Arslan Senki (TV) [আনিমে রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

 

~অ্যানিমে রিভিউ~

Anime Name: Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan
Genre: Action, Adventure, Drama, Fantasy, Historical, Supernatural
Episodes: 25
MAL Rating: 7.90

মুভি, বই, মাঙ্গা বা সিরিজ যা-ই বলুন বর্তমানে ফ্যান্টাসির জয়জয়কার। এ যেন আমাদের ছোটবেলার স্বপ্নকেই একের পর এক স্ক্রিনে রূপ দেয়া। রূপকথার গল্প পড়ে নিজেকে যেমন কল্পনা করতাম অজানা কোন এক রাজ্যের সর্বজয়ী প্রিন্স হিসেবে যে কিনা রাজ্য থেকে সব খারাপ দূর করবে, মানুষ যাকে হিরোর আসনে বসাবে। আরস্লান সেনকি সেরকমই একটি ফ্যান্টাসি সিরিজ যাতে দেখানো হয়েছে এক প্রিন্সের হিরো হয়ে ওঠার গল্প।

The Heroic Legend of Arslan হচ্ছে মূলত ইয়োশিকি তানাকা-র লেখা ফ্যান্টাসি নভেল সিরিজ যা পরে দুইবার মাঙ্গায় অ্যাডাপ্ট করা হয়। এর মধ্য থেকে হিরোমু আরাকাওয়া-র ইলাস্ট্রেট করা মাঙ্গা থেকে অ্যাডাপ্ট করা হয় ২৫ এপিসোডের আরস্লান সেনকি সিরিজটি।

প্লটঃ

মধ্যযুগের ঠিক আগেকার সময়। পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যবর্তী মহাদেশীয় হাইওয়ের পাশে আছে পার্স(Pars) নামের সম্পদশালী এক দেশ যা শাসন করেন প্রতাপশালী রাজা ৩য় অ্যান্ড্রাগোরাস। রাজ্যের একমাত্র প্রিন্স, আরস্লান, যে কিনা রাজার একমাত্র উত্তরাধিকারী, এ সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র। প্রিন্সের ১৪বছর বয়সে, পার্স ইরা ৩২০ সালে, শত্রুরাজ্য লুসিতানিয়ানদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হয় রাজা অ্যান্ড্রাগোরাস। পার্স চলে যায় লুসিতানিয়ানদের দখলে। কি এমন হয়েছিল যার কারণে অজেয় পার্স সেনাবাহিনীর এ অসহায় আত্নসমর্পণ? দারিয়ুন, আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রক্ষী ও সঙ্গী এবং এবং তার বন্ধু নারসাস যাত্রা করে এক অ্যাডভেঞ্চারে যার মূল লক্ষ্য হারানো রাজধানী পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সাথে যুক্ত হয় আরো অনেকেই যারা ক্রমে আরস্লানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচরে পরিণত হয়। সামনে বাধা হয়ে আছে লুসিতানিয়ানরা আর সিলভার মাস্ক পরে থাকা রহস্যময় এক যুবক। ইতোমধ্যে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, ‘শক্তিশালী বাধা উপেক্ষা করে রাজ্যোদ্ধার করতে পারবে কি আরস্লান ও তার সঙ্গীরা? পারলে কিভাবে? এ জন্য যে আর্মি লাগবে তা-ই বা কোথায় পাবে?

বুঝতেই পারছেন এটি যুদ্ধ আর রাজ্যজয়ের এক চিরাচরিত গল্প। এমন কিছুই নেই যা আমরা আগে কোথাও দেখিনি। কাহিনীর গতি শুরুতে বেশ ভাল হলেও মাঝে এসে এত ধীর হয়ে যায় যে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার যখন শেষের দিকে এসে যুদ্ধের সময়গুলো দেখায় তখন বেশ ফাস্ট হয়ে যায় যে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো ঠিক বুঝে ওঠা যায় না। তাছাড়া প্রায় সব জায়গায়ই নারসাস-কে এমন এক স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে যার কিনা কখনো ভুল হতে পারে না। মূলত স্ট্র্যাটেজিগুলো খুবই সাধারণ মানের এবং কোন চমক জাগাতে পারেনি। খানিক অবাস্তবও। আরো যেটার অভাব অনুভব করেছি তা হল ইনটেনসিটি। আপনি যুদ্ধ, রাজ্য, বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কিছু একটা দেখবেন আপনি একটা টানটান উত্তেজনা আশা করতেই পারেন। এছাড়াও গল্পের সাথে রাজনীতির যে ব্যাপারটা জড়িয়ে আছে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেই আমি মনে করি। মনে হয়েছে কাহিনীর স্রোতটা মাঝে এসে কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। ছোটখাটো কিছু চমক অবশ্য আছে, তবে এগুলো আরো ভালভাবে দেখানো যেত পারতো বলে আমার বিশ্বাস।

আর্ট ও অ্যানিমেশনঃ

আর্ট আর অ্যানিমেশন এ সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। মাঙ্গার ডিজাইন করেছেন Fullmetal Alchemist আর Silver Spoon এর ইলাস্ট্রেটর হিরোমু আরাকাওয়া। সাথে প্রোডাকশনে ছিল Universal Studio-র জাপানি অঙ্গসংঠন। আর্ট ভালো হওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। ইনডিভিজ্যুয়াল ফাইটগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে যুদ্ধের দৃশ্যগুলো আরেকটু বেশি দেখালেই ভাল হত মনে হয়। তাছাড়া কিছু হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট দেখানো দরকার ছিল। যাই হোক, কিছু কিছু জায়গায় অ্যানিমেশন কোয়ালিটি একটু ফল্টার করলেও পুরো সিরিজের তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য।

মিউজিক ও সাউন্ডঃ

Uverworld এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং আর Eir Aoi এর গাওয়া এন্ডিং আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। ২য় ওপেনিংটিও মোটামুটি কিন্তু এক্ষেত্রে এন্ডিংটা কেন যেন ভাল লাগেনি। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও ভাল করেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে সাউন্ডের মেলবন্ধন বিশেষ করে যুদ্ধের ক্ষেত্রে যেভাবে করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়।

চরিত্রায়নঃ

অগভীর চরিত্রায়ন এ অ্যানিমের আরেকটি দুর্বল দিক। মূল চরিত্র আরস্লানের চরিত্রায়নটা বেশ ভাল হলেও পার্শ্বচরিত্রগুলোর সেভাবে কোন গভীরতা দেখানো হয়নি। কেবল তাদের ভূমিকাটাই দেখানো হয়েছে। মাঝে কাহিনীকে টেনে লম্বা না বানিয়ে এ সময়টা চরিত্রায়নে ব্যয় করলে দুর্বুল স্টোরি সত্তেও খুব সুন্দর একটা অ্যানিমে হতে পারতো।

ওভারঅল, এটি কনভেনশনাল এক কাহিনী আর অসাধারণ CGI works এর সমন্বয়ে করা মোটামুটি দেখার মত একটি অ্যানিমে। রেট করলে আমি এটিকে দু’ভাবে রেট করব। এক, নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে; দুই, পার্টিকুলারলি হিস্টোরিকাল আর ওয়ার ড্রামার ভক্ত হিসেবে।

নিরপেক্ষঃ ৬.৫/১০
বায়াসডঃ ৮/১০ (অর্থাৎ আপনি ‘বিশেষভাবে এ জনরার’ অ্যানিমের ভক্ত হলে নির্দ্বিধায় দেখে ফেলুন।)

পরিশেষে, আশা করি Season-2 তে ভুলগুলো শুধরিয়ে আমাদের ক্লাসিক একটা ওয়ার ড্রামা উপহার দেবে।

Arslan Senki (TV) AKA The Heroic Legend of Arslan

Gyo [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

সমুদ্রের তলদেশে লুকিয়ে আছে কত প্রাণী, কত উদ্ভিদ, কত কালের হারানো রহস্য। সাগর যা ছিনিয়ে নেয় তা কখনো ফিরিয়ে দেয় না। ডুবে যাওয়া জাহাজ তীরে আসে না। আসে চার পা ওয়ালা মাছ, হাঙর, অক্টোপাস, তিমি, ইত্যাদি…
কি? কিছু ভুল বললাম নাকি?

>মাঙ্গা রিভিউ<
_______

“গিয়ো” মাঙ্গাটির মাঙ্গাকা হলেন জুনজি ইতো। গল্পেটির মূল চরিত্র তাদাশি নামের এক যুবক। গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদাশি তার গার্লফ্রেন্ড কাওরি কে সঙ্গে নিয়ে অকিনাওয়া সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছে। তার আঙ্কেলের অনেক প্রাচুর্য আছে এখানে। হলিডে কাটানোর সামার হাউজ, আর বোটে করে সমুদ্রে স্কুবা ডাইভিং এসব নিয়ে তাদাশির সময় ভালোই কাটছিল। কিন্তু, কাওরি মোটেও স্বস্তি বোধ করছে না। সে সাগরের গন্ধ, তীরে মাছের বাজারের ঘ্রাণ একদম সহ্য করতে পারে না। কাওরির ঘ্রাণশক্তি প্রখর। এমনকি তাদাশির মুখের গন্ধ নিয়েও অভিযোগ করে সে। এ নিয়ে দুজনের মাঝে মনমালিন্যও হয়। তা, এই কাওরি হটাত খুব তীব্র পচা গন্ধ পেতে লাগল। ঘরের মাঝেই কোথা থেকে গন্ধ টা আসছে, যেন কোনো মৃতদেহের পচা গন্ধ। গন্ধের উৎস বের করতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করলো অবিশ্বাস্য এক জিনিস এর। জিনিষটা কিলবিল করে খুব তারাতারি ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়ে ছুটে যায়। একটি চার পা ওয়ালা মাছ, তার মাকড়শার মত পাগুলোর নিচ দিয়ে বেরিয়ে আছে দু-তিনটি শুঁড়।

পরদিন তাদাশি দেখতে পেলো বাড়ির বাইরে একটা বিশাল শার্ক লোহার মত বড় পা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কাওরির চিৎকারে হিংস্র শার্কটি তেড়ে আসে তাদের দিকে। এদিকে অকিনাওয়ার সমুদ্র তীরের সব মাছগুলো এভাবে উঠে আসছে মাটিতে। কিলবিল করে দ্রুত গতিতে হাজার হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মানুষের লোকালয়ে হামলা চালাচ্ছে। পুলিশের ব্যারিকেড ও আটকাতে পারছেনা মাছের আক্রমণ।

শুনতে যেমন অদ্ভুত লাগছে, মাঙ্গাটি পড়তে গেলে তার চেয়েও উদ্ভট লাগবে। মাঙ্গার প্যানেলে প্যানেলে বিদঘুটে আর কিম্ভুতকিমাকার প্রাণীগুলোর অংকনে আশ্চর্য হতে হয়। কুৎসিত দৃশ্যগুলোর ডিটেইলস এ একটুও কমতি পরেনি। মাঙ্গাটির চরিত্রগুলি সাদামাটা। তাদাশি চরিত্রটির প্রতি সহানুভুতি থাকলেও, কাওরি চরিত্রটি আমার কাছে খুব একটা আকর্ষণীয় লাগে নি। কিন্তু কাওরিকেই গল্পে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে। এর চাইতে তাদাশির আঙ্কেলের চরিত্র ডক্টর কায়ানাগি, একজন ম্যাড সায়েন্টিস্ট হিসেবে ভালোই ফুটে উঠেছে।

২ ভলিয়মের এই মাঙ্গাটিতে বিশেষ যেই ত্রুটি রয়েছে তা হল গল্পের প্রথমে সায়েন্স ফিকশন দিয়ে ঘটনাক্রমের বিস্লেশন করা হয়েছে। কিন্তু শেষের অংশে মাঙ্গাকা সেই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির সাথে অতিপ্রাকিতিক উপাদান জুড়ে দিয়েছেন। এবং গল্পে মাছগুলোর এই আচরণের ব্যাখ্যাটি এমন ভাবে দেয়া হয়েছে যে, এটি গোপন রাখলেই গল্পের সাসপেন্স টিকে থাকত। মাঙ্গার শেষ ভাগে সার্কাসের একটি দৃশ্য আছে যেটি কিনা গল্পের সাথে খুবই বেমানান লেগেছে আমার কাছে।

এছাড়া মাঙ্গাটিতে তেমন কোনো ত্রুটি খুঁজে পাইনি। “উজুমাকি” মাঙ্গাতে যেমন রহস্য উদ্ঘাটনের আবহ ছিল, ক্লাইম্যাক্স ছিল, এখানে সেরকম না থাকলেও, এখানে যেসব চিত্র দেখানো হয়েছে তা দেখে অস্বস্তি লাগবে। যাকে বলে সুন্দর বীভৎসতা। আমি একজনকে বলতে শুনেছি যে, “আপনি কি কখনো গন্ধ চোখে দেখেছেন? এই মাঙ্গাতে গন্ধ দেখা যাবে।” এবং সত্যিই তাই। মাঙ্গাটি অত বড় না। এক বসাতেই পড়ে শেষ করতে পারবেন। তবে পড়ার সময় কিছু খেতে বসবেন না কিন্তু।

মাঙ্গাটির ২ ভলিয়মের শেষে একটি করে ওয়ানশট মাঙ্গা আছে। প্রথমটির নাম “দা স্যাড টেল অফ দা প্রিন্সিপাল পোষ্ট”, গল্পটি হরর কমেডি বলতে পারেন। দ্বিতীয় গল্পটির নাম “দা এনিগমা অফ আমিগারা ফল্ট”, এখানে জুনজি ইতোর ঠিক আগেকার মত আদিভৌতিক আবহ পাওয়া যাবে।

গিয়ো মাঙ্গাটি একবার পড়েছি। আবার পড়তে চাইনা। এক্কেবারে খাপছাড়া দুঃস্বপ্নের মত বলতে পারেন। গিয়োর উপর ভিত্তি করে একটি এনিমে তৈরি হয়েছে। তবে এনিমেটাতে মাঙ্গার কাহিনী বদলে দেয়া হয়েছে এবং (আমার মতে) মাঙ্গার মতন বীভৎসতা ফুটে উঠেনি।

Name: Gyo
Alternative Name: Gyo: The Death-Stench Creeps, Gyo Ugomeku Bukimi
Art & Story: Junji Ito
Genre: Horror, Sci-fi, Supernatural, Psychological, Seinen, Tragedy, Mystery, Drama.
Volumes: 2
Chapters: 20 + 2 oneshots
Status: Completed
Published: Feb 28, 2002 to May 30, 2002
MAL score: 7.38Gyo

Jigokusei Remina [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

শুধু হরর আর সায়েন্স ফিকশান বললেই চলে না। “জিগোকুসেই রেমিনা” মাঙ্গাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা জনরা হিসেবে বলা যায় স্বয়ং মাঙ্গাকার নাম, জুনজি ইতো। মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর “ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম” বা “অন্ধকারের গ্রহ” পড়েছেন? তাহলে এই গল্পের কাহিনী বুঝতে বেশি অসুবিধা হবে না।

পৃথিবী থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে এক ওয়ার্মহোল এর ভেতর দিয়ে কিছু একটা এই মহাজগতে প্রবেশ করেছে। অন্য ডাইমেনশন এর জগত থেকে আসা এটি এক নক্ষত্র যা কিনা পদার্থবিজ্ঞান অথবা মহাকাশবিজ্ঞানের যেকোনো নিয়মের বাইরে আচরন করছে। এমনকি এই নক্ষত্র অনেক দূরের গ্যালাক্সির গ্রহ গিলে ফেলছে। পৃথিবীর এক মহকাশবিজ্ঞানী এই আজব নক্ষত্রের আবিষ্কার করেন। নিজের একমাত্র মেয়ের নামে এই নক্ষত্রের নাম দিলেন “লেমিনা”… থুক্কু… “রেমিনা”।

নরক-নক্ষত্র রেমিনা অসম্ভব গতিতে ধেয়ে আসছে সৌরজগৎ এর দিকে। না, এ কোনো নক্ষত্র নয়, নয় গ্রহ। এ এক জীবন্ত প্রাণী।

পৃথিবী ধ্বংস হবার ঠিক আগে দুনিয়া জুড়ে মানুষ উন্মাদ হয়ে গেল। তাদের অস্তিত্ব মুছে যাবে মহাজগতের পৃষ্ঠা থেকে। কিন্তু এর জন্য দায়ী কে? না, এখনো সময়ে ফুরায়নি। সেই দায়ী মানুষটিকে উৎসর্গ করতে হবে। রেমিনা নামের ডাইনীকে হত্যা করে রেমিনা নামের জিন্দা নক্ষত্র কে তুষ্ট করতে হবে। শহর এর সব লোক তাই রেমিনাকে শিকার করতে বেরিয়ে পরল।
রেমিনা কি আসলেই পৃথিবীর এই দুর্ভাগ্যের রচয়িতা?

বাঁধছাড়া কল্পনার এক অদ্ভুত গল্প হল্ জিগোকুসেই রেমিনা। মাঙ্গার পাতাতে আঁকা কেয়ামতের দুঃস্বপ্ন!

জিগোকুসেই রেমিনার পর একই মাঙ্গাতে আছে একটি ওয়ানশট, “আর্মি অফ ওয়ান”।

Name: Jigokusei Remina
Alternative Name: Jigokusei Lemina, Hellstar Remina, Hellstar Lemina, Army of one.
Art & Story : Junji Itou
Genre: Horror, Sci-fi, Psychological, Mystery, Seinen, Tragedy, Drama
Chapters: 6 + 1 oneshot
Status: Completed
Published: Aug 16, 2005

Jigokusei Remina

Ashita Dorobou [মাঙ্গা রিভিউ] — শাহরিয়ার শুভ

Manga: Ashita Dorobou
Other name: 再見明日; 明日泥棒; Ashita’s Thief; Tomorrow’s Thief
Genres: Action, Drama, Mature, Romance, Seinen, Supernatural
Author: Hokazono Masaya, Betten Court
Status: Completed

Summary: গল্পের নায়ক,কিয়শি মিয়াসাকো একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করে। সারাক্ষণ নিজেকে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে।এমনকি কাজের জন্য প্রায়ই অফিসে রাত কাটায়। নিজেও জানেনা কেন সে নিজেকে সারাক্ষণ কাজে ব্যাস্ত রাখে, কিন্তু সে সবসময় তার Ex-Girlfriend কথা চিন্তা করে এবং তাকে অনেক মিস করে। কিয়শির GF আশিতার সাথে কিয়শির নয়বছর আগে Break Up হয় আশিতার হবির কারনে। কিন্তু নয় বছর হয়ে যাবার পরও আশিতাকে ভুলতে পারেনা। আশিতাকে আরেকবার দেখতে চায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য।
হঠাৎ একদিন আকাশে একটা অলক্ষুনে রহস্যময় বলয় উদয় হয়। সেই অলক্ষুনে রহস্যময় বলয় থেকে আশিতার আবর্তন ঘটে এবং সেখান
থেকেই কিয়শির জীবন বদলাতে শুরু হয়।

ভাল ছিল মাঙ্গাটা 😀 অনেকদিন পর ভাল একটা রোমান্স মাঙ্গা পড়লাম।
বাট পুরা কাহিনীটাই নাইকার জন্য হইছে! আগে জানতাম Yandere নাইকাগুলাই বেশি ঝামেলা পাকাইতো। বাট Tsundere নাইকাও যে এইরকম ঝামেলা করতে পারে জানতাম না । এর থেকে বেশি বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই পড়ে দেখতে পারেন। বেশি বড় না মাঙ্গাটা। মাত্র ৩১টা চ্যাপ্টার 😀 পড়ার পর সময় নষ্ট হবে না এইটার গ্যারান্টি দিতে পারি 😀

My Rating:
for storyline:5.5/10
for Romance: 9/10
for feelings: 7/10
overall rating: 7.5/10

ashita dorobou

Kyoukai no Kanata রিভিউ — Maruf Raihan

KyoAni শব্দটির সাথে কমবেশি আমরা অনেক এনিমখোরই পরিচিত। যাদের জানা নেই তাদের জন্য বলে রাখা ভালো – ‘KyoAni’ মূলত ‘Kyoto Animation’ স্টুডিও এর সংক্ষিপ্ত রূপ। KyoAni এর অনন্য কাজ নিয়ে আজকে আলোচনা করা যাক।

“Kyoukai no Kanata” ১২ এপিসোডের একটি এনিমে,যা আর পাঁচটা শর্ট লেন্থ এনিমের মত আপনার স্মৃতির এলবামের পিছনের দিকে ঢাকা পড়ে যাবার মত নয়। ভালো গ্রাফিক্স,খুব মনোরঞ্জক কিছু চরিত্র,উপস্থাপনা ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, অসাধারণ OST এর কারণে যারা দেখেছেন তাদের অনেকেরই পছন্দের প্রথম সারিতে এনিমেটি রয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।

এনিমে: Kyoukai no Kanata (Beyond The Horizon)

এপিসোড : ১২

জেনরা: ফ্যান্টাসি,স্লাইস অফ লাইফ,সুপারন্যাচারাল

স্টুডিও ও প্রযোজনা: কিয়োতো এনিমেশন, পনি ক্যানিয়ন, টিবিএস

লাইট নোভেল রচয়িতা : নাগোমু টেরি

এনিমে পরিচালনা: টাইচি ইশিদাতে

Kyoukai no Kanata 1

প্রথমত,এনিমেটা দেখা শুরু করলে প্রথমে একটু কৌতূহল জাগবে। এক মেয়েকে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্নহত্যা হতে বাঁচাতে এগিয়ে গেল এক ছেলে,অথচ সেই মেয়েই কিনা ছেলেটার বুকে ছুরি ঢুকিয়ে দিল। মানুষের ভাবনা ও চিন্তাশক্তি এসকল অস্বাভাবিক
ঘটনার প্রতি সংবেদনশীল।তাই নিছক আগ্রহ নিয়ে ঘটনাটা কী- সেটা দেখার জন্য হলেও অজান্তেই দেখা শুরু করে দিতে পারেন এনিমেটা ।

প্রথমে কোন পরিচিতিমুলক অংশ নেই।যেমন-বিশেষভাবে চরিত্র পরিচিতি,সুপারন্যাচারাল পাওয়ার গুলোর সংজ্ঞা ,প্লটটার ভিত্তি ইয়াদি আলাদা করে দেখানো হয়নি।এজন্যই অনেকের কাছে প্রথম প্রথম কিছুটা বিরক্তিকর বা বিব্রতকর লাগতে পারে।
“আরে ভাই দেখা শুরু করলাম,বলা নেই কওয়া নেই,স্পীরিট হান্টার,Youmu,এগুলা কী?!” আমার ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটেছিল। তবে মজার বিষয় হল এই যে, ধৈর্য সহকারে দেখতে থাকলে নিজেই এগুলোর মানে বুঝে নিতে পারবেন,যা আরো বেশি
আনন্দদায়ক হবে।

চরিত্রগুলার কথায় আসা যাক।যারা এনিমেটি দেখেননি,তারাও বিভিন্ন ওয়েবসাইট,গ্রুপ ও ব্লগে লাল ফ্রেমের বাদামী চশমা পড়া ভারী কাওয়াই একটা এনিমে ক্যারেক্টারের ছবি হয়ত দেখে থাকবেন।অধিকাংশ রোমান্টিক AMV তেও তার উপস্থিতি দেখা যায়।
সে আর কেউ নয়, KnK এর কুরিয়ামা মিরাই। আমার দেখা সেরা Female ক্যারেক্টারগুলার মধ্যে অন্যতম।তার চশমা পরা অবস্থায় মুখের হাসি কোন অংশে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্ছির মোনালিসার হাসির চেয়ে কম নয়।

গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র কানবারা আকিহিতো। চরিত্র না বলে গল্পের সমস্ত ঘটনার উৎস বললেও অত্যুক্তি হবে না।গল্পের শুরু থেকেই আকিহিতো চরিত্রটিকে অন্ধকারে রেখে একটা সাসপেন্স তৈরি করা হয়েছিল,যা চরিত্রটির বিশেষায়ণে সাহায্য করেছে।

আর অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে আমার বিশেষভাবে ভালো লেগেছে কানবারা ইয়াওই কে । সে আকিহিতোর মা। আর সত্যি কথা বলতে বাস্তবে এরকম মা থাকলে যে কীরকম হত তা কল্পনা করতেই কষ্ট হয়।যারা এনিমেটি দেখেছেন তারা বোধ হয় কথাটির
মানে বুঝতে পেরেছেন। :v

এনিমেটির শেষের দুই এপিসোড খুবই বিচিত্র।এই আপনি আবেগপ্রবন হয়ে পড়লেন,চোখে জল চলে এল,এই আবার মুখের কোণে মুচকি হাসি। আর বলা বাহুল্য,এনিমেটির কোনো দুঃখজনক এন্ডিং নেই। [এটা স্পয়লার হইল নাকি?]

অসাধারণ কম্বিনেশনের তিনটি গান (একটি ওপেনিং,একটি এন্ডিং,Future Star) থাকায় সেরা মিউজিক ধারী এনিমেগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি থাকবে। গানগুলি চয়েজ যিনি বা যারা করেছেন তাদেরকে ১০০ তে ১০০ দিতেই হবে।
ওপেনিং টা “মিনোরি চিহারা” র গাওয়া । পুরোপুরি বিমূর্ত ধরনের লিরিক্স থাকায়,এনিমেটির প্রতি আকর্ষণ এই গানটিই জাগিয়ে দেয়।

গানটি এখনই দেখে ফেলুন–
https://www.youtube.com/watch?v=g-_4piNFe4M

এন্ডিং টা ওপেনিং কেও ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এন্ডিংটার ভোকাল ও লিরিক্স টা এনিমের প্লটের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় মনে বেশি রেখাপাত করেছে।আর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হল এই যে ,এনিমেটা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে কখন যে এন্ডিংটার
মিউজিক শুরু হয়ে যায় তা টেরই পাওয়া যায় না। আমার শোনা সেরা জাপানিজ গানগুলোর মধ্যে একটা

দেখে ফেলুন–
https://www.youtube.com/watch?v=nMlwer-lbow

এনিমেটা দেখে ফেলুন। ১২ এপিসোডে অনেক কিছু পাবেন যা অনেক সময় ২২০ এপিসোডেও পাওয়া যায় না——-

~~~অনন্য রিকমেন্ডস~~~

Kyoukai no Kanata 2

Ghost Hunt রিভিউ — Maruf Raihan

অন্ধকার ঘরে একা থাকলে অনেকেই অজানা কারণে ভয় পেয়ে যান বা তটস্থ হয়ে যান। ভূত!! হ্যা,আমি সেই চিরন্তন সত্তার কথা বলছি যাতে অনেকে শক্তভাবে বিশ্বাস করেন আবার অনেকে লেইম গুজব বলে উড়িয়ে দেন।

এখনই হয়ত ভূত আছে কি নেই তাই নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়ে যেতে পারে তাই সেদিকে না যাওয়াই ভাল। তবে এই আত্না,ভূত, প্রেত আর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো নিয়ে একটি এনিমের কথা বলা যাক। ৮৯,৯৪ এর লাইট নোভেল থেকে ২০০৭ এর ‘Ghost Hunt’। নাম শুনে যা ভাবছেন,এনিমেটা অনেকটা সেরকমই।

Ghost Hunt

সম্মিলিত কোন কাহিনী হিসেবে নয় এর গল্পের আবর্তন হয় কেস/ফাইল ভিত্তিতে। এক একটি ফাইল যেন স্বতন্ত্র মুভির মত,আর ফাইলগুলোর মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক তেমন নেই।মোট ফাইল আছে ৮ টি। এনিমের প্রতিটি এপিসোড শুরু হয় তারিখ আর বার দিয়ে। প্রকৃতপক্ষে একে ‘SPR’ এর দিনপঞ্জিকা বলাও যায়। ‘SPR’ এটা আবার কী- ‘শিবুয়া সাইকিক রিসার্চ’ এর সংক্ষিপ্তরুপ। গল্পের প্রধান চরিত্র শিবুয়া কাজুয়া, SPR এর প্রধান। এই প্রতিষ্ঠানটির কাজই হল এসকল অশরীরী ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে গবেষণা আর তদ্রুপ অস্বাভাবিক ভুক্তভোগীদের সমস্যা সমাধানে অর্থ এর বিনিময়ে কাজ করে। গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র তানিয়ামা মাই এর স্কুলই ভাগ্যক্রমে SPR এর ১ম কেসের ঘটনাস্থল হয়ে দাড়ায়। সেখান থেকেই অনেকটা নাটকীয়ভাবেই মাইকেও বেশ জোর করেই SPR এর সদস্য বানায় শিবুয়া।

অনেকেই ভাবছেন ‘খুইজা খুইজা ভূত ধইরা বেড়ায়। ধুর! এই এনিমে আর রিভিউ – দুইটাই ফালতু। ভাবনাটি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে ফেলুন কেননা আর পাচটা সাধারণ ভূত ধরা ও তাড়ানো সিরিজের মত এই এনিমেটা নয়। ২৫ এপিসোডের এই এনিমেতে সুপারন্যাচারাল একটিভিটির পাশাপাশি খ্রিষ্টীয় ক্যাথলিকদের আত্নাশুদ্ধি থেকে শুরু করে বৌদ্ধ ধর্মতাত্ত্বিক রিচুয়াল এমনকি উপমহাদেশীয় সমাতন প্রেতাচার কেও তুলে ধরা হয়েছে। আর ডিটেকটিভ আর সাইকোলজিক্যাল ভাইব থাকায় এনিমেটা ফার্স্ট ক্যালিবারের নি:সন্দেহে।

শেষের দিকের ফাইলগুলো দেখে বেশ ভয় পেতে পারেন,যদি কঠিন যকৃতের মানুষ না হন। বিশেষ করে ফাইল নং ৭ (The Bloodstained Labyrinth) রাত জেগে না দেখার রিকমেন্ড করবো।

চরিত্রগুলোর মধ্যে শিবুয়া কাজুয়া আর তানিয়ামা মাই ছাড়া তেমন কোন ব্যতিক্রমী এনিমে ক্যারেক্টার নেই। তবে প্রথম দিকে কিছু কিছু চরিত্রকে অথর্ব ও শুধু সং সাজিয়ে রাখা হয়েছে ভাববেন শেষের দিকে তাদের কন্ট্রিবিউশন দেখে অবাক হয়ে যাবেন।

অত্যধিক আন্ডাররেটেড এই এনিমেটি আমার কাছে অত্যধিক ভালো লেগেছে। দেখে ফেলুন,ভালো লাগলে জানাবেন আর ভয় পেলে বা কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে রিভিউদাতা কোনক্রমেই দায়ী থাকবে না :v

—-অনন্য রিকমেন্ডস—-

পুরো এনিমে দেখতে না চাইলে ফাইল ফাইল ভাগ করে দেখতে পারেন:::

ফাইল-১:( এপি. ১-৩)

‘Filled with Evil Spirits?!!’ @Mai’s School

ফাইল-২:( এপি. ৪-৬)

‘Doll House’

ফাইল-৩:( এপি. ৭-১০)

‘The One who curses after School’

ফাইল-৪:( এপি. ১১)

বি:দ্র: না দেখলেও চলবে
A Ghost Story in the Path

ফাইল-৫:( এপি. ১২-১৩)

‘Silent Christmas’

ফাইল-৬:( এপি. ১৪-১৭ )

‘The Forbidden Play’

ফাইল-৭:( এপি. ১৮-২১ )

‘The Bloodstained Labyrinth’

ফাইল-৮:( এপি. ২২-২৫ )

‘The Home of the Curse’

সেন্সেই, সায়োনারা!! যেতসুবৌ সেনসেই রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_lvxkayIyLP1qdg1mko1_500

আমার ইদানীং এমন একটা অবস্থা হয়েছে, কেন যেন মনে হচ্ছে তাবৎ দুনিয়ার ভাল অ্যানিমে আমার দেখা শেষ, আর কিছু দেখার বাকি নেই। পিসি ভর্তি অ্যানিমে পড়ে থাকলে যা হয় আরকি। জেতসুবোশিতা জেতসুবোশিতা বলে মাথা কুটতে কুটতে হঠাৎ মনে হল, তাহলে জেতসুবো সেনসেই কেই একবার সুযোগ দেই, তার নেগেটিভ অরা আর আমার নেগেটিভ অরা কাটাকাটি হয়ে যাক!!দেখলাম, সায়োনারা জেতসুবো সেনসেই এর প্রথম সিজন। ইতোশিকি নোজোমু একজন ভয়াবহ লেভেলের পেসিমিস্টিক মানুষ। সবসময় ট্রাডিশনাল জাপানিজ আউটফিট পরে থাকা এই স্কুলশিক্ষক পুরো পৃথিবীজুড়ে শুধু ডেসপেয়ারই খুঁজে পান। বসন্তের মৃদু হাওয়া, কিংবা শরতের মেঘমুক্ত আকাশের মাঝেও তিনি খুঁজে পান বিষণ্ণতা!!

বসন্তের এক আলোকজ্জ্বল সকালে এক পূর্ণ প্রস্ফুটিত সাকুরা গাছের ডালে ঝুলে আত্মহনন করছিলেন ইতোশিকি সেনসেই। আর তখনই ঘটল এক ঘটনা, যা তার বিষণ্ণ জীবনটাকে পদে পদে আরও বিষণ্ণ করে তুলল!!

শ্যাফটের অ্যানিমে, বোঝার জন্য গুগল ঘাটতে হয়নি, সেনসেই এর চোখা নাকমুখ আর অস্বাভাবিক বাঁকা ঘাড়ই ফাঁস করে দিয়েছে, আর কনফার্ম হয়েছি অ্যানিমের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ এক সেকেন্ডের জন্য ডায়ালগ এসে হাওয়া হয়ে যাওয়া দেখে। আমি শ্যাফটের ভক্ত নই, তবে এই স্টাইলটা এই অ্যানিমেতে বেশ মানিয়েছে। সেনসেই মুখ খোলার সাথে সাথে বুঝেছি এটা হিরোশি কামিয়ার কণ্ঠ, তাই আগ্রহটা বেড়ে গেছে। আর কাহিনীটা যেমন ইউনিক, এক্সিকিউশনের কারণে আরও বেশি ভাল লেগেছে। বহুদিন পর টানা একের পর এক এপিসোড দেখার আগ্রহ পেলাম!

সবচেয়ে মজা লেগেছে এই ব্যাপারটা, সেনসেই যা যা করতে যান, আউটকামটা হয় ঠিক তার উল্টো!! তিনি তার বিষণ্ণতা কাটাতে পারলেন কিনা, বা তার স্টুডেন্টদের বিষণ্ণ করতে পারলেন কিনা, সেটা দেখার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি!!

Sayonara.Zetsubou.Sensei.full.84087

Noragami রিভিউ — Maruf Raihan

অনেক সুপার হাইপ এনিমে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যদি গিয়ে থাকেন তবে একটু শর্ট ঠাণ্ডা গল্পের এনিমে দেখলে ক্ষতি কি!!

কম্পিউটার অন রেখে একবার বাইরে গেলাম ফ্লেক্সিলোড করতে।এসে দেখি আমার ৭ বছর বয়সী খালাতো ভাই কম্পিঊটারে কি জানি একটা ভিডিও ছেড়ে হা করে দেখছে,গিলছে বললেও ভুল হবে না। আমি ওকে বুঝতে না দিয়ে পিছন থেকে উকি মেরে দেখতে লাগলাম যে কি দেখছে ও,দেখি এনিমে চলছে কোন একটা,কালো কাপড় পড়া একজন বিশাল লম্বা এক তলোয়ারের মত কিছু একটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে সামুরাই টাইপ মিউজিক। আর এভাবেই আমার দেখা শুরু Noragami……

এনিমের গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল প্রধান চরিত্র ইয়াতো-গামি।আরও রয়েছে ইকি হিয়োরি,ইউকিনে সহ আরো অনেক মুখ……

ইয়াতো এক ভবঘুরে গড যে তার উপাসক ও ভক্তের খোঁজে আত্নভোলা,তার স্বপ্ন। আর এজন্য সে বিড়াল খোঁজা থেকে শুরু করে বাথরুমের ট্যাপ ও ঠিক করার কাজ করতেও রাজি। আর অনেকটা অদ্ভুতভাবেই ইকি হিয়োরি সহ অন্যান্য চরিত্রের আগমন ঘটে।

এনিমের শুরুটা বেশ অগোছালো লাগলেও পরবর্তীতে তা অনেকটা মানানসই হয়ে গেছে।কিন্তু এই এনিমের প্রথম এপিসোড দেখার পর ‘খারাপ না তো।পরের এপিসোড টা দেখা যাক’ এটা ভেবেই এনিমেটা দেখা শুরু করতে পারেন,অন্তত আমার সাথে এমিনটিই হয়েছে।

মানগাতে আহামরি কোন অতিরিক্ত ডিটেইলিং নেই।আর এনিমেটির ক্যারেক্টার গুলোর মুখমণ্ডল অনেকটা ছোকলা ছাচা নাশপাতির মত দেখতে,কিছু কিছু দৃশ্যে মনে হবে যেন নাককাটা পড়েছে সবার।

এনিমেটির শেষের দিকে একটি অনন্য প্লট টুইস্ট আছে যা শুরুর দিকে ইয়াতো চরিত্রের ইমেজ আপনার কাছে পুরোপুরি পালটে দেবে এবং ১২ পর্বের এনিমেটি উপভোগ করতে শুরু করবেন।

১২ এপিসোড গল্পের তুলনায় খুবই কম সময়।তাছারা অতি সমালোচকরা তো MAL এ রীতিমতো একে ‘অল্প এপিসোডের জগাখিচুড়ি’ বলেছেন,তবে আশ্বস্ত করতে পারি এতটা খাপছাড়া এই এনিমেটা নয়।

আর যাই হোক…. টাইম ওয়েস্ট মনে হবে না…..

আর দৃঢ় ইচ্ছা ও প্রতীক্ষা থাকলেও Noragami ২য় সিজন বের হবে কি না তা এখনও অস্পষ্ট……

#এনিমে: Noragami
#এপিসোড: ১২
#জেনরা: একশন,এ্যাডভেন্চার,শোউনেন,সুপারন্যাচারাল
#স্টুডিও: বোনস মাল্টিমিডিয়া
#MALস্কোর: ৮.১৫
#ব্যক্তিগত_রেটিং: ৭.৪

Noragami

The Secret World of Arrietty রিভিউ – আসিফুল হক

“আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো
ছোট ঘাসফুলের জন্যে
একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে
উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে
একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে

আমি সম্ভবতখুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো
এক কণা জ্যোৎস্নার জন্যে
এক টুকরো মেঘের জন্যে
আমি হয়তো মারা যাবো টাওয়ারের একুশ তলায়
হারিয়ে যাওয়া একটি প্রজাপতির জন্যে
এক ফোঁটা সবুজের জন্যে”

দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারটা আসলে খুব মজার। কিভাবে দেখা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে একটা ঘটনাই একেক জনের কাছে একেক রকম ভাবে ধরা দিতে পারে। প্রতিদিনকার উঠোন, ঘাস, দুর্বোলতা কিংবা চিলেকোঠার ছোট্ট পুতুল খেলার ঘরটাই হয়ে উঠতে পারে সুবিন্যস্ত মই, বিস্তীর্ণ জঙ্গল অথবা ছোট্ট সুখের সংসার।

“The Secret World of Arrietty” বিলুপ্তপ্রায় ছোট মানুষদের একটা পরিবারের গল্প; ছোট্ট, সুন্দর, ছিমছাম। বাবা, মা আর ১৪ বছরের আরিয়েত্তিকে নিয়ে এই ছোট মানুষদের পরিবারের বাস শহরতলীর একটা বাগানবাড়ির কুলুঙ্গিতে, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে। সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে তাদের অগোচরে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ধার করেই এদের জীবন-যাপন। কিন্তু সবকিছু বদলে যায় যখন শো নামের একটা বালক এসে উপস্থিত হয় সেই বাড়িতে; এবং ঘটনাক্রমে আরিয়েত্তিকে আবিষ্কার করে। এক অদ্ভুত কিন্তু অনন্য সাধারণ বন্ধুত্বর সুচনা হয় এদের মাঝে; যেটা কিনা দিনশেষে আরিয়েত্তির পরিবারকে বিপদের মুখেই ঠেলে দেয় এক রকম।

মুভির সবচেয়ে চমৎকার দিকটা বোধহয় ছোট মানুষদের অস্তিত্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য ছোট ছোট দিকগুলোর দিকে দেওয়া প্রচন্ড মনোযোগ। আরিয়েত্তিদের জীবনযাপনের এবং মানুষের কাছ থেকে ধার করার সময় তাদের বাড়িতে সহজে চলাচলের সৃজনশীল অথচ খুবই সহজ পদ্ধতিগুলো ছিল রীতিমত মুগ্ধ করার মতন; মাছ ধরার হুক থেকে শুরু করে ডাবল সাইডেড স্কচটেপ কিংবা ছোট ছুরি থেকে শুরু করে একটা পিন – প্রত্যেকটা জিনিস ছোট মানুষদের চরিত্রগুলোকে দেয় আলাদা মাত্রা।

সাউন্ডট্র্যাকগুলো এক কথায় অসাধারণ। প্রত্যেকটা মিউজিক পিস আমার খুব খুব খুব বেশি পছন্দ হইসে। আর এনিমেশন? দুর্দান্ত ! এনিমেশনের দিক থেকে আমার দেখা কোন জিবলী মুভিই এক বিন্দুও ছাড় দেয় নাই; এইটাও না। বাড়ির পিছনের উঠোন অথবা শান্ত জলস্রোত – সবকিছু এত উজ্জ্বল আর এতো ভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে যে ৯০ মিনিটের পুরোটা সময় স্ক্রিনের সামনে আঠার মতন আটকে রাখবে।

মুভির দুর্বলতার দিকটা বোধহয় সংঘাতের অনুপস্থিতি আর আর ভিলেন চরিত্রের প্রায় কমিকাল রুপ, যেটা মুভির অন্তরদন্দকে আরো ম্লান করে দেয়। ছোট মানুষদের প্রতি হারুর কি এত ক্ষোভ ছিল যে তাদের ধরে ধরে বয়ামে পুরে রাখতে হবে? শুধু “তারা বাসা থেকে জিনিসপাতি চুরি করে; আমার ধারনা” লাইনে এইরকম ঘটনা পুরোপুরি জাস্টিফাই হয়ে যায় না। এর বাইরে পুরো মুভির সবচেয়ে এক্সাইটিং মোমেন্ট বোধহয় ছিল মানুষ আর একটা কাকের মাঝে ছোট্ট একটা যুদ্ধ – ব্যাপারটা বেশ খানিকটা হতাশাজনকই বটে। আরিয়েত্তি একটা পিনকে তলোয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে; যদিও পুরো মুভিতে কখনই তা ব্যাবহারের প্রয়োজন পরে নি; কারণ তার শত্রুরা কম বেশি অজানা; এবং কেউই পিনের গুতো খেয়ে কুপকাত হবার মতন নয়। আরিয়েত্তির কিছু সিদ্ধান্ত খুব একটা মেক সেন্স করে না; শো যখন তাকে দেখে ফেলসে বলে মনে হল তখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সে কি করল? সরাসরি ফেইস টু ফেইস দেখা করে তাদের বিরক্ত করতে মানা করল ! কেন? কি বুঝে সে এই কাজ করল যখন তার বাবা মা তাকে ছোট বেলা থেকে যদি একটা শিক্ষাই দিয়ে থাকে তাহলে সেটা ছিল মানুষের ধারে কাছেও না যাওয়া এবং তারা প্রচন্ড রকমের ভয়ঙ্কর? এছাড়া মুভিটা অনেক জায়গাতেই অনেকের কাছে কিছুটা স্লো মনে হতে পারে; যদিও আমার কাছে স্বাভাবিকই লেগেছে।

সামগ্রিক বিচারে গভীর ভাব অথবা রুপক বর্জন করে আরিয়েত্তি বুঝি ঐন্দ্রজালিক এক রুপকথাই হতে চেয়েছে শেষতক। যদি তাই হয়ে থাকে তবে মুভিটা পুরোপুরি সার্থক তার আবেদনে। জিবলীর মুভিগুলো সবসময়েই আমাদেরকে সাথে করে অভিযানে বেরিয়ে পড়ে; কখনও বড় পরিসরে; কখনও বা একেবারে ক্ষুদ্র সীমায়। আরিয়েত্তি দুটো কাজই করেছে এই মুভিতে; পুরোপুরি সফলতার সাথেই। আর কিছু না হোক; দেড় ঘন্টার জাদুকরী অভিযান শেষে মুখের কোনে যে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠবে আপনার, আরিয়েত্তিকে অন্ততপক্ষে ভালবেসে ফেলবেন তার সরলতার জন্য, তার অভিযানগুলোর জন্য, লুকিয়ে থাকা বিষণ্ণতা কিংবা শো এর সাথে অদ্ভুত কিন্তু মিষ্টি বন্ধুত্বর জন্য; সে কথা বোধকরি লিখে দেওয়াই যায় !  🙂

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৪০: GOTH — Kazi Rafi

মাঙ্গা- GOTH
জন্রা- সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, হরর।
মাঙ্গাকা- Otsuichi
Art- Kenji Ooiwa
চ্যাপ্টার- 5
স্ট্যাটাস- কমপ্লিট

আপাতদৃষ্টিতে ইতসুকি কামিয়ামা বেশ হাসিখুশি, বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের মনে হলেও  ছোটবেলা থেকেই সে আর দশটা সাধারণ ছেলের থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। তাই, প্রথম যেদিন ক্লাসের সবচেয়ে চুপচাপ,‌ নিঃসঙ্গ মেয়েটি, ইয়োরো মরিনোর ডান হাতের কব্জির কাঁটা দাগটা চোখে পরে কামিয়ামার, সেদিন থেকেই ওর মনে জেঁকে বসে এক সুপ্ত বাসনা, যেভাবেই হোক তাঁর পেতে হবে মরিনোর ডান হাতটি! অন্যদিকে, সেই সময়ে পুরা শহরে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনা! জনসাধারণের মনে প্রচণ্ড ভীতির সৃষ্টি করে অজ্ঞাত অপরাধীর অপহৃত ব্যক্তিদের কব্জিহীন লাশের দেখা মিলতে লাগলো একের পর এক!! এদিকে হঠাৎ করেই একদিন, রীতিমত অপ্রত্যাশিতভাবেই কামিয়ামার সামনে হাজির হয়ে যায় এক সুবর্ণ সুযোগ! সেই সুযোগ এর সদ্ব্যবহার করতেই প্ল্যান মাফিক কাজে নেমে পরল কামিয়ামা। অবশেষে সে পেতে চলেছে তাঁর কাঙ্ক্ষিত, মরিনোর ডান হাতটি!

বলছি মাঙ্গা GOTH এর কথা! ৪টি সংযুক্ত কাহিনী (৫টি চ্যাপ্টার) নিয়ে রচিত এই ছোট্ট মাঙ্গাটি গড়ে উঠেছে হাই স্কুল পড়ুয়া দুই চরিত্র কামিয়ামা ইতসুকি এবং ইয়োরো মরিনোকে ঘিরে! হাসিখুশি, বন্ধুত্বসুলভ ও অমায়িকতার মুখোশে ঢাকা কামিয়ামা আদতে প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির, যার মনের গভীরে লুকিয়ে আছে এক সুপ্ত বাসনা, অন্যদিকে কমনীয় চেহারার ইতসুকি বেশ চুপচাপ ও নিঃসঙ্গ স্বভাবের, যার কারনে নেই কোন বন্ধুবান্ধবও। বেশীরভাগ সময় একাকি বই পড়ে সময় কাটায়। তাঁর এই আবেগহীন আচার আচরনের পেছনে রয়েছে এক অন্ধকার অতীত যা তাকে মাঝেমধ্যেই তাড়া করে ফেরে! কিন্তু এই দুজনের ভিতরেই রয়েছে একটি বিশেষ মিল! মাত্র একটি বিষয়, যা নিয়ে তাদের দুইজনের ভিতরেই কাজ করে একধরনের প্রচণ্ড মোহ, যা এই দুজনকে অমোঘ নিয়তির মতন কাছে টেনে এনে গেঁথেছে এক সুতোয়, আর তা হল- মৃত্যু! এর প্রচণ্ড আকর্ষণে তারা একত্রিত হয়ে  সমাধান করতে থাকে তাদের আশপাশে ঘটতে  থাকা বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের রহস্য!

মজার কথা হচ্ছে, প্রতিটি গল্পে কেইস সমাধান করে অপরাধীকে হাজতে প্রেরণের চেয়ে বরং এর প্রত্যেকটা হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন কারণসমূহ, ভিক্টিম ও হত্যাকারীর মধ্যকার যোগসূত্র, তাদের অতীত জীবনের কথা এবং মাঙ্গার মূল দুই চরিত্রের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা কাহিনীর অন্যসব রেখার সঙ্গে একসঙ্গে কীভাবে এসে মিলিত হয় তাইই এই মাঙ্গার মূল উপাদ্যে হিসেবে পরিবেশন করেছেন মাঙ্গাকা!

মাঙ্গার আর্ট ভিন্ন একজনের করা যা বেশ চমৎকার এবং স্পষ্ট, প্রত্যেকটি দৃশ্যপট আলাদা করে নির্ণয় করে যায়। কাহিনীর সঙ্গে মিল রেখে, শিল্পী প্রতিটি গল্পে একটি বেশ ভৌতিক এবং বিষণ্ণতার ছোঁয়া ফুটিয়ে তুলেছে সার্থকতার সঙ্গে!

সবশেষে এইটাই বলব যে, মানবসম্প্রদায়ের সবচেয়ে অন্ধকারাছন্ন বৈশিষ্ট্যের জাজ্বল্যমান উদাহরণই লেখক তাঁর এই সাইকলজিকাল-থ্রিলার ঘরানার মাঙ্গা GOTH এর মাধ্যমে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছেন! এই জন্রার ভক্তরা চাইলেই দ্রুত পড়ে শেষ করতে পারবেন এই ছোট্ট সিরিজটি! আশাকরি এটি আপনাদের হতাশ করবে নাহ! ধন্যবাদ!

40 GOTH Manga