সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট [রিকমেন্ডেশন] — Fatiha Subah

সাতৌগাশি নো দানগান ওয়া উচিনুকেনাই: এ ললিপপ অর এ বুলেট
ইংরেজি নামঃ সুগার ক্যান্ডি বুলেটস ক্যান্ট পিয়ারস এনিথিং
জানরাঃ সাইকোলজিক্যাল, শৌনেন, ড্রামা, স্কুল
ভলিউমঃ ২টি
চ্যাপ্টারঃ ১৩টি
অবস্থাঃ সমাপ্ত
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

সাধারণত আমি রেকমেন্ডেশন লেখার চেয়ে রিভিউ লেখাটা ভালো মনে করি। একটা সিরিজ নিয়ে যদি লিখবই তবে ভাল-খারাপ সব খুঁটিনাটি নিয়ে একটা রিভিউই লিখি। রেকমেন্ডেশনের কাজটা তো ওটার সাথেই হয়ে যায়। কিন্তু এই মাঙ্গাটার ক্ষেত্রে কথাটা খাঁটাতে পারছি না। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার এর আগেও কিছু দেখেছি, পরেছি। মনস্তত্বের উদ্ভট সব জিনিস সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু কোনটাই আমাকে এই মাঙ্গাটার মত বাকরুদ্ধ করতে পারেনি। এতটাই বাকরুদ্ধ হয়েছি যে আজো সেই বাকরুদ্ধ ভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। এরকম একটা মাঙ্গা নিয়ে ঠিক কিভাবে রিভিউ লিখলে সেটার একটা সুন্দর বিশ্লেষণ পাঠকদের কাছে পৌঁছাবে তা আমার জানা নেই। তাই বলে এত ভালো একটা মাঙ্গা সবার চোখের আড়ালে থেকে যাওয়াটাও হবে দুঃখজনক। তাই এটা নিয়ে একটা রেকমেন্ডেশনই লিখে ফেললাম।

গল্পের শুরুটা হয় সাদামাটা ভাবে। আমাদের খুব বেশি পরিচিত একটা প্রেক্ষাপটঃ ক্লাসে বদলি হয়ে আসা নতুন স্টুডেন্ট প্রধান চরিত্রের সাথে কোনভাবে জড়িয়ে যাবে। ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা যখন পড়ালেখা করবে না কিন্তু সুন্দর ইউনিফর্ম পড়ে কোন হাই স্কুলে যাবে এই স্বপ্নে বিভোর তখন নাগিসা ইয়ামাদা’র সময় কিংবা ইচ্ছা কোনটাই নেই সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেবার। একই বয়সের বাকি সবাই যখন কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে ব্যস্ত তখন নিষ্ঠুর বাস্তবতা নাগিসাকে বাধ্য করে তার পরিবার আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে। নাগিসার বাবা মারা গেছেন। বাবার রেখে যাওয়া ইনস্যুরেন্সের টাকা ফুরিয়ে গেছে। তার পুরো পরিবার তার মায়ের একার পার্ট-টাইম জবের আয়ের উপর নির্ভরশীল। পুরো পরিবার বলতে আর আছে নাগিসার বড় ভাই তোমোহিকো যার কিনা কথা ছিল পরিবারের দেখাশোনা করার। হাই স্কুলে থাকাকালে উজ্জ্বল ছাত্র হলেও তোমোহিকো পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ঘরকুনো হয়ে যায়, সে এখন শুধু অদ্ভুত সব জিনিস সংগ্রহ করে আর বই পড়ে। ভাইয়ের এই দ্বায়িত্বহীনতার কারণে সব চাপ নাগিসার ঘাড়ে এসে পড়লেও সে তবু তার ভাইকে অনেক শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। তার এখন লক্ষ্য শুধু একটাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিডেল স্কুল পাশ করে তার ছোট্ট শহরের সীমান্তে অবস্থিত সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সে যোগদান করবে। সে হতে চায় “বুলেট”। বুলেটের মত সজরে নিজের শক্তিতে বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে ছুটে যাবে। সাধারণ মেয়েরা যে মিষ্টি মিষ্টি বা “সুগারি” ধরণের বিলাসিতা করে সেসব তার জন্য নয়।

একদিন নাগিসার ক্লাসে আসে একটি নতুন মেয়ে। মেয়েটির নামটা অদ্ভুত, উমিনো মোকোযু। “উমি নো মোকোযু” এর অর্থ হল সামুদ্রিক শৈবালের ক্ষুদ্র বর্জ্য অংশ। আর শুধু “মোকোযু” শব্দটার মানে “সাগরে মৃত্যু”। এই অদ্ভুত নামের মেয়েটা তার চেয়েও অদ্ভুত। সে সোজা সবাইকে বলে দেয় সে নাকি কোন মানুষ না। সে একজন মৎস্যকন্যা! সে তার পরিবার, জাপানের সাগরের মাছদের কাছে শুনেছে মানুষ নাকি একটা বোকা, মুর্খ প্রজাতির প্রাণী যারা অনুভূতির বশে হারিয়ে যায়। কিন্তু মানুষেরা ঠিক কতটা বোকা? তাদের জীবনের কি কোন মূল্য আছে? তারা মরে গেলেই কি বেশি ভালো হত? এসবের উত্তর জানতেই সে সাগর থেকে মানুষের পৃথিবীতে চলে এসেছে। সবাই বলাবলি করতে থাকে মোকোযু এক সময়ের জনপ্রিয় একজন সেলেব্রিটি উমিনো মাসাচিকার মেয়ে যেটা মোকোযু অস্বীকার করে। বাস্তববাদী নাগিসা স্বভাবতই পাগলাটে মোকোযুকে পাত্তা দেয়না। কিন্তু বিধিবাম। মোকোযু নাগিসার পিছে লাগে। তাকে অনুসরণ করতে থাকে। সে নাগিসাকে বলে যে তার আসল লক্ষ্য নাকি অন্য। সে একটি সত্যিকারের বন্ধু খুঁজতে এসেছে। একজন ভালো বন্ধু যে কিনা তার জন্য সবকিছু করতে রাজি থাকবে। যদি তার এই ইচ্ছা পূরণ না হয় তাহলে সে সামুদ্রিক শৈবালে পরিণত হয়ে ফেনায় হারিয়ে যাবে। নাগিসার শহরটায় প্রতি ১০ বছরে একটা করে বড় ঝড় হয় যেটা আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয় না। শীঘ্রই আসছে সে ঝড়ের আগেই মোকোযুকে খুঁজে বের করতে হবে একজন বন্ধু। সে চায় নাগিসাই হবে সেই বন্ধুটা। একে তো মোকোযু আবলতাবল অবাস্তব সব কথা বলে তার উপরে ঠিক ১০বছর আগে এমন এক ঝড়ই কেড়ে নিয়েছিল নাগিসার বাবাকে। প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে নাগিসা মোকোযুকে এড়িয়ে যেতে থাকে। তবু মোকোযু নাগিসার পিছু ছাড়ে না। “সুগার বুলেটের” মত মোকোযুর কথাগুলো বিঁধতে থাকে নাগিসাকে। অনেক অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু কারণে নাগিসাকে জড়িয়ে যেতে হয় মোকোযুর সাথে। নিজের ভাইয়ার সাথে মোকোযুকে নিয়ে কথা বলে, মানুষের মানসিকতার কিছু আজব তথ্য জানে। এরপর সে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে যায় মোকোযুর জীবনের সাথেও। সবসময় হাসিখুশি, আজগুবি আর পাগলামো আচরণ করা মেয়েটার পেছনের কারণটা কি? আর মোকোযুর বাবা মাসাচিকার মৎস্যকন্যা নিয়ে গাওয়া প্রথমে রোমান্টিক কিন্তু পরে পাশবিক হয়ে যাওয়া ওই গানটারই বা রহস্য কি?

মাঙ্গাটি একই নামের একটি লাইট নোভেল থেকে রূপান্তরিত। মাঙ্গাটির আর্ট ভালো আছে। তবে স্লাইস অফ লাইফের মত কাহিনী খুব ধীর গতিতে শুরু হয়। প্রথমে এমনও মনে হয় যে এতে তো কোন নতুনত্ব নেই। কিন্তু এরপরে গিয়ে আস্তে আস্তে সব প্রকাশ হতে থাকে। আর শেষে যা অপেক্ষা করছে ওটা একটা বিশাল বড় ধাক্কা। একদম লাইটহার্টেড মাঙ্গাটা শেষে গিয়ে ডার্ক হয়ে যায় যেটা হতভম্ব করে দিবে। তাই শুরুতে বোরড হলেও ড্রপ করবেন না। মাত্র ১৩টি চ্যাপ্টারই তো।

শেষ করব তোমোহিকোর একটি ধাঁধা দিয়ে। একজন লোকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তার এক সহকর্মীর সাথে তার স্ত্রীর দেখা হয়। খুব তাড়াতাড়ি তাদের মাঝে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। বরং বলা উচিত তাদের মাঝে পারস্পরিক আকর্ষণ তৈরি হয়। ঠিক সেই রাতেই মৃত লোকটির ছেলেটিও খুন হয়। জানা যায় খুনিটি ছিল সেই স্ত্রী। সে হঠাৎ করেই তার ছেলেকে খুন করল। কিন্তু কেন? আপনি কি ভাবছেন তা আমি ধারণা করতে পারি। কিন্তু উত্তরটা তা না। তোমোহিকোর ভাষ্যমতে ভুল উত্তর দেওয়ার মানে হল আপনি একজন স্বাভাবিক মানুষ। আর যারা ঠিক ধারণা করেছেন তারা হতে পারেন ভবিষ্যতের বড় বড় খুনি!! কিন্তু কি সেই উত্তরটা? মানসিকতায় কি এমন তফাৎ? জানতে হলে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি।

Lollipop or Bullet

কামিচু! [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

কামিচু!
আনিমে টেলিভিশন সিরিজের পরিচালক :- কোজি মাসুনারী
এপিসোড সংখ্যা:- 16 টি ।

Kamichu 3

গল্পের আরম্ভ অনেক আগে, যখন আমাদের জীবনটা কোন স্মার্ট ফোনের হাতে ফেলে দিয়নি, ফেসবুক আমাদের আর একটা জীবন হয়ে ওঠেনি, পার্সোনাল কম্পিউটারে ছেয়ে যায়নি পৃথিবী ।অথবা আমাদের তখন অস্তিতই ছিলো না, গল্পের শুরু যে বছরে, সে বছরে মোটোরোলা প্রথম বানিজ্যিক মোবাইল ফোন মোটোরোলা ডায়না টিএসি ৮০০০এক্স বাজারে ছাড়ে,আবার অ্যাপলের ম্যাকিনটোশ পার্সোনাল কম্পিউটার আসতেও একবছর দেরী, সেই বছরই আবার ইন্টারনেটের অফিসিয়াল জন্মবছর,সেই বছরই পৃথিবীর চ্যালেঞ্জার মহাকাশ ফেরির প্রথম যাত্রা, যা ছয়বছর তার শেষ যাত্রা সমাপ্ত করবে তার দশ নম্বর উড়ানে, সাত জন মহাকাশচারীর জীবন সঙ্গে নিয়ে। জাপানের প্রথম টোকিও ডিজনিল্যান্ড সেই বছরেই খোলে, বছরটা 1983 ।আরও ভালো করে বলতে গেলে 1983 এর এক রঙিন বসন্ত গল্পের শুরু, শেষ হয় পরের বসন্তে।

জাপানের শিন্তো ধর্ম খুবই প্রাচীন। অন্যসব প্যাগান ধর্মের মতই এই শিন্তো ধর্মও প্রকৃতি থেকে নিজের উপাদান, দার্শনিক মত, মিথোলজি নিয়েছে। অন্য সব ধর্মের মতনও শিন্তো প্রভাবিত করেছে জাপানের অন্যান্য কালচারাল মাধ্যমকে, প্রভাবিত করেছে জাপানের চিত্রকলা, উপকথা, কবিতা বা বর্তমানে আনিমে, ভিডিওগেম, মাঙ্গা, সাহিত্য সব জায়গায়। শিন্তো ধর্মে দেবতা এবং দেবী, উভয়দেরই কামি বলা হয়। এটা একটি উভয় লিঙ্গ শব্দের উদাহরন। আবার আত্মা, সর্বোচ্চ ঈশ্বর বোঝাতেও কামি শব্দটা ব্যাবহার হয়। একটা শব্দের অনেক অর্থ।

Kamichu 4

টোকিও থেকে সাতশো চৌত্রিশ কিলোমিটার দূরে হিরোসিমা প্রিফেকচারে শিটো ইনল্যান্ড সমুদ্রের ধারে অনমিচি একটা সুন্দর শহর। শহরকে দুভাগ, তিনভাগ করেছে নদীর মতো সমুদ্রের কয়েকটা অংশ, সৃষ্টি করেছে ছোটবড় বেশ কয়েকটা সুন্দর দ্বীপের। দ্বীপগুলোর মধ্যে যাওয়া আসার জন্য আছে ফেরি সার্ভিস।
গল্পের মূল চরিত্র, ইয়ুরি হিতত্সুবাসী,শহরের একটা মিডল স্কুলের ছাত্রী ,হটাৎ একদিন টিফিনের সময়ে, তার অন্যতম প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরিকে বলেই ফেলল কথাটা “সে একজন কামি(দেবী)।”

নিজের হাতে দুধের প্যাকেটের মধ্যে স্ট্র ঢোকাতে ঢোকাতে মাৎসুরি অতি স্বাভাবিকভাবে জিজ্ঞাসা করলো “কিসের দেবী ?”

আনিমের এই শুরুটা যেকোনো মনোযোগী এনিমখোরকে অবাক করে দিতে পারে ।অথবা সিরিজে দুই বান্ধবীর মধ্যে কথোপোকথন দিয়ে শুরুটা অনেকটা ফ্রান্ৎস কাফকার মেটামরফোসিসের প্রথম বাক্যটা মনে করিয়ে দিতে পারে, গ্রেগর সামসার এক স্বপ্নবহুল ঘুম থেকে জেগে উঠে নিজেকে এক বিশাল পোকায় পরিনত লাভ করা যেমন গ্রেগরের কাছে অতি স্বাভাবিক ব্যাপার,তবুও সে অফিসের যাওয়ার জন্য ভেবে যাচ্ছে। সেইরকমই নিজেকে বা কোন বান্ধবীকে একজন দেবী হিসাবে জানা অতি স্বাভাবিক, রোজকেরে ব্যাপার ।

Kamichu 2

প্রথম এপিসোডে দেখব , ইয়ুরি তার দুই প্রিয় বান্ধবী মাত্সুরি আর মিত্সুএ এর সঙ্গে মাৎসুরিদের পারিবারিক শিন্তো মঠে যায় ,সে কোন বিষয়ের দেবী জানার জন্য ।আবার নিজেদের স্কুলের ছাদেও চলে তিন বন্ধু র পরীক্ষা ,তারা দেখতে চায় ইয়ুরির কীরকম শক্তি, টিভির সুপারহিরোদের মত পরীক্ষার ব্যবস্থা, কিন্তু কিছুই হয়না ।যদিও তখনই পরিচালক আমাদের দৃষ্টিকে শিটো উপসাগরের তীরের শহর থেকে দূর প্রশান্তের বুকে নীল জলের উপর ভাসমান একটা নৌকাতে নিয়ে গিয়ে ফেলে, কোনও অজানা কারনে সেই নৌকার পালে টাঙানো একটা কাপড়ের টুকরো দুলে ওঠে, কাকতালীয় ভাবে, হয়ত হাওয়ায়!!!!
সেই ছাদেই পরিচয় হয় কেনজি আর ইয়ুরির।কেনজি স্কুলের ক্যালিগ্রাফি ক্লাবের একমাত্র সদস্য (এবং প্রেসিডেন্ট)।
সেই রাত্রিতেই ইয়ুরি তার দেবীত্বের পরিচয় পেয়ে যায়, তৈরি করে ফেলে বিশাল একটা টাইফুন,কেনজি আবার সেই টাইফুনের কবলে পড়লে তাকে ইয়ুরি বাঁচায়।

পরের এপিসোডে, মাত্সুরি, আর তার বোন ঠিক করে তাদের নতুন দেবীর সম্মানে একটা উৎসব আয়োজন করবে তাদের শিন্তো মঠে। কিন্তু দেখে মঠের আরাধ্য দেবতা য়াশিমা নেই!! তো, ইয়ুরি যায় দেবতাদের জগতে, য়াশিমাকে ফিরিয়ে আনতে।

Kamichu 5

এইরকম আরও ভালো ভালো গল্প দিয়ে এগিয়েছে 2005 এ তৈরি কামিচুর পরবর্তী এপিসোডগুলো, এসেছে নতুন নতুন চরিত্রের সঙ্গে। যেমন য়াশিমা সামা, শহরের লোকাল কামি বা দেবতা। বা বিন চান, আর এক কামি, যে ইয়ুরির বিড়াল তামার শরীরে আশ্রয় নেবে।
গোটা আনিমেটা আমার কাছে মিথোলজি, ম্যাজিক রিয়ালিজম আর কমেডির সুন্দর সংমিশ্রণ লেগেছে। এনিমেশন খুবই ভালো, বেশ সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্য। ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড দৃশ্যে যেসব শিন্তো মঠ মন্দির, প্রতিষ্ঠান দেখা গেছে সেগুলো অনমিচি শহরে আজও দেখা যাবে।
ইয়ুরির গলা দিয়েছে ভয়েস একট্রেস মাকো, এটা তার প্রথম কাজ ছিলো।
আনিমেটা কোনও মাঙ্গা থেকে তৈরি নয় বরং আনিমে সিরিজ থেকেই একট সমনামী মাঙ্গা তৈরি হয়েছে। শিন্তো ধর্মের মিথ ব্যাবহার করে কামিসামা কিস, নোরোগামীর মত জনপ্রিয় আনিমে তৈরি হয়েছে। যাদের এগুলো পছন্দ, তাদের আশাকরি অবশ্যই কামিচু পছন্দ হবে।

Kamichu 1

দেনপা তেকি না কানোজো [রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

—রিভিউ—

আনিমে – দেনপা তেকি না কানোজো
পর্ব – ২
জনরা – মিস্টেরি, থ্রিলার

দেনপা তেকি না কানোজো মূলত একটি ২ পর্বের এক এক্সেপশনাল ওভিয়ে । এবং এর কাহিনী এক বাক্যে, দুই প্রধান চরিত্র জুযাওয়া জূ এবং ওচিবানা আমের ২ পর্ব ধরে ২ টি কেস সল্ভ করার কাহিনী । তবে এর কিন্তু কোন ডিটেক্টিভ ডুয়ো না বরং বুঝতে উঠে পারার আগেই তারা কেসটির সাথে জড়িয়ে যায় ।

কাহিনীর শুরু হয় ঠিক কিভাবে জুযাওয়া জূ-এর সঙ্গে ওচিবানা আমের মিল হয় ও থেকে । ওচিবানা আমে হঠাৎ এসে হাজির হয় জূ-এর সামনে এবং সে বলে সে জূ-এর সাথে তার পূর্ব জন্মে পরিচিত ছিল তাই তাকে এখন থেকে সার্ভেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে । প্রথমে জূ বিষয় এটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনাক্রমে মেনে নেয় ।

এবার আসি মূল কাহিনীতে । আগেই বলেছি, ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন কেস । প্রথমটা বেশ টিপিকাল, দ্বিতীয় বেশ এক্সেপশনাল । প্রথমটার কাহিনী ঠিক এক সিরিয়াল কিলারকে নিয়ে । এই সিরিয়াল কিলার জ-এর নজরে আসে তার এক ঘনিষ্ট বন্ধের খুনের পর । প্রথমে ওচিবানা আমেকে সন্দেহ করলেও ঘটনাক্রমে বের হয়ে আসে আসল দোষী কে, তবে তা দেখে নেওয়ার কাজ আপনার । দ্বিতীয় পর্বটির কাহিনী ঠিক একটি মেয়ের ট্রমাকে ঘিরে । তার ট্রমার সাথে খানিকটা ওয়ারিমোনোগাতারির দ্বিতীয় আর্কে ঔকুরা সোদাচির ট্রমার সাথে কিছুটা মিল আছে, যাদের ওয়ারিমোনোগাতারি দেখা আছে তারা হয়তো কিছুটা ধরতে পেরেছেন । এ কাহিনীটা আমার বেশ ভালো লেগেছিল । কাহিনীটির মাঝে এক বড় টুয়িস্ট আছে । এবং সুধু তাই নয় ঠিক শেষের দিকে আরেকটি টুইস্ট । আগেই বলে দেই ওভিয়েটির এন্ডিংটা বেশ শকিং ।

আর্টটা বেশ ভালো ছিল । তবে এখানে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড ডিটেইলিং-এর উপর । ক্যারেক্টার ডিজাইনটা মোটামোটি তবে ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চারপাশে পরিবেশ বেশ অসাধারণ ছিল । এর কোন ওপেনিং তবে ২ পর্বে ২ টি ভিন্ন এন্ডিং । ২ টি এন্ডিংই বেশ সুন্দর ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয় এন্ডিংটা বেশ সুন্দর এবং ইমোশোনাল ছিল ।

চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালো লাগবে । কোন এক্সেপশনাল চরিত্র নেই । আর বাকি সাধারণ আনিমেগুলোর চরিত্রের ব্যক্তিত্বই এই আনিমের চরিত্রেগুলোর মাঝে বিদ্যমান । ২ পর্বে চারিত্রিক উন্নতি দেখানো প্রায় অসম্ভব, তাই তেমন কোন চারিত্রিক উন্নতি ২ টা পর্বে নজরে পরবে না ।

এবার আসি সেইয়ূদের কথায় । হিকারু এবং ফুজিশিমা কানাকো বাদে বাকি সবার সেইয়ূই ছিল অভিজ্ঞ এবং খ্যাতিমান । আমার কার কোন সেইয়ূ তা বের করতে নেটের কোন সাহাজ্যই লাগে নাই । না দেথেই বলে দেওয়া যায় যে জুযাওয়া জূর কণ্ঠ দিয়েছেন হোসোয়া ইয়োশিমাসা এবং ওচিবানা আমের কণ্ঠ দিয়েছেন হিরোহাশি রিয়ৌ । এছাড়া কাস্টে আরও ছিল কোশিমিযু আমি, উয়েদা কানা, সাইগা মিৎসুকি, কোবায়াশি ইয়ূ, নাকাহারা মাই এবং কিতামুরা এরিদের মত অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রীরা । মাত্র ২ পর্বের জিনিশে এরকম নামি-দামিদের দিয়ে কাজ করানো বেশ ভালো জিনিশ । শেষমেশ, সাইগা মিৎসকি বাদে বাকি সবায়ই আমার প্রিয় সেইয়ূ ।

৪ পর্বের সমান মাত্র ২ পর্বের ওভিয়ে, কেননা প্রতি পর্ব ৪০ মিনিট করে । অল্প সময়ের মধ্যে কোন ভালো মিস্টেরি আনিমে দেখতে চাইলে দেখে ফেলুন দেনপা তেকি না কানোজো ।

denpa teki no kanojo

ইয়োতসুবাতো! (Yotsubato!) [মাঙ্গা রিভিউ] — Zuhayer Anjun Dhruba

মাঙ্গা:ইয়োতসুবাতো! ( Yotsubato! )
ভলিউম : ১৩
চ্যাপ্টার : ১০১
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং :৮.৯
আমার রেটিং : ৯
র‍্যাংক : ১৭
জনরা: Comedy, Shonen, S­­­lice of Life

মাঙ্গাটির প্রধান চরিত্র ইয়োতসুবা কোইওয়াই (Yotsuba Koiwai)। প্রতিটি দিনকে সবচেয়ে মজাদার ও উপভোগ্য করে তোলে সে। প্রতিটি কাজকে মজার সাথে করা, নতুন নতুন জিনিস শেখা, বড়দের মত ভাব করা এসব দেখে না হেসে থাকা যায় না।

গ্রীষ্মের রোদে মুখে হাসি নিয়ে সে শহরে পৌঁছাল। ৫ বছরে এর পিচ্চি মেয়েটি দাদীর বাসা থেকে বাবা ইয়োসকে কোইওয়াই (Yousuke Koiwai) এর সাথে শহরে আসে তাদের নতুন ঘরে। রাস্তায় বড় বিল্ডিং, স্কুল আর শহরের পরিবেশ দেখে সে খুশিতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। নতুন বাসায় পৌঁছানোর পর দেখা হয় তার বাবার ছোটকালের বন্ধু জাম্বোর (Jumbo) সাথে। আস্তে আস্তে তাদের প্রতিবেশীদের সাথে পরিচিত হয় এবং নিমিষের মধ্যেই তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে ইয়োতসুবা। সাধারানত ইয়োতসুবার দিনের বেশিরভাগ মুর্হুত কাটে তার প্রতিবেশীদের সাথে। ইয়োতসুবার প্রতিবেশী হলো আয়াসে পরিবার (Ayase Family)। বাবা-মা আর ৩ বোন এর পরিবারে ইয়োতসুবাও একজন সদস্য। বড় বোন আসাগি আয়াসে (Asagi Ayase) দেখতে যত সুন্দর কাজকর্মেও তত ফাজিল। সবাইকে বিরক্ত করে বেড়ানো আর ইয়োতসুবার সাথে মজা করায় এক্সপার্ট। মেজো বোন ফুকা আয়াসে (Fuuka Ayase) পড়ালেখায় ভালো, কর্মঠ, দায়িত্বশীল এবং স্কুলে ভাইস প্রেসিডেন্ট। ফুকার দিন কাটে অন্যদের সেবা করে আর অড ধরনের T-shirt পরে। ছোট বোন এনা আয়াসে (Ena Ayase) ইয়োতসুবার কাছের বয়সের হওয়ায় সে আর তার বান্ধবী মিউরা হায়াসাকা (Miura Hayasaka) ইয়তসুবার সবচেয়ে ভাল খেলার সঙ্গী। স্বভাবে সবচেয়ে ভাল আর ইয়োতসুবাকে নানা ধরণের ভাল জিনিস সেখানো মাধ্যমে তাদের দিন আর মজার করে তোলে। ইনা আর মিউরার তৈরি কার্ডবোর্ড রোবট ডানবো (danbo) ইয়োতসুবার অনেক কাছের বন্ধু।

মাঙ্গাটি পড়ে প্রত্যকটি মুহুর্ত হেসেছি আর পরের চ্যাপ্টারে এই পিচ্চি কী কী মজা করবে তা জানার জন্য আগ্রহে পরের চ্যাপটার পড়ে ফেলেছি। বাবার সাথে ইয়োতসুবার মজা করা, তার জন্য আয়াসে পরিবারের ভালবাসা দেখে অনেক ভাল লাগে। এভাবে ইয়োতসুবার সাথে আরও অনেকজনের পরিচয়, তাদের সাথে মজা করা আর নতুন নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো ইয়োতসুবার প্রিয় কাজ, নতুন নতুন এডভেঞ্চারে যাওয়া সবই উপভোগ্য।

# মাঙ্গাটি কেন পড়বেন? “ইয়োতসুবাতো!” মাঙ্গাটার ভাষা সহজ, যে কেউই পড়তে পারবে। সবচেয়ে গুরত্বপুর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রত্যকটা চ্যাপ্টার মজার মজার জোক্স দিয়ে ভরা আর ইয়োতসুবার ভুল জাপানিজ ভাষা দেখে না হেসে থাকা যাবে না। আর্ট অনেক ভাল। ইয়োতসুবার কিউট কিউট কাজকর্ম আর নানান উৎসবে নানান ধরণের পোশাকে দেখে স্ন্যাপশট নেওয়া ছাড়া আর উপায় নাই। সময় নিয়ে মাঙ্গাটি পড়ে ফেলবেন। আর স্কেচটা কেমন হয়েছে বলবেন। ε( ε ˙³˙)з.。oO

yotsubato

নিনগিও শিরিযুউ (মারমেড ফরেস্ট) — Anirban Mukherjee

নিনগিও শিরিযুউ (মারমেড ফরেস্ট)
আনিমে টিভি সিরিজ পরিচালক:- মাসাহারু ওকুয়াকি

mf 1

পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক সভ্যতার মিথোলজির দিক থেকে দুটো মিল আমাদের চোখে পরে ।হোক না সেই সভ্যতা মূল ইউরেশিয়ান ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন, তবুও মহাপ্লাবন আর মৎসকন্যা বা মারমেডের(মারপিপলস) মিথ সেখানকার মিথোলজিতে পাওয়া যাবে,হয়ত কিছু ব্যাতিক্রম থাকবে ।মহাপ্লাবনের মিথের কথাই ধরা যাক, প্রাচীন সুমেরদের “ইরিডু জেনেসিস”,প্রাচীন ব্যাবিলনে গিলগামেশের মহাকাব্যে বর্নিত মহাপ্লাবন,বাইবেলের নোয়ার আর্ক, গ্রীক পুরানে বর্নিত তিনটি মহাপ্লাবন, আইরিশদের লেবর গ্যাবালা স্যাসার এর বর্নিত মহাপ্লাবন,নর্সদের বের্গেল্মির দানব আর মহাপ্লাবনের কাহিনী, মধ্য আমেরিকায় মায়ানদের “পোপোল ভূ”তে বর্নিত মহাপ্লাবনের কাহিনী, দক্ষিন আমেরিকার উনু পাচাকুটি বা (ভিরাকোচার অভিশাপে)লেক টিটিকাকায় মহাপ্লাবন, হাওয়াই মিথোলজির নু’উ আর মহাপ্লাবনের কাহিনী, হোপিদের উপকথায় ,মাউরি উপকথায় -মহাপ্লাবনের মিথ আছে পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে ,ভারতীয় উপমহাদেশেই আছে তিন চারটে আলাদা মহাপ্লাবনের কাহিনী (তারমধ্যে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য হলো আন্দামানের আদিবাসীদের মিথটা ,যারা উপমহাদেশের মূল ভূপৃষ্ঠ থেকে হাজার হাজার বছর বিচ্ছিন্ন)।

সেই রকম মারমেড বা মৎসকন্যা জাতীয় প্রানীর মিথ,চিত্র বা দেওয়াল চিত্র কিংবা গুহাচিত্র গোটা পৃথিবীর সব সভ্যতার প্রান্তে প্রচলিত ,সেটা পেরুর কুসকোর প্রাচীন পাথুরে দেওয়ালে অঙ্কিত মারমেড রিলিফ হোক,বা প্রাচীন আসিরিয়ার উপকথা পুরানের দেবী আট্রাগেটিস,এমনকী আলেকজান্দারের বোন থেসালোনিকা , গ্রীক উপকথা মতে যে মরার আগে একটা মৎসকন্যায় রুপান্তর হয়।আরব্য রজনীর আবদুল্লাহর অদ্ভুত জলজগৎএ ভ্রমনের গল্প, বা ব্রিটেনের প্রাচীন উপকথায় ,যেখানে মৎসকন্যা অশুভ জিনিস,আবার সেই পশ্চিম ব্রিটেনের জেনোরের কোন এক গ্রামে,আটলান্টিকের তীরে,ম্যাথু নামে এক মানুষের সঙ্গে এক মৎসকন্যার প্রেম হয়, এই ভাবেই বিভিন্ন লোককথায় মৎসকন্যারা বেঁচে থাকে ।

জাপান সমুদ্র দিয়ে ঘেরা দেশ,সেখানে মৎসকন্যার উপকথা থাকবে না এমন নয়।”নিনগিও”(উচ্চারনটা আবার বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন দেখলাম,ফ্রেঞ্চ এ একরকম,ইংরেজিতে অন্যরকম ,আমার এটাই সঠিক মনে হলো , “人魚”) হচ্ছে সেখানকার মৎসকন্যাদের জাপানিজ নাম, “人魚”কে যদি গুগল ট্রান্সলেটর এর সাহায্যে বাংলায় অনুবাদ করা হয় তবে ফলাফল দিচ্ছে মৎসনারী।
জাপানের বিখ্যাত মৎসকন্যার গল্প “ইয়াও কিকুনি”,যার সঙ্গে আজকের আলোচ্য বিষয় মারমেড ফরেস্ট (বা সাগার) মিল প্রচন্ড ।

“ইয়াও বিকুনি” বা “আটশ বছর বয়সী বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী” গল্পে একজন ধীবর জাপান সাগরের তীরে ওয়াকাসা এলাকায় থাকতো, একদিন সে একটা অদ্ভুত ধরনের মাছ ধরলো তার জালে ,এমন মাছ সে কোনদিনই ধরেনি ,দেখেওনি।সে তার বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানালো তার বাড়িতে, মাছটা সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়ার জন্য ।

তার একজন বন্ধু একটু কৌতুহল হয়ে ধীবরের রান্নাঘরে ঢুকলো ,এবং দেখলো ঐ মাছটার মাথাটার জায়গায় পুরো একটা মানুষের মাথা, সে তো অবাক । তারাতারি তার অন্য বন্ধুদের বললো ঐ মাছটা যেন তারা না খায় ।

যথাসময়ে ধীবর লোকটা মাছটাকে রান্না করে নিয়ে এল এবং সাকের সঙ্গে আমন্ত্রিত অতিথি বন্ধুদের পরিবেশন করল।অতিথি বন্ধুরা বললো এই মাছটা তারা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খেতে চায়,সেইমত কাগজ দিয়ে মুড়ে দিতে ।ধীবর তাই করল এবং বন্ধুরা বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তাতে মাছগুলো ফেলে দিলো ।

কিন্তু একজন বন্ধু একটু বেশিই সাকে খেয়ে ফেলেছিলো,সে মদের ঘোরে মাছটাকে বাড়িতে নিয়ে এলো ।তার ছোট মেয়ে তার কাছ থেকে উপহার চেয়ে বসলে সে মদের ঘোরে কাগজে মোড়া মাছটা তাকে দিলো ।কিছুক্ষণ পরেই তার মদের ঘোর কেটে গেলে সে দেখল একি করলাম,তার মেয়েকে সঙ্গে সঙ্গে নিরস্ত করতে গেল যাতে সে মাছটা না খায়।কিন্তু কে কার কথা শোনে,নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আগ্রহ সবার বেড়ে যায় ,সে ছোট হোক বা বড় ।বাচ্চা মেয়েটা মহাআগ্রহে মাছটা খাওয়ার পর তার বাবা মেয়েটা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগে ।সময় যায়,মেয়েটার কিছুই হয় না,বরং আরও বেশি সময় যায় ,বাচ্চা মেয়েটা যুবতী হয়,বিয়ে হয় এবং আরও সময় যায়, মেয়েটার স্বামী বুড়ো হতে থাকে এবং একসময় মরেও যায় ,কিন্তু মেয়েটার বয়স বাড়ে না ,যুবতীই থেকে যায় এবং এভাবে ক্রমশ আটশ বছর বহুবার বিধবা হওয়ার পর সে সংসারের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে,নিজের অমরতাকে বোঝা মনে হতে লাগে এবং শেষে একটু শান্তির খোঁজে বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়ে যায়।

ইনুইয়াসা, রান্মা 1/2 এবং ওয়ান পাউন্ড গসপেল খ্যাত মাঙ্গাকার রুমিকো তাকাহাসি তার দেশেরই এই বিখ্যাত উপকথাকে তার তৃতীয় মাঙ্গার প্লট নির্মানের জন্য ব্যাবহার করলেন ,এবং মাঙ্গা শেষ হওয়ার নবছর পর আমরা পেলাম এর আনিমে এডাপশন ।মাসাহারু ওকুয়াকি যার পরিচালক ।

মারমেড ফরেস্টের মূল নায়ক ইয়োটা,ইয়াও বিকুনির সেই মেয়েটার মতোই অমরতার অভিশাপে সে জর্জরিত ।পাঁচশ বছর আগে সে ও তার কিছু বন্ধু ধীবর ছিলো ,তারাও মৎসকন্যা শিকার করেছিলো,একসঙ্গে খেয়েছিলো ।কিন্তু কয়েকজন বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে বিষাক্রান্ত হয়ে মরে যায়,কিছু বন্ধু প্রচন্ড কুৎসিত এক দানবে পরিনত হয়,যাদের নাম আমরা দেখতে পায় “লস্ট সোল” হিসেবে ।ইয়োটা ভয় পেয়ে যায় তারও কিছু এরকম হবে একদিন ।কিন্তু সেই “একদিন ” কোন দিনও আসে না ।সময় যায় ,সে এসব কিছু ভুলে যায় ,বিয়ে করে সংসার পাতে ।আরও সময় যায়,তার স্ত্রী অভিযোগ করে সে বৃদ্ধ হচ্ছে কিন্তু ইয়োটা সেই একই যুবক আছে ।ক্রমশ সে উপলব্ধি করে সে অমর হয়ে গেছে,কিন্তু সে স্বাভাবিক ভাবে মরতে চায় ,সংসার ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে আবার মারমেডের সন্ধানে ।সে শুনেছে আবার যদি সে মারমেডের মাংস খায় তবে সে মরনশীল মানুষে পরিনত হবে ।
প্রথম এপিসোডে দেখি ,ইয়াটো পাঁচশ বছর পর এই আধুনিক জগৎ এ শেষ অবধি মারমেডদের এক আস্তানার সন্ধান পায়।জাপানের কোনও সূদূর কোনে এক সমুদ্র ঘেরা পাহাড়ি গ্রামে ,যেখানে একই রকম দেখতে যুবতী আর একই রকম বৃদ্ধারা গ্রামের অধিবাসী ।তারাই আসলে মারমেড ।মারমেডরাও ক্রমশ বৃদ্ধ হয়,কিন্তু তারা আবার যৌবন ফিরে পেতে কোনও মানুষের মেয়েকে ছোটবেলায় ধরে আনে,তাকে পনেরো বছর ধরে পায়ে বেড়ি পরিয়ে মানুষ করে ,এবং একসময় তাকে মারমেডের মাংস খাওয়ায় ।ফল হয় দুটো ,সে হয়ত বেঁচে যায় এবং অমর হয়ে যায় ,নাহলে বিষের কারনে মরে যায় কিংবা লস্ট সোলে পরিনত হয় ।

যে বেঁচে যায় সে কিন্তু আর অমরতার স্বাদ অনুভব করতে পারে না ।সে ঐ বৃদ্ধ মারমেডদের খাবারে পরিনত হয়,এবং ঐ বৃদ্ধ মারমেডরা আবার যৌবন ফিরে পায় ।

মানা,এইরকমই একজন মেয়ে ,যাকে মারমেডরা বন্দি করে রেখেছিলো খাবে বলে,ইয়োটা তাকে বাঁচায়,যদিও ততক্ষন সে অমর ।

দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এপিসোডে,ইয়োটার অতীতকে আমরা দেখি,যেখানে সে টোবা দ্বীপের (নামেমাত্র) জলদস্যুদের নেতার মেয়ে রিনের সঙ্গে শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুদের বিরুদ্ধে যায়।দুপক্ষই মারমেড মাংসের জন্য একে অপরের উপর চরাও হয় ।রিনের বাবা , শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুদের প্রধানের স্ত্রী ইশাগো দ্বারা আহত হয়,রিন আর ইয়োটা মনে করে রিনের বাবা মারা যাবে ,সেজন্য মারমেড মাংসের খোঁজে সমুদ্রে পারি দেয় দুজনে ।তারা মারমেডের খোঁজ পেলেও ,শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যুরা তা কেড়ে নেয় ,ইয়োটাকে মেরে ফেলে এবং মারমেডের মাংস আর রিনকে শাকাগামি দ্বীপের জলদস্যু প্রধানের কাছে নিয়ে আসে ।সবাই মাংস খায় এবং একে একে লস্ট সোলে পরিনত হয় ।অমর ইয়োটা মরেও মরে না! রিনকে উদ্ধার করে,এবং সব শেষে জানতে পারে ইশাগোও একজন মারমেড ।

এর পরের এপিসোড থেকে আবার বর্তমানে ফিরে আসে সিরিজের গতিপথ,আমরা ক্রমে মাসাতো, মিশা,ওমানাকো প্রভৃতি চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হয় ।মাসাতো,একজন সাতশো বছর বয়সী “বাচ্চা ছেলে”।যে খুব ছোট বয়সে মারমেডের মাংস খেয়েছিলো,তারপর তার আর বয়স বাড়েনি ।আসল বাবা মাকে হারানোর পর সে গত সাতশো বছরে বহু বাবা মা পেয়েছে,আবার তাদের হারিয়েছে বিভিন্ন যুদ্ধে,দুভিক্ষে অথবা স্বাভাবিক ভাবে ।ক্রমশ সে একজন ছোটখাটো স্যাইকোপ্যাথে পরিনত হয়েছে ,তবুও শেষ অবধি মিশাকে তার মা বানিয়েছে ।মিশাও তার আসল ছেলে এবং স্বামীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হারিয়েছে ।এরপর তার সঙ্গে মাসাতোর আলাপ হয়,সে তাকে এক অদ্ভুত মাংস খেতে দেয় ।খাওয়ার অনেক দিন পর মিশা উপলব্ধি করে সে আর তার পালিত ছেলে মাসাতো কেউ বয়সে বাড়ছে না ।সে ভয় পেয়ে যায় ।

শেষের এপিসোডটা প্রচন্ড রক্তিম হিংস্র (ব্রুটাল)।মাসাতো শেষ এপিসোডে নিজের হিংস্রতাকে খুব শান্তভাবেই প্রদর্শন করেছে,যেটা যেকোনো সাইকোর খুব স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য । আবার এই শেষ এপিসোডেই এন্ডিং সংএর আগে শেষ তিন চার মিনিট প্রচন্ড ভালো লেগেছে ।
পরিচালক মাসাহারু ওকুয়াকি খুব ভালোভাবেই গোটা প্রজেক্টটা সামলেছেন ।সুন্দর অ্যানিমেশন,আমার বরাবরই গত দশকের প্রথমদিকের আনিমের অ্যানিমেশন ভালো লাগে ।কালারফুল ব্যাকগ্রাউন্ড, ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রয়োজনমত প্রচুর নীল এবং গাঢ় নীল আর কমলা রঙের দুর্দান্ত ব্যাবহার আর প্রচন্ড ভালো ডিটেলিং যা প্রাচীন বা আধুনিক দু ধরনের জাপানকেই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে ।এবং প্রচন্ড ভালো চরিত্র রুপায়ন ।ইয়োটা আর মানা প্রাতেক্য এপিসোডে প্রয়োজন মত আলাদা আলাদা জামা কাপড় পড়েছিল,একটা জামা পড়ে গোটা সিরিজ কাটায় নি (এটা নিশ্চয়ই দেখেছেন কীভাবে লুফি বা নোবিতা বছরের পর বছর প্রায় একই জামা পড়ে কাটিয়ে দেয়) ।এটা বাস্তব বুদ্ধিযুক্ত ডিটেলিং এর একটা ছোট উদাহরণ ।

মারমেড বা মৎসকন্যা,এই ধরনের মিথোলজিক্যাল জীবের সঙ্গে বাচ্চা বয়সে আমরা পরিচয় হয় হানস এন্ডারসনের লিটিল মারমেড বা তার অতিসফল ডিজনির অ্যানিমেশন এডাপটেশনের সঙ্গে ,বা কোন শিশুপাঠ্য বাংলা পাক্ষিক পত্রিকার পাতায় রুপকথার গল্পে(আমার ছোটবেলায় আনন্দমেলাতে বা ঐ টাইপের ছোটদের পত্রিকাতে পড়া কিছু নাম ভুলে যাওয়া রুপকথা এক্ষেত্রে মনে আসছে) বা অবশ্যই মিয়াজাকির পোরনিওতে ।কিন্তু পরে বড় হয়ে একই মিথোলজিক্যাল জিনিসকে এইরকম হিংস্র অথবা ভয়ঙ্কর সুন্দর ভাবে পরিচয় লাভ করা যায় আনিমের পর্দাতে ।
এই আনিমেতে কিছু মারমেড হোমারের ওডিসির সাইরেনদের কথা মনে পড়িয়ে দেয়।শান্ত হিংস্র ।

ওপেনিং সংটাও দুর্দান্ত (ও প্লিজ কাম ডাউন লাইক এন অ্যাঞ্জেল)।

mf 2

Anime of The Year 2015 as Baka-kun Says — Maruf Raihan

প্রাচীনকালে যখন এক দেশের রাজা অন্য রাজ্যের সাথে সন্ধিতে আবদ্ধ হতে চাইতেন তখন ভোজসভায় আহবান করাই ছিল পন্থা।অর্থাৎ ভোজনরস মন জয় করার সর্বোত্তম উপায়।বাস্তবিকই খাবারের স্বাদের কাছে পৃথিবী অসহায়।আর যখন এই খাবার বানানোর কৌশল শিল্পে রূপ নেয় তখন তার চেয়ে মোক্ষম অস্ত্র আর কি হতে পারে!!

তাই বছর ২০১৫ কে নিজের করে নিতেই বোধহয় J.C. Staff  বেছে নিল ইয়ুতো সুকুদা’র মাঙ্গা শোকুগেকি নো সোমা’কে।আর তাদের হাত ধরেই এল বছরের কমবেশি সবার দেখা,সবারই ভালো লাগা আর ক্ষুধা উদ্রেক এক এনিমে সিরিজ “Shokugeki no Souma:Food Wars”

Shokugeki

 

২৪ এপিসোডের এই এনিমেটির এয়ারিং শেষ হয় ’১৫ এর সেপ্টেম্ব্রে।বের হওয়ার পর পরই বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।যদিও এচ্চি হেটাররা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি,কিন্ত পরবর্তীতে তারাও স্বীকার করেছেন “এনিমেটা মন্দ নয়”

গল্প শুরু এক বরাবরই এক ছেলে যে সেই ছোট্টবেলা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত রান্নার মাধ্যমে তার ফ্যামিলি রেস্টুরেন্টের ক্রেতাদের খুশি করাকেই জীবনের মূলমন্ত্র বলে শেখে।আর বাবার কাছে রান্না শেখা,কিন্তু বাবার সাথে প্রতি সপ্তাহে রান্নার লড়াই করত সে,যদিও একবারও বাবাকে হারানো হয়নি তার।

এই ছেলের নাম ইউকিহিরা সোউমা।বাবা ইউকিহিরা জোউইচিরো।শহরতলীর একপ্রান্তে থাকা তাদের ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ ইউকিহিরা থেকে বাবার সাহচর্যে(চাপে বলাই ভাল) পাড়ি জমায় সোউমা ততসুকি কালিনারি একডেমিতে,যা কিনা জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত রন্ধন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এই একাডেমি কে ঘিরেই গল্প অন্য দিকে মোড় নেয়,একডেমিতে প্রবেশের পরপরই আলোড়ন সৃষ্টি করে সে।তবে বাধা-বিপত্তিও কম ছিল না এই পথে।আর এভেবেই শুরু হয় সোউমার ততসুকিতে টিকে থাকার যাত্রা……

রান্না নিয়ে এনিমে – খাবারের লোভনীয় উপস্থিতির মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়,প্রতিটি ডিশের প্রণালী ও এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগও দেখানো হয়েছে এতে।আর “Shokugeki” বা রান্নার প্রতিযোগিতাই পুরো এনিমের উল্লেখযোগ্য হাইপ হওয়ার মত অংশ।রান্নায় বিশ্বভ্রমণের দেখাও মেলে এতে, শুধু জাপানি নয় আমেরিকান হার্ডকোর বিফ কুকিং,ইটালিয়ান পরিছন্ন রেসিপি,ফ্রেঞ্চ কুইসিনের জাদুকরি ছোঁয়া এমনকি ভারতবর্ষের মসলা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপস্থাপনা এক কথায় অতুলনীয়………

চরিত্রের বাহারি সমাহারও আছে।নাকিরি এরিনা(যার নাম অনেক এনিমেখোরের ক্রাশলিস্টে উঠে আছে),তাদোকোরো মেগুমি(২০১৫ এর সেরা ওয়াইফু),নাকিরি এলিস,আরাতো হিসাকো(২য় ওয়াইফু)ইত্যাদি……

আর ইউকিহিওরা সোউমা ছাড়াও ইশিকি সাতোশি(দ্যা Cool Dude অফ ২০১৫),আলদিনি ব্রাদার্স,দোউজিমা গিন এর মত কিছু হেভিওয়েট চরিত্র দেখা গেছে।

আর আর্ট ও এনিমেশন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।এনিমেশন ও আর্টের ব্যাপারে পুরো সিরিজে ব্রিলিয়ান্সি ও Consistency  থাকায় সিরিজটিকে প্লাস পয়েন্ট দিতেই হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল খাবারগুলো এমন সুন্দর ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে দেখে সত্যিকারের খাবার মনে হয়েছে।তবে একটা জিনিসই Awkward  লেগেছে আর তা হল ক্যারেক্টারগুলোর শরীরে রেড স্পট।

আর এনিমেটি খুবই খুবই এন্টারটেইনিং,আর চরিত্রগুলোর Interaction  এত ভালোভাবে স্টোরিলাইনের সাথে খাপ খেয়েছে যে যতক্ষণ এনিমেটি দেখবেন বোর হবেন না অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়……

এচ্চি নিয়ে অনেকেই এনিমেটাকে কিছু মাইনাস পয়েন্ট দিয়েছেন আবার অনেকে বলছেন “এচ্চির জন্যই বেশি ভালো লেগেছে”।যাই হোক আমি মধ্যমপন্থীর মত দিয়েই বলি—“শুরুতে এচ্চি বেশি থাকলেও গল্প যতই এগিয়েছে এচ্চি গল্পের সাথে একাকার হয়ে গেছে”

আর ওপেনিং এর সময় জানিনা কয়জন খেয়াল করেছেন রাইস প্লেটের কারি’র ডিজাইন প্রায় প্রতি এপিসোড অন্তরই চেঞ্জ হয়ে যায়,আর এ কারণেই আমি আর আমার ছোট বোন একবারও ওপেনিং স্কিপ মারতাম না,এনিমের চেয়েও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত আজ প্লেটে কি ডিশ দেখায় সেটা।১ম ওপেনিং টা এক নজরে দেখে ফেলুন—

https://www.youtube.com/watch?v=rCvvjpzQkyY

ব্যাকগ্রাঊন্ড মিউজিক খুবই ভাল, বিশেষ করে শোকুগেকি চলার সময় ওস্তাদের শেষ মার(অর্থাৎ লড়াই এর উইনিং মুভ) এর সময় যে মিউজিক টা দেয় তা এখনো কানে বাজে।

MAL রেটিং – ৮.৬৭
ব্যক্তিগত রেটিং – ৯.২

যদি এখনো দেখে না থাকেন তবে এখনই দেখে ফেলুন বছরের অন্যতম সেরা এনিমে Shokugeki no Souma

 

Kingdom [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Kingdom
জনরাঃ অ্যাকশান, হিস্টোরিকাল, মিলিটারি, সেইনিন
স্টুডিওঃ Pierrot
এপিসোডঃ ৭৭ (৩৮+৩৯)
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৫), ২য় সিজন (৮.৫৯)
আমার রেটিংঃ ১ম সিজন (৯/১০), ২য় সিজন (১০/১০)

K 1

আমরা ছোট থাকতে কমবেশি সবাই অনেক রাজা-বাদশার গল্প পড়েছি। আর এসব গল্পতে বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহের যে কাহিনীগুলো ছিল সেগুলো কিন্তু বেশ মজারই ছিল। যাদের ইতিহাসের প্রতি লোভ বেশি, তাদের আবার এইসব টপিক আরও বেশি পছন্দের। হ্যাঁ! আমি এখন সেই ‘রাজা-বাদশার’ ও ‘যুদ্ধ-বিগ্রহের’ কাহিনীসম্পর্কিত এক এনিমের কথা বলতে যাচ্ছি, যার নাম ‘কিংডম’। তবে তা কোন কাল্পনিক গল্প না বরং ইতিহাসের সত্য কাহিনীর উপর নির্ভর করে এর কাহিনী রচিত।

অনেকদিন (৪৭৫-২২১ খ্রিষ্টপূর্ব) আগের কথা। তৎকালীন চীন সাম্রাজ্য সবসময় যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত। আর তখন সমাজে দাস প্রথা থেকে শুরু করে নানাধরেণের প্রথা প্রচলিত ছিল। সেই যুগে, চীনের কিন (Qin) সাম্রাজ্যের দাস প্রথার স্বীকার দুই বালক শিন (Li Xin) আর হিও (Piao) এক বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তাদের স্বপ্ন ছিল “Great Generals of the Heavens” তথা চীনের অন্যতম শক্তিশালী জেনারেল হওয়ার। কিন্তু তা হওয়া চারটে খানিক কথা না?! সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যাক্তিরাও এই পদে কিন্তু সহজে যেতে পারে না। এই দাসের কাজ খেটে বেড়ানো এতিম ছেলে দুইজন জানত তাদের জন্য এই স্বপ্ন অসম্ভব। তারপরেও তারা তাদের এই অসম্ভব স্বপ্নকে সম্ভব করতে দৃঢ়প্রত্যয়ই ছিল। যাই হোক একদিন হটাৎ করেই রাজার লোকজন হিওকে কোন এক অজ্ঞাত কাজের জন্য ধরে নিয়ে যায়। হিও চলে যাবার পর শিন আবার নিজের মতো করে গ্রামে কাজ করা শুরু করে। এভাবে কয়েক মাস পার হয়ে গেল। এরপর একদিন হিও মৃত্যুমুখে হুট করেই আবার গ্রামে এসে হাজির হল শিনের সাথে দেখা করতে। সে বেশি কথা না বাড়িয়ে শিনকে এক নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। এরপর তার অনুরোধে শিন সেখানে গিয়ে দেখতে পেল ঠিক হিওর মতো দেখতে এক বালককে যার নাম জেং (Ying Zheng), যে কিনা, কিন (Qin) সাম্রাজ্যের রাজপুত্র। কিন্তু এখন সে নিজের ক্ষমতা হারিয়ে জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যে তার ভাইয়ের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরপর ঘটনাক্রমে শিন, জেং এর সাথে যোগ দেয়। আর দুইজনে দুইধরণের শপথ গ্রহণ করে। জেং শপথ গ্রহণ করে “Unifying China” গড়ে তুলতে তথা সকল সাম্রাজ্য মিলে একটি মাত্র যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তুলতে; আর অপরদিকে শিন শপথ গ্রহণ করে জেংকে তার স্বপ্নবাস্তবায়নে সাহায্য করে শুধুমাত্র “Great Generals of the Heavens” না বরং “Great General of the World” হতে। এভাবে দুই বালকের শপথ গ্রহণ মাধ্যমেই শুরু হয় ‘কিংডম’ এনিমের গল্প।

K 2

‘কিংডম’ এনিমে নিয়ে আমার নিজের অনুভূতি প্রকাশের আগে কয়েকটা মন্দ কথা বলে নেই। কিংডম এনিমের যে জিনিসটি আমার কাছে প্রথমত বিরক্তিকর লেগেছে তা হল “CGI animation” বা থ্রিডি ইফেক্টের ব্যাবহার। শুধু আমি না, আমার মতো অনেকেই হয়ত এই একই কারণে প্রথম এপিসোড শুরু করার সাথে সাথেই ড্রপ মারেবে। একে তো থ্রিডি ইফেক্ট তার উপর আবার হিস্টোরিকাল-সেইনিন এনিমে। তাই এই সিরিজ দেখার আগ্রহ বেশিরভাগ মানুষই হারিয়ে ফেলে। আর এখানেই আমাদের বোকামি। আমরা সিরিজটা ভালভাবে যাচাই না করেই, আর দ্বিতীয়বার না দেখার সিদ্ধান্তটা নিয়ে বসি। ইংরেজিতে আমরা একটা প্রবাদ প্রায়ই শুনে থাকি – “Don’t judge a book by its cover.”। ‘কিংডম’ এনিমের ক্ষেত্রেও কিন্তু সেই একই প্রবাদ খাটে। প্রথম প্রথম থ্রিডি ইফেক্ট কিছুটা বিরক্তিকর লাগবে কিন্তু একবার কাহিনীর মধ্যে আপনার মন ঢুকে পড়লে আর সহজে কিংডম দেখা ছাড়তে পারবেন না। ১১-১২ এপিসোড পার হবার পর দেখেবেন এই থ্রিডি ইফেক্টের মাত্রা আস্তে আস্তে কমে গেছে। আর ২য় সিজনে বলতে গেলে কোনই থ্রিডি ইফেক্ট নেই। তাই শুরুতে থ্রিডি ইফেক্ট দেখে বিরক্ত না হয়ে নিশ্চিন্তে ‘কিংডম’ দেখা শুরু দিন।

এই একটা কারণ ছাড়া কিংডম এনিমের আর কোন ত্রুটি দেখি নি। এখন যদি প্রশ্ন করে বসেন যে, কিংডমে ভাল লাগার মতো কি আছে? আমি বলব যে ভাল লাগার মতো নাই কি। বরং আরও বলতে পারি কিংডমের মতো আরও দু-চারটা এনিমে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল প্রথম এপিসোড থেকেই আপনার আকর্ষণ ধরে রাখবে। কিভাবে যে একটার পর একটা এপিসোড দেখে যাবেন টেরই পাবেন না। আর এখানেই কিংডমের সার্থকতা। কাহিনী থেকে শুরু করে প্রতিটা চরিত্রই কিন্তু মারাত্মক। আর শিনের স্বপ্নযাত্রা দেখতে দেখতে আপনি নিজেও অন্যান্য ক্যারেক্টারের ভক্ত হয়ে যাবেন। বিশেষ করে শিনের বীরত্ব আর জেংএর আত্মপ্রত্যয়ই মন যে কাউকেই অবাক করে দিবে।

K 3

কিংডম এনিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হল এর যুদ্ধক্ষেত্রগুলো। প্রতিটা যুদ্ধ এত সুন্দরভাবে ডিটেইলস করে দেখানো হয়েছে তা আর বলার মতো না। আর যুদ্ধ-স্ট্রাটেজিগুলাও অসাধরন। যুদ্ধে স্ট্রাটেজিগুলো এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে যেন দেখার সময় আপনি একটার পর একটা টুইস্ট পান। আর যুদ্ধেক্ষেত্রের ইন্টেনসিটিও অনেক তীব্র। বিশেষ করে যখন একপক্ষের জেনারেলের সাথে অপরপক্ষের জেনারেলের ফাইট শুরু হয়, তখন আপনার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। কিংডমে আরও রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা, আপন মানুষ হারানোর বেদনা, প্রতিশোধ, বীরত্ব, ধ্বংসলীলাসহ এইরকম অনেক থিম। কখনো হয়ত শিনের বীরত্ব দেখে আপনার শরীরের রক্ত গরম হয়ে যাবে, আবার কিছু কিছু বীর-আত্মদান দেখে অনায়সে আপনার চোখ থেকে অশ্রু ঝরে পড়বে। এভাবে মানুষের মনের আবেগ টেনে আনার মতোই এনিমে হল কিংডম।

এখন এনিমের সাউন্ডট্রাক নিয়ে কিছু কথা বলি। এই কিছুক্ষণ আগে মনের আবেগ নিয়ে যে কথা বলেছিলাম তার পিছনে কিন্তু সাউন্ডট্রাকগুলোর দারুন ভূমিকা রয়েছে। কেননা, কিংডমে সঠিক দৃশ্য অনুযায়ী সঠিক সাউন্ডট্রাক ব্যাবহার করা হয়েছে। ও.এস.টি গুলো মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের “Shin Main Theme” (https://goo.gl/ndBWBw)। এই ও.এস.টি শুনে মনে অন্যরকম প্রশান্তি আসে। আর কিংডমের ওপেনিং আর এন্ডিং সংএর পিছনে রয়েছে Nothing’s Carved In Stone, The Sketchbook ও D☆DATE এর মতো ব্যান্ডগুলো। প্রতিটা গানই দারুন কিন্তু আলাদা করে ওপেনিং সং এর মধ্যে “Pride” by Nothing’s Carved In Stone (https://goo.gl/hIaAA2) আর এন্ডিং সং এর মধ্যে “21” by The Sketchbook (https://goo.gl/UQK1dS) বেশি ভাল লেগেছে। তারপরেও “Voice of Soul” by Takumi Ishida (https://goo.gl/SOqo24) এবং “Destiny Sky” by Yuki Wakai (https://goo.gl/DlVUL1) গান দুইটাও কিন্তু মারাত্মক সুন্দর। সবমিলিয়ে কিংডমে খুবই চমৎকার চমৎকার গান ব্যাবহার করা হেয়েছে।

K 4

কিংডমের ভয়েস অ্যাক্টিং রোলগুলাও কিন্তু চমৎকার। যেমন, এনিমের মূল চরিত্রগুলো – Li Xin, Ying Zheng, Lei Qiang ও He Liao Diao এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিলেন যথাক্রমে Masakazu Morita, Jun Fukuyama, Yoko Hikasa ও Rie Kugimiya। এছাড়া বাকি ক্যারেক্টারগুলোতেও বেশ ভাল ভাল ভয়েস অ্যাক্টিং রোল আছে।

কিংডম এনিমে দেখে কিন্তু প্রাচীন চীনের অনেক ঐতিহাসিক ধারণাও পাওয়া যায়। এই এনিমের ক্যারেক্টারগুলো সব হিস্টরিকাল ক্যারেক্টার। সম্রাট Ying Zheng এর চীন রিইউনাইটেড করার সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কিংডম মাঙ্গা/এনিমে তৈরি করা হয়েছে। (আরও জানতে – https://goo.gl/DmnZjr)

K 5

যাই হোক, ‘কিংডম’ নিয়ে অনেক কথাই লিখালাম। এখন পর্যন্ত আমার দেখা সেরা হিস্টোরিকাল এনিমে হল কিংডম। আমার মতে এটি ‘মাস্টারপিস’ এনিমের কাতারে পড়ে। আপনারা যারা এর আগে কখনো হিস্টরিকাল এনিমে দেখেন নি বা দেখতে চান না তারা একবার হলেও এটা দেখার চেষ্টা করুন। একসময় আপনার ঠিকই ভাল লাগবে। আশা করি রিভিউটা পড়ে ভাল লেগেছে, আর অবশ্যই কিংডম দেখবেন। তাহলেই আমার রিভিউটি লেখা সার্থক হবে।

K 6

 

JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders [এনিমে রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
JoJo’s Bizarre Adventure: Stardust Crusaders
জনরাঃ অ্যাকশান, অ্যাডভেনচার, শৌনেন
এপিসোডঃ ৪৮ (২৪+২৪)
স্টুডিওঃ David Production
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ১ম সিজন (৮.২৩), ২য় সিজন (৮.৬২)
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯/১০

JoJo

JoJo’s Bizarre Adventure সিরিজের তৃতীয় পার্ট হল Stardust Crusaders। প্রথম দুই পার্টের সূত্র ধরেই Stardust Crusaders এর কাহিনী শুরু। তাই এনিমের প্রথম সিরিজের কাহিনী টেনে না এনে সরাসরি Stardust Crusaders কাহিনী ব্যাখ্যা করছি।

যারা জোজোর প্রথম দুই পার্ট দেখেছেন তাদের নিশ্চয়ই ডিয়োর কথা মনে আছে। হ্যাঁ, সেই ডিয়োই ঠিক ১০০ বছর পর জোনাথান জোস্টারের শরীর নিয়ে জেগে উঠেছে। আর এই ডিয়োর বিরদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোসেফ জোস্টার তার একমাত্র পৌত্র কুজো জৌতারোর সাহায্য নিতে জাপানে আগমন করে। ততদিনে জোজো পরিবারের বংশধররা ‘স্ট্যান্ড’ ইউজারে পরিণত হয়েছে। আর তার সূত্র ধরেই জৌতারোর মাও ‘স্ট্যান্ড’ ইউজার হয়ার হাত থেকে রক্ষা পাইনি। ‘স্ট্যান্ড’ এর আবির্ভাব হয়ার সাথে সাথেই জৌতারোর মা ডিয়োর অভিশাপের কারণে এমন এক অসুখের স্বীকার হয় যা তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়। এখন উপায়?! একটাই উপায়; আর তা হল ডিয়োর বিরুদ্ধে লড়ে তাকে হত্যা করা। আর সেই উদ্দেশেই জৌতারো কুজো তার দাদা জোসেফ জোস্টারের সাথে তার সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হয় মিশরের উদ্দেশ্যে। আর এখান থেকেই শুরু হয় Stardust Crusaders এর যাত্রা।

এখন প্রশ্ন হল ‘স্ট্যান্ড’ কি? স্ট্যান্ড হল একধরণের ইউনিক স্পিরিট যা যে কোন মানুষ নিজেকে রক্ষা করতে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তে কিংবা অন্যকোন কাজে ব্যাবহার করতে পারে। আর যারা স্ট্যান্ড ব্যাবহার করতে পারে তারা ‘স্ট্যান্ড ইউজার’ হিসেবে পরিচিত। এই স্ট্যান্ডের অরিজিন নিয়ে Stardust Crusaders-এ আর কিছু ব্যাখ্যা করা হয়নি; পরবর্তী পার্টের কাহিনী সম্পর্কে কিছু না জেনে তাই আর কিছু বলতে পারছি না।

জোজোর আগের পার্ট দুইটা যারা দেখেছেন তারা জানেনই জোজো সিরিজ কেমন। জোজোর ক্যারেক্টারগুলো খুব সিম্পলিস্টিক এবং কাহিনীও অনেকটা সরল প্রকৃতির। কিন্তু তারপরেও জোজো এত ভাল লাগার কারণ কি?! ভাল লাগার অনেক কারণই আছে। প্রথমত, জোজোর ক্যারেক্টারগুলো সিম্পলিস্টিক হলেও বেশ ইন্টারেস্টিং। দেখতে দেখতে কখন যে আপনার ক্যারেক্টারগুলো আপনার ভাল লেগে যাবে টেরই পাবেন না। এছাড়া তাদের যাত্রাপথে বাধা অতিক্রম করার জন্য লড়াই করতে হয় বিভিন্ন স্ট্যান্ড উইজারদের সাথে। আর প্রতিটি লড়াই অনেক উপভোগ্য। এছাড়া কমেডিকাল মোমেন্টেরও অভাব নেই। জোজো দেখার সময় যে কতবার হাসছি তারও ঠিক নেই। আর জোজোর যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে আর তা হল ‘ইন্টেনস মোমেন্ট’ ক্রিয়েট করা। কিভাবে তারা এক একটি বাধা অতক্রম করবে তা কিছুতেই বলা যাবে না। সময় সময় আপনার মনে হবে “এখন উপায়?!”, “কিভাবে সম্ভব?!” এরকম ধরণের যতসব প্রশ্ন। কিন্তু আপনার সকল প্রশ্নের অবসান ঘটিয়ে আপনাকে এমন এক টুইস্ট উপস্থাপন করবে তাতে আপনি না চমকে বসে থাকতে পারবেন না। এমনকি আপনিও মাঝে মাঝে জোসেফ জোস্টারের মতো “Ohhh my god!!” বলে বসতে পারেন। এছাড়া জোজোতে রয়েছে রক্তগরম করা অনেক ‘হিরোয়িক মোমেন্ট’। সাথে আছে চমৎকার চমৎকার কিছু সাউন্ডট্র্যাক। আর মেইন ভিলেন হিসেবে ডিয়ো কিন্তু খুবই ইন্টারেস্টিং একজন চরিত্র। আবার মেইন প্রোটাগনিস্ট হিসেবে জৌতারোর কোনভাবেই ডিয়োর থেকে পিছিয়ে নেই। বরং অন্যান্য জোজোদের তুলনায় জৌতারো বেশি ভায়োলেন্ট। সবমিলিয়ে বলা যায়, যেকোনো অ্যাকশানপ্রেমিক এনিমেভক্তদের জোজো অবশ্যই দেখা উচিত।

জোজোর আর্টস্টাইল অন্যান্য এনিমের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রম। লোকজন সাধারণত জোজোর আর্টস্টাইলকে ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ বলে। মূলত জোজোর মাঙ্গাকা Hirohiko Araki-র আর্টস্টাইল এনিমেতে ফলো করা করা হয়েছে। অনেকেই হয়ত এই ‘ম্যানলি আর্টস্টাইল’ এর জন্য জোজো দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। কিন্তু কয়েক এপিসোড দেখার ট্রাই করলে আপনার কাছে আর্টটা একসময় মানানসই হয়ে যাবে। তাই ভুলেও আর্টের কারণ দেখিয়ে জোজো দেখা ড্রপ মারবেন না।

এখন পর্যন্ত জোজোতে আমার দেখা সেরা পার্ট হল Stardust Crusaders। বিশেষ করে ২য় সিজনের থ্রিলিং মোমেন্ট আর এক একটা ব্যাটেল ছিল সেই জোশ। আর এন্ডিংও অসাধরণ। তাই দেরি না করে হাতে সময় থাকলে জোজো Stardust Crusaders দেখতে বসে জান। তবে অবশ্যই আগে প্রথম পার্টগুলো দেখে নিবেন। আশা করি রিভিউটি পড়ে ভাল লেগেছে এবং আপনিও জোজো দেখার সময় বেশ উপভোগ করবেন।

নাগি নো আসুকারা [রিভিউ] — Fatiha Subah

নাগি নো আসুকারা
জানরাঃ ফ্যান্টাসি, রোমান্স, ড্রামা
পর্ব সংখ্যাঃ ২৬
সোর্সঃ ওরিজিনাল
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৩৮
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫/১০

nagiasu 1

অনেক দিন আগে মুহম্মদ জাফর ইকবালের “জলমানব” নামের একটা সায়েন্স ফিকশন পড়েছিলাম। সেখানে মানুষ মূলত পানিতে বাস করত। এই থিমটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। পানিতে থাকতে পারলে কি মজাটাই না হত! তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিলাম এই ভেবে যে, ‘ইশ… এটার যদি একটা মুভি বা এরকম কিছু থাকতো তাহলে সরাসরি পানিতে ঘুরে বেড়ানো দেখতে পেতাম’। নাগি নো আসুকারা এই থিমের উপর ভিত্তি করে তৈরি শুনে আনন্দ লাগছিল। আমার ইচ্ছা পূরণ হইছে!! ইয়েএএএএ!!! আমার সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম আনিমেতে দেখতে পাব তার উপর সাথে আবার আমার প্রিয় রোমান্স জানরা। আমাকে আর পায় কে! কিন্তু শুরুতে আশাও করিনি আনিমেটা এতটা ভালো হবে। রোমান্স জানরার আনিমের নাম চাইলে সবাই বহু সাধারণ আনিমের নাম বলে কিন্তু এটার কথা কাউকে বলতে দেখি না। এরপরের বার দেখার জন্য রোমান্স আনিমে খুঁজতে চাইলে সোজা আগে এটা দেখবেন!

nagiasu 2

গল্পঃ অনেক আগে মানুষ সমুদ্রে বসবাস করত। সাগরের দেবতার দেওয়া “এনা” নামের মাছের আঁশের মত ত্বকের উপর এক ধরণের স্তর মানুষকে পানিতে বেঁচে থাকার ক্ষমতা দান করে। কিন্তু অনেক মানুষ সমুদ্র ছেড়ে মাটিতে উঠে আসে বাইরের পৃথিবীকে দেখার জন্য। অনেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করে। ফলাফলস্বরূপ তারা এনা হারিয়ে ফেলে। এনাহীন প্রজন্ম মাটির উপরেই জীবনযাপন করে এবং নিজেদের পরিবার নিয়ে বংশবৃদ্ধি করে। মানবজাতি দু ভাগে ভাগ হয়ে যায়। জলে “শিওশিশিও” গ্রাম আর স্থলে “ওশিওহশি”।
আনিমেটি শুরু হয় ৪ মিডেল স্কুল পড়ুয়া ছোটবেলার বন্ধু হিকারি সাকিশিমা, মানাকা মুকাইদো, চিসাকি হিরাদাইরা আর কানামে ইসাকি’কে নিয়ে। তাদের শিওশিশিও’র মিডেল স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয় ওশিওহশি’র স্কুলে আসতে। পথিমধ্যে দেখা হয় সুমুগু কিহারা নামের এক ছেলের সঙ্গে যে কিনা একজন জেলে এবং তাদের নতুন সহপাঠী।

nagiasu 3

এদিকে সাগর পাড়ের মানুষদের সাগর দেবতার প্রতি একটি দায়িত্ব ওফুনেহিকি নামের এক ধরণের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা যেখানে একজন কুমারীকে এবং অন্যান্য বলি দেবতার প্রতি উৎসর্গ করা হয়। কিন্তু দুই মানবজাতির মাঝে অন্তর্দ্বন্দ যেন বাড়তে বাড়তে তুঙ্গে পৌঁছেছে। বহুকাল যাবত ওশিওহশি’র লোকেরা ওফুনেহিকির আয়োজন করে না। সাগর দেবতা তাই তাদের উপর ব্যাপক অসন্তুষ্ট। সতর্কতা জারি করা হয় যে ওশিওহশি নোনা তুষারে ঢাকা পরে যাবে যদি না খুব শীঘ্রই ওফুনেহিকি পালন করা হয়। এর উপর অসম্ভব রকম ঠাণ্ডা পড়তে শুরু করবে। সাগর ধীরে ধীরে জমে যাবে। কিন্তু এত কিছুর পরও কলহ-বিবাদের কারণে ওফুনেহিকি’র আয়োজন আবারো ভেস্তে যায়। হিকারি ঠিক করে যেভাবেই হোক এটার সমাধান করতে হবে। মানাকা, চিসাকি আর কানামেকে নিয়ে সে কাজে লেগে পড়ে। সাথে যোগ দেয় সুমুগু। তাদের উৎসাহ দেখে তাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে আরো নতুন সহপাঠীরা।

nagiasu 4

এই চার বন্ধু নতুন করে আবিষ্কার করে নতুন পৃথিবীটাকে, মুখোমুখি হয় দুই মানবজাতির দ্বন্দ্বের, খুঁজে পায় একই সাথে মিষ্ট আবার তিক্ত অনুভূতি, জানতে পারে সাগর দেবতার ইতিহাস আর বেড়িয়ে পরে নতুন এক অভিজ্ঞতায়!

nagiasu 5

আর্ট এবং অ্যানিমেশনঃ নাগি-আসু’র ব্যাপারে সবার আগে বোধ হয় এটা বলা অবশ্যকর্তব্য! এর অ্যানিমেশন এতটা অসাধারণ! যদিও পি.এ. ওয়ার্কসের অ্যানিমেশন এমনিতেও সেরা মানের। সেরা অ্যানিমেশনের আনিমের তালিকা করলে এটা নির্ঘাত অনেক উপরে থাকবে। তবে সুন্দর অ্যানিমেশন আসলে বহু আনিমেতেই আমরা অহরহ দেখি এখন। কিন্তু নাগি-আসু একটু ব্যতিক্রম এই দিক থেকে যে পানি নিয়ে কাজকারবার অন্য আনিমেতে খুব একটা নেই নদী, লেক, সুইমিং পুল আর হটস্প্রিং দেখানো ছাড়া। কিন্তু এখানে পানির প্রভাব অনেক বেশি। আনিমেটা দেখতে বসলে মনে হবে আপনি নিজেই যেন সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিংবা আপনার আশেপাশে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে। পরিষ্কার টলটলে পানির নিচে সূর্য বা চাঁদের আলোয় ঝিকমিক করা শিওশিশিও গ্রামটা দেখতে আসলেই খুব ভালো লাগে। আর ওশিওহশি শহরটাও কম যায় না। তুষার ঢাকা শহরটার দিকেও তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করবে। মোটকথা, এরকম আনিমে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়টা নেই তাই আপনি হাই কোয়ালিটি দেখেন আর না দেখেন এটা অবশ্যই পারলে ৭২০ বা ১০৮০ পিক্সেল বা এইচডি কোয়ালিটিতে দেখবেন।
এবার আসি ক্যারেক্টার ডিজাইনে। পুরা “মোয়ে মোয়ে” চোখ জলমানবদের! অনেকেরই এটা অপছন্দ। তাই মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে অনেকেই। কিন্তু তাদের আকাশী নীল রঙের চোখজোড়া আমার কাছে ভালোই লেগেছে। চরিত্রগুলোও এক কথায় “সুন্দর”। বিশেষ করে কানামে আর চিসাকি!

nagiasu 6

মিউজিক এবং সাউন্ডঃ প্রথমে ভয়েস অ্যাক্টিংয়ের কথা বলি। সেইয়ূ নির্বাচন যথাযথ হয়েছে। প্রতিটা চরিত্রের সাথে কণ্ঠগুলো মানিয়ে গেছে বেশ। কণ্ঠ শুনেই সবার ব্যক্তিত্ব ও স্বভাবচরিত্র বুঝা যায়। ওএসটি-এর ক্ষেত্রেও বেশ ভালো কাজ করেছে। শুরুতে জিন আকেতাগাওয়া ছিল সাউন্ডট্র্যাকের দায়িত্বে। পরে গুণী কম্পোজার ‘দেওয়া ইয়োশিয়াকি’কে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাই কি আশা করতে পারেন সেটা বুঝতেই পারছেন। আনিমে দেখার সময় কাহিনীতে বুঁদ হয়ে থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অতটা খেয়াল নাও করতে পারেন। তাই ইয়ুটিউবে শুনে নিতে পারেন ওএসটি। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলোও ভালো আছে। নাগি ইয়ানাগি’র “অ্যাকুয়া টেরারিয়াম” আর রে’র “এব এন্ড ফ্লো” পছন্দ হবে বেশী। সাউন্ড নিয়ে আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাগরতলে যখন সাঁতার কাটা হয় তখনকার পানি প্রবাহের শব্দ আর বিভিন্ন জলজীবের শব্দগুলোও কেমন জানি মোহিত করে রাখে।

nagiasu 7

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টঃ নাগি-আসু’র প্রাণ হচ্ছে এর চরিত্রগুলো। প্রায় প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে তার নিজস্ব ভূমিকা। এদের ছাড়া আনিমেটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত। প্রধান চরিত্র শুধু সেই ৪-৫ জন ছেলে-মেয়ে না। আরও কিছু চরিত্র পরে এসে যোগ হয় যাদের অনেকেই প্রধান চরিত্র বা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যক্তিগতভাবে আমি অত খুঁতখুঁতে না তাই কাউকে নিয়েই আমার তেমন আপত্তি নাই। তবে হিকারি অনেক বদমেজাজি প্রধান চরিত্র হিসেবে। কিন্তু ধীরে ধীরে ওর মাঝে অনেক পরিবর্তন আসে তাই সেটা মাফ করা যায়। কিন্তু সমস্যা হল মানাকা আর সুমুগুকে নিয়ে। বেশির ভাগ মানুষ এই দুজনকে অপছন্দ করে। কেননা কাহিনীর ঝামেলা শুরুই এই দুইটার হাত ধরে এবং একেবারে শেষ পর্যন্ত এরাই গল্পটা নিয়ন্ত্রণ করে যায়। অথচ মানাকা পুরো একটা ছিঁচকাঁদুনে, আনমনা, আর বেহুঁশ মেয়ে যেটা খুব বেশী পরিচিত আনিমের প্রধান মেয়ে চরিত্র হিসেবে। আর সুমুগু চার বাল্যবন্ধুর মাঝে ঝড়ের মত এসে বাগড়া বাধায়। সুমুগু বাগড়া না বাধালে শেষে অনেক ভক্তের একটা ইচ্ছা পূরণ হত কিন্তু সেটা স্পয়েল না করার স্বার্থে আর বলছি না। মাঝে মাঝেই এই দুজনকে ধরে থাপড়ানোর প্রবল ইচ্ছা জেগে উঠলেও কিছু করার নেই! আবার সুমুগুকেই লাগতে পারে সবচেয়ে পরিপক্ক চরিত্র! চিসাকিকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আমার কাছে চিসাকিকে অনেক ভালো লেগেছে কারণ সে আশেপাশের সবার বিষয়ে অবগত, চিন্তাভাবনা করে সিধান্ত নেয় আর মানসিকভাবে পরিপক্ব হয়। মিউনা হল সেই “ভালো মেয়ে” যে কিনা প্রধান চরিত্রের একজন হয়ে কত কিছু করার পরেও পার্শ্ব চরিত্রের মত থেকে যায়। মিউনাও পছন্দনীয়। তবে আমার মতে সেরা চরিত্র দুটি হল কানামে আর সায়ু। দুঃখের বিষয় হল সবচেয়ে কম স্ক্রিনটাইম আর গুরুত্ব পেয়েছে এরাই। সবসময় কাহিনীর পেছনে ফেলে রাখা এই দুজনেই চুপচাপ সব পর্যবেক্ষণ করে এবং এদের অনুভূতিগুলো মনকে নাড়া দেয়ার মত। তবে যত যাইহোক, বিভিন্ন রকমের চরিত্র আছে যারা ঠিক গতানুগতিক হতে গিয়েও অগতানুগতিক। কোন কারণে আমার অগাধ বিশ্বাস বাস্তবে আসলেই মানাকা, চিসাকি, মিউনা আর সায়ু’র মত হয় মেয়েরা (মোর এই উক্তি মানিয়া লইয়া চলিলে অতঃপর আপনার জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছুলে মুই দায়ি নহে)। আর হ্যাঁ, এত গুরুগম্ভীর নাটকীয়তার মাঝে একটু হাসাতে ও মজা দিতে পিচ্চি আকিরা তো আছেই!

nagiasu 8

এঞ্জয়মেন্টঃ এবার আসি আসল রিভিউয়ে। শুরুতেই বলে দিয়েছি এই আনিমেটা অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো। কিন্তু কেন? নাগি-আসু দেখলে শুরুতে এটিই মাথায় ঘুরবে। হয়ত পানিতে থাকাটা নতুনত্ব কিন্তু ঘুরেফিরে তো আবার সেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই। তার উপর এরা আবার মাত্র মিডেল স্কুলে পরে। বাচ্চা পোলাপান! আরও বেশী বাচ্চামি করে বেড়াবে আর সব জগাখিচুড়ি পাকাবে! কথাটা কিছুটা সত্য। কিন্তু নাহ, এর থেকে বড় ভুল ধারণা নাগি-আসুকে নিয়ে আর হতেই পারে না। ডোন্ট জাজ অ্যান আনিমে বাই ইট’স পোস্টার! আপনি যদি ভেবে থাকেন এটা আর ১০টা রম-কম আনিমের মত বা এটা তার থেকে বাজে হবে তাহলে বিশাল ভুল করছেন। আপনি যদি রোমান্স আনিমের উপর পিএইচডি-ও করেন তাও লাভ নাই! নাগি-আসু এক কথায় “ওয়ান অফ এ কাইন্ড”। আমি নিজে বস্তায় বস্তায় রোমান্স আনিমে দেখেছি কিন্তু কোনটাই এটার ধারের কাছে নাই। অন্য কোন আনিমের সাথেও এর মিল নাই। আমি প্রতিবার হারেম থেকে রিভার্স হারেম কিংবা সাধারণ রোমান্স এমনকি নন-রোমান্স সবখানেই কে কাকে পছন্দ করে, জুটি কারা হবে সব কিছু হওয়ার আগেই অনুমান করে বসে থাকি আর লাফালাফি করি যখন সেগুলো আসলেই সত্যি হতে দেখি। কিন্তু এই এক নাগি-আসু’র ক্ষেত্রে কিছুই বুঝা সম্ভব না। কারা কারা জুটি হবে বা অন্য যেকোন কিছুই হোক সেটা, আপনাকে অবাক করার মত বহু কিছুই আছে। এটার গল্পটার আসলে দুইটা আর্ক বা অংশ আছে। প্রথম অংশও ভালো কিন্তু দ্বিতীয় অংশটায় পুরো কাহিনীর মোড় ঘুরে যায় এবং এখান থেকেই আনিমেটা জমজমাট হতে শুরু করে। তাই শুরুটুকু খুব সাধারণ লাগলে বলব যে একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। এখানে চমকের পর চমক অপেক্ষা করছে। এটা দেখতে মজাও আছে এজন্য। আপনি কত ভাল আন্দাজ করতে পারেন তারও একটা পরীক্ষা হয়ে যেতে পারে।

nagiasu 9

সমস্যা হল এই একই কারণে নাগি-আসু ভালো নাও লাগতে পারে। আপনি যেই জুটি সমর্থন করেছেন তা না দিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটা জুটি দিয়ে যখন আপনাকে বিস্মিত করে দিবে তখন সেটা মোটেও ভালো লাগবে না! খুবই স্বাভাবিক। আর নাগি-আসুতে এমনটা হওয়াই খুব স্বাভাবিক! এখানে যে প্যাঁচ আছে তার কোন তুলনা হয়না! আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, ১০০% অতুলনীয়! অন্য আনিমেতে ভালোবাসার চতুর্ভুজ বা পঞ্চভুজ পেতে পারেন খুব বেশী হলে। এখানে যে পুরা সপ্তভুজ এনে ছেড়েছে! তাছাড়া, সাধারণত কারা কারা এক সাথে হবে এটা আগে থেকেই বলে দেওয়া যায়। কিন্তু এখানে বাকি সময়ের মত শেষে কি হবে এটা মোটেও আগে থেকে বুঝে ফেলা সম্ভব না। এজন্যই প্রিয় জুটি দেখার সৌভাগ্য না হওয়ার সম্ভবনাও অনেক বেশি। শেষে গিয়ে তাই অনেকেই আশাহত হয়। তাই আনিমেটা বাজেও লাগতে পারে। আমার প্রিয় জুটিগুলোও একসাথে আমি দেখতে পারিনি। খারাপ লেগেছিল খুব। কিন্তু এরকম লাগলে আমি বলব যে পুরো ব্যাপারটা একবার ভেবে দেখবেন যে, যদি শেষটা একটুও আলাদা হত তাহলে কাহিনী কতটা অন্যরকম হয়ে যেত। যেহেতু এখানে প্যাঁচ বেশি তাই একটা জুটি পরিবর্তন করলে বা একটা চরিত্রেরও যদি অনুভূতি বা সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয় তো পুরা আনিমেটাই অন্যরকম হয়ে যাবে। সেই পরিবর্তন খুব আজগুবিও হত। একটু চিন্তা করলেই দেখবেন বাকি সম্ভাব্য জুটিগুলো আসলে অনেক উদ্ভট লাগত। তাই সমাপ্তিটা আসলে উপযুক্তই হয়েছে।

nagiasu 10

শুধু রোমান্স না, নাগি-আসু’র অনেক বড় একটা অংশ জুড়ে আছে ফ্যান্টাসি। ‘সমুদ্রে মানুষের বসবাস’-শুধু এখানেই ফ্যান্টাসির কাজ শেষ না। সাগরের দেবতা বা উমিগামির আছে এক নিজস্ব ইতিহাস। উমিগামি-সামা’র গল্পটা শুনলে মনে হবে আপনি কোন কিংবদন্তী লোককথা শুনছেন। উরোকো-সামা, জলমানব আর স্থলমানবদের মাঝের বিবাদ-কলহ যোগ করেছে প্লট টুইস্ট। আরেকটা বিষয় হল আমরা মাটির উপরে যা যা করি তার সব পানির মধ্য করা সম্ভব না। যেমন পানিতে আগুন ধরাবেন কিভাবে? পানিতেও কি তুষার পড়ে? সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ কি পানিতেও হতে পারে? এই জিনিসগুলো কিছুটা পরিমার্জন করে নতুন জগতটার সাথে মানিয়ে নেয়া হয়েছে। এরকম নতুন একটা সেটআপকে এত চমৎকারভাবে তুলে ধরার জন্য পি.এ. ওয়ার্কসকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।

nagiasu 11

সবমিলিয়ে নাগি নো আসুকারা সত্যিই আনিমে জগতে নতুনত্ব এনেছে। রোমান্স আর ফ্যান্টাসির নিখুঁত সংমিশ্রণে তৈরি এমন আনিমে সহজে পাবেন না। রোমান্স আনিমে ভক্তদের জন্যে এটা মাস্ট ওয়াচ। জানি না কেন এটা যতটা জনপ্রিয়তা পাওয়ার যোগ্য ততটা জনপ্রিয়তা পায়নি। এনিমখোর টপচার্ট ২০১৪-এর অ্যাডমিনস চয়েসে কিন্তু নাগি-আসু’ই ছিল সেরা রোমান্স আনিমে ক্যাটাগরির বিজয়ী। তাই সময় পেলে অবশ্যই দেখে ফেলবেন আনিমেটি।

পিএসঃ আকাশসমান প্রত্যাশা থাকলে যেকোনো কিছুই আশাহত করতে পারে। তাই আশার মাত্রাটা একটু কমিয়ে নিয়ে দেখতে বসলে দেখবেন উপভোগ করতে পারছেন বেশ! ধন্যবাদ।

nagiasu 12 nagiasu 13

কিনিরো মোজাইক [রিভিউ] — ইমামুল কবির রিভু

কিনিরো মোজাইক

জনরা: স্লাইস অফ লাইফ, কমেডি

কিনিরো মোজাইক আর ১০-১২ টা অতি সাধারণ কিউট গার্ল্স ডুইং কিউট থিংস কাতারের আনিমেগুলোরই একটা । এবং এই প্রজাতির সকল আনিমের মতই কিনমোজার কাহিনী বেশ সাধারণ এবং হালকা ধাঁচের । ৫ জন মেয়ে শিনো, আলিস, কারেন, ইয়োকো এবং আয়ায়া তাদের দৈনন্দিন জীবনই এই আনিমেতে তুলে ধরা হয় ।

কাহিনী শুরু হয় ঠিক শিনো ব্রিটেইনে যায়, ওখানে কিছুদিন আলিসের বাসায় স্টে ওভার করে এবং ওর থেকেই আলিসের সাথে গভির বন্ধুত্বের সুচনা । আলিস এবং শিনো বেশ অল্প সময়েই একে অপরের বেশ ঘনিষ্ট হয়ে উঠে । কেননা শিনোর পছন্দ ক্লাসিকাল ব্রিটিশ মেয়ে এবং তার সাথে ব্লণ্ড চুল, যার বাস্তব উদাহরন আলিস এবং ঠিকই আলিসের পছন্দ শিনোর মত ইয়ামাতো নাদেশিকো । তবে কাহিনী এদের নিয়ে শুরু হলেও আস্তে আস্তে ইয়োকো এবং আয়া দুজনকে তুলে ধরে, যারা বেশ আকর্ষণীয় জুটি । এবং সবশেষে আসে সিরিজের সেরা চরিত্র কারেন । এ থেকেই তাদের দৈনন্দিন জীবনের মজার মজার কাহিনীগুলা তুলে ধরাই হল আনিমেটির মূল উদ্দেশ্য ।

কিনিরো মোজাইকের সবচেয়ে সেরা দিক হল তার চরিত্রগুলো । ৫ জন মেয়েই বেশ ইউনিক । যদিও সিরিজটা নিজের পেসে দেখতে থাকেন আস্তে আস্তে আপনার ৫ জনকেই বেশ ভালো লাগা শুরু করবে । এছাড়া কারাসুমা সেনসেই, ইয়োকোর দুই ছোট ভাই-বোন, শিনোর বড় বোন ইসামি এবং দ্বিতীয় সিজনে আসে কুযেহাশি সেনসেই আর মাৎসুবারা হোনোকা এরাও বেশ অসাধারণ সাইড ক্যারেক্টার ।

আনিমেটার সব ওপেনিং-এন্ডিং Rhodanthe-দের গাওয়া । এবং Rhodanthe হল এই আনিমেটির জন্যই বিশেষ তৈরি ব্যাণ্ড । আর এর মেম্বাররা হল তৌয়ামা নাও, তানেদা রিসা, উচিয়ামা ইয়ুমি, নিশি আসুকা এবং তানাকা মানামি যারা কারেন, আয়ায়া, ইয়োকো, শিনো এবং আলিসের সেইয়ূ । এই আনিমেতে ৫ জনই বেশ অসাধারণ ছিল । তৌয়ামা নাও এবং তানাকা মানামির ইংরেজি ছিল বেশ অসাধারণ এবং ব্রিটিশ মেয়েগুলোর কণ্ঠভুঙ্গির সাথে একেবারে মানানসই । এছাড়া আরও ছিল সাতৌ সাতোমি, ওনিশি সাওরি, মেগুমি হান, তামুরা ইয়ুকারির মত বেশ ভালো ভালো সেইয়ূরাও ।

আর্টটা বেশ সুন্দর ছিল । ব্রাইট এবং চিয়ারফুল পরিবেশ তৈরিতে ছিল সফল, যা আনিমের সাথে মানানসই । প্রথম সিজন এবং দ্বিতীয় সিজন মিলিয়ে মাত্র ২৪ পর্বের আনিমে, প্রতি সিজনে ১২টি পর্ব । আমার মতে, এক সিজন দেখে মাঝখানে কিছু ইন্টেন্স কোন সিরিজ দেখে দ্বিতীয় সিজন শুরু করা সেরা উপায় । যদি কোন হালকা ধাঁচের আনিমে দেখে মনটাকে ঠাণ্ডা করতেন, যদি বেশ সাধারণ কিছু দেখেই মন খুলে হাসতে চান তবে কিনিরো মোজাইক আপনার জন্যে সেরা সাজেশন ।

Kiniro Mosaic