91 Days (2016) রিভিউ — Fahim Bin Selim

91 Days(২০১৬)
★★★★☆
পরিচালনাঃ কাবুরাকি হিরো(Tonari no Kaibitsu-kun, Kimi ni Todoke, Hoozuki no Reitetsu)
মৌলিক গল্প
পর্ব সংখ্যাঃ ১২
জনরাঃ অ্যাকশন, ড্রামা, হিস্টোরিকাল
প্রযোজনাঃ স্টুডিও শুকা(Durarara x2, Natsume Go)

flkmycp

 

১৯২০; আমেরিকায় প্রোহিবিশন এরার শুরু। ১৮তম সংশোধনীর প্রেক্ষিতে “ড্রাই ক্রুসেডার”-দের নেতৃত্বে দেশজুড়ে অ্যালকোহলিক পানীয়ের তৈরি, আমদানী, পরিবহন কিংবা বিক্রি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলো। পন্য খোলাবাজারে নিষিদ্ধ হওয়া মানে স্বভাবতই তার জায়গা হলো কালোবাজারে। আর তখন পর্যন্ত মাফিয়াদের মূল ব্যবসা পতিতালয় আর জুয়াড় আসরকে ফেলে প্রথম স্থান দখল করলো মদ্যপানের চালান। যার কাছে যত স্থায়ী, শক্তিশালী পানীয়ের মজুত, তাদের হাতেই শহরের দায়িত্ব!

ল’লেস, ইলিনয়। নামের স্বার্থকতা রক্ষার্থেই তাতে আইনের কোন বাধা ধরা নেই, অন্তত প্রচলিত অর্থে। বরং এখানকার আইনের বিধানকর্তা তার মাফিয়া পরিবারগুলো – ভানেত্তি আর অর্কো। তার ব্যাত্যয় ঘটলেই লাশ পরা সুনিশ্চিত; দিন-রাতে, খোলা রাস্তায়, পাব, নিজের ঘরে। ‘পরিবার’-কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই পরিবারের জন্যই ভানেত্তি পরিবারের অংশ অ্যাঞ্জেলো লাগুসা ছোটবেলায় বাবাকে খুন হতে দেখলো তার বাবার নিজের বন্ধু ভিনসেন্ট ভানেত্তির হাতে। সাথে তার মা আর ছোটভাইকেও – পুরো পরিবার একসাথে! ভাগ্যক্রমে একমাত্র বেঁচে যাওয়া অ্যাঞ্জেলো সাতবছর পর ফিরে আসলো ল’লেস-এ। প্রতিশোধের নেশায়, ব্রুনো আভিলিও ছদ্মনামে। এই ভানেত্তি পরিবারের ঢুকে যেতে। ভেতর থেকে একে একে খুন করতে, তালিকা ধরে, যারা খুন করেছিলো তার পরিবারকে। তার প্রবেশপত্র? ল’লেস হেভেন, শহরের সেরা মদ। যার প্রস্তুতকারক তার বাল্যকালের বন্ধু কর্তেও।
৭ বছর অপেক্ষার পর অ্যাঞ্জেলোর – আভিলিওর…৯১ দিনের শীতল প্রতিশোধ পরিবেশনের গল্প!

আমেরিকা আর ত্রিশের দশক, মাফিয়া, প্রতিশোধ গল্প – কোন অ্যানিমের আগে বরং স্করসেসি[১] কিংবা কোপোলার[২] চলচ্চিত্রের কথাই মাথায় আসার কথা সবার আগে! এবং তারপর যখন দ্বিতীয় পর্বে শিকাগোর গালাসিয়া পরিবারের রোনালদোর সাথে ভিনসেন্টের মেয়ে ফিও ভানেত্তির বিয়ের অনুষ্ঠানে অ্যাঞ্জেলো উপস্থিত হয়, নাচের দৃশ্য আর ভেতর অন্ধকার রুমে বসে থাকা ভিনসেন্ট ভানেত্তিকে দেখে ডন কর্লেওনি(Godfather[৩]) ভেবে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক না। অথবা টাইটল স্ক্রিনের লোগোটার কথাই ধরা যাক। হেনরি হিলের(Goodfellas[৪]) মত সিসেরোর…না, না, কস্টিগানের(The Departed[৫]) মত কস্তেওদের সাথে অ্যাঞ্জেলোর মিশে যাওয়া! 91 Days এর অনুপ্রেরণা তো কোপোলা আর স্করসেসিতেই। এবং গল্পবর্ণনাতেও এই প্রভাব লক্ষনীয়। পর্বে পর্বে ক্লিফহ্যাঙ্গার আর একের পর এক অননুমেয় গল্প উপাদান, টিভি সিরিজের তুলনায় বরং সাড়ে চার ঘন্টার একটার মুভির সাথেই একে তুলনা করা যায়।

আর অ্যাঞ্জেলোর যাত্রাটা শুধু ক থেকে চন্দ্রবিন্দুতে গিয়েই শেষ না, নিজের অজান্তেই ল’লেস-এর অন্ধকার মাফিয়া জগতের মাকড়সার জালে ধীরে ধীরে পেঁচিয়ে যাওয়ায়। লম্বা সময় ধরে মিথ্যা অভিনয় করতে থাকো, সেটা একসময় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে। অ্যাঞ্জেলোর রেইসন দে’ত(Raison d’etre), বেঁচে থাকার একমাত্র অনুপ্রেরণা এই প্রতিশোধই, আর সেটা ছাড়া সে যেন এক অন্তস্বারশুন্য খোলের মত। সেও অংশ হয়ে যায় ল’লেস-এর মাফিয়া যুদ্ধে। লাল পানি আর রক্তের খেলায় – প্রতিশোধ সেখানে মধ্যবিরতির আকর্ষন কেবল। কাটা পরতে থাকে তালিকার বাইরের অনেক নামও।

গল্পের মূলচরিত্র, কিন্তু অ্যাঞ্জেলোর মাথার ভেতরে কখনো আমরা ঢুকতে পারি না, তার মনোলোগের অংশ হই না, কিংবা জানিনা তার পরবর্তী পরিকল্পনা কী। প্লেহাউসের উপর তলায় বসে কোন অপেরার মত অ্যাঞ্জেলোর এই অভিনয় আমরা দেখি বাইরে থেকে। গল্পের মূলচরিত্র, কিন্তু কোন পর্যায়েই অ্যাঞ্জেলো গল্পের ‘নায়ক’ না, বরং ফিল্ম-নয়ারের নিয়ম মেনে আর বাকিসব চরিত্রের মতই অ্যাঞ্জেলোর বিবেকবিচার আর কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ। এটাই গল্পের অননুমেয়তা আর বিষ্মিত করার প্রধান অস্ত্র। কস্টিগানের মত অ্যাঞ্জেলোর এই অভিনয় ‘খেলার’ পেছনে কোন ‘গ্রেটার গুড’ নীহিত নেই। তার পুরো যাত্রাটাই ব্যক্তিগত, স্বার্থপরতার। একাকীত্বের।

কস্টিগান – অ্যাঞ্জেলোর এই প্রতিশোধ চক্রের ব্যাসের অপর পাশেও একজন কলিন আছে – নেরো ভানেত্তি, ভিনসেন্টের ছেলে। নেরো বরং অ্যাঞ্জেলোর চেয়ে আরো বেশি জীবন্ত এক চরিত্র। অ্যাঞ্জেলোর প্রতিশোধ তালিকায় কাটা যেতে থাকা নামের সংখ্যা বাড়তে থাকার মানে হলো তার পরিচিতদের মৃত্যুর তালিকা ক্রমাগত বড় হওয়া। তবে এই তিনমাসের গল্প নেরোর জীবনটা উল্টেপাল্টে যাওয়ার, অ্যাঞ্জেলোর সাপের মত আষ্টেপৃষ্ঠে ধরা পরিকল্পনার কেন্দ্রে তো সে নিজেই! তার ছলচাতুরির ফাঁদে পরা সবচেয়ে বড় শিকার। তার দাবার গুটির শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা স্যাক্রিফাইসিং পন। বরং নেরোকেই গল্পের ট্র্যাজিক হিরোর উপাধি দেওয়া যায়। তার অভিনয়টা অবশ্য তিনমাসের জন্য না, সারাজীবন ধরে চলা। বারুদ আর রক্তের গন্ধ। বিশ্বাসঘাতকতা আর অবিশ্বাসের এক জগতে। পরিবারের সাথে মিশে যাওয়ার…টিকে থাকার জন্য। পরিবারের জন্য। তার যাত্রাটা সম্পূর্ণ বিপরীত – আত্নবিসর্জনের। তবে একাকীত্বেরও!

স্করসেসির মাফিয়াদের মত অ্যাঞ্জেলোর জীবনটা অবশ্য অতটা অবশ্য জাঁকজমকের না, অনেক বেশি গ্রাউন্ডেড। তার পতনটা যে অনিবার্যতায় ঘেরা। 91 Days-এর পরিবেশনাও সাধারণ। বেশিরভাগ সময় আবহসঙ্গীতবিহীন, জ্যাজ আর অর্কেস্ট্রা সেখানে প্রবেশ করে কদাচিৎ। বরং তার স্থানে জায়গা করে নেওয়া বাইরের যান-বাহন আর কোলাহলের শব্দ ল’লেস-এর মাফিয়াদের বাইরেরও আলাদা সাধারণ জীবনটা সম্পর্কে জানান দেয়। রক্তপাত, বিশ্বাসঘাতকতা আর ছলচাতুরিবিহীন, আসলেই পরিবারের সাথে একসাথে থাকা এক জীবন।

কিন্তু উপরতলার বিধান কর্তাদের সেখানে প্রবেশ করা নিষেধ। প্রতিশোধের নেশায় পাগল হওয়া মানুষদেরও।

91-days-poster-promo-imagem-destaque

১ – [https://en.wikipedia.org/wiki/Martin_Scorsese]
২ – [https://en.wikipedia.org/wiki/Ford_coppola ]
৩ – [https://en.wikipedia.org/wiki/The_Godfather]
৪ – [https://en.wikipedia.org/wiki/The_Departed]
৫ – [https://en.wikipedia.org/wiki/Goodfellas]

Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu [রিভিউ/রিঅ্যাকশন] — Tahsin Faruque Aninda

Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu
Tag: Psychological, Thriller, Groundhog Loop

2-1

Re:Zero, or more like Rem = Zero :))

Yeah I had to do it, sorry for that…

এই বছরের অন্যতম হাইপ পাওয়া সিরিজ, এবং সব জনপ্রিয় বা মেইনস্ট্রিম সিরিজের মতই একগাদা সাপোর্টারের পাশাপাশি একগাদা হেটারও জন্মেছে এটার। এটাই আসলে এই যুগের আনিমের ভাগ্যে জুটবার মত সবচাইতে স্বাভাবিক ঘটনা, হয় সিরিজটা মোটামুটি, নাইলে বেশিইইই ভাল+খারাপ, আর কিছু নাই।
এত সব আলোচনা, সমালোচনার ভীরে পক্ষে-বিপক্ষের কথা অনেক শুনা হয়ে গিয়েছে হয়তো, তাই আমি বরং পুরান কথা আবার আওড়ানোর বদলে নিরপেক্ষভাবে সিরিজটার ভাল-খারাপ কিংবা সিম্পল-স্পেশাল জিনিসগুলি নিয়ে আমার আলোচনা পোস্ট শুরু করি।

সিরিজটা নিয়ে অনেক অনেক আগেই যখন ঘোষণা আসে, তখনই এর সিনোপসিস পড়ে বুঝতে পারি সিরিজটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার মত একটা কিছু হবে, হয় সেটা ভাল কারণে না হয় খারাপ কারণে। গল্পের নায়ক কোন এক কারণে হঠাত বাস্তব জগত থেকে এক ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসে, যা কিনা এখনকার যুগের লাইট নোভেল আর আনিমের মধ্যে সবচাইতে কমন থিম। তবে গল্পের মূল আকর্ষণ হল এই যে, নায়কের মৃত্যু হয়ে থাকলে অতীতের কোন এক সময়ে ফেরত চলে যাবে সে। অর্থাৎ গ্রাউন্ডহগ লুপ, যার ট্রিগের হয় নায়কের মৃত্যুর মাধ্যমে – অনেকটা গেমের মত, যেখানি আপনি খেলার সময়ে মৃত্যুবরণ করলে এরপর আগের কোন এক সেইভ পয়েন্ট থেকে কন্টিনিউ করতে পারবেন। তবে এরকম থিম নিয়ে গল্প হলেও এটা আবার এই যুগের আরেক জনপ্রিয় জনরা গেম + ফ্যান্টাসির মধ্যে পরে না। আর এই আইডিয়াটাই গল্পটাকে জনপ্রিয় করার জন্যে একটা বড় উপাদান!

প্রথম পর্বটাই double episode করার মাধ্যমে বুঝা যায়, প্রস্তুতকারকেরা সিরিজটাকে একদম ঠিকমত দর্শকদের কাছে তুলে ধরার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছে। White Fox স্টুডিওকে কৃতিত্ব দিতে হবে সিরিজটাকে চমৎকারভাবে তৈরি করবার জন্যে। অ্যানিমেশন, মিউজিক, ক্যারেক্টার আর্ট — সবকিছুতেই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে তারা। অতএব, প্রোডাকশনের দিক থেকে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই।

এবার আসি গল্পের কথায়। শুরুর দিকে দর্শকদের কাছে এটাকে “আরেকটি টিপিকাল ফ্যান্টাসি আনিমে” এরকম একটা আইডিয়া দিয়েই শুরু করেছে গল্পটি, তবে তার প্রধাণ কারণ যেন কয়েক পর্বের মধ্যেই সেই ভুল ভাংতে পারে। Travel to Fantasy World এই আইডিয়ার গল্পগুলার একটা Deconstruction সিরিজ হিসাবে Re:Zero বেশ ভাল ভূমিকা রেখেছে। এরকম গল্পে নায়ক যেমন সেরাদের সেরা, অদ্বিতীয় অপরাজেয়, এরকম ধারণা থেকে শুরুতেই বের হয়ে আসে যখন দেখা যায় গল্পের নায়কের প্রায় কোন ক্ষমতাই নাই কোন কিছু নিয়ে, একটা মাত্র জিনিস বাদে। তবে সেই একটা ক্ষমতাই অবশ্য সবচাইতে বড় Deus Ex Machina, আর তা হল Return by Death. Basically, নায়কের মৃত্যু হলে আগের একটা জায়গায় ফেরত আসবে, আর নায়কের মৃত্যুর আগের সব ঘটনা শুধু তারই মনে থাকবে, অন্য কেউ কিছু জানবে না। এই ক্ষমতাটাই বিশাল বড় একটা ব্যাপার হতে পারে, যদি সেটা ভালমত ব্যাবহার করতে পারা যায়। আর এইটা নিয়ে আমার প্রথম আপত্তিঃ শুধুমাত্র plot convenience-এর জন্যে আমরা দেখতে পাই “কী করবো, কেমন করবো” এরকম ধারণা নিয়ে চলা নায়ক বারবার মৃত্যুর পর যেবার বেঁচে থেকে পুরা একটা অধ্যায় শেষ করতে পারবে, সেই সময়ে অকল্পনীয়ভাবে মারাত্মক কঠিন সব সমস্যার সমাধান অনেক ভাল ভাল সমাধান দিতে পারে। অবশ্য গল্পের শেষের দিকে গিয়ে এই পরিস্থিতিতে একটু লাগাম পরানো হয়ে থাকে, তাই এইটুক ব্যাপার গল্পের শেষ পর্যন্ত আর বড় issue হয়ে উঠে নাই।

এখানে একটা জিনিস বলে রাখতে চাই, কোন সমস্যার সমাধান না হলে মৃত্যুর মাধ্যমে আবার পিছে ফিরে গিয়ে সেটা ঠিক করে দেওয়া যায় – এই ব্যাপারটাকে ছেলেখেলা হিসাবে দেখানো হয় নাই। মৃত্যু জিনিসটা অনেক কঠিন আর painful, আর সেটা নায়কের সাথে সাথে দর্শকও অনেক ভালভাবে বুঝে উঠতে পারবে। তাই Return by Death এই আইডিয়াটাকে অহেতুক স্প্যামিং করবে এরকম ভেবে থাকলে চিন্তামুক্ত হতে পারবেন যে যতটুকু দেখানো হয়, সেটা বেশ “বাস্তবসম্মত”ভাবেই দেখানো হয় [অর্থাৎ যদি বাস্তব হত আর কি! LOL KEK LOL]। আর মৃত্যুর ব্যাপারগুলি সেন্সরিং করে নাই, gore অনেক আছে, এইটার জন্যে White Foxকে আবার ধন্যবাদ দিতে হয়।

আনিমেটির এই সিজনে ৩টি আর্ক দেখানো হয়। গল্পের পেসিং শুরুর দিকে ভালমত আগাতে থাকলেও ২য় আর্কে এসে একটু ঝিমিয়ে পরে। অবশ্য ৩য় আর্ক থেকে সেটা আবার ভালভাবে আগাতে শুরু করে। আর প্রথম ২ আর্ক মোটামুটি হলেও ৩য় আর্ক বেশ চমৎকার হয়ে উঠে, এখানে দেখানো psychological aspect অনেক বেশি ভাল লেগেছে।

চরিত্রদের ব্যাপারে আসি এবার। প্রথমেই বলে রাখি, নায়ক Subaru বেশ বিরক্তিকর, এবং এটা আসলে গল্পের জন্যে ভাল মানিয়েছে। কারণ বিরক্তিকর একটা চরিত্র হবার কারণেই তার ক্যারেক্টার ডেভপমেন্ট খুব ভালমত হতে পেরেছে। বারবার মৃত্যুর ভয়াবহতা একটা irritating brat-কে কিভাবে শারীরিক আর মানসিকভাবে একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটা গল্পের ৩য় আর্কে গিয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। তবে সিরিজে সবচাইতে ভাল ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট যদি কারও হয়ে থাকে, সেটা এই মুহুর্তে আনিমে জগতের সবচাইতে জনপ্রিয় ক্যারেক্টার Rem-এর। Also, Rem is pretty much the MVP of this series. গল্পের আরেক প্রধাণ চরিত্র Emiliya-এর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট আরেকটু ভাল হতে পারতো। তার স্ক্রিনটাইম আরও কিছু বেশি হওয়া উচিত ছিল। বাকি চরিত্রদের উপস্থিতিও ভালভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।

বেশ ভাল ভাল অনেকগুলি দিকের কথা তুলে ধরলাম, এবার তাহলে সিরিজটির কিছু short-coming নিয়ে কথা বলা যাক। ২৫টা পর্ব দেখার পর একটা প্রশ্নই মনে জাগবে, গল্পের আসল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য কী? এরই মধ্যে অনেক অনেক নিউজের মাধ্যমে সিরিজটা না দেখা আনিমে দর্শকেরাও জেনে গিয়েছেন যে কাহিনী প্রথম সিজনে যেখানে শেষ হয়েছে তারপর গল্পে আরও অনেক অনেক কিছু আছে। প্রথম সিজনটা পুরা গল্পের অর্ধেকও না। অনেকে আবার একটু বাড়াবাড়ি করে বলে বসবে এটা প্রোলগ।
কথা হল, এটা প্রোলগ না। হ্যাঁ, গল্পের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র, কিন্তু প্রোলগ না। আর প্রোলগ হোক বা না হোক, যত বিশাল বিশাল গল্প আছে সেগুলির দিকে তাকালেও আপনি দেখতে পারবেন যে গল্পের মধ্যে অল্প কিছুদূর যাবার পরেই গল্পের শেষ পরিণতি বা মেইন ফোকাস কী তা জেনে গিয়েছেন। এরপর গল্প কিভাবে সেই লক্ষ্যের দিকে আগায় সেটা দেখার ব্যাপার। খুব বেশি খুঁজবার দরকার নাই, বিগ ৩-এর দিকেই তাকান, দেখবেন যে নারুতোর শুরুর দিকেই আমরা জেনে গিয়েছি গল্পের লক্ষ্য হল নারুতোর হোকাগে হওয়ার স্বপ্নপূরণ, ওয়ান পিসে লুফির পাইরেট কিং হওয়া, কিংবা ব্লিচের জন্যে ইচিগোর দলের লক্ষ্য আইজেনকে থামানো। রিঃজিরো এত বড় গল্প না, তারপরেও ২৫ পর্ব দেখে উঠার পরেও বুঝতে পারবেন না আসলে গল্পের ফোকাসটা কোথায়। সুবারুর প্রধাণ লক্ষ্য কী শুধুমাত্র নায়িকার মন জয় করা, নাকি ফ্যান্টাসি দুনিয়ায় নিজেকে অদ্বিতীয় এক “খেলোয়াড়” হিসাবে তুলে ধরা, নাকি নিজের বাস্তব জগতে ফিরে যাওয়া… এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন জেগে উঠবে। হ্যাঁ, প্রথম সিজন বলে এখনই অনেক উত্তর অজানা থেকে যাবে এটাই স্বাভাবিক, পরের কোন সিজন [যদি বের হয়] আমাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিবে, তবে গল্পের আসল উদ্দেশ্য কী এটা বুঝে উঠতে না পারা একটা বড় হতাশার কারণ হতে পারে।

আরেকটা বড় issue হল, সুবারু প্রথম পর্বের শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস্তব জগত থেকে হঠাত করে ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসলো, এরপর তার রিএকশন দেখে অনেক বেশি অবাক হতে হয়। এক দুনিয়া থেকে তুলে এনে আরেক দুনিয়ায় ফেলে দেবার পর নতুন জগতে কেন আসলাম, পুরান জগতের কী হল, হঠাত এরকম উলটাপালটা হয়ে গেল কেন সবকিছু – এরকম মনে হওয়া যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে সুবারু যেন ব্যাপারটাকে ডালভাত গিলে ফেলার মতই স্বাভাবিকভাবে নেয়; বা জাপানিজ টার্ম অনুযায়ী, র‍্যামেন ঢকঢক করে গিলে ফেলার মত মেনে নেয় (যেটা কল্পনা করতে আপনার সুবিধা হয়)। আর গল্পের অনেকদূর পর্যন্ত গিয়েও নায়কের এইটা নিয়ে আর কোন ভাবনা করতে না দেখাটাও তাই একটু হতাশাজনক লাগে।

প্রথম সিজনের গল্পের এন্ডিং নিয়ে অনেকের অনেক মত থাকতে পারে, তবে আমার মতে, একটা ভাল এন্ডিং হয়েছে। “প্রথম” সিজন, বা ইনকমপ্লিট গল্প — এসব হয়ে থাকার পরেও ক্লিফহ্যাঙ্গার না টেনে বরং একটা ভাল সিজন ফিনালি দিতে পেরেছে। গল্প এখানেই পুরাপুরি শেষ করে দিলেও খুব বেশি চোখে লাগবে না হয়তো।

মিউজিক আর গানের কথা আলাদাভাবে বলি আবার। OST এর ব্যবহার যথোপযুক্ত হয়েছে, ED 1, OP 2 এই দুইটা এত বেশি ভাল হয়েছে যে বছরের সেরা গানের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে এ দুটি। MYTH & ROID এর জন্যে ২০১৬ সালটা Hit আর Hit দিয়েই ভরা!

এখন একটা কথা বলে রাখি, মেইন্সট্রিম বা অতিরিক্ত জনপ্রিয় হলেই সিরিজটার প্রতি বিরক্তি পোষণ না করার আহ্বান জানাই। মেইন্সট্রিম জিনিসকে ঘৃণা করাও কিন্তু অনেক বেশি মেইন্সট্রিম হয়ে গিয়েছে এখন। এটা সত্যি, যেকোন সিরিজের ফ্যানবেজের বাড়াবাড়ি আচরণের কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক দর্শকের জন্যে সেটা বিরক্তিকর লাগতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সেগুলি ইগনর করতে পারেন। কোনরকমের বদ্ধ ধারণা নিয়ে দেখতে না বসে বরং রিলাক্স মন নিয়ে নিজে সিরিজটি দেখুন, তাহলে অন্যদের দেওয়া মত বারবার না আওড়িয়ে বরং নিজেই নিজের মত দিতে পারবেন। ভাল লাগলো না খারাপ, নাকি মিডিওকর, নিজেই সেটা বিচার করতে পারবেন।

সিরিজটি নিয়ে আমার মতামত শেষ করি দুটি প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমেঃ

> Re:Zero কী Masterpiece?
– না। Masterpiece হবার জন্যে আরও অনেক কিছু দরকার। সবার আগে দরকার গল্পটা শেষ হবার। ইনকমপ্লিট গল্পকে মাস্টারপিস দাবী করার মানে নেই। গল্পের মাঝপথে অনেক কিছুই ভাল লাগতে পারে, শেষে গিয়ে ভরাডুবি হলে একদম মত উলটে যেতে পারে। তাই আগে নতুন সিজন আসুক, গল্প শেষ হোক, তখন এই প্রশ্ন তুলবার সত্যিকারের সময়, এখন নয়।
আর গল্পের লেখক আনিমের এই জনপ্রিয়তা দেখে বলেছেন যে যথাসম্ভব খাটুনি দিয়ে যাচ্ছেন, আর আশা করছেন যে সামনের চার বছরের মধ্যে গল্পটি শেষ হবে। চার বছর বেশি সময় না কিন্তু; Shingeki no Kyojin প্রথম সিজন শেষ হয়ে যাবার চার বছর পর দ্বিতীয় সিজন আসতে যাচ্ছে সামনের বছর। Re:Zero-এর ক্ষেত্রেও দেখতে দেখতেই সময় চলে যাবে দ্বিতীয় সিজন আসার আগে।

> মাস্টারপিস না হলে Re:Zero কি তাহলে ভাল হবে?
– শুধু কি সেরাদের সেরা হলেই একটা জিনিস দেখার উপযুক্ত হয়? কোন সিরিজ ভাল হবার জন্যে সেটাকে তো সর্বকালের সেরা হবার দরকার নেই। সব মিলিয়ে ভাল একটা সিরিজ হলেই সেটা অনেক উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আর কোন সিরিজ যদি মেইন্সট্রিম হয়ে উঠে, নিশ্চয়ই সেটার মধ্যে এমন কিছু আছে যা “মেইন্সট্রিম” বা “বেশিরভাগ দর্শক”ই উপভোগ করতে পেরেছে, তাই না!?

অতএব সিরিজটি দেখুন। এই বছরের অন্যতম সেরা আর বিনোদনপূর্ণ সিরিজ। বছরের ১ নম্বর স্থান দখল করবে কি করবে না সেটা একেকজনের একেক মত, তবে সব কথার শেষ হল, আমরা মুভি, সিরিজ, আনিমে – এগুলি দেখি বিনোদন পাবার জন্যে। আর বিনোদনের জন্যে এই সিরিজটি অনেক ভাল একটি চয়েস হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।

Short Review- 91 Days; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

009cd1af841aa7a8a5c5938af483bf6d

ব্যস্ততার কারণে পোস্ট লেখা হয়ে ওঠে না আজকাল, তবে সিজন শেষে এই একটা অ্যানিমে নিয়ে পোস্ট দেয়া আসে।

৯১ দিন। নামটা দেখে কিছুই গেস করা যায় না। পিভি দেখেও কিছুই বুঝিনি (যদিও পিভি এবং ওপেনিং গানটাতে পুরো অ্যানিমের কাহিনীই বলে দিয়েছে ধরতে গেলে)। দেখা শুরু করার পর বুঝলাম যে এটা একটা প্রতিশোধ নেয়ার কাহিনী। পুরনো কনসেপ্ট, ছোটবেলায় এক পরিবারের একটা বাচ্চাকে বাদে বাকি সবাইকে খুন করে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা, এরপর সেই বাচ্চা বড় হয়ে প্রতিশোধ নেয়ার আশায় ঘুরতে থাকে। আসলেও তাই। কোন নতুনত্ব নেই প্লটে।

কিন্তু আপনি যদি ভেবে থাকেন টিপিকাল কোন, “ভানেত্তি!! তুই আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছিস, আমি তোকে শেষ করব!!” টাইপ কোন কাহিনী দেখবেন, এখানেই করছেন সবচেয়ে বড় ভুলটা। আমি একটা টিভি সিরিজ খুব পছন্দ করি, সিরিজের নামই “রিভেঞ্জ”। সেখানেও মেয়েটা তার বাবার সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে শত্রুদের সাথে মিশে এক হয়ে যায়। এত মানু্ষের সাথে তার চলাফেরা, কিন্তু দিনশেষে তার যে একাকীত্বটা, যে হাহাকারটা প্রতিনিয়ত তার মনে বেজে চলে, সেটা অনুভব করে প্রচণ্ড কষ্ট লেগেছিল। অনেকদিন পর সেই অনুভূতিটা আবার ফিরে পেলাম এই অ্যানিমে দেখে। হাসিমুখে নিজের পরিবারের খুনীদের সাথে কথা বলা, বন্ধুর মত আচরণ করা, এর চেয়ে বড় শাস্তি একটা মানু্ষের জীবনে আর কি হতে পারে! অ্যাঞ্জেলো লাগুসাকে প্রতিবার দেখে তাই খারাপ লেগেছে। আর, মানুষের মন তো! অভিনয় কি আসলেই অভিনয়ে আটকে থাকে? অভিনয় করতে করতে সেটা কি কিছুটা হলেও সত্যি হয়ে যায় না?

স্টুডিও শুকার অরিজিনাল অ্যানিমে এটি, স্টুডিওর অন্য সব কাজ দেখলাম ব্রেইনস বেইজের ক্যানসেল করে দেয়া ভাল ভাল টাইটেলের রিজ্যুম, যেমন নাতসুমে বা দুরারারা। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, আমার অতিরিক্ত পছন্দের দুটি অ্যানিমের সিক্যুয়াল বের করার জন্য, এবং এই অসাধারণ অরিজিনাল অ্যানিমেটি উপহার দেয়ার জন্য। সবদিক থেকে অ্যানিমেটা পারফেক্ট। কাহিনী, এক্সিকিউশন, যেখানে যে জিনিসটা যেভাবে দেয়া দরকার, ঠিক সেভাবে দিয়েছে। ডার্ক সেটিং, চমৎকার ওএসটি, পুরানো আমলের সাথে মানানসই আর্টওয়ার্ক- সবমিলিয়ে অসাধারণ। আর শেষের চার-পাঁচটা এপিসোড আমার দেখা সেরা এপিসোড গুলোর মাঝে উপরের দিকে থাকবে, এভাবে অ্যানিমে ক্যারেক্টারের প্রতি অ্যাটাচমেন্ট আমার ক্ষেত্রে অন্তত অনেক কম হয়।

যারা মাফিয়া বা ডার্ক থিমের অ্যানিমে পছন্দ করেন, তাদের তো ভাল লাগবেই, তবে আমার মনে হয় এটা সব মানুষের ভাল লাগার মত একটা অ্যানিমে। ১২ পর্বে এরচেয়ে ভালভাবে আর কিছু মনে হয় না দেখানো সম্ভব।

Great Teacher Onizuka (G.T.O) [রিভিউ] — Portgas D. Soumik

gto-1

Anime: Great Teacher Onizuka (G.T.O)
Genre: Comedy, Slice of Life
Episode: 43
MAL Rating: 8.77
Personal Rating: 9.50

আমাদের প্রায় সবারই টিচার দের নিয়ে কম বেশি অনেক স্মৃতি আছে। কিন্তু এমন টিচার কখনো দেখেছেন যে কিনা ছাত্রদের কাছ থেকে eroge magazine বাজেয়াপ্ত করে আবার ওই ছাত্রদের সাথেই তা পড়ে…..আবার যে কিনা মাঝরাতে খালি গায়ে আর হাতে হাতুড়ি নিয়ে ছাত্রীর বাসায় যায় হোম ভিজিট করতে….আবার যে কিনা তার ছাত্রদের বাচাতে একবার না দুইবারও না.. তিন বার বিল্ডিং থেকে লাফায়ে পরে!!!!

বলছিলাম Eikichi Onizuka এর কথা…. ২২ বছর বয়স,ব্যাচেলর, সাবেক মোটরবাইক গ্যাং লিডার,ভয়ংকর পার্ভার্ট এবং………..টিচার!!!!!

gto-2

হঠাৎ করেই তার ইচ্ছে জাগে টিচার হওয়ার (মূল উদ্দেশ্য ৪০ বছর বয়সে যাতে ১৬ বছর এর বউ খুজে পায় তার ব্যবস্থা করা)
একসময় সে টিচার হিসেবে নিয়োগও পায় এক স্বনামধন্য প্রাইভেট স্কুলে(যদিও তা অত্যন্ত ঘটানাবহুল ইন্টার্ভিউ এর মাধ্যমে)
স্কুলে তাকে দেয়া হয় ক্লাস 3-4 এর হোমরুম টিচার এর দায়িত্ব… এই ক্লাস 3-4 এর আবার পুরো স্কুলে সুনাম(!) আছে টিচার বিতাড়ন,bullying সহ আরো নানান কাজকর্ম এর
স্কুলের চেয়ারম্যান এর বিশ্বাস একমাত্র ওনিজুকা সেন্সেই পারবে এই problem child দের সামলাতে আর স্কুলকে শুধু পড়াশোনার পাশাপাশি মজা করার জায়গাও করে তুলতে

গ্রেট টিচার ওনিজুকা এর গল্প মূলত ওনিজুকা সেনসেই আর তার ক্লাস 3-4 এর ছাত্রদের মাঝের সম্পর্ক, তাদের নানা সমস্যা এবং ওনিজুকা সেনসেই এর উদ্ভট সব সমাধান এসব কিছু নিয়েই গড়ে উঠেছে

আবার টিচাররাও যে মানুষ তাদেরও যে ভুল হতে পারে… তারাও যে ছাত্রদের নিয়ে নানা রকমের সমস্যায় পড়েন তাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে

GTO মূলত জীবন ভিত্তিক স্লাইস অফ লাইফ এনিমে যেখানে টিচার আর ছাত্রদের মধ্যকার সম্পর্ক, শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসঙ্গতি হাসি ঠাট্টার মাঝে তুলে ধরা হয়েছে

যারা সিরিয়াস এনিমে দেখতে দেখতে ক্লান্ত এবং যারা লাইট,রিফ্রেশিং আর দম ফাটানো হাসির কিছু দেখতে চান তাদের জন্য এইটা মাষ্ট ওয়াচ

আর হ্যা এনিমেটা একটু পুরনো হওয়ায় এইটার আর্টস্টাইল আর এক্সপ্রেসন গুলো কিছুটা odd লাগতে পারে তবে আমি বলব এইটাকে এর কমেডির অংশ হিসেবে দেখতে

যারা Assassination classroom দেখেছেন তাদের অবশ্যই এই মাষ্টারপিস দেখা উচিৎ

Gintama Fanfiction: প্যারোডি — Rahat Rubayet

গিন্তোকি, কাগুরা আর শিনপাচি ৩ জনই তাদের অফিস রুমে বসে আছে! ওয়েল, তাদের অফিস রুমের বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা অন্যকোন দিনও করা যাবে। তবে, তাদের রুমের একপাশে একটি ১৭ইঞ্চি মনিটর সমেত কম্পিউটর আর তাতে ইন্টারনেট কানেকশান যে এসে পরেছে, তা জানানো প্রয়োজন। ৩ জন মিলে সেই মনিটর স্ক্রীনের দিকে ১ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নেট কানেকশন নিয়েই একটা ডোমেইন আর হোস্টিং নিয়ে একটা ফোরাম খুলে ওরা। ইতিমধ্যে বেশ ভালই সাড়া ফেলে দিয়েছে, শিনসেংগুমির প্রায় সবাইই ফোরামে জয়েন করেছে।
আজ সেই ফোরামে একজন কেউ একজন তাদের নিয়ে একটা ফিকশান পোস্ট করে বসে আছে! তাই ৩ জনে মিলে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে তা খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছে কোথাও উলটপালট কিছু লিখেছে কিনা! লিখা পড়তে পড়তেই হটাত, নতুন নোটিফিকেশন আসল, শিনসেংগুমির একজন হাতে আকা একটা ছবি পোস্ট করেছে!
লিখাটা রেখে ছবিটায় ক্লিক করল, গিন্তোকি!
ক্লিক করতেই মুখ দিয়ে অস্ফুটভাবে বেরোয়, “আরে….”
-“কি হল গিন-সান”
-“এই পুলা আবার আমাদের রাইখে ফুলমেটালের ক্যারেক্টার এর ফ্যান আরট আকসে! এত্ত কষ্ট করে, এত্ত এত্ত প্যারোডি বানায়ে এত্ত কমেডি কইরে মাই এনিমে লিস্টের ১ নম্বরে আসলাম- আর……… “

এই পর্যায়ে শিনপাচি তার চশমা ঠিক করতে করতে বলে, “গিন-সান, মাংগা আর এনিমেগুলার একটা আরেকটার প্রতি পারস্পরিক সম্মান রাখাটা উচিত, না হলে ফ্যান্ডমে খুনোখুনি বেধে যাবে! আর তাছাড়া,……… ” এইটুক বলে একটু রহস্যময় একটা লুক দেয় পাঞ্চলাইন-মাস্টার শিনপাচি।
“আর তাছাড়া,….??” অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে কাগুরা।
“তাছাড়া, মাই এনিমে লিস্টের টপ পজিশন আর আমাদের দখলে নেই। গেল হপ্তায় নূতন একটা এনিমে মুভি আমাদের কাছ থেকে এই পজিশন ছিনিয়ে নিয়েছে!”
“না, না না!!! এ হতে পারে না, চৌধুরী সাহেব! এ ঘটনা ঘটার আগে আমি কেন বেচে উঠলাম না!” বলে বিলাপ করতে থাকে কাগুরা।
“ওয়ে, কাগুরা! এইসব বাংলা সিনেমার ডায়লগ দিয়ো না! এইসব উলটাপালটা ডায়লগ শিখলেই বা কই থেকে”
“আরে, আমি কি করবো, ধুর! স্ক্রিপ্টে তো অমনই লিখে রেখেছে! সব ওই নচ্ছার লেখকের কারসাজি! সেইদিন আমার ইতাচিকুনকে পচায়ে কি প্যারোডিই না করলো এক লেখায়!”
” ওয়ে কাগুরা! শান্ত হও! আমরা এখনো তার লেখার ভিতরেই বন্দী। কাজেই ওকে নিয়া উলটাপালটা কিছু বলা ঠিক হবে না!”
এবার কথা পারলো শিনপাচি ” তাছাড়া, নারুতো এনিমেটা শেষ এর দিকে- আমার মনে হয়, আমাদের একটা ট্রিবিউট এর মতন দেয়া উচিৎ, গিনসান!”
-“হুম, বোকু নো হিরো আকাদেমিয়া থেকে এট্যু যেড কপি করলেও ফিলার দিয়ে এনিমেটা সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে”, বলে চলে গিন্তোকি সাকাতা “তাই আমাদের উচিৎ কিশিমোতো সেন্সেইর প্রতি একটা ট্রিবিউট দেয়া!”
“হুম হুম, ইতাচি আর ইতাচি শিপ্পুডেন এনিমেটা আসলেই সর্বকালের সেরা এনিমে” যেন ঘোষনা করল কাগুরা।”
“কিন্তু, গিনসান! তাহলে তো আমাদের ব্লিচ নিয়েও একটা প্যারোডি থুক্কু ট্রিবিউট দেয়া উচিৎ।”
গিন্তোকি উত্তর করে, শিনপাচির উদ্দেশ্যে, “না! কারন, এই ফিকশানের লেখক নারুতো এনিমের ফ্যান- ব্লিচের ফ্যান না! আমরা যদি ব্লিচ নিয়ে কিছু করতে যাই- নগদে খায়ে দেবে লেখক”
-“কিন্তু, গিনসান আমার তো ব্লিচের একশন বেশি ভাল্লাগে। ইভেন, আমার কাছে ব্লিচ ইজ বেটার দ্যান……………”
………………
………………
দু:খিত যান্ত্রিক গোলযোগ আর মব সাইকোর ১০ম এপিসোড দেখার জন্য ফ্যানফিকের রাশ এন্ডিং টানতে বাধ্য হলেন লেখক!

দ্রষ্টব্য : (সথাসম্ভব সংক্ষেপিত আর প্রচন্ড মাত্রায় পরিমার্জিত)

Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya) [মুভি রিভিউ] — Etminan Kabir

the-tale-of-the-princess-kaguya

Movie: Kaguya-hime no Monogatari (The Tale of the Princess Kaguya)
Duration: 2 hr 17 min
MAL Score: 8.39

নার্সারিতে পড়তে একটা বই প্রাইজ পেয়েছিলাম- ‘ফোক টেলস অফ বেঙ্গল’। বই পড়ার খুব নেশা ছিল তখন, শেষ করতে বেশিদিন লাগে নি (কোন ক্লাসে পড়েছি মনে নেই)। রাজা-রাজকন্যা, সোনার কাঠি-রুপোর কাঠি, রাক্ষস-পেত্নি…গল্প পড়ার সময় আমি সত্যি সত্যি বিভোর হয়ে যেতাম, মনে হত চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছি। সে থেকেই রুপকথার প্রতি আমার আগ্রহ; এর উপর বিদেশী অনেক গল্প পড়েছি, মুভি-এনিমেশন দেখেছি; কিন্তু আজকের অভিজ্ঞতা পুরো আলাদা।
মুভিটি নিয়ে বলতে চাইলে প্রথমেই এর এনিমেশনের কথা আসবে, আর ট্রেইলারে এই আর্ট স্টাইল দেখেই আমি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয়েছি। প্রতিটি সিন অনেকটা মোমরঙে আঁকা ছবির মতো, মনে হবে হয়তো সময় ছিল না হাতে, তাড়াহুড়ো করে শখের কোন আঁকিয়ের আঁকা। কিন্তু এর মাঝে যে কী ছিল! মুভিটি দেখার সময় বারবার আর্টের দিকে চোখ পরছিল, কাহিনীর দিকে খেয়ালই নেই। ‘রুপকথা’ থিমের সাথে মিলিয়ে এর চেয়ে মানানসই এনিমেশন বোধ হয় সম্ভব না। ছোটবেলায় দাদীর কাছে গল্প শোনার সময় মনে যেমন ছবি ভাসে, এর আর্ট ঠিক সেরকম।

গল্পের কাহিনী খুবই সুন্দর, পরিপক্ব। গরিব কাঠুরে(!), বাঁশ কেটে জীবন চালায়, বাঁশ কাটতে গিয়ে একদিন অতিপ্রাকৃতভাবে ছোট্ট এক মেয়ের দেখা পায়। দু হাতের মাঝে এঁটে যাওয়া মেয়েটিকে আশীর্বাদ ভেবে সে বাড়িতে নিয়ে আসে। বুড়োবুড়ি মিলে ঠিক করে এখন থেকে নিজের মেয়ে হিসেবে বড় করবে তাকে। এরপর থেকে তাদের জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেল, বুড়ো মাঝে মাঝেই বাঁশ কাটতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত সব জিনিশ পায়। তার ধারণা হয়- মেয়েটিকে ‘noble princess’ হিসেবে বড় করার জন্য স্বর্গ তাকে আদেশ করছে। যে মেয়েটি গ্রামের আর ১০টি ছেলেমেয়ের মতো নেচে-কুঁদে বেড়াত তার স্থান হয় শহরের এক জমিদার বাড়িতে। বুড়ো বাবা স্বপ্ন দেখে ‘noble princess’ হবার মাঝেই মেয়ে সুখ খুঁজে পাবে, আর মেয়ে খাঁচায় বন্দী পাখির মতো শুধু ছটফট করে। রাজকন্যার রুপ-গুণের ভূয়সী প্রশংসা রাজ্যসম ছড়িয়ে পড়ে, বড় বড় রাজপুত্র এসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে যায়, কিন্তু সুখ কোথায়? আর তার অস্তিত্বের রহস্যটাই বা কী!

মুভিজুড়ে রাজকন্যার বড় হওয়াটা দেখার মতো। গ্রামের ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সাথে তার উচ্ছল বিচরণ, খুনসুটি আর দলবেঁধে কোরাস গাওয়া দেখে মনে হালকা এক ধরনের পবিত্রতা এসে ভর করে। আর শহরের হাজার নিয়মের বেড়াজালে সেই স্বত্বা যখন স্তিমিত হয়ে পড়ে, তখন চাপা কষ্ট অনুভুত হয়। এর মাঝেও নিয়ম ভেঙ্গে হঠাত হঠাত তার স্বেচ্ছাচারিতা দেখলে মন ভরে যায়।

মুভির soundtrack একেবারে জুতসই। বেশিরভাগ সময়েই কোন background sound থাকে না, মাঝে মাঝে পিয়ানোর মতো কি যেন একটা বাজে, মনে খুব ধরেছে সেটা।

সব মিলিয়ে রুপকথার যথাযথ আবেশ নিয়ে একটি পুর্ণাঙ্গ রুপকথা The Tale of the Princess Kaguya। আর্ট আর মিউসিক এমনই যে আপনি হয়তো রুপকথার রাজ্যে ঘুরে আসার অনুভূতি পাবেন। at least আমি পেয়েছি। মুভিজুড়ে জাপানের অনেক ঐতিহ্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যাক্তিগতভাবে আমার কোন আগ্রহ ছিল না, কিন্তু মুভির সাথে ট্র্যাডিশনাল ব্যাপারগুলো এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে দেখতে ভালো লাগে (অবশেষে কোন এক Ghibli মুভি আমার মন কাড়ল)।

পছন্দের চরিত্রঃ Kaguya (স্বাভাবিক), Me no Warawa (বেঁটে করে ভোম্বল এক মেয়ে, যাকে দেখলেই হাসি পায়)।

BECK: Mongolian Chop Sqad [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

beck_mongolian_chop_squad

Anime: BECK: MONGOLIAN CHOP SQUAD
Genre: Music, Slice of life, Comedy-drama
Episode: 26
Year: 2004
Studio: Madhouse
¤
কুরবানির ছুটিতে কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম। একটা এনিমে দেখবো দেখবো করছিলাম। এক সিনিয়রের পরামর্শে বেক নামালাম ও দেখলাম। মিউজিক বোধহয় আসলেই জীবনের কথা বলে আর এজন্যই সব মিউজিক ভিত্তিক এনিমেগুলা ভালো হয়। BECK ও এর ব্যতিক্রম নয়। ছাব্বিশটা পর্ব আর হাতে সময় ছিল সাত দিন। কিন্তু ডেটলাইন শেষ হওয়ার দুই দিন আগেই এনিমেটা দেখে শেষ করি। ক্লাসিকাল মিউজিক নিয়ে কিছু এনিমে দেখা হলেও রক মিউজিক নিয়ে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা। শিগাতসুর পর আরেকটা এনিমে পেলাম যার মধ্যে অনেকগুলো ভালো ভালো অরিজিনাল সং আছে।
¤
কাহিনী আবর্তিত হয় তানাকা কয়ুকি নামক এক নিরীহ মিডল স্কুল বালককে ঘিরে। ক্রমাগত বুলিংয়ের শিকার হওয়া কয়ুকি যখন পৃথিবীর সব ধরণের এলিমেন্টের উপর আকর্ষন হারিয়ে ফেলছিল ঠিক তখনই ঘটনাচক্রে BECK নামক এক অদ্ভুত দর্শন কুকুরের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। কিছু অল্প বয়স্ক বালকের কবল থেকে কুকুরটাকে রক্ষা করার পর কুকুরটির মালিক রিয়ুসকে মিনামি তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানায়। পরবর্তিতে বন্ধু মারফত কয়ুকি জানতে পারে যে, রিয়ুসকে নিজেকে বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড ‘THE DYING BREED’ এর লিড গিটারিস্ট এডি লি এর বন্ধু বলে দাবি করে। রিয়ুসকে আট বছর USA এ তে কাটানোতে জাপানিজের চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি দক্ষ। তারপর কয়ুকি আবিষ্কার করে যে, রিয়ুসকে আসলেই একজন প্রতিভাবান গিটারিস্ট এবং তাকে নেকস্ট জিমি পেইজ নামে ডাকা হয়। রিয়ুসকে ‘SERIAL MAMA’ নামক একটা ব্যান্ডের সদস্য যারা কিনা বিভিন্ন কনসার্ট হলে লাইভ পারফরম্যান্স করে থাকে।কিন্তু ব্যান্ডের আরেক সদস্য এইজির সাথে রিয়ুসকের দ্বন্দ্ব বাঁধে এবং এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সিরিয়াল মামা ব্যান্ডটি ভেঙ্গে যায়। রিয়ুসকে ও এইজি উভয়েই একটি আল্টিমেট ব্যান্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নেয় এবং সেই লক্ষ্যে নতুন মেম্বার খোঁজা শুরু করে। রিয়ুসকে তায়রা কুন নামের এক প্রতিভাবান বেসিস্টকে বেস গিটারিস্ট হিসেবে পাশে পায়। নিমরাজি হওয়ার পরও চিবা কুনকে সে দলে নেয় ভোকাল হিসেবে যে কিনা কারাতেতেও পারদর্শী। আর কোগা সান নামক একজনকে ড্রামার হিসেবে ব্যান্ডে নেওয়া হয়। ব্যান্ডের নাম দেওয়া হয় রিয়ুসকের অদ্ভুতদর্শন কুকুর BECK এর নামে। এই ফাঁকে রিয়ুসকের সাথে কয়ুকির ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে ও এরই প্রভাবে সারাজীবন আইডল মার্কা গান শোনা কয়ুকি রক মিউজিকের দিকে ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। সে BECK এর বিভিন্ন লাইভ শো তে উপস্থিত থাকা শুরু করে। এরকম এক শো তেই রিয়ুসকে তার চতুর্দশী কিশোরি বোন মাহো মিনামির সাথে কয়ুকির পরিচয় করিয়ে দেয়। সমবয়সী হওয়ায় মাহো আর কয়ুকির মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। পশ্চিমা সংষ্কৃতির স্পর্শে বেড়ে উঠা মাহোর সাহসী চলাফেরা কয়ুকির মনে ভালোবাসার অনুভূতির সঞ্চার করে। মাহো নিজেও খুব ভালো গায়কির অধিকারী কিন্তু তারপরও সে মিউজিকে ক্যারিয়ার গড়তে চায় না। একদিন রিয়ুসকের আস্তানা হতে ফেরার সময় সুইমিং পুলের পানিতে চাঁদের পূর্ণ প্রতিবিম্ব দেখে অদ্ভুত সুরেলা কণ্ঠে মাহো ‘THE DYING BREED’ এর ‘MOON ON THE WATER’ গাওয়া শুরু করে। সঙ্গে থাকা কয়ুকিও তখন আবেগবশত গানটির প্রথম চার লাইন গেয়ে উঠে। তখনই মাহো কয়ুকির প্রতিভা অনুধাবণ করতে পারে এবং কয়ুকিকে BECK এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রিয়ুসকেকে অনুরোধ করে। ইতোমধ্যে কয়ুকি সাইটো সান নামক এক সাবেক সাঁতারু ও সঙ্গীতপ্রেমীর কাছে গিটারের তালিম নেওয়া শুরু করে। পরবর্তিতে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে কয়ুকি BECK এর সদস্যপদ পায়। সাথে সঙ্গী হিসেবে পায় ট্রান্সফার হওয়া স্কুল ফ্রেন্ড সাকুরাই ওরফে সাক্কুকে যাকে কিনা কোগা সানের বদলে ড্রামার হিসেবে দলে নেওয়া হয়। শুরু হয় একদল নবীন অভিযাত্রী কাঁটাভরা পথে দুর্গম যাত্রা…
¤
বেক নিয়ে কথা বলতে গেলে এর গ্রাফিক্স নিয়ে কিছু কথা বলতেই হবে। এনিমেটা যে ম্যাডহাউজের তা একটুও আন্দাজ করতে পারি নি। এনিমেশন খুবই পুরনো ধাঁচের তবে তাতে পশ্চিমা সংষ্কৃতির ধাঁচটা ভালোভাবেই উঠে এসেছে। আর ক্যারেকটার ডিজাইন খুবই সাদামাটা। এতই সাদামাটা যে কোন চরিত্রকে অনিন্দ্যসুন্দর করে উপস্থাপন করার চেষ্টাই করা হয় নি (মানে এক দৃষ্টিতে ক্রাশ খাওয়ার মত করে কাউকে ডিজাইন করা হয় নি)। তবে গিটারগুলোর ডিজাইনে অসাধারণ কম্পিউটার গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে। গিটারগুলোকে অনেকটা বাস্তবই মনে হয়েছে বটে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Lucille আর White Falcon এর ডিজাইন দুটো।
¤
বেক এনিমেটার মূল আকর্ষনই হল মিউজিক যেখানে অরিজিনাল সংগুলাই মূখ্য, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকই বরং গৌণ। অসাধারণ একগাদা অরিজিনাল সং ব্যবহৃত হয়েছে এনিমেটাতে। বেক মূলত হিপহপ ও ওল্ড ব্লুজ রক ঘরানার গান পরিবেশন করে থাকে। এর মধ্যে চিবা কুনের গাওয়া ‘BRAINSTORM’ ও ‘SPICE OF LIFE’ গান দুটো উপভোগ্য। তবে মূল আকর্ষন হল কয়ুকির গাওয়া ব্লুজ রক গানগুলো। তার গাওয়া ‘FACE’, ‘MOON ON THE WATER’, ‘SLIP OUT’ গানগুলো আন্তর্জাতিক মানের বলে মনে করি। আর সাথে আছে একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে গাওয়া দ্য বিটলসের ‘I’ve got a feeling’ অসাধারণ গিটারওয়ার্কও এনিমেটার অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।আর BEAT CRUSEDARS এর গাওয়া ওপেনিং ‘HIT IN THE USA’ গানটা একেবারেও স্কিপ করতে পারবেন না। প্রথম এন্ডিং ‘MY WORLD DOWN’ গানটাও ভালো মানের।
¤
সর্বোপরি এনিমেটাকে আমি মাস্টারপিসের ক্যাটাগরিতে রাখতে চাইবো। কারণ এরকম একটা অপরিচিত সংষ্কৃতিকে কেন্দ্র করে শক্ত কাহিনীর গাঁথুনি দিয়ে এনিমেটাকে অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে এবং কাজটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাসপেন্স, থ্রিল, হালকা মিস্ট্রি, রোমান্স, ম্যাচিউরড কনটেন্ট, ব্যাকস্টেজ পলিটিকস সবকিছুই অত্যন্ত পরিমাণমত দেখানো হয়েছে। এনিমেটা সাবে দেখলেও এত বেশি ইংরেজি সংলাপ আছে যে মাঝে মাঝে মনে হত ইংলিশ ডাব দেখছি। আর মাহো আর কয়ুকির রিলেশন দেখে একটা জিনিসই শিখেছি আর তা হল, “বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে নেই।” আর মাহোর প্রতি রিয়ুসকের দায়িত্বপরায়ণতা দেখে আমি পুরা তব্দা খাইছি।

Basilisk [রিভিউ] — Roronoa Sazzed

basilisk

৪০০ বছর ধরে দুই রাইভ্যাল ক্ল্যান “ইগা” ও “কোউগা” এর দুই মেম্বার এর মধ্যে নিনজা ডুয়েলটি দিয়ে এনিমে শুরু হয়।সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক মনোভাব একে অপরের মধ্যে শতাব্দী ধরে বহন করে আসছে।অনেক বছর আগে “হাতোরি হানজো” নামের এক শোগান এর মাধ্যমে তাদের যুদ্দের অবসান হয় দুই ক্ল্যান হাতোরি এর সার্ভিসে থাকার মাধ্যমে।কিন্তু অবশেষে হাতোরি রিটায়ার্ড হবার হবার সময় তার নাতিদের মধ্যে একজনকে তার সরকারের সাকসেসর নির্বাচনের সময় জটিলতা দেখা দেয় যা বাড়ার আগেই দুই ক্ল্যান এর শান্তি চুক্তি বাতিল করে দেয় এবং আদেশ দেয় দুই ক্ল্যান থেকে সবচেয়ে ভালো দশ জন করে নিনজা কে প্রস্তুত হতে যারা একেক নাতিকে রিপ্রেজেন্ট করবে।রক্তারক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে এক ক্ল্যান অন্য ক্ল্যান এর দশ জনকে শেষ করতে হবে।১০ জনের নামের তালিকা দিয়ে দেয়া হবে এবং এর মধ্যে যেই ক্ল্যান মেম্বার এই তালিকা নিয়ে বেঁচে থাকবে শেষ পর্যন্ত অই রিপ্রেসেন্টেটিভ ই ক্ষমতায় আসবে এবং জয়ী ক্ল্যান কে পরবর্তী ১০০০ বছরের জন্য সাপোর্ট দিবে।
এই ব্যাপারটা বুঝে উঠতে আমার মতো এয়ার হেডের একটু বেশি টাইম লেগে গিয়েছিলো।ব্যাপারটা অনেকটা ফাউল মনে হয়েছিলো এবং এখনো হচ্ছে কিন্তু
রক্তারক্তি হাড্ডা হাড্ডি,অসাধারন সব মারামারি দিয়ে ভরা ও আমরা নিনজা বলতে যা বুঝি তার থেকেও অনেক ব্যাতিক্রমি ভাবে তাদেরকে ফুটিয়ে তোলা আবার এর মধ্যে প্রেম ভালোবাসা নিবন্ধিত করে তোলা এক অসাধারন ভাবে সাজানো এক এনিমে এটি।আর সে কি ভয়েস এক্টিং,অসাধারন।আমি প্রথমে অল্প একটু ডাব দেখলেও মিউজিকের জ্বালা যন্ত্রণায় সাব দেখা স্টার্ট করসি।আর সিরিজ শেষে মনে হচ্ছে সাবটাই বেশি ভালো হয়েছে।
Specially যখন Oboro বলে “Gennosuke-Sama”.
যদিও প্রথমেই বুঝে গিয়েছিলাম কি হবে লাস্ট এ এরপর ও ভাবতে পারিনি এতো ভালো লাগবে ও এতো অসাধারন লাগবে আমার কাছে এনিমেটি। গ্রুপ এ এক ভাইয়ার কমেন্ট দেখে এনিমেটি নামিয়ে ছিলাম।কিচ্ছু বলবোনা আর, খালি বলবো This anime is Worth it,so if you can then watch it.
একটা কথা না বললেই নয় শিকি দেখার সময় “একটা” ফিলিংস কাজ করসিলো।এমন একটা,যা সাধারণত কাজ করেনা ঠিক সেই ফিলিংস এই সিরিজ দেখার সময় ও কাজ করছিলো।যদিও শুরুতে আমি আন্ডারডগ এর সাপোর্টার ছিলাম।

Aoi Bungaku Series [রিভিউ] — Barkat Hridoy

শুরু করি কবির ভাষায়,
কবি বলেছেন :
“যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখো তাই,
পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন”

এনিমের এই বিশাল দুনিয়াকে একটা ছাইয়ের গাদার সাথে তুলনা করা যেতেই পারে। এনিমের এই গাদায় ছাই (পড়ুন আজেবাজে এনিমে) অনেক থাকলেও ‘রত্ন’ খুব কমই আছে যা আমাদের বেশিরভাগরই দৃষ্টিগোচর থাকে। ঠিক তেমনই একটি রত্ন ‘আওই বুঙ্গাকু’।

aoi-bungaku-series-1

এনিমে: আওই বুঙ্গাকু সিরিজ (Aoi Bungaku Series)
জনরা: ড্রামা, সাইকোলজিকাল, সেইনেন, হিস্টোরিকাল, থ্রিলার
পর্ব: ১২
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

Synopsis: জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ছয়টি উপন্যাস/গল্পের অ্যাডাপ্টেশন নিয়ে তৈরি এই এনিমে সিরিজ। গল্পগুলো হলো: ওসামু দাজাইয়ের ‘নো লংগার হিউম্যান’ ও ‘রান!মেলস’, আঙ্গো সাকাগুচির ‘আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম’, নাতসুমে সোসেকির ‘কোকোরো’ এবং আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের ‘ দ্য স্পাইডারস থ্রেড’ ও ‘হেল স্ক্রিন’।প্রতিটি গল্প ভিন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন দিক তুলে ধরে।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
সাইকোলজিকাল এনিমে মানেই যে ‘মাথার তিন হাত উপর দিয়ে যাওয়া ‘ স্টোরি বা ভুরি ভুরি গোর সিন ওয়ালা সিরিয়ালকিলিং সাইকোপ্যাথদের কাহিনী না, তার উৎকৃষ্ট উদাহরন হলো ‘আওই বুঙ্গাকু’। এ সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পর্যায় আর এ পর্যায়কালীন সময়ে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো।এর স্টোরিগুলো এতটাই ক্যাচি আর থ্রিলিং যে দেখতে দেখতে কখন যে সিরিজের চরিত্রগুলোর সাথে এক হয়ে যাবেন আর তাদের সুখ-দুঃখ,কষ্ট,বেদনা আপনার সুখ- দুঃখ হয়ে গেছে বুঝতেও পারবেন না।

aoi-bungaku-series-2

প্রতিটি স্টোরি একে অপর থেকে আলাদা। তাই প্রতিটি স্টোরির আলাদা আলাদা ইনসাইট/রিভিউ তুলে ধরলাম:

নো লংগার হিউম্যান:
সিরিজের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় গল্প। লেখক ওসামু দাজাইয়ের অনবদ্য এই সৃষ্টি অনেকটা অটোবায়োগ্রাফি ই বলা যেতে পারে কেননা লেখক প্রায় নিজের জীবনের কথায় কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। চার এপিসোডের এ গল্পে দেখানো হয়েছে ধনী,হতাশাগ্রস্থ ও প্রত্যাশার ভারে পিষ্ট এক তরুনের সমাজে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা।কোনো মানুষের জীবন যে এতটা দুঃখজনক আর ডিপ্রেসিং হতে পারে তা নো লংগার হিউম্যান না দেখলে জানা সম্ভব না। চিরকাল মনে দাগ কাটার মত ক্ষমতা রাখা এ গল্পটি কেন জাপানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিক্রিত ও সর্বাধিক পঠিত গল্প/উপন্যাস তা দেখলেই জানতে পারবেন।

আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম:
সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড স্টোরি আর বড় ফ্ল বলা যায়। ফ্ল বলার কারণ হলো এর খারাপ অ্যাডাপ্টেশন। কারন বইয়ে যেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একধরনের ইন্টেসিটি ছিল এনিমেতে তা অনুপস্থিত।সেই সাথে প্রেজেন্টেশনও হতাশাজনক ছিল।

কোকোরো:
নাতসুমে সোসেকির অসাধারন সৃষ্টি এবং জাপানের সর্বোচ্চ বিক্রিত উপন্যাস। দুই এপিসোডের এ গল্পতে একটি ত্রিভুজ প্রেম দেখানো হয়েছে।কিন্তু নতুনত্ব হলো, এখানে দুই ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে আলাদা আলাদাভাবে গল্পটিকে দেখানো হয়েছে। আমাদের মধ্যে একজনের দৃষ্টিকোণ অন্যজন থেকে কতটা ভিন্ন হতে পারে তাই তুলে ধরা হয়েছে।আর নামের সার্থকতা রক্ষার স্বার্থেই কিনা এটি আপনার ‘কোকোরো’ নিয়ে খেলবে এবং তা চুরমার করবে। কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও এটি সিরিজের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গল্প।

রান!মেলস:
সিরিজেরএকমাত্র প্যাঁচগোছহীন গল্প। Damon and Pythias নামক এক গ্রিক লেজেন্ড দিয়ে তৈরি নাটিকার সাথে তুলনা করে দুই বন্ধুর বন্ধুত্বের গল্প বলা হয়েছে। হার্টওয়ার্মিং একটা গল্প।

দ্য স্পাইডারস থ্রেড:
‘ডুবন্ত মানুষ খড়কুঁটো ধরেও বেঁচে থাকতে চায়’ কথাটির জাপানিজ সংস্করণ হলো দ্য স্পাইডারস থ্রেড। পার্থক্য শুধু খড়কুটোর বদলে এখানে মাকড়শার সুতাকে দেখানো হয়েছে।একজন মৃত্যুভয়হীন গুপ্তঘাতক যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছায় তখন তার মধ্যে জেগে উঠা বেঁচে থাকার অদম্য চেষ্টাকে এ গল্পে তুলে ধরা হয়েছে। আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের লেখা এ ছোট গল্পটি মূলত বাচ্চাদের জন্য লেখা হলেও এনিমেতে ম্যাচিউর দর্শকদের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে। এর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ভালো ছিল।

হেল স্ক্রিন :
আকুতাগাওয়া রিওন্নোসুকের এ ছোটগল্পকে দুটি শব্দে প্রকাশ করা যায় এবং সেটি হলো ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’। এতে দেখানো হয়েছে এক সৎ চিত্রশিল্পী ও তার মেয়ের কথা এবং তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প। এটির গল্প যেমন আপনার রক্ত হিম করে দিবে ঠিক তেমনি এর সৌন্দর্যে আপনি অস্ফুটে বলে উঠবেন ‘অসাধারন!’। অসাধারন একটি অ্যাডাপ্টেশন। আমার পার্সোনাল ফেভারিট।

আরেকটা কথা না বললেই নয়, প্রতি গল্পের শুরুতে সে গল্পের লেখক সম্পর্কিত টীকাগুলো অসাধারন ছিল।

aoi-bungaku-series-3

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
প্রথমে আসি অ্যানিমেশনে,আমার দেখা স্টুডিও ম্যাডহাউসের কাজগুলোর মধ্যে বেস্ট। গল্পের ভাব বুঝে কালার আর অ্যানিমেশনের এত সুন্দর প্রেজেন্টেশন আর কোনো এনিমেতে দেখিনি। মন খারাপ করা পরিবেশ থেকে রঙে পরিপূর্ণ পরিবেশের পরিবর্তনগুলো(আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম বাদে) অসাধারন লেগেছে।

আর্ট অসাধারন। বিখ্যাত মাঙ্গাকারা আর্ট করেছেন তাই অসাধারন হওয়াটাই স্বাভাবিক।এনিমের পোস্টারে বসে থাকা ক্যারেক্টারকে দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, “আরে! ইয়াগামি লাইট না!!” এর কারন হলো এ এনিমের পোস্টার এবং দুটি গল্প নো লংগার হিউম্যান আর কোকোরো এর জন্য আর্ট করেছেন মাঙ্গাকা ‘তাকেশি ওবাতা'(ডেথনোট,বাকুমা­ন,প্লাটিনা এন্ড)।এছাড়া আন্ডার চেরিস ইন ফুল ব্লুম, দ্য স্পাইডারস থ্রেড, হেল স্ক্রিনের আর্ট করেছেন ‘টিটে কুবো'( ব্লিচ)। রান মেলসের জন্য আর্ট করেছেন ‘তাকেশি কোনোমি'( প্রিন্স অফ টেনিস)।

aoi-bungaku-series-4

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমের দূর্বল জায়গা বলা যায়। সিরিজে কোনো ওপেনিং সং ছিল না আর এন্ডিংটা আমার শোনা সবচেয়ে বাজে এন্ডিং সংয়ের মধ্যে একটা। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মোটামুটি ভালো ছিল।

এন্জয়মেন্ট:
একটি এনিমের এন্জয়মেন্ট বড় একটি বিষয় কেননা দিনশেষে এনিমেটি এন্জয় করেছি কিনা সেটাই মূখ্য। এক্ষেত্রে আওই বুঙ্গাকুর এন্জয়মেন্টকে অনেকটা মরুভূমি ভ্রমনের সাথে তুলনা করা যায়। মরূভুমির মতো এনিমেটিরও পুরো পথ পাড়ি দিতে অনেক কষ্ট হতে পারে, এ পথ হয়ত মাঝেপথেই শেষ করতে চাইবেন।কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি পথটি শেষ করতে পারেন তবে এটি হতে পারে আপনার সেরা ভ্রমনের একটি। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন জাপানী সাহিত্যেকে অসাধারনভাবে ফুঁটিয়ে তোলা মারাত্মকরকমের সুন্দর এবং দূর্দান্ত এই এনিমেটি।

My Animelist Rating: 7.92
Personal Rating: 9

aoi-bungaku-series-5

Freedom [রিভিউ] — Tahsin Faruque Aninda

Freedom 0

Freedom
Type: OVA
Episode: 7 + 1 Prologue
Genre: Action, Adventure, Sci-Fi, Space

পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক সময় + স্পেস ট্রাভেল + Akira, এই ধরণের একটা আনিমের কম্বিনেশন খুঁজছেন? অপেক্ষা না করে দেখে ফেলুন “ফ্রিডম” নামের ৭ পর্বের এই ওভিএ। আকিরার মাঙ্গাকা/ডিরেক্টর Katsuhiro Otomo-এর আরেক কাজ এটি, তবে এখানে তাঁর ভূমিকা শুধুমাত্র Storyboard, Mechanical Design আর Character Design-এই সীমাবদ্ধ। তবে এর কারণেই আনিমেটিতে আকিরার ছাপ পাওয়া যায়।

Freedom 2

মানুষ চাঁদে মানব-কলোনি তৈরির পরে কোন এক সময়ে এক দুর্ঘটনার কারণে একটি স্পেস স্টেশন পৃথিবীতে পতিত হয়, আর পৃথিবীতে মানবসভ্যতা ধ্বংসকারী এক বিপর্যয় ঘটে। চাঁদে থেকে যাওয়ারা তৈরি করে ‘ইডেন’ নামের এক মেগালোপোলিস।
এখানেই আমাদের গল্পের নায়ক তাকেরুকে দেখা যায় অন্যান্য স্ট্রিট গ্যাং-এর সদস্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে হোভারক্রাফট রেস চালাতে। একদিন ঘটনাক্রমে ‘ইডেন’-এর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে সে, আর সেখান থেকে গল্প ভিন্ন এক মোড় নিয়ে ফেলে।

Freedom 3

আকিরার সাথে ক্যারেক্টার ডিজাইনই শুধু নয়, বরং বাইক রেসের সাথে এখানে হোভারক্র্যাফট রেস, স্ট্রিট গ্যাং – ইত্যাদি কিছু কিছু ব্যাপারও আকিরার মত লাগে। তবে গল্পের ধরণটা একদমই অন্যরকম হবার কারণে সেই ব্যাপারগুলি উপভোগ্যই হয়ে উঠে।

3D আর 2D-এর অদ্ভুত সুন্দর মিশ্রণ আর ব্যবহার অ্যানিমেশনকে চমৎকার করে তুলেছে। ক্যারেক্টারগুলি সব CGI-এর, তবে CGI-এর ভাল ব্যবহার হয়েছে এই আনিমেতে, যার কারণে দেখতেও আরাম লেগেছে। অন্যদিকে ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট মুগ্ধ করার মত।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই খুবই সুন্দর, আর ওপেনিং ও এন্ডিং গান দুইটা আমার অনেক পছন্দের।

ক্যারেক্টার তৈরি অনেক ভালমত হয়েছে এই আনিমেতে। ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট সময় নিয়ে হয়েছে বলে খুব ভালমত ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে সবাইকে।

Freedom 5

গল্পটি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার হলেও স্লাইস অভ লাইফ উপাদানও আছে অনেক, আর Space সম্পর্কিত আনিমেতে যেটা আসলে অনেক বেশি দরকার বলে মনে হয়। ধীরস্থির মুহুর্তগুলা মনে শান্তি দেবার মত, আবার অ্যাকশনের মুহুর্তগুলি অস্থিরতা উপহার দিতে পারে।

সব মিলিয়ে বলবো, ৭টি মাত্র পর্বের এই ওভিএ সিরিজ দেখার জন্যে অবশ্যই সময় বের করে নিবেন। এরকম হিডেন জেম দেখার জন্যে সময় না থাকলেও সময় বের করে নেওয়া উচিৎ।

Freedom 4