Hibike! Euphonium [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Hibike! Euphonium 1

~Hibike! Euphonium~

Cute girls doing cute things— দেখার আগে তা-ই মনে করেছিলাম। এছাড়া কোন পুরুষ প্রধান চরিত্র না থাকায় (আমাকে সেক্সিস্ট মনে করবেন না, যে কোন এক লিঙ্গের প্রধান চরিত্রের অ্যানিমেগুলো আমি বরাবরই এড়িয়ে চলতাম, অন্তত এটা দেখার আগপর্যন্ত) এবং গ্রুপে তেমন আলোচনায় থাকতে না দেখে সেভাবে ভরসা পাচ্ছিলাম না। ওয়েল, কি আর বলা যায়? না দেখলে অনেক ভালো একটা জিনিস মিস করে ফেলতাম। আমি কিছুটা সারপ্রাইজড এ ভেবে যে গ্রুপ পোলে এ অ্যানিমের উপস্থিতি এত নীরব ছিল কেন।

মিউজিক নিয়ে অ্যানিমেগুলো বরাবরই ভালো লাগে। তবে কমেডি খুব একটা ভালো না লাগায় মিউজিক ট্যাগ থাকা সত্ত্বেও অনেকগুলো সিরিজ এড়িয়ে গেছি। কিন্তু অন্যান্য মিউজিক রিলেটেড অ্যানিমেগুলো থেকে এটি একটু ভিন্ন। তাই বলে ফানি মোমেন্ট যে নেই তা নয়। অনেক আছে; কিছু দৃশ্যে হাসি থামিয়ে রাখতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছ। আবার কিছু ক্ষেত্রে যে চোখে (অলমোস্ট) পানি চলে এসেছে। যা-হোক, এখানে মিউজিক সাব-জনরা নয়। পুরো অ্যানিমের প্রধান ফোকাস মিউজিক এবং তার সাথে জড়িত মানুষগুলো।

প্রতিযোগিতা, অধ্যবসায়, ব্যক্তিগত দ্বন্ধ– এগুলোর উপস্থিতি দেখে কারো কাছে অ্যানিমেটি টিপিক্যাল মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষ কয়েকটি জিনিসের কারণে এটি আমার কাছে অনন্য। সোলো মিউজিকাল, যেমন পিয়ানো, গিটার, ভায়োলিন, এগুলোর নিয়ে না হয়ে Ensemble নিয়ে হওয়ায় অনেক কিছু নিরীক্ষা করার সুযোগ ছিল সিরিজটিতে। এবং শেষ করার পর বলতেই হচ্ছে, সিরিজটি অনেক নতুনত্ব দিতে সক্ষম হয়েছে।

‘হিবিকে! ইউফোনিয়াম’ সিরিজটির মূল কাহিনী এক হাইস্কুলের Wind Ensemble নিয়ে। কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে অন্যতম প্রধান চরিত্র ঔমায়ে কুমিকো-র দৃষ্টিকোণ থেকে, যদিও প্রয়োজনে অন্যান্য চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও দেখানো হয়েছে। মিডল স্কুল শেষে নতুন করে শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুহীন কিতাউজি হাইস্কুলে ভর্তি হয় কুমিকো। অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে কুমিকোর বন্ধু কাতৌ হাজুকি, কাওয়াসিমা স্যাফায়ার -থুক্কু মিদোরি- এবং রেইনা কৌসাকা (এ চরিত্রটি বেশ এলিগ্যান্ট এবং ক্লাসি; স্ক্রিন টাইম তুলনামূলক কম হলেও আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র)।

মিউজিক গ্রুপ নিয়ে হওয়ায় এখানে টিমওয়ার্কের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে বেশ ভালোভাবেই। যখন একটা গ্রুপে ৬০ জন মানুষ থাকে, সমস্যার সম্মুখীন হওয়াটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে কেউ হয়তো মিউজিকের প্রতি সত্যিই প্যাশনেট এবং বেশ সিরিয়াস, অনেকেই হয়তো নেয় ফান হিসেবে, আবার কারো উদ্দেশ্য হয়তো হাইস্কুলের সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চরিত্রগুলোর মধ্যকার অনিশ্চয়তা, প্রত্যয় যেভাবে তুলে আনা হয়েছে তা খুবই রিলেটেবল।

So, what makes this anime different?

একেবারে শুরুতেই চাপা একটা আর্জেন্সি টের পাওয়া যায় যার কারণে একবার দেখা শুরু করলে ছেড়ে ওঠা মুশকিল। প্রথম এপিসোডেই দেখি যে It is never too late to try something new. ইচ্ছা থাকলে এবং ভালোবাসা খুঁজে নিতে পারলে মানুষের দ্বারা যেকোন কিছুই সম্ভব। যেমন মিডল স্কুলে টেনিস ক্লাবে থাকা হাজুকি এবার যোগ দিয়েছে মিউজিক ক্লাবে। বাদ্যযন্ত্র ছুঁয়ে দেখার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও কেবল ভালোবাসা দিয়ে কেউ কিভাবে মিউজিককে আপন করে নেয় তা সত্যিই টাচ করার মত। অ্যাডভাইজর তাকি-সেনসেই এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার লক্ষণীয়। শুরুতে এ ফিল্ডে আসার ইচ্ছে না থাকলেও, উপভোগ করে এমন কিছুকে জব হিসেবে নেয়া কতটুকু সুখকর তা শুরু না করলে বোঝার উপায় নেই। টিমওয়ার্কের কথা বলেছিলাম। গ্রুপ মিউজিকে টিউনিং এবং সিঙ্ক্রোনিসিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে দু-এক জনের অবহেলায় পুরো গ্রুপকেই ভুগতে হয়। এর ফলে যে অভ্যন্তরীণ অসামঞ্জস্যতা এবং পলিটিক্স এর কমতি হয় না তা দেখেছি আমরা। এটি কিভাবে একটি গ্রুপকে ধ্বংস করে দিতে পারে বা কিভাবে একাত্ন করে তুলতে পারে- দুই-ই উঠে এসেছে সিরিজটিতে। একজনের সমস্যা কিভাবে পুরো গ্রুপের মোর‍্যাল কমিয়ে দেয় বা অন্যদের পারফর্মেন্সে প্রভাব ফেলে; ব্যক্তিগত অনুভূতি কিভাবে জাজমেন্টে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, একগুঁয়েমি আর denial কতটুকু মাত্রাছাড়া হয় তাও দেখেছি। একসাথে কাজ করার ফলে ক্লাসমেট, এমনকি জুনিয়ররাও, যে শ্রদ্ধা এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে তার আদর্শ উদাহরণ সম্ভবত এ সিরিজটি।

এত কিছু ছাপিয়েও যে ব্যাপারটি আমাকে সবচেয়ে নাড়া দিয়ে গেছে, তা হল কঠিন একটা সত্যের চমৎকার উপস্থাপনা। খেলায় বা কোন প্রতিযোগিতায় আমরা পারফর্মেন্সটাই দেখি। বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করি; পরাজিতদের ভুলে যাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। হয়তো তাদের প্রচেষ্টাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি, কিন্তু দিনশেষে আমাদের কাছে কে জয়ী হলো তা-ই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়। পরাজিতরাও যে স্বপ্ন নিয়ে আসে এবং তা অর্জনের লক্ষ্যে বিজয়ীদের চেয়ে কোন অংশেই কম পরিশ্রম করে না তা অনুধাবন করতে পারলে বিজয়ীদের নিয়ে উল্লাস করাটা অনেক অনেক কঠিন হয়ে যেতো। যেমন কাওরি আর কৌসাকার ক্ল্যাশে দর্শকরা সবাই নিশ্চিতভাবেই কৌসাকার পক্ষ নিলেও কাওরি-র ডেডিকেশন অ্যাপ্রিশিয়েট না করে পারা যায় না। তার হয়তো এটা শেষ সুযোগ সোলো পারফর্ম করার, কিন্তু তাই বলে আবেগী হয়ে কৌসাকা তাকে ছাড় দিলে তা হত আমার কাছে ক্ষমার অযোগ্য। দিনশেষে যে আবেগের স্থান খুব একটা নেই তাই তুলে আনা হয়েছে। It is the better one that wins, or should win.

কতটুকু প্যাশনেট হলে সামান্য সেলফ-ডাউটের কারণে মৃত্যুকামনা করতে পারে কেউ? Higher Target যে আসলেই মানুষকে বেটার হতে সাহায্য করে তা দেখা যায় শুরু থেকেই সংশয়ে ভুগেও পরবর্তীতে dead serious হয়ে যাওয়া কুমিকো-র চরিত্র থেকে। হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে কুমিকো-র ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করে যাওয়াটা এ গল্পের সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক দৃশ্য। রেইনা কৌসাকা-র ভাষায়, নিজেকে স্পেশাল ভাবলেই হবে না, নিজের লক্ষ্যে সফল হতে চাইলে স্পেশাল হতে হবে, হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, এতে অন্যদের চক্ষুশূল হতে হলেও।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার অ্যাড্রেস করা হয়েছে, যা আমাদের দেশে প্রায়শই দেখা যায়। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। পড়ালেখা করে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগেরই অটোমেটিক চয়েস, যেজন্য বাধ্য হয়ে অনেকই প্যাশনকে দূরে ঠেলে দেয়।। কিন্তু এর উল্টোটাও হয়। আওই-এর অংশটুকুর মাধ্যমে এ ব্যাপারটি বেশ সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রায়োরিটি ঠিক করা, যতই আউট অফ প্লেস হোক, স্রোতের বিপরীতে গিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট সাহস থাকা চাই। সমাজ বা অন্যরা যতই আপসেট হোক না কেন, ফার্ম ডিসিশন নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে কোন রিগ্রেট থাকবে না।

You know it’s a good anime when you finish all episodes in one sitting and re-watch your favorite moments over and over. বিশেষভাবে কোন দুর্বল দিক আমার চোখে পড়েনি। একটা মিউজিক গ্রুপ কিভাবে এক হয়ে বেড়ে ওঠে তা এরচেয়ে ভালোভাবে দেখানো সম্ভব না। আর কিছুটা রোমান্স-এর ছোঁয়া থাকলেও কোন সাব-প্লট না রেখে সম্পূর্ণরূপে মিউজিকে ফোকাস করার কারণে সন্তুষ্টি আরো বেড়ে গেছে। মিউজিক জনরা পছন্দ করে এমন যে কারো জন্য একটা মাস্ট-ওয়াচ অ্যানিমে।

দেখতে গিয়ে আমার বারবার Whiplash মুভিটির কথা মনে হয়েছে। I wouldn’t compare the two, but I kind of liked Hibike! Euphonium more.

Hibike! Euphonium 2

Behind the Voices – 24

 

Morita Masakazu

‘Quality over quantity’ কথাটা হয়তো মোরিতা মাসাকাজুর জন্য খুব ভালোভাবেই প্রযোজ্য । রোলের সংখ্যা অত বেশি একটা নয় তবে যে কয়টা রোল আছে, বেশির ভাগই ‘solid’ রোল, দর্শকদের মনে থাকবে এমন সব চরিত্র । সুধু তাই নয়, তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল আনিমে জগতের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র, ইচিগো কুরোসাকি ।

তার কণ্ঠটা কিছুটা খসখসে এবং অনেকটা ‘Rough and Tough’ ভাইব আছে । তার বেশির ভাগ চরিত্রগুলোও তেমন । এছাড়াও একেবারে ঠাণ্ডা কিংবা অনেক লাজুক অথবা কিছুটা প্লায়াহ স্বভাবের চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি । আনিমেতে সেইয়ু হিসেবে তার অভিষেক ২০০১ সালে এবং ২০০৭ সালে একেবারে প্রথম Seiyu Awards-এ “Best Rookie Actor” খেতাবটা জিতেছিলেন ইচিগো চরিত্রটির জন্যই । ব্যক্তিগত জীবনেও তার টিটে কুবোর সাথে বেশ ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে । যদিও তার সেইয়ু হিসেবেই এখন পরিচিতি তাও তার ক্যারিয়ার শুরু হয়ে ছিল একজন ‘Motion Capture Actor’ হিসেবে এবং সেটা তাও তার কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অভিষেকের অনেক আগে, ১৯৯৫ সালে ।

তার চরিত্রগুলোর মাঝে ইচিগো-ই সব স্পটলাইট কেড়ে নেয় কিন্তু এই একটা চরিত্র ছাড়াও তার আরও অনেক উল্লেখ করার মত অসাধারণ চরিত্র আছে । হিরামারু সেন্সেই (Bakuman), শিন (Kingdom), কিজা (Akatsuki no Yona), মায়েদা কেইজি (Sengoku Basara), সাতৌ তোশিয়া (Major) এই চরিত্রগুলোরও কণ্ঠ অভিনেতা তিনি । তার পছন্দের রোলগুলো হল হিরামারু সেন্সেই (Bakuman), ইচিগো (Bleach), কিজা (Akatsuki no Yona), মায়েদা কেইজি (Sengoku Basara), মিশাকুজি ইয়ুকারি (K:Return of Kings) এবং তানবা (Ace of Diamond) ।

গানের সাথে তার একেবারে সম্পর্ক নেই বললেই চলে । তাও Bleach: Memories in the Rain এবং Kiniro no Corda এই দুই জায়গায় এন্ডিং এবং Miracle☆Train: Oedo-sen e Youkoso-এর ওপেনিং আনিমের কয়েকজন সেইয়ুদের সাথে গেয়েছিলেন তিনি ।

তার জন্ম ২১ অক্টোবর, ১৯৭২ । তার রোল তুলনামুলক কম হলেও একজন কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে দক্ষতার হিসেবে কোন অংশেই কম নয় তিনি । আমার মতে তার আরও আরও রোল দরকার ।

Morita Masakazu

Hikasa Youko

জাপানি আনিমে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে আবেদনময়ী কণ্ঠের কণ্ঠ অভিনেত্রীর কোন তালিকা যদি করা হয় তাহলে ইয়োকো হিকাসার নাম সেরা ৩-এ থাকবেই এবং যদি এই তালিকায় কে ১ নং সেটা ঠিক করতে বলা হয় তাহলেও অনেকের মতেই সেই স্থানের প্রাপ্য হিকাসা ইয়োকো যদিও ইতৌ শিজুকার পক্ষেও অনেক সমর্থন যাবে । সাধারণত বেশ ম্যাচিউর চার্ম সম্পন্য, কিছুটা ধীর-স্থির স্বভাবের চরিত্রের কণ্ঠ দিয়ে থাকেন তিনি, সুনদেরে চরিত্রও সে বেশ ভালোভাবেই এক্জিকিউট করতে পারেন তিনি ।

তার কণ্ঠ-অভিনেত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে Sailor Moon আনিমেটি দেখার পর থেকে । আনিমে চরিত্রের কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ২০০৭ সালে Sketchbook ~full color’S~ আনিমেটির এক চরিত্র দিয়ে । সে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় আকিয়ামা মিও (K-On!) এবং রিয়াস গ্রেমোরি (Highschool DXD) এই দুইটা চরিত্র দিয়ে । এছাড়া তার এচ্চি-হারেমের চরিত্রগুলোও তাকে বেশ ভালো পরিমাণ জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে । তার আরও কিছু জনপ্রিয় রোল হল এমি ইয়ুসা (Hataraku Maou-sama), হৌকি শিনোনোনো (Infinite Stratos), সেরাফিম (Kore wa Zombie desu ka?), কিরিগিরি কিয়োকো (Danganronpa), স্টেফানি ডোরা (No Game No Life), আমাকুসা শিনো (Seitokai Yakuindomo) । তার করা পছন্দের রোলগুলো হল এমি ইয়ুসা (Hataraku Maou-sama), হৌকি শিনোনোনো (Infinite Stratos), আকিয়ামা মিও (K-On!) , সেরাফিম (Kore wa Zombie desu ka?), রিয়াস গ্রেমোরি (Highschool DXD), কিরিগিরি কিয়োকো (Danganronpa), স্টেফানি ডোরা (No Game No Life), আমাকুসা শিনো (Seitokai Yakuindomo), ক্যাভেনডিশ ডিয়ানা (Little Witch Academia), পিয়েনা (Rokka no Yuusha), হানা (Seikon no Qwaser), ইজুমি নে-সান (Working!!), সাকি (Ro-Kyu-Bu!), ইয়ুকিনোকৌজি নোবারা (Inu x Boku SS) এবং কায়েদে (Yama no Susume) ।

একজন কণ্ঠ অভিনেত্রীর পাশাপাশি একজন গায়িকা হিসেবেও বেশ ভালো নাম আছে তার । তার এক জনপ্রিয় গান হল ‘ Utsukushiki Zankoku Na Sekai’ (https://goo.gl/aef18I), Shingeki no Kyojin-এর এন্ডিং গানটির সাথে হয়তো অনেকেরই পরিচয় আছে যদিও সে আনিমেটায় কোন চরিত্রের কণ্ঠ দেয়নি । এই পর্যন্ত এককভাবে ৪টি সিঙ্গেল এবং ২টি অ্যালবাম বের করেছেন তিনি । ৪টি সিঙ্গেলই আনিমেতে ব্যবহৃত হয়েছে (SnK ED 1, Ace of Diamond ED 1, Hal theme song, Z/X Ignition OP) । HTT-এর একজন ছিলেন তিনি । এছাড়া Ginga Kikoutai Majestic Prince, Gokujo.: Gokurakuin Joshikou Ryou Monogatari, Hayate no Gotoku! Cuties, High School DxD, Inu x Boku SS, Infinite Stratos, Kanojo ga Flag wo Oraretara, Kore wa Zombie desu ka?, Ro-Kyu-Bu, Rokka no Yuusha, Senki Zesshou Symphogear, Yama no Susume এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং-এও তার কণ্ঠ ছিল ।

তার জন্ম ১৬ জুলাই, ১৯৮৫ । গত বছরের ডিসেম্বর সে ঘোষনা দিয়েছেন সে বিবাহিত । বলা যেতে পারে গত দশকে ইয়ুকিনো সাৎসুকির স্পটটাই এখন সে দখল করে রেখেছে । এখনকার প্রায় বেশির ভাগ নামকরা আনিমেগুলোতে তার রোল থাকে, তাই হইতো আনিমেতে অনেকেরই শুনা পরিচিত কণ্ঠগুলোর মাঝে তার কণ্ঠ একটি । একজন কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি অসাধারণ এবং সামনে তার আরও আরও রোল দেখবো এটাই স্বাভাবিক ।

Hikasa Youko

Warau Hyouteki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Warau Hyouteki 2

প্রকৃতি সবকিছুর সীমানা ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু যদি কেউ এই সীমানার বাইরে যেতে চায়? আর তা যদি ভালবাসার ক্ষেত্রে হয় তবে কেমন হবে?

Warau Hyouteki বা Laughing Target হল ত্রিভুজ প্রেমের এক জাপানিজ ক্লাসিকাল হরর মুভি। আমাদের প্রত্যেকের প্রিয় মানুষের প্রতি ভালবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই মুভিটি।

Warau Hyouteki 1

Yuzuru Shiga এবং Satomi গল্পের নায়ক-নায়িকা যারা একে অপরকে খুবই ভালবাসে। তারা দুজনই স্কুলের আর্চারি ক্লাবের সদস্য যার ক্যাপ্টেন আবার এই Yuzuru। এই দুজনের মধ্যে প্রতিদিনই খুনসুটি লেগে থাকে। চিরাচরিত কাপল দের মত আর কি। সব ভালই চলছিল। কিন্তু একদিন হঠাৎ Yuzuru জানতে পারে তারই কাজিন Azusa তাদের সাথে থাকতে আসছে। Yuzuru’র তখন মনে পড়ল ছোটবেলার কথা। Shiga ক্ল্যানের লেগেসি রক্ষার্থে Azusa’র মা এবং Yuzuru’র বাবার মধ্যে একটি চুক্তি হয় যে তারা বড় হলে তাদের বিয়ে দেয়া হবে। Yuzuru ও একসময় Azusa কে প্রমিজ করেছিল যে তাকেই বিয়ে করবে। কিন্তু অনেক বছর পার হয়ে যায়। Yuzuru ও তার জীবনে Satomi কে খুঁজে পায়। ছোটবেলার সেই প্রমিজকে সে গুরুত্ব সহকারে নেয়নি। কিন্তু Azusa সেই ছোটবেলা থেকেই Yuzuru কে পছন্দ করত এবং সে পুরোপুরি লয়াল থাকে। সে কোন ছেলের সাথেও কথা বলেনি। অনেক বছর পর Azusa কে দেখে Yuzuru অবাক হয়ে যায়। Azusa’র সৌন্দর্য তাকে খানিকটা হতবিহ্বল করে দেয়। যদিও সে ব্যাপারটা কাটিয়ে উঠে। তো Azusa জানতে পারে Yuzuru আরেকজনকে ভালবাসে। তার মধ্যে হিংসার জন্ম হয়। প্রথম দিকে Satomi কে শুধুমাত্র ওয়ার্নিং দিলেও যখন দেখে Yuzuru তার দিকে ভ্রুক্ষেপ ও করেনা তখন সে Satomi’র ক্ষতি করতে চায়। সিচুয়েশন ক্রমাগত খারাপের দিকে এগিয়ে যায়। এরই মধ্যে আমরা জানতে পারব Azusa’র অতীতের এক ভয়ংকর ঘটনা যা তাকে demon এ পরিণত করে। Yuzuru কি পারবে তার জীবনের ভালবাসাকে রক্ষা করতে? নাকি Azusa’র হিংসার বলি হবে এই দুজন? উত্তর জানতে হলে দেখে ফেলুন ৫১মিনিটের এ মুভিটি।

Warau Hyouteki 3

এই গল্পের মূল বিষয় হল আপনি কাউকে যতই ভালবাসেন না কেন সেই ভালবাসার একটি সীমা থাকে। ‘সীমাহীন ভালবাসা’ নিয়ে অনেক কবিতা আছে কিন্তু সব বুলশিট। আপনি একবার সীমানা অতিক্রম করলেন তো মানুষটিকে হারালেন। তাই আপনি যদি খুবই ডেস্পারেট হন তবে এমনভাবে আগান যাতে মানুষটিও আপনাকে খুব ভালবাসবে। এবং অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে কোন পক্ষ ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।

Warau Hyouteki 4

সত্যি বলতে এটি খুবই টিপিকাল ত্রিভুজ প্রেমের গল্প। তাহলে কেন দেখবেন? যদি আপনার মনে এই মুহূর্তে ভালবাসার উঁকি দিয়ে থাকে তবে তা থেকে বের হয়ে আসার জন্যই এ মুভি দেখতে হবে। অবশ্য তার উল্টোটাও হতে পারে।

Warau Hyouteki 5

 

Baccano! [রিভিউ] — Mehedi Zaman

Baccano

Baccano!
পর্বঃ ১৩
জনরাঃ অ্যাকশান, কমেডি, সুপারন্যাচারাল, হিস্ট্রিকাল (Historical), মিস্ট্রি (Mystery), সেইনেন

আচ্ছা আপনারা কি “Pulp Fiction” মুভিটা দেখেছেন? যদি দেখে থাকেন তাহলে বলি, এনিমে জগতের “Pulp Fiction” হল Baccano! এবার যারা মুভিটা দেখেননি তাদের জন্য বলি, আমরা যখন Puzzle সাজাই তখন একটা ছবি পুরো এলোমেলো থাকে; কিন্তু সাজানো শেষ হলে পুরো ছবিটি পরিষ্কার হয়ে যায়। Baccano!-ও ঠিক এরকম। পুরো সিরিজটি একদম শেষ পর্যন্ত এলোমেলো থাকে, তবে শেষের দিকে মোটামুটি ধারনা পাওয়া যায় কোন পর্বের কোন অংশটি কোন অংশের পরে। কি? বেশ মজাদার মনে হচ্ছে? তাহলে দেরি না করে দেখে ফেলুন অসাধারন এই এনিমে যার নাম Baccano!

কাহিনীঃ ৯/১০
যেহেতু কাহিনীর শুরু এবং শেষ আপনার নিজেকে বের করতে হবে তাই আমি এর কাহিনীর সারসংক্ষেপ এখানে বলবো না। বরং আমার কাছে কাহিনীটি কেমন লেগেছে সেই সম্পর্কে বলি। যখন Baccano! দেখা শুরু করি তখন প্রথমেই মনে হচ্ছিলো এপিসোড নাম্বার ঠিক আছে তো? তারপর দুই-তিনটা এপিসোড দেখার পর বুঝলাম এইটার স্টোরিলাইন এলোমেলো। পুরো সিরিজটা যখন শেষ হল তখন বুঝলাম যে কাহিনীটা ততটা প্যাঁচালো না যতটা আমি ভেবেছিলাম। যাইহোক, এখানে Don-দের নিয়েও কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে যা একে দিয়েছে আরেকটি নতুন মাত্রা। এপিসোডের পেসিং নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না এবং পুরো কাহিনীটাই বেশ চমকপ্রদ ছিল। তাই রেটিংও ৯ পাওয়ার যোগ্য।

চরিত্রঃ ৮.৮/১০
প্রথম কথা, Baccano! এনিমেটিতে অনেক চরিত্র রয়েছে; এমনকি প্রধান চরিত্রেরও কমতি নেই। সবার কথা বলা সম্ভব না হলেও দুটো চরিত্রের কথা না বললেই নয়; Isaac এবং Miria। পুরো এনিমেটাতে হাস্যকর সব কাজ করে নিজেদেরকে বিখ্যাত চোর বলে দাবি করে এই দুজন। আবার, বিভিন্ন জায়গায় এরাই কাহিনীর মূল হোতা হয়ে দাঁড়ায়। মূলত, পুরো সিরিজটাকে মজাদার করার কাজ ছিল মনেহয় এই দুজনার। এছাড়াও মূল চরিত্রের প্রত্যেকেই অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল এবং চরিত্রের ক্ষেত্রে তেমন কোনো খুঁত না থাকলেও কিছু চরিত্রকে কিছুটা খাপছাড়া মনে হয়েছিল। তবে সবমিলিয়ে এই দিকটার বিচারেও এনিমেটি প্রশংসার দাবি রাখে।

এনিমেশনঃ ৯.৩/১০
এনিমেশনের কথা বলতে গেলে এককথায় অসাধারণ। অ্যাকশান সিনগুলো বেশ নিখুঁত ছিল এবং যেহেতু কাহিনীটি Chicago এবং New York – দুই জায়গা মিলিয়ে সেট করা হয়েছিল তাই উভয় শহরের প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্যই পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটে উঠেছিল। কিছু শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের এনিমেশন আরো বেশি চমকপ্রদ করতে সক্ষম হয়েছিল এনিমেটি। তাই এখানে একটু বেশি রেটিং পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ ৮.৮/১০
Baccano!-এর সাউন্ডট্র্যাকের মধ্যে যেমন Jazz আছে তেমনি বেশ কিছু সাধারণ মিউজিকেরও ছোঁয়া আছে। এর ওপেনিংটি আমার বেশ প্রিয় কেননা সেখানে পুরো এনিমেটির ভাবমূর্তি ফুটে উঠে। এন্ডিংটাও মোটামুটি ভালই ছিল। Cowboy Bebop এর মতো এখানেও Jazz মিউজিক এর উদাহরণ থাকায় এনিমেটি একটু বেশিই অনন্য হয়ে উঠেছে।

এঞ্জয়মেন্টঃ ৯/১০
Baccano! আমি একদিনে দেখে শেষ করি এবং সত্যি কথা বলতে এর আনন্দদানে কোনো ঘাটতি ছিল না। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি উৎসুক চোখে এনিমেটি দেখেছি। বিশেষ করে কমেডি সিনগুলো অনেক মজার ছিল আর অ্যাকশান এর কথা তো বললামই না। সবমিলিয়ে Baccano! আমার অনেক প্রিয় একটি এনিমে।

সবকথার শেষ কথা হল আমি যেরকম Baccano! দেখে পুরো অন্যরকম আনন্দ পেয়েছি সেটি পেতে হলে এনিমেটি না দেখে উপায় নেই। যদি জিজ্ঞেস করেন সবমিলিয়ে আমি কত রেটিং দিব, তাহলে আমার উত্তর হবে ৮.৬/১০ যা আমার মতে Baccano! পাওয়ার যোগ্য।

এক ব্যক্তির অসাধারণ উক্তির দ্বারা আমি আমার রিভিউ শেষ করব। “Cast aside the illusion that there is a beginning and end to the story. The story has no beginning. And it has no end. All there is, is a performance of people connecting, living, influencing each other, and departing.”- Gustav St. Germain; যা Baccano! এনিমেটির ক্ষেত্রে পুরোপুরি খাটে।

Space Battleship Yamato 2199 [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Space Battleship Yamato 2199

Space Battleship Yamato 2199 || Uchuu Senkan Yamato 2199

Episodes: 26
Genres: Action, Drama, Military, Sci-Fi, Space
MAL Score: 8.56/10
Personal Score: 9/10 (Story: 8.5; AnA: 9.5; Character: 8.5: Sound: 9; Enjoyment: 9.5/10)

নামের মধ্যেই একটা গ্রেটনেস আঁচ করা যায়। ইয়ামাতো নামের যে ব্যাটলশিপ নিয়ে এ অ্যানিমের কাহিনী তা শাব্দিক এবং আক্ষরিক- দু অর্থেই ‘গ্রেট’। ৩৬৬ মিটার লম্বা এ যুদ্ধজাহাজ আর তার নাবিকদের ওপরই নির্ভর করছে মানবসভ্যতার ভবিষ্যত। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আগে মানুষের হাতে সময় আছে এক বছর।

এ অ্যানিমের অরিজিনাল রান শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। তখন এর নাম থাকে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আসে এর সফল রিমেইক, নাম দেয়া হয় স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২১৯৯। ষাট-সত্তরের দশকে তখন স্পেস অপেরার জয়জয়কার। ১৯৬৬ সালে শুরু হয় স্টার ট্রেক, ১৯৭৭ সালে আসে স্টার ওয়ার্স। আশি-নব্বই দশকের দিকে আরো কিছু শর্ট সিরিজ আসে। ২০০৪ সালে আসে ব্যাটলস্টার গ্যালাক্টিকা, মোবাইল স্যুট গান্ডাম। অ্যানিমের ইতিহাসে স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো-র গুরুত্ব অনেক। ১৯৭৯ সালে Star Blazers নামে আমেরিকায় এয়ার শুরু হয় এ অ্যানিমের। প্রথম স্পেস রিলেটেড অ্যানিমে হিসেবে এর জনপ্রিয়তা পরবর্তীতে এ ধরণের শতাধিক অ্যানিমে সিরিজ আর মুভির জন্য পথ খুলে দেয়। পরবর্তীতে আমরা পাই আরো কিছু সফল আর জনপ্রিয় সিরিজ যার মধ্যে Legend of Galactic Heroes, Macross, Cowboy Bebop বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাই দ্য ওয়ে, আমার এ পোস্ট ২০১২ সালে রিলিজ হওয়া একই অ্যানিমের রিমেইক নিয়ে।

একটি আদর্শ স্পেস অপেরায় যা থাকে তার সবই আছে ইয়ামাতো ২১৯৯-এ। সায়েন্স ফিকশন, আন্তঃগ্রহ এবং আন্তঃগ্যালাক্টিক ওয়ারফেয়ার, রোমান্স, মিলিটারি, রাজনীতি তার সবই পাওয়া যায় এটিতে। প্লাসপয়েন্ট হলো অন্যান্য স্পেস অপেরার তুলনায় এ অ্যানিমেতে মেলোড্রামা নেই বললেই চলে।

সময়টা ২১৯৯ সালের। এর আট বছর আগেই মানবজাতির সাথে যোগাযোগ হয় গামিলাস (Gamilas) নামক ভিনগ্রহবাসীর। তারপর থেকেই তাদের উপর্যুপরি আক্রমণে হুমকির মুখে পড়ে যায় পুরো পৃথিবীবাসীর ভবিষ্যত। গামিলানদের প্লুটো বেইজ থেকে একের পর এক রেডিওঅ্যাক্টিভ বম্বার্ডিং এর ফল হিসেবে পুরো পৃথিবী ওয়েস্টল্যান্ড-এ পরিণত হয়। বিলীন হয়ে যায় বেশিরভাগ জীবনের অস্তিত্ব, প্রাণের অভাবে নীলসবুজ গ্রহটি লালচে রংধারণ করে। সারফেস বসবাসের অনুপোযগী হয়ে পড়ে; মানুষ বাধ্য হয় আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয় নিতে। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতবাণী করেন এভাবে চললে আর এক বছরের মধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে মানবজাতি।
এরকম সময়েই ইস্কান্দার নামক এক বন্ধুভাবাপন্ন এলিয়েন গ্রহ থেকে এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত। তারা মানুষকে এমন প্রযুক্তি দেয় যা দিয়ে পৃথিবীবাসী তৈরি করে ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো, যেটি কিনা ১৬৮০০০ আলোকবর্ষ পাড়ি দিয়ে সুদূর ইস্কান্দার থেকে ‘কসমো রিভার্স সিস্টেম’ নামক এক ডিভাইস আনার ক্ষমতা রাখে। এ ডিভাইস পৃথিবীকে রিস্টোর করে দেবে পুরোনো সজীব রূপে। প্রস্তুত করা হয় প্ল্যান ইয়ামাতো। অবশেষে ২১৯৯ সালে ইস্কান্দারের রাণী স্টারশা তার বোনকে দিয়ে পাঠান প্ল্যানের ফাইনাল পিস ‘ওয়েভ মোশন ইঞ্জিন’। মঙ্গল গ্রহ থেকে এটি উদ্ধার করে পৃথিবীতে নিয়ে যায়, এ অ্যানিমের অন্যতম প্রোটাগনিস্ট, দুই বন্ধু সুসুমু কোদাই আর দাইসুকে শিমা। স্বল্পসময় পরই গামিলানদের আক্রমণের মুখেই যাত্রা শুরু হয়, ইয়ামাতো-র, নেতৃত্বে আন্তঃগ্রহ যুদ্ধের হিরো কমান্ডার ওকিতা।

এ সুদীর্ঘ যাত্রাপথের ক্ষণেই ক্ষণেই মুখোমুখি হতে হয় গামিলান যুদ্ধজাহাজের। হয় অনেকগুলো খন্ড খন্ড যুদ্ধ। দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে এত বাধা অতিক্রম করে ইয়ামাতো কি পৌঁছুতে পারবে তার গন্তব্যে? গামিলানরা নিশ্চয়ই এত সহজে ছেড়ে দেবে না। যুদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়াই কি একমাত্র উপায়? বন্ধুত্ব স্থাপনের সুযোগ কি আছে? গন্তব্যের দিকে ইয়ামাতো-র এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা দেখি কিভাবে আনফোল্ড করে অ্যানিমের কাহিনী। শুরুতে কিছুটা এপিসোডিক হলেও শীঘ্রই ইন্টেন্সিটি বাড়তে থাকে। বিশ্বাসঘাতকতা, গামিলানদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, চরিত্রগুলোর সাইকোলজি এবং কনশাইন্সের এক্সপ্লোরেশন, ক্ষেত্রবিশেষে দার্শনিকতা, শেষের দিকের কিছু চমক- সবকিছুই অন্যমাত্রা দেয় সিরিজটিকে। কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলেই বোরড হওয়ার ন্যুনতম সুযোগ পাওয়া যায় না।

২৬ এপিসোডের অ্যানিমেটি চরিত্র নির্মাণের কাজটি বেশ ভালোভাবেই করে। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশনেও চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত এজেন্ডা কিভাবে তাদের চালিত করে তা দেখি আমরা। মিলিটারি মানেই যে আবেগ বিবর্জিত রোবট নয়, অতি অভিজ্ঞরাও যে ভুল করতে পারে, মানুষ মানেই যে নীতিনিষ্ঠ আর শত্রু এলিয়েন মানেই খারাপ এ ট্রেডিশনাল অ্যাপ্রোচের বাইরে গিয়ে গিয়ে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে এর কাহিনীতে। অল্প সময় ধরে রোবটের মনস্তত্ত্ব আর চেতনা নিয়েও এক্সামিন করা হয়েছে। What makes us human? Is it our heart or our consciousness? কেবল মানবচরিত্রগুলোই নয়, ভালো ডেভেলপমেন্ট করা হয়েছে শত্রুপক্ষের বেশ কিছু চরিত্রেরও, বিশেষ করে Domel এর চরিত্রটি অসাধারণ।

অ্যানিমেশন এ অ্যানিমের সবচেয়ে স্ট্রং স্যুট। এত ভালো কাজ লাইভ অ্যাকশন স্পেস অপেরাগুলোতেও দেখা যায় না। প্রথম দৃশ্যটিই আমার মন জয় করে নিয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ফাইটারগুলোর ডিজাইন এত নিখুঁত যে মাঝে মাঝে এটা যে অ্যানিমেশন তা-ই বোঝা যায় না। পরিপূর্ণ মজা নিতে চাইলে দেখতে হবে ১০৮০-পিক্সেল রেজোল্যুশনে।

মিউজিক নিয়ে বলতে গেলেই আসে এন্ডিং গুলোর কথা। দশটা এন্ডিং এর সবগুলোই অসাধারণ মনে হয়েছে আমার কাছে। এ প্রথম আমি ২৬টা এপিসোডের সবগুলোরই এন্ডিং একাধিকবার করে শুনেছি। ঘটনাপ্রবাহের সাথে মিল রেখে কোথাও ব্যবহার করা হয়েছে হাই টেম্পো, বিশেষ করে ব্যাটলের শেষে, কোথাও স্লো মিউজিক এনে দিয়েছে বিষণ্নতা। সে সাথে ওল্ড স্কুল মিউজিক একটা নস্টালজিয়া সৃষ্টি করে দেয়। দুর্ভাগ্যবশত আমার ডাউনলোড করা সিরিজটায় ওপেনিং ছিল না একটা এপিসোডেও তাই বলা যাচ্ছে না ওপেনিং কেমন। কিছুক্ষণ আগে ইউটিউবে শুনে খুব একটা ভালো না লাগলেও টেরিবল বলা যায় না ঠিক। এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। রিমেইক অ্যানিমের কোন একটা (যেটা অরিজিনালে ছিল) স্কোরের কম্পোজিশন করেছেন অরিজিনাল সিরিজের কম্পোজারেরই ছেলে। স্কোরশীট হারিয়ে যাওয়ায় নিজের স্মৃতি থেকেই পুনরুদ্ধার করে স্কোরটি কম্পোজ করতে হয়েছে তাকে।

আয়রনিক ব্যাপার হচ্ছে অক্ষশক্তি হওয়া সত্ত্বেও এ অ্যানিমের গঠনপ্রকৃতিতে গামিলানদের মধ্যে একটা নাৎসী ভাইব পাওয়া যায়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কণ্ঠস্বর এবং কথা বলার ভঙ্গীতে নাৎসী নেতাদের প্রভাব স্পষ্ট। এদের ইউনিফর্ম, অনেকটা স্বস্তিকা টাইপের লোগো, স্যাল্যুটের ধরণ, তাদের নামগুলোও -যেমন, Goer, Domel, Schultz- উচ্চপদস্থ নাৎসী নেতাদের মেটাফর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গামিলান শাসক Dessler এর চরিত্রটি হিটলারের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা অ্যানিমে। সাই-ফাই ভালো লাগে এমন যে কারো জন্যই আদর্শ একটা সিরিজ। আমার খুব ভালো লেগেছে বলেই পোস্টে সব পজিটিভ কথাবার্তা বলেছি, যা বায়াসড মনে হতে পারে। কিন্তু ছোটখাটো কিছু ফ্যানসার্ভিসের কথা বাদ দিলে আসলেই এর কোন ডাউনসাইড নেই। খুব বেশি ইন্টেন্সিটি নেই যা কিনা মাথা ধরিয়ে দিতে পারে (তবে এপিসোড ১৪-তে বাড়তে মনোযোগ দিতে হবে), আবার এমন হালকাও নয় যে ভালো লাগবে না। স্ট্র্যাটেজিকাল এলিমেন্ট আর ক্লাইম্যাক্স আরেকটু বেশি থাকলে আমি একে ১০/১০ দিতাম। এখন খুব করে অপেক্ষায় আছি স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো ২২০২ এর যা সম্ভবত আগামী বছরেই আসবে।

যতটুকু বুঝলাম অ্যানিমেটি অরিজিনাল সিরিজের সোর্স ম্যাটেরিয়াল খুব একটা চেঞ্জ করেনি। অনেক নতুন কারেক্টার যুক্ত হয়েছে। কিছু মাইনর চেঞ্জ করা হয়েছে যুদ্ধগুলোর ক্ষেত্রে। ইয়ামাতো-র শেইপে পরিবর্তন করা হয়েছে কিছু। সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট আপডেটেড করা হয়েছে যেখানে দরকার। আরও কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

[এটা স্কিপ করলেও চলবে; পুরাই nerdy ব্যাপার-স্যাপার]
এত কিছুর বাইরেও যেটা আমাকে বিশেষভাবে ইম্প্রেস করেছে তা ছিল এ অ্যানিমের বৈজ্ঞানিক রেফারেন্সগুলো এবং বাস্তবসম্মত সেটিং। যদিও অবৈজ্ঞানিক দিকও কম না, সায়েন্স ফিকশনে এগুলো থাকবেই, তারপরও স্টার এবং প্ল্যানেটগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব এমন একটা ইল্যুশন সৃষ্টি করে যে মনে হয় এমনটা বুঝি সত্যিকার অর্থেই ঘটছে। যেমনঃ

১. প্রথম এপিসোডে দেখানো প্ল্যানেট বম্বগুলো বস্তুত Kuiper Belt Objects কে রিফার করে।

২. এপিসোড তিন এ মঙ্গল গ্রহ অতিক্রম করার সময় একটা সাগর দেখানো হয় যা মঙ্গল গ্রহে থাকা অ্যামাজনিস প্ল্যানিশিয়া (Amazonis Planitia) এর অনুরূপ।

৩. এপিসোড আট এ ইয়ামাতো Gliese 581 নামক একটি রেড ডোয়ার্ফ এর আয়োনাইজড গ্যাস এর মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হয় যা কিনা আসলেই এক্সিস্ট করে। এবং আমাদের সূর্যের মতই একটা গ্রহ হওয়ায় এতে অনুরূপ ঘটনা ঘটা খুবই সম্ভব।

৪. এপিসোড ১৩ তে দেখানো হয় একটা প্রোটোপ্ল্যানেটারি সিস্টেম। আমাদের সোলার সিস্টেম ৫ বিলিয়ন বছর আগে এমনই ছিল।

৫. এপিসোড ১৫ তে দেখানো হয় একটা নিউট্রন স্টার। নামটা বানানো হলেও বিজ্ঞানীরা এমন স্টারের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।

৬. Large Magellanic Cloud (LMC), যেখানে ইস্কান্দার গ্রহের অবস্থান, বাস্তব একটি গ্যালাক্সি। এটি মিল্কিওয়ের পাশেই অবস্থিত এবং মিল্কিওয়ের একটা স্যাটেলাইট।

৭. এপিসোড ১৯ এ দেখানো ট্যারান্টুলা নেবুলা LMC এরই একটি H2 রিজিয়ন।

The Devil is a Part timer! [রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Devil is a Part Timer 1

এনিমে রিভিউ :The Devil is a Part timer! (আরে শয়তান তো দেখি খুচরা চাকরি করে !)

শয়তান, দেবদূত এদের বিষয়গুলো বেশ ভাবওয়ালা। এদের নিয়ে সিনেমা, গল্পও বা এনিমে বানালেও তা সিরিয়াস হয়। তো দ্যা ডেভিল ইজ আ পার্টটাইমারকে সেই টাইপের কিছু ভাবছিলাম। কিন্তু তা নয়।

কাহিনী শুরু রুপকথার মধ্যে। এন্টে ইসলা নামক এক স্থানে মানুষ, দেবতা ও শয়তানের বাস। তো শয়তান পুরো এন্টে ইসলা দখল করার জন্য যুদ্ধ শুরু কইরা দেয়। যথারীতি নাইট ইন আ শাইনিং আর্মর এসে শয়তানকে হারাইয়া দেয়। তো শয়তান ও তার এক জেনারেল এলসিয়েল কোনক্রমে পৃথিবীতে পালিয়ে এসে বাঁচে। কিন্তু এখানে এসে তারা তাদের জাদুর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তো কি দিয়ে তারা জীবন চালাবে? শয়তান সাহেব সাডাও মাও নাম নেয় এবং তার জেনারেল এলসিয়েল নেয় শিরো আশিয়া নাম। শয়তান ম্যাকরোনাল্ডস এ চাকরি নিয়ে টার্গেট করে সেরা সেলস ম্যানেজার হবে। অন্য দশজনের মত তারাও হিসাব কষে জীবন চালাতে থাকে। কিন্তু এরই মধ্যে শয়তানের খোজে হাজির হয় নাইট সাহেব। কোথায় যাচ্ছে কাহিনী! এইটা কি রকম ব্যাপার? তো অদ্ভূত এই প্লটের কাহিনী জানতে দেখে ফেলুন দ্যা ডেভিল ইজ আ পার্ট টাইমার।

Devil is a Part Timer 3

এর প্রথম এপিসোডের প্রথম ১০মিনিট দেখে ভাবতাসি এতো সিরিয়াস একশন আর ইনটেন্স জিনিসের গায়ে কমেডি ট্যাগ কেন?! পরে গিয়ে দেখি এইটা পুরাই কমেডি এবং সাথে হালকা একশন। প্লট উড়াধুরা এবং মজাদার। গ্রাফিক্স এবং আর্ট যথেষ্ট ভাল। সাউন্ডট্র্যাক তো অস্থির!! এইটা দেখলে ডাবে দেখাই বেস্ট হবে!! শয়তান রাজা সাহেবের “খাইয়া ফেলুম” থেকে “শুভ সকাল ভাল আছেন?” এ যাওয়া মোডটা কেমন জানি খাঁপছাড়া লাগসে আর এপিসোডও আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল। পর্ব সংখ্যা মোটে তেরো। সময় থাকলে দেখতে পারেন।

Devil is a Part Timer 4

আমার রেটিং: ৭/১০

Devil is a Part Timer 7

গীতিরাজপুত্রদের কেচ্ছা/ উতা নো প্রিন্স সামা মাজি লাভ ১০০০% — Farah Faruque

Uta no Prince-sama Maji Love 1000 1

কমাস আগে ইউটিউব এ মামোরু মিয়ানোর নামে গানের সন্ধান লাগিয়ে দুটো গানের সন্ধান পেলাম, এবং শোনামাত্র মাথা ঘুরে গেল, ভাললাগার পরিমাণ স্কেল ছাড়িয়ে আরো দু’ইঞ্চি উপরে উঠে গেল, সন্ধান করে দেখলাম গান দুটোই গীতিরাজপুত্র দের নিয়ে তৈরি এই আনিমের চরিত্রসঙ্গীত

ভেবে দেখলাম আনিমেটা চেখেই দেখব কিনা, জন্রায় দেখি লেখা রয়েছে রিভার্স হারেম, মিউজিক, শৌজো! এই রে সেরেছে! আমি শৌজো রোমান্স দেখলে এখনও দশ হাত দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি, আমি এটা দেখব কি করে? তাছাড়া এমন একটা খেয়ে-কাজ-নেই টাইপের সিরিজ দেখছি শুনলে মেলা লোকেই তো নাক সিটকোবে দেখি! আমার আনিমু রুচি পছন্দের মান টা তাদের কাছে কই যাবে তা তো ভাববার বিষয়!
কিন্তু এত ভেবেও কি আর ঠেলে সরিয়ে রাখা যায়? এ তো দেখছি সোনার খনি ( অর্থাৎ কিনা গানের খনি!) তাই ভাবলাম চুলোয় যাকগে আর সব! দেখেই ফেলি! আর পরীক্ষা শেষ হবার পরপরেই মাথাভারী কিছু দেখতে এমনিও মন চাইছে না!
তাই দেখেই ফেললাম প্রথম সিজন! খারাপ লাগল আর কই?? ভালোই লাগল তো দেখি!! গল্পের কথা যদি বলি তেমন আহামরি কিছু নেই, চলনসই শৌজো রোমান্স গল্প, ওই যা হয় এরকম গল্পে তাই আর কি! তবে একেবারে একঘেয়ে বলার মত নয়, বোরিং যাকে বলে তা কিন্তু মনে হল না একটুও কেন জানি! যারা ওতোমে গেম জিনিসটার সাথে পরিচিত তাদের কাছে এ চেনা গল্পই মনে হবে!! এমনিতে গল্পটাকে দশে সাড়ে ছয় দিয়ে বসিয়ে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষের অংশটা ভালই লাগল তাই দিলাম গিয়ে সাত!

চরিত্ররাও অমন নতুন কিছু নয়, একপাল ছেলেচরিত্র কোন আনিমেতে থাকলে যা হয় তাই আরকি! একজন থাকবেন ফ্লার্ট মারা সুদর্শন, একজন ভাব-মারা “আমি বড় প্যারায় আছি তুমি বুঝবা না” টাইপ খোকা, একজন পাগলছাগল, একজন “ছোট্ট খোকাবাবু যাকে দেখলেই গাল টিপে দিতে ইচ্ছে করবে, একজন কম-কথা-বলা আর সূর্যের চেয়ে উজ্জ্বল হাসিমাখা মুখ তরুণ- এই হচ্ছে প্রধান দল, নায়িকা যেন তাদের মাঝে সাত ভাই চম্পার এক বোন পারুল, সবারই তাকে চাই ( রিভার্স হারেম বলেও নায়িকাকে বোন বানিয়ে দিলাম কারণ শুরুতেই তো বলে দিয়েছে এখানে নাকি প্রেম জিনিসটায় হাত দেওয়া নিষেধ! :3) সাতভাই বলার পরেও ছ’জনের হিসেব কেন দিলাম তা আনিমে দেখলেই বুঝা যাবে! বাকিদের মাঝে যাকে চোখে পড়ল তার মত ভাল ট্র‍্যাপ কমই দেখেছি, তারপর যখন জানলাম ইনার কন্ঠ ইউয়িচি নাকামুরার দেওয়া তখন চোয়াল ঝুলে গেছিল নিচে!
সব মিলিয়ে চরিত্র রা টিপিক্যাল হলেও আর যাই হোক বিরক্তিকর না! সবাই অল্পবিস্তর ভালো লাগার মতই!

এনিমেশন যাকে বলে কিরাকিরা পিকাপিকা ঠিক তাই! চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার যথেষ্ট তবে মোটের উপর এনিমেশন খারাপ লাগে নি, আর্ট এনিমেশন যথেষ্টই ভাল লেগেছে! রাজপুত্তুর দের রাজপুত্তুরের মতই লেগেছে আরকি হেহে!

মিউজিক এর কথায় এবার যদি আসি তবে একটা কথাই বলতে চাই! কোন কথা হবে না!!!!!!!!!!!!!!!!! গান নিয়ে আনিমে বলে ভালো কটা গান থাকবেই তা আশা করেই এসেছিলাম কিন্তু তাই বলে প্রতিটা পর্বের পরই যে হন্যে হয়ে পুরো গান খুঁজতে যেতে হবে এতটা আশা রাখি নি!! শুধু কি গান! গান ছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে যে পিয়ানোর সুর গুলি ব্যবহার করা হয়েছে তা কানের ভিতর দিয়ে গিয়ে মাথা খারাপ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!!! আর চরিত্রাভিনয়ের কথা যদি বলতে হয় তাহলে প্রথমেই বলব এখানে মামোরু মিয়ানো আছেন! ব্যস আমার আর বলার কিছু নেই! বলতে গেলে আমি আর থামছি না!!!!!! তবে মজা টা এখানে হয়েছে কিন্তু তাকে নিয়ে নয় আরেকজন কে নিয়ে, নাতসুকি চরিত্রটিকে দেখে আমরা দুই বোন খুব ভাবের সাথে বলার চেষ্টা করছিলাম এ চরিত্রে কেনিচি সুজুমুরার গলা ভালো মানাত, যে গলা তিনি কুরোকো তে মুরাসাকিবারা চরিত্রে দিয়েছেন, কিন্তু পরে যখন আআবিষ্কার করি মাসাতো চরিত্রটির কন্ঠ তার দেওয়া তখন আমাদের ভাবখানা হয়েছিল “এটা কেমন হল আ?? :|” মাঝে আবার বোন শুনিয়ে দিল তার গানের গলা নাকি মামোরুর গানের গলা থেকে বেশি সুন্দর লাগছে! কি জ্বালা!! আর অভিনেতা জুনিচি সুয়াবে কে এতদিন একটু মাথাগরম চরিত্রেই দেখে আসছি, তাই তাকে এমন প্লেবয় চরিত্রে দেখাটাও সারপ্রাইজ ই ছিল!

আরেকটা জিনিস না বললে নয়, আর তা হল ফ্যান্সার্ভিস এর প্রসঙ্গ, এই আনিমের ছবি খুঁজতে গিয়ে ইয়াওই ফ্যান আর্ট কম দেখিনি! তাই এখানে কতখানি কি দেখায় তাই নিয়ে একটা সন্দেহ ছিলই, কিন্তু দেখার পর এখন মনে হচ্ছে কিসের কি ঘোড়াড্ডিম! এমন কোন ফ্যান্সার্ভিসের ব্যবহার দেখলাম না যা ফুজোশির মাথায় পোকার মত কামড়াতে পারে, তারপরেও তারা কোত্থেকে কি ভেবে নিয়ে বসে আছে তারাই জানে! এই একটা পয়েন্ট কিন্তু আসলেই ভালো লেগেছে, খামোকা চটকদার করতে এখানে উল্টাপাল্টা ফ্যান্সার্ভিসের আশ্রয় নেয়া হয়নি!

ও আচ্ছা বলতে তো ভুলেই গিয়েছিলাম, “আইডল” আনিমে কিনা, তাই এখানে গানের সাথে “পারফরমেন্স” গুলোও দেখবার মতনই হয় বৈকি! ভেবেছিলাম একটু কষ্ট করে পারফরমেন্স গুলো “সারভাইভ” করতে হবে দেখি হেহে! কিন্তু দেখার পর তো উল্টো হতাশ হতে হল! অমন কোন আইডল পারফরমেন্স ই দেখতে পেলাম না, কেবল একটা ছাড়া! 🙁

সবশেষে বলতে পারি মোটের উপ্র ভালো লেগেছে আনিমে টা, দশে সাত দেব ভাবছিলাম কিন্তু গানগুলোর জন্য দশে ৭.৭৫ দিচ্ছি!! ( গান অবশ্য দশে পনের পাচ্ছে!) সারাদিন এক কানে তার গুজে গান শোনার জন্য কান টাই কটকট করছে এখন :|, হুতোম প্যাঁচার মত জেগে বসে থাকতে তাই এখন অন্য কানটাও ধ্বংস করব ভাবছি! খামোকা আমার এই আজাইরা বকবক শুনে বিরক্ত হবার জন্য সবার কাছে দুঃখিত! পালাই বরং এবেলা!

Uta no Prince-sama Maji Love 1000 2

Ping Pong the Animation ও এর ইন্টারপ্রিটেশন — Abdullah Ar Rayhan

Ping Pong

|| Ping Pong the Animation নিয়ে আমার নিজের ইন্টারপ্রিটেশন ||

এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে চার জন হাই স্কুল ছাত্রকে নিয়ে আবর্তিত একটি কামিং-অফ-এজ স্টোরি বলা যায় যেখানে আমরা দেখি কিভাবে পিংপং তাদের লাইফকে শেইপ করে। কিন্তু কিছুদূর দেখলেই যে কেউ বুঝবে যে এ অ্যানিমে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

শুরুটা হয় দুজন হাই স্কুল ফ্রেশার দিয়ে– ‘পেকো’ আর ‘স্মাইল’। পেকো-কে আপনি এক ধরণের ওয়ান্ডারবয় বলতে পারেন; আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি এফোর্ট দেয়া ছাড়াই যে গ্রেড স্কুল থেকেই প্রতিপক্ষদের নিয়মিত হারিয়ে আসছে, তার চরিত্র বেশ ইগো-সেন্ট্রিক। অন্যদিকে স্মাইল যদিও ভালো খেলে, সে পেকো-র ছায়ায়ই থেকেছে সবসময়। অথচ তাদের প্রথম ইন্টারস্কুল প্রিলিমিনারি টুর্নামেন্টে নজরটা স্মাইল-এর ওপরই বেশি পড়ে। চরিত্রগত দিক দিয়ে পেকো-র বিপরীত মেরুতে এর অবস্থান। সবসময় শান্ত, অনুত্তেজিত, রোবটিক। বাকি প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাজামা এবং চীন থেকে নির্বাসিত হওয়া কং।

এটুকু থেকে এটা স্পষ্ট যে অ্যানিমের সেটিং হাইস্কুল পিংপং but don’t let me fool you, it’s much more than that. You see, এটা কোন টিপিক্যাল স্পোর্টস অ্যানিমে না। পিংপংকে এখানে কেবল অনুঘটক বলা যেতে পারে। আপনি নরমাল স্পোর্টস অ্যানিমের মত এখানে কোন বিশেষ ট্রিক পাবেন না, কোন আগুনে rivalry পাবেন না (যদিও একেবারে যে নেই তা-ও নয় কিন্তু মূল গল্পের তুলনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়)। এটি যতটা না খেলা নিয়ে, তার চেয়েও বেশি জীবন নিয়ে, নিজেকে খুঁজে পাওয়া নিয়ে। তবে এর মানে এই না যে এটায় স্পোর্টস এলিমেন্ট নেই। যথেষ্ট এক্সাইটিং মোমেন্টস আছে। স্পোর্টস এলিমেন্টগুলো ফিলোসফিক্যাল আর সাইকোলজিক্যাল অ্যাস্পেক্টগুলোর সাথে এত সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করা হয়েছে যে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না।

যে তিনটা বৈশিষ্ট্য সিরিজটিকে ইউনিক করে তা হলো আর্ট স্টাইল, চরিত্রায়ন আর গল্পের গভীরতা। প্রথমেই মনে হবে যেন জীবন্ত একটা স্কেচবুক দেখছি। সাথে ওয়াটারকালার ব্যাকগ্রাউন্ড একটা পেইন্টিং ভাব এনে দেয়। যে আর্টিস্টিক অ্যাপ্রোচে অ্যানিমেশন করা হয়েছে তা থেকেই বোঝা যায় কত এফোর্ট দেয়া হয়েছে এর পেছনে। অনেকেই এমন আর্টস্টাইলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারে কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল একটা ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এমন একটা অ্যানিমের জন্য এরকম আর্ট পারফেক্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। চরিত্রগুলোর মুভমেন্ট বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে উঠেছে; আর এ প্রথম কোন অ্যানিমে দেখে আমার কারেক্টারগুলোকে জাপানীজ মনে হলো। 😛 আর্ট ভালো না লাগলেও একবার স্টোরিতে ঢুকে গেলে আর bother করবে না এটা গ্যারান্টিড।

এত অল্প সময়ে এত পরিপূর্ণ চরিত্রায়ন সত্যিই ইম্প্রেস করার মত। আপনি এদের ওপর ক্রাশ খাবেন না, দিবাস্বপ্নও দেখবেন না; কিন্তু প্রতিটা চরিত্রের সাথেই আমরা কেউ না কেউ রিলেট করতে পারবো। এ চরিত্রগুলো বাস্তব থেকে তুলে আনা, আপনার আমার মতই মানুষ এরা, এবং এখানে তাদের দেখানোও হয়েছে মানুষ হিসেবেই। স্টোরি এগুনোর সাথে সাথে আমরা চরিত্রগুলোকে চিনতে শিখি, তাদের মনস্তত্ব ধরতে পারি, আর পিংপং খেলার মধ্য দিয়ে তাদের ডেভেলপমেন্ট দেখি। যেটা উল্লেখযোগ্য তা হলো, ছোটখাটো চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালোভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে, তাদের জীবন নিয়েও আমরা জানার সুযোগ পাই। অন্যান্য অ্যানিমের মত, এখানে দর্শককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় নি। ভালো-মন্দের কোন রেখা দেখানো হয়নি। কোন চরিত্রকে অপছন্দ করা যায় না, বরং যত ছোটই হোক, সবাই নিজ আলোয় উজ্জ্বল এবং আপনি তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করবেন।

মূলত character driven হলেও সিরিজের প্লট শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখে। গল্প নির্দিষ্ট কোন সরলরেখায় না এগিয়ে চরিত্রগুলোর ওপর ফোকাস করে। তাদের সমস্যা, তাদের মোটিভেশন, প্যাশন, সাইকোলজি এগুলোই বেশি গুরুত্ব পায় কাহিনীতে।

What drives us to be what/where we are? প্যাশন? উচ্চাকাংক্ষা? নিজেকে সবার ওপরে দেখতে চাওয়ার মনোবাসনা? নাকি যা করি তার প্রতি ভালোবাসা? অনেকটুকু সময় ধরেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

আমরা দেখি পেকো-র নিজেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রূপে দেখার বাসনা, কং-এর জাপানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাংক্ষা, কাজামা-র নিজের এবং স্কুলের সম্মান ধরে রাখার দায়িত্ব, নিখাদ কঠোর পরিশ্রম আর চর্চা দিয়ে সাকুমা-র মেধাহীনতাকে ওভারকাম করার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি। কিন্তু এগুলোই কি সব? তবে স্মাইল কিসের দ্বারা তাড়িত হয়? এখানে এক্সপ্লোর করা কে হয় চরিত্রগুলো আসলে কারা, তারা কি করতে পারে, কি তাদের পরিচালনা করে। একেকটা এপিসোড যাওয়ার সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি। আমরা অনুধাবন করি যে পেকো, কাজামা, কং, সাকুমা- এরা আসলে আমরা নিজেরাই। প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্য দিয়েও চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে ইন্টার-অ্যাকশন করার মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত রকমের বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে দেখি আমরা। শুনতে ক্লিশে মনে হলেও, এর ডায়নামিক্স অন্যরকম।

এত অল্প সময়ের মধ্যে এত কিছু কভার করা আসলেই দুঃসাধ্যের মত এবং অ্যানিমেটি এতে বিস্ময়কর রকমের সফল। ১১ এপিসোডেই কভার করা হয়েছে প্রায় দু বছরের স্টোরি, প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি, জীবনের প্রতি তাদের ফিলোসফিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল টেইক।

সাউন্ড আর মিউজিকের দিক দিয়েও কিন্তু বেশ ভালোভাবে উতরে যায় পিং পং দ্য অ্যানিমেশন। বিশেষ করে এন্ডিং সংটা স্কিপ করা এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে উঠে পড়েছিল। আর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাউন্ড মিক্সিং নজর কেড়েছে বিশেষভাবে। মেঝেতে প্লেয়ারদের জুতো ঘষার শব্দ, বলের আওয়াজ, খেলার সময় মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া শব্দ, ভয়েস অ্যাক্টিং- সব কিছুই পারফেক্টলি সিঙ্কড মনে হয়েছে।

মনোযোগ কেড়েছে এপিসোডের নামগুলোও। এগুলোর কোন আলাদা অর্থ আছে কিনা তা আমার স্বল্পজ্ঞানের কারণে বুঝে উঠতে পারিনি কিন্তু টাইটেলগুলো আসলেই বেশ আকর্ষণীয়, একটা লিটারারি ভাব আছে। দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করে।

খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে এটি একটি deeply personal, philosophically surreal এবং visually metaphorical একটা কাহিনী যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে টেবল টেনিসের মত বোরিং একটা স্পোর্টস দিয়ে ‘আন-বোরিং’ উপায়ে। এ অ্যানিমের অন্যতম প্লাস-পয়েন্ট হলো একে পরিপূর্ণ্রূপে উপভোগ করার জন্য পিংপং এর ‘পি’ ও জানতে হবে না দর্শককে।

অস্বাভাবিক আর্ট দেখে হয়তো অনেকেই অ্যানিমেটি দেখে না, which is a great shame, because it is one of the anime I truly enjoyed watching, and thinking and writing about. It has 8.68/10 on MAL but I somehow still think that it is underrated. আরো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু মাথায় আসলেও আঙ্গুলের ডগায় আসছে না। গুছিয়ে লেখা আমার কম্ম নয়। অনেক ল্যাকিংস আছে আমার লেখায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে, কিন্তু এত ভালো লেগেছে যে না লিখেও পারিনি। এনিমখোরদের প্রতি আমার রিকমেন্ডেশন হচ্ছে, আপনি যে জনরা-ই পছন্দ করুন না কেন এটি দেখুন।

[স্পয়লার সতর্কতা]
শুরুতে উদ্ধত দেখালেও শেষের দিকে গিয়ে পেকো-কে যেভাবে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে -যে কিনা জীবনের বাঁকেবাঁকে একটু একটু করে কয়েকজনের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে- তা সত্যিই ভালো লেগেছে আমার। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যেভাবে আত্নোন্নয়ন করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। I liked that they didn’t make a big deal out of Peco and Smile’s final. ভালো লেগেছে লাস্ট এপিসোডে কাজামা আর স্মাইল এর রিইউনিয়ন। সত্যিই, নির্দিষ্ট একটি চরিত্রকে বিশেষভাবে পছন্দ বা অপছন্দ করা আসলেই কঠিন ছিল। কাজামা, সাকুমা, পেকো, স্মাইল- প্রত্যেক চরিত্রের সাথে রিলেট করতে পারাটা নিঃসন্দেহে এ অ্যানিমে ভালো লাগার অন্যতম কারণ।

Death Parrade [রিভিউ] — Mahedi Hasan

DP 1

Anime: Death Parade
Episode: 12
Genre: চিন্তাশীল মনোভাব, রম্য নেই বলা চলে ইত্যাদি
Rating (আমার কাছে ): 7/10

কেমন হবে যদি আপনাকে কোন বারে (পানীয় পান করার স্থান) নিয়ে যাওয়া হল এবং বলা হল আপনার জন্য সকল পানীয় বিনামূল্যে দেয়া হবে।
আপনি শুনে তো আহ্লাদে আটখানা, আপনি আপনার প্রিয় পানীয় পান করতে পারবেন ইচ্ছা মতো কিন্তু পয়সা দিতে হবে না।
কিন্তু ঝামেলার ব্যাপার হল এই যে, ইক্টু পরে বলা হলো আপনাকে একটা খেলা খেলতে হবে। খেলার প্রতিপক্ষ হবেন আপনার খুবই কাছের মানুষ।
সে যদি আপনার প্রিয় সুপার স্টার হয় তাহলে কেমন হবে?
বাহ! তাহলে তো খেলতেই হবে। এটি তে আর নতুন কি!
নতুনত্ব হচ্ছে এখানে,
খেলার জন্য কিছু নির্দেশনা মানতে হবে।
যা শুনে আপনার লোম খাড়া হয়ে যাবে।
নির্দেশনা গুলো হচ্ছে —
1. আপনাকে কেন এ বারে নিয়ে এসে আপপায়ন করা হচ্ছে তা বলা হবে না।
2. এখানে আপনাকে একটা খেলা খেলতে হবে।
3. খেলাটি লটারির মাধ্যমে খেলতে দেওয়া হবে।
4.(আসল নিয়ম) খেলার সাথে আপনার জীবন জুড়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, আপনি যে খেলাটিই খেলবেন তার সাথে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ জুড়ে দেওয়া হবে।
(উদাহরণ: আপনি যদি ডার্টস খেলেন তাহলে আপনার প্রতিপক্ষের ডার্টস এর ছকে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ জুড়ে দেওয়া হবে। আপনার প্রতিপক্ষ যদি তার ছকের এমন একটি অংশে আঘাত করে যেখানে হৃৎপিণ্ড এর ছবি থাকে তাহলে আপনি আপনার হৃৎপিণ্ড এ অস্থির ব্যাথা অনুভব করবেন।) (এক কথায় জীবন বাজি রেখে খেলা)
5. খেলা শেষ হওয়ার না পর্যন্ত আপনি এই বার থেকে বের হতে পারবেন না।

DP 2

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসছে যে, এত সুযোগ সুবিধা ভোগ করছি সেখানে আবার এই বিরক্তিকর খেলা। উফ, এ খেলা না খেললে হয় না! তাছাড়া এটি তো জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করার মত অবস্থা।

যখনই আপনি বারের ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করবেন, এই খেলা না খেললে হয় না। তখনই ওয়েটার আপনাকে অনেকগুলো লাশ দেখাবে এবং বলবেন, এই যে লাশ গুলো দেখতে পারছেন। এরা খেলা খেলতে চান নি, তাই তাদের এই অবস্থা হয়েছে। আপনার ও এই অবস্থা হবে যদি আপনি খেলাটি না খেলেন অথবা খেলাতে হেরে যান।

খেলা শুরু হল, এটি স্বাভাবিক যে আপনি হারতে চাইবেন না। কারণ আপনি জানেন আপনি যদি হেরে যান তাহলে আপনাকে সেই লাশের সাথে থাকতে হবে। আপনি পাগলের মত খেলায় মনোযোগ দিবেন এবং প্রাণপণে জিততে চাইবেন। কিন্তু আপনার প্রতিপক্ষও নাছড়বান্দা । সে হারলে, সেও লাশে পরিণত হবে। এ কারণে খেলা আরও জমে উঠবে।

এ এনিমে তে প্রতিটি ক্যারেক্টারকে এমনই জীবন মরণ খেলা খেলতে দেখা যাবে।
এক এক জনের খেলাও হবে বিভিন্ন ধরনের।

খেলার ফলাফল কি? খেলাটি তে জিতলে কি পুরষ্কার পাওয়া যাবে? কিভাবে বারের লোকেরা পরাজিত ব্যক্তি কে লাশে পরিণত করেন? তাদের উদ্দেশ্য কি? এসব কিছু জানতে হলে আপনাকে এই এনিমের প্রথম পর্ব টি দেখতে হবে। যাতে আপনি প্রশ্নগুলো এর উত্তর জানার পাশাপাশি এনিমেটা দেখার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

DP 3

Hanasaku Iroha [রিভিউ] — Arafin Shanto

Hanasaku Iroha 1Anime: Hanasaku Iroha
Genre: Slice of life; Romance
Studio: P.A.Works
Episode: 26
MAL RATING: 8/10
PERSONAL RATING: 8.57/10

কাজ! বা প্রফেশন! এটা আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, কাজ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনাতীত! আমাদের জীবনে বেচে থাকার অন্যতম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়েই রয়েছে কাজ! কিন্তু প্রশ্ন হল আমরা আমাদের কাজ বা প্রফেশন কে কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি! কতটা উপভোগ করি আমাদের প্রফেশনকে! আমাদের কাজের উপর শুধু আমাদের নয়; আরো অনেকের জীবন নির্ভর করতে পারে; কিন্তু আমরা কি সেই কাজটিকে নিজের মনের মত করে উপভোগ করছি!!!

অনেকটা এই ধরণের কাহিনী নিয়ে হানাসাকু ইরোহা এনিমেটি। যেখানে এনিমের প্রধান চরিত্র ১৬ বছরের বালিকা ওহানা মাতসুমায় কে তার মা টোকিও থেকে ওহানার নানীর কাছে পাঠিয়ে দেয়, কারণটা উহ্যই থাক!

ওহানার নানী আবার বিশাল এক হোটেলের মালকিন, যে হোটেলকে এনিমেতে আপনি কিসুই নামে চিনবেন, তো ওহানাকে বাধ্য হয়ে সেখানে যেতে হয় এবং সে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হয় যাতে তাকে তাড়িয়ে দেয়া না হয়! ওহানা স্বভাবতই কিছুটা চঞ্চল এবং বাচাল প্রকৃতির, তাই সেই হোটেলে বন্ধু পেতে তার তেমন কষ্ট হয় না!! সেই সাথে চলতে থাকে তার কাজ। কিন্তু কিসুই তে কাজ করা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়, কিসুই এর কর্মচারীর সংখ্যা অনেক কম, যদিও সেই কমসংখ্যক কর্মচারীদের মধ্যে যে একতা ও বন্ধুত্ব তা অনেক হোটেল এ দেখা যায় না, কিন্তু আসলেই কি শান্তিতে আছে কিসুই ইনন!! আশে-পাশের অন্যান্য বিশাল বিশাল হোটেলগুলোর চেয়ে ব্যাবসা ও পাবলিসিটির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে কিসুই। শুধু একতা বা সেবার মান দিয়ে কতদিন চলে! তার উপর কোন একজন সাংবাদিক কিসুই নিয়ে বিরূপ আর্টিকেল লিখে তাদের আরো বিপদে ফেলে দেয়!!! কি তার উদ্দেশ্য? কিসুই কি পারবে তার জায়গা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে? কিন্তু কিভাবে?

জানতে হলে আপনাকে দেখতেই হবে এনিমিটি!!!

নিজের কাজকে কতটা উপভোগ করে করা যায়! এতে কেমন সাফল্য আসবে তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এনিমেটিতে! এনিমেটিতে রোমান্স ফ্যাক্টরটিকেও সুন্দরভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যেমন ওহানার টোকিও তে থাকা বয়ফ্রেন্ড কো, হোটেলের শেফ মিনচির সাথে আরেক শেফ তোহুরু এর একপেশে প্রেমের কাহিনী! কিছুক্ষেত্রে এনিমেটি কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে; যেমন গল্পে ওহানাকে একটু বেশিই ফোকাস করা হয়েছে! আবার ওহানার ক্যারেক্টার ডেভেলাপিং নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে:-

ওহানাকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে একজন সাধারণ বালিকা থেকে ম্যাচিউরড ওমেন এ রূপান্তর করাটা একটু বাড়াবাড়িই ছিল বটে। ওহানা ছাড়া অন্য চরিত্রগুলোকে মোটামুটি কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে! এসব ছোটখাট জিনিস বাদ দিলে এনিমিটি উপভোগ যোগ্য। এনিমিটির দুটো করে ওপেনিং ও এন্ডিং গান সবগুলোই আপনার ভাল লাগতে বাধ্য!!!

Hanasaku Iroha 2