এখানে দেওয়া হয়েছে। মানুষ প্রকৃতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজের কষ্টই শুধু বাড়িয়েছে। ছবিটিতে বনের প্রাণীরা পরস্পরের ব্যাপারে যতটা শ্রদ্ধাশীল, মানুষের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী একে অন্যের ব্যাপারে ততটা নয়। নেকড়ে ও শূকর জাতি একে অন্যকে অপছন্দ করত, তাই এড়িয়ে চলত। কিন্তু মানুষেরা রাজ্য দখল করে ধ্বংস করে দিত প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিকে। কিছু কিছু মূল্যবোধকে মানুষ পুরনো বা সেকেলে আখ্যা দিয়ে ফেলে দেওয়ার আক্ষেপ থেকে থেকে প্রকাশ পেয়েছে।

অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে প্রিন্সেস মনোনকি জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের মত। রটেন টোমাটোসের ৮৪ জনের পর্যালোচনার ভিত্তিতে এটি এখনো ৯৪% তরতাজা। আই. এম. ডি. বি শীর্ষ ২৫০ সিনেমার তালিকায় ১০ এর পূর্ণমানে ৮.৪ পেয়ে এটি ৯৩ তম অবস্থানে আছে। মেটাক্রিটিক আবার ২৯ জনের পর্যালোচনায় একে ১০০ তে ৭৬ নম্বর দিয়েছে। রজার ইবার্ট ১৯৯৯ সালের সকল চলচ্চিত্রের উৎকর্ষের ক্রমে একে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রেখেছেন।

ফিল্মটি ১৯৯৮ সালে জাপানীজ একাডেমীর সেরা চলচ্চিত্র, ২০০১ সালের স্যাটার্ন পুরস্কার, ব্লু রিবন ও হোচি ফিল্ম পুরস্কারসহ বিভিন্ন বিভাগে অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নেয়। এছাড়াও অনেক আসরে বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন পায়।

২৪০ বিলিয়ন জাপানীজ ইয়েনে প্রস্তুত ছবিটি বক্স অফিসেও সফল হয়। ১৯৯৭ সালে জাপানের মধ্যে এটিই ছিল সর্বাপেক্ষা ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র, পরে টাইটানিক একে ছাড়িয়ে যায়। ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যানিমেশন ছবির মধ্যে এটি ছিল সর্বাধিক বিক্রিত। এর কাহিনী অবলম্বনে পরে মঞ্চনাটক, কমিক্স বই ও টিভির জন্য কার্টুন সিরিয়াল তৈরি হয়।

অবশ্য দ্রষ্টব্য চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রিন্সেস মনোনকি সামনের দিকে থাকার মত। কারণ, এখানে আছে প্রকৃতির কথা, শাশ্বত প্রেমের কথা, মানুষের কথা, মানবতার কথা আর অভিশপ্ত জীবনের যাতনার কথা। কোন চোখ ঝলমলে নগর যেন মানুষের স্বাভাবিক দেখার চোখকে অন্ধ করে না দেয়, তাই বার বার অনুরোধে আকুতিতে বলার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবিটি দেখতে দেখতে কবিগুরুর কবিতার চরণগুলো বার বার মনে পড়ে,

দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,
লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,
দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি,
… … …
চাই স্বাধীনতা, চাই পক্ষের বিস্তার,
বক্ষে ফিরে পেতে চাই শক্তি আপনার,
পরানে স্পর্শিতে চাই ছিঁড়িয়া বন্ধন
অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন।

শেয়ার! 

জাপানিজ আ্যনিমে সিরিজ Monster: মিস্ট্রি জেনারের এই সিরিজ না দেখলে জীবন বৃথা!! — by বিডি আইডল

মূল লেখার লিঙ্ক 

ডেথ নোটের পর এটা আমার দেখা সম্ভবত দ্বিতীয় আ্যনিমে সিরিজ Monster (2004–2005)। মোট পর্ব ৭৪। ২০০৪-০৫ সালে প্রায় দেড় বছর ধরে প্রচারিত হয় এটি। আমি সিরিজটি শেষ করেছি দুই সপ্তাহের মধ্যে। ইউটিউবে পুরো সিরিজটি আছে। ঘোরের মধ্যে শেষ করেছি এই অসাধারণ টিভি সিরিজটি।

আ্যনিমে হলেও এই সিরিজটির কিছু বৈশিষ্ট আছে–এটি একেবারেই ইউনিক কাহিনী নিয়ে তৈরি, অত্যন্ত কমপ্লেক সাইকোলজিক্যাল ড্রামা, কাহিনী জাপানে নয় জার্মানিতে, ইন-ডেপথ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টইত্যাদি। এটা ম্যাচিউরড অডিয়েন্স এর জন্য তৈরি।

কাহিনীর বিস্তারিত দিবো না…সার সংক্ষেপ দিচ্ছিঃ কাহিনী আবর্তিত হয় জিনিয়াস জাপানিজ নিউরোসার্জেন ডঃ কেনজো টেনমাকে (Kenzou Tenma) ঘিরে। ১০ বছর বয়সী একটি শিশু মাথায় গুলি খেয়ে তার হাসপাতালে আসে। তার অপারেশনে জীবন ফিরে প্রায় সেই ছেলেঃ ইয়োহান লেইবার্ট (Johan Liebert)। একই সাথে হাসপাতালে ভর্তি হয় প্রচন্ত শকে ট্রমা আক্রান্ত তার ফ্যাটারনাল জমজ বোন আনা লেইবার্ট (Anna Liebert সিরিজে পরে নিনা নামে পরিচিত)। এর কয়েকদিন পরেই এই দু’ ভাইবোন হাসপাতাল থেকে নিখোজ হয়ে যায়। আর একই সময়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া মারা যায় ওই হাসপাতালের ডিরেক্টর সহ আরো দুই সিনিয়র ডাক্তার। পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ডঃ টেনমার উপর। এ ঘটনার বেশ কয়েকবছর পর সারা জার্মানি জুড়ে শুরু হয় অদ্ভুত সব সিরিয়াল কিলিং। ডঃ টেনমা জানতে পারে এর পিছনে আছে এক সাইকোপ‌্যাথ–তারই হাতে জীবন ফিরে পাওয়া ইয়োহান। শুরু হয় তার ইয়োহানকে খোজার পালা। নানা ঘটনায় পুলিশের এইসব হত্যাকান্ডের পিছনে সন্দেহ শুরু করে ডঃ টেনমাকে। শুরু হয় জার্মান সিক্রেট পুলিশের ইন্সপেক্টর লুঙ্গের (Inspector Heinrich Lunge) এর টেনমাকে খোজার অভিযান।

ইয়োহানকে পুরো সিরিজে অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে হলেও সে আসলে ঠান্ডা মাথার সাইকোপ‌্যাথ। মানুষের সাথে অল্প সময় মিশেই তার চিন্তা-ভাবনা প্রভাবিত করার ক্ষমতা তার আছে। সিরিজটিতে কম্যুউনিষ্ট শাসনামলে পূর্ব জার্মানি, চেক প্রজানতন্ত্র ইত্যাদি এলাকাতে যে ভয়ের রাজত্ব এবং চাইল্ড এবিউজ করা হয়েছে নানা রকম পরীক্ষা-নীরিক্ষার নামে সেইসব বিষয় এসেছে।

এরকম জটিল কাহিনীর সাইকোলজিক্যাল সিরিজ আর আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। যারা আ্যনিমের ভক্ত না…তারা এই সিরিজটি দিয়ে শুরু করুন…আ্যনিমে সম্পর্কে ধারণা পাল্টে যাবে।

ইউটিউবে পুরো সিরিজটি আছে। তবে আমি নিশ্চিত নই বাংলাদেশ থেকে এই লিংক দেখা যাবে। ইংরেজীতে ডাব করা এই অফিসিয়াল লিংক থেকেই আমি সিরিজটি দেখেছি। এছাড়া ইউটিউবে পার্ট করা আছে প্রায় সবগুলো পর্বই।

Itachi, a hero of the shadows by Tahsin Kamal

এখন বড় কোন রিভিউ লিখার ইচ্ছা নাই। শুধু আমার খুব প্রিয় চরিত্র গুলার একজনের নাম আর এত প্রিয় হওয়ার কারণ বলতেসি। পরে একটা ভালভাবে লিখার চেষ্টা করব।

সেই Legend টা হইলো Itachi, a hero of the shadows… who acted behind the scenes(itachir এই দিক টা আমার আরেকটা প্রিয় চরিত্র lelouch এর সাথে মিলে), the badass who had the worst tragic life…. the legendary peace lover!

ইতাচির যেই দিকগুলো আমাকে মুগ্ধ করসে- 

তার নীরব চুপচাপ চরিত্র- সচরাচর আবেগ না দেখানো আর অর্থহীন কিছু না বলা।

ভাইয়ের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা-
“No matter what you decide or what you do from now on… I will love you forever”(Itachi’s last words and final gift to Sasuke)

অন্যের সুখের জন্য ত্যাগ করা-
“Self-sacrifice… A nameless shinobi who protects peace within its shadow. That is a true shinobi”

জীবনের প্রতি তার বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি-
“You’re such a child. You talk of nothing but pipe dreams… there are times when people must make painful choices.”

“People live their lives bound by what they accept as correct and true. That’s how they define “reality”. But what does it mean to be “correct” or “true”? Merely vague concepts… Their “reality” may all be a mirage. Can we consider them to simply be living in their own world, shaped by their beliefs?”

আমার চুপচাপ স্বভাবের matured টাইপ চরিত্র বেশি ভাল লাগে। সেইটাও ইতাচিকে এত ভাল লাগার একটা কারণ হতে পারে। ইতাচি আর মিনাতো এই ২ legend বেচে থাকলে নারুতো আনিমে টা আরো অনেক বেশি জোস হতে পারত। 

#RESPECT!

Itachi

“আমার গকু সব পারে” by Orin Sharmin

গকু খুব খুব খুবই স্পেশাল একটা ক্যারেক্টার আমার জন্য নট ইভেন লুফি ক্যান টেক হিজ প্লেস  …গকু এমন একটা ক্যারেক্টার যার মধ্যে সবই আছে …গকু কি পারে আর কি পারে না সেটা বলতে গেলে আসলে অ্যাপ্রপিয়েট কোন শব্দ খুঁজে পাওয়া যায় না…”আমার গকু সব পারে”  …গকু একটা গাধা…গকু একটা ছাগল …আমার শুধু মনে হয় গকুর মত সিম্পল মাইন্ডেড নাইভ যদি হতে পারতাম…গকুর মত মেন্টালি ফিজিকালি স্ট্রং হইতে পারতাম তাইলে কতই না ভালো হত…গকুর মত এমন সব দিক দিয়া স্ট্রং +এন্টারটেইনিং ক্যারেক্টার খুব কমই আছে…গকু পারফেক্ট টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি…আনিমে কি জিনিস এটা আমারে গকুই মেইনলি চিনাইছে…ড্রাগন বল জি আমারে মেইনলি আনিমের প্রতি অ্যাডিক্ট করছে …এর মেইন কারণ হইল গকু…গকুরে নিয়ে লিখতে গেলে সারা দিন চলে যাবে তাও লিখা শেষ হবেনা…গকু যেমন সব মানুষের মন জয় করার ক্ষমতা রাখে তেমনি সব থেকে স্ট্রং ভিলেনের ১২ টা বাজানোর ক্ষমতাও রাখে…গকুর মত নিম্বাস ক্লাউডে চরে যদি সারা দুনিয়া ঘুরতে পারতাম তাইলে কতই না মজা হত…গকুর কামেহামেহা গকুর সুপার সাইয়ান ৩ হওয়া…গকুর স্পিরিট বোম এই অ্যাটাক গুলা এত্ত কাক্কোই (cool) *_*…গকুর মেয়ে না চিনা… বিয়েরে খাবার মনে করার মত ছাগলামি………এগুলা দেখলে যে কোন মানুষের হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে যাবে…গকু টু মাচ অসাম এক খান ক্যারেক্টার…গকু ইজ দা বস অফ অল বস…এত কথা বলতে গেলে মেলা বড় হয়ে যাবে এক কথায় বলি…

“গকু ইজ দা মোস্ট স্ট্রং অ্যান্ড ডমিনেটিং আনিমে ক্যারেক্টার অফ অল টাইম অ্যান্ড হি উইল বি”

Goku

HIMURA KENSHIN FOREVER by Sazid Hasan Khan

আমার সর্ব প্রথম দেখা অ্যানিমে হইল সামুরাই এক্স। অনেক অনেক আগে দেখা … এবং পরবর্তীতে ভার্সিটি অ্যাডমিশন এর সময় পুনরায় দেখা। প্রথম প্রেম আর তাই ভুলতে পারি নাই। এবং এখন পর্যন্ত আমার সর্বাধিক প্রিয় চরিত্র (এবং আমি নিশ্চিত এইটা পুরাপুরি অপরিবর্তনশীল থাকবে) হল হিমুরা কেনশিন। হিতেন মিতসুরুগি র‌্যু এর সর্বশেষ উত্তরাধিকার… বাকুমাতসু এর রক্তহিমকরা কিংবদন্তীর আততায়ী হিত্তোকিরি বাত্তুসাই। 
কেনশিন সর্বপ্রথম আমাকে আকৃষ্ট করে ওর মুদ্রাদোষ “ওরো” দ্বারা। এততাই যে আমি এখনো মাঝেমধ্যে অবাক হলে বলি, “ওরো”!! যাই হোক, কেনশিন এর জীবন মর্মান্তক ঘটনায় ভরা। শিশুকালে বাবা-মা হারানো, দাস হিসেবে বিক্রি হউয়া এবং নিজের চোখের সামনে ওর সহযাত্রিদের খুন হতে দেখা। এবং সবচাইতে মর্মান্তিক হল নিজ হাতে নিজের ভালোবাসা, যেই নারী তাকে রক্তস্নাত বর্তমান এর মধ্যে থেকেও ভবিষ্যত দেখাতে শিখিয়েছিল, তাকে দ্বিখন্ডিত করা … একজন মানুষের জীবন থেকে পালাতে আর কি লাগে … কিন্তু কেনশিন তার আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি। “I Wield my sword for the sake of the weak, who in spite of the violence and bloodshed, trying to live peacefully” শত প্রতিকুলতার মাঝেও হাসিমুখ, আর কারো জীবন ছিনিয়ে না নেয়াতে বদ্ধপরিকর, এমনকি তার সবচাইতে ভয়ংকর শত্রু হাজিমে সাইতোও কেনশিনকে টলাতে পারে নাই। সবচাইতে মজার বেপার ছিল ওর character development. কেনশিন কিন্তু পারফেক্ট ছিল না। এমনকি সিরিজ এর মাঝপথ পর্যন্তও কেনশিন ছিল বিভ্রান্ত। নিজের খুনী সত্তা এবং প্রায়শ্চিত্তকারী সত্তার মধ্যে তার লড়াই ছিল একটা গুরুত্বপূর্ন অংশ আমার কাছে। নিজের স্ত্রীকে হত্যা করার বেদনা এত প্রকট ছিল ওর মাঝে যে নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞ্যান করে লড়াই করত যা শিশিও এর সাথে যুদ্ধের আগ পর্যন্ত দেখা গেছে। নিজের সত্তার সাথে তুমুল লড়াই এর পর মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে কেনশিন নিজের জীবন এর গুরুত্ব বুঝতে পারে। “Live on kenshin, that way you can use amakekaru ryu no hirameki as u like and you will never be defeated by the hittokiri that’s inside you” কাউরু এর জন্য, ইয়াহিকো এর জন্য, জাপান এর জন্য, নিজের প্রায়শ্চিত্ত এর জন্য… কেনশিন বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা করে। প্রায়শ্চিত্ত এর পথ কন্টকময়, পদে পদে প্রতিপক্ষের আনাগোনা, নিজের উপর সংশয়, নিজের পূর্ব জীবন এর কৃতক্রর্মের ক্ষমা না পাওয়ার নিশ্চয়তা …এসব কিছু মাথায় নিয়েও কেনশিন এর হাসতে পারার ক্ষমতা, সানো/এনিশি এর সমস্তা ঘৃণাকে নিজের উপর নিয়ে তাদের মানসিকতা পরিবর্তন করার ক্ষমতা … কেনশিন আমার কাছে এইটাই প্রমাণ করছে যে, If you fight with all your heart and soul, if you stand firm to your resolve, the end result doesn not matter…..
HIMURA KENSHIN FOREVER :’)

H Kenshin

উসুই তাকুমি by Zahura Chowdhury Abonti

উসুই তাকুমি। Shoujo hero দের মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দের character গুলোর একটি। ও হচ্ছে যাকে বলে পুরো perfect. আমার সাধারনত perfect চরিত্র ভাল লাগে না। উসুই exception. তার কারণ হল উসুই অনেক মজার। ওর কাজকর্ম আমার অনেক মজা লাগে। মিসাকির মত iron lady কে ঝামেলাতে ফেলে দিতে পারে শুধু উসুই একাই। নিজে মিসাকিকে জ্বালাতে খুব পছন্দ করলেও, অন্য কেউ মিসাকির সাথে ঝামেলা করতে আসলে খবর আছে। স্কুলের সবচেয়ে popular boy হয়েও সর্বদা একজনের প্রতিই loyal. সবসময় মিসাকির খেয়াল রাখে। মিসাকিকে support দেয়। মিসাকির জন্য তিন তলার ছাদ থেকেও লাফ দিয়েছিল। এই outer space alien আবার violin ও বাজায়, রান্নাও করে। violin এর প্রতি আমার আকর্ষন অনেক পুরানো। সেই সাথে table manner এর ব্যাপার গুলোর প্রতি interest আছে। স্বাভাবিকভাবেই উসুই এর এসব জিনিসের জ্ঞান আমাকে impress করেছিল। তবে আসল জিনিস ওটাই –মিসাকির পাশে থাকা। নিজের আপন মা এর থেকে দূরে, বন্দী ঘরে বড় হয়ে উঠা একজন ছেলে finally কারো কাছে affection পেয়ে কিভাবে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দেয় সে একজনের জন্য সেটা সত্যিই দেখার মত। যারা আনিমে টা দেখেছেন তারা হয়ত এই comment এর সাথে একমত হবেন না, কিন্তু মাঙ্গা টা পড়ে দেখলে অনেকটাই একমত হওয়ার কথা।

PS: মিসাকিও কম যায় না। আমার খুব বেশি পছন্দের একটা মেয়ে।

Takumi