Children who chase Lost voices [মুভি রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Children who chase Lost voices

মুভিঃ Children who chase Lost voices
Director: Makoto Shinkai
IMBD rating: 7.3/10
Personal rating : 7.9/10
Production company: CoMix Wave

জীবনের একটা অংশ হল মৃত্যু। কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয় কেউ মারা গেলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও, যারা বেঁচে আছে তাদের নিয়ে জীবনে খুশি থাকা উচিত, এই বার্তাটাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা এই ছবিতে।

Director Makoto Shinkai, যিনি “Garden of Words”, ” Five centimeters per second” তৈরি করেছেন। ছবির শুরু আসুনা নামের এক middle স্কুলের মেয়েকে দিয়ে, যে তার মা’র সাথে থাকে, বাবা মারা গিয়েছে। মা হাসপাতালে কাজের জন্য বাসায় থাকেন না প্রায় সময় ই। আসুনা একা থাকে, একাই সব কাজ করে। তার বাসার পাশে পাহাড়ে নিজস্ব একটা জায়গা আছে, যেখানে সে তার অবসর সময় কাটায়। হঠাৎ একদিন আসুনা স্কুল থেকে আসার পথে মুখমুখি হয় এক প্রানির, যা আকারে বিশাল, উদ্ভট। সুন নামের এক অদ্ভুত ছেলে তাকে বাঁচায় এই প্রানির হাত থেকে। পরে আসুনা জানতে পারে , সুন এসেছে “Agartha” নামক এক জায়গা থেকে। ওইদিন ই সুন মারা যায়। সুন মারা যাওয়ার পর স্কুলের নতুন আসা শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই এর কাছ থেকে খবর মিলে “Agartha” নামক জায়গা আসলেই আছে, যা মাটির নিচে, মৃত মানুষকে ফিরে পাওয়া যায় ওখানে। এই শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই তাঁর স্ত্রিকে হারিয়েছেন ১০ বছর আগে। তিনি তাঁর স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনতে চান। এর মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে আসুনা, মরিসাকি সেন্সেই প্রবেশ করে “Agartha” তে। আসুনা ফিরিয়ে আনতে চায় সুন কে, আর মরিসাকি সেন্সেই তাঁর অকালে মৃত্যুবরণ করা স্ত্রী কে। শুরু হয় ২ জনের adventure.

নানা ঘটনা, আর উত্তেজনার মধ্যে চলে পুরো সময় কাহিনি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শোনার মত। দেখে ভালো লাগে। সময় থাকলে দেখে ফেলতে বলব এইটা।

Atama Yama [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Atama Yama

Atama Yama (Mount Head)- ৭৫তম এ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এ শর্ট ফিল্ম এনিমেশন ক্যাটাগরি তে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ মিনিটের মুভি। গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা এই মুভি। গ্রাম-গঞ্জে যেমন সুর করে পুঁথিপাঠ করা হয়, অনেকটা তেমনই করেই রাকুগো-টেলার তাকেহারু কুনিমোতো তার দরাজ কন্ঠে গল্পের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে পুরো মুভি জুড়ে শামিশেনের সুর অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। মুভিটায় আমরা মানবমনের গভীর ভয়,উৎকন্ঠা কিংবা আত্মগ্লানির এক মিশেল দেখতে পাই।
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই বড়দের বলতে শুনেছি ফলের বিচি খেলে নাকি মাথায় গাছ উঠবে। যার কারণে কোনসময় ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়ে সারারাত ঘুম হতো না। এই মুভির প্রধান চরিত্র এক মধ্যবয়সী কৃপণ লোক যিনি কিনা কাউকে ধার দেন না এবং কোন জিনিস যতই ফেলনা হোক না কেন তা ব্যবহার করতে চান। যার কারণে তার বাড়িভর্তি আবর্জনার স্তূপ। যাই হোক একদিন তিনি কিছু চেরীফল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সেগুলো ঝুড়ি করে বাসায় নিয়ে আসেন। তো একটি চেরী খাওয়ার পর তিনি চিন্তা করেন, বিচিটা শুধু শুধু নষ্ট হবার চেয়ে বরং খেয়েই ফেলি। তো কিছুক্ষণ পর দেখলেন তার মাথায় চেরীফলের গাছ উঠছে। তিনি একবার কাটেন। কিন্তু লাভ হয়না বরং গাছটি বেড়ে উঠতে থাকে। তো একসময় তিনি ব্যাপারটা মেনে নেন। গাছটি চেরীফুলে ভর্তি হয়ে যায় এবং এর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকটির মাথা হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। সব ভালই চলছিল। একদিন ভীড় বেড়ে যায়। লোকটির মন-মেজাজও খারাপ হতে থাকে। একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি গাছটিকে উপড়িয়ে ফেলেন। এরপরের কাহিনী নিজেকেই জানতে হবে। এটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।

এবার গূঢ় অর্থটি ব্যাখ্যা করি। লোকটির মাথা যখন প্রথম পিকনিক স্পটে পরিণত হয় তখন কিন্তু লোকটির লাভ ই হয়। কারণ দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ জায়গাটি দেখতে আসে। যার ফলে লোকটি ফায়দা নিতে পারে। একসময় দেখা যায় মানুষ ঐ জায়গাটি যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, ফলস্বরূপ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এবং একসময় লোকটি গাছটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। এখন চেরীব্লসমের জায়গায় নিজেদের মেধা ও মননের কথা একটু চিন্তা করি। আমাদের প্রত্যেকের মেধা আলাদা। এই মেধা যদি মানবজাতির কল্যাণে কাজে আসে তবেই সার্থক। অনেকসময় দেখা যায় এই কল্যাণের পথ পাড়ি দেবার সময় আমাদের অন্য কোন মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। অর্থাৎ আমাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন মাধ্যম মানব কল্যাণকর কাজে তৎপর হয়। একসময় এই মেধা তাদের স্বেচ্ছাসারীতার কাছে বলি হয়। অনেকটা আমাদের মেধাস্বত্ব কিনে নেবার মত। কিন্তু এর ফলাফল হয় মারাত্মক। যার কারণে আমরা এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই যা কখনই কাম্য নয়। একসময় নিজের মেধা নিজের কাছেই অচেনা মনে হয়। ফলে আমরা ক্রমাগত অন্ধকারে ডুবতে থাকি। মানবমনের এই অন্তর্কলহ ফুটে উঠেছে এই মুভিতে।
ওয়েল, আমি এই মুভির সব রিভিউ দেখেছি। কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে এর অন্যান্য রিভিউগুলোর কোন সাদৃৃশ্যই নেই। তাই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন আমি কি আসলেই এর তাৎপর্যটা ধরতে পেরেছি?

এই মুভি একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে। তাই আপনার জীবনে যদি সময়ের মূল্য না থাকে এবং গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট এই মুভি।

Ajin [এনিমে রিভিউ] — Amor Asad

Ajin 1

Ajin: অসাধারণ! মাইন্ডব্লোয়িং!
*** (স্পয়লার নেই ) ***

মানবজাতির টলারেন্সের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। যেকোন যুগে যখনই কোন অজ্ঞাত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, কঠোর, ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্ধযুগ আগে ইউরোপজুড়ে উইচ হান্টের স্বীকার হয়েছিল হাজারে হাজারে নারী; বিভিন্ন নতুন নতুন রোগ আর মহামারীর পিছে জাদুটোনার কালোহাত দেখিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁদের – তাও চার্চের সম্মতি বা ইশারা থাকায় পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
বিজ্ঞানের যাত্রার শুরু থেকেই প্রাচীন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের অত্যাচার থেকে হত্যা পর্যন্ত করা করেছে। এ উপমহাদেশেও অতীতে বহুত প্রচলিত রীতি ছিলো যা এখন শুনলে গা শিউড়ে ওঠে। বর্তমান পৃথিবীতে এমনকি আমাদের দেশেই কাছাকাছি ঘটনা থেকে সাদৃশ্যতা দেখানো যাবে – সেদিকে আর না যাই।

মোট কথা, মানুষ যেটা বোঝে না – সেটাকে দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করে ফেলতে উপক্রম হয়; অনেকে এতে তুষ্টিও খুঁজে পায়। ব্যপারটা আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর আর অবিবেচক বলে মনে হলেও; এই রেসপন্সের মূল কারণ হচ্ছে – ভয়।
অগ্রসরমান সভ্যতা আর সামাজিক শুভবোধের দোঁহাই দিয়ে নিজেদের আসল বৈশিষ্ট্য ধামাচাপা দিয়ে রাখি বটে, কিন্তু আদতে আমরা এই গ্রহের টপ প্রিডেটর। তাই যদি অন্য কোন স্পেসিস বা এনটিটি আমাদের অবস্থানের জন্যে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় – সম্মিলিত ভয় থেকে সমস্বরে ‘kill them all” উচ্চারিত হওয়া আমাকে অবাক করবে না।

এধরণের একটা প্লটে নির্মিত Ajin, পার্থক্য হচ্ছে এখানে মানবজাতির জন্যে হুমকিস্বরূপ প্রজাতি আসলে মানুষের বিবর্তিত একটা রূপ, যেখানে এই আলাদা মানুষরা অমরনশীল – না, ঠিক অমর নয়, মৃত্যুর পর পরই পুনঃজীবন লাভ করে। এদের আলাদা একটা ক্ষমতাও রয়েছে।

ইমরটালিটি বা অমরনশীলতা অর্জনের চেষ্টা প্রাচীনকাল থেকে বহু সভ্যতার বিভিন্ন কাল্ট, ব্লাক ম্যাজিক চর্চাকারীদের মধ্যে প্রচলিত। স্বভাবতই সাহিত্য, সিনেমা বা অন্যান্য শিল্প মাধ্যমেও উঠে এসেছে। স্রেফ অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেই বহুত রেফারেন্স দেয়া যাবে। Ajin কোন দিক দিয়ে আলাদা?

ইমরটালিটির বেশীরভাগ চিত্রায়নের সাথে আজিনের পার্থক্য হচ্ছে এটা ভিত্তিহীন ফ্যান্টাসি না; বরঞ্চ সাইন্স ফিকশন – এবং গল্পকথন একেবারেই স্বতন্ত্র। পরিচালক এবং লেখক খুব যত্নের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করতে না গিয়ে অর্ধেকটা দর্শকের দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর ক্ষমতার উপর ছেঁড়ে দিয়ে গল্পের প্রয়োজন অনুসারে কাহিনী এগিয়েছেন। এধরণের অ্যানিমেতে এই চর্চাটা খুব উপভোগ্য হয়।
সেই সাথে প্রতি এপিসোডের মেকিং প্রায় নিখুঁত বলা যায় – সাসপেন্স/মিস্টেরি আর সাই-ফাই সিরিজ হিসেবে প্রতি এপিসোডে টান টান উত্তেজনা বজায় রেখেছে Ajin. সেই সাথে যোগ হয়েছে রক্তে দোলা দেয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

এছাড়াও Ajin পছন্দ করার আরো কিছু কারণ আছে।
অপ্রয়োজনীয় চরিত্র একেবারেই নেই বলতে গেলে, পার্শ্ব চরিত্রগুলোর প্রতি ফোকাস করা হয়নি বিনা দরকারে, প্রধান চরিত্রকে দুনিয়ার সেরা মানব আর শুভবুদ্ধির ডিপো হিসেবে দেখানো হয়নি, হাঁটতে চলতে দুধের বাচ্চাদের কড়া জীবনবোধ মার্কা দর্শন চিপকাতেও দেখা যায় না। এসব জিনিষ অ্যানিমেতে কষ্ট করে সহ্য করে যাই; বলাই বাহুল্য Ajin দেখতে গিয়ে তৃপ্তির হাঁসি কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমার রেটিং – ৮.৫/১০

পুনশ্চঃ সিরিজের ভিলেনকে আমার কাছে অ্যান্টিহিরো মনে হয়। তাঁর দৃষ্টিকোণ একেবারে ফেলনা না এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারি।
পুনশ্চ ২ঃ Don’t care about the art style, never did, never will. This is a trivial issue and we really don’t watch animes to praise animation style, do we?

Ajin 2

Ping Pong The Animation রিভিউ — Zahin Mobashshir

Ping Pong

কোন এনিমেকে পার্ফেক্ট কখন বলবেন?

যদি এনিমেটি দেখে আপনার খায়েশ মিটে?

যদি এনিমেটি দেখে তৃপ্তি পান?

যদি এনিমেটি দেখার সময় অন্যসব কিছু ভুলে যান এবং এরপরের এপিসোড না দেখে উঠতে পারেন না?

সবার উত্তর কখনওই এক হবে না, হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক।

Ping Pong The Animation

এপিসোড সংখ্যা: ১১

Genre: Psychological, Seinen, Sports.

এনিমেটির কাহিনী একদমই সাধারণ। দুই বন্ধু পিং পং তথা টেবিল টেনিস খেলতে ভালবাসে। তাই দুইজনেই স্কুলের টেবিল ট টেনিস ক্লাবে অংশ নেয়। একজন অনেকদিন হইল টেবিল টেনিস খেলে যার নাম Yukata Hoshino। তার প্রতিভা নিয়ে ক্লাবের কারও কোন সন্দেহ নেই কিন্তু প্রতিভা থাকলে যা হয়, অহংকারে পরিপূর্ণ Hoshino এর মন। তার মতে তার থেকে ভাল কোন প্লেয়ার থাকতেই পারে না। অহংকারবশত তাই সে নিয়মিত প্রাক্টিসে যায় না এবং খবরদারি করে ঘুরে বেড়ায়। অন্যদিকে তারই বন্ধু Makoto Tsukimoto। এই ব্যক্তি টেবিল টেনিস খেলা নতুন শুরু করলেও সে কখনওই প্রাক্টিস ফাকি দেয়া না এবং নিয়মিত খেলেই যায়।

দুই বন্ধুর পিং পং খেলার কাহিনী নিয়েই এনিমেটি এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইন্টার হাই টেবিল টেনিসে গিয়েই তাদের জীবনের ঘুড়ি পালটায় যায়।

এবার আগের কথায় ফিরে আসি।
এনিমেটি দেখার পরে অনেককেই রিকমেন্ড করেছিলাম। কেউই এখন পর্যন্ত বলল না যে এনিমেটি অসাধারণ ছিল।
সবার মতামত মিলবে তা হওয়া সম্ভবপরও নয়।

এনিমেটি যে কারনে আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে তার প্রধান কারন ছিল এর জনরা। একটা স্পোর্টস এনিমেতে কি করে সাইকোলজিক্যাল জনরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?!!!

এই প্রশ্নের উত্তর যারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের কাছেই কেবল এনিমেটির স্বার্থকতা ধরা পড়েছে।

এনিমেটির জনরায় সাইকোলজিক্যাল অন্তর্ভুক্ত করার কারন খুঁজে পাওয়ার কারনেই এটা আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে।

এবার আপনারাও এই ১১ পর্বের এনিমেটি দেখে যাচাই করে দেখতে পারেন।

বিলি ব্যাট (Billy Bat) মাঙ্গা সাজেশন – ফরহাদ মহসিন

প্রসঙ্গ: নাওকি উরাসাওয়া’র অনগোইং মাঙ্গা ‘বিলি ব্যাট (Billy Bat)’

billy bat

যারা মন্সটার দেখেছেন বা 20th Century Boys পড়েছেন তাদের ধারণা থাকার কথা নাওকি উরাসাওয়ার গল্প বলার ঢং সম্পর্কে। অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে গল্প বলা শুরু করেন তিনি। অসাধারণ এই থ্রিলার লেখক অনেকবার পাঠকদের “tease” করেন এন্ডিং সম্পর্কে, অমুক চরিত্র আরেকটু হলেই যেন শেষের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। আর একটু হলেই যেন গল্পের সব জট খুলে যাবে, সব অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার লৌকিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।

কিন্তু উরাসাওয়া পাঠকদের বসিয়ে রাখেন একদম কাহিনীর শেষ পর্যন্ত। একদম শেষে সবগুলো দিকে যেন সুতোয় শেষ টানটা পড়ে, সব জট খোলে একসাথে। সেই কারণেই একদম শেষ পর্যন্ত না পড়ে তার মাঙ্গা কাউকে পড়তে বলাটা কঠিন।

এবার, Billy Bat এ তার লেখার সব গুণাবলি যেন যোগ হয়েছে পুরোপুরি অন্য মাত্রায়। গল্প শুরু হয় বিখ্যাত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো আমেরিকান কমিক্স চরিত্র Billy Bat এবং তার লেখককে নিয়ে। সেখান থেকেই লেখক আমাদের নিয়ে চলে যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মিত্রশক্তির দখলে থাকা জাপানে। জাপানে কেন গ্রাফিটি হয় Billy Bat এর মত দেখতে বাদুড়ের সিম্বলের? সেই একই সিম্বল আবার কেন ছিল খোদ যীশু খ্রিস্টের আমলে, যীশুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা জুডাসের মননে? কত আগে থেকে অস্তিত্ব আছে এই অশরিরী বাদুড়ের? সে কেন আবার আবির্ভূত হয় পনের শতকের জাপানে, তেনশৌ ইগা যুদ্ধে?

আমি বলতে পারব না, এসব জানার জন্য পড়ে ফেলুন Billy Bat। কারণ উরাসাওয়ার কাজের সাথে পরিচিতি থাকার কারণে জানি একদম শেষের আগ পর্যন্ত কিছুই sense make করবে না। তবে উরাসাওয়া বলেই ভরসা পাই, শেষ পর্যন্ত পড়ে যাওয়াটা একটা rewarding experience হবে। এ বছরের জানুয়ারিতে মাঙ্গা প্রবেশ করেছে তার ফাইনাল আর্কে। বিলি ব্যাট পড়া শুরু করার আদর্শ সময় মনে হয় এটাই। শুরুতে স্লো-পেইসড মনে হওয়া, কিচ্ছু না বোঝা, অসংখ্য চরিত্রের মাঝে দিশেহারা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকা সত্ত্বেও তাই বলি, পড়া শুরু করুন বিলি ব্যাট। আরও অনেকদিন পর যদি মানুষ ‘নিজের পড়া সেরা মাঙ্গা’র লিস্টে এটা এড করা শুরু করে, আপনি বলতে পারবেন “I read it first”.

ডেনগেকি ডেইযি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Dengeki Daisyডেনগেকি ডেইযি
অন্য নামঃ ইলেকট্রিক ডেইযি
জানরাঃ মিস্টেরি, কমেডি, ড্রামা, রোমান্স, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৮০
ভলিউমঃ ১৬
মাঙ্গাকাঃ মোতোমি কিয়োওসুকে
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৫৭
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাংকিং: ১০০
মাইআনিমেলিস্ট পপুলারিটিঃ ২২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫

শৌজো-এই জানরাটার প্রতি ছেলে হোক, মেয়ে হোক, শৌজো ভক্ত হোক না হোক সবারই কেমন জানি একটা চুলকানি আছে! কেননা প্রায় প্রতিটা শৌজোতে একই কাহিনী। টানা দেখতে বা পড়তে থাকলে বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ যতই বলুক এটা আলাদা, অন্যরকম নায়িকা; শেষ পর্যন্ত এগুলো সেই বহুল ব্যবহৃত রোমান্স নির্ভর স্কুল জীবনের গল্প। শুধু কোনটা একটু ভাল কোনটা একটু খারাপ। কিছু নতুনত্ব আছে আকাতসুকি নো ইয়োনা, আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে, সাইয়ুনকোকু মোনোগাতারি’র মত সিরিজগুলোতে যেগুলো আবার সবই হিস্টোরিক্যাল রোমান্স। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগেই কোন হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ের গল্প যেটাকে আমি “ওয়ান অফ এ কাইন্ড” বলতে বাধ্য হচ্ছি তা হল ডেনগেকি ডেইযি। হাইস্কুল পড়ুয়া নায়িকা থাকলেও এটি পুরোপুরি রোমান্স নির্ভর কোন মাঙ্গা নয়। এরকম কাহিনীর দ্বিতীয় কোন আনিমে বা মাঙ্গা বোধ হয় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাবেন না।

কুরেবায়াশি তেরু যখন মিডেল স্কুলের ছাত্রী তখন তার একমাত্র আত্মীয় তার বড় ভাইটিও ক্যান্সারে মারা যায়। শেষ সম্বল হিসেবে তেরুকে দিয়ে যায় একটি সেলফোন। এই সেলফোনে রয়েছে ডেইজি নামের একজনের ই-মেইল এড্রেস। ডেইজির দায়িত্ব সকল বিপদে-আপদে তেরুকে তার সর্বস্ব দিয়ে রক্ষা করা। যদিও ডেইযি কে, দেখতে কেমন এসব বিষয়ে তেরু কিছুই জানে না। মাঙ্গার কাহিনী শুরু যখন তেরু হাইস্কুলে উঠেছে। একদিন ভুলে সে তার স্কুলের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে বল দিয়ে। স্কুলের পরিচারক কুরোসাকি তাসুকু তেরুকে ধরে নিয়ে যায় কারণ তেরু গরিব বলে টাকার বদলে তার দেহ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে…

ঠিক এখানে এসে লিখতে গিয়ে খুব হাসি আসছে। পুরা বাংলা সিনেমা বাংলা সিনেমা লাগছে! আসলে উপরের জানরাগুলো বা কাহিনীর বর্ণনা কোনটাই মাঙ্গাটি কি ধরনের বা কি নিয়ে তা নিয়ে তো ধারণা দেয়ই না বরং আরো চরম আকারের ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে বসে। তাই বাংলায় শুদ্ধভাবে লেখার চেষ্টাটা আপাতত বাদ দিলাম! এই সোনালী চুলের গুন্ডা ধরণের স্কুল জেনিটর কুরোসাকি তেরুকে তার সার্ভেন্ট বানিয়ে তেরুকে দিয়ে কামলা খাটায়। এই নিয়ে অতিষ্ঠ তেরু তাই যখন তখন কুরোসাকিকে বলে “গো বাল্ড কুরোসাকি”। মানে কুরোসাকি টাকলা হয়ে যাক! কিন্তু কুরোসাকির আসল লুকানো পরিচয় সে একজন হ্যাকার। শুধু যেন তেন হ্যাকার নয় তাও। সেই বিখ্যাত থুক্কু কুখ্যাত হ্যাকার ডেইযি!! কুরোসাকির সাথে পরিচয়ের পর থেকেই তেরুর জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। অচেনা সব মানুষের টার্গেট হয়ে দাঁড়ায় সে। যখন তখন ভয় কারো আক্রমণের, কিডন্যাপ হয়ে যাবার। এই সব মানুষ চায় শুধু একটি জিনিস। তেরুর সেলফোন। জিনিয়াস ইঞ্জিনিয়ার কুরেবায়াশি সোইচিরো মৃত্যুর আগে সেই সেলফোনে রেখে গেছে এমন গুরুত্বপুর্ণ কিছু যার পিছনে হন্য হয়ে সবাই ছুটছে। কিন্তু তেরু কুরোসাকি কিংবা বাকিদের সাহায্যেও সহজে তা খুঁজে বের করতে পারে না। কি এমন সেই তথ্য যার জন্য তেরুর স্বাভাবিক জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ?

এতটুকু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মাঙ্গাটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অল্প অল্প করে পুরো মাঙ্গা জুড়েই রহস্য উদঘাটন হতে থাকে। তাই কাহিনী ঝুলে যায়নি কোথাও। এখানে শৌনেন মাঙ্গার মত কিছু সিরিয়াস কাহিনী চলে তারপর আবার লাইটহার্টেড হয়ে যায় একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য। অনেকটা আর্কের মতই। আসলে এই মাঙ্গাটি যদি একটু পরিমার্জন করে প্রধান চরিত্রকে মেয়ে না হয়ে ছেলে বানান হত তবে এটাকে শৌনেন কিংবা সেইনেন ট্যাগ দিলেও বোধ হয় আমি অবাক হতাম না। মাঝে মাঝে ভুলেই যেতে হয় যে এটি একটি শৌজো মাঙ্গা! আর তার অন্যতম একটি কারণ হল এর রোমান্টিক অংশটা অনেক স্লো। রোমান্স যে অনেক কম ঠিক তা না কিন্তু খুব ধীরে ধীরে সময় নিয়ে এখানে রোমান্সের অগ্রগতি হয়। যখনই চোখে পড়ার মত অগ্রগতি হতে যায় ঠিক তখনই আটকে যায় তা। তাই রোমান্টিক শৌজো ফ্যানদের মাঝেই মাঝেই হতাশায় মাথার চুল ছিঁড়তে বা টেবিল উল্টাতে ইচ্ছা করলেও কিছু করার নেই! তবে ধীরে আগানটা আসলে গল্পটার জন্য ভালো ছিল। যখন যেটার জন্য উপযুক্ত সময় ঠিক তখনই সেটা হয়েছে। তাই বলে ভাবার কারণ নেই এটা সবসময় খুব গুরুগম্ভীর ধরণের। এখানে কমেডি দৃশ্যগুলো দেখলে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। কমেডি সবচেয়ে কমন একটা জানরা হলেও এতটা হাসাতে পারে না সব আনিমে, মাঙ্গা। মাঙ্গাকা মোতোমি কিয়োওসুকে মাঙ্গার পেজে সাইড নোট হিসেবে অনেক কিছু লেখেন তার পাঠকদের জন্যে। এই সাইড নোটগুলো আরও হাসির খোরাক যোগায়।

তবে একটি জিনিস বলে রাখা ভালো। চ্যাপ্টার ৪০ এর দিকে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পায়। এবং ঠিক এখানেই অনেকগুলো চ্যাপ্টারের ট্রান্সলেশন ভয়াবহ বাজে। এই চ্যাপ্টারগুলো রিপ্লেস করা হয়েছে বা দ্বিতীয় কোন ট্রান্সলেশন আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি থাকে তো বেঁচে গেলেন। না থাকলে এখানে কাহিনী বুঝতে অনেক সমস্যা হবে। কিন্তু চিন্তার কারণ নেই। সামনের চ্যাপ্টারগুলোতে ওই ঘটনাগুলো আবার উঠে আসে তাই এখন না বুঝলেও পরে সব বুঝতে পারবেন।

অনেক দিক দিয়েই কুরোসাকির সাথে মেইড-সামা’র উসুই তাকুমির মিল পাওয়া যায়। আবার দুজনে দেখতেও অনেকটা একই রকম যে কারণে কেউ কেউ চিনতে ভুল করে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার কুরোসাকিকে উসুইয়ের চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। তার কারণ হল কুরোসাকি “মানুষের মতই একজন চরিত্র”। শৌজো হিরোদের বাস্তবতার কাছাকাছি লাগে খুব কম। তারা শুধু যেন রোমান্স নিয়েই ব্যস্ত। সেখানে কুরোসাকির জীবন, সংগ্রাম, আবেগ, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব, স্বভাব-চরিত্র সবকিছুই অন্যরকম আর বাস্তবধর্মী। একজন মানুষ হিসেবে কুরোসাকির অনুভূতিগুলো আসলেই অনুভব করা যায়। তেরুও পছন্দনীয় একটা মেয়ে। তেরুকে যেসব ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় এসবের কিছুর মধ্যে দিয়েই যেতে হয় না সাধারণ শৌজো মাঙ্গার প্রধান মেয়ে চরিত্রগুলোকে। তাও তারা “ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস” খেতাব পেয়ে যায়। সেখানে তেরুকে অগণিত বার কুরোসাকি আর বাকিদের বাঁচাতে হলেও কখনই তাকে অকর্মা মনে হবে না। আবার সে যে খুব শক্তিশালী, একাই ১০০ টাইপ তাও না। কিন্তু তারপরেও তেরু নিজের মত করে যা পারে করে যায়। কাণ্ডজ্ঞান নামক জিনিসটা তার মাঝে আছে! তেরুকে আমার কাছে খুবই ইউনিক লেগেছে। তাই বিরক্ত হওয়ার সুযোগ খুব কম। সাধারণ মাঙ্গার মত প্রধান দুই চরিত্রের কচকচানিতে এখানে বাকি চরিত্রগুলোও হারিয়ে যায়নি। বরং আশেপাশের মানুষগুলোও কমবেশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ রোল প্লে করেছে। তার মাঝে আছে রিকো, মাসুদা, আনদোও, হারুকা, কিয়োশি, রেনা, সোইচিরো এবং অবশ্যই আকিরা।

মোতোমি কিয়োওসুকে’র আঁকার নিজস্ব স্টাইল আছে। আর্ট দেখে শৌজো মাঙ্গা বুঝা গেলেও বাকি শৌজো মাঙ্গার মত সব একই রকম লাগে না। ডেনগেকি ডেইযির শুরুতে আর্ট মোটামোটি ভালই ছিল। শুধু প্রথম চ্যাপ্টারের প্রথম পেজেই কভারে তেরুর ছবিটা দেখে কোন না কোন ফালতু মাঙ্গা ভেবে উড়ায় দিতে ইচ্ছা করেছিল। তারপর যত চ্যাপ্টার গেছে আর্ট ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে উঠেছে। খুবই সুন্দর এবং ওয়েল ডিটেইল্ড আর্ট। তবে আর্টের বিষয়ে একটা কথা উল্লেখ না করলেই নয়। কমেডির জন্য চিবি নয় বরং নানান ধরণের আজব এবং মজার সব ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন আর পোজ ব্যবহার করে হয়েছে। ডায়ালগগুলো এমনিতেই হাসির তার উপর এই ড্রয়িংগুলো ব্যাপারগুলোকে আরও বেশি হাস্যকর আর নাটকীয় করে তুলে। একেকটি চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি দেখার পর হাসি থামান কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্য শৌজো মাঙ্গাগুলোর মত এত নামডাক না শুনলেও মাঙ্গার ওয়েবসাইটগুলোতে শৌজো জানরা সার্চ দিলে এবং হট রিড মাঙ্গার তালিকায় ডেনগেকি ডেইযির নাম দেখতে পাবেন। সবচেয়ে ভালো শৌজো মাঙ্গাগুলোই আনিমে অ্যাডাপ্টেশন পায় না। আনিমে না আসলেও এই মাঙ্গা চোখের আড়ালে থেকে গেলে তা হবে দুঃখজনক। আপনার যাই পছন্দ হোক এরকম ইউনিক একটা মাঙ্গা মিস করলে নিজেই পস্তাবেন। তাই মাস্ট রিড মাঙ্গার তালিকায় অবশ্যই এই মাঙ্গাটি রাখবেন। আর মাঙ্গাটি পড়ার সময় সিন্ডি লপারের টাইম আফটার টাইম গানটি শুনতে পারেন। এই গানটির সাথে ডেনগেকি ডেইযির যোগসূত্র আছে। আশা করা যায় আপনি সময়টা দারুণ উপভোগ করবেন। আর এটি অনায়াসে আপনার সেরা মাঙ্গা তালিকায় ঢুকে গেলেও তা অবাক করার মত কিছু হবে না!

Boku dake Ga Inai Machi (Erased) [Review] — Ashraful Ribat

Erased 1

অ্যানিমে: Boku dake Ga Inai Machi (Erased)
এপিসোড: 12 (complete)
জন্রা: fantasy/thriller/Seinen

গার্লফ্রেন্ড এর কন্টিনিউয়াস রিকুয়েস্ট এর জালায় শেষ পর্যন্ত দেখতে বসি বর্তমানে বিখ্যাত এবং বছরের অন্যতম সেরা অ্যানিমে *Boku dake Ga Inai Machi* বা ইংরাজিতে *Erased*
যদিও *Boku dake ga inai machi (僕だけがいない街 ..এর মানে হল :- The Town Where Only I am Missing).

 

 

 

কাহিনীঃ মাংগাকা Kei Sanbe এর মাস্টারপিস মাংগা *বোকু দাকে গা ইনাই মাচি* অবলম্বনে নির্মিত। ২৯ বছর বয়সি ফুজিনামা সাতোরু কে কেন্দ্র করে কাহিনী গড়ে ওঠে যার এক আশ্চর্য ক্ষমতা আছে। তার আশেপাশে কোনো মারাত্মক কিছু ঘটলে সে টের পায় আর সে অতীতে সেটা ঘটার ঠিক পূর্বমুহূর্তে চলে যায়, আর সেই ঘটনাটাকে পরিবর্তন করে। সে তার এই টাইম ট্রাভেলিং-কে Revival বলে। প্রত্যেকবার এই revival হওয়ার ঠিক আগে তার আশেপাশে একটা নীল মথ/প্রজাপতি উড়তে দেখা যায়। তার এই revival হতে থাকে ততোক্ষন পর্যন্ত, যতোক্ষন পর্যন্ত ওই মারাত্মক ঘটনা ঘটার কারণটা মুছে না যায়। (হয়তো এজন্যই এর আরেক নাম Erased?)

Erased 2

তো সাতোরু সান একদিন তার *ইয়োকাই* মা-এর সাথে বাজার করে বাড়ি ফিরতে থাকে ( সাতোরু তার মা কে *ইয়োকাই/ ভূত বলে… কারন তার মা ৫২ বছর বয়সী হলেও দেখতে ঠিক যেন ১৮ বছর আগের মতো… চেহারায় বয়সের কোন ছাপ নেই।) বাজার থেকে মা-র সাথে ফিরছে… হঠাৎ তার revival হল। সাতোরু খোঁজা শুরু করল কি সমস্যা, কি এমন ঘটতে চলেছে, কিন্তু এতো খুঁজেও পেল না কেন revival টা হল। কিন্তু সাতোরুর মা ঠিকই কিছু একটা টের পেল। শুধু তাই নয়, সাতোরুর মা তখনি খুঁজে পেল কে আসল খুনি, যে আজ থেকে ১৮ বছর আগে ৩ টা বাচ্চাকে খুন করেছিল। আর এ জন্যই সাতোরুর অনুপস্থিতি তে খুনি এসে খুন করে গেল সাতোরুর মা কে। সাতোরু বাসায় ফিরে দেখল তার *ইয়োকাই মা মরে মেঝেতে পরে আছে। লাশ উল্টাতেই রক্ত তার হাতে লেগে গেল। আর এমন সময় এলো তার প্রতিবেশী মহিলা, যিনি তা দেখে সাতোরু কে খুনি ভেবে পুলিশ ডাকলেন। সাতোরুর revival ঘটল… কিন্তু এইবার সে চলে গেল ১৮ বছর আগে। যেখানে সে এলিমেন্টারি স্কুলবয়। সেখানে সে দেখা পেল তার পুরনো বন্ধুদের, কেনয়া, হিরোমি, কুমি, সাচিকো আর অবশ্যই হিনাজুকি কায়ো।
সাতোরু নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে, সে শুধু তার মাকে বাচাঁবেই না, সেই সাথে ১৮ বছর আগে খুন হওয়া ৩ জনকে বাঁচাবে… সেই সাথে তাদের খুনিকেও খুঁজে বের করবে। প্রচন্ড করুন ও নির্মম ভাগ্যের অধিকারিণী হিনাজুকি কায়ো কে বাচাঁনোর চেষ্টা শুরুর মধ্যদিয়েই সে শুরু করে তার মিশন। এর পর চলতে থাকে কাহিনী যা বাঁকে বাঁকে মোড় নিতে থাকে বিভিন্ন দিকে। এই পুরো সময় তার বিশ্বস্ত বন্ধুদের সাথে সাথে তাদের সাহায্য করতে থাকে *ফাদারলি ফিগার* Yashiro সেনসেই। এই অমায়িক পিতৃতূল্য সেনসেই টি তাদের কতই না সাহায্য করেন।

Erased 3

অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর সাতোরু তার মিশন সাকসেসফুলি শেষ করে…কিন্তু…

নাহ্… কিন্তুটা নাহয় নাই বললাম যারা দেখেনি তাদের খাতিরে..? *sigh*
কাহিনীর আরেক চমকপ্রদ ক্যারেকটার কাতাগিরি আইরি যার প্রয়োজনীয়তা আমরা শেষ মুহূর্তে দেখতে পাই ।

অনেকের মতে এই অ্যানিমে টার এন্ডিং ভালো হয়নি। আমি বলব এর এমন চমৎকার এবং কম্পলিকেটেড এন্ডিং এর জন্যই বরং সবাই একে মনে রাখবে অনেকদিন। এমন দুঃখ মেশানো বাস্তবতার বেড়াজালে ঘেরা এই ফ্যান্টাসি অ্যানিমেটি, যা গল্পের মুল নায়কের ফিলিংসগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেন প্রটাগনিস্টের ফিলিংসগুলো আপনার নিজের ফিলিংস। যা হয়তো আমার মতোই আপনারো চোখের কোনে আপনারি অজান্তে এনে দিতে পারে অশ্রুবিন্দু।
ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট প্রশংসনীয়… আর স্টোরির কথা আলাদা করে নাই বললাম।আর অবশ্যই opening এবং ending সং দুটো সত্যিই *heart touching*..বিশেষ করে ending song টা (সায়ুরি-র : Sore wa Shiisana Hikari no Youna) যা আমার অশ্রুবিন্দুর কারন ছিল।

Erased 4

অ্যানিমেটা দেখে এতোই আবেগভুত হয়ে পরলাম যে লিখে ফেললাম রিভিউটি। যারা এখনো দেখেননি তারা দ্রুত দেখুন। আর যারা দেখেছেন তাদের জন্য আরেকটি বিষয়। কেউ কি পুরনো opening এবং নতুন opening খেয়াল করেছেন? প্রথমে opening song এ সাতোরু ছিল… কিন্তু পরে তাকে opening song এর ভিডিওটি থেকে মুছে দেয়া হয়।
[link of comparison between old Op & new Op :https://www.youtube.com/watch?v=wJ2ZteesF5Y]

সবশেষে আমার বাকা জিএফ-কে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এই অ্যানিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।
আমার পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০

Erased 5

Jin-Roh: The Wolf Brigade [Movie Review] — Rafiul Alam

Jin-Roh 1

“That’s the nature of counterintelligence. The side which correctly anticipates the moves of the other and strikes first has the advantage.”

৯০ দশকের মুভি, মামোরু ওশি, প্রোডাকশন আইজি। রিংস এনি বেল?
-ঘোস্ট ইন দ্যা শেল?
-ঠিক। কিন্তু আজকে যে আনিমের কথা বলব, তা উপরের তিনটি শর্তই পূরণ করেছে, কিন্তু Gits এর মত দর্শকপ্রিয় হতে পারেনি একদমই।
জিন রো (উলফ ব্রিগেড) মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে। জাপানে তার পরের বছর।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ , সিম্বোলিজমের ব্যাবহার ও এবং ওশির নিজস্ব স্টাইলের দৃশ্যায়নের কারণে মুভিটি অনন্য শৈল্পিকতা লাভ করেছে, যার কারণে আর দশটি এনিমের সাথে সরাসরি তুলনায় যাওয়া কঠিন। এনিমেটির সিনেমাটোগ্রাফি, ক্যারেক্টার ডিজাইন এবং এবস্ট্রাক্ট শটগুলো খুবই রিয়েলিস্টিক ছিল। একই সাথে আমার কাছে “ফুড ফর থট” ধরনের কোন এনিমে সাজেশন চাওয়া হলে জিন রো এর নাম সবার আগে বলব, নির্দ্বিধায়।

Synopsis : সময়টা ৫০ এর দশক। অল্টারনেটিভ হিস্টেরিক টাইমলাইন, যেখানে জাপান জার্মানির কাছে পরাধীন । ঘটনার শুরুতে ছোট্ট করে একটা ন্যারেশন দেয়া হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপান ঘুরে দাড়ানোর জন্য কি করে এবং তার সামগ্রিক ফলাফল কি ধরনের হয় তার উপর। যাতে বলা হয় জাপানের দ্রুত, আগ্রাসী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাপক শ্রেণি বৈষম্য ও বেকারত্ব দেখা দেয়। ফলে সরকার বিরোধী দাঙ্গা দেখা দেয় নিয়মিতভাবে, এবং সময়ের সাথে সাথে বিপ্লবীরা আরও সংগঠিত হতে থাকে। চূড়ান্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গঠন করা হয় “Kerberos Panzer Cops” বা এলিট পুলিশ স্কোয়াড। তো একদিন দাঙ্গা ভয়াবহ রূপ নেয়। স্ক্রীণে একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখা যায়, যে কিনা বিপ্লবীদের স্পাই। মেয়েটির সহায়তায় পুলিশের উপর বোমা নিক্ষেপ করে দাঙ্গাবাজরা। যাতে পরিস্থিতি আরও এলোমেলো হয়ে যায়, কেরবেরস স্কোয়াড আন্ডারগ্রাউন্ডে হামলা চালাতে বাধ্য হয়। জার্মান অস্ত্র MG-13 মেশিনগান, নাইট ভিশন গগলস ও পুরু আর্মরের নিচে প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের সামনে বিপ্লবীদের অবস্থা হয় ফাদে পড়া ইঁদুরের মত। গোলাগুলির মাঝে সেই মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে, কিন্তু কেরবেরস বাহিনীর এক সদস্যের হাতে পড়ে যায়। এখন মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে আত্নঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করে সে। এরপর ন্যারাটিভ বিপরীত দিকে ঘুরে যায়। সেই কেরবেরস পুলিশ,যার কাছে মেয়েটি ধরা খেয়ে যায়, সে তার মুখোশ খুলে। হতবাক, বিভ্রান্ত। জানা যায় তার নাম কাজুকি ফুসে। উপরের থেকে তার উপর নির্দেশ ছিল মেয়েটিকে গুলি করার জন্য। তার বিবেকের কারণে সে পারেনি। কিন্তু দিনশেষে এটা একটি ভুল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পুরো স্কোয়াডকে তার খেসারত দিতে হত। ভাগ্য খুবই ভাল থাকায় শুধু সামান্য চোট পায় কাজুকি। কিন্তু মনের ভিতর ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। সে বোঝার চেস্টা করে, “কেন?”। এতসব সহিংসতা, এত দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, কিসের আশায়? যা জীবনের চেয়েও মুল্যবান?
আত্না শান্ত করতে সে মেয়েটির ধ্বংসাবশেষে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। সেখানে পরিচিত হয় মেয়েটির বড় বোন কেই আমেমিয়ার সাথে। তাদের মাঝে এক অন্যরকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এইখানেই সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং মেটাফরের আগমণ ঘটে। সিনেমার মূল স্টোরির সমান্তরালে Little Red Riding hood গল্পটির বর্ণনা করা হয়। সময়ের সাথে দর্শক বুঝতে পারবেন যে তা দিয়ে কি বোঝানো হচ্ছে।

Theme setup, Animation and Music : আনিমেতে সরাসরি একবারও বলা হয়নি যে জাপানকে জার্মানি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু আকারে ইংগিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। মুভিটিতে ৫০ দশকের জাপান, তখনকার চূড়ান্ত শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন ডিরেক্টর হিরুয়ুকি। তৎকালীন সমাজের বাস্তবতা ভিন্ন পরিস্থিতিতে কিরকম হতে পারে, তার উপাস্থাপনা এক কথায় ইনজিনিয়াস ছিল। ল্যান্ডস্কেপ ও এবস্ট্রাক্ট সিনগুলো ছিল ক্ষুরধার। যেন কোন গল্প বলতে চাচ্ছে। আরও অবাক লেগেছে জেনে, যে এত মুগ্ধকর সিনেমাটোগ্রাফির সিনেমার ফ্রেমগুলি নাকি হাতে আঁকা। এবার আসি মিউজিকে, দায়িত্বে ছিলেন সবার প্রিয় ইয়োকো কানো। সিনগুলোর সাথে মিউজিক খাপ খাওয়ানো হয়েছে, কোন জোরাজুরি নেই। কথোপকথনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন শব্দ ছিল না, বরং সাইলেন্ট পজ ছিল। ফলে দর্শককে আরও মনযোগী হতে হয়।

Characters Setup : নায়ক, নায়িকা আর দুই পক্ষের লোকজন। অনেক বেশি এলিমেন্ট নেই। কিন্তু এই কয়েকজন মানুষের সম্পর্ক চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলো বাস্তব। তারা টু ডাইমেনশনাল, স্টেরিওটিপিকাল, ক্লিশে কোন ফিলসফির কারণে গতিশীল না। সবারই এজেন্ডা আছে, ইচ্ছা আছে, নিজস্ব মোরালিটি আছে। তাদের মাঝে ভাল আর খারাপের দাগ টানতে পারবেন না। জিন রো আপনাকে এমন একটা জগতে নিয়ে যাবে, যেখানে দিনশেষে কোন এট্যাকার আর ভিক্টিম নেই। যেখানে মানুষের না পাওয়ার তিক্ততা আছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন না। কারণ আপনি ক্লান্ত।

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 7.87/10
IMDb:  7.6 /10

Jin-Roh 2

আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Akagami no Shirayuki-hime 1

আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে
ইংরেজি নামঃ রেড-হেয়ারড স্নো হোয়াইট
জানরাঃ হিস্টোরিক্যাল, ফ্যান্টাসি, শৌজো, রোমান্স, ড্রামা
অবস্থাঃ চলমান
চ্যাপ্টারঃ ৭৪+
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৪১
ব্যক্তিগত রেটিং: ১০/১০

রূপকথার গল্প কার না ভালো লাগে? এমন কাউকে বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না যে ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পড়ে, শুনে কিংবা দেখে বড় হয়নি। সে সময় রাজকন্যা, রাজপুত্র, রাজা, রাণী, রাজপ্রাসাদের গল্পগুলো কতই না আকর্ষণীয় লাগত। শিশুমনের কল্পনার রাজ্যে এগুলোই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকত। তবে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার পর সেই আকর্ষণটা আর তেমন থাকে না। এসব বর্তমানে অলীক ব্যাপার নিয়ে কল্পনার রাজ্যে গা ভাসানোর জন্য যে আমরা খুব বড় হয়ে গেছি! ওসব আর মানায় না। তবু বুকের গভীরে কোথাও হয়ত সেই ভালোলাগাটা রয়েই যায়। ছোট কাউকে গল্পের বই পড়তে দেখলে এখনো স্মৃতিকাতর করে তুলে। তবে যদি এমন এক রূপকথার গল্প পাওয়া যায় যা এই বয়সেও সমানে আপনার আকর্ষণ ধরে রাখতে পারে তাহলে নিশ্চয়ই মন্দ হয় না। আর মানের দিক থেকে তা যদি হয় আর দশটা সাধারণ গল্পের চেয়েও ভালো তাহলে তো সোনায় সোহাগা! এমনই এক রূপকথার মাঙ্গা আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে।

তানবারুন রাজ্যে বাস করে শিরায়ুকি নামের এক মেয়ে। শিরায়ুকির চুল লাল বর্ণের যা অনেক বিরল। এই বিরল চুলই বিপক ডেকে আনে শিরায়ুকির জন্য। তানবারুনের পাগলাটে স্বভাবের রাজপুত্র রাজি লালচুলো শিরায়ুকির কথা জানতে পারে। তাকে প্রস্তাব দেয় কনকিউবাইন হবার। কিন্তু শিরায়ুকি যে কারো হাতের পুতুল নয়। স্বাধীনচেতা শিরায়ুকি নিজেকে রাজপুত্রের হাতে সঁপে দিতে রাজি নয়। সে বেঁচে থাকতে চায় নিজের মত করে। তাই সে এই বিপদ ডেকে আনা লম্বা লাল চুল কেটে ফেলে তার নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় পাশের রাজ্য ক্লারিনেসে। সেখানে গভীর বনে দেখা পায় তারই সমবয়সী এক তরুণ ছেলে যেনে্র। সাথে যেনের দুই সঙ্গী মিতসুহিদে আর কিকি। শুরুতে সদাসতর্ক থাকা যেনের সাথে শিরায়ুকির সাথে ঝামেলা বাঁধলেও আস্তে আস্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবু লাল রঙ যেন তার ভাগ্যের পিছু ছাড়ে না। শিরায়ুকির উদ্দেশ্যে রাজপুত্র রাজির পাঠানো আপেল খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হল যেন্। এখন যেনকে কিভাবে বাঁচাবে শিরায়ুকি? আর যেনে্র আসল পরিচয়ই বা কি? কি করছিল সে এই গভীর বনে?

শুরুর দিকে গল্পটি শিরায়ুকি আর যেনে্র দৈনন্দিন জীবন নিয়ে চলতে থাকে। শিরায়ুকির নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় ইচ্ছা আর যেনে্র সাথে তার সম্পর্কের অগ্রগতিই থাকে গল্পের মূলবিন্দু। শুধু এতটুকুর জন্যেই মাঙ্গাটি চালিয়ে নেওয়া যায়। তবে একটু একটু করে আরো নতুন জিনিস যোগ হতে থাকে। ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে আর্কে ভাগ করে নেওয়া যায়। এরপর থেকেই গল্পটি পরিপূর্ণ রূপ পায়। যেনে্র সাথে শিরায়ুকির সম্পর্কটার জন্যেই অন্তত মাঙ্গাটির একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে যেখানে গল্পটিকে পৌঁছাতে হবে। তাই বর্তমানে মাঙ্গাটি খুব সুন্দরভাবে আগাচ্ছে। কাহিনী দিনকে দিন আরো জমজমাট হয়ে উঠছে।

Akagami no Shirayuki-hime 2

আকা-শিরাকে অনন্য করে তুলেছে এর প্রতিটি চরিত্র। অবশ্যই এক্ষেত্রে সবার আগে শিরায়ুকির কথা বলতে হয়। শিরায়ুকি খুব ভালো, নম্র, ভদ্র একজন মেয়ে। কিন্তু তাই বলে সে সাধারণ শৌজো নায়িকাদের মত স্যাকারিন দেওয়া মিষ্টি মেয়ে না যে অল্পতেই প্রতারিত হবে আর ভেঙ্গে পড়বে। শিরায়ুকিকে রক্ষা করার জন্য আক্ষরিক অর্থেই রাজপুত্র আছে। কিন্তু সে কখনোই তাদের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকে না। কারো কাছেই সে মাথা নোয়াবার নয়। নিজের জীবনের পথ সে নিজে বেছে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে শিরায়ুকির অন্য একটি দিক আমার তার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। এখানে অন্য কোন মেয়ে হলে নিশ্চিত কোন এক সময় যেনকে বাংলা সিনেমার মত করে বলত ‘কিন্তু আমাদের সামাজিক অবস্থান যে যোজন যোজন দূরে। আমাদের এ সম্পর্ক কেউ মেনে নেবে না। না, আমি আর এ সম্পর্ক আগাতে দিতে পারি না। তুমি আমাকে ছেড়ে দাও যেন। তাহলে তুমি ভালো থাকবে!!’। শিরায়ুকি এ ধরণের কথাবার্তা কখনো বলেনি এবং সামনেও বলার সম্ভবনা নেই। তার মানে এও না যে সে নিজের সামাজিক অবস্থান ভুলে গিয়ে দাম্ভিকতার পরিচয় দিয়েছে। বরং সে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এমন এক জায়গায় পৌঁছুতে চায় যাতে একদিন সে যেনে্র পাশে দাঁড়াতে পারে। তার হয়ত টাকাপয়সা, সামাজিক মর্যাদা বা জৌলুস নেই কিন্তু বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে সে ঠিকই ওপরে উঠে আসে।

বাকি চরিত্রগুলোও কেউ কারো চাইতে কম যায় না। রাজপুত্র, প্রভু, ছোট ভাই বা প্রেমিক যেকোন ভূমিকাতেই যেন্ উয়িস্তালিয়া অনেক আন্তরিক, দায়িত্বশীল আর চিন্তাশীল। সেক্ষেত্রে ওবি একজন রহস্যময় ভৃত্য হলেও যেনে্র কাছে হেরে যায়নি। যেন্ এবং সবাইকে নিয়ে সবসময় দুষ্টামি করা কিন্তু বিশ্বস্ত ওবি বরং জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেক উপরেই আছে। কোন এক ব্যাখাতীত কারণে ওবিকে একটু বেশিই ভালো লাগে। মিতসুহিদে আর কিকির মজার অগ্রগতি দেখার জন্যেও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন। এই দলটার বাইরে আছে রাজপুত্র ইযানা। শুরুতে আমি শিরায়ুকি আর যেনে্র পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে ভেবে ইযানাকে একটুও পছন্দ করিনি। কিন্তু মাঙ্গা যত এগিয়েছে তত বুঝেছি ইযানা আসলে কেমন মানুষ। সে কি পদক্ষেপ নিচ্ছে আর কেন নিচ্ছে তা বুঝতে পারার পর ইযানাকে তারিফ করতেই হয়। আসলে এখানে অপছন্দ করার মত এমন কোন চরিত্র নেই। আর রাজপুত্র রাজি? ধীরে ধীরে তার মাঝে এতটাই পরিবর্তন আসে যে তাকে নিয়েও আর হাসাহাসি করা যায় না।

আকা-শিরার আর্ট খুব বেশি সুন্দর। আনিমেতে মাঙ্গার একই আর্ট ব্যবহৃত হয়েছে। অ্যানিমেশন যথেষ্ট সুন্দর ছিল। তাও মাঙ্গাতে আর্ট দেখতে আনিমের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সুন্দর লাগে। আর্ট দেখলে শুধু আর্টের জন্যেই মাঙ্গা পড়তে ইচ্ছে হবে। আকা-শিরাতে এর নিজস্ব জগতটার জন্য মাঙ্গাকা নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের বাড়ি-ঘর আর পোশাক-আশাকের নকশা করেছেন। এই দিকটি চোখে পরার মত।

এই মাঙ্গাটি এত বেশি ভালো আর নিখুঁত যে এতে দোষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমস্যার মধ্যে একটি রাজপ্রাসাদে যত সৈন্যসামন্ত, চাকর-বাকর আর হোমরাচোমরা ব্যক্তিদের ব্যস্ত চলাফেরা দেখা যাওয়ার কথা তা দেখা যায় না এটাই উল্লেখ করা যায়। সেই তুলনায় রাজপ্রাসাদ পুরা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। কেউ কেউ রাজপরিবারের কথাও বলতে পারে। যেন আর ইযানা ছাড়া রাজপরিবারের কাউকে দেখা যায় না। কিন্তু সেটা শুধু শুরুতে। মাঙ্গা যত এগিয়েছে তত নতুন সব চমক এসেছে। কিন্তু পরে গিয়ে রোমান্স আগে যা ছিল তার চেয়ে অনেক কমে যায়। অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করে। তবে আমার মতে এভাবে শুধু মিষ্টি প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র না করে বরং বাস্তবধর্মীভাবে কাহিনী আগাচ্ছে। এতে মাঙ্গাটি আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে।

এর আনিমের দ্বিতীয় সিজনটি কিছুদিন আগেই শেষ হল। দুটি সিজনই বেশ ভালোভাবেই মাঙ্গাকে অনুসরণ করেছে। তবু একজন মাঙ্গাপড়ুয়া হিসেবে মনে হয়েছে কিছু একটা নেই। আর দ্বিতীয় সিজন যেখানে শেষ ওখানেই আরও চমকপ্রদ সব ঘটনার শুরু। তাই আনিমে যাদের ভালো লেগেছে তাদের জন্য মাঙ্গা পড়া অত্যাবশ্যক। তবে আনিমেতে মাঙ্গার চ্যাপ্টার আগাপিছা করে অনেক চ্যাপ্টার মিলে একেকটি পর্ব বানান হয়েছে। তাই কোথা থেকে মাঙ্গা শুরু করা উচিত এটা বলা কঠিন। আনিমের শেষ পর্বটি ছিল চ্যাপ্টার ২৯, ৩০ থেকে। তবে চ্যাপ্টার ৩১, ৩২ থেকে আগেই আনিমে বানান হয়েছে। চ্যাপ্টার ৩৩-এ এরপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুরু। তাই ওখান থেকেই শুরু করতে পারেন।

প্রতিটি জানরারই কোন কোন সিরিজ থাকে যা ওই জানরার সচরাচর সিরিজগুলোর থেকে আলাদা এবং অসাধারণ হয়। আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে এমনই একটি মাঙ্গা। তথাকথিত জীবনের টুকরা শৌজো মাঙ্গা থেকে এই রূপকথার মাঙ্গা অন্য স্তরের। আনিমে আসার আগ পর্যন্ত এটি ছিল মাঙ্গা জগতের লুকান রত্ন। এখন আর চোখের আড়ালে না থাকলেও রত্নই রয়েছে। তাই সুযোগ পেলে অবশ্যই একবার এই কল্পনার রাজ্যে ডুব দিয়ে আসতে পারেন।

Akagami no Shirayuki-hime 3

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart [Movie Review] — Okkhor Zaman

Anthem of the Heart

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart

জনরা: ড্রামা
MAL রেটিং: 8.34
আমার রেটিং: 8.50
সময়: ১ঘন্টা ৫৯ মিনিট

আমরা নিজেদের মুখের শব্দকে ইচ্ছামত ব্যাবহার করি। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বা বিভিন্ন জায়গায় আমরা একে অন্যের নানা ভাবে আলোচনা সমালোচনা করি।।

কিন্তু কখন ও কি ভেবে দেখেছেন এই সব ছোট ছোট কথা একজন মানুষের জীবনে কত্ত বড় প্রভাব ফেলতে পারে!?

এমন ই চিন্তাকে মাথায় রেখে মুভিটার গল্পের শুরু মুভিটার মূল চরিত্র Jun Naruse। চঞ্চল দুরন্ত এই ছোট্ট মেয়েটি তার মনের সব অনুভূতি গুলো সবাইকে জানাতে চায়। কিন্তু Jun এর জীবন এক কষ্টকর অধ্যায় শুরু হয় যখন সে তার বাবাকে স্থানীয় এক ‘লাভ হোটেল’ এ অন্য এক মহিলার সাথে দেখে তা না বুঝেই তার মাকে বলে দেয়। ফল স্বরূপ তার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। বাবা মায়ের ডিভোর্স এর জন্য সে নিজেকে দায়ী করে।
এরপর কাছের এক পাহাড়ে সে এক Egg Prince এর দেখা পায়। এবং সে Egg Prince এর কাছে মিনতি করে যাতে তার কথার দ্বারা আর কেউ কষ্ট না পায়। Egg Prince, Jun কে curse দিয়ে তার কথা বলার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। এর পর জুনের জীবনের বেশ কয়েক বছর কেটে যায়…..

সে এখন হাই স্কুলে পড়ে সেই Curse এর কারণে সে এখন ও কথা বলে নি, বলতে পারে না। তবে কাহিনী এক নতুন মোড় নেয় যখন তাদের টিচার Jun সহ আরো ৩ জনকে community outreach ইভেন্ট এর দ্বায়িত্ব দেয়। এখানেই Jun এর সাথে Takumi Sakagami এর বন্ধুত্ব হয় এবং সে আস্তে আস্তে Jun এর কথা বলার ক্ষমতা পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে…….
এভাবেই কাহিনী শেষের দিকে অগ্রসর হতে থাকে…..

মুভিটা আনোহানা অ্যানিমের টিম দ্বারা তৈরী। এটিতে কথা না বলতে পারা মানুষের কষ্ট চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটিতে বেশ কিছু মোটিভেশনাল পার্ট ও আছে। তবে এন্ডিং টা অনেকের কাছে একটু ঝাপসা লাগতে পারে। কিন্তু ওভার অল চমৎকার একটা মুভি…..

না দেখে থাকলে এক্ষুণি বসে যান।