সপ্তপাপ – রাজতন্ত্র ও মাইথোলজির গল্প কিংবা বিদ্ধংসী যুদ্ধকামনার পরিণাম — অনন্য রায়হান

Seven Deadly Sins

দেশে দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ আর রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ কৃষকের চৌচালা ঘর থেকে বুর্জোয়াদের অট্টালিকা অবধি প্রভাব ফেলে – আর সে প্রভাব কেবল আর্থসামাজিক না হয়ে ইতিহাস বিকৃতি বা প্রকৃত সত্য লুকানোর মত সাংঘাতিক কাজও করতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ বা সংঘাতে জয়ী পক্ষই সাধারণত নিজেদের পক্ষেই যা প্রচার করে তাই হয় ইতিহাস…… এ ব্যাপারে যারা পরাজিত হয় তাদের আস্ফালন বা উচ্চস্বর মুল্যহীন মনে হয় পৃথিবীর কাছে…

সময়ের সাথে সাথে রাজতন্ত্র হারিয়ে গেছে বলে যে ইতিহাস বিকৃতি হয়না – তেমনটা নয়। কিন্ত মিডিয়া ও প্রযুক্তির কল্যাণে তা কমে এসেছে……
ইতিহাস বিকৃতি যদি এমন হয় যে তা রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অনুগত যোদ্ধাদের ই বিশ্বাসঘাতক বলে চিহ্নিত করে তবে কেমন হবে? কেনই বা এমনটা করা হবে — উত্তর হিসেবে একটা ক্ষেত্র বা দৃশ্যকল্প দেখান হয়েছে ২৪ এপিসোডের Nanatsu No Taizai তে ……..

সাথে জাপানের মিথোলজিক্যাল কিছু ম্যটেরিয়াল আর “Magi” পাওয়ার তথা যাদুবিদ্যার সাহায্যে যুদ্ধ বেশ ভালো ভাইব এনেছে…

গল্পটা শুরু লিওনেস রাজ্যে ……
১০ বছর আগে রয়্যাল ফ্যামিলি ও রাজ্যের প্রধান বাহিনী “Holy Knights” দের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল সাত জন Holy Knight যারা অন্যান্য নাইট দের চেয়ে ডজন ডজন ধাপ এগিয়ে । রাজ্য দখল করার দুরভিসন্ধি নিয়ে তাদের এই আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছিল আর তাদের উপর Bounty বসিয়ে দেয়া হয়েছিল ……
যা বললাম তা লিওনেস রাজ্যের ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্ম থেকেই শেখানো হত আর কি – সত্য না মিথ্যা জানতে হলে দেখতে হবে সিরিজটি……
রাজপরিবারের ওপর অতিরিক্ত নিরাপত্তা – এতই নিরাপত্তা যে প্রজাগণ বছর ব্যাপী রাজার চেহারাই দেখেননি……
এদিকে Holy Kight রা হয়ে উঠছে স্বেচ্ছাচারী,রাজ্যে বিরাজ করছে অস্থিরতা…
আর সেই সাত বিশ্বাসঘাতক কে বলা হল সাতটি পাপের প্রতীক ……
“The Seven Deadly Sins”
Merlin – Ban – King – Gowther – Meliodas – Escanor – Diane

সিরিজটির নামই বলে দেয় গল্পে এই সাত বিশ্বাসঘাতক দশ বছর পর ফিরে আসবে আর গল্প শুরু হবে – কিন্ত গল্পের সামনে আগানো বেশ আকর্ষণীয় …

Unexpected টুইস্ট – যা সিরিজটির বাকে বাকে রয়েছে …
তবে শেষের দিকে কিছু টুইস্ট অনেকটা জোর করে গল্পের ইতি টানার জন্য আনা হয়েছে বলে মনে হয়েছে [উদাহরণ- গিলথান্ডারের অভিশাপ থেকে অবমুক্তি]

ব্যাটল গুলো বেশ ভালো; শৌনেন নামের মান রেখেছে।
ফিজিক্যাল ফাইট বা তরবারি – বর্শা নিয়ে যুদ্ধ – বেশ ভালো কিছু অস্ত্র ও স্পেলের নাম – [হিস্টোরিকাল রেফারেন্স] রয়েছে যা একশন এনিমের জন্য পারফেক্ট আবহ তৈরি করেছে ………
উদাহরণ স্বরূপ – Forest of White Dreams নামক জঙ্গল , The Eternal Seal Spell নামক মন্ত্র , কিং এর বর্শা Sacred Tree হতে প্রস্ততকৃত Holy Crafted Weapon “Chastiefol” , City of the Dead নামক শহর Baste Dungeon, Fountain of Youth যার জলস্রোত সমগ্র Forest of Fairies কে সবুজ সতেজ রেখেছে , আর Coffin of Eternal Darkness ………
সাউন্ড ও OST এর কাজ চমৎকার ; বেশ ভালো একটা ওপেনিং ছিল প্রথমটা……
OST এর সাথে ফেইরি টেইলের মিউজিক প্যাটার্ন এর যথেষ্ট মিল পাওয়া যায় ……
ফেইরি টেইলের সাথে একটি অফিশিয়াল ক্রসওভার মাঙ্গা চাপ্টারও আছে নানাতসু নো তাইজাই এর …………

ঘটনা বেশি কমপ্লিকেটেড না করে বেশ ভালো গতিতেই কাহিনী এগিয়েছে বলে শুরু করে এটা সাধারণত বিরক্ত হয়ে কেউ ড্রপ দেয় না……
লিওনেস রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে অভিযান শুরু হয় মেলিওদাস ও রাজপরিবারের ৩য় হিমে সামা এলিজাবেথের……
রাজপরিবারের কেউ এই কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক দের সাথে যুক্ত কেন?
প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক।এটাই গল্পের শুরুর দিকের মজা – গল্পের প্রথম বর্ণনা কে অস্বীকার করতে শুরু করে চলমান ঘটনাবলী – যদিও মোটামুটি চিন্তাভাবনা করলে ১০/১১ পর্বের দিকেই গল্প কিভাবে আগাবে তা বুঝে ফেলার কথা…
এই অভিযানে Seven Deadly Sins এর বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করার অভিযান থেকে শেষ ইতি টানা হয় Holy War দিয়ে……
এনিমের এপিসোড শুরুর প্রথমেই ন্যারেটরের ভাষ্যমতে এই Holy War যা বলা হয়েছিল,গল্পের স্বার্থে তা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে পরবর্তীতে — অর্থাৎ সোজা ভাষায় Holy War এর ডেফিনেশন টাই বদলে গেছে …..
অনগোয়িং “KouroMukoro” এর ডাইরেক্টিং করছেন তেনসাই ওকামুরা – যিনি এই এনিমেটিরো ডাইরেক্টিং এ নিয়োজিত ছিলেন …
স্টুডিও A-1 Pictures বিখ্যাত স্টুডিও; উতাহ নো প্রিন্স, ফেইরি টেইল, ওরেশুরা,গিন নো সাজি,ওয়ার্কিং, Asterisk War, ERASED স্টুডিও টার কাজগুলোর মধ্যে আলোচিত কিছু নাম ……
এনিমেটার মাঝে এক চরিত্র পাওয়া যায় যার নাম হেনড্রিকসন ………
সাদা চোখে দেখলে চরিত্রটি বদমাশ; বাজে ও ঘৃণিত একটা চরিত্র হিসেবে দেখা দিবে। সাইকোলজিক্যাল দিকের প্রতি আলোকপাত করলে কিছু কথা উঠে আসতে পারে………
আমরা বলে থাকি তরবারি,বন্দুক শান্তি রক্ষার জন্য … আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত কখনোই নই এই কথার সাথে। অস্ত্র আছে কারণ যুদ্ধ সংঘাত ও আছে ……
এগুলো দমনের জন্য – কাকে দমনের জন্য?
অপশক্তিকে – কে অপশক্তি এটা বাছাই করছে কে?
অপরপক্ষও আপনাকে অপশক্তি বলে আখ্যায়িত করছে ……
তো ফলাফল শূন্য……
এখন যদি শৈশব থেকেই এক বিশেষ যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ নেয়া কোন শিশু যৌবনে পদার্পণ করে জানতে পারে যে তথাকথিত সেই শত্রুকে নির্বাসিত করে দেয়া হয়েছে – অর্থাৎ তার এ যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষণ বৃথা তখন , ঠিক তখনই …
মানুষের চিন্তাশক্তির মাঝে হিউম্যানিটি র ঠিক কাছ ঘেঁষে যাওয়া প্রাণিত্ব তার শক্তি দেখাতে শুরু করে তার চিন্তায়,কথা বার্তায় ও কাজে-কর্মে ……
সেই ভাবেই উপরোক্ত ক্ষেত্রে যদি সেই শিশু [এখন আর শিশু নেই] যদি সেই নির্বাসিত শত্রুকে Resurrect করে যুদ্ধের লীলাখেলা উপভোগ করতে চায় তবে এই ছোট্ট মনস্তাত্ত্বিক Mishap থেকেই ভয়ঙ্কর কিছু হতে পারে —- উদাহরণস্বরূপ একটি বিধ্বংসী যুদ্ধ যেখানে মানুষের উপর inhuman এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে সৃষ্ট Killing Machine এর ব্যবহার…
ব্যাপারটা অনেকটা ছোটবেলায় বাবা মা হারানো কোন ছেলের বাব মাকে ফিরে পাবে সেই আশায় বড় হওয়ার পর বাবা মা মৃত জানতে পেরে কারো পারিবারিক সুখ দেখতে না পারা এবং তাদের ক্ষতিসাধন এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ……
অর্থাৎ আগেকার দিনের একমুখী শিক্ষা আর সহজেই তোমার জীবনের লক্ষ্য এইটা সেইটা নির্ধারণ করে দেওয়াই সকল সমস্যার গোঁড়া ……
এনিমেটিতে ইউকি কাজি’র মেলিওদাস নাকি জুন ফুকুয়ামা’র কিং – কার কন্ঠ বেশি ভাল এটা নিয়ে সিভিল ওয়ার লেগে গিয়েছিল মাথার ভেতর ……
অবশেষে জিতে গেল ইউকি কাজি – মেলিওদাসের কন্ঠ অসাধারণ ছিল – বিশেষ করে – সেই “সাত্তে সাত্তে সাত্তে” বলাটা
জুন ফুকুয়ামা’ও দারুন কাজ করেছেন,তবে কিং এর ভয়েসে যখন জোর প্রয়োজন ছিল [হেলব্রাম ট্রাজেডি] তখন কন্ঠটায় যথেষ্ট ইমোশন ছিল না – এমনটা মনে হয়েছে ……… [যাহোক লেজেন্ডদেরও ১/২ টি কাজে খুঁত থাকতেই পারে]
ফিমেইল চরিত্রগুলোর মধ্যে এলিজাবেথের কন্ঠ শুনে সোরা আমামিয়ার কন্ঠ চেনার কোন উপায় নাই – এই কন্ঠ আর আকামে গা কিলের আকামে ‘র কন্ঠ এক ………
সেরা মহিলা কন্ঠ আওয়ি ইয়োকি –
সিন অফ এনভি ডিয়ানের কন্ঠ দিয়েছেন এই মিষ্টি গলার সেইয়ু …
অনগোয়িং Boku no hero Academia’র ব্যাঙবালিকা Tsuyu র কণ্ঠও নাকি দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই কন্ঠাভিনেত্রী …
সিরিজটিতে Seven Deadly Sins এর এসকানোর কে দেখানো হয়নি ……
রয়ে গেছে হাজারো প্রশ্ন –
মাঙ্গা পড়ে ফেললে হয়ত উত্তর গুলো জেনে যাবেন কিন্ত এনিমে অনলি Perspective থেকে কিছু রহস্য রয়ে গেছে –
মারলিনের এবিলিটি
মেলিওদাসের সিন
ডেমন ক্লানের ইতিবৃত্ত ও গুপ্ত সত্য
হেনড্রিকসন এর কাজ কি স্বপ্রণোদিত আর এই তুচ্ছ লক্ষ্য ? নাকি আরো বড় কিছু রয়েছে এর পিছনে?
রয়্যাল ফ্যামিলির সাথে Goddess ক্লানের সম্ভাব্য যোগসূত্র ………
সামার সিজনে নানাতসু নো তাইজাই নাম দেখে ২য় সিজন ভেবে খুশি হয়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই [আমিও অতিখুশি হয়ে গিয়েছিলাম]
কারণ ওটা ২য় সিজন নয়, Holy War নিয়ে ৪ পর্বের একটা শর্ট সিরিজ ……
ওপেনিং দুটো বেশ ভাল হলেও এন্ডিং একটাও ভালো লাগেনি ……
ওপেনিং দুটো শুনে ফেলতে পারেন ……
http://www.youtube.com/watch?v=r0TJioqQu60
http://www.youtube.com/watch?v=8hmP3rYrFFk

ওভার অল বেশ ভালো একটা এনিমে ………
বেশিই ভালো – মোটামুটি বললে কম বলা হবে কিন্ত মাস্টারপিস নয় ……
রেটিং – [৮.১] – [দশমিক রেটিং নিয়ে কারো সমস্যা হলে দুঃখিত]

Hibike! Euphonium [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Hibike! Euphonium 1

~Hibike! Euphonium~

Cute girls doing cute things— দেখার আগে তা-ই মনে করেছিলাম। এছাড়া কোন পুরুষ প্রধান চরিত্র না থাকায় (আমাকে সেক্সিস্ট মনে করবেন না, যে কোন এক লিঙ্গের প্রধান চরিত্রের অ্যানিমেগুলো আমি বরাবরই এড়িয়ে চলতাম, অন্তত এটা দেখার আগপর্যন্ত) এবং গ্রুপে তেমন আলোচনায় থাকতে না দেখে সেভাবে ভরসা পাচ্ছিলাম না। ওয়েল, কি আর বলা যায়? না দেখলে অনেক ভালো একটা জিনিস মিস করে ফেলতাম। আমি কিছুটা সারপ্রাইজড এ ভেবে যে গ্রুপ পোলে এ অ্যানিমের উপস্থিতি এত নীরব ছিল কেন।

মিউজিক নিয়ে অ্যানিমেগুলো বরাবরই ভালো লাগে। তবে কমেডি খুব একটা ভালো না লাগায় মিউজিক ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও অনেকগুলো সিরিজ এড়িয়ে গেছি। কিন্তু অন্যান্য মিউজিক রিলেটেড অ্যানিমেগুলো থেকে এটি একটু ভিন্ন। তাই বলে ফানি মোমেন্ট যে নেই তা নয়। অনেক আছে; কিছু দৃশ্যে হাসি থামিয়ে রাখতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছ। আবার কিছু ক্ষেত্রে যে চোখে (অলমোস্ট) পানি চলে এসেছে। যা-হোক, এখানে মিউজিক সাব-জনরা নয়। পুরো অ্যানিমের প্রধান ফোকাস মিউজিক এবং তার সাথে জড়িত মানুষগুলো।

প্রতিযোগিতা, অধ্যবসায়, ব্যক্তিগত দ্বন্ধ– এগুলোর উপস্থিতি দেখে কারো কাছে অ্যানিমেটি টিপিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষ কয়েকটি জিনিসের কারণে এটি আমার কাছে অনন্য। সোলো মিউজিকাল, যেমন পিয়ানো, গিটার, ভায়োলিন, এগুলোর নিয়ে না হয়ে Ensemble নিয়ে হওয়ায় অনেক কিছু নিরীক্ষা করার সুযোগ ছিল সিরিজটিতে। এবং শেষ করার পর বলতেই হচ্ছে, সিরিজটি অনেক নতুনত্ব দিতে সক্ষম হয়েছে।

‘হিবিকে! ইউফোনিয়াম’ সিরিজটির মূল কাহিনী এক হাইস্কুলের Wind Ensemble নিয়ে। কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে অন্যতম প্রধান চরিত্র ঔমায়ে কুমিকো-র দৃষ্টিকোণ থেকে, যদিও প্রয়োজনে অন্যান্য চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখানো হয়েছে। মিডল স্কুল শেষে নতুন করে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুহীন কিতাউজি হাইস্কুলে ভর্তি হয় কুমিকো। অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে কুমিকোর বন্ধু কাতৌ হাজুকি, কাওয়াসিমা স্যাফায়ার -থুক্কু মিদোরি- এবং রেইনা কৌসাকা (এ চরিত্রটি বেশ এলিগ্যান্ট এবং ক্লাসি; স্ক্রিন টাইম তুলনামূলক কম হলেও আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র)।

মিউজিক গ্রুপ নিয়ে হওয়ায় এখানে টিমওয়ার্কের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বেশ ভালোভাবেই। যখন একটা গ্রুপে ৬০ জন মানুষ থাকে, সমস্যার সম্মুখীন হওয়াটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে কেউ হয়তো মিউজিকের প্রতি সত্যিই প্যাশনেট এবং বেশ সিরিয়াস, অনেকেই হয়তো নেয় ফান হিসেবে, আবার কারো উদ্দেশ্য হয়তো হাইস্কুলের সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চরিত্রগুলোর মধ্যকার অনিশ্চয়তা, প্রত্যয় যেভাবে তুলে আনা হয়েছে তা খুবই রিলেটেবল।

So, what makes this anime different?

একেবারে শুরুতেই চাপা একটা আর্জেন্সি টের পাওয়া যায় যার কারণে একবার দেখা শুরু করলে ছেড়ে ওঠা মুশকিল। প্রথম এপিসোডেই দেখি যে It is never too late to try something new. ইচ্ছা থাকলে এবং ভালোবাসা খুঁজে নিতে পারলে মানুষের দ্বারা যেকোন কিছুই সম্ভব। যেমন মিডল স্কুলে টেনিস ক্লাবে থাকা হাজুকি এবার যোগ দিয়েছে মিউজিক ক্লাবে। বাদ্যযন্ত্র ছুঁয়ে দেখার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও কেবল ভালোবাসা দিয়ে কেউ কিভাবে মিউজিককে আপন করে নেয় তা সত্যিই টাচ করার মত। অ্যাডভাইজর তাকি-সেনসেই এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষণীয়। শুরুতে এ ফিল্ডে আসার ইচ্ছে না থাকলেও, উপভোগ করে এমন কিছুকে জব হিসেবে নেয়া কতটুকু সুখকর তা শুরু না করলে বোঝার উপায় নেই। টিমওয়ার্কের কথা বলেছিলাম। গ্রুপ মিউজিকে টিউনিং এবং সিঙ্ক্রোনিসিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দু-এক জনের অবহেলায় পুরো গ্রুপকেই ভুগতে হয়। এর ফলে যে অভ্যন্তরীণ অসামঞ্জস্যতা এবং পলিটিক্স এর কমতি হয় না তা দেখেছি আমরা। এটি কিভাবে একটি গ্রুপকে ধ্বংস করে দিতে পারে বা কিভাবে একাত্ন করে তুলতে পারে- দুই-ই উঠে এসেছে সিরিজটিতে। একজনের সমস্যা কিভাবে পুরো গ্রুপের মোর‍্যাল কমিয়ে দেয় বা অন্যদের পারফর্মেন্সে প্রভাব ফেলে; ব্যক্তিগত অনুভূতি কিভাবে জাজমেন্টে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, একগুঁয়েমি আর denial কতটুকু মাত্রাছাড়া হয় তাও দেখেছি। একসাথে কাজ করার ফলে ক্লাসমেট, এমনকি জুনিয়ররাও, যে শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে তার আদর্শ উদাহরণ সম্ভবত এ সিরিজটি।

এত কিছু ছাপিয়েও যে ব্যাপারটি আমাকে সবচেয়ে নাড়া দিয়ে গেছে, তা হল কঠিন একটা সত্যের চমৎকার উপস্থাপনা। খেলায় বা কোন প্রতিযোগিতায় আমরা পারফর্মেন্সটাই দেখি। বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করি; পরাজিতদের ভুলে যাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। হয়তো তাদের প্রচেষ্টাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি, কিন্তু দিনশেষে আমাদের কাছে কে জয়ী হলো তা-ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। পরাজিতরাও যে স্বপ্ন নিয়ে আসে এবং তা অর্জনের লক্ষ্যে বিজয়ীদের চেয়ে কোন অংশেই কম পরিশ্রম করে না তা অনুধাবন করতে পারলে বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করাটা অনেক অনেক কঠিন হয়ে যেতো। যেমন কাওরি আর কৌসাকার ক্ল্যাশে দর্শকরা সবাই নিশ্চিতভাবেই কৌসাকার পক্ষ নিলেও কাওরি-র ডেডিকেশন অ্যাপ্রিশিয়েট না করে পারা যায় না। তার হয়তো এটা শেষ সুযোগ সোলো পারফর্ম করার, কিন্তু তাই বলে আবেগী হয়ে কৌসাকা তাকে ছাড় দিলে তা হত আমার কাছে ক্ষমার অযোগ্য। দিনশেষে যে আবেগের স্থান খুব একটা নেই তাই তুলে আনা হয়েছে। It is the better one that wins, or should win.

কতটুকু প্যাশনেট হলে সামান্য সেলফ-ডাউটের কারণে মৃত্যুকামনা করতে পারে কেউ? Higher Target যে আসলেই মানুষকে বেটার হতে সাহায্য করে তা দেখা যায় শুরু থেকেই সংশয়ে ভুগেও পরবর্তীতে dead serious হয়ে যাওয়া কুমিকো-র চরিত্র থেকে। হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে কুমিকো-র ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করে যাওয়াটা এ গল্পের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক দৃশ্য। রেইনা কৌসাকা-র ভাষায়, নিজেকে স্পেশাল ভাবলেই হবে না, নিজের লক্ষ্যে সফল হতে চাইলে স্পেশাল হতে হবে, হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, এতে অন্যদের চক্ষুশূল হতে হলেও।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার অ্যাড্রেস করা হয়েছে, যা আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। পড়ালেখা করে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগেরই অটোমেটিক চয়েস, যেজন্য বাধ্য হয়ে অনেকই প্যাশনকে দূরে ঠেলে দেয়।। কিন্তু এর উল্টোটাও হয়। আওই-এর অংশটুকুর মাধ্যমে এ ব্যাপারটি বেশ সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রায়োরিটি ঠিক করা, যতই আউট অফ প্লেস হোক, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট সাহস থাকা চাই। সমাজ বা অন্যরা যতই আপসেট হোক না কেন, ফার্ম ডিসিশন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে কোন রিগ্রেট থাকবে না।

You know it’s a good anime when you finish all episodes in one sitting and re-watch your favorite moments over and over. বিশেষভাবে কোন দুর্বল দিক আমার চোখে পড়েনি। একটা মিউজিক গ্রুপ কিভাবে এক হয়ে বেড়ে ওঠে তা এরচেয়ে ভালোভাবে দেখানো সম্ভব না। আর কিছুটা রোমান্স-এর ছোঁয়া থাকলেও কোন সাব-প্লট না রেখে সম্পূর্ণরূপে মিউজিকে ফোকাস করার কারণে সন্তুষ্টি আরো বেড়ে গেছে। মিউজিক জনরা পছন্দ করে এমন যে কারো জন্য একটা মাস্ট-ওয়াচ অ্যানিমে।

দেখতে গিয়ে আমার বারবার Whiplash মুভিটির কথা মনে হয়েছে। I wouldn’t compare the two, but I kind of liked Hibike! Euphonium more.

Hibike! Euphonium 2

৩৬০° ম্যাটেরিয়াল [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

360 Degree Material

৩৬০° ম্যাটেরিয়াল
অন্য নামঃ থ্রি-সিক্সটি ম্যাটেরিয়ালস, ৩৬০ ডিগ্রিস ম্যাটেরিয়াল

জানরাঃ শৌজো, রোমান্স, স্কুল লাইফ, ড্রামা
চ্যাপ্টারঃ ৩৩
ভলিউমঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ মিনামি তৌকো
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৬০
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯

 

 

 

 

 

আপনি কি “সেকেন্ড লিড সিনড্রোমে” ভুগছেন? ঝিলিমিলি করা সুদর্শন তরুণদের চেয়ে তাদের ঝলমলে আলোয় ম্লান হয়ে যাওয়া পাশের ওই সাধাসিধে নম্র ছেলেটিকেই ভালো লাগে? আপনার হৃদয় কি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায় যখন নায়িকা এই অভাগা ছেলেটিকে পাত্তা না দিয়ে প্রধান ছেলে চরিত্রের পিছে দৌড়াতে থাকে? তখন কি স্ক্রিনের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলেন ‘এই ছেমড়ি এটা কি করলি তুই?!! এত ভালো একটা ছেলেরে ছ্যাঁকা দিলি?! অন্ধ নাকি! আসো “*নাম বসান*”-কুন আমার বুকে আসো! ও তোমাকে মূল্য না দিলেও আমি আছি তোমার জন্য!!’ ইত্যাদি বিড়বিড় করে স্ক্রিনের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন জড়িয়ে ধরার জন্য? তবে আপনাকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি এই রিভিউ পড়তে!

(সতর্কবার্তাঃ পুরো রিভিউটি পড়ার পর বুঝবেন কথাগুলো আংশিক সত্য। পাগলী রিভিউয়ার সেকেন্ড লিডের উপর ক্রাশিত হয়ে পুরো মাঙ্গাটিতে তাকে মূলবস্তু বানিয়েছে। আর কারো পাত্তা নেই!)

গল্পের শুরুটা পড়ার জন্য আহামরি কিছু না। ওতাকা মিয়ো একদিন ট্রেন স্টেশনে দেখতে পায় তার ক্লাসমেট তাকি সুনাও আনমনা হয়ে হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে সে ট্রেন আসছে এমন সময় রেললাইনের খুব কাছাকাছি জায়গায় চলে যায় আর মিয়ো তার হাত টেনে ধরে থামায়। তাকির সাথে কথা বলে মিয়োর মনে হয় তাকি অদ্ভুত ধরণের ছেলে, যদিও সে নিজেই মিয়োকে অদ্ভুত বলে। পরদিন সকালে তাকি আবার মিয়োকে গাড়ির ধাক্কা খাওয়া থেকে বাঁচায়। এরপর থেকে তাদের স্কুলে কথাবার্তা, যোগাযোগ বাড়তে থাকে। তারপর শৌজো মাঙ্গায় যা হওয়ার ঠিক তাই হয়। গল্প নিয়ে আর তেমন কিছু বলার নাই। যা হওয়ার সব এরপরে আসে যেগুলো স্পয়লার হিসেবে নেওয়া যায়।

এই মাঙ্গাটি সস্তা শৌজো মাঙ্গায় যে সস্তা স্কুল লাইফ রোমান্স গল্পগুলো দেখায় ঠিক সেরকমই। একদম খাঁটি শৌজো যাকে বলে (খাঁটি শৌজো বলতে কিন্তু জনপ্রিয় শৌজোগুলো বুঝানো হয়নি। খাঁটি বলতে গাঁজাখুরি শৌজো মাঙ্গা যাকে বলে!)। তাহলে আমি একে ১০ এ ৯ দিলাম কেন? রিভিউয়ের প্রথম প্যারাটাতেই তার আভাস দিয়েছি। প্রধান চরিত্র দুইটি কিংবা শুধু তাদের গল্প কোনটিই আমাকে একদমই আকর্ষণ করতে পারেনি। আমার মাঙ্গাটি ভালো লাগার কারণ শুধুই পার্শ্ব চরিত্রগুলো এবং গল্পে তাদের অবদান। এই অবদান তাকি আর মিয়োর সম্পর্কে নয়; তাদের নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে, নিজেদের অনুভূতি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলে তা নিয়ে। এই চরিত্রগুলোর নিজ নিজ কষ্টের কোন গল্প নেই। কিন্তু মাঙ্গার গল্পটিকে সাধারণ বাকি গল্পগুলোর মত এগুতে না দিয়ে মাঝে মাঝেই এলোমেলো করে দেওয়াই এই অবদান। প্রচলিত রীতি অনুসরণ করেও মাঙ্গাটি কিছুটা অগতানুগতিক।

প্রথমেই বলা যাক চরিত্রগুলোর কথা। তাকি আর ১০টা শৌজো মাঙ্গার নায়কদের সাথে কোন ভাবেই খাপ খায় না। খুব সুশ্রী, জনপ্রিয়, প্রতিভাবান, হাসিখুশি, বন্ধুসুলভ এই বিষয়গুলো কিছুতেই তাকির ক্ষেত্রে খাটে না। আবার সে প্লেবয় ধরণেরও না। তাকি আসলেই খুব অদ্ভুত। তাকে আনমনা, চুপচাপ, স্বল্পভাষী হিসেবে দেখা যায়। নিজের মত থাকতে পছন্দ করে, বেশ বই পড়ে। মিয়োর এমন কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই যা আলাদা করে বলার মত। সাদামাটা একজন মেয়ে, বন্ধুদের সাথে থাকতে পছন্দ করে, পরীক্ষা আসলেই পড়াশোনা নিয়ে টানাটানি অবস্থা। তবে শৌজো মাঙ্গার নায়িকা বলতে আমরা যা বুঝি ঠিক সেরকমও বলা যায় না। এই মেয়ে যা করেছে তা শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসে কোন ভালো থেকে খারাপ মেয়ে চরিত্র করতে পারেনি। কোন শৌজো মাঙ্গার নায়িকার কাছ থেকে এমনটা কেউ কখনো আশাও করতে পারবে না। কর্মের দিক থেকে মিয়োর চেয়ে ন্যাকামো আর কান্নাকাটি করা মেয়েরাও মনে হয় ভালো হবে। তবে মেয়েটিকে অপছন্দ হলেও সেই পরিমাণ বিরক্তিকর লাগবে কি লাগবে না তা আপনার উপরেই নির্ভর করছে। তাকি আর মিয়োর সম্পর্কটাও একটু অন্যরকম। এদের মাঝে যে সম্পর্ক আছে এটা মাঝে মাঝে মনে হয় না অন্যদের সাথে তুলনা করলে। হুট করে একটা সম্পর্কে চলে যায় যেখানে কবে, কিভাবে অনুভূতি তৈরি হল তা পরিষ্কার হয় না।

কিন্তু আমার ভালো লেগেছে মারুই, আকানে, শিমিযু এই ছেলেমেয়েগুলোকে। মারুই য়ুউকি হল সেই ছেলে যার কথা শুরুতে বলছিলাম। এই মাঙ্গাতে মারুই আসলে প্রধান ছেলে চরিত্রগুলোর মত। দেখতে সুন্দর, খেলাধুলায় ভালো, মেয়েদের কাছে প্রিয়। তাকির মত চুপচাপ স্বভাব পছন্দ না, নাকি মারুই শৌজো নায়কদের মত বলে নাকি সেকেন্ড লিডদের প্রতি আমার দুর্বলতা বেশি এ কারণে আমার মারুইকে ভালো লেগেছে তা ঠিক নিশ্চিত না। কিন্তু এই চরিত্র গল্পে জড়িয়ে যাওয়ার পরেই আমি টানা মাঙ্গাটি গোগ্রাসে গিলেছিলাম! মারুইয়ের জন্যেই গল্পটি ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেছে। তবে সেটা দুইবার ১৮০ ডিগ্রী করে! তাই নামের মতই মাঙ্গাটি ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে প্রচলিত নিয়মেই শেষ হয়েছে। মারুইকে খারাপ লাগা বা ভালো লাগা দুটার সম্ভবনাই অনেক বেশি। তবে যে চরিত্রটিকে সবাই পছন্দ করতে পারবে সে হল এবিহারা আকানে। প্রথমে সে যে রকম মানুষ হিসেবে ধারণা দিবে পরে দেখা যাবে মোটেও সে তেমন না। আকানে নায়িকা হলেই বোধ হয় বেশি ভালো হত।

কাহিনীর মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক নাটকীয়তা আছে। আমার কাছে একটি বিষয় সবচেয়ে মজা লেগেছে। আমরা ভক্তরা কোন সিরিজে কোন কিছু পছন্দ না হলে কিংবা বুঝাই যায় হবে এমন কিছু দেখলেই অভিযোগ শুরু করি। অথবা কোন চরিত্র গল্পে প্রধান না বলে তার সাথে এমন অবিচার করা ঠিক না এসব বলে চেঁচামেচি করি। নিজেদের পছন্দমত শিপিং শুরু করি। কিন্তু আপনার ইচ্ছা যদি আসলেই পূরণ হত তাহলে কি ব্যাপারটা আসলেই ভালো হত? আপনি কি তখন আসলেই সেটা পছন্দ করতেন? এই জিনিসটা হারে হারে টের পাবেন এই মাঙ্গাটি পড়লে। শুরুর দিকে কমেন্ট সেকশনে মানুষকে যেটা সমর্থন করতে দেখেছি পরে সত্যি সত্যি সেটা ঘটতে দেখে আবার সেটা নিয়ে দুয়ো দিতে দেখেছি। পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে বিনোদন লেগেছে! সাধারণ এই প্রথা একটুআধটু ভাঙ্গার জন্যেই বোধ হয় আমার উপভোগ করা হয়েছিল বেশ। তবে শেষে গিয়ে অনেক তাড়াহুড়া করে গল্পটি শেষ করা হয়েছে। এর চেয়ে আরেকটু সময় নিয়ে, সহজ একটা সমাপ্তি না দিয়ে আরেকটু নাটক করে যেরকম হওয়া উচিৎ ঠিক সেরকম করে কাহিনীর ইতি টানাটাই ভালো হত। হঠাৎ করেই কাহিনী শেষ হয়ে যায়।

৩৬০ ডিগ্রীস ম্যাটেরিয়াল কেন আমার এত ভালো লেগেছে এখনো আমি ঠিক ঠাওরে উঠতে পারি না। কারণ এর কিছু কিছু জিনিস পছন্দ করাটাই আসলে ভুল। আমারে মারুইকে ভালো লেগেছে, এই মাঙ্গাটি ভালো লেগেছে এবং এই বিষয়টা ভাবতেও আমি অস্বচ্ছন্দ বোধ করি। আমার মধ্যে অপরাধ বোধ কাজ করে!! সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এটি বিতর্কমূলক একটি শৌজো মাঙ্গা। শৌজো মাঙ্গার বিশাল ভক্ত হলে তবেই এটা পড়ার কথা চিন্তা করতে পারেন। তারপরেও আপনার ভালো লাগবে না খুব খারাপ লাগবে তা পড়ার পরেই বুঝতে পারবেন।

Warau Hyouteki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Warau Hyouteki 2

প্রকৃতি সবকিছুর সীমানা ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু যদি কেউ এই সীমানার বাইরে যেতে চায়? আর তা যদি ভালবাসার ক্ষেত্রে হয় তবে কেমন হবে?

Warau Hyouteki বা Laughing Target হল ত্রিভুজ প্রেমের এক জাপানিজ ক্লাসিকাল হরর মুভি। আমাদের প্রত্যেকের প্রিয় মানুষের প্রতি ভালবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই মুভিটি।

Warau Hyouteki 1

Yuzuru Shiga এবং Satomi গল্পের নায়ক-নায়িকা যারা একে অপরকে খুবই ভালবাসে। তারা দুজনই স্কুলের আর্চারি ক্লাবের সদস্য যার ক্যাপ্টেন আবার এই Yuzuru। এই দুজনের মধ্যে প্রতিদিনই খুনসুটি লেগে থাকে। চিরাচরিত কাপল দের মত আর কি। সব ভালই চলছিল। কিন্তু একদিন হঠাৎ Yuzuru জানতে পারে তারই কাজিন Azusa তাদের সাথে থাকতে আসছে। Yuzuru’র তখন মনে পড়ল ছোটবেলার কথা। Shiga ক্ল্যানের লেগেসি রক্ষার্থে Azusa’র মা এবং Yuzuru’র বাবার মধ্যে একটি চুক্তি হয় যে তারা বড় হলে তাদের বিয়ে দেয়া হবে। Yuzuru ও একসময় Azusa কে প্রমিজ করেছিল যে তাকেই বিয়ে করবে। কিন্তু অনেক বছর পার হয়ে যায়। Yuzuru ও তার জীবনে Satomi কে খুঁজে পায়। ছোটবেলার সেই প্রমিজকে সে গুরুত্ব সহকারে নেয়নি। কিন্তু Azusa সেই ছোটবেলা থেকেই Yuzuru কে পছন্দ করত এবং সে পুরোপুরি লয়াল থাকে। সে কোন ছেলের সাথেও কথা বলেনি। অনেক বছর পর Azusa কে দেখে Yuzuru অবাক হয়ে যায়। Azusa’র সৌন্দর্য তাকে খানিকটা হতবিহ্বল করে দেয়। যদিও সে ব্যাপারটা কাটিয়ে উঠে। তো Azusa জানতে পারে Yuzuru আরেকজনকে ভালবাসে। তার মধ্যে হিংসার জন্ম হয়। প্রথম দিকে Satomi কে শুধুমাত্র ওয়ার্নিং দিলেও যখন দেখে Yuzuru তার দিকে ভ্রুক্ষেপ ও করেনা তখন সে Satomi’র ক্ষতি করতে চায়। সিচুয়েশন ক্রমাগত খারাপের দিকে এগিয়ে যায়। এরই মধ্যে আমরা জানতে পারব Azusa’র অতীতের এক ভয়ংকর ঘটনা যা তাকে demon এ পরিণত করে। Yuzuru কি পারবে তার জীবনের ভালবাসাকে রক্ষা করতে? নাকি Azusa’র হিংসার বলি হবে এই দুজন? উত্তর জানতে হলে দেখে ফেলুন ৫১মিনিটের এ মুভিটি।

Warau Hyouteki 3

এই গল্পের মূল বিষয় হল আপনি কাউকে যতই ভালবাসেন না কেন সেই ভালবাসার একটি সীমা থাকে। ‘সীমাহীন ভালবাসা’ নিয়ে অনেক কবিতা আছে কিন্তু সব বুলশিট। আপনি একবার সীমানা অতিক্রম করলেন তো মানুষটিকে হারালেন। তাই আপনি যদি খুবই ডেস্পারেট হন তবে এমনভাবে আগান যাতে মানুষটিও আপনাকে খুব ভালবাসবে। এবং অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে কোন পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।

Warau Hyouteki 4

সত্যি বলতে এটি খুবই টিপিকাল ত্রিভুজ প্রেমের গল্প। তাহলে কেন দেখবেন? যদি আপনার মনে এই মুহূর্তে ভালবাসার উঁকি দিয়ে থাকে তবে তা থেকে বের হয়ে আসার জন্যই এ মুভি দেখতে হবে। অবশ্য তার উল্টোটাও হতে পারে।

Warau Hyouteki 5

 

Baccano! [রিভিউ] — Mehedi Zaman

Baccano

Baccano!
পর্বঃ ১৩
জনরাঃ অ্যাকশান, কমেডি, সুপারন্যাচারাল, হিস্ট্রিকাল (Historical), মিস্ট্রি (Mystery), সেইনেন

আচ্ছা আপনারা কি “Pulp Fiction” মুভিটা দেখেছেন? যদি দেখে থাকেন তাহলে বলি, এনিমে জগতের “Pulp Fiction” হল Baccano! এবার যারা মুভিটা দেখেননি তাদের জন্য বলি, আমরা যখন Puzzle সাজাই তখন একটা ছবি পুরো এলোমেলো থাকে; কিন্তু সাজানো শেষ হলে পুরো ছবিটি পরিষ্কার হয়ে যায়। Baccano!-ও ঠিক এরকম। পুরো সিরিজটি একদম শেষ পর্যন্ত এলোমেলো থাকে, তবে শেষের দিকে মোটামুটি ধারনা পাওয়া যায় কোন পর্বের কোন অংশটি কোন অংশের পরে। কি? বেশ মজাদার মনে হচ্ছে? তাহলে দেরি না করে দেখে ফেলুন অসাধারন এই এনিমে যার নাম Baccano!

কাহিনীঃ ৯/১০
যেহেতু কাহিনীর শুরু এবং শেষ আপনার নিজেকে বের করতে হবে তাই আমি এর কাহিনীর সারসংক্ষেপ এখানে বলবো না। বরং আমার কাছে কাহিনীটি কেমন লেগেছে সেই সম্পর্কে বলি। যখন Baccano! দেখা শুরু করি তখন প্রথমেই মনে হচ্ছিলো এপিসোড নাম্বার ঠিক আছে তো? তারপর দুই-তিনটা এপিসোড দেখার পর বুঝলাম এইটার স্টোরিলাইন এলোমেলো। পুরো সিরিজটা যখন শেষ হল তখন বুঝলাম যে কাহিনীটা ততটা প্যাঁচালো না যতটা আমি ভেবেছিলাম। যাইহোক, এখানে Don-দের নিয়েও কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে যা একে দিয়েছে আরেকটি নতুন মাত্রা। এপিসোডের পেসিং নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না এবং পুরো কাহিনীটাই বেশ চমকপ্রদ ছিল। তাই রেটিংও ৯ পাওয়ার যোগ্য।

চরিত্রঃ ৮.৮/১০
প্রথম কথা, Baccano! এনিমেটিতে অনেক চরিত্র রয়েছে; এমনকি প্রধান চরিত্রেরও কমতি নেই। সবার কথা বলা সম্ভব না হলেও দুটো চরিত্রের কথা না বললেই নয়; Isaac এবং Miria। পুরো এনিমেটাতে হাস্যকর সব কাজ করে নিজেদেরকে বিখ্যাত চোর বলে দাবি করে এই দুজন। আবার, বিভিন্ন জায়গায় এরাই কাহিনীর মূল হোতা হয়ে দাঁড়ায়। মূলত, পুরো সিরিজটাকে মজাদার করার কাজ ছিল মনেহয় এই দুজনার। এছাড়াও মূল চরিত্রের প্রত্যেকেই অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল এবং চরিত্রের ক্ষেত্রে তেমন কোনো খুঁত না থাকলেও কিছু চরিত্রকে কিছুটা খাপছাড়া মনে হয়েছিল। তবে সবমিলিয়ে এই দিকটার বিচারেও এনিমেটি প্রশংসার দাবি রাখে।

এনিমেশনঃ ৯.৩/১০
এনিমেশনের কথা বলতে গেলে এককথায় অসাধারণ। অ্যাকশান সিনগুলো বেশ নিখুঁত ছিল এবং যেহেতু কাহিনীটি Chicago এবং New York – দুই জায়গা মিলিয়ে সেট করা হয়েছিল তাই উভয় শহরের প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্যই পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটে উঠেছিল। কিছু শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের এনিমেশন আরো বেশি চমকপ্রদ করতে সক্ষম হয়েছিল এনিমেটি। তাই এখানে একটু বেশি রেটিং পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ ৮.৮/১০
Baccano!-এর সাউন্ডট্র্যাকের মধ্যে যেমন Jazz আছে তেমনি বেশ কিছু সাধারণ মিউজিকেরও ছোঁয়া আছে। এর ওপেনিংটি আমার বেশ প্রিয় কেননা সেখানে পুরো এনিমেটির ভাবমূর্তি ফুটে উঠে। এন্ডিংটাও মোটামুটি ভালই ছিল। Cowboy Bebop এর মতো এখানেও Jazz মিউজিক এর উদাহরণ থাকায় এনিমেটি একটু বেশিই অনন্য হয়ে উঠেছে।

এঞ্জয়মেন্টঃ ৯/১০
Baccano! আমি একদিনে দেখে শেষ করি এবং সত্যি কথা বলতে এর আনন্দদানে কোনো ঘাটতি ছিল না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি উৎসুক চোখে এনিমেটি দেখেছি। বিশেষ করে কমেডি সিনগুলো অনেক মজার ছিল আর অ্যাকশান এর কথা তো বললামই না। সবমিলিয়ে Baccano! আমার অনেক প্রিয় একটি এনিমে।

সবকথার শেষ কথা হল আমি যেরকম Baccano! দেখে পুরো অন্যরকম আনন্দ পেয়েছি সেটি পেতে হলে এনিমেটি না দেখে উপায় নেই। যদি জিজ্ঞেস করেন সবমিলিয়ে আমি কত রেটিং দিব, তাহলে আমার উত্তর হবে ৮.৬/১০ যা আমার মতে Baccano! পাওয়ার যোগ্য।

এক ব্যক্তির অসাধারণ উক্তির দ্বারা আমি আমার রিভিউ শেষ করব। “Cast aside the illusion that there is a beginning and end to the story. The story has no beginning. And it has no end. All there is, is a performance of people connecting, living, influencing each other, and departing.”- Gustav St. Germain; যা Baccano! এনিমেটির ক্ষেত্রে পুরোপুরি খাটে।

Space Battleship Yamato 2199 [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Space Battleship Yamato 2199

Space Battleship Yamato 2199 || Uchuu Senkan Yamato 2199

Episodes: 26
Genres: Action, Drama, Military, Sci-Fi, Space
MAL Score: 8.56/10
Personal Score: 9/10 (Story: 8.5; AnA: 9.5; Character: 8.5: Sound: 9; Enjoyment: 9.5/10)

নামের মধ্যেই একটা গ্রেটনেস আঁচ করা যায়। ইয়ামাতো নামের যে ব্যাটলশিপ নিয়ে এ অ্যানিমের কাহিনী তা শাব্দিক এবং আক্ষরিক- দু অর্থেই ‘গ্রেট’। ৩৬৬ মিটার লম্বা এ যুদ্ধজাহাজ আর তার নাবিকদের ওপরই নির্ভর করছে মানবসভ্যতার ভবিষ্যত। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আগে মানুষের হাতে সময় আছে এক বছর।

এ অ্যানিমের অরিজিনাল রান শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। তখন এর নাম থাকে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আসে এর সফল রিমেইক, নাম দেয়া হয় স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২১৯৯। ষাট-সত্তরের দশকে তখন স্পেস অপেরার জয়জয়কার। ১৯৬৬ সালে শুরু হয় স্টার ট্রেক, ১৯৭৭ সালে আসে স্টার ওয়ার্স। আশি-নব্বই দশকের দিকে আরো কিছু শর্ট সিরিজ আসে। ২০০৪ সালে আসে ব্যাটলস্টার গ্যালাক্টিকা, মোবাইল স্যুট গান্ডাম। অ্যানিমের ইতিহাসে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো-র গুরুত্ব অনেক। ১৯৭৯ সালে Star Blazers নামে আমেরিকায় এয়ার শুরু হয় এ অ্যানিমের। প্রথম স্পেস রিলেটেড অ্যানিমে হিসেবে এর জনপ্রিয়তা পরবর্তীতে এ ধরণের শতাধিক অ্যানিমে সিরিজ আর মুভির জন্য পথ খুলে দেয়। পরবর্তীতে আমরা পাই আরো কিছু সফল আর জনপ্রিয় সিরিজ যার মধ্যে Legend of Galactic Heroes, Macross, Cowboy Bebop বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাই দ্য ওয়ে, আমার এ পোস্ট ২০১২ সালে রিলিজ হওয়া একই অ্যানিমের রিমেইক নিয়ে।

একটি আদর্শ স্পেস অপেরায় যা থাকে তার সবই আছে ইয়ামাতো ২১৯৯-এ। সায়েন্স ফিকশন, আন্তঃগ্রহ এবং আন্তঃগ্যালাক্টিক ওয়ারফেয়ার, রোমান্স, মিলিটারি, রাজনীতি তার সবই পাওয়া যায় এটিতে। প্লাসপয়েন্ট হলো অন্যান্য স্পেস অপেরার তুলনায় এ অ্যানিমেতে মেলোড্রামা নেই বললেই চলে।

সময়টা ২১৯৯ সালের। এর আট বছর আগেই মানবজাতির সাথে যোগাযোগ হয় গামিলাস (Gamilas) নামক ভিনগ্রহবাসীর। তারপর থেকেই তাদের উপর্যুপরি আক্রমণে হুমকির মুখে পড়ে যায় পুরো পৃথিবীবাসীর ভবিষ্যত। গামিলানদের প্লুটো বেইজ থেকে একের পর এক রেডিওঅ্যাক্টিভ বম্বার্ডিং এর ফল হিসেবে পুরো পৃথিবী ওয়েস্টল্যান্ড-এ পরিণত হয়। বিলীন হয়ে যায় বেশিরভাগ জীবনের অস্তিত্ব, প্রাণের অভাবে নীলসবুজ গ্রহটি লালচে রংধারণ করে। সারফেস বসবাসের অনুপোযগী হয়ে পড়ে; মানুষ বাধ্য হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয় নিতে। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতবাণী করেন এভাবে চললে আর এক বছরের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে মানবজাতি।
এরকম সময়েই ইস্কান্দার নামক এক বন্ধুভাবাপন্ন এলিয়েন গ্রহ থেকে এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত। তারা মানুষকে এমন প্রযুক্তি দেয় যা দিয়ে পৃথিবীবাসী তৈরি করে ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো, যেটি কিনা ১৬৮০০০ আলোকবর্ষ পাড়ি দিয়ে সুদূর ইস্কান্দার থেকে ‘কসমো রিভার্স সিস্টেম’ নামক এক ডিভাইস আনার ক্ষমতা রাখে। এ ডিভাইস পৃথিবীকে রিস্টোর করে দেবে পুরোনো সজীব রূপে। প্রস্তুত করা হয় প্ল্যান ইয়ামাতো। অবশেষে ২১৯৯ সালে ইস্কান্দারের রাণী স্টারশা তার বোনকে দিয়ে পাঠান প্ল্যানের ফাইনাল পিস ‘ওয়েভ মোশন ইঞ্জিন’। মঙ্গল গ্রহ থেকে এটি উদ্ধার করে পৃথিবীতে নিয়ে যায়, এ অ্যানিমের অন্যতম প্রোটাগনিস্ট, দুই বন্ধু সুসুমু কোদাই আর দাইসুকে শিমা। স্বল্পসময় পরই গামিলানদের আক্রমণের মুখেই যাত্রা শুরু হয়, ইয়ামাতো-র, নেতৃত্বে আন্তঃগ্রহ যুদ্ধের হিরো কমান্ডার ওকিতা।

এ সুদীর্ঘ যাত্রাপথের ক্ষণেই ক্ষণেই মুখোমুখি হতে হয় গামিলান যুদ্ধজাহাজের। হয় অনেকগুলো খন্ড খন্ড যুদ্ধ। দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে এত বাধা অতিক্রম করে ইয়ামাতো কি পৌঁছুতে পারবে তার গন্তব্যে? গামিলানরা নিশ্চয়ই এত সহজে ছেড়ে দেবে না। যুদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়াই কি একমাত্র উপায়? বন্ধুত্ব স্থাপনের সুযোগ কি আছে? গন্তব্যের দিকে ইয়ামাতো-র এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা দেখি কিভাবে আনফোল্ড করে অ্যানিমের কাহিনী। শুরুতে কিছুটা এপিসোডিক হলেও শীঘ্রই ইন্টেন্সিটি বাড়তে থাকে। বিশ্বাসঘাতকতা, গামিলানদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, চরিত্রগুলোর সাইকোলজি এবং কনশাইন্সের এক্সপ্লোরেশন, ক্ষেত্রবিশেষে দার্শনিকতা, শেষের দিকের কিছু চমক- সবকিছুই অন্যমাত্রা দেয় সিরিজটিকে। কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলেই বোরড হওয়ার ন্যুনতম সুযোগ পাওয়া যায় না।

২৬ এপিসোডের অ্যানিমেটি চরিত্র নির্মাণের কাজটি বেশ ভালোভাবেই করে। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশনেও চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত এজেন্ডা কিভাবে তাদের চালিত করে তা দেখি আমরা। মিলিটারি মানেই যে আবেগ বিবর্জিত রোবট নয়, অতি অভিজ্ঞরাও যে ভুল করতে পারে, মানুষ মানেই যে নীতিনিষ্ঠ আর শত্রু এলিয়েন মানেই খারাপ এ ট্রেডিশনাল অ্যাপ্রোচের বাইরে গিয়ে গিয়ে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে এর কাহিনীতে। অল্প সময় ধরে রোবটের মনস্তত্ত্ব আর চেতনা নিয়েও এক্সামিন করা হয়েছে। What makes us human? Is it our heart or our consciousness? কেবল মানবচরিত্রগুলোই নয়, ভালো ডেভেলপমেন্ট করা হয়েছে শত্রুপক্ষের বেশ কিছু চরিত্রেরও, বিশেষ করে Domel এর চরিত্রটি অসাধারণ।

অ্যানিমেশন এ অ্যানিমের সবচেয়ে স্ট্রং স্যুট। এত ভালো কাজ লাইভ অ্যাকশন স্পেস অপেরাগুলোতেও দেখা যায় না। প্রথম দৃশ্যটিই আমার মন জয় করে নিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ফাইটারগুলোর ডিজাইন এত নিখুঁত যে মাঝে মাঝে এটা যে অ্যানিমেশন তা-ই বোঝা যায় না। পরিপূর্ণ মজা নিতে চাইলে দেখতে হবে ১০৮০-পিক্সেল রেজোল্যুশনে।

মিউজিক নিয়ে বলতে গেলেই আসে এন্ডিং গুলোর কথা। দশটা এন্ডিং এর সবগুলোই অসাধারণ মনে হয়েছে আমার কাছে। এ প্রথম আমি ২৬টা এপিসোডের সবগুলোরই এন্ডিং একাধিকবার করে শুনেছি। ঘটনাপ্রবাহের সাথে মিল রেখে কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে হাই টেম্পো, বিশেষ করে ব্যাটলের শেষে, কোথাও স্লো মিউজিক এনে দিয়েছে বিষণ্নতা। সে সাথে ওল্ড স্কুল মিউজিক একটা নস্টালজিয়া সৃষ্টি করে দেয়। দুর্ভাগ্যবশত আমার ডাউনলোড করা সিরিজটায় ওপেনিং ছিল না একটা এপিসোডেও তাই বলা যাচ্ছে না ওপেনিং কেমন। কিছুক্ষণ আগে ইউটিউবে শুনে খুব একটা ভালো না লাগলেও টেরিবল বলা যায় না ঠিক। এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। রিমেইক অ্যানিমের কোন একটা (যেটা অরিজিনালে ছিল) স্কোরের কম্পোজিশন করেছেন অরিজিনাল সিরিজের কম্পোজারেরই ছেলে। স্কোরশীট হারিয়ে যাওয়ায় নিজের স্মৃতি থেকেই পুনরুদ্ধার করে স্কোরটি কম্পোজ করতে হয়েছে তাকে।

আয়রনিক ব্যাপার হচ্ছে অক্ষশক্তি হওয়া সত্ত্বেও এ অ্যানিমের গঠনপ্রকৃতিতে গামিলানদের মধ্যে একটা নাৎসী ভাইব পাওয়া যায়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কণ্ঠস্বর এবং কথা বলার ভঙ্গীতে নাৎসী নেতাদের প্রভাব স্পষ্ট। এদের ইউনিফর্ম, অনেকটা স্বস্তিকা টাইপের লোগো, স্যাল্যুটের ধরণ, তাদের নামগুলোও -যেমন, Goer, Domel, Schultz- উচ্চপদস্থ নাৎসী নেতাদের মেটাফর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গামিলান শাসক Dessler এর চরিত্রটি হিটলারের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা অ্যানিমে। সাই-ফাই ভালো লাগে এমন যে কারো জন্যই আদর্শ একটা সিরিজ। আমার খুব ভালো লেগেছে বলেই পোস্টে সব পজিটিভ কথাবার্তা বলেছি, যা বায়াসড মনে হতে পারে। কিন্তু ছোটখাটো কিছু ফ্যানসার্ভিসের কথা বাদ দিলে আসলেই এর কোন ডাউনসাইড নেই। খুব বেশি ইন্টেন্সিটি নেই যা কিনা মাথা ধরিয়ে দিতে পারে (তবে এপিসোড ১৪-তে বাড়তে মনোযোগ দিতে হবে), আবার এমন হালকাও নয় যে ভালো লাগবে না। স্ট্র্যাটেজিকাল এলিমেন্ট আর ক্লাইম্যাক্স আরেকটু বেশি থাকলে আমি একে ১০/১০ দিতাম। এখন খুব করে অপেক্ষায় আছি স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২২০২ এর যা সম্ভবত আগামী বছরেই আসবে।

যতটুকু বুঝলাম অ্যানিমেটি অরিজিনাল সিরিজের সোর্স ম্যাটেরিয়াল খুব একটা চেঞ্জ করেনি। অনেক নতুন কারেক্টার যুক্ত হয়েছে। কিছু মাইনর চেঞ্জ করা হয়েছে যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রে। ইয়ামাতো-র শেইপে পরিবর্তন করা হয়েছে কিছু। সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট আপডেটেড করা হয়েছে যেখানে দরকার। আরও কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

[এটা স্কিপ করলেও চলবে; পুরাই nerdy ব্যাপার-স্যাপার]
এত কিছুর বাইরেও যেটা আমাকে বিশেষভাবে ইম্প্রেস করেছে তা ছিল এ অ্যানিমের বৈজ্ঞানিক রেফারেন্সগুলো এবং বাস্তবসম্মত সেটিং। যদিও অবৈজ্ঞানিক দিকও কম না, সায়েন্স ফিকশনে এগুলো থাকবেই, তারপরও স্টার এবং প্ল্যানেটগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব এমন একটা ইল্যুশন সৃষ্টি করে যে মনে হয় এমনটা বুঝি সত্যিকার অর্থেই ঘটছে। যেমনঃ

১. প্রথম এপিসোডে দেখানো প্ল্যানেট বম্বগুলো বস্তুত Kuiper Belt Objects কে রিফার করে।

২. এপিসোড তিন এ মঙ্গল গ্রহ অতিক্রম করার সময় একটা সাগর দেখানো হয় যা মঙ্গল গ্রহে থাকা অ্যামাজনিস প্ল্যানিশিয়া (Amazonis Planitia) এর অনুরূপ।

৩. এপিসোড আট এ ইয়ামাতো Gliese 581 নামক একটি রেড ডোয়ার্ফ এর আয়োনাইজড গ্যাস এর মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হয় যা কিনা আসলেই এক্সিস্ট করে। এবং আমাদের সূর্যের মতই একটা গ্রহ হওয়ায় এতে অনুরূপ ঘটনা ঘটা খুবই সম্ভব।

৪. এপিসোড ১৩ তে দেখানো হয় একটা প্রোটোপ্ল্যানেটারি সিস্টেম। আমাদের সোলার সিস্টেম ৫ বিলিয়ন বছর আগে এমনই ছিল।

৫. এপিসোড ১৫ তে দেখানো হয় একটা নিউট্রন স্টার। নামটা বানানো হলেও বিজ্ঞানীরা এমন স্টারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।

৬. Large Magellanic Cloud (LMC), যেখানে ইস্কান্দার গ্রহের অবস্থান, বাস্তব একটি গ্যালাক্সি। এটি মিল্কিওয়ের পাশেই অবস্থিত এবং মিল্কিওয়ের একটা স্যাটেলাইট।

৭. এপিসোড ১৯ এ দেখানো ট্যারান্টুলা নেবুলা LMC এরই একটি H2 রিজিয়ন।

The Devil is a Part timer! [রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Devil is a Part Timer 1

এনিমে রিভিউ :The Devil is a Part timer! (আরে শয়তান তো দেখি খুচরা চাকরি করে !)

শয়তান, দেবদূত এদের বিষয়গুলো বেশ ভাবওয়ালা। এদের নিয়ে সিনেমা, গল্পও বা এনিমে বানালেও তা সিরিয়াস হয়। তো দ্যা ডেভিল ইজ আ পার্টটাইমারকে সেই টাইপের কিছু ভাবছিলাম। কিন্তু তা নয়।

কাহিনী শুরু রুপকথার মধ্যে। এন্টে ইসলা নামক এক স্থানে মানুষ, দেবতা ও শয়তানের বাস। তো শয়তান পুরো এন্টে ইসলা দখল করার জন্য যুদ্ধ শুরু কইরা দেয়। যথারীতি নাইট ইন আ শাইনিং আর্মর এসে শয়তানকে হারাইয়া দেয়। তো শয়তান ও তার এক জেনারেল এলসিয়েল কোনক্রমে পৃথিবীতে পালিয়ে এসে বাঁচে। কিন্তু এখানে এসে তারা তাদের জাদুর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তো কি দিয়ে তারা জীবন চালাবে? শয়তান সাহেব সাডাও মাও নাম নেয় এবং তার জেনারেল এলসিয়েল নেয় শিরো আশিয়া নাম। শয়তান ম্যাকরোনাল্ডস এ চাকরি নিয়ে টার্গেট করে সেরা সেলস ম্যানেজার হবে। অন্য দশজনের মত তারাও হিসাব কষে জীবন চালাতে থাকে। কিন্তু এরই মধ্যে শয়তানের খোজে হাজির হয় নাইট সাহেব। কোথায় যাচ্ছে কাহিনী! এইটা কি রকম ব্যাপার? তো অদ্ভূত এই প্লটের কাহিনী জানতে দেখে ফেলুন দ্যা ডেভিল ইজ আ পার্ট টাইমার।

Devil is a Part Timer 3

এর প্রথম এপিসোডের প্রথম ১০মিনিট দেখে ভাবতাসি এতো সিরিয়াস একশন আর ইনটেন্স জিনিসের গায়ে কমেডি ট্যাগ কেন?! পরে গিয়ে দেখি এইটা পুরাই কমেডি এবং সাথে হালকা একশন। প্লট উড়াধুরা এবং মজাদার। গ্রাফিক্স এবং আর্ট যথেষ্ট ভাল। সাউন্ডট্র্যাক তো অস্থির!! এইটা দেখলে ডাবে দেখাই বেস্ট হবে!! শয়তান রাজা সাহেবের “খাইয়া ফেলুম” থেকে “শুভ সকাল ভাল আছেন?” এ যাওয়া মোডটা কেমন জানি খাঁপছাড়া লাগসে আর এপিসোডও আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল। পর্ব সংখ্যা মোটে তেরো। সময় থাকলে দেখতে পারেন।

Devil is a Part Timer 4

আমার রেটিং: ৭/১০

Devil is a Part Timer 7

গীতিরাজপুত্রদের কেচ্ছা/ উতা নো প্রিন্স সামা মাজি লাভ ১০০০% — Farah Faruque

Uta no Prince-sama Maji Love 1000 1

কমাস আগে ইউটিউব এ মামোরু মিয়ানোর নামে গানের সন্ধান লাগিয়ে দুটো গানের সন্ধান পেলাম, এবং শোনামাত্র মাথা ঘুরে গেল, ভাললাগার পরিমাণ স্কেল ছাড়িয়ে আরো দু’ইঞ্চি উপরে উঠে গেল, সন্ধান করে দেখলাম গান দুটোই গীতিরাজপুত্র দের নিয়ে তৈরি এই আনিমের চরিত্রসঙ্গীত

ভেবে দেখলাম আনিমেটা চেখেই দেখব কিনা, জন্রায় দেখি লেখা রয়েছে রিভার্স হারেম, মিউজিক, শৌজো! এই রে সেরেছে! আমি শৌজো রোমান্স দেখলে এখনও দশ হাত দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি, আমি এটা দেখব কি করে? তাছাড়া এমন একটা খেয়ে-কাজ-নেই টাইপের সিরিজ দেখছি শুনলে মেলা লোকেই তো নাক সিটকোবে দেখি! আমার আনিমু রুচি পছন্দের মান টা তাদের কাছে কই যাবে তা তো ভাববার বিষয়!
কিন্তু এত ভেবেও কি আর ঠেলে সরিয়ে রাখা যায়? এ তো দেখছি সোনার খনি ( অর্থাৎ কিনা গানের খনি!) তাই ভাবলাম চুলোয় যাকগে আর সব! দেখেই ফেলি! আর পরীক্ষা শেষ হবার পরপরেই মাথাভারী কিছু দেখতে এমনিও মন চাইছে না!
তাই দেখেই ফেললাম প্রথম সিজন! খারাপ লাগল আর কই?? ভালোই লাগল তো দেখি!! গল্পের কথা যদি বলি তেমন আহামরি কিছু নেই, চলনসই শৌজো রোমান্স গল্প, ওই যা হয় এরকম গল্পে তাই আর কি! তবে একেবারে একঘেয়ে বলার মত নয়, বোরিং যাকে বলে তা কিন্তু মনে হল না একটুও কেন জানি! যারা ওতোমে গেম জিনিসটার সাথে পরিচিত তাদের কাছে এ চেনা গল্পই মনে হবে!! এমনিতে গল্পটাকে দশে সাড়ে ছয় দিয়ে বসিয়ে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষের অংশটা ভালই লাগল তাই দিলাম গিয়ে সাত!

চরিত্ররাও অমন নতুন কিছু নয়, একপাল ছেলেচরিত্র কোন আনিমেতে থাকলে যা হয় তাই আরকি! একজন থাকবেন ফ্লার্ট মারা সুদর্শন, একজন ভাব-মারা “আমি বড় প্যারায় আছি তুমি বুঝবা না” টাইপ খোকা, একজন পাগলছাগল, একজন “ছোট্ট খোকাবাবু যাকে দেখলেই গাল টিপে দিতে ইচ্ছে করবে, একজন কম-কথা-বলা আর সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল হাসিমাখা মুখ তরুণ- এই হচ্ছে প্রধান দল, নায়িকা যেন তাদের মাঝে সাত ভাই চম্পার এক বোন পারুল, সবারই তাকে চাই ( রিভার্স হারেম বলেও নায়িকাকে বোন বানিয়ে দিলাম কারণ শুরুতেই তো বলে দিয়েছে এখানে নাকি প্রেম জিনিসটায় হাত দেওয়া নিষেধ! :3) সাতভাই বলার পরেও ছ’জনের হিসেব কেন দিলাম তা আনিমে দেখলেই বুঝা যাবে! বাকিদের মাঝে যাকে চোখে পড়ল তার মত ভাল ট্র‍্যাপ কমই দেখেছি, তারপর যখন জানলাম ইনার কন্ঠ ইউয়িচি নাকামুরার দেওয়া তখন চোয়াল ঝুলে গেছিল নিচে!
সব মিলিয়ে চরিত্র রা টিপিক্যাল হলেও আর যাই হোক বিরক্তিকর না! সবাই অল্পবিস্তর ভালো লাগার মতই!

এনিমেশন যাকে বলে কিরাকিরা পিকাপিকা ঠিক তাই! চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার যথেষ্ট তবে মোটের উপর এনিমেশন খারাপ লাগে নি, আর্ট এনিমেশন যথেষ্টই ভাল লেগেছে! রাজপুত্তুর দের রাজপুত্তুরের মতই লেগেছে আরকি হেহে!

মিউজিক এর কথায় এবার যদি আসি তবে একটা কথাই বলতে চাই! কোন কথা হবে না!!!!!!!!!!!!!!!!! গান নিয়ে আনিমে বলে ভালো কটা গান থাকবেই তা আশা করেই এসেছিলাম কিন্তু তাই বলে প্রতিটা পর্বের পরই যে হন্যে হয়ে পুরো গান খুঁজতে যেতে হবে এতটা আশা রাখি নি!! শুধু কি গান! গান ছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে যে পিয়ানোর সুর গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তা কানের ভিতর দিয়ে গিয়ে মাথা খারাপ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!!! আর চরিত্রাভিনয়ের কথা যদি বলতে হয় তাহলে প্রথমেই বলব এখানে মামোরু মিয়ানো আছেন! ব্যস আমার আর বলার কিছু নেই! বলতে গেলে আমি আর থামছি না!!!!!! তবে মজা টা এখানে হয়েছে কিন্তু তাকে নিয়ে নয় আরেকজন কে নিয়ে, নাতসুকি চরিত্রটিকে দেখে আমরা দুই বোন খুব ভাবের সাথে বলার চেষ্টা করছিলাম এ চরিত্রে কেনিচি সুজুমুরার গলা ভালো মানাত, যে গলা তিনি কুরোকো তে মুরাসাকিবারা চরিত্রে দিয়েছেন, কিন্তু পরে যখন আআবিষ্কার করি মাসাতো চরিত্রটির কন্ঠ তার দেওয়া তখন আমাদের ভাবখানা হয়েছিল “এটা কেমন হল আ?? :|” মাঝে আবার বোন শুনিয়ে দিল তার গানের গলা নাকি মামোরুর গানের গলা থেকে বেশি সুন্দর লাগছে! কি জ্বালা!! আর অভিনেতা জুনিচি সুয়াবে কে এতদিন একটু মাথাগরম চরিত্রেই দেখে আসছি, তাই তাকে এমন প্লেবয় চরিত্রে দেখাটাও সারপ্রাইজ ই ছিল!

আরেকটা জিনিস না বললে নয়, আর তা হল ফ্যান্সার্ভিস এর প্রসঙ্গ, এই আনিমের ছবি খুঁজতে গিয়ে ইয়াওই ফ্যান আর্ট কম দেখিনি! তাই এখানে কতখানি কি দেখায় তাই নিয়ে একটা সন্দেহ ছিলই, কিন্তু দেখার পর এখন মনে হচ্ছে কিসের কি ঘোড়াড্ডিম! এমন কোন ফ্যান্সার্ভিসের ব্যবহার দেখলাম না যা ফুজোশির মাথায় পোকার মত কামড়াতে পারে, তারপরেও তারা কোত্থেকে কি ভেবে নিয়ে বসে আছে তারাই জানে! এই একটা পয়েন্ট কিন্তু আসলেই ভালো লেগেছে, খামোকা চটকদার করতে এখানে উল্টাপাল্টা ফ্যান্সার্ভিসের আশ্রয় নেয়া হয়নি!

ও আচ্ছা বলতে তো ভুলেই গিয়েছিলাম, “আইডল” আনিমে কিনা, তাই এখানে গানের সাথে “পারফরমেন্স” গুলোও দেখবার মতনই হয় বৈকি! ভেবেছিলাম একটু কষ্ট করে পারফরমেন্স গুলো “সারভাইভ” করতে হবে দেখি হেহে! কিন্তু দেখার পর তো উল্টো হতাশ হতে হল! অমন কোন আইডল পারফরমেন্স ই দেখতে পেলাম না, কেবল একটা ছাড়া! 🙁

সবশেষে বলতে পারি মোটের উপ্র ভালো লেগেছে আনিমে টা, দশে সাত দেব ভাবছিলাম কিন্তু গানগুলোর জন্য দশে ৭.৭৫ দিচ্ছি!! ( গান অবশ্য দশে পনের পাচ্ছে!) সারাদিন এক কানে তার গুজে গান শোনার জন্য কান টাই কটকট করছে এখন :|, হুতোম প্যাঁচার মত জেগে বসে থাকতে তাই এখন অন্য কানটাও ধ্বংস করব ভাবছি! খামোকা আমার এই আজাইরা বকবক শুনে বিরক্ত হবার জন্য সবার কাছে দুঃখিত! পালাই বরং এবেলা!

Uta no Prince-sama Maji Love 1000 2

Death Parrade [রিভিউ] — Mahedi Hasan

DP 1

Anime: Death Parade
Episode: 12
Genre: চিন্তাশীল মনোভাব, রম্য নেই বলা চলে ইত্যাদি
Rating (আমার কাছে ): 7/10

কেমন হবে যদি আপনাকে কোন বারে (পানীয় পান করার স্থান) নিয়ে যাওয়া হল এবং বলা হল আপনার জন্য সকল পানীয় বিনামূল্যে দেয়া হবে।
আপনি শুনে তো আহ্লাদে আটখানা, আপনি আপনার প্রিয় পানীয় পান করতে পারবেন ইচ্ছা মতো কিন্তু পয়সা দিতে হবে না।
কিন্তু ঝামেলার ব্যাপার হল এই যে, ইক্টু পরে বলা হলো আপনাকে একটা খেলা খেলতে হবে। খেলার প্রতিপক্ষ হবেন আপনার খুবই কাছের মানুষ।
সে যদি আপনার প্রিয় সুপার স্টার হয় তাহলে কেমন হবে?
বাহ! তাহলে তো খেলতেই হবে। এটি তে আর নতুন কি!
নতুনত্ব হচ্ছে এখানে,
খেলার জন্য কিছু নির্দেশনা মানতে হবে।
যা শুনে আপনার লোম খাড়া হয়ে যাবে।
নির্দেশনা গুলো হচ্ছে —
1. আপনাকে কেন এ বারে নিয়ে এসে আপপায়ন করা হচ্ছে তা বলা হবে না।
2. এখানে আপনাকে একটা খেলা খেলতে হবে।
3. খেলাটি লটারির মাধ্যমে খেলতে দেওয়া হবে।
4.(আসল নিয়ম) খেলার সাথে আপনার জীবন জুড়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, আপনি যে খেলাটিই খেলবেন তার সাথে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ জুড়ে দেওয়া হবে।
(উদাহরণ: আপনি যদি ডার্টস খেলেন তাহলে আপনার প্রতিপক্ষের ডার্টস এর ছকে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ জুড়ে দেওয়া হবে। আপনার প্রতিপক্ষ যদি তার ছকের এমন একটি অংশে আঘাত করে যেখানে হৃৎপিণ্ড এর ছবি থাকে তাহলে আপনি আপনার হৃৎপিণ্ড এ অস্থির ব্যাথা অনুভব করবেন।) (এক কথায় জীবন বাজি রেখে খেলা)
5. খেলা শেষ হওয়ার না পর্যন্ত আপনি এই বার থেকে বের হতে পারবেন না।

DP 2

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসছে যে, এত সুযোগ সুবিধা ভোগ করছি সেখানে আবার এই বিরক্তিকর খেলা। উফ, এ খেলা না খেললে হয় না! তাছাড়া এটি তো জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করার মত অবস্থা।

যখনই আপনি বারের ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করবেন, এই খেলা না খেললে হয় না। তখনই ওয়েটার আপনাকে অনেকগুলো লাশ দেখাবে এবং বলবেন, এই যে লাশ গুলো দেখতে পারছেন। এরা খেলা খেলতে চান নি, তাই তাদের এই অবস্থা হয়েছে। আপনার ও এই অবস্থা হবে যদি আপনি খেলাটি না খেলেন অথবা খেলাতে হেরে যান।

খেলা শুরু হল, এটি স্বাভাবিক যে আপনি হারতে চাইবেন না। কারণ আপনি জানেন আপনি যদি হেরে যান তাহলে আপনাকে সেই লাশের সাথে থাকতে হবে। আপনি পাগলের মত খেলায় মনোযোগ দিবেন এবং প্রাণপণে জিততে চাইবেন। কিন্তু আপনার প্রতিপক্ষও নাছড়বান্দা । সে হারলে, সেও লাশে পরিণত হবে। এ কারণে খেলা আরও জমে উঠবে।

এ এনিমে তে প্রতিটি ক্যারেক্টারকে এমনই জীবন মরণ খেলা খেলতে দেখা যাবে।
এক এক জনের খেলাও হবে বিভিন্ন ধরনের।

খেলার ফলাফল কি? খেলাটি তে জিতলে কি পুরষ্কার পাওয়া যাবে? কিভাবে বারের লোকেরা পরাজিত ব্যক্তি কে লাশে পরিণত করেন? তাদের উদ্দেশ্য কি? এসব কিছু জানতে হলে আপনাকে এই এনিমের প্রথম পর্ব টি দেখতে হবে। যাতে আপনি প্রশ্নগুলো এর উত্তর জানার পাশাপাশি এনিমেটা দেখার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

DP 3

Glass no Hana to Kowasu Sekai [মুভি রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

Glass no Hana to Kowasu Sekai

Name: Glass no Hana to Kowasu Sekai
Length: 1 hour 7 mins (movie)
Genres: Sci-Fi

কাহিনীটা হল অন্য এক ডিমেনশনে, যাকে “Box of Wisdom” বলা হয়। সেখানে আমার প্রধাণ দুই চরিত্র ডুয়াল এবং ডরথির বসবাস। এবং তাদের মূল কাজ হল সেখানে সব ভাইরাস মারা, কেন না তারা দুইজন হল অ্যান্টি-ভাইরাস। মোয়ের ভেতর যখন জাহাজ, ট্যাঙ্ক, অস্ত্র আরও অনেক কিছুই ঢুকানো হয়েছে তখন অ্যান্টি-ভাইরাস কি দোশই বা করলো। এভাবেই তাদের সাথে একদিন দেখা মিলে আরেকটি মূল চরিত্র রেমোর সাথে। তাদের কাছে আমাদের এই পৃথিবী হল তৃতীয় ডিমেনশন, তো এভাবেই তারা তিন জন মিলে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকে। কিন্তু, পৃথিবীকে শুধু সবকিছুই সুন্দর? এত কিছুর মাঝে তো পৃথিবীর নৃশংসতাও তাদের চোখে পরে। সব শেষে যা হয় আর কি ঘটনা ক্রমে পৃথিবীর ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে আসে, যার মূল কারণ সেই ভাইরাস। আর এই পৃথিবীকে বাচানোর দায়িত্ব পরে এক সফ্টওয়েরারের উপর এবং যার ভেতরই কি না, আমাদের মূল দুই চরিত্র অ্যান্টি-ভাইরাস। এত কিছুর মাঝেও রয়েছে অনেক অনাকাঙ্খিত প্লট টুয়িস্ট, তবে সেটা তো দেখে নেওয়ার দায়িত্ব আপনার।

আর্টটা খুবই অসাধারণ। A-1 Pictures-এর কাজ বরাবরই অসাধারণ। ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজটা এ সিরিজের সেরা জিনিশগুলোর একটা ছিল। পৃথিবীর প্রায় সব বিক্ষাত জায়গাই তুলে ধরেছে এবং অত্যাধিক সুন্দর করেই সেটা করেছে। শুধু তাই নয় “Box of Wisdom”-এর ব্যাকগ্রাউন্ডও ছিল চোখ ঝলসানো। ডার্ক মুহুর্তগুলোর অ্যানিমেশনের কাজ ছিল বলার মত। চরিত্রের ডিজাইন অনেক সুন্দর ছিল, চরিত্রগুলোকে বেশ কিউট করেই তৈরি করা হয়েছে। সব মিলায়, অত্যন্ত অসাধারণ আর্টওয়ার্ক যাকে কি না ১০-এ ৯-এর নিচে দেওয়াই যায় না।

BGM-গুলোও ছিল অ্যানিমেশনের পাশাপাশি অত্যাধিক মানের। শুরুতেই শুনতে পাবেন পিয়ানোর এক সূথিং শুর যেটা কি না এন্ডিং গানটারই পিয়ানো ভার্শন। এবং এই শুরটা এতটাই ভালো, শুরুতেই আপনার মন ভালো করে দিতে বাধ্য, যে কোন সময়ই শুনে ভাল্লাগবে এরকম একটি শুরই ছিল (https://goo.gl/jN2V6M)। শেষের দিকের BGM ও দৃশ্যের সাথে অত্যন্ত মানানসই হওয়াই, যতটুকু না ভালো লাগার কথা তার চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। আর এই মুভির সেরা জিনিশগুলোর একটি হল তার এন্ডিং সং ‘Yume no Tsubomi’ যেটা কি না গেয়েছে এই আনিমের মূল ৩ জন চরিত্রের সেইয়ূ তানেদা রিসা, সাকুরা আয়ানে এবং হানামোরি ইয়ুমিরি। সবারই ভালো লাগবে এমন গানই ছিল এই গানটা (https://goo.gl/vKoKLe)।

যখন কোন সিরিজ শুরুই হয় কায়ানোর অত্যাধিক মোয়ে কণ্ঠটা এবং রিসার সূথিং কণ্ঠটা দিয়েই, তখন সেই আনিমের চরিত্রগুলোর কণ্ঠটা ভালো লাগাই স্বাভাবিক। মূল দুই চরিত্রের কণ্ঠে ছিল তানেদা রিসা এবং সাকুরা আয়ানে। দুইজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই বরাবর অনেক আনিমেতেই কোন না কোন রিলেশন থাকতে দেখা যায় যেমন রিজে-কোকোয়া (গোচিয়ুসা), কাওরি-সুবাকি (শিগাৎসু), মিয়োকৌ ক্লাস-সেন্দাই ক্লাস (কাঙ্কোলে) তাই এখানেও যে দুইজন অসাধারণভাবেই ডুয়াল এবং ডরথির কণ্ঠে সিঙ্ক্রোনাইজ করবে এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি ছিল রেমোর সেইয়ূ হানামোরি ইয়ুমিরি, নতুন একজন সেইয়ূ তিনি এবং তার কণ্ঠের সাথে অপিরিচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক কেননা ১০টার বেশি রোল নেই তার, দ্বিতীয়তা কোন চেনা-জানা আনিমেতে উল্লেখযোগ্য চরিত্রেরও কণ্ঠ দেয় নাই তিনি। তার কণ্ঠটার মাঝে বেশ ভালো পরিমানেই কায়ানোর টান আছে, অন্তত আমার কাছে শুনে যতটা লেগেছে।

সবমিলায় এক ঘন্টার মাঝে বেশ উপভোগ্য একটা মুভি। সময় নিয়ে দেখে ফেলুন তবে মোয়ে ভালো না লাগলে, একটু বিবেচনা করে দেখা শুরু করাটাই ভালো। কেননা এই এক কারণে অনেকেরই একটা আনিমে যতটা উপভোগ করার কথা তার চেয়ে খুব কম উপভোগই করে। যদি মাদোকা মাজিকা, গাক্কৌ গুরাশির মত কোন আনিমে খুজতে থাকেন তাহলে আজই দেখে ফেলুন মাত্র ১ ঘন্টার এই মুভিটি।