Kabaneri of the Iron Fortress [রিএকশন/রিভিউ] — Amor Asad

Kabaneri

আসুন, Kabaneri of the Iron Fortress কে কয়েক বাক্যে প্রকাশ করি —
অভিমান জমিয়ে রাখা, চুলে আলতা মাখা, ফাদার-কমপ্লেক্সে ভোগা ভালোবাসাহীন তরুণ, যে পোস্ট অ্যাপাক্যালিপ্টিক যুগের ডারউইন হতে চায়;
ডারউইন তরুণকে কাঁচকলা দেখাতে বেদুইনদের উত্তরসূরি-স্টাইলিশ-নার্ড কিশোরের ওয়ান ম্যান অ্যর,
এনিমখোরের ললিখোরদের উস্কে দিতে মারকুটে পিচ্চি বালিকা, যার আবার ব্রাদার কমপ্লেক্স আছে,
সুন্দরী প্রিন্সেস আর তাঁর লজ্জ্বাবতী বডিগার্ড,
টাইটানদের উত্তরসূরি লটস অফ লাভাখোর মরা মানুষ, ব্যাডঅ্যাস ট্রেইন।

মানে, হেটাররা এমনটাই ভাবে। আমি ভাবিনা। কাবানেরি অফ দ্য আয়রন ফোর্ট্রেস আমার দারুণ ভাল্লাগছে। এইতো ওপেনিং সংটা ডাউনলোড করে রিপিট দিয়ে শুনছি। পিসি আর ফোনের ওয়ালপেপার চেঞ্জাইলাইছি। স্বয়নে স্বপনে ইউকিনাকে দেখতেছি। ফ্যান না হইলে এই কাজ কেউ করে?

এবারে Kabaneri of the Iron Fortress এর প্লট কয়েক বাক্যে প্রকাশ করি —
জোম্বি ভাইরাস অ্যাপোক্যালিপ্স,
মানব সভ্যতা বিলুপ্তির পথে,
সারভাইভাররা নিজস্ব অর্ডার বানিয়ে নিয়েছে,
কিন্তু না — আশার বাত্তি নিভে নাই, ডালমে কুছ কালা হ্যায়, মিশ্র একদল শক্তিশালী আদমি আছে।
তাগো ভীতর একজন আবার এক্সট্রা ব্যতিক্রম। দুনিয়ার যাবতীয় দায়িত্ব তেনার ঘাড়ে নিয়ে বাকীদের তিনি দায়মুক্তি দ্যান।

অ্যাগেইন, এসব হেটারদের কথা। আমার না।
===
2013 সালে একটা সাই-ফাই মুভি রিলিজ পেয়েছিলো, Snowpiercer. ওই বছরের দারুণ ফিল্ম হলেও তেমন সাড়া পায়নি। স্নোপিয়ার্সারের গল্পটাও ট্রেনে। মানব সভ্যতা চিরস্থায়ী শীতকালের বশবর্তী, পৃথিবী বাসের অনুপযোগী। সারভাইভাররা সবাই একটা জায়ান্ট ট্রেনে উঠে বছরের পর বছর ঘুরতে থাকে। যদিও ওই মুভির বাকি সব গল্প আলাদা, কাবানেরি দেখতে গিয়ে প্রথমেই ওটার কথা মনে পড়েছিলো।

এরকম দ্রুতলয়ের কিছু দেখতে আলাদারকম ভাল্লাগে। অনেকদিন পর কোন অ্যানিমে এক বসায় শেষ করেছি। তাই হয়তোবা শেষের দিকে গোঁজামিল বা রাশড হবার পপুলার দাবীর যথাযথতা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমার কাছে পুরো অ্যানিমেই সমান ভালো লেগেছে। সত্যি বলতে, ক্লিশে গুলো বাদ দিলে কাবানেরি দারুণ উপভোগ্য। চমৎকার অ্যানিমেশন, উত্তেজনাকর অ্যাকশন সিকোয়েন্স, সেই সাথে রক্ত গরম করা মিউজিক স্কোর। বিশেষ করে গল্পকথনের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের এমন সামঞ্জ্যতা সহসাই দেখা যায় না। শেষবার এই টালমাতাল অনুভূতি পেয়েছিলাম ম্যাড ম্যাক্স ফিউরি রোডে। কাবানেরির ওএসটি নামিয়েছি, কিন্তু কেবল OP টাই শোনা হয় কেন যেন।
সেই সাথে সিনেম্যাটোগ্রাফি ছিলো বোনাস, ফাঁকা দুনিয়ার মাঝখান দিয়ে ট্রেইন ছোঁটার, বিশেষ করে এপিসোড শেষে স্টেশন থেকে কোন মতে জান নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার অংশটুকু যেন অনেকটাই পোয়েটিক – দেয়ার গোজ দ্য লাস্ট হোপ অফ সারভাইভাল।

কাবানেরি পছন্দ হবার আরেকটা কারণ হচ্ছে, আডিওলোজির কনফ্লিক্ট দেখলে ভাল্লাগে, যতই পুরনো হোক না কেন। আমাতরি বিবার দর্শনটা ফেলে দিতে পারিনি। বিভিন্ন সিচুয়েশনে তাঁর ভাবনার ধরণই বেশী গ্রহণযোগ্য মনে হয়। আবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইকোমা নিজ অবস্থানে ঠিক আছে, ইকোমা সেটা ইঁদুরের মতো চিঁ চিঁ করে বললেও।

Attack on Titan এর সাথে Kabaneri of the Iron Fortress এর মিল আছে, তবে অমিলই বেশী। এটা ওটার ছোট ভার্সন, ছোট ভাই, সেকেন্ড ভার্সন – ইত্যাদি বক্তব্য ভিত্তিহীন মনে হয়। AOT থেকে Kabaneri কোন দিক দিয়েই লেসার অ্যানিমে না, বরঞ্চ কিছু দিক দিয়ে এগিয়েই থাকবে।

আমার রেটিং ৮/১০

Akatsuki no Yona [রিভিউ] — Etminan Kabir

Akatsuki no Yona

Anime: Akatsuki no Yona
Episode: 24 (S1)

শুরুতে ২টি কথা-
১। ছোটবেলা থেকেই রুপকথার গল্পের প্রতি আমার বিশেষ মোহ ছিল, এ নিয়ে দেশী-বিদেশী অনেক বই পরেছি।
২। যে কোন সিরিজে আমি খুব চাই হাসির উপাদান থাকুক যাতে প্রাণ খুলে হাসতে পারি, কিন্তু কেন যেন খুব কম এনিমে দেখে আমি সত্যিকার অর্থে তৃপ্তি পেয়েছি। অনেক নামি-দামি হাস্যকর এনিমে- সবার মুখে প্রশংসা, কিন্তু দেখা যায় আমার বিরক্তি লেগেছে।

Spoiler-free summary: যুদ্ধ-বিরোধী রাজার একমাত্র আদরের মেয়ে Yona. তার চিন্তামুক্ত বিলাসী জীবন হঠাৎ একদিন তছনছ হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে Yona তার বিশ্বস্ত সঙ্গী Hak এর সাথে পালিয়ে যায় রাজ্য ছেড়ে। ধীরে ধীরে সে রাজ্যের বাইরের নিষ্ঠুর বাস্তবতার সাথে পরিচিত হতে থাকে, দেখা যায় একসময়ের আহ্লাদী রাজকন্যা ‘strong’ হওয়ার জন্য কীভাবে সংগ্রাম করে চলে, আর তার দল ভারি হতে থাকে mythical সব চরিত্র দিয়ে।

সিরিজের একটা ব্যাতিক্রম ব্যাপার হল এর ভিলেন। অন্যায়ভাবে সে সিংহাসন দখল করে ঠিক, কিন্তু এরপর রাজ্যের জন্য দক্ষতার সাথে এমন কিছু কাজ করে যে চাইলেও তাকে ঘৃণা করা যায় না, দ্বিধায় পরে যেতে হয়।

আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এর কমেডি অংশ। chibi আর কণ্ঠ পরিবর্তন করে একদম সঠিক সময়ে এত সুন্দরভাবে সেগুলো উপস্থাপনা করা হয়েছে যে হাসি আসতে বাধ্য। opening theme 2 এ কিছু একটা ছিল যার জন্য নেশা হয়ে গিয়েছিল।

আমি adventure এনিমে খুব বেশি দেখি নি, তবুও বলতে পারব- তাদের অভিযান ছিল সতেজতায় ভরা। এনিমের সবকিছুই আমার কাছে perfect মনে হয়েছে। I enjoyed every single second of the series.

Adventure, Comedy, Fantasy পছন্দ থাকলে এটা ‘must watch’ একটা সিরিজ।

Enjoyment: 9+ (কাহিনী শেষ হয় নি, নাহলে ১০ হতেও পারতো)
অতিরিক্ত কথা- অনেকদিন পর MAL এ গিয়ে ‘favourites’ list edit করতে পারলাম।

প্লানেটিস [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Planetes 1

*** ঈদ স্পেশাল এনিমে রিকমেন্ডেশন+ ছোট এনিমে রিভিউ****

এনিমে: প্লানেটিস (Planetes)
জনরা: সাই-ফাই,ড্রামা,রোমান্স,সেইনেন,স্পেস
এপিসোড: ২৬
স্টুডিও: সানরাইজ

মহাকাশ নিয়ে মানুষের আকর্ষণ সেই আদিমকাল হতেই। মানুষ প্রতিনিয়তই চাইছে মহাকাশের সকল অজানাকে জানতে, মহাকাশের অজানা স্থানগুলো সবার আগে আবিষ্কার করতে ।যা Star Trek এর Captain Kirk এর ভাষায়, “To boldly go where no man has gone before”। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় হয়ত মানুষ এতে সফলও হবে। যখন মহাকাশ যাত্রা শুধু স্বপ্ন থাকবে না, হবে বাস্তব। তখন কিরকম হবে আজকের পৃথিবী? তখন মানুষের জীবনধারাই বা কেমন হবে?

Synopsis:
সাল ২০৭৫। মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি করেছে। চাঁদ কিংবা মঙ্গলে যাওয়া এখন আর কোনো স্বপ্ন নয় বরং অনেক বাস্তব! এতটাই বাস্তব যে চাঁদ এখন মানুষের ছুটি কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা!! কি নেই এখানে? দালানকোঠা, হাসপাতাল,গবেষণাগার সবই আছে।আরও আছে এই চাঁদ আর পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থানরত অসংখ্য স্পেস স্টেশন ও কৃএিম উপগ্রহ। মানুষ আছে, এতশত জিনিশ আছে, আর আবর্জনা থাকবে না? তা কখনো সম্ভব?

আবর্জনাও আছে। কিন্তু এই আবর্জনা স্পেস ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি বড় বাধা কেননা সামান্য আবর্জনা থেকেও ঘটতে পারে বিশাল দূর্ঘটনা। আর এসব আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তাদের বলা হয় ডেব্রি(Debris) কালেক্টর।
স্পেস স্টেশনগুলোতে থাকা হাজারো কোম্পানীর মাঝে একটি – “টেকনোরা”-‘র ডেব্রি সেকশনে নতুন যোগদান করল জাপানী তরুণী ‘আই তানাবে’। তার নতুন কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে যা ধারনা ছিল তা প্রথম দেখাতেই তা সম্পূর্ণ বদলে গেল।পৃথিবীতে আবর্জনা পরিস্কারকারীদের মত মহাকাশের আবর্জনা পরিস্কারকারীরাও অবহেলিত,সকলের হাসির পাত্র।যদিও তারাই জীবন বাজী রেখে এই কঠিন কাজ করে যাচ্ছে। এই অচেনা পরিবেশে, অচেনা সহকর্মীদের সাথে জীবনযাপন, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার – ‘আই তানাবে’ এর এই পথচলাকে কেন্দ্র করেই তৈরি ‘প্লানেটিস’, যা একইসাথে স্বপ্ন,জীবন,বাস্তবতা আর একটি মিষ্টি ভালোবাসার গল্প।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
‘প্লানেটিস’ এর বড় শক্তি এবং আকর্ষনীয় দিক এর গল্পের বাস্তবিকতায়। সাল ২০৭৫ নিয়ে চিন্তা করতে গেলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হাই টেক গ্যাজেট কিংবা সম্পূর্ন রোবট নির্ভর একটি পৃথিবীর চিত্র। কিন্তু আদতেই কি আমরা তাই পাব? উত্তরটা না বোধকই হওয়ার কথা।কেননা এত স্বল্প সময়ে এতটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। কেমন পৃথিবী পাবো সম্ভবত তার সবচেয়ে আদর্শ রূপটাই তুলে ধরেছে প্লানেটিস।তাছাড়াও প্লানেটিস বিজ্ঞাননির্ভর।প্রায়ই সাই-ফাই এনিমেতে বিজ্ঞানের সূত্রকে তূড়ি মেরে বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়।কিন্তু প্লানেটিসে অনেকটা বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই সবকিছু যেমন: গ্র্যাভিটি, স্পেস স্টেশন,স্পেস ওয়াক, স্পেস সিকনেসের মত বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবার আসি গল্পে। পুরো এনিমেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশকে অনেকটা এপিসোডিক স্লাইস অফ লাইফ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই এপিসোডিক পর্বের মধ্যে চরিত্রদের মধ্যকার ইন্টারেকশন গুলোই গল্পের পরবর্তী অংশের জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।দ্বিতীয় অংশ টা অনেক ডার্ক, রোমান্চকর এবং চিন্তাউদ্দোপক। যাতে আছে পুঁজিবাদ,সাম্রাজ্যবাদ, রাজনীতি,জীবন শিক্ষা এবং মিষ্টি ভালোবাসার ছোয়াঁ। এত সবকিছু খুব সুন্দরভাবে কোনো ফ্ল ছাড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এ অংশ অনেকটা এই বার্তাই দিয়ে যায় যে, পৃথিবীর বাহ্যিক পরিবর্তন যতই ঘটুক না কেন ভেতরটা সেই আগের মতই থাকবে।আর এন্ডিং নিখুঁত।এর থেকে ভালো এন্ডিং হতে পারেনা।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে প্রধান ক্যারেক্টার হিসেবে তানাবে আর হাচিমাকিকে দেখানো হলেও এনিমের প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রায় প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টই ছিল অসাধারন যা সচরাচর দেখা যায় না। স্পেশালি হাচিমাকির ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা বেস্ট ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের মধ্যে একটি।একগুঁয়েমিতা ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে দৌড়ানো, নিজের ভয়কে জয় কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট পেসে খুব সুনিপুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া তানাবে, ফি, ইউরিরাও ক্যারেক্টার হিসেবে ছিল অসাধারন।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
নিঃসন্দেহে সানরাইজ স্টুডিও এর বেস্ট কাজগুলোর একটি প্লানেটিস। আর্ট, আ্যনিমেশন, ক্যারেক্টার ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন সবকিছুই টপনচ ছিল।

কিছু কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশন যেমন স্পেস থেকে দেখা সূর্যোদয়ের দৃশ্য, স্পেস স্টেশনের দৃশ্যগুলো দূর্দান্ত ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমেতে ওপেনিং হিসেবে আছে Mikio Sakai এর “Dive in the Sky” এবং ১ম এন্ডিং হিসেবে আছে একই গায়িকার “Wonderful Life”। দুটোই মোটামুটি ভালো। তবে প্লানেটিসের আসল আকর্ষণ এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে ‘Hitomi Kuroishi’ অসাধারন কাজ করেছেন। ইন্সার্ট সং হিসেবে থাকা তার গাওয়া “A secret of the moon” এবং দ্বিতীয় এন্ডিং “Planetes” সারাদিন লুপ দিয়ে শোনার মত গান।

এন্জয়মেন্ট:
ভাল এনিমে খুজঁছেন? সাই-ফাই লাভার? স্পেস বিষয়ক জিনিস ভালো লাগে? হলিউডের “গ্র্যাভিটি” মুভির ভক্ত? ক্লিশে শৌনেন, স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রেম দেখতে দেখতে বিরক্ত? প্রিয়তমাকে ভিন্নভাবে প্রেম নিবেদন করতে চান?

সোজা দেখতে বসে যান এই মাস্টারপিস এনিমেটি।ইউনিক স্টোরি, অসাধারন এক্সিকিউশন,সুথিং মিউজিক, দূর্দান্ত ক্যারেক্টার সমৃদ্ধ এই এনিমেটি আপনাকে হাসাবে,নতুন করে ভাবাবে,মনে রোমান্চ জাগাবে এবং শেষে প্রশান্তি জোগাবে। এজন্যই ‘প্লানেটিস’ অনন্য, পার্ফেক্ট এনিমে এবং ট্রু মাস্টারপিস। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন ‘প্লানেটিস’।

MyAnimelist Rating: 8.30
Ranked: #160
Personal Rating: 10

Planetes 2

Hotarubi no Mori e [মুভি রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

ছোট্ট হোতারু বনে হারিয়ে গেছে, বাড়ি ফেরার কোনো উপায় পায় না। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হঠাৎই আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন, মুখ ঢাকা মুখোশে। নাম গিন।

গল্পটা কোনো এক গ্রীষ্মকালের। সে’বার হোতারুকে বাড়ি যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছিল গিনই। ভালো বন্ধু হয়ে যায় তারা।

মজার ব্যাপার হলো, গিনকে স্পর্শ করা যায় না। কোনো মানবসন্তান যদি ওকে ছুঁয়ে দেয় তাহলে ও অবলিটারেটেড হয়ে যাবে।

Hotarubi no Mori e

Title: Hotarubi no Mori e (蛍火の杜へ)
Alternative Title: Into the Forest of Fireflies’ Light
Release Date: September 17, 2011
Director: Takahiro Omori
Music: Makoto Yoshimori
MAL: 8.63 (http://myanimelist.net/anime/10408/Hotarubi_no_Mori_e)
Running Time: 44 min
Genre: Romance, Supranatural, Drama
Studio: Brain’s Base

কিছুটা অটোকনক্লুসিভ এই মুভির সোর্স হলো ইয়ুকি মিদোরিকাওয়ার সেম টাইটেল্ড ওয়ান-শট ম্যাঙ্গা। গল্পের সাথে রিলেটেড কীপসেক এডিশন ম্যাঙ্গাও রিলিজ পেয়েছিল যদিও। যারা ম্যাঙ্গাকাকে চেনেন না, তাদের বলি, নাতসুমে ইয়ুজিনচৌ – এর স্রষ্টা তিনি। মুভিটা যথেষ্ট প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয় দেশে বিদেশে। গল্পের সেটিং ছিল জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারের কামিশিকিমি কুমানোয়মাসু শ্রাইন।

জাপানীজ ফোকলোর, মিথোলজি বা ফ্যান্টাসির গল্পে অ্যাডাপ্টেশন খুব বিরল কিছু না। হোতারুর পারসপেক্টিভ থেকে বলতে চাওয়া গল্পতে মানুষ এবং অতিপ্রাকৃত সত্তার সম্পর্ক উঠে এসেছে। আর্টওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো। রং ব্যবহারে কোমলতা, আলোর প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো। এবং সব ফিগারই চমৎকারভাবে ডিটেইলড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্রেইন’স বেস তাদের অ্যাবিলিটি দেখিয়েছে বটে। অ্যানিমেশন ক্রুরা মুভিটা তৈরির পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। ছোট ব্যাপ্তির এই মুভির কাহিনীতে দর্শক ডুবে যায়, বশীভূত হয় আবেগের। মুভিতে পুরোটা সময় জুড়ে একটা সারল্য বিরাজ করে। হায়াও মিয়াজাকি বা মাকোতো শিনকাইয়ের কাজ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন। সেইয়ুদের কাজও চমৎকার হয়েছে। হোতারুর ভয়েস দিয়েছে আয়ানে সাকুরা, গিনের কোউকি উচিইয়ামা।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই ইনটেন্স। এক একটা দৃশ্যের সাথে এর মিউজিক যে প্রণোদনা সৃষ্টি করে তা লিখে বোঝানো সম্ভব হবে না কখনোই। এন্ডিং সংটা মনে দাগ কেটে যায়। মেলানকোলিক আবহে ইনস্ট্রুমেন্ট প্লেয়িং — লিরিক্যাল থিমকে রিফ্লেক্ট করেই তা করা। ট্র্যাকটা শুনতে শুনতে ঘণ্টার পর ঘন্টা পার করেছি। শিজুরু য়ুকাতার গাওয়া “Natsu wo Miteita” ঠিক এতটাই প্রিয়। গল্পের প্রগ্রেশনের সাথে সাথে পিয়ানো আর ভায়োলিনের শব্দব্যঞ্জনা আচ্ছন্ন করে রাখে দর্শককে। কাহিনীর সারল্য, উত্তেজনাশূন্য শান্ত সময়কে ডিপিক্ট করতে বা রোমান্টিসিজমে — হোতারুবি নো মোরি এর সাউন্ডট্র্যাক অসম্ভব ব্রিলিয়্যান্ট কিছু কাজের একটি। ব্যাকগ্রাউন্ডে যখন “Kanakana Shigure” প্লে হচ্ছিল, আবেগে, অবসন্নতায় চোখ বুজে ফেলেছিলাম।

কাহিনীর প্রাঞ্জলতা একটা রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করে। মুভিটা দেখতে বসে রিল্যাক্সড ফিলিংস চলে আসাটা অসম্ভব কিছু না। এই মুভির একটাই নেগেটিভিটি — শর্ট লেন্থ।

আর কোনো মুভিতে নায়িকা মনে হয় না এতবার ধপাস করে পড়ে গেছে, রেকর্ড বটে! রোমান্স জনরাতে খুব প্রিয় কিছু মুভির মাঝে এটা একটা। এতটা ভালোলাগা আর কখনোই কাজ করেনি।

কেউ কাউকে ছুঁয়েছে কি ছোঁয়নি, গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে, চেতনার গভীরে।

Yami Shibai [রিভিউ] — Tabassum Tasnia Wasika

Yami Shibai 1

নাম: Yami Shibai/Theatre Of Darkness/অন্ধকারের নাট্যশালা
জনরা: Supernatural, Horror
সিজন সংখ্যা: 3
এপিসোড সংখ্যা: 13 + 13 + 13 = 39
প্রতি এপিসোড এর সময়সীমা: 4 to 5 minutes
উৎপত্তি কাল: 2013-2015
Myanimelist.com rating: 7.2/10
Personal rating: …..
Season 1: 6/10
Season 2: 6.8/10
Season 3: 7.2/10

আশা করি আপনাদের কারও ভূত দেখার দুরভাগ্য হয়নি৷ এটা যে কতখানি দুরভাগ্য বয়ে আনতে পারে Yami Shibai তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ৷
Yami Shibai বেশ অন্যরকম ১ টি এনিমে ২ টি কারনে৷ ১ হল … এর animation আর উপস্থাপনা Kamishibai ভঙ্গীতে ৷দেখলে মনে হবে কাগজ আর কাঠি দিয়ে বানানো character গুলো ৷
২ হল … প্রতিটি গল্পই জাপানি Myth, Folklore,Rumor থেকে নেওয়া ৷ যার মানে কিছুটা সত্যি হয়তো এতে আছে!

Yami Shibai 2

এর প্রতিটি এপিসোডে ১ টি করে নতুন গল্প বলে একজন Masked Storyteller. সিজন ৩ এ অবশ্য তার বদলে খুবই অদ্ভুতুড়ে ১টি ছেলেকে দেখা যায় যে কিনা ঠান্ডা মাথায় ভয়ংকর সব ভূতের ছবি আঁকে ৷

তাছারা…Season 1 & 2 এর ending song গেয়েছে Hatsune Miku ৷

Yami Shibai এর প্রথম ২ সিজনে কয়েকটা এপিসোড বেশি ভয়ের না ৷ দেখলে মনে হবে, “হায় হায় ! এর থেকে ভাল গল্প তো আমি নিজেই বানায় বানায় বলতে পারি! এটা কিসু হইল? ” তবে সিজন ৩ এর প্রতিটা এপিসোডই আতংকের কারন হতে পারে ৷
সব মিলিয়ে এই exceptional anime টা আমার অনেক ভাল লেগেছে ৷ ঈদে যেসব পিচ্চি “ভূতের গল্প… ভূতের গল্প বলোওওও… ” বলে মাথা খারাপ করে ফেলে… তাদের উচিৎ শিক্ষা দেয়ার মত কিছু হাতিয়ার আমি পেয়ে গিয়েছি!

FINALLY … কিছু আজাইরা কথা বলে শেষ করে দিচ্ছি … ৫ বছর আগে আমরা বসা বদল করি ৷বদলানোরপরের দিনই ভুল করে আমি স্কুল থেকে পুরানো বাসাতে চলে আসি ৷ ফেরৎ যাওয়ার বদলে শেষ বারের মত বাসাটা ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করল ৷ তাই garage এর ভিতর দিয়ে ভাঙা দরজা গলে ঢুকে পরলাম ৷ dining room এ গিয়ে বল্লাম … কেউ আছেন? আমাকে অবাক করে দিয়ে কোথা থেকে ১ টা বিরাল এসে আমার পাশ কাটিয়ে গেল ৷ কিছু দূর গিয়ে ফিরে তাকালো ৷ তবে দৃষ্টিটা আমার ঠিক পিছে গিয়ে ঠেকেছে ৷ মনে পরল মাঝে মাঝে আমার পোষা টিয়াটাও এভাবে তাকাতো আমার দিকে ৷আরও মনে পরল এই বারির বেশ দুরনাম আছে ভুতের বারি হিসেবে ৷যদিও এতগুলো বছর যখন থেকেছি হাজার চেষ্টার পরও কিছু দেখিনি ৷ তবুও দ্রুত চলে আসলাম ৷ দরজা বন্ধ করার সময়ে স্বভাব মত সালাম দিলাম ৷ আর তখনই প্রথম বারের মত খালি বারি থেকে উত্তর এল… ওয়ালাইকুম আস্ সালাম!
আমার মনের ভুল ভেবে উরিয়ে দিতে পারেন ৷ কিছু মনে করব না ৷

Yami Shibai 3

ভাহলিয়া নো হানামুকো [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Vahlia no Hanamuko

ভাহলিয়া নো হানামুকো
জানরাঃ হিস্টোরিক্যাল, ফ্যান্টাসি, রোমান্স, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৪
ভলিউমঃ ১
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৭৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

“আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে” খ্যাত মাঙ্গাকা আকিযুকি সোরাতার ৪টি আলাদা ওয়ানশটের সংকলন ভাহলিয়া নো হানামুকো মাঙ্গাটি। খুব সম্ভবত ওনার প্রথম প্রকাশিত মাঙ্গা ছিল এটি। তবে এই মাঙ্গার হাত ধরেই ওনার মাঙ্গাকা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল কিনা তা ঠিক নিশ্চিত না। ৪টি ওয়ানশট এবং সেগুলোর গল্পঃ

#১। ভাহলিয়া নো হানামুকো/হানামুকো’স ব্রাইডগ্রুম

রুজিরিয়া বংশের জ্যেষ্ঠ কন্যা ভাহলিয়া ছোট থাকতেই তার বাগদান হয়েছিল কালস্ড বংশের জ্যেষ্ঠ পুত্র জিরুর সাথে। কিন্তু বলা নেই কওয়া নেই হুট করেই জিরু নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এদিকে তাদের বিয়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। তাই এক মাস আগে ভাহলিয়ার নতুন বাগদত্তা হল জিরুর ছোট ভাই লুসেল। কিন্তু বিকল্প হিসেবে লুসেলকে বিয়ে করতে রাজি নয় ভাহলিয়া। জিরুর জন্য অপেক্ষা করাটাও হবে বোকামি। তাই বাগদানের উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝে রাত্রে বেলা ভাহলিয়া চুপটি করে বেড়িয়ে পড়ল জিরুর খোঁজে। সাথে যোগ দিল লুসেল।

#২। রিঊ নো মোরিউতা/লুলাবাই ফর এ ড্রাগন

“হেভেনলি ড্রাগন” হল সাগর এবং দ্বীপের রক্ষাকর্তা। ১৫০ বছর আগে এই স্বর্গের ড্রাগনরা হারিয়ে ফেলেছিল তাদের প্রাচীন বাসস্থান। এরপর পৃথিবীতে নেমে এসেছে এক ড্রাগনের সন্তান। লোককথা অনুসারে এই মানবরূপী ড্রাগন কিতো কিছু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে একদিন নতুন হেভেনলি ড্রাগন হিসেবে জেগে উঠবে। তারপর আবারও রক্ষা করবে পৃথিবীকে। কিতোর পূজারী শুয়েন আর আর কিতো অপেক্ষায় আছে সেই দিনটির যেদিন কিতো ড্রাগন হিসেবে জাগ্রত হবে।

#৩। গিনসেকাই নো শৌমেই/দ্যা স্নোকেপ’স এমব্লেম

এক তুষারময় প্রান্তরে আলযা একাকী বাস করে। হঠাৎ একদিন সেখানে অচেতন অবস্থায় তুষারের মাঝে পড়ে থাকতে দেখে এক মেয়েকে। জ্ঞান ফিরলে মেয়েটি জানায় তার নাম রিয়াহ এবং সে এসেছে দূরে দেখা যাওয়া জাদুর শহরটি থেকে। কিন্তু এতদূরে তুষারের ধূধূ প্রান্তরে সে কিভাবে হাজির হল সেটাই একটা রহস্য। আলযা জাদু ব্যবহার করতে মানা করে দেয় রিয়াহকে। জাদুর শহরে বেড়ে ওঠা রিয়াহ আবিষ্কার করে জাদুহীন পৃথিবীটাও কতটা সুন্দর হতে পারে। কিন্তু আলযা কেন জাদুকে এতটা অপছন্দ করে? রিয়াহ শরীরে আঘাত নিয়ে জাদুর শহরে থেকে কেমন করে এল এখানে? সেখানে ফিরে গেলেই বা কি হবে?

#৪। ওতোগিবানাশি নো ফুদে/দ্যা ব্রাশ অফ এ ফেইরি টেল

অনেক অনেক কাল আগে কোন এক গ্রামে নদী-নালা, হ্রদ আর তৃণভূমি ছিল। এখন শুধু সেই বিশাল সবুজ তৃণভূমিই গ্রামের ছবির মত সৌন্দর্য বহন করে। এই শুকিয়ে যাওয়া গ্রামটিকে ৩০০ বছর ধরে আগলে রেখে দেবতারা। এখানে একটি পবিত্র গাছের মূলের চারদিকের লেখাগুলো চুক্তি হিসেবে গ্রামটিকে দেবতাদের সাথে বেঁধে রেখেছে। সাসারা য়ূকেইয়ের দায়িত্ব মিশে যাওয়া লেখাগুলো আবার নতুন করে তুলি দিয়ে লিখে দেওয়া। একদিন তার কাজ করতে গিয়ে হঠাৎই গাছের ভেতর সে দেখা পেয়ে গেল জল দেবীর। একাকী জল দেবীর কথা বলার সঙ্গী হল য়ূকেই। কিন্তু যে কাজ করে য়ূকেই ভেবেছিল সে জল দেবীকে রক্ষা করছে ব্যাপারটা কি আসলেই তাই?

গল্পগুলো একটা অপরটার সাথে সম্পর্কহীন। তবে এই ছোট গল্পগুলো প্রতিটিই খুব সুন্দর। বেশির ভাগ ওয়ানশট পড়লে মনে হয় সেগুলো ওয়ানশট বানানোর জন্যই তৈরি হয়েছে। মাঝ খান দিয়ে কোন এক জায়গা থেকে শুরু হয়ে ধুমধাম কাহিনী আগায় তারপর শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই ওয়ানশটগুলো পড়লে মনে হয় একটা পুরা মাঙ্গাই যেন এক চ্যাপ্টারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা খারাপ অর্থে নয়। এটার প্রতিটা ওয়ানশটই নিজ নিজ আলাদা মাঙ্গা পাবার মত যোগ্য। একেকটা চ্যাপ্টার পড়ে অর্থহীন মনে হয় না। শৌজো হলেও এগুলো ঠিক রোমান্টিক না, রূপকথার গল্পের মত। পড়তে পড়তে আপনি গল্পের সাথে মিশে যাবেন। চরিত্রগুলোকে দেখলেও মনে হবে না যে তাদের নিজের কোন ব্যক্তিত্ব নেই। আর একটি চরিত্রের সাথে আরেক চরিত্রের সম্পর্ক, বন্ধন এগুলোও অল্পের মধ্যেই বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিটি গল্পের সেটিংও অভিনব। সাথে তো আকিযুকি সোরাতার জাদুকরী আর্ট আছেই! সাধারণত দেখা যায় যে সব মাঙ্গাকার আর্টই শুরুর দিকে ভয়াবহ থাকে। তারপর বছরের পর বছর আঁকতে আঁকতে তাদের আর্ট ভালো পর্যায়ে আসে। অবাক করা ব্যাপার হল এখানে সোরাতার আর্ট এত বেশি নিখুঁত আর চমৎকার যে দেখলে কেউ বলবে না এটা তার প্রথম মাঙ্গা। উনি যেন জন্ম থেকেই পেশাদার আর্টিস্ট!! তার চরিত্র এবং পোশাক-পরিচ্ছদ আঁকার যে নিজস্ব ধরণ আছে তাও একদম এখান থেকেই শুরু হয়েছে। গল্প, সেটিং, আর্ট, চরিত্র সবদিক থেকেই উনি এত নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন যে কয়েক বছর পর ভবিষ্যতে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মত একটি অসাধারণ মাঙ্গা যে আমাদের উপহার দিতে যাচ্ছিলেন তার পুর্বাভাসই যেন দিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যস্ততার মাঝে বা সময় কাটানোর জন্য যদি ছোট কোন মাঙ্গা পড়তে ইচ্ছে হয় তো পড়ে ফেলতে পারেন ভাহলিয়া নো হানামুকো। পড়লে পস্তাবেন না এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

Dimension W [রিভিউ] — মোহাম্মদ ইফতেখার

Dimension W 1

এনিমে – মাত্রা ডব্লিউ (Dimension W)
জনরা – একশন, সাই-ফাই, সেইনেন
পর্ব – ১২

বিজ্ঞান কথাসাহিত্য বিশ্বের সম্ভাবনার সব রাজ্যকে ভাঙ্গার এবং আপনার মনের ইচ্ছাগুলোকে পূর্ণতা দান করতে সক্ষম হয় । বিভিন্ন মাত্রা দ্বারা বিভিন্ন সম্ভাবনা প্রকাশ পায়,কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় এমন এক মাত্রা সম্পর্কে যেখানে বিশ্বের সকল সম্ভাবনা বিদ্যমান,তখন কি করবেন?

STORY
অদূর ভবিষ্যতে, মানুষ মাত্রা এক্স ,ওয়াই,জেড এর পরে ডব্লিউ নামক আরেকটি মাত্রা আবিস্কার করে,যেখানে অসীম শক্তি রয়েছে। মাত্রাটির আবিষ্কারক কোম্পানি, নিউ টেসলা এনার্জি “কয়েল” নামক এক ধরনের ডিভাইস নির্মাণ করে যা নতুন মাত্রার শক্তি ব্যবহার করতে পারে । মাবুচি কিয়োমা হল একজন প্রাক্তন সৈনিক,যে কিনা সব ধরনের কয়েল ভিত্তিক প্রযুক্তি হতে সাবধানে থাকে। বর্তমানে সে একজন সংগ্রাহক,নিউ টেসলা এনার্জির দ্বারা যারা বাধাপ্রাপ্ত হতে চায় না তাদের কাছ হতে অবৈধ কয়েল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ যার কাজ। তার সংগ্রহ মিশনের এক সময়ে মিরা ইউরিজাকি নামক এক অ্যান্ড্রয়েড এর সাথে দেখা হয়,যে নিজেও কিয়োমার পাশাপাশি সংগ্রাহক এর দায়িত্ব নেয়। তবে কিয়োমার অতীত তাকে তাড়া করা শুরু করে যখন সে নাম্বার তদন্তের মিশনে যায় । নাম্বার হল প্রথম দিকের বিশেষ একধরনের কয়েল যার মানুষের স্মৃতি নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা আছে। এই নাম্বারই কিয়োমা ও মিরাকে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্মুখীন করে যেখানে মাত্রা ডব্লিউ এর সকল রহস্যের উন্মোচন ঘটে ।

CHARACTER
গল্পের দুই মেইন চরিত্র হল মাবুচি কিয়োমা এবং মিরা ইউরিজাকি। কিয়োমা স্বাধীনচেতার অধিকারী যার মধ্যে শীতল মনোভাব রয়েছে ।সে স্বল্পভাষী,সৎ,সাহসী ও কর্তব্যপরায়ণ কিন্তু যার পিছনে রয়েছে মর্মান্তিক ইতিহাস। মিরা গল্পটির প্রধান মেয়ে চরিত্র যে একটি রোবট, যার মধ্যে একটি পূর্ণ মানুষের ব্যক্তিত্ব আছে। সে মজার, বুদ্ধিমান এবং সর্বোপরি একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ চরিত্র রয়েছে।
এছাড়া গল্পের অন্যান্য চরিত্রগুলো হল- ম্যারি ,কোরগি,অ্যালবারট শুমান,মিয়াবি,লুজার ,সাল্ভে এনে তিবেস্তি ,লুওয়াই আউরা তিবেস্তি, লাসিথি, হারুকা শিমায়ার,শিদউ ইউরিজাকি,সেইরা ইউরিজাকি। এরা পার্শ্বচরিত্র হিসেবে থাকলেও এদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কম ছিল না। যদিও ১২ পর্বের সিরিজটিতে চরিত্রগুলোর উন্নয়ন খুব একটা চোখে পড়ার মতো ছিল না ।

Dimension W 2

ART & ANIMATION
মাত্রা ডব্লিউ এর আর্টওয়ার্ক অবশ্যই বৈচিত্র্যময়।অন্ধকার এবং বালুকাময় শহরের রাস্তা থেকে শুরু করে ,আনন্দময় রৌদ্রজ্জ্বল দিন , উচ্চ প্রযুক্তির বিকল্প মাত্রা , এই আনিমেটি খুব অল্প সময়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় । প্রতিটি দৃশ্য এতোটাই চমৎকার ভাবে আঁকা হয়েছে যা আপনাকে মাত্রা ডব্লিউ এর দুনিয়ায় আকৃষ্ট করতে বাধ্য করবে ।

SOUND & MUSIC
এই আনিমেতে আহামরি সাউন্ডট্র্যাক না থাকলে যা ছিল মোটামোটি ভালই ছিল। সঙ্গীত গুলো অনেকটা ফ্ল্যাট বলার মতো । স্টেরিও ডাইভ ফাউন্ডেশন এর “জেনেসিস” ওপেনিং টা মানুষের মন কাড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তাছাড়া ফক্স’টেইলস এর “কন্ট্রাস্ট” ছিল এন্ডিং সং হিসেবে। আনিমেটিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো চমৎকার ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

OVERALL THOUGHTS
মাত্রা ডব্লিউ এমন একটি সিরিজ যা আপনার মনে জটলা পাকাবে কিন্তু একই সাথে আপনাকে আকৃষ্ট করে রাখবে। সিরিজটিতে এর ইতিবাচক দিক গুলোর জন্য এর ত্রুটি খমার উপযোগী ।ইউজি ইওয়াহারা এর সৃষ্টি সিরিজটির সাথে ডার্কার দ্যান ব্ল্যাক সিরিজটির কিছু মিল রয়েছে যেমন উভয় সিরিজ এই ঠিকাদার ব্যবহার করা হয় এবং একই সাথে কোন বিস্ময়কর ঘটনার কারনে স্মৃতিবিলোপ হওয়া।বলা বাহুল্য ২৫ পর্বের সিরিজটিকে ১২ পর্বে এনে অনেক কিছুই খাপছাড়া অবস্থায় সিরিজটির সমাপ্তি ঘটানো হয়।তবুও বলা যায় একশন,সাই-ফাই,সেইনেন ফ্যানদের জন্য সিরিজটি পারফেক্ট।আশা করি সবাই সময় নিয়ে দেখবেন। 🙂

PERSONAL RATING- 08.00

Dimension W 3

Kobato [রিভিউ] — Mithila Mehjabin

Kobato 1

আকাশ থেকে টুপ করে একটি পরী নামল! পরনে লম্বা জামা, সাথে বড় একটা সুটকেস, আর ছোট্ট ব্যাগে একটা ছোট্ট নীলরঙা পুতুল, যেটার গলার আওয়াজ শুনলে তার খেলনা আকৃতিটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার বলে মনে হয়! মেয়েটার লম্বা চুলগুলো পা ছুঁইছুঁই করছে, দু চোখে অদ্ভুত সারল্য..অথচ সেটাই যেন তার দোষ! খেলনা পুতুলটা সারাক্ষণই বকছে তাকে। সুরেলা কন্ঠের সুকেশী ও সুবেশী পরী Hanato Kobato, আর তার ঐ পুতুল আকৃতির Iyorogi সান এর সম্পর্কটা কিন্তু যেমনটা দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বেশী উষ্ণ! 😀 ^_^

রিভিউ: Kobato
এপিসোড: ২৪
জনরা: কমেডি, ড্রামা, ফ্যান্টাসী
ম্যাল রেটিং: ৮.১

আক্ষরিক অর্থেই আকাশ থেকে নামে Kobato নামের অদ্ভুত সারল্যে ভরা চঞ্চল মেয়েটি! কোথাকার কিসের সাথে কি যেন একটা চুক্তি হয়েছে তার, চুক্তিটা পূরণ করতে পারলে তার পছন্দের জায়গাটিতে যেতে পারবে সে, আর না পারলে কোথায় যেন আবার ফিরে যেতে হবে তাকে! 🙁

কে শোনে কার কথা, টুপ করে পড়েই সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে গেল Kobato! একদিকে কানের কাছে Iyorogi সান এর কান ঝালাপালা করা বকবকানি, অপরদিকে কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে না পেরে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে সে! চুক্তি অনুযায়ী হাতে যাদুর বোতল নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পড়ল Kobato, সাথে Iyorogi সান। চুক্তিটা হলো, ঐ যাদুর বোতল টা “কনফেট্টি” দিয়ে ভরতে হবে! জার্মান শব্দ কনফেট্টি এর বাংলা অর্থ মিষ্টি। তার মানে কি…বোতলটা মিষ্টি দিয়ে ভরবে Kobato?! মোটেই না! দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ের সকল ব্যাথা-বেদনা দূর করে দিলে মানুষের সরল মন যে উষ্ণ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা দিয়েই ভরতে হবে তাকে ঐ বোতল, Kobato যেই আরোগ্য লাভ করা উষ্ণ হৃদয়গুলোর নাম দিয়েছে “কনফেট্টি”! এটাই তার চুক্তি, ঐ বোতলটা যেন ভরে, অন্তত সেই পরিমাণ ফুটো হৃদয় সেলাই করতে হবে তাকে, ভালো করতে হবে ক্লান্ত মনের বিভ্রান্ত মানুষগুলোকে, একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর!

শুনতে যতই কম্পলিকটেড বা খাপছাড়া লাগুক, Kobato তার মিষ্টি, সরল, ও পরিশ্রমী আচরণের মধ্যমে সহজেই আনন্দে ভরিয়ে তোলে যেকোন দুঃখী হৃদয়! তার ভালো করে দেয়া মনের মানুষের তালিকাটা বড় হয় দিন দিন, “কনফেট্টি” দিয়ে ভরতে থাকে যাদুর বোতল। চলার পথে তার পরিচয় হয় Fujimoto সান, Sayaka সান, Kohaku চান সহ আরো বিভিন্ন দুঃখী হৃদয়ের মানুষের সাথে…যাদেরকে বিভিন্নভাবে হৃদয়রোগ থেকে আরোগ্য লাভে সহায়তা করে ও, এবং এমনকি সবচেয়ে কঠিনতম হৃদয়ের মানুষটির মনেও সবচেয়ে উষ্ণ জায়গাটিও দখল করতে সক্ষম হয় সে, যে মানুষটি অনেক আগেই দখল করেছে তার মনের উষ্ণতম জায়গাটি। 🙂 শেষ পর্যন্ত কি সময় ফুরোনোর আগে যাদুর বোতলটি ভরতে পারে Kobato? নাকি যাকে নিজের সবটুকু উষ্ণতা উজাড় করে দিয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ একা করে দিয়ে সৃষ্টির সবকটি অস্তিত্বের বুক থেকে হারিয়ে যায় সে কোনো এক অজানায়? জানতে হলে দেখে ফেলতে হবে Kobato! 🙂 ^_^

অদ্ভুত একটা প্লটকে হৃদয়ছোঁয়া করে উপস্থাপন করার সবচেয়ে সুন্দর উদাহারণগুলোর একটি হতে পারে Kobato। 🙂 ক্যারেক্টারগুলো খুবই পছন্দনীয়। Fujimoto, Sayaka, Kohaku ও মূল কমিক রিলিফ Iyorogi সান! :3 বিশেষত Kobato কে খুবই ভালোলাগে! তার সরল, চঞ্চল এবং কেয়ারিং আচরণ যে কারো মনে জায়গা করে নেয় খুব সহজেই। ^_^ স্পেশালি তার গানটা বহুদিন মনে রাখার মত একটা গান, ঠিক কোকোরোতে গিয়ে লাগে! :’) একটা গাছের ইতিহাস কিভাবে মানুষকে দুচোখ ভরে কাঁদিয়ে ছাড়তে পারে, অন্তত সেটা জানার জন্য হলেও দেখা উচিৎ এনিমেটা! T^T

ওএসটিগুলোয় একটা চাইমিক ভাব আছে, ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো খুবই দৃষ্টিনন্দন। CLAMP এর সিরিজ বলেই কিনা, Holic আর Tsubasa এর মত Chobits এবং Kobato তেও ক্যারেক্টার ক্রসওভার ব্যাপারটা আছে! কাস্টের মেইন দুজনের মূলে আছেন Kana Hanazawa এবং Tomoaki Maeno!

চমৎকার একটা রিফ্রেশিং এনিমে Kobato, সবার জন্য রেকমেন্ডেড!

Kobato 2

Hellsing Ultimate [রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Hellsing Ultimate 1

ভ্যাম্পায়র বললেই আমাদের আমাদের মাথায় ভেসে ওঠে রক্তপিপাসু একদল অমর মানুষদের কথা। যদিও ভ্যাম্পায়র বলতে প্রথমে নিকটআত্নীয়দের দুষ্ট ভূতদের বোঝাত কিন্তু পরে তা বর্তমানে রক্তপিপাসু রাক্ষসদের বোঝায়। সব লোক কথায় ভ্যাম্পায়ারের রেফারেন্স আছে যেমন ভূত ঘাড় মটকে রক্তচুষে নিল। ভ্যাম্পায়ার নিয়ে বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প মনে হয় কামিনী ডাইনির গল্প। তো আনিমে মাঙ্গাতেও প্রচুর ভ্যাম্পায়ার রয়েছে তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হেলসিং।

ইংল্যান্ডকে রক্তচোষা ঘুউলদের থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করছে আব্রাহাম ভ্যানের হেলসিংএর কন্যা ইনটেগ্রা হেলসিং। এক কালের লাজুক এই মেয়ে এখন একজন রগচটা যোদ্ধা ও কমান্ডার (অবশ্যই তার পিতার মৃত্যু এবং টার চাচার বেঈমানির ফলে)। এবং তার আন্ডারে চুক্তিতে আছে ভ্যাম্পায়ারদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র। অতিরিক্ত শক্তিশালী এক ভ্যাম্পায়ার যার নাম আলুকার্ড। সে আর ১০টা ভ্যাম্পায়ারের মত ম্যান্দা মারা না বরং আরো ভয়ঙ্কর ।কাজের প্রয়োজনে নিরীহকে খুন করতে তার বাধে না, অতি আবেগের কোন দরকার নাই। তাকে সঙ্গ দেবার জন্য আছে ব্যাডাছ আলফ্রেড ওরফে ওয়াল্টার সি ডরনেয এবং সদ্য ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হওয়া সেরাস ভিক্টোরিয়া, যে এখোনো তার নতুন জীবনের সাথে খাপ খেতে পারছে না। এর মধ্যে আবার একদল ভ্যাম্পায়ার নাজি উপস্থিত ইংল্যান্ড দখল করতে এবং তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে এক সাইকো মেজর! তার ডায়লগ এবং কূটবুদ্ধিগুলো বেশ চমৎকার!!!

Hellsing Ultimate 2

এই এনিমেতে খ্রিস্টান একস্ট্রিমিস্ট এবং নাযিদের ভিলেন বানিয়ে ব্যাপারটা উপভোগ্য করে তোলা হয়েছে। আলুকার্ডের ৩২পাটি শ্বদন্ত বের কইরা কোলগেট মার্কা হাসি বেশ চিলিং এবং সাথে হাসিখুশি সেরাসের ভয়ঙ্কর মুড চালু, এক কথায় এপিক!!!!!! ন্যাকামি বেশি নাই। সব ক্যারেকটারই মোটমুটি ভালো স্পটলাইট পেয়েছে। একশান , গোরে ভর্তি , রক্তের ছড়াছড়ি ,হালকা কমেডিও আছে। না দেখার কোন কারণ নাই। মোটে ১০টা এপিসোড। যার হরর ফ্যান তারা অবশ্যই দেখবেন! কাহিনী, একশন, সাউন্ডট্রাক সবই চরম। পর্ব সংখ্যা মোটে ১০। এটা ডাবে না দেখলে দেখা বৃথা।

আমার রেটিং: ৮/১০

Hellsing Ultimate 3

Ouran High Host Club [রিভিউ] — Mahedi Hasan

Ouran

Anime: Ouran High Host Club
Episode: 26
Genre: Comedy, Harem, Romantic
Rating: (আমার কাছে) 6.8/10

আমাদের আশেপাশেই এমন কিছু শিক্ষার্থী থাকেন যারা আমাদের শান্তির ঘুম হারায় করে দেন । কারণ, তারা ভাল ফলাফল করেন আর তার জন্য আমাদের বকা খেতে হয় ।
কেমন হবে যদি এই ব্রিলিয়েন্টদের শায়েস্তা করা যেত ?

এমন ই এক ব্রিলিয়েন্ট এর নাম হল হারুহি ফুজিওকা (Haruhi Fujioka)। এই মেয়ে টার কাজ একটাই!!!পড়া! পড়া! পড়া!
যে সেই বই না। ক্লাস এর প্রতিটি টেক্সট বই সে মুখস্ত করবে।

এ এনিমে তে যে স্কুলের কথা বলা হয়েছে তা আমাদের দেশের বুয়েটের সাথে তুলনা করতে হবে। (এতে আপনার কাছে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে। কিন্তু বুয়েট ভাববেন না) এনিমে তে এটিকে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে। যেখানে শুধু মাত্র ধনী লোকের ছেলে-মেয়েরা পড়তে পারেন। এখানে পড়াশোনা চেয়ে আরাম-আয়েশ বেশি। গরীবের সন্তানের জন্যও এখানে জায়গা আছে। কিন্তু প্রতি বছর একজন করে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। এ বছর তাদের একজন হচ্ছেন আমাদের এই হারুহি।

হারুহি ফুজিওকার পরিবার সচ্ছল নয়। সে তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন বড় হয়ে নিজের পায়ের উপর উঠে দাড়ানো। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সে পড়ুয়া হয়ে ওঠে। না, সে খারাপ শিক্ষার্থী তা না। বরং অনেক মেধাবী।

সে আজ হাই স্কুল এ পড়ে। একদিন শান্তিতে পড়াশোনা করার জন্য সে ওরান হাই একাডেমী এর লাইব্রেরিতে যায়। কিন্তু সেখানে ছেলে মেয়ে রা বইপড়ার নামে গল্প করছে। হারুহি এতো সোরগোলে পড়তে পারল না। এজন্য সে সিদ্ধান্ত নিল যে, সে এমন জায়গায় পড়বে যেখানে কেউ তাকে বিরক্ত করতে পারবে না।

হারুহি ফুজিওকা চলে গেলেন ওরান হাই একাডেমী এর 3 নম্বর মিউজিক রুমে । এ রুম অনেক দিন ধরেই পরে আছে । কেউ এর ধারের কাছেও আসে না । কিন্তু রুমের দরজা খোলার সাথে সাথেই হারুহি ফুজিওকা পেলো নতুন এক জীবন ও পরিচয় । কি ছিল ঐ রুমে ?

রুমে ঢুকে সে দেখতে পেল কয়েক জন ছেলে তাকে উষ্ণতার সাথে গ্রহণ করল । তারা হারুহিকে নানা ভাবে আপপায়ন করতে থাকে । কিন্তু এটি হারুহির মোটেও ভালো লাগলো না । কারণ, সে এখানে পড়তে এসেছে । তার সময়ের মূল্য আছে ।

এক পর্যায়ে সে দেখতে পেল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট টামাকি কে । টামাকি নাছড়বান্দা , সে বিভিন্ন ভাবে হারুহিকে আপপায়ন করে। এতে হারুহি বিরক্ত হয়ে যায় । এতে সে ভয় পেয়ে আরেক কাহিনী রচনা করে । ক্লাবের সামান্য একটা শো-পিচ ভেঙ্গে ফেলে । তা দাম কত এই শো-পিচের ? 45,000,000 টাকা (ইয়েন)!!!!

বেচারা হারুহি এতো টাকা পাবে কোথায় ? সে টাকার অভাবে স্কুল এর ইউনিফর্ম কিনতে পারে না । আর সে দিবে এত জরিমানার টাকা !

কিন্তু ক্লাবের ম্যানেজার কিঊই বলে তাকে এখনই টাকা পরিশোধ করতে হবে । এ কথা শুনে হারুহি ভয়ে সাদা হয়ে যায় । হারুহির এ অবস্থা দেখে তারা তাকে বিশেষ অফার দেয় ! অফারটি হল, ” হারুহি কে এই ক্লাবের সদস্য হতে হবে পাশাপাশি পুরানো সদস্যদের কাছে দাস হয়ে থাকতে হবে ।

হারুহি রাজি না হয়ে পারে না ।
হারুহি হয়ে গেলেন তাদের দাস ও ক্লাবের সদস্য ।

ক্লাবের নাম হল ওরান হাই হোস্ট ক্লাব । এই ক্লাবের সদস্যদের কোনো কাজ নেই। কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই, ক্লাবে যারা বেড়াতে আসে তাদের বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করা। এজন্য তাদের আপনি বিভিন্ন পোষাকেও দেখতে পারবেন । আসলে যারা বেড়াতে আসেন তাদেরও কোন কাজ নেই! আসবেই না কেন, এখানে তাদের সময়টাও ভালো যায় । এখানে প্রায়ই মেয়েরা এসে থাকেন । তাদেরকে খুশি ও আনন্দ দেয়ার জন্য এই ক্লাবের সদস্যরা বিভিন্ন কার্য কলাপ করে থাকে ।

আসুন, দেখি তারা কে কি করে????

এই ক্লাবের অন্যতম সদস্য ও প্রেসিডেন্ট টামাকি এর কাজ এই ক্লাবে আসা সবাইকে খুশি করানো । এ আবার কেমন কথা? কিন্তু লাইফে কাউকে খুশি করানো চারটি খানি কথা না। এনিমেতে নানা অংশে খুব ভালো করে তা উপলব্ধি করা যাবে ।

ক্লাবের ম্যানেজার কিঊই হলেন চতুর ও ভয়াবহ মেধাবী ছাত্র । ক্লাবের লাভ লোকসান সে নিজেই সামাল দেয় । কিন্তু অন্যান্য সদস্যদের মত সে পাগল নয় । একটু ভদ্র ভদ্র ভাব আছে তার । আলাদা থাকতে বেশি পছন্দ করেন ।

দুই যমজ ভাই আছে! নাম হিকারু ও কারু । এনিমেতে এই দুই ভাইকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কার্যকলাপ করতে দেখবেন ।

3য় বর্ষের ছাত্র আছে এখানে । হানি সেনপাই এর চেহারার সাথেই তার রুচি নিহিত । সে কেক ও পেস্টি খেয়ে থাকে ।
তার বন্ধুর নাম মরি সেনপাই । তিনি গুরুগম্ভীর এবং কম কথা বলেন। কিন্তু তার মধ্যে জেন্টাল জেন্টাল ভাব আছে ।

আর কি ধরনের পাগলামী করে তা আপনারা নিজেরাই এনিমেতে দেখে নিন । আমি বেশি কথা বললে সব কাহিনীই ফাঁস হয়ে যাবে ।

এরকম অদ্ভুত সদস্যদের হাতে আটকা পড়েছে আমাদের ব্রিলিয়েন্ট শিক্ষার্থী হারুহি ফুজিওকা । সে কি তার জরিমানা শোধ করতে পারবে? নাকি আজীবন এদের দাস হয়ে থাকবেন? বন্দি এ কারাগারে কিভাবে বেঁচে থাকবেন হারুহি তা জানার জন্য আপনাকে এই এনিমেটা দেখার জন্য অনুরোধ রইল ।