বাতাসের গুঞ্জন; কাযে নো স্টিগমা – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Kaze_No_Stigma_wallpaper

জনরাঃ অ্যাকশন, ফ্যান্টাসি, ম্যাজিক, রোম্যান্স, শৌনেন
ম্যাল স্কোরঃ ৭.৬১
এপিসোডঃ ২৪

ফায়ার ম্যাজিক ইউজার কানাগী পরিবারের প্রাইডের শিকার নিরীহ ছেলে কাজুমার জাপানে ফিরে আসা দিয়ে কাহিনী শুরু, কাজুমা জাপানে ফেরার সাথে সাথে কানাগী ফ্যামিলিতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে ওর সাথে কানাগীদের বিরোধ, এবং বিভিন্ন রহস্যময় ঘটনা নিয়ে জমে উঠছিল এনিমেটা। আস্তে আস্তে পরিবারের সাথে বিরোধ মেটার আভাস ও বড় একটা ঘটনার শেষ হওয়ার সাথে সাথে হঠাৎ এনিমে শেষ হয়ে যায়; মাঙ্গাকার মৃত্যুর কারণে।

কিন্তু যতটুকু হয়েছে খুব ভালো কাহিনী এবং ২৪ নম্বর এপিসোড দেখে ফেলার পর আফসোস হতে বাধ্য যে আরও নেই কেন। আর্ট স্টাইল মোটামুটি, ওএসটি বেশ ভাল। “হিতোরিকিরি নো সোরা” ট্র্যাকটা আমার অন্যতম পছন্দের এন্ডিংগুলোর মাঝে একটা। সেইসাথে জাপানিজ এবং ইংলিশ; দুই ভাষাতেই সেইয়্যুরা চমৎকার কাজ করেছেন।

তবে আয়ানোর সবকিছুতে অতিরিক্ত ন্যাকামো মাঝে মাঝে বিরক্ত ধরিয়ে দেয়।

Once Again [Manhua] Review

review poster 4

 

Genre: Drama, Romance, Slice of Life, Josei
Chapter: 7
Volume: 1
Author: Feng Xi, Shen Lei, BUDDY

 

Yuan Ge তার কর্মজীবনে এত বেশি সময় দেয় সারাক্ষণ, সাংসারিক জীবন বলতে যেন কিছুই নেই।
ঘুম থেকে উঠে অফিসে চলে যায় স্ত্রীর ঘুম ভাঙবার আগে, রাত্রে বাসায় ফেরত আসে স্ত্রী ঘুমিয়ে যাবার পরে। সকাল বেলায় আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ঠান্ডা নাস্তাই যেন তাকে মনে করিয়ে দেয় তার একজন স্ত্রী আছে। দুই জন ঘুমায় দুই আলাদা রুমে। এইটুকু বাদ দিলে Yuan Ge এর জীবনের বাকি অংশ দখল করে রাখে অফিসের ব্যস্ততা। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে অফিসে সাফল্যের আদর্শ উদাহরণ হিসাবে গড়ে তুলে নিজেকে। এমন সময়ে একদিন অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নিকট স্ত্রীর মৃত্যুর খবর চলে আসে।

বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকা স্ত্রীর অসুস্থতার কথা যেন সেই সময়ে মনে পড়ে তার। স্ত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে যেন বৈবাহিক জীবনের সব দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে, এবং আবার তার কর্মজীবনে ফেরত চলে যায় – এতটুকু সারা ফেলে না তার মনে।

Yuan Ge দক্ষতার কারণে যেকোন মানুষের চেহারা বা চালচলন দেখেই তাকে একদম পড়ে ফেলতে পারে, বুঝে নিতে পারে তার দক্ষতা কিরকম, কিংবা তার সাথে খাতির জমালে লাভ হবে না লোকসান। এমন অবস্থায় একদিন ট্রেনে চলার সময়ে এক স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দিকে তার দৃষ্টি পড়ে যায়। মেয়েটিকে কোনভাবেই যেন বুঝে উঠতে পারে না সে, খোলা বইয়ের মত সবাইকে পড়তে পারতো যেই Yuan Ge, সে কিনা এই অচেনা মেয়েটিকে দেখে কোন হিসাব মিলাতে পারে না! টিনেজ মেয়েটির মধ্যের শিশুসুলভ ব্যাপার-স্যাপার যেন তাকে আরও বেশি অবাক করে তুলে। বউ থাকার পরেও যেখানে বউকে কিংবা অন্য কোন মহিলার প্রতি বিন্দুমাত্র দৃষ্টি দিত না, সেই Yuan কিনা এখন প্রতিদিন ট্রেনে চড়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কখন মেয়েটি ট্রেনে উঠবে, তার দিকে এক পলক তাকাতে পারবে! ধীরে ধীরে একসময়ে Yuan টের পায় নিজের বয়সের প্রায় অর্ধেক বয়সী এই মেয়ের প্রতি তার অন্যরকম এক আকর্ষণ তৈরী হয়। বুঝতে পারে সে মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়।

একদিন আর ধৈর্য্যের বাঁধ ধরে রাখতে না পেরে মেয়েটির পিছু নেয় সে, উদ্দেশ্য তার সাথে একটু কিছু কথা বলা, তাকে আরেকটু জানা। মেয়েটির পিছু পিছু আসতে আসতে Yuan এসে পরে মেয়েটির স্কুলে – এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করে এটি সেই স্কুল যেখানে সে ছোটবেলায় পড়তো। হঠাত করে সে নিজের স্কুল জীবনের স্মৃতিতে চলে যায়, এবং সাথে সাথে যেন তার পুরা দুনিয়া ওলট-পালট হয়ে যায়! যে স্ত্রীকে জীবিত থাকাকালে একটুও সময় দিতে পারতো না, মৃত্যুর পরেও যেই স্ত্রীর জন্যে তার মন ভারাক্রান্ত হয় নি, এখন এতদিন পর স্ত্রীর সাথে জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত চোখের সামনে ভেষে উঠে। পুরানো দিনগুলি জাপটে ধরে তাকে, এবং Yuan আবিষ্কার করে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্তটুকু কিভাবে তার হাতছাড়া হয়ে যায়।

চরিত্র: ৯/১০

৭ চ্যাপ্টারের এই মানহুয়াটির মূল চরিত্র Yuan Ge, যাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সমগ্র কাহিনীটি। অল্প কয়েকটি চ্যাপ্টার হলেও এরই মধ্যে তার চরিত্রের দিকগুলি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে, প্রত্যেক চ্যাপ্টারের সাথে সাথে তার উপলব্ধি ও চারিত্রিক বিস্তৃতি চোখে পরার মত।

এছাড়াও গল্পের মূল চরিত্রের মধ্যে পরে স্কুল পড়ুয়া মেয়েটি, এবং Yuan-এর সদ্য অতীত স্ত্রী।

আর্ট: ৮/১০

শৌজো বা জোসেই ধাঁচের মাঙ্গার মতই আর্টস্টাইল, খুব বিশেষ কিছু নয়। তবে মূল চরিত্র বাদে বাকি কারও চেহারাই তেমন দেখানো হয় না, দেখালেও সেখানে Yuan তাদেরকে কী হিসাবে দেখছে সেটাই উল্লেখ থাকে শুধু।

গল্প: ৯/১০

অল্পের মধ্যে মন ছুঁয়ে যাবার মত একটি রোমান্টিক গল্প। বিশেষ করে শেষ দিকে এসে গল্পের টুইস্ট মনে সাড়া জাগাবে সহজেই।

উপভোগ্যতা: ৯.৫/১০

গল্পের আবর্তনের সাথে সাথে নায়কের প্রতি সমর্থন, সহমর্মিতা, বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও একটি করুণ পরিসমাপ্তি – একটি সফল উপভোগ্য ছোট রোমান্টিক গল্পে পরিণত করেছে একে।

MyAnimeList রেটিং: ৭.৯৬/১০
আমার রেটিং: ৯.০/১০

আমার পড়া সবচেয়ে সুন্দর রোমান্টিক গল্পগুলির মধ্যে পরবে unique এই গল্পটি।

MyAnimeList Link: http://myanimelist.net/manga/65923/Once_Again

মাঙ্গাটি পড়ুন এখানে: http://mangafox.me/manga/once_again/

তামাকোর মোচিসমৃদ্ধ পৃথিবী; তামাকো মার্কেট রিভিউ – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tamako_Market

“কি করব, যখন হঠাৎ করে মনে হচ্ছে, আনিমু দেখে আরাম পাইতেসি না, ধাড়ুম ধুড়ুমের ঠেলায় মাথা ধরে গেল?”

দ্য আন্সার ইজ কিওঅ্যানি!!

দেখে ফেললাম কিয়োটো অ্যানিমেশনের আরেকটি চমৎকার কাজ “তামাকো মার্কেট”। মোচি প্রস্তুতকারী পরিবারের মেয়ে তামাকো। তার বাড়ি বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ, তাদের পারিবারিক মোচিশপের পেছনে। তামাকো ভালবাসে তার পরিবারকে, তাদের দোকানকে, তাদের এই শপিং ডিস্ট্রিক্টকে; আর সবচেয়ে বেশি ভালবাসে মোচি তৈরি করতে।

১২ পর্বের এ সিরিজটিতে পুরোটা সময়ই তামাকো এবং তার আশেপাশের মানুষদের প্রাণবন্ত দৈনন্দিন জীবনের উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরা হয়। হঠাৎ একদিন হাজির হওয়া রাজকীয় মোরগসদৃশ কথাবলা পাখি দেরা, দেরার হাস্যকর কাজকর্ম, তামাকোর বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে নতুন ধরণের মোচি তৈরির আইডিয়া, প্রতিবেশী বাল্যবন্ধু মোচিজৌর সাথে প্রতি রাতে কাগজের কাপ ফোনে কথা বলা, সেইসাথে তার বন্ধু এবং পরিবারের সাথে যে সুন্দর সম্পর্ক; সবমিলিয়ে যে কাউকে ভাবতে বাধ্য করবে, আমার জীবনটাও যদি তামাকোর মত হত!

অ্যানিমেটিতে বেশ কিছু মনকে ছুঁয়ে যাওয়া মূহুর্ত আছে, আবার মুড হালকা করে দেয়ার অনেক এলিমেন্ট আছে! কিওঅ্যানির আর্ট নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, প্রতিটা চরিত্রই পছন্দ করার মত। ওএসটি খুব চমৎকার, ওপেনিং এবং এন্ডিং সং- দুটোই মনে ছাপ ফেলে দেয়ার মত; আমার বেশি পছন্দ এন্ডিং সংটা।

সবমিলিয়ে বেশ রিফ্রেশিং একটা অ্যানিমে ছিল তামাকো মার্কেট, হালকা কোন অ্যানিমে দেখতে চাইলে তামাকোর সাথে ঘুরে আসতে পারেন বানি মাউন্টেন শপিং ডিস্ট্রিক্ট এ।

sam_1494scaled

 

কুরোশিতসুজি- সার্কাস পর্ব; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10734268_420565528107959_2014149067390686627_n

Genres- Comedy, Demons, Fantasy, Historical, Shounen, Supernatural
Episodes- 10
Score- 8.41
Ranked- 145

 

কুরোশিতসুজি বা ব্ল্যাক বাটলার। অ্যানিমেটির এ পর্যন্ত সর্বমোট তিনটি সিজন বেরিয়েছে; বুক অফ সার্কাস তার মাঝে তৃতীয়টি। এটি মাঙ্গার “Noah’s Ark Circus” আর্কটি অনুসরণ করে বানানো।

কাহিনীর সময়কাল সেই পরিচিত সুপ্রাচীন ভিক্টোরিয়ার আমলের অভিজাত লন্ডনে, যেখানে বাস করে ফ্যান্টমহাইভ কোম্পানির মালিক, অভিজাত এই বংশের কিশোর উত্তরাধিকারী এবং কুইন ভিক্টোরিয়ার গার্ড ডগ- সিয়েল আর্ল ফ্যান্টমহাইভ। তার পরিবার এক দুর্ঘটনায় মারা যায়, এবং নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষা করার জন্য সে ডেমন বাটলার সেবাস্টিয়ান মিখাইলস এর সাথে নিজের আত্মার বিনিময়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

শহরে হঠাৎ করেই এসে হাজির হয় এক সার্কাস দল। অতি অল্পসময়ের মাঝে এই সার্কাস দলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। কিন্তু প্রায় একই সময়ে শহর থেকে একের পর এক ছোট ছেলেমেয়ে হারিয়ে যেতে থাকে। তাহলে কি এই সার্কাস দল এবং বাচ্চাদের হারিয়ে যাওয়ার মাঝে কোন যোগসূত্র আছে? রাণী ভিক্টোরিয়া আদেশ করেন এ ব্যাপারে তদন্ত করতে। রাণীর আদেশে সিয়েল তার ডেমন বাটলারকে নিয়ে ছদ্মবেশে ঐ সাকার্স তদন্ত করতে নামে।

কাহিনীতে বরাবরের মতই টিপটপ বাটলার সেবাষ্টিয়ানের নিখুঁত কাজের চমক এবং আনুগত্যের দেখা পাওয়া যায়, সেইসাথে পাওয়া যায় অদ্ভুতুড়ে ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টদের উল্টোপাল্টা কাজ। আর্ট, ক্যারেক্টার ডিজাইন সবই প্রায় আগের মতই, তবে কিছুটা উন্নত। এই সিজনের অন্যতম আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ছদ্মবেশী সিয়েল, সার্কাসের ভেতরে সেবাষ্টিয়ান ও সিয়েলের অভিযান, গ্রীম রিপাররা এবং অবশ্যই- ফ্যান্টমহাইভ সার্ভেন্টরা! শেষের দিকে কাহিনীটা একটু ডার্ক থিমের দিকে মোড় নেয়, যার কারণে এন্ডিংটা বেশ ভাল হয়েছে এবং পুরো অ্যানিমেটাই যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়েছে। মাত্র ১০ পর্বের অতি অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দরভাবে কাহিনীটা এক্সিকিউট করা হয়েছে। সেইসাথে রয়েছে মানানসই ওএসটি এবং ভয়েস অ্যাক্টরদের চমৎকার কাজ।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা বেশ উপভোগ্য হয়েছে। কুরোশিতসুজি প্রথম সিজনটির প্রথম ১৫ টি এপিসোড মাঙ্গা অনুসরণ করে; এরপর “কারি কনটেষ্ট আর্ক” এর পর থেকে বাকিটা এবং পুরো সিজন ২ মাঙ্গা অনুসরণ করে না। বুক অফ সাকার্সের কাহিনী মাঙ্গার কারি কনটেষ্ট আর্কের ঠিক পরের আর্ক থেকে শুরু, কাজেই ধরে নেয়া যায় যে এটি এপিসোড ১৫র পরের কন্টিনিউয়েশন।

তাই আমি বলব, যাদের কুরোশিতসুজির আগের সিজনগুলো ভাল লাগেনি, তারাও এই ছোট আর্কটা দেখে ফেলতে পারেন, ভালই লাগবে আশা করি!

গিন নো সাজি- রূপার চামচের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

000

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “অ্যানিমে কেন দেখ?” অনেক ধরণের উত্তরের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটা পাওয়া যায়, তা হল, “অ্যানিমে / মাঙ্গা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।” এই উত্তরটা আমাকে সবসময় খুব অবাক করত, কারণ আমি অ্যানিমে / মাঙ্গাকে সবসময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অন্তত এই একটি অ্যানিমে আমার ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই অ্যানিমেটা শেষ করার পর আমি মাঙ্গাটাও পড়ে ফেলি। তাই এই রিভিউটি গিন নো সাজির অ্যানিমে এবং মাঙ্গা দুটিই কভার করবে।

প্রথমে মাঙ্গা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই-
Genres: Comedy, Drama, School, Shounen
Authors: Arakawa, Hiromu (Story & Art)
Status: Publishing
Score: 8.26
Ranked: 428

Gin-no-Saji-Ep-2-Img-0016-1024x576

হাচিকেন ইয়্যুগো একজন শহুরে কিশোর। বলতে গেলে তার সারাজীবন কেটেছে চার দেয়ালের মাঝে। বাসা, স্কুল এবং পড়াশোনা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। এই শহুরে ছেলেটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সে কোন শহুরে হাইস্কুলে পড়বে না; বরং টোকিও থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি অ্যাগ্রিকালচারাল স্কুলে পড়বে, এবং সেখানে ডর্মিটরিতে থাকবে।

স্কুলের প্রথম দিন থেকেই হাচিকেন একের পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়ে! তার সহপাঠীরা সবাই খামারের কাজে ওস্তাদ; তারা সবাই এই স্কুলে এসেছে, কারণ তারা কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরিবারকে ব্যাবসায় সাহায্য করতে চায়। সেখানে হাচিকেন জীবনে কোনদিন কাছ থেকে গবাদি পশুও চোখে দেখেনি; অন্যদের কাছে যা স্বাভাবিক ঘটনা, হাচিকেনের কাছে সেগুলোই একেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ!

1

জীবনের টুকরা জনরার বিরূদ্ধে একটা সাধারণ অভিযোগ, এগুলো নাকি বোরিং। কিন্তু রূপার চামচের বিরূদ্ধে আমার অভিযোগ, এটা দেখতে বসলে খিদে পায়! আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো শুধু করার জন্য করি, সেগুলো যে আনন্দ নিয়েও করা যায়, তা গিন নো সাজি থেকে শিখেছি। একজন শহুরে ছাত্রের অ্যাগ্রিকালচার স্কুলে পড়তে যাওয়া, সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকার প্রচেষ্টা, বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক কিছু কথা- সব মিলিয়ে এই গল্পটি রূপার চামচের মতই এক টুকরো সম্পদ। সামান্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারও যে কতটা উপভোগ্য হতে পারে, আমরা যে পিজা দোকানে গিয়ে কিনে খাই, তা সবাই মিলে বানিয়ে খাওয়া কতটা মজার হতে পারে… একটা পশুকে নিজে হাতে যত্ন করে বড় করার পর তাকে খাদ্যে পরিণত হতে দেয়াটা একইসাথে কত কষ্টের এবং আনন্দের হতে পারে- জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোর গুরুত্ব এই গল্পটি আমাকে মনে করিয়েছে। সেইসাথে খামার বা কৃষিকাজ করে যারা জীবন যাপন করে, তাদের জীবনের সুখদুঃখটা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন মাঙ্গাকা, আর তা পারবেনই বা না কেন! এর আগে তিনিই যে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্টের মত অসাধারণ এক গল্প!

014

মাঙ্গাটি আরাকাওয়া সেনসেই এর কাজ, কাজেই আর্ট এবং গল্প বলার স্টাইলের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই, প্রতিটা পৃষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হালকা হাস্যরস তৈরি করেছেন, পড়ার সময় তা মনটাকে হালকা করে তোলে। সেইসাথে অ্যানিমেটিও কম যায়না, এর ঝকঝকে মন ভাল করা আর্ট এবং অসাধারণ ওএসটির কারণে।

একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মাঝে গল্প উপন্যাসকেও হার মানায়! সেই চ্যালেঞ্জ পার করতে “ও পারলে আমি পারব” ধরণের মানিসকতা কাজে দেয়না; বরং নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে সেখান থেকেই যা করা সম্ভব তা করতে হয়। নাকামা পাওয়ার নয়, এনিথিং ফর মাই নাকামা নয়, সাধ্যমত সাহায্য করা এবং না পারলে নিজের অক্ষমতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। গিন নো সাজিতে এই বার্তাটি খুব সুন্দর একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই, পারলে আজই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গাটি এবং আবিষ্কার করুন স্লাইস অফ লাইফ জনরার একটি অমূল্য রত্ন!

10847473_407429682754877_2032844622808354923_o

বর্ষাস্নাত আইরিশ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

10882306_419249071572938_7703574320598321572_n

সেই সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই মানব প্রজাতির শখ, ভবিষ্যত পৃথিবী কেমন হতে পারে তা কল্পনা করা। সেখান থেকেই উৎপত্তি ঘটেছে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বা সায়েন্স ফিকশনের। কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের পৃথিবী? কল্পকাহিনী লেখকেরা তাদের কল্পনার মাধ্যমে বারবার এই প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করেছেন। এই কল্পনাগুলোতে যে ব্যাপারটা মোটামুটি কমন পাওয়া যায়, তা হল রোবটের আধিপত্য। বর্ষাস্নাত দিনের আইরিশের গল্পেও লেখক তার কল্পনাতে রোবটের সুখ দুঃখ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

নভেলটির আদ্যোপান্তের কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Drama, Romance, Sci-Fi, Slice of Life, Psychological
Authors: Matsuyama, Takeshi (Story), Hirasato (Art)
Volumes: 1
Chapters: 5
Score: 8.40
Ranked: 243 (MyAnimeList)

গল্পটি শুরু হয় এক অজানা আশঙ্কার আভাস দিয়ে। একটি রোবটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। তার মেন্টাল সার্কিট রিড করতে থাকেন রালফ সিয়েল নামের এক ব্যক্তি। কাহিনী শুরু হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটির ডিসম্যান্টলিং এর ৭ দিন আগে থেকে।

গল্পটি ওভাল নামের এক আধুনিক শহরের। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির শীর্ষে পৌছেছে যে শহর। সাজানো গোছানো এ শহরটি পৃথিবীতে পরিচিত এর রোবট রিসার্চ সেন্টারের কারণে। শুধু রোবট নিয়ে গবেষণা চলে না এখানে, বরং বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য নিখুঁতভাবে রোবট তৈরিও করা হয়।

এই রিসার্চ সেন্টারের একজন প্রফেসর মিস ওয়েন্ডি ভন আমব্রেলা। অত্যন্ত সুন্দরী, মেধাবী এবং বিচক্ষণ এই প্রফেসর রোবটদের সাহায্য করার জন্য সবসময় ব্যতিব্যস্ত থাকেন। আর তার দেখভাল করার জন্য যে সবসময় ব্যস্ত থাকে, তার নাম আইরিশ রেইন আমব্রেলা।

আইরিশ হাসিখুশি এক কিশোরীর আদলে তৈরি রোবট। তাকে হঠাৎ দেখলে বোঝার কোন উপায় নেই যে সে আসলে এক হিউম্যানয়েড রোবট। সে প্রফেসর ওয়েনডির বাড়ি আমব্রেলা রেসিডেন্সে থাকে এবং তার দেখাশোনা করে। প্রফেসর ওয়েনডিও তাকে অত্যন্ত ভালবাসেন।

সবকিছুই তো ঠিকঠাক মতনই চলছিল। তাহলে কি এমন ঘটতে পারে আমব্রেলা রেসিডেন্সে? ধ্বংসপ্রাপ্ত রোবটটি কে? তার এই অবস্থা হল কিভাবে? গল্প যত এগিয়ে যায়, একের পর এক রহস্যের পরত খুলে যেতে থাকে।

গল্পটি আইরিশের।
গল্পটি অনুভূতির।
গল্পটি বেঁচে থাকার।
গল্পটি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার।
গল্পটি উপলব্ধির।

রোবটের যদি অনুভূতি থেকে থাকে, তাহলেও কি তাকে ঘরের আর দশটা যন্ত্রের মত করেই ব্যবহার করে ফেলে দেয়া যাবে? পরিবারের এক অপরিহার্য সদস্য হয়ে যে এতদিন ছিল, কাজ শেষ হলে তাকে ফেলে দিতে কি একটুও কষ্ট হবেনা?

মানুষ এবং রোবট। অনুভূতির প্রশ্ন এলে তাদের আলাদা করাটা মাঝে মধ্যে কঠিন হয়ে দাড়ায়। নভেলটি পড়তে পড়তে সবকিছু কখন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, টের পাইনি। চমৎকার বর্ণনাশৈলী, পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন চোখের সামনে দৃশ্যগুলো ভেসে উঠছে। শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত গল্পে ডুবিয়ে রাখার সব উপাদানই আছে এতে, সেই সাথে চমৎকার এন্ডিং!

তাই, আশা করব, যারা নভেলটি পড়বেন, তাদেরও আমার মতই ভাল লাগবে এবং পছন্দের নভেলের তালিকায় যুক্ত হবে।

লাইট নভেল রিভিউ; গেক্কোউ/চন্দ্রালোক – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

800px-Gekkou-006

“Gekkou” শব্দটার অর্থ করলে দাড়ায় চাঁদের আলো। যে আলোর তেজ নেই, তারপরেও সবার নজর কেড়ে নেয় তার মোহনীয় তীব্রতা দিয়ে। চাঁদ শুধু তার আলোকিত ঝলমলে চেহারাটা সবাইকে দেখায়। তার ঔজ্জ্বল্য দেখে বাকি সবাই সবকিছু ভুলে যায়। কিন্তু চাঁদেরও একটা অন্ধকার দিক আছে। সেই দিকটা সযত্নে গোপন রাখে সে। এমন চাঁদের মত একটি মেয়ে এবং আপাতদৃষ্টিতে নির্বিকার মনে হওয়া একটি ছেলের জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এই নভেলটির কাহিনী।

কিছু তথ্য দেয়া যাক-
Genres: Comedy, Mystery, Romance, School, Shounen
Authors: Mamiya, Natsuki (Story), Shiromiso (Art)
Volumes: 1
Chapters: 11
Score: 8.33
Ranked: 326 (MyAnimeList)

শুরুটা খুব সাদামাটা। মোটামুটি যেকোন হাইস্কুল অ্যানিমেতে খুঁজে পাওয়া যায়, এমন একটি ক্লাসরুম, দৈনন্দিন একঘেয়ে জীবনের ওপর বিতৃষ্ণ গল্পের নায়ক নোনোমিয়া এবং ক্লাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবদিক থেকে প্রায় নিখুঁত নায়িকা ইয়োকো সুকিমোরি। নোনোমিয়ার দিন কাটে তার ক্লাসের প্রতিবেশী এবং বান্ধবী উসামির সাথে ঠাট্টা করে এবং সহপাঠীদের সাথে গল্প করে, যাদের গল্পের বিষয়বস্তু বেশিরভাগ সময়ই ইয়োকো সুকিমোরি এবং তাকে নিয়ে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন গুজব।

আপাতদৃষ্টিতে ইয়োকো এবং নোনোমিয়ার মাঝে কোন ধরনের যোগসূত্র নেই এবং হওয়ার কোন সম্ভাবনাও নেই। ইয়োকো ক্লাসের সবচেয়ে নিখুঁত মেয়েটি, ঘরে বাইরে সবখানেই সে এলিগেন্ট। অপরদিকে নোনোমিয়া আপাতদৃষ্টিতে অতি সাধারণ। কিন্তু একটি ছোট্ট ঘটনা তাদেরকে একদিন গেঁথে দেয় একসূত্রে।

একদিন ক্লাস শেষে বইখাতা গুছানোর সময় নোনোমিয়া হঠাৎ দেখতে পায় মেঝেতে একটি নোটবুক পড়ে আছে। কৌতুহলবশত নোটবুকটি হাতে তুলে নেয় সে।

35488

আপনারা যা ভাবছেন তা নয়, ওটা ডেথনোট ছিল না!! ওটা ছিল ইয়োকো সুকিমোরির নোটবুক! এবং ঐ নোটবুকের ভেতর একটা কাগজ খুঁজে পায় নোনোমিয়া, যাতে হাতে লেখা বেশ কিছু পয়েন্ট গুছানো আছে। কাগজের ওপর শিরোনাম লেখা” “মার্ডার রেসিপি”.

এর মানে কি? ইয়োকোর কাছে মার্ডার রেসিপি কেন? সে কি কাউকে খুন করতে চায়? হেসেই উড়িয়ে দিল সেই সম্ভাবনাটা নোনোমিয়া। হয়ত এ ধরণের জিনিস নিয়ে গবেষণা করা ইয়োকোর শখ। কিন্তু এরপরেই একদিন সকালে ঘটল এমন একটা ঘটনা, যাতে মার্ডার রেসিপিটার দিকে নতুন নজরে তাকাতে বাধ্য হল নোনোমিয়া।

নভেলটি যখন প্রথম পড়া শুরু করি, প্রথম দুএক পৃষ্ঠা পড়ে আমি মনে করেছিলাম, হয়ত হাইস্কুলের প্লটে টিনেজ ছেলেমেয়েদের জীবনের ঘটনাগুলো নিয়ে গড়ে ওঠা নভেল হবে, এবং হ্যা, গল্পটা আসলেও তাই। কিন্তু শুধু সেটা নয়, বরং আরও কিছু। সামান্য একটা মার্ডার রেসিপি থেকে রহস্য শুরু হয়, যার কোনো ভিত্তিও হয়ত নেই, কিন্তু এখানেই লেখকের সার্থকতা। পুরোটা সময় পাঠককে উত্তেজনার মধ্যে রাখার সব উপকরণ এই নভেলে আছে, সেইসাথে রোমান্স এবং হাইস্কুল জীবনের জটিলতাগুলোও আছে।

প্রতিটা ক্যারেক্টারের এবং দৃশ্যের বর্ণনা চমৎকার, তাদের কল্পনা করে নিতে কোনই অসুবিধা হয়না। আমি নভেলটি পড়ার সময় একমূহুর্তের জন্যও বোর হইনি এবং চমৎকৃত হয়েছি বারবার!

যারা এই নভেলটি পড়েননি, আমি বলব তাড়াতাড়ি শুরু করে দিন, এবং জানুন এটি কত সুন্দর একটা রত্ন। এর কোন খুঁত আমার চোখে পড়েনি এবং আমি নিশ্চিত আর যারা পড়েছেন বা পড়বেন, তারাও খুব বেশি পছন্দ করবেন এটাকে।

Gekkou_ss1

Hyouka / Koten-bu Series রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

অ্যাডভেঞ্চার অথবা মিস্ট্রি জনরা চোখে পড়লে সাধারণত আমাদের মনে একধরণের ধারণা আসে, এই নভেলটির কাহিনী সেই ধারণার সাথে একেবারেই খাপ খায়না। কিন্তু তারপরেও, এই নভেলটি একটি নয়, বরং অনেকগুলো চমৎকার রহস্যের কাহিনী উপহার দিয়েছে পাঠকদেরকে।

প্রথমে কিছু তথ্য উপাত্ত দেয়া যাক-
Genres: Adventure, Mystery, School
Authors: Yonezawa, Honobu
Status: Publishing
Published: Oct 31, 2001
Score: 8.44
Ranked: 205 (MyAnimeList)

সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে, হাইস্কুল জীবন হল একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুবান্ধব অথবা নতুন কোন অভিজ্ঞতা অর্জন- সবকিছু মিলিয়ে এই জীবনটার জন্য প্রচলিত কথাটি হল “Rose-coloured life”. এবং, ধরে নেয়া হয় যে, এই গোলাপ রঙা জীবনই যেকোন মানুষের সবচেয়ে আরাধ্য বস্তু।

কিন্তু কারও যদি এই রোজ কালারড লাইফ ভাল না লাগে? কারও যদি এই সবকিছুকে শুধু শক্তির অপচয় বলে মনে হয়, তাহলে তার জীবনকে কি বলা যায়? “Grey coloured”?

ওরেকি হোতারু নিজেকে তেমনই মনে করে। সে এই রোজ কালারড লাইফের প্রতি কোন আকর্ষণ অনুভব করেনা। এমন নয় যে সে যারা এভাবে জীবনযাপন করে তাদের অপছন্দ করে। তবে সে নিজে এসব থেকে দূরে থেকে নিজের শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে চায়, কারণ, নিজের সম্পর্কে তার নিজের বক্তব্য হল, সে একজন “Energy Saver”.

Hyouka-hyouka-33509469-1024-768

হোতারুর জীবনের motto হল, “If I don’t have to do it, I won’t do it, If I have to do it, make it quick”. যদিও এই ব্যাপারটা নিয়ে তার একমাত্র কাছের বন্ধু সাতোশি ঠাট্টা করার সুযোগ পেলে কখনো ছাড়েনা। সাতোশি নিজে হল ডেটাবেইস। পৃথিবীর যতধরণের তথ্য, সবই সাতোশির ঝুলিতে সযত্নে সংরক্ষিত থাকে। আর যেকোন কিছুতে বিশ্বাসযোগ্য ঠাট্টা করতে তার জুড়ি নেই। হোতারুর সম্পর্কে তার ধারণা, হোতারু নিজের ক্ষমতাকে ঠিকমত ব্যবহার করে না। করলে সে অনেক কিছু খুব সহজেই অর্জন করতে পারত।

এই নির্বিবাদ, শক্তি সঞ্চয়কারী হোতারুর জীবন পাল্টে দিল, বেনারস থেকে আসা একটি চিঠি।

হোতারুর বড়বোন তোমোয়ে হোতারুকে চিঠি পাঠায় একটি অদ্ভুত অনুরোধ (অথবা আদেশ) করে। হোতারুর বড়বোন হাইস্কুলের যে ক্লাবের সদস্য ছিল, সেই ক্লাবটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। হোতারুর মত এনার্জি সেভারের জন্য এটা খুবই অপ্রয়োজনীয় একটি অনুরোধ, তাও বড়বোনের কথায় রাজি হয়ে হোতারু পা বাড়ায় ক্লাসিকস ক্লাবকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে।

কিন্তু ক্লাবরুমে পা দেয়ার সাথে সাথে হোতারুর জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। কে জানত, স্পেশাল ব্লকের চারতলার শেষমাথার ঐ গোধূলীর স্নিগ্ধ আলোয় স্নান করা আলোকিত ঘরের কোনায় দাড়িয়ে থাকা এলিগেন্ট দেখতে বড় বড় কৌতুহলী চোখের শান্তশিষ্ট মেয়েটি এভাবে ঝড় তুলে দেবে ওরেকি হোতারুর জীবনে! কে জানত, এনার্জী কনসার্ভিং হোতারু একের পর এক কাজ করে যাবে চিতান্দা এরুর ইচ্ছায়, যা তার স্বভাবের পুরো বিপরীত! কি এমন আছে সেই মিষ্টি স্বরের “কিনিনারিমাস” এ?!

আমার মতে, নভেলটির একইসাথে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দুর্বল দিক হল এর ট্যাগ। আমি নিজে যখন প্রথম শুরু করেছিলাম, আমার এক্সপেকটেশন ছিল মিস্ট্রি জনরার অন্যান্য কাহিনীর মতই মাথা ঘুরিয়ে দেয়া এবং প্লট টুইস্ট যুক্ত কোন কাহিনী হবে এবং পড়তে গেলে প্রতিটা লাইন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে ক্লু বোঝার জন্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা আসলে একেবারে উল্টো। একদম চিন্তাভাবনা ছাড়া হালকা মেজাজে যেকোন অবস্থায় পড়ার উপযোগী একটি নভেল এটি। প্রতিটা ক্যারেক্টারের নিজস্ব চার্ম আছে এবং আলাদাভাবে মনে ছাপ ফেলে দেবে। তাদের কথাবার্তা, কাজকর্ম নিজের অজান্তেই মনে একটা প্রশান্তির ভাব এনে দেবে। কিন্তু একইসাথে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হওয়া সমস্যাগুলো যখন খুব সহজে সমাধান হতে দেখা যায়, চমৎকৃত না হয়ে পারা যায়না।

এর একটা দুর্বল দিক হল, ট্যাগ দেখে এক্সপেকটেশন নিয়ে পড়তে শুরু করার পরে প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার একটু ধীরগতির এবং বোরিং মনে হতে পারে, যদি আপনি ধীরগতির কাহিনীতে অভ্যস্ত না হন। কিন্তু যত কাহিনী যত এগিয়ে যাবে, পাঠককে এর ভেতরে তত বেশি টেনে নেবে, তা নিশ্চিত।
নভেলটির এ পর্যন্ত তিনটি ভলিউম ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে, তবে আশার কথা হল, এর অনুবাদ এখনো চলছে, তাই আশা করছি এটা সম্পূর্ণ অনূদিত হবে কোন একদিন।আরেকটা কথা না বললেই নয়, এর অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন প্রায় নিখুঁত। স্টোরিতে দুএকটা ছোটখাট পার্থক্য আছে, তবে দুটো থেকেই একইরকম আবহ পাওয়া যায়।

কাজেই, আমার মতে, সকলের জন্য, বিশেষ করে যারা কখনো লাইট নভেল পড়েননি, তাদের শুরু করার জন্য এ নভেলটি আদর্শ। যদি পড়ে না থাকেন তাহলে আজই পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

বি. দ্র. – “হিওকা” এই নামটিই একটি বড় রহস্য।

সাইকো পাস – সিস্টেম সিবিল এবং বাস্তবতার সংঘর্ষ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

maxresdefault

 

এপিসোড সংখ্যা- ২২
জনরা- একশন​, সাই-ফাই, পুলিশ​

আমাদের পৃথিবী সাধারণত যে নিয়মটা ফলো করে- অপরাধ আগে ঘটবে, তারপর অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেয়া যাবেনা। কিন্তু কখনো কি কারও মনে হয়েছে, যদি এরকম কোন ব্যবস্থা থাকত যে কোন অপরাধ ঘটার আগেই সেটাকে কোনভাবে ঠেকানো যাবে? বা এমন কোন যন্ত্র থাকবে, যা দিয়ে স্ক্যান করে অপরাধ ঘটার আগেই অপরাধীকে সনাক্ত করে তাকে বিরত করা যাবে?

আমাদের আনিমেটির কাহিনী ভবিষ্যতে, যখন এইরকম একটি যন্ত্র আসলেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এবং শুধু আবিষ্কার বললে ভুল হবে, জাপানে এই যন্ত্রেরই রাজত্ব চলছে। যন্ত্রের নাম সাইকো পাস, আর পুরো ব্যাবস্থাটার নাম সিবিল সিস্টেম। প্রত্যেকটা মানুষের একটা করে সাইকো পাস রয়েছে। এটা দিয়ে তাদের অপরাধ প্রবণতা পরিমাপ করা হয়। যদি অপরাধ প্রবণতা কোন কারণে বিপদসীমা অতিক্রম করে তাহলে তার সাইকো পাস ঘোলাটে হয়ে যায় এবং রাস্তায় রাস্তায় বসানো শত শত স্ক্যানারে তা ধরা পড়ে। সেই মানুষটিকে চিকিৎসা দেয়া হয়, যাতে তার সাইকো পাস ঘোলাটে থেকে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর যদি বোঝা যায় যে তার সাইকো পাস কোনভাবেই আর ক্লিয়ার হবেনা, তাহলে তাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করা হয়। দেশে কোন আইন আদালত নেই, পুলিশদের হাতেও এখন আর পিস্তল বা রিভলবার নেই, আছে ডমিনেটর। এই যন্ত্র সাইকো পাসকে স্ক্যান করে অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। কেউ বড় কোন অপরাধ করতে চেষ্টা করলে ডমিনেটর তাকে এলিমিনেট করে দেয়, আবার অপরাধ ছোট হলে বা অন্য কোন কারণে সাইকো পাস ঘোলা হলে প্যারালাইজড করে দেয় যাতে তাকে চিকিৎসা দেয়া যায়। বিচার করার সব দায়িত্ব এখন সিবিল সিস্টেমের।

এই সময়ে জাপানের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেয় আকানে সুনামোরি। এরপর সে পরিচিত হয় ডমিনেটর যন্ত্রটার সাথে এবং তার কলিগ ইন্সপেক্টর এবং এনফোর্সারদের সাথে। এনফোর্সার তাদের বলা হয়, যাদের সিবিল সিস্টেম সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, কিন্তু ইন্সপেক্টরের খবরদারিতে রেখে তাদের অপরাধ প্রবণতাকে কাজে লাগানো হয় অপরাধী ধরতে। তাদের সাথে আকানে সুনামোরি কাজ করতে থাকে এবং দক্ষতা অর্জন করতে থাকে।

কিন্তু যত সময় যেতে থাকে, সমস্যা দেখা দেয়। একটা যন্ত্র কি আসলেই অপরাধী সনাক্ত করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়, বা যন্ত্র যাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, সে কি আসলেই অপরাধী, নাকি অন্য কোন কারণে তার সাইকো পাস ঘোলা হয়েছে… এই প্রশ্নগুলো উকি দিতে থাকে। আবার উল্টো প্রশ্নও সামনে এসে পড়ে। যদি কখনো এমন হয়, কোন মানুষ এমন উপায় খুঁজে বের করে ফেলেছে, যাতে তার সাইকো পাস সবসময় পরিষ্কার থাকে, তাহলে কি হবে? তার মাঝে যদি সিবিল সিস্টেম অপরাধ প্রবণতা খুঁজে না পায়, তাহলে তাকে কিভাবে ধরা হবে??

এভাবে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্লট নিয়ে এবং খুব চমৎকার কিছু ক্যারেক্টার নিয়ে গড়ে উঠেছে সাইকো পাস আনিমেটি। প্রতিটা ক্যারেক্টার অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আনিমেটি তার প্রমিস ধরে রেখেছে বলে আমি মনে করি। শিনিয়া কোগামি চরিত্রটি আমার পছন্দের চরিত্রের তালিকায় খুব দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছে।

এই আনিমের আরেকটা ব্যাপার উল্লেখ না করাটা অন্যায় হবে, তা হল এর ওএসটি। প্রতিটা গান পাল্লা দিয়ে সুন্দর এবং মনে ছাপ ফেলে দেয়। আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ প্রথম এন্ডিং সং “নামায়ে নো নাই কাইবুতসু বাই ইগোইস্ট”। শোনার পর থেকে ইনফিনিট লুপে দিয়ে রেখেছি।

খুব জলদি এই আনিমেটার সেকেন্ড সিজন বের হতে যাচ্ছে, কাজেই যারা এখনো প্রথম সিজন দেখেননি, তারা দেখে ফেলতে পারেন। আর যারা দেখেছেন তারা তো সবাই জানেনই এটা কতটা ভালো একটা আনিমে!

সাইকো পাস

Movie Time With Yami – Guest Corner!

 

ryougi_shiki-1567283

[এটা একটা স্পেশাল পর্ব, আজকের সাজেশন লিখেছেন আমাদের গ্রুপের Kara no Kyoukai ব্র্যান্ড রিপ্রেসেন্টেটিভ Subarno Hossain.]

Name: Kara no Kyoukai/Garden of Sinners – Borderline of Emptiness
Range: 8 movies and 3 specials.
MAL score (total average): 8.08

এটা ঠিক রিভিউ না, বরং যারা সিরিজটা দেখেননি, তাদের জন্য কিছুটা প্রিভিউ বলা যেতে পারে। এটা Type-MOON (যারা Fate/Stay Night তৈরি করেছেন) এর প্রথম কাজ। এটা প্রথম লেখা শুরু হয় সেই ১৯৯৮ সালে, এবং প্রথম মুভিটা বের হয় ২০০৭ সালে। এই আনিমেটাকে বলা যেতে পারে ‘চরিত্র-বিষয়ক’ একটি আনিমে, কারণ এখানে প্লট অথবা সেটিং এর চেয়ে চরিত্রদের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আপনার যদি এই আনিমের প্রথম মুভি ভাল লাগে, তাহলে আপনি পরের মুভি দেখবেন সেখানে ঘটনা কি ঘটে তা জানতে নয়, বরং শুধুমাত্র আনিমের মূল চরিত্র কি করে, তা জানতে।

Kara no Kyoukai এর মূল চরিত্র রিওগি শিকি (Ryougi Shiki), যার রহস্যময় ব্যবহার এবং আচার-আচরণ চোখে পড়ার মত। সংক্ষেপে, শিকি দেখতে মেয়ের মত হলেও তাকে ছেলেই বলা যেতে পারে। এমন না যে তাকে সাধারণ Tomboy বলা যাবে… কারণ তার চরিত্রের শুধু ১টি নয়, ৪ (হ্যাঁ, চার) টা দিক আছে! কোনটা কি আমি তা বললাম না, মুভি দেখে বুঝতে পারলেই ভাল হবে। তার এই দ্বৈত সত্ত্বার সাথে তার রয়েছে এক আলৌকিক ক্ষমতা, যার নাম “Mystic Eyes of Death Perception”; এগুলো তার জীবনে কি প্রভাব ফেলে, এটিই এই আনিমের মূল লক্ষ্যবস্তু।

তার সাথে রয়েছে আরও কিছু চরিত্র, যার মধ্যে আছে ককুতউ মিকিয়া (Kokutou Mikiya) যাকে বলা যেতে পারে শিকির একমাত্র ‘বন্ধু’, এবং আওযাকি তউকো (Aozaki Touko), একজন জাদুকর যার বিশেষত্ব পুতুল বানানো। প্রতিটা মুভিতে একটা ভিন্ন antagonist রয়েছে, এবং মজার বিষয় হল সব সময় তা নাও থাকতে পারে।

তাহলে মুভির প্লটটা আসলে কি? এই প্রশ্নের কোন সহজ উত্তর নেই, কারণ এটা psychological or mystery হিসেবে বলা হলেও আনিমেটাকে একটা খুবই উন্নত ‘Slice-of-Life’, অথবা অন্তস্তলে, simple Romance ও বলা যেতে পারে। প্রত্যেকটা মুভির একটা করে আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে, যার প্রভাব অন্য মুভিতেও ভিন্নভাবে পড়ে। সেটা দেখার পরেই বোঝা যাবে।

আমার নিজের মতে, মুভিগুলোর সবচেয়ে অসাধারণ বিষয় চরিত্র নয়, বরং ওএসটি, আর্টওয়ার্ক এবং অ্যানিমেশনের গুণগত মান মিলে কিভাবে একটা মনমাতানো অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। Ufotable সবসময় উচ্চ মানের আনিমে তৈরি করে থাকে, কিন্তু আমার মতে Kara no Kyoukai তাদের ‘Magnum Opus’. কালাফিনার মিউজিক এখানে seamlessly integrate করা হয়েছে, এবং প্রত্যেকটা সিনে একটা অন্য লেভেলের আবহ তৈরি করেছে।

Movie Download Link –
http://kissanime.com/Anime/Gekijouban-Kara-no-Kyoukai-The-Garden-of-Sinners

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!