মাঙ্গা রিভিউ: Hyouryuu Kyoushitsu (The Drifting Classroom) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

জাপানে হরর মাঙ্গার রাজপুত্র বলা হয় জুনজি ইতোকে । তার প্রত্যেকটি মাঙ্গাই তার এই উপাধির পক্ষে সাক্ষ্য দেয় । জুনজির পরে আরেকজন মাঙ্গাকার কথা আসে নাকাইয়ামা মাসাকি যিনি ফুয়ান নো তানেসহ আরও অসাধারন কিছু মাঙ্গা লিখেছেন । কিন্তু জাপানে হরর মাঙ্গার দিকপাল বা শক্ত ভিত দাঁড় করাতে যে সাহায্য করেছে এবং স্বয়ং জুনজি ইতো যার কর্ম দ্বারা অনুপ্রাণীত ,অনেকের অলক্ষ্যে থাকা এক মাঙ্গাকা কাজুও উমেযু এর মাস্টারপিস ড্রিফটিং ক্লাসরুম নিয়ে কথা বলবো ।
কাহিনী :তাকামাতসু ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া এক চঞ্চল চিত্তের বালক । কোন দুষ্ট ছেলে এবং তার মায়ের মধ্যকার এক কমন বাক্য হচ্ছে ” আম্মু আমি ঘর ছেলে চলে যাব ,এবং মায়ের কথা “যখন ক্ষুধা লাগলে তখন দেখা যাবে ,, । তো এরকম কিছু কথা বলে রাগ করে তাকামাতসু তার স্কুলে চলে যায় , কিন্তু তাকামাতসু কি জানতো এটাই তার স্নেহময়ী মায়ের সাথে শেষ কথা !?।এই নিরবিলি শহরে হঠাত্‍ করে এক বিশাল বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে । স্কুলের সবাই অবাক নয়নে দেখে তাদের আশেপাশের পুরো দুনিয়া উড়ে গিয়েছে এবং এলাকার লোকজন খেয়াল করে তাদের স্কুলখানা পুরো অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে । স্কুলের ছাত্র এবং শিক্ষকরা প্রাথমিক শক কাঁটিয়ে তাদের অবস্থা অনুধাবন করার সাথে সাথে পুরো জাহান্নাম ভেঙ্গে পড়ে । কিছু শিক্ষক পাগল হয়ে যায় , কেউবা হয়ে যায় সাইকো । বড়রা নিজেরাই শেষ হয়ে যাবার পর ছাত্রদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় । তখন ক্লাসের সবচেয়ে চঞ্চল বালক তাকামাতসু লিডারশিপ নিয়ে এগিয়ে আসে নিজের এবং অন্য সকলের জীবন রক্ষার জন্য এবং তাকে সঙ্গ দেয় নিশি , সাকিকো , ওতোমো প্রমুখ । এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে শান্ত করতে এবং সবার জীবন রক্ষা করতে গিয়ে যে টানাপোড়েন এবং যে ইনস্যানিটির বীজ অনেকের মন গেথে গিয়েছে তা মোকাবেলা কি করতে পারবে তাকামাতসু ও তার দল !!?

Drifting Classroom 1
টাইম ট্রাভেলিং , সাইকোলজি , মাস ইনস্যানিটি , সারভাইবেল এবং সর্বোপরি হরর ও গোরের মিক্সচার এই অসাধারন মাঙ্গা । এটা এমন এক মাঙ্গা যা একবার পড়া শুরু করলে আর না পড়ে থাকা যাবে না । এই মাঙ্গায় শিশুমৃত্যু এবং তাদের মধ্যকার হিংস্রতাকে বেশ নরমাল ভাবেই অনেকবার দেখানো হয়েছে তাই এটা অনেকের কাছে খারাপ লাগতে পারে । দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষের পরিবর্তন যে কত তাড়াতাড়ি হয় তা এই মাঙ্গা না পড়লে বোঝা যাবে না । তো সময় থাকলে পড়া শুরু করুন এই অসাধারন মাঙ্গা ড্রিফটিং ক্লাসরুম ।
আমার রেটিং : ৯/১০

Read online : http://kissmanga.com/Manga/Hyouryuu-Kyoushitsu

Drifting Classroom 2

রোমিও এক্স জুলিয়েট রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

12513956_586684758162701_8807651964706537406_o

নায়ক এবং নায়িকা, দুজনেই শহরের দুই অন্যতম প্রভাবশালী গৃহস্থের সন্তান। এই দুই পরিবারের মাঝে আবার সাপে-নেউলে সম্পর্ক। কিন্তু তারপরেও ঘটনাক্রমে (!) নায়ক-নায়িকার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় লড়াই ও যত দুনিয়ার ঝামেলা।

শেকসপীয়ার সাহেব সেই কবে এই এক কাহিনী শুরু করে দিয়ে গেছেন, এরপরে এই কাহিনীই ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সারা দুনিয়াতে অন্তত কয়েক হাজারবার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য মুভি/সিরিজ। আর এই নতুন মোড়কে পুরান কাহিনী সিরিজেরই আরেকটি হল আজকের আলোচ্য অ্যানিমে, “রোমিও এক্স জুলিয়েট”।

প্রশ্ন জাগতে পারে, রোমিও জুলিয়েট এর প্রেমকাহিনী তো জানিই, তাহলে আর এই অ্যানিমে নিয়ে এত ভেজাল করার দরকার কি? ২৪ এপিসোড সময় নষ্ট করে সেই “হোয়্যারফোর দাউ আর্ট রোমিও?” র গাপানি ভার্শন কে দেখে?

এখানেই মজাটা। সেটিংটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, আপনার মনেই হবে না যে এটা আসলে শেকসপীয়ার সাহেবের কাছ থেকে ধার করা কাহিনী। কারণ এই অ্যানিমেতে শেকসপীয়ার সাহেব নিজেই যে একজন চরিত্র!! সেটিং টা এমনভাবে করা, যেন মনে হয় যে এই ঘটনার থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই উইলিয়াম শেকসপীয়ার তার বিখ্যাত উপন্যাসটি লিখেছেন।

12604943_586684761496034_684024832718483953_o

অনেক অনেক কাল আগে, মানুষ লাপুতার মত এক ভাসমান রাজ্য নিও ভেরোনাতে বসবাস করত। সেখানকার দয়ালু শাসক ছিলেন ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রধান। কিন্তু এক রাতে অতর্কিতে ক্যাপিউলেটদের প্রাসাদে হামলা চালায় মন্টাগিও ফ্যামিলি। নৃশংসভাবে তারা খুন করে ক্যাপিউলেট পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ক্যাপিউলেট পরিবারের কয়েকজন ফলোয়ার চেষ্টা করে উদ্ধার করে আনে এই পরিবারের উত্তরাধিকারী জুলিয়েট ফিয়াম্মাটা অ্যাস্টো ক্যাপিউলেটকে।

এরপর কেটে যায় ১৪ টি বছর। রাজ্যে অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের শাসন প্রতিষ্ঠিত। জুলিয়েটের বিরূদ্ধে জারি করা হয়েছে মৃত্যু পরোয়ানা। জুলিয়েটকে তাই মানুষ করা হয় পুরো পৃথিবীর থেকে লুকিয়ে; মেয়ে নয়, তাকে সবাই চেনে ওডিন নামের এক বালক হিসেবে।

এই ওডিনের সাথে ঘটনাক্রমে দেখা হয়ে যায় মন্টাগিও পরিবারের দয়ালু সন্তান রাজপুত্র রোমিওর। এই এনকাউন্টার কি প্রভাব ফেলবে তাদের জীবনে? বিশেষত যখন ক্যাপিউলেট পরিবারের ফলোয়াররা একত্রিত হচ্ছে, জুলিয়েটকে নতুন লীডার বানিয়ে মন্টাগিও পরিবারের পতন নিশ্চিত করার আশায়?

অ্যানিমেটির শুরুটা খুবই ভাল ছিল, শুরুর ৮-১০ টা এপিসোড দেখার সময় আমি চোখের পলক ফেলতে ভুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। জুলিয়েটের দ্বৈত জীবন, অত্যাচারী মন্টাগিও পরিবারের কাজকর্মের নমুনা, সেখান থেকে শহরবাসীকে বাঁচানোর জন্য জুলিয়েটের আপ্রাণ প্রচেষ্টা, রোমিওর সাথে পরিচয়, বন্ধুত্ব; আর নিজের অতীত জানার পর একটু একটু করে পরিণত হতে থাকা জুলিয়েট – সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল যে সে জুলিয়েট ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস হবে না, সে স্বাবলম্বী এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।

কিন্তু এরপর কাহিনীটা কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে যেতে থাকে। ক্যাপিউলেটদের সম্মান ফেরত নেয়ার যুদ্ধ হঠাত করে রূপ নেয় জার্নি টু সেভ জুলিয়েটে। এর মাঝে রাজকুমার রোমিও তার বাবার সাথে কলহের পরিণামে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, সেখান থেকে পৃথিবীকে সে নতুন রূপে চিনতে শেখে। শেষের দিকে এসে কাহিনীটা আবার লাইনে ফেরত আসে, এবং এপিসোড ২৩ এ যদি কাহিনীটা শেষ করে দিত, তাহলে এটি আমার অন্যতম পছন্দের একটি অ্যানিমের তালিকায় যুক্ত হত। কিন্তু সুপারন্যাচারাল ফেনোমেনা ঢুকিয়ে যেভাবে কাহিনীর এন্ডিং দেয়া হয়, আমার ভাল লাগেনি, তবে এটা কেবলমাত্র আমার অভিমত, অনেকের ভাল লাগতেও পারে।

স্টুডিও গনজোর এই অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি খুবই সুন্দর, মনে রাখার মত। ওভার অল অ্যানিমেটা ভালই, সোর্ডফাইটগুলো দেখার মত ছিল। আপনি রোমান্স ফ্যান হয়ে থাকলে এই অ্যানিমেটি নিশ্চিতভাবে ভাল লাগবে।

12509602_586684801496030_1513153742687139574_n

মাঙ্গা রিভিউ: Emerging — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ : Emerging
মাঙ্গাকা : হোকাজোনো মাসাইয়া

দুনিয়াতে যে কত ধরনের হররের ক্ষেত্র আছে তা আর হিসাব করা যায় না । ভূত পেত্নী, সাইকো, নানা ফোবিয়া এমন অনেক কিছু । মাঝখানে বিভিন্ন হরর মুভি বা গল্পের জন্য একটি কমন প্লট ছিল মহামারী রোগ। কোয়ারেনটিন, ওয়ার্ল্ড ওয়ার জি মুভি বা বিখ্যাত প্লেগ উপন্যাসের বিষয় বস্তু ছিল এই মহামারী এবং সত্যি কথা বলতে এটাই সব হরর জেনারের মধ্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত । তো এই মহামারী নিয়ে যে কয়টি ভালো মাঙ্গা লেখা হয়েছে , তার মধ্যে এমার্জিং অন্যতম ।

Emerging 1
কাহিনী: একদিন সুন্দর সকাল দেখে প্রত্যেকদিনের মতোই আপনি কলেজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লেন । বন্দ্ধুদের সাথে আড্ডা , প্রিয়জনের সাথে দেখা করে আপনার একটা ভালই দিন কাটলো । আপনি বাসায় যাবেন বলে রাস্তার ওপারে দাড়িয়ে আছেন ,হঠাত্‍ করে একজন লোক আপনার পাশে রাস্তায় ছটফট করতে করতে পড় গেলো এবং তার শরীর ফেটে চারিদিকে রক্ত ছড়িয়ে পড়লো । দিনটা আপনার বেশ খারাপভাবে শেষ হলো কিন্তু আপনি কি জানেন আপনার ভাগ্যে আরো ভয়াবহ কি অপেক্ষা করছে ।আপনি কি জানতেন সে ব্যাক্তি শরীরে বহন করছে প্রাণঘাতী এবং শরীরে পঁচিয়ে দেওয়া এক ভাইরাস !? ৩দিন যেতে না যেতেই সব হাসপাতালে প্রচুর রোগী ভিড় করতে লাগলো যাদের সবার উপসর্গ একই , এবং তা হলো প্রচন্ড জ্বর , রক্তক্ষরন এবং শরীরের আর্টারী ফুলে যাওয়া ইত্যাদি । তখন তরুন ডাক্তার ওনতেরা ও সেকুগিচি একে প্রথমে ইবোলা ধরে নিয়ে আগাতে থাকে , কিন্তু আসলে কি তাই ? এশিয়ার চিকিত্‍সা ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা দেশ আসলে কিসের সম্মুখীন হচ্ছে !? মহামারীর সময় একটি দেশের জনগণ ও সরকার কি পরিস্থিতি হয় ,সে সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা এই মাঙ্গা দিতে পারবে ।

Emerging 2
মাঙ্গার প্লট খুবই কমন হলেও প্রথম দিককার চ্যাপটার গুলো খুবই সাসপেন্স যুক্ত । কিন্তু সবচেয়ে হতাশাজনক হচ্ছে এর এন্ডিং যা খুবই তাড়াহুরা করে শেষ করা হয়েছে । এর কাহিনী আরও ভালো করা যেত এবং এ মাঙ্গা পড়ার সময় অনেকেই হয়তো এর শেষে কি হবে তা আগেই ধরে ফেলতে পারবো । কিন্তু যারা ঠিক বেশি হরর বা ট্র্যাজিক এন্ডিং পছন্দ করে না কিন্তু হরর বা সাসপেন্সের স্বাদ নিতে চায় , তারা মাঙ্গাটি ট্রাই করে দেখলে মন্দ লাগবে না আশা করি !
আমার রেটিং : 7/10

Emerging 3

মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ: ফ্যাশন মডেল
মাঙ্গাকা: জুনজি ইতোও

ফ্যাশন মডেলদের সাথে আমরা সবাই খুব পরিচিত । তারা হচ্ছে একদল সুন্দরী যাদের মাধ্যমে ফ্যাশন ডিজাইনরা তাদের সুন্দর বা উদ্ভট কাপড় উপস্থনার দায়িত্ব প্রদান করে ! অনেকসময় ৪০কেজি ওজনের মডেলকে ২০কেজি সমপরিমাণ পোশাকের টর্চারও সইতে হয় ! তো জুনজি হয়তো ভাবলেন যে সবজায়গায় যেহেতু হররের সোনার কাঁঠি ছুইয়েছি তো ফ্যাশনমডেলরাও বাদ যাবে কেন ! তার ফল হল এই হরর এবং হাল্কা গোর মাঙ্গা ফ্যাশন মডেল ।
কাহিনী: এর কাহিনী শুরু হয় এক ফ্লিম এবং বিঙ্গাপনের স্টুডেন্ট ইওয়াসাকিকে দিয়ে । এই ইওয়াসাকি বেশ স্ট্রং ইনট্যুইশনের অধিকারী । তো হ্ঠাত্‍ একদিন সকাল থেকে তার মাথায় এক প্রবল বিপদের সতর্কসংকেত বেজে উঠলো , তার মনে হচ্ছে তার দিন আজকে বেশ খারাপ যাবে , পথে ছোটখাট দুটো বাড়ি খেয়ে তার ধারণা আরো বদ্ধমূল হলো । তো একটা কফিশপে ঢুকে মাথা ঠান্ডা করার জন্য কফির অর্ডার দিয়ে একটা ফ্যাশন ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাতো লাগলো । কিন্তু তার চোখে হঠাত্‍ করে পড়লো ম্যাগাজিনে এক ভয়াব্হ নারী মূর্তির ছবি , তার দৃষ্টি এমনই ভয়ানক যা আপনার আত্নাকে কাঁপিয়ে দেবে । এবং সে নারী কিনা একজন মডেল ! কয়েকসপ্তাহ পর্যন্ত ওই ভয়ঙ্কর নারী মূর্তি তাকে দুঃস্বপ্নতে হানা দিতে থাকে , কিন্তু যখনই সে ওই চেহারা ভুলে যেতে শুরু করে তখনি সে সরাসরি ওই বিকটিনীর সামনে পড়ে যায় ! কি হয় তার পড়ে ?! জানতে চাইলে মাঙ্গা পড়ে ফেলুন না !!
যারা জুনজি ইতোর ভক্ত তারা তো অবশ্যই এটা পড়েছে বা পড়বেন । কিন্তু যদি হররের জগতে প্রবেশ করতে চান তাহলে এই মাঙ্গা দিয়েই শুরু করে দিন না !? ভয় পাওয়ায় একধরনের মজা ! তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ফ্যাশন মডেল !
আমার রেটিং: ৭/১০

Fashion Model

মুভি রিভিউ: Kiki’s Delivery Service (কিকির পরিবহন সেবা) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

সবার এনিমের টেস্ট এক না , কেউ একশান , কেউ রহস্য এবং কেউবা রোমান্স । কিন্তু অনেকসময় টানা একটাইপের কিছু দেখতে দেখতে ক্লান্তি বা বিরক্তি আসতে পারে । তখন টেস্ট পরিবর্তন করার জন্য এমন কিছু চাই যা মনকে ফ্রেশ করে দেবে এবং মনের স্ট্রেস দূর করে দেবে এবং আপনাকে কয়েকদিনের জন্য মুগ্দ্ধ করে রাখবে !!!? এবং সে কাজ করতে পারে গিবলি স্টুডিওর মুভি । এই লেজেন্ডারি স্টুডিওর সৃষ্ট অন্যতম এক মাস্টারপিস হচ্ছে কিকির ডেলভারি সার্ভিস ! অসাধারন এই মুভি অতিরিক্ত আবেগ বা ফ্ল্যাশি কোন কিছু না দেখিয়েই সিম্পল স্টোরিলাইন দিয়ে আপনাকে মুগ্দ্ধ করে দেবে !!!

Kiki 1
কাহিনী : এই মুভির প্রধান চরিত্র হল কিকি , এবং সে একজন ডাইনী । এখন ডাইনী বললেই রুপকথার যে বিদঘুটে ডাইনির কথা মনে আসে কিন্তু এখানে তা উল্টো । কিকি যে রিয়েলিটির বাসিন্দা , সেখানে ডাক্তার , ইন্জিনিয়ারের মত ডাইনীবিদ্যা বা উইচক্রাফর্ট একটা সাধারণ জিনিস । কোন ডাইনীর ১৩বছর পূর্ণ হলে তাকে একলা একবছরের ট্রেইনিং এর জন্য তাকে বাইরে যেতে হয় এবং কিকি সে বয়স এ পৌছেছে । কিকির মাও একজন ডাইনী যদিও বাবা মানুষ । কিকি ১৩বছরে পৌছেই ট্রেনিং এবং বাইরের দুনিয়াকে জানা দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ে তার ছিমছাম গ্রামের সকলের কাছ খেকে বিদায় নিয়ে এবং তার সঙ্গী হল পোষা বিড়াল জিজি এবং বাবার রেডিও । পথে নানা ঝামেলায় পড়ে এবং তা এড়িয়ে সে পৌছায় এক ব্যাস্ত শহরে । কিকি যদিও প্রথমে অনেক উত্‍সাহি থাকে নতুন জায়গায় আসার থ্রিলে । কিন্তু শহরের ব্যাস্ত মানুষদের উপেক্ষা কিকির জন্য প্রথমে কষ্টকর হয়ে দাড়ায় । কিন্তু পরে এক দয়ালু ম্হিলা ওসোনোর সাথে পরিচয় হয় যে একটি বেকারী চালায় । ওসোনো তাকে আশ্রয় দেয় এবং সেই সাথে কিকি সেখানে তার উড়ার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ডেলিভারি সার্ভিসের ব্যাবসাও শুরু করে । প্রথম ডেলিভারিতেই বেশ ঝামেলায় পড়ে কিন্তু ঠিকই উত্‍রে যায় । এভাবে শুরু হয় কিকির শহরে জীবন ।সেখানে তার পরিচয় হয় টমবোর সাথে যে আপাতদৃষ্টিতে কিকির উপর ছোটখাট ক্রাশ খাওয়া , উরসুলা নামক এক মেয়ে যে একজন মেধাবী আর্টিস্ট আরও অনেক ভালো মন্দ চরিত্র । কিকি কি পারবে নির্বীন্ঘে তার ডেলিভারী সার্ভিস চালু রাখতে ? তাহলে সময় থাকলে দেখে ফেলুন কিকির ডেলিভারী সার্ভিস !!
এর সাউন্ডট্র্যাক খুবই সুন্দর ।এর ল্যান্ডস্কেপ আর্ট অতিরিক্ত সুন্দর । এটার সাব এবং ডাব দুটোই অস্থির যদিও আমার কাছে ডাব বেশি ভালো লেগেছে । এই মুভিতে যদিও মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো প্লট নেই কিন্তু এটা দেখার পর এর রেশ ছুটাতে আপনাকে অনেক বেগ পেতে হবে !!!
আমার রেটিং : ৮.৫/১০ ।

Download link: http://www.animeout.com/majo-no-takkyuubin/

Watch online: https://kissanime.to/Anime/Kiki-s-Delivery-Service-Dub/Movie?id=49370

Kiki 2

মাঙ্গা রিভিউ:GOTH — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমরা যারা হরর জানরার ভক্ত , তাদের কাছে ভূত বা অশিরীরি কোন সত্ত্বার ভৌতিক কাহিনীর চেয়ে সাইকোপ্যাথখুনিদের আবেদন বেশি । কেননা সাইকো কিলাররা হয় চতুর এবং টর্চার ও মার্ডারিংকে এরা শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে যায় । এইরকম কিছু সাইকোপ্যাথদের ছোট ছোট গল্প নিয়েই ওতসুচির ৫চ্যাপ্টারের মাঙ্গা Goth .
এই গল্পের প্রধান চরিত্র কামিইয়ামা ইতসুকি যে গম্ভীর এবং বুদ্ধিমান হাইস্কুল বালক । এখন আবার ভেবে বসবেন না যে এ গড়পড়তা নায়ক ডিটেকটিভ ! সে হল স্বয়ং একজন স্যাডিসটিক সাইকোপ্যাথ এবং তার আনন্দের প্রধান উত্‍স সাইকোপ্যাথ মার্ডারের কেস স্টাডি । এবং তার সঙ্গী হল অনেকটা তার মতই পারসোনালিটি যুক্ত গম্ভীর বালিকা মরিনো ইয়ুরু এবং একইসাথে সে সাইকোপ্যাথদের জন্য ম্যাগনেটের মতো । এই ইয়ুরুর সুন্দর সাদা হাত পরোক্ষভাবে সংগ্রহ করতে গিয়ে ইতসুকি ব্যার্থ হয় এবং পরে মরিনোর সাথে ভাব জমায় ।তারা ২জনে মিলে নিছক আগ্রহ এবং আনন্দের জন্য আশেপাশের সাইকোপ্যাথদের খুজে বের করতে থাকে এবং একইসাথে তাদের অতীতের কিছু রহস্য তাদের সামনে চলে আসে ।
মাত্র ৫চ্যাপ্টারের এই মাঙ্গা সময় থাকলে পড়া শুরু করে দিন । রহস্য ও হররের মিশেল আপনাদের অবশ্যই ভালো লাগবে !!
আমার রেটিং : ৮/১০

Goth

মাঙ্গা রিভিউঃ Pandora Hearts — Rezo D. Skylight

Pandora Hearts

Volumes: 24
Chapters: 107
Status: Finished
Published: May 18, 2006 to Mar 18, 2015
Genres: Adventure, Fantasy, Shounen, Supernatural
Authors: Mochizuki, Jun
MAL Score: 8.69
Ranked: 52

Pandora Hearts

“Instead of sighing about the past, I’d rather be happy to face the present.” – Oz Vessalius

“Don’t try to excuse yourself by saying you’re doing it for someone else’s sake.” – Xerxes Break

এতদিন যতই মাঙ্গা পড়েছি না কেন Pandora Hearts এর মতো মাঙ্গা এখন পর্যন্ত আর পাইনি। আমার কাছে Pandora Hearts মাস্টারপিস। কেননা এই একমাত্র মাঙ্গা যার কাহিনী কোনভাবেই প্রেডিক্ট করা সম্ভব নয়। কাহিনী যে কোনদিক থেকে কোনদিকে মোড় নিবে তা বুঝাই মুশকিল। এখন মূল কথায় আসি।

Pandora Hearts এর প্লট রচিত হয়েছে ভিক্টোরিয়ান যুগে ইউরোপিয়ান সেটিংসের এক কাল্পনিক দেশে। যেই দেশের শাসন ক্ষমতা মূলত নিয়ন্ত্রণ করে প্যান্ডরা নামের এক সঙ্ঘটন। আর প্যান্ডরার সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে সেই দেশের বড় বড় চারটি রাজপরিবার। সেইরকম একটি সম্ভ্রান্ত রাজপরিবার হল ‘Vessalius Family’। এই পরিবারের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম হল ‘Oz Vessalius’। অজের বয়স যখন পনেরোর ঘরে তখন সেই দেশের রীতি অনুযায়ী ‘Coming of age ceremony’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অজকে পরিবারের পরবর্তী শাসক হিসেবে স্বীকৃত করা হয়। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের দিনই নতুন এক ট্রাজেডির সৃষ্টি হয়। কিছু গুপ্তঘাতক এসে সবাইকে হত্যা করা শুরু করে আর অজকে মৃত্যুর দুয়ারে দাড়া করিয়ে তারা বলে ‘Your sin is your existence.’। অজ কি পারবে এই মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে? সে কি জানতে পারবে তার সিন কি? জানতে হলে মাঙ্গাটা পড়ুন।

অনেক মাঙ্গারই শুরুর কাহিনী দেখে আসলে কাহিনীর গভীরতাটুকু কেমন তা বুঝা যায় না। একইভাবে প্যান্ডরার কাহিনীর গভীরতাও ঠিক প্রথম প্রথম বুঝা যাবে না। মাঙ্গার প্রথম দিকটা কিছুটা লাইট-হার্টেড, তবে কাহিনী আগানোর সাথে সাথে আরও ডার্ক হতে শুরু করে। এই মাঙ্গায় বেশ ভাল পরিমাণে মিষ্টেরি রয়েছে। তবে প্রথমে এত মিষ্টেরি দেখে কিছুটা বোরিং লাগতে পারে। কিন্তুু যখন এক একটা টুইস্ট এসে সামনে হাজির হবে ঠিক তখনই প্যান্ডরার কাহিনী অসাধরণ লাগবে। মূলত প্যান্ডরার টুইস্টগুলোই প্যান্ডরার সবচেয়ে উপভজ্ঞ বিষয়।

প্যান্ডরা হার্টসের যে জিনিসটি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে তা হল এর গল্প উপস্থাপন করার কৌশল। প্যান্ডরার মাঙ্গা পড়ার সময় মাথায় নানা ধরণের প্রশ্ন এসে হাজির হতে পারে। কিন্তুু মজার ব্যাপার হল প্যান্ডরার মাঙ্গা পড়তে পড়তেই নিজের অজান্তেই সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে জাবেন; যা অনেকটা পাজেলের মতো। এর আরেকটা প্লাস পয়েন্ট হল এতে কোন ধরণের প্লট হোলের উপস্থিতি নেই। আবার এর মতো এত বিশাল কাস্টের ক্যারেক্টার খুব কম মাঙ্গাতেই আছে। কিন্তুু প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইউনিক আর ইন্টারেস্টিং। তবে আমার সবচেয়ে ফেভরাইট ক্যারেক্টার হল Xerxes Break।

প্যান্ডরা হার্টসের মাঙ্গায় এলিস ইন ওন্ডারল্যান্ডের অনেক রেফারেন্স আছে। মনে হয় মাঙ্গাকা জুন ফেইরিটেলের খুব ভক্ত ছিল। এজন্যই তার মাঙ্গায় এলিস ইন অন্ডারল্যান্ডের অনেক এলিমেন্ট ব্যাবহার করেছে। আর প্যান্ডরার ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, আর্টও যথেষ্ট ভালো।

যারা প্যান্ডরা হার্টসের এনিমে দেখেছেন তারা চ্যাপ্টার ৩৩ থেকে পড়া শুরু করতে পারেন। আরেকটা কথা, এনিমের লাস্ট কয়েক এপিসোডের সাথে মাঙ্গার কোনই মিল নেই। আর কেউ যদি ক্লাম্পের Tsubasa: RESERVoir CHRoNiCLE মাঙ্গার ভক্ত হয়ে থাকেন এবং এ ধরণের মাঙ্গা খুঁজছেন তারা Pandora Hearts এর মাঙ্গা পড়ে দেখতে পারেন। কারণ এই দুই মাঙ্গার মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

আশা করি রিভিউটি পড়ে ভাল লেগেছে এবং আপনারা হাতে সময় নিয়ে Pandora Hearts এর মাঙ্গাটি পড়ে দেখবেন। পরিশেষে আমি এইটুকু বলতে পারি, আপনি যদি পুরো মাঙ্গাটা পড়ে শেষ করেন তাহলে Pandora Hearts নিশ্চয়ই আপনার অন্যতম পছন্দের মাঙ্গার তালিকায় স্থান পাবে।

আমার রেটিং – ১০/১০

আনিমে রিভিউ: Nazo no kanojo X / Mysterious Girlfriend X — Maisha Musarrat Ahmed

Nazo no kanojo X / Mysterious girlfriend X
সোজা বাংলায় একটি মিষ্টি প্রেমের কাহিনী 🙂

kanojo 2

কাহিনী : কাহিনী খুবই সাধারণ ..এক দেশে (অবশ্যই জাপান) ছিল একটি ছেলে (সুবাকি) আর একটি মেয়ে (উরাবে) … তাদের পরিচয় , ভালোলাগা , ভালবাসা ..এই নিয়েই কাহিনী…খালি একটাই টুইস্ট .. সুবাকির হৃদয়ে উরাবের জন্য ভালোলাগার সূত্রপাত হয় উরাবের ডেস্কে লেগে থাকা লালার(!!) স্বাদ গ্রহনের মাধ্যমে ….(disgusting.. I know )
যারা এটুকু দেখেই আনিমেটি ড্রপ করার চিন্তাভাবনা করছেন তাদের বলব “বিরাট বড় ভুল করতে যাচ্ছেন আপনি”…মানছি এটা একটা ভয়ংকর রকমের অকওয়ার্ড আনিমে..কিন্তু সম্পর্কের মৌলিক ব্যাপার যেমন ধৈর্য্য ,পারস্পরিক বোঝাপড়া , বিশ্বাস ..এই ব্যাপারগুলোই কিন্তু এখানে দেখানো হয়েছে.. এবং আমার মতে অনেক সৌজো এনিমের (ex:say I love you) চেয়েও ভালোভাবে দেখানো হয়েছে ^_^

আনিমের মিউজিক , অ্যানিমেশন , ব্লা ব্লা ব্লা সবই ডিসেন্ট.. ভালো লাগার মত।স্পেশালি বলতে হয় ভয়েস অ্যাক্টরদের কথা। যদিও চিনি না..তবুও বলব…উরাবের সেইয়ু কে আমার বেশ ভাল্লাগছে .. 🙂

মতামত : আনিমে ৯৯% ভালো …
..শুধু লালা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পারলে আপনার জন্য বেশ উপোভোগ্য হতে পারে আনিমেটি।

তো ঘেন্না নামক বস্তুটিকে কিছুক্ষণের জন্য বিদায় দিয়ে বসে পরুন মাত্র ১৩ পর্বের আনিমেটি নিয়ে। and trust me…its worth every bit of your time.

kanojo 1

 

অনন্য মাঙ্গা আসর — ৩ (Our Happy Hours)

জীবনে মানুষ যখন চলে যায় মধ্যবয়সে তখন চাওয়া পাওয়ার হিসেব করতে শুরু করে সবাই। কিন্তু যাদের জীবনটা এতটা স্বাভাবিক নয়,তাদের গল্পটা কেমন? তা আড়ালে থেকে যায় । অনিয়মিত “অনন্য মাঙ্গা আসরে” আরেকবার স্বাগতম । জানি অনেকেই ভুলেও গেছেন সেগমেন্টটার কথা । আজকেও আয়তনে অতি ছোট এক মাঙ্গা নিয়ে কথা বল্ব।বিখ্যাত কোরিয়ান লেখিকা Gong Ji-Young এর লেখা উপন্যাস “Our Happy Hours” এর জাপানি অনুবাদ করেন হাইসুকে কারোউ । আর সেই অনূদিত উপন্যাসের সারমর্ম রূপে মাঙ্গা অঙ্কনের কাজ করেন সাহারা মিজু । MAL এ গিয়ে মাঙ্গা টপ  সাজেশনের মধ্যে “Watashitachi no Shiawase na Jikan” নামে একটা মাঙ্গা খুঁজে পাবেন । বলছি সেই মাঙ্গার কথাই।

দৃশ্যপট

একবার নয়,দুবার নয়,তিন তিন বার সুইসাইড করার চেষ্টা করেও মরতে পারেননি জুরি মুতোউ । জীবনের প্রতি ঘেন্না চলে এসেছিল । কিন্ত কেন?……………………………

একজন বা দুজন নয়,তিন তিন জন জলজ্যান্ত মানুষকে খুন করেছে ইউ। আর এজন্য সে আফসোসও করে না বিন্দুমাত্র । কিন্ত কেন?…………………………………

কি হয়েছিল তাদের জীবনে ,তা নিয়েই শুরু হয় গল্পের । সিস্টার মনিকার সাহচর্যে কারগারে ইউউ এর কাউন্সেলিং এর দায়িত্ব পায় জুরি । কিন্ত যে নিজেই জীবনকে গলা টিপে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছিল সে একজন খুনিকে কিভাবে জীবন চেনাবে ??

মনে জমে থাকা কষ্ট আছে দুজনেরই , যেন একে অন্যের প্রতিবিম্ব …………

এই সুবাদে ইউউ আর জুরি এর প্রতি  বৃহস্পতিবার দেখা হত। ছিন্ন ভিন্ন কিছু কথা আর অনুভূতি ভাগাভাগি আর কি………………

safe_image

জনরা

রোমান্স, মিউজিক, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, সেইনেন ।

কেন পড়বেন

খুদে হলেও মাঙ্গাটি ব্যাপক প্রশংসার দাবিদার । জীবন নিয়ে ধারণাই পাল্টে দেওয়ার মত মোটিভেটিভ এটি । তবে আবেগের জায়গা আছে ব্যাপক । আপনি যদি এটাকে শোউজো স্টাইলের রোমান্স মনে করে থাকেন তবে বড় ভুল করবেন। রোমান্টিক হলেও মনে রেখাপাত করার মত ।কারণ অনেকেই একটানা মাঙ্গা পড়তে পছন্দ করেন না । কিন্তু আয়তন ছোট হওয়ায় পড়তে কোন বাঁধা নেই। তবে এন্ডিং কেমন সেটা না হয় পাঠকদের জন্যই থাকুক………

আর্টওয়ার্ক

আঁকা ব্যতিক্রমী না হলেও খারাপ নয়। মানে আঁকা খুব বেশি দৃষ্টিনন্দন না হলেও একেবারে খ্রাপ নয়।

অনুভূতি

Exaggerating নয় সত্যিই অনেক ভালো লাগার মত একটা মাঙ্গা । শর্ট মাঙ্গার থেকে এর বেশি আশা করাটাই যেন অন্যায়। আর মাঙ্গাটিতে এমন কিছু Quote আছে যা দেখেই বোঝা যায় এ কোন জ্ঞানী লেখকের কাজ। আর সবাইকেই বলব পড়ে ফেলতে কারণ মাত্র ৮ চাপ্টারের মাঙ্গাটি পড়তে কতক্ষণই বা লাগবে…… অল্প সময় খরচ করে পড়ে ফেলুন ,সময়ের দাম উসুল হয়ে যাবে। মাঙ্গা পড়বেন,অন্যকেও পরতে বলবেন এই প্রত্যাশা রইল ।

মাঙ্গাটি পড়েছিলাম অনেক আগে , তবে উপন্যাসটা পরখ করে না দেখে লিখতে চাইছিলাম না তাই যা দেরি । আর সাহারা মিজু-সানের উপন্যাসটি পড়ার পর অনুভূতি দিয়েই আজকের লেখা শেষ করছি ………

“I remember the time when I first read the original novel.  It was the beginning of summer in 2007. I feel as though it taught me that,because of mankind we are burdened by terrible hurt,but the way we’re able to find relief from this hurt is also through mankind……….”

                                                                        —-Sahara Mizu                                                                                                                              November,2008

মাঙ্গা রিভিউ: Intersection’s Pretty Boy — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

জুনজি ইতোর মাঙ্গা কালেকশনে এত অসাধারন গল্প রয়েছে তার মধ্যে আমার অন্যতম পছন্দ হলো ইন্টারসেকশন প্রিটি বয় । নরমাল ভাগ্যগণণাকে জুনজি যথারীতি নারকীয় রুপ দিয়েছেন !
কাহিনী : জাপানের এক কানাঘুপচি শহরে এক আজব খেলা চালু আছে । এই খেলার নাম হল ইন্টারসেকশন ফরচুন টেলিং বা গলির চৌমাথার ভাগ্যগননা । এই খেলার নিয়ম হল আপনি কোন গলির মাথায় দাড়িয়ে মুখ ঢেকে পথচারীর জন্য অপেক্ষা করবেন । পথে যে প্রথম পথচারীকে পাবেন , তাকে অনুরোধ করবেন আপনার ভাগ্য সম্পর্কে কিছু বলতে , সে যা বলবে আপনার ভাগ্য সে রকমেরই হবে । সবই ঠিকঠাক চলছিল যতদিন না পর্যন্ত এক গর্ভবতী নারীর লাশ পাওয়া গেলো শহরের এক রাস্তার মোড়ে । আসল ঘটনা শুরু হয় যখন রিয়ুসকে নামক এক সুদর্শন তরুন তার ছোটবেলার শহরে ফিরে আসে । নতুন স্কুলে ভর্তি হবার পর সে খুজে পায় তার ছোটবেলার বান্দ্ধবী মিডোরিকে এবং সুদর্শন এবং সদালাপী হওয়ায় সে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে , বিশেষ করে মেয়ে ম্হলে । কিন্তু হঠাত্‍ করেই তার এক মেয়ে সহপাঠীর ভয়াব্হ মৃত্যু হয় চৌরাস্তার মোড়ে এবং জানা যায় যে সে ইন্টারসেকশন ভাগ্য গণণা করতে গিয়ে সে এক কালোপোশাকধারী সুদর্শন যুবকের দেখা পায় যে তাকে বলে তার জীবনে কখোনো ভালবাসা আসবে না । এরপরই মেয়েটি আত্নহত্যা করে । এরপরই শুরু হয় রিয়ুসকের জীবনের এক নারকীয় অধ্যায় । এই কালোসুদর্শন যুবকের সাথে রিয়ুসকের সম্পর্ক কি তা জানতে হলে শুরু করে দিন মাঙ্গা পড়া !
এটার আর্টওয়ার্ক এবং কাহিনী দুটোই অস্থির । পড়তে গিয়ে আপনার একধরনের ভয় ও রহস্যের উত্তেজনা মিশানো অনুভূতি কাজ করবে । তো সময় থাকলে পড়ে ফেলুন Intersection pretty boy !
আমার রেটিং: 9/10

pretty boy