Welcome to the NHK [রিভিউ] — Prottoy Rahman

স্বাগতম এক অতি সাধারন বাস্তবতার উপর নির্মিত এক সাধারন গল্পের অসাধারন উপস্থাপনায়। জাপানের হিকিকুমোরি অর্থ্যাৎ কর্মবিমুখী shut-in জনগণ, বিষয়টি খুব সাধারনই বটে। কিন্তু স্বাভাবিক না। এরা দেশের বোঝাবৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদেরও যে ক্ষতি করে, তা একটি ভালো রকমের সমস্যা।

এই এনিমটি এরকমই এক NEET shut-in সাতৌ তাতসুহিরো কে অনুসরণ করে একটি গল্প তুলে ধরে। তো, কেমন কাজ করে এই এনিম, তারই একটু ছোট বর্ণনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পোস্ট।

প্রথমেই যা চোখে পড়ার মতো, তা হলো সাতৌর জীবনযাপনের পরিবেশন। মাত্র কয়েক মিনিটে তার মানসিক, আচরণগত এবং জীবনযাপনমূলক বৈশিষ্ট পরিষ্কার হয়ে ওঠে। এক সামাজিক সমস্যার উপর তৈরি, সমস্যাটি তুলে না ধরলে কেমন দেখায়? হ্যা, এনিমটি এই hikikumori-র আগা, গোড়া, কান্ড, চূড়া, সব চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছে। সমস্যার উৎপত্তি, কারণ, প্রভাব, উত্তরণের উপায়, কোনো কিছুই বাদ দেওয়া হয় নি। তবে শুধু এই বিষয়টি তুলে ধরেছে, তা বললে আমার জীবনে বলা অন্যতম বিশাল ভুল হবে। এই এনিমকে সামাজিক সমস্যার অ্যালবাম বললেও কম হবে। সাতৌর হিকিকুমরি অবস্থার উন্নতির প্রচেষ্টায় সে মুখোমুখী হয় সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরো অনেক সমস্যার। যদিও এটি বেশ repetitive, তবুও এর গল্পলিখনে মোটামুটি সামঞ্জস্য আছে। প্রতিটি ঘটনার অবতারনা করতে পূর্বের ঘটনাবলী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে যা এটিকে ভালোই উপভোগ্য করে তোলে।

এর মূল গল্পের সাথে সাথে চলে চরিত্রায়ন। ঘটনার স্রোতে আমরা দেখতে পাই চরিত্রদের জীবনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের মধ্যবর্তী খুঁতগুলোকে পুঁজি করে চমৎকারভাবে একে অপরের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা এবং চরিত্রের ডেভলপমেন্ট দেখানো হয়েছে। একে অনায়াসে অন্যতম সাইকোলজিকাল এনিম এর কাতারে ফেলা যায়। এটি শুধু যে চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থা ফুটে তোলে তা নয়, এই এনিম বিভিন্ন mental phenomena ও পরিবেশন করে।

এই এনিমের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর বাস্তবতা। বেশ কিছু জায়গায় অবিশ্বাস্য আচরণ দেখা গেলেও সর্বোপরি এটি বাস্তবতাকে তুলে ধরে। এটি দেখায় মনপ্রাণ ঢেলে দিয়ে চমৎকার কাজ করলেও নিয়তির কাছে মাঝেমাঝে হার মানতে হয়। তবে তার থেকেও বেশি এই এনিমের আকর্ষণীয় দিক হলো মন্তব্য দেওয়ার সাহসিকতা। Welcome to the NHK বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য প্রদান করে যার মধ্যে ধর্মীয় চিন্তাধারাও পড়ে।

এই এনিমটির আর্ট বেশ চমৎকার। এর এনিমেশনও উল্লেখযোগ্য। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলো অতি চমৎকার এবং এনিমটিকে উপভোগ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ওপেনিং সং একদিকে বেশ এন্জয়েবল্ এবং দৃশ্যগুলো দেখতে অসাধারণ, অপরদিকে অনেক অর্থবহ। YouTuber “Mother’s basement” এর চ্যানেলে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সহ একটি ভিডিও আছে।

যাই হোক, বাংলা টাইপ করার খুব একটা অভ্যাস নেই বলে আর বেশিকিছু বলব না। এটা অত্যন্ত ভালো একটি এনিম এবং আমার দেখা সেরাদের মধ্যে একটি। স্কোর দেব ১০ এর মধ্যে দৃঢ় ৯।

ওহ হ্যা, এতকিছুর মধ্যে প্রশ্ন জাগতে পারে যে NHK জিনিসটা কি? খায় না মাথায় মাখে? NHK তেমন বিশেষ কিছু না, তবে একই সাথে এটি অনেক কিছু। এটা খেতে পারেন, মাথায় মাখতে পারেন, উপাসনা করতে পারেন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা, এর দ্বারা মনের ভার কমাতে পারেন। যেমন এই পোস্ট আমার এন এইচ কে।

Basilisk: Kouga Ninpou Chou [রিভিউ] — Mobashirul Haque

Basilisk 1

Anime: Basilisk:kouga ninpou chou
Episodes: 24
Genre: action, historical, romance, ninja
Studio:Gonzo

সময় ১৬১৪। জাপানে Tokugawa Shouganate প্রতিষ্ঠিত। জাপানের ২ নিনজা clan; Kouga clan আর Iga clan এর মধ্যে বিদ্যমান হয়ে আছে ৪০০ বছরের দ্বন্দ্ব সংঘাত।Shouganate দের প্রধান নিনজা clan, Hanzo দের হস্তক্ষেপে এই ২ clan এর মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়েছে।কিন্তু ২ clan এর লোকজনের মনে এখনও একে অপরের উপর বিদ্বেষ জমা হয়ে আছে।শান্তি আরও স্থায়ী করার লক্ষে ২ clan এর প্রধান clan এর পরবর্তী প্রধান Kouga Gennousuke আর Iga Oboro এর বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু পরবর্তীতে retired Shogun Ieyasu, Shouganate এর তৃতীয় উত্তরাধিকার নির্বাচনের জন্য ঠিক করে Kouga আর Iga দের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার।চাপা পড়া ঘৃণা-বিদ্বেষ আবার জেগে উঠে।নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য আর পুরনো ঘৃণা ২ clan কেই রক্তপিপাসু করে তোলে।ভাগ্যের পরিহাসে Gennousuke আর Oboro কেও নিজের ভালবাসার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়।
২৪ পর্বের Anime তে কাহিনী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল খুব সুন্দর ও গুছানো, কখনই খাপছাড়া মনে হয় নি।কাহিনীর pacing ঠিকভাবেই আগিয়েছে। ছিল কাহিনী বুঝার সুবিধার্থে প্রয়োজনমত backstory. আর পরবর্তী পর্বে কি হবে সেই suspense।
Anime এর প্রত্যেকটা চরিত্র কে ভালো লেগেছে। প্রত্যেক চরিত্রেই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল।Gennousuke আর Oboro এর অন্তঃদ্বন্দ্ব, বাকি চরিত্রদের নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আর তার ফলে কাহিনীর পরিবর্তন ভালো লেগেছে।
Anime তে action বেশ ভালো, সাথে সাথে নিনজা দের যুদ্ধকৌশল এর পরিচয়। প্রত্যেক চরিত্রের power ছিল interesting।

Basilisk 2

Anime এর ending song“Hime Murasaki” আমার personal favourite.
Myanimelist এই anime এর ranking আর popularity দেখে হতাশ হয়েছি। এই anime আরও প্রশংসার যোগ্য।

https://www.youtube.com/watch?v=5UxNJWMPvlw

Special A [রিভিউ] — Arafin Shanto

Special A 1

Anime:- Special A / S.A
Genre:- Romance ; Comedy
Format:- 24 episodes
Mal rating(anime):- 7.8
Personal rating:- 8.3

জীবনে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে কে না আরোহণ করতে চায়!প্রায় সব মানুষের ই ইচ্ছা থাকে যেকোন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পজিশন টা তার হোক। সবাই যেন তাকে সময়ের সেরা মানুষ বলে বিবেচনা করে বা চেনে। খুব সহজভাবে বললে; কোন ক্লাসের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ছাত্র যেমন চায় সে প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্রকে টপকে ক্লাসের সর্বোচ্চ স্থান দখল করবে; তেমনি ক্লাসের সবচাইতে অমনোযোগী ছাত্রের মনের মাঝেও কি কখনো উঁকিঝুঁকি দেয় না ক্লাস সেরা হওয়ার স্বপ্ন? অবশ্যই দেয়…. কিন্তু সবার ট্যালেন্ট কি এক! সবাই কি একইরকম পরিশ্রম করতে পারদর্শী! হয়ত না।

কিছুটা এ ধরণের সিচ্যুয়েশন থেকে শুরু হয় স্পেশাল এ এনিমেটি।

এনিমের শুরুতেই আপনি দেখতে পাবেন এনিমের প্রধান মেয়ে চরিত্র হানাজোনা হিকারির বাল্যকাল। সেখানে দেখা যায়; ছোটকাল থেকেই সে তার বাবার কাছে আত্মরক্ষার কৌশল শেখে।মূলত হিকারি তার বাবার ইচ্ছেতেই শেখে যেন সে
নিজেকে যেকোন পরিস্থিতিতে রক্ষা করতে পারে। আরো দেখা যায় হিকারির বাবা তার আত্মরক্ষার কৌশল যাচাই করার জন্য অনেক শক্তিশালী মানুষের সাথেও হিকারিকে
মোকাবিলা করতে বলে। হিকারি প্রায় অনায়াসেই তাদের পরাজিত করে। মূলত তখন থেকেই সে নিজেকে সবার চেয়ে সেরা হিসেবে দেখতে চায় কিংবা মনে করে।কিন্তু
একদিন হিকারির বাবা একটি ছেলেকে হিকারির সামনে দাড় করিয়ে দেন।সে
হিকারির বয়সের ই।কিন্তু তিনি শুনেছেন ছেলেটি শক্তিশালী এবং স্কিলফুল।সেই
আমাদের প্রধান ছেলে চরিত্র তাকাশিমা কেই।

গল্পের মূল শুরুটা এখানেই।

হিকারি ছেলেটির সাথে চ্যালঞ্জে পরাজিত হয়। তখন থেকেই হিকারির দ্বিতীয় স্থান অর্জিত জীবনের শুরু। হিকারি ;; যতবার যে জায়গাতেই তাকাশিমাকে চ্যালেঞ্জ করুক
না কেন প্রতিবার ই তার অবস্থান দ্বিতীয়। সেটা হোক পড়ালেখায় বা রেসলিং এ……
সে তাকাশিমাকে পরাজিত করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ভর্তি হয় তাকাশিমার
স্কুলে। স্কুল থেকে মনে পড়ল ; হিকারির ক্লাসের ছাত্র সংখ্যা মাত্র সাতজন।কিন্তু কেন?
মূলত ক্লাসের সর্বোচ্চ লেভেলের প্রথম সাতজন ছাত্র নিয়ে গঠিত এই বিশেষ
ক্লাস। এই বিশেষ ক্লাস এর সবকিছুই বিশেষ। তাদের ক্লাসরুম থেকে শুরু করে পোশাক পর্যন্ত যেন তাদের বিশেষত্বকেই তুলে ধরে…..আসলেই সেই ছাত্ররা মোটামুটি এক একজন অলরাউন্ডার।
তাই
সেই ক্লাসের এক নম্বর ছাত্রকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।সেখানে আরো
আছে; বিশিষ্ট সংগীত পরিচালকের দুই সন্তান-জুন ইয়ামামতো ও মেগুমি
ইয়ামামতো….এমনকি স্কুল ডাইরেক্টর এর ছেলে এবং গাড়ির কোম্পানির সিইও ছেলের মত উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা।সেখানে হিকারির
অবস্থান সেই দুই নম্বর। যার কারণে তাকাশিমা তাকে মোটামুটি রেগুলারলি
টিজ করে। কিন্তু তারা পরস্পরের রাইভাল হলে কি হবে তাদের এই রাইভারির মধ্যে
রয়েছে অসাধারণ সুন্দর কিছু না বলা রোমান্টিক মুহূর্ত। সেদিকটা আপনারাই
এনিমে দেখে অনুভব করুন…. নিজের রাইভালের প্রেমে পড়া কিন্তু নতুন কিছু নয়
এনিমেতে ; তারপর ও এনিমেটির কমেডি- রোমান্স এই দুটো জন্রার অসাধারণ মিক্সাপ আপনাকে এনিমেটি পছন্দ করতে
বাধ্য করবে।এনিমেটির বেশ কিছু অসাধারণ হার্ট টাচিং দৃশ্য রয়েছে; যেগুলো আপনার
হৃদয়ে গেথে থাকবে।

এটি একটি টিপিক্যাল শৌজো এনিমে। কিন্তু এর রোমান্টিক -কমেডির ধরণ
স্বতন্ত্র।এটাকে ট্রেডিশনাল শৌজোর দিকে ফেলবেন কি-না সেটা আপনার উপর
ডিপেন্ড করে।এনিমের ক্যারেক্টার ডিজাইন; আর্টওয়ার্ক খুবই সাধারণ।

মিউজিক নিয়ে বলব;ওপেনিং/ইন্ডিং ডিসেন্ট… আমার ভালই লেগেছে।বলার মত
বিশেষ কিছু নেই কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো আপনার মন ছুয়ে যাবে।এতটুকু গ্যারান্টি দেয়া যায়……

আমি বলব না এটা মাস্টারপিস জাতীয় কিছু।খুব অন্য লেভেলেরও কিছু না।কিন্তু
কিছু এনিমে থাকে না; যেগুলো অত্যাধিক লেভেলের কিছু না হলেও মন ভরিয়ে দিয়ে
যায়।আপনি দেখতে বসলে বুঝবেন এনিমেটা আপনাকে কিভাবে টানছে।একবার চেষ্টা
করতে দোষ কি!

সাধারণ লাভ স্টোরি কিন্তু অনেকক্ষেত্রে রোমিও-জুলিয়েট টাইপের লাভ স্টোরি থেকেও বেশি মন ছুঁয়ে যায়………..
ধন্যবাদ।

Special A 2

Bakemono no Ko/ The Boy And The Beast [মুভি রিভিউ] — Iftekhar Rashed

Bakemono no Ko 2

Bakemono no Ko/ The Boy And The Beast
Studio : Studio Chizu
Other Works: Wolf Children, The girl who leapt Through the time
MAL Score: 8.61

আমারা রুপ কথার গল্প সবাই পছন্দ করি কম বেশি। এটা আসলে আমাদের বেড়ে উঠার সময়টার সাথের অংশীদার। সমাজের গতানুগতিক জীবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার একটা বিদ্রহীভাব আমাদের শেকড়ে গাড়া। এমনি কিছু সাধারন ব্যাপারগুলো বিদ্যমান থাকে আমাদের কল্পনারাজ্যের গল্পের জগতে।

রেন নামের ছেলেটির বাবা মাকে হারিয়ে বসে মাত্র নয় বছর বয়সেই একটা সড়ক দুর্ঘটনায়। এতিম রেনের দেখাশুনা করার দায়িত্ব তার যৌথ পরিবারের অনান্য সদস্যরা নিতে চাইল ঠিকই কিন্তু একটা দুরের ভাব থেকেই যায় যা রেন বুঝতে পেরে বিদ্রোহী হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। অসহায় রেন বুকের মাঝে বিশাল একটা খালী জাগা নিয়ে বেচে থাকার লড়াইয়ের সামনাসামনি হয়ে পড়ে। খাবার নেই থাকার জাগা নেই বড়ই অসহায় অবস্থায় পড়ে যায়। কিন্তু রেনর ভিতর আছে বেচে থাকার একটা অসম্ভব অদম্য ইচ্ছা সেই সাথে তার একরোখা ভাব।

Bakemono no Ko 3

কুমাতেসু একটা ভাল্লুক যার বাসস্থান বিষ্ট রিআর্লম। প্যারালাল ভাবে চলতে থাকা আরেকটা দুনিয়া যা একটা সুরঙ্গ পথা দ্বারা মানুষের দুনিয়ার সাথে যুক্ত। কুমাতেতসু স্বভাব চরিত্রের দিক থেকে একদম রেন। একরোখা কারো কথা শুনার নয়, ভদ্রতা শিষ্টাচার বলতে কোন শব্দ বা এর ব্যবহার সে জানে না। তার জীবনের একটাই লক্ষ শক্তিশালী হওয়া এবং ইওজেনকে হারানো। ইওজেন(সোনালী শুকর) সমাজের বেশ সম্মানিত এবং দক্ষ যোদ্ধা। ইওজেন আর কুমাতেসুর মধ্যে একটা লড়াই হবে যা কিনা বিজয়ীকে দিবে গ্রান্ড মাস্টার খেতাব কারন বর্তমান যিনি আছেন উনি আবার এই পদ ছেড়ে নতুন করে পুনর্জনম নেয়ার চিন্তায় আছে। ঊনি হলেন বিষ্ট রিআর্লমের হত্তা কর্তা বা মহাজগতিক নেতা শৌশি (একটা খরগোশ)। কিন্তু ইওজেন যতটাই সমাজে সম্মানীত কুমাতেসু তার স্বভাবের কারন বসত পুরো উল্টোটাই, তাকে দেখলে সবাই তাকে ভয় করে এবং যার কারন বশত এখন পর্যন্ত কোন শীষ্য তার কপালে জোটেনি। কিন্তু মাস্টার শৌশী আবার বলে দিয়েছে কামাতেসু লড়াইয়ে নামবে তখনি যখন সে একটা শিষ্য জোগাড়্র কতে পারবে।

এভাবে শিষ্য খুজতে খুজতে কামাতেতসু মানুষের রিআর্লমে প্রবেশ করে রেনের দেখা পায়।

বাকিটা দেখে নিবেন। গল্পটা খুব সুন্দর এবং তার সাথে আর্ট ওয়ার্কটাও।
কিছু মুর্হুত আছে যা মনের গভীরে গেথে যাওয়ার মত।

Bakemono no Ko 1

Sword of the Stranger [মুভি রিভিউ] — Amor Asad

Sword of the Stranger 2

Sword of the Stranger সামুরাই গল্প, আনুমানিক ১৩৬৮ হতে ১৬৪৪ সালের কোন এক সময়ে।
সোর্ড অফ দ্য স্ট্রেঞ্জার একই সাথে টানাপোড়েন ছিন্ন সামুরাই, রক্তলোলুপতা আর অমরত্বের পেছনে ছোঁটার গল্প। —
প্রোটাগনিস্ট নামহীন সামুরাই Nanashi পোড়ো মন্দিরে কুলহীন ছোট্ট Kotaru আর তাঁর কুকুরের সাথে পরিচিত হয়। পরবর্তীতে Kotaru’কে নির্দিষ্ট এক মন্দিরে পৌঁছে দিতে সফরসঙ্গী এবং বডিগার্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করলে ঘটনাক্রমে মিং-ডাইনাস্টি এবং তৎকালীন কোন এক জাপানিজ প্রদেশের মাঝে বিদ্যমান অস্থিতিশীল এক পরিবেশে আঁটকে পড়ে। জানতে পারি, পিচ্চি Kotaru ব্যপারটার সাথে ভালোভাবে জড়িত।

মুভির গল্প আহামরি নতুন না— তবে গল্পের রুপায়ন প্রশংসার দাবী রাখে। বিশেষ করে সোর্ড ফাইটগুলো নান্দনিক; সচরাচর এমন সোর্ড ফাইট এবং অন্যান্য সামুরাই অস্ত্রের প্রদর্শনীর দেখা মিলে না। সিনেমার নাম অনেকটা ভিতরের বিষয়বস্তুকে প্রকাশ করে দেয়, তাই দেখতে বসে সোর্ড ফাইট আশা করবেন এ লিখে দেয়া সম্ভব। কথা হচ্ছে, হতাশ হবেন না। তাছাড়া মুভির প্রথম কয়েক মিনিটের ধাওয়া, হত্যা তথা নির্বিচারে রক্তারক্তি গোটা সিনেমার ভাষারীতির জানান দিয়ে দেয়। আপনার পছন্দের সাথে যাচ্ছে কিনা তা শুরুতেই বুঝে ফেলবেন।
অ্যানিমেশন পরিষ্কার এবং ডিটেইল্ড। মাকোতো শিনকাই লেভেলের না হলেও আর্টস্টাইল চমৎকার।

মুভির শর্টকামিং হচ্ছে কিছুটা প্রেডিক্টেবল এবং অ্যামবিয়েন্ট মিউজিকের অতিব্যবহার বা ভুল ব্যবহার। আবহকে দর্শকের মনে গেথে দিতে এপিক কোন চোখ ধাঁধানো দৃশ্যে এ-ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভালো মানায়, কিন্তু থেকে থেকেই একটুক্ষণ পরপর সাধারণ দৃশ্যে ব্যবহার করলে ভার কমে যায়, বেমানান লাগে। এছাড়া, প্রোটাগনিস্টকে নির্দিষ্ট প্রোফাইলে না ফেলে দিলে ভালো হত।
আমার রেটিং ৭.৫/১০

Sword of the Stranger 1

The Story of Mr. Sorry [মুভি রিভিউ/রিএকশন] — Bashira Akter Anima

The Story of Mr. Sorry 1

যেহেতু আমার আজাইরা লেইম অথবা উইয়ার্ড জিনিসের প্রতি একটা টান আছে সেই হিসেবে একটু আগে দেখা শেষ করলাম কোরিয়ান একটা এনিমেশন মুভি “দি স্টোরি অফ মিস্টার সরি” যদিও জিনিসটা জাপানিজ না কিন্তু এর আগে হয়তো একটা দুইটা কোরিয়ান জিনিস নিয়ে আলোচনা হতে দেখছিলাম বলে ভাবলাম দেখার রিএকশন টা লিখে যাই।

মুভির শুরুতে দেখায় এক টক শো নয়তো বিচারকের ঘর। পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন নেতা-নেত্রী। চলছে বিশাল তর্ক-বিতর্ক। চাপড়ে প্রায় ভেংগে ফেলা হচ্ছে টেবিল। আসামীর কাঠগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে একটি মাকড়শা। কারণ ঘটনাস্থলে প্রায় পাগল হওয়া রাজনীতিবিদের কাছে তখন এই মাকড়শা ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায় নি তাই সেই হইলো এক নম্বর আসামী। এসময় মনে অনেক খটকা জাগে সাথে সাথে কাহিনী পিছনে ফেরা শুরু করে। মুভির মূল চরিত্র মিস্টার সরি খুবই লাজুক, মিন-মিন স্বভাবের লোক, কাউকে জোরে কথা বলতে পারে না সাথে সাথে বেশ ভীতু। কাজ করে সে এক কান পরিষ্কার করা কোম্পানীতে। জ্বী ঠিক ই শুনছেন তাদের কাজ ই হলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবার কান পরিষ্কার করা যে যত বেশি করতে পারবে তার তত লাভ। কিন্তু সরি তার দূর্বল চরিত্রের জন্যই বারংবার পিছিয়ে যেতে থাকে সবার কাছ থেকে। কোনোরকম বাড়ী ফেরে সে দৈনিক, ঘরে ঢুকেই নিঁখোজ মানুষ খোঁজার এজেন্সীতে ফোন করে সে, সেই ছোটবেলা থেকে সে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার বড় বোনকে। বোনের একদম ন্যাওটা ছিলো যে। এজেন্সী দিন দিন বিল বাড়াতেই থাকে কিন্তু ফলাফল শূন্য। শেষ রাত কাটে তার পোষা মাকড়শার সাথে গল্প করতে করতে।

কিন্তু এই দূর্বল চরিত্রের সরি খেয়াল করতে থাকে যে মানসিক ভাবে দূর্বলতার সাথে সাথে তার শারীরিক দূর্বলতাও দেখা দিয়েছে এবং একদিন টের পায় আকারে ক্ষুদ্র হতে থাকে সে দিনকে দিন। কিন্তু এতেই যেনো শাপে বড় হয়ে আসে তার পেশা, তার মালিক সবার জন্য।

মুভিটা দেখে আসলে নিজের দেশে কি হয় তা মনে পড়লো। খুব কৌশলে ওরা পৃথিবীতে কি হচ্ছে তা ই বুঝিয়ে দিলো। এইসব টক শো, টক শো তে অসংখ্য ইস্যু, প্রশ্ন, সমাধান কি হচ্ছে এতে? একটা প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত এসে ওরা তুলে দিয়ে গেছে যে আমরা যে নাগরিকরা জাস্টিস দিচ্ছি বলে দাবী জানাই, আসলেই কি ন্যায়বিচার হচ্ছে, আমরা কি আমাদের বিবেক, বুদ্ধির উপর আসলেই আস্থা রাখতে পারি? নাকি ঘটনার আড়ালেও অনেক কিছু চাপা থাকবে যা আমরা দেখতে পাবো না কোনোদিন। আর যারা দেখতে পায় তারা হয়ে পড়ে আসামী।

The Story of Mr. Sorry 2

The Tale of the Princess Kaguya [মুভি রিভিউ] — Subrata Barman

The Tale of the Princess KaguyaName: The Tale of the Princess Kaguya
Director: Isao Takahata
Genre: Drama/Fantasy

যারা ‘Grave of the Fireflies’ মুভিটি দেখেছেন তাদের ইসাও তাকাহাতা সম্পর্কে জানার কথা! তারপরও এই মুভিটার ব্যাপারে আলাদা করে বলতে হয়। এমন সুন্দর জল রঙের কাজ, যা দেখলে সাউন্ড অফ থাকলেও তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে! প্রতিটা ফ্রেইম হাতে একে এনিমেশন করা। এক কথায় চোখের উপর চাপ কম পড়ে! 🙂
যাই হোক, কুসুমে ফিরে যাই! The Tale of the Princess Kaguya মুভিটি জাপানী লোকগল্প ‘The Tale of the Bamboo Cutter’ এর উপর বেইস করে গড়ে উঠা। মিয়াতসুকো নামের একজন কাঠুরে বাশ বাগানে একটি আলোকিত বাশের গোড়ায় দৈব ভাবে একটি ছোট আকৃতির রাজকন্যার মত মেয়ে কে খুজে পায়! বাড়িতে নেয়ার পর কাঠুরে এবং তার বউ সেই মেয়েকে নিজেদের সন্তান হিসেবে বড় করার সিদ্ধান্ত নেয়! কন্যা শিশুটির মধ্যে দৈবভাব ধারনা করে তাকে রাজকন্যা বলে ডাকা শুরু করে তারা। অলৌকিক ভাবে কন্যা শিশুটি অসাধারন দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠে! তার এমন কর্মকান্ডে অত্র এলাকার শিশু কিশোররা তাকে ‘তাকেনোকো’ নাম দিয়ে দেয়। সেই সব শিশুদের সাথে তাকেনোকো হেসে খেলে বেড়ায়। এদের মধ্যে সবার বয়োজ্যেষ্ঠ Sutemaru এর সাথে ভালো বোঝাপড়া গড়ে উঠে তাকেনোকোর। এভাবে এক সময় মিয়াতসুকো বাশ বাগানে স্বর্ন এবং রাজকীয় কাপড় খুজে পেয়ে মনে করে তার কন্যা কে রাজকন্যা করে গড়ে তোলার ইংগিত দেয়া হচ্ছে তাকে! এবং সে তাকেনোকোর অনিচ্ছাতে হঠাত করেই শহরে নির্মিত তাদের নতুন বিলাসবহুল প্রাসাদে নিয়ে যায়….মিয়াতসুকো তার জীবনের পরম দায়িত্ব হিসেবে তাকেনোকোকে একজন যথার্থ রাজকন্যা গড়ে তোলার প্রয়াস নেয় এবং তার কন্যা’র সব সুখের জলাঞ্জলি দিয়ে দেয়!

Ayakashi ~ Japanese Classic Horror [রিভিউ] — Amor Asad

Ayakashi 1

রূপকথার সাথে ভৌতিক রূপকথার সাধারণ একটা পার্থক্য আছে, দুটো ধারাই সব সভ্যতায় সমান ভাবে জনপ্রিয় হলেও। ভৌতিক রূপকথায় সাধারণত নীতিকথার উপস্থিতি দেখা যায় না। আবার উপকথার “অতঃপর তাঁরা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো” ভৌতিক উপকথার শেষাংশ সবসময় রঞ্জিত করেনা।
মায়েরা রূপকথা ব্যবহার করে বাচ্চা খেতে না চাইলে — ভৌতিক রূপকথা ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়াতে। তবে দিনশেষে দুটো গল্প ধাঁরাই যে কোন সভ্যতার ইতিহাস আর কল্পনাশক্তির নিদর্শন।

জাপানিজ সংস্কৃতির ভূতুড়ে গল্পগুলোর সাথে আমাদের কতখানি মিল আছে তা সাংস্কৃতিক তুলনামূলক বিশ্লেষণই বলতে পারবে, তবে Ayakashi’র গপ্পো গুলো চেনাজানা মনে হয়। দর্শক হিসেবে গ্রহণ করতে পারি সহজেই — সুদূর কোন কল্পনাপ্রসূত জায়গায় নিজেকে নিতে হয় না।

১১ পর্বের অ্যানিমে সিরিজ Ayakashi, যার মধ্যে তিনটা স্টোরি আর্ক, প্রতি আর্কে ৩-৪টা করে এপিসোড। এ পর্যায়ে জনপ্রিয় এক জনরার ভক্তগণ ঢোঁক গিলবেন বিস্ময়ে।
তিনটা গল্প তিন ধরণের। একটা মঞ্চস্থ নাটকের মতো, একটা সহজ সরল রূপকথা, আরেকটা মিস্টেরি ঘরানার।

প্রথম গল্পটার নাম Yotsuya Kaidan — বিখ্যাত জাপানিজ লোককথা অবলম্বনে। ন্যারাটিভ স্টাইলের গল্পকথন। ১৮ শতকের যাত্রা নির্মাতা Nanboku Tsuruya গল্পটাকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন। Ayakashi অ্যানিমেতে তাঁকেই ন্যারেটর হিসেবে দেখানো হয়।
Yotsuya Kaiden একজন প্রতিশোধপরায়ণ গৃহবধূর গল্প। স্বামী Tamiya Iemon এর ছলনা, বেইমানী এবং শেষমেষ খুনের স্বীকার হয়ে যার আত্মা ফিরে আসে অভিশাপের বার্তা নিয়ে। গল্পটা শুরুতেই ন্যারেটর কাহিনীটা দর্শককে জানিয়ে রাখেন মোটা দাগে— পর্বগুলো কেবল সেই গল্পের দৃশ্যায়ন করে। তাই গল্প জেনে ফেললেও স্পয়লারের ভয় নেই।

দ্বিতীয় গল্পটা ঠিক হরর বললে ভুল হবে, রূপকথার কাতারেই দাঁড় করানো যায়। তবে রূপকথার সুখি সুখি ভাবটা অনুপস্থিত। মানুষ যুবকের সাথে ইশ্বরীর প্রণয় কাহিনী। ভুল করলে চলবে না, এই ধরণের গল্প অ্যানিমেতে প্রচলিত হলেও Tenshu Monogatari’তে প্রচলিত ক্লিশেগুলো নেই। অতিরঞ্জিত আবেগ এবং বিরক্তিকর/সক্রেটিস কিশোর-কিশোরী চরিত্রও অনুপস্থিত। তদুপরি গল্পকথন জিবলি স্টুডিওর কথা মনে করিয়ে দেয়।

Ayakashi 2

সবশেষে Bake Neko— বাকে নেকোর অর্থ Changed Cat. গল্পটাও ভূতুড়ে বিড়াল নিয়ে। কন্যাদায়গ্রস্থ বুনিয়াদী পরিবারের টিকে থাকার একমাত্র উপায় যখন ঢলে পড়ে মাটিতে, বিয়ে বাড়িতে হুলস্থূল বেঁধে যায়। কে, কেন, কিভাবে হত্যা করেছে— তাঁর পেছনের গল্প মোটেই সাধারণ কিছু নয়। অ্যানিমের তিন গল্পের মধ্যে এটা রহস্য গল্প।
Bake Neko বাস্তবিকই ভয়ংকর। হরর একটা কনফিউজিং জনরা, কাটাছেড়াকেও হরর হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু এটা পিওর হরর, একদম সমার্থক শব্দ বলা যায়।
সত্যি বলতে এই আর্কের কারণে Ayakashi দেখতে বসেছিলাম। Mononoke প্রচণ্ড প্রিয় একটা অ্যানিমে। জানতে পারি Mononoke আসলে Ayakashi তথা Bake Neko-র স্পিন অফ।
আয়াকাশি দেখার পর মনে হচ্ছে মনোনোকের অ্যানিমেশন স্টাইলটা ভালোবেসে ফেলেছি। খসখসে আর্টপেপারের উপর আঁকা ছবির মতো দৃশ্যগুলো মিস করেছি মন থেকে।
Bake Neko আর্ক আর Mononoke অ্যানিমে নিয়ে একসাথে আলাদা লেখার দরকার আছে। সেখানে পিছনের গল্প, প্রোটাগনিস্ট, আর্ট স্টাইল নিয়ে আলাপ করা যাবে।

Ayakashi 3

Ayakashi ~ Japanese Classic Horror অনন্য সাধারণ অ্যানিমে।
হলিউডি/টার্কি নতুন কিছু হরর মুভির সস্তা জাম্প-স্কেয়ার দেখে চোখ উল্টানো মহামতিদের আয়াকাশির ভাব বোঝানো গেলে ভালো হত— ঈশান কোণের শ্যাওড়া গাছের মড়মড় শব্দ আর কোন শব্দ সপ্তাহখানেক কানে ঢুকতো না।

আমার রেটিং ৮.৫/১০

Ayakashi 4

যেরো নো সৌকৌশি [মাঙ্গা সাজেশন] — Zahura Chowdhury Abonti

Zero no Soukoushi

মাঙ্গা সাজেশনঃ যেরো নো সৌকৌশি
চ্যাপ্টার সংখ্যাঃ ৩
স্ট্যাটাসঃ কমপ্লিটেড
জনরাঃ ড্রামা, মিস্ট্রি, শৌজো
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮

কানাদে একজন পারফিউমিস্ট— নানা রকম ঘ্রাণের সংমিশ্রনে নতুন নতুন সুগন্ধী তৈরি করা তার পেশা। গন্ধ নিয়ে কাজ করতে হয় বলেই অন্য দশটা মানুষের তুলনায় তার নাকটা একটু বেশি তীক্ষ্ণ। খুব সহজেই ঘ্রাণের সামান্যতম তফাতও সে ধরে ফেলতে পারে। আর এই কারণেই মাঝে মাঝে তাকে ফেঁসে যেতে হয় অযাচিত বিভিন্ন প্যাঁচালো ঘটনায়। নিজ পেশার প্রতি ভালবাসা থেকেই কানাদে চেষ্টা করে প্রতিটা মানুষের জন্য তার সাথে মানানসই সুগন্ধী তৈরি করে দিতে। পারফিউম ফ্রিক এই মানুষ আপাতভাবে তেমন মিশুক না হলেও সম্পর্কে কাজিন আনাইসের সাথে তার বেশ সখ্যতা রয়েছে। কানাদে যেমন চায় সব ঝামেলা এড়িয়ে চলতে, আনাইস ঠিক তার উলটো। না পারতে তাই এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনাতে জড়িয়ে যেতে হয় কানাদেকেও। আর নিজের সুনিপুণ দক্ষতায় সে বের করে আনে রহস্যের সমাধান।

৩ টি চ্যাপ্টারে তিনটি ভিন্ন মিস্ট্রির খোলাসা করা হয়েছে, যার মাঝে ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ সর্বপ্রথমটাই। একটু ভিন্নধর্মী এই মাঙ্গার কাহিনী বেশ ভাল ও ইউনিক। মাত্র ৩ চ্যাপ্টার বলে পড়তেও বেশি সময় লাগে না। আর এই মাঙ্গার খুবই আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর আর্ট। খুব বেশি রকমের সুন্দর ও বেশ আনকমন এই আর্ট প্যাটার্নে রয়েছে খানিকটা ওয়েস্টার্ণ ধাঁচ। ৩ চ্যাপ্টারে ক্যারেক্টার ডেভেলাপমেন্ট এর খুব বেশি জায়গা নেই, সে চেষ্টাও মাঙ্গাকা করেননি। পুরো মাঙ্গাতে কানাদেকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং তার চরিত্রটি আমার কাছে কাহিনীর সাথে বেশ মানানসই মনে হয়েছে। আনাইসকে মাঝে মাঝে অবাঞ্চিত মনে হলেও তারও প্রয়োজন ছিল বলেই মনে হয়। অল্প সময়ে বেশ আনন্দদায়ক এক মাঙ্গা বলেই মনে হয় আমার। কিছু কিছু জায়গা অবশ্য অনেক অস্বাভাবিক ও জোরপূর্বক কাহিনী মেলানোর জন্য করে দেয়া বলেও মনে হয়েছে; বিশেষ করে শেষ গল্পটাতে। কিন্তু সামান্য এই দোষ এড়িয়ে যেতে পারলে বেশ উপভোগ্য একটি মাঙ্গা এটি। হাতে সামান্য সময় থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। সাথে মাঙ্গার লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি:
http://mangafox.me/manga/0_no_soukoushi/

Basilisk [রিভিউ] — Amor Asad

Basilisk

জেনারেশনের পর জেনারেশন একে অপরকে ঘৃণা করার ইতিহাস পর্দায় দেখলে না-চাইতেই বাস্তব দুনিয়ায় মিলেনিয়াম ধরে চলে আসা সংঘর্ষগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। এসব দ্বন্দ্বের অনেকগুলিই এখনও বর্তমান এবং সমানে ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে।
একটা পর্যায়ে সংঘর্ষের পিছনে আদর্শগত কারণগুলোকে আর বাটিচালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় বা পরিবর্তিত হয়ে যায় — থেকে যায় কেবল সংঘর্ষটুকু।
ভায়োলেন্সে আনন্দ পাওয়া মানুষের লং ফরগটেন আদিমতম বৈশিষ্ট্যগুলোর একটা। সংঘর্ষের উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত পুলক লাভে গিয়ে দাঁড়ায়, তা সে অবচেতনে আদিপুরুষের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙ্গে হলে হলেও।
উদাহরণ দিতে চাচ্ছি না, তবুও কিছু একটা ভিজুয়ালাইজ করতে চৌধুরী বাড়ি আর মির্জা বাড়ির দ্বন্দ্ব ধরে নিন।
.
ব্যাসিলিস্ক-এ এমন দুটো আলাদা গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক শতাব্দীর পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে দুটো গোষ্ঠীই কল্পিত পৃথিবীর প্রসিদ্ধ দুটো নিনজা-ক্লান। দুপক্ষই মোটাদাগে সেরা দশজন নিনজা নিয়ে গঠিত এবং কোন অজানা এক কারণে দশ-দশ মোট বিশজন বাদে এই দুই ক্লানে আর কোন দক্ষ নিনজা নেই। নিনজারা সবাই অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন। ক্ষমতাগুলোর প্রদর্শনী ঠিক সুপারপাওয়ারের কথা মনে করায় না — বরঞ্চ মিউটেশনের সাথে ঢের মিল আছে। এসব যদিও নিনজা আর্ট বা নিনজুৎসু হিসেবে দেখানো হয়েছে — ক্ষমতাগুলো আপন করে নেয়ার দুর্ভাবনা কুক্ষণেও আসে না মাথায়। কদাকার, নিষ্ঠুর এবং ভয়ানক কিছু ক্ষমতা। এছাড়া চাইলেই একজন অন্যের নিজস্ব নিনজুৎসু শিখতে পারে না। সবার ক্ষমতা আর তাঁর কার্যকারণ আলাদা — কিভাবে কে কোন ক্ষমতা পেয়েছে তাঁরও কোন ব্যাখ্যা নেই। না, একে সিরিজের নেতিবাচক নয় বরং ইতিবাচক দিক হিসেবেই ধরছি।
জাপানিজ কালচারে নিনজাদের কেমন দেখা হয় হাতে-কলমে জানতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু নারুতো আর ব্যাসিলিস্ক দ্যাখার পর মনে হয়েছে তাঁদের কাছে নিনজারা মানুষ যোদ্ধা থেকে বেশী কিছু ছিলো।
গল্পে ফিরে আসি — এই দুই ক্লান বিভিন্ন সময়ে দ্বন্দ্বের সমাধান করার চেষ্টা করেছে কিন্তু পুরোপুরি সফল হয়নি; উল্টো সংঘাতের ইতিহাসে নতুন রক্তের ছোপ লেগেছে। তবু যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসা গেছে, সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। অ্যানিমের গল্পের সময়টাতে দুই-ক্লান সমাধানের দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। কিন্তু এত বছরের খুনোখুনি চাইলেই ভুলে গিয়ে হাতে হাত, কাঁধে কাঁধ মেলানো যায়? দু-পক্ষের জন্যে অবস্থা জটিলতর হয়ে যায় যখন ঘটনাক্রমে যুদ্ধবিরতি যুক্তি বরবাদ হয়ে যায়। এসব প্রথম এপিসোডের প্লট — বাকিটা জানতে অ্যানিমে দেখতে হবে।
.
ব্যাসিলিস্ক বাস্তবিকই ডার্ক এবং পুরোদস্তুর ম্যাচিউরড অ্যানিমে – ভাবগত এবং চরিত্রগত দুভাবেই। চরিত্রগুলোর সবকটি পূর্ণবয়স্ক মানুষ। অনড় ন্যায়নীতি আর মূূল্যবোধের মত বালখিল্যতার পরিবর্তে নিজ নিজ ক্লানের প্রতি চির আনুগত্য আর অপর ক্লানের প্রতি ঘৃণাই তাঁদের পরিচালিত করে। গল্পে প্রটাগনিস্ট অবশ্যই আছে — কিন্তু তাঁর বা তাঁদের চোখে মাঙ্গাকা কোন মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেন না। ব্যাসিলিস্ক দেখার সময় কোন চরিত্রের প্রতি আলাদা আকর্ষণ বা বিকর্ষণ কাজ করে না — উপরন্তু মোটিভেশন গুলো আমলে নিলে সবার অবস্থানকে ব্যাখ্যা করা যায়, তাঁদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা যায়। অর্থাৎ অমক চরিত্র পটল তুললে সব শেষ — এই অনুভূতি দর্শককে তাড়িত করে না।
থিম ছাড়াও সিরিজে গ্রাফিক ভায়োলেন্স অত্যাধিক বেশী যে, গোর বললে ভুল হবে না। সেই সাথে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স আর এক্সপ্লিসিটনেস উল্লেখ করার মত। সিরিজ দেখার ইচ্ছে থাকলে এটায় মাথায় রেখে বসতে হবে।
.
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ঘটনাগুলোর তীব্রতা ভালভাবে ফুটিয়ে তুলতে। অ্যানিমেশন আর আর্টস্টাইলের প্রশংসা করা যাক। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যানিমেশন দেখতে অনেকটা জিবলি স্টুডিওর অ্যানিমেশনের মত লাগে। আলোচনা করার চেয়ে দেখালে বোধহয় ভালো হবে। অ্যানিমে থেকে কিছু স্ক্রিনশটের লিঙ্ক দিচ্ছি, চাইলে ক্লিক করে দেখা যাবে।
https://imgur.com/gallery/Zg3pW/
.
ডার্ক ফ্যান্টাসি অ্যানিমের তালিকায় উপরের দিকে রাখতে চাই ব্যাসিলিস্ককে। ভালোবাসা, বিরহগাথা, স্বজনপ্রীতি, প্রতিশোধ, ক্রোধ – সবকিছু এক মোড়কে। এখানে কোন কিছুর কোন নিশ্চয়তা নেই। দপদপে কোন হৃদয়ের আর কোন প্রতিশ্রুতির কানাকড়ি মূল্য নেই। তাই গল্পের ব্যপ্তি খুব বেশী না হলেও, ব্যাসিলিস্ক-এর দুনিয়া প্রভাবিত করে। দিনশেষে দু-পক্ষের অতীতের সবটুকু জানার ইচ্ছে যাগে মনে।
আমার রেটিং ৮/১০