যেতসুয়েন নো টেম্পেস্ট রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

394399

Genres: Action, Mystery, Drama, Fantasy, Magic, Shounen, Psychological
Score: 8.24
Ranked: 255
Episodes: 24

Yoshino_Takigawa

কাহিনীটা অদ্ভুত। ইওশিনো তাকিগাওয়া, একজন হাইস্কুল ছাত্র। একা একা ঘুরে বেড়ায় সব জায়গায়। কারো সাথেই যেন তার সম্পর্ক নেই। তার একমাত্র বন্ধু মাহিরো, যে কিছুদিন আগে নিখোঁজ হয়েছে, তার এবং তার বোন আইকার সাথে কাটানো বিভিন্ন সময়ের কথা সে বারবার মনে করতে থাকে। এমন সময় একদিন সে যখন গ্রেভইয়ার্ড ভিজিট করতে যায়, তখন হঠাত আক্রমণের শিকার হয় সে। তাকে রক্ষা করতে হঠাতই এসে হাজির হয় মাহিরো। এবং জাদুর সাহায্যে সে রক্ষা করে ইওশিনোকে।

625612-zetsuen_no_tempest___14___large_16

সমুদ্র। একটা ব্যারেল ভেসে ভেসে গিয়ে ঠেকল একটা জনমানবহীন দ্বীপে। তার ভেতর থেকে বেরোল রাজকন্যা হাকাজে, যাকে তার ক্লানেরই এক সদস্য এভাবে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। “Tree of Exodus” এর উত্থানের সময় হয়েছে, রাজকন্যা উপস্থিত থাকলে তা সম্ভব হবে না।

মাহিরো ইওশিনোকে বাঁচায়, ঠিক তখনি হঠাত কোত্থেকে হাজির হয় অনেকগুলো প্রজাপতি। তারপরেই তারা দেখতে পায় এক বিশাল আজব ফল সমুদ্রের ভেতর থেকে উঠে চোখ মেলে তাকায়। আর সাথে সাথে শহরের সব মানুষ আস্তে আস্তে ধাতুতে রূপান্তরিত হয়ে যেতে থাকে। ইওশিনো মাহিরোর কাছে জানতে চায় কি হচ্ছে সেই ব্যাপারে। ইওশিনো তাকে জানায় নির্বাসিত রাজকন্যার কথা। যার সাথে চুক্তি করেছে মাহিরো। মাহিরো তাকে সাহায্য করবে “Tree of Exodus” এর উত্থান ঠেকাতে এবং দ্বীপ থেকে ফিরে আসতে। এর বদলে রাজকন্যা মাহিরোকে সাহায্য করবে প্রতিশোধ নিতে।

Zetsuen no Tempest 01

“Tree of Genesis”. এই পৃথিবীর লজিক রক্ষা করে চলা এক শক্তি। যাকে ব্যাবহার করা হয় পৃথিবীর উপকারের জন্যে। এই ট্রিকে রক্ষা করার দায়িত্ব কুসারিবে ক্লানের। এই ক্লানেরই রাজকন্যা হাকাজে। তাকে Tree of Genesis সবসময় রক্ষা করে এবং ট্রির ক্ষমতার প্রতি হাকাজের রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। আর তাই তার উপস্থিতিতে এর বিরুদ্ধ শক্তি “Tree of Exodus” এর উত্থান সম্ভব নয়। এজন্যেই হাকাজেকে নির্বাসনে পাঠায় “সামোন কুসারিবে”। ট্রির ক্ষমতায় আর বিশ্বাস নেই তার।

এতসব জটিলতার মাঝে কিভাবে জড়িয়ে যায় ইওশিনো? মাহিরো কিসের প্রতিশোধ নিতে চায়? শহরের মানুষ কেন ধাতুতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে? রাজকন্যা কি পারবে দ্বীপ থেকে শহরে ফিরে আসতে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে দেখে ফেলতে হবে এই চমৎকার আনিমেটা।

আনিমেটার একটা স্পেশাল দিক হল, নামের প্রতি সুবিচার করে আনিমেটায় শেকসপীয়ারের হ্যামলেট এবং দ্য টেম্পেস্ট থেকে অনেক quote ব্যাবহার করা হয়, যা আনিমেটার মূল চরিত্রদের ব্যাক্তিগত অনুভুতি এবং দুঃখ, কষ্ট, হতাশা (যা আনিমেটার একটা গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট) খুব কাব্যিকভাবে ফুটিয়ে তোলে।

একশন, রহস্য এবং তাদের লজিকাল ব্যাখ্যাই যথেষ্ট ছিল, সেই সাথে ইমোশন এবং ব্যাক্তিগত মূল্যবোধের সাথে নিজেদের লড়াই আনিমেটাকে আরও পরিপূর্ণ করেছে। প্রায় প্রতিটি পর্বেই কোন না কোন চমক, সহজেই আপন করে নেয়ার মত ক্যারেক্টার এবং একটি সুন্দর এন্ডিং … ভালো আনিমের জন্যে আর কি চাই!! সেই সাথে সুন্দর OST তো আছেই!! 

কাজেই, আশা করব যারা দেখেননি এখনো আনিমেটা, তারা সময় করে দেখে ফেলবেন। ভালো লাগবেই। আর যারা দেখেছেন তারা তো জানেনই আনিমেটা কত ভালো!

caption_753759_20121001050313

Yama no Susume anime review and ongoing-anime suggestion by Fuad Hassan

 

Yama no Susume (English name: Encouragement of Climb):

Yama no Susume মাত্র ৩ মিনিট এর ছোট একটা অ্যানিমেই সিরিস। এই অ্যানিমেই এর কাহিনি হচ্ছে ৪ টা মেয়েকে নিয়ে যারা পাহাড়ে উঠতে ভালবাসে। কাহিনি প্রথমে Aoi নামের এর মেয়েকে দিয়ে শুরু হয়। Aoi উঁচু জায়গায় উঠতে ভয় পায় কিন্তু তার বন্ধু Hinata পাহাড়ে উঠতে বেশ ভালবাসে। ছোটবেলায় Aoi এর acrophobia (extreme or irrational fear of heights) হওয়ার আগে আওই আর হিনাতা দুইজন একসাথে পাহাড়ে উঠে সূর্যোদয় দেখেছিল যা তাদের খুব ভালো লেগেছিল। হিনাতা আবার আওই কে সাথে করে পাহাড়ে উঠতে চায়, কিন্তু আওই তার ভয় কাটিয়ে উঠতে চায় না। পরে আওই এর ভয়ের কারণ দূর করার পর হিনাতা আওই কে রাজি করাতে সক্ষম হয়। হিনাতা আর আওই এর পাহাড়ে উঠার এই প্রস্তুতির মধ্যে তাদের সাথে আরও দুইটা মেয়ে, Kokona আর Kaede এর দেখা হয়, কোকোনা আর কায়েদে ও পাহাড়ে উঠতে ভালবাসে। শুরু হয় তাদের চারজনের তাদের অঞ্চলের বিভিন্ন ছোটোখাটো আর বড় পাহাড়ে উঠা। শু্ধু কি পাহাড়ে উঠা, পাহাড়ে উঠতে যে বিভিন্ন প্রতিকূলতা আছে যেমনঃ মাউন্টেইনিং গিয়ার কেনা থেকে রান্না করা সব কিছুই তারা একসাথে মোকাবেলা করার চেষ্টা করে। কষ্ট করে পাহাড়ে উঠার পর পাহাড়ের উপর থেকে সুন্দর দৃশ্য দেখে যেই আনন্দ লাগে আর মনে যে একটা কিছু অর্জন করার ভাব আসে সেই অভিজ্ঞতা বার বার নিতেই তারা পাহাড়ে উঠে।

যারা অ্যানিমেই তে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পছন্দ করেন তারা দেখতে পারেন। স্লাইস অফ লাইফ জনরা এর এই অ্যানিমে টাতে একটু হলেও Non Non Biyori এর মতো ভাব পেতে পারেন। জাপানের বিভিন্ন পাহাড়ে উঠতে না পারলেও এই চারজনের পাহাড়ে উঠা এখানে দেখতে পারবেন। বেশ রিফ্রেশিং একটা অ্যানিমেই। অ্যানিমেই টা দেখলে পাহাড়ে উঠার কিছু টিপস তো পাবেন ই এত সুন্দর সুন্দর পাহাড়ের সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখলে মন ভরে জেতে বাধ্য। পাহাড়ে উঠতে যে আসলেই কত মজা তা এই অ্যানিমেই টা দেখলে বুঝতে পারবেন। আমি নিজেও এই অ্যানিমেই টা দেখে বেশ মোটিভেটেড হয়েছিলাম মাউন্টেইন ক্লাইম্বিং এর জন্য। অ্যানিমেই টার এন্ডিং সং টাও বেশ রিফ্রেশিং (https://www.youtube.com/watch?v=kbhKw8mtIWA)

MAL rating: 6.80
আমার রেটিং : 7
Genre: Slice of Life
Total episode: 12

Ongoing-anime suggestion:

14

 

Yama no Susume: Second Season:

Yama no Susume অ্যানিমে টার ই সেকেন্ড সিসন এই অ্যানিমেই টা। এই সিসন এও মেয়ে ৪ টা বিভিন্ন পাহাড় এ উঠে আর পাহাড়ে উঠার আরও অনেক সহজ উপায় শিখে। এইদিকে আওই এর ফুজি পাহাড় দেখার খুবই বেশি ইচ্ছা তাই অন্যরা সবাই মিলে ঠিক করে আওই কে সারপ্রাইস দেয়ার। এই সিসনের ওপেনিং আর এন্ডিং সং ও বেশ ভালোই। আর এই সিসনের প্রত্যেকটা এপিসোড ১৫ মিনিট করে। ১৫ মিনিট এর একটা রিফ্রেশিং এপিসোড একবার দেখেই ভালো লাগবে। তাই দেরি না করে এখনি দেখে ফেলুন।

MAL rating:7.08
আমার রেটিং : 8

মাঙ্গা রিভিউ – Watashitachi no Shiawase na Jikan – Syed Tawsifuzzaman

Volumes: 1

Chapters: 8
Genres: Drama, Romance, Slice of Life, Psychological, Seinen
Authors: Yumeka, Sumomo (Art)
MAL Rating: 9.8
MAL Ranking: 4th

কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছেন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়? বা সকলেই কি মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য? তারা কি আরেকটা সুযোগ পেতে পারেনা?

এও কি আপনাদের মাথায় কখনো উদয় হয়েছে যে বিত্তবানরাই কি প্রকৃত সুখী? তাদের জীবনও তো হতে পারে বিষাদময়।

আজকাল দেখি অনেকেই তুচ্ছ কারণে আত্মহত্যা করছে। আত্মহত্যাই কি ঝামেলামুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায়? এত সুন্দর পৃথিবী কি এত সহজেই ছেড়ে যাওয়া যায়, বা উচিত?

সকল মা ই কি মমতাময়ী?

এরকম আরও অনেক প্রশ্নই আপনার মাথায় উকি দেবে আর ঘোরাফেরা করবে এই মাঙ্গাটা পড়ার পর।

এর মুল কাহিনী একজন মেধাবী পিয়ানিস্ট কে নিয়ে যার নাম জুরি। যে জীবনের ওপর অতিষ্ঠ হয়ে তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়। তার এই অবস্থায় তার এক খালা, যে একজন চার্চ এর সিস্টার, তাকে নিয়ে যায় একটি কারাগারে, যেখানে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামীদের রাখা হয়। সেখানে তার দেখা হয় এক আসামির সাথে, যে ৩ খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত। ওই আসামির নাম হল ইউ। সে অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। সে যেই খুনগুলো করেছে তার জন্য সে প্রায়াশ্চিত্ত করতে চায় এবং সেও বহুবার আত্মহত্যা করতে চেষ্টা করে। দেখা করার পর তারা তাদের মনের ভেতরের পুরনো কষ্টগুলো মনে করে এবং তা নিয়ে ভাবতে থাকে। এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যায় এবং একজনের প্রভাবে অন্যজনের জীবনও খানিকটা পালটে যায়।

কিভাবে পালটে যায় তা জানতে আপনাদের পড়তে হবে ওয়াতাশিতাচি নো শিওয়াসে না জিকান মাঙ্গাটি।

এই মাঙ্গাটির ভলিউম মাত্র একটি, সুতরাং একটু সময় খরচ করে মাঙ্গাটি পড়লে আপানার খারাপ লাগবে বলে মনে হয় না বরং অনেক ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।

The Story of Cinderella/Cinderella Monogatari: চেনা গল্পের অচেনা মোড়; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Cinderella-cinderella-monogatari-25018918-1024-768

 

“অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক লক্ষ্মী মেয়ে। তার নাম সিন্ডারেলা। সিন্ডারেলার বাবা তাকে খুব ভালবাসত। তাই তিনি ব্যবসার কাজে দূরে গেলে যেন সিন্ডারেলার অসুবিধা না হয়, সে জন্যে সিন্ডারেলার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। এতে সিন্ডারেলা একজন সৎমা ও দুজন সৎবোন পায়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বাবা দূর দেশে যাওয়ার পর সিন্ডারেলার সৎমা ও বোনেরা তাকে খুব অত্যাচার করা শুরু করল ….”

কি ভাবছেন? ওয়াল্ট ডিজনির সিন্ডারেলার কাহিনী এখানে কেন বলছি? তার কারণ হল, ওয়াল্ট ডিজনির চিরায়ত কাহিনী অবলম্বনে নব্বইয়ের দশকের তৈরি হয়েছিল চমৎকার একটা আনিমে। ছাব্বিশ পর্বের এ আনিমের নাম “সিন্ডারেলা মনোগাতারি”।

শুরুতেই মাই আনিমে লিস্ট থেকে কিছু অগুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেই-

Aired: Apr 4, 1996 to Oct 3, 1996
Genres: Adventure, Fantasy, Romance
Score: 7.52
Ranked: 1357
Episodes: 26

hqdefault (1)

কাহিনীর শুরুটা সবারই জানা। শুধু সূচনা নয়, কাহিনীর আদ্যোপান্ত প্রায় সবকিছুই আসলে ওয়াল্ট ডিজনির কল্যাণে সবারই জানা। এ কারণে এই আনিমেটা চোখের সামনে পড়লেও হয়ত অনেকেই দেখতে আগ্রহী হননি। কিন্তু মনোগাতারির মাহত্ত্ব্য এখানেই। শুরুটা হয় প্রচলিত গল্পের মত করেই। এরপর ২য় এপিসোড থেকেই মোড় ঘুরে যায় দারুণভাবে। কখনো কি এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছে; আচ্ছা, সিন্ডারেলাকে যে ওর সৎমা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দিল, এরপর প্রিন্স চার্মিংকে এসেই কেন তাকে উদ্ধার করতে হবে? নিজের দুরবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নিজেই খুঁজে নেয়া সম্ভব নয়? ঘরের কাজের মাঝে বা যে দুরবস্থাই হোক, তার মাঝে কি আনন্দ খুঁজে নেয়া যায়না? কিংবা জুতার মাপই কেন হবে একজন মানুষের জীবনসঙ্গী নির্ধারণের মাপকাঠি?? রাজকুমারের কি ভালবাসার অধিকার নেই? কেন এক রাতের সুন্দরী নাচের সঙ্গীকেই বাকি জীবনের সঙ্গী বানাতে হবে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর আনিমেটি খুব সুন্দরভাবে দিয়েছে। রূপকথার গল্পের গতানুগতিক পথ অবলম্বন না করে আনিমেটি দেখিয়েছে, সিন্ডারেলার আত্মসম্মান কতটা মজবুত এবং সে কতটা বাস্তববাদী একটা মেয়ে। আরও দেখিয়েছে, রাজকুমার মানেই সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না আসা বিলাসিতায় মেতে থেকে জীবন কাটানো অকর্মণ্য ব্যাক্তি নয়। আমাদের গল্পের রাজকুমার তার প্রাসাদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে প্রজাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে বসে থাকেনা।

 

Cinderella-cinderella-monogatari-33956575-636-462

 

সিন্ডারেলার সৎমা তার কাছ থেকে সব সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেয়। তাতে দমে যায়না সে। বরং তার সামনে আসা চ্যালেঞ্জকে হাসিমুখে মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর হয়। তাকে সাহায্য করার জন্যে তার “ফেইরি গডমাদার” মিস পল তার পোষা প্রাণীগুলোকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে দেন। তাদের সাথে নিয়ে সিন্ডারেলা প্রতিদিন তার সৎমার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার আশায় ধুলো দিয়ে প্রতিটা কঠিন কাজ সঠিকভাবে করে যেতে থাকে।

রাজকুমার চার্লস। “পান্না মহল” (Emerald Castle) এ তার বাস। রাজার একমাত্র সন্তান এবং উত্তরাধিকারী। তাকে রাজ্য পরিচালনার জন্যে তৈরি করে তুলতে রাজার চেষ্টার অন্ত্য নেই। অসিচালনায় রাজকুমারের তুলনা নেই। একদিন বন্ধু অ্যালেক্সকে রাজকুমার জানায় তার মনের কথা। এভাবে গতানুগতিক পথে শিখতে তার ভালো লাগছে না। যে রাজ্যটায় সে একদিন রাজত্ব করবে, সেই রাজ্যটাকে সে কাছ থেকে দেখতে চায়। রাজ্যের মানুষদের চিনতে চায়। আর তাই অ্যালেক্সের পুরনো কাপড় ধার নিয়ে প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ছদ্মবেশী চার্লস বেরিয়ে পড়ত রাজ্য পরিদর্শনে।

large

এভাবে শহরে ঘুরতে ঘুরতে একদিন রাজকুমারের দেখা হয়ে যায় সিন্ডারেলার সাথে। বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে আস্তে আস্তে তাদের দুজনের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।

তারা দুজন একসাথে বিভিন্ন মজার এবং ইন্টারেস্টিং ঘটনার মধ্য দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকে। সিন্ডেরেলার অসুস্থতার সময় যেমন চার্লসকে ঘরের কাজ করা শিখতে হয়, তেমনি চার্লস সিন্ডারেলাকে শেখায় অসিচালনা।

সবশেষে বলব, যদি গতানুগতিক কাহিনীর বাইরের একটি রূপকথা দেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এই আনিমেটি দেখে ফেলতে পারেন।

Cinderella.Monogatari_Cover

‘ব্ল্যাক ল্যাগুন’- রিভিউ- by Syed Tawsifuzzaman

নামঃ ব্ল্যাক ল্যাগুন

জানরাঃ অ্যাকশন, ক্রাইম ফিকশন,
ড্রামাl

ম্যাঙ্গাকাঃ রেই হিরই

পরিচালকঃ সুনাও কাতাবুচি

ম্যাল রেটিং- ৮.২৫

ম্যাল র্যাঙ্কিং- ২৫৩

আপনি কি হার্ডকোর অ্যাকশন পছন্দ করেন? আপনি কি গোলাগুলি দেখলে উচ্ছ্বসিত হন? রক্তাক্ত মানুষ দেখতে আপনার ভালো লাগে?

তাহলে আপনার জন্যই ব্ল্যাক ল্যাগুন। এই আনিমেটিতে এক এক এপিসোডে এক এক কাহিনী পাবেন যার প্রত্যেকটিই অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যদিও এখানে নির্দিষ্ট কোন রাইভাল বা ভিলেন পাওয়া যাবে না যার সাথে শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে। তবুও একেক এপিসোডে একেক ভিলেনও কম রোমাঞ্চকর নয়।

এর মূল কাহিনী হল একজন চাকুরীজীবী কে নিয়ে যার নাম ওকাজিমা রকুরো। যে দিনের পর দিন
তার বোরিং জব নিয়ে থাকে। তাকে বেশিরভাগ সময়ে তার উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে মাথা নত
করে চলতে হয়। তার এই একঘেয়ে জীবনকে পালটে দেয় একটি মাত্র সমুদ্র সফর।

পূর্ব চীন এর সমুদ্রপথে কোম্পানির একটি জরুরী ডকুমেন্ট নিয়ে যাত্রা করার সময় আধুনিক জলদস্যুদের হাতে পড়ে সে। এই জলদস্যুরা ল্যাগুন কোম্পানি নামে পরিচিত। তাদের হেড হল এক্স মেরিন লিডার ডাচ। এছাড়াও আছে রেভি নামের এক গান শুটার ও বেনি যে টেকনিক্যাল কাজ করে।

এই জলদস্যুদের সাথে পরিচিত হয়ে রকুরো বুঝতে পারে যে মানুষ কি পরিমাণ নিকৃষ্ট হতে পারে।
অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে গেল যখন রকুরোর কোম্পানি ডকুমেন্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে জলদস্যুদের মারার জন্য লোক পাঠাল এবং জলদস্যুদের সাথে রকুরোকেও খুন করার অর্ডার দিল।
এভাবেই কাহিনী এগোতে থাকে এবং বিভিন্ন পরিক্রমায় রকুরো পরবর্তীতে জলদস্যুদের সাথে যোগ দেয়।

এই আনিমেটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাকশন সিকুয়েন্স আছে। কাজেই যারা অ্যাকশন পছন্দ করেন
আনিমেটি যে তাদের ভালো লাগবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। তাই এই আনিমেটি আজ থেকেই দেখা শুরু করে দিতে পারেন, তাহলে উপভোগ করতে পারবেন হার্ডকোর অ্যাকশন থ্রিলার।

আমার নিজস্ব রেটিং – ৮

[এটা আমার প্রথম রিভিউ তাই আশা করি কোন ভুল হলে তা ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ!]

Black Lagoon Wallpaper

One Shot: ‘Bokura no Ibasho’- by মোঃ মাইদুল ইসলাম মাহি

Lovely Complex মাঙ্গা না পড়লেও অ্যানিমে প্রায় সবাইই দেখেছে, বিশেষ করে যাদের কমেডি-রোমান্স জানরা পছন্দ তারা তো অবশ্যই। এর লাইভ অ্যাকশন মুভিও রিলিজ হয় ২০০৬ এ। সেই মুভিতে Atsushi Otani চরিত্রে অভিনয় করেন Koike Teppei. এই ব্যক্তি একাধারে অ্যাক্টর আর সিঙ্গার। Eiji wentz আর তেপ্পেই এর ডুয়ো একসাথে WaT (Wentz and Teppei) নামে পরিচিত। 

কিন্তু ওয়ান শটের আলোচনায় এদের কথা কেন?? কারণ আর কিছুই না… এই ওয়ান শটের কাহিনী যে এদেরই নিয়ে! মাঙ্গাকা Nakahara Aya তার ‘Lovely Complex’ মাঙ্গার লাইভ অ্যাকশন মুভিতে অভিনয় করা এই তেপ্পেই এর জীবনের কাহিনী থেকেই ওয়ান শটটি তৈরি করেছেন। সে হিসেবে এই গল্প তেপ্পেই এর জীবন থেকে নেওয়া।

কাহিনী সংক্ষেপঃ 
ওসাকাতে পরিবার ফেলে টোকিয়োতে চলে আসে তেপ্পেই গায়ক হবার স্বপ্ন নিয়ে। এইজির সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। চারিত্রিক অনেক পার্থক্য থাকলেও মিউজিক নিয়ে দুইজনের একই ভালোলাগা, একই স্বপ্ন। কিন্তু তাদের স্বপ্নপূরণের পথটা মসৃণ হয় না। অনেক পরিশ্রম আর লেগে থাকাটাও বিফল হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে কীভাবে এই দুইজন সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাইই এখানে দেখানো হয়েছে।

MAL Rating: 7.14
Personal Rating: 8
Suggestion Priority: High

আর্টওয়ার্ক ভালো লেগেছে। কাহিনীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে একটাই চ্যাপ্টার হবার কারণে কাহিনী বেশ দ্রুতই শেষ। তেপ্পেই-এইজির কঠিন পরিশ্রমের দিনগুলি জানার জন্যে তা মোটেও যথেষ্ট না। আরও কিছু চ্যাপ্টার থাকলে খুশি হতাম। তবে সব মিলিয়ে অখুশি না।

[NB: এই ওয়ান শট যে ট্রু স্টোরি নিয়ে করা তা জানতে পারার মূল কৃতিত্ব MAL এ এর উপরে থাকা একমাত্র রিভিউটি। এজন্যেই মূলত এটা নিয়ে আগ্রহী হওয়া] 

ড়িভিউঃ Pokemon Origins – by Zakaria Mehrab

ইহাকে রিভিউ বলিলে রিভিউ এর অপমান হইবে , তাই আমি ইহাকে বলছি ড়িভিউ । ইহাই আমার প্রথম (এবং হোপফুলি শেষ) ড়িভিউ , তাই আশা করি ক্ষমাসুন্দর ও সুন্দরী দৃষ্টিতে দেখিবেন

ড়িভিউঃ Pokemon Origins

আপনি কি একজন দুর্ভাগা পোকেমন ফ্যান? জন্ম জন্মান্তর থেকে রিপিট হওয়া এপিসোড, এশ কেচাম এর বলদামি এবং হিন্দি মেগাসিরিয়াল কে হার বানানো এক একটি আর্ক দেখতে দেখতে আপনার “ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাচি” অবস্থা ? তাহলে আপনার, হ্যাঁ আপনার জন্যই Production I.G., Xebec এবং OLM Inc. বানিয়েছে পোকেমন অরিজিন । মূলত নিনটেনডো এর পোকেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি ; মেইনলি পোকেমন রেড এন্ড ব্লু গেম এর কাহিনী অবলম্বন এ বানানো এই আনিমে (মতান্তরে ওভিএ) মাত্র ৪ এপিসোড এর ; জি হ্যাঁ , ভুল পড়েননি , মাত্র চার এপিসোড এ পোকেমন এর একটি আর্ক সমাপ্ত করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে অনন্ত জলিল বাদ এ আরও অনেকেই অসম্ভব কে সম্ভব করার ক্ষমতা রাখেন । ৪টি এপিসোড এর প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক কর্তৃক পরিচালিত ।

বরাবরের মত কাহিনী শুরু হয় মাথায় ছিট ওয়ালা এক প্রফেসর এর বুড়ো বয়সের ভীমরতি কে কেন্দ্র করে, তার একদিন শখ হয় সকল বন্য জীবজন্তুর উপর তথ্য সংগ্রহ করার , এ জন্য সে নিয়োগ দেয় পাড়ার ছোটা মস্তান লাল মিয়া এবং তার নাতি নিলু আহমেদ কে , শুরু হয় চরম (এহেম) উত্তেজনাপূর্ণ, রোমাঞ্চকর এক অভিযান । এদিকে তাদের কাজে বাধা দেয়ার জন্য রয়েছে কুখ্যাত পোচার গ্রুপ রকেট সংঘ , লাল মিয়া কি ফাইরবে সকল বাধা অতিক্রম করে ন্যাশ্নাল হিরু হইতে ?? ফাইরবে কি সে বন্য প্রাণী ধরিয়া ধরিয়া তাহার টেনিস বলের স্টক শেষ করিতে ? জানতে হইলে আর দেরি না করে এখন ই মাত্র ৪ টি এপিসোড ডাউনলোড করে দেখা শুরু করে দিন পোকেমন অরিজিনস ।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখি , আপনি যদি মাথা খাটানো এবং অপূর্ব সব কৌশল এ পরিপূর্ণ ব্যাটল উপভোগ করতে চান তাহলে আপনাকে হতাশ হইতে হবে , এখানে সবকিছুই হইবে হার্ডকোর ; ধুমধাড়াক্কা এবং বাংলা সিনেমা হইতে অনুপ্রাণিত, ঐখানে ছেলে মেয়ে গান গাইতে গাইতে স্কুল কলেজ ভার্সিটি পার হইয়া যায় , আর এইখানে লাল মিয়া বাইক দিয়া যাইতে যাইতে হয়ত দুই তিন টা জিম জিতিয়া ফালাইছে, এক দুইটা ঘুষিতেই হয়ত অপোনেনট এর পোকেমন কুপোকাত করিয়া লাইছে । আবার আপনি যদি জেসি এবং জেমস এর বেশ বড় ভক্ত হইয়া থাকেন তাইলেও এই জিনিস আপনাকে শান্তি দেবে না । তবে গেম এর সবচেয়ে মেমরেবল মুহূর্তগুলো আমার মতে ভালভাবেই ফুটে উঠেছে ৪টি এপিসোডে । সবদিক বিবেচনা করে বলতে পারি “দেইখা ফালান , কি আকা গেবনে“ ? ভালো লাগার ই কথা , না লাগলেও সমস্যা নাই, ৪ টা এপিসোড ই তো !! আপনার ফিল যাতে ওভারলোড না হইয়া যায় সেই দিক বিবেচনা করেই স্টুডিও তিনটি ডিসিশন নিয়ে নিয়েছে যে তারা আর পঞ্চম কোন এপিসোড বানাচ্ছে না

MAL babaji’s rating: 8.07
personal rating: 7.0

গিনবান কেলাইডোস্কোপঃ A Bitter-sweet venture of searching Dream

অসাধারণ একটা প্লট, চমৎকার হাস্যরস-যা ঠিক সুড়সুড়ি দিয়ে হাসাবে না, এমনিতেই মজা পাওয়া যাবে, স্লাইস অব লাইফ আর ব্যতিক্রমী-চিত্তাকর্ষক ফিগার স্কেটিং ফিচার করা একটা স্পোর্টস এনিমে, খুব স্মার্ট রোমান্টিকতা আর হতাশা-পরাজয়ের গ্লানিকে ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবার এক অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প, মাত্র ১২ টি পর্বে…! অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? প্রথম দেখার পর আমারও তাই মনে হয়েছিল, যারা দেখেন নি আজকেই দেখে নেওয়ার প্ল্যান করুন-
‘গিনবান কেলাইডোস্কোপ’।

এনিমেটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর ব্যতিক্রমী স্টোরিলাইন। মূল চরিত্র সাকুরানো তাজুসা অলিম্পিকে জাপানের ফিগার স্কেটিং প্রতিনিধি হবার অন্যতম কনটেন্ডার, কিন্তু তার কিছুটা বদমেজাজ আর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হোঁচড় খাওয়ার প্রবণতার কারণে মিডিয়া এবং সাধারণের কাছে তীব্র বিতর্কিত। সমস্ত বিতর্ক আর সমালোচনার উর্ধ্বে উঠে অলিম্পিকে জাপানকে সফলতার সাথে রিপ্রেজেন্ট করে সাফল্য ছিনিয়ে আনতে তাজুসা যখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তখনই তার জীবনে আগমন ঘটে এক অনাহুত আগন্তুকের, চেহারা, চালচলন, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সবদিক থেকেই তাজুসার থেকে বেশ ভিন্ন কানাডিয়ান বিমানচালক পিট। সম্পূর্ণ দুই ভুবনের বাসিন্দা পিট আর তাজুসার এই একত্রে পথচলা কতদিনের জন্য? সাকুরানো তাজুসার ফিগার স্কেটিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এটা কি ধরণের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠবে? [স্পয়লার এড়ানোর জন্য কাহিনীর চমকপ্রদ অংশ বাদ দিতে হলো, কিন্তু প্রথম এপিসোডেই বুঝবেন দেয়ারস মোর টু ইট]
এই ধরণের স্টোরিগুলোর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে যেটা হয় যে খুব ফানি টাইপ হয়ে পড়ে, কিংবা ১২ পর্বে শেষ হতে গিয়ে তাড়াহুড়া করে একটা যা-তা এন্ডিং দিয়ে দেয়, কিন্তু আলোচ্য এনিমের হাস্যরসটা খুব স্ট্যান্ডার্ড এবং অতিরঞ্জিত নয়, ডায়লগ খুব ভালো, মজার, কখনো কখনো ইঙ্গিতপূর্ণ আর উপভোগ্য। আর এন্ডিং টাও বেশ ভালো, বাস্তবতাবিবর্জিত নয়, যেটা আবার এর আন্ডাররেটেড হবার পেছনে একটা কারণ হতে পারে। মিউজিক-এনিমেশন কোয়ালিটিও পর্যাপ্ত। স্পোর্টস এনিমে হিসাবে চিন্তা করলে এনিমেটি কিছুটা সাধারণ মানের, স্পোর্টস এনিমের টানটান উত্তেজনা, আকর্ষণ, টিমওয়ার্ক আর বাদবাকিসব টিপিক্যাল বৈশিষ্ট্য এতে বেশ অনুপস্থিত, তবে ব্যতিক্রমী স্পোর্টস ফিগার স্কেটিংকে ফিচার করায় একে কিছু মার্ক্স দেওয়া যেতে পারে।

এনিমেটি মূলতঃ তাজুসা আর পিটের চরিত্র দুটিকেই ফিচার করেছে, বাকি ক্যারেকটারগুলা তেমন গুরুত্ব পায় নি বললেই চলে, কিন্তু মূল চরিত্রদুটিকে খুব সুন্দরকরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পিট কিছুটা তাজুসার গাইডিং এঞ্জেল টাইপের, তবে তাজুসার প্রভাববিস্তারের পরও তার নিজস্বতা হারিয়ে যায় নি এতটুকুও। তাজুসা সাকুরানো হয়ত এনিমে জগতের অন্যতম চমৎকার ফিমেইল ক্যারেক্টার/হিরোইন, ভালো ডেভলাপমেন্ট, স্বাধীনচেতা ভাব, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর তাড়না, ডিটারমিনেশন বেশ প্রশংসনীয়। তার চরিত্র পূর্ণতা পায় যখন সাফল্য অর্জনের অম্ল-মধুর রাস্তা পেরিয়ে বিজয়ের দুয়ারে পৌঁছে সে বুঝতে পারে বিজয়ই সবকিছু নয়।

না দেখার কোন কারণ নেই, আজকেই দেখে ফেলুন। মাইএনিমেলিস্টে একাউন্ট খুলতে গিয়ে বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করলাম এই এনিমের রেটিং দেওয়া আছে মাত্র সাড়ে ৭…
আমার রেটিং- ৯ (বায়াসড অল্প একটু)…

la corda d’oro primo passo – by Hrittwik Barua

আ্যনিমে : la corda d’oro primo passo (Kiniro no Corda: Primo Passo)

জনরা : কমেডি , ড্রামা , ম্যাজিক , মিউজিক ।

প্রথম দেখা আ্যনিমেগুলার মধ্যে একটা হওয়ায় এই আ্যনিমের প্রতি আলাদা একটা ভালো লাগা কাজ করে । কাহিনী মোটামুটি মানের হলেও অসাধারণ সব ক্লাসিকাল মিউজিক পিসগুলোর কারণে আ্যনিমেটা বেশি ভালো লাগে । Schubert, Chopin, Boccherini, Kreisler, Pachelbel, and Paganini মতো ক্লাসিকাল মিউজিকের মায়েস্ত্রোদের মিউজিক পিসগুলা শুনে আপনি মুগ্ধ হবেনই । যদিও আমি মিউজিকের কিছুই বুঝি না কিন্তু শুনতে ভালো লাগে । মূলত এই আ্যনিমেটা দেখার পরই ইউটিউবে সার্চ করে কিছু ক্লাসিকাল মিউজিক শুনছি ।

গল্প : সেইসো একাডেমির জেনারেল ও মিউজিক ডিপার্টমেন্টের মধ্যে জেনারেল ডিপার্টমেন্টের ছাত্রী হিনো কাহোকো যে আগে কখনোই কোন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট বাজায়নি । একদিন স্কুলে পৌছাতে দেরী হয়ে যাওয়ায় স্কুল প্রাঙ্গনে হঠাৎ করেই দেখতে পায় মিউজিক ফেইরি লিলি যাকে কিনা কাহোকো ছাড়া আর কেউই দেখতে পায় না । এইখান থেকেই মূলত কাহিনী শুরু হয় । লিলির কারণে স্কুলের ট্র্যাডিশনাল মিউজিক কম্পিটিশানে জেনারেল ডিপার্টমেন্ট থেকে একমাত্র নাম যায় কাহোকোর। যেহেতু কাহোকো কোন মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতে পারে না সে লিলির থেকে একটা ম্যাজিকাল ভায়োলিন পায় যেটা কিনা একমাত্র সেই বাজাতে পারবে যে আসলে বিশ্বাস করে সে ভায়োলিন বাজাতে পারবে । এভাবেই কম্পিটিশানের প্রস্তুতি আর কম্পিটিটরদের নিয়ে কাহিনী আগাতে থাকে । ক্যারেক্টার ডেভেলাপমেন্ট গুলো ভালো লাগছে । যদিও বেশ রোমান্টিক কিন্তু ইন্ডিভিজুয়ালি কোন রোমান্টিক জুটি দেখায় না । কাহোকো আসলে কাকে পছন্দ করে সেটা রহস্যই থাকে । ব্যাপারটা একটু অস্বস্তিকর হলেও মজাই লাগে ।

মিউজিক : মিউজিক নিয়ে আসলে আর কিছুই বলার নাই । মিউজিক কম্পিটিশান নিয়ে যেহেতু আ্যনিমেটা আপনি অসাধারণ সব মিউজিক শুনবেন । ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও দারুণ ।

আমার পার্সোনাল ফেভারিট আভে মারিয়ার লিঙ্ক দিলাম এখানে : https://www.youtube.com/watch?v=EQYyNGJEsMo

ম্যাল রেটিং : ৭.৮
আমার রেটিং : ৭.৫

আনিমে রিভিউঃ ডেথ নোট; লিখেছেন ইফতেখার রহমান নিলয়

death note

 

Anime: Death Note

Episode Number: 37

MAL Score: 8.80

Ranked: 24

 

“ডেথ নোট” একটি নাম যেটা পৃথিবীর সকল আনিমেখোর দের কাছে খুব পরিচিত নাম। অনেকের কাছেই হয়ত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আনিমে সিরিজ। এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। এইরকম সাস্পেন্স, এইরকম মাইন্ড গেম আর কোন আনিমে তে আছে নাকি আমার জানা নেই। আমার আনিমে লাইফও শুরু হয় এই আনিমে সিরিজ দিয়েই। এরপরই হয়ে উঠি আনিমে খোর।

 

হাইস্কুল এর মেধাবী ছাত্র “লাইট ইয়াগামি”। সবসময় ক্লাসে টপার। চুপচাপ স্বভাবের শান্তশিষ্ট ছেলে। একদিন ক্লাসে থাকাকালীন সময় জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখতে পেলো আকাশ থেকে একটা ডায়েরী এসে স্কুলের বাগানে পড়ল। ক্লাস শেষে বাসায় যাওয়ার পথে তার মনে পড়ল ডায়েরীটার কথা। অনেক দ্বিধা কাটিয়ে ডায়েরীটা হাতে নেয় লাইট ইয়াগামি এবং ঠিক তখনি পাল্টে যায় লাইটের জীবন। বাসায় এসে ডায়েরী খুলে দেখতেই সে বুঝতে পারলো এটা কোন নরমাল ডায়েরী নয়। এটি একটি ডেথ নোট। এতে যার নাম লেখা হয় সে কিছুক্ষনের মধ্যে মারা যায়। প্রথমে বিশ্বাস না হলেও নির্দেশিকা পড়ে কাজ করার পর আর অবিশ্বাস করার কোন অবকাশ থাকে না। সে দেখতে পায় বীভৎস চেহারার এক দানবকে যার নাম “রিয়্যুক”। সে লাইটকে জানায় এই ডেথ নোটের মালিক এখন লাইট।

 

এরপর শুরু হয় লাইট এর পৃথিবী থেকে ক্রিমিনালদের মুছে ফেলার মিশন। এক এক করে হাজারো মানুষ কে মেরে ফেলে লাইট। এরই মধ্যে লাইট এর একটি ছদ্মনাম হয়ে যায় “কিরা”। হঠাৎ কাহিনীতে যোগ হয় এক্সাইটমেন্ট, যার নাম “এল”। যে পুলিশ এর হয়ে কাজ করে। এরপর যা শুরু হয় তা না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না।

 

সিরিজ এর ক্যারেক্টার ডিজাইন অনেক ভাল। এল এবং লাইট কে অসাধারন বানিয়েছে। এই দুইজন কে নিয়ে পুরো বিশ্বে চলে নানারকম কসপ্লে, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড, মিউজিক, স্টোরি, ক্যারেক্টার সব কিছুই একেকটা মাস্টারপিস এই সিরিজের। যদিও অনেকে এই সিরিজের এন্ডিং নিয়ে সমালোচনা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয়েছে এটাই ঠিক।

 

সব শেষে বলব এই আনিমে যদি এখনো কেউ না দেখে থাকেন তাহলে আপনার আনিমে লাইফ এখনো শুরু হয় নি। জলদি দেখে ফেলুন অন্যতম সেরা এই সিরিজটি।

পার্সোনাল রেটিং > ১০/ ১০