এনিমে মুভি রিভিউ: Wolf Children — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আপনার কি কথোনো এমন অনুভূতি হয়েছে যে কোন কিছু দেখে বা পড়ে শেষে করে উঠেছেন কিন্তু তার ঘোর লেগে রয়েছে , যেন এক সুন্দর স্বপ্নরাজ্য থেকে ভ্রমন করে বাস্তবে ফিরে আসলেও তার মোহ কেটে না যাওয়া ? আমি সেই অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছি এই উলফ চিলড্রেন দেখে শেষ করার পড় । এক অসাধারন আনিমে চলচিত্র যা হাজারবার দেখলেও পুরানো হবে না ।

কাহিনী : কাহিনীর প্রধান চরিত্র হল এক হাস্যোজ্বল , প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুনী হানা । অন্যসব বাবা মা হারা তরুনীর মত সেও খন্ডকালীন চাকরি এবং পড়াশোনার মাধ্যমে উঠে দাড়ানোর চেষ্টা করছে । তো একদিন ইউনিভার্সিটিতে ক্লাসে সে এক নতুন তরুনের দেখা পেলো যে কোন টেক্সট বইয়ের সাহায্য ছাড়াই নোট নিচ্ছিল । হানা আগ্রহী হয়ে ছেলেটির সাথে পরিচিত হয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো যে সে কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র না । এই গম্ভীর আকর্ষনীয় তরুনের প্রতি হানা দুর্বল হয়ে পড়লো এবং তাদের মধ্যে প্রনয় হতেও বেশি টাইম নেয়নি । একদিন সেই যুবক হানাকে তার আসল পরিচয় দিল যে সে একজন নেঁকড়ে মানব । কিন্তু হানা সেই তরুনকে অন্তর দিয়ে ভালবেসেছে , বাহ্যিক ছবি কিছু না । তাদের সংসার শুরু হয় , তারা ২সন্তানের জনকও হয় । কিন্তু হানার স্বামীর মৃত্যু সবকিছুকে যেন বদলে দেয় । দুই অর্ধমানব অর্ধনেকড়ে সন্তান আমে এবং য়ুকিকে নিয়ে হানা শুরু করে তার জীবন সংগ্রাম । তাদের পরিচয় গোপনরেখে বড় করার জন্য সে তার স্বামীর জন্মান্চলে চলে যায় এবং সেখানে তাদের বড় করতে থাকে ।সে তার সন্তানদের পথ তাদের হাতেই ছেড়ে দেয় যে তার মানব জীবন না নেঁকড়ে জীবন বেছে নেবে । এই সদাহাস্য তরুনী হানার স্ট্রাগল নিয়েই এর কাহিনী ।

এই এনিমের আর্টস্টাইল ও গ্রাফিক্স মনোমুগ্দ্ধকর ও প্রশান্তিদায়ক । পাহাড়ে হানা যে বাড়ি ভাড়া নেয় তার বেসিনটার ছবি আমি ওয়ালপেপার হিসেবে ইউজ করেছি ! আমে এবং য়ুকির দুষ্টুমি আপনাকে যেমন আপনাকে হাসাবে তেমনি তাদের মানব সত্ত্বা ও নেকড়ে সত্ত্বার দোঁটানা এবং হানার একার সংগ্রাম আপনার হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যাবে । এটা একটা অবশ্য দেখা কর্তব্য মুভি । আপনি একবার দেখুন বা বারবার দেখুন , আপনি মুগ্দ্ধ হতেই থাকবেন !!
আমার রেটিং : 10/10

Wolf Children

Hyouka রিভিউ — Rafiul Alam

Hyouka (2012) রিভিউ :

“I don’t do anything I don’t have to. What I have to do, I do quickly.”

মনে হয় আমরা সবাই কম বেশি এই উক্তির সাথে পরিচিত এবং আমরা অনেকেই হোতারুর এই অমর বাক্যের সাথে ‘লাইকের সহিত একমত’ । হিওকা এমন এক ধরনের এনিমে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে। স্লাইস অফ লাইফ জানরার হাতে গোনা যে কয়েকটি এনিমে ভালো লেগেছে তার মাঝে হিওকা সম্ভবত চিরস্থায়ী।
-“কি কারণে হিওকা দেখব?”
ওয়েল….হিওকা মূলত মিস্ট্রি/ স্লাইস অফ লাইফ জানরার আনিমে। যার প্রায় সবটুকু স্কুল কেন্দ্রিক। নিউ ইয়ার ফেস্টিভাল, কিমোনো, চেরিব্লসম, হটস্প্রিং, স্কুল ফেস্টিভালের মত ক্লিশে কন্টেন্ট থাকা সত্ত্বেও প্রতেকটি এলিমেন্টের সদ্ব্যবহার করে পেসিং ধরে রেখে একের পর এক বুদ্ধির চমক উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে এনিমেটি। তাই কোন ধরনের ফ্যানসার্ভিস ছাড়া, যেকোন বয়সের উপযোগী ২২ এপিসোডের এনিমেটি অবসরে দেখতে আশা করি মোটেও খারাপ লাগবে না।

Synopsis : কামিয়ামা হাই স্কুলের ছাত্র ওরেকি হোতারু বড়ই কর্মবিমুখ। তার মতে, হাই স্কুলের জীবনকে সবাই চেরিব্লসমের মত গোলাপী মনে করে। তারুণ্য আর উদ্যমের প্রতীক। কিন্তু হোতারু নিজেকে ধুসর বলে দাবী করে। ফলে স্কুলের এত্তগুলো ক্লাব থাকা সত্ত্বেও কোন ক্লাবে সে নিজেকে জড়ায় না। কিন্তু হোতারুর শক্তি সঞ্চয় নীতিতে বাধ সাধে বিদেশ থেকে আসা বড় বোনের চিঠি। যাতে হোতারুকে বলা হয় স্কুলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাসিক ক্লাবে যোগ দিতে, যেটা নাকি বর্তমানে সদস্যের অভাবে মরণাপন্ন। হোতারুর বড় বোনও সেই ক্লাবের সদস্য ছিল। তাই বোনের নির্দেশ রক্ষা করতে হোতারু বাধ্য হয় ক্লাসিক ক্লাবে যোগ দিতে। তার সাথে যোগ দেয় তারই পুরানো বন্ধু, ফুকুবে সাতোশি।ক্লাবে পরিচয় ঘটে বিখ্যাত চিতান্দা পরিবারের চিতান্দা এরুর সাথে। পরে ক্লাবে যোগ দেয় ইবারা মায়াকা। যার সাথে আবার হোতারুর ঠান্ডা সম্পর্ক। তো এই চারজনের কল্যাণে ক্লাসিক লিটারেচার ক্লাব গতি পায়। ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে নানা ধরনের হেঁয়ালী আর রহস্যের সম্মুখীন হয় হোতারু বাহিনী। যার মাঝে আবার দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মানুষের নানা ধরনের অদ্ভুত ঘটনা স্থান পায়। হোতারু কি তার শক্তি সঞ্চয় নীতি ধরে রাখতে পারে? নাকি বন্ধুত্বের খাতিরে হার মানে? এই এক দ্বন্দ তৈরী করে কাহিনী এগিয়ে যায়।

Theme setup, Animation and Music : কিয়োটো এনিমেশনের কাজ। এনিমেশনে তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। জাপানের গ্রাম ও প্রকৃতি নান্দনিক ভাবে উপস্থাপন করছে। ডেপথ অফ ফিল্ডের ব্যবহার বেশ কার্যকরী ছিল। তারা যেভাবে আলো ছায়া তুলে ধরেছে আর ফ্লুইড ক্যারেক্টার মুভমেন্ট তৈরী করেছে, তাতে এনিমেশন যেন প্রাণ পেয়েছে । ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকেও বেশ দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কল্যাণে চমৎকারভাবে সাসপেন্সের আবহ তৈরী হয়েছে। বিটোভেন আর ব্যাচের ক্লাসিকাল মিউজিক (cello suite no.1, prelude) সিনগুলোর সাথে খুব ভালোভাবে মিলে গেছে।

Characters Setup : গল্পের প্রধান চরিত্র হোতারুর উপর ফোকাসটা একটু বেশি ছিল। গম্ভীর চেহারার শক্তিসঞ্চয়ী হোতারুর নিজের অজান্তেই খোলস থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারটি দর্শকদের জন্য বেশ উপভোগ্য ছিল। হোতারুর বন্ধু সাতোশি হল হাসিখুশি, ইজিগোয়িং, অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভাণ্ডার। নিজেকে ‘ডাটাবেজ’ বলে দাবী করে। সম্পদশালী চিতান্দা পরিবারের মেয়ে চিতান্দা এরু মারাত্মক কৈতুহলী। চোখ বড় বড় করে যখন সে হোতারুকে বলে, “ওয়াতাশি কিনিনারিমাস!”, তখন হোতারু শক্তি খরচে বাধ্য হয়। ইবারা মায়াকা ছোট খাটো গড়নের সহজ সরল মেয়ে। যদিও সে নিজে, ও সবার উপর খানিকটা কঠোর। দিনশেষে, ক্লাসিক ক্লাবের এই চতুষ্টয় বেশ কর্মঠ, ক্লাবের জন্য নিবেদিত প্রাণ। আর হ্যা…হোতারুর বড় বোনের চেহারা কোন এক অজানা কারণে ঢেকে রাখা হয়। রহস্যের এনিমেতে এমন রহস্য তো থাকতেই পারে!

Overall Rating : MyAnimeList.net Rating : 8.20
IMDb Rating : 7.9

OST : https://goo.gl/MUt7f6

Hyouka

এনিমে রিভিউ: বেক: মঙ্গোলিয়ান চপ স্কোয়াড — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আজকালকার যান্ত্রিকযুগে সবাই ব্যাস্ত । কেউ অফিসে , কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবাই কোন না কোন কাজে ব্যাস্ত । ফলে স্বভাবতই স্ট্রেস , ক্লান্তি , হতাশা এগুলো বড়সমস্যা । কিন্তু এগুলো কাঁটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় কি তাহলে ? তা হল সঙ্গীত । মিউজিকের চেয়ে স্ট্রসরিলিভার আর কিছু হয় না । গল্পের বই পড়ছেন পাশে চলছে হেমন্ত অথবা মান্নাদের ক্ল্যাসিকাল ধ্রুপদ গান । বাসে দাড়িয়ে আছেন কানে বাজছে এড শিরান অথবা কোল্ডপ্লে আবার সারাদিনের ঝামেল শেষ করে স্ট্রেস থেকে মুক্তির জন্য আমার মতো মেটালহেডরা ডুব দি আয়রন মেইডন অথবা এলুভিটির দুনিয়ায় । এখন এই মিউজিকাল স্লাইস অফ লাইফ নিয়ে বহুত এনিমে হয়েছে , কিন্তু তার ৯০শতাংশ ক্ল্যাসিকাল ।রকব্যান্ড নিয়ে যে কয়টি এনিমে হয়েছে তার মধ্যে সেরা এবং সম্ভবত মিউজিকাল জানরার মধ্যে অন্যতম সেরা এনিমে হল বেক ।

Beck 1
কাহিনী : এই কাহিনী যাকে ঘিরে , তার নাম য়ুকিয়ো তানাকা বা সংক্ষেপে কোয়ুকি । সে একজন অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্র এবং তার দৈনন্দিন জীবনের উপর বিরক্ত , কোন শখ বা টার্গেট না থাকলে যা হয় আর কি ! তো একদিন একটি অদ্ভূত দেখতে কুকুরকে শয়তান ছোকরাদের হাত থেকে বাঁচানোর সময় পরিচয় হয় বেক নামক কুকুরের মালিক মিউজিশিয়ান গিটারিস্ট রিয়ুসকের সাথে । এবং এই রিয়ুসকেই ধীরে ধীরে বদলে দেয় কোয়ুকির জীবন । রিয়ুসকের ফলে কোয়ুকি ধীরে ধীরে পশ্চিমা রক সঙ্গীতের দিকে আকর্ষিত হতে থাকে । সে একসময় গিটার শেখা শুরু করে এবং তার সুন্দর কন্ঠ এবং নিষ্ঠার ফলে একসময় রিয়ুসকের নবগঠিত ব্যান্ড বেকে যোগদেয় । এবং এর সদস্য চিবা , টারিয়া ,সাকুরাই এবং রিয়ুসকের সত্‍ বোন মাহোর সাথে কোয়ুকির দৈনন্দিন জীবন এবং বেকব্যান্ডের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা নিয়েই এই এনিমে । একটা রকব্যান্ডকে যে কত বাধাবিপত্তি সমস্যার মুখে পড়তে পারে এবং মিউজিশিয়ানদের স্ট্রাগল এবং ব্যান্ডের ভাঙ্গাগড়া নিয়েই এই এনিমের প্লটলাইন ।

Beck 2
প্রথম কথা হল ব্যাকের এনিমে এডাপ্টেশন করেছে ম্যাডহাউজ ,সুতরাং এনিমেশন কোয়ালিটি ভালো । এবং এর মূল আকর্ষন হল এর রিয়েলিস্টিক স্টোরিলাইন । সাধারনত মিউজিকাল এনিমেতে কিছু ফ্ল্যাশি সিন থাকে কিন্তু বেক দেখিয়েছে বাস্তবতাকে এবং সকল প্রকার ফ্ল্যাশি সিন বিবর্জিত আরও যে ব্যান্ড গঠন করলেই সব হয় না , তা ধরে রাখতে হয় । এখানে প্রত্যেক ক্যারেকটারের দৈনন্দিন জীবন নিখুত ভাবে দেখানো হয়েছে । এখন আসি সাউন্ডট্রাকের কথায় । এ ব্যান্ড হল ওয়ের্স্টান রকসঙ্গীত দ্বারা প্রভাবিত . তো বেকের ট্র্যাকগুলো ইংরেজিতে । তত্‍কালিন জাপানে ফ্রেডি , বিটলস , জিমি হেনড্রিক্স , লেড জ্যাপলিন এদের সঙ্গীত যে প্রভাব বিস্তার করেছিল তা এই এনিমে দেখলেই বোঝা যাবে । এবং এরা এই এনিমেতে একবার দেখাও দেয় !ট্রাকগুলো খুবই সুন্দর তবে আহামরি নয় । কোন ব্যান্ড গঠিত হলেই যে অসাধারন গান করতে হবে এমন কোন কথা আছে নাকি !?
এনিমে পর্ব মাত্র ২৬টি । এবং এই এনিমে অবশ্যই ডাবে দেখার চেষ্টা করবেন । আর এই এনিমে দেখার পর যখন অর্থহীন , শূন্য ,আর্টসেলের বা অন্য ব্যান্ডের গান শুনতে যাবেন , তখন হয়ত এই ব্যান্ডগুলোর শুরুর দিকে কি স্ট্রাগল করতে হয়েছে তা আপনার কল্পনায় উঁকি দিয়ে যাবে এবং সাক্ষী হবেন এক মিউজিশিয়ানের বেড়ে ওঠা , তো সময় থাকলে দেখে ফেলুন বেক মঙ্গোলিয়ান চপ স্কোয়াড !
আমার রেটিং ৯/১০

Ending theme: http://www.youtube.com/watch?v=HFOnL-XnCEM

এনিমে রিভিউঃ The Tatami Galaxy — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
The Tatami Galaxy
পর্ব সংখ্যা: ১১
জনরা: Mystery, Psychological, Romance
স্টুডিও: Madhouse
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৬৫
আমার রেটিং: ৯/১০

Tatami Galaxy

আমরা মনে মনে প্রায়ই বলি, “ইশ!! আজ যদি এই কাজটা না করে অই কাজটা করতাম তাহলে আজ আমার এই পরিণতি হত না।” বিশেষ করে আমাদের জিবনে হতাশা নেমে আসলে আমরা এই ধরণের কথা বার্তা বেশি বলি। এখন প্রশ্ন হল হতাশা কি? হতাশা আসলে কিছুই না। মানুশের নিজস্ব অসন্তুষ্টি থেকেই হতাশার উৎপত্তি। আমরা যদি অন্য রাস্তা ধরে হাঁটতাম আমাদের ভাগ্যের কি কোন পরিবর্তন হত? নাকি শেষ পরিনতি একই হত? মানুষের এই ধরণের আকাঙ্খা, অশান্তি আর হতাশাকে কেন্দ্র করেই ‘The Tatami Galaxy’ এনিমের কাহিনী রচিত।

এনিমের কেন্দ্রিয় চরিত্র ওয়াতাশি। সে তার কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। কিন্তু তার মনে নেই কোন সুখ, নেই কোন শান্তি। সে তার অতিতকে পরিবর্তন করতে চায়। তার ধারণা সে যদি অন্য ক্লাবে যোগ দিত বা অন্য কাজ করত তাহলে তার এই হাল হত না; সে হয়তবা খুঁজে পেত তার ‘rose colored life’। তার এই ইচ্ছা পুরন হয় এবং সে পুনরায় ফিরে যায় তার দুই বছর আগের জিবনে। কিন্তু প্রতিবারই তার এই অসন্তুষ্টি থেকে যায়। মনে হয় যেন সে একটা গালাক্সির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে, যে গালাক্সি তার ৪.৫ টাটামি দিয়ে তৈরি ঘরের গালাক্সি। এইজন্যেই মনে হয় এনিমের নাম ‘The Tatami Galaxy’ দেয়া হয়েছে। যাই হোক এই ওয়াতাশিসহ আকাশি, অজু, হিগুচি নামের আরও অনেক ক্যারেক্টারকে কেন্দ্র করেই টাটামি গালাক্সির কাহিনী শুরু।

আমার কাছে টাটামি গালাক্সি খুব ভাল লেগেছে। যদিও আর্টস্টাইল কিছুতা অদ্ভুত ছিল। তারপরেও কয়েকটা এপিসোড দেখার পর সমস্যা হয় নেই। আর কমেডি হিসেবেই এনিমেটা চমৎকার ছিল। ওয়াতাশি আর অজুর কাজকর্ম দেখে অনেক হেসেছি। টাটামি গালাক্সি দেখে যে কেউই মজা পাবেন। আর কাহিনীর শেষটাও অত্যন্ত চমৎকার। তাই সময় পেলে দেখে ফেলুন স্টুডিও ম্যাডহাউস প্রযোজিত ১১ এপিসোডের এই অসাধরন এনিমেটি।

আনিমে রিভিউ: Mekakucity Actors — Munim Dipto

আনিমে: Mekakucity Actors
জানরা (Genre): অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল, ট্র্যাজেডি
এপিসোড সংখ্যা: ১২

4ba92a696df012b3aaa6b846a4da8121

গল্প (Story): জানরাতে ট্র্যাজেডি দেখে হতাশ হওার দরকার নাই। ট্র্যাজেডি থাকলেই যে আনিমে দেখা শেষে আপনাকে চোখের পানি ফেলতে হবে এমন কোন কথা নেই। কিছু অসাধারন গ্যাগ, সিরিয়াসনেস আর ট্র্যাজেডির সংমিশ্রনে তৈরি আমিনেটি আর দশটা আনিমের থেকে আলাদা। জানরাতে রোমান্স না থাকলেও হাল্কা রোমান্স প্লট আছে। বেশ কিছু ক্যারেক্টারের আলাদা কাহিনী নিয়ে গল্প। কাহিনী শুরুতে আলাদা মনে হলেও প্রতিটা সেগমেন্টের মধ্যে লিংক আছে। ধীরে ধীরে যা একটা সিঙ্গেল স্টোরিলাইনে আসে। প্রতিটা এপিসোডে গল্পের পেস চেঞ্জ হয়। বেকার, ঘরকুনো কিসারাগি শিন্তারো কে দিয়ে কাহিনীর শুরু। ধীরে ধীরে কাহিনীতে প্রবেশ করে আইডল মোমো, কিদো, কানো, সেতো এবং মারি সহ আরো অনেকে। এদের সবারই সুপারন্যাচারাল ক্ষমতা আছে। তবে এরা মোটেও সুপারহিরো না। কারন জনসাধারণের সেবা তো দূরে থাক, এরা নিজেদের ঝামেলা মিটাতেই হিমশিম খায়। কার সুপারন্যাচারাল পাওয়ার কেমন? তো কী ঝামেলাই বা তাদের? কী এমন ট্র্যাজেডি আছে তাদের জীবনে? জানতে চাইলে দেখে ফেলুন আনিমেটি।
আমার স্কোরঃ ৭/১০

শব্দ (Sound Effects): মাত্র ১২ পর্বের ভেতর এতগুলো OST মিউজিক খুব কম আনিমেতেই পাওয়া যায়। ওপেনিং এবং এন্ডিং সঙ ছাড়াও গল্পের ভিতর হঠাত করেই বাংলা সিনেমার মতো গান শুরু হবে। গানগুলো শুনতে খারাপ নয়, এমনকি দুয়েকটা গান আপনার মিউজিক প্লে-লিস্টে অ্যাডও হয়ে যেতে পারে। ক্যারেক্টারের ভয়েস একদম পারফেক্ট। SFX ও পারফেক্ট।
আমার স্কোরঃ ৮/১০

অ্যানিমেশন (GFX): স্টুডিও শ্যাফট এর অ্যানিমেশন। প্রতিনিয়তই এদের অ্যানিমেশন খুবই ইউনিক। কালার ও কনট্রাস্টের ঘাটতি নেই একদম। তবে যারা এই জাতীয় অ্যানিমেশনের সাথে পরিচিত না তাদের কাছে প্রথমে অদ্ভুত লাগবে এবং এডজাস্ট হতে একটু সময় লাগতে পারে। তবে মোটেও খারাপ লাগবে না আশা করা যায়।
আমার স্কোরঃ ৮/১০

কেন দেখবেন (Enjoyment): ভাল লাগলে এক আসরে দেখে ফেলার মতো কারন এর থ্রিলে ঢুকে পরলে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে। গল্পে অনেক রূপসী নারীর দেখা পাবেন। ছেলে ক্যারেক্টার গুলাও যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। রেগুলার আনিমের ভীড়ে পেস চেঞ্জ করার জন্য আনিমেটি দেখতে পারেন।
আমার স্কোরঃ ৭/১০

প্রতিকূলতা (Con): অনেক সেগমেন্ট একসাথে থাকায় শুরুতে মাথায় জট লাগতে পারে। তাই প্রথম ৩ এপিসোড একটু খাপছাড়া লাগবে। জনপ্রিয় আনিমে মোনোগাতারি সিরিজের সাথে অনেক দিক দিয়ে মিল পাওয়া যাবে। এমনকি ক্যারেক্টারেও মিল পাবেন। তবে এটাকে ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক ভাবে নিবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করবে।

ওভারঅল: আপনার দেখা সেরা আনিমের লিস্টে হয়ত এটি স্থান পাবে না। তবে ভাল কিছু আনিমের মধ্যে থাকবে আশা করা যায়। তাই যারা এখনও দেখেননি দেখে নিতে পারেন।
পার্সোনাল অভারঅল রেটিং ৭.৫/১০

বিঃদ্রঃ আনিমেটি দেখার সময় এন্ডিং সঙ এর পরে আরও একটি স্টোরি সেগমেন্ট আছে যেটা বাদ দেবেন না।

মাঙ্গা রিভিউ: Tales Of The Unusual — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

যারা রেগুলারলি হরর মাঙ্গা পড়েন বা শর্ট হরর মাঙ্গার ভক্ত তাদের কাছে The Red Book এবং Fuan no Tame মাঙ্গা পরিচিত নাম । এদুটো মাঙ্গার বৈষিট্য হচ্ছে ১-২ পৃষ্ঠার মধ্যে একেকটি হরর কাহিনী এবং প্রায় সংলাপহীন । এর মধ্যে দ্যা রেড বুক আবার কালারড । এখন দ্যা টেলস অফ দি আনইউজুয়াল এই টাইপের মাঙ্গা তবে এর কাহিনী বড় এবং সংলাপযুক্ত ।
এই মাঙ্গার কাহিনী বিভিন্ন ধরনের হরর নিয়ে । সবগুলোতেই ভূতপ্রেত নিয়ে কাহিনী না বরং এর মধ্যে সায়েন্সফিকশনাল হররও আছে । যেমন স্বপ্নে হত্যার অর্ডার দেয়া , নতুন ধরনের বিউটি লোশন যা আপনাকে সুন্দর কর তুলবে কিন্তু অতিরিক্ত ব্যাবহার আপনাকে পুরোই বদলে দেবে , ফ্রান্সিস কাফকার মেটামরফসিস গল্পের ছায়া নিয়েও একটা গল্প আছে আরও আছে স্কন্দ্ধকাঁটা যাদুকরসহ আরও অনেক কিছু ।
মাঙ্গার আর্টস্টাইলকে ঠিক সুন্দর বলা যাবে না ,কিন্তু হররমাঙ্গার আর্ট সুন্দর আশা করা কি উচিত !? কালারিং মাঙ্গা হওয়ায় পড়ে মজা আছে । এটা অনগোয়িং মাঙ্গা এবং এর সর্বশেষ ১০৭টি চ্যাপ্টার বের হয়েছে । আপনি যদি ফুয়ান নো তামে এবং রেড বুকের ভক্ত হন . তাহলে অবশ্যই এই মাঙ্গাটি ট্রাই করে দেখবেন । আশা করি কিছু হলেও ভয় লাগবে !
আমার রেটিং : 7/10

tou 1tou 2

এনিমে রিভিউ: Time of Eve — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমাদের মানুষদের মধ্যে একটা এরোগ্যান্ট ভাব আছে যে , মানুষ ছাড়া অন্য কোন কিছু ইমোশন অনুভব করতে পারবে না । মানুষ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরী করতে পারবে এবং মনে করতে পারে যে এই বুদ্ধিমত্তাকেও আমারা নিয়ন্ত্রনও করতে পারবে । কিন্তু সবসময় সবকিছু প্ল্যান অনুয়ায়ী হয় না । এখন এই এনিমের কাহিনী আগায় ভবিষ্যত নিয়ে যেখান এন্ড্রয়েড রোবট প্রাত্যহিক জীবনে সহজলভ্য ,এন্ড্রয়েড থেকে মানুষকে আলাদা করা যায় শুধু তাদের মাথার উপরকার হলোগ্রাফিক রিং দেখে । এদের মধ্যকার অজানা অনুভূতি নিয়েই এনিমের কাহিনী ।

Eve 1

এই এনিমের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে রিকোও সাকিসাকা । সে একজন মেধাবী ছাত্র এবং ট্যালেন্টেড পিয়ানোবাদক । কিন্তু এক অনুষ্ঠানে একটি রোবটের পিয়ানো বাজানো শুনে সে একই সাথে মুগ্দ্ধ এবং বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে । তার বাসায় অন্যসবার মতোও একটি এন্ড্রয়েড কাজ করে । এই এন্ড্রয়েড এর প্রত্যেকদিনকার কর্মকান্ড চেক করতে গিয়ে একদিন সে খাপছাড়া কিছু লক্ষ্য করে । একটি নির্দিষ্ট টাইমের জন্য তাদের স্যামি নামের এন্ড্রয়েড রোবটটি অনুপস্থিত ছিল এবং সে সময়কার জাগায় একটি অদ্ভুত কথা লেখা ” Are you enjoying the time of eve ? ,, এবং তার বন্দ্ধুকে নিয়ে খুজে বের করে এক ক্যাফে যার নাম ” Time of eve ,, এবং সেখানের নিয়ম হচ্ছে মানুষ এবং রোবটের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না । সেখানে গিয়ে সে আবিষ্কার করে যে রোবটদের মধ্যেও মনুষ্য আবেগ আছে এবং রোবোটিক্সের ৩ আইনের মধ্যকার কয়েকটি ফাকাফোকড় এর ফলে রোবটরাও মালিকের কাছ থেকে মিথ্যা বলে তথ্য গোপন রাখতে পারে ।রিকোও এটা প্রথমে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না । কেননা রিকোওর আশংকা রোবটরা মানুষকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে । কিন্তু তা কি সত্যিই , নাকি রোবটরা শুধু চায় একটু স্নেহ , ভালবাসা পেতে ? কি হয় সামনে ?
এটি একটি অসাধারন সায়েন্স ফিকশন স্লাইস অফ লাইফ । এটার মাত্র ৬টি এপিসোড এবং একেকটি ১৫মিনিটের । এটাকে আবার মুভি হিসেবেও রিলিজ দেওয়া হয়েছে । এই এনিমের আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর এবং বেশ ঠান্ডা ধরনের এনিমে । যদিও এন্ডিংটা কিছু প্রশ্ন রেখে যায় মনে ।সময় থাকলে এবং মাথা ঠান্ডা করা নরমাল কিছু দেখতে চাইলে শুরু করে দিন দেখা Time of Eve !
আমার রেটিং: 7/10

Eve 2

মাঙ্গা রিভিউ: A Bride’s Story — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

আমার সাধারনত রোমান্স বা সেইনেন টাইপের মাঙ্গা বেশি ভালো লাগেনা । কিন্তু সব রোমান্স মাঙ্গাই যে একরকম নয় তা এই মাঙ্গা পড়ার পরে বুঝতে পেরেছি । হিস্টোরি , রোমান্স এবং স্লাইস অফ লাইফ এর অপূর্ব সংমিশ্রন এবং আরব বেদুঈনদের জীবন কাহিনী নিয়ে খুবই সুন্দর মাঙ্গা ।
এই মাঙ্গার কাহিনীর পটভূমি ১৮০০ শতকের শেষের দিককার । এই কাহিনীর মূল ক্যারেকটার হচ্ছে আমিরা হালগাল । সে একজন ২০ বছর বয়সী যাযাবর নারী এবং তার স্বামী কারলুক তার চেয়ে বয়সে ৮ বছরের ছোট । তখনকার যুগে এইজ ডিফারেন্স কোন ব্যাপার ছিল না । আমিরা এবং কারলুকের বিয়ের আগে কেউ কাউকে চিনতো না , এখন হয়তো অনেকে ভাবছেন তাদের মধ্যকার ঝামেলা নিয়ে কাহিনী , কিন্তু আসলে তা নয় । ২জনের কারও এইজ ডিফারেন্স নিয়ে মাথাব্যাথা নেই এবং তাদের মধ্যকার যে ভালবাসা তাতেও কোন খাদ নেই । আমির এবং কারলুক ও তাদের পরিবারের দৈনন্দিন জীবন নিয়েই এই কাহিনী । এর মধ্যে কিছু সাইড স্টোরি আছে এবং তাও যথেষ্ট সুন্দর ।

এই মাঙ্গার চোখে পড়ার মতো প্রথম জিনিস হলো আর্ট । অতিরিক্ত সুন্দর এবং ডিটেইলড আর্ট আপনার চোখকে মাঙ্গায় আঁটকে রাখবে । আরব ক্যালিগ্রাফী এবং ডিজাইন এলিমেন্টের সুন্দর ব্যাবহার মাঙ্গায় করা হয়েছে । এবং আরব বেদুঈনদের দৈনন্দিন জীবন যাপন সম্পর্কে রিয়েলস্টিক ধারনা পাবেন ।কিছু ইচি এলিমেন্ট আছে এবং ২একটা সাইড স্টোরি কিছুটা খাপ ছাড়া লেগেছে কিন্তু সবদিকদিয়ে মাঙ্গাটা আমার খুবই ভালো লেগেছে । যারা হাইস্কুল টিনএজার রোমান্স বা গতবাধা লাভস্টোরি পড়ে ক্লান্ত তারা অবশ্যই এই মাঙ্গাটা ট্রাই করে দেখবেন । তাহলে পড়তে শুরু করুন , চ্যাপ্টার ৫০টা বের হয়েছে এবং অনগোয়িং ।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে ।

আমার রেটিং : ৮/১০a bride's story

এনিমে রিভিউ : Parasyte The Maxim — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

you guys do not notice
that we are gifted just
by being humans,
we are absolute predator
এনিমের ওপেনিং যদি এইরকম লাইন দিয়ে শুরু হয় তাহলে আপনা আপনিই এই এনিমে দেখার জন্য আপনার মন ছটফট করা শুরু করবে । এই ওপেনিং শুরুই হয়েছে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষনা দিয়ে । আমরা অন টপ অফ দা ফুড চেইন । এই নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই । কিন্তু সত্যিই কি আমরা শ্রেষ্ঠ ? এখন আমরা যদি পৃথিবীকে একটি জীবন্ত বস্তু বলে বিবেচনা করি তাহলে আমরা পৃথিবীর কাছে কি ? ভাইরাস , ব্যাকটেরিয়সহ আরও নানা ধরনের পরজীবি জীব কোন প্রাণীর শরীরে বাসা বাধে , বংশবৃদ্ধি করে লক্ষ লক্ষ হারে শরীরে ছড়িয়ে পরে এবং পোষকদেহকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে । তাহলে দেখা যায় যে মানুষরাও একধরনের পরজীবিই । আমাদের পৃথিবীকে রোগাক্রান্ত করে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছি । কিন্তু প্রকৃতি কি প্রতিরোধ করবে না ?
এখন আসি এনিমের কাহিনীতে । প্যারাসাইটের মূল নায়ক ইজুমি শিনচি একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট । প্রত্যেকদিনের মতোই ঘুম থেকে উঠে স্কুলে গেলেন , কিন্তু খেয়াল হলো তার ডান হাত কিছুটা অবশ । তো অসুস্থ বোধ করে বাসায় ফেরার পথে চোখের সামনে দেখতে পেলেন একটি বাচ্চা গাড়ির নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছে । কিছু বোঝার আগেই ইজুমি বাচ্চাটাকে আগলে ডান হাত দিয়ে গাড়ি থামিয়ে দিল এবং আবিষ্কার করল তার ডান হাত আসলে ডান হাত নেই । পরিনত হয়েছে আরেকটি জীবন্ত সত্ত্বায় । এই প্যারসিটিক সত্ত্বার নাম সে দিল মিগি যার অর্থ ডান হাত । এবং এই মিগির কাছ থেকে জানতে পারলো যে মিগির উদ্দেশ্য ছিল তার ব্রেইন দখল করা যা করতে মিগি ব্যার্থ হয়েছে এবং মিগি শুধু একলাই নয় , আরও প্যারাসাইট আছে যাদের জন্মমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ হত্যা । কে এই প্যারাসাইটদের পাঠিয়েছে ? এদের উদ্দেশ্য কি ? এরাই কি প্রকৃতির ডিফেন্স মেকানিজম । এবং শিনচির জীবনে কি নারকীয় কান্ড ঘটতে যাচ্ছে ? জানতে হলে দেখা শুরু করুন।

Parasyte 1
প্যারাসাইটের পর্ব সংখ্যা ২৪টি । এর ওপিনেং সং ই বলতে গেলে এর ৫০% আকর্ষন । পাঙ্ক মেটালকোর টাইপের ব্যান্ড Fear and lothin in lusvegas এর ট্র্যাক Let me hear গানটি একবারও কেটে যেতে পারবেন না বলে আমি মনে করি । আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর । তবে কাহিনী শেষের দিকে কিছুটা ইনকম্প্লিট লেগেছে । এর সাইড ক্যারেকটারগুলোও আকর্ষনীয় যেমন : তামুরা রিওকো , কানা এবং গৌটো । এই সাইকোলজিকাল হরর আপনাকে নিরাশ করবে না বলে দিতে পারি ।
আমার রেটিং : 8/10
Op:

Parasyte 2

মাঙ্গা রিভিউ : Ibitsu — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ : Ibitsu ( ইবিতসু )

মানুষের মন বড়ই বিচিত্র । কখোনো তা কল্পানপ্রবন , শিশুতোষ এবং শিল্পমনার প্রকাশ এবং কখোনো তা অবসেসিভ এবং স্যাডিসটিক এবং তা কখোনো বাইরের রুপ দেখে বোঝা যায় না । ধরুন বাসে এক সুন্দরী মেয়ে আপনার পাশে বসল , আপনার সাথে গায়ে পড়ে আলাপ করা শুরু করল এবং একসপ্তাহ পর আপনার লাশ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ড্রেনে খুঁজে পাওয়া গেল । মানুষের মন সত্যিই বড় বিচিত্র । ইবিতসু তেমনি এক সাধারন পরস্থিতি থেকে নারকীয় পরিস্থিতিতে মোড় নেওয়া কাহিনী ।

Ibitsu 1

কাহিনী : কাজুকি একজন তরুন মাঙ্গাকা । বাবা-মা এবং ছোটবোন নিয়ে তার সুখী পরিবার । একদিন রাতে আবর্জনা ডাস্টবিন ফেলার সময় খেয়াল করে ডাস্টবিনে কসপ্লের পোশাক পড়ে এক মেয়ে বসে আছে । যথারীতি পাগল ভেবে কাজুকি ময়লা ফেলে ফিরতি পথ ধরে বসল তখন হঠাত্‍ মেয়েটা জিঙ্গাসা করল “তোমার কি ছোটবোন আছে ? .. তখন কাজুকি উত্তর না দিতে গিয়েও বলল আছে । কাজুকি কি জানে সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছে এই উত্তর দিয়ে এবং প্রবেশ করেছে এক স্যাডিসটিক সাইকোপ্যাথ মেয়ের ভ্রাতাশিকার তালিকায় । বাকি কাহীনি জানতে হলে শুরু করে দিন মাঙ্গা পড়া ।

আমার পড়া সাইকোপ্যাথ হররের মধ্য সেরাগুলোর একটি । মাঙ্গার আর্ট বেশ ভালো । ১৪ চ্যাপ্টারের ছোটমাঙ্গা । এবং এর মধ্য দুটো সাইডস্টোরি আছে । প্রচলিত ভৌতিক গুজব যদি সত্যি হয় তাহলে যে তার মাত্রা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা রিয়ো হারুকা এ মাঙ্গায় দেখিয়েছেন । সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ইবাসুকি !
আমার রেটিং : ৮/১০

Ibitsu 2