Lion Book series [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

হাল আমলের ফ্ল্যাশি এনিমে থেকে একটু ব্রেক নিতে চাইলে দেখে আসতে পারেন Lion Book series টি। Astro Boy, Kimba the Lion, Black Jack এর স্রষ্টা Osamu Tezuka’র কিছু মাংগার কালেকশন নিয়ে এই সিরিজ। এ ব্যাপারে অবশ্য একটু কনফিউজন আছে। যদিও বলা হয় এই সিরিজ মূলত ১৯৫৬ এবং পরবর্তীতে ‘৭০ এর কিছু মাংগার কালেকশন, তবে এর মধ্য থেকে শুধুমাত্র ৬টির এনিমে এডাপটেশন হয়েছিল যেগুলো Osama Tezuka’র রচনা এবং ডিরেক্ট করা। ৬টি ইউনিক গল্প দিয়ে সাজানো এই এনিমে কালেকশন খুব একটা মন্দ না। কিছু পরিচিতি দেই-

*1.The Green Cat:
গল্পের মূল চরিত্র বলতে গেলে ৪টে, বিড়ালটা সহ। একটি দূর্ঘটনার কারণে সাংগো ছোটবেলাতেই একা হয়ে পড়ে। ঐসময় ত্রাণকর্তা হিসেবে তার কাছে আসে এক সবুজ বিড়াল। তার জীবন পাল্টে দেয় এই বিড়াল। একসময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় নাম হয়ে যায় সাংগোর। অন্যদিকে দেখা যায় শুনসাকু-বান নামের একজন ডিটেক্টিভ তার বন্ধুর খুনের রহস্য ভেদ করায় জান-প্রাণ দিয়ে খাটছে। ঘটনাক্রমে সাংগো এবং তার বিড়াল ও শুনসাকু-বানের মধ্যে কাকতালীয় সম্পর্ক বিরাজ করে। প্রকাশ পায় সবুজ বিড়ালের রহস্য।

lion-book-1

*2.Rain Boy:
পুরো কালেকশনে এই গল্পটিই সবচাইতে সুন্দর। বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্বের মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে এই গল্পে। ছোট্ট মোউতা’র কোন বন্ধু নেই। এই ছোট্ট জীবনে তার হতাশার শেষ নেই। হঠাৎ একদিন সে দেখে তারই সমান একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ঘিরে আছে একটি পুরান ছাতা এবং মাথার উপরে এক টুকরো মেঘ। এক পর্যায়ে বন্ধুত্ব হয় তাদের। ছাতাবন্ধু মোউতার নতুন জুতা দেখে খুব করে বলে তাকে ঐ জুতোজোড়া দিয়ে দিতে বিনিময়ে তার ৩টা ইচ্ছা পূরণ করবে। মোউতার ৩টা ইচ্ছা পূরণ ও হয়ে যায়। কিন্তু সে ছাতাবন্ধুর কথা ভুলে যায়, ভুলে যায় তাদের প্রতিজ্ঞার কথা। ৪০ বছর পর হঠাৎ মোউতার মনে পড়ে। তখন সে শহরের এক ব্যবসায়ী। তাড়াতাড়ি সে গ্রামে ছুটে যায়। এবং ব্রিজের নীচে গিয়ে দেখে তার সেই ছাতাবন্ধু দাঁড়িয়ে আছে একা।

lion-book-3

*3. Lunn Flies into the Wind:
হাইস্কুলের স্টুডেন্ট আকিরা প্রতিদিন তার ক্লাসমেট এবং টিচারদের দ্বারা বুলিড হয়। একদিন বাসায় ফেরার পথে একটি কফির বিজ্ঞাপনের পোস্টার দেখে থমকে যায় সে। এক দেখাতেই ভালবেসে ফেলে পোস্টারের মেয়েটাকে। সে পোস্টারটা খুলে তার পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখে। মেয়েটাকে নাম দেয় লুন। সারাদিনের কাহিনী এবং জীবনধর্মী আলোচনা ছিল প্রতিদিনের বিষয়। একসময় সে খুঁজে বের করে পোস্টারের মেয়েটিকে। কিন্তু সে জানতে পারে এই কফির বিজ্ঞাপন অনেক পুরোনো। পোস্টারের মেয়েটির বিয়ে হয়ে এখন সে বুড়িয়েও গেছে। একটা মেয়েও আছে তার। যখন সে হাল ছাড়তে যাবে তখন সে ঐ মেয়েটিকে দেখল। আর পোস্টার টা? সেটা নাহয় দেখেই জানুন।

lion-book-4

*4. Yamataro Comes Back:
ভাল্লুকছানা ইয়ামাতারো ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারায়। বন্ধুত্ব পাতায় এক স্টিম ইঞ্জিনের সাথে নাম যার C64। এভাবে দিন কেটে যাচ্ছিল। সময়ের সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। টাউনের মানুষেরা ইয়ামাতারো কে মারতে আসে। কিন্তু C64 তার হুইসেল দিয়ে তাকে সতর্ক করে দেয়। এভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ইয়ামাতারো। একসময় সভ্যতার ছোঁয়ায় স্টিম ইঞ্জিনকে রিপ্লেস করে হাইস্পীড রেইল। তো টাউনের মানুষরা ফন্দি আঁটে সেই স্টিম ইঞ্জিনের হুইসেল দিয়ে ইয়ামাতারো কে ফাঁদে ফেলবে। কিন্তু C64 যখন এ কথা জানে তখন সে নিজে ক্র্যাশ করে, নিজেকে স্যাক্রিফাইস করে বন্ধুত্বের টানে। এভাবে শেষবারের মত সতর্ক করে ইয়ামাতারো কে।

lion-book-5

*5. Adachi-ga Hara:
যদিও এটাকে সাই-ফাই তকমা দেয়া হয়েছে কিন্তু এটাকে সাই-ফাই বললে অপমান হবে। কাহিনী শুরু হয় একজন বৃদ্ধা মহিলাকে দিয়ে যাকে ডাইনী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। জেস একজন তরুণ এস্ট্রোনাট। পৃথাবীতে থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন স্বৈর সরকার কে উৎখাত করতে বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেয় জেস এবং তার স্ত্রী। ঘটনাক্রমে তারা আলাদা হয়ে যায়। বছরের পর বছর কেটে যায়। জেস কে মিশনে পাঠানো হয় এই গ্রহে যেখানে গুজব রয়েছে এক ডাইনী এবং তার কুকীর্তির। একসময় ডাইনীর রহস্য ফাঁস হয়। কিন্তু ততক্ষনে দেরী হয়ে যায় অনেক।

lion-book-2

*6.Akuemon:
হিদারি তাইশো গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। একদিন এক জোতিষী তাকে বলে, যদি সে ১০০০ টা শেয়াল শিকার করতে পারে তবে সে দেশের শাসক হতে পারবে। এদিকে আকুয়েমন ছিল রগচটা ও হিংস্র একজন শিকারি। কেউ তাকে পছন্দ করত না। স্ত্রী এবং এক ছেলেকে নিয়ে থাকত। হিদারি তাকে বাছাই করে, নির্দেশ দেয় ১০০০ শেয়াল হত্যা করার। বিনিময়ে এটা-সেটা দিয়ে তার পরিবারকে সচ্ছল রাখত। ওদিকে শেয়ালবাহিনীর তরফ থেকে এক নারী শেয়ালকে পাঠাল আকুয়েমন কে শায়েস্তা করার জন্য। তো সেই নারী-শেয়াল আকুয়েমনের স্ত্রীর রূপ নেয়। এবং তার সাথে থাকতে শুরু করে। যখন আকুয়েমন শিকার করতে যায় তখন সে বাকিদের সতর্ক করে দেয়। একসময় আকুয়েমনকে ভালবেসে ফেলে সে। আর তাদের বাচ্চার সাথে অন্যরকম বন্ধন তৈরি হয়। একসময় ধরা পড়ে যায় সে। একদিকে তার শেয়ালবাহিনী আরেকদিকে আকুয়েমন ও তার বাচ্চাকে ছেড়ে যাবার শোক তার হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেয়।

lion-book-6
–
এই গল্পগুলো হয়ত অনেকেরই চেনা-জানা। কিন্তু এগুলোর এনিমে এডাপটেশনে অনেক কিছুই আপনি উপলদ্ধি করতে পারবেন যেটা হয়ত এমনি গল্পটি পড়ে আপনার মনে হয়নি। আবার অনেক কিছু আপনার কাছে ক্লিশে মনে হতে পারে। তবে ৬টা না দেখলেও Rain Boy, Lunn flies into the wind এবং Yamataro comes back, Akuemon -এই ৪টি পার্সোনালি রিকমেন্ড করব। যেহেতু এটা ‘৮০র এনিমে তাই এক্সপেকটেশন কম রাখাই ভাল। এখনকার ঝলমলে গ্রাফিক্সের সাথে তুলনা না করে দেখলেই মজা পাবেন। No one would watch this anyway.

Spirited Away বন্দনা অথবা Roger Ebert-এর চোখে Spirited Away [Translated by Amor Asad]

Spirited Away কেন অ্যানিমেশন জগতের (কেবল জাপানিজ নয়) সেরা ৫ টার একটা, কেন এত রেটিং বেশী— এই প্রশ্নগুলো যদি আপনার মনে জাগে কখনও; তবে এই পোস্ট আপনার জন্যে।
.
দেড় বছর অ্যানিমে কম্যুনিটি গুলোতে ঘোরাঘুরি করার পর বিভিন্ন ফ্যানবেইজ সম্পর্কে হালকা পাতলা ধারণা হয়েছে। বিশেষ করে অ্যানিমে মুভি এবং অ্যানিমে সিরিজের দর্শকদের পার্থক্য চোখে পড়ার মত। দু-ক্ষেত্রেই সমান বিচরণ করে এমন দর্শকের সংখ্যা আনুপাতিক হারে বেশ কম। আবার অনেক সিরিজ দর্শক মুভি একদমই দেখে না। এধরণের কিছু কারণে কোন কোন গ্রেট অ্যানিমে মুভি আলোচিত কম হয়েছে। বিশেষ বাংলাদেশী দর্শকদের ক্ষেত্রে, বাইরের কথা বলা কঠিন। তবে সিনেমাপাড়ায় এই মুভিগুলোর কদর অনেক। অনেক মানে অনেক।
এত কথা বলা এই কারণে যে, লক্ষ্য করেছি এনিমখোরের কেউ কেউ Spirited Away পছন্দ করেননি। ‘কেমন কেমন’ যেন লেগেছে। স্বাভাবিক, স্পিরিটেড অ্যাওয়ে মডার্ন অ্যানিমেটেড ফিল্মে বিশাল পরিবর্তন এনেছিলো এবং যেকোন অ্যানিমেটেড মুভি বা সিরিজ থেকে আলাদা। পশ্চিমা বিশ্ব মিয়াজাকিকে তথা জিবলি স্টুডিওকে চোখ বড় বড় করে দেখেছে এবং তাঁর কাছ থেকে শিখতে চেয়েছে কিভাবে এই সিনেম্যাটিক মাস্টারমাইন্ড কাজ করেন।

ফেসবুকের অন্য আরেকটা অ্যানিমে গ্রুপে তাই স্পিরিটেড অ্যাওয়ে নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব আমলে না নিলেও, ‘এনিমখোরে’ এমন ভাবনা থাকাটা আপত্তিকর মনে হয়েছে। বিশেষ করে সপ্তাহখানেক আগে একটা পোস্ট দেখে খানিকটা কষ্ট পেয়েছি। তাই স্পিরিটেড অ্যাওয়ে নিয়ে লেখার ইচ্ছে একদিনের নয়। লিখতে বসে কিন্তু ঝামেলায় পড়েছি, নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা ছাড়া কিভাবে লেখা যায় কেবল সিনেমাটিক সৌন্দর্য নিয়ে তা বুঝে উঠতে পারিনি।
যার কারণে বরেণ্য ফিল্ম ক্রিটিক, যার হাত ধরে ফিল্ম ক্রিটিসিজম জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সিনেমা সমালোচনার প্রবাদ পুরুষ রজার ইবার্টের Spirited Away রিভিউ অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে কথাগুলো আমার মুখে ঔদ্ধত্য মনে হবে, সেগুলো ইবার্টের মুখে বাস্তবতা। যাই হোক, তাঁর রিভিউটা বেশ বড়ই ছিলো, তবে আগ্রহীরা পড়ে মজা পাবেন মনে করি।

spirited-away-roger-ebert

============
Spirited Away
Roger Ebert
July 11, 2012

হায়াও মিয়াজাকির “Spirited Away” তৃতীয় বারের মত দেখার পর, প্রাচুর্যতা আর ঢেলে দেয়া যত্নের মাঝামাঝি কোন এক শিল্পগুণ আমাকে তাড়িত করেছিলো।
এর আগে যখন দেখেছি তখন গল্পের সীমাহীন কল্পনায় আটকে গিয়েছিলাম। আর এবার যখন দেখতে বসি তখন এমন সব সিনেম্যাটিক উপাদান খেয়াল করতে শুরু করি যেগুলো সিনেমায় না থাকলেও চলত। অ্যানিমেশন আসলে খুব কষ্টসাধ্য একটা প্রক্রিয়া তাই এতে ভিজুয়াল এলিমেন্টস সরজ সরল করে ফেলার একটা চল দেখা যায়। অন্যদিকে মিয়াজাকি বরঞ্চ জটিলতায় বিশ্বাসী। তাঁর অ্যানিমেশনের ব্যাকগ্রাউন্ডগুলো খুঁটিনাটি বিষয়ে ভর্তি, নিঃসঙ্কোচে বিস্তৃত ক্যানভাসে কাজ করেন এবং সবকিছুই গভীর মনোযোগ দিয়ে আঁকা। আমরা সাধারণত সচেতনভাবে কোন মুভির ক্যানভাসের (সম্পূর্ণ স্ক্রিন) কোণার দিক গুলো দেখি না, আমরা না দেখলেও সেগুলো কিন্তু ঠিকই কোণায় থাকে এবং মিয়াজাকির সিনেমায় এই কোণার কাজগুলি তাঁর কল্পনার জগতকে অসাধারণরকম নিখুঁত করে তোলে।

“Spirited Away” নিশ্চিতভাবেই সমগ্র অ্যানিমেশন ফিল্মের মধ্যে সেরাদের একটা এবং এর ভিত্তিপ্রস্তর নির্মিত হয়েছে ট্রাডিশনাল অ্যানিমেশন প্রক্রিয়ার কঠিনতম পদ্ধতিতে, অর্থাৎ ফ্রেম-বাই-ফ্রেম আঁকা। মিয়াজাকি নিজের ক্যারিয়ার এই অ্যানিমেশন স্টাইলে শুরু করেন বটে, কিন্তু তিনি বাস্তববাদী এবং অ্যানিমেশনের কিছু কুঁড়ে কাজ কম্পিউটারে করে থাকেন। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত ভাবে হাজার হাজার ফ্রেম নিজ হাতে আঁকেন।
“আমরা হাতে আঁকা একক অ্যানিমেশন ফ্রেমগুলো নিয়ে পরবর্তীতে ডিজিটাইজ করি ভিজুয়াল দিকটা সমৃদ্ধ করতে। কিন্তু সবকিছুর শুরুটা হয় মনুষ্য হাতে আঁকা ফ্রেম থেকে।”— ২০০২ সালে আমাকে বলেন মিয়াজাকি।

“Spirited Away” থেকে একটা দৃশ্য ধরা যাক যেখানে কিশোরী নায়িকা জাদুময় বাথহাউজ থেকে বের হবার ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে সিনেমার অনেকটাই দেখানো হয়েছে। গল্পের নাট্যক্রিয়া এবং চরিত্রগুলো দৃশ্য চালিয়ে নিতে যথেষ্ট, আর কিছু দরকার নেই, কিন্তু বাথহাউজের বারান্দা আর জানালা দিয়ে দেখতে থাকা অনেকেই বাথহাউজের অধিবাসী। এদের কেবল চলমান কিছু অস্পষ্ট ছায়ার মত দেখালেই চলত, কিন্তু মিয়াজাকি যত্নের সাথে এমন কিছু চরিত্র আঁকেন যাদের আমরা চিনতে পারি এবং সবগুলোই গতিশীল। এবং এক্ষেত্রে এটা কিন্তু রিপিটেটিভ অ্যানিমেশন না যেক্ষেত্রে আইডিয়াটা হচ্ছে একই কাছাকাছি ফ্রেমের পুনরাবৃত্তি যা দিয়ে কোন আকৃতি নড়াচড়া করছে এমনটা বোঝানো হয়। বরঞ্চ স্পিরিটেড অ্যাওয়ের ক্ষেত্রে এটা বাস্তবধর্মী, পরিবর্তনশীল তাও একগাদা ডিটেইলস সহকারে।

বেশীরভাগ মানুষ মুভিটা দেখার সময় এই নড়াচড়াকে স্রেফ “নড়াচড়া” হিসেবেই ধরে নিবে। কিন্তু আমরা খেয়াল করে দেখি যে আসলেই কী কী ঘটছে। আর এটা দিয়েই আমি প্রাচুর্যতা আর ঢেলে দেয়া যত্ন বুঝিয়েছি।
প্রতিটা ফ্রেমের কম গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে এতটা শ্রম ঢেলে দেয়ার মত আন্তরিক মিয়াজাকি আর তাঁর সহকর্মীগণ। খেয়াল করুন বাথহাউজের কতখানি আপনি দেখতে পান। কেবল একটা ব্রিজ আর একটা বড় প্রবেশদ্বার দেখিয়ে দিলে সহজ এবং তাড়াতাড়ি হতো। কিন্তু মিয়াজাকি বাথহাউজকে বাস্তব যায়গায় রূপ দিতে ফ্রেমগুলো জটিল করে সমৃদ্ধতা দেন, যা তাঁর ঠিক পরবর্তী গল্পে কাজে লাগবে নাকি লাগবে না, সেই বৈশিষ্ট্যবহন করে।

Spirited Away-এর গল্পে চরিত্রের সমাগম হয়েছে অসীম সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে। এর আগে এমন কোন মুভি তৈরী হয়েছে কী, যেখানে এত বৈচিত্রময় ভিন্ন ভিন্ন সত্ত্বা আছে যা আমরা আগে কখনও দেখিনি? আসলেই মিয়াজাকির কল্পনার যেন শেষ নেই। একটা দৃশ্য আছে যেখানে নায়িকা এবং তাঁর সঙ্গী জলাভূমির মাঝখানে ট্রেইন থেকে নামে। দূরের বন থেকে একটা আলো কাছে আসছে, তাঁরা দেখতে পায়। পরে দেখা যায়, জিনিসটা পুরনো ধাঁচের আলোক মশাল যা কিনা এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে আসছে। এটা কাছে এসে তাঁদের কুর্নিশ করে এবং যে পথে যেতে হবে সে পথ নির্দেশ করতে আলো জ্বালিয়ে দেয়। যখন তাঁরা কুড়েঘরে পৌঁছায়, মশালটা নিজে নিজে দরজার উপরে নিজেকে ঝুলিয়ে নেয়। এই জীবন্ত আলোক মশালটার দরকার ছিলো না গল্পে। আমাদের উদ্দেশ্যে এটা মিয়াজাকির দেয়া উপহার।

সিনেমার গল্পটা ১০ বছর বয়সী মেয়ে ‘চিহিরো’কে কেন্দ্র করে। চিহিরো বিভিন্ন অ্যানিমেশন ফিল্মের উৎফুল্ল, উচ্ছ্বল পিচ্চি একটা যন্ত্রের মতো নয়। অনেক সিনেমা সমালোচক তাকে গোমড়া, অধৈর্য এবং হুট করে কাজ করে ফেলে বলে আখ্যায়িত করেছেন। চিহিরো তাঁর বাবা-মায়ের সাথে লং-ড্রাইভে গাড়ির পিছনে বাধ্য হয়ে বসে ছিলো এবং তাঁর বাবা-মা যাচ্ছিলো পুরনো এক বাড়ি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে। তাঁর বাবা পথ হারিয়ে ঘন এক বনে ঢুকে যান এবং পথটা শেষমেষ এক টানেলের মুখে এসে শেষ হয়। টানেল বা সুরঙ্গ ধরে এগোলে তাঁরা দেখতে পায় টানেলের শেষ মাথায় পরিত্যক্ত একটা অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কিছু কিছু দোকানের ঝাপটা খুলতে থাকে, বিশেষ করে একটা খাবারের দোকান যার গন্ধ বাতাসে ময়ময় করতে থাকে। চিহিরোর বাবা-মার আর তর সয় না, তাঁরা পড়িমরি করে খাবারে ভরপুর কাউন্টারের সামনে চেয়ার টেনে বসে পড়েন এবং দেদারসে গিলতে থাকেন। এদিকে চিহিরো গোঁয়ার মেয়ে, খিদে লাগেনি, খিছু খাবে না — জানিয়ে দেয়। তাঁর বাবা-মা এত বেশী খেয়ে ফেলে যে তাঁরা সাইজে দুই বা তিনগুণ হয়ে যায়। একদম শূয়রের মত খেতে থাকে তাঁরা এবং শেষে তাঁরাই শূয়র হয়ে যায়। তাঁরা ঠিক অ্যামেরিকান অ্যানিমেশনের বাবা-মার মত না, বরঞ্চ এমন বাবা-মা যাদের কাজকামে বাচ্চারা ভয় পেয়ে যেত পারে।

অ্যামিউজমেন্ট পার্কের মাধ্যমে চিহিরো বিশালাকার এক ভাসমান বাথহাউজে উপস্থিত হয়, যার বুরুজ এবং জানালা এবং কার্নিশ ইত্যাদি যেন একটার উপর আরেকটা জুড়ে আছেই, কোন সীমাটিমা নেই। অচেনা অজানা বন্ধুভাবাপন্ন এক কিশোর তাকে সতর্ক করে এবং ফিরে যেতে বলে। কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে, বাথহাউজটা কূল থেকে ভাসতে ভাসতে দূরে চলে এসেছে। অগত্যা চিহিরো সাহস করে ভিতরে ঢোঁকে বাথহাউজের এবং অসীম বৈচিত্রময় এক দুনিয়ার সম্মুখীন হয়। কিন্তু সে ফিরে যাবার পথ খুঁজে পায় না আর। কিশোরটা বলে, বাথহাউজের সবাইকে কোন না কোন কাজ করতেই হবে, এবং সে চিহিরোকে কামাজির কাছে পাঠায়। কামাজি একজন বৃদ্ধ, বড় দাড়িওয়ালা লোক যার আটখান লম্বা, দির্ঘায়িত হাত আছে। তাঁর কাজ বয়লার রুম সামলানো। কামাজি এবং একজন তরুনী চিহিরোকে বলে ইউবাবার কাছে যেতে, সে বাথহাউজের মালিক, কাজ পেতে হলে তাঁর সাথে কথা বলতে হবে। এদিকে ইউবাবা হচ্ছে ভয়ংকর এক ডাইনি, যার খড়মড় বিকট হাসিতে ধোঁয়ার তাল বের হয়।

এই হচ্ছে অসাধারণ এক অ্যাডভেঞ্চারের শুরু। চিহিরো বাথহাউজে কোন মানুষের দেখা পাবে না। সে ইউবাবার জাদুতে বশ হবে— ইউবাবা তাঁর নাম চুরি করে তাকে নতুন নাম দিবে, বাথহাউজে সে পরিচিতি পাবে “সেন” নামে। যদি না সে তাঁর পুরনো নাম ফিরে না পায়, কখনও বাথহাউজ ছেড়ে যেতে পারবে না। একটার পর একটা অদ্ভুত যায়গা দেখা যায় বাথহাউজে, যেখানে অগুনতি, বৈচিত্রময় স্বত্বারা বাস করে; যাদের আমরা কখনও দেখিনি বা কল্পনা করিনি। এখানে আশওয়ালা ছোট ছোট কালো রঙের দুই চোখওয়ালা বল আছে, যারা সেন বা চিহিরোর জুতো চুরি করে। অর্ধস্বচ্ছ এক স্বত্বা আছে যার কোন মুখমণ্ডল নেই এবং সে তাঁর ভৌতিক শরীরে একটা মুখোশ ব্যবহার করে মুখের অস্তিত্ব বোঝাতে। তিনটা আজব মাথা আছে, যাদের কোন শরীর নেই— এরা মাথা দিয়ে লাফিয়ে চলে। এদের দেখতে রাগী রাগি লাগে এবং চেহারাতেও কার্ল মার্ক্সের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কালো আঠালো বিকট গন্ধওয়ালা স্তূপাকৃতির অবয়ব আছে, আছে সামুদ্রিক প্রাণী যার সারা শরীর পানি দূষণের ফলে ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভর্তি। শেপ-শিফটিংও আছে এখানে, অবশ্য এটা জাপানিজ রুপকথায় কমন জিনিষ। এবং যে কিশোর প্রথমে চিহিরোর বন্ধু ছিলো, পরবর্তীতে দেখা যায় সে আসলে ভয়ঙ্কর ফণাওয়ালা সাগরের ড্রাগন।

সেন এই দুনিয়ায় মানিয়ে নেয়। কারো কারো বন্ধু হয় সে, কেউ কেউ তাকে এড়িয়ে চলে, আর সাথে ইউবাবার রাঙ্গাচোখ তো আছেই—চলতে ফিরতে শেখে সেন। তাঁর আর “ভদ্র মেয়ে” হয়ে ওঠা হয়না, বরং তাঁর তেজ এবং দৃঢ়চরিত্র আমাদের অনুরাগে ভাগ বসায়। সেন সঙ্কল্প করে নিজের নাম ফিরে পেতে এবং কূলে ফিরে যেতে। সঙ্কল্প করে নিজের বাবা-মা’কে আবার ফিরে পেতে।

মিয়াজাকি বলেন তিনি এই সিনেমা দশ বছর বয়সী মেয়েদের জন্যে নির্দিষ্ট করে বানিয়েছেন। এ জন্যে এটা এত শক্তিশালী প্রভাব ফেলে প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকের মনে। কারণ “সবার” উদ্দেশ্যে বানানো সিনেমা আসলে নির্দিষ্ট করে কারো জন্যেই বানানো না। বিষদ, বিশাল দুনিয়ায় নির্দিষ্ট চরিত্রকে নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলো মন্ত্রমুগ্ধকর হয় কারণ এই সিনেমাগুলো আমাদের মুখে চামচ তুলে দেয়ার চেষ্টা করে না; এই সিনেমাগুলো স্পষ্টভাবে, সফলভাবে স্বতন্ত্র। সিনেমাটা আবার যখন দেখলাম, আমি যে মুভি গুলোকে ‘সেরা’ হিসেবে বিবেচনা করি সেগুলোর মত করে মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছি। যার ফলে ধারণা পাওয়া যায় কেন “Spirited Away” জাপানে “Titanic” থেকে বেশী কামাই করেছে এবং প্রথম বিদেশী সিনেমা যা অ্যামেরিকায় মুক্তি পাওয়ার আগে যার ঝুলিতে ইতোমধ্যেই ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশী ছিলো।

আমি ভাগ্যবান, ২০০২ সালে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে মিয়াজাকির সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিলো। আমি তাকে বলেছিলাম, আমি তাঁর সিনেমার গল্পের জন্যে দরকারি সিকোয়েন্স থেকে “অদরকারী অংশগুলো” বেশী পছন্দ করি, যেমন মাঝে মাঝে সিনেমায় চরিত্রগুলি অল্পক্ষণের জন্যে বসবে, হাই তুলবে অথবা স্রোতশীল জলরাশির দিকে তাকিয়ে থাকবে অথবা এটা সেটা করবে— ঠিক গল্প আগাতে না, বরঞ্চ সিনেমার দিনক্ষণ বা চরিত্রগুলোর পরিচয় তুলে ধরতে।

“জাপানিজ ভাষায় এই ব্যপারটার একটা নাম আছে”, মিয়াজাকি বলেন। “এটাকে বলে ‘মা’। এর অর্থ শূন্যতা। এটা ইচ্ছে করেই রাখা হয়েছে।” তিনি কয়েকবার নিজের হাতে তালি বাজালেন। “আমার প্রত্যেক তালির মাঝের সময়টা হলো ‘মা’। যদি বিরতিহীন গল্প টেনে নিয়ে যান নিঃশ্বাস ফেলার ফুসরত না দিয়ে, সবটাই কেবল ব্যস্ততা হয়ে যায়।”

আমার মনে হয় ব্যপারটা ব্যাখ্যা করে কেন বেশীরভাগ দ্রুতগতির অ্যামেরিকান অ্যানিমেশন থেকে মিয়াজাকির মুভিগুলো অধিকতর চিত্তগ্রাহী। মিয়াজাকি বলেন, “যারা সিনেমা বানায়, ওরা সিনেমায় নিরবতাকে ভয় পায়। তাই ওরা নিরবতাকে ঢাকতে চেষ্টা করে। তাঁরা শঙ্কিত থাকে হয়ত দর্শকেরা বোরড হয়ে যাবে। কিন্তু সিনেমার সবটুকু জুড়ে ৮০ ভাগই ইন্টেন্স থাকলেই যে বাচ্চারা তাঁদের মনোযোগ দিয়ে তোমাকে ধন্য করবে এমনটা কিন্তু নয়। সত্যিকার দরকারি বিষয় হচ্ছে অন্তর্নিহিত আবেগ—যেগুলো কারো মধ্য থেকে কখনও নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় না।”

“আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে ৭০’এর দশক থেকে যা করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি তা হলো, সিনেমার গল্পে কিছুটা নিরবতা আনতে; কেবলই ধুমধারাক্কা আর চিত্তবিনোদন না দিতে। এবং সেই সাথে ফিল্ম বানানোর পাশাপাশি বাচ্চাদের আবেগ অনুভূতির পথে হাঁটতে। যদি তুমি আনন্দ, উৎফুল্লতা এবং সহমর্মিতার প্রতি মনোনিবেশ করেন তবে ভায়োলেন্সও দরকার হবে না, অ্যাকশনেরও দরকার হবে না। এগুলো এমনিতেই তোমাকে অনুসরণ করবে। এটাই আমাদের নীতি।”, মিয়াজাকি যোগ করেন।

তিনি বলেন লাইভ-একশন সুপারহিরো মুভিতে প্রচুর অ্যানিমেশন দেখে তিনি আমোদিত হয়েছেন। “এক হিসেবে, লাইভ একশন মুভি অ্যানিমেশন নামক স্যুপের অংশ হয়ে যাচ্ছে। অ্যানিমেশন এমন এক শব্দে পরিণত হয়ে যা অনেক বেশী কিছুকে পরিবেষ্টন করে রাখে, আর আমার অ্যানিমেশন কেবল ছোট্ট একটা ফোঁটা এক কোণায়। আমার জন্যে কিন্তু তা যথেষ্ট,”

মিয়াজাকির সাথে আমি একমত, আমার জন্যেও যথেষ্ট।
— Roger Ebert (1942-2013)

==============

মূল ইংরেজি রিভিউ এর লিঙ্কঃ http://www.rogerebert.com/re…/great-movie-spirited-away-2002
==============

তো এই ছিলো রজার ইবার্টের রিভিউ। ইবার্ট বিভিন্ন সময়ে মিয়াজাকির এবং জিবলি স্টুডিওর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস রিভিউ পড়লে মনে হতে পারে তিনি আকাশে ভেসে ভেসে রিভিউ লিখেছেন। রজার ইবার্টের থেকে এমন অ্যাফেকশন আসলে বিস্ময়কর। তিনি যেই মাপের ক্রিটিক ছিলেন, তাঁর সামান্য প্রশংসা যে কোন সিনেমার জন্যে আশীর্বাদ স্বরুপ। তাঁর সার্টিফাইড কিছু মুভি আছে যা তিনি তাঁর “Great Movies” তালিকায় যোগ করেছেন। Spirited Away সে তালিকায় বহাল তবিয়তে নিজ যায়গা জুড়ে বসে আছে।

যাই হোক, এই লেখার উদ্দেশ্য সফল হলেই আমি খুশি। যারা Spirited Away দেখে অবাক হয়েছেন, আশা করি আবার দেখবেন। যারা দেখেননি, এখনই সময় বসে পড়ার।
তবু যদি এই সিনেমা ভালো না লাগে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা আপনার ব্যর্থতা। মিয়াজাকির স্পিরিটেড অ্যাওয়ের পাহাড়সম ভার তাতে সামান্য কমছে না। স্পিরিটেড অ্যাওয়ে সেরাদের সেরা অ্যানিমের একটা, এই সত্যও বিন্দুমাত্র খর্ব হচ্ছে না, হবেও না।

MOB Psycho 100 [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

mob-psycho-100-1

গত বছরে ওয়ান পাঞ্চ ম্যান ব্লকবাস্টার হিট খাওয়ার পর ওয়ান চাচার কমিকের দিকে সবার নজর পরে , কারণ আমাদের প্রচলিত টিনেজ মেইন চরিত্র যে ধীরে ধীরে দুর্বল থেকে সবল হয়ে উঠবে ,প্রথমে কিছু ফাইট জিতবে , পরে হারার মাধ্যমে আবার শক্তশালি হয়ে উঠবে , পরে আসবে অতি শক্তিশালি ভিলেন যার সাথে লাস্ট মোমেন্টে পাওয়ারাপ হয়ে হিরো জিতবে । এই ফর্মুলা জনপ্রিয় এবং আমারো ভালো লাগে , কিন্তু সব একশান এনিমে ওই ফর্মুলাতে চলায় নতুন কিছু খুজছিলাম আর সেই নতুন কিছু হইল ওয়ান পাঞ্চ ম্যান !!! টাকলা , বলদা অতি শক্তিশালী মেইন চরিত্র !! কাহিনী মজার আর এনিমেশন আরও ভালো !! তো যখন শুনলাম ওয়ান এর আরেক ওয়েবটুন মব সাইকো ১০০ এনিমে পাবে তখন আমার মনে হইলো যে এইটা কি আরেক ওয়ান পাঞ্চ ম্যান হইবে নাকি !! প্রথম কয়েক চ্যাপ্টার পড়ে দেখি যে মেইন চরিত্র দেখতে চুল ওয়ালা সাইতামা আর অতি শক্তিশালি , ভাবলাম যে এইটাও আরেক ওয়ান পাঞ্চ ম্যান , কিন্তু এনিমের কয়েক এপি দেখে বুঝলাম যে আমি কত বড় বোকা !! হিমু পড়তে গেলেই খালি মনে আসে পুলিশ , হেলেন অফ ট্রয়ের মত মেয়ে , ভালো মাস্তান আর মাজেদা খালা , মানে কমন প্লট কিন্তু হিমুর ২টা গল্প ময়ূরাক্ষী আর হিমুর দ্বিতীয় প্রহর পুরাই আলাদা সারপ্রাইজ ছিল !! তেমনি মব সাইকো ১০০ আমাদের জন্য এক স্পেশাল সারপ্রাইজ !!

mob-psycho-100-2

কাহিনীর মেইন নায়ক আপাতত শিগেও , সে অতি পাওয়ারফুল সাইকিক এবং অতি উন্নতমানের সরল গাধা ! সে কাজ করে স্বঘোষিত দুনিয়ার সেরা ভূতের ওঝা রেইগেন সেন্সের সাথে , এই রেইগেন সেন্সে হইল টিরিয়ন লানেস্টারর মত , কথা বইলা শিং মাছের মত যে কোন পরিস্থিতি দিয়া পিছলায়ে বের হয়ে আসতে পারবে এবং তার কথা গুলা আসলেই কলিজায় লাগে ।মবরে দেখলে মনে হয় বিবাগী , দুনিয়ার কিছুতে নজর নাই , অনেকটা সাইতামার মত , কিন্তু আসলে টা না , সে প্রেমিক আছে , লেখাপড়ায় ভালো করতে চায় , মেয়েদের মধ্যে পপুলার হইতে চায় । তো এই অতি শক্তিমান বালক মব , তার ইন্সিকিউরিটিতে ভোগা লেখাপড়া , খেলাধুলায় অস্থির ছোট ভাই , ইসস্কুলের বেকামা সাইকিক ক্লাবের মেম্বার , এবং সেরা বড় ভাই ব্রাদার যুক্ত ফিটনেস ক্লাব ও আরো কিছু চরিত্র নিয়ে আমাদের মব সাইকো !! ( সব বইলা দিলে মজা পাইবেন না ) !!

অসাধারন পাওয়ার থাকলেই যে লাফ দিয়া পইরা হিরোগিরি করতে হইবে এই জিনিসটা মব করে নাই , সে নিজের অতি ভয়ঙ্কর ক্ষমতা নিয়া চিন্তিত ! মবের ইমোশন লেভেল ১০০ তে পৌঁছালে মোটামুটি মিনি কেয়ামত হয়ে যায় !!! আপনি হয়ত এনিমে দেখার সময় ভাবতাসেন এই জায়গায় এইটা হইবে , কিন্তু হবে পুরা ৩৬০ ডিগ্রি উল্টা !!! এই এনিমের ডায়লগ গুলা অস্থির , কমেডি আছে আর আছে অতি অতি অতি অস্থির সাউন্ডট্র্যাক !!!ওপেনিং আর এন্ডিং দুটাই কানে মধু এবং চোখে শান্তি !! এখন আসি এনিমেশনের কথায় !! ওয়ান চাচা কাহিনী ভালো বানায় কিন্তু আকে জঘন্য , আর মব তো ওয়ান পাঞ্চ ম্যানের মত রিড্র করা হয় নাই , কিন্তু স্টুডিও Bones কাপায়া দিসে !! অতিরিক্ত সিম্পল আর্টের সাথে চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্স দিয়েছে !! মানে এক প্লেট ভাত দেখতে প্লেইন কিন্তু তাতে একটু ঘি দিয়ে মাখিয়ে মুখে নিলে যেমন আরামে চোখ বন্ধ হয়ে যায় !! তেমনি মব সাইকো দেখলে ব্রেইনে মাখনের আরাম ইফেক্ট হয় !! একেকটা একশান সিন আপনার এন্ড্রালিন রাশের বারোটা বাজিয়ে দেবে !!! যদি আপনি ক্লিশে মুক্ত কিন্তু একশান ও কমেডিতে ভরা অস্থির এক সিরিজ দেখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চান তাইলে এখনি মব সাইকো ১০০ ১০৮০পিতে ১২ পর্ব নামিয়ে দেখা শুরু করেন !ভালো লাগবেই এইটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি !!!
Opening: https://www.youtube.com/watch?v=M4uCRncR3_w
Ending: https://www.youtube.com/watch?v=lZLEXj52lcc

mob-psycho-100-3

Katekyoshi Hitman Reborn [রিভিউ] — Yoshimura Hayato

katekyoshi-hitman-reborn

অনেস্ট এনিম রিভিউঃ Katekyoshi Hitman Reborn
MAL rating: 8.83
আমার রেটিংঃ 8/10

পুরানো শৌনেন এনিমে দেখা শুরু করেছিলাম, তারই অংশ হিসাবে এইটা দেখা। অনেকদিন ধরেই জমে ছিল হাতে। শেষমেশ দেখে ফেললাম পুরোটাই।

কাহিনী শুরু হয় মিডল স্কুলপড়ুয়া দুর্ভাগা মেইন ক্যারেক্টার সাওয়াদা সুনাওশি aka সুনাকে দিয়ে। তার কিচ্ছু নাই, না লেখাপড়া, না খেলাধুলা, না অন্যকিছু। তাই গোটা স্কুলেই তার নাম ‘হোপলেস সুনা’। স্কুল আইডল কিওকো চানকে পছন্দ করে সে, কিন্তু নিজের কাপুরুষত্ব তাকে কনফেস করার সুযোগ দেয় না।
এমন সময় সুনার সাথে দেখা হয় রিবর্ন নামের এক শিশুর সাথে যে কিনা তাকে বলে সুনা নাকি ইটালির সবচে শক্তিশালী মাফিয়া পরিবার “ভঙ্গোলা ফ্যামিলি”র দশম উত্তরসূরি।
বাচ্চার কথা উড়িয়ে দেয় সুনা, কিন্তু কালক্রমে জানতে পারে ঘটনা আসলেই সত্যি।
পরিবারের নবম লিডারের আদেশে রিবর্ন, যে কিনা একজন হিটম্যান সুনাকে ট্রেনিং দেবার দায়িত্ব নেয়। দক্ষ মাফিয়া বস হিসাবে সুনাকে গড়ে তোলার জন্য রিবর্ন অমানুষিক ট্রেনিং শুরু করে।

ইতিমধ্যে সুনার সাথে জুটে যায় ইটালিয়ান হিটম্যান গোকুদেরা হায়াতো, তার বোন পয়জন স্করপিয়ন বিয়াঙ্কি, সুনার সহপাঠী বেসবল খেলোয়াড় ইয়ামামোতো তাকেশি, স্কুল আইডল কাম সুনার ক্রাশ সাসাগাওয়া কিওকো চান, তার বক্সার ভাই সাসাগাওয়া রিওহেই, পিচ্চি হিটম্যান লাম্বো, স্কুলের ডিসিপ্লিনারি কমিটির হেড হিবারি সান।
যত দিন যায় ততই শত্রুর সংখ্যা বাড়তে থাকে সুনার, তাই তাকে মোকাবিলা করতে হয় নিজের চেয়ে অনেক শক্তিশালি শত্রুর। অবশ্য ঘরের শত্রু বিভীষণ রিবর্ন তাকে প্রতিদিন মাইরের উপ্রে আইমিন ট্রেনিং এর উপ্রে রাখে তাই সুনার কাছে প্রত্যেক দিনই নরক মনে হয়।
এর মধ্যে ফ্যামেলির উত্তরাধিকার নিয়ে এক ট্রায়ালের মুখোমুখি হয় সুনা। ফ্যামেলি মেম্বারদের নিয়ে সেই ট্রায়াল মোকাবিলা করে সুনা। সুনার ফ্যামেলিতে নতুন করে যোগ হয় ক্রোম দোকুরো নামের এক কিশোরী।

এনিমটার প্রথম বিশ এপিসোড কাহিনী বিল্ডআপ করতেই লেগে গেছে, অনেক অসহ্যকর মোমেন্ট ছিল, বিশেষ করে সুনার মাফিয়া বস হতে না চাওয়ার ব্যাপারটা। এই জিনিসটা একদম শেষ পর্যন্ত আমাকে জ্বালিয়ে গেছে।
কষ্ট করে বিশ এপিসোড দেখে ফেললেই আর কাহিনী থেকে উঠতে পারবেন না, এক বসায় দেখে ফেলতে হবে। অনেক ভাল্লাগছে, কিছু কিছু ব্যাপার বাদ দিয়ে।

অপছন্দের ক্যারেক্টারঃ
১/ হায়াতোঃ অতিরিক্ত সিন ক্রিয়েট করে, অত্যন্ত স্মার্ট ব্রেনের একটা ক্যারেক্টারকে বেশি কমেডি করে পচিয়ে ফেলা হয়েছে। মাথা একটু বেশিই গরম, ধৈর্য কম।
২/ লাম্বোঃ সবচেয়ে বিরক্তিকর লাগছে একে।
৩/ সুনাঃ দুঃখজনক হলেও সত্য যে সুনাকে অনেক বিরক্তিকর লেগেছে(নরমাল সুনা)। এত প্যাথেটিক মেইন ক্যারেক্টার আগে কখনো দেখি নাই।

পছন্দের ক্যারেক্টারঃ
১/ রোকুদো মুকুরোঃ সুনার মিস্ট গার্ডিয়ান, সবচেয়ে ডিসেন্ট রিজনওয়ালা এন্টিহিরো
২/ হিবারি কিওইয়াঃ সুনার ক্লাউড গার্ডিয়ান; গার্ডিয়ানদের ভেতরে সবচে শক্তিশালী।
৩/ হাইপার সুনাঃ সুনার ব্যাটল মোড। এই এনিমের সবচেয়ে কুলেস্ট ক্যারেক্টার।

ওয়াইফু ম্যাটেরিয়ালঃ ক্রোম দোকুরো

এইটাই একমাত্র এনিমে যার হিরোকে একই সাথে বিরক্তিকর আর কুল লেগেছে। এতটা সাংঘর্ষিক ক্যারেকটার আগে দেখা হয় নাই।
এনিম ২০৩ পর্বেই শেষ। আসল মজা পেতে হলে মাঙ্গা পড়ুন(ডাইলের মজা তলে)

Hajime no Ippo [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

hajime-no-ippo-1

কারও উপর রাগ হলে , সেইরাগ কমানোর উপায় কি ? মেডিটেশন , উল্টাগোনা ? আমার মতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘুষানো ! যারা ফাইটক্লাব মুভিটা দেখসেন তারা জানেন মারামারির কি গুণ । এখন এই বিনোদনের জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘুষাঘুষিকেই বলা হয় বক্সিং । এটা এমন একখেলা যেটাতে মৃত্যু অসম্ভব নয় । এবং এরকমন স্পোর্টস বেইজড এনিমে হবে না তা কি হয় !? এই বক্সিং নিয়েই হাজিমে নো ইপ্পোর কাহিনী ।

প্লট : এই এনিমের নায়ক অপাতদৃষ্টিতে ইপ্পো । বাবাহারা এক জেলে সন্তান , মাকে নৌকা ব্যাবসায় সাহায্য করা এবং পড়াশুনার মধ্যেই তার জীবন । বেশি বন্দ্ধু না থাকায় এবং চুপচাপ এবং লাজুক স্বভাবের হওয়ায় প্রায়ই বুলিইংএর শিকার হয় । এরকম এক পরস্থিতিতে পরে মার খাওয়ার সময় তাকে এক লোক গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচায় এবং ফার্স্ট এইড দেওয়ার জন্য জিমে নিয়ে যায় , এই লোক হচ্ছে এই এনিমের অন্যতম প্রধান ক্যারেকটার মামুরো টাকামুরা , যে একজন ট্যালেন্টেড এবং অজেয় উদীয়মান বক্সার । এখন রতনে রতন চেনে , মাকে নৌকা ভাড়া ব্যাবসায় ছোটবেলা থেকে সাহায্য করা দরুন ইপ্পোর শরীর ছিল সুগঠিত এবং আর ছিল ফাইটিং স্পিরিট যা টাকামুরার চোখ এড়ায় না । টাকামুরার জোরাজুরিতে এবং স্পারে ইপ্পোর পান্চিং পাওয়ার এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে জিমের কোচ গেনসান তাকে জিমে ভর্তি করে নেয় এবং শুরু হয় ইপ্পোর বক্সিং জগতে পথ চলা ।
আমি আত্নবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি যে সর্বকালের সেরা স্পোর্টস এনিমে বলতে গেলে ইপ্পোকে না রেখে কথা বলা যাবে না । প্রথম হল এর অসাধারন স্টোরিলাইন । এলাম .দেখলাম ,জয় করলাম এইরকম কাহিনী এখানে না । এখানে প্রত্যেক ক্যারেকটারকে স্ট্রাগল করতে হয়েছে এবং করতেই রয়েছে ।এখানে ইপ্পোকে প্রথমে মেইন ক্যারেকটার মনে হলেও ,পরে প্রত্যককেই মেইনক্যারেকটারের মতো মনে হবে । বক্সিং এমন এক স্পোর্টস যেখানে শুধু ট্যালেন্ট দিয়ে ভাত মেলে না । আগের যুগের বক্সারদের যে কি নারকীয় ট্রেনিং এর মধ্য দিয়ে যেতে হত তা এই এনিমে না দেখলে বোঝা যাবে না । এই এনিমের আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য দিক হল ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট । কিমুরা , আওকি , টাকামুরা . সেন্ডো এ ক্যারেকটারগুলোর শুধু সাইড ক্যারেকটার না , তারা এই এনিমের অপরিহার্য অংশ । এবং আপাতদৃষ্টিতে যাদের ভিলেন বা নায়কের প্রতিপক্ষ বলে মনে হবে তাদেরও রয়েছে হৃদয় ছোয়া ব্যাকস্টোরি । আমরা জানি যে মোহম্মদ আলী , মাইক টাইসন , জো ফ্রেজিয়ার এরা প্রত্যেকেই অস্বচ্ছল অবস্থা থেকে স্ট্রাগল কর পৃথিবীর চূড়ায় উঠেছে , এই এনিমে দেখলে কিছুটা হলেও তাদের স্ট্রাগল সম্পর্কে ধারনা পাবেন ।

এই এনিমে ম্যাডহাউজের সুতরাং এনিমেশন কোয়ালিটি পুরোনো হলেও অসাধারন । এর একশান বা ফাইটিং সিনগুলো দেখার সময় স্থির হয়ে বসে থাকতে পারবেন না । এই এনিমে দেখার পর আমনি বাসার দেয়ালের উপর জ্যাব প্র্যাকটিস করতে গিয়ে ঝাড়ি খাবেন না , তা হবে না ! এই এনিমে কমেডির দিক দিয়েও লেজেন্ডারি । টাকামুরা , কিমুরা এবং আওকির বাঁদরামি এবং পার্ভাটনেস আপনার পেটে খিল ধরিয়ে দেবে ।

প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের বিল্ডআপ নিঁখুত । রোমান্স আছে , কমেডি আছে , শরীরের কাঁটা দেওয়া একশান আছে কিন্তু দুঃখের কথা হচ্ছে স্লাম ডাঙ্ক , কুরোকো , হাইয়াকু এসব এনিমের নাম যত শোনা যায় এটার নাম তত শোনা যায় না । যারা এটা একবার দেখেছে তারাই এটার মহাত্ন্য বুঝতে পারবে ।

hajime-no-ippo-2

এই এনিমের ৩টি সিজন
Hajime no ippo fighting যার ৭৫টা এপিসোড এবং Hajime no ippo rising এবং Hajime no ippo new challanger যার যথাক্রমে ২৪টি আর ২৬টি করে পর্ব । এই এনিমে দেখবেন আর ভালো লাগবে না , তা হয় না । পারফেক্ট স্পোর্টস একশান এনিমে দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন হাজিমে নো ইপ্পো বা প্রথম পদক্ষেপ ।
আমার রেটিং :10/10

Amv :https://www.youtube.com/watch?v=UPeNNA9-q4k

Perfect Blue [মুভি রিভিউ] — শতদ্রু তালুকদার

perfect-blue

চিন্তা করুন, আপনি মানসিকভাবে এতোটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে আপনার পক্ষে ঠিক কল্পনা আর বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। প্রতিটা দিনই আপনার কাছে বাস্তবতা আর কল্পনা মিলেমিশে ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততটাই আপনি এই কল্পনা-বাস্তবতার ঘুরপাকের অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন।

Perfect Blue মুভিটার কাহিনীও মূলত তেমনই। মুভিটার প্রোট্যাগনিস্ট Mima Kirigoe একজন পপ আইডল গ্রুপের মেম্বার, নিজের ক্যারিয়ারকে আরও গড়ে তোলার করার জন্য সে পপ গ্রুপ ছেড়ে নিজেকে একজন এক্ট্রেস হিসেবে মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তার কাল হয়ে দাঁড়ায়। একে একে তার সাথে এবং তার পরিচিতদের চারপাশে নানান রহস্যময় ঘটনা ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে Mima মানসিকভাবে এতোটাই ভেঙ্গে পড়ে যে তার পক্ষে আর কল্পনা-বাস্তবতা আলাদা করা সম্ভব হয় না। ধীরে ধীরে তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ থেকে খারাপতর হতেই থাকে। তার মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত হওয়া কিংবা তার মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে কাটিয়ে ওঠা, তার চারপাশের রহস্যময় ঘটনাগুলোর খোলাসা করা নিয়েই “Perfect Blue” অত্যন্ত চমৎকার একটা এনিমেটেড মুভি।

আপনি যদি অনেকদিন ধরে বেশ ভালো কোন থ্রিলার দেখার অপেক্ষায় থাকেন তাহলে আপনার জন্য Perfect Blue হাইলি রিকমেন্ডেড। মুভিটার টুইস্ট এন্ড টার্নগুলো আপনাকে ভাবাবে, মুভি শেষ হওয়ার পরও বেশ ভাবাবে। প্লাস বোনাস হিসেবে মুভিটা Paprika বা Millennium Actress এর জন্য সুপরিচিত Satoshi Kon এর ডিরেক্ট করা মুভি।

আমার রেটিং –

স্টোরি – ১০/১০
মুভিটার স্টোরি এতোই সুন্দর করে বিল্ডাপ করা হয়েছে যে আপনি না চাইলেও নিজেকে Mima’র অবস্থায় চিন্তা করবেন। Mima’র প্রতিটা চিন্তা আপনি চিন্তা করবেন, ওর প্রতিটা অবস্থা আপনাকে ভাবাবে। মোটকথা Mima’র সাথে আপনি সারা মুভি জুড়ে বলা যায় এক প্রকার একাত্ম হয়ে থাকবেন।

এনিমেশন – ৯/১০
১৯৯৭ এ রিলিজ হওয়া মুভির এনিমেশনের সাথে আজকের এনিমেশনের আলবত কিছু পার্থক্য থাকবেই, তবুও মুভিটা দেখার সময় আপনি স্টোরিতে এতোই ঢুকে থাকবেন যে এনিমেশন তেমন কোন ম্যাটার করবে না।

ক্যারেক্টার – ১০/১০
প্রোট্যাগনিস্ট হিসেবে Mima’র ক্যারেক্টার বিল্ডাপ আমার কাছে এতোটাই ফ্ললেস লেগেছে যে তা নিয়ে ঠিক নতুন কিছু বলার নেই। পাশাপাশি আরও নানান সাপোর্টিং ক্যারেক্টারদেরও চমৎকারভাবে মুভিটাতে উপস্থাপন করা হয়েছে। Satoshi Kon এর ডিজাইন করা ক্যারেক্টার, এটা বললেই আর ঠিক অন্য কিছু বলা লাগে না।

মিউজিক – ৯/১০

মুভিটার সাউন্ডট্রাকগুলো, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার খুবই চমৎকারভাবে করা হয়েছে। মুভিটার ভৌতিক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো মুভিটা শেষের পরও আপনার কানে বাজতে থাকবে । (Three cheers for Masafumi Mima!!!)

ওভারঅল – ৯.৫/১০
ইয়েপ মুভিটা নিঃসন্দেহে ৯.৫ থেকে ১০ পাওয়ার দাবিদার।

বিঃদ্রঃ মুভিটাতে কিছু নুডিটি, কিছুটা ভায়োলেন্স আছে। তাই ইয়ঙ্গার ভিউয়ারদের জন্য viewer discretion is advised.

91 Days – Ending: Theory and Analysis — Tahsin Faruque Aninda

91-days-ending

খুব অল্প সময় যখন হাতে থাকে, তখন তার মধ্যে দেখা সিরিজ এত ভাল হয়ে থাকলে মনে শান্তি লাগে। “সময়টা নষ্ট হয় নাই অন্তত” – এরকম অনুভূতি হয়ে থাকে। 91 Days সিরিজটা দেখে সেরকমই feel পেয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় বাজে এনিমেশন – এইটুক ব্যাপার বাদ দিলে সিরিজটাতে আর খুঁত পাচ্ছি না এতটুকু। বাক্কানোর পরে সম্ভবত এটাই এখন পর্যন্ত সেরা মাফিয়া গল্প। মাফিয়া সেটিং-এর গল্প যে আমার তেমন ভাল লাগে না তা না, কিন্তু এই সিরিজটা হয়তো আমার সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

আর হাজার হাজার এডাপশনের ভিড়ে ভাল মানের অরিজিনাল সিরিজ খুঁজেই পাওয়া যায় না ইদানিং, সেজন্যেও আরও বেশি ভাল লেগেছে এই সিরিজটার জন্যে।

শেষ পর্বে কী দেখায় সেই চিন্তায় ছিলাম। এত চমৎকারভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠা গল্পটার এন্ডিংটা ভাল না হলে পুরা সিরিজটার আকর্ষণ মাটি করে ফেলতো। অবশ্য শেষে যা হল, বছরের অন্যতম সেরা সিরিজটার এন্ডিংটা এর চাইতে ভালভাবে টানা যেত না! দুইজনেরই পরিণতি একদম দর্শকের উপর ছেড়ে দিয়েছে! Open-Ended গল্প, দর্শক কী ধরণের এন্ডিং চায় তা একদম তাদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া।

যেহেতু দুজনের শেষ মুহুর্ত দেখায় নি, তাই চার রকমের পরিণতিই হতে পারে এখানেঃ
a) নিরো-এঞ্জেলো দুইজনেই মৃত্যুবরণ করেঃ নিরো এঞ্জেলোকে গুলি করে মেরে ফেলে, অন্যদিকে ফেরত যাবার পথে তাকে ধাওয়া করা যেই লোকটাকে দেখালো, সে নিরোকে পরে মেরে ফেলে।
b) এঞ্জেলো মারা যায়, নিরো বেঁচে থাকেঃ একই ঘটনা, শুধু নিরোকে ধাওয়া করা লোকটা ওকে মারতে পারে না।
c) ও d) নিরো মারা যায়/বেঁচে থাকে, এঞ্জেলোও বেঁচে থাকেঃ
আপাতদৃষ্টিতে হয়তো মনে হতে পারে এঞ্জেলো মারা গিয়েছে, কিন্তু লক্ষ্য করুন – তার শেষ মুহুর্ত দেখানো হয় নি। গুলি যেকোন জায়গাতেই করতে পারে। এমন কি end-credit roll হবার পরে বীচের যে জায়গাতে এঞ্জেলোর থেমে যাওয়া দেখানো হয়, সেখানে তার শরীর দেখা যায় না। হ্যাঁ হতে পারে শরীর আর রক্ত সাগরে ভেসে চলে গিয়েছে। তবে এ-ও হতে পারে সে অন্য কোথাও চলে গিয়েছে হেঁটে হেঁটে। পায়ের ছাপ তো পানিতে মিশে যেতে পারে, এবং ঠিক এটাই দেখিয়েছে একদম শেষের দুই-তিন সেকেন্ডে। পায়ের বাকি চিহ্নগুলিও মুছে যায় স্রোতে।

তবে, এরকম অনেক অনেক clue দিয়ে রাখলেও, আমার নিজের যা মনে হয়েছে তা হল —
দুজনেই বেঁচে থাকে।

আর এটার পক্ষেই যুক্তি বেশি দেখানো হয়। কেন?
> দুজনের কেউই আরেকজনকে মারতে চায় নি শুরু থেকে, মারতে পারেও নি।
যতই ঘটনা ঘটুক, এঞ্জেলোর সুইসাইড প্ল্যান একদম ঠিকমত খেটে যাক, নিরো ৩ বার [ছোটকাল, থিয়েটারের সময়ে, এবং এরপর ওকে গালাসিয়াদের কাছ থেকে উঠিয়ে নেবার সময়ে/পরেও] সুযোগ পেয়েও মারে নাই।

> নিরোর ফেরত যাবার পথে খাবার ক্যান দেখে হাসি দেওয়া।
যতই মাফিয়া হোক বা খুন করে অভ্যস্ত হোক, চেনাজানা বা রিভেঞ্জ নেওয়ার ব্যাপার হলেও কেউ আরেকজনকে মেরে ফেলার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদের পুরাতন স্মৃতি মনে করে এরকম “মন ভাল থাকা” হাসি দেয় না।

> এঞ্জেলোর শেষ দেখানো লোকেশনে বীচের বালু
পায়ের চিহ্ন বালুতে আছে, অথচ গুলি খেয়ে মরে গিয়ে থাকলে যদি মাটিতে পরে যেত, তাহলে শরীরের চাপে বালুতে আরও বেশি চাপ পরে ডেবে যেত। কিন্তু শেষ দৃশ্যে এমন কিছুই দেখায় নি। শুধু পায়ের চিহ্ন যেখানে শেষ সেখানে আর কিছুই নেই।

> গুলি খাবার পরে এঞ্জেলোর শরীর নিচে পরে যাবার শব্দ হয় নি, কিন্তু বালু ঠিকই উড়েছিল
এই সিরিজে মৃত্যুর মুহুর্তগুলি বেশ পরিষ্কারভাবে দেখানো + শুনানো হয়। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মৃত্যু হলে মাটিতে পরে যাবার শব্দ একদম পরিষ্কারভাবেই শুনানো হয়ে এসেছে। কিন্তু শেষ দৃশ্যে এমন কিছুই শুনা যায় নি, অথচ বালি ঠিকই উড়েছে। বালিতে গুলি লাগার জন্যে বা বাতাসের বেগে সেই বালু উড়ে যাবার সম্ভাবনা তাই অনেক বেশি।

Open-ended পরিণতিগুলি এজন্যেই এত ভাল লাগে। সব কিছুই হওয়া সম্ভব – এরকম ধারণা দিলেও আসলে গল্পকারদের পছন্দ অনুযায়ী কোন পরিণতি ঘটে, সেগুলি অনেক অনেক হিন্টস দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়াও হয়ে থাকে একই সাথে; ঠিক যেমন Inception-এর শেষ দৃশ্য নিয়ে হাজার হাজার ব্যখ্যা থাকলেও আসলে কী হয়েছিল সেটা পুরা মুভি জুড়ে অজস্র হিন্টস দিয়ে শুরু থেকেই দেখিয়ে আসা হয়।

আশা করি এটার মতই আরও অনেক ভাল মানের অরিজিনাল সিরিজ পাব আমরা ভবিষ্যতে, আর সেগুলি ম্যাচুর গল্পের হলে তো কথাই নাই! এডাপশনের ভিড়ে ভাল মানের অরিজিনাল সিরিজ পাওয়া খুবই কঠিন এখন, তাই এই সিরিজ দেখে যেন অন্যান্য প্রস্তুতকারকরাও আগ্রহ পায়।

Maris the Chojo [OVA রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

maris-the-chojo

Name: Maris the chojo
Genere: Sci-fi, Comedy
Running time: 46 মিনিট
–
Rumiko Takahashi’র ১৯৮০ সালের ওয়ানশট মাংগা থেকে ১৯৮৬ সালের এডাপটেশন এই OVA টি। এটাকে “Loosely based Sci-fi” ও বলা যায়। চিরাচরিত সাই-ফাই থেকে এখানে পার্সোনাল এজেন্ডা বেশি মুখ্য ছিল।
–
Maris হল Inter galactic space patrol এর অধীনে কর্মরত একজন তরুণী। যে কিনা Thanatos নামক গ্রহে বাস করত। এই গ্রহে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে একটি স্পেশালিটি আছে। সাধারণ মানুষের চেয়ে ৬ গুণ বেশি শক্তিশালী এরা। কোন এক কারণে একসময় এই গ্রহ ধ্বংস হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তার আগেই ঐ গ্রহের মানুষদের সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু তাদের সেই স্পেশালিটির কারণে তাদেরকে শেকল পড়ে থাকতে হত যাতে সেই পাওয়ার আনলিশ না হয়।
-যাই হোক একদিন এজেন্সি থেকে নির্দেশ আসে একটি কিডন্যাপিং কেস হ্যান্ডল করার। বিখ্যাত ধনকুবেরের ছেলে Maru Kogane কে কিডন্যাপ করেছে কে বা কারা। তাকে উদ্ধার করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে বেশ ভাল এ্যামাউন্টের টাকা পাবে। Maris এই দায়িত্ব পেয়ে খুশি হয়। কারণ তার মদ্যপ বাবার হিংস্র চালচলন আর মায়ের দেখভালের জন্য তাকে টাকা পাঠাতে হয় কিছুদিন পর পর। আর তার অসামান্য স্ট্রেংথের কারণে অলরেডি ৪টা স্পেসশিপ ধ্বংস হয়ে গেছে। যার দরুণ এজেন্সির পক্ষ থেকে বড় ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। এছাড়া তার নিজেরও এই জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসছে। তাই সে তার এ্যাসিস্টেন্ট নাইন-টেইল ফক্স Murphy’র সাথে রওয়ানা দেয়।
এক সময় কিডন্যাপারের কাছ থেকে কল আসে। সে আর কেউ না, তার একসময়কার প্রতিদ্বন্দ্বী Sue। যাকে সে রেসলিং এ হারায়। বাট থিংস গেট প্রিটি সিরিয়াস যখন জানা যায় তার এই কিডন্যাপে জড়ানোর কাহিনী। তো নানান ঝামেলা শেষে Maris পৌঁছে যায় Sue’ র বেইজমেন্টে। সেখানে আবার তাদের মধ্যে ছোটখাটো ম্যাচ হয়ে যায়। এরপরই ঘটে আন-এক্সপেক্টেড ঘটনা। Maris কি পারে ঐ ছেলেকে বাঁচাতে? শেষের দিকের টুইস্ট টার জন্যে হলেও পুরোটা দেখা উচিৎ বলে মনে করি। দেখার পর বারবার এটাই মাথায় আসবে Life is not a fairy tale.
-পুরোটা সময় নানা ধরণের কমেডিক এলিমেন্টে ভর্তি। এর মধ্যে ২-১ টা হয়ত ফোর্সড মনে হবে। কিন্তু বাকিগুলো ন্যাচারাল। কিছু হয়ত স্টুপিড মনে হতে পারে। কিন্তু ৮০’র এনিমে হিসেবে একটি OVA তে এর বেশি কিছু আশা করা যায়না। তবে যতটুক দরকার ততটুকুই আছে। আর আরেকটা মজার ব্যাপার হল গল্পের এক পর্যায়ে যখন তারা একটা গ্রহে ক্র্যাশ করে সেখানের কোন একটা বারের সামনে ডার্থ ভেডারকে (স্টার ওয়ার্স) জুস খেতে দেখা যায়। এছাড়াও অন্য এলিমেন্ট গুলো একদমই বোর হতে দিবেনা। এটা দেখে যে সময় নষ্ট হবেনা তা বলে দিতে পারি।
আর সাউন্ডট্র্যাকের ব্যাপারে বলব সেই পরিচিত ইউজুয়াল ৮০’র গান। শুনতে মজাই লাগবে। ওভারঅল হালকা ধাঁচের একটি এনিমে। দেখে খারাপ লাগবেনা।

ReLife [রিভিউ] — Zahin Mobashshir

relife-1

Anime: ReLife
Episode: 13
Genre: Romance, School, Slice of Life.

২৭ বছরের এক যুবক Kaizaki Arata। স্বদিচ্ছায় চাকরি ছেড়ে এখন বেকার জীবনযাপন করছে। বেকার বলে আজকাল সে আর ঘর থেকেও বের হয় না। তবে একদিন বন্ধুদের ডাকে সে সাড়া দেয় এবং বাসায় ফিরতে ফিরতে তার জীবন সম্পূর্ণরূপে পাল্টিয়ে যায়। সরকারের নতুন প্রজেক্টে কাজ করার জন্যে তাকে আহ্বান জানানো হয় এবং সে কি আর যেই সেই প্রজেক্ট! এ যে নতুন করে যৌবন অর্জন করার এক অভিনব আহ্বান।
স্বভাবতই বেকার যুবক Kaizaki ১ বছরের জন্যে মুফতে খাওয়া-দাওয়ার সাথে বছর শেষে একটা চাকরি লাভের আশায় সরকারের এই প্রজেক্টে কাজ করতে সম্মতি জানায় এবং শুরু হয় তার ReLife জীবন।
এই ব্যবস্থায় তাকে ফিরে যেতে হাইস্কুল লাইফে। তাকে ১৭ বছরের তরুন বানিয়ে হাইস্কুলের ৩য় বর্ষে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় এবং সেও প্রতিশ্রুতি মতো তার নতুন জীবন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী অতিবাহিত করতে শুরু করে দেয়।
এভাবেই শুরু হয় তার পুনরায় হাইস্কুল জীবন।
প্রথমদিন থেকেই তার বিভিন্ন কিম্ভূত কান্ডকারখানা দেখে সে রীতিমতো সবার নজর কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে তাই বাকি সহপাঠীদের সাথে পরিচিত হতে তার আর কোন বেগই পেতে হয়নি।

relife-3

এনিমেটার সেরা বিষয় হল প্রত্যেকটা ক্যারেকটারকেই খুবই সুন্দরভাবে তুলে ধরা। প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ডস্টোরি থেকে শুরু করে তাদের ক্যারেক্টার গঠন খুবই ভালো লেগেছে। এছাড়া এই এনিমে কমেডিগুলা খুবই মজার। বিশেষ করে এখানের ফানি ফেস গুলা থেকে না হেসে থাকাই যায় না। প্রায় প্রতি এপিসোডেই এইসব ফানি ফেসের দেখা মেলে।

পুরা কাহিনী আমার এত্ত ভালো লেগেছে যে এটা আরও অনেক অনেকবার দেখার ইচ্ছা আছে। এনিমেটার আর্টের প্রশংসা না করলেই নয়। এনিমেটা দেখলে অবশ্যই ৭২০পিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা হল।

এনিমেটার ওপেনিং এন্ডিং ভালোই লেগেছে। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। প্রতিটা ফানি ফেস দেখানোর সাথে থাকত খুবই উপযোগী কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

সর্বপরি এনিমেটা উপভোগ না করা প্রায় অসম্ভব। আর পুরা এনিমেটি যখন শেষ হয়ে আসবে তখন আপনাদের জন্যে উপস্থিত হবে ঠিক তখনই যেন আপনাদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়বে।

যারা দেখেননি তারা শীঘ্রই এনিমেটা দেখে ফেলুন। আর যাদের কোন কারনে মন খারাপ, কাজের চাপে জীবন অতিষ্ঠ, কিছুই ভালো লাগে না; তাদেরকে বল্ব আপনারা এখনই এনিমেটা দেখে ফেলুন এবং নিজেদের চাঙ্গা করে তুলুন।

relife-4

Tsumiki no Ie/The House of Small Cubes [মুভি রিভিউ] — Anoy Lawliet

tsumiki-no-ie-1

১২ মিনিট

হ্যাঁ ১২ মিনিটই প্রয়োজন ।

MAL সাইটের এক ব্যাক্তির সাথে একমত হতেই হচ্ছে ২৬ পর্বের দরকার নেই। ১৩ পর্বও হতে হবে না । দরকার নেই ১ ঘণ্টা হওয়ার । আপনার দরকার মাত্র ১২ মিনিট।
এই ১২ মিনিটে বুঝিয়ে দিবে আপনার জীবনের কঠিন সত্য, সুন্দর ও শান্ত সময়গুলো (একই সময়ে)। Le Maison en Petits Cubes (The House of Small Cubes) হল এর বড় প্রমাণ।

এটি একটি Oscar বিজয়ী ছোট মুভি (হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়েছেন, ২০০৯ সালের সেরা এনিমেটেড ছোট মুভি বিভাগের বিজয়ী এই এনিমেটি) যা একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তির ভবনের তলা তৈরি করে পানি থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে। ভুলবশত তার তামাক খাওয়ার পাইপটি ঢুবে যাওয়া ভবনের তলায় পড়ে যায়। প্রিয় পাইপটি ফিরিয়ে আনার আশায় ঢুবে যাওয়া ভবনের যতো নিচের দিকে যেতে থাকে তার স্মৃতিগুলো ততো হানা দিতে থাকে। প্রতিটি তলা যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়। জীবনের চলে যাওয়া অমূল্যবান সে সময় যা মিশে ছিল অটুট হাসি আর কান্নাদিয়ে ফিরে আসতে থাকে।

tsumiki-no-ie-2

এক ঘণ্টার চার ভাগের এক ভাগেরও কম সময় হওয়ার অনেক গল্পই হয়তো তুলে ধরতে সক্ষম হয়নি কিন্তু তারমানে এই নয় যে কাহিনীতে অপূর্ণতা রয়ে গেছে। একটি বৃদ্ধ ব্যাক্তি দ্বারা উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের অতীত ভালোভাবে তুকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এই মুহূর্তে যদি আপনাকে বলা হয় এই সময়টিই আপনার জীবনের শেষ সময় তাহলে মাটিতে নিচে নিয়ে যাওয়ার মতো মুহূর্তগুলো কি হবে? আপনার প্রিয় মুহূর্তগুলো কি? যদি আপনি আজই মারা যান তবে আপনার মাটির উপর কাঁদার কেউ রয়েছে কি?

tsumiki-no-ie-3

না এই মুভিতে কোন ভয়েস নেই। তবে প্রতিটি মুহূর্তের সাথে এমন কিছু ভায়োলিন আর গিটারের সুর দেওয়া হয়েছে যা আপনাকে খুশি করে চোখ বন্ধ করে দিতে বাধ্য। নেই কোন উচ্চমাত্রার এনিমেশন স্টাইল। তবে আমি আশ্বাস দিয়ে বলতে পারি এতে আপনার মজা একটুও নষ্ট করবে না।

অবশেষে রেটিং যা না বললেই নয় । কোন ভাবনাচিন্তা ছারাই মন থেকে চলে আসবে ১০/১০

tsumiki-no-ie-4