মাঙ্গা রেকমেন্ডেশনঃ Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse) — Rezo D. Skylight

Apocalypse no Toride (Fortress of the Apocalypse)
Chapter: 45
Status: Complete
Genres: Action, Mystery, Horror, Sci-Fi, Shounen, Psychological
Authors: Kuraishi, Yuu (Story), Inabe, Kazu (Art)
Serialization: Shounen Rival
MAL Score: 8.08
Personal Score: 8/10

ant 1

ধরুন আপনি প্রতিদিনের মতো স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছেন। তখন বাড়ি ফিরার পথেই দেখতে পেলেন একজন মানুষের লাশ আপনার ঘরের সিঁড়িতে পড়ে আছে। অথচ এই হত্যা কে করেছে, তাকে আপনি চিনেন না; অপরদিকে আপনি যে এই হত্যা করননি সেই কথাও কেউ বিশ্বাস করছে না। সেই মিথ্যা হত্যার দায় ঘাড়ে নিয়ে জোরপূর্বক আপনাকে কারাগারে পাঠানো হল; আপনার উপর জারি করা হল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তখন আপনার মানুষিক পরিস্থিতি কেমন হবে একবার ভেবে দেখুন। ঠিক এইরকমই এক অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় মাঙ্গার মূল নায়ক “মায়েদা ইয়শিআকি”। এখান থকেই তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর মুহূর্ত শুরু হয়। তবে সে ধীরে ধীরে তার কারাগারের রুমমেটদের সাথে বন্ধুতপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। তার এই নতুন বন্ধুরা তার পরিস্থিতির কথা উপলব্ধি করতে পেরে তার সহায়তায় এগিয়ে আসে। ঠিক এমন সময় একধরনের মারাত্মক ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যা মানুষকে ইনফেক্টেড করলে পরিণত হয় মানুষখেকো জীব তথা যম্বিতে। এইরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কারাগারবাসিদের জন্য রয়েছে জেল থেকে পালানোর সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তুু কারাগার থেকে বের হয়ে, এইরূপ পরিস্থিতিতে তারা কি পারবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে?

ant 2

আরও জানতে পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। এর কাহিনী ডার্ক থিম আর রহস্যে ভরপুর। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, ধোঁকা এককথায় মানুষের সাইকোলজি খুব ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। মাঙ্গাকা ক্যারেক্টারগুলো খুব যত্নসহকারে বানিয়েছে। প্রতিটি চরিত্রেরই দেখানো হয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট। আর হরর মাঙ্গা হিসেবে আর্টও যথেষ্ট ভালো। মাঙ্গার প্রতিটি প্যানেলই খুব স্পষ্ট এবং সহজেই কি হচ্ছে তা বুঝা যায়। শুধু একটাই সমস্যা মাঙ্গার এন্ডিংটা অনেক রাসড। এছাড়া পুরো মাঙ্গাটাই আমার ভালো লেগেছে।

ant 3

সুতরাং যারা কোন যম্বি মাঙ্গা খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা এই মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে পারেন। বিশেষ করে যারা হরর-সাইকোলজিকাল জনরার ফ্যান তাদের এই মাঙ্গাটি খুব ভালো লাগবে বলে আশা করা যায়। তাই দেরি না করে পড়া শুরু করে দিন এবং হারিয়ে যান যম্বির দুনিয়ায়।

পড়ার লিঙ্ক – http://kissmanga.com/Manga/Apocalypse-no-Toride

ant 4

The Wind Rises রিভিউ — Rafiul Alam

“The wind is rising! . . . We must try to live!”
– Paul Valéry’s poem, “Le Cimetière marin”

আমি জিব্লির হাতে গোনা কয়েকটা মুভি দেখেছি। কালকে যখন এই মুভিটা শেষ করলাম, মনে হল, আরো আগে দেখা উচিত ছিল। হায়াও মিয়াজাকি সাহেব পরিচালিত সর্বশেষ সিনেমা এটি। যা মুলত অ্যারোনটিক্যাল ডিজাইনার জিরো হিরোকশির জীবন কাহিনী। যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সময় জাপানের জন্য যুদ্ধবিমান নকশা করেন। পর্দায় তুলে ধরা দৃষ্টিভঙ্গী, আর বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ের কারণে সিনেমাটি সমালোচিত, আমি সেই বিষয়ে তেমন কিছুই জানি না, তাই সেব্যাপারে কোন মন্তব্য করব না।

Synopsis : জাপানী বালক জিরো বিমান ভালবাসে। সে বিদেশী বিমানের ম্যাগাজিন ঘেটে বেড়ায় অসীম কৌতূহলে। ইতালিয়ান ইঞ্জিনিয়ার জিওভান্নি কাপ্রনি তার আদর্শ। অ্যারোনটিকাল ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন এভাবেই সে তাড়া করতে থাকে।
বছর খানেক পরের দৃশ্য, বালক এখন যুবক। ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে আসে জিরো। সবকিছু যখন স্থির ও শান্ত, তখনই ভুমিকম্প আঘাত হানে। ট্রেন দ্রুত থামানো হলে যাত্রীদের হুরোহুরি শুরু হয়ে যায়। এমন সময় এক মহিলার পা ভেঙে যায়। তাকে সাহায্য করতে গিয়ে জিরোর পরিচয় হয় নাওকো সাতমি নামের এক মেয়ের সাথে। সেবার নিজের নাম না বলেই বিদায় নেয় জিরো।
ধীরে ধীরে ভূমিকম্পের ক্ষতির রেশ কেটে যায়।শহর আবারো গড়তে শুরু হয়। বিমান ডিজাইনে মহা ব্যাস্ত হয়ে পড়ে জিরো, নিজের বোনের সাথেও দেখা করতে ভুলে যায় । কাজের প্রতি অত্যাধিক ভালবাসার কারণে জার্মানির সাথে সেই সময়ের জাপানের প্রযুক্তিগত পার্থক্য বুঝতে শুরু করে সে। এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তার লক্ষ্য হয় নানান সীমাবদ্ধতার মাঝে দ্রুতগামী ধাতব বিমান নকশা করা।সিনেমার পরবর্তীতে জিরোর কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সমাপ্তি ঠিক যুতসই ছিল না।

Theme setup, Animation and Music : সিনেমার ঘটনায় ১৯২৩ এর কান্তো ভুমিকম্প থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপান স্থান পেয়েছে। তেমনিভাবে ৩০-৪০ দশকের জাপানী জীবনধারা ও সেই সময়ের সীমাবদ্ধতার বাস্তবিক চিত্রায়ন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোও চোখের আরাম ছিল। এক্ষেত্রে জিব্লির স্কিল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রতিটি দৃশ্য ডিটেইলড। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, একটি চারাগাছের উপর বৃষ্টির দৃশ্য, রেললাইনের উপর একটি পাথর অথবা পাখির চোখে টোকিও শহর, এসব কিছুর পেছনেই এক ধরনের শৈল্পিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আনিমেশন বরাবরের মতই রঙিন আর ফ্লুইড। টুডি, তবে জীবন্ত, জিব্লির প্রিয় একটি বৈশিষ্ট্য।মন ঠান্ডা করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও পারফেক্ট মনে হয়েছে। সর্বোপরি, মিয়াজাকি তার নামের প্রমাণ দিতে পেরেছেন।

Characters Setup : জিরো কাজের প্রতি একনিষ্ঠ, বিনয়ী। সবচেয়ে ভাল লেগেছে যখন সে তার ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করে নেয়। জিরোর প্রতি নাওকোর কমিটমেন্ট সিনেমার একটা সুন্দর দিক ছিল, শক্ত চরিত্রের প্রকাশ। জিরোর অভিমানী বোনের হঠাৎ হঠাৎ স্ক্রিনে আগমন জিরোর পরিবারের দিকে নজর না দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরে। সাইড ক্যারেকটার গুলোর মাঝে সাপোর্টিভ হোঞ্জো এবং রাগী কিন্তু নরম মনের গুরুজন, কুরাকাওয়া উল্লেখ্য।

পরিশেষে কিছু ব্যক্তিগত মতামত দেই, আমি বাচ্চাকাল থেকে এভিয়েশনের প্রতি আগ্রহী। তাই সিনেমার সামগ্রিক গল্প খুব একটা বক্তব্যধর্মী না হলেও আমার কাছে বেশ ইন্সপায়ারিং লেগেছে। সেই সময়ের কাঠ আর ত্রিপলের তৈরি বিমান যুদ্ধ করার জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না। জিরোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল প্রায় ২৭০মাইল/ঘন্টা বেগে উড়তে পারে এমন যুদ্ধবিমান তৈরি করা। কিন্তু এত বেশি বেগে যে ড্র‍্যগ তৈরী হবে,তা নেয়ার সামর্থ তৎকালীন কাঠের এয়ারফ্রেমের ছিল না। তাই তাকে স্টিলের বডি বানাতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হল ওজন, তৎকালিন র‍্যডিকাল ইঞ্জিনের পক্ষে তখন পর্যাপ্ত থ্রাস্ট দিয়ে স্টিলের বডিকে ২৭০ মাইল/ঘন্টা স্পিডে নেয়া সম্ভব না। পরবর্তীতে সে অ্যালুমিনিয়াম এলয় ব্যাবহার করে সহনীয় উইং লোডিংয়ের বিমান বানাতে সক্ষম হয়। A6M ZERO বিমানটি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন যে সেটি কনভেনশনাল এয়ারফ্রেমের বিমান, ঠিক প্রয়োজনীয় পরিমাণের ডাইহিড্রাল। কিন্তু ভাল করে তাকালে বুঝবেন যে এলোরনে পুশরড নেই। যার ফলে প্লেনের ড্র‍্যাগ অনেক কমাতে সক্ষম হয়েছেন জিরো। কয়েক বছরের সাধনার ফলস্বরূপ তার A6M5 ৩৪৫ মাইল /ঘন্টা রিচ করে। সর্বোপরি, জিরো হাল্কা ওজনের, ম্যানুভারেবল কিন্তু দ্রুতগতির বিমান বানাতে সীমিত সুবিধার মাঝেও কারিগরিকভাবে মহাসফল।যদিও অ্যালাইড ফোর্সের ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু জিরো হিরোকশির অর্জনকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। জানামতে মুভিটি “The wind has risen” উপন্যাসের অ্যাডাপ্টেশন। উপন্যাসটি পড়িনি, তাই মুভির সাথে বৈসাদৃশ্য নিয়ে আমার কোন ধারনা নেই। তবে শুনামতে, নাওকো চরিত্রটি উপন্যাসে অন্যভাবে ছিল। যাই হোক…..সকল বিতর্ককে একপাশে রেখে দিয়ে সিনেমাটি দেখতে বসে যান, আশা করি ২ ঘন্টার অপচয় হবে না।

Overall Rating :
MAL Rating : 8.3
IMDb Rating : 7.8
My Rating : 8.0

The Wind Rises

অনন্য মাঙ্গা আসর – ১ (Major)

এনিমে বের হয়েছে,নিউ সিজন,এই এনিমের গ্রাফিক্সের কাজ,কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা নিয়ে মাতামাতি,আলোচনার অন্ত নেই।অথচ যেই মেধাবী শিল্পীদের হাতে তৈরি মানগা হতে এনিমের এডপ্টেশন হয়,তারা গুরুত্ব পান বটে,তবে মানগা পড়ার প্রতি আকর্ষণ কম।অথচ মাঙ্গাতে কাহিনীর সুসজ্জিত বিবরণ আর সুন্দর উপস্থাপনা পাওয়া যায় যার অনেকাংশ এনিমেতে কেটে ফেলে দেওয়া হয়।

তাই,গ্রুপে মানগা নিয়ে আলোচনা করা হয় মাঝে মধ্যে,একটু আধটু।তাই মানগা পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে মানগার প্রতি ফ্যানডম এর প্রসারে হাজির হলাম “অনন্য মানগা আসর” নিয়ে। অনেক শ্রদ্ধেয় সেনপাইরা অনেক মানগা পড়েছেন,জানেন অনেক কিছু। তাই যেকোন ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর ১৮ বছরের ছোট্ট জীবনে নিয়মিত কিছু করতে পেরেছি বলে মনে পড়ে না,তাই এই সেগমেন্টের কোন নিয়মিত ডেটলাইন দিতে পারছি না।

আজকের মানগা মেজর। স্পোর্টস সিরিজ নিয়ে আলোচনায় স্লামডাঙ্ক,কুরোকো,হাজিমে নো ইপ্পো,ক্রস গেম,এইস অফ ডায়মন্ড ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হলেও এই মাস্টারপিস নিয়ে তেমন আলোচনা পাই নি। তাই আজকে কথা হোক Major নিয়ে।

magur

গোরোউ হোন্ডা নামের এক কিন্ডারগার্টেন পড়ুয়া ছেলের বেসবল খেলার আদ্যোপান্ত গল্পের মূল অংশ। এদিক দিয়ে উপরোক্ত যেকোন স্পোর্টস সিরিজের মধ্যে ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্টের ব্যাপারে এটা চ্যাম্পিয়ন। কিন্ডারগার্টেন এর প্লেগ্রাউন্ড থেকে ডিস্ট্রিক্ট ,ডিস্ট্রিক্ট থেকে ন্যাশনাল এভাবে মারাত্নক উদ্দীপনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মাঙ্গাটি। আর্টের ধরন ভালো কি না বলব না,বরংচ বলি এথলেটিক। খেলার মাঝে কি হচ্ছে তা বোঝার জন্য আর্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

অনেকেই বলেন মেইন ক্যারেকটার এর খেলা শেষ হয়ে গেলে গল্পও শেষ,এটা তাদের পছন্দ না।তাদের জন্য একট ছোট্ট ——- স্পয়লার (((((হোন্ডার পর হোন্ডার ছেলেকেও দেখতে খেলায় দেখতে পাবেন এখানে))))))

মানগা প্রথম সিজনে ৭৮ টি ভলিউম আছে। কিন্তু সিজন ২ এখনো অনগোয়িং…

রচয়িতা- তাকুয়া মিতসুদাজেনরা – কমেডি,শোউনেন,স্পোর্টস MAL রেটিং- ৮.৩৯খেলাগুলোর মধ্যে সেইশুর সাথে ম্যাচ আর বেসবল বিশ্বকাপ এর ম্যাচগুলো উল্লেখ করার মত। মাঙ্গাতে খেলাগুলোর উপস্থাপন ভালো হলেও এনিমেতে স্পোর্টস থিমের চেয়ে শোউনেন বা ইন্টিমিডেটিং কিছু দৃশ্য দেওয়া হয়েছে যা মাঙ্গাতে নাই।মেজর মাঙ্গাতে ধাপে ধাপে বেসবল বিশ্বকাপ,মেজর লিগ,হাইস্কুল টুর্নামেন্ট এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে স্পোর্টস এর আসল থিম বা চেতনাকে।

সবচেয়ে মজার বিষয় ক্লাবের নয় দেশে দেশের মধ্যকার খেলাও রয়েছে এই মাঙ্গাতে। আরো আছে সলিড ডিটেইলিং যা খেলার উত্তেজনা বারিয়ে দিয়েছে।শিগেহারু,হোশিনো সেনসেই,সাতো এবং শিমিজুর মত কিছু চরিত্র থাকায় মানগাটির চরিত্রে বৈচিত্র্য ও চোখে পড়ার মত।আলোচিত এক চরিত্র হল জো গিবসন। মাঙ্গাটি পড়লেই বুঝতে পারবেন Major না পড়লে ওনেক কিছু মিস ;-)আজকের মত মাঙ্গা আসর এ পর্যন্তই থাকুক…সামনে ভালো কোন মাঙ্গাতে নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে।লেখা লম্বা করলাম না,কারন তাতে স্পয়লার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে।মানগা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন 🙂

Anohana: The Flower We Saw That Day [এনিমে রিভিউ] — Mehedi Zaman

এনিমে রিভিউ
Anohana: The Flower We Saw That Day
(Ano Hi Mita Hana no Namae wo Bokutachi wa Mada Shiranai)

পর্বঃ ১১
জনরাঃ জীবনের খণ্ডাংশ (Slice Of Life), অতিপ্রাকৃত (Supernatural)।

শৈশব, এক অসাধারণ আনন্দময় সময় আমাদের সকলের জন্য। এ সময় আমাদের থাকে কিছু অন্তরঙ্গ বন্ধু যাদের নিয়ে আমরা গড়ে তুলি আমাদের মনের মতো একটি দল। এই দলের জন্য সকলে মিলে ঠিক করি একটি আজগুবি নাম এবং ওই দলের মিটিং এর জন্য থাকে এক গুপ্ত স্থান। কিন্তু আমাদের সবার ক্ষেত্রেই কি শৈশব অত্যন্ত আনন্দের ছিল? আমাদের এই বন্ধুদের মাঝেও কিছু বন্ধুর শৈশবে হয়ত ঘটে গেছে কোন দুর্ঘটনা। যেই ঘটনা তাদের সুখময় শৈশবকে করে তুলেছিল দুঃসপ্নময়। যদি আপনারও এমন কিছু অভিজ্ঞতা থেকে থাকে অথবা আপনিও পেতে চান সেইসব অভিজ্ঞতা, তাহলে আপনারই জন্য আনোহানা।

কাহিনীঃ
ইয়াদমি, ছোটবেলায় যে জিনতান নামে পরিচিত ছিল এখন এক ঘরকুনো কিশোর, যে ঠিকমতো স্কুলেও যায় না। কিন্তু শৈশবে এই জিনতান-ই ছিল তার অন্তরঙ্গ দলের নেতা। তার দলের নাম ছিল “সুপার পিস বাসটারস্‌” (Super Peace busters)। সময় অনেক ভালই কাটছিল সুপার পিস বাসটারস্‌ -এর, হঠাৎ সেই দলের সবচেয়ে ছোট এবং পছন্দনীয় সদস্য, মেনমা, এক দুর্ঘটনায় তার জীবন হারায়। ভেঙ্গে যায় সুপার পিস বাসটারস্‌ এবং সকলে একে অপর হতে বিছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কিছু বছর পর মেনমার ভূত (আত্মাও বলা যায়) জিনতান এর কাছে এসে হাজির হয়। প্রথমদিকে জিনতান নিজের দেখার ভুল বলে মেনমাকে এড়িয়ে চলে, কিন্তু কিছুদিন পর সে বাধ্য হয়েই মেনমার কথা শুনে এবং জানতে পারে যে মেনমার কোন এক ইচ্ছা অপূর্ণ থাকায় সে এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারছে না। জিনতান তার সকল বন্ধুদের একত্র করে মেনমার অজানা ও অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে সচেষ্ট হয়। কিন্তু সে কি পেরেছিল তার শৈশবের বন্ধুদের একত্র করে মেনমাকে মুক্তি দিতে?

চরিত্রঃ
আনোহানা এনিমেটির মূল চরিত্র ছয়জন- জিনতান, মেনমা, আনারু, ইয়ুকিয়াটসু, সুরুকো এবং পোপ্পো। এদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং সকলের জীবনধারণই ভিন্ন। তবে এরা সবাই ছেলেবেলায় ‘সুপার পিস বাসটারস্‌’- এর সদস্য ছিল। জিনতান এর কথা আগেই বলেছি এখন অন্যদের কথা বলি। মেনমা ছিল এক মিষ্টি মেয়ে। সে সবসময় সকলের কাছে অনেক ভাল বলে পরিচিত ছিল। আনারু শৈশবে ভাল থাকলেও পরবর্তীতে কিছু অসৎ বান্ধবীর সাথে মিশে তাদের মতো আচরণ শুরু করে। তবে সে তার পুরনো বন্ধুদের সঙ্গ পেয়ে আবার নিজের আগের পরিচয় ফিরে পায়। ইয়ুকিয়াটসু ও সুরুকো দুজনেই পড়াশোনায় মনোযোগী এবং এদের চরিত্র কিছুটা একে অপরের সাথে মিলে যায়। তবে আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে পোপ্পোকে। সে হচ্ছে সবকিছু মেনে নেওয়া রকমের এবং সবসময় হাসি-তামাশায় মেতে থাকার মতো ছেলে। তো, চরিত্র ভালোভাবে তুলে ধরার দিক দিয়ে আনোহানা চমৎকার কাজ করেছে মাত্র ১১ পর্বে।

এনিমেশনঃ
এনিমেশনের ক্ষেত্রে আমার তেমন কিছু বলার নেই কারণ এর এনিমেশন বেশ সাধারণ ছিল এবং আমার এটা ভালই লেগেছে। আর্ট ও পরিবেশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল। প্রত্যেকটি চরিত্রের মুখভঙ্গি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে মেনমার বয়স বাড়ার পরও তাকে অনেকটা একই রকম লেগেছিল যা আমার কাছে একটু অস্বাভাবিক।

সাউন্ডট্র্যাকঃ
Kimi to natsu no owari shourai no yume Ookina kibou wasurenai
Juu nen go no hachigatsu mata deaeru no wo shinjite…
আনোহানার এই এন্ডিংটা আমার অনেক প্রিয়। এই অসাধারণ গানটি গেয়েছে Kayano Ai & Tomatsu Haruka & Hayami Saori। গানটি হল secret base ~Kimi ga Kureta Mono~ (10 years after ver.) । বুঝতেই পারছেন আনোহানার সাউন্ডট্র্যাক গুলো আমার কাছে মারাত্মক লেগেছে। ওপেনিং-ও বেশ ভাল ছিল এবং প্রায় প্রত্যেকটি পর্বের শেষে এন্ডিং থিম সং বাজানোর জন্য পরের পর্ব না দেখে থাকা যায় না। এককথায়, আনোহানা তার সাউন্ডট্র্যাক এর জন্য আমার কাছে আরও বেশি ভাল লেগেছে।

আনন্দঃ
আনোহানা এনিমেটি দেখার সময় আমি ভেবেছিলাম ১১টি পর্বে কিই বা আনন্দ দিবে? কিন্তু না, ১১টি পর্বে আনোহানা আমাকে এতো স্মৃতিকাতরতা, কান্না এবং আনন্দ দিয়েছে যে আমি পুরোপুরি মুগ্ধ। এছাড়াও, বাস্তবতার সাথে অতিপ্রাকৃতিক কিছু বিষয়ের মিশ্রণের ব্যাপারটি অনেক দুর্লভ এবং আমি এই এনিমেতে এই বিষয়ের একটি সেরা উদাহরণ পেয়েছি। তাই অবশ্যই আনোহানা আমাকে অনেক আনন্দের পাশাপাশি নতুন কিছু অভিজ্ঞতা দিয়েছে।

সার্বিকঃ
সবকিছু মিলিয়ে আমি আনোহানাকে ৯/১০ দিব। আসলে এই এনিমেটি দেখার পর থেকেই আমি Slice Of Life জনরার ভক্ত হয়ে গিয়েছি। আনোহানার বাস্তবিক দৃশ্যপট, অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক, বিভিন্ন চরিত্রের মানসিকতা এবং আরও অনেক কিছুর দ্বারা এটি আমার মন জয় করেছে। সত্যি বলছি, হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি এনিমেই আনোহানার মতো আমার এতটা ভাল লেগেছে।

পরিশেষে আমি সকলকে (যারা আনোহানা দেখেননি) এটি দেখার জন্য আহ্বান জানাবো। যদি আপনি Slice Of Life এর ভক্ত না-ও হন তাও আনোহানা দেখার চেষ্টা করবেন, এতটুকু বলতে পারি যে এনিমেটি আপনার খারাপ লাগবে না। একটি উদ্ধৃতি দিয়ে আমার লেখা শেষ করব।
“I thought I could apologize to you tomorrow. But that tomorrow…never came.”-Jinta Yadomi.

anohana

Mobile Suit Gundam 00 [রিভিউ] — Rezo D. Skylight

এনিমে রিভিউঃ
Mobile Suit Gundam 00
সিজন: ০২ (+১ মুভি)
পর্ব সংখ্যা: ৫০
জনরা: অ্যাকশন, ড্রামা, মেকা, মিলিটারি, সাই-ফাই, স্পেস
স্টুডিও: সানরাইজ
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৭ (১ম সিজন); ৮.২৪ (২য় সিজন)
আমার রেটিং: ৯/১০

Gundam 00 1

প্রথমে বলে নেই, ‘গান্ডাম ০০’ গান্ডাম ফ্র্যাঞ্চাইজের ‘Anno Domini’ উনিভারসের একমাত্র সিরিজ। সুতরাং কেউ গান্ডাম ০০ দেখতে চাইলে তার বাকি গান্ডাম দেখার কোন প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ একে ‘Standalone series’ হিসেবেই যেকেউ দেখতে পারবে। এখন আসল কথায় আসি।

গান্ডাম ০০ এর প্লট ২৩ শতকের পৃথিবীকে কেন্দ্র করে রচিত। এইসময় পৃথিবীতে খনিজ জ্বালানীর প্রচুর চাহিদা ছিল। সেজন্য বিগত শতাব্দী ধরে মানুষ পৃথিবীর চারদিকে বৃহৎ সৌরচাকতি নির্মাণ করেছে। আর সৌরচাকতি থেকে প্রাপ্ত সৌরশক্তি ব্যাবহারের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি ‘সোলার পাওয়ার জেনারেটর’। এই সোলার পাওয়ার জেনারেটরগুলো ব্যাবহারের লক্ষে তৎকালীন পৃথিবীকে তিনটি মেজর সেক্টরে ভাগ করা হয়। এরা হল – The Union (formerly United States of America), The Human Reformist Alliance (Russia, China and India) এবং The AEU (Europe)। কিন্তুু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই লেগে থাকতো যুদ্ধ-বিগ্রহ। তখন পৃথিবী থেকে এইসকল যুদ্ধ-বিগ্রহের অবসান ঘটাতে আবির্ভাব হয় ‘Celestial Being’ নামের একটি নন-প্রফিট মিলিটারি অর্গানাইজেশন । এই প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে গান্ডাম নামের চারটি অতি শক্তিশালী রোবট। “সকল যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ‘United World’ গঠন করা” – Celestial Being তাদের এই স্বপ্নটি পৃথিবীবাসির উদ্দেশ্যে ঘোষণা করে এবং যারা তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা দিবে তাদের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই গান্ডাম ০০ এর যাত্রা সূচনা হয় এক দুর্দান্ত কাহিনীর মধ্যে দিয়ে।

Gundam 00 2

গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারই ইউনিক টাইপের। প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা চরিত্র। মেইন ক্যারেক্টার সেতসুনা কিছুতা চুপচাপ টাইপের কিন্তুু সে বেশ ম্যাচুরিটি সম্পন্ন। অনন্যা ক্যারেক্টারের মধ্যে রয়েছে লকঅন, টিয়েরিয়া, আলেলুঝা। এর মধ্যে সিরিজে মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে লকঅন ক্যারেক্টারটটি। টিয়েরিয়া কিছুটা আনসোশাল টাইপের। কিন্তুু কাহিনী আগানোর সাথে সাথে তার চরিত্রেরও বেশ পরিবর্তন ঘটতে থাকে। আর আলেলুঝা বলতে গেলে সবচেয়ে ইউনিক ক্যারেক্টার। কারণ সে ডাবল পার্সোনালেটির অধিকারী। এছাড়া আরও কিছু চমৎকার চমৎকার ক্যারেক্টার রয়েছে। যেমন – এস পাইলট গ্রাহাম, যুদ্ধ প্রিয় আলি আল সাজেদ, সুপার সোলজার সউমা প্রেরিস, প্রিনসেস মারিনা ইসমাইল, রিব্বন্স ওলমার্ক, সাজি ক্রসরোড, লউসেসহ আরও অনেকে। এরা প্রতেকেই সিরিজে গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গান্ডাম ০০ এর প্রত্যেক ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিগুলো অসাধরন। যা নিঃসন্দেহে এই সিরিজের অন্যতম প্লাসপয়েন্ট।

Gundam 00 3

গান্ডাম ০০ স্টুডিও সানরাইজের কাজ। তাই ২০০৭ সালের এনিমে হওয়া সত্ত্বেও গান্ডাম ০০ তে বেশ হাই কোয়ালিটির ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়েছে। মেকা ডিজাইনগুলো বেশ সুন্দর ছিল। এতে কোন প্রকারের CGI ইফেক্ট ব্যাবহার করা হয়নি। তাই মেকা ফাইটগুলো বেশ উপভোগ করেছি। আর যুদ্ধের সিনগুলো খুব ডিটেইলিং করে দেখানো হয়েছে। আমি মহাকাশের ভিজুয়াল ইফেক্ট দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্যারেক্টার ডিজাইন আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বলতে গেলে আমার দেখা অন্যান্য মেকা এনিমে থেকে গান্ডাম ০০ এর ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর লেগেছে।

Gundam 00 4

গান্ডাম ০০ এর সাউন্ডইফেক্ট ও OST আসলেই অনেক সুন্দর। প্রত্যেক ওপেনিং ও এন্ডিং সং বার বার শুনতে ইচ্ছা করে। ওপেনিং সং এর মধ্যে আমার সবচেয়ে ফেভরাইট UVERworld এর গাওয়া “Hakanaku mo Towa no Kanashi” গানটি [ লিঙ্ক- https://www.youtube.com/watch?v=eztenJFXqBw ] এবং এন্ডিং সং এর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের Stephanie এর গাওয়া “Friends” গানটি [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=HnyM12Y5CnI ]। আর OST এর মধ্যে Tommy heavenly6 এর “Unlimited sky’’ খুব ভালো লেগেছে [ লিঙ্ক-https://www.youtube.com/watch?v=10n1ZJGx7A0 ]। গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলও বেশ ভালো। Miki Shinichiro, Kamiya Hiroshi, Irino Miyu, Nakamura Yuuichi, Miyano Mamoru, Yoshino Hiroyuki, Park Romi, Kugimiya Rie সহ আরও ভালো ভালো ভয়েস এক্টর-এক্ট্রেস গান্ডাম ০০ এর ভয়েস অ্যাক্টিং রোলে ছিল।

Gundam 00 5

ওভারওল, গান্ডাম ০০ আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। কাহিনী থেকে শুরু করে ক্যারেক্টার, আর্টওয়ার্ক, সাউন্ড সবকিছুই ছিল অসাধরন। গান্ডাম ০০ দেখার সময় অনেকটা কোড গিয়াসের ভাইব পেয়েছিলাম। সুতরাং, আপনারা যারা কোড গিয়াসের ভক্ত তারা এটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। অনেকেই আছে মেকা হজম করতে পরেনা তাদের উদ্দেশে বলছি, গান্ডাম ০০ তে শুধু মোবাইল সুটের মধ্যে ফাইটিং এর পাশাপাশি বেশ সুন্দর স্টোরিলাইন আছে। তাই, আশা করি গান্ডাম ০০ দেখে কখনোই উদাস হবেন না। এখন সময় নিয়ে দেখে ফেলুন গান্ডাম ০০।

[ এখান থেকে ডাউনলোড করুন Mobile Suit Gundam 00 (Complete) ব্লুরে –http://www.animechiby.com/mobile-suit-gundam-00-cs-bd/ ]

Gundam 00 6

Shigatsu wa Kimi no Uso রিভিউ — Iftekhar Rashed

ব্যক্তিগত রেটিং- ৯.৩/১০

“A Journey You Would Love. A Story you can’t Stop Listening. It’s Something You will Never Forget More Like you Can’t forget ( That is Something the Creator Wants too; Never to forget it).”

ক্লাসিকাল মিউজিক যা এনিমটার মুল খোড়াক এবং আকর্ষন, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক এনিমটার একটা মুহুর্তকেও অহেতুক ভাবার ক্ষ্মতা আমাকে দেয় নি। এক কথায় এতটাই Beautiful যা একমহুর্তের জন্যও চোখকে পলক ফেলতে দেয়নি। এতটাই Deep যা এক মুহূর্তের জন্য অমনোযোগী হয়ে অন্যকিছু চিন্তা করার সুজোগ দেয় নি, এবং বসন্তের বাতাসের মত এমন এক অনুভুতির সৃষ্টি করেছে যা মনের সমস্ত অনুভুতির স্তর গুলোতে আপন ক্ষিপ্রতার সাথে প্রতিটা মুহূর্তে আঘাত হানতে থাকে, ভুলার মত নয় যা। এটা একটা ব্রিজ যা প্রত্যেক মানুষের স্মৃতির কিছু না কিছু অংশের সাথে যোগাযোগ স্তাপন করতে সক্ষম হয়ে ভিতর থেকে আলতো করে নাড়া দেয়। আবার উঠে দাড়ানোর, স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়ার অন্যতম উদাহারন এই এনিমটি।

shiga 2

Arima Kousei সবচেয়ে কম বয়সে সাকি প্রতিযোগিতা জ়েতা একমাত্র পিয়ানিস্ট। যে তার ক্যারিয়ারের শুরুতে আকাশচুম্বি সাফল্য অর্জন করে। সুক্ষ ও নির্ভুল ভাবে বাজানো যা পার্ফেক্ট স্কোর এনে দেবে ছিল তার মুল বৈশিষ্ট। কিন্তু মা মারা যাওয়া এবং নিজের বাজানো পিয়ানোর আওয়াজ শুনতে না পাওয়ার কারনে সেই অল্প বয়সেই পিয়ানোকে চির বিদায় জানায়। আরিমার জীবন আর সবার মত চলতে থাকে। কিন্তু সবকিছুর মাঝে থেকেও অদৃশ্য। একটু সমাজ বিকেন্দ্রিক। তারপরও তার দুজন ক্লোজ ফ্রেন্ড আছে যারা ওয়াতারি এবং সোয়াবে। সোয়াবে শুধু ক্লাস ফ্রেন্ডই না একদম ছোট্ট বেলার প্রতিবেশি বন্ধু। একজন মেয় হওয়া সত্ত্বেও সোয়াবের ছেলে সুলভ আচরন একটু আলাদা মাত্রাই দিয়েছে এনিমটাতে এবং আরিমার জীবনেও। সেই ছোট্ট বেলা থেকেই আরিমার প্রত্যেক্টা প্রতিযোগিতার দর্শক সে। মা মারা যাওয়া পর বলতে গেলে ওই আরিমার খারাপ ভাল সব সময় পাশে থেকে আসছে। এবং মনে প্রানে চাইতে থাকে আরিমার জীবনে যেন আবার রঙ্গিন মাত্রা যোগ হয়।
গল্পটা এভাবে চলতে চলতে হঠাৎ করেই একটা নতুন মোড় নেয় যা আরিমার ধুসর জীবনকে রোলার কোস্টার রাইড বানিয়ে দেয়। সোয়াবে আরিমাকে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করানোর জন্য আমন্ত্রন জানায়, যে কিনা ওয়াতারিকে পছন্দ করে। সোয়াবে আরো যোগ করে মেয়েটাও একজন মিউজিশিয়ান তাই আরিমার মিউজিক নিয়ে কথা বলার সুজোগ থাকছে। আরিমার সময় মতই দেখা করার স্থানে চলে যেয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কাছ থেকেই ভেসে আসতে থাকা মন কাড়া মেলোডিকার শব্দ শুনে উৎপত্তি স্থানের দিকে ছুটে যায় আরিমা। এবং ঐ মুহুর্ত থেকেই আরিমার জীবনের বিশাল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে এটা হয়তো আরিমা নিজেও জানতো না। ওখানে যেয়ে দেখে একটি সোনালি কেশি মেয়ে কিছু বাচ্চাদের সাথে মেলডিকা বাজাচ্ছে। মেয়েটা মেলডিকার সুরে হাসিতে, ছেলে মানুষিতে আরিমা অদ্ভুত রঙ দেখতে পায়, এমন কিছু যা সবসময় আরিমা মনে মনে খুজতে থাকে। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্যটি আরিমা ক্যামেরা বন্দি করবে। এমন সময় দক্ষিনা তীর্ব বাতাসে মেলডিকা বাজানোর ব্যঘাত ঘটে গল্পের নাইকা কাওরি মিয়াজানোর এবং একটি অপ্রিতিকর অবস্থায় কাওরি আরিমাকে ছবি তুলতে দেখলে আরিমার ব্যাড টাইমিং এর সিকার হয়, এবং কাওরির রুদ্র মুর্তির সম্মুক্ষিন হয়। এর পরপরই দৃশ্যপটে আগমন ঘটে ওয়াতারি ও সোয়াবের।
কাওরি মিয়াজানো আসলে তোয়া হলে একটা ভায়লিন কম্পিটিশনে অংশ গ্রহন করেতে যাচ্ছিল এবং ওরা সবাই কাওরির পারফর্ম দেখতে আসছিলা। পারফর্মেন্স শুরু হলে পুরো হল নিস্তব্ধ হয়ে যায় কাওরির মনমুগ্ধকর ভায়লিনের সুরে, যেখানে সে তার একোম্পানিস্ট পিয়ানো বাজককে,গ্রামারকে গ্রায্য করে পুরো নোটটা নিজে্র করে নিয়ে বাজাতে থাকে। আরিমা মনে বিশেষ রঙ্গে আন্দলিতে হয়ে উঠে, তবে সে এও বুঝতে পারে এটা দর্শকদের নাড়া দিলেও কম্পিটিশনের ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করে না। পারফর্মেন্স শেষ হলে বেরুনোর সাথে সাথে কাওরিকে দুটো বাচ্চা ছুটে এসে ফুল দেয়। ফুল নিতে নিতে আরিমা ওয়াতারি আর সোয়াবেকে দেখে কাওরি। কিন্তু সে ছুটে সবার আগে আরিমার কাছে আসে জানার জন্য যে ওর কেমন লেগেছে।

কাওরির এই আবির্ভাব আরিমার মনে গেথে যায় প্রথম দিন থেকেই। এরপর একদুপুরে ওতারি না থাকায় কাওরি আরিমার সাথে বের হয়ে এক রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ওখানে ওদের মনোযোগ ভাঙ্গে দুটো বাচ্চার Twinkle Twinkle Little star এর পিয়ানো ভার্সন বাজাতে শুনে। কাওরি বাচ্চাদের কাছে গেলে বাচ্চারে ওদের শেখানোর জন্য বলে কিন্তু কাওরি আরিমাকে দেখিয়ে বলে ওর কাছ থেকে শিখতে, আরিমা প্রথমে না করলে কাওরির হুমকির মুখে অসহায় হয়ে শেখাতে রাজি হয়। বাজানো শুরু করলে সবার নজর আরিমার দিকে পড়ে। আরিমা হারিয়ে যেতে থাকে এবং হুঠ করেই আবার আরিমার সামনে থেকে নোট গুলো হারিয়ে যেতে থাকে আর সেই সাথে সে তার বাজানো সুর আর শুনতে না পেয়ে তৎক্ষনাত বাজানো বন্ধ করে দেয়। যা খুব ভাল মতই কাউরির চোখে ধরা পড়ে।
কাহিনি মুলত নুতুন মোড় নেয় যখন কাওরি তোয়া কম্পিটিশানে অডিয়েন্স ভোটে সেকেন্ড রাউন্ডে উঠে। সে হুঠ করেই আরিমাকে তার একম্পানিস্ট হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং একমত জোর পুর্বক আরিমাকে রাজি করায় তার সাথে পারফর্ম করার জন্য, এটা জানা সত্তেও যে আরিমা পিয়ানো বাজাতে সক্ষম নয়। আরিমাকে দিয়ে রাত দিন প্রাক্টিস করিয়ে নিতে থাকে পারফর্ম করার জন্য যার মধ্যে বেশ কিছু নজর কাড়া মুহূর্ত আছে।

কম্পিটিশনের দিন পারফর্মের সময় আরিমা আবার খেই হারিয়ে ফেলতে থাকে এবং একপর্যায়ে সে বাজানো বন্ধ করে দেয় কিন্তু কাওরি তার ভায়োলিন বাজানো চালিয়ে যেতে থাকে, এক পর্যায়ে কাওরিও বাজানো বন্ধ করে দেয়। তারপর আরিমাকে সাহস জাগানোর জন্য ওকে কিছু কথা বলে। পেছন থেকে যতই ভায়লিন বাজানো রত কাওরিকে আরিমা দেখে ততটাই মুগ্ধ আর সাহস পেতে থাকে। কম্পিটিশনের নিয়ম অনুযায়ি মাঝ পথে বাজানো বন্ধ করলে ডিকোয়ালিফাইড। এবং তারা দুজনই এটা ভাল করে বুঝতে পারে। কিন্তু কাওরির উদ্দেশ্য আসলে অন্যকিছু ছিল এটা আরিমা কিছুটা আচ করতে পেরেছিল তাই আরিমা তার সব দিয়ে বাজানো আবার শুরু করে শুধু মাত্র কাওরির জন্য, এরপর দুজন একত্রে মিলে একটি মিরাকল পারফর্ম করে যা সবাইকে মুগ্ধ করে দেয় এবং একটি আনফরগেটেবল পারফর্মেন্স গিফট করে সবাইকে। তবে পারফর্মেন্স শেষে কাওরি মুখ থুবড়ে পড়ে যায় স্টেজের উপর।

আরিমার জীবনের নতুন অধ্যায় , কাওরির হস্পিটালের জীবন শুরু এখান থেকে এবং এর প্রভাব সোয়াবের উপরও পড়ে, কাহিনী আরো অনেক মোড় নিতে থাকে আমাদের দেয় অসম্ভব কিছু সুন্দর মুহুর্ত যা আমি চাইব সবাই নিজেরা দেখে অনুভুতিটা নেক, আমার মতই।

বিঃদ্রঃ এপ্রিলের বলা মিথ্যাটা কিন্তু পুরো এনিমটা দেখেই জেনে নিতে হবে। যদিও আমি মাঝ পথে আচ করতে পেরেছিলাম

Tsuritama অ্যানিমে রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tsuritama.full.1107613

জনরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ, স্পোর্টস, সাই-ফাই

“Even if the world ends tomorrow, I just want to fish!”

আচ্ছা, আপনারা কেউ কখনো বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন? কেমন লাগে ব্যাপারটা? কাঠির গায়ে সুতো বেঁধে পানিতে টোপ ফেলে চুপ করে বসে বোরিং সময় কাটানোর মাঝে কি এমন থাকতে পারে, যা নিয়ে হারু আর কোকো এত হাইপড? কিংবা বড়শিতে মাছ গাঁথার পর সেটাকে খেলিয়ে ডাঙায় তোলা কি এমন কঠিন কাজ, যার জন্যে নাতসুকিকে “প্রিন্স” উপাধি দেয়া হয়েছে?কি এমন রয়েছে এই মাছধরাতে, যে দুনিয়া উল্টে গেলেও কিছু যায় আসে না??

কিংবা মনে করুন, আপনি একজন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট। কিন্তু অনেক লোকজনের সামনে আপনি অত্যন্ত অকওয়ার্ড ফিল করেন। তাও কষ্টেসৃষ্টে ফার্স্ট ইমপ্রেশনটা ঠিক রাখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে গেলেন। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে শুনতে আপনি স্পীচ দেয়া শেষ করে কেবল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হল রাস্তায় দেখা হওয়া সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন ছেলেটি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরো ক্লাসের সামনে, হাত নেড়ে এনোশিমা ডান্স করা অবস্থায়!! গেল আপনার সাধের ফার্স্ট ইম্প্রেশন!

HorribleSubs_Tsuritama_-_10_720p.mkv_snapshot_04.04_2012.06.16_13.44.05
অথবা, সবসময় একটা হাঁস বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হারুর ব্যাপারে সে এত সতর্ক কেন? ইউকি আর নাতসুকিকে জোর করে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি ছাড়া তো আর তেমন কিছুই করেনা সে। কিংবা হারুই বা সমুদ্রে মাছ ধরতে এত আগ্রহী কেন? এনোশিমার প্রাচীন লোকগাঁথার সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে?

অ্যানিমেটার শুরুটা এমনই ওলট পালট মার্কা, কোথা থেকে কি হচ্ছে আমি কিছু ঠাহর করে উঠতে পারছিলাম না। মাথায় মাছের জার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন হারুর কাজকর্ম দেখে হাসি পাচ্ছিল, আবার ওর সরলতা দেখে মায়াও লাগছিল। কিন্তু যত এগোলাম, তত যেন কাহিনীটা আমাকে ভেতরে টানতে থাকল! ভেবেছিলাম কি, আর শেষে হলটা কি! সিম্পল একটা মনকে খুশি করে দেয়া হাসিখুশি স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে হঠাৎ হয়ে গেল একটি জমজমাট রূদ্ধশ্বাস সাইফাই অ্যানিমে! এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপারটি হল, এতকিছুর মধ্যেও অ্যানিমেটা আমার মুখ থেকে একবারের জন্যেও হাসিটা মুছতে দেয়নি!
tsuritama_by_squ_chan-d56d05l
অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত সুন্দর। উজ্জ্বল, ঝলমলে রঙ ব্যবহার করে এনোশিমা নামক সমুদ্র উপকূলের শহরটিকে খুব মনোমুগ্ধকর উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে; দেখে যে কারও মনে হতে বাধ্য, একবার যদি এনোশিমায় যেতে পারতাম! ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ উদ্ভট, আর এই উদ্ভট ডিজাইনের কারণেই যেন অ্যানিমেটা প্রাণ পেয়েছে। নাতসুকির মাছধরা বিষয়ক জ্ঞান, ইউকি ও হারুর এ বিষয়ে অজ্ঞানতা, শুধুমাত্র এই ফিশিং এর কারণে চারটা ছেলের জীবনে পরিবর্তন, তাদের মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে দেখলে নিজের অজান্তেই তাদেরকে আপন মনে হতে থাকবে!

অ্যানিমেটার ওএসটি খুবই চমৎকার, ওপেনিং এন্ডিং একটাও স্কিপ করার মত না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্রতিটা সিচুয়েশনে পার্ফেক্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাছধরা থেকে শুরু করে ক্লাইম্যাক্স, সবখানেই নিখুঁত আবহ তৈরি করেছে এর ওএসটি।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা আবার খুবই ভাল লেগেছে, ভিন্নধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ ও সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ দেখে আরও বেশি ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরেও তাপিওকার “ডাক” মনে করে আমি হাসব, নাতসুকি, ইউকি, হারু আর ইয়ামাদার বন্ধুত্বের কথা মনে করে আনন্দ পাব। আর ক্লাইম্যাক্সের সেই লোম খাড়া করা মূহুর্তগুলো তো কখনোই পুরনো হবার নয়!

tsuritama_wallpaper_by_chatlantic-d5974r8

Code Geass রিভিউ — Amor Asad

Code Geass: কেবলই কী অ্যানিমে? নাকি অননুভূত অভিজ্ঞতার রূপকও?
▬▬
Code Geass সম্পর্কে লেখার আগে একবার উইকি আর MAL’এ ঢুঁ মেরেছিলাম প্রোডাকশন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে। অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই জেনে নেয়া দরকার ছিল কোড গিয়াস অরিজিনাল সিরিজ নাকি মাঙ্গা অ্যাডাপশন। যেহেতু কোড গিয়াসের কোন মাঙ্গা ছিল না, তাই আলাদা কোন মানদণ্ড নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

CG1Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’র প্রশংসা করতে হবে। গোপন এক সংস্থা, নেপথ্যের ভিজিলান্টে নায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলির মাঝে মূল্যবোধের পার্থক্য – বলা চলে সাদামাটা প্লট নিয়ে আগাচ্ছিলেন দুজন। অথচ সেই সাদামাটা প্লটকেই ব্যপক রূপ দিয়ে সিরিজকে এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু তো দিয়েছেনই, সেই সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবনার উদয় হবার সুযোগও রেখেছেন। এই লেখায় আমার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু হাইপোথিসিস এবং কাউন্টার হাইপোথিসিস প্রস্তাব করব। এছাড়াও থাকবে ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দলাগার কিছু টুকরো কথা।

Code Geass এর ঘটনাবলী অল্টারনেট টাইমলাইনের, যেখানে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার গোটা পৃথিবীর উপর একছত্র, একনায়কতন্ত্র কায়েমের তালে আছে। এটা স্পষ্টত যে এই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার আমাদের পৃথিবীতে অ্যামেরিকা; মানচিত্রে খেয়াল করলে দেখা যায়, USA এবং Latin America দুটো মিলেই ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। সুতরাং ব্যপারখানা দাঁড়াচ্ছে, অ্যামেরিকা ঔপনিবেশিকের ভূমিকায় আসীন এবং এক পর্যায়ে জাপান দখল করে নেয়।

CG2

 

এই দৃশ্যপটের পেছনে কিছু ব্যপার থাকতে পারে।
এক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এশিয়ানদের উজ্জ্বীবিত করতে এবং দলে টানতে সত্য-মিথ্যার মিশেলে কিছু অ্যর প্রোপাগান্ডা ছড়ায় জাপান। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, পুঁজিবাদ ছিল যার উপজীব্য বিষয় এবং ডিকটেটরশিপটুকু বাদ দিলে ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার পুঁজিবাদী এবং ঐপনিবেশিক মনোভাবের কোন এক জাতির অর্জনের চুড়ান্তরূপ হিসেবে ধরা যায়। যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায় যদি পরাশক্তিরা পৃথিবী ভাগের তালে থাকত তবে হয়ত এরকমই হতো। এই থিওরীর পিছে আরেকটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল Nagasaki Arch, সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠ এপিসোডে ক্ষণিকের জন্য দেখানো হয়, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের জাপান আক্রমণের সময়কালে। এটা সেই আর্ক যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নাগাসাকিতে ফেলা অ্যাটমিক তাণ্ডবের মাঝেও আস্ত ছিল। কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ডেও চারপাশে ধ্বংসলীলা নিয়ে সদর্পে টিকে আছে। সোজা কথায়, ডিফরেন্ট টাইমলাইন, অ্যামেরিকা ইনভেডার, জাপান নির্দোষ। (পয়েন্ট টু বি নোটেডঃ আমি নিউক্লিয়ার অ্যাটাককে জাস্টিফাই করছি না, ক্রাইম অনুযায়ী জাপানকে খুব বেশিরকম আর নিষ্ঠুর মূল্য দিতে হয়েছে) তবে এই থিওরীতে যে ত্রুটি নেই সে দাবী করছি না, কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান-জার্মান-ইতালি জোট হেরে গেলেও, জাপানের প্রোপাগান্ডা অনুযায়ী প্রস্তাবিত সিস্টেম (ব্রিটানিয়ান) বাস্তবে রূপ নেয়ার সুযোগ ছিল না। এটা ছিল স্রেফ দলভারী করার প্রয়াসমাত্র, নিদেনপক্ষে যুদ্ধচলাকালীন সময়ে। ওই সেন্টিমেন্ট এতদিন পর কেউ অ্যানিমেতে তুলে ধরবে বলে মনে হয়না। তাছাড়া সেসময় আরেক পরাশক্তি ছিল USSR, কোড গিয়াসের দুনিয়ায় রাশিয়ার অস্তিত্ব নেই।

দুই, একবিংশ শতাব্দীর কিছু আগে থেকে এবং তারও আগে কোল্ড অ্যর চলাকালীন সময়ে অ্যামেরিকা কাগজে কলমে সাধু সাজলেও নানা ছুতোয় বিভিন্ন দেশের অ্যাফেয়ার্সে বাগড়া দিয়েছে এবং দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেকাংশ বিভিন্ন সময়ে ইউএস সরকারের দখলে ছিল এবং এখনও আছে। সেই সাথে বন্ধু রাষ্ট্রের উপরও বড়ভাইয়ের মতো আচরণ অদৃশ্য এক কলোনিস্ট জায়ান্টের কথা মনে করিয়ে দেয়। হতে পারে Code Geass’এ এই জায়ান্টের ফিজিকাল এবং ভবিষ্যৎ এক্সট্রিম রূপ ব্রিটানিয়ান এম্পায়ার। ২০০৬ সালে নির্মিত কোড গিয়াসের প্লট সময়কাল ২০১৭ করাটা কেবলমাত্র সাইফাই রূপ দেয়নি, এই ভীতিটার খসড়া একটা রূপও প্রদান করেছে। আবারও, ডিকটেটরশীপটুকু বাদ দিয়ে। সরাসরি আঙ্গুল তোলা থেকে বিরত থাকতে এবং সাইফাই/ফ্যান্টাসি রূপদানে গিয়াস পাওয়ার আর একনায়কতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল।
অ্যানিমে সিরিজ কম দেখা হলেও অ্যানিমে মুভি দেখা হয়েছে বেশ, এবং আনুপাতিক হারে দেখলে এমন সুপ্ত কোন প্লট থাকার সম্ভাবনা খুব কম হলেও একেবারে বাদ দেয়া যায় না। এমনকি জিবলি স্টুডিও এর বাইরে নয়। গেলো বছর দুয়েক আগে, জাপানিজ এয়ারক্রাফট এঞ্জিনিয়ার জিরো হোরিকোশির বায়োপিক The Wind Rises এ আমরা দেখেছি তরুন এক ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন সফল করার আপ্রাণ প্রয়াস আর সেই সাথে নিখাদ দেশপ্রেম আর জাতিগত আত্মসম্মানবোধের মিশ্রণ। কিন্তু পর্দার আড়ালে এই সত্যটুকু চাপা পড়ে গেছে যে, জিরো হোরিকোশির ফাইটার প্লেনগুলো ঠিক শান্তি বজায় রাখতে যায়নি, বরং জার্মান অ্যালায়েন্সের অংশ হিসেবে জাপান আক্রমণকারীই ছিল। গ্রুপে Md Asiful Haque ভাইয়ের ব্যপক এক রিভিউ আছে এই অ্যানিমে নিয়ে।

তিন, আবারও সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড অ্যরের দারস্থ হতে হবে তবে ভিন্ন দৃষ্টিকোণে। হিটলার, তার নাৎসি সাম্রাজ্যের সাথে ব্রিটানিয়ান সম্রাট চার্লসের ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারের সেন্টিমেন্ট প্রায় সদৃশ বলা চলে। হিটলারের আরিয়ানদের মতই ব্রিটানিয়ানরা অন্য জাতিকে অস্পৃশ্য এবং নীচু মনে করে। আরিয়ানিজমের (Aryanism) সূতিকাগার ছিল জার্মানি, ব্রিটানিয়ান এম্পায়ারও তাই। লেখক ও পরিচালক Ichirō Ōkouchi এবং Gorō Taniguchi’কী তবে কোড গিয়াসে অ্যান্টি-নাজিজম সেন্টিমেন্ট রেখেছেন? এই সেন্টিমেন্টের জন্ম কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের পক্ষে যুদ্ধ করার অপরাধবোধ থেকে? কে জানে।
আমি স্রেফ পয়েন্টগুলো উল্লেখ করলাম, গ্রহণ বা বর্জন করতে বলা আমার উদ্দেশ্য না। এগুলো হাইপোথিসিস, আগেই বলেছি। আবার অনেকটা স্বগতোক্তির মত। বাকিটা পাঠকের উপর নির্ভর করবে।

►দর্শক প্রতিক্রিয়া◄
এই অংশ সম্পূর্ণই অ্যানিমের স্টোরি রিলেটেড। এবং কিছু মাইল্ড স্পয়লার থাকবে, যিনি এখনও কোড গিয়াস দেখেননি, সামনে না এগোতে অনুরোধ করছি।

–**স্পয়লার অ্যালার্ট**–

কোড গিয়াস দেখতে গিয়ে এক ধরণের নতুন অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছি। যখন দেখা শুরু করেছি, একের পর এক এপিসোড দেখে গিয়েছি বিরতিহীন। যখন বিরতি নিয়েছি, আবার দেখতে ইচ্ছে করেনি, একরকম অনীহা কাজ করেছে। আবার যখন দেখতে বসেছি, বিরতিহীন ভাবে দেখেছি। ইন এ সেন্স, কোড গিয়াস মাদকের মত ছিল।
সবচেয়ে যে ব্যপারটা দোলা দিয়েছে, তা হল গল্পের আনপ্রেডিক্ট্যাবিলিটি। কিছু কিছু ইভেন্ট আন্দাজ করতে পারলেও বেশীরভাগেই চমকে গিয়েছি। সুপার থ্রিলিং আর টুইস্ট ভর্তি শো’ হিসেবে কোড গিয়াস সবার শীর্ষে থাকবে কোন সন্দেহ নেই। সেই সাথে ক্যারেক্টার গুলোর তারিফ করতে হবে, এক্কেবারে নিখুঁত চিত্রায়ন। যেমন, Suzaku’কে হটাৎ করে পিষে ফেলতে চাওয়ার মত পাওয়ারফুল ইমোশন এমনি এমনি তৈরী হয়না। অথচ আইডিওলজিকালি সুজাকুর স্ট্যান্ড কোনভাবেই ফেলনা ছিল না। রক্তারক্তি থামানোই মূল ইচ্ছে ছিল সুজাকুর, তাতে সার্ভোভৌমত্ব যায় যাক। কাপুরুষত্ব? হতে পারে; কিন্তু ভুল নয়।
আচ্ছা, ভিন্ন একটা কোড গিয়াস ওয়ার্ল্ড বিবেচনা করা যাক যেখানে বর্তমান পৃথিবীর দেশসমূহের বদলে ফিকশনাল কিছু ল্যান্ড রয়েছে এবং এরিয়া ১১ শুরু থেকেই ব্রিটানিয়ান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত। তাহলে এরিয়া ১১’কে স্বাধীন করতে গড়ে ওঠা ব্লাক নাইট অর্গানাইজেশন আর জিরো আদতেই টেররিস্ট এবং সুজাকু আদতেই হিরো। স্রেফ ন্যাশনালিস্ট সেন্টিমেন্ট দর্শকের মনে সুজাকুর অবস্থান পাল্টে দিয়ে জিরোকে হিরো হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
এই পর্যায়ে প্রশ্ন করতে হবে, জিরো আদতেই হিরো ছিল কিনা। জিরো বা ‘লুলুচ ভাই ব্রিটানিয়া’র (ধন্যবাদ ইয়ামি আপু, নামটা পছন্দ হইছে) কোন ইচ্ছেই ছিলো না পাবলিক সার্ভিস দেয়ার, তার সবগুলো মোটিভ পারসোনাল এবং পারসোনাল গেইনেই তার সব প্লান। হ্যাঁ, সেগুলো হারানো জাপানের দমিত জনসাধারণের পক্ষেই গেছে কিন্তু সেটা জিরোর উদ্দেশ্য ছিল না এটা পরিস্কার। তাই, জিরো আসলে ভিলেইন। একেবারে শেষে আত্মাহুতি দিয়ে ভিজিলান্টিজম আর জাস্টিস আপহোল্ড করার চিহ্ন হিসেবে জিরো চরিত্রকে হিরোর মর্যাদায় উঠিয়ে দিয়ে গেলেই লুলুচের ক্রাইমগুলো মাফ হয়ে যায় না। ইনফ্যাক্ট, গিয়াস ব্যবহার করাটাই ক্রাইম, সুপারপাওয়ার নয়। জিরো তাই আমার চোখে সুপারহিরো তো নয়ই, হিরোও নয়।
হিরো সুজাকুও নয়। সেও ব্যক্তিগত আবেগের বশবর্তী হয়ে আনুগত্য পাল্টেছে বারংবার। একজন ন্যাশনালিস্টের চোখে সুজাকু রাজাকার, একজন অ্যানারকিস্টের চোখে সুজাকু অ্যান্টিহিরো, একজন ইউটোপিয়ানিস্টের চোখে সুজাকু হিরো।

লেখক ও পরিচালকের উদ্দেশ্য ছিলো মূল দুই ক্যারেক্টারের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্দ্বন্দ্ব তুলে ধরা।
স্যালুট দিয়ে বলতে হবে, তারা দারুণভাবে সফল।

তবে মেকিং এ কিছু ত্রুটি ছিল। কিছু দৃশ্যের ব্যাখ্যা না চাইতেই গরুর রচনা পেশ করা হয়েছে, কিছু দৃশ্য গ্যাপ দিয়ে দেখিয়ে দর্শকের কল্পনাশক্তির উপর ভরসা করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে খুঁটিনাটি বিষয়গুলি লক্ষ্য করতে পছন্দ করি – তাও আমার কাছে রোলো, ভিলেটা আর জিরোর চুক্তির ব্যপারটা ঝাপসা – কোত্থেকে হুট কী হয়ে গেল। এরকম উদাহরণ আরো দেয়া যাবে।
আবার গল্পের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, হটাৎ করেই কাহিনীর রেশ চেপে ধরে ধীরে ধীরে এগোনো হয়েছে। এইরকম ছন্দপতনগুলি পছন্দ করতে পারিনি। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হবে প্রথম সিজনের শেষ এবং দ্বিতীয় সিজনের শুরুর সময়টা। এতই বিরক্ত হয়েছিলাম, কোড গিয়াস দেখা বন্ধ করে অ্যাটাক অন টাইটান দেখতে বসেছিলাম।

তবে এসব ট্রিভিয়াল ব্যপার ওভারলুক করতে রাজী আমি। অন্তত সম্পূর্ণ সিরিজ শেষ করার পর সেটার আফটার ইফেক্ট হিসেবে যে ঘোরের ভীতর ছিলাম, তার জন্যে হলেও। খুব বেশি মোশন পিকচার দর্শককের অবচেতনকে আপন করে নিতে পারে না। এইটুকু ক্রেডিট দিতেই হবে কোড গিয়াসকে।

আমার রেটিং ৮.৭/১০

CG3

মুভি রিভিউ: Redline (2009) — Abdullah Ar Rayhan

মুভি রিভিউ — Redline (2009)

Director: Takeshi Koike
Producers: Madhouse, Anchor Bay Films
Genres: Action, Cars, Sci-Fi, Sports
Rating: R+
MAL Score: 8.35

Redline

জনরা দেখেই মুভির প্লট সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পেয়ে যাওয়ার কথা। এ এক দূর ভবিষ্যতের গল্প। মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। এলিয়েনদের সাথেই সহাবস্থান তাদের। অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি হোভার-কার যখন স্বাভাবিক গাড়িগুলোর স্থান দখল করে নিচ্ছে, কেউ কেউ তখনও সর্বস্ব দিয়ে রেস করে যাচ্ছে। জেপি (JP) এমনই একজন রেসার। এই রেসে তার টিমমেট বন্ধু ফ্রিসবি (Frisbee) যার কাজ জেপি-র গাড়ি প্রস্তুত করে দেয়া। মুভির শুরু হয় ইয়েলো লাইনে হওয়া অ্যাকশনে ভরপুর এক রেস দিয়ে যেখানে দেখা যায় শুরুতে পিছিয়ে থাকা সত্তেও শেষ কোয়ার্টারে সবাইকে পেছনে ফেলে ঠিকই এগিয়ে যায় জেপি। কিন্তু বিধিবাম, মাফিয়ার চাপে আগে থেকেই ফিক্স করা রেসে জয়ী হওয়া তার সাধ্যে নেই। জিতে গিয়ে পরবর্তী রেডলাইন রেসে নিজের জায়গা করে নেয় মুভির আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র সোনোশি (Sonoshee), ছোটবেলা থেকেই যার লক্ষ্য রেডলাইন রেসে জেতা। রেডলাইন, গ্যালাক্সির সবচেয়ে বিখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড রেস, তাদের পরবর্তী ভেন্যু ঠিক করে বিপজ্জনক রোবোওয়ার্ল্ডে। হেরে গিয়েও কয়েকজনের ড্রপআউটের সৌজন্যে জেপি-ও জায়গা পেয়ে যায় রেডলাইনে। প্রশ্ন হল ফিক্সিং বাধা অতিক্রম করে জেপি কি রেডলাইন জিততে পারবে? তাহলে সোনোশি-র আজন্ম লালিত স্বপ্নের কি হবে? রোবোওয়ার্ল্ডের কর্তাব্যক্তিরাও বা কেন তাদের গ্রহে এ রেস হতে দিতে নারাজ?

এ মুভি নিয়ে কিছু লিখতে হলে প্রথমেই আসবে আর্টওয়ার্কের কথা। এখানে উল্লেখ্য, মুভিটি প্রোডাকশনে সময় লেগেছে সাত বছর আর এতে ব্যবহার করা হয়েছে হাতে আঁকা ১ লক্ষেরও বেশি ড্রয়িং। নিঃসন্দেহে বলা যায়, All those hard works paid off in a beautiful, mind blowing way. প্রথম দৃশ্য থেকেই আর্টস্টাইল নজর কেড়ে নেবে যা দেখলে একটা কথাই মনে আসে– ‘চোখ ধাঁধানো’। দেখে মনে হবে একেবারে কমিকবুক থেকে তুলে আনা। এত কালারফুল আর ভিন্নধর্মী আর্টওয়ার্ক আর কোথাও চোখে পড়েনি। আর্টস্টাইলই একে অন্য যেকোন অ্যানিমেশন থেকে আলাদা করে রাখবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অ্যাকশন। এক অর্থে পুরো মুভিই অ্যাকশনে ভরপুর, আর তা ফুটিয়ে তোলাও হয়েছে যথোপযুক্ত ভাবে। বারবার দেখার মত। এত ফাস্ট-পেসড যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্লো-মোশনে দেখার দরকার পড়ে। ভিন্নধর্মী আর্টস্টাইল আর দুর্দান্ত অ্যাকশন সিকোয়্যেন্সের এ মুভিটি এক কথায় একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এতই যে, রেসে কে জিতবে বা হারবে সে চিন্তা বাদ দিয়ে শুধু অ্যাকশন দেখাতেই নিমগ্ন হয়ে যাবেন। [এখানে একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার শেয়ার করি। মুভিটা আমি প্রথমে ডাউনলোড করেছিলাম নরমাল 1080p Bluray প্রিন্টে যা সাইজে ছিল ১.৬১জিবি, কিন্তু সাথে আরেকটু ভালো কোয়ালিটি পাওয়ার আশায় ৭.২১জিবি-র আরেকটি ফাইল ডাউনলোড দিয়ে রেখেছিলাম। মুভি দেখার মাঝপথে এসে দ্বিতীয় ফাইলটি ডাউনলোড কমপ্লিট হয়; আমিও বেটার কোয়ালিটি পেয়ে আবার প্রথম থেকে দেখা শুরু করি। এ কথা বলার একটাই কারণ, মুভিটি ভিজ্যুয়ালি এতই সুন্দর যে ইমিডিয়েটলি আবার প্রথম থেকে দেখতে একটুও দ্বিধা করিনি।]

আর্ট আর অ্যানিমেশনের পাশাপাশি সাউন্ডের কথাও বিশেষ করে বলতে হয়। কিছুটা ইলেক্ট্রিক ঘরানার মিউজিক রেস আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে পুরোপুরি মানিয়ে গেছে। আর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর সাথে কানফাটানো সাউন্ডের সিঙ্ক্রোনাইজেশনও পারফেক্ট। এখানে আরেকটি ব্যাপার উল্লেখ করতে হয়। মূল চরিত্রগুলোর ভয়েস দেয়ার ক্ষেত্রে সত্যিকারের অ্যাক্টরদের উপরে জোর দেয়া হয়েছে। জেপি-র কন্ঠ দিয়েছেন জাপানি টিভি অভিনেতা Takuya Kimura, সোনোশি-র কন্ঠ দিয়েছেন নামী অভিনেত্রী Yû Aoi আর ফ্রিসবি-র কন্ঠ দিয়েছেন বিখ্যাত Tadanobu Asano যিনি হলিউডেও নিজেকে চিনিয়েছেন। বোঝাই যায়, আর্ট আর সাউন্ডে কোন ছাড় দেয়া হয়নি।

মুভিটির স্টোরি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করতে গেলে একই সাথে বলতে হয় দুর্বল কিন্তু মানানসই। দুর্বল দিকগুলোর মধ্যে আছে রোবোওয়ার্ল্ডে দেখানো কিছু সাব-প্লট যার সাথে মূল কাহিনীর সরাসরি কোন যোগাযোগ নেই, উদ্দেশ্যহীনতা এবং ক্লিশে ভাব। একই সাথে মানানসই বলার কারণ হচ্ছে রেসিং মুভিটিতে মূল ফোকাস এন্টারটেইনধর্মী অ্যাকশন বলে এর বেশি কিছু যোগ করার সুযোগও নেই। তবে রেসগুলো দেখার সময়কার অ্যাড্রেনালিন-রাশ আপনাকে এ দুর্বলতা অনেকাংশেই ভুলিয়ে দেবে। অপ্রয়োজনীয় সাব-প্লট বাদ দিয়ে দৈর্ঘ্যে আরেকটু কমিয়ে দিলে মুভিটি আরো উপভোগ্য হত, সন্দেহ নেই।

কারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সেভাবে করা হয়নি। কেবল জেপি আর সোনোশি-র কিছু ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলোর গভীরতা আরেকটু বাড়ানো যেত কিন্তু মুভিটি-তে সম্ভবত ইচ্ছে করেই কোন সিরিয়াসনেস আনা হয়নি।

শেষ কথা হচ্ছে সিরিয়াস বা ইন্টেন্স কোন কিছুর আশা করলে হতাশ হতে হবে কিন্তু পিওর ফান আর উত্তেজনাময় অ্যাকশন দেখার ম্যূডে থাকলে ১০০ মিনিট পুরো ১০০ভাগই উসুল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে একটি কথা– যত ভালো কোয়ালিটি আর বেশি সাউন্ড নিয়ে দেখা যাবে তত ভালো লাগবে।
রেটিংঃ ৭.৭৫/১০ (কাহিনী আর চরিত্রায়ন আরেকটু ভাল হলে ৯ দেয়া যেত।)

IMDb(7.5): http://www.imdb.com/title/tt1483797/

Torrent Link: http://extratorrent.cc/torrent/2484482/%5BBSS%5D+REDLINE+%5B1080p%5D.mkv.html

Direct Download+Streaming Link: http://kissanime.com/Anime/Redline/Movie-BSS?id=66166

MEGA Link: https://mega.nz/#!lsh21a7D!NvlnGBfw71xdKIRR6eomXUhYqpkZ5mLiUC5EEIDgKfs

 

অ্যানিমে রিভিউঃ বারটেন্ডার; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

lunar-bartender-01-x2641280x7201639e648-mkv_snapshot_04-25_2011-03-19_02-30-54

আজ দেখে শেষ করলাম “বারটেন্ডার”। রাফিউলের ভাষায় বলি, “বাউরে বাউ, কি যে দেখলাম এইটা!!” হার্ড লিকারের উপর কেউ পিএইচডি করতে চাইলে এই অ্যানিমে দেখা আবশ্যক!!

সাসাকুরা রিউ একজন বারটেন্ডার। টোকিও শহরের গিনজা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বার, “এডেন হল।” রিউ অত্যন্ত দক্ষ একজন বারটেন্ডার, যে কারণে তার তৈরি করা ককটেলকে বলা হয় “গ্লাস অফ গড”। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যারেক্টারিস্টিকের এবং ভিন্ন ভিন্ন সোশ্যাল স্ট্যাটাসের মানুষ আসে বারে, আর এক গ্লাস ককটেলের সাথে উঠে আসে তাদের সুখ-দুঃখের গল্প। সাসাকুরা রিউ নৈপুণ্যের সাথে ককটেলের গ্লাসে ফুটিয়ে তোলে তার শিল্পকর্ম, আর সেইসাথে এর সাথে সম্পর্কিত একেকটি অদ্ভুত গল্প দিয়ে মুগ্ধ করে অতিথিকে, কারণ, একজন বারটেন্ডারের যে দায়িত্ব এটা, অতিথি যেন যাওয়ার সময় একটি সুন্দর সময়ের স্মৃতি সাথে করে নিয়ে যান।

অ্যানিমের কাহিনী এপিসোডিক, প্রতিটা পর্বে বিভিন্ন ধরণের ককটেল আর তার সৃষ্টির ইতিহাস বেশ ইন্টারেস্টিংভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সাসাকুরা রিউ যখন ককটেলগুলো বানায়, ঐ দৃশ্যটা বেশ অ্যামেজিং। আর প্রতিটা মানুষের মনের ভেতরের কথা সে যেভাবে টেনে বের করে আনে, এটাও ইন্টারেস্টিং।

অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অনেক ভাল, সঙ্গত কারণেই “ডেথ প্যারেড” এর কথা বারবার মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন চমৎকার, আর ওএসটিও বেশ ভাল। এন্ডিং সংটা একবারও স্কিপ করতে পারিনি।

সবমিলিয়ে খুবই এক্সেপশনাল এবং ইন্টারেস্টিং একটি অ্যানিমে এটি, ১১ টা এপিসোড বেশ উপভোগ করেছি।

12022554_555071621324015_3926291896555078707_o