Bakemono no Ko/ The boy and the Beast [Movie Review] — Urmi Nishat Nini

Bakemono no Koমুভি: Bakemono no Ko/ The boy and the Beast
My anime list rating: 8.5/10
My personal rating: 9/10
লেখক এবং ডিরেক্টর: Mamoru Hosoda

কাহিনি বেশ ভিন্ন ধরনের। গল্পের শুরু নয় বছরের এক ছেলে রেন কে দিয়ে।যার মা মারা গিয়েছে রোড এক্সিডেন্ট এ। অনেক আগেই বাবা আর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে।বাবার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। মা মারা যাওয়ার পর রেন তার গার্ডিয়ানদের সাথে থাকতে প্রত্যাখান করে। পালিয়ে চলে আসে একা, রাস্তায় কয়দিন ভবঘুরের মত ঘুরে। এমন সময় সে রাস্তায় ২ জন “Beast” এর দেখা পায়, যাদের মধ্যে একজন তার সাথে কথা বলে এবং হটাৎ করে তার সাথে যেতে বলে। অবাক রেন এর ঘোড় কাটতে না কাটতে ওই ২ জন অদৃশ্য হয়ে যায়।
এরপর পুলিশের হাত থেকে পালাতে পালাতে একসময় হঠাৎ রেন ওই beast কে আবার দেখতে পায়। কিছুটা দোটানা আর কৌতূহলের বশে সে পিছু নেয়। তারপর এসে ঢুঁকে এক অদ্ভুত এলাকায়, যেখানে সব বাসিন্দা হল ওই কথা বলা , বৃহৎ আকৃতির প্রাণী বা Beast। সেই Beast কে রেন খুজে পায়।তার নাম হল Kumatetsu.
Kumatetsu তার শিষ্য হিসেবে মানুষ্ কে, মানে রেনকে বেছে নেয়। Kumatetsu মাস্টার হতে চায় বটে, কিন্তু তার মাঝেও ছেলে মানুষি এখনও রয়ে গেছে। রেন প্রথমে থাকতে না চাইলেও পরে থেকে যায়।
শুরু হয় রেন আর কুমাতেতসু এর কাহিনি।এটা অন্য কাহিনির মত নয়, যে master শিখাচ্ছে আর student শুধুই শিখছে। এখানে master আর student ২ জন ই একে অপর থেকে শিক্ষা নেয়। শুধু শিক্ষা নেওয়ার মাঝে গল্প সীমাবধ্য না। এর মধ্যে গল্প না না দিকে মোড় নিতে থাকে। পুরোটা সময় গল্প দর্শকদের ধরে রাখার মত। কাহিনি এর শেষে হতাশ হবেন না। 🙂
হাতে সময় থাকলে মুভিটা দেখে ফেলুন। এনিমেশন হল স্টুডিও chizu এর যারা “The Girl who Leapt Through The time”, “Wolf Children” এর মত মুভি বানিয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এনিমেশন বেশ দেখার মত। আমার আসলেই ভালো লেগেছে মুভিটা।মুভিতে মিউজিক ও সুন্দর।

Love Lab [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Love Lab 1

[ANIME REVIEW]

Anime – Love Lab
Episodes – 13
Genre – Romance, Comedy, School

এই ধাঁচের আনিমের কাহিনী সবসময়ই বেশ সিম্পল হয়, লাভ ল্যাবও তার ব্যতিক্রম নয় । কাহিনীর মুলত মাকি এবং রিকো এই দুই চরিত্রকে ঘিরেই গড়ে উঠে । কাহিনীর শুরুটা হয় ঠিক রিকো কোন এক কাজে স্টুডেন্ট কাউনসিল রুমে ঢুকেই মাকির এক ডার্ক সিক্রেট বের করে ফেলে । সেখান থেকেই শুরু হয় আমাদের মূল দুই চরিত্র মাকি এবং রিকোর ভালোবাসা নিয়ে গবেষণা । অন্তত টাইটেলের সাথে মিলিয়ে কাহিনীটা রেখেছে । শুধু যে এ দুইজনকে নিয়েই তা কিন্তু না, পর্যায়ক্রমে আনিমেটির ৫ জন প্রধাণ চরিত্রের বাকি ৩ জনও চলে আসে । কাহিনী মূলত স্টুডেন্ট কাউন্সিলদের ভালোবাসা নিয়ে গবেষণা এটা বলেই চালিয়ে দেওয়া যায় ।

তবে আনিমেটির কাহিনীতে ব্যতিক্রম কিছুও আছে । সাধারণত এই সকল আনিমের কোন নির্দিষ্ট কাহিনী থাকে না অনেকটা খাপছাড়া গতিতে চলে শেষ হয়ে যায় কিন্তু লাভ লাব কিন্তু তা নয় । পুরো ১২ টা পর্ব মনে হবে খাপছাড়া কিন্তু ১৩ নম্বর পর্বটা বেশ ব্যতিক্রমধর্মী একটি পর্ব ছিল এবং আনিমেটা যেভাবে শেষ করেছে তাকে আমার মতে পার্ফেক্ট এন্ডিং বললেও চলে । যদিও এর দ্বিতীয় সিজন অবশ্যই চাই ।

Love Lab 2

আনিমেটার মত মন খুলে হাসানোর মত আনিমে খুব কমই আছে, সিরিয়াস মুহূর্তেও হাসাবে । তবে পুরা আনিমেতেই যে ফাইজলামি সেটা বললে ভুল, অনেক মুহূর্তও ছিল যেখানে আপনার মন অনেকটা খারাপ করে দিবে অথবা চিন্তায় ফালায় দিবে । কিন্তু তাদের ফাইজলামিগুলো দেথার মত ছিল । কাহিনীটা যত পর্ব যাবে তত ভালো হতে থাকবে, তত বেশি উপভোগ্য হতে থাকবে ।

আনিমের ওপেনিংটা বেশ আনন্দদায়ক, এন্ডিংটাও ভালো ছিল । মিউজিক এবং আর্ট দুইটাই আনিমেটির উপযোগী এক পার্ফেক্ট মূড তৈরি করায় সক্ষম ছিল ।

আনিমেটির কাস্টে মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগু, হায়ামি সাওরি, সুগিতা তোমোকাজু, হিদাকা রিনা, উচিয়ামা কৌকি এদের মত বড় বড় নাম ছিল ঠিকই কিন্তু সব পার্শ চরিত্র হিসেবে, যাদের স্ক্রিনটাইম অনেকটা পর্বের মাঝে অল্প কিছু সময়েই সীমাবদ্ধ । মূল ৫ জন চরিত্রের মাঝে তানাহাশি এবং এনোর সেইয়ূ মিনাসে ইয়োরি এবং সাকুরা আয়ানেরই বেশ নামডাক আছে আর এই দুই চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয়েও বরাবরের মতই তারা অসাধারণ ছিল । মাকির কণ্ঠে আকাসাকি চিনাৎসুর কাজ নির্ভুল ছিল । সাথে রিকোর কণ্ঠে নামাকুরা মানামির কাজও বেশ প্রশংসনীয় এবং খুব বেশি একটা রোল নেই তার কিন্তু এরপর যে কয়টা রোল পেয়েছে তার বেশিরভাগই রিকোর ধাঁচের চরিত্র তো বুঝে নিন এই রোলটা তার কতটা অসাধারণ ছিল । তাইচি ইয়ৌ-এরও মিজুশিমার রোলটা বেশ ভালো ছিল, উনি যে কয়টা রোল করেছে সবগুলোর ক্ষেত্রেই এই গভীর স্বরটাই ব্যবহার করেছে তাই ধরতেও অসুভিধা হয় না যদিও রোল করেছেই খুব কম ।

সব মিলায় আমার মতে উপভোগ করার জন্য পার্ফেক্ট জিনিশ, তাই সময় নিয়ে দেখে ফেলুন লাভ ল্যাব নিশ্চিত পছন্দ করবেন ।

Love Lab 3

Gintama [Anime Review] — Asiful Alam Ayon

Gintama

এনিম: গিনতামা
এপিসোড: ৩১৬
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং
স্টুডিও: Sunrise Inc.
ম্যাল রেটিং: 9.33
ব্যক্তিগত রেটিং: 9.89

মাংগাকা হিদেয়াকি সোরাচির অনবদ্য সৃষ্টি এই গিনতামা। ২০০৩ সালে মাঙ্গা আর ২০০৬ সালে প্যারোডি এনিম হিসেবে মুক্তি পায় এটি। এরপর থেকে এর মোট তিনটি সিজন ও দুইটি মুভি মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে ম্যালের (myanimelist) শীর্ষ দশের মধ্যে পাঁচটি স্থানই দখল করে রেখেছে গিনতামা।
অনেকেই মনে করেন গিনতামার কোন স্টোরি নেই। কিন্তু, এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। গিনতামার স্টোরি আছে এবং এটা যেকোন শৌনেন এনিমের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতই।

সিনোপসিস: যখনকার কথা তখন এডো পিরিয়ড। আমান্তোরা (এক ধরনের এলিয়েন) আক্রমণ করে বসল মানবজাতির উপর। শুরু হল যুদ্ধ। যুদ্ধে যোগ দিল সামুরাইরা। কিন্তু যুদ্ধের এক পর্যায়ে বাকুফু (সরকার) বিশ্বাসঘাতকতা করে আমান্তোদের কাছে আত্নসমর্পণ করে। তারপরেও যুদ্ধ চালিয়ে যায় সামুরাইরা। যদিও ক্রমেই আমান্তোদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে তারা। তা সত্ত্বেও একজন সামুরাই ছিল যে কিনা পাথরের মত অবিচল। সাদা চুলের সেই সামুরাই, যার ডাকনাম শিরোইয়াশা (white demon) আজো অনেকের শরীরে শিহরণ এনে দেয়, বারবার যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুকে আক্রমণ করতে তিনিই আমাদের গল্পের নায়ক সাকাতা গিনতোকি। কিন্তু, এক সময় যুদ্ধ শেষ হয়। আমান্তোদের পুতুল হয়ে যায় বাকুফু। সামুরাইদের কাতানা কেড়ে নেওয়া হয়। সর্বত্র এখন আমান্তোদের প্রভাব।
সাকাতা গিনতোকিকে কেউ আর শিরোইয়াশা নামে চিনে না। কাবুকিচোর এক বাড়ির দ্বিতীয় তলায় তার অফিস। নাম ইয়োরোজুয়া (odd jobs)। অফিসের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সে। সাথে সামুরাই কাম ওটাকু শিনপাচি শিমুরা আর কাওয়াই কাগুরা-চান। “আমরা সব করি” এটার মানেই ইয়োরোজুয়া। শিনপাচি আর কাগুরাকে নিয়ে গিনতোকির জীবনে আসে পরিবর্তন। হাস্যরসে ভরা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কাহিনী নিয়েই গিনতামা।
গিনতামা ভালো লাগে এই দুইটা পার্টের অর্থাৎ অতীত আর বর্তমানের মিশ্রণের জন্যই। সিরিয়াস আর্ক যখন চলে তখন সবকিছুতেই সিরিয়াস ভাইব। সিরিয়াস আর্ক গুলা (বেনিজাকুরা আর্ক, কাবুকিচো আর্ক, শোগুন অ্যাসাসিনেশন আর্ক ইত্যাদি) না দেখলে আপনার বিশ্বাসই হবে না মজার মজার এই চরিত্র গুলা এতটা সিরিয়াস হয়ে উঠতে পারে!! আর এই মেইন প্লটের আর্ক গুলা ছাড়া বাকি পুরোটা সময় গিনতামা আপনাকে দিয়ে যাবে নিখাদ বিনোদন!! কিছু পর্বের শেষের মিনি স্পেশাল “গিনপাচি সেনসেই” যেমন আপনাকে পেটে হাত দিয়ে হাসাবে তেমনি মানানসই সাইন্ডট্র্যাকের সাথে দুর্ধর্ষ মারামারিগুলো আপনাকে যেন নিয়ে যাবে এনিমের গহীনে আর করে তুলবে উত্তেজিত। (তবে চিন্তার কারণ নেই, উত্তেজিত হয়ে হাতের চাপে গ্লাস ফাটিয়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটবে না xD ) গিনতামার স্টোরিতে আপনি কখনো কোন খুঁত খুঁজে পাবেন না, কেন জানেন? কারণ আপনাকে হাসাতে হাসাতে সেই ভুল তারা সংশোধন করে ফেলবে।

আর্টওয়ার্ক: আর্টওয়ার্ক এমন আহামরি কিছু না আবার খারাপও না। নিজেরাই নিজেদের আর্টওয়ার্ককে ট্রল করে। আসলে হাস্যরসে আর মারামারিতে আপনি এতটাই মগ্ন হয়ে থাকবেন আর্টওয়ার্ক নিয়ে খুব একটা ভাববার অবকাশ পাবেন না।

মিউজিক: গিনতামাকে মিউজিকে আমি দশে দশ দিব। নামকরা সব গায়ক আর ব্যান্ডদের দিয়ে গাওয়ানো সাউন্ডট্র্যাক আর গান গুলা আপনার ভালো লাগতে বাধ্য। প্রত্যেকটা গানই বারবার শুনতে মন চাইবে।

গিনতামার ভয়েস ক্যাস্টও ফেলনা না। আছেন অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সুগিতা তোমোকাজু (জোসেফ জোয়েস্টার, সাকাতা গিনতোকি এদের সেইয়ু) আর আমাদের অনেক চেনা ও প্রিয় ক্যারেক্টারের (আলফন্স এলরিক, আইসাকা তাইগা, হ্যাপি, কাগুরা ) ভয়েস দেওয়া কুগিয়ামা রিয়ে।

গিনতামা কেন দেখবেন তার কারণ বলি এবার। গিনতামা দেখবেন সাকাতা গিনতোকির জন্য। আর কোন শৌনেন এনিমের প্রোটাগোনিস্ট গিনতোকির মত নাক খুঁটে না!! xD সাকে পান করে কথায় কথায় মাতাল হয় না!! গিনতোকি আমার দেখা চরিত্রগুলার মধ্যে অন্যতম ব্যাডঅ্যাস। এছাড়াও এনিমটাতে ঐতিহাসিক শিনসেনগুমি আর ওনিওয়াবানশুর দেখা পাবেন । খুব কম এনিমেতেই যাদের দেখানো হয়েছে। প্রধান তিন চরিত্র গিনতোকি, শিনপাচি, কাগুরা ছাড়াও অনি নো ফুকুচো (Demon Vice Chief) তোশিরো হিজিকাতা, গরিলা কনদো ইসাও, স্যাডিস্টিক শৌগো ওকিতা, মাতসুদাইরা, শোগুন শিগেশিগে, ইয়ান্দেরে হোস্টেস ওতায়ে, শিনোবি মাসো (M) সাচ্চান, সুন্দেরে সুকুয়ো, এন্টি রেবেল ফ্যাকশনের নেতা কাতসুরা প্রত্যেকটা চরিত্রই আপনার মধ্যে এক ধরনের ইম্প্রেশন ফেলতে বাধ্য। গিনতামায় কোন সুস্থ মস্তিষ্কের ক্যারেক্টার আপনি খুঁজে পাবেন না বললেই চলে। এই জন্যেই গিনতামা দেখা আবশ্যক।

[অনেকেই ৩০-৪০ এপিসোড দেখে গিনতামা ড্রপ করেন। তাদের অনুরোধ করব পুরোটা দেখতে। তা নাহলে পরে আফসোস করবেন। আগে পুরোটা দেখেন তারপর যত খুশি গিনতামার সমালোচনা করেন আমার কোন সমস্যা নাই।]

HEADS [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

 

মাঙ্গা রিভিউ : HEADS
মাঙ্গাকা : হিগাশিনো কেইগো
“তোমার ঘরে বাস করে কারা ও মন জানোনা
,তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা ,,
মানুষের মন ডেডেলাসের তৈরি ল্যাবিরিন্থের চেয়েও জটিল । যেই মন একটা প্রজাপতিকে দেখে মুগ্দ্ধ হয় আবার সেই মনই ফ্রিজের ভেতর মানুষের কাঁটা অঙ্গ সংগ্রহ করে । এখন এই মন মানে মগজে যদি আরেকজন ভাগ বসায় তাহলে ব্যাপারটা ভেজালের উপর আরো ভেজাল । তো এই মাঙ্গার কাহিনী মানুষের মনের বিচিত্রতা নিয়েই ।
এই গল্পের নায়ক লাজুক এবং বিনয়ী চরিত্রের অধিকারী জুন নারুসে । সত্‍ ,হাসিখুশি এবং ভীতু , এককথায় ভালোমানুষ । ইলেকট্রিকাল কোম্পানিতে চাকরি এবং ছবি আকার শখ নিয়ে শান্তিতেই জীবন কাটছিল তার । এরমধ্যে মেগুমি নামক এক হাসিখুশি মেয়ের সাথে সে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পরে ।সব মিলিয়ে সুখেই ছিল । কিন্তু একদিন ব্যাংকে গিয়ে সে পরে ডাকাতের কবলে । ডাকাতের কবল থেকে ছোট এক মেয়েকে বাচাতে গিয়ে সে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় এবং কোমায় চলে যায় । কয়েকসপ্তাহ পর কোমা থেকে উঠে সে জানতে পারে , সেই বিশ্বের প্রথম ব্যাক্তি যার আংশিক ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে । সে সুস্থও হয়ে ওঠে । কিন্তু ধীরে ধীরে সে বদলে যেতে থাকে । যে ফ্যান্টাসি মুভি দেখে সে রাতে ঘুমাতে যেত তা এখন বিরক্ত লাগে ,হঠাত্‍ খেপে যাওয়া আর যে মেগুমিকে সে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালবাসত তাকেও আগের মত ভাল লাগছে না । কি হচ্ছে তার । কে হানা দিচ্ছে তার মনোজগতে ?বাকি কাহিনী মাঙ্গাতে ।
মাঙ্গার আর্টওয়ার্ক খুবই ভালো এবং ডিটেইলড । কাহিনীর টুইস্ট এবং টার্ণগুলো অস্থির লেগেছে । কাহিনী কোন জায়গাতেই স্লো হয়ে যায়নি । আকর্ষন পুরোদমে ধরে রাখতে পেরেছে । তো অপেক্ষা কেন , পড়ে ফেলুন ৩৬চ্যাপ্টারের মাঙ্গাটি । আশা করি ভালো লাগবে !
Reading link :http://kissmanga.com/Manga/Heads
আমার রেটিং :৮.৫/১০

Heads 1 Heads 2

Giant Killing [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Giant Killing 1

Anime – Giant Killing
Genre – Sports, Seinen,Drama
Episodes – 26
জায়ান্ট কিলিং বেশির ভাগ স্পোর্টস জনরার আনিমেগুলোর তুলনায় যে দিক থেকে একে উপরে রাখবো তা হল কাহিনীটা বেশ বাস্তবধর্মী । সাধারণত, স্পোর্টস আনিমেগুলো জমজমাট করে তুলে ধরার জন্য সুপারন্যাচুরাল উপাদানের আশ্রয় নেয়, অনেকেই তা নেতিবাচক দিক হিসেবে ধরে নেয় । যদিও আমার এ নিয়ে কোন অভিযোগ নেই । ঠিক তাদের জন্যই আসল স্পোর্টসের উত্তেজনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই আনিমেটি মূলত, তবে এ বিষয়ে কিছু দিক থেকে আনিমেটি সফল আবার কিছু দিক থেকে ব্যর্থ ।
কাহিনী মূলত তাৎসুমি তাকেশি চরিত্রটিকে ঘিরে । বেশিরভাগ স্পোর্টসে যেখানে খেলোয়াড়রাই মূল চরিত্র, এখান থেকে আনিমেটা ব্যতিক্রমী । কেননা মূল চরিত্র হল, দলে কোচ যারাই ঠিক ম্যাচটা নিয়ন্ত্রন করে খেলোয়াড়দের নিজেদের দাবার গুটির মত । যাই হোক, তাৎসুমি তাকেশি একজন নামকরা খেলোয়াড় ছিলেন যে কি না এসে জোগ হয় ETU ( East Tokyo United ) নামক এক ছোট দলের ম্যানেজার হিসেবে । তার ঘাড়ের উপর চেপে পরে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তা হল ETU-কে ঠিক জাপানি লিগের এক ভালো অবস্থান করানোর জন্য । তার এ যাত্রাটাই মূলত তুলে ধরে পুরা আনিমেটিতে ।
আনিমের আর্টটি তেমন আহামরি কিছু নয়, তবে খুব খারাপ যে তাও না । একেবারে অতি সাধারণ মানের । চরিত্রের ডিজাইনটা ঠিক বলব চেহারাগুলো বেশ চোখ্যা করে বানানো নাইলে বেশ গোলগাল করে । তবে যে জিনিশটা খুব একটা চোখে বাঁধবে তা না । আর ইনসার্ট মিউজিকগুলা বেশ দারুন । জমজমাট মুহূর্তগুলো আরও জমজমাট করে তুলে । ওপেনিং-এন্ডিংটা ছিল মোটামোটি, এটা ভালো লাগতেও পারে আবার না-ও পারে বিষয়টা সম্পূর্নভাবে আপনার রুচির উপর নির্ভর করবে জিনিশটা । জাপানির পাশাপাশি জার্মান, পর্তুগিজ এবং ফরাসি ভাষার প্রয়োগ পাবেন আনিমেটাতে অবশ্য তা ব্যবহার করবে সুধু সে জাতির চরিত্ররাই । এ এক ভালো দিক ছিল, অ্যাক্সেন্টটাও সুন্দর ছিল আর সাধারণ আনিমের মত সব জাতিরাই জাপানিতে কথা বলে এই পথ অনুসরন করে নাই । আনিমের প্রথমেই ইংরেজি শুনতে পাবেন তবে বুঝবেন না, সাবটাইটেলের সাহাজ্য নিতে হবে কারণ ইংরিশ ।

Giant Killing 2
এখানে চরিত্র অনেক থাকলেও সে তুলনায় ভালো লাগার মত চরিত্র কম । মূল চরিত্র হিসেবে তাৎসুমি মনে রাখার মত চরিত্র । সবসময় সে অনেক রিলযাক্সড মুডে থাকে । দেখলে মনে হবে যে দলের ব্যপারে তার কোন চিন্তা নেই কিন্তু আসল বিষয় ঠিক উলটো । আর এরকম এক ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরার ক্রেডিট সেকি তোমোকাজুর । সেইয়ূ হিসেবে সে যে বেশ অসাধারণ এর পরিচয় তিনি অনেক আগেই দিয়েছেন । আসলে তিনি অহংকারী, সিরিয়াস, অলস, প্রায় সব রকমের চরিত্রের সেরা কণ্ঠটাই দিতে পারেন বেশ সহজেই, তার কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রগুলোর লিস্টের দিক তাকালেই বিষয়টা সম্পর্কে এক পরিষ্কার ধারণা হয়ে যাবে আপনার । একটা ফুটবল দলে ১১ জন থাকলেও ETU থেকে সবচেয়ে বেশি স্ক্রিনটাইম পেয়েছে জিনো, সুবাকি, সেরা, কুরোদা এবং মুরাকোশি । কম বেশি ৫ জনকে আপনার বেশ ভালো লাগবে । জিনোর ঠিক ভাব নেওয়া চরিত্রটি নির্ভুলভাবে ওনো দাইস্কে তুলে ধরেছেন । এসাথে সুবাকির মত চরিত্র তুলে ধরাই হল মিজুশিমা তাকাহিরোর সেরা দিক তাই এর কণ্ঠ অভিনয় নিঃসন্দেহে ভালো ছিল । কুরোদার মত চিল্লাপাল্লা করে এমন চরিত্র ইতৌ কেন্তারোকে নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে আগেও দেখেছি, এখানেও দেখলাম । ওকিয়ায়ূ রেন্তারোও সুন্দরভাবে মুরাকোশির রোলটা করেছেন । আর সব মিলিয়ে আনিমের সেরা চরিত্রটা ছিল সেরা (Sera, セラ) আমার মতে । তার কণ্ঠতেও কায়ানো তাকেতোশি বেশ ভালো কাজ করেছেন, যদিও এর সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই । সিরিজে মিলবে আরও ক্লাবের ভক্ত এবং অনেক রকম চরিত্র । ঠিক একটা ক্লাবকে ঘিরে যেরকম চরিত্র থাকে, প্রায় সবারই দেখা পাবেন আনিমেটায় ।
কোন আনিমেই নিঁখুত নয়, সে বিষয় এই আনিমেটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । আনিমেটির নেতিবাচক দিকগুলো (আমার কাছে), মূলত পুরা লিগে তাদের যাত্রার কাহিনী নিয়ে হলেও তেমনভাবে ভালো পরিমান স্ক্রিনটাইম পেয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচ । বাকি ম্যাচগুলো অনেকটা পর্বের মাঝেই দেখায় চলে গিয়েছে । পেসিংটা বেশ বেখাপ্পা ছিল, কিছু সময় অধিক তারাতারি কাহিনী আগায় আবার কিছু সময় অনেক ধীর গতিতে । কাহিনী মূলত তাদের জাপান লিগের যাত্রা তুলে ধরা নিয়ে হলেও কাহিনীর সারাংশ হল ‘ ক্লাব প্রথমে খারাপ খেলে, সবায় তাৎসুমির উপর আশা হারায়ে ফেলতে গিয়েও ফেলে না । এরপর ঠিক লিগের মাঝে তাদের এক অসাভাবিক পূর্ণ জাগরম ‘ । অবশ্য এ বিষয়টা নেতিবাচক-ইতিবাচক দুই ভাবেই নেওয়া যায় । শেষমেশ, কাহিনীর সমাপ্তিটা ছিল অসমাপ্ত ।
সবমিলিয়ে ভালো লাগার মত এক আনিমে । ম্যাচগুলোর মাঝে থ্রিল পাবেন । অনেক ভালো আনিমে, দেখে ফেলুন ।
[ সমাপ্তি ]

আমার নিজের স্পোর্টস জনরার মাঝে ইয়োমুশি পেডাল আর গার্লস উন্ড পান্জার (স্পোর্টস ট্যাগ নেই, তবুও এক হিসেবে ধরা যায়), এ দুটো আনিমের পর এটায় সবচেয়ে বেশি থ্রিল পেয়েছি ।

Giant Killing 3

One Week Friends রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Screenshot_2016-03-26-17-36-00-1

আজ দেখে শেষ করলাম ব্রেইনস বেইজের অ্যানিমে- Isshuukan Friends / One Week Friends.

কাওরি ফুজিমিয়াকে বলা যায় ক্লাসের সবচেয়ে ইউনিক মেয়ে। কারও সাথে কথা বলে না, যন্ত্রের মত স্কুলে আসে যায় আর পড়াশোনা করে। তার শীতল নির্বিকার চাহনি দেখে ক্লাসের অন্য স্টুডেন্টরা তার সাথে কথা বলতে ভরসা পায় না। এই কাওরিকে হঠাৎ একদিন বলে বসল হাসে ইউকি নামের ছেলেটি, “I’d like for us to be friends!!”

চমকে গেল কাওরি। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বিনীতভাবে হাসেকে প্রত্যাখ্যান করে দৌড়ে চলে গেল সে।

Screenshot_2016-03-26-17-35-18

এইটুকু বর্ণনা শুনলে যে কারও মনে হতে পারে, Yet another typical romance story. কিন্তু না, এরপরের কাহিনীতে আছে একটা রহস্য।

নাছোড়বান্দা হাসে তারপরেও কাওরির সাথে কথা চালিয়ে যেতে লাগল। এবং কাওরি নিজেও খেয়াল করল না যে কখন সে না চাইতেও নিয়মিত হাসের সাথে বন্ধুর মতই সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু এদিকে সোমবার যে এগিয়ে আসছে! সোমবার এলেই তো কাওরির পৃথিবী রিসেট হয়ে যাবে! কিভাবে হাসের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করবে তখন সে?

অ্যানিমেটার কাহিনী নরমাল রমকম অ্যানিমের মতই, কিন্তু এই রহস্যটার কারণে কাহিনীটা আমার কাছে বেশ ইউনিক লেগেছে। যদিও এই প্লট নতুন দেখছি না, বহু আগে দেখা একটি ইংরেজি মুভিতে প্রায় এরকম একটা কাহিনী দেখেছিলাম, তাও এই অ্যানিমেতে রহস্যটা যেভাবে ব্যবহার করেছে, তা আমার ভাল লেগেছে। রোমান্সের দিকে নজর না দিয়ে কাওরি ও হাসের অন্যান্য ক্লাসমেটদের সাথে সম্পর্ক ও তাদের নিজেদের ডেভেলপমেন্ট এর দিকে বেশি ফোকাস করা হয়েছে – এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক যেটা অ্যানিমেটাকে বোরিং হতে দেয়নি। স্লাইস অফ লাইফের মত কিছুটা ধীরগতির হলেও তা কাহিনীটাকে উপভোগ্য করে তুলেছে বলে আমি মনে করি।

Screenshot_2016-03-26-20-37-02-1

শুরুতেই ব্রেইনস বেইজের কথা উল্লেখ করেছিলাম, কারণ এই স্টুডিওটি আমার অত্যন্ত পছন্দের অ্যানিমে নাতসুমে ইউজিনচৌ এবং মুভি হৌতারুবি নো মোরি ই তৈরি করেছে, আর এ দুটোর আর্টের সাথে ইশশুকেন ফ্রেন্ডস এর আর্টে অনেক মিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, ব্রেইনস বেইজের কাজ মনে হয়েছিল দেখার সময়ই। ওএসটি অ্যানিমের থিমের সাথে মানানসই, ওপেনিং টা বেশ সুন্দর।

সবমিলিয়ে মাত্র ১২ পর্বের বেশ সুন্দর একটা স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে এটি, চাইলে দেখে ফেলতে পারেন।

Screenshot_2016-03-26-17-35-36-1

Gunslinger Stratos: The Animation [রিভিউ] — Tahsin Faruque Aninda

Gunslinger-Stratos-Animated-2015-03

Genre: Action, Sci-Fi
Episodes: 12 + 1 [alternate ending]

Square Enix-এর ফাইটিং গেম গানস্লিঙ্গের স্ট্র্যাটোসের উপর ভিত্তি করে তৈরি আনিমে। ফাইটিং গেমের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা আনিমেগুলি সাধারণত ভয়াবহ খারাপ হয়, সেটা থেকেই আন্দাজ করা যায় কিরকম হতে পারে। ২টা ছবি দিয়েছি এখানে, গেমের ভার্শনের তুলনায় আনিমের আর্ট স্টাইলের অবনতি চোখে পড়ার মত। তবে সব মিলিয়ে শুরুর দিকে গল্পের কোয়ালিটি মনে ধরার মত না হলেও surprisingly শেষের দিকে এসে গল্পটা একদম খারাপ হয় নি।

Gunslinger Stratos Game

 [গেম ভার্শন]

Story:
২১১৫ সালের ঘটনা, Degradation নামের এক ধরণের রোগ ছড়িয়ে পরেছে, যার ফলে কথা নাই বার্তা নাই হঠাত যে কেউ এক নিমিষে ধুলার মত হয়ে গিয়ে উড়ে যেতে পারে, অস্তিত্ব একদম নাই হয়ে যায় যেন।
গল্পের নায়ক তোহরু কাজাসুমি একদম হঠাত নিজেকে এমন জায়গায় নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে বিল্ডিং, গাড়িঘোরা, মানুষ, সবকিছু একদম পুরানো পুরানো; আর এর মধ্যে হঠাত গোলাগুলির মধ্যে পরে সে। বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করে তার দিকে যে গুলি ছুড়ছে সে আর কেউ না, নিজেই!
পরে আকস্মিক বিপদ থেকে উদ্ধার হবার পর জানতে পারে দুই প্যারালাল পৃথিবীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে, যেখানে দুই পৃথিবীর প্রতিনিধিরা নেমে পরে নিজেদের দুনিয়া বাঁচাতে। Degradation-এর হাত থেকে মুক্তির জন্যে একমাত্র উপায় কোন এক পৃথিবীর ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

গল্পের মূল থিম বেশ ইন্টারেস্টিং হলেও প্রথম দিকে আনিমেটা দেখতে একটু বোরিং লাগছিল। তবে শেষের কয়েক পর্বের দিকে গিয়ে আনিমেটাকে একটা মোটামুটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছে।

Art:
২০১৫ সালের এই সিরিজের আগে ২০১৪ সালে একটা প্রোমোশনাল ভিডিও বের করে, সেইটার আর্ট স্টাইল অনেক বেশি ভাল ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের সিরিজটার আর্টস্টাইল মনে ধরার মত না। বিশেষ করে চোখগুলা আর মুখের গড়ণ আগেই দেখার ইচ্ছা অনেক কমিয়ে দিতে পারে। তবে এইটুক অংশ বাদ দিলে সব মিলিয়ে আর্টস্টাইল একদম খারাপ না। একশন দৃশ্যগুলি সুন্দর আছে।

Music and Songs:
মিউজিক চমৎকার ছিল, এখনকার যুগের একটা ট্রেন্ড যেন হয়ে গিয়েছে অল্পস্বল্প বা একদমই খারাপ সিরিজের OSTগুলি যেন খুবই ভাল হয়ে যায়! এখানেও সেরকমই অবস্থা, মিউজিকগুলা আনিমেটি দেখার মুহুর্তগুলি বেশ অনেক অংশে উপভোগ্য করতে পেরেছে। আর ওপেনিং ও এন্ডিং গান দুটি গত বছরের অন্যতম দুটি সুন্দর গান ছিল।

Ending:
স্পয়লার না দিয়ে এন্ডিং নিয়ে আলাদা করে বলছি, কারণ সিরিজটা শেষ হবার সময়ে দুটি এন্ডিং বের হয়েছিল। টিভিতে এয়ার হবার সময়ে এক এন্ডিং, এবং একই দিনে nico-তে alternate ending এয়ার হয়েছিল। অরিজিনাল এন্ডিং গল্পের টোন ঠিক রেখেই হয়েছিল, কিন্তু অলটারনেট এন্ডিংটা কিছুটা অবাক করতে পারে। অবশ্য “alternate” ending, অবাক করার জন্যেই বানানো হয়েছিল।

পরিশেষে, আপনার যদি sci-fi ধাঁচের একটা survival আনিমে দেখতে ইচ্ছা করে, সিরিজটি ট্রাই দিয়ে দেখতে পারেন। একদম উচ্চাশা নিয়ে না বসে বরং এক্সপেক্টেশন একটু কমিয়ে নিয়ে দেখতে গেলে উপভোগ করতে পারবেন। তবে আপনার যদি খুব ভাল ভাল আনিমে ছাড়া কোন কিছু দেখার সময় না থাকে বা আগ্রহ না থাকে, সিরিজটি ইগ্নোর করতে পারেন।

MAL Rating: 6.31/10
Personal Rating: 7.2/10

Alternate Ending-টি দেখতে চাইলে এখান থেকে নামিয়ে নিন:
http://www.nyaa.se/?page=view&tid=703354

Natsuyuki Rendezvous [রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

Natsuyuki Rendezvous 1

নাতসুইউকি র্ঁদেভ্যু

মিষ্টি মিষ্টি প্রেমের মাঝে কড়া তেতো বাস্তবতা মেশানো অদ্ভুত রকমের সুন্দর এক জোসেই এনিমে । শুরুটা হয় খুবই হালকাভাবে কিছু কমেডি মেশানো দুষ্টু প্রেমের খুনসুটি দিয়ে। এনিমের মাঝে গিয়ে প্রচুর ভাবায়,কোনটা ঠিক,কোনটা ভুল-আবেগের কাছে ধরাশায়ী হওয়া উচিত নাকি অতীতের কথা মাথায় রেখে সামনে আগানো যাবেনা নাকি সব ছেড়েছুড়ে শেষ পন্থা হিসেবে আত্নহনন?

Natsuyuki Rendezvous 2
২২ বছরের হাযুকি প্রত্যেকদিন এক ফুলের দোকানের সামনে যায় মধ্যবয়স্কা রোক্কা-চানের সাথে শুধুমাত্র একটু আলাপের আশায়। রোক্কার গোল মুখ,অমায়িক হাসি আর একটুখানি মমতায় ভরা কথাবার্তাই বাকি দিন পার করে দেওয়ার জন্য হাযুকির কাছে যথেষ্ট। উপরওয়ালা যখন মুখ চেয়ে তাকালো,তখনই হাযুকি সুযোগ বুঝে পার্ট-টাইম চাকরি নিয়ে ফেললো রোক্কার দোকানে। কিন্তু বিধি-বাম,রোক্কাকে একদিন দেখে ফেললো আরেক ছেলের সাথে। ভগ্নহৃদয়ে যখন হাল ছেড়ে দিয়ে হাযুকি কেবলই সিগারেট ধরাতে উদ্যত,তখনই সে আবিষ্কার করলো যে লোকটি আর কেউই না,রোক্কার পরলোকগত স্বামী,আতসুশি শিমাও এবং ইনাকে হাযুকি ছাড়া আর কেউই চোখে দেখে না। এই শিমাও কুন বড্ড স্বার্থপর্। রোক্কাকে নিজের কাছে রাখতে চায়,মুভ অন করতে দেয়না। রোক্কা আর হাযুকির ইন্টিমেট মোমেন্টগুলোতে এসে ঝামেলা করে দেয়। কাউকেই প্রোগ্রেস করতে দেয়না। আপাতদৃষ্টিতে কথাগুলো হিউমারাস মনে হলেও,দেখতে বড়ই কষ্টের্। রোক্কার নিজের স্বামীর প্রতি ফিলিংস প্লাস হাযুকির জন্য নতুন নতুন সব অনুভুতিগুলো সামাল দেওয়া,মুভ অন করার যে আত্মদ্বন্দ- এসব দেখা বড়ই “heart-wrenching”

Natsuyuki Rendezvous 6 Natsuyuki Rendezvous 5

এন্ডিং এ কি হয় বলবো না,কিন্তু আমার দেখা অন্যতম প্রিয় এন্ডিংগুলোর মাঝে এইটা থাকবে। শেষ যখন “ইতাযুরা না কিস” দেখেছিলাম,তখন এরকম তৃপ্তি পেয়েছিলাম। জোসেই ফ্যানদের জন্য মাস্ট ওয়াচ। আর আপনার যদি সাকামিচি নো এপোলোন,নানা,কুরাগেহিমে,শৌওয়া রাকুগো ভাল্লাগে,তাহলে অবশ্যই এটা দেখবেন।

Natsuyuki Rendezvous 3 Natsuyuki Rendezvous 4
ওপেনিং আর এন্ডিং সং খুব বেশি সুন্দর্। একেবারে মন ঠান্ডা করে দেওয়ার মত। আর প্রত্যেকটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুব বেশি সুথিং। অলস গ্রীষ্মের দুপুরে কিছু না করার থাকলে এক সিটিং এ শেষ করে দিতে পারেন ১১ এপিসোডের এই অসাধারন এনিমে।

আমার রেটিং ৯/১০

Natsuyuki Rendezvous 8 Natsuyuki Rendezvous 7

Denpa Onna to Seishun Otoko [Review] — Santo Kun

রহস্য কার না পছন্দ?মানুষের জীবন এইদুনিয়া সবই রহস্যে ঘেরা। আপনি যদি বলেন আপনি ভয় পান না বা ভূত,এলিয়েন ইত্যাদিতেবিশ্বাস করেন না তাহলে আপনি মিথ্যা বলছেন। আপনি যতই বলেন না কেন বিশ্বাস করেন না মনেরভিতরে কোন এক অংশ জিনিসগুলোকে পুরোপুরি ভাবে ফেলে দিতে পারে না। ৯৯ শতাংশ যদিবাস্তবে মন দেয় তাহলে অন্তত ১ শতাংশ সমস্ত অবিশ্বাস্য জগতে বিশ্বাস করে। এবং তাসঠিক সময়ে বের হয়ে আসে।রিয়ালিটি এমনই কেমন জানি একটা বন্ধ ঘরে আটকানো। ঘরের মধ্যেরঘুরাঘুরি করা যায় কিন্তু অবাস্তবতাকে ওপারে কল্পনায় রেখে দিতে হয় যা শুধু অনুভবকরা যায়।

Denpa Onna to Seishun Otoko 1

ধরুন হঠাৎ করে কেও একজন নিজেকে এলিয়েনদাবি করে বসলো। আপনি কি পারবেন তাকে বিশ্বাস করতে? বা হেসে উয়িয়ে দিতে? মানুষের মনকল্পনা প্রেমি তাই কিভাবে জানি এসব বিষয় কে বিশ্বাস করতে গিয়ে নিজে নিজে বাস্তবেরসাথে মিলিয়ে অবাস্তবতাকে প্রকাশ করে। এইটাকেই আমরা “Coincident” বলি।

Denpa Onna to Seishun Otoko 2

তেমনি এক চরিত্র তউয়া এরিও যে নিজেকেএলিয়েন মনে করে।স্বাগতম আপনাকে এমন এক শহরে যেখানে এলিয়েন আনাগোনা বেশি বলে মনেকরা হয়। এ শহরে নাকি এলিয়েন দেখা যায় এবং এলিয়েন মানুষদের তুলে নিয়ে যায়।আপাদেনএরিও-চান নাকি তাদের মধ্যে একজন। এরিও চান প্রায় অর্ধেক বছর নিখোঁজ ছিল সমুদ্রেএবং এই অর্ধেক বছরে তার সাথে কি হয়েছে এসব তার কিছুই মনে নেই। সে মনে করে এসব তারসাথে এলিয়েন করেছে। এরিও চান একটু অদ্ভুত ধরনের নিজেকে ফুটনের মধ্যে জরিয়ে রাখেকাউকে তার চেহারা দেখতে দেয় না।তার ঘরে তাকে কেউ নোটিস করে না যা মাকতো কুন কে খুববিস্মিত করে।

Denpa Onna to Seishun Otoko 3

মাকতো কুন হল এরিও চান এর কাজিন। তার বাবামা বিস্নেস ট্রিপ এ গেলে তাকে তার অ্যান্টির বাসার শিফট হতে হয়।এবং সেখানে তাকেঅনেক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাতে হয়। কাহিনী মাকতো কুন কে ঘিরে। এরিও চানকে যখন সে প্রথম দেখে তখন তার চোখ কে বিশ্বাস করতে পারে না কেও এত সুন্দর কিভাবেহতে পারে। কে তুমি? এলিয়েন? নাকি এক সুপ্ত রাজকুমারি? আসলেই এরিও চান অনেকসুন্দরী।জ্যোৎস্না রাতে চাঁদেকে আরাল করে বাতাসে উরে যাওয়া আকাশী চুলের বাহার যেকারও মনকে কেড়ে নিবে। আপনি বোধহয়ই এমন সুন্দর এনিমে চরিত্র খুব কমই দেখেন।কাওাইনেস ওভারলোড তার চেহারা আর কণ্ঠে।

Denpa Onna to Seishun Otoko 4

সিরিজটা একটু স্লো হলেও প্রত্যেক মুহূর্তএঞ্জয় করার মত। স্লাইস অফ লাইফ এনিমে কিছুটা এমনই হয়। এনিমের ওপেনিং আর এন্ডিং হল সেরা কিউট ওপেনিং আর এন্ডিং। আমার মনে হয় না আর কোন এনিমেআছে যার ওপেনিং আর এন্ডিং।

ওপেনিং লিঙ্ক:

https://www.youtube.com/watch?v=i6fwe3EFTRQ

এন্ডিং লিঙ্ক:

https://www.youtube.com/watch?v=IJ5dcnP87oE

Denpa Onna to Seishun Otoko 5

এনিমেটি এনিমেশন করে Shaft Studios। সাফট স্টুডিও  কিছু পপুলার কাজ হল মনোগাতারি সিরিজ,নিসেকই, মাদোকা মেজিকাইত্যাদি। তাহলে বুজতেই পারছেন এনিমেশন কোয়ালিটি কেমন হবে এবং প্রত্যেকটি চরিত্রকেকত সুন্দর করে উপস্থাপন করা হবে।তাই এরিও চান সহ অন্যান্য মেয়ে চরিত্রের দিক থেকেচোখ সরানো মুশকিল।এনিমে স্লাইস অফ লাইফের সাথে কিছু সাইফাই মিশানো তাই তাইঅন্যান্য স্লাইস অফ লাইফ থেকে একটু ভিন্ন তা আপনারা এনিমের কনসেপ্ট পড়ে বুঝে গেছেনআই হোপ।

ধন্যবাদ।

এনিমে ডাউনলোড লিঙ্ক= https://kissanime.to/Anime/Denpa-Onna-to-Seishun-Otoko

Anime information:
Name: Denpa Onna to Seishun Otoko
Episode:12+1 special
Status: Complete
Source: Light novel
Genres: Comedy, Sci-Fi, Seinen, Slice of Life
Mal Score: 7.37
Personal Score: 8

অরেঞ্জ [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Orange

অরেঞ্জ
জানরাঃ ড্রামা, সাই-ফাই, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
ভলিউমঃ ৫
চ্যাপ্টারঃ ২৭
মাঙ্গাকাঃ তাকানো ইচিগো
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাঙ্কিং: ২৩
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৮২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

অনুশোচনা-শব্দটি বলা যতটা সহজ অনুভব করা বোধ হয় ততটা সহজ নয়। প্রত্যেক মানুষই জীবনে ভুল করে। ছোট্ট একটা কর্ম বা সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের বড় একটা অংশ নির্ধারন করে ফেলতে পারে। কখনও তা হয় মঙ্গলজনক কখনও বা নিজের অজান্তেই আমরা জীবনটিকে অশুভ কিছুর দিকে ঠেলে দেই। তারপর অসহনীয় অনুশোচনার আগুনে পুড়ি। বারবার মনে হয়; যদি ফিরে যেতে পারতাম অতীতে, শুধরে নিতে পারতাম ভুলগুলো। দুঃখের বিষয় সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। কিন্তু কেমন হত যদি আপনার অতীতের সত্তাকে আগেভাগে জানিয়ে দিতে পারতেন সামনে কি আসতে যাচ্ছে, কি করা উচিৎ? কিংবা বলা যাক, আপনার ভবিষ্যতের সত্তা আপনাকে হঠাৎই জানিয়ে দিল সামনে কি হবে এবং আপনার কি করা উচিৎ?

তাকামিয়া নাহোর জীবনে ঠিক এমনটিই ঘটে। হঠাৎ একদিন নাহো তার ১০ বছর পরের ভবিষ্যতের নাহোর কাছ থেকে একটি চিঠি পায়। স্বাভাবিকভাবেই সে ধরে নেয় কেউ তার সাথে ঠাট্টা করছে। কিন্তু নাহো অবাক হয়ে লক্ষ্য করে চিঠির কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে ফলছে। চিঠির কথা মতই তার ক্লাসে আসে একজন নতুন ছেলে, যার নাম নারুসে কাকেরু। এবং সে নাহোর পাশের সিটে বসে ঠিক যেমনটা চিঠিতে বলেছে। এরপর একের পর এক ঘটনা সাক্ষ্য দিয়ে দেয় যে আর যাইহোক চিঠিটিতে মিথ্যা কিছু বলা নেই। কিন্তু তবু নাহোর মন থেকে সন্দেহ আর দ্বিধা দূর হয় না। ভবিষ্যতের নাহোর অনুরোধ সে শুরুতে রাখতে পারে না। এই চিঠি যেহেতু তার ভাগ্যের কথাই বলে দেয় তাই তার মনে চিঠিটি পড়তে এক প্রকার ভয় তৈরী হয়। কিন্তু কাকেরু যখন স্কুলে আসে না অনেক দিন তখন নাহো ভাবে চিঠিতে হয়ত এর উত্তর পাওয়া যাবে। এরপর চিঠিতে পাওয়া অনুরোধগুলো মেনে চলে নাহো দেখল এতে বরং ভালো ফলাফল পাচ্ছে সে। এভাবে চিঠি পড়তে পড়তেই সে আবিষ্কার করল কেন ভবিষ্যৎ থেকে সে নিজেকে এভাবে লিখেছে। ১০ বছর পরে কাকেরু আর তাদের সাথে থাকবে না। চিরতরে সে চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। কাকেরুকে চিরতরে হারিয়ে ফেলাসহ জীবনের ছোট ছোট কিন্তু মূল্যবান অনেক মুহুর্ত হেলায় হারিয়ে ফেলে নাহো অনুতপ্ত বোধ করে। তাই সে অতীতে নিজের কাছে চিঠি লেখে যাতে অতীতের নাহো ভবিষ্যতের নাহোর মত একই ভুলগুলো না করে। নিজের কাছেই নাহোর একটাই অনুরোধ, জীবনের মূল্যবান সময়গুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মূল্য দিয়ে এবং কাকেরুকে রক্ষা করে নিজেকে অনুশোচনামুক্ত করা।

এ পর্যন্ত পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবে অরেঞ্জ মাঙ্গাটির কেন এত সুনাম আর ভালো স্কোর। আর তা হল শৌজো মাঙ্গা হিসেবে এর গল্পে রয়েছে নতুনত্ব। আজব ধরণের মেয়ে সুন্দর ছেলের প্রেমে পড়বে কিংবা একটু দুঃখের অতীত, মানসিক আঘাত, বুলিং, বিষণ্ণতা ইত্যাদি হয়তোবা খুব অপরিচিত গল্প নয়। কিন্তু প্রধান চরিত্র ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে আগেভাগে সামনে কি হবে জেনে এরকম গল্প অহরহ দেখা যায় না। আর দেখে গেলেও এ ধরণের গল্পগুলো হয় খুব আকর্ষণীয়। অরেঞ্জও তার বাইরে নয়। এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল এর কাহিনীটি। একদম শুরু থেকেই আপনি গল্পে বুঁদ হয়ে যাবেন। আর সামনে কি হতে যাচ্ছে এই প্রশ্নটা আপনাকে একের পর এক চ্যাপ্টার টানা পড়ে যেতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে শেষের দিকের চ্যাপ্টারগুলো একটু বেশিই উত্তেজনাপূর্ণ। তাই শৌজো হলে কি হবে, অরেঞ্জকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না পড়লে আপনি নিজেই পস্তাবেন। এই মাঙ্গাটি অনেক বেশি রোমাঞ্চকর।

তবে গল্পের কথাই যদি বলা হয় তো আমি কিছু কথা তুলতে চাই। মানুষকে শৌজো মাঙ্গা নিয়ে ‘শৌজো মাঙ্গায় কোন নতুনত্ব নেই’, ‘শৌজো মাঙ্গায় নাটকীয়তা বেশি’, ‘শৌজো মাঙ্গা একঘেয়ে”, শৌজো এই শৌজো সেই ইত্যাদি সমালোচনা করতে দেখা যায় খুব। শুধু অরেঞ্জের বেলায় সবার মুখে মুখে প্রশংসা শোনা যায়। ব্যাপারটা দেখে বরং আমার হাসিই পায়। কেন জানেন? কারণ অরেঞ্জ মোটেও নতুন কিছু না!! ভাবছেন কিভাবে এটা সম্ভব যখন একটু আগেও বললাম এটার গল্পে নতুনত্ব আছে? ব্যাখাটা এই যে এটার নতুনত্ব শুধু ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা এই অংশটুকু। বাদ বাকি নতুন কিছুই না। আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ শৌজো মাঙ্গা পড়ে থাকেন তবেই এই কথাটার মর্ম বুঝবেন। কাকেরুর যে কাহিনী রয়েছে তা ইতিমধ্যেই আমার আও হারু রাইড, বকুরা গা ইতা, ওওকামি শৌজো তো কুরো ঔজি ইত্যাদি মাঙ্গায় পড়া শেষ। কাকেরুর পরিস্থিতি কৌ, ইয়ানো বা কিওয়ার থেকে একটুও আলাদা নয়। সে জনপ্রিয় শৌজো মাঙ্গার নায়কদের মতই ছকে বাঁধা। অন্য মাঙ্গায় এই অবস্থাটা মানিয়েছিল কিন্তু কাকেরুর গল্প যতটা রাশভারী ধরণের তাতে তার পেছনের গল্পটায় আরও গভীরতা থাকলে ভালো হত। তাই আপনি যদি হন শৌজো মাঙ্গার ভক্ত তবে একটু আশাহত হলেও হতে পারেন।

এই মাঙ্গার দ্বিতীয় বড় সমস্যাও এর গল্পে। পুরো কাহিনী শুরু হয় যেদিন নাহো প্রথম চিঠিটা পায়। ভবিষ্যতের নাহোর যদি এতটাই অনুশোচনা থাকে তবে কেন সে প্রথম দিনেই সবকিছু খোলাসা করে ঠিক মত যুক্তি দিয়ে বা জোর দিয়ে কাকুতিমিনতি করে অতীতের নাহোকে বোঝালো না যাতে সে তার কথা অনুযায়ী কাজ করে? শুরুতেই সব ঠিক করে দিলে হয়ত মাঙ্গার গল্পটাই আর থাকত না যেটা সত্য। কিন্তু তারপরেও ব্যাপারটা যুক্তিযুক্ত হত। তখন পুরোপুরি আলাদাভাবে অতীতের ঘটনাগুলো ঘটত যেটা মাঙ্গাটিকে আরও বেশি অনিশ্চিত আর রোমাঞ্চকর করে তুলত। এবং এই মাঙ্গার তৃতীয় ও সবচেয়ে বড় ত্রুটিও এর গল্পে!! চিঠিটা ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে আসল কিভাবে? অরেঞ্জ পড়ার আগেই আমার সন্দেহ ছিল একটি শৌজো মাঙ্গায় আদৌ এটার ভালো ব্যাখা থাকবে না। অত্যন্ত দুঃখের সাথেই জানাচ্ছি যে আমার সন্দেহ শতভাগ সত্যি হয়েছে! এটার সাই-ফাই ব্যাখাটি ছিল নিতান্তই হাস্যকর। আর সাই-ফাইই যদি বানাবে তবে মাঙ্গাকা মাঙ্গাটি সম্পূর্ণরূপে সাই-ফাই করলেই পারত। কিংবা বিষয়টা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারাল বানালেও হত। কিন্তু কাহিনী বানাতে হবে বলে গাঁজাখুরি যাচ্ছেতাই ঢুকানো আমার মোটেও পছন্দ নয়। গোঁড়ায় গলদ না থাকলে মাঙ্গাটি প্রায় ত্রুটিহীন হত।

চরিত্রায়নের দিক থেকে কাকেরু সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যেহেতু পুরো গল্পটি তাকে ঘিরেই। তবে সেই গুরুত্ব এতই বেশি যে যত যাইহোক অন্যান্য চরিত্রদের অনেকটা উপেক্ষা করেই পুরো মনোযোগ তার উপরে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে এতে একটু খারাপ লাগলেও কাকেরুকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার কারণে বুঝাই যায় কেন বাকি চরিত্রগুলো গুরুত্ব পায়নি। চিনো, মুরাসাকা, হাগিতা প্রধান ফ্রেন্ড সার্কেলের অংশ হলেও এরা পার্শ্ব চরিত্র হিসেবেই ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এদের বন্ধুত্বটা সত্যিই খুব সুন্দর। ওদের দেখলে ক্ষণে ক্ষণেই আপনার মনে হবে ‘এত বেশি ভালো বন্ধু যদি আমার জীবনেও থাকত!’। তবে নাহোকে আমার নায়িকা হিসেবে অযোগ্য লেগেছে বেশ। নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির জীবন যখন মৃত্যুর মুখে তখন এই মেয়ে কিভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে আর প্রায়ই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে চুপচাপ থাকে তা আমি ভেবে পাই না।

এখন বলব এই মাঙ্গার সেই জিনিসটার কথা যেটা না বললেই নয়। কি সেটা? সুওয়া হিরোতো! সুওয়া হল এখানে তৃতীয় প্রধান চরিত্র এবং দ্বিতীয় নায়ক। তবে সেটা তার আসল পরিচয় না। তার আসল পরিচয় হল সে এই মাঙ্গার সেরা চরিত্র এবং খুব সম্ভবত শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসেও সেরা একজন চরিত্র। আপনি হয়ত উসুই(মেইড-সামা), কেই(স্পেশাল এ), কুরোসাকি(ডেনগেকি ডেইযি) ইত্যাদি অবাস্তবতার কাছাকাছি সুদর্শন সব তথাকথিত “মিস্টার পার্ফেক্ট” ছেলে দেখেছেন। কিন্তু যা দেখেননি তা হল সুওয়ার মত ছেলে। সে সুদর্শন কোন নিখুঁত ছেলে না। কিন্তু তার মন এবং হৃদয়টা অনেক বড়। কথাটা শুনে এখন আহামরি কিছু নাও মনে হতে পারে কিন্তু মাঙ্গাটা পড়ার সময় বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা আসলে কত বড়। সুওয়ার জন্য মেয়েরা হয়তবা সেই পরিমাণ পাগলামি করে না কিন্তু মন থেকে তার জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা চলে আসবে ঠিকই। আমি নিজে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যার জীবনে সুওয়ার মত মানুষ আছে তার কপালটা অনেক ভালো। সুওয়া এতটাই অসাধারণ! কাকেরুর জন্য নয় বরং সুওয়ার জন্যেই অরেঞ্জ পড়া উচিৎ।

অনেক কিছুই তো জানলেন অরেঞ্জ নিয়ে। এবার কি ভাবছেন এটা পড়বেন কি পড়বেন না? আপনি শৌজো ভক্ত হোন বা না হোন অরেঞ্জ অবশ্যই পড়বেন। কম হলেও খুঁত তো সবকিছুরই থাকে। অরেঞ্জের খুঁত এড়িয়ে যেতে পারলে মাঙ্গাটি অনেক উপভোগ করবেন। টাইম প্যারাডক্স, সুন্দর আর্ট, দারুণ বন্ধুত্ব, সুওয়ার মত চরিত্র, অল্প কিছু চ্যাপ্টার- আর কি লাগে?! সামনেই সামার ২০১৬ সিজনে আসছে এর আনিমে। আনিমে যে সাধারণত মাঙ্গার ধারের কাছেও যেতে পারে না তা তো এখন জানা কথা। তাই তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। আর ২৭ চ্যাপ্টার হলেও ২২ চ্যাপ্টারেই মূল গল্প শেষ। বাকি ৫টি চ্যাপ্টার এখনো স্ক্যানলেশনের অপেক্ষায়। তবে শেষটা কেমন হবে তা জিজ্ঞেস করবেন না। ওটার জন্যেই না এত প্রতীক্ষা! অরেঞ্জ পড়ে চোখের কোণে অশ্রু আসতেও পারে নাও আসতে পারে। কিন্তু অন্যরকম বিষাদময় ভালোলাগার এক তৃপ্তি অনুভব করবেন। কেননা “অরেঞ্জ” নামেই তো লুকিয়ে আছে এর ভাবার্থ। কমলা-শত হতাশার মাঝেও হার না মেনে ঝুঁকি নিয়ে হলেও আশাবাদী হয়ে, আস্থার সাথে, উদ্দ্যমতা নিয়ে জীবনে এগিয়ে চলার প্রতীকী রঙ!