চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান – ৬ — কেইরন ও অ্যাকিলিস (ফেইট/অ্যাপোক্রিফা) — Shifat Mohiuddin

আচ্ছা, এবার আমি দুটো চরিত্রকে একসাথে উঠিয়ে আনতে চাচ্ছি লেখাতে। চরিত্র দুটোই গ্রীক মিথের অন্তর্ভুক্ত। ফেইট/অ্যাপোক্রিফা যেহেতু এখন খুব হাইপড মোমেন্টে আছে তাই ভাবলাম এখনই সময় দুইজনকে নিয়ে আলোচনা করার।

প্রতিটি ফেইট সিরিজেই একজন আরেকজনের সাথে পূর্ব পরিচিত এমন একাধিক সারভেন্টের দেখা পাওয়া যায়। ফেইট জিরোতে ছিল আর্থুরিয়া-ল্যান্সেলট, স্টে নাইট আর UBW তে ছিল গিলগামেশ-আর্থুরিয়া। অ্যাপোক্রিফাতেও এর ব্যতিক্রম হল না। হ্যাঁ, আজকের পোস্ট পূর্ব পরিচিত গুরু-শিষ্য যুগল কেইরন আর অ্যাকিলিসকে নিয়ে। দুইজনের কাহিনীই গ্রীক সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে। দুইজনই দেবতাদের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন, যুগে যুগে তাদের নিয়ে অসংখ্য কাব্য, নাটক ও চিত্রকর্ম রচিত হয়েছে। আধুনিক সাহিত্য ও অন্যান্য শিল্পকর্মেও তাদের নিয়মিত আবির্ভাব দেখা যায়। যেহেতু মিথ এবং এনিমে দুই জায়গাতেই তারা খুব ডিপলি কানেক্টেড তাই এক পোস্টেই তাদের অতীত নিয়ে আলোচনা করবো।

শুরুর আগে বলে রাখি, কেইরন আর অ্যাকিলিস দুজনই সম্পূর্ণ মিথিকাল চরিত্র। তাদের ঐতিহাসিক সত্যতা নেই বললেই চলে। কেইরন তো মানুষ নন তাই তার অস্তিত্ব থাকার প্রশ্নই উঠে না। অ্যাকিলিসও কাল্পনিক চরিত্র তবে ট্রয় যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রমাণাদি থাকায় অ্যাকিলিসের মত বড় কোন বীরের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ধারণা করা হয় একাধিক বীরের বীরত্বগাথা যোগ করে গ্রীক কবিরা অ্যাকিলিসের গুণকীর্তন করেছেন।

Fate Apo Chiron Achilles 1

চরিত্র: কেইরন (Chiron)
এনিমে: Fate/Apocrypha 
ভূমিকা: মধ্যমপন্থী
জাতীয়তা: ? (পেলিয়ন নামক এক পর্বতে বাস করতেন)
জন্মস্থান: জানা যায় নি
জন্ম ও মৃত্যুসাল: জানা যায় নি

চরিত্র: অ্যাকিলিস (Achilles)
এনিমে: Fate/Apocrypha 
ভূমিকা: মধ্যমপন্থী
জাতীয়তা: গ্রীক (থেসেলিয়ান)
জন্মস্থান: থেসেলি, গ্রীস
জন্ম ও মৃত্যুসাল: জানা যায় নি

যেহেতু শিক্ষক তাই কেইরনকে দিয়েই শুরু করি। সবাই জানি কেইরন মানুষ নন, তিনি একজন সেন্টর। সেন্টররা এক ধরণের পৌরাণিক প্রাণী যাদের শরীরের অর্ধেক ঘোড়া আর অর্ধেক মানুষের মতন। সেন্টররা মারাত্মক অশিক্ষিত, উশৃঙ্খল, মদ্যপ, ধর্ষকামী জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু কেইরন অন্যান্য সেন্টরদের চেয়ে আলাদা ছিলেন। এর কারণ জানতে চাইলে সেন্টরদের উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

সেন্টরদের জন্ম হয়েছিল খুব অদ্ভুতভাবে। ইক্সিওন নামের একজন রাজা একবার দেবী হেরার (জিউসের স্ত্রী) প্রতি খুব প্রলুব্ধ হয়ে পড়েছিল। জিউস তাই ইক্সিওনের সাথে একটু কৌতুক করে বলা যায়। জিউস ধুলা আর মেঘের সমন্বয়ে হেরার মত দেখতে একটি আকৃতি তৈরি করে। ইক্সিওনের সাথে এই আকৃতির মিলনের ফলে যেসব প্রাণীর জন্ম হয় তাদের শরীরের নিচের অংশ ঘোড়ার মত আর উপরের অংশ মানুষের মত ছিল। এদের বংশধরেরাই পরে সেন্টর নামে পরিচিতি লাভ করে।

কেইরনের জন্ম এসব সেন্টরদের মত হয় নি। আসলে সেন্টরদের জন্মের অনেক আগেই কেইরনের জন্ম হয়েছিল। টাইটানদের শাসক ক্রোনোস (জিউসের বাবা) একবার ফিলাইয়া নামের এক মৎসকন্যার সাথে ঘোড়ার রূপ ধরে জোর করে মিলিত হন। (এইসব অস্বাভাবিক সম্পর্ক গ্রীক মিথে স্বাভাবিকই বলা যায়!) ফিলাইয়ার গর্ভেই কেইরনের জন্ম হয়। আর কেইরনের দেহের নিম্নাংশের আকার হয় ঘোড়ার মত। টাইটানের ঔরসে জন্ম নেওয়ায় কেইরনের বুদ্ধিমত্তা উচ্চপর্যায়ের ছিল। গ্রীক মিথে খুব কম সংখ্যক বুদ্ধিমান সেন্টরের অস্তিত্ব পাওয়া যায় আর কেইরন ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান। কেইরনের দৈহিক আকৃতিও অন্য সেন্টরদের চেয়ে ভিন্ন ছিল। বিভিন্ন চিত্রকর্মে দেখা যায় যে, কেইরনের সামনের পা দুটো মানুষের যেখানে অন্য সেন্টরদের চারপাই ঘোড়ার মত ছিল।

কেইরনের শৈশব-কৈশোর সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় নি। শৈশবে অ্যাপোলো ও আর্টেমিসের সঙ্গ কেইরনের শান্তিপ্রিয় ও যৌক্তিক চরিত্র গড়ে তোলার পেছনে ভূমিকা রাখে। কেইরন সেন্টর-মানুষ উভয়ের কাছেই শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। সেন্টরদের সাথেই তিনি বসবাস করতেন এবং মাউন্ট পেলিয়নে তিনি অন্য অসভ্য সেন্টরদের সাথে বিতাড়িত হয়ে আসেন। কেইরন অন্য সেন্টরদের সভ্য করার চেষ্টা চালাতেন। বর্ষীয়ান হওয়ায় মানুষের সাথে কেইরনের পরিচয় কিভাবে হয়েছিল তা জানা যায় না। কয়েক পুরুষ ধরে অসংখ্য বীর কেইরনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছে তাই তার বয়স ও কালও আন্দাজ করা যায় না।

একজন দক্ষ সমরবিদ, জ্যোতিষী ও চিকিৎসক হলেও কেইরনের মূল পরিচিতি ছিল শিক্ষক হিসেবে। অসংখ্য মানুষ তার কাছে যুদ্ধবিদ্যার শিক্ষা নিয়েছিল। পার্সিয়াস, থিসিয়াস, ইনিয়াস, অ্যাজাক্স, জ্যাসন (স্টে নাইটের মিডিয়ার স্বামী), হেরাক্লস (হারকিউলিস), অ্যাকতিওন সহ অনেক বড় বড় বীর কেইরনের নিজের হাতে গড়া। এছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রের একজন আদি পথপ্রদর্শক হিসেবে কেইরনকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।

Fate Apo Chiron Achilles 2

অ্যাকিলিসের কাছে আসা যাক। এই শিক্ষকতার সুবাদে অ্যাকিলিসের সাথে কেইরনের পরিচয়ের সূত্রপাত ঘটে। অ্যাকিলিসকে চেনে না এমন কেউ গ্রুপে মনে হয় না আছে। ট্রয় সিনেমার ব্র‍্যাড পিটের দুর্দান্ত অভিনয় কে ভুলতে পেরেছে! অ্যাকিলিসকে সহজেই গ্রীক মিথের সবচেয়ে জনপ্রিয় বীর বলা যায়। অ্যাকিলিসের মত সুদক্ষ যোদ্ধা, বক্তা ও নেতা কমই আছে গ্রীক সাহিত্যে। শৌর্য-বীর্যে অ্যাকিলিস অনন্য আর সবচেয়ে সুদর্শন বীর হিসেবেও অ্যাকিলিস স্বীকৃত। এনিমেতে অ্যাকিলিসের বিশৌনেন হওয়াটা তাই খুবই যৌক্তিক। এখন অ্যাকিলিসকে নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা করা যাক।

অ্যাকিলিসের জন্ম থেসেলিতে, তার পিতার নাম পেলেয়ুস, মাতার নাম থেটিস। অ্যাকিলিসের জন্ম নিয়ে বিশাল একটা কাহিনী আছে। সংক্ষেপে বর্ণনা করছি:

অ্যাকিলিসের মা থেটিস ছিল একজন সমুদ্রদেবী। প্রধান দুই দেবতা জিউস আর পোসাইডন দুজনেই থেটিসের পাণিপ্রার্থী ছিল। কিন্তু ভবিষ্যৎবাণী আসে যে থেটিসের গর্ভে জন্মানো সন্তান তার পিতার চেয়েও শক্তিশালী হবে। তাই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দুজনেই পিছিয়ে আসে। থেসেলির শাসক বীর পেলেয়ুসের সাথে থেটিসের বিয়ে ঠিক করা হয়। বলা যায় এই বিয়েতে ঘটিকালির কাজটা কেইরনই করেন। এখানেও একটা বিশাল কাহিনী আছে তবে সেটা অন্যদিনের জন্য তোলা থাকুক। তো এভাবে জন্মের আগেই অ্যাকিলিসের সাথে কেইরনের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।

বিখ্যাত ‘অ্যাকিলিস হিল’ প্রসঙ্গে আসা যাক। মানুষ হওয়ার পরও অ্যাকিলিস প্রায় অমর ছিলেন, শুধুমাত্র বাম পায়ের গোড়ালিই তার একমাত্র মরণশীল জায়গা ছিল। ‘অ্যাকিলিস হিল’ তৈরি হওয়া নিয়ে দুটো কাহিনী প্রচলিত:

১। থেটিস সমুদ্রদেবী হওয়ায় পাতালের নদী স্টিক্সের অবস্থান জানতেন। শিশু অ্যাকিলিসকে তিনি সেই নদীর পানিতে গোসল করাতেন নিয়মিত। শিশু অ্যাকিলিসকে বাম পায়ে ধরে উল্টো করে স্টিক্সের পানিতে ডোবানো হত। ফলে অ্যাকিলিসের সারা দেহই অমর হয়ে যায়। পায়ের গোড়ালি হাতে ধরা থাকতো বলে সেই স্থানে পানি লাগে নি। এ কারণেই বাম পায়ের গোড়ালিই অ্যাকিলিসের একমাত্র দুর্বল জায়গা ছিল। এই কাহিনীটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

Fate Apo Chiron Achilles 4
থেটিস শিশু অ্যাকিলিসকে স্টিক্স নদীতে স্নান করাচ্ছেন

২। অন্য আরেকটি কাহিনী অনুসারে থেটিস নিজ পুত্রের সারাদেহ অ্যামব্রোসিয়া (দেবতাদের খাদ্য- সহজ ভাষায় অমৃত) দ্বারা আবৃত করে অ্যাকিলিসের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এর ফলে অ্যাকিলিসের ভেতরের মরণশীল অংশ পুড়ে যায়। পেলেয়ুস এই ঘটনা দেখতে পেরে নিজ স্ত্রীকে বাঁধা দেন। অ্যাকিলিসের বাম পা শুধুমাত্র আগুনের স্পর্শ পায় নি তাই এই জায়গাটাই তার একমাত্র মরণশীল জায়গা হিসেবে রয়ে যায়। পেলেয়ুস বাঁধা দেওয়ায় থেটিস ক্রোধান্বিত হয়ে পরিবার ত্যাগ করেন এবং সমুদ্রে চলে যান।

‘অ্যাকিলিস হিল’ প্রবাদটি দিয়ে এখন কোন শক্তিশালী জিনিসের দুর্বল জায়গাকে ইঙ্গিত করা হয়।

কেইরনের কাছে অ্যাকিলিসের শিক্ষা গ্রহণের প্রসঙ্গে আসা যাক। হোমারের ‘ইলিয়াডে’ এ প্রসঙ্গে কোন তথ্য নেই। কবি Statius এর কাব্য ‘অ্যাকিলিডে’ এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ আছে।

অ্যাকিলিসের পিতা পেলেয়ুস নিজেই কেইরনের ছাত্র ছিলেন। থেটিস চলে যাওয়ার পর পেলেয়ুস নিজের ছেলেকে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য কেইরনের কাছে নিয়ে আসেন। কেইরনের কাছে অ্যাকিলিস নয় বছর অধ্যয়ন করেন। কেইরন অ্যাকিলিসকে তলোয়ারবিদ্যা, রথচালনা, বর্শাচালনা, তীরন্দাজি সহ যুদ্ধবিদ্যার সকল শাখায় পারদর্শী করে তোলেন। হিলিং মেডিসিনেও অ্যাকিলিস তার কাছ থেকে বিশেষ জ্ঞান লাভ করেন যা ট্রোজান যুদ্ধে কাজে এসেছিল। শরীর সম্পর্কিত এসব বিদ্যা ছাড়াও সুস্থ মানসিকতা তৈরির শিক্ষাও তিনি কেইরনের কাছে পান। অ্যাকিলিসের ভাষ্যে,

“তিনিই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ন্যায়ের ধারণার সাথে।” (অ্যাকিলিড- 2.163-4).

কেইরনের সামনে পেলেয়ুস, কোলে শিশু অ্যাকিলিস
কেইরনের সামনে পেলেয়ুস, কোলে শিশু অ্যাকিলিস

এইসব শিক্ষা কোন আরামদায়ক উপায়ে আসে নি। কেইরন অ্যাকিলিসকে সিংহের নাঁড়িভুঁড়ি, স্ত্রী নেকড়ের মজ্জা ও বন্য শুয়োরের মাংস খাওয়াতেন। এই ভয়ানক খাদ্যাভাসের সাথে চলতো কঠোর সাধনা। দয়ালু হলেও বকাঝকার বেলায় কেইরন কোন কার্পণ্য করতেন না। অ্যাকিলিসের ভাষ্যে,

“আমি শক্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম কিন্তু নদীর প্রবল স্রোত আর তার ক্রমাগত তাড়া দেওয়ার কারণে আমি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে ভয়ানক হুমকি দিলেন এবং বকাঝকা করে ধুয়ে দিলেন। আমি ভয়ে জায়গা ছেড়ে নড়তে পারলাম না।” (অ্যাকিলিড- 2.146-150).

Fate Apo Chiron Achilles 5
কেইরনের কাছে অ্যাকিলিসের তীরন্দাজি শিক্ষা। সাথে শাসনও চলছে সমানে

এইধরণের অম্লমধুর আচরণের কারণে অ্যাকিলিস আর কেইরনের সম্পর্কটা ছাত্র-শিক্ষকের গণ্ডি পেরিয়ে অনেকটা পিতা-পুত্রের মত হয়ে যায়। অ্যাকিলিস কয়েকবার কাব্যে কেইরনকে পিতৃস্থানীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। কেইরন যখন অ্যাকিলিসকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন তখন অ্যাকিলিস তাকে পিতা হিসেবেই মনে করতেন। এক সন্ধ্যায় থেটিস তাকে দেখার জন্য কেইরনের আস্তানায় আসলে অ্যাকিলিস মাকে ছেড়ে কেইরনের উপরেই গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকে। কবির ভাষ্যে:

“রাত গভীর থেকে গভীরতর হয়। দীর্ঘদেহী সেন্টর পাথরের উপর এলিয়ে পড়েন আর ছোট্ট অ্যাকিলিস তার কাঁধে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়ে। যদিও তার মা এখানেই আছেন কিন্তু অ্যাকিলিসের কাছে পারিবারিক টানের চেয়ে এটাই বেশী পছন্দনীয়।” (অ্যাকিলিড- 1.195-97).

এখানে কেইরনকেও কোন সেন্টর মনে হচ্ছে না। কেইরনের দেহ পশুর হলেও অন্তরে যে কোন পশুত্ব নেই তা এখান থেকে বোঝা যায়। দয়ালু কেইরন এর এই ভালবাসা অ্যাপোক্রাইফায় কেইরনের মাস্টার ফিয়োরেও পেয়েছে। আমি খুব আবেগান্বিত হয়ে গিয়েছিলাম যখন কেইরন, ফিয়োরের হাতের উল্টোপিঠে চুমু খেয়ে বিদায় নেয়।

কেইরনের পিঠে কিশোর অ্যাকিলিস!
কেইরনের পিঠে কিশোর অ্যাকিলিস!

অ্যাকিলিসে ফেরা যাক। প্রশিক্ষণ শেষে অ্যাকিলিস নিজ রাজ্যে ফিরে আসে। গ্রীসের সবচেয়ে সুন্দরী নারী হেলেনের স্বয়ংবর সভায় অ্যাকিলিসও অংশ নেয়। পরে হেলেন, প্যারিস কর্তৃক ট্রয় নগরীতে অপহৃত হলে অন্যান্য বীরদের মত অ্যাকিলিসও ট্রয় অভিযানে যোগ দেন। যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে মা থেটিস অ্যাকিলিসের সাথে দেখা করেন। থেটিস বলেন যে দেবতার আশীর্বাদে তিনি অ্যাকিলিসের জন্য দুটো গন্তব্য নিয়ে এসেছেন:
১। অ্যাকিলিস কোন যুদ্ধে যোগদান করতে পারবে না। তবে এর বিনিময়ে অ্যাকিলিস একটি দীর্ঘ, সুখী জীবন পাবে।
২। যুদ্ধে যোগদান করলে অ্যাকিলিস অনেক বড় বীর হবে কিন্তু বেশীদিন বাঁচতে পারবে না।

রোমাঞ্চপ্রিয় অ্যাকিলিস দ্বিতীয় জীবনটাই বেছে নেন। ৫০ জাহাজ বোঝাই ২৫০০ সৈনিক নিয়ে অ্যাকিলিস ট্রয় অভিমুখে যাত্রা করেন। অ্যাকিলিসের বাহিনীর সৈন্যদের মিরমিডিয়ন বলা হয়। (মিরমিডিয়নরা আগে পিঁপড়া ছিল)
এরপরের কাহিনী সবার জানা। যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ছিল অ্যাকিলিস। ট্রয়ের সবচেয়ে বড় বীর হেক্টরকে পরাজিত করে অ্যাকিলিস। অবশেষে দেবতা অ্যাপোলোর পথনির্দেশনায় কাপুরুষ প্যারিসের তীর আঘাত করে অ্যাকিলিসের বাম পায়ের গোড়ালিতে। অ্যাকিলিস সেখানেই মারা যান। বন্ধু প্যাট্রোক্লাসের ছাইয়ের সাথে তার ছাই মিশিয়ে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

কেইরন, অ্যাকিলিসকে lyre বাজানো শেখাচ্ছেন
কেইরন, অ্যাকিলিসকে lyre বাজানো শেখাচ্ছেন

এনিমেতে অ্যাকিলিসের দুটো নোবেল ফ্যান্টাজম দেখা গেছে। দুটোই কিছুটা রিয়েলিটি মার্বেল ঘরানার। Diatrekhōn Astēr Lonkhē অ্যাকিলিস ব্যবহার করেছিল কেইরনের বিপক্ষের ফাইটে। প্রতিপক্ষের পেছনে বর্শা ছুঁড়ে মেরে এটা অ্যাক্টিভেট করতে হয়। মজার ব্যাপার হল এই বর্শাটা কেইরন তৈরি করে পেলেয়ুসকে দিয়েছিলেন, পেলেয়ুস পরে নিজ পুত্রকে উপহার দেন। বর্শাটি কেইরনের বাসস্থান মাউন্ট পেলিয়নের গাছ থেকে তৈরি।

Akhilleus Kosmos নোবেল ফ্যান্টাজমটা অ্যাস্টোলফো অসাধারণভাবে ব্যবহার করেছিল কর্ণের বিপক্ষে। দুর্দান্ত এই নোবেল ফ্যান্টাজমের পেছনেও একটা কাহিনী আছে। মনে হয় সবাই কাহিনীটা জানেন তারপরও বলি:
ট্রয়ের যুদ্ধের এক পর্যায়ে অ্যাকিলিস যুদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে গ্রীক বাহিনী পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে। অ্যাকিলিসের বন্ধুবর প্যাট্রোক্লাস তাই অ্যাকিলিসের বর্ম আর ঢাল ধার নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ে। সবাই ভাবে অ্যাকিলিস নিজেই যুদ্ধে নেমে এসেছে তাই গ্রীক বাহিনী তার হারানো উদ্যম ফিরে পায়। সারাদিন বীরের মত যুদ্ধ করলেও ট্রোজান বীর হেক্টরের হাতে প্যাট্রোক্লাস নিহত হয়। হেক্টর, প্যাট্রোক্লাসের গা থেকে বর্ম আর ঢাল খুলে নিজের কাছে রেখে দেয়।

প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অ্যাকিলিস যেন আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠে। লৌহশিল্প ও অগ্নির দেবতা হেফাস্টাস, অ্যাকিলিসকে নতুন একটা ঢাল বানিয়ে দেন। এটাই সেই বিখ্যাত ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’। ঢালটি অপূর্ব কারুকার্যময় ছিল। হোমার তাঁর ইলিয়াডের আঠারো নাম্বার অধ্যায়ে প্রায় ১০০ শ্লোক ধরে এই ঢালের গায়ে আঁকা কারুকাজের বর্ণনা করেন। ঢালটিতে গ্রীক নগর সভ্যতার একটা মিনিয়েচার আঁকা ছিল। তাই অ্যাকিলিসের নোবেল ফ্যান্টাজমে আমরা একটা গ্রীক সভ্যতার অনুরূপ রিয়েলিটি মার্বেল দেখি। এই জায়গায় হিগাশিদার কল্পনাশক্তির তারিফ করতেই হবে, A-1 পিকচারসও দুর্দান্ত ফ্লুয়িড অ্যানিমেশন ঢেলেছে। ভাসাবি শক্তিকে প্রতিহত করার জায়গাটা চমৎকার ছিল। এইসব ছোটখাটো ডিটেইলের জন্য অ্যাপোক্রাইফার ২২ নম্বর পর্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শিল্পীর কল্পনায় অ্যাকিলিসের শিল্ড
শিল্পীর কল্পনায় অ্যাকিলিসের শিল্ড

অ্যাকিলিসের একটি মাত্র সন্তানই ছিল। সেই ছেলের নাম ছিল নিওপতেলেমাস। নিওপতেলেমাস পরে ‘অ্যাকিলিস শিল্ডের’ মালিক হয়। ট্রয় যুদ্ধের পরে আগামেমননের ছেলে ওরেস্তেসের হাতে নিওপতেলেমাস নিহত হয়। বাবা-ছেলে দুজনের মৃত্যুই ট্র‍্যাজিক।

গুরু কেইরনের মৃত্যুও আর দশজনের মত হয় নি। টাইটানের ঘরে জন্ম নেওয়ার কারণে কেইরন অমর ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নিজের ছাত্র হেরাক্লসের কারণেই কেইরন মারা পড়ে। হেরাক্লস একবার গুরুর আস্তানায় ওয়াইনের বোতল খুললে সেই ওয়াইনের গন্ধে মদ্যপ সেন্টররা ভীষণ গোলমাল শুরু করে। এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়ে যায় এবং তাদের থামানোর জন্য হেরাক্লস হাইড্রার রক্তমাখা তীর ছুঁড়তে থাকেন। কেইরন তখন কী গোলমাল হল তা দেখার জন্য নিজের আস্তানার দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত একটা রক্তমাখা তীর কেইরনের গায়ে এসে লাগে।

কেইরন যিনি কিনা নিজে ঔষধ নির্মাণে ওস্তাদ, নিজ ব্যথার কোন ঔষধ তৈরি করতে পারছিলেন না। হাইড্রার রক্ত অব্যর্থ বিষ, দেহে স্পর্শ হলেই মৃত্যু নিশ্চিত। অমর হওয়ায় কেইরনের মৃত্যু হচ্ছিল না কিন্তু অসহনীয় যন্ত্রণা ঠিকই পাচ্ছিলেন। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে তিনি নিজের অমরত্ব সরিয়ে নেওয়ার প্রার্থনা জানান দেবতাদের কাছে। তার সৎ ভাই জিউস এই প্রার্থনা মঞ্জুর করেন এবং কেইরনকে আকাশের একটা নক্ষত্রপুঞ্জ বানিয়ে দেন। সেই নক্ষত্রপুঞ্জটিই Sagittarius বা ধনু নামে পরিচিত। দেখলে মনে হয় কোন সেন্টর হাতে তীর-ধনুক তাক করে রেখেছে।

কেইরনের নোবেল ফ্যান্টাজম ‘Antares Snipe’ এর আন্তারেস শব্দটি একটি নক্ষত্রকে নির্দেশ করে। নক্ষত্রটি স্যাজিটেরিয়াসের পাশের স্করপিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত। স্যাজিটেরিয়াসের দিকে তাকালে মনে হয় এর ডান দিকের শেষ প্রান্ত অর্থাৎ ধনুক সামনের ‘আন্তারেসের’ দিকে তাক করা আছে। এজন্যই কেইরনের নোবেল ফ্যান্টাজম সবসময়ই চালু থাকে।

২১ পর্বে কেইরন আর অ্যাকিলিস নিজেদের মধ্যে যে মার্শাল আর্টসটা চর্চা করেছিল সেটার নাম Pankration. প্যানক্রেইশন সর্বাধিক প্রাচীন মার্শাল আর্ট হিসেবে স্বীকৃত। প্যানক্রেইশনের নির্দিষ্ট কোন নিয়ম ও টাইম লিমিট ছিল না। বক্সিই, রেসলিং, কিকিং, সাবমিশন হোল্ডিং সবকিছুই গ্রহণযোগ্য ছিল, একমাত্র নিষিদ্ধ ছিল প্রতিপক্ষের চোখ খোঁচানো ও কামড়াকামড়ি। লড়াইয়ে অনেক সময়ই অংশগ্রহণকারীদের মৃত্যু হত।

Fate Apo Chiron Achilles 9
প্যানক্রেইশন ম্যাচ

প্রাচীন অলিম্পিকে প্যানক্রেইশন একটা ডিসিপ্লিন হিসেবে ছিল। তবে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকেই গ্রীসে প্যানক্রেইশন চর্চা হয়ে আসছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। স্পার্টান সেনাবাহিনী এবং আলেকজান্ডারের সৈন্যরা প্যানক্রেইশনে দক্ষ ছিল। আলেকজান্ডারের পিতা ফিলিপের প্যানক্রেইশনে অংশ নেয়ার নজির আছে।
মিথলজিতে হেরাক্লস ও থিসিয়াসকে প্যানক্রেইশনের আবিষ্কারক হিসেবে পাওয়া যায়। কেইরনই সম্ভবত ঐ সময়েই প্যানক্রেইশন শেখেন তারপর অ্যাকিলিসকে সেই বিদ্যায় দক্ষ করে তোলেন। আধুনিক যুগে আবার প্যানক্রেইশনের পুনর্জন্ম ঘটেছে। ইউটিউবে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছিলাম। নিয়ম-কানুনের কারণে এখন মরণের গন্ধ নেই খেলাটাতে। কেইরন ভার্সাস অ্যাকিলিস পর্যায়ের ভয়ানক গতিময় জিনিসের ছিটেফোঁটাও নেই। তবে এরপরও বেশ উপভোগ্য একটা মিক্সড মার্শাল আর্টস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ডিসিপ্লিনটা।
(Now just imagine a pankration match between Iskander and Achilles. Also imagine Iskander performing a submission hold on our lovely Gilgamesh. )

বিশেষ দ্রষ্টব্য: একটা মতবাদ আছে, আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের সময় প্যানক্রেইশন ভারতে প্রবেশ করে। পরে ভারত ঘুরে এই প্যানক্রেইশনই দূরপ্রাচ্যে গিয়ে কুংফু-যুযুৎসুতে পরিণত হয়েছে। কুংফুর প্রচারক বোধিধর্মাকে ‘নীল চোখের দানব’ হিসেবে অভিহিত করা হত। হতে পারে তিনি আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনীর লোক ছিলেন, পরে ভারতবর্ষে থেকে যান। (মতবাদটি অতটা শক্তিশালী নয়)

অ্যাকিলিস আর কেইরনের সম্পর্ক প্রাচীন ভারতের গুরু-শিষ্যদের নিয়ে যেসব কিংবদন্তী রয়েছে তার সমতুল্য। ভারতীয় পুরাণে ছাত্রকে শিক্ষকের আস্তানায় অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নানা বিষয়ে দীক্ষিত হতে দেখা যায়। অ্যাকিলিসও সেই প্রক্রিয়া পার হয়ে এসেছে। অ্যাকিলিসের জীবনে কেইরনের ভূমিকা পিতার চেয়ে কোন অংশ কম নয়। এজন্যই অ্যাপোক্রাইফা শুরু হওয়ার পর আমি সবচেয়ে বেশী হাইপড ছিলাম এই দুইজনকে নিয়ে। অ্যাকিলিস জানতো যে ব্ল্যাক ফ্যাকশনের কেউ তাকে ঠেকাতে পারবে না। আর্চার অফ ব্ল্যাকের পরিচয় জানার পর অ্যাকিলিসের সেই আত্মবিশ্বাস অনেক কমে যায়। কারণ অ্যাকিলিসের সকল কৌশল কেইরনের চেয়ে ভাল কেউ জানে না। কেইরনও নিজ শিষ্যের উন্নতি কেমন হয়েছে তা দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। অ্যাকিলিস নিজের যুদ্ধলব্ধ বিদ্যা দিয়ে কেইরনকে হতাশ করে নি। পরাজিত হয়ে কেইরন নিজেই আসলে জয়ী হলেন। এই জয় মহান শিক্ষকব্রতের জয়। এনিমের একটা বড় অংশে দুইজনের দ্বন্দ্বকে একটুও ফোকাস করা হয় নি, তবে সব পুষিয়ে দিয়েছে একটা পর্বই। ইডিওলজিকাল কোন ক্ল্যাশ না থাকার পরও শুধুমাত্র দুর্দান্ত একটা অতীতের জোরে দুজনের মধ্যের লড়াইটা চমৎকারিত্ব পেয়েছে। অ্যাকিলিস ‘গুরু মারা বিদ্যা’ প্র‍য়োগ করলেও আন্তারেস স্নাইপের মাধ্যমে কেইরন দেখিয়ে দিলেন যে ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে”। 

রেফারেন্স:

  • britannica.com
  • greekmythology.com
  • history.com
  • Percy Jackson and Greek Gods- Rick Riordan
  • গ্রীক বীরদের আখ্যান- রজার ল্যান্সেলিন গ্রীন
  • মিথলজি- এডিথ হ্যামিল্টন
  • Wikipedia

Lovely Complex [সাজেশন] — Ahmed Fahmida Mou

Lovely Complex

এনিমেঃ Lovely Complex 
হাইস্কুল রোমান্টিক কমেডি
.
শিরোনাম আকর্ষণীয় না হলে সচারচর আমি সেসব দেখিনা বা পড়িনা।
স্বাভাবিকভাবেই এই আনিমুর টাইটেলও একদম ভাল্লাগেনাই  এক পিচ্চি জোরাজুরি না করলে এই চুইট আনিমুটা দেখাই হতোনা।

প্রথম দেখায় যেটা বলা যায়, এনিমেটা একেবারেই সিম্পল।
কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে,
এই বিশেষত্বহীন এনিমেটা দারুন ভালো লেগেছে।
এইখানে তেমন কোনো প্লট টুইস্ট নাই ,তাই হালকাভাবে আমি গল্পটা বলছি।

তিন বান্ধবী যার মাঝে দুজনেরই বয়ফ্রেন্ড আছে। নাই একমাত্র কোয়াইজুমি রিসা’র।
কেনো??
কারণ রিসার স্বাভাবিকের তুলনায় হাইট অনেক। সঠিক উচ্চতার কোনো বয়ফ্রেন্ড হয়না তার।
কিন্তু রিসা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যেভাবেই হোক হাইস্কুল শেষ করবার আগে সে বয়ফ্রেন্ড অর্জন করবেই! 
এদিকে ওদের ক্লাসমেট (বন্ধুও বলা যায়) ওতানি ছেলেদের স্বাভাবিক হাইটের চেয়ে ছোটো।
তাই বেচারাকে নানান অকওয়ার্ড পরিস্থিতিতে পড়তে হয় এবং যার একটা কোনো গার্লফ্রেন্ড জোটেনা 
ওতানি আর রিসাকে ক্লাসের সবাই কমেডি-ডুয়ো বলে কারণ যখনই দেখা যায় ওরা মারামারি, জগড়াঝাটিই করতেসে, পুরা উত্তরমেরু আর দক্ষিণমেরু ধরণের!
এইরকম এক পর্যায়ে দুজনে চুক্তি করে যে,
রিসা একটা বয়ফ্রেন্ড আর ওতানি একটা গার্লফ্রেন্ড জোগাড় করবে।
যে আগে সফল হবে সে অপরজনকে ট্রিট দিবে।
এইভাবে খুনসুঁটির মাঝে রিসা অযৌক্তিকভাবে ওতানির প্রেমেই পড়ে যায়!
আর বুঝতেই পারছেন,
(১৭০cm এর মেয়ের বয়ফ্রেন্ড ১৫৪cm এর এক ছেলে) এই সম্পর্কের ডিজাস্টার কল্পনা করে বেচারি একদম মিইয়ে যায়!
কিন্তু তার বাকি দুই বান্ধবী এটা জেনে উল্টা প্রচন্ড খুশি হয় এবং দুই বান্ধবী ও তাদের দুজনের বয়ফ্রেন্ড সহ ৪জনে মিলে ওতানি আর রিসাকে মিলাবার মিশন-ইম্পসিবল এর দায়িত্ব নেয়।
.
এখানে একটা ডায়লগ দেই,
রিসা যখন উপলব্ধি করে ওতানির প্রেমে পড়সে তারপর একদিন ক্লাসের সবার হাইট মাপা হলে দেখা যায় রিসা আরো ২cm বেড়ে গেসে (আর ওতানি বাড়সে 2mm ) তাই দেখে ওর বান্ধবীরা বলে
:This is no time for growing taller Risa!! 
: Am I doing it on purpose!!! 
.
প্রথম দিকে থাকে শুধু কমেডি মাঝে এসে কমেডি-ট্র‍্যাজেডি আর শেষে রোমান্টিক , এই নিয়ে ২৪ পর্বের সাদামাটা কিন্তু ভীন্নধর্মী থিমে দারুনভাবে গড়ে ওঠা এনিমেটা ভাল্লাগবে আপনারও 
কমেডিতে জোর করে কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা নাই। কমেডিগুলা পিউর।
বাস্তবতার সাথে মিল রেখে বানানো এনিমেটা অনায়াসেই পছন্দের তালিকায় জায়গা পেয়ে গেছে।
.
[বিঃদ্রঃ
এইটা দেখার পর মনে হইসে “গোল্ডেন টাইম” নামটা এই এনিমের হওয়া উচিৎ
আর
“লাভলি কমপ্লেক্স” নামটা অই গোল্ডেন-টাইম (পছন্ডো ফালতু একটা এনিমে) এর নাম হওয়া উচিৎ ছিলো ]

Devilman Lady [রিভিউ] — Krista King

Devilman Lady 4

Anime Name: The Devil-Lady or Devilman Lady.
Written: Go Nagai (manga), Chiaki J Kanaka (anime)
Illustrator: Go Nagai
Genre: Action, Horror, Psychological, Drama.
Episode: 26
Demographic: Seinen
Original Run: 1998 to 1999
Magazine: weekly morning
Studio: Toei Animation

Character:
জুন ফুডো- নম্র, ভদ্র সুন্দরী ও সাধারণ মহিলা। অন্য devilmanদের ভিন্ন, শক্তি ও যৌনতা দুটোরই লালসা নেই। অমানবিক মানুষ ও devil দুইকেই ঘৃনা করে। মানব রক্ষার্থে চরমতম হিংস্র হতে পারে। বন্ধু ও ভক্ত কাসুমির কাছে দিদির মতো। কোনো devil তাকে মা বললে নিশ্চয়ই সে বুকে টেনে নেবে। প্রথমে লান তাকে জোর করেই কাজ করাচ্ছিল বলে মনে হলেও, পরে বোঝা যায় সে স্বেচ্ছায়ই মানুষ রক্ষার্থে কাজ করেছে।
লান আসুকা- ইনি জুন ফুডোর ঠিক বিপরীত। শক্ত, সামর্থ, কঠিন মানসিকতার। নিজেকে প্রমান করতে যেকোনো অমানবিক কাজ করতে পারে। তবুও তার মতামতকে সম্পূর্ণ ভুল বলা যায় না।

Devilman Lady 2

My View:
Claymore দেখার অনেকদিন বাদে এমন action, horror series দেখলাম। Devilmanর plot প্রায় একই typeর হলেও এটাতে বেশ sensitive একটা গল্প আছে। action, suspense আর জুনকে দেখার মত। আর সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হল- suspense making, charecter design আর musicগুলোতে একটা DCএর মতো Feel আসে। suspense sceneএ musicগুলো কেমন Batman Animationর tune বলেই মনে হয়। এছাড়া হাল্কা yuri ও নগ্নতার দৃশ্য আছে। সবমিলিয়ে DEVIL-LADY বেশ একটা entertaining ও attractive animation series. পারলে mangaটা ও পরতে পারেন সেটা নাকি animeর চেয়ে অনেক বেশি gore.
(Some Info — Devil-ladyর মাঙ্গাকা-ই হল Dvillman(1972) seriesর ও সৃষ্টিকর্তা। শুধু devilman হল shounen series আর devil-lady হল seinen series.)

Devilman Lady 3

B: The Beginning [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

B The Beginning

অ্যানিমে জগতে নেটফ্লিক্স বড় ধরণের এক বিপ্লবই ঘটিয়ে ফেলতে যাচ্ছে বলে আমার ধার‍ণা। এই অ্যানিমেটা নিয়ে আগে থেকে কোন ধারণা ছিলো না। গত পরশু টরেন্ট সার্ফ করতে গিয়ে পোস্টারে নেটফ্লিক্স দেখেই নামিয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম।

MAL আর IMDb তে দেয়া সিনোপ্সিস খুবই অস্পষ্ট মনে হলো। যা হোক, শুরু থেকেই কেমন যেন একটা এলোমেলো ভাব ছিলো স্টোরিতে। ফলো করা কষ্টকর। সিরিজের মাঝামাঝি এসে পাজলগুলোকে কিছুটা জোড়া লাগানোতে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্পেশালি B এর ব্যাকস্টোরি আর কারেক্টারদের seemingly মোটিভহীনতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

জনরায় সায়েন্স ফিকশন দেয়া থাকলেও এটা অনেকটাই ফ্যান্টাসি ধাঁচের। কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর পাশাপাশি অনেক পার্শ্বচরিত্র থাকাতেই কিনা চরিত্র নির্মাণটা অতটা পোক্ত হয়নি। ডিটেক্টিভ ওয়র্ক কিছু জায়গায় overly done লাগতে পারে। ২৫ এপিসোডে করা গেলে দারুণ একটা অ্যানিমে পাওয়া যেতো।

পুলিশ ওয়ার্ক আর ডিটেক্টিভ এলিমেন্ট দেখে এটায় কিছুটা Psycho-Pass ভাইব পাওয়া গেলেও সাইকোলিজক্যাল যে দ্বন্দ্ব দেখা যায় তা কিছুটা Death Note এর কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। তবে অ্যানিমেটা এ দুটোর কোনটার দিকেই ঘেঁষেনি।

গল্পবিচারে প্লটটাকে ইউনিকই বলা চলে, তবে অনেক fast paced. সাবপ্লটগুলো ঠিকভাবে সিকোয়েন্স করা হয়নি বলেই আমার ধারণা। অ্যানিমের সবচেয়ে পজিটিভ যে দিকটি ছিলো তা হলো এটি intriguing. আপনার মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করতে পারে তবে বোরড হবেন না। আর এন্ডিংটাও যথেষ্ট মানানসই ছিলো।

অ্যানিমেশন, বিশেষ করে ফাইটিং স্যিনগুলো টপ নচ ছিলো। সাউন্ডট্র‍্যাক মোটামুটি। আর আমি অবশ্যই dubbed ভার্সন দেখতে বলবো। ভয়েস বেশি lively লেগেছে dubbed ভার্সনে। আর যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে নেটফ্লিক্স দিয়ে রিলিজ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে dubbed ভালো হওয়াই স্বাভাবিক।

Overall, it’s a good watch. Doesn’t quite win your heart but keeps you guessing. I’d rate it 7.5 out 10.

Ping Pong The Animation [রিভিউ] — Safin Zaman

Ping Pong

Ping Pong The Animation
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ সাইকোলজিকাল, সেইনেন, স্পোর্টস

“৯ ফিট বাই ৫ ফিট একটা টেবিল। টেবিলের দুই পাশে ঘর্মাক্ত দুই বালক। হাতে তাদের টেবিল টেনিস র‍্যাকেট। অনবরত বলটাকে এক পাশ থেকে আরেক পাশে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করছে তারা। ঠাস, ঠাস, ঠাস, ঠাস। অদ্ভুত এক ছন্দ তৈরী হয়েছে খেলার মধ্যে। দর্শকদের চাহনী একবার এই পাশে, তো আরেকবার অপর পাশে। বলার উপায় নেই দুইজনের মধ্যে কে জিতবে। একি! একজন বালকের চোখে পানি কেন? চোখে পানি নিয়েও এত নিখুঁতভাবে খেলছে যেন সে জানেই বল কোথায় এসে পড়বে। ঠোঁটের কোনে খানিকটা হাসিও যেন দেখা যাচ্ছে তার!”
..
..
..

সুকিমতো মাকোতো। ভাঙ্গা পরিবার থেকে আসা এক ইন্ট্রোভার্টেড বালক। চুপচাপ,কখনো না হাসা, কোন কিছুতেই অভিব্যক্তি না দেখানোর কারণে রোবট,স্মাইল বিভিন্ন ধরণের ডাকনাম পেয়েও নির্বিক সে। জগতের কোন কিছুতেই যেন তার কোনরকম আগ্রহ নেই।
অপরদিকে ইয়োতাকা হোশিনো ওরফে পেকো এক হাসিখুসি উচ্ছল বালক। টেবিল টেনিসে দারুণ ট্যালেন্টেড। ছোট বয়সেই বড় বড় পিংপং টুর্নামেন্টে খেলে পুরষ্কারের ঝুলি ভারী করা এই বালক তার সহপাঠিদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।
দুইজন সম্পুর্ণ ভিন্ন পার্সোনালিটির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব হতো না যদি টেবিল টেনিসের প্রতি দুইজনের ভালবাসা না থাকত। সেই ছোটবেলায় পেকোর সুকিমতোকে টেবিল টেনিসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার পর থেকে তাদের বন্ধুত্ব হাইস্কুল পর্যন্ত চলে আসছে। হাইস্কুল এ উঠার পর পুরো টিমের কাছে তারা দুজন এক অপরাজেয় ট্যালেন্টেড ডুয়ো হিসেবেই পরিচিত।
কিন্তু আসলেই কি তাই? এই জগতের এক অলিখিত নিয়মই হলো একজন যত ট্যালেন্টেডই হোক না কেন, তার চেয়ে ট্যালেন্টেড আরেকজন অবশ্যই আছে। আর এই নিয়ম প্রমাণ করার জন্য আছে কং ওয়েং, কাজামা রিয়ুইচি, সাকুমা মানাবোর মতো খেলোয়াড় যাদের খেলা এই ডুয়োকে বহুগুণে ছাপিয়ে যায়। এতসব ‘মন্সটার’ দের ভীড়ে সামান্য পেকো আর স্মাইল কিই বা করতে পারবে?

পিংপং দি এনিমেশন হলো এক বন্ধুত্বের গল্প, গুটিকয়েক মানুষের জীবনের টানাপোড়েনের গল্প, স্মাইল আর পেকো কিভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে সামনে আগানোর পথ বাতলে দেয় তার গল্প। মাত্র ১১ পর্বের এই গল্পে যেই পরিমাণ চরিত্রের গাঁথুনি আর তাদের গভীরতা দেখানো হয়েছে তা অবিশ্বাস্য রকমের ভাল। এনিমের প্রত্যেকটা চরিত্র আর পিংপং নিয়ে তাদের মনোভাব দর্শকদের কাছে সুন্দরভাবে পৌছাতে পেরেছে যার জন্য ‘তাতামি গ্যালাক্সি’খ্যাত ডিরেক্টর ইউয়াসা মাসাকি একটা বড় ধরণের ধন্যবাদ প্রাপ্ত ।

এনিমের আর্টস্টাইল বেশখানিকটাই ‘অন্যরকম’। এতটাই যে আর্টস্টাইল দেখেও ড্রপ দেবার কথা মনে আসতে পারে। কিন্তু ড্রপ দিলে কি মাস্টারপিস মিস করবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই আর্টস্টাইলের চিন্তা বাদ দিয়ে দেখা শুরু করে দিন । কয়েক মিনিটের মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন আর্টস্টাইলের সাথে।
তাই যদি এমন কোন এনিমে চান যা একই সাথে স্পোর্টস আর সাইকোলজিকাল অ্যাস্পেক্ট গুলোর উপর গুরুত্ব দেয় তাহলে পিংপং দি এনিমেশন হাইলি রেকমেন্ডেড। এই এনিম শেষে আমি হা-হুতাশ করেছি যে মাত্র ১১ পর্বে শেষ হয়ে গেল। ১০০ পর্ব হলেও দেখতে বিনা ক্লান্তিতে দেখতে পারতাম এই মাস্টারপিস।

ম্যাল রেটিংঃ ৮.৬৬/১০
আমার রেটিংঃ ৯.৭/১০

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

অনেকদিন ধরে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। কোন এনিমের দুটো এপিসোড দেখে আর কন্টিনিউ করতে পারছিলাম না। ধৈর্য হচ্ছিল না মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখার। এরকম এক অবস্থায় যখন এটা সেটা খুঁজছিলাম তখন World Masterpiece Theater এর সন্ধান পাই। এবং randomly একটা বাছাই করে দেখতে বসি।

My Daddy Long Legs

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) এনিমে টি Jean Webster এর Daddy Long Legs এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। এক অনাথ মেয়ের জীবন ও তার স্বপ্ন-আকাঙ্খা নিয়ে এই এনিমে।
খুব ছোটবেলায় Judy Abott এর বাবা-মা তাকে এক চার্চের সামনে রেখে যায়। তার পাশেই John Grier নামের অনাথাশ্রমে তার জায়গা হয়। এই অনাথাশ্রমের ডিরেক্টর Mrs Lippet. ছোটবেলা থেকেই জুডি অনেক বেশি চঞ্চল ও ক্লামসি ছিল। যেকোন কাজেই কোন না কোন অঘটন ঘটাত। এর জন্য মিসেস লিপেটের বকাবকি তো আছেই। তবে ছোট বাচ্চাদের কাছে সে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রতিটা দিনই আনন্দে কাটত। কিন্তু তারপরও একটা সুপ্ত বাসনা ছিল। সে এই অনাথাশ্রম থেকে বের হতে চায়, নিজের মত করে বাঁচতে চায়। একসময় একটা সুযোগ ও আসে। অনাথাশ্রম এবং রেপুটেড কিছু স্কুলের ট্রাস্টি মেম্বারদের জন্য লাঞ্চের আয়োজন করা হয়। তারা একজনকে বাছাই করবে এবং তার পড়াশোনা ও মাসিক এ্যালাউয়েন্সের ভার বহন করবে। কিন্তু জুডি খেয়ালের বশে অনেক ভুল করে ফেলে। তার হাত থেকে এই সুযোগ চলেই যেত কিন্তু ঐদিন রাতে তার ত্রানকর্তা হয়ে আসে John Smith যে কিনা ট্রাস্টি মেম্বারদের একজন। যেহেতু এ্যানোনিমাসলি পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল তাই খুবই কমন এই নাম দিয়েই জুডির কাছে পরিচয় দেয়া হয়েছিল। যদিও জুডির সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। এবং পরবর্তী সময়ে সব ধরণের যোগাযোগ পালন করা হত তার সেক্রেটারি Walter Griggs এর মাধ্যমে। যাহোক, এর পর Lincoln Memorials High School এ শুরু হয় নতুন জীবন।
নতুন শহরে এসে নতুন এক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল জুডি কে। তার রুমমেট Julia Pendleton ও Sallie Mcbride দুজনই এলিট সমাজের বাসিন্দা। জুলিয়া খুব ইগোয়িস্ট আর নিজের বংশ নিয়ে খুব বড়াই করে। সে তুলনায় স্যালি চুপচাপ কিন্তু মিশুক। তার পরিবারও খুব অমায়িক। জুলিয়া সবসময় জুডিকে অপদস্থ করতে চায় আর স্যালি দুজনকে শান্ত করতে চায়। একসময় দেখা যায় তারা খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায়। তবে জুডি কিন্তু কখনোই তার ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা জানায়না। তারা শুধুই জানে জুডির একজন গার্ডিয়ান যাকে সে ‘Watashi no Ashinaga Ojisan’ বলে ডাকে। জুডি প্রায়ই তাকে চিঠি লিখে। তার জীবন কেমন যাচ্ছে বা যেকোন কিছুর জন্য পরামর্শ সবকিছু জানায়।
জুডির এই ধনী এলিট সমাজের মানুষের প্রতি সবসময় এক বিতৃষ্ণা কাজ করত। অনাথাশ্রমে থাকার সময় সে দেখেছে তাদের প্রতি কেমন করুণা করা হত। কিন্তু এই ধারণা বদলে দেয় Jervis Pendleton. জুলিয়ার চাচা। পেন্ডেল্টন বংশের অন্য সবার মত নাকউঁচু নয় সে। কোন অহংবোধ নেই। খুব সৎ, অমায়িক আর খামখেয়ালি মানুষ। জার্ভিসকে ভাল লেগে যায় সাথে সাথে। ভাল লাগার মতই এক চরিত্র। তার ব্যাক্তিত্বের এই সরলতা দেখে জুডির ধারণা বদলে যায়। একসময় সে জার্ভিসকে পছন্দ করাও শুরু করে। কিন্তু যখনই সে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখনই তার সবকিছু ঘোলাটে হয়ে আসে। জার্ভিস যদি জুডির ফ্যামিলি হিস্ট্রি জানে হয়ত সে তাকে আর মেনে নিবেনা। এর মধ্যে জুডি তার প্যাশন ঠিক করে। জুডি যতই চঞ্চল হোক না কেন তার লেখার হাত বেশ ভাল ছিল। তার লেখা essay ই তাকে এই স্কুলে পড়ার সুযোগ দেয়। একজন এ্যাস্পায়ারিং রাইটার হিসেবে স্কুলেও সে পরিচিতি পায়। এরপর সে ম্যাগাজিনে তার ছোট গল্প পাঠানো শুরু করে। প্রথমবার ছাপালেও পরে তার লেখা রিজেক্ট হয়। নিজের প্রতি হতাশা ঘিরে ফেলে তাকে। আবার অন্যদিকে দেখা যায় সে নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশন শুরু করে। সে স্বাধীন হতে চায়। অন্যের উপর নির্ভর করে থাকা – এই ব্যাপারটা সে মানতে পারেনা। কিন্তু জন স্মিথ তাকে নিষেধ করে দেয়। এর কারণে সে তার ‘বাবা’র প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে চিঠিও দেয়। এরকম মানসিক টানাপোড়ন আর চড়াই উৎরাই পার হয়ে তার গ্র্যাজুয়েটের দিন ঘনিয়ে আসে। যেহেতু কামিং অফ এজ স্টোরি, তাই পুরো গল্প জুড়ে জুডির মানসিক অবস্থা, চিন্তা ভাবনা এবং তার মানসিক পরিপক্কতা সবকিছুর চিত্র পাওয়া যায়। অনেক কিছুই রিলেটেবল মনে হয়। অনেককিছু মনে হয় আমি নিজেই ফেস করছি।
এই এনিমের যে বিষয়টা সবচেতে ভাল লেগেছে তা হল জুডির চিঠিগুলো। খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়েছি। মানে জুডি পড়ে শোনায় আর কি। আর শুধু জুডি নয়, জুলিয়া ও স্যালির মানসিক পরিবর্তন ও অবাক করে দেয়। আর টিনেজ বয়সের প্রেম যখন সিরিয়াস হয়ে যায়, সেই ট্রানজিশনটাও ভাল লেগেছে। অনেক মোমেন্ট ছিল যখন জুডির ব্লাশিং দেখে নিজেই ব্লাশড হয়েছি। জুডির সাথে সাথে যেন নিজেও আরেকটু বড় হয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা এই গল্পের হ্যাপি এন্ডিং। যদিও বেশকিছু জায়গা ক্রিঞ্জওয়ার্দি ছিল কিন্তু এমন সুখের সমাপ্তির কাছে তা কিছুই না।
এই এনিমে দেখার দুটো ওয়ে আছে। ১৪/১৫ এপিসোডের পরে স্পয়লার জেনে ফেলা আর নাহয় শেষ এপিসোড পর্যন্ত অপেক্ষা করা। আমি এ্যাক্সিডেন্টলি স্পয়লার জেনে গেছিলাম। প্রথমে ব্যাপারটা নিয়ে খুব বিরক্ত হলেও পরে মজাই পেয়েছিলাম। এবং মনে হল শুধুমাত্র স্পয়লার জানার কারণেই আরও বেশি উপভোগ করতে পেরেছি। মন ভালো করে দেয়ার মতই এনিমে।

দা তাতামি গ্যালাক্সি [রিভিউ] — Safin Zaman

The Tatami Galaxy

The Tatami Galaxy Review
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ মিস্টেরি, সাইকোলজিকাল, রোমান্স

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। বেশ ইন্টারেস্টিং একটা কনসেপ্ট। ভাবতে মজাই লাগে আমাদের এই জগতের বাইরেও আরো অনেক জগত আছে যেখানে প্রায় সবকিছু একই, দুই একটা ক্ষুদ্র জিনিস ছাড়া। হয়তো আপনি এখন এই রিভিউ পড়ছেন, কিন্তু অন্য জগতের আরেক আপনি এই রিভিউ দেখেই স্ক্রল করে চলে গেছে। তার মানে বলা যায় এখন দুইটা জগত বিদ্যমান। একটাতে আপনি রিভিউ পড়ছেন, আরেকটাতে পড়ছেন না। হয়তো এমনও একটা জগত আছে যেইখানে আমি এই রিভিউই লেখি নাই। সব মিলিয়ে মজার হলেও বেশ জগাখিচুড়ি একটা অবস্থা। কিন্তু এই জগাখিচুড়ি কনসেপ্টকে এতটা সুন্দর আর উপভোগ্যভাবে দর্শকের সামনে উপস্থিত করেছে তাতামি গ্যালাক্সি তার প্রশংসা না করলেই নয়।

তাতামি গ্যালাক্সি তোমিহিকো মোরিমির লেখা এক উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন যা স্টুডিও ম্যাডহাউজ ২০১০ অ্যাডাপ্ট করে। উপন্যাসের পুরোটাই ফার্স্ট পারসন ন্যারেটিভে লেখা । তাই হয়তো এনিমের কোথাও প্রোটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করা হয় নি। লেখার স্বার্থে ধরি প্রোট্যাগনিস্টের নাম ‘ওয়াতাশি’। এই ওয়াতাশি এক কলেজ ছাত্র। অন্যসব কলেজ ছাত্রদের মতও তার স্বপ্ন এক পার্ফেক্ট কলেজ লাইফের যেখানে বন্ধুবান্ধব, ভালবাসার মানুষ নিয়ে কাটবে তার দিনকাল। তার ভাষায় এক “গোলাপী রঙ এর ক্যাম্পাস জীবন”। এই পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের জন্য সে বিভিন্ন সার্কেল বেছে নেয় আর স্বপ্ল দেখে সে বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকবে, কৃষ্ণকালো চুলের এক রমণী তার প্রেমে পড়বে… কিন্তু ফ্যান্টাসি তো ফ্যান্টাসিই। বাস্তব জীবনের সাথে তার আকাশ পাতাল তফাৎ। কৃষ্ণকালো চুলের রমণী তো দূরের কথা, পুরো ক্যাম্পাস লাইফে তার পরিচয়ই হয় দুইজন মেয়ের সাথে। আর বন্ধুবান্ধব ঘেরা থাকার বদলে তার সংগী ‘ওযু’ নামক এক আজব প্রাণীর যাকে দেখলেই পাতাল থেকে বের হওয়া এক ভূতের কথা মনে পরে।

তাতামি গ্যালাক্সির স্পেশালিটি এর গল্পকথন। কিংবা সোজা ভাষায় বললে, এর ন্যারেটিভ। এনিমের ১১টা এপিসোড ১১ রকমের পরিস্থিতি দেখায়, যার মুখোমুখি ওয়াতাশি হতে পারে। শেষ দুই পর্ব বাদে প্রত্যেক পর্ব শেষেই গল্প রিওয়াইন্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত যায় যেইখানে ওয়াতাশি কোন গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন নিচ্ছিল। ফলাফল হিসেবে একেক এপিসোডে দর্শক ওয়াতাশির নেওয়া একেক ডিসিশনের ফলাফল দেখতে পারে। উদাহারণ হিসেবে এক এপিসোডে ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য আরেক এপিসোডে সিনেমা ক্লাব। এই ডিসিশনের ভিন্নতার কারণে তৈরী ওয়াতাশির ভিন্ন ভিন্ন জীবন , আরেক কথায় প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। এক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি ইংলিশ ক্লাবের সদস্য, তার পরিচিত মানুষজন এক রকম, তার চিন্তাভাবনা এক রকম। আবার আরেক প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের ওয়াতাশি সিনেমা ক্লাবের সদস্য।তার জীবন ইংলিশ ক্লাবের ওয়াতাশি থেকে ভিন্ন। এইভাবে নয় এপিসোডে ওয়াতাশির নেওয়া নয় রকম ডিসিশনের ফলাফল হিসেবে নয় রকমের জীবন দেখানো হয়। কিন্তু একটা জীবনও ওয়াতাশির পছন্দ নয়। তার চাই সেই কল্পনার “Rose colored campus life”।ওয়াতাশি তার পরম আরাধ্য ক্যাম্পাস জীবনের পিছনে আজীবনই ছুটে যেত যদি না ৪.৫ তাতামির লুপহোলে পড়ে সে জীবনের চরম সত্যটা অনুধাবন না করত, “যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা”।

ন্যারেটিভ বাদে তাতামি গ্যালাক্সির চরিত্রগুলো আর এর আর্টস্টাইলের কথা না বললেই নয়। চরিত্র এতে কম কিন্তু যেইগুলো আছে প্রত্যেকেই তাদের নিজস্বতায় পরিপূর্ণ। এমন কোন চরিত্র নাই যেইটা কেবল থাকার জন্য ছিল। প্রত্যেক চরিত্রেরই গল্পের পেছনে কিছুনা কিছু অবদান ছিল আর সেইটা চমৎকারভাবেই উপস্থাপন করেছে তাতামি গ্যালাক্সি।

তার পর আছে এর আর্টস্টাইল। এর আর্টস্টাইল শুরুতে কিছুটা অন্যরকম লাগলেও কাহিনী যত আগাবে তত মনে হবে এইরকম গল্পের জন্য এর চেয়ে ভালো আর্টস্টাইল হতেই পারে না। ডার্ক শেডেড কালার থেকে ভাইব্রেন্ট কালারের আর্টস্টাইলে শিফটগুলো অনেক সুন্দর ছিল। আর শেষ দুই পর্বে রিয়েল লাইফ ইম্যাজারি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। সব মিলিয়ে এক অনবদ্য রঙের খেলা যেন এটা।

আমার কাছে এটা ১০/১০ এনিমে। তাই নেগেটিভ কোন পয়েন্ট থাকলেও খুঁজে পাচ্ছি না।আমার মতে এই এনিমে খারাপ লাগতে পারে একমাত্র যদি এই ধরণের এনিমে আপনার টেস্টের না হয়ে থাকে। এছাড়া তাতামি গ্যালাক্সি উপভোগ না করার কোন কারণ নেই। যদিও এর ন্যারেটিভ সাধারণ এনিমের তুলনায় একটু বেশিই দ্রুত তবে প্রথম ১০/১৫ মিনিটের পর অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। আর অভ্যস্ত না হলে স্লো করে দেখার অপশন তো আছেই।

সব মিলিয়ে এক কথায় মাস্টারপিস লেভেলের এক এনিমে তাতামি গ্যালাক্সি। একটা বড় পাজল অনেকখন ধরে মেলানোর চেষ্টা করার পর মিলালে যেমন আনন্দময় একটা অনুভূতি হয় ঠিক তেমন অনুভূতি পেয়েছি এই এনিমে শেষ করে। যাদের কাছে ব্রেইন টিজার টাইপের শো পছন্দ তাদের জন্য অবশ্যই রেকমেন্ডেড।

Seikaisuru Kado/Kado: The Right Answer [রিভিউ] — Safin Zaman

Kado

Seikaisuru Kado / Kado: The Right answer 
পর্ব সংখ্যাঃ ১২
জনরাঃ সাই-ফাই
ম্যাল রেটিংঃ ৭.১৭

অন্যসব দিনের মতই সাধারণ আরেকটা দিন। সব ঠিকই চলছে। কিন্তু হঠাত করেই আকাশ থেকে এক অজানা উড়ন্ত বস্তু নামলো, সেই অজানা বস্তুর ভেতর থেকে বের হলো কিম্ভুতাকার কিছু প্রাণী……অতিপরিচিত একটা সিনারিও।

‘ফার্স্ট কনট্যাক্ট’ বা এলিয়েনদের সাথে মানবজাতির দেখা সাক্ষাত নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই। এ নিয়ে অজস্র মুভি,বই হয়েছে । কিছু জায়গায় এলিয়েনরা মানবজাতির ভাল চায়, আবার কিছু জায়গায় এলিয়েনদের কাজ হলো পিউ পিউ শব্দ করা লেজার গান নিয়ে মানবজাতি নির্মূল করা। তবে এত জনপ্রিয় হওয়ার পরেও এনিমেতে এই কনসেপ্টের উপর ভিত্তি করে এনিম ছিল না বললেই চলে। আর এই অভাব পুরন করতেই এল গত স্প্রিং ২০১৭ সিজনের এনিমে Seikaisuru Kado/ Kado: The Right Answer.

এনিমের শুরু অন্যসব ফার্স্ট কনট্যাক্টের মত করেই। একদিন হঠাত করে জাপানের এক এয়ারপোর্টের উপর আগমন ঘটে এক রহস্যময় কিউবের । ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ,প্রস্থ ও উচ্চতার এই পার্ফেক্ট কিউবের ভেতর আটকা পড়া প্যাসেঞ্জার প্লেন উদ্ধারে যখন দেশের উচ্চপদস্থরা ব্যস্ত তখন তাদের হতবাক করে দীয়ে কিউবের ভেতর থেকে বের হয়ে আসে সাদা চুলের এক রহস্যময়ী ব্যক্তি যে নিজের পরিচিয় দেয় Yaha kui zaShunina নামক এক ‘হাইয়ার ডাইমেনশনাল’ সত্বা হিসেবে। শুধু তাই নয়, সে তার সাথে এমন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে যা মানবসভ্যতাকে কয়েক লক্ষ বছর সামনে এগিয়ে দিতে সক্ষম।

কিন্তু মানুষ মানুষই, এই হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইং আর এর প্রযুক্তি তারা কোনভাবেই ভালো মত নিতে পারল না। একদিকে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে কে প্রযুক্তিগুলোর মালিক হবে তা নিয়ে বাগড়া বাধল, আরেকদিকে মানবসভ্যতার এই আকস্মিক অগ্রগতির বিরুদ্ধেও মতামতও দেখা গেল। সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এই বিষয় নিয়ে পড়ল চরম বিশৃংখলায়। আর এভাবেই এগিয়ে চলে এনিমের কাহিনী।

সেইকাইসুরু কাডোর অন্যতম ভালো দিক হচ্ছে এটি কিভাবে অন্য জগত থেকে আসা এক প্রাণির সাথে মানবজাতির কনট্যাক্টকে বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছে। এলিয়েনরা মানবসভ্যতাকে তাদের প্রযুক্তি অফার করলে আমরা যে তা হাসিমুখে না নিয়ে সেইটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করব তা ভালোভাবেই দেখানো হয়েছে। অযথা কথাবার্তা নাই, মোটামুটি ফাস্ট পেইসড এই এনিমে একেবারে প্রথম এপিসোড থেকেই দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম।

আমার প্রথম ৮-৯ এপিসোড অনেকটা ভালোই লেগেছিল তবে সমস্যা শুরু হলো এপিসোড ১০ থেকে। এনিমে তার স্বাভাবিক রুপ বাদ দিয়ে হঠাত করেই যেন এক সেমি-রোমান্টিক, সেমি-একশন, হাইয়ার ডাইমেনশনাল বিইংদের ঠুকাঠুকিতে পরিণত হয়। কয়েকটা প্লট টুইস্ট ছিল যার কোন প্রয়োজনই ছিল না বলে আমি মনে করি। আর সিরিজটা যে তার নিজস্বতা বাদ দিয়ে অন্য পথ ধরে দৌড়ানো শুরু করে তা দেখে কিছুটা হতাশই হয়েছি বলা যায়। কাল্ট ক্লাসিক কিছু হওয়ার ভাল সম্ভাবনা ছিল।

তবে মনমত না হলেও যে এঞ্জয় করিনি তা বলা ভুল হবে। ভাগ্য ভাল যে শেষের দিকে গিয়ে যে এর কোয়ালিটি ড্রপ করা শুরু করে তার আন্দাজ আগে থেকেই ছিল। তা না হলে অনগোয়িং যারা দেখেছে তাদের মতই হতাশ হওয়া লাগত। মোটকথা, শুরু থেকে একেবারে শেষ পর্যন্ত কাডো আমি এঞ্জয় করেছি। এঞ্জয়মেন্টের হিসেবে স্কোর দিলে ইজিলি ৮/১০ দিয়ে দেওয়া যায়। খুব বেশি খুতখুতে না হয়ে স্রেফ এঞ্জয়মেন্টের জন্যও কাডো দেখা যায় চাইলে।

একটা জিনিস বলে রাখা ভাল যে এনিমেতে সিজির ব্যবহার ছিল কিন্তু তা যথেষ্ট ভাল। মুলত একশন সিরিজ না হয়ে ডায়ালগ বেইসড সিরিজ হওয়ায় এই সিজি অতটা চোখে লাগে নাই। সিজি সহ্য না করতে পারলেও এই সিজি খারাপ লাগবে না। সিজি হওয়া সত্বেও এর ভিজ্যুয়াল চমৎকার ছিল।বিশেষ করে কাডো এর ভেতরকার দিকের সিনগুলো।

সবশেষে যদি কোন সাই-ফাই জনরার এনিমে খুঁজে থাকেন তবে কাডো রেকমেন্ডেড।গতানুগতিক এনিমে বাদ দিয়ে একটু ম্যাচিউর ধরনের এনিমে খুঁজলে কাডো দেখতে পারেন। মাত্র ১২ পর্বের এই সিরিজ ভালো লাগবে আশা করি।

Monster [রিভিউ] — Ripon W. Mahmud

Monster

Monster: Not just some artwork. A huge suspenseful creation of drama and thrill combined with uncertainty.

ছোটবেলায় রূপকথার গল্পের বইয়ে নানা রকম দৈত্য দানবের কথা পড়ে আমরা বড় হয়েছি। না খেতে চাইলে, কোন কথা না শুনলে আমাদেরকে দৈত্য দানোর ভয় দেখানো হত। বেসিক হিউম্যান ইন্সটিংক্ট আমাদেরকে ছোটকালেই সাবধান করে দিয়ে অনুগত ভদ্রটি হতে বাধ্য করতো। কেন? কী এই দৈত্য দানব?

বড় হয়ে জানলাম আসলে এগুলো সব ভুয়া ছিলো। দৈত্য দানব বলতে আমাদেরকে যে ইমেজারি চিন্তা ভাবনায় ফেলা হতো তা এক্সিস্ট করেনা। শৈশবের দানো গেল। এবার ম্যাচুরড কংক্রিট রিয়েলিটিতেও আমাদের ভয় পেতে হয়। সেই দৈত্য দানবের ভয় আবার ফিরে আসে। কীভাবে? এই দৈত্য দানবের বড় বড় শিং বা চোখা ছুরির মত দাঁত নেই। তারা মানুষের মতই হাত পা নাক চোখ কান নিয়ে আমাদের চারপাশেই বসবাস করে। কিন্তু তাদের ধ্বংসাত্মক চিন্তাভাবনা ও কার্যকলাপের কারণে কখনও কখনও দানবের পর্যায়ে তাদের ফেলা যায়।

Monster অ্যানিমে নিয়ে লেখার ইচ্ছে হল। চাইলে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু তা না করে যারা এখনও দেখেনি তাদের জন্যে কীভাবে গুছিয়ে বলে দেয়া যায় তার চেষ্টাই করব। এই সিরিজটা অনেকগুলো টুকরো টুকরো ইভেন্ট ও আইডিয়োলজির মিশেল। যেখানে কেন্দ্রে বসে থাকা নামহীন এক দানবের গল্প আমাদেরকে নিশ্চিতভাবেই পুরো ৭৪টা পর্ব দেখতে বাধ্য করবে।

অ্যানিমেটা দেখতে দেখতে ডার্ক নাইট ট্রিলজিতে আলফ্রেড পেনিওয়ার্থের একটা কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। Some men just want to watch the whole world burn. তাদের কোন কারণ লাগেনা, কোন উদ্দেশ্য লাগেনা অ্যানার্কি সৃষ্টি করতে। তবে শেষবেলায় কাইবুতসু ইয়োহান লিবের্তের উদ্দেশ্যটা একটুখানি ভিন্ন লাগে বৈকি। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার এক চমৎকার এক্সাম্পল এই অ্যানিমে।

অ্যানিমেটার টাইমলাইন একটু বেশিই গভীর। কোল্ড ওয়ার রেফারেন্স, ঐসময়কার ব্ল্যাক ভার্সাস হোয়াইট ওয়ার/রেসিজম, বার্লিন ওয়াল ও দুই জার্মানির প্লট রিলেশনগুলো বুঝতে গেলে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কে, কেন, কোথায়, কীভাবে, কখন এই টার্মগুলো মাথায় রেখে বুঝে বুঝে এগোলে সিরিজটার পুরোটা নেয়া সম্ভব। কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই ইন্ট্রা-পারসন ইন্সিডেন্ট, প্লেস, টাইম আর অব্জেক্টিভিটির খেই হারিয়েছি ব্যস্ততার জন্য বা একটানা না দেখার কারণে। একটানা এবং এর মাঝে অন্য কিছু না দেখে শুধু কেনজো তেনমা, ইয়োহান লিবের্ত, নিনা ফোর্তোনার, ইন্সপেক্টর লুঙ্গের সাথে বুঝে বুঝে এগোলে ভাল হয়। এরা তাদের মাথার ভেতরে কোথায় কী হচ্ছে কেন হচ্ছে কী হতে পারে সে বিষয়ে সম্যক ধারণা দিয়ে দিয়ে নিয়ে যাবে মন্সটারের গভীর থেকে গভীরে।

মিনিট ডিটেইল যাকে বলে এই অ্যানিমে সিরিজ তার ষোল আনাই তুলে ধরেছে। কোথাও এতটুকু ঢিলেঢালা ভাব নেই। সাইকোলজিক্যাল ড্রামার যে পরিবেশ তার অলমোস্ট শতভাগ, প্লট টুইস্ট আর চেঞ্জিং এর গতিটা বজায় রেখে মাঝেমাঝে মাথা খারাপ করে দেবার জোগাড় করে দেবে এই অ্যানিমে। কেন? যখন দেখা যাবে যে চারপাশে এক দানবের অঙ্গুলি হেলনে কেবল অনাসৃষ্টিই হচ্ছে! কিন্তু কি তার উদ্দেশ্য, কী তার আদর্শ, কেন সে পর্দার আড়ালে থেকে সব করে যাচ্ছে এমন শত প্রশ্ন মাথার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

যখন কোন একটা ক্রিয়েশন মাঝপথে অসম্ভব ভালো লাগার পরিবেশ তৈরি করে তখনই একটা সন্দেহ জাগে যে এর সমাপ্তি বা এন্ডিং কেমন হবে। অ্যাপ্রোপ্রিয়েট হবেতো? শেষে আবার কেলো করে দেবেনাতো? না। এন্ডিং ভালোই। ইনসেপশনে নোলান যেমন শেষে একটা ধাঁধা লাগিয়ে শেষ করেছেন, এই অ্যানিমেও অনেকটা সে রাস্তায়ই হেঁটেছে। তবে ভাল একটা ড্রামা থ্রিলারের বৈশিষ্ট্য হল ভিউয়ার যেন আগে থেকে অনুমান করতে না পারে যে কী হবে। ধাক্কাটা খায় সেভাবেই প্রি কন্সেপশনকে বুড়ো আঙুল দেখানো সিরিজ এটা। ইয়োহান লিবের্তের অত মায়ামাখা মুখ দেখেও অত আইডিয়া করে নেবার কিছু নেই। গুরু উচিহা ইতাচি বলে গেছেন – Do not judge others simply by their preconceptions, and judgement based on their appearance.

ম্যাচুরড এবং খুব অ্যাট্রাক্টিভ একটা সিরিজ। যার কয়েকটা রোল নিয়ে রীতিমত কিছুদিন ভাবা যায়। চিন্তা করা যায়। অনেক দেরি করে দেখার জন্য আফসোস নেই তবে আরেকবার নোটখাতা হাতে নিয়ে দেখার ইচ্ছে আছে। এই সিরিজটা নিয়ে বিবিসি বা নেটফ্লিক্স কিছু একটা করলে ভাল হত। ড. তেনমা আর ইয়োহান লিবের্তের দ্বৈরথটা অন্যভাবে দেখতে পেতাম।

Honobono Log [রিভিউ] — Fatiha Subah

Honobono Log 1

হনোবনো লগ
পর্ব: ১০
ডিউরেশন: প্রতি পর্ব ২ মিনিট
জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, রোমান্স
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৪৭
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮

মাত্র ২ মিনিটে কিই বা দেখানো যায়? দেখানো গেলেও তা হবে নিশ্চয় অনেক গভীর, প্রতীকি, উচ্চমার্গীয় কিছু? আর শর্ট স্লাইফ অফ লাইফ আনিমে তো বেশ কিছুই আছে, এ আর এমন কি? নাহ! যদি এমনটা ভেবে থাকেন তো বিশাল ভুল করছেন। এই ছোট্ট দুই মিনিটের পর্বগুলোতেই হনোবনো লগ এমনভাবে দৈনন্দিন জীবনের সুখ, দু:খের ছোট ছোট মুহূর্ত তুলে ধরেছে যে আপনাকে অবাক করে দেবে। অহরহ ঘটে চলা এই মুহূর্তগুলোই যে দেখতে এত ভালো লাগতে পারে তাই নতুন করে আবিষ্কার করবেন। প্রতিটি পর্ব কোন না কোন কাপল বা পরিবারকে নিয়ে। তাদের গল্পগুলো এতই মিষ্টি যে অনেকে বলে তা নাকি ডায়াবেটিস ধরিয়ে দিতে পারে! তবে কথাটি নেগেটিভলি নেওয়ার মত কিছু না কিন্তু। কোন আনিমে অতিরিক্ত মিষ্টি হওয়ার পরেও যে তা চিনি দেওয়া সস্তা গল্প মনে না হয়ে মনের মধ্যে অন্যরকম ভালোলাগা সৃষ্টি করতে পারে তারই এক দারুণ উদাহরণ হনোবনো লগ। রোমান্স কিংবা অতি মিষ্টি কিছুতে আপনার এলার্জি থাকলেও চিন্তা নেই। তারপরেও আপনার ভালো লাগবে এই নিশ্চয়তা দিতে পারি। কারণ যেই আমি কিনা লাভি-ডাভি কাপল দেখলেই চেতে গিয়ে দৌড়ানি দিতে চাই সেই আমিই আবার এটা দেখার সময় ভেবেছিলাম, ‘ইশ!! এরকম কিছু জীবনে থাকলে মন্দ হত না মনে হয়!’!! হুম!! এই আনিমের ক্ষমতা এতটাই!!

ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে শর্ট আনিমের আর্ট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব আনিমের আর্ট সাধারণ আনিমের তুলনায় অনেক সময় অদ্ভুত ধরণের হয়। আর্ট পছন্দ না হলেই সেটা দেখায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বলাই বাহুল্য হনোবনো লগ বানানোই হয়েছে একটি ছবির বই থেকে। ছবিগুলো দেখতে এবং এগুলোর রঙের ব্যবহার খুবই সুন্দর। ঠিক এই আর্টগুলোই শুধু অ্যানিমেট করা হয়েছে। আনিমের সাথে তা মানিয়ে গেছে ভালোভাবেই। ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদামাটা এক রঙা দেয়াল কিন্তু তা মোটেও কোন মুখ্য বিষয় না। খুব সাদামাটা কিন্তু সুন্দর এক কথায় বলতে গেলে।

এর সাথে আরো আছে মনকে শীতল, শান্ত করে দেওয়ার মত একটি ওপেনিং সং। আমে নো প্যারেডের মর্নিং। আনিমেটি এখনই দেখতে না চাইলেও গানটি একবার শুনে আসুন। মেজাজটা ঠাণ্ডা করার পাশাপাশি আনিমেটি দেখতেও আগ্রহী করে তুলবে বলে আশা করি। লিংক: https://youtu.be/VRn0cFH9-2Y

Honobono Log 2অল্প সময়ে সুন্দর কোন আনিমে দেখে ফেলার জন্য হনোবনো লগ খুবই উপযুক্ত। দশ দুগুণে মোট বিশ মিনিটেই কাছের মানুষদের মাঝে খুনসুটি দেখতে দেখতে কখন সময়টা পেরিয়ে যাবে খেয়ালই করবেন না। মাত্র ২০ মিনিটই তো! একটা সাধারণ দৈর্ঘ্যের আনিমের একটা পর্বের সমান। তাই কমের মাঝে উপভোগ্য সময় কাটাতে চাইলে দেখে ফেলুন হনোবনো লগ।