Homunculus রিভিউ — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ : Homunculus

Homunculus কথাটা শুনলেই প্রথমে দুটা জিনিস মনে আস । প্রথম হল এর আসল অর্থ যার মানে হল কৃত্রিমভাবে তৈরি মিনিয়েচার মানুষ , আর আমরা যারা কম বেশি এনিমে দেখসি তাদের মনে আসে ফুলমেটাল এলকেমিস্টের ৭মহাপাপের Homunculus . এখন এই মাঙ্গায় আমাদের সাইকোলজিকাল হোমানকুলাস নিয়েই কাহিনী ।
কাহিনীর কেন্দ্র হচ্ছে সুসুমু নাকাশি যাকে কাহিনীর শুরুতে দেখা যাবে একজন বেকার সহায় সম্বলহীন মানুষ হিসেবে । তার সম্বল বলতে একটা ছোট গাড়ি যেটার মধ্যেই সে থাকে । অর্থাত্‍ মাথায় ছাদ নাই কিন্তু গাড়ি আছে ! তো একদিন আরামসে ঘুমানোর আয়োজন করার সময় এক অদ্ভুত্‍ বেশধারী লোক তার সাথে দেখা করে . এবং প্রস্তাব দেয় যদি নাকাশি তার নিজের মাথায় সেই ব্যাক্তি যার নাম মানাবু ইতো কে পরীক্ষা করতে দিতে রাজি হয় তাহলে সে তাকে ৭মিলিয়ন ইয়েন দেবে । আর পরীক্ষটা হলো তার মাথার খুলিতে সে একটি ফুটো করে দেবে , এর ফলে মস্তিকে রক্ত চলাচল বাড়বে এবং যার ফলে হয়তোবা সুসুমু তার ষষ্ঠইন্দ্রিয়কে আবিষ্কার করতে পারবে । হ্যাঁ , এই অদ্ভুত দেখতে মেডিকেল স্টুডেন্ড মানাবুর আগ্রহ হচ্ছে মানুষের সিক্সথ সেনস নিয়ে গবেষনা করা । যা হোক প্রথমে নাকাশি রাজি না হলেও , পড়ে পেটের দায়ে রাজি হয় । অপারেশন সফল হলেও প্রথমে তার কোন সিক্সথ সেনসই টের পায় না । তো কয়েকদিন পর রাস্তায় হঠাত্‍ করে চলার সময় তার বা চোখে বালি ঢোকে এবং বাঁ চোখ বন্দ্ধ করার সাথে সাথে দেখে যে তার চারপাশের মানুষের চেহারা বডি ফিগার অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছে । কেউ কাগজের মত পাতলা , কেউ বালুর বডি দিয়ে তৈরি আবার কেউ নরমালই আছে । এটাই কি তার নতুন পাওয়া ক্ষমতা ? পরে মানাবু ইতোর সাথে যোগাযোগ করার পর যে হাইপোথিসিস দাড়া করানো যায় তা হলো নাকাশির চোখে তার আশেপাশের সানারন মানুষগুলো বাইরের খোলস ভেদ করে তাদের ভিতরকার বেদনা , কামনা এবং অবদমিত অনুভূতি তার চোখে মানসিক Homunculus হয়ে ধরা দিচ্ছে । এরপর কি হয় ? নাকাশির আসল কাহিনী কি ? জানতে হলে পড়া শুরু করে দিন Homunculus ।
মাঙ্গার কাহিনী খুবই ভালো এবং মাঙ্গার আর্টও উন্নত মানের । তবে এর মধ্যে যথেষ্ট ম্যাচিউর এবং বেশ কিছু ডিস্টার্বিং সিন আছে যা অনেকের কাছে খারাপ লাগতে পারে । তবে মাঙ্গাটা ধৈর্য ধরে পড়লে ভালোই লাগবে । ভলিউম সংখ্যা মাত্র ১৬টি । তা হলে সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ইয়ামাতা হিদেওর সৃষ্ট Homunculus .
আমার রেটিং : 8/10 ।

Homunculus

উমারুপাখ্যান — Maruf Raihan

–ভাইয়া,আজকে কিন্ত আমাকে তুমি বারবির স্টিকার কিনে দিবাই দিবা!! নাইলে?!!

–নাইলে কি? আমি মাত্র কুইজ দিয়া বাসায় আসছি। এখন আমার মরা দাদা কবর ফেড়ে বাইর হইলেও এই সোফা থেকে নড়তেছি না।

–ওই,ওই,(চুল টানারত) এত্ত ঘাড়ামি কইরো না… ওই! ওই!

–আরে ধুর,আনতেসি……

এটা হল আমার আর আমার ছোট বোনের ক্লান্ত বিকেলের কথোপকথন। জ্বালাতন বললেও বলতে পারেন তবে দিনশেষে অসুস্থ হলে ঘুমের ঘোরে কোমল হাতে ঠিকই জলপট্টি দিতে তাকে দেখা যায়।যদিও সুস্থ হবার পরে তার বক্তব্য — “হুহ! ঠেকা পড়ছে তোমার মাথায় পানি দিতে আমার”

যাদের ছোট বোন নেই,তারা হয়ত সেন্টিমেন্টটা ধরতে নাও পারেন।কিন্তু ছোট বোন আর ভাইয়ের সম্পর্কের কেমিস্ট্রি Maze Box এর চেয়েও অস্পষ্ট।

এত্তগুলা কথা বললাম ১২ পর্বের এক এনিমে সিরিজ এর কথা বলার জন্য।মাশাহিকো ওহতা পরিচালিত “Himouto! Umaru-Chan”,যা ইতোমধ্যেই বছরের সেরা কমেডি সিরিজের খেতাবের বেশ ভালো দাবিদারে পরিণত হয়েছে। পুরো গল্পটা প্রিয় উমারু দোমা কে নিয়ে। সুশীলা,সুন্দরী,মেধাবী আর পরিপাটি মেয়ে হিসেবে স্কুলে,ঘরে ,বাহিরে তার নাম-ডাক। কিন্তু চারদেয়ালের ভেতর মানুষের আসল চেহারা বোঝা যায় তো……

উমারুর কথা

১২ এপিসোডের হাস্যরসাত্নক,পাগলাটে এই এনিমেটা নিয়ে লিখতে গেলে বলতে হয় উমারু চ্যান এর কথোপকথন আর কাজ-কারবার,তার এহেন সব কান্ড কারখানাই দর্শক জমিয়ে রাখতে যথেষ্ট।আরেক চরিত্র তাইহেই দোমা,উমারুর (হতভাগা নাকি ভাগ্যবান) ওনি-চ্যান।গল্প শুরু হয় উমারুর বিখ্যাত প্রত্যাবরতন(স্কুল থেকে বাসায়)।কিভাবে সেকেন্ডের মধ্যে দীপ্তিময়ী পারফেক্ট হাইস্কুল আইডল গুটি গুটি হাত পা আর ডিম্বাকার মুখ নিয়ে পরিণত হয় অন্যরকম এক চরিত্রে।উমারুর কম্পিউটারের কীবোর্ডের জন্য বড্ড মায়া হয়- কেননা এ ব্যাটার ওপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার যায়।আর কোকা-কোলা,পেপসি কোম্পানিগুলোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তো উমারু-চ্যান নিজেই।উমারু চ্যানের সাথে সাক্ষাত পেতে চটজলদি শুরু করে দিন উমারু-চ্যান।

umarup

উমারু ছাড়া আর কি কেউ নাই??

“উমারু ছাড়া কি আর কোন চরিত্র নাই?” না,আছে।অবশ্যই আছে,আমাদের মধ্যে যারা ওয়াইফুখোর(এচ্চিখোর আর হারেমখোর) আছেন তারা এবিনা নানা চরিত্রটির সাথে অবশ্যই পরিচিত।গ্রাম থেকে টোকিও তে পড়ালেখার জন্য আসা,সর্বক্ষণ ভুলত্রুটির চিন্তায় ব্যস্ত,ঠিকমত কথা গুছিয়ে উঠতে না পারা,Dialect বা উপভাষা পাছে মুখ ফসকে বেরিয়ে না যায় সেজন্য সর্বদা তটস্থ থাকা— এমন দিকগুলোর কারণে চরিত্রটি চোখে লাগার মত।

তবে উমারুর পরপরই আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হল মতোবা বোম্বার।বিশেষত তার চুলের স্টাইলটাই বেশি ভালো লেগেছে।আর কথায় কথায় তার মুখভঙ্গি আর সংলাপের তো কথাই নেই……
আর বিরক্তিকর লেগেছে তাচিবানা সিলফিনফোরডকে।তার চোখের আইরিস,কথাবার্তা,মনে হয় এখনই লাফ দিয়া পানিতে পড়বে এমন উদ্ভট-চাঞ্চল্য থাকায় যতক্ষণ এনিমেটা দেখেছি,এই চরিত্রটি আসলেই— “দরকার ছিল এই চরিত্রটার!! -_-
আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল,উমারু-চ্যান আবার অতিমাত্রায় অলরাউন্ডার,দিনরাত গেইম,এনিমে,মুভি আর খাওয়া নিয়ে পরে থাকলেও এনিমু লজিক অনুসারে তিনি ১০০ তে ১০০ বরাবরই পান।আর প্যারোডির কথা বলতেই হয়।জুন পিস মাঙ্গার বড় ভক্ত উমারু তাই স্ট্র হ্যাট পরা অবস্থায়ও দেখা গেছে তাকে। আর উমারু-চ্যানের গেমিং স্কিল তো লাজবাব।

OST

ওপেনিং টা নিয়ে বলতে গেলে—-
“এনিমেটা দেখার সময় একটা এপিসোডেও ওপেনিং স্কিপ করা হয়নি”
অর্থাৎ ওপেনিং টা না দেখলে চলেই না। দেখে ফেলুন ওপেনিংটা—

এন্ডিং টাও বেশ ভালো।
https://www.youtube.com/watch?v=H-5L6Ffp2Ko

উমারুপাখ্যান ও কিছু কথা—

সাম্প্রতিক সময়ে উমারু নিয়ে এনিমখোরে কিছু মন্তব্য—

“আমি তাইহেই এর জায়গায় থাকলে থাপরাইয়া উমারুর গাল ফাটায়া দিতাম”

“উমারু ইজ লাভ,উমারু ইজ লাইফ”

“উমারু চ্যান হল Double-Bladed Sword”

“উমারুকে ঘৃণা করা মানে যে নিজের এক সত্ত্বাকে ঘৃণা করা তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন??”

“উমারু-চ্যান সারক্ষণ গেইম খেইলাও ১০০ পায় আর আমি।হায়রে!!”

এখন কাজের কথায় আসা যাক,উমারু-চ্যানের ভক্তের অভাব নেই,আমি নিজেই তাদের মধ্যে একজন। আর উমারুর প্রতি বিরক্ত আর উমারু-হেটারও আছেন অনেকে।আমরা গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করি(যদিও সরকার হয় ভোট ছাড়া) তাই সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কিছু কথা বলা যাক।আপনার যদি ছোট বোন না থাকে তাহলে আপনার কাছে উমারু বিরক্তিকর লাগতেই পারে।কারণটা শুরুতে বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে।যারা ছোট বোন আছেন,এবং বড় ভাই আছেন তাদের ব্যপারে উমারু খারাপ লাগার কারন—

১।ভাইয়ের কাছে ইচ্ছামত আবদার ………
২।আমি আমার ভাইরে জ্বালাতন করে কিছু আদায় করতে পারলাম না সারাজীবন আর এই উমারু কিনা………
৩।অসামাজিক বা ঘরকুনো জীবনযাপন পছন্দ করেন না
৪।অজানা কারণ –“কেন জানি উমারুকে ভালো লাগে নাই” এই কারণ

উমারু নিয়ে এত কথা বললাম কেন,হ্যা কেন……
ছোট বোন বড় ভাইকে জ্বালাবে বা আবদার করবে সেটা সহজাত ব্যাপার।এটাকে সহজভাবে নিতে না পারাটা ব্যরথতা,আর উমারু-চ্যান এনিমের শেষের দিকের কয়েকটা এপিসোড দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন উমারু চ্যান এতটাও খারাপ না যতটা ভাবছেন।
রেটিং-(ব্যক্তিগত) ৭.৮
গল্প- ৭.২ চরিত্র- ৮.৮

Girls und Panzer: Anime Review — ইমামুল কবির রিভু

Girls und Panzer
জনরা: মিলিটারি, স্কুল

স্টোরি: গার্লস উন্দ পানযারের কভারটা দেখলে অনেকেই ধারণা করতে পারেন হয়তো ললি দিয়ে ভরা সাধারণ কোন মোয়ে আনিমে। যদি তা ভেবে থাকুন, তাইলে বলব আপনার ধারণা কিছুটা ভুল । আনিমেটার কাহিনী মূলত ন্যাশনাল ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই । বেশ সাধারণ কাহিনী, তবে বিস্ময়কর বিষয়গুলো হল ম্যাচের মাঝে মূল চরিত্রের ব্যবহার করা ট্যাকটিক্সগুলো । ম্যাচ যখন তাদের প্রতিকুলে তখন বেশ অসাধারণ ভাবে ম্যাচকে নিজেদের অনুকুলে নিয়ে আসার উপায়গুলো সত্যি অসাধারণ ছিল। আর বেশি কিছু বলব না, মাত্র ১২ পর্বের বেশ ভালো আনিমে আর বাকিটুকু আপনার দেখে নেওয়ার দায়িত্ব।

আর্ট: আনিমেটার আর্ট বেশ ভালোই । কিছু কিছু জায়গায় CG এফেক্টের কাজও ছিল, সাধারণত CG এফেক্ট একটুও ভাল্লাগে না । তবে আমার এই পর্যন্ত দেখা কোন আনিমের মধ্যে এই আনিমেটায় সবচেয়ে অসাধারণ CG এফেক্টের কাজ ছিল এই আনিমেতে । এই CG এফেক্টের ব্যবহারের জন্যই হয়তো এই ট্যাঙ্কগুলোর চলাচল নির্ভুলভাবে আনিমেটিতে তুলে ধরতে পেরেছে ।

gnp 1
সাউন্ড: আনিমেটার ওএসটি অত্যন্ত সুন্দর । ওপেনিং-এন্ডিংগুলাও বেশ ভালো । এন্ডিং-এর ‘Enter Enter MISSION!’ গানটা বেশ ভালো লেগেছে । এছাড়া ইন্সার্ট মিউজিকগুলাও অসম্ভব রকমের ভালো । আনিমেটায় ট্যাঙ্কের মাঝে লড়াইয়ের সময় যুদ্ধের থিম ব্যবহার করেছে, যা একেবারেই পরিস্থিতির সঙ্গে বেশ মানানসই ছিল । ইন্সার্ট মিউজিকের মধ্যে ‘কাৎয়ুশা’ (https://goo.gl/rH32AY) বেশ ভালো লেগেছিল । আর এই ভিডিওটি দেখার পর বলে দেওয়া লাগবে না যে ভুলেও আনিমেটির ইংরেজি ডাব্ড ভার্সন ধরতে না । আনিমেটার ভয়েস আক্টিং বেশ ভালো ছিল । বিশেষ করে কায়ানো আই, ইগুচি ইয়ূকা, কানেমোতো হিসাকো, তানাকা রিয়ে, নাবাতামে হিতোমি, কাওয়াসুমি আয়াকো, কিতামুরা এরি এদের কণ্ঠ-অভিনয় অসম্ভব রকমের ভালো ছিল আনিমেটিতে । এছাড়া আরও অনেক ভালো কণ্ঠ-অভিনেত্রীরাও আনিমেটিতে ছিল, যেমন ফুকুয়েন মিসাতো,আয়া হিরানো, উয়েসাকা সুমিরে, উয়েদা কানা । আকেসাকা সাতোমি, কোমাৎসু মিকাকো এবং ইসে মারিয়াও ছিল কিন্তু বেশ মাইনোর রোলে অবশ্য ।

চরিত্র: আনিমেটাতে অনেক রকমের চরিত্র ছিল । বিশেষ করে অনেক চরিত্র-ই দ্বীতিয় বিশ্ব যুদ্ধের রণ নায়কদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন । আনিমেটার ন্যাশনাল ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপে একেক স্কুল একেক জাতিকেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আপনি আনিমেটি দেখলে সহজেই বিষয়টি ধরতে পারবেন এবং কারা কোন জাতির প্রতিনিধি তাও বুঝতে পারবেন। ওয়ারাই গার্ল্স হাইস্কুলের চরিত্রদের মধ্যে বেশ ভালো রকমের ক্যারাক্টার ডেভেলপমেন্ট ঘটেছে, যদিও তা অন্য চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না অবশ্য তারা মূল চরিত্রও না । এত্তগুলো চরিত্রর মাধে কেউ কে না কেউ আপনার ভালো লাগবেই, আমার ব্যক্তিগত পছন্দ কাৎয়ুশা, নিশিযুমি মাহো এবং তাকেবে সাওরি এই তিনটি চরিত্র।

gnp 2

শেষে যা বলব, সবমিলিয়ে আনিমেটি বহুত উপভোগ করেছি । ট্যাঙ্ক ফাইটের মাঝে ব্যবহার করা ট্যাকটিক্সগুলো বেশ ভালো লেগেছিলও । প্রাভডা গার্ল্স হাইস্কুলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল ম্যাচটা আমার মতে সেরা ম্যাচ ছিল । আনিমেটি দেখার সময় কেন জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে কিছু ফার্স্ট পার্সন শুটিং গেমের ভাইব পেয়েছি, যদিও আনিমের আক্শনগুলো পুরোটাই ট্যাঙ্কের মধ্যে লড়াইয়ের উপর ভিত্তি করে । ম্যাচের টুইস্টগুলো দেখে অনেকটা আইশিল্ড ২১-এর কথাও মনে পরেছিল । আনিমেটায় অনেক শিক্ষণীয় জিনিশপত্র ছিল । ট্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন যুদ্ধ সম্পর্কে প্রচুর ধারণা পাবেন আনিমেটি দেখলে। আমার যেই বিষয়টি বিস্ময়কর লেগেছিল তা হল, এত দিন জানতাম পোর্শে একটি গাড়ির কোম্পানি কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে তারা অনেক ভয়ানক ট্যাঙ্কও তৈরি করেছে তা হয়তো এই আনিমেটি না দেখলে জানতামও না। ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপের প্রত্যেকটি ম্যাচই অনেক প্রতিযোগিতামূলক ছিল । মাত্র ১২ পর্বের আনিমে কিন্তু অনেক ভালো । মিলিটারি জনরার কথা উঠলেই মানুষ সাধারণত কানতাই কালেকশনের কথা মাথায় আনে তবে বলতে পারবো যে কানতাই কালেকশন এবং স্ট্রাইক উইচেসের চেয়ে তুলনামূলক-ভাবে এই আনিমেটি বেশি ভালো । আনিমেটির ৩ টি পর্ব ধৈর্য ধরে দেখুন, যদি ভালো লেগে যায় তাইলে বলতে পারবো এক টানে শেষ না করে উঠতে পারবেন না । আর ট্যাঙ্কয়োন্দো যদি ভালো লেগে থাকে তাইলে ওভিএটিও দেখতে পারুন ওইখানেও আরেকটি স্কুলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আছে আর একটি সিকুয়েল মুভিও আছে আনিমেটির কিন্তু মুভিটির সাব এখনও বাইর হয় নি। যাই হোক, আশা করি সময় নিয়ে আনিমেটি দেখবেন এবং হয়তো ভালোও লাগবে।

Ayakashi : Japanese Classic Horror রিভিউ — Rahima Jahan Mitu

Ayakashi 3

Ayakashi : Japanese Classic Horror
Episodes – 11
Rating – 8/10

Horror মানে আসলে কি? ভূত-প্রেতাত্মা, খুন, রক্তারক্তি? আমার মনে হয় হরর সেটাই, যখন মানুষের কিছু কাজ ট্রাজেডি সৃষ্টি করে, আর সেটা দেখে আপনার মুখ দিয়ে আপনা-আপনা বেরিয়ে আসবে – “Truly horrific.” এই সিরিজের দ্বিতীয় কাহিনী দেখে সেটাই মনে পড়ে গেল।

Mononoke আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি সিরিজ। Ayakashi, Mononoke এর প্রিকুয়েল জেনে আমি এটা আজকে দেখে শেষ করলাম। ১১ টা পর্ব ৩ টা স্টোরি আর্কে ভাগ করা। প্রথম, দ্বিতীয় কাহিনী জাপানিজ ক্লাসিক হরর। ৩য় কাহিনীতে Mononoke এর সেই medicine-seller আছে। ১ম কাহিনী Tenshu Monogatari। এটাকে আসলে আমার কাছে হররের বদলে অনেকটা একটা রোমান্টিক কাহিনীই মনে হয়েছে। ২য় কাহিনী Yotsuya Kaidan। এটা সম্পর্কে প্রথমেই বলেছি। প্রায় দু’শ বছর আগের একটা কাবুকি নাটকের কাহিনী এটি। তবে মূল কাহিনী থেকে এনিমেটি একটু ভিন্ন। ৩য় কাহিনী Bake Neko। Mononoke এর তুলনায় এটাতেই বরং আমি medicine-seller এর চেহারায় বেশি এক্সপ্রেশন দেখতে পেয়েছি। হয়ত এই চরিত্রকে দর্শকদের কাছে আরো বেশি intriguing করে তোলার জন্য পরে Mononoke তে তাকে আগের তুলনায় ভাবলেশহীন দেখানো হয়েছে। অথবা কাহিনীর কারণেও হতে পারে।

Ayakashi 1

Mononke তে আমি বিভিন্ন জায়গায় যে ost শুনেছি এখানেও সেগুলো পেয়েছি। Creepy when creepy, touchy when touchy. Ost আমার কাছে ভাল লেগেছে। ওপেনিং সংটা র‍্যাপ। আমি ঠিক র‍্যাপের ভক্ত না হলেও এটা চলার সময় খারাপ লাগেনি। তবে এন্ডিং সংটা আসলেই ভাল লেগেছে। লিরিকস আহামরি মনে না হলেও ভয়েসটা খুব soothing. Natsume Yuujinchou ১ম সিজনের এন্ডিংটাও এই ধরনের স্টাইলে গাওয়া।

Bake Neko এর আর্ট স্টাইল Mononoke এর। এর আগের পর্বগুলোতে এই ইউনিক স্টাইলটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে খারাপ না।

যারা আমার মত Mononoke দেখে শেষ করে এটাকে মিস করছেন তারা নিশ্চিন্তে এই সিরিজ দেখে ফেলতে পারেন, এটা পুরোপুরি Mononoke এর মত না হলেও হতাশ হবে না। আর যারা কোনোটিই দেখেননি তাদের আমি আগে আয়াকাশি দেখে পরে মনোনকে দেখতে সাজেস্ট করব।

কেন দেখবেন এই সিরিজ? সহজ কথা, যদি horrified হতে চান তাহলে দেখুন। আমি অনেক হরর মুভি, এনিমে, হ্যান-ত্যান দেখেছি। ভালগুলো scary, বাকিগুলো boring. একমাত্র এটি এবং Mononoke আমার কাছে horrific মনে হয়েছে।

Ayakashi 2

এনিমে রিভিউ: Pet Shop Of Horror — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মানুষের একাকিত্ব বেশি হয়ে গেলে তা ঘোচানোর জন্য মাঝে মধ্যে মানুষের সাহচার্য ছাড়াও অনেক সময় গৃহপালিত প্রানীর সাহচার্যের প্রয়োজন হয়ে থাকে । এবং এসব প্রানী পাওয়ার উপায় হল পেটশপ , কিন্তু সেখান থেকে কেনা প্রানী হয় যদি কোন মিথলজিকাল জন্তু যা তার জাতের একমাত্র এবং তা আপনার পাপ পুণ্য , অদমিত ইচ্ছা এবং লালসার প্রতিচ্ছবি হয় তাহলে কি হবে ? পেট শপ অফ হরর সেইরকম একটি এনিমে , যেখানে মডার্ন যুগের সাথে মিথলজি , সাইকোলজির এবং হররেরমিশেল ঘটানো হয়েছে এবং তার সফল উপস্থাপন করা হয়েছে ।
কাহিনী : আমেরিকার লাসভেগাসের চায়না টাউনে আছে এক অদ্ভূত পেট শপ । যেখানে বহু ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদের প্রায়ই দেখা যায় । এবং সন্দেহের বিষয় হল এ দোকানের কিছু ক্রেতা প্রায়ই শহরের মধ্যে খুন হয় এবং তা আপাতদৃষ্টিতে বন্যপ্রানীর আক্রমনে । সুতরাং এক ডিটেকটিভ যোগাযোগ করে পেট শপের দোকানদার কাউন্ট ডি এর সাথে । তখন কাউন্ট ডি ই তাকে সোজা কাহিনী বলে দেয় । প্রত্যেকটি প্রানী বিক্রির সময় কিছু শর্ত মানতে হবে , যার মধ্যে প্রধান শর্ত হল জন্তুটি কাউকে দেখানো যাবে না । এরপর থাকে প্রানীভেদে আলাদা শর্ত । কেউ যদি এই শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে তার ফলাফলের জন্য ক্রেতাই দায়ী থাকবে এই মর্মে চুক্তিপত্র সই করতে হবে । কিন্তু এই বিক্রি হওয়া প্রানীগুলো কি এবং এই মৃত্যুর পেছনের কাহীনি কি জানতে হলে এনিমেটি দেখা শুরু করে দিন ।
এনিমেটির মাত্র চার পর্ব । এবং একেকটি পর্ব একেকটি পুরো গল্প । ওপেনিং সং এই এনিমেতে নেই , আর্টস্টাইল মোটামুটি সুন্দর এবং কাহিনী বর্ননার ধরন বেশ ভালো । আর এটার ডাব ও সাবের , দুটোর মানই ভালো । সুতরাং হাতে সময় থাকলে চট করে দেখে ফেলুন পেট শপ অফ হররস।
আমার রেটিং: ৮/১০

pet shop of horror

মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Koe no Katachi, Onani Master Kurosawa ও Aku no Hana — Rezo D. Skylight

মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Koe no Katachi, Onani Master KurosawaAku no Hana

মানুষ তার নিজেকে বদলে কিভাবে নতুন মানুষে পরিণত হতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ Koe no Katachi, Onani Master Kurosawa এবং Aku no Hana এই তিনটি মাঙ্গায় খুব ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই মাঙ্গাগুলো না পড়ে থাকলে পড়তে পারেন। পড়লে অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে। এমনকি আপনার ফেভরাইট মাঙ্গাতেও পরিণত হতে পারে। যে কোন ‘স্লাইস অফ লাইফ’ জনরার ফ্যানদের জন্য এগুলো ‘Must Read’ মাঙ্গা।

3 in 1

Koe no Katachi:
প্রথমে Koe no Katachi এর কথায় আসি। Koe no Katachi তে প্রথমে কিছুটা সাইকোলজিকাল টাইপের থাকে। পরবর্তীতে অনেকটা লাইট হার্টেড হয়ে যায়। তবে এর প্রতিটি ক্যারেক্টারই ইন্টারেস্টিং, যদিও দুই একটা অত্যন্ত বিরক্তিকর ক্যারেক্টার রয়েছে। এই মাঙ্গায় বুলি করা ব্যাপারটাকে ভালো ভাবে দেখানো হয়েছে। অবশ্য পরবর্তীতে গিয়ে প্রত্যেকের মধ্যেই পরিবর্তন আসে আর সবাই সবাইকে বুঝতে শুরু করে। সবমিলিয়ে, Koe no Katachi বেশ ভালো একটা মাঙ্গা। এন্ডিংও বেশ ভালো। তাই এই মাঙ্গাটা একবার পড়ে দেখুন, অবশ্যই ভালো লাগবে। আর্টও বেশ ভালো। আর সামনে বছর Kyoani এর এনিমে মুভি অ্যাডাপশন নিয়ে আসছে, এখন তার অপেক্ষায় বসে আছি।

চ্যাপ্টারঃ ৬৪
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.৬৭
আমার রেটিংঃ ১০/১০

Onani Master Kurosawa:
Onani Master Kurosawa কিছুটা বেতিক্রমধর্মী মাঙ্গা (Doujinshi)। প্রথম চ্যাপ্টার পড়ে অনেকেই এর থিম দেখে পিছপা হতে পারে। কিন্তুু আপনারা যদি ধৈর্য নিয়ে পুরো মাঙ্গাটা পড়তে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে এই মাঙ্গা আপনার অন্যতম ফেভরাইট স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গায় পরিণত হবে। তবে মাঙ্গার মেইন ক্যারেক্টার কুরোসাওয়া বেশ ইন্টারেস্টিং। তার চরিত্রের সাথে অনেকটাই ‘ডেথ নোট’ এর লাইটের মিল আছে। মাঙ্গার শুরুতে কুরোসাওয়া ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার হয় এবং পরবর্তীতে নানা ধরনের কুকর্ম করতে থাকে। কিন্তুু একটা সময়ে তার ভুল বুঝতে পারে এবং সে নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে। এভাবে Onani Master Kurosawa-র কাহিনী খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। এর এন্ডিং খুব চমৎকার। মাঙ্গার আর্ট কিছুটা বাজে। তবে আমার কাছে ওভারওল মাঙ্গাটা খুব ভালো লেগেছে।

চ্যাপ্টারঃ ৩১
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.৬৪
আমার রেটিংঃ ১০/১০

Aku no Hana:
উপরের দুইটি মাঙ্গা থেকে Aku no Hana সবচেয়ে বেতিক্রম। তবে এর কাহিনীর শুরুটাও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে, যা অনেকটা Onani Master Kurosawa-র মতো। তবে বাকি কাহিনী সম্পূর্ণ আলাদা। এর সাইকোলজিকাল এলিমেন্ট তুলুনামূলক অনেক বেশি। তাই সাইকোলজিকাল যাদের ভালো লাগে না তাদের না পড়াই ভালো। এই মাঙ্গা প্রথমে আমার কাছে খুব ডিস্টার্বিং মনে হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুব মেজাজ গরম হয়েছিল, মনে হয়েছিল ড্রপ মারি। কিন্তুু শেষ করার পর বুঝলাম মাঙ্গাটা আসলে কত ভালো। অর্থাৎ শুরুটা কিছুটা বিরক্তিকর হলেও শেষমেশ Aku no Hana খুব ভালো একটা মাঙ্গায় পরিণত হয়। কিছু ক্যারেক্টার এখানে খুব বিরক্তিকর ছিল। তারপরেও মাঙ্গার শেষ পর্যায়ে গিয়ে সবাইকে ভালো লেগেছে। এর ১৩ এপিসোডের এনিমে অ্যাডাপশনও আছে। কিন্তুু ‘Rotoscoping animation’ ব্যাবহার করার জন্যে অ্যাডাপশন খুব বাজে হয়েছে। তাই এনিমে না দেখাই ভালো। মাঙ্গার আর্ট অনেক ভালো।

চ্যাপ্টারঃ ৫৮
মাইএনিমেলিস্ট রেটিংঃ ৮.২০
আমার রেটিংঃ ১০/১০

যারা একটু বেতিক্রমধর্মী স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গা খুঁজছেন তারা এই তিনটি মাঙ্গা পড়ে দেখতে পারেন। আমার কাছে এই তিনটি মাঙ্গার প্রতিটিই অনেক ভালো লেগেছে। বলতে গেলে এই তিনটি মাঙ্গাই আমার পড়া সেরা স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গার তালিকায় থাকবে।

অনন্য মাঙ্গা আসর – ২ (Harem Lodge)

সাসাহারা মিদোরি নামের এক মেয়ের প্রবাসী বাবা মেয়ের জন্য জীবনসঙ্গী ঠিক করে রেখেছেন এবং ,মেয়েকে ভবিষ্যৎ স্বামীর কাছে প্রেরণও করেছেন। সেই ছেলেটি হল তেতসুয়া কাতাগিরি। এক্সপ্রেশনলেস সহজ সরল এক ছেলে। আর যে বাড়িতে গিয়ে তারা ঊঠল তা রেন্টাল এপার্টমেন্ট “Harem Lodge” …………………

 

আর এভাবেই শুরু হয়ে যায় মিদোরি-তেতসুয়ার গল্প নিয়ে শর্ট লেন্থের মাঙ্গা “Harem Lodge” . ৯ চাপ্টারের শৌজো রোমান্টিক মাংগাটি সর্বোপরি ভালো। ক্যারেক্টার সাজানো,চোখে লাগার মত ব্যাকস্টোরি থাকায় গল্পরস পূর্ণ।

oma 1

 

রোমান্টিক ভাইব ও এনভারোমেন্ট মাঙ্গার প্রথম চাপ্টার থেকেই পাওয়া যাবে। আর হারেম লজের বসবাসকারীরা নিতান্তই স্বাভাবিক নন,অদ্ভুত সব চরিত্রের অবতারণা করা হয়েছে এখানে।

 

আয়ুমু ওয়াকাতসুকি যাকে অনেক সময় মানুষ মেয়ে ভেবে ফেলেন,আসলে উনি ছেলে …

 

শুইচি ওডা,এনার ব্যাপারে বললে স্পয়লার হয়ে যাবে তবে  ছবি দুটো দেখলেই বুঝতে পারবেন ক্যারেক্টার টা কেমন …

oma 2

তবে মাঙ্গার প্রথমদিকে কোরিয়ান মানহয়ার মত সরলরৈখিক রোমান্স মনে হলেও পরবর্তীতে হালকা প্লট টুইস্ট আছে,ব্যাকস্টোরী আর ফ্লাশব্যাক দিয়ে পুরো মাঙ্গার ধরনকেই যেন পালটে দেওয়া হয়েছে। আর হারেম লজের অধিবাসীদের প্রতিদিনকার জীবন এর জায়াগাগুলোয় হালকা হাসির খোরাক পেতেই পারেন।

 

আর মাঙ্গার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে এই মাঙ্গাটির ঘাটতি ব্যাপক। “””আর্টওয়ার্ক”””

 

মাংগাটির আঁকা মিশ্র,কভার ও গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলোতে আঁকা নিয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও,ফ্ল্যাশব্যাক ও ব্যাকস্টোরির সময় তেতসুয়া আর মিদোরির চেহারা দেখলে রীতিমত মেজাজ খারাপ হয়ে যেতে পারে। এত্ত সিরিয়াস অংশে এসে মাঙ্গাটির আঁকার এ বেহাল দশা কেন?? তাই আঁকা নিয়ে অতি উৎসাহী ও “দেখতেই ভালো লাগে না চেহারা তাই এটা ভালো না” এধরনের দর্শকদের ভালো লাগা সুনিশ্চিত না।

 

আর খুব তাড়াহুড়া করে মাঙ্গাটি শেষ করা হয়েছে বলে স্টোরিলাইনকে কেবল “ভালো” , আঁট ভাষায় “মোটামুটি” বললে তর্কের জায়গা নেই।

 

মাঙ্গাটি একদিন ফ্রি টাইম পেলে পড়ে ফেলতে পারেন,আশা করি ভালো লাগবে।

 

মাঙ্গাটির রচয়িতা শিজুকি ফুজিসাওয়া, মাইএনিমেলিস্টে রেটিং দেওয়া হয়েছে ৭.৬৯  ……

 

সামনে আরো একটা মাঙ্গা নিয়ে হাজির হব , সে পর্যন্ত সাইয়োনারা ^_^

 

মাঙ্গা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন………

মাঙ্গা রিভিউ :উযুমাকি (Uzumaki) — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

মাঙ্গা রিভিউ :উযুমাকি (Uzumaki)
আমাদের যদি প্রশ্ন করা হয় যে , ছোটবেলায় কোন জেনারের বই সবচেয়ে বেশি কেনা হয়েছে? তাহলে আমার ধারনা বেশিরভাগই বলবে ভূতের । ছোটবেলায় টম সাহেবের বাংলো , সতীনাথ ভাদূড়ি ,বনফুল এর লেখা ভূতের গল্প ছোটবেলায় লেপের নিচে পড়ার অভিঙ্গতা আমাদের অনেকেরি আছে । এরপর আসে সত্যজিত্‍ রায়ের অসাধারন মাস্টারপিসগুলো যেমন ফ্রিত্‍স , খগম , ভূতো , বৃহচন্চু ইত্যাদি । এসব গল্পের বিল্ডিং এবং কাহিনী বর্ননা অসাধারন। এখন আসব মাঙ্গাকার কথায় । জুনজি ইতো জাপানের সের হরর মাঙ্গাকার মধ্যে একজন । এবং তার মাঙ্গাগুলোর স্বাদ অনেকটাই সত্যজিত্‍ রায়ের ভৌতিক ছোট গল্পের মত । উযুমাকি সেরকমের একটি গল্প । এবং এই গল্পের মেইন বিষয় হলো রহস্যময় স্পাইরাল । জ্বী এই কাহিনীর অভিশাপ কোন জীবের নয় বরং একটি জ্যামিতিক কার্ভের ।

কাহিনী : জাপানের উপকূলের একটি ছোট শহর কুরোজো । এই শহরের দুই অধিবাসী হল কিরি গোশিমা এবং তার বয়ফ্রেন্ড সুইচি সাইতো । কাহিনী শুরু হয় এই সুইচির বাবাকে নিয়েই , যে স্পাইরালে আসক্ত । সে স্পাইরালের প্যাটার্নযুক্ত কিছুই সংগ্রহ করত । এবং তার জীবনের শেষ হয় নিজেকে স্পাইরালে পরিনীত করতে গিয়ে । এবং পরে সুইচির মায়েরও মৃত্যু হয় স্পাইরাল ভীতিতে । তখন থেকে শহরে শুরু হয় স্পাইরালের কার্স ।শহরের যে কোন শবদাহ করার পর যে ধোয়া বের হয় স্পাইরাল আকৃতির । আরও শুরু হয় খুলির স্পাইরাল ভোয়েডে হারিয়ে যাওয়া , মানুষ শামুকে পরিনত হওয়া , গর্ভবতী ভ্যাম্পায়ার মায়ের দল এবং প্রেমিক সাইক্লোন যা কিরিকে নিয়ে যেতে চায় । বাকি কাহিনী মাঙ্গা পড়েই জেনে নিন ।

মাঙ্গার আর্টস্টাইল যথেষ্ট রিয়েলিস্টিক এবং ডিটেইলড , বিশেষ করে হরর পার্টগুলো । কাহিনী শেষের দিকে যথেষ্ট প্যাচালো । কিন্তু তাও না পড়ে থাকা যায় না ।
আমার রেটিং : 9/10
সুতরাং গভীর রাতে পড়া শুরু করে দিন ২০ চাপ্টারের উযুমাকি । আশা করি শৈশবের সেই গা ছমছমে অনুভূতি ফিরে আসবে ।

uzumaki

মানহয়া রিভিউ: For the Sake of Sita — Rumman Raihan

মানহয়া রিভিউ

ফর দা সেইক অফ সীতা।

তালেজু দেবী একবার মর্ত্যে এসেছিলেন রমণী বেশে । নেপালের রাজা দেবতুল্য সেই রমণীর রুপ দেখে এক অন্ধ লালসায় মত্ত হয়ে কেরে নেন দেবীর সতীত্ব। দেবী এতে ক্রুদ্ধ হয়ে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ লিখে দেন রাজার কপালে। ফিরে জান স্বর্গালোকে। অতঃপর রাজা যখন নিজের পাপ সম্পর্কে বুঝতে পারেন, তখন তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তালেজু ভবানী গড়ে তুলেন দেবীর পূজার জন্য। ( কয়দিন আগে নেপালের ভূমিকম্পে যে তালেজু ভবানী ও কুমারি মন্দিরের ক্ষতি হয়েছিল।) দয়াময় দেবী তখন এক শর্ত দেন রাজাকে। একজন কুমারী মেয়ে শিশুকে বেছে আনতে। দেবী সেই শিশুর শরীরে আগমন করবেন আর সবাই এই কুমারির কাছে আরাধনা করবে।
না, গল্পটি কোনো মিথোলজিক্যাল গল্প নয়। কিন্তু, কুমারী পূজা, রি-ইঙ্কারনেশন এর ছায়া আছে গল্প টিতে।
গল্পের নায়িকার নাম ঝর্ণা সীতা। সব কুমারির নামই হয় সীতা। তবে সব সীতাই কুমারী হয় না। কোরিয়ান এক যুবক মেডিক্যাল স্টুডেন্ট হয়ে নেপালে আসে। প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলে সীতাকে। বিয়ে করে নিজের দেশে নিয়ে আসে সীতাকে। কিন্তু ভাগ্যের এক নির্মম পরিহাসে ভেঙ্গে যায় তাদের সুখের জীবন। এ কি সেই দেবীর মহাকালের অভিশাপ?

কুমারী প্রথার এক অন্য বিচিত্র রূপ ধরা পরেছে এই অসাধারন ভালোবাসার গল্পে। মানহাটির আর্টস্টাইল সম্পূর্ণ আলাদা। উপমহাদেশের সংস্কৃতির অনেক উপাদান আছে এখানে। পড়ে ফেলুন আজ তাহলে!

For the Sake of Sita
Art and Story: Haga
Genre: Mystery, Romance, Tragedy
Chapters: 14
Status: Completed
Published: From November 2014 to August 2015
LINE Webtoons Rating: 9.39

seeta 1 seeta 2

মাঙ্গা রিভিউঃ Kamisama ga Uso wo Tsuku / The Gods Lie — Rezo D. Skylight

Kamisama ga Uso wo Tsuku / The Gods Lie

Volumes: 1
Chapters: 5
Status: Finished
Published: Mar 25, 2013 to Jul 25, 2013
Genres: Drama, Romance, School, Slice of Life, Seinen
Authors: Ozaki, Kaori (Story & Art)
Serialization: Afternoon
MAL Score: 8.31
Ranked: 317

the gods lie

কাহিনীর শুরুটা হয় নাতসুরু নামের ১১ বছরের এক বালকের দৈনন্দিন জীবনের গল্প নিয়ে। সে ফুটবল খেলেতে খুব পছন্দ করত এবং মেয়েদেরকে সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করত। বলতে গেলে মেয়েরাই তাকে ইগনোর করে চলতো। তার বাবা মারা যাওয়া সত্তেও, সে ও তার মা একসাথে বেশ সুখ-শান্তিতেই বসবাস করত। এভাবেই তার দিন কাটছিল। কিন্তুু গ্রীষ্মের বন্ধের কিছুদিন আগে প্রয়োজনে পড়ে সে তার ক্লাসের সুযুমুরা নামের এক মেয়ের সাথে কথা বলা শুরু করে। আস্তে আস্তে নাতসুরু সেই মেয়ের পারিবারিক কষ্টের জীবন সম্পর্কে জানা শুরু করে। এরপর গ্রীষ্মকালের ছুটিতে সে তার বন্ধুদের সাথে স্কুল ক্যাম্পিং এ না গিয়ে সুযুমুরার বাড়ি বেড়াতে যায়। কারণ সে নিজেও চায় তাদের অংশ হয়ে তাদের এই কষ্টকর পরিস্থিতি উপ্লব্ধি করতে।

আমারা অনেকেই দারিদ্রতা কি তা সহজে উপলব্ধি করতে পারিনা। যদি আমরা তাদের সমাজে গিয়ে বসবাস করি তাহলেই আমরা তাদের দুঃখ কষ্টের ব্যাপারটা বুঝতে পারব। আর ঠিক এই ব্যাপারটাই এই মাঙ্গায় খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। এছাড়া এখানে রোমানস ও স্কুল-লাইফকেও ভালোভাবে তুলে ধরেছে।

ক্যারেক্টারের কথা বলতে গেলে সব ক্যারেক্টারকেই আমার বেশ ভালো লেগেছে। তবে বিশেষ করে সুযুমুরাকে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। কারণ এত কম বয়সের একজন মেয়ে হয়েও, সে পুরো পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে নিয়েছে। তার এই শক্তিশালী মনোবলের জন্যই মনে হয় তাকে অন্যান্য ক্যারেক্টারদের থেকে একটু আলাদা করে দেখেছি।

মাঙ্গার আর্টও যথেষ্ট ভালো। বিশেষ করে ক্যারেক্টার ডিজাইন আর ডিটেইলিং বেশ সুন্দর। এর মাঙ্গাকা হলেন Ozaki Kaori। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হল “Meteor Methuselah / Immortal Rain” মাঙ্গা। এছাড়াও তিনি Piano no Ue no Tenshi, Knife নামের আরও কিছু মাঙ্গা রচনা করেছেন।

যাই হোক এখন দেরি না করে মাত্র ৫ চ্যাপ্টারের এই ছোট মাঙ্গাটি পড়ে ফেলুন। আশা করি পড়ে বেশ ভালো লাগবে।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৮.৫/১০

লিঙ্ক- http://kissmanga.com/Manga/Kamisama-ga-Uso-o-Tsuku