হানাসাকু ইরোহা রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_mb3x3lVTdH1qzd219o1_500

হানাসাকু ইরোহা দেখে শেষ করলাম। শুরু থেকেই আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে আমার তারি তারি অ্যানিমেটার কথা মনে পড়ছিল, ম্যাল ঘেটে দেখলাম যা ভেবেছি তাই; দুটো অ্যানিমে একই স্টুডিওর বানানো। পিএ ওয়ার্কস স্টুডিওটির জন্য মোট ৩৪ টি টাইটেলের এন্ট্রি পেলাম (সেকেন্ড সিজন, ওভিএ, মুভির হিসাব সহ) এর মাঝে এঞ্জেল বিটস, এনাদার, শার্লট, শিরোবাকো নামগুলো চোখে পড়ল। হানাসাকু ও তারি তারির আর্ট খুব সুন্দর লেগেছে আমার, কিন্তু শার্লট আর এঞ্জেল বিটস সে তুলনায় অনেক বেশি সুন্দর আর ঝকঝকে ছিল।

ohana

স্টুডিও বন্দনা শেষ, এখন আসি হানাসাকু ইরোহা অ্যানিমেটির কথায়।

Hanasaku_Iroha

ওহানা একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট, মায়ের সাথে টোকিওতে থাকে। ওহানার মা একজন সুন্দরী ও খুবই খামখেয়ালি ধরণের মানুষ, ওহানার ওপর ঘর সামলানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এভাবেই চলছিল মা-মেয়ের সংসার, কিন্তু একদিন হঠাৎ বাধল বিপত্তি। ওহানার মা ও তার ছেলেবন্ধু একদিন ঠিক করলেন, চাঁদের আলোয় বাড়ি ছেড়ে পালাবেন তারা একজন আরেকজনের হাত ধরে। কারণ তাদের পেছনে লেগে আছে পাওনাদারেরা! ওহানাকে নিয়ে পালানো সম্ভব না, তাই ওহানার মা তাকে ধরিয়ে দেয় একটি “অনসেন ইন” এর ঠিকানা, যেটির মালিক ওহানার নানী। নিরূপায় ওহানা তার টোকিওর বন্ধুবান্ধব ও জীবনযাত্রা ছেড়ে রওনা দেয় ছোট শহরের সেই অনসেনের উদ্দেশ্যে।

অনসেনে যেতে যেতে ওহানা যা ভাবছিল, সেখানে গিয়ে তার কিছুই হল না। ওহানার নানী একজন কর্মপাগল মহিলা, কাজের বাইরে কোন কিছুই চোখে পড়েনা তার। ওহানার নতুন জীবন শুরু হল একজন অনসেন ওয়েইট্রেস হিসেবে, আর আস্তে আস্তে সে পৃথিবীটাকে নতুন রূপে দেখতে শিখল।

iroha

স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের গতানুগতিক প্যাটার্নের চেয়ে এই অ্যানিমেটি অন্যরকম, এখানে শান্তিময় জীবনের ওপর ফোকাস করা হয়নি, বরং ওহানার জীবনের সংগ্রামগুলোর ওপর ফোকাস করা হয়েছে। শুরুটা বেশ সিরিয়াসভাবে হয় এই অ্যানিমের, কিন্তু পরে ওহানা কাজের মাঝে যেভাবে আনন্দ খুঁজে নেয় ও সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করে, তা দেখে খুব ভাল লাগে। হাসার মত অনেক ভাল ভাল মোমেন্ট আছে অ্যানিমেটিতে। ক্যারেক্টারগুলো খুব সহজেই আপন হয়ে যায়, কখন যে ওদের সাথে আপনিও কিসসুইসোর অংশ হয়ে গেছেন, টের পাবেন না।

আর্টের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওএসটি মানানসই, অ্যানিমের বিভিন্ন মুডকে ফুটিয়ে তুলেছে। ভয়েস অ্যাক্টিং টা আমার অনেক ভাল লেগেছে, প্রতিটি ক্যারেক্টারের সাথে কণ্ঠ খুব সুন্দর মানিয়েছে।

অ্যানিমেটির এন্ডিং টা একটু আশাহত করতে পারে অনেককে, তবে রিয়েলিস্টিক এন্ডিং হিসেবে আমার ভাল লেগেছে। এছাড়া পুরো ২৬ পর্বে এত এত ছোট ছোট কিন্তু সুন্দর সব ঘটনা ঘটে, সেগুলো সবই অ্যানিমেটিকে মনে রাখার মত একটি সিরিজে পরিণত করেছে। তাই সবাইকে সাজেস্ট করব এই সুন্দর অ্যানিমেটি দেখতে।

Hanasaku.Iroha.full.837892

এনিমে রিভিউ: Barakamon — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Barakamon 1

একজন সাধারন মানুষের জীবনে লক্ষ্য কি !? ছাত্রবস্থায় পরীক্ষায় ভালো করা , এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটে ভালো করা , ভালো কলেজে চান্স পাওয়া , ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া , মানে সবমিলিয়ে খ্যাতিমান হওয়া , অনেকের মাঝে স্ট্যান্ড আউট করা । কিন্তু এই অসংখ্য কিছু করার তাগিদে আপনার জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে যাচ্ছে না তো ?! হঠাত্‍ করে যদি কোন এক কারণে আপনি যদি উপলদ্ধি করেন যে আপনি কি হারাচ্ছেন , আপনি আপনার আশেপাশে লুকিয়ে থাকা রত্নগুলো , জীবনকে উপভোগ করার আসল রহস্য আপনার সামনে এসে পরে তাহলে কেমন হবে ? তেমনি এক যুবক হানদার হাসিখুশি জীবনের আসল মানে খুঁজে পাবার যাত্রা নিয়ে এনিমে বারাকামন ।
হানদা এক ২২বছর বয়সী বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার । বেশ কম বয়সেই সে ক্যালিগ্রাফির জন্য সুপরিচিত । বাপকা বেটা অর্থাত্‍ হানদা বাবার মতই ক্যালিগ্রাফার । তো একদিন এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বাধলো বিপত্তি । প্রদর্শনীর পরিচালক হানদার ক্যালিগ্রাফী দেখে বলে যে হানাদা তার বাবার স্টাইল কপি করে সাফল্য পাচ্ছে , তাতে নেই কোন নতুনত্ত্ব । তো হানদা বেশ রগচটা বা একটু রিএকশান বেশিই করে । বলা নেই কওয়া নেই , হানদা বুড়া পরিচালকের গালে বসিয়ে দিল বিরাশি সিক্কির ঘুষি । যথারিতী তার বাবা তাকে এক নির্জন দ্বীপে বনবাসে পাঠিয়ে দিল মাথাটা ঠান্ডা করার জন্য এবং আরও একটা গোপন কারনে যেটা হানদা জানেনা । তো শহুরে ছেলে হানাদা গ্রামে এসে ঠিক সুবিধে করে নিতে পারছিল না । কিন্তু নতুন বাড়িতে উঠতে গিয়ে পরিচয় হল গ্রামের দস্যি মেয়ে নারুর সাথে , মিষ্টি এই দস্যি মেয়ে অপরিচিত এই শহুরে শাট ইনকে কয়েকঘন্টার মধ্যেই আপন করে নেয় । এবং সাথে গ্রামের সকলে তার সাথে পরিচিত হতে আসে । প্রথমে হানাদা মন খারাপ করলেও পরে সে বলে “দিনগুলো মনে হয় খারাপ কাটবে না ,, । ডাকাতসর্দারের মেয়ে মিওয়া , অতিবুঝা শখের মাঙ্গাকা তামা , অতি কিউট হিনা আর গ্রামের চ্যাংড়া পিচ্চির দলের জ্বালাতনে কখোনো বিরক্ত , কখোনোবা নিজেই তাদের সাথে বাদরামিতে নেমে পরা । যেই হানদার জীবনে এক কাওয়াফুজি ছাড়া আর কোন বন্দ্ধু ছিল না আজে তার জীবন যেন এই দস্যিদের ছাড়া ফাঁকা হয়ে যাবে । নারুর কাছ থেকে , এই গ্রামের কাছ থেকেই সে ক্যালিগ্রাফিকে নিজের স্টাইলে করার চেষ্টা করে । হানাদা সেনসে কি পারবে তার জীবনের খারাপ মুহূর্তগুলোকে ভুলে নতুন একজন হয়ে উঠতে !?
বারাকামন আমার দেখা সেরা স্লাইস অফ লাইফ এনিমে । এই এনিমেতে রোমান্সের র ও নেই যা বিরল । এর আর্ট স্টাইল খুবই সুন্দর .আছে দম ফাটানো কমেডি এবং ক্যারেকটারগুলোও অস্থির । এর ওপেনিং গানটা একবারও স্কিপ করার না । এই এনিমে দেখার পর একটা কথাই মনে হবে
“দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া , ঘরের বাইরে দু পা ফেলিয়া ,,
হানাদার অবস্থা অনেকটা আরণ্যক গল্পের নায়কের মত , প্রথমে গ্রামে এসে ভাবছিল কেমন করে শহরে পালাবে আর ২বছর পর ভাবছে শহরের গন্ডগোল থেকে পালিয়ে কেমন করে গ্রামে ফিরে যাবে । হয়ত এই এনিমে দেখার পর আপনারও মনে হবে আমি কি কিছু হারাচ্ছি !?
তো এই এনিমে দেখুন এবং অসাধারন এক যাত্রায় সওয়ার হন এবং নারু নামক এক দস্যি মেয়ের ভক্ত হয়ে যান ।
রেটিং :১০/১০ ।

Barakamon 2

Claymore রিভিউ — Rafiul Alam

Claymore

আপনি কি এনিমে দেখায় অরুচিতে ভুগছেন? সহজ, কিন্তু অসাধারণ কোন গল্প সন্ধান করছেন? ডার্ক, ফ্যান্টাসি এবং মেডিভ্যাল‍ কিছুর জন্য ক্রেভিং হচ্ছে?
তাহলে উপরের সকল অসুখের ডোজ হিসেবে ২৬ এপিসোডের ক্লেইমোর (বা ক্লেমোর) সেবন করুন!
এর কার্যকরীতার প্রমাণ এই আমি নিজেই।
ক্লেইমোর একটি অসাধারণ সংগ্রাম, সাহসিকতা এবং মনুষ্যত্বের গল্প, যা তার স্বকীয় শৈল্পিকতা অর্জন করেছে দৃষ্টিকটু কিছু ব্যাপার থাকা সত্ত্বেও। ম্যাডহাউজ তৈরীকৃত আনিমেটি প্রচারিত হয় ২০০৭ সালে, মাংগার কাহিনী অসম্পূর্ণ রেখেই, ২৬ টি এপিসোডে।আমি সাব দেখেছি, ডাবও শুনেছি। সাব>ডাব মনে হয়েছে, তবে আপনার ব্যাক্তিগত পছন্দকে গুরত্ব দেয়ার অনুরোধ করব।
ক্লেইমোর শব্দ দিয়ে মূলত মধ্যযুগীয় স্কটিশ তলোয়ারকে বোঝায়। এনিমেতে ঠিক সেই তলোয়ারই দেখানো হয়েছে।

Synopsis : ঘটনার প্রেক্ষাপট মধ্যযুগের ইউরোপ। যেখানে মানুষের জীবন বিপন্ন ইয়োমার কারণে। ইয়োমা হল এক ধরনের নরখাদক রাক্ষস, যারা কিনা মানুষের রূপ ধারন করে মানুষের মাঝে মিলেমিশে থাকতে পারে। মহাবিপদ! এখন এই রাক্ষসের উপদ্রব থেকে মানুষজনের উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র সম্বল হল কয়েকজন নারীযোদ্ধা, যাদের সাধারণ মানুষজন ক্লেইমোর বলে ডাকে।
ঘটনার শুরুতে, এক জনপদে ইয়োমার আক্রমণে ৬ জন নিহত হয়। ফলে সেখানে ক্লেইমোর বাহিনীর আগমণ ঘটে। ক্লেইমোরদের ইয়োমাবিনাশী ক্ষমতা, শক্তিশালী দৈহিক গঠন, অতিরিক্ত ফ্যাকাশে ত্বক, এবং অস্বাভাবিক চোখের রঙের কারণে মানুষজন তাদের ভয়ের চোখে দেখে। কিন্তু ইয়োমার কাছে পরিবার হারানো অসহায় ছেলে রাকি ক্লেইমোরদের সাধারণ মানুষদের থেকে আলাদা নজরে দেখে না। ফলে রাকি, ক্লেয়ার নামের এক ক্লেইমোরের পিছু নেয়। ঘটনার আবর্তনে ক্লেয়ার আর রাকি নানামুখী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। ফলে চরিত্রগুলোর সাথে দর্শকদের বন্ধন তৈরী হওয়ার পাশাপাশি ঘটনার প্রবাহ ত্বরান্বিত হয়। একই সাথে দর্শকদের কাছে ক্লেইমোরদের উদ্দেশ্য, গাঠনিক নিয়মাবলী পরিষ্কার হয়। নামবিহীন ‘দ্যা অর্গানাইজেশন’ এর কলকাঠি নাড়াচাড়া স্ক্রিনে আসলে গল্পেটি আরেক দিক থেকে দেখার সু্যোগ হয়। কাহিনী যত এগোয়, নতুন নতুন চরিত্র ও তাদের উদ্দেশ্য উন্মোচিত হয়। গল্পের যে দিকটি নজর কেড়েছে , তা হল এখানে চরিত্রগুলোর উদ্দেশ্য খুবই সহজে বোঝা যায়, কিন্তু গভীরতার দিক থেকে কোন অংশেই কম না। এবং অসাধারণ পেসিং থাকার কারণে কাহিনীর সমাপ্তি না জেনেও এনিমের একটি ভাল সমাপ্তি আশা করতে পারেন।

Theme setup, Animation and Music : ইউরোপের প্রকৃতি, তুষার, মধ্যযুগের পাথরের স্থাপত্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস সবই বেশ বাস্তবিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আনিমেতে পরিমিত সূর্যের আলো দেখানোর ফলে গথিক একটা ভাইব তৈরী করতে পেরেছেন নির্মাতারা। যা আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অবচেতনভাবেই দর্শক মনে প্রভাব ফেলবে এর সিনগুলো। অসাধারণ আর্টওয়ার্ক যাকে আরও এম্প্লিফাই করেছে। তবে এনিমেশনের কিছু কিছু ব্যাপার দৃষ্টিকটু ছিল। বিশেষ করে একশন সিনগুলিতে রক্ত পড়াকে ফোয়ারার মত দেখানো হয়েছে। আবার অনেক সময় একশনগুলি বেশি অবাস্তব মনে হওয়াও অসম্ভব নয়। অবশ্য তামিল মুভির ভক্ত হলে অনুভূতি ভিন্ন হতে পারে।
এবার আসি মিউজিকে। এনিমেটির ঝাকানাকা অপেনিং খুবই মনোমুগ্ধকর লেগেছে আমার কাছে। ফোক মেটালের এন্ডিং আরও বেশি পারফেক্ট ছিল, পুরো এনিমেটির সাথে খুবই, খুবই ভালভাবে মানিয়ে যায়। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যাবহার অনেক সময় খাপছাড়া মনে হয়েছে। অনেক সময় দুটি ট্র‍্যাক গ্যাপ ছাড়া কন্টিনিউয়াসলি প্লে করা হয়েছে। এমন সাডেন চেঞ্জে কোন কোন দৃশ্যে দর্শকের ফিলিংস কনফিউজড হয়ে যায়। তবে আমি বলব, গ্লিচগুলিকে অভারলুক করা গেলে ক্লেইমোর আপনার জন্য নিঃসন্দেহে উপভোগ্য হবে।

Characters Setup : এনিমেটির ক্যারেক্টার বিল্ডআপ এর সবচেয়ে মুল্যবান দিকগুলোর একটি। কোন ফাইট শেষ হওয়ার পর তার আগের ফাইটকে খুবই নগণ্য মনে হয়েছে। ক্লেয়ার চরিত্রটি অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। চরিত্রগুলি বেশ জীবন্ত মনে লেগেছে। যদিও রাকি চরিত্রটি বিরক্তিকর লাগতে পারে অনেকের কাছে। কাহিনীতে তেরেসা, মিরিয়া, ডেনেভ, আইরিন, অফিলিয়াসহ প্রচুর চরিত্র আছে, কিন্তু তাদের স্টোরি ঠিক যতটুকু স্পটলাইট ডিসার্ভ করে, ততটুকুই দেয়া হয়েছে। একই সাথে চরিত্রগুলির স্বতন্ত্রতা বজায় ছিল, ফলে মনে রাখা সহজ হয়।

Overall Rating :
MyAnimeList.net : 7.95/10
IMDb Rating : 8.1/10
My Rating : 8.6/10

Opening:

https://www.youtube.com/watch?v=umgoE_SASK0

Ending:

 

Great Teacher Onizuka (GTO) রিভিউ — Mahbub Yusuf

GTO 1 GTO 2

Name: Great Teacher Onizuka (GTO)
Genres: Comedy, Drama, School, Slice of Life

মাত্রই দেখা শেষ করলাম Great Teacher Onizuka। এত সুন্দর আর সিম্পল কাহিনীর এনিম দেখব তা প্রথমে ভাবতে পারিনি । এনিমেতে মূলত আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যাবস্থার মধ্যে যে গলদ্গুলি আছে তাই বিভিন্ন কৌতুকপূর্ণ আর হাস্যরসাত্মকভাবে সবার সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
ছাত্র- শিক্ষকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত ?
শিক্ষকের কাজ কি শুধুই বইয়ের পাতা আর স্কুলের গন্ডির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত?
আমাদের অধিকাংশের অভিজ্ঞতাই বলে শিক্ষকরা আমাদের সেকেন্ড অভিভাবক তবে খুব কম শিক্ষককেই বন্ধু হিসেবে দেখা যায় যার পরিমান আসলেই অনেক কম। আর বইয়ের পাতা আর স্কুল কলেজের গন্ডির বাইরে শিক্ষকদের তেমন এক্টিভিটিও চোখে পড়ে না।

মূলত শিক্ষক- ছাত্রদের সম্পর্ক এই এনিমেতে নিখুতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছাত্র-শিক্ষকের খুনসুটি, একশন, বাইক রেসিং ,কার চেজিং, রোমান্স কমেডীর কমপ্লিট প্যাকেজ Great Teacher Onizuka।

GTO 3

Eikichi Onizuka যে কিনা ছাত্রজীবনে একজন গ্যাংস্টার বাইক রাইডার ছিল। যার স্বপ্ন জাপানের গ্রেটেস্ট টিচার হওয়ার। তবে তবে প্রথাগত ভাবে তার শিক্ষক হবার ইচ্ছা নেই, বরং প্রথার বাইরে থেকে Great Teacher Onizuka হবার স্বপ্ন তার। তবে সেই স্বপ্ন পুরনে শুরু থেকেই বাধার সম্মুখীন হতে থাকে । আর সেই সকল বাধাও সে তার বুদ্ধিমত্তার সাথে এক এক করে পার হতে থাকে আর সকলের কাছে ধীরে ধীরে Great Teacher Onizuka হিসেবে পরিচিত হতে থাকে।

Eikichi Onizuka কে নিয়ে বলতে গেলে শুরুতেই বলতে হয় সে একজন পারভার্ট যার টার্গেট শুধুমাত্র হাইস্কুলের সুন্দরী ছাত্রীদের পড়ানো। একজন ২২ বছর বয়সী ভার্জিন , মার্শাল আর্টিস্ট। সৎ, গ্রেট সেন্স অফ হিউমার, গ্রেট সেন্স অফ জাস্টিস এই গুনগুলো ভালভাবেই তার রপ্ত করা। তার ছাত্রছাত্রীরা কোন ধরনের সমস্যায় পড়লে সে সবার আগে এগিয়ে যায় , কখনও নিজের জীবন বাজি রেখে কখনও বা নিজের পেশা। ছাত্রছাত্রীদের বিপদের সময় কোন কিছুর পরোয়া করে না। এই ব্যাপারে বলতেই হয় সে তার সর্বোচ্চ ডেডিকেশন দেয়ার চেষ্টা করে। আর এটাই তার প্রধান শক্তিশালী পয়েন্ট। তাকে কখনও দেখা যায় তার স্টুডেন্টদের সাইকোলজিস্ট হিসেবে, কখনও বা বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে। কখনও হাতি কখনও বা ড্রাগন সেজে স্কুলে ঘুরে বেড়ায়। আবার ক্লাসের মাঝে সিগারেটের ধোয়া উড়াতে উড়াতে লেকচার দিতে দেখা ।

এই এনিমেটি ভাল লাগের আরেকটি GTO 4কারন পার্শ্ব চরিত্রগুলোর ডেভেলপমেন্ট। প্রতিটি ক্যারেক্টেরে ডেভেলপমেন্ট যথেষ্ট ভাল । প্রতিটি ক্যারেক্টারের আলাদা আলাদা বিশেষ গুণ আছে যা কিনা ভিউয়ারদের যথেষ্ট আকৃষ্ট করে। Yoshito Kikuchi , Urumi Kanzaki, Noboru Yoshikawa, Kunio Murai এদের কাউকেই কারও চাইতে কম বলা যায় না। সবার ইন্ডিভিজুয়ালি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এনিমএকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

আর এনিম দেখা শুরু করলে কখন শেষ হয়ে যায় তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন না । যদিও এনিম মাঙ্গার অর্ধেক কাভার করেছে , পুরো এডাপ্টেশন করেনি এটাই একমাত্র খারাপ লাগার কারন ।

MAL Rating : 8.8
Personal Rating : 9

হ্যাপি এনিম ওয়াচিং

জিগোকু শৌজো রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জিগোকু শৌজো / হেলগার্ল সিজন ১ দেখে শেষ করলাম। শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে, প্রায় আট নয়মাস হবে। শুরুর দিকে খুব ইন্টারেস্টিং লাগছিল, কারণ মানুষের মনের কদাকার রূপগুলোকে খুব বাস্তবসম্মত ভাবে তুলে আনা হয়েছিল, মনে কিছুটা চাপও পড়ছিল। কিন্তু ১০-১১ টা পর্যন্ত দেখার পর আবিষ্কার করলাম, জিনিষটা বেশ বোরিং হয়ে গেছে, কারণ প্রতি এপিসোডের কাহিনী একইরকম। ভয়াবহ রিপিটেশন দেখে বোর হয়ে তখন আপাতত বাদ দিয়েছিলাম, এতদিন পর অবশেষে বাকি এপিসোড গুলো দেখলাম। এবং দেখে স্বস্তি পেলাম যে, রিপিটেশন পুরোপুরি দূর না হলেও, শেষদিকে হাজিমে ও তার মেয়ে সুগুমির কাহিনী ইনক্লুড হওয়ার কারণে জিনিষটা অনেক ইন্টারেস্টিং ভাবে শেষ হয়েছে।

ভেবেছিলাম অল্প কথায় রিএকশন লিখে পোস্ট করব, এখন দেখছি বলার মত অনেক কথা মাথায় ঘুরছে। রিভিউ লিখেই ফেলি ছোট করে।

Enma.Ai.full.722587

পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, ততদিন অন্যায়, অত্যাচারও থাকবে। দুর্বলেরা নির্যাতিত হবে, তাদের অধিকার খর্ব করা হবে, আর সবলেরা অন্যায়ভাবে সুবিধা ভোগ করবে। ন্যায়বিচার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক দিবাস্বপ্ন; নির্যাতিতের মনে তাই জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। ক্লাসে আপনার পাশে বসা মেয়েটিই হয়ত আরেকটি মেয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামত তাকে দিয়ে অন্যায় করিয়ে নিচ্ছে, আপনি টেরও পাচ্ছেন না। অথবা পাশের বাড়ির যে মহিলাটিকে কিছুদিন আগে দুশ্চরিত্রা অপবাদ দেয়া হল, কেউ খোঁজ নিয়েও দেখল না যে বাস্তবে সে কত বড় ষড়যন্ত্রের শিকার। কিংবা হাসিমুখে আপনাকে সাহায্য করতে আসা প্রতিবেশীটি হয়ত মনে মনে আপনার ক্ষতি করার প্ল্যান নিয়ে এসেছে, আপনি যখন জানবেন, ততক্ষণে সব শেষ, কিচ্ছু করার নেই।

এইসব মানুষ কি তাহলে কোনদিন ন্যায়ের দেখা পাবে না? এভাবে অত্যাচারিত হয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে তাদের?

তাদের জন্য রয়েছে হেল লিঙ্ক। এমন একটি ওয়েবসাইট, যা শুধুমাত্র রাত ১২ টায় একসেস করা যায়, আর যা শুধু অত্যাচারিত মানুষই একসেস করতে পারে। আপনার সাথে যে অন্যায় করেছে তার নামটা লিখে দিন সেখানে, নরক কন্যা এনমা আই আপনার হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। কিন্তু সেজন্য মূল্য দিতে হবে আপনাকে। আপনার মৃত্যুর পর অনন্তকালের জন্য আপনার আত্মার ঠাঁই হবে নরকে।

অ্যানিমেটির যে দিকটা আমার ভাল লেগেছে, আপনার নৈতিকতা, বিবেকবোধ এবং মনুষত্ব্যের মাঝে একটা ছোটখাটো গৃহ যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে অ্যানিমেটি, যা হয়ত ডেথ নোট, কোড গিয়াসও করতে পারেনি। কিরকম? আপনাকে প্রথমে নির্যাতিতের কষ্টটা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হবে। নির্যাতিতের ক্ষোভ আপনি নিজে অনুভব করবেন। আর যখন ভাগ্যের সেই লাল সুতো টেনে খুলতে সে দ্বিধাবোধ করবে, আপনার নিজেরই ইচ্ছে হবে যে গিয়ে সুতোটা খুলে দিয়ে আসি।

কিন্তু যদি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা হয়, তাহলে ব্যাপার টা কি দাড়াতে পারে? এভাবে নিজের আত্মাকে অনন্তকালের জন্য বিসর্জন দিয়ে ক্ষণিকের মুক্তির জন্য প্রতিশোধ নেয়াটা কতখানি যৌক্তিক? প্রতিশোধের এই মরণচক্র তো তাহলে কোনদিন শেষ হবে না! রিপোর্টার হাজিমে ও তার মেয়েকে এনে অ্যানিমেটার কাহিনী আরও জটিল হয়েছে, কিন্তু সেইসাথে আরেকটা দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকের সামনে উঠে এসেছে, তাই কাহিনীটা আরও ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি অনেক সুন্দর। কাহিনীর পেসিং এ একটু সমস্যা আছে, এছাড়া ওভার অল এটি অবশ্যই সবার দেখার মত অ্যানিমে। শেষ দিকে জিগোকু শৌজোর লাইফ নিয়ে কিছু ঘটনা দেখানো হয়, এটা ভাল লেগেছে। সিজন টু দেখার জন্য আগ্রহ বেড়ে গেছে এখন।

jigoku_shoujo_sakura_kimono_girl_brunette_posture_29489_1920x1080

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon) [রিভিউ] — Fatiha Subah

Seishun Kouryakuhon

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon)
জানরাঃ শৌজো, স্লাইস অফ লাইফ
ভলিউমঃ ১
চ্যাপ্টারঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.০৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

শৌজো মাঙ্গাগুলোতে সাধারণত মেয়েরাই হয় প্রধান চরিত্র। মেয়েগুলোও আবার সব একই রকম ব্যক্তিত্বের। যে কারণে ঘুরেফিরে সবগুলো মাঙ্গাই একই রকম লাগে এবং অনেকেই, বিশেষ করে ছেলেরা পড়তে চায় না। তাই আপনাদের ছোট একটা শৌজো মাঙ্গার কথা জানাব যেটা শুধু ছেলেদেরকে নিয়েই। অনেকটা নিজীরো ডেইয ধাঁচের। নিজীরো ডেইযের তো ভালোই প্রশংসা শোনা যায়। তাই আশা করছি এটা পড়তেও আগ্রহী হবেন।

মাঙ্গাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ৪ জন বন্ধুকে নিয়ে। একেকটি চ্যাপ্টার এদের একেক জনকে নিয়ে বানানো। প্রথমে কাহিনী শুরু হয় যখন ইসেযাকি একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে পাশের মেয়েদের স্কুলের বিল্ডিংয়ের জানালায় একটা মেয়েকে পানি খেতে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি ইসেযাকিকে লক্ষ্য করে কঠোর দৃষ্টিতে তাকালে ইসেযাকি ভড়কে গিয়ে শুধু হাত নাড়ে। মেয়েটিও উত্তরে ইসেযাকির দিকে হাত নাড়ে। এরপর থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ইসেযাকি কাগজে লিখে লিখে মেয়েটির সাথে কথা বলে। নাগিসে, ইসেযাকি’র সিনিয়র মেয়েটি পড়ে মেয়েদের সাকুরানো হাই স্কুলে যেখানে মেয়েদের ছাত্রীনিবাসে থেকে পড়ালেখা করতে হয়। ইসেযাকি পড়ে ঠিক তার পাশের ছেলেদের কামিয়ামা প্রাইভেট হাই স্কুলে। কিন্তু এই দুই স্কুলের মাঝে বিশাল বড় দেয়াল তৈরি করে আলাদা করে রাখা। নাগিসের সঙ্গে ইসেযাকির দেখা করা সম্ভব না। এর উপর হঠাৎ করেই নাগিসের আর দেখা পাওয়া যায় না। সাকুরানোর আরেকটি নিয়ম হল সিনিয়ররা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ছাত্রীনিবাস ছেড়ে চলে যায় এবং স্কুলে আসে না। এটা আগে না জানা থাকায় ইসেযাকির মাথায় হাত! এখন সে কিভাবে তার ম্যাডোনার দেখা পাবে?! আর ১০টা ছেলে যেমন মরিয়া হয়ে উঠত ইসেযাকিরও ঠিক তাই হয়। সে বুদ্ধি করে আসছে গ্র্যাজুয়েশন সেরেমোনির সময় নাগিসে যখন প্রথম হেঁটে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরবে তখন ইসেযাকিও তার সঙ্গে হাঁটবে। কিন্তু ঠিক সেদিনই আবার তার পরীক্ষা পরে। পরীক্ষা দিয়ে বহু বাধা পেরিয়ে পৌঁছুতে পৌঁছুতে ততক্ষণে অনুষ্ঠানই শেষ হয়ে যাবে! ভাগ্য তার সহায় হয় না। তাই বলে ভালবাসার শক্তিকে অবমুল্যায়ন করা ঠিক না মোটেও! এই দুই স্কুলের মাঝে একমাত্র যোগসূত্র হল একটি কমন ইমার্জেন্সি হলওয়ে যেটা সবসময় বন্ধ রাখা। আরও আছে সাকুরানোর বিশাল গেট আর দেয়াল। এতকিছুর বাধা পেরোতে ইসেযাকি তার দুই বন্ধু নোগামি, উয়েমুরা আর ক্লাসমেট ইয়ুইয়ের সাহায্য চায়। কিন্তু কিভাবে কি করবে তারা…?

উত্তরটা আমি বলব না অবশ্যই। প্রথমে মনে হতে পারে এটার একটু বেশিই লুতুপুতু কাহিনী। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তেমন না। এরপরের চ্যাপ্টারগুলো কোনটা শুধু বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে আবার কোনটা আরেকটি প্রেমের গল্প নিয়ে। ইসেযাকি আর তার বন্ধুদের কান্ডকির্তী দেখে আমি হেসেছি পাগলের মত। পুরোটা পড়ার সময় শুধু একটা জিনিসই মাথায় ঘুরত। ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এরকম দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাগুলো দেখা যে এত মজার তা কখনো ভাবিইনি। আর প্রেম কাহিনী হলে তো কথাই নেই! মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চিন্তাভাবনাগুলোর সাথে অত পরিচিত না। তাই আপনি যদি মেয়ে হয়ে থাকেন এবং এসব জানতে আগ্রহী হন তাহলে বলব অবশ্যই অবশ্যই এটা পড়তে। ছেলেরা প্রেমে পড়লে কি করে তা একদম দেখার মত জিনিস! আর ছেলে হলে তো ছোটবেলায় করে আসা কোন অকাম-কুকামের সাথে মিল খুঁজে পেলেও পেতে পারেন! ইসেযাকির দলটার পাগলামি দেখে মাঝে মাঝে মনে হবে আপনিও তাদের সাথে কোন অ্যাডভেঞ্চারে বেড়িয়ে পরেছেন। কিসমাঙ্গাতে আক্ষরিক অর্থেই এটার জন্য অ্যাডভেঞ্চার ট্যাগ মারা আছে! এরকম মজার আর অ্যাডভেঞ্চারাস হলে শৌজো মাঙ্গার মত কাহিনী যে কেউই চাবে তার জীবনে।

মাঙ্গাটির আর্টও বেশ সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আমি মাঙ্গাটি প্রথম পড়তে গিয়েছিলাম শুয়ে থাকা অবস্থায়। তারপরেও মাঙ্গার কভার দেখে মনে হল আমি উল্টায় গেলাম! হতে পারে সেটা ফ্যানগার্ল ফিলিং। কিন্তু ছবিগুলো আসলেই খুব সুন্দর। আর হবে নাই বা কেন? এ যে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মাঙ্গাকার আঁকা! যারা আকা-শিরা পরেছেন তারা তো আকিযুকি সোরাতার আর্ট আর গল্পের ধরণের সাথে পরিচিত। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন আমি এত এই মাঙ্গার প্রশংসা করছি। বিশেষ করে আর্টের দিক থেকে তার আঁকাআকির ছাপ স্পষ্ট। ইসেযাকিকে দেখে পুরো ‘যেন উইস্তালিয়া’র মত লাগে। আবার উয়েমুরা দেখতে পুরোই ওবির মত। ইয়ুই আর নোগামির মাঝেও এই ভাবটা কিছুটা হলেও আছে।

বেশির ভাগ স্লাইস অফ লাইফ গল্প বুলিং, দুঃখ, কষ্ট, সংগ্রাম ইত্যাদির কথা বলে। আর শৌজোগুলো শুধু সুদর্শন ছেলে x একটু অন্যরকম মেয়ের গল্প বলতে ব্যস্ত। সেখানে সেইশুন কৌরয়াকুহন কিশোর বয়সের ছেলেদের ছোট ছোট ঘটনার মাঝে খুঁজে পাওয়া উন্মাদনার চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এটার থিমটা যদি মনে ধরে কিংবা আপনি যদি নিজীরো ডেইয, কিমি তো বকু’র ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এই মাঙ্গাটি পড়তে ভুলবেন না।

“Yowamushi Pedal : হে দুর্বল প্যাডাল ঘুরা” — Siam Maksud

ভূমিকা: কবি বলেছেন
‘ইচ্ছে করে লিখি একটা গান”
আমার ইচ্ছা করছে রিভিউ লেখতে। কাজেই লিখে ফেললাম। given below-
বিষয়বস্তু: একখানা স্পোর্টস এনিমে। নাম তাহার Yowamushi Pedal”
সিজন: 2 খানা।
খেলার নাম : রোড রেস( সাইকেল দিয়া যে আগে দাগ পার হইবে সে ভাব নিয়া জিতিতে পারিবে)

সাইকেল কি: ইহার বাংলা নাম দ্বিচক্রযান। দুই চাক্কার রিকশা। পেডেল ঘুড়াইয়া চালাইতে হয়।শিখিতে বহুত কসরত করিতে হইবে।মানুষ সাধারনত নিজে চালায় কেউবা আবার ড্রাইভার রাখিয়া পেছনে বসে। সুবিধা- তেলের খরচ নাই।

এনিমের প্লট : অনেক অনেক দিন আগের কথা( 2014 maybe). ওনাদা সাকামিচি নামের এক বিশিষ্ট ওতাকু বালক জাপানে বসবাস করত। তার কোনো বন্ধু ছিল না কারন সে এনিমে ভালবাসত আর মিডল স্কুলের পোলাপান এনিমে দেখত না। বহু কষ্টে মিডল স্কুল পাশ করিয়া সে সোউহোকু হাই স্কুলে ভর্তি হইয়াছে। প্রথমদিনে সে অতি খুশি মনে স্কুলে গেল। মনে বড় আশা সে এনিমে ক্লাবে জয়েন করিবে। এনিমে নিয়া গল্পগুজব করিবে( এনিমখোরের মেম্বার হইলে এই কষ্ট করতে হতো না) । কিন্তু হায় ‘ অভাগা যেদিকে চায়, বুড়িগঙ্গা ট্যানারি বর্জ্যে দূষিত হয়ে যায়।’ কাজেই হতভাগা ওনাদা এনিমে ক্লাবের সামনে গিয়া দেখিল এনিমে ক্লাব লোকস্বল্পতায় ভুগিয়া দেউলিয়া হইয়া গিয়াছে। হতাশ ওনাদার সাথে তখনই দেখা হইল নায়িকা( যার প্রেমিক বাইসাইকেল) মিকির। ওনাদা সাহেবের একখানা ব্যাক স্টোরি আছে। সে বাসের পয়সা বাচাইয়া প্রতি সপ্তাহে তাহার mommy bike নিয়া 45 km দূরের আকিহাবারায় যাতায়াত করিত আর পয়সা দিয়া তৈজসপত্র কেনাকাটা করিত( আক্ষরিকভাবেই ওতাকু) । কাজেই নিজের অজান্তেই দ্বিচক্রযানে অভিজ্ঞ হইয়া গিয়াছিল।ইহা সহ্য হয় না সিরিয়াস রেসার ইমাইজুমির ( ওরফে হটশট) । ওনাদার হাসিখুশি স্পিডিং তার অহমে আঘাত দেয়। সে তাকে রেসে আহবান করে। টিলার ঢালের রেস বাইসাইকেল ক্লাবের কর্তাব্যাক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। যাইহোক, ঘটনাবহুল রেসের পর ওনাদা বাইসাইকেল ক্লাবে যোগদিতে আগ্রহী হয়( সব বলনা কারন স্পয়লার খেতে পারেন।[মূল কথা টাইপ করা কষ্টকর কাজ।])তারপর দিন যায় রাত যায় ওনাদা এগিয়ে চলে। সৌহোকু এগিয়ে চলে। ইমাইজুমিরা এগিয়ে চলে……… তারপর আসে ইন্টার হাই চ্যাম্পিয়নশিপ…..
এই হইল মূল প্লট।

কেন দেখবেন:
আমার বর্ননা শুনে যতটা ক্লিশে হবে বা খ্যাত হবে ভাবছেন আসলে এনিমেটা ততটাই বেশি ইন্টারেস্টিং। লেখকের দোষে এনিমেটিকে বঞ্চিত করবেন না। একের পর এক টুইস্ট কাহিনীর মোড় ঘুরায়। আর আছে প্রতি এপিসোডের শেষের দিকের কয়েক মিনিটের হাস্যরস যা যথেষ্ট উপভোগ্য। বিপক্ষ দলের প্রতিটি রাইডারো অসাধারণ। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল এনিমেতে প্রতিটা চরিত্রের ব্যাক স্টোরি দেখানো হয়েছে। এমনকি মহাভিলেন মিদৌসুজি আকিরার ব্যাক স্টোরিটি চোখে পানি এনে দেবার মত। কাজেই রেসে কার পক্ষে থাকবেন এই
সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কষ্টকর হবে। থ্রিল, উপভোগ্য কাহিনী, মানানসই মিউজিক , অসাধারণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সব মিলিয়ে এক টানে দেখে ফেলার মতYowamushi Pedal

 

মাঙ্গা রিভিউ: Kouishou Rajio, Fuan No Tane এবং Fuan No Tane plus — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

3

আমাদের প্রত্যেকের ছোটবেলার একটা চেনা চিত্র, চিত্রটা হল আম্মু বা বড়বোনের কাছে ভূতের গল্প শোনার আবদার করা এবং তাদের শত ওয়ার্নিং দেওয়া সত্ত্বেও ভূতের গল্প শোনা এবং সবশেষে গুটিশুটি মেরে অতি গরমেও চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়া। ভূতের গল্প না পড়লে রাতে ঘুম আসতেই চাইতো না এবং পড়ার পর ঘুম যে বেশ আরামের হত তা বলা যায় না। ভৌতিক গল্প বিশ্বের প্রতিটি লোকগাথার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের বাংলাদেশেও কম ভূত থুক্কু ভৌতিক সাহিত্য বা লোকগাথার অভাব নেই। নিশি ডাকা, জ্বীন, কল্লা কাটা, ভুলা ভুত, বোবায় ধরা গল্প প্রচুর চালু রয়েছে এবং এগুলো অনেকে এখোনো বিশ্বাস করে। এসব ভৌতিক অভিঙ্গতা গুলো শুনলেই গা ছমছম করে তো ইলাস্ট্রেটেড দেখলে কি হবে ভাবুন। ধরুন রাত একটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল, হঠাত্‍ চোখ গেল জানালায়, একটি সুন্দরী মেয়ে আপনার জানালায় নক করছে কিন্তু আপনি থাকেন বিল্ডিংয়ের পাঁচ তালায়। তো এরকম ছোট ছোট লোকগাথা নিয়েই মাঙ্গাকা নাকাইয়ামি মাসাকির তিনখানা অসাধারন মাঙ্গা।

1
এ মাঙ্গাগুলোর বৈশিষ্ট্য হল এগুলোর সুনির্দিষ্ট কোন কাহিনী নেই, আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া আধিভৌতিক ঘটনা, কোন এলাকায় প্রচলিত ভৌতিক কাহিনী অথবা বিভিন্ন লোকের জীবনে ঘটে যাওয়া ভৌতিক ঘটনাগুলোই এ মাঙ্গাতে তিনি একে দেখিয়েছে। প্রত্যেকটা চ্যাপ্টারের সাইজ বহুত ছোট। মিনি গল্পের মতো মিনি মাঙ্গা। কোন কোনটার তো কাহিনী এক পৃষ্ঠাতেও শেষ। কিন্তু তা বলে এর মজা কিন্তু কমেনি। মাঙ্গাগুলোর কাহিনী জাপানের লৌকিক ভৌতিক গল্পের উপর বেস করে।
এই মাঙ্গার আর্ট খুবই ভালো এবং এর কভারগুলোও সেই ইন্টারেস্টিং। আর এ মাঙ্গাগুলো ভরদুপুরে অলস সময়ে পড়লে হবে না কিন্তু!! রাতে বেশ একটা ভালো রকমের হরর মুভি দেখে বেশ করে ঘুমটা চটকাবেন, এরপর সবাই ঘুমিয়ে গেলে, চারিদিক সুনসান। আপনার রুম অন্দ্ধকার, ঘড়িতে বিরক্তিকর টিক টিক শব্দ এবং আপনি পড়ছেন ফুয়ান নো তানে, তাহলেই এ মাঙ্গার ভাইব ভালো ভাবে পাওয়া যাবে!! বলা যায় না, রাতে হঠাত্‍ ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলে দেখলেন যে আপনার মুখের উপর একজোড়া নিষ্প্রাণ চোখ মেলে রয়েছে। তাহলে পড়ুন এবং ভয় পান।

রেটিং: ৩টাই ৭করে পাবে।

2
শেষটা বিশ্বের ছোট হররগল্প দিয়েই করি, গল্পটি স্টিফেন কিংয়ের।” বিশ্বের শেষ জীবিত মানব ঘরে বসে আছে, এমন সময় তার দরজায় কেউ নক করলো ,, ।

4

আন্নারাসুমানারা- স্বপ্নভঙ্গ, প্রত্যাশা ও বড় হওয়ার গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, বড় হওয়ার মানে আসলে কি? শরীরটা আকারে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে মানুষের মনটায় কি এমন পরিবর্তন আসে, যার কারণে একসময় তার কাছে যা খুব আকর্ষণীয় ও আরাধ্য মনে হত, তা হঠাৎ করে যুক্তিহীন ও হাস্যকর লাগতে থাকে? প্রাপ্তবয়স্ক হলেই কেন মানুষকে স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিতে হয়? নাকি স্বপ্ন দেখা ছাড়তে তাকে বাধ্য করা হয়! স্বপ্ন দেখলে যে সমাজ তোমাকে পাগল বলবে! তোমার দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বলবে, দেখ, সে এখনও বড় হতে পারল না! সে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হতে ব্যর্থ। কারণ সে সমাজের ঠিক করে দেয়া নিয়ম মেনে বড় হয়ে ওঠেনি। সে সাহস করেছিল তার জন্য সাজিয়ে রাখা চকচকে পথ ছেড়ে নেমে নতুন করে পৃথিবীটাকে দেখার।

ইউন আই মেয়েটিকে এই সত্যের মুখোমুখি হতে হয় খুব অল্পবয়সে। ঋণের বোঝায় জর্জরিত বাবাকে ছেড়ে চলে যায় তার মা, আর পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ায় তার বাবা। নিরুপায় আই তার এবং তার ছোটবোনের জীবন চালানোর জন্য তাই অমানুষিক পরিশ্রম করে। নিজে না খেয়ে থাকে, যেন ছোটবোন স্কুলে টিফিন নিয়ে যেতে পারে। স্কুল শেষ হওয়ার পর অনেক রাত পর্যন্ত একের পর এক পার্টটাইম জব করে, যেন বাড়িভাড়াটা সময়মত দিতে পারে। এতকিছুর সাথে সে কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা করে নিজের গ্রেডটাও ঠিক রাখে, কারণ আই জানে, গ্রেড ভাল রাখলে একসময় হয়ত সে একটা ভাল চাকরি করে এই অভাবী জীবনটাকে পরিবর্তন করতে পারবে। ছোট্ট বয়সে বড় হয়ে ওঠা এই মেয়েটি জানে, তার কাছে যা বিলাসিতা, অন্যদের কাছে তা স্বাভাবিক জীবনের অংশ। আর সেই স্বাভাবিক জীবন পাওয়ার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আই সে সবই করবে।

profile_picture_by_no_hurry_to_shout-d6y3rlz

আই এর ক্লাসমেট ইল দং। সবকিছু আছে তার। ধনী পিতামাতা, বিলাসবহুল জীবন, স্কুলে ভাল গ্রেড – সবকিছু। আই এর আরাধ্য জীবন জন্মগত ভাবে পাওয়া ইল দং কখনো জীবনে না শব্দটি শোনেনি। এতকিছু থাকার পরেও কোন না কোন দিক দিয়ে ইল দং ও খুশি নয়। কারণ তার উপরে রয়েছে সীমাহীন প্রত্যাশার পাহাড়। ক্লাসে সবসময় ফার্স্ট হতে হবে, দেশের সেরা ল’ স্কুলে ভর্তি হতে হবে, বাবা-মায়ের মুখ সমাজের সামনে রক্ষা করতে হবে; এর অন্যথা হলে যে সে পরিণত মানুষ হতে ব্যর্থ হবে!

সমাজের সেট করে দেয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেদেরকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করা এই মানুষদের ভীড়েও রয়েছে কিছু অলস মস্তিস্কের স্বপ্নবাজ মানুষ। এরা এখনো স্বপ্ন দেখা ভোলেনি। এদের চোখে পৃথিবীটা এখনো রঙিন এক আনন্দময় ভুবন। সমাজ তাদের আখ্যায়িত করে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হিসেবে; তাতে তাদের থোড়াই কিছু আসে যায়! এমনই একজন মানুষ হল শহরের পরিত্যক্ত থিম পার্কে এক পুরনো তাবুতে বাস করা “ম্যাজিশিয়ান”। প্রতিটি মানুষের পরিত্যক্ত স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করা সত্যিকারের জাদু জানা এই ম্যাজিশিয়ান প্রথম দেখাতেই আইকে প্রশ্ন করে, “Do you believe in magic?”

tumblr_ngp0pu5g9Y1s2jureo1_1280

মানহোয়াটি পড়ার আগে এটির বেশ কিছু রিভিউ পড়েছিলাম, সেগুলো পড়ে আমার ধারণা হয়েছিল যে গরীব এবং খুব সিরিয়াস টাইপের একটি মেয়ে ও লেইড ব্যাক জাদুকরকে নিয়ে কাহিনী হবে, মাঝে থার্ড পার্টি হিসেবে বড়লোকের ছেলের উপস্থিতি থাকবে। আমি যে আসলে কতটা ভুল ধারণা করেছিলাম, সেটা কয়েক চ্যাপ্টার পড়েই বুঝতে পারি। শুরুর দিকে মজা লাগছিল, ইউন আই এর জীবনটা অনুভব করছিলাম, আর জাদুকরের প্রশ্নে আই এর মত আমারও মনে হচ্ছিল, জাদুবিদ্যা হল একধরণের ভ্রম। কিন্তু মানহোয়াটি যত এগিয়ে যেতে থাকে, কাহিনীটা যেন আরও গভীর হতে থাকে। প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা কাহিনী গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। কে জানত, এতদিন পরে একটা মানহোয়া পড়ে এভাবে নিজের সাথে মিল খুঁজে পেয়ে কাঁদব! ইল দং ও ম্যাজিশিয়ান এর পরিপূর্ণ রূপটা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম ও অনুভব করতে পারলাম। আর তাই শেষ দিকে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছিল, “I do believe in magic!”

মানহোয়াটি সম্পূর্ণ রঙিন, আর্টওয়ার্ক খুবই সুন্দর। পৃষ্ঠাগুলোতে রঙের কারুকাজের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। মানহোয়াটির আর্ট দেখে বারবার শ্যাফটের কথা মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, যদিও ইল দং ও তার বাবা-মাকে দেখে শুরুতে প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছিল!! কাহিনীর পেসিং খুবই ভাল, একটার পর একটা পৃষ্ঠা উলটে গেছি বিরতিহীন ভাবে, একটুও ক্লান্ত বা বোরড না হয়ে। কাহিনী, এই আর্ট আর পেসিং এর পারফেক্ট কম্বিনেশন এই মানহোয়াটি; দেখে মনে হচ্ছিল কাহিনীটা যেন জীবিত হয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত একইরকম ভাবে মুগ্ধ করেছে এটি আমাকে।

সবমিলিয়ে মাত্র ২৭ চ্যাপ্টারের মাস্টারপিস লেভেলের এই মানহোয়াটি আমার খুব বেশি ভাল লেগেছে, তাই আমি রিকমেন্ড করছি, হাতে সময় নিয়ে টানা ২৭ টা চ্যাপ্টার শেষ করে ফেলুন, খুব ভাল সময় কাটবে আশা করি।

045

Gingitsune [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Gingitsune 3

Gingitsune

জনরা – স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচুরাল

একটি পার্ফেক্ট রিফ্রেশিং আনিমে কাকে বলে, তার এক অন্যতম উদাহরণ গিঙ্গিৎসুনে । আনিমেটির কাহিনী মূলত একটি জিন্জা এবং তার আশে পাশের মানুষদের ঘিরে । আনিমের মূল চরিত্র প্রধানত মাকোতো, সাতোরু এবং গিনতারো তবে আনিমের কাহিনীটি প্রচলনে তাদের সমান ভূমিকা আনিমেটির বাকি সব পার্শ চরিত্রেরও । কেননা, কাহিনীতে মূলত এই ৩ জনের চারপাশের মানুষ সাধারণ জীবন যাপনই তুলে ধরেছে মূলত । এছাড়া ইনারি জিন্জা কাহিনীর মুল ফোকাস হলেও মাকোতোর স্কুল এবং শহরেও গরে উঠে কাহিনীর এক গুরুত্বপূর্ন অংশ । এছাড়া প্রায় সবগুলো পর্বের এক গুরুত্বপূর্ন অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে কোন না কোন চরিত্রের আগের কাহিনী । শেষে যা বলব, আনিমেটার কাহিনী কোন এক নির্ধারিত পথ নেই । পেসিং ধীর গতির তবে প্রতি পর্বে অপনার মনে শান্তি দিতে ব্যর্থ হবে না । আর এই চরিত্রগুলোর দিনকালের মাঝেই রয়েছে অতি প্রাকৃতিক এলিমেন্ট, কেননা জিন্জার মেসেন্জারগুলো সেই কাতারেই পরে এবং তারা সিরিজটির এক গুরুত্বপূর্ন অংশ ।

আনিমের আর্টটা বেশ সুন্দর । আনিমেটার আর্ট এবং চরিত্রের ডিজাইন যে কারো পছন্দ হবে । চারপাশের পরিবেশ বেশ উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এই আনিমের ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে তাকায় থাকলেও বেশ শান্তি পাবেন ।

Gingitsune 2

আর্টের সাথে আনিমের মিউজিকও আনিমের থিমের সাথে বেশ ভালোভাবে মানিয়েছে । আনিমের OST-এর মিউজিকগুলো অসম্ভব পর্যায়ের সূথিং । সাথে ওপেনিং-এন্ডিং দুটি গানই অনেক সুন্দর এবং আনিমের সাথে মানানসই । ওপেনিং গানটি ছিল fhana ব্যন্ডটির গাওয়া tiny lamp নামক গানটি । এর ইন্সট্রুমেন্টের কাজের সাথে towana-এর কণ্ঠ সাথে গানটির অর্থ, অন্য এক পর্যায়ের অসাধারণত্ব । এন্ডিংটা ছিল SCREEN mode-এর গাওয়া Gekkou STORY গানটি, একটি বেশ সুন্দর সফ্ট গান ।

আনিমেটির কাস্ট আমার দেখা অন্যতম সেরা কাস্টগুলার একটি । কানেমোতো হিসাকো যেইসব আনিমেতে মূল চরিত্রগুলোর কণ্ঠ দেয়, এই পর্যন্ত যা দেখসি সবগুলোরই কাহিনী এক্সেপশোনালি ভালো ছিল । গিঙ্গিৎসুনেও তার ব্যতিক্রম নয় এছাড়া মাকোতো রোলটি ছিল এনের্জেটিক ধাঁচের চরিত্রগুলোর একটি, এবং এই রোলটি বরাবরের মতই সে অসম্ভব সুন্দর করে করেছেন । সাতোরুর কণ্ঠ অভিনেতা ছিল কেনশো ওনো, বরাবরের মত ঠাণ্ডা মেজাজের চরিত্র সে বরাবরই অসাধারণ ভাবে তুলে ধরতে পারেন ( যেমনটা কুরোকো ), সাতোরুও তার ব্যতিক্রম নয় । গিনতারোর কণ্ঠে ছিল মিকি শিনিচিরো, বরাবরই ব্যডঅ্যাস চরিত্র করেন তিনি । গিনতারো চরিত্রটা ঠিক ঔ ধাঁচের না হলেও, লেইড ব্যক ব্যাডঅ্যাস টাইপ চরিত্র । সাথে সাইড ক্যরেক্টারগুলোর সেইয়ূরাও বেশ অসাধারণ ছিল এবং এর মাঝে ছিল আমার সেইয়ূগুলোর অনেকেই । কোশিমিজু আমি, ফুজিমুরা আয়ুমি, সেকি তোমোকাযু, হিরোইউকি ইয়োশিনো, সুগিতা তোমোকাযু, ওনো ইয়ূকি, তানাকা আৎসুকো, ওকুবো রুমি, আকাসাকি চিনাৎসু, কৌয়াই কোতোরি, নোজিমা হিরোফুমি এদের কথাই বলছি । ফুজিমুরা আয়ুমির হারু রোলটা দেখলে আপনার নিশ্চিৎ তেগামি বাচির নিচ্চির কথা মনে পরবে, দুজন প্রায় একই ধাঁচের চরিত্র সাথে একই সেইয়ূ । ফুনাবাশি হিওয়াকো এবং ইকেগামি ইয়ুমির রোলে কোশিমিজু আমি এবং আকাসাকি চিনাৎসুর কাজও বেশ ভালো ছিল । যদিও আকাসাকি চিনাৎসুর খুব বেশ একটা রোল শোনা হয় নাই, তেমন ভালোভাবে দেখেছি চুনিবিয়োর মোরি সামার এবং একটা ইতালিয়ান জাহাজ এই আর কি । কিনুকাওয়া তাইস্কে এবং কিরিশিমা সেইশিরৌ এই দুটি ওনো ইয়ুকি এবং সুগিতা তোমোকাযুর সাধারণ ধাঁচের রোলগুলোর কাতারেই ছিল । এছাড়া আমামোকো শৌহেই, কিনজিরো, তোয়োকুরা এৎসুকো, আমামোতো ফুজিনো, ফুকু এই চরিত্রগুলো বেশ কম সময় স্ক্রিনটাইম পেলেও এদের কণ্ঠে যারা ছিল সবই দক্ষ কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী ।

শেষমেশ, যদি কোন রিফ্রেশিং আনিমে খুজতে থাকেন তবে দেরী না করে ধরে ফেলুন ১২ পর্বের এই আনিমেটি ।

Gingitsune 1