Skip Beat manga review – Zahura Chowdhury Abonti

মোগামি কিয়োকো সাধাসিধে গোবেচারা এক মেয়ে। ছোটবেলা থেকে তার বন্ধু ফুওয়া শোতারো বা সংক্ষেপে শো। কিয়োকো শো এর প্রতি খুবই বিশ্বস্ত। তার ধারণা সে বড় হয়ে শো-কে বিয়ে করবে। শুধুমাত্র শো এর জন্য কিয়োকো একা একা পাড়ি জমায় অন্য শহরে। সেখানে গিয়ে সে শো এর জন্য কি না করে! Part time job করে টাকা জমিয়ে শো এর আবদার পূরণ করে। অথচ এর জন্য কিনা সে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু তার এতে কোন দুঃখ নেই। Aspiring star শো কে সে সব সময় উতসাহ দিয়ে যায় এই বলে যে শো এর মত ভাল গায়ক আর নেই। শো-ও এদিকে বেশ নামডাক কামাতে থাকে। শো এর প্রতিদ্বন্দী আরেক সুদর্শন নায়ক তসুরুগা রেন। শুধুমাত্র শো কে খুশি করতে কিয়োকো কখনো রেনের প্রশংসা করে না। সব মিলিয়ে এমন কিছু নেই যা কিয়োকো করে না তার ভালবাসার জন্য। বিপত্তি বাধে তখনই যখন একদিন কিয়োকো শো-কে দেখে ফেলে আরেক মেয়ের সাথে। আর শুনে ফেলে শো এর কথা। শো নিজের মুখে বলে যে কিয়োকো তার ফরমায়েশ পূরণ করে বলেই কিয়োকোর সাথে সে আছে, এছাড়া তার কাছে আর কোন মূল্য নেই কিয়োকোর। নিজ কানে এসব শুনে প্রচন্ড রকমের ধাক্কা খায় কিয়োকো আর ঠিক করে এই বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ সে নিবেই। সে উঠেপড়ে লাগে শোবিজ join করার জন্য, পাল্টেফেলে নিজের বেশভূষা। কিন্তু ব্যাপারটা এত সোজা নয়। অনেক রকম চড়াই উতরাই পার হয়ে (যার অনেকগুলোই বেশ হাস্যকর) এক সময় কিয়োকো মোটামুটি এক জায়গাতে এনে নিজেকে দাঁড়া করায়। আর এখানে এসে তার সামনাসামনি পরিচয় হয় রেনের সাথে; যাকে সে আগে কতনা গালমন্দ করেছে শো এর প্রতিদ্বন্দী হওয়ার কারণে! আর সেই রেনই কিনা দেখা যায় পদে পদে কিয়োকোকে সাহায্য করে। কিয়োকোকে অভিনয় নিয়ে, জীবন নিয়ে নানা রকম বুদ্ধি দেয়, মাঝে বকাবকিও করে। কিয়োকো মাঝে মাঝে রেনকে অনেক ভয় পেলেও, মনে মনে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করে আর কৃতজ্ঞতাবোধও অনুভব করে।

কিয়োকো জানেনা যে রেনের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল ছোটবেলায়। তখন রেনের আসল পরিচয়ই সে জেনেছিল। তার আসল নাম রেন নয়, কুওন। আর নিজের পরিচয় ঢেকে রাখার পিছনে আছে অতীতের গাঢ় এক রহস্য যা রেন কাওকে জানতে দিতে চায় না। 
শো এর থেকে প্রতিশোধ নিতে বদ্ধ পরিকর আর কখনো কারো প্রতি দুর্বল না হয়ে পড়ার প্রতিজ্ঞা করা কিয়োকোর কি হবে পরিণতি? রেনের আসল পরিচয়ই বা কিভাবে নেবে কিয়োকো?

কাহিনী বেশ গতবাধা মনে হলেও ঠিক তেমনটা নয়। কিয়োকোর কাজকারবার বেশ মজার। তার expression গুলি আরো বেশি মজার। খুবই সাধাসিধে এই মেয়ে মাঝে মাঝে খুবই শক্ত আর তখন তাকে দেখে মনে হয় না এই মেয়েই মাঝে মাঝে এমন সব বোকার মত কাজ করতে পারে। আমার বেশ পছন্দের মাঙ্গা। পড়ে দেখতে পারেন।

Tokyo Magnitude 8.0 anime suggestion by Mohaimenul Haque

 

জাপানে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে । চারিদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ, তার নিচে মৃত মানুষ আর আহতদের হাহাকার । এরই মধ্যে দুই ভাই বোন Mirai আর Yuuki Onozowa এবং তাদের সাথে একজন কর্মজীবী মহিলা Mari Kusakabe এই দুর্যোগ কাটিয়ে নিজ বাসস্থানে ফিরতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । দুর্যোগের অনেক ধাপ পেরিয়ে তাদের পৌছতে হবে নিজ শহরে ।
খুবই সাধারণ একটা এনিমে । কোন একশন নাই, কমেডি থাকার প্রশ্নই উঠে না এমনকি সেরকম ড্রামাও নেই । পুরো কাহিনী জুড়ে শুধু দুর্যোগ পরবর্তী সমস্যা ও সংকট উত্তরণের প্রচেষ্টা । অনেকটা ক্লাস নাইন টেনের সমাজ বইয়ে দুর্যোগ চ্যাপ্টারে যেমন থাকত তারই একটা ভিডিও ভার্সন । এমনকি দুর্যোগের পরে বাথরুমে যাওয়াও যে একটা সমস্যা হতে পারে এটাও দেখান হয়েছে ।
শুধু শেষ চার পর্বে যা দেখান হল that was enough to surpass any tragic anime . আমি খুব “শক্ত ধরণের” “আবেগ বর্জিত” মানুষ না । তাই বলে গল্প,উপন্যাস,এনিমে দেখে “চোখ ফেটে এল জল” টাইপও না । But the last three episodes really made my eyeas wet . এর আগে কোন এনিমে দেখে আমার এত মন খারাপ হয়নি । শেষে মনে হয়, এভাবেই কেন শেষ হতে হল ।খুব অল্প সংখ্যক এনিমে দেখেছি কিন্তু এর থেকে sad এনিমে আর দেখিনি দেখব বলেও মনে হয় না ।
Opening and ending sound track গুলো বেশ সুন্দর । মাত্র ১১ পর্বের এই এনিমে না দেখলে আপনার দেখার লিস্টে একটা অপূর্ণতা থেকে যাবে । কাজেই সময় পেলে দেখে ফেলুন । আর পারলে টানা না দেখে একটু সময় নিয়ে দেখুন । (আমি ১১ সপ্তাহ ধরে দেখেছি যদিও শেষ তিনটা পর্ব এক বসায়)
MAL rating 8.22
আমার রেটিং ৮.৫

Golden Time reaction post by Tahsin Faruque Aninda

গোল্ডেন টাইমটা দেখার সময়ে শুরুর দিকে একটু বেশি দ্বিধায় পরে গিয়েছিলাম যে বানরির সাথে কাকে কাপল হিসাবে বেশি সাপোর্ট করবো, কোকোকে? নাকি লিন্ডাকে?
তবে, কাহিনী কিছুদূর আগানোর পরে আমার কাছে বানরির সাথে কোকোকেই বেশি মনে ধরেছে। এই আশায় ছিলাম যে বানরি-কোকো কাপলটাই শেষ পর্যন্ত দেখতে পাব! অবশ্য লিন্ডার জন্যেও মারাত্মক খারাপ লাগতো, তবে বানরি-লিন্ডার সময় আসলে অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আর এই অবস্থায় বানরি কোকোকে ছেড়ে লিন্ডার কাছে যদি যায় তাইলে রাগে মনিটর ভেঙ্গে ফেলবো – এমন অবস্থাও মনে উঠেছিল!

পরের অংশটুকু স্পয়লার, তাই যারা শেষটুক দেখেননি তারা পোস্টের বাকি অংশ স্কিপ করতে পারেন।

শেষ দুই পর্বে কাহিনী অনেক বেশি তাড়াতাড়ি দেখিয়ে ফেলছিল বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে বানরির “ঘোস্ট” ব্যাক করছে করছে – এমন অবস্থা হওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কয়েকটা পর্ব মনে হচ্ছিল যে কাহিনী টেনে নেওয়ার চেষ্টা করার জন্যেই দিয়েছে হয়তো! তবে পরে বুঝলাম যে, ঐসব পর্ব না থাকলে আনিমেটা এত জমতো না!
শেষ পর্বের আগেরটি দেখার সময়ে মনে হচ্ছিল যে কাহিনী কিভাবে শেষ করবে, এখনও তো অনেক কিছু বাকি! যদিও সেখান থেকে বেশ দ্রুত এন্ডিং দেখাতে পেরেছে।
শেষ পর্বের মাঝামাঝি পর্যন্ত মনে মারাত্মক ভয় ছিল যে বানরি-কোকোর মিল হবে কিনা! বানরির লিন্ডা অধ্যায় মোটামুটি সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে তা টের পাচ্ছিলাম, তবে কোকো আবার ব্যাক করবে কিনা সেই ভয়েই ছিলাম। শেষ মুহুর্তের আগ পর্যন্তও মন খুবই খারাপ লাগছিল যে এভাবে শেষ হয়ে যাবে!
তবে শেষ মুহুর্তে লিন্ডার উত্তর দিয়ে বানরির “ঘোস্ট”-এর মন হালকা করে দেওয়া, এবং আসল বানরির পথ পরিষ্কার করে দেওয়া – এইটা খুবই মনে ধরেছে! বেশ ইমোশোনালও লাগছিল সেই মুহুর্তটা!

আর অবশেষে যেই মুহুর্তের জন্যে সেইইইইই কত আগ থেকে অপেক্ষা করছি তা চলে আসলো! খুশির চোটে রাত্রে ঘুম হয় নাই ঐদিন যেইদিন দেখলাম

তবে ওকা চিনামির জন্যে কষ্ট লেগেছে একটু। মিতসুয়োর সাথে চিনামির মিল দেখালে মনটা ঠান্ডা হত! অবশ্য ওর এন্ডিংটা স্যাড এন্ডিং, নাকি পরে কিছু হতেও পারে [যা দর্শকের চিন্তাভাবনার জন্যে রেখে দেওয়া হয়েছে] তা বলতে পারছি না।

নানা ক্যারেক্টারটা অসাধারণ! বেশিইইই জোস! :))
আর 2D-kun শেষের দিকে ইমেইল-চালাচালি অংশটা বেশ মজা লেগেছে!

আনিমের সাউন্ডট্র্যাকটা অনেক বেশি মনে ধরেছে। এইটা কবে রিলিজ পাবে তা কেউ জানলে জানিয়েন। অসম্ভব সুন্দর!

পুরো আনিমেটার সবকিছু এঞ্জয় করেছি। সবকিছুই ভাল লেগেছে!

Berserk manga review by Farsim Ahmed

 

কিছু সাহিত্যকর্ম পাবেন, যেগুলো শুরু করলে শেষ না করে আর কিছু করার জো নেই। বাংলায় এগুলোকে বর্ণনা করার মত ভালো কোন শব্দ আপাতত মনে আসছে না, তবে ইংরেজিতে দারুন একটা শব্দ আছে, আনপুটডাউনেবল [Unputdownable]। তো কখনো কি শুনেছেন, জনাথান ক্যাথরিন রাওলিং বা জন রোনাল্ড রুয়েল তল্কিনকে কেউ গালিগালাজ করছে? না। কিন্তু এমন এক মাঙ্গাকা আছেন, যিনি মোটামুটি অবিসংবাদিতভাবে প্রতিষ্ঠিত সর্বকালের সেরা মাঙ্গার স্রষ্টা হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত গালি খাচ্ছেন। কেন? কারণ ভদ্রলোক মাঙ্গাটা ভয়াবহ এক ক্লিফহ্যাঙ্গারে ফেলে গত দুই বছর ধরে আইডলমাস্টার নামের একটা গেম খেলছেন, যে গেমে তার ভুমিকা হচ্ছে কতগুলো সুন্দরী আইডলের ম্যানেজারের। সুখের কথা হল, উনি এপ্রিল থেকে আবার মাঙ্গাটা কনটিনিউ করবেন।

যারা মাঙ্গা নিয়ে কিছুটা হলেও ঘাটাঘাটি করেন, তারা ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছেন আমি কিসের কথা বলছি। এটা সেই অসাধারণ মাঙ্গার ছোটখাটো স্পয়লারযুক্ত রিভিউ।মাঙ্গার নাম?

বার্সার্ক!

আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় দীর্ঘদেহী লোকটা যাযাবর, উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো যার কাজ। তাঁর দিকে দ্বিতীয়বার চোখ যেতো না, যদি না তার কাঁধে ঝোলানো তলোয়ারটা চোখে পড়ত, যার দৈর্ঘ্য লোকটার চেয়েও বেশি। এক পানশালায় সে দেখিয়ে দিল, তলোয়ারটাকে ভালই ব্যবহার করতে পারে সে। এক চোখো যান্ত্রিক হাতের লোকটা যেন মূর্তিমান আতঙ্ক, মানুষের কাছেও, প্রেতের কাছেও। এক নামে তাকে সবাই চেনে, কৃষ্ণ অসিচালক[Black Swordsman] কিন্তু কার বিরুদ্ধে সে তার এই বিপুল প্রতিহিংসা ধারন করে রেখেছে?

 

ছেলেটার জন্ম হয়েছিল মৃত মায়ের গর্ভে, দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে তাকে চিহ্নিত করল সবাই। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হল সে, খুন করল তার নির্যাতনকারী আর পালক পিতাকে। সে বুঝল, The earth means struggle. বেরিয়ে পড়ল সে শক্তির সন্ধানে, পরিণত হল এক দুর্বিনীত তরুনে, যে কাউকেই ভয় পায় না, সাধারণ কোন লড়াই হলেও জীবনবাজি রাখতে তার কোন আপত্তি নেই। দেখা হয়ে গেল তার গ্রিফিথের সাথে, এক দুর্দমনীয় তরুন, আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। গ্রিফিথের বাহিনী ব্যান্ড অব দ্য হক্সে ইচ্ছার বিরুদ্ধে যোগ দিল সেই ভাগ্যাহত তরুণ। সে দেখা পেল বন্ধুত্বের, ভালবাসার। কিন্তু সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো, যখন গ্রিফিথ তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার জন্য পুরো বাহিনীকে বলি দিল শয়তানের কাছে, ধর্ষণ করল ভাগ্যাহত তরুণের ভালবাসার মানুষকে তার চোখের সামনে। কোনমতে বাঁচতে পারল সে, কিন্তু সর্বনাশ যা হবার টা তো হয়েই গিয়েছে। তার পিছনে ধাওয়া করছে অন্ধকারের প্রেতরা সারাক্ষন, মানুষ কি আর পারে অলৌকিক ক্ষমতার মুখোমুখি হতে? কিন্তু তরুণ দেখিয়ে দিল, তার প্রতিহিংসার তেজ কত ভয়াবহ, তার হিম্মত আছে, এই ভয়াবহ শত্রুর মোকাবেলা করার।
তরুণের নাম?

কৃষ্ণ অসিচালক, গাটস!

প্রথমেই বলতে হয়, মিউরা কেনতারো এক অসাধারণ মাঙ্গাকা। ভীষণ গ্রিপিং এবং থ্রিলিং স্টোরিলাইন, ভদ্রলোক জানেন কিভাবে পাঠকদের ধরে রাখতে হয়। আর তাঁর আঁকা? নিঃসন্দেহে আমার এ পর্যন্ত পড়া মাঙ্গাগুলোর মধ্যে সেরা। বিশাল বিশাল প্রাসাদের প্রতিটা ইট, ক্যারেক্টারদের প্রতিটা চুল, ঘামের ফোঁটা, এক্সপ্রেশন, অ্যাকশান সিকোয়েন্স, ঘোড়ার কেশর, বিশাল সৈন্যবাহিনীর প্রতিটি সদস্য, এত ডিটেইল এর কাছাকাছি কাজ আমি দেখেছি আর শুধু ওয়ান পাঞ্চ ম্যানে আর তাকেহিকো ইনউয়ের মাঙ্গায়[ভ্যাগাবনড, স্ল্যাম দাঙ্ক]। অসাধারণ ভিজুয়াল ওয়ার্কস, প্যানেলগুলো দারুন সুন্দর, কোন জায়গাই মেসি[Messy] নয়। এতে মহা সমস্যায় পড়েছি, বার্সার্কের পর যে মাঙ্গাই পড়ি, পানসে লাগে, অমন শক্তিশালী ভিজুয়ালাইজেশন পাইনা, রুরউনি কেনশিনের মত মাঙ্গা পড়তে গিয়েও এই অবস্থা। সহজ কথায়, বার্সার্ক এমন এক মাঙ্গা, যার আনিমের আদৌ কোন প্রয়োজন নেই।

আনিমের কথা যখন আসলই, তখন বলেই ফেলি, বার্সার্ক মাঙ্গার তুলনায় আনিমে রীতিমত থার্ড ক্লাস। আনিমেতে রাখা হয়েছে মূলত ব্ল্যাক সোরডস্ম্যান আর্ক আর গোল্ডেন এজ আর্ক, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বহু কিছু বাদ দেয়া হয়েছে। আমার নিজের খুব পছন্দের কিছু চ্যাপ্টার হল গার্ডিয়ানস অব দ্য ডিসায়ারস, বাকিরাকা, আর ডিমন ডগ এর অংশটুকু, যেটা আনিমেতে নেই। গোল্ডেন এজ আর্কের পরে যখন আপনি ভাববেন, এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে? তখনি মিউরা নিয়ে এসেছেন [মাইলড স্পয়লার] গ্রিফিথের পুনর্জন্ম, বিস্ট সোরডস্ম্যান ভারসাস ব্ল্যাক সোরডস্ম্যান, গাটসের ড্রাগন স্লেয়ার আর বার্সার্ক আরমার, রাজা গানিশকার সাথে গ্রিফিথের লড়াই, এবং সম্ভবত আমার সবচেয়ে পছন্দের আর্ক, গানিশকার বাহিনীর সাথে গাটসের লড়াই। পারফেক্ট এক্সিকিউশন।

[মাইলড স্পয়লার] আমার গাটসের লোন উলফ পারসোনালিটিটা দারুন লাগত, তাই যখন দেখেছিলাম তাঁর একটা গ্রুপ হয়েছে, তখন বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, আরেকটা ইনু ইয়াশা হয়ে যায় কিনা। কিন্তু মিউরাকে ধন্যবাদ, সেরপিকোর মত একটা ক্যারেক্টারকে তিনি হাজির করেছেন।

যদি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের কথা বলতে হয়, বার্সার্ক একটা ওয়ান ম্যান শো, কোন সন্দেহ নেই। মুল ফোকাস গাটসের উপর।এত “কুল” আর কোন মেইল প্রটাগনিসট হতে পারবে না, হওয়া সম্ভব না।[প্রসঙ্গত, সোরড আর্ট অনলাইন এর একটা ক্যারেক্টার আছে, যে গাটসের প্রচলিত নাম ব্যবহার করে, আমি নিশ্চিত করছি, সেই ক্যারেক্টার “ভুয়া”। শুধু তাই না, গাটসের কুলনেসের কাছে আর যে শউনেন/সেইনেন আনিমের মেইন ক্যারেক্টারকেই আনুন, তারা সবাই “ভুয়া”।]

এর পরেই আসে গ্রিফিথ, মূল এনটাগনিসট, গডহ্যান্ডের একজন, অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ফেমটো। সে দিন দিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, গাটস তাকে কিভাবে হারাবে তাই সন্দেহ।
গাটস আর গ্রিফিথ, এরা যেন একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ইয়িন-ইয়াং এর পারফেক্ট এগজাম্পল। তারা একজন আরেকজনের পরিপূরক, ”None can live while the other survives”.

এর আগে একটা রিভিউতে বলেছিলাম, এপিক শব্দটা বহু ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে গিয়েছে। বার্সার্ক আর এপিক, এই দুটো শব্দ সমার্থক। বার্সার্ক হল মাঙ্গা জগতের মহাকাব্য। এর জন্য কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

এখন কিছু ড্রব্যাক। বার্সার্ক প্রচণ্ড গোর, এবং ডার্ক একটা মাঙ্গা। গ্রাফিক আর ম্যাচিউর কন্টেন্ট প্রচুর, অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। কিন্তু এই মাঙ্গা না পড়া মানে আপনার আনিমে/মাঙ্গা জগতে বিচরন অসম্পূর্ণ থাকা।

ম্যাল রেটিং-৯.১৭
আমার রেটিং-
গল্প-৯/১০
আর্ট-১২/১০
ক্যারেক্টার-৯/১০
এনজয়মেন্ট-১৫/১০

গাটস-এক অনুপ্রেরণার নাম।গাটস-শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দৃঢ় সংকল্প থাকার নাম। গাটস-কখনোই হার না মানার নাম। গাটস-হার নিশ্চিত জেনেও লক্ষ্যের দিকে অবিচল থাকার নাম।

সম্মুখ পানে এগিয়ে চল গাটস! পাহাড় সমান বাধাকেও বাধা মনে কর না, দেখিয়ে দাও মানবতার শক্তি কত বেশি হতে পারে! কখনো গ্রিফিথকে ক্ষমা কর না! আর বিসর্জন দিও না তোমার মনুষ্যত্বকে!

 

এফ এ সি ৩০

রান্ডম টপিক

পম্পাদৌর[Pompadour]

 

 

আনিমেতে ডেলিনকোয়েন্টদের পছন্দের চুলের স্টাইল এর উত্পত্তি কিন্তু ফ্রান্সে, রাজা চতুর্দশ লুই এর রক্ষিতার নামানুসারে। পরবর্তীতে এলভিস প্রিসলি এই স্টাইলটাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। আপনি চাইলে বাড়িতে বসে এই স্টাইল করতে পারেন, কয়েক কেজি জেল লাগবে আরকি।

 

 

আনিমে সাজেশন

বেক[Beck]

 

ঘটনাচক্রে কোয়ুকির পরিচয় হয়ে গেলো রিউস্কের সাথে। তারা একটা ব্যান্ড খুলল, নাম বেক।এই গল্প বেকের সদস্যদের, তাদের স্বপ্ন, তাদের অনুভূতি, আশা আকাঙ্ক্ষা, আর সেই সাথে আছে কয়েক চিমটি রোমান্স।

 

কেন দেখবেন; মিউজিক জন্রার আনিমের কথা বললে বেকের নাম একদম শুরুর দিকেই আসবে। সাবলীল কাহিনী, শক্তিশালী ক্যারেক্টার, ভালো মিউজিক। এছাড়া আমার খুব পছন্দের একটা ফিমেইল ক্যারেক্টার আছে এই আনিমেতে, এমন স্ত্রং উইলড ফিমেইল ক্যারেক্টার সচরাচর দেখা যায় না।

কেন দেখবেন নাঃ মূলত স্লাইস অব লাইফ মিউজিক জন্রার আনিমে এটা, তুলনামূলক স্লো পেইসড। কাজেই শুধু শউনেন জন্রার ফ্যানরা পছন্দ করবেন বলে মনে হয় না।

 

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৭

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

স্ল্যাম ডাঙ্ক[Slam Dunk]

 

 

বাস্কেটবল ক্লাবে যোগ দেয়ার পিছনে হানামিচি সাকুরাগির কারণ ছিল একটাই, আর তা হল ক্লাবের ক্যাপ্টেন তাকেনরির বোনের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারা। ভয়াবহ ধরনের শো-অফ এই স্বঘোষিত জিনিয়াস কিভাবে শেষ পর্যন্ত তাঁর দু চোখের বিষ বাস্কেটবল খেলাটাকে ভালবেসে ফেলল?

 

 

কেন পড়বেনঃ আপাতদৃষ্টিতে প্লটটা বেশ সাধারণ, এবং বহুল ব্যবহৃত।  কিন্তু এর মধ্যেই তাকেহিকো ইনউয়ে তাঁর অসাধারণ মুনশিয়ানায় স্কুল লাইফ, বাস্কেটবল, রোমান্স, কমেডি, এই সব কিছুর দারুন সুন্দর সম্মিলন ঘটিয়েছেন। ভীষণ ডিটেইলড আঁকা, ম্যাচগুলো অসাধারণ, রিসেন্টলি মহা জনপ্রিয় হওয়া একটা বাস্কেটবল আনিমের মত এখানকার প্লেয়াররা জাদুবিদ্যা ব্যবহার করে না। ম্যাচগুলো এত আকর্ষণীয়, এত টুইস্ট আর টার্ন, কিছু ক্ষেত্রে দম বন্ধ করে থাকতে হয়। যারা আনিমে দেখেছেন, তাদেরও মাঙ্গা পড়া উচিত, কারণ সবচেয়ে এঞ্জয়েবল ম্যাচগুলোর একটা আনিমেতে দেখানো হয়নি। মোটের উপর, না পড়লেই মিস।

কেন পড়বেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৯৩

আমার রেটিং ১০

এফ এ সি ২৯

রান্ডম টপিক

নিট[NEET]
নিট এর এলাবোরেশন হলো নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট, অর ট্রেনিং। জাপানে এদের সংখ্যা প্রচুর, বিশেষ করে হিকিকোমরীরা এই “পেশা” বেছে নেই, আর বাবা-মার ঘরে চড়ে খায়. নিটদের নিয়ে খুব বিখ্যাত কিছু আনিমে আছে, যেমন ওয়েলকাম টু দ্য এন এইচ কে এবং ইডেন অব দ্য ইস্ট।
আমাদের দেশে অনেকে নিজেদেরকে ওতাকু বলতে গর্ববোধ করে, জাপান সরকার পারলে এই ওতাকুদের নির্বাসিত করত, কারণ ওতাকুদের বেশিরভাগই নিট, তারা দেশ ও জাতির বোঝা।

 

 

আনিমে সাজেশন

কাইজি[Kaiji]
ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাইজি যখন দিশাহারা, তখন তার কাছে প্রস্তাব আসল, এক জাহাজে উঠে জুয়া খেলার। কাইজির মতই ভাগ্য আরও অনেকের, তারা এই জুয়া খেলায় কাইজির প্রতিদ্বন্দ্বী। ভাগ্য বিড়ম্বিত কাইজি কি পারবে ঋণের বোঝা ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে?
কেন দেখবেনঃটানটান উত্তেজনাপূর্ণ এক সেইনেন সিরিজ, মাইন্ড গেইম আছে এর প্রতি পদে। দেখতে খুব মজা, দম ফেলারও জো নেই। খুব উপভোগ্য।
কেন দেখবেন নাঃ অতিরিক্ত লম্বা নাকের সাইজ, “তুলনামূলক” বাজে ভিজুয়াল আর অতিনাটুকেপনা।

 

ম্যাল রেটিং ৮,৩৮+৮.৩২

আমার রেটিং ওভারঅল ৯

 

মাঙ্গা সাজেশন

গার্লস অব দ্য ওয়াইল্ড’স[Girls of the Wild’s] 


ওয়াইল্ডস হল একটা অল-গার্লস স্কুল, যেটা রিসেন্টলি কো-এডুকেশন হয়েছে। এর মেয়েদের মধ্যে নিয়মিত টুর্নামেন্ট হয়, কে কত শক্তিশালী, তা দেখার জন্য। টুর্নামেন্টের বিজয়ী পায় “কুইন” উপাধি। ঘটনাচক্রে এই টুর্নামেন্টের অংশ হয়ে গেলো এক ছেলে, সং জায়। তারপর?
কেন পড়বেনঃ সম্পূর্ণ রঙিন মানহুয়া, ঝকঝকে প্যানেল, মারামারিগুলো খুব উপভোগ্য, আর ডিটেইলড। এই ধরনের মেয়েদের মারামারির মাঙ্গা আরও অনেক আছে, সেগুলোর সাথে ওয়াইল্ড’স এর তফাত হল, নন-এচি, মেয়েরা মারামারি শুরু করার সাথে সাথেই তাদের সব কাপড় মেইল ওডিয়েন্সের জন্য ”কনভেনিয়েনটলি” ছিড়ে যায় না। সময় সময় কোয়ালিটি গ্যাগ এলিমেনট।
কেন পড়বেন নাঃ কিছু ক্ষেত্রে বোরিং বা ”ড্র্যাগড আউট” মনে হতে পারে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৪

আমার রেটিং নেই, কারণ মাঙ্গা অনগোয়িং।

এফ এ সি ২৮

রান্ডম টপিক

রসনাবিলাস ১-কিটক্যাট

 

জ্বী হ্যা, কয়েকটা কলাম ওয়ালা সেই কুড়মুড়ে ওয়েফার জাতীয় স্ন্যাকের কথাই বলছি। কয় রকম ফ্লেভার খেয়েছেন কিটক্যাটের? চলে যান জাপানে, দেখবেন এই কিটক্যাটেরই কয় ধরনের ভ্যারিয়েশন। কয়েকটা নমুনা পাবেন এই লিঙ্কে। http://japanesekat.com/archive/kitkat/

 

আনিমে সাজেশন

গানগ্রেভ[Gungrave]

 

কতখানি ঘৃণা থাকলে প্রিয় বন্ধুকে হত্যা করার জন্য মৃতের দুনিয়া থেকে কেউ ফিরে আসতে পারে? তাই করল ব্র্যান্দন হিট, শুরু হল রক্ত আর বারুদের উৎসব!

 

কেন দেখবেনঃ মাফিয়া জগতকে নিয়ে অল্প যে কয়টা আনিমে আছে, তার মধ্যে গানগ্রেভ একটা। দারুন কাহিনি বিন্যাস, সেই সাথে দুর্দান্ত অ্যাকশান। ভালো লাগবেই। কেন দেখবেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.০৩

আমার রেটিং ৮

 

মাঙ্গা সাজেশন

রুরউনি কেনশিন [Rurouni Kenshin]

 

অতীতের ক্ষত গালে বয়ে বেড়ানো এক যাযাবর সামুরাই, কেনশিন। তার আসল পরিচয়? তর্কসাপেক্ষে জাপানের সেরা অসিচালক, যুদ্ধের সময় যার নামই হয়ে গিয়েছিল মানুষহন্তা। এরপর?

 

কেন পড়বেনঃ অসাধারণ অ্যাকশান আর কাহিনিবিন্যাস। দারুন আঁকা, বিশেষ করে চোখের এক্সপ্রেশনগুলো দারুন।সিরিজটার সাথে সবাইই কম্বেশি পরিচিত, কিন্তু আমি সাজেসট করছি মাঙ্গাটা পড়ার, কিওতো আর্কের পড়ে আরও একটা মেজর আর্ক থাকে, বিনোদনের দিক থেকে সেটা কোন অংশে কম নয়। হাজিমে সাইতো, আওশি শিনোমরি, এদের “ভাব”  দেখার জন্য হলেও মাঙ্গাটা পড়া উচিত।কেন পড়বেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৭৫

আমার রেটিং ১০

এফ এ সি ২৭

রান্ডম টপিক

আনিমিম ৩-মেইন ক্যারেক্টার সিট

আনিমেতে বেশিরভাগ মেইন ক্যারেক্টার এর সিট হয় ক্লাসরুমের একদম পিছনের সিটের আগেরটা, জানালার পাশে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, এতে আনিমেট করা সহজ হয়, এতে ব্যাকগ্রাউন্ড ক্যারেক্টার কম থাকে, তাই মেইন ক্যারেক্টার এর উপর ফোকাস থাকে বেশি। এছাড়া নায়ক জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে পারে, যা কোনো নতুন ঘটনার সূচনা করতে পারে।

এই সংক্রান্ত কিছু ছবি কমেন্টে।

 

 

আনিমে সাজেশন

 নিচিজৌ[Nichijou]

কয়েকজনের দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা নিয়ে এই আনিমে।

 

কেন দেখবেনঃসিনপসিস পড়ে একঘেয়ে বা বিরক্তিকর কিছু মনে হতে পারে, কিন্তু এটা স্লাইস অব লাইফ জন্রার মাঝে একটা জেম। সময়ে সময়ে সূক্ষ্ম ”পান”[Pun], মজার মজার সংলাপ, রান্দম কিউটনেস[মোয়েশিট না] আর চরিত্রগুলোর ভ্যারিয়েশন, সব মিলিয়ে স্লাইস অব লাইফ জন্রা যারা পছন্দ করেন, তাদের জিভে জল এনে দেয়ার মত এক আনিমে।

কেন দেখবেন নাঃমূলত স্লাইস অব লাইফ ফ্যানদের জন্য। অন্যরা দূরে থাকুন।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৮

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

মে-তেরু নো কিমোচি[Me-Teru no kimochi]

 

 

দ্বিতীয় স্ত্রীকে সন্তানের দেখভালের ভার দিয়ে এক হিকিকোমরির বাবা মারা গেলেন। ভদ্রমহিলা আবার তার সৎ ছেলের চেয়ে বয়সে ছোট। তাদের মধ্যে রসায়ন কেমন হবে?

 

কেন পড়বেনঃ গান্তজের মাঙ্গাকার আঁকা এই মাঙ্গা, বেশ আরাম পড়তে, স্লো পেসড একটা নট-সো-টিপিক্যাল স্লাইস অব লাইফ মাঙ্গা। পড়তে মন্দ লাগে না।

কেন পড়বেন নাঃ মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।

 

ম্যাল রেটিং ৬.৯৬

আমার রেটিং ৭

Shigofumi review by El Mattalisto Foysulivan Revnyster

অনেকদিন ধইরাই লিখব লিখব ভাবছিলাম।প্লান ও করে ফেলছিলাম কি নিয়া লিখব,আমার সবচেয়ে প্রিয় দুইটা অ্যানিমে Monster আর Natsume এর উপর।কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে(কারন আমার লেখার হাত তেমন ভাল না) অথবা দুর্ভাগ্যক্রমেই(সবচেয়ে প্রিয় দুইটা আগেই কইছি) যেইটাই হোক পরপর ২-১ দিনের মাঝে দুইজন লেইখা দিসিল(৩-৪ মাস আগে সম্ভবত)।যাই হোক এইটা আমার প্রথম কোন বাংলা রিভিউ আনিমে এর উপর।ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।

অ্যানিমেঃ শিগোফুমি (Shigofumi: Letters from the Departed)
জনরাঃ ড্রামা,ফ্যান্টাসি,সাইকোলজিকাল,থ্রিলার
পর্বঃ ১২
প্রচারকালঃ ২০০৮
প্রযোজকঃ J.C.Staff.
পরিচালকঃ তাতসুও সাতোউ (Tatsuo Satou)
ব্যপ্তিঃ ২৪ মিনিট প্রতি পর্ব
সেন্সরঃ আর ১৭+ (ভায়োলেন্স ও প্রোফ্যানিটি)

একজন মারা গেলেই কি তাঁর সবসময় সকল কিছুর পরিসমাপ্তি হয়? আর যমদূত এর আসবারও কোন নির্দিষ্ট টাইম-টেবল নাই। তাই কারো না বলা কিছু কথা থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক না,হয়তো কাছের কোনো মানুষ এর প্রতি রাগ,অভিমান,ভালবাসা বেঁচে থাকতে আর বলা হয় নি।কেমন হয় যদি সেইসব মৃত মানুষগুলার না বলা কথা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়?

এই অ্যানিমের গল্পপট তাঁর উপরেই ভিত্তি করে। মৃতদের এইসব চিঠিই হইল শিগোফুমি।আর এইসব চিঠিবাহক আমাদের গল্পের মূল চরিত্র মিকাওয়া ফুমিকা (Mikawa Fumika)।এইখানে মিনি-স্পয়লার হল মৃত্যু বরন করা মানুষরাই মূলত এইসব চিঠিবাহক।কয়েকটি ছোট গল্পের সমষ্টি নিয়ে আনিমেটি। মৃত্যু নিয়ে যেহেতু সম্পর্কিত তাই প্রতিটি গল্পেই রয়েছে মৃত মানুষটির ফেলে আসা জীবনের কাহিনী। আয়াসের উপর সউতার সিক্রেট ক্রাশ,আয়াসের অন্ধকার অতীত এবং অতঃপর… অথবা স্কুল এ নিত্যদিন সহপাঠীদের দ্বারা টিজিং এর শিকার, আত্মহত্তা,আরেক সহপাঠীর দেখেও না দেখার ভান করে যাওয়া,অথবা ক্যানসার এ আক্রান্ত এক গেম ডিজাইনার এর শেষ দিনগুলিতে ছোট্ট মেয়েটির সাথে কিছু স্মৃতি, এইরকমই কয়েকটা ছোট ছোট কিন্তু অসাধারন এপিসোডিক কাহিনীর সাথে সাথে ফুমিকার নিজের এবং কো-ওয়ার্কার চিয়াকির অতীত উন্মোচিত হয়েছে।

মাঝে ফুমিকো আর চিয়াকির বিচ-রিসোর্ট এ ভ্রমন এইরকম সিরিয়াস আর ড্রামাটিক টাইপ অ্যানিমেতে প্রথমে হাস্যকর লাগলেও অসাধারনভাবে তার সমাপ্তি করা হইছে।আর দেখতে গিয়ে চোখে জল আসতে পারে।
আনিমেটার সাউন্ডট্র্যাক গুলাও খারাপ না।একটু অন্যরকম ধরনের অ্যানিমে যাদের ভাল্লাগে,তাদের জন্য এটি।

মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৭৪
আমার রেটিং: ৯

এফ এ সি ২৬

রান্ডম টপিক

হেন্তাই উডি

 

 

জাপানের খেলনা কোম্পানি কাইয়াদো যখন টয় স্টোরি এর শেরিফ উডি ক্যারেক্টারটার ফিগার বের করল, তখন তারা চিন্তাও করেনি ফোরচানের পাল্লায় পড়ে এর কি অবস্থা হবে। উডির রিপ্লেসেবল ফেসপ্লেট বদলে যখন একান-ওকান ছোঁয়া হাসির ফেসপ্লেট বসানো হয়, তখন একে মনে হয় ভয়াবহ ক্রিপি কিছু একটা, সারাক্ষণ মাথায় বদমায়েশি ঘুরছে। ব্যস, তখন থেকে এর নাম হয়ে গেল হেন্তাই উডি।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

ফুলমেটাল প্যানিক[Full Metal Panic]

 

 

মিলিটারি এক স্পেশালিষ্ট সউস্কে সাগারার উপর দায়িত্ব পড়ল আপাত দৃষ্টিতে সাধারন মনে হওয়া কানামে চিদোরিকে রক্ষার। আর এই কাজ করতে গিয়ে তাকে অভিনয় করতে হল হাই স্কুলের এক ছাত্রের। মাছকে ডাঙায় ছেড়ে দিলে যা হবে, সাগারার অবস্থা হল তাই, যুদ্ধক্ষেত্রে অভ্যস্ত সাগারা হাই স্কুলে এসে বুঝল, এই জীবন অনেক বেশি কঠিন। ওদিকে হামলা চালাচ্ছে অজ্ঞাত পরিচয় শত্রুরা। ত্রাহি অবস্থা আর কি।

 

কেন দেখবেনঃ এফেম্পির ফার্স্ট সিজনের চেয়ে সেকেন্ড সিজন[দ্য সেকেন্ড রেইড] আর সাইড স্টোরি [ফুমোফু] অনেক বেশি ভালো, ফুমোফু তো আমার দেখা সেরা কমেডি সিরিজগুলোর একটা। কিভাবে তুলনামুলক বাজে ফার্স্ট সিজন থেকে সেকেন্ড সিজন বানানো যায়, এটা দেখার জন্য হলেও এফেম্পি দেখা উচিত।

কেন দেখবেন নাঃফার্স্ট সিজন যথেষ্ট বিরক্তিকর।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯৪+৮.১৮+৮.৩৪

আমার রেটিং ৮+৮+৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

প্লুটো[Pluto]

 

 

জাপানে যাকে বলা হয় আনিমের ধর্মপিতা, মাঙ্গার জনক, সেই অসামু তেজুকার আস্ত্র বয়[Astro Boy] মাঙ্গার একটা আর্ক থেকে উরাসাওয়া নাওকির আঁকা রহস্য জন্রার মাঙ্গা।

 

কেন পরবেনঃ উরাসাওয়া নাওকির মাঙ্গা, ইনাফ সেইড।

কেন পড়বেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৫৯

আমার রেটিং ৯