এনিম রিভিউঃ Black Lagoon – অন্ধকার জগতের গল্প — লেখক নিঃসঙ্গ নির্বাসন

অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম এনিম নিয়ে একটা পোস্ট দেব। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সময়ই করে উঠতে পারি না। অবশেষে ঈদের ছুটিতে মার্কেটিং করা বাদ দিয়ে রিভিউ লিখতে বসলাম।

4 Black Lagoon

 

অন্ধকার জগতের খুনে গুন্ডা পাণ্ডাদের নিয়েই এই ব্ল্যাক লেগুন রিভিউতে যাওয়ার আগে একটু ভূমিকা দিতে চাচ্ছি। আমি একজন অত্যন্ত কুটিল প্রকৃতির খারাপ মন মানসিকতার মানুষ। আমার পছন্দও হয়ে থাকে সেই রকমেরই। আমার অল টাইম ফেভারিট লিস্টে অবশ্যই থাকবে ডেথ নোট লাইট ইয়াগামির একজন হার্ডকোর ফ্যান আমি। পুরোপুরি পারফেক্ট এভিল। কোড গিয়াসও আমার অত্যন্ত পছন্দের। তবে লেলুশকে কিন্তু আমি একদমই দেখতে পারি না। আমার পছন্দ শ্নাইজেল এল ব্রিট্যানিয়া- সেকেন্ড প্রিন্স। ভয়ংকর এক ভিলেন। evil minded. puppet master. (অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি, জাপানিজ এনিম গুলোয় ভিলেনদের দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়। হলিউডের কি এখান থেকে শিক্ষণীয় কিছু আছে? )

সাইকোলজিক্যাল এনিম হিসেবে মনস্টার আমার অত্যন্ত প্রিয়। মনস্টারের ভিলেন সবারই টপ ভিলেন লিস্টে থাকেই। কিন্তু আমার তাকে খুব একটা ভাল লাগে নাই। সে আগের দুইজনের মতো পারফেক্ট এভিল না। আমি ওইধরনের খারাপ এনিম খুঁজার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাই নাই। বাচ্চা মেয়েদের ধরে ধরে অ্যাসাসিন বানানো হয়গানস্লিঙ্গার গার্লে হার্ট টাচিং একটা এনিম। কিন্তু না, সেখানেও আমার পছন্দের কোন সাক্ষাৎ শয়তান পাই নাই।  আবার হেল গার্ল কিংবা এলফিন লেইড এগুলোও অনেক পছন্দ হয়েছে। কিন্তু আমার যেই চাহিদা, খারাপ কিছু, সেটাই আমি পাচ্ছি না।  ভালোমানুষি ব্যাপারটাই আমার সহ্য হয় না। মনস্টার থেকে এলফিন লেইড সবগুলোতেই সেটাই আমার আপত্তির একটা বড় কারণ। সেখানে পারফেক্ট এভিল তো নেইই, বরং ভাল কিছুর কথাই বলা হয়েছে।

ভূমিকা অংশটা মোটামুটি শেষ। এরকম একটা প্যারাগ্রাফ আসলে লেখার কোন দরকার ছিল না, আজকের এই রিভিউটার জন্য। আমি এসব কথা বললাম, ব্ল্যাক লেগুন দেখার আগে আমি কিরকম মানসিক অবস্থায় ছিলাম, সেটা বুঝানোর জন্য।  এনিমটা আমার অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। আর কাউকে এখনো পাই নাই, যার ব্ল্যাক লেগুন এতো পছন্দ হয়েছে।  প্রকৃত পক্ষে ব্ল্যাক লেগুন এরকম আহামরি কোন এনিমও না। যদি ৮০ – ৯০ দশকের এনিম হত, তাহলে এটা আরও জনপ্রিয় হত।

লেগুন কোম্পানি হচ্ছে মূলত একটি জলদস্যু গ্যাং। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে স্মাগলিং করাই তাদের মূল কাজ। দলের সদস্য মাত্র তিনজন। লিডার ডাচ, শুটার রেভি, টেকনোলোজি গিক বেনি। লেগুন কোম্পানির বেস ক্যাম্প রোয়েনাপারে। সিটি অফ গডের কথা মনে আছে? সেরকম একটা শহর হচ্ছে থাইল্যান্ডের বন্দরশহর রোয়েনাপার। শহরে সক্রিয় বিভিন্ন মাফিয়া দল। তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে ডাচ। বিভিন্ন মাফিয়া সংগঠনের হয়ে, মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মিশনেও যায় সে। সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি মাফিয়া গ্যাং হচ্ছে, রাশিয়ান ক্রাইম সিন্ডিকেটঃ হোটেল মস্কো এবং চাইনিজ হংকং ট্রেইড। ডাচের সঙ্গে অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক হোটেল মস্কোর প্রধান কাপিতান বেলালাইকার। কাহিনীর দিকে যাওয়ার আগে রোয়েনাপারের একটা ছবি মনের মধ্যে এঁকে নিন। অস্ত্র, রক্ত, খুন, মাদক, পতিতাবৃত্তি এগুলোই রোয়েনাপারের দৈনন্দিন চিত্র।

এনিমটা দুই সিজনের। প্রতিটা সিজনে ১২ টা করে এপিসোড। প্রতিটা এপিসোডের লেংথ ২০ মিনিটের মতো। প্রতি ২ – ৩ এপিসোডে একটা করে ছোট ছোট কাহিনী। এভাবেই এই অপরাধ নগরের সাথে পরিচিত হয়ে ওঠা। আমি সবগুলো কাহিনী বলে আপনাদের মজা নষ্ট করতে চাই না। শুধু প্রথম গল্পের শুরুটা বলি।

রোকারো ওকাজিমা একজন জাপানিজ বিজনেসম্যান। তার জীবনের গল্পটা শুনে নিন, তার নিজের মুখেই।

Graduating from a National University, I somehow managed to get my way into corporate world. This is a businessman’s town.I get my ass kicked by my boss all day. But in the same time I hope to be in his place someday. It’s the only way to maintain your sanity here. This is the city of winter.

একদিন একটা বিশেষ কনফিডেনসিয়াল ডিস্ক নিয়ে সে যাচ্ছিল একটি বিজনেস ট্রিপে। তাকে কিডন্যাপ করে লেগুন কোম্পানির ক্রুরা। বেলালাইকা তাদের হায়ার করেছে, ওই ডিস্কের জন্য। ওকাজিমাকে হয়তো মেরেই ফেলত তারা। কিন্তু রেভির মাথায় বুদ্ধি এলো, ওকাজিমাকে কিডন্যাপ করে মুক্তিপণ আদায় করার। কিন্তু ওকাজিমার মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে হতাশই হতে হল রেভিদের। তারা জানিয়ে দিল, তারা ঘোষণা করে দিয়েছে রোকারো ওকাজিমা মারা গিয়েছে। ভাল কথা, ততক্ষণে কিন্তু তার নাম বদলে গেছে; লেগুন কোম্পানির ক্রুরা তাকে রক বলে ডাকছে। যাই হোক, ডাচের মনে হলো, তার ক্রুতে একজন বিজনেসম্যান থাকা দরকার। এভাবে লেগুন কোম্পানিতে যোগদান রকের। আর এখান থেকেই ব্ল্যাক লেগুনের যাত্রা শুরু।

আমি চাচ্ছি, ব্ল্যাক লেগুনের তিনটা ক্যারেকটার সম্পর্কে কিছু লিখতে লিখতে। (মানে আপনাদের ব্ল্যাক লেগুনের ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড করা আর কি!  কাহিনীটা খুব জোরালো কিছু না, আমি নিজেও স্বীকার করি। কিন্তু ক্যারেকটারগুলো অছাম।  ) জানি না, ক্যারেকটার গুলো কিরকম লাগবে আপনাদের। আমি এখানে তিনজনের কথা বলব। একত্রে এই তিনজনকে বলা হয়,

Three most terrifying women of the world.

এরকম আরও অনেক ক্যারেকটারই আছে সিরিজটায়। আমার ভাল লেগেছে, প্রতিটা ক্যারেকটারের পেছনের গল্পগুলো। আজকে তারা অন্ধকার জগতের মানুষ। কিন্তু তারা অতীতে এরকম ছিল না।

What happened to them, created them monster.

আর ক্যারেকটার গুলোর অতীত আমরা সেভাবে দেখতেও পাই না। ছাড়া ছাড়া ভাবে মাঝে মাঝে দেখানো হয় আরকি।

ভাল কথা, এনিমটা কিন্তু TV-MA রেটিং প্রাপ্ত। এবং সেটার প্রধানতম কারণ ভাষা।সেটা মাথায় রাখতে হবে।  আমার অবশ্য খুব একটা খারাপ লাগে নাই ব্যাপারটা। অন্ধকার জগতের মানুষদের ভাষা আর কিই বা হবে?

আরেকটা কথা না বললেই নয়, সিরিজের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেকটারই মেয়ে। শুনে আবার হতাশ হয়ে যাবেন না। কেউই লুতুপুতু টাইপের মেয়ে না। পারফেক্ট ক্রিমিনাল। যাই হোক, চলুন পরিচিত হয়ে আসি, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক তিন মহিলার সাথে।

রোসারিতা সিস্নেরোসঃ

 

প্রথম জীবনে সে ছিল একজন দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষিত অ্যাসাসিন। কিউবার গেরিলা সংগঠন FARC এর সদস্য। সে পরিচিত Bloodhound Of Florencia নামে। তাকে আরও অনেক নামেই ডাকা হয়।

Hardcore Terrorist

Killer Robot From The Future

কিউবান মাফিয়া বিপ্লবী দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু একসময় সে বুঝতে পারে, সে কোন বিপ্লবী হতে পারে নি। সে একটি Watch Dog এ পরিণত হয়েছে। যার কাজ হচ্ছে মাফিয়াদের কোকো ক্ষেত পাহারা দেওয়া। সে তখন চাইলো, এই জীবন থেকে পালিয়ে যেতে। ভেনিজুয়েলার বিখ্যাত লাভলেস ফ্যামিলির প্রধান ডিয়েগো লাভলেস তাকে নিজের দেশে নিয়ে এলো। ব্লাডহাউন্ডের দায়িত্ব ৮-১০ বছরের Garcia কে দেখাশোনা করা। সেই ব্লাডহাউন্ড এখন হাউজমেইড।

 

ব্লাডহাউন্ডের নাম এখন Roberta. প্রথম সিজনে Young Master Garcia কে অপহরণ করে কলম্বিয়ান একটি মাফিয়া দল। তখন নিজের পুরাতন পরিচয় আবার জাগিয়ে তুলে রোসারিতা। লাভলেস ফ্যামিলিই তাকে কুকুরের জীবন থেকে উদ্ধার করে একটি মানুষের জীবন দিয়েছিল। তার প্রতিদান দিতে তুলকালাম শুরু করে দেয় সে অপরাধনগর রোয়েনাপারে।

ব্লাডহাউন্ডের যুদ্ধ শুরু করার স্টাইলটা আপনাদের পছন্দ হবেই।

 

In the name of Santa Maria, a hammer blow of righteousness to all injustice.

এরকম একটা হাউজমেইড থাকলে চরমই হত।  ব্লাডহাউন্ড নিঃসন্দেহে এই সিরিজের বেস্ট অফ দা বেস্টস ফাইটার। তবে তার সম্পর্কে সমালোচনা করতে গেলে বলতে হবে, সে কথা কম। কাজ বেশি। এই পলিসিতে বিশ্বাসী। এদিক দিয়ে সে রেভির থেকে পিছিয়ে আছে। প্রথম সিজনেই শুধু পাওয়া যায় ব্লাডহাউন্ডকে। তাও মাত্র অল্প কয়েক পর্বের জন্য।

ভ্লাডিলেনাঃ

 

রাশিয়ান ক্রাইম সিন্ডিকেট হোটেল মস্কোর প্রধান। প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়ন মিলিটারির একজন ক্যাপ্টেন। আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় তাকে অনৈতিকভাবে ডিসচার্জ করা হয় মিলিটারি থেকে। তিনি চলে যাওয়ার সাথে সাথে তার কম্যান্ডে থাকা দুর্ধর্ষ প্রশিক্ষিত বিশেষ স্কোয়াডের কমান্ডো সোভিয়েত সেনারাও তার সঙ্গে চলে যায়। রোয়েনাপারে নিজের পরবর্তী গন্তব্য ঠিক করেন বেলালাইকা। বেলালাইকা নামের আড়ালে তার আসল নামটা সবাই ভুলেই যায়। বেলালাইকা একটা রাশিয়ান স্নাইপার রাইফেল। নিন্দুকেরা তাকে Fry Face বলে সম্বোধন করে। আফগান যুদ্ধে তার মুখের অর্ধেক পুড়ে গিয়েছিল। হোটেল মস্কো হচ্ছে রোয়েনাপারের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মাফিয়া দল। শহরে খুন খারাপি কোন ব্যাপারই না। কিন্তু কেউই হোটেল মস্কোর সাথে সম্পৃক্ত কারো দিকে ফুলের পাপড়ি দিয়েও আঘাত করার কথা ভাবতেই পারে না। নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য ডাচ ও লেগুন কোম্পানির প্রতি বেলালাইকা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। সিজন টুতে হোটেল মস্কোর উপর একের পর এক আক্রমণ শুরু হয়। যেরকম কঠোর ভাবে বেলালাইকা ব্যাপারটার প্রতিশোধ নেয়, তাতে পুরোই তার প্রেমে পরে যাই।

 

বেলালাইকা পারতপক্ষে তার কম্যান্ডে থাকা সেই রাশিয়ান কমান্ডো সেনাদের ব্যবহার করে না। হোটেল মস্কোর বিশেষ অপারেশনেই কেবল মাঠে নামে Desantniki তাদের মুখে শুধু একটা কথাই শোনা যায়। কাপিতান। এই কাপিতানের জন্য, যে কোন কাজ করতেই তারা বদ্ধপরিকর। বেলালাইকা একজন এক্স মিলিটারি। তাই মাফিয়া সংগঠন হলেও, তার কাজের স্টাইল মিলিটারির মতো। রোয়েনাপার শহরে প্রবেশ করার পর তৎকালীন প্রধান মাফিয়া বস মি চ্যাং (চাইনিজ হংকং ট্রেইড) এর সাথে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। পরে ডাচের হস্তক্ষেপে মিউচুয়ালি কো এক্সিস্ট করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে বেলালাইকাই শহরের প্রধান মাফিয়া বস হয়ে উঠে। বুঝতেই পারছেন, কি রকম মাস্টার মাইন্ড লিডার এই কাপিতান।

 

রেভিঃ

 

আসল নাম রেবেকা (রেভেকা), বেশিরভাগ সময় রেভি বলেই সম্বোধন করা হয়। তার নিক হচ্ছে, Two Hand. একসাথে দুই হাতে শুটিং করায় পারদর্শী বলে। লেগুন কোম্পানির বেশিরভাগ অপারেশন সেই চালায়। সে একজন জাপানিজ আমেরিকান। জন্ম চায়নাটাউনে। তার অতীত সে খুব বেশি বলে না। কিন্তু ছাড়া ছাড়া ভাবে যা বলে, তাতেই বোঝা যায়, আজকের এই Two Hand সে একদিনে হয় নি। সেটার পেছনে আছে একটা বিশাল গল্প। হাসতে হাসতে মানুষ খুন করে রেভি। একটু কপি পেস্ট করতে চাচ্ছি।

Revy is one of the deadliest fighters in the series, whose skill with firearms and ability to dodge bullets is almost superhuman and unparalleled—there are only a few other characters, such as Roberta and Ginji, that can hold their ground against her in combat.

 

নিজেকে রেভি সম্বোধন করে, Best Shooter In The East হিসেবে। সে অত্যন্ত বদরাগী, চেইন স্মোকার। সব কিছুর সমাধান সে করতে চায় বুলেটের মাধ্যমে। এই ব্যাপারটা নিয়েই রকের সাথে তার মাঝে মাঝেই ঝগড়া লেগে যায়। রকের অনেক কিছুই সহ্য করে না রেভি। রেভি বলতে চায়, রক লেগুন কোম্পানিতে আছে পিকনিকের জন্য। যখন তার মনে হবে পিকনিক শেষ, তখনই সে চলে যাবে। যদিও পরে রকের ব্যাপারে তার ধারণা চেঞ্জ হয়। রেভির মুখ সম্পর্কে আলাদা করে বলতেই হবে! একথা বলাই যায় , এনিমটা TV MA রেটিং পেয়েছে শুধু রেভির জন্যই! মুখে কথা বলেই রেভি যুদ্ধ জিতে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।  আর অস্ত্রের কথা বলার দরকার কি? শুধু শুধু কি আর Two Hand নিক অর্জন করেছে। রেভিকে আমার পছন্দ একই সাথে মুখে কথা বলা আর কাজ করে দেখানর জন্য। রেভি এরকম মেজাজি ক্যারেকটার হলেও সে রেসপেক্ট করে বেলালাইকাকে। এতেই বুঝা যায়, বেলালাইকা কি জিনিস!

 

ডাচের কামান হচ্ছে রেভি।

This is showtime revy, can you make them dance?

এরকম আরও অনেক ক্যারেকটার আছে। ডাচ, মি চ্যাং, সেনহুয়া, গিনজি এবং আরও অনেকে। সিরিজটার সমালোচনা করতে হলে বলব, এখানে গোলাগুলি ব্যাপারটা খুব সহজভাবে দেখান হয়েছে। আর এখানে কাহিনীর মারপ্যাচ কম। আশা করবো, আপনারা Bourne সিরিজ টাইপের কিছু দেখার ইচ্ছা নিয়ে বসবেন না।

আমি সিজন থ্রিকে রিভিউ থেকে বাদ দিয়ে দিলাম। সিজন ১ আর ২ ডাউনলোড করতে পারেন।

Click This Link

ঈদের ছুটিতে দেখে ফেলুন ব্ল্যাক লেগুন। সিরিজটা কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। সবাইকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।

পাদটীকাঃ কথা প্রসঙ্গে আমি দুইজনকে বলেছিলাম ব্ল্যাক লেগুন নিয়ে কোন পোস্ট দেওয়ার কথা। তাদের গুঁতাগুঁতিতেই মূলত লেখাটা পোস্ট করা হলো। সেই দুইজনকেই লেখাটা উৎসর্গ করলাম।

 

মূল লেখা http://www.somewhereinblog.net/blog/persian_knot/29659959

Fight no Akatsuki-Shaikh Mohammad Habib

এমন কিছু মাঙ্গা আছে যেগুলো পড়ার পর মনে হয় এই মাঙ্গা গুলোর অবশ্যই একটা অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন হওয়া উচিত। কিন্তু কোন কারণে তা হয়নি। আমার মতে এরকম একটা মাঙ্গা হল “Fight no Akatsuki”। বাস্কেটবল নিয়ে লেখা মাঙ্গা গুলোর মধ্যে Slam Dunk কোন রকম কম্পিটিশন ছাড়াই সবার উপরে অবস্থান নিয়ে আছে। ইদানিং Kuroko no Basuke কে অনেকে Slam Dunk এর পরই স্থান দিবে। Weekly Shonen Jump এর হওয়ায় Kuroko no Basuke এর প্রচারণাও বেশি প্লাস অ্যানিমে সিরিজ তো আছেই। তবে আমার মতে Fight no Akatsuki এমন একটা মাঙ্গা যেটা পড়ার পর মনে হয়েছে একদম উচু মানের কোন স্পোর্টস মাঙ্গা পড়লাম। শুধু বাস্কেটবল না অন্য সব স্পোর্টস মাঙ্গা এর সাথে তুলনা করলেও একে আমি উচু অবস্থানে রাখব। একটা জমজমাট স্পোর্টস মাঙ্গার কাহিনীতে যা থাকে সবই এখানে আছে। নিজ স্কুলের বাস্কেটবল টিমে জায়গা করে নেয়ার জন্য মেইন ক্যারেক্টার এর পরিশ্রম, নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচয় আর সাথে একজন রাইভাল আর ফাটাফাটি বাস্কেটবল ম্যাচ তো আছেই। তবে এই মাঙ্গার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল এর প্রধান ক্যারেক্টার হিগাশিনো আকাতসুকি।কিউট,হাসি-খুশি এবং কুল ক্যারেক্টার এর আকাতসুকি আমার সবচেয়ে প্রিয় স্পোর্টস মাঙ্গার হিরোদের মধ্যে একজন। আর আরেকটা বিষয় না বললেই নয়, এই মাঙ্গার মূল থিম টা খুব মনে ধরার মত। যেটা আকাতসুকির ডায়ালগ থেকেই বলি, “Do you guys know the most important thing in playing Basketball? When I first started Basketball, a player told me… The most important thing in Basketball is to……..

8 Fight no Akatsuki

Sengoku Basara : Samurai Kings- by Matiur Rahman Minar

অস্থির একটা সিরিজ দেখতেসি। Sengoku Basara : Samurai Kings. সামুরাই ফ্যান হয়েও এতদিন ক্যান যে দেখি নাই!
As usual, another piece of history. যারা বিভিন্ন সামুরাই এনিমে দেখেছেন তাদের কাছে Battle of Sekigahara’র Oda Nobunaga, Sanada Yukimura, Sarutobi Sasuke নামগুলো পরিচিত হওয়ার কথা।
Sixth Heavenly Devil King Oda Nobunaga’র aggression ঠেকাতে Date Masamune, Sanada Yukimura ইত্যাদি সামুরাই দাইমিয়োদের নেতৃত্বে গঠিত হয় Samurai Alliance. এই দুই পক্ষের যুদ্ধ নিয়েই কাহিনী। সামুরাই অ্যাকশন সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নাই। যথারীতি সুপার্ব।

এটা দেখতে গিয়ে আরেকটা ওপেনিং সং পেলাম যেটা প্রত্যেক এপিসোডেই স্কিপ না করে শুনে যাওয়ার মত!
https://www.youtube.com/watch?v=jugi1GviRfI

9 Sengoku Basara

লেভির মান সম্মান – kazi rafi

এনিমেটররা নিশ্চয় এখন কেও কেও তাদের হাত কামড়াইতেছে আর কেও কেও তাদের মাথার চুল ছিঁড়তেছে এইরকম একটা ভুল করার জন্য !!!! শুধুমাত্র হাতের আর মাথার ভিন্ন pose এর কারনে আজ লেভির মান সম্মান গেলো !!!! বেচারা !!!! Down,From a badass character to a badass Poser !!!!! LOL !!!

10 Levi

এখন আর কারুর লেভি রে দ্যাখার সময় আলাদা কোন ফীলস হবে নাহ, এখন যতোই ব্যাডএছ গিরি দেখাউক নাহ লেভি, এরে দ্যাখার সময় সবার মাথায় এই সিন টাই ঘুরব আর খালি হাসব !!!!!
অন্যদিকে ফারসিম আহমেদ মনে করিয়ে দিয়েছেন

মাত্র একটা সিনের কারণে আমরা যাতে ভুলে না যাই যে লেভি কতখানি “খুল”।

11 Levi

মেলোরিন – এই শব্দ টি কোথা থেকে এল ? একটি “ওয়ান পিস” গবেষণা by Adnan Mohsinur Rahman

মেলোরিন – এই শব্দ টি কোথা থেকে এল ?
একটি “ওয়ান পিস” গবেষণা
J

Untitled

ডিস্ক্লেইমার– আমি এই লেখা টা পেয়েছি ফ্যান ফিকশন ডটনেটে। মূল লেখার লিঙ্ক –
http://www.fanfiction.net/s/5585768/1/Mellorine

ইহা একটি ভাবানুবাদ মাত্র ।

 

দৃশ্য – সানি গো জাহাজ এর ডেক ।

“সানজি -কুন।“
“জ্বী,নামি- সুওয়ান  ”সোনালি চুলের রাধুনী সানজি গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে,প্রায় নাচতে নাচতে  হাজির হল ডেকের শেষ প্রান্তে যেখানে কমলা চুলের নাবিক আগেই অপেক্ষমান ছিল।

যদি সানজি অই মুহূর্তে নামি ছাড়া অন্য কোন দিকে চোখ রাখত তাহলে সে দেখতে পেত অন্য সহযাত্রীদের আনন্দিত আশান্বিত মুখ । যদি তার চোখ  এর আকার ধারন না করত তাহলে সে অবশ্যি দেখতে পেত নামির ক্রুদ্ধ দৃষ্টি , অথবা তার অধৈর্য পায়ের নাচন , অথবা  তার হাতের আড়াআড়ি অবস্থান ,কিন্তু …

-সানজি কুন , আমাকে তুমি যে নামটা ধরে প্রায় ই ডাক …

– “অথবা , রবিন কে” উসপ যোগ করল ।
– “ অথবা দৃষ্টির সম্মুখে থাকা যে কোন মেয়ে কে” জোরো বাকা হাসি দিল ।
– “হ্যা , সেটা যেন কি ?”
– “মেলোরিন~~” সানজি সুর করে গাইল ।
-“অইতো , আবার বলল” উসপ সানজির দিকে আঙ্গুল তুলল ।
-“হুম , এই বইয়ে তো এই বানান টাই দেখা যাচ্ছে” জোরো একটা মোটা বই ঘাটতে ঘাটতে বলল ।
-“ সানজি কুন , তুমি কি সত্যি ই মেলোরিন বলতে চেয়েছ ?”
-“হ্যা , নামি সুওয়ান”
– যেমন ,  “ আইস্ক্রীম এর একটি কম দামী বিকল্প , যা তৈরি হয় প্রানীর চর্বি এবং সবজি থেকে … “
নামি শব্দ খুজে পাচ্ছিল না
-“বাস্তবিক ই , নামি সুয়ান”
সানজির এই নিষ্পাপ সত্যই যথেষ্ট ছিল নামির তেলে বেগুনে জ্বলে উঠার জন্য ।
“তুমি বলতে চাচ্ছ এই পুরো সময় আমাকে তুমি “সস্তা” এবং “মোটা” ডেকেছ ?”
“আমি আসলে …”
সানজি শুধু হুপ জাতীয় একটা শব্দ করার সময় পেল নামির ঘুষিতে সমুদ্রের পানিতে হারিয়ে যাওয়ার আগে ।
“আর তোমাদের দুইজনের জন্য … “ নামি এবার বাকি দুই জনের দিকে দৃষ্টি দিল ,যারা পালিয়ে যাচ্ছিল ।
তাদের চোখ বিস্ফোরিত হয়ে গেল যখন নামির মুষ্টিবদ্ধ হাত তাদের কেও ছুড়ে দিল সাগরে , সানজির অনুকরণে ।

এই আনাহুত ঘটনার বা দুর্ঘটনার পরেও ,জোরো এবং উসপ একমত হল যে “অপারেশন- মেলোরিন-শব্দের –চারদিকে- গোল্লা –দেও- এবং -নামির -ডেস্কে -বইটা -রেখে –আস “ বিশাল সাফল্য নিয়ে এসেছে ।

লেখকের কথা –

আজকে আমি হঠাত ভাবলাম “মেলোরিন” মানে কি ? এবং এই অর্থটাই আমাকে উইকিপিডীয়া জানাল J  । আরলং পার্ক ফোরাম এর একটি থ্রেড বলছে – মেলোরিন সত্যিকার অর্থে হয়ত “মেরো-রিন” যার “মেরো “ মানে ভালবাসায় পতিত হওয়া (যেমন হ্যাঙ্ককের মেরোমেরো ফল) এবং অদা-san হয়ত “রিন” যোগ করেছেন একটা সুর তৈরির জন্য , যেমন জোরোর অনেক গুলো মারের নাম খাবারের সাথে সুর তৈরি করে – উদাহরণ – “ অনি-গিরি “। হয়তবা সানজি শুধুশুধুই এই শব্দ ব্যবহার করে ।

জোরো কে সাধারন দুষ্টামি করার মত মনে না হলেও , আমি মনে করি সানজির শাস্তি দেখতে সে আনন্দই পাবে J।

যাই হোক ,

আমাকে জানাও তোমরা কি ভাব ???

 

বাকেমোনোগাতারি – ভূত নিয়ে কিন্তু ভয়ের নয় ! — লেখক Adnan Mohsinur Rahman

বাকেমোনোগাতারি – ভূত নিয়ে কিন্তু ভয়ের নয় !

 

14 Best-bakemonogatari-hybrid-mixed-girl-thread

একদম ছোট বেলার কথা মনে আছে ? যখন আমাদের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অনুষঙ্গ ছিল রুপকথার গল্প-বিশেষত ভুত প্রেত পিশাচ দের নিয়ে রোমহরষক সব গল্প গাথা যা শুনলে সারা গায়ে কাটা দিয়ে উঠত । এখন হয়ত আর ভয় লাগবে না , কিন্তু ছোটবেলার সেই সব রুপকথা গুলোকেই যদি আমাদের এই বাস্তব জীবনে ঘটতে দেখি , কেমন হবে ? আমার মনে হয় যথেষ্ট  উপভোগ্যই হবে ।আজকে আমি যে এনিম টা নিয়ে কথা বলব তার মুল গল্প গড়ে উঠেছে এই ভুত প্রেত দের নিয়েই , ভাল করে বললে “ভূতের আছর” হও্য়া কিছু চরিত্রকে নিয়ে । এনিম এর নাম বাকেমোনোগাতারি।

বাকেমোনোগাতারি  আসলে দুইটি জাপানীজ শব্দের যোগফল – বাকেমোনো , মানে ভুত/প্রেত এবং মোনোগাতারি, মানে গল্প ।ইংরেজি তে এর নাম করা হয়েছে এরকম ghostory= ghost+story .এই নাম এর ব্যাপার টাই আমাকে প্রথম আগ্রহী করেছিল ।হাতে সময় থাকায় দেখতে বসে গেলাম ।

১৫ পর্বের ছোট একটা এনিম । মূল গল্পের নায়ক কোয়োমি আরারাগি , হাইস্কুল ৩য় বর্ষের ছাত্র । ক্লাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট সে । তার অতীত সম্বন্ধে শুধু এতটুকুই জানা যায় যে ভ্যাম্পায়ারের আক্রমণে ভাম্পায়ারে পরিণত হয়েছিল সে , কিন্তু তা অতি অল্প সময়ের জন্য ।পরবর্তী তে মেমে অশিনো নামের এক রহস্যময় চরিত্রের সহায়তায় সে পুনরায় মানুষ হয়ে গেছে , কিন্তু কিছু পরিমাণে ভ্যাম্পায়ার  বৈশিষ্ট্য তার মাঝে এখন ও রয়ে গেছে । পুরো এনিমে তে মেম অশিনো চরিত্র টাই যেন আরারাগির গুরু , যেকোন সমস্যায় তার কাছেই ছুটে যায় আরারাগি । গল্পের শুরু আরারগির ক্লাস মেট হিতাগি সেঞ্জোগাহারা কে নিয়ে। শুরু টা অনেক টা বাংলা সিনেমার মতই , গল্পের নায়িকা হিতাগি কলার খোসায় পা পিছলে সিড়ি দিয়ে পড়ে যায় । আরারাগি তখন তাকে ধরে ফেলে, কিন্তু অবাক বিস্ময়ে সে আবিষ্কার করে হিতাগি যেন ওজনহীন । হিতাগি তার এই সিক্রেট কাউকে বলতে নিষেধ করে , এবং আরারগি কে মোটামুটি হুমকিও দেয় । তারপরেও আরারগি এই ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান চালায় , হিতাগিকে সাহায্যের প্রস্তাব দেয়, এবং হিতাগি কে মেমের সাহয্য নিয়ে সুস্থ ও করে তোলে । হিতাগি পরবর্তী তে আরারগির বন্ধু এবং এক সময় প্রেমিকা হয়ে উঠে । হিতাগির চরিত্র টা আমার কাছে বেশ কৌতুহল উদ্দীপক লেগেছে , যখন যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ করে বসা এক মেয়ে হিসেবে । আরারাগি  কে মোটামুটি পুরো সিরিজ ধরেই সে হুমকি ধামকির উপর রেখেছে অথচ আরারাগির প্রতি তার ভালবাসাও কম নয় ।
পুরো সিরিজে যতই সময় আগায় নতুন চরিত্র গুলো উপস্থিত হয়, যাদের প্রত্যেক এরই নিজস্ব কোন অস্বাভাবিকতা আছে , যা আসলে কোন প্রেতের অশরীরী উপস্থিতির ফল । চরিত্র গুলো হল – একটি হারিয়ে যাওয়া শিশু মায়ই হাচিকুজি, আরারাগির জুনিওর স্কুল মেট সুরুগা কানবারু, আরারাগির ছোট বোনের বান্ধবী নাদেকো সেঙ্গোকু এবং তার ক্লাসের প্রেসিডেন্ট সুবাসা হানেকাওয়া ।এরা প্রত্যেকেই মেয়ে চরিত্র (এটা নিয়ে একবার সুবাসা মজা করে বলেও যে ভ্যাম্পায়ার দের নাকি বিপরীত লিংগকে আকর্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি । ), এবং সবাই কোন কোন না কোন ভাবে অশরীরী উপস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত । তাদের প্রত্যেক কেই আরারাগি সাহায্য করে মেমের মাধ্যমে, এবং পরবর্তী তে হানেকাওয়ার ক্ষেত্রে শিনবো নামের এক ভ্যাম্পায়ার এর সহযোগিতায় ।

পুরো সিরিজ টা আসলে দাঁড়িয়ে আছে চরিত্র গুলোর কথোপকথনের উপর । লেখক নিসিও ইসিন এর ডায়লগ নির্বাচন  খুব ই চমৎকার , প্রচুর ওয়ার্ড প্লে আর জোক আছে । পিছনের সাউন্ডট্রেক গুলোও বেশ ভাল ছিল । আর ছবি আকার স্টাইল টাও অন্যরকম ছিল , বিশেষত কিছু কথা চরিত্রের মুখ দিয়ে না শুনিয়ে শুধু কাগজে লিখে স্ক্রীনে দেখানোর আইডীয়া টা আমার কাছে ভাল লেগেছে । এতে এনিম এর attarctiveness বেড়েছে। ১২ তম এপিসোডটা সেরকম রোমান্টিক ছিল ,অনেকদিন মনে থাকবে , গ্যারান্টি J ।

অশরীরী উপস্থিতি গুলোর বর্ণনা (আরো ভাল করে বললে এদের রূপায়ন এবং  আক্রান্ত চরিত্রের উপর প্রভাব) নেয়া হয়েছে প্রাচীন জাপানীজ উপকথা থেকে । একের মাঝে দুই, এনিম টা দেখলে জাপানের কিছু প্রাচীন উপকথার সম্বন্ধেও জানা হয়ে যাবে J ।

এই এনিম এর সিকুয়েল্ হল নিসেমোনোগাতারি (১১ পর্ব ) আর প্রিকুয়েল নেকোমনোগাতারি (৪পর্ব ) । আমি এখনও এগুলো দেখি নাই , দেখলে এগুলো নিয়ে লেখার ইচ্ছাও আছে । আর এই সিরিজের ২য় সিজন  “মোনোগাতারি ,সিজন ২ “ নামে জুলাই ৭ ,২০১৩ থেকে প্রচার শুরু হয়েছে ।

এনিম ডাউনলোড লিঙ্ক ঃ  (টরেন্ট )
http://thepiratebay.sx/torrent/7210278/

যারা এখনো এই সিরজ টা দেখেন নি , দ্রুত দেখে ফেলুন , আশা করি ভাল লাগবে ।

BTOOOM – লেখক রেড এলার্ট

 

 2 3 4 5

INTRODUCTION

অ্যান্টি-সোসিয়াল হিরো যে কিনা আবার হার্ডকোর ভিডিওগেমার। ট্রেণ্ড অব ইয়ার ২০১২। অল্প কিছু মাসের মধ্যেই এ জাতিও এনিমে দর্শকদের এত পরিমাণে গেলানো হয়েছে যে কেউ যদি এগুলো গুণতে শুরু করে তাহলে সময়জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে বাধ্য। যাইহোক, Btooom হল এক hikikomori-র গল্প যে ভিডিওগেম খেলে দিনানুপাত করা ছাড়া আর কিছু করতে অপারঙ্গম এবং হঠাৎই আমরা দেখতে পাই তাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। আর সে বিশাল বড় অপদার্থ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের নাকি তাকে চিয়ার করে যেতে হবে। দুঃখীত আমার পক্ষে সেটা করা সম্ভব হলনা, এই শো এতই ridiculous। এক কথায় প্রকাশ করতে হলে এনিমেটির মূল থিম হল, All humans are bastard. *facepalm*

1

 

PRODUCTION VALUE

 

জাপানের সেরা স্টুডিও গুলোর একটি Madhouse সর্বদাই তাদের প্রোডাকশনগুলো দক্ষতার সাথে তৈরি করে। Btooom ও এর ব্যতিক্রম নয়। গড়পড়তা এনিমের থেকে Btooom এর এনিমেশন রিয়ালিষ্টিক, পরিবেশ এবং সিনেমেটিক সূক্ষ্ম ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সাউন্ডট্র্যাক এবং ভয়েস এক্টিং আহামরি কিছু নয়। সেকেন্ডারি চরিত্রগুলোর ভয়েস এক্টিং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোঁতা এবং অমানানসই লেগেছে।

 

 

 

SCRIPT

 

-পুরো গল্পটি Counter Strike এবং Bomberman এর সংকর এক ভিডিওগেম Btooom! কে কেন্দ্র করে, শুরুতে তাই মনে হয়। কিন্তু পরমুহূর্তেই জাপানিজ অ্যাকশন থ্রিলার Battle Royal এর এনিমে ভার্সন হয়ে ওঠে এটি, অর্থাৎ এক নির্জন ট্রপিক্যাল দ্বীপে তাদের অনিচ্ছায় প্যারাড্রপ করানো এক দল লোককে একে অপরকে হত্যা করে নিজ নিজ জীবন বাচাতে হবে। গল্পের পটভূমি যতই ইন্টারেস্টিং মনে হক, একজন অভিজ্ঞ ওতাকু খুব সহজেই বুঝতে পারবে এ সকল কিছু নন্‌সেন্স ছাড়া আর কিছুই নয়।

5

-Btooom গেমটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে এর নানারকমের বিস্ফোরক। হলিউডি ফিল্ম এবং ভিডিওগেমের কল্যাণে আমরা সবাই জানি একটি বিস্ফোরক যখন বিস্ফারিত হয় এর আশেপাশে থাকা প্রত্যেকেই শ্রাপনেল, শকওয়েভ অথবা নয়েস থেকে আহত হবে। তো বিস্ফোরক কেন্দ্রিক এনিমে Btooom কি সেই প্রিন্সিপাল মেনে চলে? না। ছোট বাচ্চাদেরকেও বলে দিতে হবেনা একটি মিলিটারি বিস্ফোরকের রেডিয়াস কয়েক মিটার, সেন্টিমিটার নয়। তো কল্পনা করুন আমাদের হিরোর কোলে ১০ মিনিটে তিন বার তিন রকমের বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হলেও তাকে বহাল তবিয়তে দাড়িয়ে থাকতে দেখলে আপনার রিঅ্যাকশন কেমন হবে। Plot armor FTW!

 

-কেউ বিস্ফারণের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও তার বোম গুলো আবার intact রয়ে যায়। Sweet, extra ammo from enemy drops, this videogame is nice… ওহ আমি তো ভুলেই গেছি Btooom ভিডিওগেম নয়, রিয়ালাষ্টিক ডেথগেম, I suppose.

 

-যখন গেম কন্ট্রোলার ইটের দেয়ালে ছুড়ে মারা হয় তখন কোনটা ভাঙ্গে? দেয়াল নাকি কন্ট্রোলার? দেয়াল। দয়া করে আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না আমি এসব কি বলছি। নিজেই দেখে নিবেন।

 

-তারা এমনকি ভিডিওগেমের প্রযুক্তি বাস্তব দুনিয়ায় টেনে আনার চেষ্টা করেছে, যার ফলাফল হয়েছে হাস্যকর। Btooom এ দেখানো একএকটি বোম বাস্তবে তৈরি করতে গ্রেট চায়নার ব্যাংক ভল্ট খালি হয়ে যাবে, খেলোয়াড়দের অপহরণ আর পরিবহণ খরচ বাদই দিলাম। উদাহরণ হিসেবে মিনি-ব্ল্যাকহোল বোমটির কথা বলা যায়। তো হিসেব করার চেষ্টা করে দেখুন এক silly deathgame যেটির কোন ulterior goal নেই, নেই খরচ উঠে আসার সম্ভবনা, সেই ডেথগেমে এমন futuristic tech-এর ব্যবহার কতটুকু ব্যয়বহুল। এছাড়াও এক ব্যক্তির বিস্ফোরক সে বেঁচে থাকা পর্যন্ত অন্য আরেকজন ব্যবহার করতে পারেনা। Yeah sure. Lets make it even more expensive with DNA signature triggers that go offline when they no longer receive the brainwaves of their original owner as confirmation code.

 

-এতসব কিছুর পরও পুরো শো-টি আরও নানারকম এরর এ আক্রান্ত। যখন তখন যেকোনো সময় যেকোনো ক্যারেকটার কোন কারণ দেখানো ছাড়াই উধাও হয়ে যেতে পারে দর্শকদের অন্ধকারে রেখে। শো-এর শেষের দিকে আবার আলাদীনের জাদুর চেরাগ ব্যবহার করে হাজির হয় একদল জায়ান্ট ম্যানইটার কমোডো ড্রাগন। অথচ একদল প্লেয়ার পুরো দ্বীপ চষে ফেলেও পূর্বে এদের অস্তিত্ব খুজে পায়নি।

 

-এতসব ভুল-ভ্রান্তিও যেন যথেষ্ট ছিলনা। Btooom এর ডিরেক্টরেরা ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহারে এতই দক্ষ যে তা নারুতোকেও হার মানাবে। আলঝেইমার রোগী ছাড়া অন্য কেউ এক এপিসোড আগের ঘটনা ভুলে যাবে বলে মনে করিনা। আর বলাইবাহুল্য Btooom মাত্রই ১৩টি এপিসোডের এনিমে।
2

 

CAST

 

একটি এনিমের সমস্ত নন্সেন্স বুলশিট ক্ষমা করে দেয়া যায় শুধু মাত্র এর characterization এর উপর ভিত্তি করে। যেমনটা বলা যায় Deadman Wonderland অথবা Mirai Nikki এর ক্ষেত্রে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এনিমের চরিত্রগুলো কিভাবে একেওপরের সাথে interact এবং react করে তা দেখাও উপভোগ্য হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে এমনকি এটিও অসম্ভব। অন্যান্য চরিত্রদের নাইবা ধরলাম, স্বয়ং আমাদের হিরোর characteristic প্রতি পাচ মিনিট অন্তর অন্তর পরিবর্তিত হয়। সিরিয়াসলি! প্রধান Protagonist এর চরিত্র বিশ্লেষণ করা আমার পক্ষে অসম্ভব, একেক scene-এ তার আচরণ একেক রকম হয়ে যায়! আমি বলতে চাইছিনা যে, বিপদের মুখে সে তার চরিত্র ঢেকে সাহসী হবার আচরণ করে যদিও সে ভীত অথবা হিরোইনের উপর দুর্বলতা থাকলেও প্রকাশ হতে দেয়না। আক্ষরিক অর্থেই সে ভিন্ন একজন ব্যক্তি হয়ে ওঠে।

 

-এক scene এ দেখা যায় হিরো বিস্ফোরক ব্যবহারে অত্যন্ত পারদর্শী। পরের scene-এ আমার আবিষ্কার করি হিরো বোমের ব-ও ব্যবহার করতে জানেনা। দর্শকদের একরকম জোর করে বোঝানো হয়েছে সে একজন hardcore gamer এবং Btooom এর Rank #1 প্লেয়ার। অথচ একটি টাইমার বোম কিভাবে কাজ করে সেটি বুঝতে তার পাঁচটি-পাঁচটি বিস্ফোরক এলোপাথাড়ি এদিকওদিক ছুড়ে মারতে হয়েছে। Top player material right here.

 

-এক scene-এ হিরো এন্টিসোসিয়াল এবং শত্রুভাপাপন্ন। অপর scene-এ খুবই সামাজিক এবং বিনম্র।

 

-একবার দেখা যায় হিরো একজন সাহসী লিডার ফিগার। আবার দেখা যায় ১০ মিটার পথ ১০বার হোঁচট না খেয়ে চলতে অপারঙ্গম।

 

-আমারা দেখতে পাই হিরো খুবই বুদ্ধিমান। তার প্রতিপক্ষদের নানারকম ফাঁদ পেতে হত্যা করতে পারদর্শী। কিছুক্ষন পর আমরা পরিলক্ষিত করি, সেই একই ফাঁদ অন্য কাউকে অন্য আরেকজনের উপর ব্যবহার করতে দেখে হিরোর ভিরমি খাবার অবস্থা।

 

– And there is no bloody excuse for how a Hikikomori/NEET like him can be so athletic. বছরের পর বছর কম্পিউটারের সামনে শিঁকড় গেড়ে বসে থাকা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পাই সুপিরিয়র ষ্টামিনা এবং স্কিল সম্পন্ন মিলিটারি/মারসেনারিদের outrun এবং counterattack করতে সক্ষম main protagonist।

 

একই রকম ভাবে এনিমেটির প্রত্যেকটি চরিত্রকে দুই ভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। হয় তারা too evil কিংবা too stupid, কোনরকম রাখঢাক ছাড়াই।

 

-প্লটের মেইন deuteragonist সেক্সি (you don’t say) ব্লণ্ড স্কুল গার্ল হিমিকো, যাকে দেখা মাত্রই তার পার্শ্ববর্তী সকল পুরুষ রেপ করতে হামলে পরে। Because WHY NOT; we need a slut in any cheesefest. Japans ridiculousness at its finest! হিমিকো সকল ফ্যান সার্ভিসের মূল উৎস এবং এনিমেটরেরা বলাইবাহুল্য তার প্রাইভেসি উম্মোচন করতে কোন রকম কার্পণ্য করেনি। তার পারসোনালিটিও এনিমেটির অন্যান্য অংশর মতই প্লেইন জোক। তার ব্যাকগ্রাউণ্ড অনুযায়ী পুরুষদের সাহচর্যে তার মাঝে ভীতির সঞ্চার হবার কথা। কিন্তু কাহিনীর প্রয়োজনে যখন-তখন যাকে ইচ্ছা তাকে বিশ্বাস করতে তার বাধে না। তারপর তারা বিশ্বাসঘাতকে পরিণত হবে এবং হিমিকো তাদের ঘৃণা করতে শুরু করবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আবার কাহিনীর প্রয়োজনে তাদের উপর বিশ্বাস রাখার প্রয়োজন হয়, and so on like a vicious cycle.

 

-প্রতিযোগীদের এক হাস্যকর পদ্ধতিতে বেছে নেয়া হয়েছে। স্পয়লার ফ্রি রাখার স্বার্থে তা নাইবা বললাম। Main Protagonist কে বেছে নিয়েছে তার মা স্বয়ং। Because, woo he was mean to her! Yep, ছেলে impolite হলে মা তাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেয় তাই না। আর blonde chick হিমিকো কে বেছে নিয়েছে তার দুই বেস্টফ্রেন্ড। কেন? না। There was a rape incident. তার দুই “বেস্টফ্রেন্ড” তার শিকারে পরিণত হলেও হিমিকো পালিয়ে পুলিশে খবর দিতে সক্ষম হয়। পুলিশ দুজনাকে উদ্ধার করে নিশ্চিত পতিতাবৃত্তি কিংবা মৃত্যুর হাত থেকে বাচায় হিমিকোর কল্যাণে। ধন্যবাদ হিসেবে তাদের ধারণা হয় “ক্ষমার অযোগ্য” লাইফ-সাপোর্ট দেবার চেয়ে তাদের সাথে হিমিকোরও থেকে ধর্ষিত হওয়া উচিত ছিল। এখন এটাকে Female dumbness at its finest নাকি anime plot at its worst হিসেবে মার্ক করবেন সেটা আপনারাই ঠিক করে নেবেন।

3

 

LEGECY

ফ্যানসার্ভিস, সস্তা বিস্ফোরণের দৃশ্য, বাজে প্লট মিলিয়ে আর দশটা হিন্দি সিনেমার সাথে তেমন পার্থক্য নেই।

And now for some excused scorings.

ART SECTION: 7/10

General Artwork 2/2 (looks nice)

Character Figures 1/2 (generic)

Backgrounds 2/2 (basic but fitting with the feeling of the series)

Animation 1/2 (basic)

Visual Effects 1/2 (lots of cheap explosion filters)

SOUND SECTION: 7/10

Voice Acting 2/3 (corny but fitting with the feeling of the series)

Music Themes 3/4 (not great but fitting with the feeling of the series)

Sound Effects 2/3 (ok I guess)

STORY SECTION: 2/10

Premise 1/2 (cheap Battle Royale imitation)

Pacing 1/2 (erratic)

Complexity 0/2 (tries to be complicating in psychological issues and fails miserably)

Plausibility 0/2 (none)

Conclusion 0/2 (doesn’t have one)

CHARACTER SECTION: 2/10

Presence 1/2 (generic)

Personality 0/2 (cardboards and unsympathetic)

Backdrop 1/2 (generic and simplistic but it’s there)

Development 0/2 (random mood swings)

Catharsis 0/2 (incomplete story, so no catharsis)

VALUE SECTION: 1/10

Historical Value 0/3 (none)

Rewatchability 0/3 (just read Battle Royale instead)

Memorability 1/4 (totally meh show)

ENJOYMENT SECTION: 1/10

Art 1/1 (looks nice)

Sound 0/2 (sounds meh)

Story 0/3 (generic, badly written, and incomplete)

Characters 0/4 (cardboards and unsympathetic)

OVERALL: 3.5/10

গিনতামা মুভি – ফারসিম আহমেদ

কয়েকদিন আগে গিন্তামা নিয়ে কথা উঠেছিল, কয়টা আনিমে দেখে গিন্তামা দেখা উচিত। তো ছবি মাঝে মাঝে অনেক জোরালো বক্তব্য রাখে।
কোন কোন আনিমের রেফারেন্স আছে সেগুলো কুইজ রইলো, আমি শুধু সিনেমারটা বলে দিচ্ছি, এটা রোমান হলিডের প্যারোডি। গ্রেগরী পেক আর অড্রে হেপবার্ন ভালো অভিনয় করেছিলেন, আর সিনেমাটা বেশ উপভোগ্যও ছিল।
Gin 1
Gin 2
Gin 3

Psycho pass: সিস্টেম সিবিলাস কিংবা সংখ্যায় অস্তিত্বের পরমাপ– লেখক আসিফুল হক


“I want to see the splendor of people’s souls.” – Makishima shogo.

ধরুন; কোন এক সুন্দর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন দেশ থেকে সব মারামারি কাটাকাটি সব দূর হয়ে গেসে। পাব্লিক সব “আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে” গান গাইতে গাইতে যার যার কাজে যাচ্ছে। কিভাবে? ধরুন; দেশ থেকে থানা পুলিশ কোর্ট কাচারি আদালত সব উঠে গেসে; এইগুলোর আসলে দরকারই নেই। এমন টেকনোলজি বের হয়েছে যে রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাগানো ক্যামেরা স্ক্যান করেই বলে দিতে পারবে কে কি অপরাধ করতে যাচ্ছে; কে মনে মনে কি ভাবছে; কার ট্যালেন্ট কি; এই মুহূর্তে কার কি করা দরকার – সব। যন্ত্রের স্ক্যানে একবার ধরা খেলেই সব শেষ; সেই লেভেলের সব অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাজির; ধুমধাম যা ব্যাবস্থা নেওয়ার নিয়ে নিবে।

মোটামুটি এইরকম একটা প্লট নিয়েই শুরু হয়েছে “psycho pass” এনিমটার কাহিনী। দূর ভবিষ্যতে জাপান এমন একটা সময়ে বাস করতেসে যেখানে সব কিছুই কন্ট্রোল করে “সিবিল সিস্টেম” নামক একটা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম। যদিও সিস্টেমটি কিভাবে কাজ করে কিংবা আদৌ সিস্টেমের সব সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত কি না – সেটা কেউ ভেবে দেখে না; আসলে প্রয়োজন মনে করে না। কারন এই সিস্টেম সমাজে এক ধরণের কড়া “rules and order” maintain করতে সক্ষম হয়েছে। জনগন এই শান্তির বিঘ্ন কিছুতেই চায় না।


“The law doesn’t protect people. People protect the law. People have always detested evil and sought out a righteous way of living. Their feelings, the accumulation of those peoples feelings are the law. They’re neither the provisions, nor the system. They’re the fragile and irreplaceable feelings that everyone carries in their hearts.” – Tsunemori akane.

এই পর্যন্ত পরার পর প্রথম রিএকশন যেটা হওয়া স্বাভাবিক সেটা হল, “ভালই তো; প্রব্লেমটা কই? যন্ত্র সমাজ কন্ট্রোল করতেসে; শান্তি বজায় রাখতেসে; সমস্যাটা কই?” Well; দুইটা সমস্যা। এক – যন্ত্র কি আসলেই মানুষের মনের পরিমাপ করতে পারে? ভাল মন্দ অপরাধ শিল্প মানবিকতা – এই জিনিসগুলো কি আসলেই পরিমাপযোগ্য? কিছু certain criteria ধরে হয়ত একটা ঘটনাকে “অপরাধ” বলা যেতে পারে; কিন্তু অপরাধ ঘটার আগেই কি সেটা যন্ত্রের মাধ্যমে প্রেডিক্ট করা সম্ভব? কিংবা ভালর সংজ্ঞাটা আসলে কি? মন্দের সংজ্ঞাটাই বা কি? আইন কি? কোন অপরাধের কি শাস্তি হওয়া উচিত তা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা না করে যন্ত্র কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাকি নেওয়া উচিত? সমাজের চলার পথে মানুষের কিছু বিশ্বাস, কিছু আশা আকাঙ্খা, কিছু তৈরি করা নিয়মই কি আইন নয়? এধরণের বেশ কিছু rhetorical প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করা হয়েছে – কিংবা বলা ভাল – প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে এই এনিমে।

সমস্যা দুই – সিস্টেমেই সমস্যা। এনিমটা কিছু দূর আগানোর পর দেখা যায় এমন কেউ বা কিছু লোক আছে যারা দিব্যি অপরাধ করে যাচ্ছে – সিস্টেম তাদেরকে স্ক্যান করে সেখানে “অপরাধপ্রবনতা” খুজে পাচ্ছে না। কিসের জন্য? জানতে হলে দেখতে হবে এই এনিমটি।

স্টোরিলাইন নিয়ে খুব একটা গভীরে যাচ্ছি না; চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়েও না। স্টোরিলাইন খুব একটা জটিল না; বর্ণনা করতে গেলেই প্রচুর স্পয়লার চলে আসবে। আর ক্যারেকটারের কথায় আসি – মুল ক্যারেক্টার আমার কাছে দুইজন। “Shinya Kōgami” আর “Shōgo Makishima”। যদিও দুই জনের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক এবং বুদ্ধির লড়াই পুরো সিরিজের অন্যতম মুল উপজীব্য; কিন্তু এদের মধ্যে কে যে নায়ক আর কে যে ভিলেন পুরোপুরি কখনই নিশ্চিত হওয়া যায় না। জোরাজুরি করলে মাকিশিমা কে ভিলেন আখ্যা দেওয়া যায়; তবে পুরো সিরিজে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল এই মাকিশিমাই। যদিও ভাল মন্দ হিরো ভিলেন –রোলগুলো এই এনিমের প্রেক্ষিতে একটু টাফ। যারা ডেথ নোট দেখসেন তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। যদিও psycho pass কোন দিক দিয়েই death note এর ধারেকাছেও না; জাস্ট dilemma টা বোঝানোর জন্যই এখানে death note এর reference টানা।


“Everyone is alone. Everyone is empty. People no longer have need of others. You can always find a spare for any replacement. Any relationship can be replaced.” – Makishima Shogo.” 

বাকি সব দিক গুলো নিয়ে এক কথায় বলতে গেলে – সুন্দর প্লট; মোটামুটি চলে টাইপ স্টোরি; adorable and likable ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এবং interesting এন্ডিং। খুব বেশি নাড়া দেওয়ার মত ঘটনা না হলেও চরিত্র রুপায়ন আর বাকি সব দিক মিলিয়ে ভালই উৎরে গিয়েছে। গানগুলো বেশ সুন্দর; এমনকি একটা এন্ডিং সং এখন আমার মোবাইলের রিংটোন এবং আমি আমার রিংটোন এর ব্যাপারে যথেষ্টই খুতখুতে।

সুতরাং দেরি না করে আজই দেখে ফেলুন এই জম্পেশ এনিমটি; আশা করি ঠকবেন না।

এনিম নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে; ছবি আঁকতে কিংবা দেখতে চাইলে; মজার সব কুইজে অংশ নিতে চাইলে জয়েন করতে পারেন ফেসবুকে “এনিমখোর” গ্রুপে।

শেষ করব এই এনিমে আমার অন্যতম প্রিয় একটা লাইন দিয়ে –
“Books are not something that you just read words in. They’re also a tool to adjust your senses.”

হ্যাপি এনিমিং।

Sword Art Online: কল্পনা যেখানে মিশেছে বাস্তবতায়…. — মো আসিফুল হক

পটভুমিঃ
সময়টা ২০২২ সাল। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি গেমের জগত অনেক এগিয়ে গিয়েছে; বের হয়েছে sword art online. “নার্ভ গিয়ার” ব্যাবহার করে প্লেয়াররা তাদের চরিত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে; সেইসাথে ভার্চুয়াল জগত “আইনক্রাড”কে আসল জগতের মতই অনুভুত করতে পারে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন এই জগতটা একটু বেশিই আসল হয়ে যায় যখন গেমের ক্রিএটর সকল প্লেয়ারের নার্ভ গিয়ারের কন্ট্রোল হাইজ্যাক করে সবাইকে ভার্চুয়াল জগতে এই শর্তে আটকে রাখে যে কেউ যদি গেমের ভিতর মারা যায় তবে সে বাস্তব জগতেও মারা যাবে এবং গেম থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় গেমের ১০০টি লেভেল ক্লিয়ার করে আইনক্রাডের সবচেয়ে উচুতে পৌছাতে হবে কাউকে না কাউকে।

রিভিউঃ
খুব সংক্ষেপে যদি বলতে হয় তবে পুরো সিরিজটা আমাকে খানিকটা হতাশই করেছে। এই সিরিজের পক্ষে যেমন প্রচুর লোক কথা বলবে; তেমনি এর বিপক্ষে কথা বলার লোকও খুজে পাওয়াটা খুব একটা দুষ্কর নয় !!! পুরো রিভিউতে ঢুকে পড়ার আগে কিছু মন্তব্য শুনে আসা যাক –

# বিপক্ষেঃ SAO was probably the only anime this year that got bashed by most MAL users for a plot that doesn’t make any sense , a geek gamer who wins every fight (only inside a virtual world) ,clichéd harem concept , the incestuous plot hint, and the season 2 epic fail ending….. The only good thing about the anime was the action scenes, nothing else…

#পক্ষেঃ Sword Art Online, definitely one of the best anime of last year, action-packed (the double blades, damn!!), Alongside Kirito and Asuna’s romantic journey in the SAO realm, followed by Kirito fighting for her in the other world, and a beautiful ending…couldn’t ask more…

#মিশ্রঃ “মিশ্র অভিজ্ঞতা। সোর্ড আর্ট অনলাইনের গেম অংশটা ভাল; রোমান্স অংশটা খুবই কিউট; ফাইটগুলা খুবই জোস। কিন্তু সেকেন্ড গেমটাতে জেইরকম ভেজাল ঢুকানো শুরু করসে তাতে আমি মহা বিরক্ত; এই পার্টটা অনেকটা “আলিফ লায়লা” টাইপ লাগসে; “দুষ্ট রাজা নায়িকাকে আটকায় রাখসে আর নায়ক বাচাইতে যাবে” টাইপ; আর আমার কাছে “oniii chan; I love you” টাইপ জিনিসপত্র অসহ্য।

#মিশ্রঃ nobody told that SAO is a great anime. But it’s special in the view of a new anime genre. Yes, romanticism flowed in various strange ways and the anime ending was less expected…but after all people goes crazy over the internet because of the plot. Maybe my answer is confusing too, but my love for the anime is special, that’s what I have to say.

গল্পঃ 
শুরুটা যথেষ্ট পটেনশিয়াল নিয়ে শুরু হলেও সেটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হইসে। প্রথম কয়েকটা পর্ব খুব দ্রুত আগাইসে; মনে হইসে মাঙ্গার অনেকগুলো পর্ব একসাথে এনিমের কয়েকটা পর্বে আটকানোর চেষ্টা; এবং শেষের দিক গিয়ে আবার সেটা বেশ স্লো হয়ে গেছে। এক পর্বে দুই তিনটে ভাল ভাল ফাইট দেখাইসে আবার দেখা গেসে পরের পর্বতেই আবার একটা বিশাল অংশ রোমান্স বা এই ধরণের স্লো জিনিসে কেটে গেসে। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত রোমান্স অংশটা আরেকটু কমায় ফাইটগুলা আরেকটু ডিটেইলস বা আরেকটু স্লো দেখাইলে ভাল হইত। তবে এইটা স্বীকার করতেই হবে; আসুনা আর কিরিতো আমার দেখা অন্যতম সুইট কাপল; এদের দুইজনকে নিয়ে আলাদা করে রোমান্টিক জেনারের কোন এনিম বানাইলেও খারাপ হইত না।

এই এনিমে স্পষ্টতো দুইটা পার্ট; দুইটা গেম। প্রথমটার তুলনায় দ্বিতীয়টাতে বেশি পটেনশিয়াল ছিল; এবং সেইখানে হতাশাও বেশি। “রাজকন্যা উদ্ধার” ব্যাতিত আর কিছুই দেখায় নাই বলতে গেলে অই অংশে।

ভিজুয়াল আর্টঃ 
এক কথায় স্টানিং। আইনক্রাড জগতটা আমার এত্ত পছন্দ হইসে যে মনে হইসে কোনভাবে যদি অই জগতে চলে যেতে পারতাম !!! ফাইট সিন গুলা অসাম; তবে কেউ মারা যাওয়ার ইফেক্টটা আরেকটু রিএলিস্টিক হইলে ভাল হইত; যেহেতু কেউ গেইমে মারা জাওয়া মানে বাস্তব জগতেও মারা যাওয়া; সুতরাং আরেকটু ভয়াবহতা আনলে মনে হয় বেটার হইত।

সাউন্ডঃ 
ভিজুয়াল আর্টের মতই; বেশ ভাল। সিম্পল এবং স্পট অন।

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ 
কিরিতো আর আসুনা বাদে আমি বাকি সব ক্যারেকটারের নাম ভুলে গেসি; সিরিয়াস্লি; আর আমি দেখে শেষ করলাম আজকে বিকেলে !!! কোন ক্যারেকটারের সাথেই তেমন ইমোশনাল এটাচমেন্টের সুযোগ রাখে নাই রাইটার। আসুনা এবং কিরিতো যথেষ্ট লাইকেবল ক্যারেক্টার এবং তাদের জুটিটা অন্যতম কিউট একটা জুটি হবার পরেও তাদের সাথেও তেমন ইমোশনাল এটাচমেন্ট হয় না।

সব মিলিয়েঃ
“দুষ্টু প্রেমের মিষ্টি কাহিনী” জাতীয় হাল্কা ধাচের কাহিনী, বেশ আকর্ষণীয় ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আর বেশ ভাল গ্রাফিক্সের কারণে দুর্বল প্লটের এই এনিমটা বেশ খানিকটা অভাররেটেডই বটে !!! মোটামুটি ত্রিভুজ চতুর্ভুজ এবং বহুভুজ প্রেম আর আবেগ নিয়ে বেশ ভাল একটা টাইম পাস করসে মাত্র ২৫ পর্বের এই এনিমটা !!!! তবে খুব বেশি সমালোচকের দৃষ্টিতে না দেখলে “টাইম পাস এনিম” হিসেবে বেশ ভালই লাগসে sword art online.

রিকমেন্ডেশনঃ 
যারা অনলাইন গেমে আসক্ত; তাদের খুব ভাল লাগার কথা এই এনিমটা। স্টোরি যেমনই হোক; গেম পার্ট; গেমের মধ্যে ফাইটিং পার্ট; গেমের জগত – অসম্ভব ভাল এবং সুন্দর। এছাড়া যারা হাল্কা ধাচের কিছু দেখার জন্য খুজছেন এবং গল্প নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই তারাও দেখে ফেলতে পারেন। দিনশেষে বলা যায়;
“it’s a good anime, but not great”