Shingeki No Bahamut Genesis [রিভিউ] — আতা-ই রাব্বি আব্দুল্লাহ

Shingeki No Bahamut Genesis

মিথলজিতে আমরা যত ক্ল্যাশ দেখি তা বেশিরভাগ দেবকুল আর অসুরদের মধ্যে। স্বর্গ আর নরকের মধ্যে ক্ল্যাশ। বাট বাহামুত, এমন এক সত্তা যা স্বর্গ, নরক মানবকুল সবকিছুকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে এসেছে। তাকে মারা দেবতা বা ডিমনদের জন্য সনভব নয়। তখন দেবতা, মানুষ আর শয়তানের সম্মিলিত চেষ্টায় তাকে সাময়িক ভাবে বন্দি করে রাখা সম্ভব হয়।
এদিকে এক শহরে চলছে আরেক খেলা। ফাভারো এক আউলা চুলের পাগলা বাউন্টি হান্টার যার কথা হলো টাকা কামাবো, এক রাতে উড়াবো! মদ আর নারী হইলেই খুশি! তার পিছু নিয়েছে এক ফলেন নোবেলের ছেলে কায়সার। দুইজনের মধ্যে সারাদিন চলে চোর পুলিশ খেলা! কিন্তু তাদের এই রুটিনে বাধা পরে যখন এক সুন্দরী নারী এসে ফাভারোর সাহায্য চায়! মেয়ের যাত্রার লক্ষ্য হেলহাইম।
কম পর্বে কেউ যদি ভালো ফ্যান্টাসি এনিমে চায় তাইলে তার জন্য মাস্ট ওয়াচ। এনিমের কাজ করেছে স্টুডিও মাপ্পা।
এই এনিমের অসাধারন দিক হলো মাত্র ১২ পর্বে এক অসাধারন যাত্রা। মানুষ, দেবতা ও অসুরদের অন্তর্দন্দ, লোভ, লালসা আর হিংসার প্রতিফলন। একই সাথে আছে হাসির অনেক মোমেন্ট আবার আছে দুঃখের অনেক হার্টটাচিং মোমেন্ট! ক্যারেক্টারগুলা জোস। ক্যারেক্টারের চেইঞ্জ বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়!
এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ অস্থির। সিজিয়াইয়ের ব্যাবহার আছে কিন্তু এই মাপের ফ্যান্টাসি এনিমে বানাতে গেলে CGI ছাড়া কোন উপায় নাই! ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে বার্সাকের মুভি ট্রিলজির ক্যারেক্টার ডিজাইনের কথা মনে পড়ে গেসিল। গ্রাফিক্স চোখ ধাধানো সাথে অনেক সুন্দর ক্যারেক্টার ডিজাইন। মিউজিক ওপ্বনিং আর এন্ডিং অনেক অস্থির। এই এনিমে এক বসায় শেষ করতে পারবেন! ১২এপি মাত্র। দেখবেন আর ইঞ্জয় করবেন।
তো ওয়াচলিস্টের এক কোনায় ফেলে রাখবেন না অন্য সময় দেখবেন বলে। এখনই স্টার্ট করে দিন দেখা বাহামুতের ক্রোধ!!!
আমি নাম্বার দিতে পারি না আসলে, নিজেকে স্কুল মাস্টার মনে হয়, ভালো লাগলেই ১০ দিয়া দিতাম। তাই এই এনিমে দেখলে আপনার টাইম ওয়েস্ট হইবে? না ! দেখুন বাহামুত!!!

Golgo 13 [রিভিউ] — Amor Asad

Golgo 13 - 01

পেলে পুষে রাজকীয় ঘোড়াটাকে বড় করেছে তরুনী। রেসের ঘোড়া। কিন্তু তরুনীর চাচা মেরে ফেলতে চায় ঘোড়া, পিওর ব্লাড না বলে। একরকম অনার কিলিং বলা যায়। ভাড়া করে হিটম্যান। ঘটনাক্রমে তরুণী জেনে ফেলে হিটম্যানের নাম। তাঁর হোটেলরুমে গিয়ে চেষ্টা করে কনট্রাক্ট বাতিল করার, টাকা-পয়সাসহ সবরকম প্রলোভন দেখিয়ে। প্রিয় পোষ্যর জীবন বাচাতে মরিয়া তরুণী। তাঁর মুখখানি দেখলে যে কারও মায়া লাগবে।
হিটম্যান কী করে? ঘোড়া, ঘোড়ার মালকিন—তরুণী এবং তরুণীর চাচা, তিনজনকেই পরপারে।
.
হিটম্যান জাতীয় সিনেমার সাজেশন খুঁজতে গিয়েছিলাম Reddit-এ। রিকমেন্ডেশনে আসা সিনেমাগুলো সব দেখা থাকলেও, একজন Golgo 13 অ্যানিমে সাজেস্ট করলেন, বেশ জোর দিয়ে। তখনই দেখতে বসেছিলাম। ৫০ পর্ব, একটানা দেখে চারদিনেই শেষ করে ফেলেছি।
.
প্রোটাগনিস্ট Golgo 13 বা Duke Togo বিশ্বসেরা হিটম্যান, এক নম্বর স্নাইপার। তাঁর স্কিলের কাছে ক্রিস কাইলেরা নস্যি। রহস্যময় চরিত্র, চাইলেই খোঁজ পাওয়া যাবে না। তাঁকে ভাড়া করতে চাইলে সেই হাজির হবে। মূল্যও চড়া, প্রতিটা চুক্তির বিনিময়ে গুণতে হবে ৩ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বজোড়া সবাই তাঁর ক্লায়েন্ট। হোক সে মাফিয়া, CIA, FBI, লোকাল কোন বস বা প্রতারিত স্ত্রী। মিশন পছন্দ হলেই গ্রহণ করবে।
.
সিরিজের বৈশিষ্ট্য হলো, পুরোটাই এপিসোডিক, একটা এপিসোডের গল্প ওই এপিসোডেই শেষ। প্রায় প্রতিটা এপিসোডেই কোন না কোন খুনের কনট্রাক্ট এবং তাঁর বাস্তবায়ন দেখানো হয়।
সুতরাং খুব দ্রুতই একঘেয়ে লাগবার কথা। প্রথম দুই/তিন এপিসোডের পরের পাঁচ/ছয়টা এপিসোড লাগেও। সম্ভবত ক্রিয়েটরও বুঝতে পেরেছিলেন। এর পরের এপিসোডগুলোতে অ্যাসাসিনেশনের গল্প থাকলেও বিভিন্ন শর্ত আর জটিলতা যোগ করে গল্পে বিভিন্ন মাত্রা দেয়া হয়েছে। দেখতে ভালোই লাগে তখন। এছাড়া এপিসোডিক সিরিজের প্রতি বিশেষ পছন্দ কাজ করে। ধারাবাহিক গল্পের চেয়ে এপিসোডিক কিছু বিঞ্জ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
.
এছাড়াও গলগো ১৩ এর চরিত্রায়ন পছন্দ করেছি। “নো উইটনেস” কথাটাকে আক্ষরিকভাবেই নেয়, কনট্রাক্ট কিলিং তাঁর কাছে বাস্তবিকই পেশা, ভালো-খারাপ, শুভ-অশুভের পার্থক্য বা পাপবোধ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় গলগো। মানবরচিত নিয়মের সাথে সে কতখানি অসম্পর্কিত, সেটা ভালোভাবে টের পাওয়া যায় সিরিজের ৪৯ নম্বর এপিসোডে।
স্পাইদের মতো রোমাঞ্চকর জীবনে অভ্যস্ত নয় সে, ওম্যানাইজারও নয়। তবে কোন এক অদ্ভুত কারণে প্রায়শই নারীরা তাঁর শীতল, নির্লিপ্ত, পাথরে খোঁদাই মূর্তির প্রেমে পড়ে যায়।
এছাড়া আরেকটা কথা বলে নেয়া উচিৎ হবে, এই সিরিজে এক্সপ্লিসিট সিনের অভাব নেই, হুটহাট হাজির হয়। তাও একদম খুল্লাম-খুল্লা এবং এক দুই সেকেন্ডের নয়। । দর্শকের ব্যাপারটায় সমস্যা থাকলে একা দেখতে হবে।
.
অ্যানিমেশন স্টাইল দেখে মনে হয় কেউ যেন গামার নবটা ধরে জোরে ঘুল্লি দিয়েছে। অনেকটা Kino no tabi-র মতো সাদাটে ভাব। তবে কিনো থেকে কম ডিটেইল্ড ফ্রেমগুলো। চরিত্রগুলোর ডিজাইন কাউবয় বিবপ ঘরানার এবং আবহগত ভাবে মুশিশির সাথে মিল আছে খানিকটা, নৈশব্দ নির্লিপ্ততা বলা যায়।
.
গ্রেট সিরিজ? নাহ। স্ক্রিনপ্লেতে বড় ধরণের সমস্যা আছে।
তবে উপভোগ্য অবশ্যই। এই সিরিজ থেকে মূল পাওনা আসলে Golgo 13 চরিত্র। তাঁকে 47 এর অলটার ইগো বলা যায়।

Golgo 13 - 02

Now and Then, Here and There [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Now and Then Here and There 1

‘Don’t judge a book by it’s cover’
স্কুল জীবনের ‘English For Today’ এর কল্যাণেই হোক কিংবা বর্তমানের রিন পাওয়ার হোয়াইটের অ্যাডের কারণেই হোক প্রবাদটা আমাদের সবারই জানা। এ প্রবাদের উদাহরণও আছে অনেক এবং সেগুলো বাস্তব জীবন থেকে শুরু করে মুভি, বই, এনিমে সব স্থানেই দেখা যায়। সেই উদাহরনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ‘Now and Then, Here and There’.

এনিমে: Now and Then, Here and There (Ima, Soko ni Iru Boku)
জনরা: ড্রামা,মিলিটারি, ফ্যান্টাসি, সাই-ফাই, এ্যাডভেঞ্চার
এপিসোড: ১৩
স্টুডিও/প্রযোজক: AIC
সোর্স: অরিজিনাল

সিনোপসিস: ‘শু’ মাতসুতানি একজন সাধারন হাইস্কুল পড়ুয়া বালক। সে অতি উৎসাহী,অতি আশাবাদী ও সর্বজয়ী মনোভাবের অধিকারী। স্কুলের কেন্ডো ক্লাবে তার রাইভালকে হারিয়েই নিজের পছন্দের মেয়েকে প্রপোজ করার প্রত্যয় নিয়ে স্কুলে গেলেও জয় তার হাতে ধরা দিলো না।’মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ পড়লো যখন ‘শু’ জানলো যে তার পছন্দের মেয়ের পছন্দ আবার সেই রাইভালই। ভাঙা মন নিয়ে হয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে শহরের পরিত্যক্ত চিমনির উপর’লালা-রু’ নামক এক রহস্যময়ী মেয়েকে বসে থাকতে দেখলো ‘শু’। অতি উৎসাহী ‘শু’ চিমনির উপর উঠে তার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করার সময় হঠাৎই ভোজবাজির মত হাওয়া থেকে উদয় হয় কিছু অদ্ভুত অস্ত্রসজ্জার মানুষের। যেভাবে এসেছিল সেভাবেই তারা লালা-রুকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। আর লালা-রুকে বাঁচানোর চেষ্টায় তাদের সাথে শু-ও এসে হাজির হয় অন্য এক জগতে।

শু নিজেকে আবিষ্কার করলো “হেলিউড” নামক এক বিশাল মানবযানে যার পুরোটাই কংক্রিট আর লোহার বিশাল এক গোলকধাঁধাঁর মত। যার রাজত্বে এক নৃশংস স্বৈরশাসক, কিং হামদো। আর পুরো যানে ছড়ানো ছিটানো আছে তার অধীন সৈন্যদল। যাতে আছে বৃদ্ধ, মধ্যবয়স্ক,কিশোর এমনকি শিশু সৈন্যও! শু আটকা পরল কিং হামদোর হাতে। আর তারপর সে উপলব্ধি করল যে হেলিউডের চারপাশে যতদুর চোখ যায় ততদূর শুধু ধু-ধু মরুভূমি। নদী-সাগর দূরে থাক সেখানে এক ফোঁটা পানি পাওয়াও অনেক দুঃসাধ্য ব্যাপার! এ কঠিন পরিস্থিতিতে শু কি পারবে কিং হামদোর হাত থেকে বাঁচতে? সে কি বাঁচাতে পারবে লালা-রুকে?

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট: প্রথমত:
“First Episode is a BIG Fat Lie ”
প্রথম এপিসোড দেখে যদি ভাবেন ‘ আরে এটা তো আরেকটা টিপিকাল শৌনেন এনিমে” তাহলে বিশাল ভুল করছেন। কেননা সেই এপিসোডের পর আপনি এত এত শক খাবেন যে কল্পনাও করতে পারবেন না।
NTHT একটি ফ্যান্টাসি ডিস্টোপিয়ার চাদরে ঢাকা বাস্তব ওয়ার ড্রামা। এখানে যুদ্ধসময়কালীন পরিস্থিতিকে দেখানো হয়েছে শিশুদের চোখে। যুদ্ধের নৃশংসতা, তার ভয়াবহতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। টর্চার রক্তপাত, ভায়োলেন্স,শিশু নির্যাতন,রেপ এর মত ভারী ভারী জিনিস তুলে ধরা হয়েছে। তবে NTHT শুধু ডিপ্রেসিং জিনিসই নয় সাথে আরও তুলে ধরেছে কঠিন পরিবেশে ইচ্ছাশক্তির বলে বেঁচে থাকার গল্প, ক্ষীন আশাকে পুঁজি করে বেঁচে থাকার গল্প, হার না মানার গল্প, পরিবার আর ভালোবাসার গল্প।
আর এগুলো একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরাই গল্পের মূল লক্ষ্য ছিল বলে আমি মনে করি। আর লেখক এসবকিছুই খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে আলাদা কোনো আদিখ্যেতা ছাড়াই তুলে ধরেছেন। টেকনিক্যাল দিকগুলো উল্লেখ করলে প্রথমেই বলতে হবে এনিমের ডিরেক্টিং চমৎকার।ব্রিলিয়ান্ট স্টোরিটেলিং।
গল্পের পেসিং একটু ধীর মনে হতে পারে কিন্তু গল্পের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য করা হয়েছে ধারনা করা যায়। ভয়েস এক্টিং ছিল দূর্দান্ত!

Now and Then Here and There 2

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
NTHT এর প্রতিটি ক্যারেক্টার গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্রময়। প্রতিটি ক্যারেক্টারই যেন নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রতীক। শু যেখানে আশার প্রতীক সেখানে লালা-রু শোষিত মানুষের প্রতীক। কিং হামদো তুলে ধরে পৃথিবীর স্বৈরশাসকদের আর ‘আবেলিয়া’ চির আনুগত্যের প্রতীক। ‘নাবুকা’ মিথ্যে আশায় বেঁচে থাকা মানুষদের তুলে ধরে আর ‘সারা’ নির্মম বাস্তবতাকে। এছাড়া ‘সিস’,’তাবুল’,’বু’,’সুন’ সকলেই গুরুত্বপূর্ণ আর চিরকাল মনে রাখার মত ক্যারেক্টার।

ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে ‘সারা’ হচ্ছে সিরিজের সবচেয়ে ডেভেলপড ক্যারেক্টার। কিং হামদো আর আবেলিয়ার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়নি বললেই চলে। এছাড়া প্রায় সকলেরই কম বেশি ডেভেলপমেন্ট হয়েছে।

আর্ট ও অ্যানিমেশন:
আর্ট ও অ্যানিমেশন কোনোটিই আহামরি নয়। ৯০এর দশকের এনিমে হওয়াতে(+ বাজেট স্বল্পতা) তা না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অ্যানিমেশনের ঘাটতি পুষিয়ে দেয় এর চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি। কিছু কিছু সিন একইসাথে খুব অসাধারন ও অর্থবহ ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
পুরো এনিমেজুড়ে ছিল Taku Iwasaki এর অসাধারন মিউজিকের কাজ। মেইন থিম হিসেবে থাকা Standing in the Sunset Glow অসম্ভবরকমের সুন্দর একটি সাউন্ডট্র্যাক। Tears আমার শোনা সবচেয়ে ইমোশনাল সাউন্ডট্র্যাকের একটি। ওপেনিং সং এতটা আহামরি নয় হলেও রেইকো ইয়াসুহারার গাওয়া এন্ডিং সং “Lullaby ” অনেক সুন্দর ছিল।

এন্জয়মেন্ট: খুব কম এনিমেই পারে দর্শকের সকল ইমোশন বের করে আনতে আর Now & Then, Here & There নিঃসন্দেহে সে লিস্টে থাকবে। এখানে কিং হামদোর কাজকর্ম যেমন আপনার মাঝে চরম ঘৃনার জন্ম দিবে তেমনিভাবে সিসের সরল উক্তি, ” Wars don’t raise children” আপনার মনকে আঘাত করবে। প্রতি এপিসোডের শুরুতে লালা-রু এর উক্তি, “Because 10 billion year’s time is so fragile, so ephemeral… it arouses such a bittersweet, almost heartbreaking fondness” আপনাকে যেমন ভালো খারাপের ধন্দে ফেলবে তেমনিভাবে বারবার শু এর বলা “Things may look bad now, but good things are bound to happen if you survive long enough.” আপনার মনে আশা যোগাবে। হ্যাঁ আশা যা সে নিরাশার রাজ্যে বেঁচে থাকার ও সামনে এগিয়ে যাবার নূন্যতম ইচ্ছাটাকে সজাগ রাখে। For sometimes hope is all there is to hold onto.
And sometimes, hope is enough.
এজন্যই Now & Then, Here & There অনন্য,অসাধারন এবং চিরকাল মনে রাখার মত এনিমে। তাই দেখে ফেলুন মাত্র ১৩ এপিসোডের চমৎকার এই এনিমেটি। আশা করি পস্তাবেন না।

MyAnimelist Rating: 7.79
Personal Rating: 9

P.S: ১. এনিমেটিতে নুডিটি, গোর নেই তবুও রোজা রেখে না দেখাটাই উত্তম
২. বয়সের পাশাপাশি মানসিক ভাবে ম্যাচিউর না হলে না দেখাই উচিত।

Now and Then Here and There 3

চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান -৫ – Atlanta [Fate/Apocrypha] — Shifat Mohiuddin

Atlanta 1

চরিত্র: আটলান্টা/Atlanta
উপাধি: আর্চার অফ রেড
এনিমে: Fate/Apocrypha
ভূমিকা: মধ্যমপন্থী
জাতীয়তা: গ্রীক
জন্ম ও মৃত্যু: জানা যায় নি
মৃত্যুর ধরণ: জানা যায় নি

ছোটবেলা হয়তো আমরা অনেকেই এমন একটা গল্প পড়েছি যে, একবার এক রাজকন্যা বিয়ের সময় শর্ত জুড়ে দেন যে তাকে বিয়ে করতে চাইলে তার সাথে পাণিপ্রার্থীকে একটা দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। জিততে পারলে রাজকন্যা মিলবে, হেরে গেলে প্রতিযোগীর শিরশ্ছেদ করা হবে। অনেক জায়গা থেকে বড়বড় বীরগণ ভিড় করলেও কাটা মাথার সংখ্যা বাড়তেই থাকে ক্রমান্বয়ে কারণ রাজকন্যা অত্যন্ত দ্রুতগতির ছিলেন। অবশেষে এক প্রতিযোগী রেসের মধ্যে একটা করে সোনার আপেল নিক্ষেপ করেন রাজকন্যাকে বিভ্রান্ত করার জন্য। স্বর্ণের আপেল জিনিসটা অনেক চিত্তাকর্ষক হওয়ায় রাজকন্যা ঝুঁকে দেখতে গেলে এই সুযোগে ঐ প্রতিযোগী রেস জিতে যান এবং ঐ রাজকন্যার স্বামী হবার সুযোগ লাভ করেন। আজকে Fate/Apocrypha এর চার নম্বর এপিসোড দেখার সময় এই কাহিনীর কথা মনে পড়ে গেল। হ্যাঁ, রেড সেকশনের আর্চার আটলান্টাই ছিলেন সেই রাজকন্যা। জটিলতা এড়ানোর জন্য রূপকথার বইয়ে কঠিন কঠিন গ্রীক নাম দেওয়া হত না আরকি। প্রায় দুই বছর আগে আমি ফেইট সিরিজের কতিপয় চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে ধারাবাহিক কিছু লেখা লিখেছিলাম। মধ্যে হুট করে লেখার আগ্রহ চলে যায়। আজ আবার হুট করে কীবোর্ডের গায়ে কিছু আগাছা জন্মানোর ইচ্ছা হল।

আটলান্টার পিতৃপরিচয় নিয়ে বিশেষ কিছু জানা যায় না। রাজা Iasus এর ঘরে তার জন্ম এই ধারণাটাই বেশি জনপ্রিয়। আটলান্টাকে জন্মের পরপরই মারাত্মক প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তার পিতা পুত্র সন্তানের আশা করেছিলেন, আটলান্টাকে দেখে তিনি আশাহত হন। কন্যাসন্তান পালনের ইচ্ছা না থাকায় তিনি আটলান্টাকে জঙ্গলে রেখে আসেন। একটি বন্য ভাল্লুক আটলান্টাকে প্রতিপালন করে। (এইসব ঘটনা গ্রীক পুরাণে নিত্যনৈমিত্তিক!) বয়ঃপ্রাপ্তির সাথে সাথে আটলান্টা শিকারিদের সাথে মেশা শুরু করেন এবং কিছুদিনের মধ্যেই নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করে অন্য সবার থেকে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেন। সভ্য সমাজের সাথে না চলা নিয়ে আটলান্টার মনে কোন দুঃখ ছিল না। আটলান্টা দেবী আর্টিমেসের অনুসারী হয়ে কুমারীব্রত গ্রহণ করেন। নিজের নারীত্ব নিয়ে তার মনে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা ছিল না এবং জীবনযাত্রায় পুরুষকে তিনি নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় মনে করতেন। তাছাড়া তার বিয়ে নিয়ে অমঙ্গলজনক ভবিষ্যৎবাণী ছিল।

আটলান্টার বীরত্বের প্রথম নিদর্শন পাওয়া যায় ‘ক্যালিডোনিয়ার বন্য শূকর’ শিকারের সময়। ঠিকমত পূজা না করায় দেবী আর্টেমিস ক্যালিডোনিয়া রাজ্যে একটা বন্য শূকর পাঠান সেখানের মানুষকে শায়েস্তা করার জন্য। ক্যালিডোনিয়ার রাজপুত্র মেলিয়েগারের নেতৃত্বে একদল শিকারি প্রস্তুত হয় শিকারের জন্য। আটলান্টা এই শিকারি দলে যোগ দিতে চাইলে নারী হওয়ার কারণে অনেকেই এর বিরোধিতা করে। মেলিয়েগার বিবাহিত হওয়ার পরও আটলান্টার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তার চাপাচাপিতেই আটলান্টাকে দলে নিতে সবাই রাজী হয়। আটলান্টার ছোঁড়া তীরই সর্বপ্রথম শূকরটার গায়ে আঘাত হানতে সমর্থ হয়। অবশেষে মেলিয়েগার তার বর্শা দিয়ে শূকরটাকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে মেলিয়েগার প্রথম আঘাতের কৃতিত্বস্বরূপ আটলান্টাকে শূকরের ছাল উপহার দিতে চাইলে মেলিয়েগারের মামারা এর বিরোধীতা করে। তারা আটলান্টার কাছ থেকে পুরষ্কার কেড়ে নিতে চাইলে মেলিয়েগার রেগেমেগে তার দুই মামাকে হত্যা করেন। ভাতৃদ্বয়ের মৃত্যুর কারণে রাগে অন্ধ হয়ে তাই মেলিয়েগারের মা আলথিয়া একটি জাদুর কাষ্ঠখণ্ডকে আগুনে নিক্ষেপ করে যাতে মেলিয়েগারের জীবনীশক্তি অবস্থান করছিল। ফলে মেলিয়েগার মারা যান এবং কিছুক্ষণ পরে জঙ্গল থেকে আরেকটা বন্য শূকর এসে আলথিয়াকে হত্যা করে।

¤

আটলান্টা কলচিস (Fate/stay night এর ক্যাস্টার মিডিয়ার রাজ্য) অভিযানে যেতে চাইলেও জ্যাসন (মিডিয়ার স্বামী) তাতে রাজী হন নি। কারণ হিসেবে আবারও সেই নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটাকেই দাঁড়া করানো হয়। তবে কলচিস অভিযান নিয়ে তৈরি হওয়া একাধিক কাহিনীর একটি অনুযায়ী আটলান্টা অভিযানে ঠিকই যোগ দিয়েছিলেন। তিনি যুদ্ধে আহতও হন এবং কথিত আছে যে মিডিয়া তাকে সেবাশুশ্রূষা দিয়ে সারিয়ে তোলেন।
(ফেইট সিরিজ বড়ই বিশাল ব্যাকগ্রাউন্ডওয়ালা একটা সিরিজ। অনেককিছুর সাথেই অনেককিছুর কানেকশান পাওয়া যায়!)

¤

Atlanta 2

আটলান্টাকে নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে কাহিনী সেটা হল রূপকথার সেই দৌড় প্রতিযোগিতার গল্প। ক্যালিডোনিয়ার শূকর শিকারের পর আটলান্টার বাবা নিজের মেয়েকে স্বীকৃতি দেন। তিনি নিজের মেয়েকে রাজ্যে ফিরিয়ে নেন এবং বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। সরাসরি বিরোধিতা করা বোকামি হবে ভেবে আটলান্টা শর্ত জুড়ে দেন যে তাকে রেসে পরাজিত করতে পারলেই বিয়ের অনুমতি মিলবে। আটলান্টা তার সময়ের সর্বাধিক গতি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন তাই তার কুমারীত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। কথিত আছে যে, আটলান্টা নানাভাবে তার প্রতিযোগীদের সুযোগ করে দিতেন। যেমন: বর্ম পরিধান করে অংশগ্রহণ অথবা প্রতিযোগীকে অর্ধেক পথ এগিয়ে দেওয়ার পর দৌড় দেওয়া। এরপরও কেউই তাকে পরাজিত করতে পারছিল না। তখনই দৃশ্যপটে আসেন মেলানিওন। (হিপ্পোমেনেস নামেও পরিচিত) মেলানিওন আটলান্টাকে ভালবাসতেন। তাই তিনি ভালবাসার দেবী আফ্রোদিতির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। আফ্রোদিতি প্রেমিকদের প্রতি দয়াশীল হওয়ায় মেলানিওনকে তিনটি সোনার আপেল দেন আটলান্টাকে বিভ্রান্ত করার জন্য। নির্দিষ্ট সময়ে রেস শুরু হওয়ার পর আটলান্টা কিছুক্ষণের মধ্যেই মেলানিওনকে পেরিয়ে যান। তখনই মেলানিওন প্রথম আপেলটি নিক্ষেপ করেন। সোনার সেই আপেল দেখতে এতই চিত্তাকর্ষক ছিল যে আটলান্টা সেটা তুলে নিতে গিয়ে দেখেন যে মেলানিওন তাকে পেরিয়ে গেছে। তারপরও আটলান্টা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রেসে জয়লাভ করার ব্যাপারে। এবং এর প্রমাণ দেন তিনি আবারও মেলানিওনকে পেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। তখনই মেলানিওন দ্বিতীয় আপেলটি নিক্ষেপ করেন। আত্মবিশ্বাসী আটলান্টা আবারও সেই আপেলটি কুড়িয়ে নেন। লক্ষ্যসীমার নিকটবর্তী হওয়ার পর যখন আটলান্টা মেলানিওনকে আবার পেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন মেলানিওন শেষ আপেলটি নিক্ষেপ করে আটলান্টাকে বিভ্রান্ত করে দেন এবং রেসে জয়লাভ করে আটলান্টাকে জিতে নেন।

কুমারীব্রত ভেঙ্গে গেলেও আটলান্টা এবং মেলানিওনের সংসার ঠিকমতই চলছিল। আনন্দের স্রোতে ভাসতে ভাসতে মেলানিওন আফ্রোদিতির প্রতি তার দায়বদ্ধতা ভুলে যান। তাই রাগান্বিত হয়ে আফ্রোদিতি সুযোগের অপেক্ষা করতে থাকেন। একবার জিউসের মন্দিরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার আফ্রোদিতি দম্পতির মাথায় নিষিদ্ধ কিছু করার প্ররোচনা ঢুকিয়ে দেন। ফলে মেলানিওন আটলান্টাকে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে তারা মিলিত হন। মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ায় জিউস ক্ষুদ্ধ হয়ে মেলানিওন ও আটলান্টাকে সিংহ বানিয়ে দেন। গ্রীকদের ধারণা অনুযায়ী ব্যাপারটা অত্যন্ত কাব্যিক এবং ট্র‍্যাজিক ছিল কারণ তারা বিশ্বাস করতো সিংহরা নিজেদের মাঝে প্রজনন করতে পারে না, তারা মনে করতো সিংহরা শুধুমাত্র চিতাদের সাথে প্রজনন করে। ফলে মেলানিওন এবং আটলান্টা চিরদিনের জন্য আলাদা হয়ে যান।
(প্রথমে আটলান্টার বিড়ালের মত কান আর লেজ দেখে অবাক হয়েছিলাম। এখন ব্যাপারটা খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে। সিংহী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার কারণে হয়তো সামনিংয়ে এর প্রভাব পড়েছে। নভেল পড়ি নি তাই জানি না সামনে এই ব্যাপারে কিছু বলা হবে কিনা। তবে টাইপ-মুনের প্রশংসা করতেই হবে, মিথের অনুসরণ আর ওয়াইফু চার্মের কাজ দুটোই একসাথে হয়ে গেল।

অ্যাকিলিসের আটলান্টাকে বড় বোন ডাকার ব্যাপারটা একটু ধোয়াটে লেগেছিল। এই ব্যাপারের সাথে একটা ঘটনার সংযোগ ঘটানো যায়। একবার এক শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অ্যাকিলিসের বাবা পেলেয়ুসের সাথে আটলান্টার একটা কুস্তি ম্যাচ হয়েছিল। ম্যাচে আটলান্টা জয়লাভ করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। হয়তো অ্যাকিলিস এই ঘটনার কথা জানতো। তবে আন্টি না ডেকে সিস ডাকার ব্যাপারটা এখনো পরিষ্কার হচ্ছে না।

আটলান্টা এক সন্তানের মা হয়েছিলেন। তবে সেই সন্তানের বাবা মেলানিওন নাকি মেলিয়েগার তা নিয়ে মতভেদ আছে। সেই সন্তান, পার্থেনোপাসকে নিয়েও অনেক বীরত্বের কাহিনী প্রচলিত আছে।

সোর্স: উইকিপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, greekmythology.com

Kino’s Journey: The Beautiful World [রিভিউ] — Siam Maksud

Kino no Tabi 1

কিনো নো তাবি – একটি অসাধারণ গোলমেলে যাত্রার গল্প
The world is not beautiful ; And that, in a way, lends it a sort of beauty…..

জনরাঃ এডভেঞ্চার ফিকশন, ফ্যান্টাসি, সায়েন্স ফিকশন
এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩ + ২ টি মুভি
ম্যাল রেটিংঃ ৮.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৮.৫
আমার রেটিংঃ আহা! রেটিং নিয়ে ঝামেলা ক্যান? অতি ভাল এনিমে তো………

কল্পনা করা যাক এমন একটি সমাজের কথা যেখানে মানুষকে জীবিকার জন্য লড়াই করতে হয় না, তারা সবদিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু তাদের কাছে কি জীবনের আর কোনো অর্থ থাকবে? অথবা এমন কোনো জায়গা যেখানে কেবল শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কদের বাস, বারো বছরের যেখানে পরেই যেখানে সরিয়ে ফেলা হয় অপ্রয়োজনীয় সব অনুভূতি, শিশুটি পরিণত হয় সমাজের ‘আদর্শ নাগরিকে’। এটা কি আসলেই সমাজের ভাল করছে? কিংবা চিরকাল সুখে থাকা এক কবি কি পারবে তার কবিতায় মানুষের দুঃখ কে তুলে ধরতে, এমনকি তাকে বাধ্য করা হলেও? এক উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণকারীর যাত্রাপথের এমন সব গোলমেলে গল্প নিয়েই এগিয়ে চলে Kino’s Journey: The Beautiful World (Kino no Tabi)।

গল্পের শুরু কিনোকে নিয়ে, ভাবলেশহীন মুসাফির, যে কিনা একটি কথা বলা মোটরবাইক নিয়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ায়।
– কেন?
– কে জানে কেন? উদ্দেশ্য নেই।

কাজের কথায় আসি। তো কিনোর গুণাবলির মাঝে একটি অনন্য গুণ হচ্ছে বেচে থাকার প্রয়োজনে অনায়াসে মানুষ খুন করতে পারা। আর তার নির্মম নির্লিপ্ততা। সে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষকে বাচিয়ে তোলে , আবার সে মানুষটা বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাকে নির্দ্বিধায় মেরে ফেলতেও বাধে না। যাত্রাপথের কারো সমস্যাতেই নিজেকে জড়ায় না, পাশ কাটিয়ে চলে যায়।এ পাশ কাটানো কখনো মনে হয় বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, কখনো চরম নিষ্ঠুরতা। কিন্তু এটাই তার চরিত্রের বড় আকর্ষন। কিনো কিন্তু একা নয় এ যাত্রায় । তার সংগী মোটরবাইকের নাম হেরমেস। অতি ভাল যন্ত্র, কিনোর সব কথা শোনে। কথা বলে প্রচুর । তো এ দুজনের যাত্রার সংগী হিসেবে কিনো নো তাবি দেখার জন্য আমন্ত্রণ।

আমার কাছে অনেক ভাল লেগেছে এনিমেটি। এমন কিছু এনিমে মাঝে মাঝে পাওয়া যায় যা শেষ হয় কিছু চিন্তার খোরাক যুগিয়ে। হয়তো বদলে দেয় কোনো বিষয়ে পুরো দৃষ্টিভংগি। কিনো নো তাবিও এমনি একটি এনিমে কিন্তু পার্থক্যটা হলো এ পরিবর্তন ঘটবে প্রতি এপিসোডে । এপিসোডিক এনিমে, প্রতি এপিতেই নতুন নতুন গল্প, নতুন নতুন শহরের নতুন মানুষদের সাথে পরিচয়, বিভিন্ন ধরণের সমাজব্যবস্থার দেখা পাওয়া । এসবের মাঝেই কিনোর অতীত খুজে ফেরা, অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়া। মানুষের ভাল দিকগুলোর সাথে বিভৎস রূপটাও এখানে বেশ ভালভাবে দেখানো হয়েছে। ভালবাসা, করুণা , দয়ার সাথেই দেখা যায় ভয়াবহ স্বার্থপরতা, বিশ্বাসঘাতকতা, অন্যায়ের অদ্ভূত মিশেল। এ যাত্রাপথে দেখা হয় কোনো এক ভবঘুরে, স্মৃতি হারিয়ে ফেলা এক জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রেমে পড়ে যাওয়া খুনী, ধ্বংসপ্রাপ্ত এক সভ্যতার সর্বশেষ জীবিত মানুষটির মতোই আরো অনেকের সাথে। সমাজের বিভিন্ন নিয়মের সীমাবদ্ধতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে এনিমেটিতে। দেখতে দেখতে একসময় নিজের কাছে মনে হবে “ আরে! এটাতো এভাবেও চিন্তা করা যায়!” অন্যরকম এক বিষন্ন ভাললাগার মাঝেই যাত্রাপথ উপভোগ্য হয়ে উঠবে।

গ্রাফিক্স আহামরি কিছু নয়, কিন্তু গল্পের সাথে চমৎকার ভাবে মানিয়ে গিয়েছে । আর সাউন্ডট্র্যাক অসাধারণ। বিশেষ করে এন্ডিং সং টি আমি অনেকবার ইনফিনিট লুপে বাজিয়েছি। গল্পের সাথে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অন্যরকম ভাললাগার জন্ম দেবে। এটা দেখে না থাকলে এনিমে ইন্ডাস্ট্রির একটি মাস্টারপিস মিস করা হবে, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

বি.দ্রঃ মুশিশি ফ্যানদের জন্য এটা মাস্ট ওয়াচ এনিমে। মুশিশি টাইপের ভাইভ পাওয়া যাবে। তবে তা অনেকটাই ডার্ক।

বি.দ্র ২ঃ মুড ভাল হয়ে যাবে এ আশা নিয়ে বসলে পস্তাবেন। বিষন্নতা, হতাশা বেড়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

Kino no Tabi 2

Summer Wars [Movie Review] — Mizbahuddin Rafat

Summer Wars

Summer Wars
Directed by: Mamuro Hosoda
Studio: Madhouse

Summer wars নামটা শুনলেই মনে হয় গ্রীষ্মের যুদ্ধ বা Star wars জাতীয় কিছু। মুভির শুরুতে দেওয়া মিউজিকটা শুনলে Star wars ফিলিংসই পাওয়া যায়। মুভির নাম শুনে কাহিনী কিছু একটা প্রেডিক্ট করেছিলাম কিন্তু এই মুভিটা দেখার এক্সপেরিয়েন্স সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল।

মুভিটা শুরু হয় Oz নামক একটি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড দিয়ে। মুভির প্রথম দৃশ্যেই এমন সাইবার ওয়ার্ল্ড আর ভার্চুয়াল কণ্ঠস্বর শুনে একেবারে অন্যরকম লাগলো। Oz নামক ভার্চুয়াল দুনিয়াটি আলাদিনের চেরাগের মতো। যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ রয়েছে এখানে। শপিং, ফাইটিং, বিজনেস, যোগাযোগ, বিনোদন থেকে শুরু করে বলতে গেলে সব। সোজা ভাষায় বলতে গেলে মুভিটিতে সম্পূর্ণ জাপানের মানুষের কাজকর্ম চলে এখানেই। মুভিটির প্রধান চরিত্র কেনজি কইসো নামের এক হাইস্কুল ছাত্র। সে জাপানের ম্যাথ অলিম্পিয়াডের রানার-আপ। সে ও সাকুমা নামের তার এক বন্ধু ওজের দুনিয়াতে তাদের সময় কাটায়। কেনজির হাইস্কুলের একজন আপারক্লাসম্যান নাতসুকি শিনোহারা হঠাৎ তাদের একটা অতি অদ্ভুত জব অফার করে। সেটা আর কিছুই নয় বরং নাতসুকিকে তার পৈত্রিক নিবাসে যাওয়ার পথে সঙ্গ দেওয়া। হুট করে এমন অভূতপূর্ব প্রস্তাব পেয়ে কেনজি লাফ দিয়ে রাজী হয়ে যায় নাতসুকির বাড়ির দিকে তার যাত্রা শুরু হয়। নাতসুকির বাড়িটি প্রাচীন জাপানিজ ঐতিহ্যবাহী বাড়ির মত। নাতসুকির এর বিশাল ম্যানশন আকারের বাড়িটির ডিজাইন করা হয়েছে জাপানের Ueda Castle থেকে। এনিমেতে নাতসুকির পৈত্রিক নিবাসও উয়েদা শহরে। বাস্তব ওয়েদা প্রাসদটি জাপানের ওয়েদা শহরেই অবস্থিত যা আবার ডিরেক্টর মামোরু হোসোদার নিবাসের অতি কাছে। এই Ueda Castleটির মালিক ছিল Sanada clan যারা কিনা জাপানের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নাতসুকির বাড়িতে আসার কারণ ছিল তার গ্রেইট-গ্র‍্যান্ডমাদারের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন। আর এই উপলক্ষে নাতসুকির পুরো পরিবারই জড়ো হয় তাদের পারিবারিক বাসস্থানে। Natsuki এর পরিবার বিরাট বড়। তাদের সম্পূর্ণ পরিবার দেখলে আমাদের একান্নবর্তী যৌথ পরিবারের কথা মনে পড়ে যায়। তাদের পরিবারের বিস্তৃতি পুরো জাপানে ছড়িয়ে আছে। কেনজি, নাতসুকির পরিবারের সাথে বেশ ভালো সময় কাটাতে থাকে যতক্ষণ না সেই কালোরাত্রিটা আসে। ছুটির প্রথম রাতেই তার মোবাইলের ওজ আইডিতে হঠাৎ একটি বিরাট কোড আসে যেটি সে পাগলামিবশত (এবং ঘুম না ধরায়) এক রাতের ভিতরেই কমপ্লিট করে বসে। তারপরের ঘটনাটা একেবারেই অন্যরকম। তার এই ডিকোডকে কাজে লাগিয়ে একটি ভাইরাস পুরো ওজের সিস্টেমে নিজের আধিপত্য ফলিয়ে একের পর এক অপকর্ম করতে থাকে। প্রায় চল্লিশ কোটি ওজ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়ে যায় যার মধ্যে রয়েছে কেনজির অ্যাকাউন্টটিও। যেহেতু কেনজির অ্যাকাউন্ট থেকে কোডটা ডিকোড করে পাঠানো হয়েছে তাই পরেরদিনেই সে মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী হয়ে যায়! তারপর ঘটনাক্রমে এই পরিবার তরফ থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর সেই ভাইরাসের বিপক্ষে এক সম্মিলিত লড়াই।

পরিচালক মামোরু হোসোদা Oz এর আইডিয়াটি নিয়েছেন একটি সুপার মার্কেট থেকে। যদিও এর সাথে Oz এর কোনো প্রকার মিল নেই। মুভির ফাইট সিন অর্থাৎ Oz এর ব্যাটেল সিস্টেমটি মুভির ডিরেক্টর Nintendo DS এর গেইমিং সিস্টেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছেন। ভাল রকমের একটি স্টোরি এবং অনেক উত্তেজনা উপভোগ করতে চাইলে এই মুভিটা একটা অসাধারণ চয়েস। রেটিং এর ক্ষেত্রে মুভিটিকে A+ দেওয়া যায়। হালকা রোমান্টিসিজমের ছোঁয়াও পাওয়া যায় মুভিটিতে। অনেকগুলো গভীর পারিবারিক মুহূর্তের সমষ্টি সামার ওয়ারস আর এটাই মুভির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। মামোরু হোসোদার মুভিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এঞ্জয় করেছি এই মুভিটিই। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া মুভিটির ঝুলিতে আছে জাপান মিডিয়া আর্টস ফেস্টিভ্যাল ও জাপান অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের বেস্ট অ্যানিমেশনের পুরস্কার। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল মুভিটি।

Rose of Versailles [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Rose of Versailles

এনিমে: Rose of Versailles
পর্ব সংখ্যা: ৪০
জনরা: হিস্টোরিকাল রোমান্টিক-ড্রামা

ইতিহাস কবে থেকে এতো বিনোদনময়ী এবং চিত্তাকর্ষক? ছোটবেলায় আম্মু যখন জোড় করে সমাজ বইয়ে বাংলার নবাবদের কাহিনী পড়াতো, তখন তো এরকম আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতে পারি নি। সতেরশ শতাব্দীর ফ্রেঞ্চ বিদ্রোহের উপর ভিত্তি করে এই এনিমেটা তৈরি। এনিমে ইতিহাসের সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি এই এনিমে এবং সকল এনিমে ভক্তদের দেখা উচিৎ এনিমেটি।

কাহিনীঃ ১০/১০
খুব কম এনিমের কাহিনী আপনার চোখকে টিভির পর্দার সাথে এভাবে লাগিয়ে রাখবে। প্রতিটা পর্ব শেষ হবার পরেই পরবর্তীতে কি হবে এটি জানার জন্যে যে আপনি কখন পরের পর্বটি শুরু করে দিয়েছেন তা আপনি নিজেও টের পাবেন না। কাহিনীগত দিক থেকে এনিমেটি সাধারণত সত্য তথ্য ব্যাবহার করে থাকে, যদিও কাহিনীতে ছোট-খাটো বহু জিনিস আছে যা বাস্তবে ঘটে নি এবং কিছু নতুন চরিত্র আছে যাদেরকে এই কাহিনীটির জন্যে লেখা হয়েছে। তবে মূলত এনিমেটি সঠিক ইতিহাসটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। দর্শক হিসেবে আমরা নিজেদের চোখের সামনে দিয়েই দেখতে পাই শাসকদের জুলুমের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের বিদ্রোহ এবং ফ্রেঞ্চ শাসকতন্ত্রের পতন। অসাধারন ভাবে এনিমেটি এই বড় ইতিহাসটিকে ফুটিয়ে তুলেছে। এনিমের কাহিনীটি ২০ বছরের ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতো বড় কাহিনীর উপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্য লেখা চারটি খানি কথা নয় অথচ এই এনিমেটি এই কঠিন জিনিসটিকে চমৎকার ভাবে প্রদর্শন করেছে। কাহিনীগত দিক থেকে এটি এনিমের সেরা কাহিনী মনস্টার, লেজেন্ড অফ দা গ্যালাক্টিক হিরোস, নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওনের কাতারেই নিজের জায়গা করে নেয়।

চরিত্রঃ ১০/১০
চরিত্র যেকোনো লেখার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। একটি ভালো কাহিনী হচ্ছে একটি মানুষের মস্তিস্ক এবং এর চরিত্রগুলো হচ্ছে দেহের অঙ্গ। ভালো চরিত্র ছাড়া একটি ভালো কাহিনী কখনই ফুটে উঠতে পারে না। ৪০ পর্বের এই এনিমেটির চরিত্রায়ন যেভাবে করা হয়েছে, আমার মনে হয় না যে, খুব বেশি নোবেল জয়ী লেখকও এত চমৎকার ভাবে কাজটি করতে পারবেন। অস্কার সম্ভবত এনিমে ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা নারী চরিত্র। চরিত্রায়নের দিক থেকে সম্ভবত আসুকা লেঙলেয় সরইয়ুই একমাত্র নারী চরিত্র যে অস্কার থেকে উত্তম। Rose of Versailles এনিমেটিতে প্রায় ২০ টির মতো মূল চরিত্র রয়েছে যারা সকলেই কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। মূল চরিত্রের অস্কার,আন্দ্রে,আন্তইন্নে ছাড়াও জিন, রোসালি, দি ব্রুর মতো পার্শ্ব চরিত্রগুলোও চমৎকার চরিত্রায়ন লাভ করে।

এনিমেশন এবং সাউন্ডট্র্যাকঃ ৯/১০
১৯৭৯ সালের এনিমেশন হওয়া সত্ত্বেও এর চিত্রায়ন মনোমুগ্ধকর। চরিত্রগুলোকে চমৎকার ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এনিমেশন খুবই স্বচ্ছন্দগতিবিশিষ্ট। এনিমেটার ওপেনিং “Bara wa Utsukushiku Chiru” আমার খুবই প্রিয়। এনিমেটার সাউন্ডট্র্যাকের গানগুলি যদিও এনিমের বাইরে খুব বেশি শুনতে ইচ্ছে হবে না কিন্তু এনিমের প্রতিটি মুহূর্ত ফুটিয়ে তুলতে এটি দুর্দান্ত ভুমিকা পালন করেছে।

Revolutionary Girl Utena এই এনিমেটি থেকে অনেক প্রভাবিত। উতেনা চরিত্রটি বলতে গেলে অস্কার কে উৎসর্গ করেই লেখা। Rose of Versailles এনিমের ইতিহাসে একটি অনন্ন্য অর্জন। কেবল ৭০ এর দশকেই নয়, বর্তমান সময়েও এই মানের এনিমে পাওয়া দুর্লভ। সময়ের সাথে সাথে হয়তবা এই এনিমের বয়স বেড়েছে কিন্তু এর চমত্কারী মহত্ত্ব এখনো অক্ষুন্ন আছে।

আমার রেটিংঃ ১০/১০

Sword Art Online II [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

SAO 2 a

এনিমে: Sword Art Online II
জনরা : অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, সায়েন্স ফিকশন (দ্বিমত থাকতে পারে)
এপিসোড : ২৪
স্টুডিও : A-1 Pictures
উৎস : Sword Art Online লাইট নভেল বাই রেকি কাওয়াহারা

*

Sword Art Online একটি বহুল আলোচিত ও সমালোচিত এনিমে সিরিজ। ২০১২ সালে রিলিজ হওয়ার পরেও পাক্কা তিন বছর এর হাইপ ভালোভাবেই দৃশ্যমান ছিল। সেই হাইপের সুবাসে এক নবীন এনিমেভক্ত আমি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এনিমেটা দেখা শুরু করি। যত যাই হোক না কেন, এনিমেটা আমার স্মৃতিতে চিরঅম্লান হয়ে থাকবে কারণ SAO হচ্ছে আমার ডাউনলোড করে দেখা প্রথম এনিমে। যাই হোক, জীবনে কোন রোমান্সধর্মী এনিমে না দেখা এই তরুণ আমি চট করেই কিরিতো আর আসুনার অসম প্রেমে মজে যাই। আর ঘটনাক্রমে ঐ মাসেই আমি এনিমখোরে জয়েন করি। অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ পোস্টের ছড়াছড়ি দেখে আর নিজের মত প্রকাশ করতে সাহস পাই নি। আজ দীর্ঘ প্রায় দুই বছর এই এনিমের সেকেন্ড সিজন দেখে শেষ করলাম। আমি যখন SAO দেখছিলাম তখন SAO 2 মাত্র ইংরেজিতে ডাব হওয়া শুরু হয়েছে। তখন আবার ইংরেজি ডাব ছাড়া এনিমে দেখতে চাইতাম না। তাই ফুল হাইপে থাকা অবস্থায় আর এনিমেটা দেখা হয় নি। ২০১৫ এর নভেম্বরে anicoders এ 720p ডুয়াল অডিও এর খোঁজ পাই, কিন্তু নানাবিধ কারণে এনিমেটা দেখা হয়ে উঠে নি। ততদিনে SAO এর লেইমনেস নিয়েও অবগত হয়ে গেছি। কিন্তু প্রথম ভালোবাসার (বিশেষ করে আসুনার) টান উপেক্ষা করা বড়ই কঠিন কাজ। তাই শেষমেশ দেখেই ফেললাম SAO 2. গৌরচন্দ্রিকাটা হয়তো বেশি দীর্ঘায়িত করে ফেলেছি।

*

প্লট: SAO 2 এর কাহিনী মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত। লাইট নভেলের মোট তিনটা আলাদা আলাদা আর্ক ২৪ পর্বে অ্যাডাপ্ট করা হয়েছে। আর্ক তিনটার নাম, Phantom Bullet, Calibur ও Mother’s Rosario. Phantom Bullet এর কাহিনী ছিল ১-১৪ পর্ব পর্যন্ত, ক্যালিবারের কাহিনী ১৫-১৭ এপিসোড পর্যন্ত ও মাদারস রোজারিও এর কাহিনী ১৮-২৪ এপিসোড পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।

*

ফ্যান্টম বুলেট আর্ক: (স্পয়লার মিশ্রিত)
SAO ইনসিডিন্টের পর কিরিতো যখন একটু স্বাভাবিক জীবনের আভাস খুঁজে পাচ্ছিল তখনই মন্ত্রনালয়ের এক হোমরাচোমরা আমলার কাছে তাকে তলব করা হয়। গভর্নমেন্ট খুবই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপারের তদন্তে কিরিতোর সাহায্য প্রার্থনা করে। কেসটা হল Gun Gale Online ( যাকে সবাই সংক্ষেপে GGO বলে অভিহিত করে) নামের একটা নতুন VRMMORPG নিয়ে যেটি U.S.A হতে পরিচালিত। GGO হল একমাত্র MMORPG যেটা খেলে সরাসরি আয় করা যায়। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই এটি বহুল প্রচলিত। তো GGO এর অত্যন্ত মর্যাদাকর একটি টুর্নামেন্ট Bullet of Bullets শেষ হওয়ার কিছুদিন পরেই গেইমটিতে এক রহস্যময় ও ভৌতিক খেলোয়াড়ের আবির্ভাব ঘটে। Bullet of Bullets এর চ্যাম্পিয়ন টিভিতে সাক্ষাৎকার দেবার সময় গেইমার রেস্ট হাউজে কালো আলখেল্লা পড়া সেই রহস্যময় গেইমারের আগমন ঘটে। সত্যিকারের পাওয়ারের সংজ্ঞা দিতে দিতে টিভি স্ক্রিনের দিকে সে তার অদ্ভুতদর্শন পিস্তল তাক করে। অন্যরা যখন এই ঘটনা দেখে হাসাহাসিতে ব্যস্ত, সেই অদ্ভুতদর্শন পিস্তল হতে একটি বুলেট ছুটে গিয়ে টিভি পর্দাকে আঘাত করে। সবাই তখন আরো হাসিতে ফেটে পড়তে পড়তে আতংকের সাথে খেয়াল করে যে চ্যাম্পিয়ন অদ্ভুত রকমের যন্ত্রণাকর মুখভঙ্গি করছে এবং একসময় তার অ্যাভাটারটা ডিসকানেক্টেড হয়ে যায়। আলখেল্লাধারী সেই রহস্যময়ী নিজেকে Death Gun নামে পরিচিতি দেয় এবং বলে যে সে তার একই নামের পিস্তল দিয়ে গেইমের ভেতরেই বাস্তব জীবনে মানুষ খুন করতে সক্ষম। এই ভয়ংকর ঘটনা গেইমারদের মধ্যে আরো বড় আলোড়ন সৃষ্টি করে যখন তারা জানতে পারে যে পুলিশ চ্যাম্পিয়নের মৃতদেহ তার নিজ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে। ব্যাপারটা শীঘ্রই সরকারের নজরে আসে এবং তারা এই Death Gun রহস্যের সমাধানের জন্য কিরিতোর সাহায্য চায়। প্রথম দিকে নিমরাজি থাকলেও শেষপর্যন্ত কিরিতো এই কেসের তদন্তের দায়িত্ব নেয় এবং GGO তে প্রবেশ করে। ঘটনাক্রমে কিরিতোর সাথে দেখা হয়ে যায় ঠাণ্ডা মাথার তরুণী স্নাইপার সিননের যে কিনা এক অদ্ভুত ফোবিয়ার শিকার এবং এক নির্মম অতীত তাকে সর্বদাই তাড়া করে বেরায়। ক্রমে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে এবং কিরিতো টের পায় যে ডেথ গান তার পুরোনো এক শত্রুই এবং তার মতই একজন SAO সারভাইভার। কে এই ডেথ গান? কি করে সে গেইমের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে মানুষ খুন করে? কিরিতো কি পারবে এই নতুন ঘরানার সাইবারপাংক গেইমের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে?

SAO 2 b*

ক্যালিবার আর্ক: খুবই ছোট অর্থাৎ মাত্র চার পর্বের আর্ক এটি। এখানে বর্ণিত হয়েছে কিরিতো ও তার টিমের লেজেন্ডারি সোর্ড এক্সক্যালিবার পাওয়ার কাহিনী। ঘটনাক্রমে একদিন কিরিতো আর লিফা ওয়ার্ল্ড ট্রির একেবারে নিচে ঝুলন্ত উলটো আকৃতির এক পিরামিডের মধ্যে লেজেন্ডারি সোর্ড এক্সক্যালিবারকে দেখতে পায়। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ট্রির একেবারে নিচের অংশ হওয়ায় সেইখানে ফেয়ারিদের পাখা ঠিকমত কাজ করে না তাই আর কোন উপায় রইলো না এক্সক্যালিবারের কাছে পৌঁছানোর। কিন্তু এক অদ্ভুতদর্শন প্রাণীর সাহায্যে কিরিতো অ্যান্ড কোং পৌছে যায় সেই উল্টো পিরামিডের কাছে, কিন্তু সেইখানে তারা আরো অদ্ভুতুড়ে এক কোয়েস্টের খোঁজ পায় যা কিনা তাদেরকে মুখোমুখি করে দেয় ফ্রস্ট জায়ান্টদের রাজা Thymer বিপক্ষে। পথে তাদের সাহায্য করে এক অনিন্দ্যসুন্দরী নারী যার নাম ফ্রেয়া। এই লেজেন্ডারি সোর্ড এক্সক্যালিবারের সাথে মিশে আছে এক জাতির টিকে থাকার আশা ভরসা, কিরিতো অ্যান্ড কোং কি পারবে সেই আশাকে টিকিয়ে রাখতে?

*

মাদারস রোজারিও আর্ক: ব্যক্তিগতভাবে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এই আর্কটি। মাদারস রোজারিও আর্কের কাহিনী মূলত আবর্তিত হয়েছে Nights of the blood oath এর সাবেক ভাইস কমান্ডার, লাইটনিং ফ্ল্যাশ আসুনা ইউকিকে কেন্দ্র করে। নিজের কেবিনে রাত্রিযাপন করার সময় আসুনা তার বান্ধবীদের কাছ থেকে Zekken নামক এক অদ্ভুত খেলোয়াড়ের খোঁজ পায়। Zekken প্রতিদিন আইনকার্ডের চব্বিশতম ফ্লোরের একটি দ্বীপে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপেক্ষায় থাকে। মজার ব্যাপার হল এই পর্যন্ত কোন প্রতিপক্ষই ডুয়েলে জেক্কেনকে হারাতে পারে নি, এমনকি খোদ কিরিতো পর্যন্ত। তার উপর জেক্কেন আবার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে তার বিরুদ্ধে বিজয়লাভকারীকে সে তার অরিজিনাল সোর্ড স্কিলটি দিয়ে পুরস্কৃত করবে। এবং এই সোর্ড স্কিলটা হল একটি অতিমানবিক ১১ হিট কম্বো মুভ যা কিনা যেকোন গেইমারের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাই আসুনা এই রহস্যময়ী জেক্কেন সম্পর্কে আগ্রহী হয় এবং সিদ্ধান্ত নেয় জেক্কেনকে চ্যালেঞ্জ করার। আর বেশি কিছু বলবো না এই আর্ক নিয়ে কারণ স্পয়লার হয়ে যেতে পারে।

*

SAO 2 আমার কাছে অনেক দিক দিয়েই পূর্ববর্তী সিরিজের চেয়ে ভালো লেগেছে। বিশেষ করে আগের সিজনের Alfheim Online আর্ক থেকে তো অবশ্যই বেশি ভালো লেগেছে। ফ্যান্টম বুলেট আর্কটা যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাচিউর ছিল বলে মনে করি, তবে এনিমে অ্যাডাপ্টশন যে লাইট নভেলের ধারেকাছেও হয় নি তা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছি। আসলে SAO এর কিউট মার্কা ক্যারেকটার ডিজাইন সিরিজের গাম্ভীর্য নষ্ট করে দিতে যথেষ্ট। তারপরেও GGO তে ডার্ক ভাবটা একেবারেই ছিল না বলা যাবে না। অতীতের সাথে সিনন আর কিরিতোর নিরন্তর সংগ্রামের এবং অপরাধবোধকে দমিয়ে রাখার ব্যাপারগুলা ভালোই উপভোগ করেছি। আর ডেথ গান চরিত্রটা যে কারোরই পছন্দসই লিস্টে জায়গা করে নেবে তা ভালোভাবেই বলা যায়।

ক্যালিবার আর্কটা খুবই ছোট হওয়ায় সেইভাবে মনে দাগ কাটতে পারে নি। যথেষ্ট পরিমাণে কমেডি এলিমেন্ট ছিল আর্কটাতে যা ফ্যান্টম বুলেট আর্কের নিরানন্দ ভাবটাকে দূরে সরিয়ে দিতেও যথেষ্ট ছিল। আমার জন্য এই আর্কের একমাত্র ভালো দিক ছিল আসুনা ইউকিকে বহুদিন পরে সক্রিয় অবস্থায় দেখা। (যদিও কিরিতোই যা করার করেছে)

মাদারস রোজারিও আর্ক আমাকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল কিছু জায়গায়। মেইন লিডে আসুনাকে দেখা SAO এর গতানুগতিক কিরিতো কেন্দ্রিক পরিবেশে ভালো একটা সুবাতাসই আনতে পেরেছে। এই আর্ক নিয়ে কিছু বললেই স্পয়লার, তাই অনেক অনুভূতি ব্যক্ত করাও সম্ভব হচ্ছে না। হয়তো অনেকের কাছে এই আর্কটা ততটা আহামরি নাও লাগতে পারে। এই আর্কটাতে বাস্তব জীবনের উপর ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব যে কত ভাবে হতে পারে তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিও যে যুগান্তকারী পরিবর্তন ও মানবজীবন উন্নয়নের একটা চাবিকাঠি হতে পারে তা দেখানো হয়েছে এই আর্কের শেষ পর্বগুলাতে। এবং নতুন এক রহস্যের আভাসও দেওয়া হয়েছে শেষের পর্বে।

SAO 2 c

★

ইংরেজি ডাব দেখেছি তাই ভয়েস অ্যাকটিং নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে ভালোমানের ছিল ইংরেজি ডাব তা বলতে পারি। ওপেনিং আর এন্ডিং সং আগের সিজনের মতই খুবই ভালো ছিল। Tomatsu Haruka এর গাওয়া দ্বিতীয় ওপেনিং ‘Courage’ সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। Luna Haruna এর গাওয়া প্রথম এন্ডিং সং ‘Startear’ টাও খুব আবেগী একটা গান ছিল।

SAO সিরিজের সবচেয়ে ভালো যে দুটো দিক সেগুলো নিয়ে কথা বলতে চাই। এই সিরিজের গ্রাফিক্সের কাজও আগের মত ভালো ছিল। তবে গান গেইল অনলাইনের যান্ত্রিক পরিবেশটা অধিক CG ব্যবহারের মাধ্যমে আরো ভালোভাবে তুলে ধরা যেত। পরের দুইটা আর্কে অবশ্য আগের মতই রূপকথাময় পটভূমি থাকায় A-1 Pictures তাদের মুন্সিয়ানা ঠিকমতনই দেখিয়েছে। বিশেষ করে ‘Courage’ গানটার মিউজিক ভিডিওর ভিজুয়ালের কাজগুলা অনন্য হয়েছে।

ফ্যানসার্ভিস আগের মতই নিম্নমানের ছিল। তবে পরিমাণে আগের সিজনের চেয়ে অনেক কম ছিল। সিলিকা আর লিসবেথের মত দুইটা বিরক্তিকর চরিত্রকে স্ক্রিনটাইম কম দেওয়াতে বহুত প্যাঁচাল থেকে বাঁচা গিয়েছে। সামনের কাহিনীতে এইগুলারে পুরাপুরি বাদ দিয়ে দিলে আরো ভালো হত। পুরুষ চরিত্রের সংখ্যা SAO তে অত্যন্ত কম। সামনে তা আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করি। ক্লায়েনকে অনেকটা ফোকাস করায় অবশ্য ভালো লেগেছে। তবে খেলনামার্কা সোর্ড আর ওয়েপনের ডিজাইন ঠিকই অপরিবর্তিত রয়েছে। আসুনার পারিবারিক সমস্যা ফেস করাটা অনেক বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

সাউন্ডট্র‍্যাক নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। Kajiura Yuki এর সব কাজই অসাধারণ হয়। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। রূপকথাময় সেটিং থাকায় SAO তে যে ধরণের মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে তা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মিউজিক ব্যবহৃত হয়েছে ফ্যান্টম বুলেট আর্কে। সাইবারপাংক পরিবেশে একেবারে খাপে খাপে বসে গেছে ট্র‍্যাকগুলো। Death Gun, Gunland, she has to overcome her fear, bullet of bullets ইত্যাদি ট্র‍্যাকগুলো অত্যন্ত শ্রুতিমধুর। মিউজিকে প্রচুর মেটাল ভাইব আনা হয়েছে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য। পরের দুই আর্কে অবশ্য আগের ঘরানার মিউজিকেই ফেরত যাওয়া হয়েছে। তারপরও ভালো ট্র‍্যাকের অভাব হয় নি যেমন: light your sword, desolate landscape, heartbreaking reality, you are not alone ইত্যাদি। শুধুমাত্র সাউন্ডট্র‍্যাকের জন্যই এই এনিমে দেখা যায় বলে মনে করি।

*

সর্বোপরি এই সিরিজটাকে আমি রিকমান্ড করবো না সবার কাছে। যাদের কাছে SAO 1 ভালো লেগেছিল তারাই এটির সঠিক বিচার করতে পারবেন। আসলে কোন এনিমে একবার আবেগের জায়গাটা দখল করে ফেললে তা মন থেকে সরানোটা খুব কঠিন। গত প্রায় দুই বছরে তো SAO এর কম সমালোচনা শুনলাম না। তারপরও কিন্তু সিরিজটা ঠিকই দেখেছি এবং একই কাজ অনেকেই করেছেন। যাইহোক কিছুদিন পরে Sword Art Online: Ordinal Scale মুভি আসছে। দেখি কেমন লাগে।

SAO 2 d

কোবাতো বন্দনা – লিখেছেন ইশমাম আনিকা

download

“কোবাতো” আনিমেটা দেখে শেষ করলাম মাত্র। এবং বলতেই হবে, অসাধারণ আনিমে ছিল। এত বেশি ভাল লেগেছে যে দৌড় দিয়ে মিথিলার পোস্টে কমেন্ট লিখা শুরু করে দিয়েছিলাম, কারণ মিথিলার সুন্দর রিভিউটা পড়েই এই আনিমে দেখতে বসেছিলাম। পরে আবিষ্কার করলাম বেশি উত্তেজনায় রচনা লিখে ফেলেছি, তাই সেই রচনা একটু বাড়িয়ে চাড়িয়ে এখানে আবার পোস্ট করছি।

কোবাতো আনিমেটা শুরুর দিকে মনে হচ্ছিল, চিনির শিরার মধ্যে সারারাত ডুবিয়ে রেখে সকালে প্রেজেন্ট করেছে। কোবাতো অতিরিক্ত বেশি সুইট, এত বেশি যে সেটা দমবন্ধ করে দেয়ার মত অবস্থা করে। শুরুতে কোবাতোকে একটা এয়ারহেড, কিছুটা এনোয়িং কেয়ারলেস একটা মেয়ে ছাড়া কিছুই মনে হয়না, এবং হানাযাওয়া কানা ইউজলেস ক্যারেক্টার যে খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন, তা এই আনিমে দেখে সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়। প্রথম দু-তিনটা পর্ব দেখে যদি কেউ বিরক্ত হয়ে আনিমেটা ড্রপ দেয়ার কথা ভাবে, সত্যি বলছি অবাক হব না।

এরপর আনিমেটা দেখা চালিয়ে যেতে থাকলাম, কোবাতোর স্বভাব চরিত্রে কোন পরিবর্তন এল না। কিন্তু আমি একটা ব্যাপার উপলব্ধি করলাম। তা হল, আমাদের সবার জীবনেই আসলে একজন কোবাতো প্রয়োজন, যে তার সারল্য, উচ্ছলতা, প্রাণবন্ততা দিয়ে আমাদের ম্যাড়মেড়ে মানসিকতাটা পালটে দেবে। কোবাতো সরল হতে পারে, কিন্তু বোকা নয়। সে একটা কাজ অসম্ভব জেনেও হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, শুধুমাত্র তার সদিচ্ছার জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে সে। কাজের ক্ষেত্রে হাজারটা গোলমাল করে, কিন্তু তাও সে হাত গুটিয়ে বসে থাকে না, কাজটা করেই ছাড়ে। কোবাতোর ওপর বিরক্ত হওয়া যায়, কিন্তু সেটা প্রকাশ করা যায় না। তার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালে সব বিরক্তি চলে যেতে বাধ্য।

13b605e23ec7ae50a8b6f6b56bde4dbd

কোবাতো বন্দনা বেশি করে ফেলছি, কারণ আমার এই ইউজলেস মেয়েটাকে দেখে খুব বেশি ভাল লেগেছে। এখন একটু অন্যদের কথাও বলা যাক!

আমি ফুজিমোতো আর কোবাতোকে শুরুতে দেখে, এমনকি প্রায় ১৯-২০ এপিসোড পর্যন্ত দেখেও কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না যে এই দুটোকে কিভাবে কাপল হিসেবে কল্পনা করব। কিন্তু শেষের দুই এপিসোড যা দেখাল :’) আমার পছন্দের কাপলগুলোর একটা (অ্যাজ ইফ আমার আর কোন পছন্দের কাপল আছে :v) হয়ে গেল কোবাতো – কিওকাযু। মাঝে অল্প সময় সেকেন্ড লিড সিন্ড্রোম ধরি ধরি করছিল, এখন সেটা পালিয়ে গেছে।

আর সবচেয়ে বড় কথা, একটা স্টোরি খালি বানালেই হয়না, সেটার এক্সিকিউশন সেইরকম না হলে আলটিমেটলি অত উপভোগ্য হয়না। কোবাতোকে প্রথমে দেখে তার অতি এন্থুসিয়াস্টিক আচরণ দেখে মেয়েটাকে এনোয়িং লাগছিল, কিন্তু আনিমে আগাতে আগাতে পুরাই “I want to protect that smile” ফিল এনে দিল, যেমনটা কিওকাযুর সাথে ঘটল, সেটা যেন আমার সাথেও ঘটল। বিরক্ত লাগে, কিন্তু সামহাউ রাগ ওঠে না। আনিমের প্রতিটা চরিত্রকেই কাহিনীর প্রয়োজনে খুব দ্রুত, কিন্তু সুচারুভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, এতে পরিবর্তনটা চোখে লাগে না, কিন্তু মনে প্রভাব ফেলে। ফুজিমোতো কিওকাযুর ডেভেলপমেন্টটা বিশেষ করে আমার খুব ভাল লেগেছে। ওর শূণ্যতাগুলো যেন নিজে অনুভব করতে পারছিলাম।

আর ক্ল্যাম্পের মেয়েগুলাকে পেলে যে কি করব 😐 😐 প্রত্যেকটা ছেলেকে এত বেশি ইকেমেন বানাতে কে কইসে এদের :’| কিওকাযু চেতলেও চেহারা কি সুন্দর দেখা যায় <3

আর হ্যাঁ, ক্ল্যাম্প ভার্সের ইস্টার এগ!! ওয়াতানুকিকে দেখাল, তাও আবার তার কুল ফর্মে <3 আবার সুবাসার ক্যারেক্টারদের নিয়ে আস্ত একটা পর্বই দিয়ে দিল!! খুব ভাল লেগেছে :’) ফাইকে আবার দেখলাম <3 এছাড়া চবিটস এর মেইন ক্যারেক্টাররা এখানে পার্মানেন্ট চরিত্র হিসেবে আছে, সেটিং এও মিল আছে দুই আনিমের।

সবমিলিয়ে কোবাতো আনিমেটি আমার খুবই ভাল লেগেছে। সুইট একটা স্টোরি, মন ভাল করে দেবার মত মিষ্টি একটা আনিমে।

07a75ed2b83a14c71e191566552f29d1

গেট ইওর ডেইলি ডোজ অফ শিরোকুমা পান; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

খুব সাধারণ একটা নাম আনিমেটার, শিরোকুমা ক্যাফে, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় শ্বেতভল্লুকের কাফে। আনিমেটা খুঁজে পেয়েছিলাম আমার বিভিন্ন পছন্দের সেইয়্যুদের কাজ চেক করতে করতে। তেমন কিছু আশা করিনি, ভেবেছিলাম শ্বেতভল্লুক ক্যাফে চালাবে, সেখানে অন্য প্রাণীদের ইন্টের‍্যাকশন দেখাবে হয়ত। ৫০ এপিসোড দেখে একটু চিন্তায় ছিলাম যে এতগুলো এপিসোডে এত কি দেখানো যায় একটা ক্যাফে নিয়ে।

আমার আন্দাজ একই সাথে ঠিক ছিল, আবার ভুল। লিটারেলি বললে আমার বর্ণনাই ঠিক, কিন্তু এইটুকু বর্ণনা দিয়ে শিরোকুমা ক্যাফে আনিমে সম্পর্কে কিছুই বলা হয় না।

এই আনিমে দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, আমার অনেক পছন্দের আনিমে আছে, যা অন্যদের এতটা ভাল লাগেনা, এবং আমি বুঝতেও পারি যে তাদের কেন ভাল লাগছে না। কিন্তু এই আনিমেটা কেউ পছন্দ করবে না, এটা ভাবলেও কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে। কেন করবে না?! শিরোকুমার পানগুলো শুনলে একজন মানুষের কেন হাসি আসবে না! পেঙ্গুইনের হারেম (যা কিনা সেইম সেইয়্যুর অন্য যেকোন বিখ্যাত হারেমকে পেছনে ফেলে দেয়) দেখলে কেন কেউ মজা পাবে না! পাণ্ডার অলসতা এবং সেগুলোর পেছনের কঠিন যুক্তি কেন কাউকে ভাবিয়ে তুলবে না! বা নামাকেমোনো বা জৌগামে সানের দৃঢ় মনোবল দেখে কার মন ভরে উঠবে না!

আনিমের বেশিরভাগ চরিত্র প্রাণী, এমন আনিমে এই প্রথম দেখছি না, কিন্তু এমন অসাধারণ চরিত্রায়ন আমার মনে হয়না খুব বেশি দেখেছি। সবচেয়ে যে জিনিসটা ভাল লেগেছে, আনিমের বাঘা বাঘা সেইয়্যুদের সেরা পারফরমেন্স দেখতে পেয়েছি। প্রতিটা চরিত্রের সাথে তারা এমনভাবে মিশে গেছেন, কখনো মনে এই প্রশ্নটা আসতেই দেননি যে এতগুলো প্রাণী মানুষের মত কেন চলাফেরা করছে!

আনিমের আরেকটা ভাল দিক আমার মনে হয়েছে এর ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলো। তিনটি ওপেনিং, তার মাঝে প্রথম ওপেনিং “বোকু নি ইনিভিটেশন” এত বেশি ভাল, যে বাকি দুটো গান ভাল হওয়া সত্ত্বেও প্রথমটার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। আর এন্ডিং অনেকগুলো ছিল, এবং প্রায় প্রতিটাই আনিমের কোন না কোন চরিত্রকে ফোকাস করে। আমার লামা সানের এন্ডিং টা সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে। আর একেবারে শেষ এন্ডিং টায় শিরোকুমা সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে থাকে, শুনে খুব মন খারাপ হচ্ছিল যে এত সুন্দর আনিমেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

শিরোকুমা ক্যাফে নিয়ে আসলে কথা শেষ হওয়ার নয়। প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি আনিমেটার, একেকটা হাসির মুহূর্ত তিন চারবার করে পেছনে টেনে দেখেছি। শিরোকুমার পানের স্ক্রিনশট দিয়ে আমার গ্যালারী ভরে গেছে। বোকু নি ইনভিটেশনের সাথে সুর মেলাতে মেলাতে মুখস্থ হয়ে গেছে। এমনকি পরের পর্বের প্রিক্যাপের কার্ডগুলোও খুব আগ্রহ নিয়ে দেখতাম। শেষ পর্বের শেষ কার্ডে যখন “সি ইউ এগেইন” লেখা উঠল, খুব মন খারাপ হয়ে গেছিল, কারণ সেটা প্রচারের পর পাঁচ বছর হয়ে গেছে, কোন ছোটখাটো ওভিএ স্পেশাল কিছুই নেই এরপর। এক চেরি ব্লসম ভিউইং থেকে আরেকটা, খুব সুন্দর একটা জার্নি ছিল ক্যাফের সাথে।

My invitation came without any prior notice. I accepted it, went to this wonderful cafe knowing nothing, enjoyed myself to the fullest. Now that the party is over, I can’t even think of moving on..

Screenshot_2017-07-12-22-05-43-741_com.mxtech.videoplayer.ad