আসানো ইনিও – মাঙ্গায় সাহিত্য-বাস্তবতা — Fahim Bin Selim

সাধারণভাবে কমিকবই অথবা মাঙ্গাকে সম্ভবত সবসময়ই হালকা শিল্প হিসেবে ধরা হয়ে এসেছে। একই সাথে সাহিত্য আর চিত্রকর্মের সংযোগ, কিন্তু কোনটাই পুরোপুরি না। লেখা ও ছবি দুটোই ব্যবহার করায়, কমে যাওয়া পাঠকের উপর অর্পিত ভাবনা আর কল্পনার সুযোগও। আমেরিকার সুপারহিরো কিংবা জাপানের কিশোর-নায়ক – বরং প্রচলিত কমিকবই, মাঙ্গার সাথে টেলিভিশন সিরিজ অথবা ম্যাগাজিনের ধারাবাহিক গল্পের তুলনাটা বেশি যুক্তিযুক্ত; নির্দিষ্ট কিস্তিতে অনেক সময় ধরে প্রকাশ হয় বলে বাজারে কাটতি ধরে রাখা অপরিহার্য ব্যাপার যেখানে, শিল্পের পাশাপাশি টিকে থাকার জন্য ব্যবসায়িকও চিন্তাটাও। বাস্তবতা থেকে টেনে নিয়ে বিমোহিত করা ফ্যান্টাসি গল্প, কিংবা পাতার পর পাতা লোমখাঁড়া করা অ্যাকশন দৃশ্য – এমনকি ভালোবাসা, বেড়ে ওঠা আর জীবন সংগ্রাম নিয়ে স্লাইস-অফ-লাইফ গল্পের ঘাটতিও জাপানের কখনো ছিলো না। কিন্তু আসানো ইনিওর রীতি ভাঙ্গার চেষ্টাটা তার গল্পের জনরাতেও না, গল্পের ধরনেও না — তা আরো সুক্ষ্ণ — গল্প বর্ণনায়, তার চরিত্রের উপস্থাপনায় লুকানো।

ইনিওর মাঙ্গায় বারবার ঘুরে ফিরে আসে পুরোপুরি কালো প্যানেলে কেবল ন্যারেশন কিংবা মোনোলোগ, সাহিত্যের কাছাকাছি যাওয়া সবসময়ই হয়তো তার চেষ্টা ছিলো। শুরুটাও সাহিত্যিকদের মত ছোট ব্যপ্তীতে, কতগুলো ওয়ান-শট মাঙ্গা দিয়ে। ধীরে ধীরে হাত শানিয়ে নেওয়া, নিজের জীবন থেকে টেনে আনা গল্পতে। এই সময় ইনিও মাত্র বিশের ঘরে পা রাখা যুবক। বেশিরভাগ গল্পতেই তাই স্লাইস-অফ-লাইফ, সেইনেন, এই দুই জনরা উপস্থিত। প্রথম দিকের ধারাবাহিক মাঙ্গা Solanin(২০০৫-২০০৬) আর Hikari no Machi[City of Lights](২০০৪)-তে আধুনিক শহুরে জীবনকে কাছ থেকে তুলে আনার চেষ্টা। ঘটনাকেন্দ্রিক না হয়ে ইনিওর মূল দৃষ্টি বরং তার চরিত্রদের উপর, চ্যাপ্টার ভেদে গল্প-বর্ণনার পয়েন্ট-অফ-ভিউ পরিবর্তিত হওয়া, ওমনিবাস ন্যারেটিভে হালকাভাবে সংযুক্ত অনেকগুলো সুতো দিয়ে ধীরে ধীরে মাকড়সার জালের মত শক্ত একটা গল্প-কাঠামো তৈরিতে।

005

Solanin-এর মূলচরিত্র মেইকো যেমন জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে দুই বছরের চাকরি ছেড়ে দেওয়া ২৪ বছরের এক যুবতী, ইনিওর বয়সটাও এসময় ২৪-ই। কৈশোর আর তারুণ্যের নদী পেরিয়ে জীবনসমুদ্রের অথৈজলে প্রথম অভিগমনের অভিজ্ঞতা এ মাঙ্গার পাতায় পাতায় — ভালোবাসা আর জীবন নিয়ে উদ্বেগ আর আশংকা, যখন প্রথমবারের মত নৌকাটার দাঁড়টা নিজের হাতেই, আর তার প্রতিটি টানের পরিণামও। নিজের স্বপ্ন আর সামর্থ্য নিয়ে চিরন্তন অন্তর্দ্বন্দ্বে আটকা থাকা। “Freedom without purpose feels a whole lot like a burden” – কালো প্যানেলের ন্যারেশনে মেইকোর স্বগতোক্তি আঁকা থাকে। মেইকোর সাথে সাথে হয়তো ইনিওর নিজেরও। শিল্পী হওয়ার চেষ্টাটা যখন সবসময়ই অনিশ্চয়তার এক পথ। “Maybe what you really want is something dreamy and unreal, and you are hesitating because of that.”

সাহিত্য-বাস্তবতা নিয়ে কাজ করলেও এই ড্রিমী এবং আনরিয়েল সুরা আর পরাবাস্তবতার ইনিওর গল্পে প্রবেশ করেছে হরহামেশাই। তার অ্যাবসার্ডিস্ট কমেডির হাত ধরে। Subarashi Sekai![What a Wonderful World!](২০০২-২০০৪) আর Sekai no Owari to Yokomae[Before Sunset and the End of the World](২০০৫-২০০৮), তার দুই গল্প-সংকলন, এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। প্রতি চ্যাপ্টারে আলাদা আলাদা চরিত্র আর তাদের গল্প। সদ্য মৃত্যু বরণ করা উড়ে বেড়ানো কোন আত্নার নতুন চোখে জীবনকে দেখা। কিংবা স্কুলে যাওয়ার পথে কাকের সাথে কোন মেয়ের কথোপকথন। আবার কোন তরূণীর বৃষ্টিস্নাত তন্দ্রায় এসে হাজির হয় মুরাকামির ব্যাঙ। ব্যর্থ এক মাঙ্গাকার অনেক বছর পর স্কুলের পূণর্মিলনীতে গিয়ে দেখা হয় ছোটবেলার প্রথম ভালোবাসার সাথে, এখন যখন সে অন্য এক বন্ধুর স্ত্রী।

007

“Sometimes I think if I open my eyes, I’ll be a kid again and none of this will have happened.
But this has happened. And this is the only me there is,” গ্রাস করা অনুশোচনা অথবা হতাশা।
জীবন কখন ছকে বাঁধা ছিলো? অথবা অনুমিত?
ইনিওর গল্প থেকে ঠিকরে বেড়োয় স্মৃতিকাতরতা। কৈশোরের বন্ধুত্ব আর প্রেম নিয়ে।

Umibe no Onnanoko[A Girl on the Shore](২০০৯-২০১৩)-র মত হয়তো তা কেবলই দৈহিক। র’ আর অনেস্ট। ভেঙ্গে পড়া মানুষের মাথার ভেতর ঢুকে যাওয়া। ভালোবাসার সংঙ্গাটাকে পুনর্নির্ধারনের চেষ্টায়। সোফিয়া কোপোলার Lost in Translation এর প্রাপ্তবয়স্ক হ্যারিস আর শার্লটের নিষ্পাপ ভালোবাসার সাথে বৈপরিত্য টানতেই যেন তখন ইনিওর হাতের কলম এঁকে বেড়ায় কৌশরে পা রাখা ইসোবে আর সাতৌর ব্যক্তিগত সব মূহুর্তে; Kafka on the Shore-এর কাফকা তামুরার মত সেক্সুয়ালিটি নিয়ে কৌশোরের দূর্নিবার কৌতুহলে। তাদের একাকীত্ব আর অবসন্নতায় ভর করা কোন দুপুরে, কানের হেডফোনে যখন বাজতে থাকে Kaze wo Atsumette.
Nijigahara Holograph(২০০৩-২০০৫)-এ সেটা আবার সাইকোলজিক্যাল হররে রূপ নেওয়া। নিষিদ্ধ কোন সম্পর্কে। আপাত সাধারণ জীবনের মাঝে হঠাৎ মাটি খুঁড়ে বের হওয়া কোন পুরনো, লুকানো, স্মৃতি। যেন সাদা কালো কালিতে আঁকা ডেভিড লিঞ্চের কোন ফিল্ম। টুইস্টেড আর আননার্ভিং। কিন্তু বাস্তব আর জীবন্ত।

dass

Oyasumi Punpun[Goodnight Punpun](২০০৭-২০১৩)-এ পুনপুন আর আইকোর ভালোবাসাটা শৈশবের শুভ্র সাদা কাপড়ে মোড়ানো, সহজ এবং সরল। তাদের প্রথম শপথের মত, “Punpun, if you ever betray me, I’ll kill you.” এবং পুনপুনেই প্রথমবারের মত “সাহিত্যিক” ইনিওর বড় গল্পের পথে পা বাড়ানো। ১৪৭ চ্যাপ্টার আর ১৩ ভলিউমে, পুনপুন তো একটা উপন্যাসই! Oyasumi Punpun পুনপুনের জীবনের পিছে ঘুরে বেড়ায় একেবারে শৈশব থেকে। কোন রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে নভোচারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জন্মানোর মূহুর্তে, স্কুলে নতুন বদলি হয়ে আসা কোন বালিকার প্রেমে পরে যাওয়াতে, অথবা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেড়োনো কোন সন্ধ্যায় পরিত্যক্ত এক দালানের ছাদে অতিপ্রাকৃতের মুখোমুখি হওয়ায়। আবারো কালো প্যানেলে ন্যারেশন লেখা উঠে, কিন্তু কখনো পুনপুনকে আমরা কথা বলতে দেখি না, অথবা দেখি না তার আসল চেহারা। পুনপুনের ভাবনাগুলো জানতে পারি মধ্যম পুরুষে। পুনপুনের বুলিতে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় আফ্রো চুলের জাপানী এক ঈশ্বর! হয়তো অনির্ভরযোগ্য সত্যতায়। পুনপুনই যেখানে চুপচাপ, লাজুক এক ওয়ালফ্লাওয়ার, তখন সেটাই তো স্বাভাবিক! মাঙ্গাতে উত্তর-আধুনিক আখ্যানের আবির্ভাব!

ইনিও অনুসরণ করে পুনপুনের স্বপ্নগুলোকেও। ছোটোবেলার নভোচারী হওয়া থেকে যা কৈশোরে বদলে যাওয়া মাঙ্গাকা হওয়ার ইচ্ছায়। অথবা আরো পরে, যখন চোখে অগুণিত সম্ভাবনার স্বপ্নালুতার বদলে জায়গা করে নিয়েছে ব্যর্থতার শূন্যতা। থাকে পুনপুনের ভাঙন ধরা পরিবার, হারানো ভালোবাসা আর আলগা হওয়া বন্ধুত্বের গল্পে।
বেড়ে ওঠা কখন সহজ ছিলো? অথবা নিখুঁত?
এবং পুনপুন বেড়ে ওঠার গল্প, কামিং-অফ-এজ এর অনবদ্য উদাহরণ; শুধু মাঙ্গা না, সাহিত্য…শিল্পের যেকোন মাধ্যমেই অন্যতম সেরা।

oyasumi-punpun-239358

ইনিও তার চরিত্রদের চিন্তাভাবনার ব্যবচ্ছেদ করে। পাঠকদেরও। তার গল্পগুলো কখনোই এসকেপিস্ট ফ্যান্টাসী না। ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করা তার নিজের ক্যামেরায় তোলা আসল রাস্তাঘাট আর ঘরবাড়ির ছবিগুলো বারবার বাস্তবতায় টেনে আনবে। সব উদ্ভট রসিকতা আর সুরা-পরা-বাস্তবতার আড়ালে ইনিওর চরিত্ররা চিন্তা করে সত্যিকারের মানুষের মত, কথা বলে সত্যিকারের মানুষের মত। তাদের সংগ্রামগুলোও সত্যিকারের মানুষের। মেইকো, ইসোবে অথবা পুনপুনের জীবনে – তাদের বেড়ে ওঠায়, বেড়ে ওঠার পর পেছনে ফিরে তাকানোয়, অথবা অনিশ্চয়তায় ঘেরা ভবিষ্যতে; স্কুলের টিফিনে বন্ধুদের আড্ডায়, প্রথম প্রেমে পরায়, অথবা তারূণ্যের জটিলতায়; বন্ধুত্বের ভাঙ্গা-গড়ায়, অনেক কাছের মানুষকে ভুলতে শেখায়; স্বপ্ন দেখায়, তা ভাঙতে জানায়, নতুন স্বপ্নে বিভোর হওয়ায়; মন্ত্র পড়ে ঈশ্বরকে ডাকার চেষ্টায়, পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কামনায়; ছোটবেলায় বড় হওয়ার বাসনায়, বড় হয়ে স্মৃতিকাতরতায় ভোগায়; মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখায়, নতুন জীবনের সাথে পরিচিত হওয়ায় – নিজেদের খুঁজে না পাওয়াটা দুষ্কর।

এবং তারপর তার ব্ল্যাক-কমেডি, অ্যাবসার্ডিসিজম আর সিনিসিজমের ভেতরে ইনিও যখন মাঙ্গার পাতায় জীবনের গল্প বলে আদি-অকৃত্রিমতায়, তার আঁকায় তুলে আনে সাধারণে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য্য, অথবা সাধারণে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার, হতাশ করে, বিদ্ধ করে বাস্তবতার ছুড়ি দিয়ে, বলে মানুষের ব্যর্থতা আর সীমাবদ্ধতা নিয়ে, আবার শেষ পাতায় এসে লিখে যায়, “As long as you are alive, something good is bound to happen”, আমাদের আটকে ফেলে পুনপুনের পাখির অবয়বে, আইকোর সাথে ভালোবাসায় অথবা আরো পরে সাচির সাথে সাক্ষাতে, কিংবা মেইকোর সাথে অনেক দিন আগে ফেলে রাখা গিটার তুলে নেওয়ায়, আর তা যখন ভাবতে শেখায় – নতুন জিনিস এবং পুরনো জিনিস নতুন করে, আর মনে গেঁথে থাকে, চিরদিনের জন্য গেঁথে থাকে, একই সাথে লেখা আর আঁকার ভাষায় – তখন তা সাহিত্য…শিল্প, উঁচুদরের শিল্পই।

Chapter121pg7

 

 

[১] Lost in Translation: https://en.wikipedia.org/wiki/Lost_in_Translation_(film)

[২] Kaze wo Atsumette: https://www.youtube.com/watch?v=k2SPeEeCj3I

[৩] Kafka on the Shore: https://en.wikipedia.org/wiki/Kafka_on_the_Shore

প্লানেটিস [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Planetes 1

*** ঈদ স্পেশাল এনিমে রিকমেন্ডেশন+ ছোট এনিমে রিভিউ****

এনিমে: প্লানেটিস (Planetes)
জনরা: সাই-ফাই,ড্রামা,রোমান্স,সেইনেন,স্পেস
এপিসোড: ২৬
স্টুডিও: সানরাইজ

মহাকাশ নিয়ে মানুষের আকর্ষণ সেই আদিমকাল হতেই। মানুষ প্রতিনিয়তই চাইছে মহাকাশের সকল অজানাকে জানতে, মহাকাশের অজানা স্থানগুলো সবার আগে আবিষ্কার করতে ।যা Star Trek এর Captain Kirk এর ভাষায়, “To boldly go where no man has gone before”। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় হয়ত মানুষ এতে সফলও হবে। যখন মহাকাশ যাত্রা শুধু স্বপ্ন থাকবে না, হবে বাস্তব। তখন কিরকম হবে আজকের পৃথিবী? তখন মানুষের জীবনধারাই বা কেমন হবে?

Synopsis:
সাল ২০৭৫। মানুষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি করেছে। চাঁদ কিংবা মঙ্গলে যাওয়া এখন আর কোনো স্বপ্ন নয় বরং অনেক বাস্তব! এতটাই বাস্তব যে চাঁদ এখন মানুষের ছুটি কাটানোর জনপ্রিয় জায়গা!! কি নেই এখানে? দালানকোঠা, হাসপাতাল,গবেষণাগার সবই আছে।আরও আছে এই চাঁদ আর পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থানরত অসংখ্য স্পেস স্টেশন ও কৃএিম উপগ্রহ। মানুষ আছে, এতশত জিনিশ আছে, আর আবর্জনা থাকবে না? তা কখনো সম্ভব?

আবর্জনাও আছে। কিন্তু এই আবর্জনা স্পেস ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি বড় বাধা কেননা সামান্য আবর্জনা থেকেও ঘটতে পারে বিশাল দূর্ঘটনা। আর এসব আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তাদের বলা হয় ডেব্রি(Debris) কালেক্টর।
স্পেস স্টেশনগুলোতে থাকা হাজারো কোম্পানীর মাঝে একটি – “টেকনোরা”-‘র ডেব্রি সেকশনে নতুন যোগদান করল জাপানী তরুণী ‘আই তানাবে’। তার নতুন কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে যা ধারনা ছিল তা প্রথম দেখাতেই তা সম্পূর্ণ বদলে গেল।পৃথিবীতে আবর্জনা পরিস্কারকারীদের মত মহাকাশের আবর্জনা পরিস্কারকারীরাও অবহেলিত,সকলের হাসির পাত্র।যদিও তারাই জীবন বাজী রেখে এই কঠিন কাজ করে যাচ্ছে। এই অচেনা পরিবেশে, অচেনা সহকর্মীদের সাথে জীবনযাপন, নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার – ‘আই তানাবে’ এর এই পথচলাকে কেন্দ্র করেই তৈরি ‘প্লানেটিস’, যা একইসাথে স্বপ্ন,জীবন,বাস্তবতা আর একটি মিষ্টি ভালোবাসার গল্প।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
‘প্লানেটিস’ এর বড় শক্তি এবং আকর্ষনীয় দিক এর গল্পের বাস্তবিকতায়। সাল ২০৭৫ নিয়ে চিন্তা করতে গেলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে হাই টেক গ্যাজেট কিংবা সম্পূর্ন রোবট নির্ভর একটি পৃথিবীর চিত্র। কিন্তু আদতেই কি আমরা তাই পাব? উত্তরটা না বোধকই হওয়ার কথা।কেননা এত স্বল্প সময়ে এতটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। কেমন পৃথিবী পাবো সম্ভবত তার সবচেয়ে আদর্শ রূপটাই তুলে ধরেছে প্লানেটিস।তাছাড়াও প্লানেটিস বিজ্ঞাননির্ভর।প্রায়ই সাই-ফাই এনিমেতে বিজ্ঞানের সূত্রকে তূড়ি মেরে বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়।কিন্তু প্লানেটিসে অনেকটা বিজ্ঞানসম্মত ভাবেই সবকিছু যেমন: গ্র্যাভিটি, স্পেস স্টেশন,স্পেস ওয়াক, স্পেস সিকনেসের মত বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এবার আসি গল্পে। পুরো এনিমেকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম অংশকে অনেকটা এপিসোডিক স্লাইস অফ লাইফ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই এপিসোডিক পর্বের মধ্যে চরিত্রদের মধ্যকার ইন্টারেকশন গুলোই গল্পের পরবর্তী অংশের জন্য শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।দ্বিতীয় অংশ টা অনেক ডার্ক, রোমান্চকর এবং চিন্তাউদ্দোপক। যাতে আছে পুঁজিবাদ,সাম্রাজ্যবাদ, রাজনীতি,জীবন শিক্ষা এবং মিষ্টি ভালোবাসার ছোয়াঁ। এত সবকিছু খুব সুন্দরভাবে কোনো ফ্ল ছাড়াই তুলে ধরা হয়েছে। এ অংশ অনেকটা এই বার্তাই দিয়ে যায় যে, পৃথিবীর বাহ্যিক পরিবর্তন যতই ঘটুক না কেন ভেতরটা সেই আগের মতই থাকবে।আর এন্ডিং নিখুঁত।এর থেকে ভালো এন্ডিং হতে পারেনা।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে প্রধান ক্যারেক্টার হিসেবে তানাবে আর হাচিমাকিকে দেখানো হলেও এনিমের প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং প্রায় প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্টই ছিল অসাধারন যা সচরাচর দেখা যায় না। স্পেশালি হাচিমাকির ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা বেস্ট ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের মধ্যে একটি।একগুঁয়েমিতা ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে দৌড়ানো, নিজের ভয়কে জয় কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট পেসে খুব সুনিপুন ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া তানাবে, ফি, ইউরিরাও ক্যারেক্টার হিসেবে ছিল অসাধারন।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
নিঃসন্দেহে সানরাইজ স্টুডিও এর বেস্ট কাজগুলোর একটি প্লানেটিস। আর্ট, আ্যনিমেশন, ক্যারেক্টার ডিজাইন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন সবকিছুই টপনচ ছিল।

কিছু কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশন যেমন স্পেস থেকে দেখা সূর্যোদয়ের দৃশ্য, স্পেস স্টেশনের দৃশ্যগুলো দূর্দান্ত ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
এনিমেতে ওপেনিং হিসেবে আছে Mikio Sakai এর “Dive in the Sky” এবং ১ম এন্ডিং হিসেবে আছে একই গায়িকার “Wonderful Life”। দুটোই মোটামুটি ভালো। তবে প্লানেটিসের আসল আকর্ষণ এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে ‘Hitomi Kuroishi’ অসাধারন কাজ করেছেন। ইন্সার্ট সং হিসেবে থাকা তার গাওয়া “A secret of the moon” এবং দ্বিতীয় এন্ডিং “Planetes” সারাদিন লুপ দিয়ে শোনার মত গান।

এন্জয়মেন্ট:
ভাল এনিমে খুজঁছেন? সাই-ফাই লাভার? স্পেস বিষয়ক জিনিস ভালো লাগে? হলিউডের “গ্র্যাভিটি” মুভির ভক্ত? ক্লিশে শৌনেন, স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের প্রেম দেখতে দেখতে বিরক্ত? প্রিয়তমাকে ভিন্নভাবে প্রেম নিবেদন করতে চান?

সোজা দেখতে বসে যান এই মাস্টারপিস এনিমেটি।ইউনিক স্টোরি, অসাধারন এক্সিকিউশন,সুথিং মিউজিক, দূর্দান্ত ক্যারেক্টার সমৃদ্ধ এই এনিমেটি আপনাকে হাসাবে,নতুন করে ভাবাবে,মনে রোমান্চ জাগাবে এবং শেষে প্রশান্তি জোগাবে। এজন্যই ‘প্লানেটিস’ অনন্য, পার্ফেক্ট এনিমে এবং ট্রু মাস্টারপিস। তাই দেরী না করে দেখে ফেলুন ‘প্লানেটিস’।

MyAnimelist Rating: 8.30
Ranked: #160
Personal Rating: 10

Planetes 2

Hotarubi no Mori e [মুভি রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

ছোট্ট হোতারু বনে হারিয়ে গেছে, বাড়ি ফেরার কোনো উপায় পায় না। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। হঠাৎই আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন, মুখ ঢাকা মুখোশে। নাম গিন।

গল্পটা কোনো এক গ্রীষ্মকালের। সে’বার হোতারুকে বাড়ি যাওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছিল গিনই। ভালো বন্ধু হয়ে যায় তারা।

মজার ব্যাপার হলো, গিনকে স্পর্শ করা যায় না। কোনো মানবসন্তান যদি ওকে ছুঁয়ে দেয় তাহলে ও অবলিটারেটেড হয়ে যাবে।

Hotarubi no Mori e

Title: Hotarubi no Mori e (蛍火の杜へ)
Alternative Title: Into the Forest of Fireflies’ Light
Release Date: September 17, 2011
Director: Takahiro Omori
Music: Makoto Yoshimori
MAL: 8.63 (http://myanimelist.net/anime/10408/Hotarubi_no_Mori_e)
Running Time: 44 min
Genre: Romance, Supranatural, Drama
Studio: Brain’s Base

কিছুটা অটোকনক্লুসিভ এই মুভির সোর্স হলো ইয়ুকি মিদোরিকাওয়ার সেম টাইটেল্ড ওয়ান-শট ম্যাঙ্গা। গল্পের সাথে রিলেটেড কীপসেক এডিশন ম্যাঙ্গাও রিলিজ পেয়েছিল যদিও। যারা ম্যাঙ্গাকাকে চেনেন না, তাদের বলি, নাতসুমে ইয়ুজিনচৌ – এর স্রষ্টা তিনি। মুভিটা যথেষ্ট প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয় দেশে বিদেশে। গল্পের সেটিং ছিল জাপানের কুমামোতো প্রিফেকচারের কামিশিকিমি কুমানোয়মাসু শ্রাইন।

জাপানীজ ফোকলোর, মিথোলজি বা ফ্যান্টাসির গল্পে অ্যাডাপ্টেশন খুব বিরল কিছু না। হোতারুর পারসপেক্টিভ থেকে বলতে চাওয়া গল্পতে মানুষ এবং অতিপ্রাকৃত সত্তার সম্পর্ক উঠে এসেছে। আর্টওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো। রং ব্যবহারে কোমলতা, আলোর প্রাচুর্য চোখে পড়ার মতো। এবং সব ফিগারই চমৎকারভাবে ডিটেইলড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্রেইন’স বেস তাদের অ্যাবিলিটি দেখিয়েছে বটে। অ্যানিমেশন ক্রুরা মুভিটা তৈরির পেছনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। ছোট ব্যাপ্তির এই মুভির কাহিনীতে দর্শক ডুবে যায়, বশীভূত হয় আবেগের। মুভিতে পুরোটা সময় জুড়ে একটা সারল্য বিরাজ করে। হায়াও মিয়াজাকি বা মাকোতো শিনকাইয়ের কাজ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন। সেইয়ুদের কাজও চমৎকার হয়েছে। হোতারুর ভয়েস দিয়েছে আয়ানে সাকুরা, গিনের কোউকি উচিইয়ামা।

সাউন্ডট্র্যাক খুবই ইনটেন্স। এক একটা দৃশ্যের সাথে এর মিউজিক যে প্রণোদনা সৃষ্টি করে তা লিখে বোঝানো সম্ভব হবে না কখনোই। এন্ডিং সংটা মনে দাগ কেটে যায়। মেলানকোলিক আবহে ইনস্ট্রুমেন্ট প্লেয়িং — লিরিক্যাল থিমকে রিফ্লেক্ট করেই তা করা। ট্র্যাকটা শুনতে শুনতে ঘণ্টার পর ঘন্টা পার করেছি। শিজুরু য়ুকাতার গাওয়া “Natsu wo Miteita” ঠিক এতটাই প্রিয়। গল্পের প্রগ্রেশনের সাথে সাথে পিয়ানো আর ভায়োলিনের শব্দব্যঞ্জনা আচ্ছন্ন করে রাখে দর্শককে। কাহিনীর সারল্য, উত্তেজনাশূন্য শান্ত সময়কে ডিপিক্ট করতে বা রোমান্টিসিজমে — হোতারুবি নো মোরি এর সাউন্ডট্র্যাক অসম্ভব ব্রিলিয়্যান্ট কিছু কাজের একটি। ব্যাকগ্রাউন্ডে যখন “Kanakana Shigure” প্লে হচ্ছিল, আবেগে, অবসন্নতায় চোখ বুজে ফেলেছিলাম।

কাহিনীর প্রাঞ্জলতা একটা রিফ্রেশিং ভাব তৈরি করে। মুভিটা দেখতে বসে রিল্যাক্সড ফিলিংস চলে আসাটা অসম্ভব কিছু না। এই মুভির একটাই নেগেটিভিটি — শর্ট লেন্থ।

আর কোনো মুভিতে নায়িকা মনে হয় না এতবার ধপাস করে পড়ে গেছে, রেকর্ড বটে! রোমান্স জনরাতে খুব প্রিয় কিছু মুভির মাঝে এটা একটা। এতটা ভালোলাগা আর কখনোই কাজ করেনি।

কেউ কাউকে ছুঁয়েছে কি ছোঁয়নি, গল্পটা আমাকে ছুঁয়ে গেছে, চেতনার গভীরে।

Ansatsu Kyoushitsu 2nd Season [রিএকশন] — Imamul Kabir Rivu

Ansatsu Kyoushitsu

আনসাৎসু কিয়ৌশিৎসুর দ্বিতীয় সিজন দেখে শেষ করলাম । প্রথম সিজন শেষ করায় অন্যতম প্রিয় সিরিজগুলোর একটা হয়ো উঠে এই আনিমেটা । দ্বিতীয় সিজন দেখার পর আমার সেরা ১০-এ একটা পার্মানেন্ট স্থান গেড়ে নিছে সিরিজটা । আনিমেটা এত বেশি ভালো লাগছে বলার মত না, সত্যি কথা বলতে সিরিজটায় কোন খুত খুজে পাই নাই সবকিছুই পার্ফেক্ট লাগছে আমার কাছে । এন্ডিংটা খুব কষ্টের হলেও, অনেক ভালো ছিল হয়তো সেরা এন্ডিংই বলবো আমি ।

কাহিনীটা খুব এক্সেপশোনাল যে কারণে প্রথম থেকেই ভালো লাগছে । যেভাবে কাহিনী আগাইছে খুবই ভালো লাগছে । আর শেষের ৪টা পর্ব অনেক বেশি ইন্টেন্স ছিল । আনিমে সবরকম এন্জোয়মেন্ট দিতে সক্ষম হইছে আমার কাছে । একসাথে হাসির মুহুর্ত ছিল, কষ্টের মুহুর্তও ছিল, অনেক সুথিং পর্ব ছিল, অনেক ইন্টেন্স পর্বও ছিল । অনেক এক্সেপশোনাল একটা ভালো শৌনেন আনিমের উদাহরণ আনসাৎসু কিয়ৌশিৎসু । আমার দেখা এই পর্যন্ত সেরা শৌনেনগুলোর একটা আনসাৎসু । আর শেষ দুই পর্ব পুরা আনিমেটার অবজেক্টিভ পূর্ণ করে দিয়েছে, বিষয়টা মানতে কষ্ট হলেও ।

কোন আনিমেতে একটা পুরা ক্লাসরুম ভর্তি চরিত্র থাকলে আসলেই মনে রাখতে কষ্ট লাগে । কিন্তু এখানে প্রত্যেকটা চরিত্রই মনে একটা ছাপ রেখে গেছে ঘটনাক্রমে । আর কোরো সেনসেই-এর কথা না বললেই নয়, এরকম অসাধারণ চরিত্র আমার আসলেই কম দেখা হইছে যতগুলো আনিমে দেখছি । সিরিজের একেবারে প্রথম দুই পর্বই তাকে খারাপ লাগবে কিন্তু আস্তে আস্তে বলে দিতে পারি আপনার দেখা অন্যতম সেরা চরিত্রগুলোর একটা হয়ে উঠবে কোরো সেন্সেই । আর এইখানে দ্বিতীয় সিজনে প্রত্যেকটা চরিত্রের এত ভালো ডেভেলপমেন্ট দেখাইছে, এটা আসলেই বলার মত ।

অ্যানিমেশন খুবই ভালো লাগছে । হয়তো চোখ ধাধানো তেমন কিছু নয় কিন্তু দেখে অনেক ভালো লাগবে এরকম অ্যানিমেশন । সিরিজের আর্ট অনেক ভালো লাগছে আমার কাছে, কালার স্যাচুরেশনটা বেশি সুন্দর লাগছে ।

আর সিরিজের OST আমার দেখা অন্যতম সেরাগুলোর একটা । প্রত্যেকটা ইন্সার্ট মিউজিক অনেক বেশি ভালো ছিল আর আনিমের মাঝে অনেক পার্ফেক্টভাবে মানানসই ছিল । প্রত্যেকটা ওপেনিং এন্জোয়েবল ছিল, অনেক বেশি ভালো । দ্বিতীয় সিজনের দুইটা ওপেনিং-ই বছরের সেরা ওপেনিং হওয়াটা ডিজার্ভ করে আমার কাছে । একই কথা বলব এন্ডিং গানগুলোর ক্ষেত্রে । প্রত্যেকটা এন্ডিংই সফ্ট ছিল এবং অনেক সুন্দর, শিয়োন মিয়াওয়াকির গানগুলো আসলেই অনেক বেশি সুন্দর ।

এখন আমার প্রত্যেক পস্টেরই ‘MUST’ একটা জিনিশ ভয়েস অ্যাক্টিং এই জিনিশ নিয়ে কথায় আসি । ফুকুয়ামা জুনের আমার দেখা সবচেয়ে এক্সেপশোনাল রোল কোরো সেন্সেই, এই লোক এত পার্ফেক্ট একটা কাজ করছে কোরো সেনসেই-এর হয়ে এরকম হয়তো আর কেউ পারতো না । ফুচিগামি মাই-এর বাকি যেই রোলগুলো শুনছি একটার সাথেও নাগিসার কণ্ঠ ম্যাচ করে না । ভাবতেই অবাক লাগছিলো যে এই মহিলা গুপে নিশিজুমি মিহোর সেইয়ূ । কিন্তু এরকম পার্ফেক্ট একটা ট্র্যাপে কণ্ঠ দিতে পারছে বলেই মহিলা স্বার্থক । ওকামোতো নোবুহিকোকে কার্মার কণ্ঠে অনেক সহজেই ধরা যায় । আয়া সুজাকিও কাঙ্কোলে বাদে যতগুলো আনিমেতে দেখছি প্রত্যেকটায় একই রকম কণ্ঠ দিয়ে চালায় গেছে, তাই কায়ানোকে ধরতেও কোন সমস্যা হয় নাই । মামোরু মিয়ানো, কানেমোতো হিসাকো, ইতৌ শিজুকা, উয়েদা কানা, কাওয়াসুমি আয়াকো, হায়ামি শৌ, নুমাকুরা মানামি, সুগিতা তোমোকাজু, ইয়াহাগি সায়ুরি, শিমাজাকি নোবুনাগা, সাতৌ সাতোমি এদের প্রত্যেককেই খুব সহজে ধরতে পারছি । আর এদের সকলের কাজই নিখুত লাগছে । ফুজিতা সাকির রিৎসু রোলটা অনেক বেশি এক্সেপশোনাল ছিল, আগে অনেকগুলো রোল দেখেছি উনার কিন্তু কারও কণ্ঠের সাথে রিৎসুর মিল পাই নাই । আর ওসাকা রিয়ৌতাকেও কেন জানি ইসোগাই হিসেবে ধরতে পারি নাই । কিন্তু সবমিলাম সবার ভয়েস অ্যাক্টিংই পার্ফেক্ট লাগছে ।

হয়তো আনিমেটা যতটা ভালো তার চেয়ে একটু বেশি বাড়ায় বলছি, কি আর করার পুরা দমের অন্ধ ফ্যানবয় হয়ে গেছি আনিমেটার ।

Rating: 10/10 ~!

Yami Shibai [রিভিউ] — Tabassum Tasnia Wasika

Yami Shibai 1

নাম: Yami Shibai/Theatre Of Darkness/অন্ধকারের নাট্যশালা
জনরা: Supernatural, Horror
সিজন সংখ্যা: 3
এপিসোড সংখ্যা: 13 + 13 + 13 = 39
প্রতি এপিসোড এর সময়সীমা: 4 to 5 minutes
উৎপত্তি কাল: 2013-2015
Myanimelist.com rating: 7.2/10
Personal rating: …..
Season 1: 6/10
Season 2: 6.8/10
Season 3: 7.2/10

আশা করি আপনাদের কারও ভূত দেখার দুরভাগ্য হয়নি৷ এটা যে কতখানি দুরভাগ্য বয়ে আনতে পারে Yami Shibai তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ৷
Yami Shibai বেশ অন্যরকম ১ টি এনিমে ২ টি কারনে৷ ১ হল … এর animation আর উপস্থাপনা Kamishibai ভঙ্গীতে ৷দেখলে মনে হবে কাগজ আর কাঠি দিয়ে বানানো character গুলো ৷
২ হল … প্রতিটি গল্পই জাপানি Myth, Folklore,Rumor থেকে নেওয়া ৷ যার মানে কিছুটা সত্যি হয়তো এতে আছে!

Yami Shibai 2

এর প্রতিটি এপিসোডে ১ টি করে নতুন গল্প বলে একজন Masked Storyteller. সিজন ৩ এ অবশ্য তার বদলে খুবই অদ্ভুতুড়ে ১টি ছেলেকে দেখা যায় যে কিনা ঠান্ডা মাথায় ভয়ংকর সব ভূতের ছবি আঁকে ৷

তাছারা…Season 1 & 2 এর ending song গেয়েছে Hatsune Miku ৷

Yami Shibai এর প্রথম ২ সিজনে কয়েকটা এপিসোড বেশি ভয়ের না ৷ দেখলে মনে হবে, “হায় হায় ! এর থেকে ভাল গল্প তো আমি নিজেই বানায় বানায় বলতে পারি! এটা কিসু হইল? ” তবে সিজন ৩ এর প্রতিটা এপিসোডই আতংকের কারন হতে পারে ৷
সব মিলিয়ে এই exceptional anime টা আমার অনেক ভাল লেগেছে ৷ ঈদে যেসব পিচ্চি “ভূতের গল্প… ভূতের গল্প বলোওওও… ” বলে মাথা খারাপ করে ফেলে… তাদের উচিৎ শিক্ষা দেয়ার মত কিছু হাতিয়ার আমি পেয়ে গিয়েছি!

FINALLY … কিছু আজাইরা কথা বলে শেষ করে দিচ্ছি … ৫ বছর আগে আমরা বসা বদল করি ৷বদলানোরপরের দিনই ভুল করে আমি স্কুল থেকে পুরানো বাসাতে চলে আসি ৷ ফেরৎ যাওয়ার বদলে শেষ বারের মত বাসাটা ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করল ৷ তাই garage এর ভিতর দিয়ে ভাঙা দরজা গলে ঢুকে পরলাম ৷ dining room এ গিয়ে বল্লাম … কেউ আছেন? আমাকে অবাক করে দিয়ে কোথা থেকে ১ টা বিরাল এসে আমার পাশ কাটিয়ে গেল ৷ কিছু দূর গিয়ে ফিরে তাকালো ৷ তবে দৃষ্টিটা আমার ঠিক পিছে গিয়ে ঠেকেছে ৷ মনে পরল মাঝে মাঝে আমার পোষা টিয়াটাও এভাবে তাকাতো আমার দিকে ৷আরও মনে পরল এই বারির বেশ দুরনাম আছে ভুতের বারি হিসেবে ৷যদিও এতগুলো বছর যখন থেকেছি হাজার চেষ্টার পরও কিছু দেখিনি ৷ তবুও দ্রুত চলে আসলাম ৷ দরজা বন্ধ করার সময়ে স্বভাব মত সালাম দিলাম ৷ আর তখনই প্রথম বারের মত খালি বারি থেকে উত্তর এল… ওয়ালাইকুম আস্ সালাম!
আমার মনের ভুল ভেবে উরিয়ে দিতে পারেন ৷ কিছু মনে করব না ৷

Yami Shibai 3

Dimension W [রিভিউ] — মোহাম্মদ ইফতেখার

Dimension W 1

এনিমে – মাত্রা ডব্লিউ (Dimension W)
জনরা – একশন, সাই-ফাই, সেইনেন
পর্ব – ১২

বিজ্ঞান কথাসাহিত্য বিশ্বের সম্ভাবনার সব রাজ্যকে ভাঙ্গার এবং আপনার মনের ইচ্ছাগুলোকে পূর্ণতা দান করতে সক্ষম হয় । বিভিন্ন মাত্রা দ্বারা বিভিন্ন সম্ভাবনা প্রকাশ পায়,কিন্তু আপনাকে যদি বলা হয় এমন এক মাত্রা সম্পর্কে যেখানে বিশ্বের সকল সম্ভাবনা বিদ্যমান,তখন কি করবেন?

STORY
অদূর ভবিষ্যতে, মানুষ মাত্রা এক্স ,ওয়াই,জেড এর পরে ডব্লিউ নামক আরেকটি মাত্রা আবিস্কার করে,যেখানে অসীম শক্তি রয়েছে। মাত্রাটির আবিষ্কারক কোম্পানি, নিউ টেসলা এনার্জি “কয়েল” নামক এক ধরনের ডিভাইস নির্মাণ করে যা নতুন মাত্রার শক্তি ব্যবহার করতে পারে । মাবুচি কিয়োমা হল একজন প্রাক্তন সৈনিক,যে কিনা সব ধরনের কয়েল ভিত্তিক প্রযুক্তি হতে সাবধানে থাকে। বর্তমানে সে একজন সংগ্রাহক,নিউ টেসলা এনার্জির দ্বারা যারা বাধাপ্রাপ্ত হতে চায় না তাদের কাছ হতে অবৈধ কয়েল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ যার কাজ। তার সংগ্রহ মিশনের এক সময়ে মিরা ইউরিজাকি নামক এক অ্যান্ড্রয়েড এর সাথে দেখা হয়,যে নিজেও কিয়োমার পাশাপাশি সংগ্রাহক এর দায়িত্ব নেয়। তবে কিয়োমার অতীত তাকে তাড়া করা শুরু করে যখন সে নাম্বার তদন্তের মিশনে যায় । নাম্বার হল প্রথম দিকের বিশেষ একধরনের কয়েল যার মানুষের স্মৃতি নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা আছে। এই নাম্বারই কিয়োমা ও মিরাকে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্মুখীন করে যেখানে মাত্রা ডব্লিউ এর সকল রহস্যের উন্মোচন ঘটে ।

CHARACTER
গল্পের দুই মেইন চরিত্র হল মাবুচি কিয়োমা এবং মিরা ইউরিজাকি। কিয়োমা স্বাধীনচেতার অধিকারী যার মধ্যে শীতল মনোভাব রয়েছে ।সে স্বল্পভাষী,সৎ,সাহসী ও কর্তব্যপরায়ণ কিন্তু যার পিছনে রয়েছে মর্মান্তিক ইতিহাস। মিরা গল্পটির প্রধান মেয়ে চরিত্র যে একটি রোবট, যার মধ্যে একটি পূর্ণ মানুষের ব্যক্তিত্ব আছে। সে মজার, বুদ্ধিমান এবং সর্বোপরি একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ চরিত্র রয়েছে।
এছাড়া গল্পের অন্যান্য চরিত্রগুলো হল- ম্যারি ,কোরগি,অ্যালবারট শুমান,মিয়াবি,লুজার ,সাল্ভে এনে তিবেস্তি ,লুওয়াই আউরা তিবেস্তি, লাসিথি, হারুকা শিমায়ার,শিদউ ইউরিজাকি,সেইরা ইউরিজাকি। এরা পার্শ্বচরিত্র হিসেবে থাকলেও এদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কম ছিল না। যদিও ১২ পর্বের সিরিজটিতে চরিত্রগুলোর উন্নয়ন খুব একটা চোখে পড়ার মতো ছিল না ।

Dimension W 2

ART & ANIMATION
মাত্রা ডব্লিউ এর আর্টওয়ার্ক অবশ্যই বৈচিত্র্যময়।অন্ধকার এবং বালুকাময় শহরের রাস্তা থেকে শুরু করে ,আনন্দময় রৌদ্রজ্জ্বল দিন , উচ্চ প্রযুক্তির বিকল্প মাত্রা , এই আনিমেটি খুব অল্প সময়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় । প্রতিটি দৃশ্য এতোটাই চমৎকার ভাবে আঁকা হয়েছে যা আপনাকে মাত্রা ডব্লিউ এর দুনিয়ায় আকৃষ্ট করতে বাধ্য করবে ।

SOUND & MUSIC
এই আনিমেতে আহামরি সাউন্ডট্র্যাক না থাকলে যা ছিল মোটামোটি ভালই ছিল। সঙ্গীত গুলো অনেকটা ফ্ল্যাট বলার মতো । স্টেরিও ডাইভ ফাউন্ডেশন এর “জেনেসিস” ওপেনিং টা মানুষের মন কাড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তাছাড়া ফক্স’টেইলস এর “কন্ট্রাস্ট” ছিল এন্ডিং সং হিসেবে। আনিমেটিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো চমৎকার ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

OVERALL THOUGHTS
মাত্রা ডব্লিউ এমন একটি সিরিজ যা আপনার মনে জটলা পাকাবে কিন্তু একই সাথে আপনাকে আকৃষ্ট করে রাখবে। সিরিজটিতে এর ইতিবাচক দিক গুলোর জন্য এর ত্রুটি খমার উপযোগী ।ইউজি ইওয়াহারা এর সৃষ্টি সিরিজটির সাথে ডার্কার দ্যান ব্ল্যাক সিরিজটির কিছু মিল রয়েছে যেমন উভয় সিরিজ এই ঠিকাদার ব্যবহার করা হয় এবং একই সাথে কোন বিস্ময়কর ঘটনার কারনে স্মৃতিবিলোপ হওয়া।বলা বাহুল্য ২৫ পর্বের সিরিজটিকে ১২ পর্বে এনে অনেক কিছুই খাপছাড়া অবস্থায় সিরিজটির সমাপ্তি ঘটানো হয়।তবুও বলা যায় একশন,সাই-ফাই,সেইনেন ফ্যানদের জন্য সিরিজটি পারফেক্ট।আশা করি সবাই সময় নিয়ে দেখবেন। 🙂

PERSONAL RATING- 08.00

Dimension W 3

Kobato [রিভিউ] — Mithila Mehjabin

Kobato 1

আকাশ থেকে টুপ করে একটি পরী নামল! পরনে লম্বা জামা, সাথে বড় একটা সুটকেস, আর ছোট্ট ব্যাগে একটা ছোট্ট নীলরঙা পুতুল, যেটার গলার আওয়াজ শুনলে তার খেলনা আকৃতিটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার বলে মনে হয়! মেয়েটার লম্বা চুলগুলো পা ছুঁইছুঁই করছে, দু চোখে অদ্ভুত সারল্য..অথচ সেটাই যেন তার দোষ! খেলনা পুতুলটা সারাক্ষণই বকছে তাকে। সুরেলা কন্ঠের সুকেশী ও সুবেশী পরী Hanato Kobato, আর তার ঐ পুতুল আকৃতির Iyorogi সান এর সম্পর্কটা কিন্তু যেমনটা দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বেশী উষ্ণ! 😀 ^_^

রিভিউ: Kobato
এপিসোড: ২৪
জনরা: কমেডি, ড্রামা, ফ্যান্টাসী
ম্যাল রেটিং: ৮.১

আক্ষরিক অর্থেই আকাশ থেকে নামে Kobato নামের অদ্ভুত সারল্যে ভরা চঞ্চল মেয়েটি! কোথাকার কিসের সাথে কি যেন একটা চুক্তি হয়েছে তার, চুক্তিটা পূরণ করতে পারলে তার পছন্দের জায়গাটিতে যেতে পারবে সে, আর না পারলে কোথায় যেন আবার ফিরে যেতে হবে তাকে! 🙁

কে শোনে কার কথা, টুপ করে পড়েই সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে গেল Kobato! একদিকে কানের কাছে Iyorogi সান এর কান ঝালাপালা করা বকবকানি, অপরদিকে কি করবে না করবে কিছুই বুঝতে না পেরে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে সে! চুক্তি অনুযায়ী হাতে যাদুর বোতল নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পড়ল Kobato, সাথে Iyorogi সান। চুক্তিটা হলো, ঐ যাদুর বোতল টা “কনফেট্টি” দিয়ে ভরতে হবে! জার্মান শব্দ কনফেট্টি এর বাংলা অর্থ মিষ্টি। তার মানে কি…বোতলটা মিষ্টি দিয়ে ভরবে Kobato?! মোটেই না! দুঃখ ভরাক্রান্ত হৃদয়ের সকল ব্যাথা-বেদনা দূর করে দিলে মানুষের সরল মন যে উষ্ণ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা দিয়েই ভরতে হবে তাকে ঐ বোতল, Kobato যেই আরোগ্য লাভ করা উষ্ণ হৃদয়গুলোর নাম দিয়েছে “কনফেট্টি”! এটাই তার চুক্তি, ঐ বোতলটা যেন ভরে, অন্তত সেই পরিমাণ ফুটো হৃদয় সেলাই করতে হবে তাকে, ভালো করতে হবে ক্লান্ত মনের বিভ্রান্ত মানুষগুলোকে, একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর!

শুনতে যতই কম্পলিকটেড বা খাপছাড়া লাগুক, Kobato তার মিষ্টি, সরল, ও পরিশ্রমী আচরণের মধ্যমে সহজেই আনন্দে ভরিয়ে তোলে যেকোন দুঃখী হৃদয়! তার ভালো করে দেয়া মনের মানুষের তালিকাটা বড় হয় দিন দিন, “কনফেট্টি” দিয়ে ভরতে থাকে যাদুর বোতল। চলার পথে তার পরিচয় হয় Fujimoto সান, Sayaka সান, Kohaku চান সহ আরো বিভিন্ন দুঃখী হৃদয়ের মানুষের সাথে…যাদেরকে বিভিন্নভাবে হৃদয়রোগ থেকে আরোগ্য লাভে সহায়তা করে ও, এবং এমনকি সবচেয়ে কঠিনতম হৃদয়ের মানুষটির মনেও সবচেয়ে উষ্ণ জায়গাটিও দখল করতে সক্ষম হয় সে, যে মানুষটি অনেক আগেই দখল করেছে তার মনের উষ্ণতম জায়গাটি। 🙂 শেষ পর্যন্ত কি সময় ফুরোনোর আগে যাদুর বোতলটি ভরতে পারে Kobato? নাকি যাকে নিজের সবটুকু উষ্ণতা উজাড় করে দিয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ একা করে দিয়ে সৃষ্টির সবকটি অস্তিত্বের বুক থেকে হারিয়ে যায় সে কোনো এক অজানায়? জানতে হলে দেখে ফেলতে হবে Kobato! 🙂 ^_^

অদ্ভুত একটা প্লটকে হৃদয়ছোঁয়া করে উপস্থাপন করার সবচেয়ে সুন্দর উদাহারণগুলোর একটি হতে পারে Kobato। 🙂 ক্যারেক্টারগুলো খুবই পছন্দনীয়। Fujimoto, Sayaka, Kohaku ও মূল কমিক রিলিফ Iyorogi সান! :3 বিশেষত Kobato কে খুবই ভালোলাগে! তার সরল, চঞ্চল এবং কেয়ারিং আচরণ যে কারো মনে জায়গা করে নেয় খুব সহজেই। ^_^ স্পেশালি তার গানটা বহুদিন মনে রাখার মত একটা গান, ঠিক কোকোরোতে গিয়ে লাগে! :’) একটা গাছের ইতিহাস কিভাবে মানুষকে দুচোখ ভরে কাঁদিয়ে ছাড়তে পারে, অন্তত সেটা জানার জন্য হলেও দেখা উচিৎ এনিমেটা! T^T

ওএসটিগুলোয় একটা চাইমিক ভাব আছে, ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো খুবই দৃষ্টিনন্দন। CLAMP এর সিরিজ বলেই কিনা, Holic আর Tsubasa এর মত Chobits এবং Kobato তেও ক্যারেক্টার ক্রসওভার ব্যাপারটা আছে! কাস্টের মেইন দুজনের মূলে আছেন Kana Hanazawa এবং Tomoaki Maeno!

চমৎকার একটা রিফ্রেশিং এনিমে Kobato, সবার জন্য রেকমেন্ডেড!

Kobato 2

Hellsing Ultimate [রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Hellsing Ultimate 1

ভ্যাম্পায়র বললেই আমাদের আমাদের মাথায় ভেসে ওঠে রক্তপিপাসু একদল অমর মানুষদের কথা। যদিও ভ্যাম্পায়র বলতে প্রথমে নিকটআত্নীয়দের দুষ্ট ভূতদের বোঝাত কিন্তু পরে তা বর্তমানে রক্তপিপাসু রাক্ষসদের বোঝায়। সব লোক কথায় ভ্যাম্পায়ারের রেফারেন্স আছে যেমন ভূত ঘাড় মটকে রক্তচুষে নিল। ভ্যাম্পায়ার নিয়ে বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্প মনে হয় কামিনী ডাইনির গল্প। তো আনিমে মাঙ্গাতেও প্রচুর ভ্যাম্পায়ার রয়েছে তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হেলসিং।

ইংল্যান্ডকে রক্তচোষা ঘুউলদের থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করছে আব্রাহাম ভ্যানের হেলসিংএর কন্যা ইনটেগ্রা হেলসিং। এক কালের লাজুক এই মেয়ে এখন একজন রগচটা যোদ্ধা ও কমান্ডার (অবশ্যই তার পিতার মৃত্যু এবং টার চাচার বেঈমানির ফলে)। এবং তার আন্ডারে চুক্তিতে আছে ভ্যাম্পায়ারদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অস্ত্র। অতিরিক্ত শক্তিশালী এক ভ্যাম্পায়ার যার নাম আলুকার্ড। সে আর ১০টা ভ্যাম্পায়ারের মত ম্যান্দা মারা না বরং আরো ভয়ঙ্কর ।কাজের প্রয়োজনে নিরীহকে খুন করতে তার বাধে না, অতি আবেগের কোন দরকার নাই। তাকে সঙ্গ দেবার জন্য আছে ব্যাডাছ আলফ্রেড ওরফে ওয়াল্টার সি ডরনেয এবং সদ্য ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হওয়া সেরাস ভিক্টোরিয়া, যে এখোনো তার নতুন জীবনের সাথে খাপ খেতে পারছে না। এর মধ্যে আবার একদল ভ্যাম্পায়ার নাজি উপস্থিত ইংল্যান্ড দখল করতে এবং তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে এক সাইকো মেজর! তার ডায়লগ এবং কূটবুদ্ধিগুলো বেশ চমৎকার!!!

Hellsing Ultimate 2

এই এনিমেতে খ্রিস্টান একস্ট্রিমিস্ট এবং নাযিদের ভিলেন বানিয়ে ব্যাপারটা উপভোগ্য করে তোলা হয়েছে। আলুকার্ডের ৩২পাটি শ্বদন্ত বের কইরা কোলগেট মার্কা হাসি বেশ চিলিং এবং সাথে হাসিখুশি সেরাসের ভয়ঙ্কর মুড চালু, এক কথায় এপিক!!!!!! ন্যাকামি বেশি নাই। সব ক্যারেকটারই মোটমুটি ভালো স্পটলাইট পেয়েছে। একশান , গোরে ভর্তি , রক্তের ছড়াছড়ি ,হালকা কমেডিও আছে। না দেখার কোন কারণ নাই। মোটে ১০টা এপিসোড। যার হরর ফ্যান তারা অবশ্যই দেখবেন! কাহিনী, একশন, সাউন্ডট্রাক সবই চরম। পর্ব সংখ্যা মোটে ১০। এটা ডাবে না দেখলে দেখা বৃথা।

আমার রেটিং: ৮/১০

Hellsing Ultimate 3

Ouran High Host Club [রিভিউ] — Mahedi Hasan

Ouran

Anime: Ouran High Host Club
Episode: 26
Genre: Comedy, Harem, Romantic
Rating: (আমার কাছে) 6.8/10

আমাদের আশেপাশেই এমন কিছু শিক্ষার্থী থাকেন যারা আমাদের শান্তির ঘুম হারায় করে দেন । কারণ, তারা ভাল ফলাফল করেন আর তার জন্য আমাদের বকা খেতে হয় ।
কেমন হবে যদি এই ব্রিলিয়েন্টদের শায়েস্তা করা যেত ?

এমন ই এক ব্রিলিয়েন্ট এর নাম হল হারুহি ফুজিওকা (Haruhi Fujioka)। এই মেয়ে টার কাজ একটাই!!!পড়া! পড়া! পড়া!
যে সেই বই না। ক্লাস এর প্রতিটি টেক্সট বই সে মুখস্ত করবে।

এ এনিমে তে যে স্কুলের কথা বলা হয়েছে তা আমাদের দেশের বুয়েটের সাথে তুলনা করতে হবে। (এতে আপনার কাছে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে। কিন্তু বুয়েট ভাববেন না) এনিমে তে এটিকে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে। যেখানে শুধু মাত্র ধনী লোকের ছেলে-মেয়েরা পড়তে পারেন। এখানে পড়াশোনা চেয়ে আরাম-আয়েশ বেশি। গরীবের সন্তানের জন্যও এখানে জায়গা আছে। কিন্তু প্রতি বছর একজন করে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। এ বছর তাদের একজন হচ্ছেন আমাদের এই হারুহি।

হারুহি ফুজিওকার পরিবার সচ্ছল নয়। সে তার পরিবারের একমাত্র সন্তান। ছোট বেলা থেকেই তার স্বপ্ন বড় হয়ে নিজের পায়ের উপর উঠে দাড়ানো। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সে পড়ুয়া হয়ে ওঠে। না, সে খারাপ শিক্ষার্থী তা না। বরং অনেক মেধাবী।

সে আজ হাই স্কুল এ পড়ে। একদিন শান্তিতে পড়াশোনা করার জন্য সে ওরান হাই একাডেমী এর লাইব্রেরিতে যায়। কিন্তু সেখানে ছেলে মেয়ে রা বইপড়ার নামে গল্প করছে। হারুহি এতো সোরগোলে পড়তে পারল না। এজন্য সে সিদ্ধান্ত নিল যে, সে এমন জায়গায় পড়বে যেখানে কেউ তাকে বিরক্ত করতে পারবে না।

হারুহি ফুজিওকা চলে গেলেন ওরান হাই একাডেমী এর 3 নম্বর মিউজিক রুমে । এ রুম অনেক দিন ধরেই পরে আছে । কেউ এর ধারের কাছেও আসে না । কিন্তু রুমের দরজা খোলার সাথে সাথেই হারুহি ফুজিওকা পেলো নতুন এক জীবন ও পরিচয় । কি ছিল ঐ রুমে ?

রুমে ঢুকে সে দেখতে পেল কয়েক জন ছেলে তাকে উষ্ণতার সাথে গ্রহণ করল । তারা হারুহিকে নানা ভাবে আপপায়ন করতে থাকে । কিন্তু এটি হারুহির মোটেও ভালো লাগলো না । কারণ, সে এখানে পড়তে এসেছে । তার সময়ের মূল্য আছে ।

এক পর্যায়ে সে দেখতে পেল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট টামাকি কে । টামাকি নাছড়বান্দা , সে বিভিন্ন ভাবে হারুহিকে আপপায়ন করে। এতে হারুহি বিরক্ত হয়ে যায় । এতে সে ভয় পেয়ে আরেক কাহিনী রচনা করে । ক্লাবের সামান্য একটা শো-পিচ ভেঙ্গে ফেলে । তা দাম কত এই শো-পিচের ? 45,000,000 টাকা (ইয়েন)!!!!

বেচারা হারুহি এতো টাকা পাবে কোথায় ? সে টাকার অভাবে স্কুল এর ইউনিফর্ম কিনতে পারে না । আর সে দিবে এত জরিমানার টাকা !

কিন্তু ক্লাবের ম্যানেজার কিঊই বলে তাকে এখনই টাকা পরিশোধ করতে হবে । এ কথা শুনে হারুহি ভয়ে সাদা হয়ে যায় । হারুহির এ অবস্থা দেখে তারা তাকে বিশেষ অফার দেয় ! অফারটি হল, ” হারুহি কে এই ক্লাবের সদস্য হতে হবে পাশাপাশি পুরানো সদস্যদের কাছে দাস হয়ে থাকতে হবে ।

হারুহি রাজি না হয়ে পারে না ।
হারুহি হয়ে গেলেন তাদের দাস ও ক্লাবের সদস্য ।

ক্লাবের নাম হল ওরান হাই হোস্ট ক্লাব । এই ক্লাবের সদস্যদের কোনো কাজ নেই। কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই, ক্লাবে যারা বেড়াতে আসে তাদের বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করা। এজন্য তাদের আপনি বিভিন্ন পোষাকেও দেখতে পারবেন । আসলে যারা বেড়াতে আসেন তাদেরও কোন কাজ নেই! আসবেই না কেন, এখানে তাদের সময়টাও ভালো যায় । এখানে প্রায়ই মেয়েরা এসে থাকেন । তাদেরকে খুশি ও আনন্দ দেয়ার জন্য এই ক্লাবের সদস্যরা বিভিন্ন কার্য কলাপ করে থাকে ।

আসুন, দেখি তারা কে কি করে????

এই ক্লাবের অন্যতম সদস্য ও প্রেসিডেন্ট টামাকি এর কাজ এই ক্লাবে আসা সবাইকে খুশি করানো । এ আবার কেমন কথা? কিন্তু লাইফে কাউকে খুশি করানো চারটি খানি কথা না। এনিমেতে নানা অংশে খুব ভালো করে তা উপলব্ধি করা যাবে ।

ক্লাবের ম্যানেজার কিঊই হলেন চতুর ও ভয়াবহ মেধাবী ছাত্র । ক্লাবের লাভ লোকসান সে নিজেই সামাল দেয় । কিন্তু অন্যান্য সদস্যদের মত সে পাগল নয় । একটু ভদ্র ভদ্র ভাব আছে তার । আলাদা থাকতে বেশি পছন্দ করেন ।

দুই যমজ ভাই আছে! নাম হিকারু ও কারু । এনিমেতে এই দুই ভাইকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কার্যকলাপ করতে দেখবেন ।

3য় বর্ষের ছাত্র আছে এখানে । হানি সেনপাই এর চেহারার সাথেই তার রুচি নিহিত । সে কেক ও পেস্টি খেয়ে থাকে ।
তার বন্ধুর নাম মরি সেনপাই । তিনি গুরুগম্ভীর এবং কম কথা বলেন। কিন্তু তার মধ্যে জেন্টাল জেন্টাল ভাব আছে ।

আর কি ধরনের পাগলামী করে তা আপনারা নিজেরাই এনিমেতে দেখে নিন । আমি বেশি কথা বললে সব কাহিনীই ফাঁস হয়ে যাবে ।

এরকম অদ্ভুত সদস্যদের হাতে আটকা পড়েছে আমাদের ব্রিলিয়েন্ট শিক্ষার্থী হারুহি ফুজিওকা । সে কি তার জরিমানা শোধ করতে পারবে? নাকি আজীবন এদের দাস হয়ে থাকবেন? বন্দি এ কারাগারে কিভাবে বেঁচে থাকবেন হারুহি তা জানার জন্য আপনাকে এই এনিমেটা দেখার জন্য অনুরোধ রইল ।

সপ্তপাপ – রাজতন্ত্র ও মাইথোলজির গল্প কিংবা বিদ্ধংসী যুদ্ধকামনার পরিণাম — অনন্য রায়হান

Seven Deadly Sins

দেশে দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ আর রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ কৃষকের চৌচালা ঘর থেকে বুর্জোয়াদের অট্টালিকা অবধি প্রভাব ফেলে – আর সে প্রভাব কেবল আর্থসামাজিক না হয়ে ইতিহাস বিকৃতি বা প্রকৃত সত্য লুকানোর মত সাংঘাতিক কাজও করতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ বা সংঘাতে জয়ী পক্ষই সাধারণত নিজেদের পক্ষেই যা প্রচার করে তাই হয় ইতিহাস…… এ ব্যাপারে যারা পরাজিত হয় তাদের আস্ফালন বা উচ্চস্বর মুল্যহীন মনে হয় পৃথিবীর কাছে…

সময়ের সাথে সাথে রাজতন্ত্র হারিয়ে গেছে বলে যে ইতিহাস বিকৃতি হয়না – তেমনটা নয়। কিন্ত মিডিয়া ও প্রযুক্তির কল্যাণে তা কমে এসেছে……
ইতিহাস বিকৃতি যদি এমন হয় যে তা রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ও অনুগত যোদ্ধাদের ই বিশ্বাসঘাতক বলে চিহ্নিত করে তবে কেমন হবে? কেনই বা এমনটা করা হবে — উত্তর হিসেবে একটা ক্ষেত্র বা দৃশ্যকল্প দেখান হয়েছে ২৪ এপিসোডের Nanatsu No Taizai তে ……..

সাথে জাপানের মিথোলজিক্যাল কিছু ম্যটেরিয়াল আর “Magi” পাওয়ার তথা যাদুবিদ্যার সাহায্যে যুদ্ধ বেশ ভালো ভাইব এনেছে…

গল্পটা শুরু লিওনেস রাজ্যে ……
১০ বছর আগে রয়্যাল ফ্যামিলি ও রাজ্যের প্রধান বাহিনী “Holy Knights” দের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছিল সাত জন Holy Knight যারা অন্যান্য নাইট দের চেয়ে ডজন ডজন ধাপ এগিয়ে । রাজ্য দখল করার দুরভিসন্ধি নিয়ে তাদের এই আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছিল আর তাদের উপর Bounty বসিয়ে দেয়া হয়েছিল ……
যা বললাম তা লিওনেস রাজ্যের ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্ম থেকেই শেখানো হত আর কি – সত্য না মিথ্যা জানতে হলে দেখতে হবে সিরিজটি……
রাজপরিবারের ওপর অতিরিক্ত নিরাপত্তা – এতই নিরাপত্তা যে প্রজাগণ বছর ব্যাপী রাজার চেহারাই দেখেননি……
এদিকে Holy Kight রা হয়ে উঠছে স্বেচ্ছাচারী,রাজ্যে বিরাজ করছে অস্থিরতা…
আর সেই সাত বিশ্বাসঘাতক কে বলা হল সাতটি পাপের প্রতীক ……
“The Seven Deadly Sins”
Merlin – Ban – King – Gowther – Meliodas – Escanor – Diane

সিরিজটির নামই বলে দেয় গল্পে এই সাত বিশ্বাসঘাতক দশ বছর পর ফিরে আসবে আর গল্প শুরু হবে – কিন্ত গল্পের সামনে আগানো বেশ আকর্ষণীয় …

Unexpected টুইস্ট – যা সিরিজটির বাকে বাকে রয়েছে …
তবে শেষের দিকে কিছু টুইস্ট অনেকটা জোর করে গল্পের ইতি টানার জন্য আনা হয়েছে বলে মনে হয়েছে [উদাহরণ- গিলথান্ডারের অভিশাপ থেকে অবমুক্তি]

ব্যাটল গুলো বেশ ভালো; শৌনেন নামের মান রেখেছে।
ফিজিক্যাল ফাইট বা তরবারি – বর্শা নিয়ে যুদ্ধ – বেশ ভালো কিছু অস্ত্র ও স্পেলের নাম – [হিস্টোরিকাল রেফারেন্স] রয়েছে যা একশন এনিমের জন্য পারফেক্ট আবহ তৈরি করেছে ………
উদাহরণ স্বরূপ – Forest of White Dreams নামক জঙ্গল , The Eternal Seal Spell নামক মন্ত্র , কিং এর বর্শা Sacred Tree হতে প্রস্ততকৃত Holy Crafted Weapon “Chastiefol” , City of the Dead নামক শহর Baste Dungeon, Fountain of Youth যার জলস্রোত সমগ্র Forest of Fairies কে সবুজ সতেজ রেখেছে , আর Coffin of Eternal Darkness ………
সাউন্ড ও OST এর কাজ চমৎকার ; বেশ ভালো একটা ওপেনিং ছিল প্রথমটা……
OST এর সাথে ফেইরি টেইলের মিউজিক প্যাটার্ন এর যথেষ্ট মিল পাওয়া যায় ……
ফেইরি টেইলের সাথে একটি অফিশিয়াল ক্রসওভার মাঙ্গা চাপ্টারও আছে নানাতসু নো তাইজাই এর …………

ঘটনা বেশি কমপ্লিকেটেড না করে বেশ ভালো গতিতেই কাহিনী এগিয়েছে বলে শুরু করে এটা সাধারণত বিরক্ত হয়ে কেউ ড্রপ দেয় না……
লিওনেস রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে অভিযান শুরু হয় মেলিওদাস ও রাজপরিবারের ৩য় হিমে সামা এলিজাবেথের……
রাজপরিবারের কেউ এই কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক দের সাথে যুক্ত কেন?
প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক।এটাই গল্পের শুরুর দিকের মজা – গল্পের প্রথম বর্ণনা কে অস্বীকার করতে শুরু করে চলমান ঘটনাবলী – যদিও মোটামুটি চিন্তাভাবনা করলে ১০/১১ পর্বের দিকেই গল্প কিভাবে আগাবে তা বুঝে ফেলার কথা…
এই অভিযানে Seven Deadly Sins এর বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করার অভিযান থেকে শেষ ইতি টানা হয় Holy War দিয়ে……
এনিমের এপিসোড শুরুর প্রথমেই ন্যারেটরের ভাষ্যমতে এই Holy War যা বলা হয়েছিল,গল্পের স্বার্থে তা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে পরবর্তীতে — অর্থাৎ সোজা ভাষায় Holy War এর ডেফিনেশন টাই বদলে গেছে …..
অনগোয়িং “KouroMukoro” এর ডাইরেক্টিং করছেন তেনসাই ওকামুরা – যিনি এই এনিমেটিরো ডাইরেক্টিং এ নিয়োজিত ছিলেন …
স্টুডিও A-1 Pictures বিখ্যাত স্টুডিও; উতাহ নো প্রিন্স, ফেইরি টেইল, ওরেশুরা,গিন নো সাজি,ওয়ার্কিং, Asterisk War, ERASED স্টুডিও টার কাজগুলোর মধ্যে আলোচিত কিছু নাম ……
এনিমেটার মাঝে এক চরিত্র পাওয়া যায় যার নাম হেনড্রিকসন ………
সাদা চোখে দেখলে চরিত্রটি বদমাশ; বাজে ও ঘৃণিত একটা চরিত্র হিসেবে দেখা দিবে। সাইকোলজিক্যাল দিকের প্রতি আলোকপাত করলে কিছু কথা উঠে আসতে পারে………
আমরা বলে থাকি তরবারি,বন্দুক শান্তি রক্ষার জন্য … আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত কখনোই নই এই কথার সাথে। অস্ত্র আছে কারণ যুদ্ধ সংঘাত ও আছে ……
এগুলো দমনের জন্য – কাকে দমনের জন্য?
অপশক্তিকে – কে অপশক্তি এটা বাছাই করছে কে?
অপরপক্ষও আপনাকে অপশক্তি বলে আখ্যায়িত করছে ……
তো ফলাফল শূন্য……
এখন যদি শৈশব থেকেই এক বিশেষ যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ নেয়া কোন শিশু যৌবনে পদার্পণ করে জানতে পারে যে তথাকথিত সেই শত্রুকে নির্বাসিত করে দেয়া হয়েছে – অর্থাৎ তার এ যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষণ বৃথা তখন , ঠিক তখনই …
মানুষের চিন্তাশক্তির মাঝে হিউম্যানিটি র ঠিক কাছ ঘেঁষে যাওয়া প্রাণিত্ব তার শক্তি দেখাতে শুরু করে তার চিন্তায়,কথা বার্তায় ও কাজে-কর্মে ……
সেই ভাবেই উপরোক্ত ক্ষেত্রে যদি সেই শিশু [এখন আর শিশু নেই] যদি সেই নির্বাসিত শত্রুকে Resurrect করে যুদ্ধের লীলাখেলা উপভোগ করতে চায় তবে এই ছোট্ট মনস্তাত্ত্বিক Mishap থেকেই ভয়ঙ্কর কিছু হতে পারে —- উদাহরণস্বরূপ একটি বিধ্বংসী যুদ্ধ যেখানে মানুষের উপর inhuman এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে সৃষ্ট Killing Machine এর ব্যবহার…
ব্যাপারটা অনেকটা ছোটবেলায় বাবা মা হারানো কোন ছেলের বাব মাকে ফিরে পাবে সেই আশায় বড় হওয়ার পর বাবা মা মৃত জানতে পেরে কারো পারিবারিক সুখ দেখতে না পারা এবং তাদের ক্ষতিসাধন এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ……
অর্থাৎ আগেকার দিনের একমুখী শিক্ষা আর সহজেই তোমার জীবনের লক্ষ্য এইটা সেইটা নির্ধারণ করে দেওয়াই সকল সমস্যার গোঁড়া ……
এনিমেটিতে ইউকি কাজি’র মেলিওদাস নাকি জুন ফুকুয়ামা’র কিং – কার কন্ঠ বেশি ভাল এটা নিয়ে সিভিল ওয়ার লেগে গিয়েছিল মাথার ভেতর ……
অবশেষে জিতে গেল ইউকি কাজি – মেলিওদাসের কন্ঠ অসাধারণ ছিল – বিশেষ করে – সেই “সাত্তে সাত্তে সাত্তে” বলাটা
জুন ফুকুয়ামা’ও দারুন কাজ করেছেন,তবে কিং এর ভয়েসে যখন জোর প্রয়োজন ছিল [হেলব্রাম ট্রাজেডি] তখন কন্ঠটায় যথেষ্ট ইমোশন ছিল না – এমনটা মনে হয়েছে ……… [যাহোক লেজেন্ডদেরও ১/২ টি কাজে খুঁত থাকতেই পারে]
ফিমেইল চরিত্রগুলোর মধ্যে এলিজাবেথের কন্ঠ শুনে সোরা আমামিয়ার কন্ঠ চেনার কোন উপায় নাই – এই কন্ঠ আর আকামে গা কিলের আকামে ‘র কন্ঠ এক ………
সেরা মহিলা কন্ঠ আওয়ি ইয়োকি –
সিন অফ এনভি ডিয়ানের কন্ঠ দিয়েছেন এই মিষ্টি গলার সেইয়ু …
অনগোয়িং Boku no hero Academia’র ব্যাঙবালিকা Tsuyu র কণ্ঠও নাকি দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই কন্ঠাভিনেত্রী …
সিরিজটিতে Seven Deadly Sins এর এসকানোর কে দেখানো হয়নি ……
রয়ে গেছে হাজারো প্রশ্ন –
মাঙ্গা পড়ে ফেললে হয়ত উত্তর গুলো জেনে যাবেন কিন্ত এনিমে অনলি Perspective থেকে কিছু রহস্য রয়ে গেছে –
মারলিনের এবিলিটি
মেলিওদাসের সিন
ডেমন ক্লানের ইতিবৃত্ত ও গুপ্ত সত্য
হেনড্রিকসন এর কাজ কি স্বপ্রণোদিত আর এই তুচ্ছ লক্ষ্য ? নাকি আরো বড় কিছু রয়েছে এর পিছনে?
রয়্যাল ফ্যামিলির সাথে Goddess ক্লানের সম্ভাব্য যোগসূত্র ………
সামার সিজনে নানাতসু নো তাইজাই নাম দেখে ২য় সিজন ভেবে খুশি হয়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই [আমিও অতিখুশি হয়ে গিয়েছিলাম]
কারণ ওটা ২য় সিজন নয়, Holy War নিয়ে ৪ পর্বের একটা শর্ট সিরিজ ……
ওপেনিং দুটো বেশ ভাল হলেও এন্ডিং একটাও ভালো লাগেনি ……
ওপেনিং দুটো শুনে ফেলতে পারেন ……
http://www.youtube.com/watch?v=r0TJioqQu60
http://www.youtube.com/watch?v=8hmP3rYrFFk

ওভার অল বেশ ভালো একটা এনিমে ………
বেশিই ভালো – মোটামুটি বললে কম বলা হবে কিন্ত মাস্টারপিস নয় ……
রেটিং – [৮.১] – [দশমিক রেটিং নিয়ে কারো সমস্যা হলে দুঃখিত]