Koutetsujou no Kabaneri [রিঅ্যাকশন পোস্ট] — Tahsin Faruque Aninda

toty 1

Koutetsujou no Kabaneri (Kabaneri of the Iron Fortress)
Genres: Action, Drama, Fantasy, Horror
Episodes: 12
Source: Original
Studios: Wit Studio

“SnK Clone” নামে পরিচিত এই সিরিজ গত সিজনের শুরুর দিকে বেশ ভাল হাইপ তৈরি করেছিল। এরপর শেষের দিকে এসে কেমন যেন এর আর খোঁজ পাওয়া গেল না তেমন। সব হাইপ পরে গিয়ে শুরু হয়েছে একের পর এক সমালোচনা। অবশ্য ফ্যানবেজও ভালই তৈরি হয়েছে এটার। After all, যেই উপকরণ নিয়ে SnK তৈরি হয়েছিল সেই একই উপকরণ নিয়ে Kabaneri তৈরি হল। প্রশ্ন থাকে, কেমন সফল/ব্যর্থ এই সিরিজ?

প্রোডাকশন টিমে যেমন একগাদা পরিচিত নাম [ডিরেক্টর তেতসুরৌ আরাকি, প্রোডিউসার জর্জ ওয়াদা, মিউজিক কম্পোজার হিরোয়ুকি সাওয়ানো, অ্যানিমেশন স্টুডিও হিসাবে উইট স্টুডিও ইত্যাদি], তেমনই ভাবে গল্পের সাধারণ থিমটাও প্রায় একই রকমের। মানবজাতি হুমকির মুখে, মানবখেকোদের হাত থেকে রক্ষার জন্যে বিশাল দেওয়াল-ঘেরা জায়গার মধ্যে বসবাস করছে তারা, এরই মাঝে গল্পের প্রথম পর্বেই তাদের শহরে মানবখেকোদের আক্রমণ, মৃত্যু হয় শত শত মানুষের। মানবখেকোদের হাতে পরিবার হারানো রক্তগরম নায়ক তাদের নির্মূল করার শপথ নেয়, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নিজেই হয়ে উঠে মানুষ আর মানবখেকোদের হাইব্রিড, অতএব প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে উঠে। সাথে থাকে ওভারপাওয়ার্ড নায়িকা, যে একাই সব শত্রুদের কাত করে দিতে পারে। ও হ্যাঁ, পুরা গল্পটা হয় এক স্টিম্পাঙ্ক সেটিং-এ।

এত কিছু একই রকম মনে হলেও শেষ পর্যন্ত গল্পটা SnK থেকে অনেক আলাদা হয়ে যায়, বিশেষ করে প্রথম কয়েক পর্ব পরেই গল্পের ধরণ অন্যরকম হয়ে যায়। সমস্যা হল, SnK এর ছায়া থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করতে না করতেই বাগিয়ে নেয় এই ধরণের গল্পের হাজারখানেক ক্লিশে!

আনিমেটার কিছু ভাল দিক উল্লেখ করছি এখানে:

+ ফাইট কোরিওগ্রাফি
তেতসুরৌ আরাকির সিরিজের ফাইট কোরিওগ্রাফিগুলি অসম্ভব সুন্দর হয় দেখতে। প্রত্যেকটা মারামারির দৃশ্য উপভোগ…

+ মিউজিক
হিরোইউকি সাওয়ানোর মিউজিক, নতুন করে এখানে বলার কিছু নাই। প্রত্যেকটা ফাইটিং মুহুর্তকে ইমোশনাল বানানো তার পক্ষে আসলেই সহজ কাজ।

+ ভিজুয়াল
উইট স্টুডিওর একের পর এক সফল সিরিজ তৈরির কারণে তাদের বাজেট এখন বেশ ভালই হয়। তাই CG ট্রেন সিরিজের একটা বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালেও সেটা আলাদাভাবে চোখে পরে না। ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট আর অ্যানিমেশন চমৎকার মানের।

+ নায়কের পাওয়ারাপ / পরের লেভেলে যাওয়া
ক্লিশে ব্যাপার, এরকম একটা কিছু এই ধরণের গল্পে হয় এটা জানা থাকার পরেও আগ্রহ থাকে দেখার জন্যে। আর সেই মুহুর্তটা খুবই ভাল লেগেছে আসল…

এবার থাকছে সিরিজটা নিয়ে অপছন্দের ব্যাপারগুলি:

— নির্বোধ জনগণ, নির্বোধ সব ডিসিশন
ব্যাপারটা দেখে এমন মনে হয়েছে যে, শুধু গল্পে অতিনাটকীয়তা আনতে কিংবা SnK ভাব ধরে রেখে massacre দেখানো দরকার বলেই যেন জনগণের নির্বোধ সব ডিসিশন নিয়ে যাওয়া একের পর এক। সিরিজে যত মানুষ মরতে দেখিয়েছে, তার ৮০% হয়েছে সেই জগতের মানুষের IQ লেভেল ৫০-এর নিচে থাকার কারণে।

— ইমোশনাল ব্যাপার আনার ক্লিশে চেষ্টা, এবং একটুও মন খারাপ করতে না পারা
Shingeki no Kyojin-এর একটা বড় দিক ছিল সেখানে চেনা জানা বা অজ্ঞাত সব চরিত্রের মৃত্যুও মন খারাপ করে দিয়ে যেত। এর কারণ ছিল ভাল ক্যারেক্টার বিল্ডাপ, যা এমনকি দুই তিন দৃশ্যে উপস্থিত থাকার পরেও তাদের মৃত্যু কষ্ট দিয়ে যেত। এখানে একইরকমের কাজ করার চেষ্টা হয়েছে, এবং বেশ বাজেভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

— মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলার মত থ্রেট, যেটা আসলে তেমন কোন থ্রেটই হয় নাই
SnKএর একটা বড় ব্যাপার ছিল যে টাইটানরা আসলেই ভীতিকর ছিল এই অর্থে যে, সেনাবাহিনীর অনেকদিনের ট্রেইন্ড কোন সেনাও যেকোন সময়ে টাইটানদের হাতে মারা পরতে পারে। ঐ দুনিয়ায় টাইটানদের সাথে বেঁচে থাকতে হলে হয় খুব বেশি ভাল ভাগ্য থাকা দরকার, নাইলে নামের শেষে Ackerman থাকতে হবে। আর এই Kabane-এর দুনিয়াতে একমাত্র স্বাভাবিক জনগণ বাদে সবাই একেকজন ২০-৩০টা করে কাবানে মেরে ফেলা কোন ব্যাপারই না। ট্রেইন্ড সোলজার হলে তো কথাই নাই! একমাত্র বেকুব হবার কারণেই মানবজাতি এই দুনিয়ায় ধ্বংসের মুখে।

— মেইন ভিলেইন
এরকম uninspiring ভিলেইন অনেক বছর দেখি নাই।

— Asspull
এগুলার কথা আর ডিটেইলসে বলতে ইচ্ছা করছে না। ভাল লাগে নাই সেই অংশগুলি।

— গল্পের প্রয়োজন, তাই সবাই বেকুব
আবারও এই টপিক আনলাম। কেন? — প্রথম পর্বের শুরুর আর শেষের দিকের দুইটা দৃশ্য [নিচের ছবি লক্ষ্য করুন] খেয়াল করলেই বুঝবেন কেন বলছি।

Toty
যদি বুঝে উঠতে না পারেন, তাহলে বলে রাখি:
সকালে যেই সময়ে দৃষ্টিসীমায় সমস্যা হয় না, তখন বাইরে থেকে আসা ট্রেইন ঢুকবার আগে ট্রেইন থামিয়ে দেওয়া হয়, সিকিউরিটির জন্যে চেক করা হয় কেউ ইনফেক্টেড কিনা। আর পর্বের শেষের দিকে এসে রাত্রবেলায় কী হল? — সবাইকে মারা দরকার, তাই ট্রেইন দেখেই আগে থেকে ব্রিজ নামিয়ে দেওয়া হয়। কই গেল সেই চেকিং? কই গেল সিকিউরিটির কারণে ট্রেইন থামিয়ে তল্লাশি করা??
এটা হল খুবই লো-কোয়ালিটির গল্প লিখন।

Bittersweet এন্ডিং এই ভীতিকর দুনিয়ার গল্পে স্বস্তির ইতি টেনেছে বলে কিছুটা ভাল লেগেছে। কিন্তু সব মিলিয়ে গল্পের কিছুদূর যাবার পরেই যে আগ্রহের পারদ নিচের দিকে নামতে শুরু করে, সেটা আর উপরে তুলে আনতে পারে নাই।

তবে এটা যে কাউকে দেখতে বারণ করছি তা না। Honestly speaking, SnK ripoff কিনা তাতে যায় আসে না আমার, জিনিস ভাল হলে সবই ভাল। সমস্যা হচ্ছে, জিনিসটা তেমন ভাল হয় নাই। TOTY না হলেও, AOTY হবার প্রশ্নই উঠে না।

তবে পুরাটাই আমার নিজস্ব মতামত। অনেকের কাছে এটা হয়তো এই বছরের সেরা আনিমে। তাই নিজে দেখুন কিছুদূর, ভাল লাগলে কন্টিনিউ করতে থাকেন।

Sket Dance – মাস্ট ওয়াচ এনিম রিভিউ – মোঃ আসিফুল হক

SKET Dance.

নাম থেকেই আসলে সিরিজের মেইন স্টোরির একটা আইডিয়া করে নেওয়া যায়। SKET এর পুরো রুপ হচ্ছে – Support, Kindness, Encouragement, Troubleshoot. হাইস্কুলের ক্লাব স্কেট ডান্সের গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য ছিল স্টুডেন্টদের ছোট বড় নানা সমস্যায় সাহায্য করা। যদিও বেশিরভাগ সময়েই তারা ক্লাব রুমে বসে ঝিমায় এবং গল্প করে; যে কোন সমস্যা তাদের কাছে এলে সেটা সমাধানে তারা তাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে। সিরিজের মুল চরিত্র তিনটা – বসসুন, হিমেকো আর সুইচ।

প্রথমেই ছোট একটা জিনিস ক্লিয়ার করে নেয়া যাক। এই সিরিজটাকে অনেকেই গিন্তামার রিপ-অফ বলে দাবি করেন। যদিও সিরিজের মাঙ্গাকা এককালে গিন্তামার মাঙ্গাকার এসিস্ট্যান্ট ছিলেন এবং সেখান থেকে কিছুটা ইনফ্লুয়েন্সড হওয়াটাই স্বাভাবিক (এর ওর পোস্ট মারফত জানসি 😀 ) এবং সিরিজের সেটিং এও হয়ত কিছু মিল আছে; কিন্তু সেটা ও পর্যন্তই। দু’টো জিনিসের স্টাইল, টোন, টার্গেটে অনেক ভিন্নতা। গিন্তামা যেমন সবকিছুকে এক্সট্রীমে নিয়ে গিয়েছে; হোক সেটা কমেডি বা সিরিয়াসনেস; স্কেট ডান্স চেষ্টা করেছে পুরো সিরিজজুড়েই হাল্কা একটা ভাব ধরে রাখতে; যে কারণে কিছু ব্যাকস্টোরি ছাড়া পুরো সিরিজে তেমন সিরিয়াস কোন আর্ক বা স্টোরি নেই আসলে; এবং এই জায়গাটাই আমার কাছে মনে হয়েছে এই সিরিজের স্ট্রেংথ।

সিরিজের কোর স্টোরিলাইন খুব সিম্পল এবং এপিসোডিক। কিছু মাল্টিএপিসোড স্টোরি আছে; তবে সেগুলোর লেংথও খুব বেশি না। কমেডির পাশাপাশি ড্রামা এবং অন্যান্য এলিমেন্টগুলোও যত্ন নিয়েই ইঙ্কলুড করা হয়েছে।

সিরিজের প্রথম হাফে এপিসোডগুলো ছিল একদমই “ষ্টুপিড”; মানে যার যা খুশি করতেসে; আউটরেজিয়াস জিনিস আসতেসে একের পর এক (লাভ-লাভেন-লাভ জেনারেশন- মাই জেনারেশন – জেনারেশন গ্যাপ – জেনারেল জেনারেটর জেনারেশন- জেনেভা – এই সিকুয়েন্স আমি বহু দিন ভুলবো না; পৈশাচিক একটা এপি ছিল); ওইটাই বেশি ভাল ছিল। শেষঅর্ধে এরা ক্যারেক্টারগুলার মধ্যে কিছু রিলেশনশীপ ক্রিয়েট করতে গিয়েছে; এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেইটা অনেকটা ফোর্সড ছিল (পারসোনালিটি চেইঞ্জের এপিটা – রেয়ার এপিগুলার একটা যেইটা বিরক্ত লাগসে রীতিমতন :/ ); তবে সিরিজের খাতিরে সেটারও দরকার ছিল হয়তবা।

পুরো সিরিজে লক্ষ কোটি ক্যারেক্টার আসছে; থেকেও গেসে; আবার কিছু কিছু হারায়েও গেসে। সবারই কিছু না কিছু ইউনিক ট্রেইট ছিল; ইন্টারেস্টিং ছিল। কিছু কিছু এপিতেতো মেইন ক্যারেক্টারদের উপস্থিতি ছিল সাইডশো হিসেবে। মোমোকা, জো কুসারাগি ( :v ) , আগাতা, রোমান – সবগুলো ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং ছিল।

একটা সার্টেইন এপিসোডে সবাই মিলে উনিয়ুর বাসায় যায়। ওই এপিটা সম্ভবত সবচেয়ে উরাধুরা এপি ছিল আমার কাছে। লজিক মজিকরে গাট্টি বোঁচকায় বাইন্ধা তাকের উপর তুইল্লা রাইখা এপিটা বানাইসে। তাছাড়া জেনেসিস এর এপি, অনিহিমের মায়ের দাবড়ানি – পুরো সিরিজটাই জোস জোস এপিসোডে ভর্তি ছিল।

তবে পুরো সিরিজে সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র ছিল সুইচ ( অনেকেরই তাই হবার কথা 😀 )। ইউকির সাথে তার হেড-টু-হেড এঙ্কাউন্টারগুলা এবং তাদের আনউইজুয়াল রিলেশনশীপ খুবই এঞ্জয়েবল ছিল। প্লাস সুইচের উইটি কমেন্টগুলা অলওয়েজই এঞ্জয়েবল ছিল।

মিউজিক, আর্ট – এইগুলা মোটামুটি ভালই ছিল। ভয়েস এক্টিং আমার বেশ ভাল্লাগসে (সেইয়ু চিনি না; কেয়ারও করি না; সো এর বেশি কিছু আসলে বলার নাই)।

সিরিজের একটা সমস্যা হচ্ছে অনেক পান এবং প্যারোডি আসলে ধরা সম্ভব না; কারণ রেফারেন্স গুলা সমন্ধে আইডিয়ায় সবারই কম বেশি ঘাটতি থাকার কথা। প্লাস আমার মতন ম্যারাথন দিলে কিছু কিছু জোকস হয়ত ক্লিশে লাগতে পারে; আহামরি তেমন কিছু না।

ওভারঅল; চমৎকার একটা সিরিজ, যারা দেখেন নাই সবার জন্যই রিকমেন্ডেড।

Joker Game [রিঅ্যাকশন পোস্ট] — Tahsin Faruque Aninda

joker game 1

Joker Game
Genres: Drama, Historical, Military, Seinen
Episode: 12
Source: Novel
Studios: Production I.G

গত সিজনে যেসব আনিমে দেখার প্ল্যান ছিল, তার মধ্যে সবচাইতে বেশি হাইপওয়ালা সিরিজগুলির মধ্যে এইট আমার কাছে একদম উপরে ছিল। কারণ এই না যে গল্প কী হবে তা জানি, সত্যি বলতে গেলে আনিমেতে কী হতে পারে না পারে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। হাইপ ছিল যে দুইটা কারণে – স্পাই গল্প, এবং নোভেল অ্যাডাপশন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ মুহুর্তের সময়কালের গোয়েন্দাদের নিয়ে গল্প, এরকম লোভনীয় প্লট দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে যথেষ্ট।
আর হাজার হাজার লাইট নোভেল থেকে আনিমে অ্যাডাপশনের ভিড়ে সত্যিকারের নোভেলের আনিমে অ্যাডাপশন অনেক বেশি করে চাচ্ছিলাম, সেটাও এই সিরিজের মাধ্যমে সত্যি হয়ে এল।

প্রশ্ন হল, সিরিজটা কি এক্সপেক্টেশন পুরন করতে পেরেছে আমার?
উত্তর দিতে গেলে বলতে হবে, কী ধরণের জিনিস হতে পারে এটা সেটা নিয়ে একদমই ধারণা ছিল না তাই সেই অনুযায়ী এক্সপেক্টেশনও তেমন শক্তপোক্ত ছিল না। যা ছিল তা উপরের দুইটা পয়েন্টে উল্লেখ করা জিনিসগুলাই ছিল। আর সে হিসাবে, দেখে বেশ মজা পেয়েছি বলতে গেলে। আনিমেটার যেসব ব্যাপার ভাল লেগেছে সেগুলি কিছু উল্লেখ করি:

+ ম্যাচিউর স্টোরি [যেটা আজকাল বের হওয়া সব আনিমের মধ্যে খুব বেশি করে অনুপস্থিত বলে মনে হয়]।
+ গোয়েন্দা গল্প আর চমৎকার একেকটি জোকার-গেম; এই অংশগুলি খুব বেশি করে উপভোগ করেছি।
+ একেক পর্বে একেকজন নিয়ে গল্প, তবে আলাদা সব গল্প একটি সেন্ট্রাল গল্প নিয়ে গড়ে উঠে
+ ইউকি আর তার ব্যাডাস সব ব্যাপারস্যাপার! [This guy’s a monster] এই বছরের অন্যতম সেরা Male Character.
+ OST

তবে এত ভাল কিছু জিনিসের ভিড়েও নেগেটিভ পয়েন্ট বের করতে বাধ্য হচ্ছি:

— অসম্ভব কনফিউজিং ক্যারেক্টার ডিজাইন
এই ব্যাপারটা নিয়ে মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছিল এক পর্যায়ে। ৯ জন গোয়েন্দার ১-২ জন বাদে কারওই মনে রাখার মত ক্যারেক্টার ডিজাইন ছিল না। আর এই সিরিজটাতে যেখানে একেক পর্বে একেক গোয়েন্দার গল্প দেখানো হয় আর কোন জন কে সেটা মনে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেখানে এই আইডিয়াটা মুখ থুবড়ে পরে। চেহারা তো মনে রাখা যায়-ই না, নামও মনে রাখার মত না। শেষমেশ এই চার্ট সাথে নিয়ে দেখতে হয়েছে একেকটা পর্ব [ছবিটি বড় করে দেখতে অন্য ট্যাবে ওপেন করে দেখুন]:

joker-game-characters

কেউ দেখার সময়ে এই চার্টটা সাথে রেখে দেখলে অনেক সুবিধা পাবেন। আর নিচে উল্লেখিত character appearance serial-টা মিলিয়ে নিবেন।
— সিজন ফিনালে পর্বটা দেখে মনে হয় না যে এইটা কোন সিরিজের শেষ পর্ব। ওপেন এন্ডেড ভাবে রেখে দেওয়া এক জিনিস, আর দেখে যেন বুঝা যায় যে এই পর্বের পর গল্প আপাতত শেষ – সেটা আলাদা ব্যাপার। অবশ্য আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ডিভিডি/ব্লুরের সাথে দুইটি এক্সট্রা পর্ব বের হবে, তারপরেও সেটা সিরিজের বাইরের পর্ব, এন্ডিং পর্ব না।
— এতগুলা আলাদা আলাদা ছোট গল্প যে একটি সেন্ট্রাল গল্পকে ঘিরে গড়ে উঠলো, সেই মূল গল্পটি কী সেটা বুঝে উঠতে পারা একটা হ্যাপা।

গতানুগতিক আনিমের মত না এটি, তাই অনেকেরই বুঝতে কষ্ট হতে পারে। তবে আপনি যদি ম্যাচিউর স্টোরির আনিমে খুঁজে থাকেন, আর ছোট ছোট চমৎকার কিছু গোয়েন্দাগিরি দেখার ইচ্ছা রাখেন, সিরিজটি অবশ্যই দেখে নিবেন যত জলদি সম্ভব।

*************************************************************************************************

দেখার সুবিধার জন্যে কোন পর্বে কোন প্রধাণ চরিত্রকে দেখানো হয়েছে তা উল্লেখ করে দেওয়া হল:

Ep. 1, 2: Lt. Sakuma
Ep. 3: Hatano
Ep. 4: Fukumoto
Ep. 5: Kaminaga
Ep. 6: Tazaki
Ep. 7: Amari
Ep. 8: Jirou Gamou
Ep. 9: Jutsui
Ep. 10: ~
Ep. 11: Miyoshi
Ep. 12: Odagiri (main) + everyone else

প্রতিটি অ্যানিমে ভক্তের জন্য যে দুটো অ্যানিমে দেখা বাধ্যতামূলক; অ্যানিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

PicsArt_08-14-04.21.40

অ্যানিমে গ্রুপে যারা নিয়মিত ঘোরাঘুরি করেন, এই দৃশ্যগুলোর সাথে তারা সবাই মোটামুটি পরিচিত –

“নারুতো না দেখলে জীবন বৃথা”
“ওয়ান পিস দেখনি মানে তুমি কিছুই দেখনি”
“ড্রাগন বল ভাল লাগেনা? তুমি অ্যানিমে বুঝই না”

এছাড়াও জনরাভিত্তিক, পার্সোনাল চয়েস ভিত্তিক, এমন আরও অনেকভাবে সর্ট আউট করে অনেক মানুষ বিভিন্ন অ্যানিমেকে অবশ্য দেখনীয় (জানিনা শব্দটা ঠিক হল কিনা) বলে দাবি করে থাকেন।

আমি মোটামুটি নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ (হেহে, বিশ্বাস করার দরকার নেই, তবে কথাটা সত্যি), কোনদিন নিজের পছন্দের অ্যানিমেকে বিশ্বসেরা বলে দাবি করার দুঃসাহস দেখাইনি। তবে আমার নজরেও এমন দুটো অ্যানিমে এসেছে, যে দুটো হয়ত আমি টপ ১০, ২০ লিস্ট বানালে সেখানে স্থান পাবে না, তারপরেও বলব, কেউ যদি অ্যানিমে ভক্ত হয়ে থাকে, অর্থাৎ বিনোদনের এই মাধ্যমের সাথে তার মোটামুটি পরিচয় থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই তার এই অ্যানিমে দুটো দেখা উচিৎ। অ্যানিমে দুটো হল বাকুমান এবং শিরোবাকো।

কেন এ দুটো অ্যানিমেকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি? কারণ আছে। আপনাদের সকলেরই তো জানা আছে, অ্যানিমের সিংহভাগ তৈরি হয় কোন একটা মাঙ্গার গল্পকে কেন্দ্র করে। আগে মাঙ্গা বা জাপানী কমিক বের হয়, সেটা মোটামুটি জনপ্রিয়তা পেলে সেখান থেকে অ্যানিমে বানানো হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে মাঙ্গার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেও অ্যানিমে বানানো হয়। তো এই যে মাঙ্গাকে ঘিরে এত কাহিনী, সেই কাহিনীটার বাস্তব চিত্রটা আসলে কেমন, আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করে! যে ব্যক্তি মাঙ্গা লিখছে, তার জীবনটা আসলে কেমন, বা মাঙ্গা যে প্রকাশনী থেকে বের করা হয়, তারা কিভাবে কাজ করে, কিভাবে একটা মাঙ্গা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বা কিভাবে একটা মাঙ্গার অজনপ্রিয়তা দুর্ভাগ্য ডেকে আনে, এসব কিছুর চিত্র অসম্ভব নৈপুণ্য এবং যত্নের সাথে তুলে ধরা হয়েছে যে অ্যানিমেতে, তার নাম বাকুমান। “বাকুমান” শব্দটি দুটো শব্দের সমষ্টি; বাকুচি+মাঙ্গা। বাকুচি অর্থ গ্যাম্বল বা জুয়াখেলা; মাঙ্গা লিখে জীবিকা অর্জন করা জুয়াখেলার মত বিপদজনক একটা পেশা, এখানে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।

আবার একইভাবে এটাও চিন্তা করুন, এই যে এত স্টুডিও পিয়েরট বা তোয়েই অ্যানিমেশন এর ওপর আপনারা মহা বিরক্ত, কিংবা শ্যাফট, পিএ ওয়ার্কস, কিয়োটো অ্যানিমেশন বা সিলভার লিঙ্কের আর্টের মহাভক্ত আমি; বা ব্যতিক্রমধর্মী অ্যানিমে বানানোর জন্য পরিচিত স্টুডিও ম্যানগ্লোবের যে করুণ দশা- এদের পেছনের কাহিনীটা কী? কারা এই স্টুডিওগুলোতে রাতদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যাচ্ছে প্রোপার ফিডব্যাক ছাড়া, কেন এখনকার অ্যানিমেগুলোতে অযথা ফ্যানসার্ভিস দিয়ে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে, বা কি উপায়ে এক টুকরো কাগজে আঁকা একটা সাদাকালো চরিত্র আমাদের চোখের সামনে হেটে বেড়াচ্ছে; কিভাবে প্রাণ পাচ্ছে সেই জড়পদার্থগুলো, যারা এই আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজটাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের জীবনটা কেমন – সেটা নিশ্চয়ই কখনো না কখনো জানতে ইচ্ছে করে! এই প্রতিটি কৌতুহল নিবারণ করবে যে অ্যানিমে, তার নাম শিরোবাকো।

অসম্ভব সুন্দর আর্ট আর ওএসটি রয়েছে দুটি অ্যানিমেতেই, আর মূল যে ব্যাপারটা রয়েছে, অ্যানিমেদুটি দেখার পর নিশ্চিতভাবে আপনি একটা অ্যানিমে/মাঙ্গাকে ট্র্যাশ বলার আগে দুবার ভেবে নেবেন। আপনি যদি এই ইন্ডাস্ট্রিকে সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করতে চান, এ দুটি অ্যানিমে দেখা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক!

মুশিশি রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

2_mushishi

আচ্ছা, আপনাদের কি সেই বজ্রাহত অভিমানী ছেলেটার সাথে পরিচয় আছে? সেই ছেলেটা, যে অভিমান করে বজ্রপাতের আওয়াজ পেলেই ছুটে গিয়ে বাড়ির সামনের লম্বা গাছটাতে উঠে বসে থাকে? অথবা সেই হতভাগ্য সন্তানের সাথে, নিতান্তই কৌতুহলের বশে রাতের বেলা শিস বাজিয়ে পাখি ডাকতে গিয়ে যে দুর্ভাগ্য টেনে আনে নিজ পরিবারের ওপর। অথবা সেই পরিশ্রমী লোকটির কথা কি জানেন, যে শীত-গ্রীস্ম কোন কিছুর পরোয়া না করে পাহাড়ের ঢালে কাজ করে যেত দিনরাত, যে কারণে তুষার ঝড়ের মাঝেও সেই পাহাড়ে দেখা যেত সোনালি ফসলের হাসি। কিংবা সেই অদ্ভুত পাহাড়ের কথাই ধরুন। বসন্তের ছোঁয়া লাগতে মাসখানেক দেরি হয়ে যায় যে পাহাড়ে, শীতকাল চলে যেতে যেতেও বারবার ফিরে আসে সেখানে, এখনও কাজ শেষ হয়নি যে তার এখানে!!

মুশিশি অ্যানিমেটির ব্যাপারে কেউ আমাকে প্রশ্ন করলে বিপদে পড়ে যাই। ছোট ছোট এমন অসংখ্য কাহিনী একসাথে মনের আয়নাতে যেন ভেসে ওঠে। আর উঠবেই বা না কেন, মুশিশির কাহিনীটাই যে অমন! কোন ধারাবাহিকতা নেই এই অ্যানিমেটির, আপনি যেকোন পর্ব থেকে অ্যানিমেটি দেখা শুরু করতে পারেন, কাহিনীর তাতে কোনই ক্ষতি হবে না। একেকটি পর্ব একেকটি পরিপূর্ণ ছোট গল্প। এই অসংখ্য ছোটগল্পগুলোর মাঝে যোগসূত্র একটিই, আর তা হল এক আত্মিক ফেরিওয়ালা, যার নাম গিনকো।

21368_mushishi

গিনকোর ব্যাপারে সবচেয়ে সুন্দর বর্ণনাটা বোধহয় মুশিশির প্রথম ওপেনিং এই বলা হয়েছে। “I walk a thousand miles to see you.” না, প্রেয়সীকে দেখার জন্য সহস্র মাইল দূরত্ব পাড়ি দেয়না গিনকো। গিনকো এক যাযাবর, যে দেশ-বিদেশে ঘুরে ঘুরে মুশি দেখে, মুশির ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে, তার নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাহায্য করে পীড়িত মানুষদেরকে।

কিন্তু এই মুশি জিনিসটা কি? সোজা বাংলায় বলতে গেলে, মুশির শাব্দিক অর্থ পোকা। কিন্তু অ্যানিমেতে মুশি জিনিসটা সাধারণ পোকার চেয়ে একটু আলাদা। সবাই তাদের দেখতে পায় না, কিন্তু তারা বাস করে মানুষের আশেপাশেই। কিছু মুশি মানুষের উপকার করে। কিছু আবার ডেকে আনে ভয়ানক দুর্ভাগ্য। গিনকো এই সমস্ত মুশি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করে বেড়ায় ঘুরে ঘুরে।

মুশিশি অ্যানিমেটা আমি দেখা শুরু করি ৩৬০ পি ফাইলে, বন-জঙ্গল আর মানুষ মিলেমিশে বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা হয়েছিল, কিছুই আলাদা করে চেনার উপায় ছিল না। তার ওপর প্রথম পর্বে বেশ গা শিরশির করা একটা মুশির কাহিনী বর্ণনা করা হয়, যেটা দেখে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিলাম। তাই ১০ পর্ব দেখে অনেকদিন ফেলে রেখেছিলাম। কিন্তু মাথায় সবসময় এর ওএসটিগুলো ঘুরত। তাই একদিন আবার মুশিশি দেখা শুরু করি, এবার ভাল কোয়ালিটির ফাইলে। এবং একটা পর্ব দেখেই আমি চমকে যাই! সম্ভবত আমার দেখা সেরা বন-জঙ্গলের আর্ট আছে মুশিশিতে- এবং কথাটা মোটেই বাড়িয়ে বলা নয়।

517747

এতকিছু বলার কারণ হল, প্রথম কথা, মুশিশি দেখতে গেলে অবশ্যই ভাল কোয়ালিটির ফাইল জোগাড় করবেন। তা না হলে এর সৌন্দর্য আপনি ধরতেই পারবেন না। দ্বিতীয়ত, মুশিগুলোকে দেখে প্রথম প্রথম ক্রিপি লাগতে পারে অনেকের। কিন্তু কয়েক পর্ব দেখে ফেলুন, এরপর আবিষ্কার করবেন, কেমন যেন একটা নেশার মত ধরে গেছে, একের পর এক এপিসোড দেখেই যাচ্ছেন অন্যকিছু চিন্তা না করে। মনে হবে যেন গিনকোর সাথে সাথে আপনিও হেটে চলেছেন পাহাড়ি রাস্তা ধরে, মাথায় খড়ের হ্যাট আর পিঠে জীর্ণ বোঝাটা নিয়ে!

মুশিশি আপনাকে মানব জীবনের মূল্য নতুন করে বুঝতে শেখাবে, আশেপাশের পরিচিত জগৎটাকে নতুন করে চিনতে শেখাবে। সেই সাথে আপনার সারাদিনের ক্লান্তিকে দূর করে দেবে এক নিমিষেই। তাই মনকে প্রশান্তি দেয়া কোন অ্যানিমে দেখতে চাইলে দেখা শুরু করুন মুশিশি। পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজ দেখার সিক্যুয়াল হল-

Mushishi
Mushishi Special: Hihamukage
Mushishi Zoku Shou
Mushishi Zoku Shou: Odoro no Michi
Mushishi Zoku Shou: 2nd Season
Mushishi Zoku Shou: Suzu no Shizuku

1184100-2016-mushishi-hdq-wallpaper

ERASED – প্রজাপতিকথন, স্মৃতিকথন, কমপ্লেক্স হিউম্যান সাইকোলজি — অনন্য রায়হান

Erased

[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
আর্ট প্রতিযোগিতার ডেট কি আর বাড়ানো হবে না ভাইয়া? আমার বোনের ছবিটা এখনো স্ক্যান করা হয়নি
……
এই মুরগিটায় আরেকটু তেল লাগবে মাহি ভাই,ব্রাশটা এদিকে……
……
ওয়ান পাঞ্চ ম্যান সেরা এনিমেশন – এজন্যই গণতন্ত্র ভাল্লাগে না ……
………
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
………
ব্যাপারটা কি বারবার অতীতে ফিরে যাচ্ছি কেন?
সপ্তাহ করে করে তো প্রায় গত বছর চলে গেলাম ……
টাইমলাইন আর মানুষের স্মৃতি নিয়ে আগ্রহ-গবেষনার অন্ত নেই – আপেক্ষিকতার তত্ত্ব পড়ে অনেকে আলোর বেগে গতিশীল হলে সময় তার জন্য ধীরে ধীরে আগাবে এমন Hypothesis এ অনেকে আস্থা রাখেন ……
তবে এর পেছনে সায়েন্টিফিক কারণ ছাড়াও সাইকোলজিক্যাল একটা প্রণোদনা আছে।অতীতে ফিরে গিয়ে আবার নতুন করে আগের কাজটা করা – ভবিষ্যতে গিয়ে পরিণাম সম্পর্কে জানা – এ দুটি কাজ করার স্বপ্ন আমরা জানতে অজান্তে দেখি – Sub Consciously হলেও দেখি । এর মধ্যে ভবিষ্যতে যাওয়ার চেয়ে অতীতে যাওয়ার কামনা টাই বোধহয় প্রকট।আর সেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে ছাড়েনি লেখক,গল্পকার,কমিক আর্টিস্ট কেউই ………
বলছি ERASED এর কথা –
প্রথমত দীর্ঘ জাপানি নাম হল Boku Dake ga Inai Machi যা মাঙ্গা টির অরিজিনাল পাবলিশিং নেইম – যেখানে সাতোরু নামের এক চরিত্র [বছরের সেরা চরিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম] কিভাবে সময়ের সাথে লড়াই করে পুরো টাইমলাইনের চাল উলটে দেয় সেটাই দেখানো হয়েছে……
প্রথমত রিভাইভাল বা টাইম রিওয়াইন্ডিং এর কথায় আসি – সিরিজটিতে প্রোটাগোনিস্ট সাতোরুর একটি Sub Conscious এবিলিটি – [এবিলিটি কি? সে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না] – এর মাধ্যমে সে জাম্প করে চলে যেতে পারে অতীতের কোন টাইমে – ব্যাপারটা ঠিক জাম্পকৃত টাইম কেটে ফেলা না – যে টাইম টা জাম্প করা হয়েছে সে টাইম টাও তাকে অতিবাহিত করতে হবে যদি নেক্সট কোন রিভাইভাল না হয় এর মাঝে –
অর্থাৎ এটা King Crimson এর স্ট্যান্ডের মত নয় [রেফারেন্স : Vento Aureo]
এই এবিলিটি তার হাতে কেন আর এটা কি হুটহাট ই এক্টিভেট হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে?
না সেটা হলে কোন Stable গল্প বানানো সম্ভব না – কারণ কারণে অকারণে রিভাইভাল হলে সেটা Meaningless আর সাতোরুর বয়স এ জীবনে বাড়বে না ……
টপ টু বটম সিরিজটি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই –
প্রথমত সিরিজটিতে সাতোরু ও হিনাজুকি – দুটি চরিত্রকে নিয়ে বিতর্ক
এ বিতর্ক হাস্যকর তো বটে Childish – গল্প যেখানে হালকা সাসপেন্স ভাইব [সাসপেন্স হিসেবে ব্যর্থ],টাইম ট্রাভেলিং আর সাইকোলজিক্যাল সেখানে রোমান্স নিয়ে ভাবলে মুশকিল! – বাঙ্গালিরা ছোটবেলার খেলার বান্ধবী বা বন্ধু মানেই ভবিষ্যতের স্ত্রী বা প্রেমিকা এটা মনে করার একটা ট্রেন্ড বাংলা সিনেমার মাধ্যমে আমাদের শিরায় Push করে দিয়েছে – তাই Realistic শব্দটা কথায় কথায় উচ্চারণ করলেও আমাদের চিন্তাভাবনা অনেক্ষেত্রেই Realistic না ……

গেলো প্রথম বিতর্ক – দ্বিতীয় টি হল এটা নট স্যাটিসফেক্টরি
হুম গল্প যে পরিমাণ রহস্য ডিমান্ড করেছে প্লট সাপেক্ষে সে পরিমাণ ঘটনার ধূম্রজাল ছিল না , Predictibility অনেক বেশি ……
তবে সাইকোলজিক্যাল সিরিজ হিসেবে আমার কাছে অন্তত এটা মাস্টারপিস না হলেও কাছাকাছি ……
আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই , সাতোরুও চেয়েছে – অতীতে গিয়ে সহপাঠীর প্রান বাঁচাতে চেয়েছে – সেখান থেকে কিছু “ইন্টারেস্টিং” চরিত্র এসেছে যাদের মানসিক অবস্থা ছিল জটিল কমপ্লেক্সিটিতে ভরা ……
উদাহরণ স্বরূপ হিনাজুকির মায়ের কথাই ধরুন [আর কিছু বলা যাচ্ছে না স্পয়লারের কারণে]
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
আমি রক্তের স্বাদ ভালোবাসি – তোমার চিৎকার আমার প্রাণ জুড়িয়ে দেয় – এরকম Psycho টাইপ চরিত্র ভালো না লেগে পারে [যদি আপনি অতিমাত্রায় Conservative না হন]
কিন্ত বেশ অন্যরকম একটা ভিলেইন আছে এ গল্পে –
একটা চড়ুই কে বেঁধে রাখুন –
চড়ুইটির সাথে কি করা যেতে পারে –
চড়ুইটিকে মেরে ফেলুন [Void]
চড়ুইটিকে মেরে মরা চড়ুইএর ব্যবচ্ছেদ করুন [Violent]
চড়ুইটির পা দুটো কিছু একটার সাথে বেঁধে চোখের সামনে এমন দূরত্বে খাবার রাখুন যাতে হাজার চেষ্টা করলেও সে খাবারের নাগাল না পায় [Villain of ERASED]
একটা গল্পের শুরুটা যতটা ভালো হলে তা দর্শকদের এক পায়ে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে তার পুরোটাই ছিল সিরিজটির শুরুতে যদিও গল্পের আগানোর সাথে সাথে ঠিক আশানুরুপ অগ্রসরতা দেখা যায়নি ……
তবে Realistic বিশেষণ টা থেকে ERASED কে বঞ্চিত করা যাবে না –
১৫ বছর কোমায় থাকলে কি কি হতে পারে ভাবাই দুষ্কর
রেস্কিউ রিভাইভালে কোন সমস্যা না হওয়া [প্রাপ্তবয়স্ক কোন লোকের পক্ষে যেটা স্বাভাবিক]
পরিচ্ছন্ন ও পারফেক্ট এন্ডিং …
এ এনিমে এক রোলার কোস্টার –
প্রথম দিকে দেবে রহস্য আর সাই ফাই এর সুবাস কিন্ত ফুল ঘেটে এনিমখোরগণ সাইকোলজি আর হালকা ড্রামা ছাড়া রহস্য তেমন একটা পাবেন না আবার শেষে এসে আরেকটু রহস্যের গন্ধ আর তারপর ……
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
বছরের অন্যতম সেরা দুটি গান আর সাইকোলজিক্যাল এনিমের প্রধান অস্ত্র ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে তর্ক করার কিছুই নেই ………
বছরের সেরা এন্ডিং বিচার করলে ERASED এর এন্ডিং টা মোটেও পিছিয়ে থাকবে না ……
গানের কথা গুলো সিম্পল অথচ অর্থবহ – মিউজিক টপ নচ
https://www.youtube.com/watch?v=4WwsLGf-vGI
Sore wa Chiisana Hikari no Youna – গেয়েছে সায়ুরি
আর এশিয়ান কুংফু জেনারেশন তাদের নামের মর্যাদা রেখেছে Re:Re দিয়ে
https://www.youtube.com/watch?v=vyM4h4iVeFo
ভয়েস এক্টিং ও খুব ভালো হয়েছে – যদিও বিজনেস সেন্স কম মনে হয়েছে – পপুলারিটি বাড়ানোর জন্য আইরিকে কোন MOE কন্ঠে পারদর্শী সেইয়ু দিলে ওটার জন্যই পসরা বেড়ে যেত :-p –
সাতোরু কন্ঠ অভিনেতা শিনোসুকে আর সুচিয়া কে না চিনলেও – সাতোরুর কন্ঠ বিশেষ করে ছোটবেলার কন্ঠ দারুন লেগেছে!
আর আওয়ি ইউকি বরাবরের মত পারফেক্ট! তার কন্ঠ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই! “বাকা নানো?” কথাটা এনিমের মাঝখানে যে কতবার রিপিট করে শুনেছি ইয়ত্তা নেই …
একটা পর্যায়ক্রমিক ডিফারেনশিয়েশন কল্পনা করুন –
যেখানে ফাংশনের অন্তরীকরণে এক জায়গায় একটা প্লাস মাইনাস চিহ্নের ভুল পুর অঙ্কটাকেই গুবলেট করে দিতে পারে ……
টাইম লাইন তার চেয়েও সেন্সিটিভ –
আমি যদি এটা করি = তাহলে ওটা হবে
সুতরাং , আমি যদি এটা না করি = তাহলে ওটা হবে না

দুঃখিত কিন্ত সময় ও পরিণতির হিসাব টা যে ঢের জটিল- এত সহজে কাজ করে না । আপনাকে ছুরি দিয়ে ফল কাটা অবস্থায় কেউ ডাক দিলে রুমে আপনি ছুরি হাতে গেলে তার কেটে যাবে কিন্ত তার মানে এই না যে না নিয়ে গেলে সব ঠিক থাকবে । দেখা যাবে আপনার যাওয়ার আগেই সে ডাক দিতে দিতে এসে আপনার ছুড়ির ওপর অসাবধানতাবশত হাত রেখে ………
আর ঠিক এখানেই ERASED এর সার্থকতা – অতীতে ফিরে যাওয়া তো কেবল শিরোনাম – এর মাঝে গল্পে সময়ের সামনে আগানো – ঘটনার প্রবাহ ও সাতোরু-ভিলেইনের নিজ নিজ লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টার পদ্ধতি পরিবর্তন – খুব বেশি সোজা ক্যালকুলেশন ফলাফল শূন্য করে দিতে পারে [সাতোরুর ১ম রিভাইভালে ব্যর্থতা]
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
মা হিসেবে একজন মা কি করতে পারেন – তার রেফারেন্স ও দেখা যাবে এখানে
এব্যাপারে ফুজিনুমা সাচিকো বেশ Inspirational চরিত্র! (y)
যখন কেউ জীবন এর স্বাভাবিক যাত্রাটাকে একটা চিরাচরিত যাত্রা মনে করতে শুরু করে – লাইফ টা এতটাই বোরিং – তখন কিন্ত ঘটতে পারে সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার – কোন কারণ ছাড়াই কাউকে খুন করে আনন্দ পেতে পারেন – একটা পিঁপড়ার কামড় খেয়েও হিংস্র জানোয়ারের মত রেগে যেতে পারেন – পুরো জীবনটাকে একটা গেমের মত করে ভাবতে পারেন
কিন্ত যদি এই গেম খেলার প্রতিযোগীই না থাকে তখন?
তখন কি করবেন আপনি?
সাইক্রিয়াটিস্টের ওষুধ খেয়ে সুস্থ্য হয়ে যাবেন?
নাকি? …………
[জানালা খোলা,হঠাৎ নীল প্রজাপতি] ……
এ এনিমে এক রোলার কোস্টার –
প্রথম দিকে দেবে রহস্য আর সাই ফাই এর সুবাস কিন্ত ফুল ঘেটে এনিমখোরগণ সাইকোলজি আর হালকা ড্রামা ছাড়া রহস্য তেমন একটা পাবেন না আবার শেষে এসে আরেকটু রহস্যের গন্ধ আর তারপর ……
আচ্ছা এই লেখাগুলো লিখছি কিন্ত খুব চেনা চেনা লাগছে, কেন বলুন তো?
যা হোক যা বলছিলাম –
বছরের অন্যতম সেরা দুটি গান আর সাইকোলজিক্যাল এনিমের প্রধান অস্ত্র ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে তর্ক করার কিছুই নেই ………
এক মিনিট! কি হচ্ছে – I’m repeating the Same thing!

Anime : Boku Dake ga Inai Machi [ERASED]
Genre : Mystery,Seinen,Psychological,Mystery
Studio : A-1 Pictures
Best Character : Fujinuma Satoru
MAL Score : 8.71
My Score : 7.8
যদি কোন প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে থাকেন তবে তা এনিমেতেই আছে,দেখে ফেলবেন

Welcome to the NHK [রিভিউ] — Prottoy Rahman

স্বাগতম এক অতি সাধারন বাস্তবতার উপর নির্মিত এক সাধারন গল্পের অসাধারন উপস্থাপনায়। জাপানের হিকিকুমোরি অর্থ্যাৎ কর্মবিমুখী shut-in জনগণ, বিষয়টি খুব সাধারনই বটে। কিন্তু স্বাভাবিক না। এরা দেশের বোঝাবৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদেরও যে ক্ষতি করে, তা একটি ভালো রকমের সমস্যা।

এই এনিমটি এরকমই এক NEET shut-in সাতৌ তাতসুহিরো কে অনুসরণ করে একটি গল্প তুলে ধরে। তো, কেমন কাজ করে এই এনিম, তারই একটু ছোট বর্ণনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পোস্ট।

প্রথমেই যা চোখে পড়ার মতো, তা হলো সাতৌর জীবনযাপনের পরিবেশন। মাত্র কয়েক মিনিটে তার মানসিক, আচরণগত এবং জীবনযাপনমূলক বৈশিষ্ট পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এক সামাজিক সমস্যার উপর তৈরি, সমস্যাটি তুলে না ধরলে কেমন দেখায়? হ্যা, এনিমটি এই hikikumori-র আগা, গোড়া, কান্ড, চূড়া, সব চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছে। সমস্যার উৎপত্তি, কারণ, প্রভাব, উত্তরণের উপায়, কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হয় নি। তবে শুধু এই বিষয়টি তুলে ধরেছে, তা বললে আমার জীবনে বলা অন্যতম বিশাল ভুল হবে। এই এনিমকে সামাজিক সমস্যার অ্যালবাম বললেও কম হবে। সাতৌর হিকিকুমরি অবস্থার উন্নতির প্রচেষ্টায় সে মুখোমুখী হয় সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরো অনেক সমস্যার। যদিও এটি বেশ repetitive, তবুও এর গল্পলিখনে মোটামুটি সামঞ্জস্য আছে। প্রতিটি ঘটনার অবতারনা করতে পূর্বের ঘটনাবলী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে যা এটিকে ভালোই উপভোগ্য করে তোলে।

এর মূল গল্পের সাথে সাথে চলে চরিত্রায়ন। ঘটনার স্রোতে আমরা দেখতে পাই চরিত্রদের জীবনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের মধ্যবর্তী খুঁতগুলোকে পুঁজি করে চমৎকারভাবে একে অপরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা এবং চরিত্রের ডেভলপমেন্ট দেখানো হয়েছে। একে অনায়াসে অন্যতম সাইকোলজিকাল এনিম এর কাতারে ফেলা যায়। এটি শুধু যে চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থা ফুটে তোলে তা নয়, এই এনিম বিভিন্ন mental phenomena ও পরিবেশন করে।

এই এনিমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বাস্তবতা। বেশ কিছু জায়গায় অবিশ্বাস্য আচরণ দেখা গেলেও সর্বোপরি এটি বাস্তবতাকে তুলে ধরে। এটি দেখায় মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে চমৎকার কাজ করলেও নিয়তির কাছে মাঝেমাঝে হার মানতে হয়। তবে তার থেকেও বেশি এই এনিমের আকর্ষণীয় দিক হলো মন্তব্য দেওয়ার সাহসিকতা। Welcome to the NHK বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য প্রদান করে যার মধ্যে ধর্মীয় চিন্তাধারাও পড়ে।

এই এনিমটির আর্ট বেশ চমৎকার। এর এনিমেশনও উল্লেখযোগ্য। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলো অতি চমৎকার এবং এনিমটিকে উপভোগ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ওপেনিং সং একদিকে বেশ এন্জয়েবল্ এবং দৃশ্যগুলো দেখতে অসাধারণ, অপরদিকে অনেক অর্থবহ। YouTuber “Mother’s basement” এর চ্যানেলে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সহ একটি ভিডিও আছে।

যাই হোক, বাংলা টাইপ করার খুব একটা অভ্যাস নেই বলে আর বেশিকিছু বলব না। এটা অত্যন্ত ভালো একটি এনিম এবং আমার দেখা সেরাদের মধ্যে একটি। স্কোর দেব ১০ এর মধ্যে দৃঢ় ৯।

ওহ হ্যা, এতকিছুর মধ্যে প্রশ্ন জাগতে পারে যে NHK জিনিসটা কি? খায় না মাথায় মাখে? NHK তেমন বিশেষ কিছু না, তবে একই সাথে এটি অনেক কিছু। এটা খেতে পারেন, মাথায় মাখতে পারেন, উপাসনা করতে পারেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা, এর দ্বারা মনের ভার কমাতে পারেন। যেমন এই পোস্ট আমার এন এইচ কে।

Basilisk: Kouga Ninpou Chou [রিভিউ] — Mobashirul Haque

Basilisk 1

Anime: Basilisk:kouga ninpou chou
Episodes: 24
Genre: action, historical, romance, ninja
Studio:Gonzo

সময় ১৬১৪। জাপানে Tokugawa Shouganate প্রতিষ্ঠিত। জাপানের ২ নিনজা clan; Kouga clan আর Iga clan এর মধ্যে বিদ্যমান হয়ে আছে ৪০০ বছরের দ্বন্দ্ব সংঘাত।Shouganate দের প্রধান নিনজা clan, Hanzo দের হস্তক্ষেপে এই ২ clan এর মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়েছে।কিন্তু ২ clan এর লোকজনের মনে এখনও একে অপরের উপর বিদ্বেষ জমা হয়ে আছে।শান্তি আরও স্থায়ী করার লক্ষে ২ clan এর প্রধান clan এর পরবর্তী প্রধান Kouga Gennousuke আর Iga Oboro এর বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু পরবর্তীতে retired Shogun Ieyasu, Shouganate এর তৃতীয় উত্তরাধিকার নির্বাচনের জন্য ঠিক করে Kouga আর Iga দের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার।চাপা পড়া ঘৃণা-বিদ্বেষ আবার জেগে উঠে।নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য আর পুরনো ঘৃণা ২ clan কেই রক্তপিপাসু করে তোলে।ভাগ্যের পরিহাসে Gennousuke আর Oboro কেও নিজের ভালবাসার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়।
২৪ পর্বের Anime তে কাহিনী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল খুব সুন্দর ও গুছানো, কখনই খাপছাড়া মনে হয় নি।কাহিনীর pacing ঠিকভাবেই আগিয়েছে। ছিল কাহিনী বুঝার সুবিধার্থে প্রয়োজনমত backstory. আর পরবর্তী পর্বে কি হবে সেই suspense।
Anime এর প্রত্যেকটা চরিত্র কে ভালো লেগেছে। প্রত্যেক চরিত্রেই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল।Gennousuke আর Oboro এর অন্তঃদ্বন্দ্ব, বাকি চরিত্রদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আর তার ফলে কাহিনীর পরিবর্তন ভালো লেগেছে।
Anime তে action বেশ ভালো, সাথে সাথে নিনজা দের যুদ্ধকৌশল এর পরিচয়। প্রত্যেক চরিত্রের power ছিল interesting।

Basilisk 2

Anime এর ending song“Hime Murasaki” আমার personal favourite.
Myanimelist এই anime এর ranking আর popularity দেখে হতাশ হয়েছি। এই anime আরও প্রশংসার যোগ্য।

https://www.youtube.com/watch?v=5UxNJWMPvlw

Special A [রিভিউ] — Arafin Shanto

Special A 1

Anime:- Special A / S.A
Genre:- Romance ; Comedy
Format:- 24 episodes
Mal rating(anime):- 7.8
Personal rating:- 8.3

জীবনে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে কে না আরোহণ করতে চায়!প্রায় সব মানুষের ই ইচ্ছা থাকে যেকোন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পজিশন টা তার হোক। সবাই যেন তাকে সময়ের সেরা মানুষ বলে বিবেচনা করে বা চেনে। খুব সহজভাবে বললে; কোন ক্লাসের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ছাত্র যেমন চায় সে প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্রকে টপকে ক্লাসের সর্বোচ্চ স্থান দখল করবে; তেমনি ক্লাসের সবচাইতে অমনোযোগী ছাত্রের মনের মাঝেও কি কখনো উঁকিঝুঁকি দেয় না ক্লাস সেরা হওয়ার স্বপ্ন? অবশ্যই দেয়…. কিন্তু সবার ট্যালেন্ট কি এক! সবাই কি একইরকম পরিশ্রম করতে পারদর্শী! হয়ত না।

কিছুটা এ ধরণের সিচ্যুয়েশন থেকে শুরু হয় স্পেশাল এ এনিমেটি।

এনিমের শুরুতেই আপনি দেখতে পাবেন এনিমের প্রধান মেয়ে চরিত্র হানাজোনা হিকারির বাল্যকাল। সেখানে দেখা যায়; ছোটকাল থেকেই সে তার বাবার কাছে আত্মরক্ষার কৌশল শেখে।মূলত হিকারি তার বাবার ইচ্ছেতেই শেখে যেন সে
নিজেকে যেকোন পরিস্থিতিতে রক্ষা করতে পারে। আরো দেখা যায় হিকারির বাবা তার আত্মরক্ষার কৌশল যাচাই করার জন্য অনেক শক্তিশালী মানুষের সাথেও হিকারিকে
মোকাবিলা করতে বলে। হিকারি প্রায় অনায়াসেই তাদের পরাজিত করে। মূলত তখন থেকেই সে নিজেকে সবার চেয়ে সেরা হিসেবে দেখতে চায় কিংবা মনে করে।কিন্তু
একদিন হিকারির বাবা একটি ছেলেকে হিকারির সামনে দাড় করিয়ে দেন।সে
হিকারির বয়সের ই।কিন্তু তিনি শুনেছেন ছেলেটি শক্তিশালী এবং স্কিলফুল।সেই
আমাদের প্রধান ছেলে চরিত্র তাকাশিমা কেই।

গল্পের মূল শুরুটা এখানেই।

হিকারি ছেলেটির সাথে চ্যালঞ্জে পরাজিত হয়। তখন থেকেই হিকারির দ্বিতীয় স্থান অর্জিত জীবনের শুরু। হিকারি ;; যতবার যে জায়গাতেই তাকাশিমাকে চ্যালেঞ্জ করুক
না কেন প্রতিবার ই তার অবস্থান দ্বিতীয়। সেটা হোক পড়ালেখায় বা রেসলিং এ……
সে তাকাশিমাকে পরাজিত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ভর্তি হয় তাকাশিমার
স্কুলে। স্কুল থেকে মনে পড়ল ; হিকারির ক্লাসের ছাত্র সংখ্যা মাত্র সাতজন।কিন্তু কেন?
মূলত ক্লাসের সর্বোচ্চ লেভেলের প্রথম সাতজন ছাত্র নিয়ে গঠিত এই বিশেষ
ক্লাস। এই বিশেষ ক্লাস এর সবকিছুই বিশেষ। তাদের ক্লাসরুম থেকে শুরু করে পোশাক পর্যন্ত যেন তাদের বিশেষত্বকেই তুলে ধরে…..আসলেই সেই ছাত্ররা মোটামুটি এক একজন অলরাউন্ডার।
তাই
সেই ক্লাসের এক নম্বর ছাত্রকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।সেখানে আরো
আছে; বিশিষ্ট সংগীত পরিচালকের দুই সন্তান-জুন ইয়ামামতো ও মেগুমি
ইয়ামামতো….এমনকি স্কুল ডাইরেক্টর এর ছেলে এবং গাড়ির কোম্পানির সিইও ছেলের মত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা।সেখানে হিকারির
অবস্থান সেই দুই নম্বর। যার কারণে তাকাশিমা তাকে মোটামুটি রেগুলারলি
টিজ করে। কিন্তু তারা পরস্পরের রাইভাল হলে কি হবে তাদের এই রাইভারির মধ্যে
রয়েছে অসাধারণ সুন্দর কিছু না বলা রোমান্টিক মুহূর্ত। সেদিকটা আপনারাই
এনিমে দেখে অনুভব করুন…. নিজের রাইভালের প্রেমে পড়া কিন্তু নতুন কিছু নয়
এনিমেতে ; তারপর ও এনিমেটির কমেডি- রোমান্স এই দুটো জন্রার অসাধারণ মিক্সাপ আপনাকে এনিমেটি পছন্দ করতে
বাধ্য করবে।এনিমেটির বেশ কিছু অসাধারণ হার্ট টাচিং দৃশ্য রয়েছে; যেগুলো আপনার
হৃদয়ে গেথে থাকবে।

এটি একটি টিপিক্যাল শৌজো এনিমে। কিন্তু এর রোমান্টিক -কমেডির ধরণ
স্বতন্ত্র।এটাকে ট্রেডিশনাল শৌজোর দিকে ফেলবেন কি-না সেটা আপনার উপর
ডিপেন্ড করে।এনিমের ক্যারেক্টার ডিজাইন; আর্টওয়ার্ক খুবই সাধারণ।

মিউজিক নিয়ে বলব;ওপেনিং/ইন্ডিং ডিসেন্ট… আমার ভালই লেগেছে।বলার মত
বিশেষ কিছু নেই কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো আপনার মন ছুয়ে যাবে।এতটুকু গ্যারান্টি দেয়া যায়……

আমি বলব না এটা মাস্টারপিস জাতীয় কিছু।খুব অন্য লেভেলেরও কিছু না।কিন্তু
কিছু এনিমে থাকে না; যেগুলো অত্যাধিক লেভেলের কিছু না হলেও মন ভরিয়ে দিয়ে
যায়।আপনি দেখতে বসলে বুঝবেন এনিমেটা আপনাকে কিভাবে টানছে।একবার চেষ্টা
করতে দোষ কি!

সাধারণ লাভ স্টোরি কিন্তু অনেকক্ষেত্রে রোমিও-জুলিয়েট টাইপের লাভ স্টোরি থেকেও বেশি মন ছুঁয়ে যায়………..
ধন্যবাদ।

Special A 2

Bakemono no Ko/ The Boy And The Beast [মুভি রিভিউ] — Iftekhar Rashed

Bakemono no Ko 2

Bakemono no Ko/ The Boy And The Beast
Studio : Studio Chizu
Other Works: Wolf Children, The girl who leapt Through the time
MAL Score: 8.61

আমারা রুপ কথার গল্প সবাই পছন্দ করি কম বেশি। এটা আসলে আমাদের বেড়ে উঠার সময়টার সাথের অংশীদার। সমাজের গতানুগতিক জীবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার একটা বিদ্রহীভাব আমাদের শেকড়ে গাড়া। এমনি কিছু সাধারন ব্যাপারগুলো বিদ্যমান থাকে আমাদের কল্পনারাজ্যের গল্পের জগতে।

রেন নামের ছেলেটির বাবা মাকে হারিয়ে বসে মাত্র নয় বছর বয়সেই একটা সড়ক দুর্ঘটনায়। এতিম রেনের দেখাশুনা করার দায়িত্ব তার যৌথ পরিবারের অনান্য সদস্যরা নিতে চাইল ঠিকই কিন্তু একটা দুরের ভাব থেকেই যায় যা রেন বুঝতে পেরে বিদ্রোহী হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। অসহায় রেন বুকের মাঝে বিশাল একটা খালী জাগা নিয়ে বেচে থাকার লড়াইয়ের সামনাসামনি হয়ে পড়ে। খাবার নেই থাকার জাগা নেই বড়ই অসহায় অবস্থায় পড়ে যায়। কিন্তু রেনর ভিতর আছে বেচে থাকার একটা অসম্ভব অদম্য ইচ্ছা সেই সাথে তার একরোখা ভাব।

Bakemono no Ko 3

কুমাতেসু একটা ভাল্লুক যার বাসস্থান বিষ্ট রিআর্লম। প্যারালাল ভাবে চলতে থাকা আরেকটা দুনিয়া যা একটা সুরঙ্গ পথা দ্বারা মানুষের দুনিয়ার সাথে যুক্ত। কুমাতেতসু স্বভাব চরিত্রের দিক থেকে একদম রেন। একরোখা কারো কথা শুনার নয়, ভদ্রতা শিষ্টাচার বলতে কোন শব্দ বা এর ব্যবহার সে জানে না। তার জীবনের একটাই লক্ষ শক্তিশালী হওয়া এবং ইওজেনকে হারানো। ইওজেন(সোনালী শুকর) সমাজের বেশ সম্মানিত এবং দক্ষ যোদ্ধা। ইওজেন আর কুমাতেসুর মধ্যে একটা লড়াই হবে যা কিনা বিজয়ীকে দিবে গ্রান্ড মাস্টার খেতাব কারন বর্তমান যিনি আছেন উনি আবার এই পদ ছেড়ে নতুন করে পুনর্জনম নেয়ার চিন্তায় আছে। ঊনি হলেন বিষ্ট রিআর্লমের হত্তা কর্তা বা মহাজগতিক নেতা শৌশি (একটা খরগোশ)। কিন্তু ইওজেন যতটাই সমাজে সম্মানীত কুমাতেসু তার স্বভাবের কারন বসত পুরো উল্টোটাই, তাকে দেখলে সবাই তাকে ভয় করে এবং যার কারন বশত এখন পর্যন্ত কোন শীষ্য তার কপালে জোটেনি। কিন্তু মাস্টার শৌশী আবার বলে দিয়েছে কামাতেসু লড়াইয়ে নামবে তখনি যখন সে একটা শিষ্য জোগাড়্র কতে পারবে।

এভাবে শিষ্য খুজতে খুজতে কামাতেতসু মানুষের রিআর্লমে প্রবেশ করে রেনের দেখা পায়।

বাকিটা দেখে নিবেন। গল্পটা খুব সুন্দর এবং তার সাথে আর্ট ওয়ার্কটাও।
কিছু মুর্হুত আছে যা মনের গভীরে গেথে যাওয়ার মত।

Bakemono no Ko 1