অনন্য মাঙ্গা আসর – ৪ (Hideout)

নভেম্বর ৩০,২০১০……

কোন এক পাহাড়ের রাস্তায় এক দম্পতির গাড়ির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়।এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মেকানিক্যাল পাওয়া রীতিমত অসম্ভব।উপায় না দেখে গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ে রাত কাটানোর জায়গা অনুসন্ধান করছে তারা।তারপর হাটতে হাটতে কথার ফাকে তাদের স্মরণে আসে পাহাড়ের এই অংশ নিয়ে জনশ্রুতি আছে – “পর্যটকরা এ জায়গায় প্রায়শই হারিয়ে যায় এবং আর ফিরে আসে না।“ তো ২০১০ সালে এসব আজগুবি গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।হাটতে হাটতে একটি পুরোনো গাড়ি চোখে পরে তাদের।এ আমলের নয় তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।২৫-৩০ বৎসর আগের মদেল।গাড়ির পাশেই একটা ছেড়াবেড়া পুরনো নোটবুক।নোটবুকে লেখা ছিল—
“I wonder How much time has passed since the story started… 2 years? maybe 3? But Even with that,I still have trouble remembering…..
My name is Kirishima Seiichi.I am a writer in Profession,and for me,This Book will no doubt be my Last. My Only wish is to tell everything in this manuscript…. Before it is too late. I pray that someday,it will find itself in the hands of someone.
…………..
…………..
…………..
Hey You,The reader of this Book… If you happen to find the entrance to the cave,Don’t hesitate to come in.”
আর তারপরই তারা সামনে একটা অন্ধকার গুহা দেখতে পেল……

Hideout 1

 

স্বাগতম “অনন্য মাঙ্গা আসর” এ।আজকে যে মাঙ্গা নিয়ে কথা বলব তার জনরা কি? উপরের লেখাটুকু পড়েও বুঝতে পারছেন না? হরর,হুম ঠিক শুনলেন হরর।উপরের লেখাটুকু Masaumi Kakizake’রHideout মাঙ্গা থেকে। একটা প্রশ্ন – উপরের অংশটা মাঙ্গার প্রথম না শেষ অংশ?? রিভিউর শেষভাগে উত্তর জানিয়ে দেওয়া হবে…
কিরিশিমা সেইচি – একজন লেখক।স্ত্রী মিকি আর ছেলে জুন কে নিয়ে তার পরিবার।কিন্তু আচমকা বিপদাপন্ন হয়ে পরে সে,তার লেখা আর পছন্দই হচ্ছে না প্রোডাকশন হাউজগুলোর।এদিকে পরিবারের কাছ থেকে সে এ কথা গোপন করে যায়।কিন্ত একদিন সব ওলটপালট হয়ে যায়,বড় একটা ধাক্কা খায় সেইচির পরিবার যার দোষটুকু সেইচির ঘারে চাপিয়ে দেওয়া হয় যদিও তা ছিল একটি দুর্ঘটনা।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য এক দ্বীপ ভ্রমণে যায় সেইচি আর মিকি।পাহাড়ে গাড়ি চালাতে চালাতে এক জায়গায় এসে গাড়িটির ফুয়েল শেষ হয়ে যায়।আর তারপরই গল্প মোড় নেয় এক অন্য দিকে……… যা পাঠককে শোয়া থেকে বসানোর জন্য বা চেয়ার থেকে মনিটরের দূরত্ব কমানোর জন্য যথেষ্ট।

আঁকার কথা বলাটা আমার সাজে না – কারন আমার আঁকা খুব বেশি সুন্দর আর কি। :3
তাও বলি,আমার দেখা সেরা আর্ট এর মধ্যে একটা।বলে রাখা ভালো,সেইচি আর জুনের পাহাড়ে ভ্রমণের সময় বৃষ্টিপাত হচ্ছিল।আর সেই বৃষ্টিপাতের দৃশ্য এত ভালোভাবে আঁকা হয়েছে যে মনে হচ্ছিল যেন আমার কম্পিউটারে বৃষ্টি হচ্ছে।তবে চরিত্রগুলোর আঁকাও ভালো লেগেছে।আর রক্ত ও অন্যান্য Horror Material গুলো এত সুন্দরভাবে অঙ্কিত হয়েছে যে জীবন্ত আঁকা উপাধি দেওয়া যায়…

হরর মাঙ্গা হলেও বেশি ভয় পাওয়ার মত কিছু নেই… অর্থাৎ পড়ার পর আপনি ভয়ে রাতে ঘুমোতে পারবেন না তেমনটি হওয়ার কোন কারণ নেই।
আর মাত্র ৯ চাপ্টারে এত সুন্দরভাবে গল্পটা গুছিয়ে আনা হয়েছে যে পড়ার পর মনে হবে –“না,টাইম ওয়েস্ট হয়নি,ভালো কিছুই পড়লাম।“

এন্ডিং সংক্রান্ত—-
আমার মনে হয়েছে এই মাঙ্গার কোন এন্ডিং নেই।কারণটা মাঙ্গাটা পড়লেই বোঝার কথা।আর এরকম অসম্পূর্ণ প্রছন্ন এন্ডিং এর জন্যই এর জনরা ট্যাগে “হরর” শব্দটি সার্থকতা পেয়েছে।
উপরের অংশটা মাঙ্গার শেষভাগ ও প্রথমভাগের সংমিশ্রণ।সেগমেন্ট সম্পর্কে মতামত একান্তভাবে কাম্য…

মাঙ্গাঃ Hideout
মাঙ্গাকাঃ Masaumi Kakizake
চাপ্টারঃ ৯
জনরাঃ হরর,সেইনেন,সাইকোলজিক্যাল,একশন
রেটিং(ব্যক্তিগত): ৭.৭

মাঙ্গা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন…

আইরিস জেরো (Iris Zero) [মাঙ্গা রিভিউ] — Zuhayer Anjun Dhruba

Iris Zero

২৭ বছর আগে, পৃথিবীতে কিছু শিশুরা বিশেষ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্মগ্রহন করে, যাকে বলে আইরিস (IRIS)। সবার আইরিসের যোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন। কারও আইরিস মানুষের মধ্যে ত্রুটি দেখতে পারে, তো আরেকজনেরটা মানুষের মধ্যে যোগ্যতা দেখতে পারে।

কাহিনী শুরু হয় Toru Mizushima কে নিয়ে, যার নীতি হলো Low Exposure; অর্থাৎ সবার নজরের আড়ালে থাকা, কারণ তার কোন আইরিস নেই। এই নিয়ে কাহিনী। আইরিস এর যোগ্যতা সম্পন্ন দেশে যাদের আইরিস নেই তাদের কেউ পছন্দ করে না। কিন্তু তার Low Exposure এর জীবনে বাঁধা আসে যখন স্কুলের আইডল সবার প্রিয় Koyuki Sasamori তাকে পুরো ক্লাসের সামনে কনফেস করে।

কোয়্যুকির আইরিসের ক্ষমতা হল কোনো কাজের জন্য সঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করা। সে সবার মাথার উপর ‘X’ আর ‘O’ চিহ্নটি দেখে বুঝতে পারে কোন একটা কাজের জন্য মানুষটি সঠিক কিনা। কোয়্যুকি আইরিস ব্যবহার করে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের জন্য যোগ্য প্রেসিডেন্ট খোঁজার ব্যাপারে তোরুর কাছে সাহায্য চায়। আর তোরু প্রথমে সাহায্য করতে রাজি না হলেও, পরে বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। কিভাবে করে, তা মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে। এভাবে তোরুর বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা দেখে আরো মজা পাওয়া যাবে।

পরে মাঙ্গায় দেখা হয় আরো কিছু নতুন চরিত্রের সাথে, যেমন, Asahi Yuki এবং Hijiri Shinozuka; যারা তোরুর ছোটবেলার ফ্রেন্ড, সেইসাথে Nanase Kuga এবং আরও অনেকের সাথে। সবার আইরিস তাদের চরিত্রকে আরো ইউনিক করে তোলে।

মাঙ্গাটির আর্ট অনেক সুন্দর। কোয়্যুকির মোয়ে মোয়ে স্বভাব। আর তোরুর বন্ধুদের অতীতের কাহিনী সবই ভাল। মাঝে তোরুকে নিয়ে মজার কিছু মুহূর্তও রয়েছে। আর একটা মজার বিষয় হলো এই মাঙ্গাটি পড়ে Hyouka-র Orekiর কথা মনে পড়বে। (⊙.⊙(☉̃ₒ☉)⊙.⊙)

মাঙ্গাকার হঠাৎ অসুস্থতার কারণে এখনো মাঙ্গাটির সম্পূর্ণ হয়নি। তারপরেও অবশ্যই সময় করে এই মাঙ্গাটা পড়ে ফেলবেন।

Status: Publishing
MyAnimeList Score: 8.13
My Score: 8
Genre: Mystery, Drama, Fantasy, Romance, School, Supernatural, Psychological, Seinen

Hanayamata [রিভিউ] — Santo Kun

Hanayamata 1

Anime name: HANAYAMATA

MAL Information:
Type: TV
Episodes: 12
Status: Finished Airing
Genres: Comedy, School, Seinen, Slice of Life
MAL Statistics:
Score: 7.45
Ranked: #1698
Popularity: #993
Personal score: 8.00 (অবশ্যই MAL থেকে একটু বেশি দেওয়া লাগে কারন আমার ফেভারেট। তেহে!! )

স্পেশাল এমন কি আছে আমাদের প্রধান চরিত্র নারু সেরকিয়ার মধ্যে? সবইতো সাধারণ, না আছে অন্যান্য এনিমে ক্যারেক্টারের মত সুন্দর চেহারা, না আছে ট্যালেন্ট।

Hanayamata 2

“Petals fluttering, the cherry blossoms are in full bloom. The encounter I had on that moonlit night changed my life”

এনিমের শুরুটা এইভাবেই। নারু সেকিয়া ১৪ বছর বয়সী একজন সাধারণ মেয়ে। তার জীবনটাও অনেক সাধারণ। প্রত্যেকদিন একই রকম কোন নতুনত্ব নেই। সবারই একটা লক্ষ থাকে কিন্তু নারুর বেলায় তা ভিন্ন। কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও প্রথম স্টেপটা নিতেই ভয় পায় সে। খুবই লাজুক ধর্মী। যেখানে তার বান্ধবীরা তাদের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছে সেখানে নারু শুধু পিছনে থেকে তাদের প্রশংসা করে যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে তার মধ্যে।

“I was hoping something would change once I started middle school, but….”

Hanayamata 3

এই কিন্তুটাই ঘটে এক জ্যোৎস্না রাতে এক পরীর সাথে দেখা পেয়ে। পরী তাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে,তার সব ইচ্ছা পূরণ করবে। এসবই নারুর চিন্তা ভাবনা কারন ছোট বেলা থেকে ফেইরি টেইল পছন্দ ও বিশ্বাস করে। নিজের চিন্তার সাথে খাপ খায়িয়ে পরীকে বলতে থাকে তাকে অন্য জগতে নিয়ে যেতে। সেখানে কিছু ঘটনা ঘটে। এবং নারু শেষে সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসে।

সেই লম্বা হলদে চুল, টানা টানা চোখ , সুন্দরী পরীর মত দেখতে মেয়েটা হল “হানা”। পরের দিনেই স্কুলে তাদের দেখা হয়। হানা আমেরিকা থেকে এসেছে, ছোট বেলায় জাপানে থাকা অবস্থায় ইয়াসাকই নাচ দেখে মুগ্ধ হয়। সেখান থেকেই ইয়াসাকই নাচের লক্ষ ঠিক করে । এবং সেই জ্যোৎস্না রাতে সে ইয়াসাকই নাচই করছিল , ভাগ্য ক্রমে নারুর সাথে তার দেখা… নারুকেও নাচের জন্য আমন্ত্রন জানায় সে কিন্তু নারু সেখান থেকে পালিয়ে আসে এই ভেবে সে কোন কিছুই করতে পারে না। হানা নারুর কথা শুনে কিছু বুজেনি কিন্তু তাকে প্রমিস করে বসে সে তার জন্য ফিরে আসবে। তাই পরের দিনই নারুকে আবার আমন্ত্রন জানায় ইয়াসাকই নাচের জন্য।

Hanayamata 4

এছাড়া অনেক ইন্টারেস্টিং চরিত্রের সাথে পরিচয় হবে এনিমেতে। এনিমেতে দেখার বিষয় হল নারুর ক্যারেক্টার ডেভ্লপমেন্ট , ভিসুয়াল, ওএসটি, ওপেনিং এবং এন্ডিং । তাছাড়া এনিমেরে কাহিনীটা অনেক বাস্তবধর্মী । অনেক সুন্দর করে প্রতিটি ইমসন এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রত্যেকটি সিচুয়েসনে ওএসটি গুলো পারফেক্ট আর ওপেনিংটা অনেক জোস। আপনাদের পার্সনাল ফেভারিট হয়ে যেতে পারে। ওভার অল অনেক ভাল একটা এনিমে ।এনিমেটা দেখা শেষে মনে একপ্রকার শান্তি অনুভব করেছিলাম। এই ফিলিংস গুলো Slice Of Life এনিমে থেকে ভাল পাওয়া যায়।

ও আরেকটা কথা এনিমের নামটা আমার কাছে অনেক কুল লেগেছে(হানায়ামাতা)। নামের আসলে কোন অর্থ নেই এনিমের প্রধান ৫টি চরিত্রের নামের কম্বিনেসন এ নামকরন। হানার “হা” নারুর “না” মাচির “মা” ইয়ায়ার “ইয়া” আর তামির “তা” “হানায়ামাতা”

যারা এনিমেটা দেখেননি আসা করি দেখবেন।

ধন্যবাদ।

 Hanayamata 5

মাঙ্গা রিভিউঃ ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড — Rezo D. Skylight

Deadman Wonderland 1জনরাঃ অ্যাকশান, অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা, সাই-ফাই, শৌনেন, সুপারনেচারাল
মাঙ্গাকাঃ কাজুমা কন্দউ এবং জিনসেই কাতাওকা
চাপ্টারঃ ৫৮
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.২৭
মাঙ্গাআপডেটস রেটিংঃ ৮.৩০
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০

“Only frustrated adults and naive kids believe themselves to be special.” – Kiyomasa Senji

“If you can’t see what’s important, then it’s because you’re too ashamed to open your eyes.” – Ganta Igarashi

ধরুণ আপনি প্রতিদিনের মত স্কুলে ক্লাস করতে এলেন, বন্ধুদের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছেন। ঠিক এই সময়ে হটাৎ করেই অজ্ঞাত কেউ এসে আপনি বাদে আপনার সকল সহপাঠিকে আপনার চোখের সামনে মেরে ফেলল এবং পরবর্তীতে সেই মৃত্যুর দায়ভার পড়ল আপনার ঘাড়ে। আপনার কথা-বার্তা কেউ না শুনেই মিথ্যা কারণ দেখিয়ে আপনাকে পাঠানো হল টোকিয়োর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আর ভয়াবহ কারাগার ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডে। যেখানে আপনার নিজের জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহণ করতে হবে বিভিন্ন সারভাইভাল-গেমে। তখন আপনার অবস্থা কি হবে ভেবেই দেখুন? ঠিক এই একই রকমের কাহিনীর স্বীকার হয় মাঙ্গার মেইন প্রোটাগোনিস্ট গান্তা ইগারাসি। তার জীবনের এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের কাহিনী।

Deadman Wonderland 2

ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং। বিশেষ করে এর সকল ক্যারেক্টারগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো অসাধরণ। প্রতেকেই জীবনে কিছু না কিছু ভুল করেই বাদ্ধ হয়ে প্রবেশ করেছে ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড নামক কারাগারে। কেউ হয়তবা নিজের আপন কাউকে বাঁচাতে গিয়ে, কেই হয়তবা বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে, কেউ হয়তবা নিজের জীবনকে বাঁচাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। আবার কেউ কেউ মিথ্যা হত্যার দায়ভার বহন করে কারাগারে প্রবেশ করেছে। এভাবে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সমাবেশ এই কারাগারে। প্রতেকেরই নিজের জীবন রক্ষার্থে সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। এখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না, কেননা যে কেউ যে কোন সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। ঠিক এরকম ক্যারেক্টারদেরকে ফোকাস করেই স্টোরি বিল্ড-আপ হয়েছে। ক্যারেক্টারদের মধ্যে আমার ক্রো (কিয়োমাসা সেনজি) খুব পছন্দের। মেইন ক্যারেক্টার গান্তাকে প্রথমে তেমন ভালো লাগেনি, তবে পরবর্তীতে গান্তার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দেখানোর জন্য শেষমেশ তাকে বেশ ভালোই লেগেছে। আর সিরোও আমার খুব পছন্দের ক্যারেক্টার।

Deadman Wonderland 3

ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডের আর্টও বেশ দারুণ। প্রতিটি প্যানেলে অ্যাকশানের দৃশ্যগুলো বেশ সুন্দরভাবে বুঝা যায়। আর গোরের দৃশ্যগুলাও বেশ ডিটেইল করে দেখানো হয়েছে। সবমিলিয়ে, মাঙ্গার কাহিনীর সাথে আর্ট বেশ মানানসই।

আমি এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ শৌনেন মাঙ্গা পড়েছি, তাতে কম বেশি শৌনেন মাঙ্গার ভাব-সাব দেখলে বুঝি। বেশিরভাগ সময় শৌনেন মাঙ্গাগুলতে স্ট্রেট-প্রেডিকটেবল স্টরিলাইন থাকে, তাই সহজেই কাহিনী কিভাবে আগাবে তা অনুমান করা যায়। একইভাবে আমি ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ডকে সাধারণ শৌনেন মাঙ্গা ভেবে পড়া শুরু করেছিলাম এবং পরে পড়তে গিয়ে বেশ চমকেছি। এটি শৌনেন মাঙ্গা হয়া শর্তেও এতে গোর আর সেইনিন এলিমেন্ট তুলনামূলক খবু বেশি। এছাড়া রয়েছে আনপ্রেডিকটেবল স্টরিলাইন, চমৎকার কিছু প্লট-টুইস্ট, আর অসাধরণ মিস্টেরি-সাস্পেন্স, আর মারাত্মক কিছু অ্যাকশান-সিন। এজন্যই বাকি পাঁচ-দশটা শৌনেন মাঙ্গা থেকে এটি ব্যতিক্রমধর্মী। আর এই কারণেই একেবারে প্রথম চ্যাপ্টার থেকেই আমার আকর্ষণ ধরে রেখেছিল।

Deadman Wonderland 4

যারা এখনো ডেডম্যান ওয়ান্ডারল্যান্ড পড়েননি বা এনিমে দেখেছেন কিন্তুু মাঙ্গা পড়েননি তারা মাঙ্গাটা পড়া শুরু করে দিন। এনিমের পর মাঙ্গা চ্যাপটার ২২ থেকে শুরু করতে পারেন। আশা করি মাঙ্গাটা আপনার খুবই ভাল লাগবে, এমনকি আপনার পছন্দের মাঙ্গার তালিকায় স্থানও পেতে পারে।

[ওহ!! ডেডম্যান ওন্ডারল্যান্ড এনিমের OST গুলাও শুনে ফেলুন। অত্যন্ত চমৎকার চমৎকার OST – https://youtu.be/fhiXua2Q-to?list=PL26CF63D7FD1BE5CC]

Deadman Wonderland 5

ভিডিও গার্ল আই :গান আর নব্বই দশকের রঙিন স্বপ্ন — Anirban Mukherjee

Video Girl Ai 1

শুরুর কথা……..

আমি কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন দোচালাতে ভুগছি ।প্রথমে ভাবলাম একটা সেগমেন্ট নামাই,ফ্রেঞ্চ নিউওয়েভের বিভিন্ন টেকনিকের সঙ্গে আনিমের মিল সম্পকে ।কিছু গদার ,ত্রুফো,শাব্রল,রিভেট, রোমার আচ্ছাশে রিওয়াচও দিলাম ।তারপর একটা ভোরে লিখতে আরম্ভ করলাম সেগমেন্টের প্রথম পর্ব, কিছুটা লেখার পরই বুঝলাম সিনেমা দেখা আর সিনেমা বোঝার মধ্যে কী দুঃসহ পার্থক্য ! তো,তখনকার মতো লেখা শেষ ।
এরপর বিকেলে একটা পুরোনো সেগমেন্টের পরিকল্পনা করতে করতে চা নিয়ে বসলাম ,মাসখানেক আগে দেখা নব্বই দশকের ওএভিগুলোর কথা মনে পড়ছে,নব্বই দশক যেহেতু বেশ ভালোই লাগে ( নষ্টালজিক টাইপের আরকি) ,তখনই ভিডিও গান আই এর কথা মনে পড়ল ।(খুব তারাতারিই নব্বই দশকের ওএভি নিয়ে একটা সেগমেন্ট নামাবো )।এই ভিডিও গার্ল আই নিয়েই আজকে আমার আলোচনা ।

Video Girl Ai 2
প্রথমে ,আপনি গান কেন শোনেন ? কিছু সুন্দর শব্দ এবং কিছু ভাষার অর্থ আপনার কর্ণকুহর হয়ে মস্তিকে প্রবেশ করে আপনাকে আবেশ করে রাখে(আর আমার মতে আবেশ করে রাখাই যেকোনো আর্টের মূল বৈশিষ্ট্য ),সেখানে গানের লেখক এবং গায়ক- গায়িকার উভয় সমান অবদান থাকে ।কিন্তু ইংরেজি ছাড়া বিদেশি গানের ক্ষেত্রে জিনিসটা আলাদা হয় ।যারা নিয়মিত জে পপ,কে পপ বা স্প্যানিশ পপ গান নিয়মিত শোনেন তারা বিষয়টি আরো ভালো বুঝবে ।প্রথমে গানের সুরে আবেশ থাকা ,তারপর লিরিকের অর্থ উদ্ধার করে আর একবার গানের গভীরে প্রবেশ করা ।গান আপনাকে নষ্টালজিক করে দিতে পারে ,বিশেষ করে পুরোন দিনে যে গানটা আপনার শুনে প্রচণ্ড পছন্দ হয়েছিলো ,বহুবছর পরে আবার শুনলেন ,নতুন করে আবিষ্কার করলেন ।যেমন কদিন আগে একটা সূত্রে পেয়ে গেলাম 2002 এর “লেস কেচাপের” বিখ্যাত স্প্যানিশ পপ দ্যা কেচাপ সং।শূন্য দশকের প্রথম দিকে বিখ্যাত হওয়া এই গানটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম ।আবিষ্কার করলাম নতুন ভাবে ।
কিন্তু কিছু গান হয়ত কোন দিনও শোনেননি , কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড এনিমেশনের আর সুরের জন্য নব্বই দশকের প্রতি নষ্টালজিক করে তুললো ।সেই গ্রানজ পোষাক,এমটিভি,মম জিনস,জ্যিন সুট আর নীল -কমলার এক আশ্চর্য দুনিয়া।ভিডিও গার্ল আই তে এইরকমই কিছু গানের সন্ধান পেয়ে এই সিরিজটার প্রতি আমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিলো ।

Video Girl Ai 3

গল্পের আরম্ভ…..

আমাদের গল্পের “বেচারা” নায়ক ইয়োটা প্রচণ্ড ভালোবাসে তারই স্কুলমেট মোয়েমি কে , কিন্তু মোয়েমির নজর অন্যদিকে ,তাকাশি,স্কুলের “টল , ডার্ক,হ্যান্ডস্যাম পপুলার গাই” ।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার ,তারা তিনজনেই প্রচণ্ড ভালো বন্ধু, তাকাশি ইয়োটাকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখে ।অন্যদিকে তাদের অজান্তেই তিনজনের মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের সম্পক তৈরি হচ্ছে ।
ওভিএর প্রথমে দেখব ইয়োটা যেনে যায় মোয়েমির আগ্রহ তাকাশির প্রতি,তার প্রিয় বন্ধু ।সেইদিনই ইয়োটা সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে একটা রহস্যময় ভিডিও শপ দেখে,যেটা আগে কখনও সেখানে ছিলো ছিল না ।সেই ভিডিও শপের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে “ভিডিও গার্ল” ভিডিও টেপ ।যে কোন একটা ভিডিও টেপ থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে আসবে,যখন সেই ভিডিও টেপটা চালানো হবে ।”এ আবার হয় নাকি” এই ধরনের মনোভাব নিয়ে ইয়োটা ভাড়া নিয়েই ফেলল একটা ভিডিও ।সেদিন রাতেই তার ভিডিও রেকর্ডারে চালালো ভিডিওটা ,এবং যথারীতি ঘর কাঁপিয়ে বেরিয়ে এল “আই আমানো “।যে ইয়োটার দূঃখের সময়ে সঙ্গী হবে,তাকে চিয়ার করবে এবং “অন্যান্য”।
কিন্তু ইয়োটার ভিডিও রেকর্ডার ভাঙা থাকার কারনে আই এর মধ্যে চলে এলো “অনুভূতি “।ফলে সে আর চিয়ার ডল না থেকে পরিনত হলো ইয়োটার অন্যতম বন্ধু, পরামর্শদাতা এবং পরবর্তীতে প্রেয়সী ।

Video Girl Ai 4
জাতে কমেডি এবং ইচি হলেও এখানে আইএর মাধ্যমে ইয়োটার মধ্যে নারী সম্পকে অনেক ধারনার পরিবর্তন আসে ।বিশেষ করে মেয়ে মাত্রই কিছু বিশেষ অঙ্গসর্বস্ব পুতুল বা বস্তু নয়,এই ধরনের বার্তাই মাঙ্গাকার এবং ওভিএ পরিচালক দিতে চেয়েছেন ।
তবুও এই ওভিএর শেষ এপিসোড অতটা ভালো লাগেনি আমার।
কিন্তু কনসেপ্টটা ভালো লেগেছে। আই একজন এনার্জি বিইং ,আমাদের পদার্থগত অস্তিতের বিপরীতে ।
ওভিএতে টার্মেনটর টু সিনেমার একটা একটা ইস্টার এগ আছে,আগ্রহী দর্শকরা খুঁজে বার করতে পারেন ।সিনেমাটাও মুক্তি পেয়েছিলো 1991 এ ।

Video Girl Ai 5

এবং গানের কথা ও নব্বই এর স্বপ্ন…..

1992 সালে প্রচারিত এই ছয় পার্ট ওভিএর মধ্যে এর অন্যতম প্রধান সম্পদ হলো দুটো ওপেনিং এন্ডিং সং আর আটটা অন্যান্য গান ।ওপেনিং সং “উরেশি নামেদা” শুরু হয়েছে গ্রীষ্মের এক ছটফটে রঙীন দিন রাত্রের মধ্যে ,নব্বই এর চিহ্ন এখানে সব জায়গায়, তার মধ্যে আই নিজের পৃথিবীকে উপভোগ করছে ।এন্ডিং সং “আনো হি নি” বা “টু দ্যাট ডে” একটা বিগত দিনের নষ্টালজিয়ার স্বাদ নিয়ে আসে ।একদিকে একটা জানালার ছায়ার সামনে চার বন্ধু (আই সমেত)র “জীবন্ত”ফ্রেমে বাধানো ছবি আর তার চারপাশে কখনও গ্রীষ্ম বা বসন্তের লাল -হলুদ পাতাঝড়ার ছবি বা কখনও রাতের নীল বা গাঢ় নীল আবরন ।একেবারে মানানসই ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট।একেবারে শেষ এপিসোডে এন্ডিং ভিডিওটা পাল্টাবে আর দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন রেখে যাবে ।
অথবা ম্যাসেজ গানটা, ইয়োটার আর মোয়েমির বিমর্ষ নীল রাত্রের সঙ্গী হতে পারি আমরাও ,যেখানে আই শেষে ইয়োটাকে ভরসা দেবে ।ব্যাকগ্রাউন্ড অসাধারণ, একটা ক্যান পর্দার মধ্যে থেকে বেরিয়ে হাওয়ার তোরে দূরে চলে যাচ্ছে বা ছোট হিরের মত উজ্জ্বল শহর চীরে চলে যাচ্ছে ট্রেন এবং সেই সঙ্গে মোয়েমির হলুদ ঘরের বিমর্ষতা খুবই ক্যাচি ।প্রধানত সুন্দর গানের সঙ্গে সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ডের আধিক্য দেওয়ার জন্যই আমার এখানে ডিরেক্টর মিজুহো নিশিকুবোকে মাপ করা যায়,শেষ এপিসোড দুটো যতই খারাপ হোক না কেন ।হয়ত অন্যদের খারাপ নাও লাগতে পারে বা আমারই মত পরে বদলে যেতে পারে ।
মাঙ্গা পড়েও ভালো লাগবে ,বিশেষত এর ড্রয়িং গুলোর জন্য।

Video Girl Ai 6

School Days [রিভিউ] — Zakaria Mehrab

ড়িভিউ! ড়িভিউ!! ড়িভিউ!!! 😀 😀 😀

আজ একটু আগে পড়ন্ত বিকেলে একটি সুন্দর এনিমে শেষ করিয়া আমি যারপরনাই ইম্প্রেসড । ইম্প্রেশনের ঠেলায় আমার হাত একটু পরপর ই কেঁপে কেঁপে উঠছে । কাজেই কিছু বানান ভুল টুল হলে একটু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি তে দেখবেন ।

Anime: ইশকুলের দিনগুলি / School days (কি কিউট নাম , আসলেও কিউট একটা এনিমে)

Genre: ইয়ে আসলে এমন কোন জানরা নাই যেটা এই এনিমে কভার দেয় নাই । পুরাই মাস্টারপিস একখান ।

School Days 2
প্লটঃ
জাপানের ছোট একটি স্কুল । সেইখানে ছোট ছোট বাচ্চারা পড়ে । তাদের মধ্যে কিউট একটি বাচ্চা হল মাকোতো শিশিও থুক্কু মাকোতো ইতো । সে পছন্দ করে আরেক কিউট বাচ্চা কাটাছিড়া থুক্কু কাতসুরা রে (ইয়ে আসলে একটু ভূমিকম্প হইতেসে মেবি , তাই হাত টা বেশি ই কাঁপতেসে) । কিন্তু ইতো এরশাদের থেকেও লাজুক কিনা , সরাসরি কিছু বলতে পারে না । তাই এ বিষয়ে তার আরেক কিউট বান্ধবীর সাহায্য নেয় (হুম সে ও আরেক কিউট বাচ্চা) । এভাবেই একটি কিউট প্লটের ভিতর দিয়ে গল্পের কাহিনী আগাতে থাকে । আসলে আমার লেখায় তো আর বুঝা যাবে না এইটা কি একটা মাস্টারপিস । বরং কাছাকাছি ধারনা পাওয়ার জন্য আসিফুল হক ভাই এর একটি উক্তির কথা স্মরণ করতে পারি —

“স্টোরিটা হয়ত একেবারে ইউনিক কিছু না; কিন্তু যেভাবে পুরো গল্পটা সাজানো হয়েছে; উপস্থাপনা, দৃষ্টিকোণ এবং সম্পাদনা – তা আসলেই চমৎকারিত্বের দাবি রাখে। একটা টিপিকাল কিউট প্লটের মাঝেও অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বে পূর্ণ চরিত্রগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, লড়াই এবং একত্রে একে অপরের পাশে থাকার যে প্রবণতা এবং নাকামার জন্য যে আত্মত্যাগ – তা এই সিরিজকে দিয়েছে অন্য এক মহিমা।”

চরিত্রঃ
কি আর বলব চরিত্রের কথা !! একটি কিউট ছেলে আর অনেক গুলা কিউট মেয়ে । প্রত্যেকের অবদান ই সমান গুরুত্বপূর্ণ । আর মেইন ক্যারেক্টার এর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট তো অসাধারণ । শুরুতে মেইন ক্যারেক্টার একটু ঘুমিয়ে থাকে, কিন্তু গল্পের মাঝামাঝি সময়ে সে জেগে উঠে । আর সে কি জাগরণ !! সেই জাগরণের পর সে নিজে তো আর ঘুমায় ই না , অন্য কাউকেও আর ঘুমাতে দেয় না । আমার প্রায় ই মনে হচ্ছিল “এমুন জাগরণ ই কি আমরা চেয়েছিলুম ?” অন্যান্য ক্যারেক্টার গুলার ও ডেভেলপমেন্ট উল্লেখযোগ্য । বলা যায় সকল চরিত্রের পারস্পরিক সহযোগিতায় ( কিংবা আবারও আসিফুল হক ভাইয়ের ভাষায় “মিথস্ক্রিয়ায়”) ক্যারেক্টার গুলা ডেভেলপমেন্টের এক চরম শিখরে আরোহণ করেছে ।

School Days 1

ওএসটি/গানঃ ইয়ে আসলে হয়েছে কি , প্লট দেখে এত ই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম , যে এ দিকে আর কোন খেয়াল ই ছিল না । (প্লিজ মাইরেন না আমারে ) । তবে এত মাস্টারপিস এনিমের গান গুলাও তো মাস্টারপিস ই হবে, কি বলেন ?

এন্ডিংঃ সবচেয়ে পারফেক্ট এন্ডিং কোন এনিমের বলেন তো ? ফুলমেটাল ? আরে নাহ । কোডগিয়াস ? হাসাইলেন । স্টেইন্স গেট ? ধুর মিয়া, মজা লন ক্যা ? অবশ্য ই ইস্কুল ডেজ । কিউট একটু একশন এর এন্ডিং কে এমন এক পূর্ণতা এনে দিয়েছে যে এটি দেখার পর আপনার দেহ মন সবকিছু পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং আপনি আক্ষরিক অর্থেই একজন নতুন মানুষে রূপান্তরিত হবেন ।

একটাই কথা । মাস্ট ওয়াচ !! এই জিনিস যারা দেখবে , তারাই অনুভব করতে পারবে , জীবন কত কিউট !!

ম্যাল রেটিং জানার দরকার নাই । আমার রেটিং ? এত মাস্টারপিস এনিমেকে রেটিং দিব ? আমার ঘাড়ে আর কটা মাথা ?

পরিশেষে দুটি কথা বলতে চাই

১)এনিমে টি এত ই কিউট যে এটা বাচ্চাদের দেখানো উচিত না । কারণ কিউটনেস ওভারলোড হয়ে বাচ্চা হাঁ করে ফেলতে পারে এবং তখন তার মুখে মশা মাছি ইত্যাদি ঢুকে নানারকম রোগ সঞ্চার করতে পারে

২) এনিমে টি দেখার সময় আপনি পুরাপুরি perplexed হয়ে যাবেন এবং আপনার স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে । এজন্য এনিমে টি দেখার সময় অন্যান্য কাজ যেমনঃ খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি না করা ই ভালো (গলা দিয়ে খাবার না নামতে পারে , কারণ আপনার গলা তো perplexed)

School Days 3

Holyland [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Holyland 1

বক্সিং বা মার্শাল আর্ট ভিত্তিক মাঙ্গা অনেক আছে । কিন্তু পুরোপুরি স্ট্রিট ফাইট অর্থাৎ রাস্তার মাস্তান মার্কা মারামারি ভিত্তিক অস্থির মাঙ্গা ও আছে এবং তার নাম হল Holyland.
মাঙ্গার স্টার্টিং প্লট খুবই কমন । কামিশিরো ইয়ু এক হাইস্কুল বালক যে মধ্যস্কুলে থাকতে প্রচুর বুলিইং এর শিকার হতো । এই অত্যাচারের জ্বালায় সে স্কুলে যাওয়াও বন্দ্ধ করে দেয় ।এবং আত্নহত্যার কথাও ভাবে , কিন্তু পারে না । পরে একটি মিক্স মার্শাল আর্টের বই দেখে ঘরে বসে সে স্ট্রেইট জ্যাব কম্বো প্র্যাকটিস করা শুরু করে এবং এই অল্পবিদ্যা নিয়ে রাতের রাস্তায় চলে কিছু মাস্তান পিটিয়ে থাগ হান্টার তকমা পায় । পরে সে ধীরে ধীরে আরো শক্তশালী প্রতিপক্ষ পায় এবং তাদের বিরুদ্ধে মারামারি করতে করতে সে নিজেও শক্তশালী হয়ে ওঠে এবং একসময়কার প্রতিপক্ষদের বন্ধু বানিয়ে ফেলে ।

Holyland 2
তো এই কমন প্লট দেখে কেউ এড়িয়ে যাবেন না । হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাটের ক্ষেত্রে ইপ্পোর পরে দেখা বেস্ট রিয়েলিস্টিক আর্ট আমার কাছে এই মাঙ্গায় । এবং মারামারি শিখার জন্য এই মাঙ্গাটাকে টেক্সটবুকের মতও ব্যাবহার করা যাবে , কেননা প্রত্যেকটি ফাইটের মুভমেন্ট বিস্তৃত ভাবে সচিত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে ।আর এই মাঙ্গায় পাড়ার মাস্তানদের ভিতরকার জীবনচিত্রও ভালোভাবে দেখিয়েছে । কাহিনী ,আর্ট সবমিলিয়ে বেশ ভালো একখানা মাঙ্গা ।আর এর ভেতরকার কিছু ক্যারেকটারও আছে অস্থির । আপনি যদি রিয়েলিস্টিক একশানের ভক্ত হন তাহলে পড়া শুরু করে দিন হলি ল্যান্ড ।
চ্যাপ্টার : ১৮৮
এখানে পড়তে পারেন : http://kissmanga.com/Manga/Holyland

Holyland 3

কিও নো কিরা কুন(Kyou no Kira-kun) [মাঙ্গা রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

কিও নো কিরা কুন (Kyou no Kira-kun)
জন্রা:শৌজো,রোমান্স,হাইস্কুল,স্লাইস অফ লাইফ,কমেডি,ট্রাজেডি

প্রত্যেকটা শৌজো বেসিকালি হালকা একটু ঊনিশ বিশ করলেও প্রায় সেইম প্লট ফলো করে। পপুলার/আনপপুলার ছেলে/মেয়ের সাথে পরিচয় হয় পপুলার/আনপপুলার আরেক ছেলে/মেয়ের সাথে। প্রথম প্রথম একজনের সাথে আরেকজনের দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকলেও কাহিনির মাঝপথে যেয়ে একজন আরেকজনের প্রতি নিজের আকর্ষণের কথা টের পেলেও তা আর বলতে পারেনা।বাংলা সিনেমার ভাষায় “বুক ফাটে তো মুখ ফাটেনা” টাইপ অবস্থা। এরকম করে প্রায় কয়েক শতাব্দী কেটে যায় নিজের ফিলিংস এক্সপ্রেস করতে করতে,অবশেষে কাহিনীর সমাপ্তি ঘটে বহু প্রতিক্ষিত চুম্বনের মাধ্যমে।

KnKK 1
যে মাঙা নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি সেটা টিপিকাল স্টোরিলাইন ফলো করলেও নট সো টিপিকাল।
নায়িকা নিনো ওকামুরার ছোটকালে বুলিইং এর শিকারের ফলে কপালে মস্ত একটা কাটা দাগ থেকে যায়। তারপর থেকে সে হয়ে যায় বিশিষ্ট ইন্ট্রোভার্ট,অগোছালো, অপ্রস্তুত এক মেয়ে যার কপালের উপরের বিশাল ব্যাংস তার কাটা দাগ সহ মুখের অর্ধেকখানি ঢেকে রাখে। ষোলকলা পূর্ণ করতে তার সাথে সবসময় একটা পাখি থাকে,যে আসলে কিনা সুপার জিনিয়াস এবং কথা বলতে ও বুঝতে সক্ষম। যার কারণে স্কুলে নিনোর নাম হয়ে যায় “ক্ষ্যাত bird woman”।
নায়ক কিরা ইয়ুজি স্কুলের পপুলার+ইতর প্রজাতির এক ছেলে যে কিনা আবার নিনোর সামনের বাসায়ই থাকে। নিনো এবং ইয়ুজির ব্যালকনি এত কাছাকাছি যে ছোটখাটো একটা লাফ দিলে অনায়াসেই একজন আরেকজনের রুম ভিজিট করতে পারবে। দুজনের কেউই কোনোদিন কারো সাথে ইহকালে একটা বাক্যবিনিময় করেনি প্লাস নিনোর রুমের এপাশ থেকে ওপারে কিরার রুমে বিভিন্ন মেয়ের সাথে ইতরামির সমস্ত সাক্ষী হওয়াতে নিনো কখনো তার প্রতিবেশীর সাথে আলাপ করতে আগ্রহী হয়না।

KnKK 2
হঠাতই একদিন নিনোকে তার মা জানালো যে পাশের বাড়ির ছেলের হয়েছে এক মরণব্যাধি,যার কারনে কিরার হাতে আছে কেবল এক বছর্। কিরাকে স্কুলে দেখাশোনা করার সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া হলো নিনোকে। একটু একটু কৌতূহলী নিনো যখন সত্যতা যাচাই করতে যায়,তখন ব্যাড বয় কিরার অন্য রূপ আবিষ্কার করে সে। বহু ঘটনার মধ্য দিয়ে একজন আরেকজনের কাছাকাছি আসে,ভাল বন্ধু হয়,এবং বন্ধুত্ব একসময়ে প্রেমে পরিণত হয়। কিন্তু কিরার টাইম লিমিট ছাড়াও তাদের দুজনের মাঝে আসে অনেক প্রতিবন্ধকতা। নিনো আর কিরা কি শেষ পর্যন্ত পারবে দুজন দুজনের হতে?যদি আগ্রহ জাগাতে পারি,তাহলে অবশ্যই মাঙ্গাটা আপনি পড়বেন।
কেন পড়বেন?

KnKK 3
টিপিকাল শৌজো হলেও কাহিনী খুব একটা টিপিকাল না।
মেইন নায়িকা অনেক কিউট,মোয়ে টাইপ,কিন্তু ক্রাইবেবি না বা এনয়িং না। হ্যাঁ,সে কাঁদে। যেসব জায়গায় কাঁদতে হবে সেসব জায়গায় কাঁদে। কিন্তু তাছাড়া সে যেভাবে লজ্জা-জড়তা কাটিয়ে কিরাকে সাহায্য করার জন্য নিজেকে চেঞ্জ করে,সেটা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। আর নায়ক পুরাই ক্রাইবেবি। এরকম ক্যারেক্টার দেখে খুবই মজা পেয়েছি। নায়ক উপরি উপরি শক্ত ভাব দেখালেও একটুখানি ভাল ব্যবহার কিংবা নিনোর দয়ালু কাজকর্মে পুরোই গলে যায় এবং লিটারেলি আবেগে কেঁদে দেয়। আর তাছাড়া কিরার ফ্রেন্ড,ইয়াবে,সাইড ক্যারেক্টার নাম্বার ওয়ান,কাহিনীর পেস চেঞ্জ করার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মাঝে মাঝে সাইড ক্যরেক্টারদের স্ট্রাগলদের কাহিনি,হতে হতেও হয়নি একটা লাভ ট্রায়াঙ্গল,ক্লিশে শৌজো ভুল বুঝাবুঝি-এসবের জন্যই এই মাঙ্গাটি এঞ্জয়েবল হয়েছে। মাঙ্গার আর্ট অনেক সুন্দর। আহামরি ডিটেইল্ড না,কিন্তু ভাললাগার মত ভাল।
আর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো -জায়গামত দোকি দোকি মোমেন্টস,যা সত্যিই মন ছুঁয়ে যাবার মত।

KnKK 4
না পড়ার কারন-
আপনি যদি এক্সট্রিম খুঁতখুঁতে হয়ে থাকেন জন্রা কিংবা শৌজোর ব্যাপারে,তাহলে এটা না পড়াই ভাল। “unpopular girl meets bad popular boy and they change each other life” টাইপ কাহিনি অনেক কমন।এটাও ব্যতিক্রম না।
চ্যাপ্টার ৩৬ কিন্তু সবকয়টা এখনো স্ক্যানটেলেড হয়নি। সবখানে ২২ পর্যন্তই আছে। সে হিসেবে এখনো অনগোয়িং।
আর মাঙ্গাকার নাম মিকিমোতো রিন। ইনার আর কোনো কাজ কখনো পড়া হয়নি কিন্তু এই মাঙ্গা পড়ার পরে ইনার অন্য মাঙ্গা পড়ার আগ্রহ হয়েছে।
আপনি যদি লাইট হার্টেড কিছু পড়তে চান,কিংবা শৌজো পছন্দ করে থাকেন,তাহলে পড়ে দেখতে পারেন । আপনার সময় বৃথা যাবেনা।
পার্সোনাল রেটিং: ৯/১০
ম্যাল রেটিং: ৮.১৬/১০

KnKK 5

xxxHOLiC, একটি অলীক দিবাস্বপ্নের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

কখনো চিন্তা করেছেন, আমাদের সাথে প্রতিদিন যে বিভিন্ন ধরণের ঘটনা ঘটে, সেগুলোর পেছনে ভাগ্যের হাত না থেকে অন্যকিছুর হাত থাকতে পারে? হয়ত আমাদেরই অসতর্কতাবশত করা কোন ভুলের মাশুল এই ঘটনাগুলো! কর্মফলের কথা না ভেবে আপনি যে পিঙ্কি প্রমিসটা অতি সহজে ভেঙে ফেললেন, তা কিন্তু ডেকে নিয়ে আসতে পারে জীবন সংশয়ে ফেলার মত বিপদ! কিংবা খুব চেনা একটা প্রবচন – “রাতে নখ কাটলে আপনি আপনার বাবা মায়ের ফিউনারেলে উপস্থিত থাকতে পারবেন না”; কখনো কল্পনা করেছেন যে এই বাক্যটার পেছনে কোন গূঢ় অর্থ থাকতে পারে? ইচিহারা ইউকো সান কিন্তু তাই বলেন- “There is no such thing as coincidences in this world. There is only the inevitable.”

হলিকের পৃথিবীটা খুবই আজব। এখানে রয়েছেন ইচিহারা ইউকো সান, সৌন্দর্য ও জ্ঞানের সংমিশ্রণ একইসাথে যার মাঝে বিদ্যমান। পৃথিবীর সব ধরণের সুপারন্যাচারাল ঘটনার ব্যাখ্যা মিলবে ইউকো সানের ইচ্ছাপূরণ দোকানে; যে দোকানের দেখা শুধু তারাই পায়, যাদের কোন অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যে কোন আশা পূর্ণ করতে পারবেন ডিমেনশনাল উইচ ইউকো সান, যদি আশার সমপরিমাণ মূল্য তাকে দেয়া হয়। এবং সেই মূল্য কখনোই অর্থ দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। এমনও হতে পারে, আপনার মৃত দাদার রেখে যাওয়া একমাত্র স্মৃতিটা, কিংবা আপনার মাথার প্রিয় চুলগুলোই হল আপনার আকাঙ্ক্ষার মূল্য!

635814093931043176

এই আজব পৃথিবীর এক আজব বাসিন্দা ওয়াতানুকি কিমিহিরো। ছোটবেলায় বাবা মা হারানো হাইস্কুল পড়ুয়া এই ছেলেটির দুর্ভাগ্য, সে ইয়োকাই দেখতে পায়। ইয়োকাইরা তাকে তাড়া করে প্রায়ই, আর তাই প্রাণের ভয়ে দৌড়াতে থাকা ওয়াতানুকিকে দেখে সাধারণ মানুষের তাকে পাগল বলে মনে হয়।

এভাবে এক সকালে দৌড়াতে দৌড়াতে ওয়াতানুকি পৌছে যায় ইউকো সানের দোকানে; কে জানে, হয়ত ইয়োকাইয়ের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষাই তাকে টেনে নিয়ে যায় ওখানে!

অ্যানিমেটির কাহিনী আবর্তিত হতে থাকে ওয়াতানুকিকে ঘিরে। শান্তশিষ্ট, সোজা সরল, কর্মঠ এবং কিছুটা শর্ট টেম্পার্ড এই ছেলেটিকে বড় বোনের মত আগলে রাখেন ইউকো সান, অ্যানিমে যত সামনে আগায়, তত তা স্পষ্ট হয়। সবসময় বিভিন্নভাবে ওয়াতানুকির সাথে খুনসুটি করতে থাকা ইউকো সানের ব্যক্তিত্ব পুরোপুরি পালটে যায়, যখন তিনি আশা নিয়ে দোকানে পা রাখা কাষ্টোমারদের ইচ্ছা পূরণ করেন। তার সাথে আরও রয়েছে মারু-মোরো এবং মোকোনা, যাদের ছাড়া হলিক অ্যানিমেটি অপূর্ণ রয়ে যেত।

এছাড়া হলিকে আরও দুজন ইমপর্ট্যান্ট ক্যারেক্টার রয়েছে, দৌমেকি শিজুকা এবং ওয়াতানুকির ক্রাশ হাসিখুশি এবং মিশুক হিমাওয়ারি কুনোগী। দৌমেকিকে বলা যায় ওয়াতানুকির বিপরীত; অ্যাভারেজ মানুষের আইডিয়াল অ্যানিমে ক্যারেক্টার। ওয়াতানুকিকে জ্বালানো তার অন্যতম প্রধান কাজ, কিন্তু তা তো ভাল বন্ধুত্বেরই একটা সাইন! তিনজনেই একে অন্যের বিপদে নিজের জীবন বিপন্ন করতে কখনো পিছপা হয়না।

হলিক অ্যানিমেটির সিজন ১ এর কাহিনী এপিসোডিক, দেখে মনে হতে পারে যে এই অ্যানিমেটার মূল থিম হল “ডেইলি লাইফ অফ ওয়াতানুকি অ্যান্ড ইউকো”। কোন একজন মানুষের উইশ এবং সেটার সাথে জড়িত ঘটনা বা দুর্ঘটনা একটা এপিসোডেই শেষ হয়ে যায়। এতে ঘটনাগুলো অনেক ইন্টারেস্টিং, কিন্তু অনেকের মনে হতে পারে, “when does the story actually kick off?” তাদের জন্য বলছি, এপিসোডিক ব্যাপারটা সিজন ১ এই শেষ। হলিকের দুনিয়ার সাথে সিজন ১ এ পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর সিজন ২ তে শুরু হয় ওয়াতানুকিকে ঘিরে সব টুইস্ট। এই সিজনে কাহিনীটা বেশ ডার্ক একটা মোড় নেয়, বেশ বড় একটা ধাক্কা ছিল সেটা আমার জন্য। সব ক্যারেক্টারের ডেভেলপমেন্ট শুরু হয়, আর সেটার পরিণতি দেখা যায় এর ওভিএ, রৌ তে। ওয়াতানুকির ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা অন্যতম সেরা। দুই পর্বের ওভিএটি শুরু হয় একটি দুঃখের সংবাদ দিয়ে, আর শেষ হয় একটি আশার আলো দেখিয়ে।

হলিক অ্যানিমের দূটি স্ট্রং পয়েন্ট হল এর আর্ট এবং ওএসটি। ক্ল্যাম্পের ডিজাইন করা চিকন চিকন হাত পা দেখে অনেকেরই হয়ত অদ্ভুত লাগে, কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যটির জন্যেই ক্ল্যাম্পের আর্ট আমার পছন্দ। সিজন ১ এর শুরুর দিকে আর্টে কিছুটা ঘাটতি ছিল, এটা অস্বীকার করব না, তবে প্রোডাকশন আইজি সেটাও পরে ঠিক করে নিয়েছে, সিজন ২ এবং ওভিএগুলোর আর্ট নিখুঁত; মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকার মত। আর ওএসটির যত প্রশংসা করা যায় কম হয়ে যায়, সুগা শিকাও এর পার্ফরম্যান্সে প্রতিটা ওপেনিং সুন্দর এবং সেইসাথে এন্ডিং গুলোও পাল্লা দিয়ে সুন্দর, এমনকি ওভিএগুলোর ওএসটিও একটাও স্কিপ করার মত না। প্রতিটা দৃশ্যের সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পারফেক্টভাবে মানিয়ে গিয়েছে, আর ওপেনিং এন্ডিং গুলোর সুর আর ভিজ্যুয়াল যে রহস্যময় ভাইবটা দেয়, এককথায় অসাধারণ!

আরেকটা কথা উল্লেখ করাটা এখানে আবশ্যক, তা হল সেইয়্যু কাস্ট, অর্থাৎ কণ্ঠশিল্পীদের অবদান। ওয়াতানুকি চরিত্রটিকে প্রাণ দিয়েছেন জুন ফুকুয়ামা; আমার দেখা তার সেরা চরিত্র এটি। প্রথম এপিসোডের শুরুতেই ওয়াতানুকি যখন আয়াকাশিদের হাত থেকে পালাতে থাকে, এই একটা সিনই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ফুকুয়ামা সানের দক্ষতা প্রমাণ করে দেয়। চঞ্চল হাইস্কুল পড়ুয়া কিশোর এবং পরিণত যুবক; দুটি রূপকেই তিনি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া ইউকো সান চরিত্রে ওহারা সায়াকা, দৌমেকি শিজুকা চরিত্রে নাকাই কাজুয়া, হিমাওয়ারি কুনোগী চরিত্রে ইতোও শিজুকা, মোকোনা চরিত্রে কিকুচি মিকা; সবাই চমৎকার কাজ করেছেন।

xxxHOLIC 3

হলিকের মাঙ্গাটি পুরোটা পড়া হয়নি, তবে যেটুকু পড়েছি, তাতে বলতে পারি, মাঙ্গাটি আর্ট ও স্টোরির দিক থেকে অনন্য। তবে একে প্রাণ দিয়েছে অ্যানিমেটি।

সবমিলিয়ে সাইকোলজিক্যাল, মিস্ট্রি এবং সুপারন্যাচারাল জনরার এই অ্যানিমেটি আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা অ্যানিমেগুলোর একটি; হিওকার সাথে যদি কোন অ্যানিমেকে স্থান দেই, তবে সেটা হলিক। আপনারা যারা দেখবেন, তাদের জন্য একটি সাজেশন, সিজন ১ এ থেমে যাবেন না, কারণ সিজন ২ থেকে কাহিনী জমে উঠতে শুরু করে। এই সিরিয়ালে দেখবেন –
xxxHOLiC – ২৪ এপিসোড
xxxHOLiC Kei – ১৩ এপিসোড
xxxHOLiC Shunmuki – ২ এপিসোড
xxxHOLiC Rou – ২ এপিসোড

এছাড়া এটির একটি মুভি আছে, xxxHOLiC Movie: Manatsu no Yoru no Yume; এটি সিজন ১ দেখার পরই চাইলে দেখতে পারবেন। এখানেও কিছু টুইস্ট আছে, যার রিভিউ আমি “মুভি টাইম উইথ ইয়ামি” তে দিয়েছিলাম।

xxxHOLIC [রিভিউ] — Anirban Mukherjee

এক্স এক্স এক্স হোলিক-জাপানের অতিপ্রাকৃতিক জগতের অন্দরমহলে
আনিমে সিরিজের পরিচালক:- ত্সুতমু মিজুশিমা ।
সিরিজের গল্প লিখেছেন:- নানাসে ওকাওয়া এবংমিচিকো ইয়োকোতে(টিম ক্লাম্পের সদস্য)।
এপিসোড সংখ্যা:- 24 টি।

xxxHOLIC 1

জাপানে “ইয়োকাই” শব্দটির অর্থ বাংলায় আত্মা এবং বা ইংরেজিতে স্পিরিট খুব কাছাকাছি। “আয়াকাশি” হলো এমন এক ধরনের “ইয়োকাই” যারা জলে বা জলের উপরে অবস্থান করে।
হয়ত কোন সকালে পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখছেন ,কেউ আপনার সামনে দিয়ে কোনো কারন ছাড়াই চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালাচ্ছে, যেন কেউ বা কারা তাকে তাড়া করেছে–( “ছেড়ে দে -আমি বলছি, ছেড়ে দে,আমি কী কোন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা ?” ইত্যাদি ইত্যাদি) এবং কোন কারন ছাড়াই ছুটতে ছুটতে রাস্তাতে পড়ে কাতরাতে লাগল,গড়াগড়ি খেতে লাগল ,যেন তার উপরে কোন জগদ্দল বোঝা চেপে আছে এবং সে বোঝা থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছে।স্বাভাবিক ভাবেই আপনি তাকে কোন পাগল -ছাগল- স্কিজোফ্রেনিক বলে পাশ কাটাবেন ।সত্যিই তো ,এমন কত পাগল আমাদের চারপাশে,হাওয়ার সঙ্গে কথা বলে ,হাওয়ায় বিনুনি কাটে আঙুল দিয়ে ।কিন্তু এই কেসটা সেরকম নয়,ইনি হচ্ছেন আমাদের কাহিনীর “বেচারা” নায়ক কিমিহিরো ওয়াতানুকি, সেইরকম বিরল মানুষের একজন যে শুধু নিয়মিত ইয়োকাই বা আয়াকাশি দেখতে পায় না ,বরং সেগুলো তার জীবনকে জ্বালিয়ে ছাড়ছে ।যেখানে যাচ্ছে ,জেলির মতো বিশাল বড় উদ্ভট আকৃতির ইয়োকাইগুলো তার পিছু ছাড়ে না ।তো সেদিনও সেই কাহিনীর রিপিট হচ্ছে, বেচারা ওয়াতানুকি দৌড়াচ্ছে, পেছনে সেই ইয়োকাইগুলো দৌড়াচ্ছে ,একসময় তার উপর চেপে বসল ইয়োকাইগুলো,বেচারা ওয়াতানুকি মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে ,মাটিতে হাত ঠুকছে ।মাটিতে হাত ঠুকতে ঠুকতে তার হাতটা গেয়ে পড়ল একটা বড় কাঠের প্রাচীরের গায়ে ।ব্যাস,সঙ্গে সঙ্গে জেলির মত আকৃতিহীন ইয়োকাইগুলও ভ্যানিশ !!মাঝ রাস্তা থেকে সে কীভাবে এখানে টপকে পড়ল ?
ওয়াতানুকি তো অবাক ।

xxxHOLIC 2
হাত ঝেড়ে ওঠে সে দেখল ,একটা বড় উদ্ভট ডিজাইনের বাড়ির সামনে সে দাঁড়িয়ে ।বাড়িটার ডিজাইন না ইউরোপীয়ান ,না জাপানি কায়দায় ,আবার বাড়ির দুটো ছাদে অর্ধগোলাকৃতি
চাঁদের প্রতীক ।ওয়াতানুকি সদর্পনে একটু উঁকি দিতেই দেখল বাড়িটা তাকে চুম্বকের মত টানছে ,প্রচণ্ড টান ,সত্যিই টান।এমন সময় বাড়ির সদর দরজা খুললো এবং দুজন অদ্ভুত হেয়ারস্টাইলের ছোট মেয়ে বেড়িয়ে এল,বয়স হবে হয়ত বারোর কাছাকাছি ,একজনার বিশাল গোটানো চুল মাটি ছুঁয়েছে , আর একজনের ছোট গোলাপি কালারের চুল কাঁধ ছাড়ায়নি ।তারা ওয়াতানুকিকে ওয়েলকাম করল ,এটা একটা কোনও দোকান !!
সেই রহস্যময় মেয়েদুটো ওয়াতানুকিকে টানতে টানতে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল । তারা বিশাল সৌজি দরজাটা খুললো এবং ওয়াতানুকি ওপার থেকে একরাশ ধোঁয়া ছাড়িয়ে একটা বড় কেদারার উপর ধূমপানরত ,লাল কিমোনো পড়া ইউকো সানের দেখা পেলো ।সে তার জন্যই অপেক্ষা করছিলো

xxxHOLIC 3

এবার ইউকোর পরিচয় কীভাবে দি ? পুরোনো বঙ্গিম-কালীদাস মার্কা বাংলাতে বললে “বৃহৎবক্ষা-ক্ষীনকটি-গুরু নিতম্ব” ইত্যাদি ইত্যাদি অথবা আমার চলিত চিন্তাতে বললে ইউকো একজন কঠিন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মেয়ে ,যে আবার সময়ে সময়ে মেজাজের দিক থেকে ছোট বাচ্চাদের মত হয়ে যায় । চেন -স্মোকার পর্যায়ে ,পান করে প্রচুর,ওয়াতানুকিকে খাটিয়ে মারে কিন্তু গোটা সিরিজের একাংশে তার অন্যতম সেরা বন্ধু,পোশাক,খাবার এবং স্টাইল সচেতন ,নিজের জীবনটা ভালোভাবে উপভোগ করে,স্বাধীন । আবার এই ইউকোই তার ম্যাজিকের দোকানের কাস্টমারদের সামনে হয়ে যায় নম্র,বিনয়ী এবং নিজের রহস্যপূর্ণ দিকটা কাস্টমারের সামনে রেখে তাদের সমস্যার সমাধান যথাসম্ভবভাবে করে ।ইউকো ডাইমেনশন ভাঙার ক্ষমতা রাখে ,সেজন্য হোলিক সিরিজ ছাড়াও ৎসুবাসা সিরিজেও তার দেখা মেলে ।ইউকো কিন্তু অনেক দিন আগেই মারা গেছে ,ৎসুবাসা ইউনিভার্সের এক যাদুকর ইউকোর নিজস্ব বাস্তবতার টাইম জোনকে থামিয়ে দিয়েছে,সেজন্য সে হোলিক দুনিয়ায় বেঁচে আছে ।যদিও শেষ অবধি সে আর থাকবে না ,যাকে ম্যাজিকের ভাষাতে বলে ভ্যানিশ ।মৃত্যু ।

টিম ক্লাম্প ইউকোকে বানানোর পর মনে করেছিলো সেই হবে সিরিজের প্রধান চরিত্র ।তারপর মনে করে ,আরও একটা চরিত্র তৈরি করা যাক ,যে ইউকোর মতই আত্মা,দেবতা,অতিপ্রাকৃতিক জিনিস দেখতে পারে ।তো ,সেইমত তৈরি হলো ওয়াতানুকি ।ইউকো আর ওয়াতানুকির মধ্যে সম্পকটা অনেকটা ডোরিমনের ডোরিমন-নোবিতার সম্পকের মত ।যদিও ডোরিমন ছোটদের জন্য বানানো ।
ওয়াতানুকি ,অনেকটা সেইরকম চরিত্রের ,যে নিজের ইমোশনকে নিজের মনের মধ্যে বেঁধে রাখে না,বাইরে প্রকাশ করে দেয় ।আর তার ইমোশনকে প্রকাশ করে বিভিন্ন উদ্ভটভাবে হাত পা শরীর নাড়ানোর মাধ্যমে, জোরে কথা বলে ।যাতে ওয়াতানুকিকে হাস্যকর লাগে ।কিন্তু ওয়াতানুকির সহজাত বুদ্ধির দিকটা ঝলসে ওঠে কোন চরম বিপদের সময় ..আবার প্রচণ্ড কৌতুহলী মন,তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 4
হিমাওয়ারি, যার বাংলা অর্থ হবে সূর্যমুখী , ওয়াতানুকির ক্রাশ ।সে যদিও ইউকোর থেকে অনেকটা আলাদা ,এইরকম সরল,সাধাসিধে মেয়ে চরিত্র অনেক আনিমে সিরিজেই থাকে ।ওয়াতানুকি, দৌমেকি এবং ইউকোর ভালো বন্ধু হিমাওয়ারি, যখনই কোনও খাবার আনে দৌমেকি আর ওয়াতানুকির মধ্যে ভাগ করে দেয়,দৌমেকির অন্যতম প্রীয় বান্ধবী হওয়ার জন্য তারও কেয়ার নেয়, তীরন্দাজী প্রতিযোগিতায় তাকে চিয়ারস করে ,এবং এসব দেখে ওয়াতানুকির জ্বলে ।
দৌমেকি আবার ওয়াতানুকির চেয়ে অনেকটা আলাদা , একেবারে বিপরীত মেরুর । হ্যান্ডসাম ,কুল এবং কম সিরিয়াস ।যেখানে ওয়াতানুকি প্রচুর বকে,সেখানে দৌমেকি খুবই কম কথা বলে। সে বহু মেয়ের আকর্ষণের কেন্দ্র, যেটা দেখেও ওয়াতানুকির জ্বলে ।কিন্তু দৌমেকি ওয়াতানুকির খুব ভালো বন্ধু, কেয়ার নেয় অনেক ,যার প্রমান সিরিজের বহু এপিসোডে ।
আর যার কথা ছাড়া হোলিক গ্যাং এর কথা শেষ হয় না ,অবশ্যই মোকোনা ।খরগোশের মত দেখতে কালো আর সাদা রঙের এই দুটো কিউট প্রানীটা হোলিক ইউনিভার্স ছাড়াও ক্লাম্পদের বানানো আরও দুটো ইউনিভার্সে হাজির,ৎসুবাসা সিরিজ আর ম্যাজিক নাইট রেআর্থ ।দেখলে মনে হয় চোখ বন্ধ করে আছে,লম্বা লম্বা কান আর মাথার কাছে বড় একটা নীল রঙের গোলাকৃতি বস্তু -এই হচ্ছে প্রধান বৈশিষ্ট্য মোকোনার ।কালো মোকোনা ওরফে লার্গ বা রাগু হচ্ছে ইউকো-সানের অন্যতম প্রিয় বন্ধু,দাবা খেলা আর ড্রিঙ্কস পার্টনার ।

 

হোলিক ইউনিভার্স প্রচণ্ড রহস্যময় ,ওয়াতানুকি প্রতি এপিসোডে নতুন নতুন অতিপ্রাকৃতিক জিনিসের সঙ্গে মুখোমুখি হয়,কখনও রহস্যময় আঙটি আর তার ইয়োকাই ,কখনও এমন কিছু অতিপ্রাকৃতিক উপাদান যা স্কুলে উদ্ভট ঘটনা ঘটাচ্ছে ,কখনও মানুষের মত কথাবলা শিয়াল পরিবার,বৃষ্টি আত্মা, আত্মা আর অতিপ্রাকৃতিক প্রানীদের দীর্ঘ মিছিল অথবা এমন এক পূর্ণিমার চাঁদ, যা ওয়াতানুকিকে এই বাস্তবতার গভীরে ঢুকতে সাহায্য করবে ।
কোন পূর্ণিমার রাত্রে,যখন বিশাল বড় বহুরঙা চাঁদ একদিকে ওঠে,তাদের মধ্যে দিয়ে কোন ঝাঁটায় উড়ন্ত যাদুকর ছাতা হাতে নেমে আসে বা মৃতদের উদ্ভট মিছিল দিগন্ত পেরোয় অথবা অমাবস্যার শেষে যখন অন্ধকার দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় ,সেই পথ দিয়ে ইয়োকাইরা জেলির মত ওয়াতানুকির পেছন নেয় অথবা বসন্তের চেরিব্লসম ঝড়া সন্ধ্যায়, কোন শিন্তো শ্রাইনের চত্বরে উদ্ভট প্রানীদের আনাগোনা শুরু হয়,এ রকমই হোলিকের প্রকৃতি, সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল একে অন্য একটা চেহারা দেয়।

হোলিক আমাদের এটাও দেখায় যে সবার একটা নিজস্ব বাস্তবতা আছে,হয়ত কারও সেটা প্রচণ্ড একান্ত ,কোন গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ দিয়ে সবার বাস্তবতা এবং বোধ এক কাতারে ফেলা যায় না ।

xxxHOLIC 5

হোলিক হচ্ছে আনিমে জগতের ছোট্ট আরব্য রজনী ,সঙ্গে অবশ্যই কমেডির মিশেল ।অথবা হোলিককে কোনও কিছুর সঙ্গে তুলনাই করা উচিত নয়,হোলিক ইউনিভার্স এবং এর প্রত্যেক লৌকিক এবং অতিপ্রাকৃতিক চরিত্রগুলো অথবা গল্পের চরিত্রগুলো এবং দিকপ্রকৃতি এটতাই আলাদা আলাদা,উদ্ভট যে একে অন্য কোন কিছুর সঙ্গে তুলনা করতে ইচ্ছা করে না,এমনকী টিম ক্লাম্প এর অন্য কাজগুলোর সঙ্গে ও নয় ।

আনিমে সিরিজের অন্যতম অর্জন হচ্ছে এর এনিমেশন, পরিচালক ৎসুতমু মিজুশিমা একেবারে ক্লাম্পের মেজাজে পরিচালনা করেছেন ।
এছাড়া এর ওপেনিং আর এন্ডিং থিমও ব্যাপক ।বিশেষ করে এপিসোড 24 অবধি চলা ওপেনিং সং “19 সাই” আমার অন্যতম প্রিয় আনিমে ওপেনিং ,গান সমেত ভিডিওতে একটা যাদু বাস্তবতার আবেশ আছে ।এছাড়া এপিসোড 37 অবধি চলা “নোবডি নোওজ” ও খুব প্রিয় ।দুটোই গেয়েছে শুনা(শুগা) শি(ই)কো ।তেমনি 37 এপিসোড ধরে চলা এন্ডিং সং “রিসন” যেন সিরিজ সম্পকেই কথা বলে ।

যারা পরাবাস্তব,অ অথবা অতিপ্রাকৃতিক অথবা যাদু বাস্তবতাধর্মী এবং কমেডি ধাঁচের কাজ পছন্দ তার অবশ্যই এক্স এক্স এক্স হোলিক সিরিজ ভালো লাগবে,আশা করি ।এরপরও এর একটা ভালো সিনেমাও আছে ।
ব্যাক্তিগতভাবে এই সিরিজটা আমার প্রিয় দশটা আনিমে সিরিজের অন্যতম ।পাঁচ বছর আগে আনিম্যাক্সে দেখার পরও অনলাইনে একাধিক বার দেখেছি ।আর হ্যাঁ, ড্রয়িং আর এনিমেশনে সরু সরু হাত পা টিম ক্লাম্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।

xxxHOLIC 6