Movie Time With Yami – My Favorite 15 (টিং টং মুভি টাইম)

11655141_683686608404441_742062122_n

 

একটু স্মৃতিচারণ করি!

আজ থেকে ঠিক একবছর আগে এই তারিখে আমি লিখেছিলাম মুভি টাইম উইথ ইয়ামির প্রথম পর্ব। একটু হযবরল করে শুরু করেছিলাম, অনভিজ্ঞতা ও নার্ভাসনেসের কারণে শুরুতে হোঁচট খেতাম প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত লিখতে গিয়ে। একসময় কখন সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেল, নিজেও বুঝতে পারিনি। গত একবছরে এই সেগমেন্ট লেখার জন্য ভাল খারাপ বহু মুভিই দেখেছি, সেখান থেকে আমার যেগুলো ভাল লেগেছে, আমি সবসময় সেগুলোকেই সাজেস্ট করতে চেষ্টা করেছি; জানিনা সবার সেগুলো পছন্দ হয়েছে কিনা। সাজেস্ট করা সব মুভিই আমার বেশ পছন্দের, তবে তার মাঝেও তো কমবেশি থাকেই! অ্যানিমে গ্রুপগুলোতে একটা রীতি প্রচলিত রয়েছে, পছন্দের ১০-২০ টা অ্যানিমের তালিকা তৈরি করা। আমিও এই রীতি অনুসরণ করে আমার পছন্দের অ্যানিমে সিরিজের তালিকা তৈরি করেছি আগে, তবে কখনো অ্যানিমে মুভির তালিকা করা হয়নি। তো মুভি টাইমের জন্মদিন উপলক্ষে (:3) আমি আমার সবচেয়ে পছন্দের ১৫ টি মুভির তালিকা প্রকাশ করছি। অনেকেরই হয়ত বেশি মুভি দেখার সময়/সুযোগ নাও হয়ে উঠতে পারে, আমি আশা করব অন্তত এই ১৫ টি মুভি আপনারা সবাই দেখবেন।

1. Flanders no Inu / The Dog of Flanders

১৮ বছর আগে মুক্তি পায় এ মুভিটি। তারও আগে ৫২ এপিসোডের একটি সিরিজ ছিল একই নামে; তা প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। সিরিজটির কথা জানিনা, তবে মুভিটিতে ছোট্ট ছেলে নেলো এবং তার কুকুর পাতরাশ এর হাসি-কান্না, সংগ্রাম, বেদনার গল্প যেভাবে দেখানো হয়েছে, আমি সত্যিকার অর্থেই বাকরূদ্ধ হয়ে গেছি দেখে। প্রতিটা মূহুর্তে নেলো এবং পাতরাশের অনুভূতিগুলোকে মন থেকে অনুভব করেছি, ওদের ব্যর্থতায় কান্না পেয়েছে বারবার, আর এন্ডিংটা একই সাথে আমার পছন্দের খুব, আবার আফসোসও লাগে। আর কোন মুভিই আমাকে এতটা স্পর্শ করতে পারেনি।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-34/

2. Eve no Jikan / Time of Eve

সাই-ফাই এবং স্লাইস অফ লাইফ। আমার অত্যন্ত পছন্দের দুটি জনরা। অনেক আগ্রহ নিয়ে দেখেছিলাম মুভিটি, এবং আমাকে এটি হতাশ তো করেইনি, বরং মুগ্ধ করেছে। উজ্জ্বল আর্ট, ব্যাকগ্রাউন্ডে নামীদামী শিল্পীদের করা সাউন্ডট্র্যাক মুভিটির খুব সাধারণ কাহিনীটিকে অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। রোবটের ব্যাপারে আমার নিজের মতামত রোবটেরই মত (!), মুভিটি দেখার পরে তাই বেশ ভাবনায় পড়ে গেছিলাম। স্নিগ্ধ, পরিপাটি, ছিমছাম ক্যাফেতে বেড়াতে আসা মানুষ এবং রোবটগুলোর পারস্পারিক সম্পর্কগুলো মনটাকে নিমেষেই ভাল করে দিয়েছে।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-29/

3. The Secret World of Arrietty / Karigurashi no Arrietty

স্টুডিও জিবলীর মুভিগুলোর মাঝে এটি আমার সবচেয়ে প্রিয়। জিনিসপত্রের মিনিয়েচার ভার্সনের প্রতি আমার আগ্রহ আছে, তাই এই মুভিটিতে আরিয়েট্টির চোখে মানুষের পৃথিবী দেখে অনেক ভাল লেগেছে।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-32/

4. Ojii-san no Lamp / Grandfathers Lamp

ইয়ং অ্যানিমেটর ট্রেনিং প্রজেক্টের সাথে পরিচয় আছে? এটি জাপানের অনভিজ্ঞ কিন্তু মেধাবী অ্যানিমেটরদের প্রতিবছর সুযোগ দেয়, কোন একটি নামকরা স্টুডিওর অধীনে নিজেদের মেধাকে দুনিয়ার সামনে তুলে ধরার। খুব চমকপ্রদ মুভি তৈরি করে বসে মাঝে মাঝে এই অনভিজ্ঞ অ্যানিমেটররা, এটিও সেগুলোর একটি। সেই লণ্ঠন-কুপির আমলের মানুষের জীবন, তাদের আশা-আকাংখা, পৃথিবীর পরিবর্তনের ফলে তাদের স্বপ্নভঙ্গের গল্প- পুরোটাই খুব পরিপাটিভাবে দেখানো হয়েছে, মাত্র ২৪ মিনিটে!

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-30/

5. Hotarubi No Mori E / Into the Forest of Fireflies’ Light

ভালবাসা আসলে কি? ভালবাসার রূপ কতরকম? শুধু কি একসাথে জীবন পার করে দেয়ার নামই ভালবাসা? ভালবেসে সেই মানুষটিকে কাছে না পাওয়ার ব্যাথা, তাকে সারাজীবনের জন্য হারিয়ে ফেলার কষ্ট- এর মধ্যেও কি ভালবাসা লুকিয়ে নেই? মুভির কাহিনীটি হয়ত অবাস্তব, কিন্তু দেখার পরে যে হাহাকারটা অনুভূত হয়, সেটি একেবারে নিখাদ বাস্তব।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-06/

6. My Neighbor Totoro / Tonari no Totoro

এটির সহজ-সরল এবং হাসিখুশি প্লট আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে। ছোট্ট দুটি বাচ্চা মেয়ের হাসিখুশি উচ্ছ্বল কথাবার্তা, কাজকর্ম দেখলে মন এমনিতেই ভাল হয়ে যায়, সেইসাথে আছে তোতোরো এবং তার মজার কাজকর্ম। মুভিটিতে অ্যাডভেঞ্চারের অংশটা খুব সুন্দর, হালকা এক্সাইটমেন্ট এবং বেশি মজার ছোঁয়াটা খুব বেশি মুভিতে পাওয়া যায়না।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-53/

7. Neko no Ongaeshi / The Cat Returns

বিড়ালপ্রেমী হিসেবে আমার সুনাম (কিংবা দুর্নাম) আছে, বিড়াল দেখলেই আমি যেকোন কিছুতে আকৃষ্ট হয়ে যাই। এই মুভিটিও বিড়ালের আধিক্যের কারণেই আমার অনেক পছন্দ, তবে কাহিনীটাও যে মজার ছিল, এটা স্বীকার করতেই হবে।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-37/

8. Ookami Kodomo no Ame to Yuki / Wolf Children Ame and Yuki

ভালবাসার অনেক রকম রূপ আছে। কিন্তু তার মাঝে সবচেয়ে সুন্দর রূপটি হল মা এবং সন্তানের সম্পর্ক। নিঃস্বার্থভাবে নিজের কথা সামান্যতম চিন্তা না করে একজন মা তার সন্তানকে ভালবেসে যান। কিন্তু আমরা কি সবসময় মায়ের কষ্টটাকে উপলব্ধি করতে পারি? মাকে তার প্রাপ্য ভালবাসা, সম্মানটুকু দিতে পারি? মুভিটিতে একজন মায়ের তার বাচ্চাদেরকে ভালভাবে বড় করে তোলার যে সংগ্রাম দেখানো হয়েছে- এককথায় অসাধারণ!

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-31/

9. Colourful

প্লটটি অ্যানিমে মুভির ক্ষেত্রে বেশ ব্যতিক্রমধর্মী, মৃত মানুষের পৃথিবীতে ফিরে আসার ব্যাপারটিও হয়ত নতুন নয়, কিন্তু এই মুভিটি তারপরেও অনেক স্পেশাল! পরবর্তী কোন সেগমেন্টে এটির রিভিউতে বিস্তারিত আলোচনা করব।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-55/

10. Millennium Actress / Sennen Joyuu Chiyoko

এই গল্পটির বর্ণনাশৈলী একেবারেই অন্যরকম, সচরাচর এ ধরণের বর্ণনাশৈলী পাওয়াই যায়না। গল্পটির প্রায় পুরোটাই চলে ফ্লাশব্যাকে, এবং তা দেখানো হয় চিয়োকোর বিভিন্ন বিখ্যাত মুভির শুটিং এর দৃশ্য দেখানোর মাধ্যমে। গল্পটি আমাদের কখনো নিয়ে যায় ফিউডাল জাপানে, কখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, তো কখনো কল্পনার ভবিষ্যতে, যেখানে স্পেসশিপে করে মানুষ পাড়ি জমাচ্ছে মহাকাশে। ফিল্মমেকার এবং ক্যামেরাম্যান যে কখন এই ফ্ল্যাশব্যাকের অংশ হয়ে যান, টেরও পাওয়া যায়না। কোনটা মুভির অংশ এবং কোনটা বাস্তবতা, তা নিজের অজান্তেই অদৃশ্য হয়ে যায় একসময়।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-35/

11. When Marnie Was There / Omoide no Marnie

স্টুডিও জিবলীর শেষ মুভি এটি, আর শেষ মুভিতেই এত চমৎকার একটা কাহিনী উপহার দিয়ে গেল, যে এটা দেখার পরে অনেকদিন আফসোস করেছি, কেন আর কাজ করবে না জিবলী!! ওদের গতানুগতিক অন্য কোন কাহিনীর সাথেই মিল নেই মুভিটির, আর তাই এটি আমার এত বেশি প্রিয়। কোন এক পর্বে এটি নিয়ে ভালভাবে আলোচনা করব।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-56/

12. Hal / Haru

গ্রাফিক্সের জন্য অ্যানিমে দেখেন? টলটলে পরিষ্কার আর্টওয়ার্ক না হলে মন ভরেনা? তাহলে নিশ্চিন্তে দেখতে বসে যান; হারু। হতাশ হওয়ার কোন সুযোগই নেই! সেইসাথে কাহিনীটা বেশ হৃদয়স্পর্শী; উইথ এ টুইস্ট!

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-27/

13. Summer Wars

এই মুভিটির নামটা মনে পড়লেই প্রথম যে কথাটা মাথায় আসে, তা হল, পরিবার। আমরা সবাই আমাদের পরিবারের সাথে থাকি। কিন্তু আমরা যেভাবে জীবনযাপন করছি, সেটাকে কি আসলেই পরিবারের সাথে থাকা বলা যায়? এই মুভিটি দেখে আজকালকার সময়ের বহুল প্রচলিত প্রশ্নটি নতুন করে মাথায় উঁকি দিয়েছে। পরিবার পরিজন, আত্মীয় স্বজন যে একজন মানুষের কত বড় সম্পদ, তা এই মুভিতে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-13/

14. Harmonie

প্রতিটি মানুষের নিজস্ব জগৎ আলাদা। একজনের জগতের সাথে আরেকজনের জগত কখনোই তেমন একটা মেলে না। কারো কল্পনার জগতের সাথে যদি আরেকজনের জগৎ মিলে যায়, তাহলে তারা অনেক ভাগ্যবান মানুষ। ইয়ং অ্যানিমেটর ট্রেনিং প্রজেক্টের আরেকটি চমৎকার কাজ এটি।

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-10/

15.  Domain of Murder / Hello Harinezumi: Satsui No Ryoubun

আর্টওয়ার্ক খুবই পীড়াদায়ক, কিন্তু কাহিনীর জবাব নেই। মিস্ট্রি জনরার অমূল্য সম্পদ এটি!

রিভিউ লিঙ্ক- http://www.animeloversbd.com/movie-time-with-yami-13/

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ১৬.৫

ইফ ইউ লাইকড ‘Mars of Destruction’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Tenkuu Danzai Skelter+Heaven

1

আপনার কাছে ‘Mars of Destruction ভালো লাগলে ‘Tenkuu Danzai Skelter+Heaven ও ভালো লাগতে পারে

কারণ-

Mars of Destruction ও ‘Tenkuu Danzai Skelter+Heaven এর মধ্যে মিল-

* দুইটাই ১ এপিসোড এর OVA.
* সেইম স্টুডিও, Idea Factory, এর করা।
* Director Yoshiteru Satou.
* সেইম জনরার। সাই-ফাই।
* 19 minutes of pure awesomeness.
* এলিয়েনদের হাত থেকে পৃথিবীকে বাচানো নিয়ে কাহিনি।

2

Mars of Destruction ও ‘Tenkuu Danzai Skelter+Heaven এর মধ্যে অমিল-

* ‘Mars of Destruction’ ও ‘Tenkuu Danzai Skelter+Heaven’ এর স্ক্রিপ্টরাইটার ভিন্ন।
* ‘Tenkuu Danzai Skelter+Heaven’ এর Script আর Screenplay ও Director Yoshiteru Satou এর করা।

3

4

5

6

7

8

9

১০০% পারফেক্ট গার্ল — Zahura Chowdhury Abonti

১০০% পারফেক্ট বলতে দুনিয়াতে কিছু কি আছে? তাহলে কোন মেয়ে কি করে ১০০% পারফেক্ট হয়! কিন্তু এই মানহোয়ার নামই এটা। “১০০% পারফেক্ট গার্ল”।

সুদূর রয়েন দেশ থেকে কোরিয়া তে এসেছে জে. ম্যাক্স। আসার পথে তার সেক্রেটারিকে সে পড়তে দেখে হারুকি মুরাকামির বই “১০০% পারফেক্ট গার্ল”। নেহাতই কিছু করার না পেয়ে সেক্রেটারির থেকে নিয়ে সেই বইই পড়া শুরু করে জে। বইটার মূল উপজীব্য ছিল কি করে এক ছেলে তার পছন্দের মেয়েকে নিয়ে বলে যে সেই হচ্ছে ১০০% পারফেক্ট গার্ল; ছেলেটির মতে মেয়েটি শুধু তার জন্যই। জে এগুলো পড়ে নিছক সস্তা রোমান্টিসিজম ভেবে নেয়। এসব বইও মানুষ পড়ে?!

কোরিয়া তে এসে ঘটনাচক্রে জে এর দেখা হয় আরেক জে এর সাথে। এই জে এক উঠতি বয়সী তরুণী যার স্বপ্ন হচ্ছে বড় আর্টিস্ট হওয়া। কিন্তু পরিবারে ছোট সন্তান হিসেবে প্রায়ই তার মত বাসাতে অগ্রাহ্য করা হয়। সবার জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে দিতে ক্লান্ত মেয়ে জে এর রয়েন থেকে আসা জে এর সাথে দেখা হওয়া নেহাতই কাকতালমাত্র। সংক্ষিপ্ত সেই এনকাউন্টারে শুধু একে অপরের নামটাই জানা হয় তাদের। আর সেই নামও কিনা একই! মেয়ে জে তাই রয়েনের জে এর নাম দেয় জারতে। সুদর্শন যুবক জারতে কে এক পথ হারানো বিদেশী পর্যটক মনে করলেও আসলে যে সে রয়েনের রাজা তা কোনভাবেই জানার উপায় ছিল না জে এর। খুব অল্প সময়ের সেই দেখাকে ঠিক সুমধুর হিসেবে ব্যাখ্যা করা না গেলেও জারতের জন্য তা বিশেষ কিছুই ছিল। কি কারণে সেও জানেনা জে কে মনে ধরে যায় জারতের। দেশে ফিরেও কাজে মন বসাতে না পেরে আবারো কোরিয়ার পথ ধরে জারতে। কিন্তু কি করে খুঁজে পাবে সে জে কে? তার ফোন নাম্বারটিও তো নিতে পারেনি সে!… রাজা হলে কত কিছুই না করা যায়! কোরিয়ার সকল বিলবোর্ড ভাড়া করে ফেলে জারতে। তাতে বড় বড় করে লেখা — “জে ইস লুকিং ফর জে”। কোরিয়ার সকল দেয়াল ছেয়ে যায় একই লেখার পোস্টারে।
খুঁজে কি পায় এক জে আরেক জে কে? মানহোয়া যেহেতু, নিশ্চয়ই খুঁজে পায়। কি হয় এর পরে? মডার্ণ ডে সিন্ডারেলা নামে খ্যাত মেয়ে জে এর জীবন রাতারাতি পালটে যায়, সেই পালটানোটা কি তার জন্য ভাল কিছু বয়ে আনে?

নানা রকম টুইস্ট আর টার্নে ভরা এই মানহোয়াটা আমার অনেক প্রিয়। এখানে চরিত্রগুলোর ইমোশন খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন লেখক ওয়ান। আমার অন্যতম পছন্দের এই মানহোয়া লেখক+আর্টিস্টের আর্টের প্রশংসাও না করলে নয়। সব মিলিয়ে অত্যন্ত উপভোগ্য একটি মানহোয়া এটি। আমার মত যারা একটু ম্যাচিওর রোমান্স পছন্দ করে তাদের এটা অবশ্যই ভাল লাগবে। এছাড়া আছে সাইকোলজিক্যাল ট্যাগও। তো আর দেরী কেন? আজই পড়া শুরু করে দিন “১০০% পারফেক্ট গার্ল”।

J - J

এনিমে রিভিউ: Kaiji — Rezo D. Skylight

KaijiKaiji দেখা শুরু করার সময় আমার তেমন একটা এক্সপেক্টেশন ছিল। প্রথমতো আমি এনিমের আর্টস্টাইল দেখে খুব চিন্তিত ছিলাম। বিশেষ করে ক্যারেক্টারগুলার নাকগুলা ছিল লম্বা প্লাস্টিক এর মতো দেখতে। তারপরেও কি মনে করে দেখতে থাকলাম। কিন্তুু দেখে মোটেই হতাশ হয়নি। কিভাবে যে টানা দুইদিনে কাইজি দেখে ফেললাম নিজেই বুঝলাম না।

কাইজির ঘটনা শুরু হয় কাইজি ও তার বন্ধুর কো- সাইনের মাধ্যমে লোন নেয়া টাকা থেকে। সেই লোনের টাকা শোধ করতে না পেরে কাইজির সেই বন্ধু পালিয়ে যায়। শেষমেশ আর কি হবে। লোনার সব বোঝা কাইজির ঘাড়ে পড়লো। কিন্তুু, সেই লোন ছিল বিশাল টাকার অংক। যেই লোন পরিশোধ করা কাইজির পক্ষে সহজ ছিল না। খুব চেষ্টা করলে হয়তো সে টাকা শোধ করতে কাইজির ১১ বছর কেটে যাবে। তখন টাকা আদায়কারি কাইজিকে ২টা চয়েছ দেয়। হয় তার কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে এই লোনের টাকা পরিশোধ করতে হবে নয় তাকে জীবন বাজি রেখে এক জুয়া খেলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ভাগ্য ভালো থাকলে সে এই জুয়া খেলার মাধ্যমে এক দিনের মধ্যেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে পারবে। আর এই খেলাতে হারলে তার জীবনে নেমে আসবে নরক। কাইজি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে। আর প্রবেশ করে জুয়া খেলার অন্ধকার দুনিয়াতে।

কাইজিতে মানুষের psychology খুব ভালোভাবে দেখানো হয়েছে। মানুষের অর্থের প্রতি হিংস্র লোভ-লালশা, অর্থের জন্য মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারানো, ওয়াদা ভঙ্গ করা, এমনকি অর্থের লোভে যে মানুষ মানুষকে মেরে ফেলতে পারে এই বিষয়গুলো কাইজিতে খুব ভালোভাবে উপস্থাপন করেছে। “লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু” – এই প্রবাদটির ভাবার্থ কাইজি দেখলেই ভালোভাবে বুঝা যায়। আর উচ্চশ্রেণীর পিচাশশ্রেণী মানুষদের পরিচয়ও কাইজিতে দেখানো হয়েছে। এরা নিজেদের আনন্দও উপভোগে সমজের হতদরিদ্র, ঋণগ্রস্ত মানুষদেরকে নিয়ে বিভিন্ন মৃত্যু খেলার আয়োজন করে। তাদের কাছে দরিদ্র মানুষের জিবিনের কোন মূল্য নেই। কিন্তুু তাই বলে কাইজি মটেই পিছপা হয়নি। সে এসব খেলায় নিজের জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহন করে যায়। আর এর জন্যই কাইজিকে আমার খুব ভালো লেগেছে। এছাড়া “কাইজি”-র প্রায় প্রতিটি খেলাতেই রয়েছে gambling। আর প্রতিটি খেলায় কাইজি যেভাবে বুদ্ধি খাটায় তা পুরই অচিন্তনীয়। তাই মাথা খুব ঠাণ্ডা রেখে কাইজি দেখতে হয়েছে। আর আমি এই gambling গুলা খুব উপভোগ করেছি।

এখন ক্যারেক্টারের কথা বলতে গেলে শুধু কাইজির কথাই বলতে হয়। কাইজির চিন্তা ভাবনা অনেকটা ডেথ নোটের লাইট বা এলের মতো। কাইজি প্রতিটি জুয়া খেলাতেই নিজেকে কন্ট্রোল করে গভীর চিন্তা ভাবনা করে তার প্রতিপক্ষকে হারায়। কাইজি আসলেই যেকাররি ভালো লাগার মতো একজন ক্যারেক্টার।

অনেক কথা বলে ফেললাম। এখন আসল কথায় আসি। কাইজি যারা এখনো দেখেননি তারা সময় পেলে দেখে ফেলুন। বিশেষ করে আপনারা যারা Psychological জেনারের এনিমে পছন্দ করেন তাদের জন্য ”কাইজি” মাস্ট ওয়াচ একটা এনিমে। কাইজির intensity, thrill , awesomness ডেথ নোট, কোড গিয়াস এবং অন্যান্য Psychological এনিমের থেকে কোনো অংশেই কম না। আর gambling এবং mind games নিয়ে কাইজির মতো এনিমে খুব কমই আছে। আর আর্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। কয়েক এপিসোড দেখলেই আর্টটা আপনার কাছে মানানসই হয়ে যাবে।

MAL rating – 1st season (8.36), 2nd season (8.31)
My rating – 9/10

স্বপ্নযাত্রা – Shirobako এনিম রিভিউ — মোঃ আসিফুল হক

1

রোজকার মতন ফাইল ঠেলাঠেলি করে আর বসের ঝাড়ি খেয়ে লোকাল বাসে ঝুলতে ঝুলতে কখনও কি মনে হয়েছে “ব্যাস, অনেক হয়েছে; আর না?” মাঝে মাঝে কিছুটা একাকী সময়ে কি মনে হয়েছে এখন যেটা করছেন হয়ত সেটা করার কথা ছিল না কখনও? কিংবা হয়ত সেই সময় এখনও আসে নি; হয়ত এখনও ছাত্রজীবন পার করছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন একটা সাব্জেক্টে বছর দুয়েক পার করে ফেলেছেন; হটাত করেই কোন এক নির্ঘুম রাতে সোডিয়াম আলোয় ফাঁকা রাস্তায় হাটতে হাটতে মনে হল “এরপর কি?” ভবিষ্যতে আসলে কি করবেন বা কি করতে চান সেই সমন্ধে আপনার পরিষ্কার কোন ধারণাই নেই। হয়ত ক্লাসে ফলাফলের দিক থেকে আপনার অবস্থান ততটা আশাপ্রদ না; খুব চেষ্টা করে যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু ঠিক যে পরিমাণ ফলাফল আসার কথা তার কিছুই পাচ্ছেন না? সবকিছু ছেড়েছুড়ে দেবার; দু’টো বছর আগে ফিরে যাবার; আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করার প্রবল ইচ্ছেটা মাঝে মাঝেই একগাদা সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ফেরত আসে সুযোগ পেলেই?

হুম, জীবনের কোন না কোন সময়ে অথবা কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক সময়েই এইরকম সময়ের মুখোমুখি হই আমরা সবাই। কিন্তু কঠোর বাস্তবতা হল বেশিরভাগ সময়েই এইসব প্রশ্ন বা ইচ্ছের কোন জবাব থাকে না। শুধু নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রেখে সামনে আগাতে হয়, পথের শেষটা দেখার জন্য; জীবন সেই পথের শেষে কোন বিস্ময় লুকিয়ে রাখে কি না তা খোঁজার জন্য। ঠিক এমনই একটা থিমকে কেন্দ্র করে দাঁড় করানো এনিম সিরিজ “shirobako”.

 

2

আওই, এমা, সিজুকা, মিসা এবং মিদোরি – হাইস্কুলের এনিমেশন ক্লাবের পাঁচ বান্ধবী স্কুলের ফেস্টিভালের জন্য ছোট্ট একটা এনিমেশন তৈরি করার সময়েই বুঝতে পারে যেভাবেই হোক এনিমের জগতই হবে তাদের ভবিষ্যতের ঠিকানা। সকলে মিলে লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলে একটা; একদিন না একদিন তারা একসাথে খুব বড় কিছু একটা সৃষ্টি করবে। কিন্তু তারা যেমনটা ভেবেছিল বাস্তবতা আসলে ততটা সহজ নয়। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে সবাই-ই টিকে থাকার সংগ্রাম আর নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয় প্রতিদিন। কিন্তু তার পরেও কেউ হাল ছেড়ে দেয় নি। সবাই সবাইকে অবলম্বন করে একটু একটু করে এগিয়ে যায় তাদের স্বপ্নের পথে।

পুরো সিরিজটা মোটামুটি ভাবে আবর্তিত হয়েছে আওইকে ঘিরে, যে তার ক্যারিয়ার শুরু করে বড় একটা এনিম কোম্পানির প্রোডাকশন সেক্টরে। একটা এনিম তৈরি করা বিশাল হ্যাপার কাজ; ডিরেক্টরের স্টোরি বোর্ড ড্রয়িং থেকে শুরু করে এনিমেশন, মোশন, সিজি ইফেক্ট, সাউন্ড ইফেক্ট, ব্যাকগ্রাউন্ড, ভয়েস এক্টিং থেকে ফিনিশিং কিংবা ডেলিভারি – প্রতিটা এপিসোডই এক একটা বিরাট কর্মযজ্ঞ। প্রোডাকশনের দায়িত্ব এই সকল কাজের জন্য আলাদা আলাদা টিমের মাঝে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া, তাদের শিডিউল তৈরি করা, ইন হাউজ প্রোডাকশনে না কুলালে বাইরে থেকে কাজ করিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় দেখভালের। আওইর পারস্পেক্টিভ থেকে আমরা তাই একটা এনিম তৈরি করতে কি পরিমাণ এফোর্ট এবং টানাপোড়েন চলে তার প্রায় পুরো ছবিটাই স্পষ্ট দেখতে পাই। সেই সাথে ক্রিয়েটিভ লোকজনের পারস্পরিক ইগো ক্ল্যাশ, নিজের সাথে যুদ্ধ, নিজেকে দিন দিন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম; স্বপ্ন, আশা; বাস্তবতার সাথে কল্পনার জগতের ব্যালেন্স করার লড়াই – সব কিছুই খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সিরিজটায়।

সিরিজটার শক্তির জায়গাগুলোর একটা হল বেশিরভাগ প্রোটাগোনিস্ট চরিত্রই মেয়ে হলেও তাদের কেউই ট্রেডিশনাল এনিম সিরিজের ড্রামাকুইন ক্যারেক্টার না; বরং তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা স্বপ্ন পুরণে তারা সকল সন্দেহ আর প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই করে যায় নিরন্তর। প্রত্যেকটা চরিত্রই ভীষণ রকম বিলিভেবল, একটু খুজলেই আমাদের আশেপাশেই পাওয়া যাবে এমন লোকজন। এরা প্রত্যেকেই হোঁচট খায়, মাঝে মাঝেই সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে দেবার চিন্তা ভর করে মাথায়; এবং সেই চিন্তাগুলো দূরে সরিয়ে আবারও যার যার কাজে নেমে পড়ে।

 

3

কিছু ছোটখাট পয়েন্টঃ
১) রোজার দিন সিরিজটা দেখা খানিকটা কষ্টকর। নাহ; ফ্যানসার্ভিস না; ফ্যানসার্ভিস বলে একটা বস্তু পুরো সিরিজে একেবারেই নাই (থ্যাঙ্ক গুডনেস); বরং কিছুক্ষণ পর পরই কেউ না কেউ কিছু না কিছু মজাদার খাবার খেতে থাকে। :(

২) বিপুল পরিমাণ চরিত্রের উপস্থিতি। আবছা আবছাভাবে সবার নাম আর একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্কগুলো বুঝে উঠতেই আমার ৪-৫ পর্ব লেগে গেছে। এই দিকটার জন্য প্রথম প্রথম সিরিজটার সাথে তাল মিলাতে কষ্ট হতে পারে; কিন্তু একবার এই Phase পার হয়ে গেলেই আসল মজাটা পাওয়া যাবে। :)

৩) ম্যাল এ সিরিজটায় দুটো ট্যাগ দেওয়া; একটা ড্রামা, আরেকটা কমেডি। পুরো সিরিজে কমেডি এসেছে মুলত লোকজনের পারস্পরিক ইন্টারেকশনে, খুব ন্যাচারালি; কোথাও খুব বেশি অতিরঞ্জন নেই; জোর করে হাসানোর চেষ্টাও নেই। তারপরেও হেসেছি, দম ফাটায়েই হেসেছি, খুব দুর্দান্ত কিছু সিচুয়েশনাল কমেডি এবং ওভারঅল সিরিজের লাইট থিমের জন্যই।

সিরিজটার সাউন্ডট্র্যাক অত আহামরি কিছু না; তার কারণ পুরোটাই সংলাপ নির্ভরতা এবং দ্রুতগতি। প্রায় পুরোটা সিরিজেই টেকনিকাল টার্ম এক্সপ্লেনেশন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা সেক্টরের কাজকর্ম, দায়িত্ব ব্যাখ্যা করেছে খুব সুন্দর করে, এবং সেটা সিরিজের ফ্লো-তে কোনরকম বিঘ্ন না ঘটিয়েই।

P.A. Works এর এনিমেশন এবং ডিজাইন, এবং তারা তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পেরেছে পুরোপুরিই। প্রত্যেকটা চরিত্রের এক্সপ্রেশন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দুর্দান্তভাবে; যেটার উপর অনেকটাই সিরিজটার সাফল্য – ব্যার্থতা নির্ভর করছিল।

ছাত্রজীবনের প্রায় শেষ দিকে থাকার দরুণ ব্যাক্তিগত জীবনে আমি নিজেও বেশ খানিকটা ধাঁধার মধ্যে আছি, ভবিষ্যৎ, ক্যারিয়ার, স্বপ্ন, পরিবার – সব কিছু নিয়েই। সে দিক থেকে সিরিজটার সাথে খুব সহজেই নিজেকে রিলেট করতে পেরেছি, উপভোগ করতে পেরেছি, প্রত্যেকটা চরিত্রের স্ট্রাগল দেখে তার মাঝে নিজেকে খুজেছি, তারা কি করে সেখান থেকে উৎরে আসে সেটা দেখেছি আগ্রহভরে, তাদের সাথে তাদের সাফল্যে আমিও হেসেছি। বেশ কিছুদিন ধরেই দুই দিনে ২৪ পর্বের একটা সিরিজ শেষ করা আমার জন্য খুব দুর্লভ, shirobako আমাকে সেই দুর্লভ মুহূর্তের সাথে আবারও দেখা করিয়ে দিয়েছে। :)

I simply loved it !

4

 

আনিমে রিভিউ- ইয়ামাতো নাদেশিকো শিচি হেঙ্গে; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জনরা- কমেডি, শৌজো
এপিসোড সংখ্যা- ২৫৪ জন সুদর্শন হাইস্কুল ছাত্রের ওপর তাদের ল্যান্ডলেডী দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন, তার অসামাজিক ভাতিজিকে সমাজে চলার উপযোগী এবং আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। কাজটা করতে পারলে তাদের জন্য দারুণ পুরস্কার !! কিন্তু কাজটা না করতে পারলে শাস্তি হিসেবে তাদের বাড়িভাড়া বেড়ে হবে তিনগুণ !!

চার তরুণ ভাবল, সুন্দরী ল্যান্ডলেডীর ভাতিজিই তো, কতই বা কঠিন হবে তাকে সামাজিক করে তোলা ? রাজি হয়ে গেল তারা এই প্রস্তাবে।

কিন্তু তারা আসলে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি, নাকাহারা সুনাকো আসলে কি জিনিস। সুনাকোকে দেখে চোখ কপালে উঠে গেল ওদের। লম্বা চুল দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে কেন সে? তার উপস্থিতি এতটা ভৌতিক কেন? তার খেলার সাথীরাও বা এত ভয়ঙ্কর কেন? পুরস্কার পাওয়া তো দূরের কথা, নিজেদের থাকার জায়গা বাঁচানোর চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠল চার তরুণ।

এভাবে চার তরুণ এবং ওয়ালফ্লাওয়ার সুনাকোকে ঘিরে এক মজার কাহিনী নিয়ে গড়ে উঠেছে আনিমেটি। একটু পুরানো আনিমে, আর্টওয়ার্ক অবশ্যই এখনকার মত অত উন্নত না, তবে আমার কাছে এ ধরণের আর্টওয়ার্ক কেন যেন ভাল লাগে। কাহিনী এপিসোডিক, তাই ভাবনা চিন্তা ছাড়া দেখতে পেরেছি। আর সুনাকোর “খেলার সাথী” রাও যথেষ্ট মজার !!

আনিমেটি কেন দেখবেন- আপনি কি সারাক্ষণ ঘরে বসে আনিমে দেখার কারণে সৌন্দর্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন? কিন্তু সমস্যা সমাধানের জন্য কষ্ট করতে মন চাইছে না? তাহলে এই আনিমেটি দেখা আপনার জন্য আবশ্যক! এর প্রতিটি এপিসোডেই আপনি পাবেন, সৌন্দর্যবর্ধনের টিপস থেকে শুরু করে গৃহ ব্যবস্থাপনা এবং কমন সেন্সের ব্যাপারে মূল্যবান উপদেশ! বিশেষ করে আদর্শ নারী হয়ে উঠতে চাইলে এই অ্যানিমেটি দেখা আবশ্যক!

আমি জানিনা এ ধরণের আনিমে সবার পছন্দ হবে কিনা, তবে আমার মনে হয় একটা এপিসোড ট্রাই করে দেখলে ভালই লাগবে।

Lovely Complex রিভিউ — Maisha Musarrat Ahmed

2

Lovely complex.…আমার অত্যাধিক প্রিয় একটা আনিমে.… পার্সনালি আমি একজন shoujo ফ্যান …সেহেতু এইটা আমার একটু বেশিই ভালো লাগসে। অন্যান্য যে কোনো shoujo আনিমের চেয়ে এটি একটু আলাদা…এখানে কোনো সুপারহিউম্যান সুপারপপুলার হিরো নেই , নেই কোনো অসম্ভব kawaii হিরোইন …খুবই সাধারণ চরিত্রের খুবই সাধারণ কাহিনী ..তবুও সব মিলিয়ে ……বেশ ভালো লাগার মতন . 🙂

তো এই অসাধারণ আনিমেটির প্রধান চরিত্র koizumi Risa আর atsushi Otani. ..যারা উচ্চতার দিক দিয়ে দুই বিপরীত মেরুর ..রিসা যেখানে সাধারণ যেকোন মেয়ের চেয়ে অনেকটাই লম্বা (১৭০ সেমি বা প্রায় ৫ফুট ৭)…ওতানি সেখানে সাধারনের চেয়েও খাটো (১৫৬ সেমি বা ৫ ফুট ১) ..তা সত্ত্বেও চরিত্রের দিক দিয়ে একই রকম হওয়ায় তাদের মাঝে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে বেশী সময় লাগে না। কিন্তু সমস্যার সুত্রপাত হয় তখনই যখন রিসা তার চেয়ে প্রায় আধফুট(!) খাটো ওতানির প্রেমে পড়ে যায় ..তো রিসা কি পারবে ওতানির চোখে নিজেকে ”বন্ধুর চেয়েও বেশী কিছু” হিসেবে তুলে ধরতে??? নাকি dumb headed ওতানির অগোচরেই রয়ে যাবে রিসার ভালবাসা? ????

জানি এখানে অনেকেই আনিমেটি দেখেছেন …কেননা আনিমেটা একটু পুরনো(২০০৭)..তবুও যারা এখনো দেখেননি তারা দেরী না করে দেখে ফেলুন ২৫ পর্বের এই রোমান্টিক কমেডি আনিমেটি। আপনার সময় উপভোগ্য হবে আশা করি।

1

When Marnie Was There রিভিউ — Fatiha Subah

2

হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার
জানরাঃ মিস্ট্রি, সাইকোলজিক্যাল
ডিউরেশনঃ ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট
ম্যাল রেটিং: ৮.৪৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

স্টুডিও জিব্লির প্রতিটি মুভিই অসাধারণ এবং অনেক জনপ্রিয়। বিখ্যাত ডিরেক্টর হায়াও মিয়াযাকির কল্যাণেই যে এটা সম্ভব হয়েছে তা সবার জানা কথা। কিন্তু এত সব ভালো ভালো মুভির মাঝে স্টুডিও জিব্লির বানানো আমার সবচেয়ে প্রিয় দুটি মুভিরই ডিরেক্টর ছিলেন অন্য কেউ। তাই এই মুভি দুটো নিয়ে আলোচনাও কম হয় এবং অনেকেই মুভি দুটো চিনে না। এর মাঝে একটি হল “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার”।

একদিকে হায়াও মিয়াযাকি ডিরেক্টর না অন্যদিকে স্টুডিও জিব্লি তখন অনেক চরাই-উতরাই পার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই আমার মুভিটা নিয়ে তেমন একটা প্রত্যাশা ছিল না। শুধু মুভির পোস্টারটা খুব পছন্দ হয়েছিল। অনেকটা হুট করেই দেখে ফেলি মুভিটি। দেখার সময় শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরছিল। কেন এই মুভিটা আরও আগে দেখলাম না!! যদি আরও পরে দেখতাম তো সারাজীবনের একটা আফসোস থেকে যেত।

1

কাহিনীটি আন্না নামের একটি মেয়ের হাত ধরে শুরু যে অ্যানাক্সাইটি অ্যাটাকে ভুগছে। স্কুলে কারো সাথে সে খুব একটা মিশতে পারে না। নিজের প্রতি তার প্রচণ্ড ঘৃণা। তাকে নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকে তার মা। কিন্তু কষ্টের বিষয় আন্না একজন দত্তক নেয়া সন্তান। তাই মায়ের এই দুশ্চিন্তা, মমতা কিংবা ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ সবই যেন আন্নার কাছে অর্থহীন ও মিথ্যার বেড়াজালে লুকানো অভিনয় বলে মনে হয়। চুপচাপ, মনমরা আন্নাকে তাই ডাক্তারের পরামর্শে তার মা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়ে দেন গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে। সেখানে গিয়েও সে বিমর্ষ ছিল। না, গ্রামের কোন মানুষের সাথে মিশে সে তার আগের উৎফুল্ল জীবনে ফিরে যায়নি। বরং কিছু ঝামেলাই বাধিয়ে ফেলে। কিন্তু আন্নার জীবন এবং কাহিনী পাল্টে দেয় অন্যকিছু। নিশ্চুপ আর শান্ত সাগরের পাড়ে বসে ছবি আঁকতে গিয়ে আন্না আবিষ্কার করে সাগরের ওপারে রয়েছে এক সুন্দর বাড়ি। বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত। কিন্তু শুধু একটি ঘরের জানালায় আলো দেখা যায়। আন্না কল্পনায় বা ঘুমের মাঝে সেই জানালার পাশে একটি সোনালি চুলের মেয়েকে দেখতে পায়। কেমন যেন এক অচেনা অনুভুতি তাকে টানে। এই রহস্যময় বাড়ির এক মেয়ে মারনির সাথে আন্নার বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু মারনির পরিচয়ও অনেক রহস্যময়।

কেউ যদি এ পর্যন্ত পড়ে ভেবে থাকেন এটা আমেরিকান কোন ভূতের গল্প তাহলে বড় ভুল করবেন। জানরায় যেমনটা বলা হয়েছে, আনিমেটা সাইকলজিক্যাল। সাথে কিছুটা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারালের মিশেল। আমেরিকান ভূতের গল্প না হলেও গল্পটি ব্রিটিশ লেখক জোয়ান জি. রবিনসনের একই নামের উপন্যাস থেকে নেওয়া। তাই আগেকার আমলের ইংরেজি সংস্কৃতির স্বাদ পাবেন বেশ ভালোই। যারা পুরাতন ইংরেজি গল্প, উপন্যাস বা তখনকার আমলের জীবনাচরণ পছন্দ করেন তাদের মুভিটি ভালো লাগবে বলে আমার ধারণা।

3

মুভিটি পুরোটা দেখে কাহিনী বুঝার পর ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমার একবারে শুরু থেকেই কাহিনীর ভিতরে না ঢুকতেই অনেক ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আমার আবার “ভিজুয়ালি প্লিজিং” আনিমে পেলে আর কিছু লাগে না। মুভিটির অ্যানিমেশন অসম্ভব সুন্দর। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। নিরিবিলি গ্রাম, শান্ত প্রকৃতি, পাখির কলকাকলি, সবুজ পাহাড়, তুলোর মত মেঘ আর নীলাকাশ, বালুচর, সাগরের ঢেউ পাড়ে আছড়ে পড়া, সাগরে নৌকা ভাসানো, বিরাট ম্যানশন, পূর্ণিমা রাত কিংবা বৃষ্টি, সোনালি চুলের গাউন পড়া একটি মেয়ে… দৃশ্যগুলো আপনাকে সম্মোহিত করে রাখবে। ছোটবেলায় পড়া রূপকথার বইয়ের ছবিগুলোর মত। সাথে তো বাকগ্রাউন্ড মিউজিক আছেই। আর আন্নার অ্যাডভেঞ্চার গল্পের মাঝে ঢুকিয়ে নিবে। যদিও আমি ধীর গতির দৈনন্দিন জীবনের কাহিনী নিয়ে আনিমে দেখে অভ্যস্ত তারপরেও আমার কাছে কেন জানি শুরুতে গল্পটা বেশ ধীর গতির লাগছিল। কেননা শুরুর আধ ঘণ্টায়ও মুভিটি মূল গল্পে প্রবেশ করে না। অনেক সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে আগায়। যারা ধুমধাড়াক্কা মারামারি বা শুধু মাত্র একটা নির্দিষ্ট গল্পের জন্যই আনিমে দেখেন তাদের একটু অধৈর্য লাগার সম্ভবনা আছে শুরুতে। কিন্তু পরে গিয়ে গল্পে বেশ উত্তেজনা আসে। তাই একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে উপভোগ করতে পারবেন। আর সমাপ্তিটা বেশ হৃদয়গ্রাহী। এখানে একই সাথে দুটি মেয়ের জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। শেষের দিকে কিছু চমক অপেক্ষা করছে।

মুভিটির একই সাথে যত ভালো দিক রয়েছে তাতে এর আরও বেশি নামডাক বা জনপ্রিয়তা পাওয়া উচিত ছিল। তাই লেখাটি পড়ে যদি আপনার রুচির সাথে মিলে যায় তবে অবশ্যই দেখতে ভুলবেন না “হোয়েন মারনি ওয়াস দেয়ার” বা “ওমোইদে নো মারনি”।

7 8 9 5 6 4

Legend of the Galactic Heroes/Ginga Eiyuu Densetsu(1988-1997) রিভিউ — Fahim Bin Selim

2

লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস/গিঙ্গা এইয়্যু দেনসেতসু(১৯৮৮-১৯৯৭)
Legend of the Galactic Heroes/Ginga Eiyuu Densetsu(1988-1997)

জনরাঃ স্পেস অপেরা, সাই-ফাই, ড্রামা, রোমান্স, মিলিটারী
প্রযোজকঃ আর্টল্যান্ড
মূলঃ ইয়োশিকি তানাকা
পরিচালকঃ নোবুরো ইশিগুরো (স্পেস ব্যাটলশীপ ইয়ামাতো(১৯৭৪))
সেন্সরঃ ভায়োলেন্স মাঝে মাঝে নৃশংস, খুব কম হলেও ন্যুডিটি আছে
মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিংঃ ৯.০৬(#৮)

বাংলাদেশী এবং নিয়মিত অ্যানিমে দেখাটা গত ৪-৫ বছর থেকে শুরু হলে হয়তো বড় একটা সময় ধরে এই অ্যানিমে সাথে পরিচিতও ছিলেন না। তারপর একদিন মাইঅ্যানিমেলিস্ট-এর “টপ অ্যানিমে” পেজ এ গেলেন। “ফুলমেটাল…হুম, স্টাইন্স;গেট…আচ্ছা, গিন্তামা…হুম, ক্লানাড…, কোড গিয়াস…গি-গিঙ্গা-এ-এই-ইয়া…কী!!?”
নয় বছর, চার সিজন আর ১১০ পর্ব। মাইঅ্যানিমেলিস্ট-এ এত রেটিং, আইএমডিবিতে এত রেটিং(৮.৯)। তবুও এই অ্যানিমে (বাংলাদেশ/বর্তমান অ্যানিমে ফ্যানদের কাছে) এতো কম জনপ্রিয় হওয়ার কারণ কী? অনেক পুরান বলে?

“In every time, in every place, the deeds of men remain the same”
৩৫ শতাব্দী।
স্পেস ক্যালেন্ডার ৭৯৬। ৭৯৬ বছর হয়েছে মানুষ পৃথিবী ত্যাগ করেছে।
প্রায় আট শতাব্দী আগে পৃথিবী ত্যাগ করা মানুষ যে একত্রে সুখে-শান্তিতে বাস করছে তা কিন্তু না। ছায়াপথে ছড়ানো নক্ষত্রগুলোর শ’ শ’ গ্রহে তারা ছড়ানো, আর ভাবাদর্শ দিয়ে দুভাবে বিভক্ত। একদিকে যেমন “ওডিন” গ্রহকে কেন্দ্র করে একনায়কতন্ত্র আর আভিজাত্যের আদলে রাজা আর প্রজার ষ্পষ্ট বিভেদ থাকা “ইম্পেরিয়াল” সাম্রাজ্য। আরেকদিকে শত শত আলোকবর্ষ দূরে তেমন “হাইনেসেনপোলিস”-এ টিকে আছে “ফ্রি প্লানেটস অ্যালায়েন্স” সরকার আর তার জনগণ, সাম্যবাদের ঝান্ডা উড়িয়ে, গনতন্ত্রের ধারক ও বাহক হিসেবে।
আর দেড় শতাব্দী ধরে এই দুই মতবাদের যুদ্ধ চলে আসছে, মহাকাশে। দখলের লড়াই। গনতন্ত্র, না একনায়কতন্ত্র? কোনটা বেছে নিবেন আপনি? সমান অধিকার নাকি প্রজাত্ব? গণতন্ত্র অবশ্যই? আসলেই কী ব্যাপারটা এতো সহজ?

স্পেস ক্যালেন্ডার ৭৯৬। ইম্পেরিয়াল ক্যালেন্ডার ৪৮৭।
ব্যাটল অফ আসতার্তে-তে মুখোমুখি হল ইম্পেরিয়াল আর অ্যালায়েন্স সৈন্যদল।
ইম্পেরিয়াল সৈন্যদের নেতৃত্বে এক যুবক ফ্লিট কমান্ডার; সবকিছু হারানো, প্রতিশোধস্পৃহা যার জ্বালানী আর অনন্যসাধারন নেতৃত্ব যার অস্ত্র – রাইনহার্ড ভন মুসেল। প্রথমবারের মত দেখালো তার ঝলক।
অ্যালায়েন্স এর সৈন্যদের নেতা না হয়েও এই ব্যাটল অফ আসতার্তে-তে প্রথম প্রচারের আলোয় আসলো প্রায় ত্রিশ ছোঁয়া এক অ্যাডমিরাল; মিলিটারিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা যার কখনোই ছিলো না, বরং ইতিহাসবেত্তা হওয়ার স্বপ্নদেখা, “মিরাকল ইয়াং” – ইয়াং ওয়েনলী।
তারা একে অপরের সরাসরি মুখোমুখি হল না। কিন্তু এই ব্যাটল অফ আসতার্তে-তে প্রথম বয়ে গেল এক পরিবর্তনের বাতাস। ঝড়ের পূর্ভাভাস নিয়ে।
আর এখান থেকেই তাদের গল্পের শুরু, সমান্তরালে।
তাদের দৈরত্ব্যের গল্প।
তাদের উত্থানের গল্প।
তাদের পতনের গল্প।
তাদের পুনোরুত্থানের গল্প।
রাইনহার্ড আর ওয়েনলী – এই দুই মহাকাশীয় নায়কের কিংবদন্তী।

ইয়োশিকি তানাকার লেখা উপন্যাস সিরিজের গল্প অবলম্বনে বের হওয়া লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস এর মূল গল্প হল ১১০ পর্বের ওভিএ (আর ডালাপালা ছড়ানো সাইডস্টোরি, প্রিকুয়াল নিয়ে আরো একটা ৫২ পর্বের সিরিজ আর ৫-৬টা মুভি, দেখা আবশ্যকীয় না)। যার চার সিজন, যথাক্রমে ২৬, ২৮, ৩২ ও ২৪ পর্বের এবং যা প্রচারিত হয়েছে যথাক্রমে ১৯৮৮-৮৯, ১৯৯১-৯২, ১৯৯৪-৯৫ ও ১৯৯৬-৯৭ সালে।

প্রতি দুই বছরে গড়ে মাত্র ২৮ পর্ব। লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোসের অ্যানিমেশন তো বেশ উচ্চমানেরই আশা করা যায়, না? এদিকেই আপনি প্রথম আশাহত হবেন। ‘৮০-এর শেষ কিংবা ‘৯০-দশকের অন্যান্য সেরা অ্যানিমের সাথে তুলনা করলে লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস-এর অ্যানিমেশন পিছিয়েই থাকবে। যদিও প্রতি সিজনে ক্রমশ উন্নতি হয়েছে, কিন্তু শুধু আধুনিক অ্যানিমেশনের ভক্ত হলে তা আপনার তৃষ্ণা মেটানোর জন্য হয়তো যথেষ্ট না।

3

সাই-ফাই স্টোরি – রোবট, অটোমেটিক অস্ত্র, স্পেসশীপের অসাধারন অ্যাকশন সীন? আপনি তাও পাবেন না। স্পেসশীপ গুলো খুব সাধারন, যুদ্ধের দৃশ্যগুলো অধিকাংশ সময়ই শূধু মনিটর স্ক্রিনের কিছু ত্রিভুজ আর চতুর্ভুজের “ফর্মেশন”-এই সীমাবদ্ধ।

4

হার্ড সাই-ফাই হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা জন্য যদি আপনি বৈজ্ঞানিক যুক্তির আতশ-কাঁচের নিচে রাখেন তবুও হতাশ হবেন।
পেসিং? প্রতিটি সিজনই একটি ক্লোজার দিয়ে শেষ হয়, তাই প্রতিটি সিজনের প্রথম পর্বগুলো বেশ ধীর। বিশেষ করে প্রথম সিজনের গল্প ভালোভাবে শুরু হতে, লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস এর ইউনিভার্স সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা পেতে আপনাকে পার করতে হবে প্রায় ১৩-১৪ টি পর্ব।
লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস এর পরিচালনাতেও বিশেষ কিছু পাবেন না, অন্তত অন্যান্য “সেরাদের সেরা” অ্যানিমের তুলনায়। অ্যানিমেটোগ্রাফি খুবই সাধারন, মাঝে মাঝে একঘেঁয়ে। পর্বে পর্বে ক্লিফহ্যাঙ্গার নেই, নেই হঠাৎ কোন টুইস্টও। এর গল্পের বাঁক আপনি খুব সহজেই আঁচ করতে পারবেন এবং বেশ আগে থেকেই। অন্যান্য “সেরাদের সেরা” অ্যানিমের তুলনায় এর “মাইনাস পয়েন্ট”-এর সংখ্যা অনেক বেশি।

কিন্তু অন্যান্য যেকোন অ্যানিমের তুলনায়, “যেকোন” অ্যানিমের তুলনায় লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস এর “প্লাস পয়েন্ট” ও অনেক অনেক বেশি।

এর সবচেয়ে সেরা দিক? এর সংলাপ আর সংগীত। স্পেস অপেরার থেকে যা আশা করা করবেন, ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ, নাটুকে আর দার্শনিক।

5- democracy
6
7

কিন্তু লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ না। এই অ্যানিমে আপনাকে যেমন ভাবাবে, তেমন দিবে নির্মল বিনোদনও। সেন্স অফ হিউমার অসাধারন। বাস্তবিক আর সহজাত। অন্যান্য বর্তমান বেশিরভাগ অ্যানিমের মতই জোর করে হাসানোর (অপ)চেষ্টা না।

8
9
10

আবহ সংগীত মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার মত। মোজার্ট, বেটোফেন, বাখদের ধ্রুপদী যন্ত্রসংগীত যুদ্ধের দৃশ্যগুলোর প্রাণসঞ্চারক।

আর এর আর্ট গুমোট, মধ্যযুগীয় পেইন্টিং এর মত। অ্যানিমেটার “আভিজাত্য”-এর প্রতিকও কি না?

এর সবচেয়ে সেরা দিক? এর চরিত্র। ১১০ পর্বের যেকোন অ্যানিমেতে সর্বোচ্চ কয়জন চরিত্র থাকতে পারে? লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস এর শুধু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের সংখ্যাই প্রায় অর্ধশতাধিক। এবং তারা আপনার দেখা, বর্তমান, অতীতের আর সব মানুষের মতই বাস্তব আর ত্রুটিযুক্ত। কোড গিয়াসের মত ওয়ান-ম্যান-শো ও না, ডেথনোটেরর মত টু-ম্যান-শো ও না। হ্যাঁ, রাইনহার্ডের অসাধারণ নেতৃত্ব গুণ আপনাকে মুগ্ধ করতে পারে, আপনি অভিভূত হতে পারেন ওয়েনলী বুদ্ধিদীপ্ত রনকৌশল দেখে। রাইনহার্ড আর ওয়েনলী প্রধান হলেও গল্পে ইউলিয়ান, কিরকিয়াইস, গ্রীনহিল, রয়েন্টাল আর মিত্তারমায়ারদের অবদান আর প্রভাবও প্রবল। সিরিজের প্রথমে পার্শ্বচরিত্র মনে হওয়ারাও পরে বড় কিছুর অংশে জড়িয়ে যাবে। আমাদের নায়কদের পরিবর্তন আসবে, শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে, ছয়টি বসন্তব্যাপী, বদল আসবে অন্যান্য চরিত্রদেরও। সিরিজের মাঝখানে যখন কেউ চার-পাঁচ বছর আগের কোন ঘটনার কথা উল্লেখ করবে তখন তা ফ্ল্যাশব্যাক না, আসলেই চার-বছর আগের ঘটা। আপনি তা দেখে এসেছেন, আপনি তার অংশ ছিলেন।
এটা শুধু এই দুজনের ভাবাদর্শগত পার্থক্যের যুদ্ধেরও গল্প না, সমগ্র মানব্জাতিরই যুগ যুগ ধরে চলে আসা যুদ্ধ-বিগ্রহের গল্প। আপনি এই গল্প দেখবেন রাজাদের চোখ থেকে, সরকারের উচ্চতর কর্মকর্তাদের চোখ থেকে, সৈন্যদের চোখ থেকে, সাধারণ মানুষের চোখ থেকে, কু আর অপসংষ্কারে আটকে থাকা গোঁড়াদের চোখ থেকেও। লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস পক্ষপাতবিহীন, মানবিক গল্প।

এর সবচেয়ে সেরা দিক? এর গল্প। যখন বলব অ্যানিমে মাধ্যমেরই সর্বসেরা গল্প, তখন হয়তো বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। মনস্টার, ফুলমেটাল ব্রাদারহুডরা এর থেকে ভালো “অ্যানিমে” হতে পারে, কিন্তু লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস এর গল্পের কাছে তারা হার মানবে। না এটাতে কোন মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া কোন কনসেপ্ট নেই, প্রচন্ড প্যাঁচ লাগা কোন রহস্যও নেই – লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস বাস্তব আর সাধারন। সম্ভবত যুদ্ধ আর রাজনীতি নিয়ে টিভিতেই প্রচারিত হওয়া সবচেয়ে বাস্তব এবং সাধারন ফিকশনাল শো। গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র, নির্বাচন, সরকার, দূর্নীতি, ধর্মব্যবসা, টেরোরিজম, অভ্যুত্থান, আন্দোলন, গৃহযুদ্ধ, ষড়যন্ত্র – লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস হল সমাজ বই। রাজনীতি/অপরাজনীতির এত ভালো শিক্ষক আর পাবেন না। ইতিহাস আর যুদ্ধ? এতে মানুষ মারা যাবে, অগণিত; সম্ভবত যেকোন অ্যানিমের মধ্যে সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি। যুদ্ধে মারা যাবে, আত্নহত্যায় মারা যাবে, দূর্ঘটনায় মারা যাবে, টেরোরিজমে মারা যাবে, গণহত্যায় মারা যাবে, গুপ্তহত্যায় মারা যাবে।
“Heroes do not neccessarily die heroic deaths” – এই চরম সত্যটাও খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়ে যাবে।
আগেই যেটা বলেছি পর্বে পর্বে ক্লিফহ্যাঙ্গার নেই, টুইস্টও। সময়ে সময়ে বুদ্ধিরখেলাটা শুধু দ্বিমুখীই না – ত্রিমুখী, চতুর্মুখী এমনকি পঞ্চমুখীও। কিন্তু তবুও গল্পের বাঁক আপনি খুব সহজেই আঁচ করতে পারবেন এবং বেশ আগে থেকেই। আর এখানেই এর অসাধারণ গল্পের মহাত্ব্য, আপনি অনিবার্যের অপেক্ষা করবেন্ অসহায়ভাবে। লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস একই সাথে “সাহসী” গল্পও।

এসব কিছুর পরও এই অ্যানিমেটা একটা নির্দির্ষ্ট দর্শকের কাছেই সীমাবদ্ধ কেন? কারণ লেজেন্ড অফ দ্য গ্যালাক্টিক হিরোস হল আমার দেখা সবচেয়ে “ম্যাচুর” অ্যানিমে। রাজনীতি, ইতিহাস আর যুদ্ধবিগ্রহ, যাতে আবার ভালো কোন অ্যাকশন নেই, নায়কদের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা নেই – তা বেশির ভাগ মানুষের কাপেরই চা না। সংলাপ নির্ভর, কাহিনী নির্ভর, চরিত্র নির্ভর অ্যানিমের ভক্ত না হলে আপনাকে এই অ্যানিমে ১১০ পর্ব ধরে আকর্ষন করতে পারবে না।
কিন্তু আপনি যদি ভালো কিছু দেখতে চান, আসলেই খুব ভালো কিছু দেখতে চান, তাহলে প্রস্তুত হোন। এখন বেশ সস্তা হয়ে যাওয়া “এপিক” শব্দটার আদি ও অকৃত্রিমতার জন্য। ১১০ পর্ব আর ৬ বছর আর পুরো মহাকাশ জুড়ে চলা বিশাআআআআআল এক কাহিনীর জন্য। “কাইজার” রাইনহার্ড আর “মিরাকল” ইয়াং – ছায়াপথের ইতিহাস চিরদিনের জন্য বদলে দেওয়া এই দুই নায়কের ধ্রুপদী, অভিজাত আর মহাকাব্যিক এই কিংবদন্তীর জন্য। অ্যানিমের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বসেরা গল্প আপনার জন্য প্রস্তুত।

রেটিংঃ ★★★★★

Death Parade রিভিউ — Iftekhar Rashed

প্রত্যেকটা এনিমে একটা ম্যাসেজ দিয়ে থাকে, ডেথ প্যারেড এর ম্যাসেজটা হবে দাত থাকতে দাতের মর্যাদা বোঝা। অর্থাৎ জীবনের মর্ম বোঝা। হতাশা মানুষের জীবনের অনেক কাছের একটা সঙ্গী এটা মানুষকে এমন এমন সব কাজ করতে বাধ্য করে যার ফল মৃত্যুর পর ও ফল ভোগ করতে হয়।
বর্তমান সময়ের মানুষের জিবনে হতাশার মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছে বিভিন্ন কারনে এবং এই এনিমেটা আমাদের অনেককে অনেকাংশেই উপকার করবে মানষিক দিক থেকে। এনিমের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো আলোচনা এটা বলতেই হয়।

এবার এনিমের মুল দুটো ক্যারেক্টার কথা বলিঃ চিউকি একটা অসম্ভব সুন্দরি একজন গুনবতী মেয়ে। এবং ডেকিম একজন দক্ষ বিচারক যার আচরন, তার সাথে তার চেহারার ধরন ও এক্সপ্রেশন সবি একটি দক্ষ বিচারকের মতই, সবুজ রঙের চোখ যার অসীম গভিরতা ও সাদা চুল- কিন্তু সে মানুষ না একটা পুতুল যার কাজ মানুষর বিচার করা তবে সে মানুষের অনুভুতি সম্বলিত।

এনিমের মুল পটভুমি হল মৃতদের বিচার করা তাদের পৃথিবীর কর্মের উপর ভিত্তি করে। এবং এই বিচারকদের একজন হল ডেকিম যার বিচারের ধরন চিউকির সাথে দেখা হওয়ার পর বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হতে থাকে।………… প্রথম পর্বটাই একজনেকে এনিমটা দেখতে আগ্রহি করতে যথেষ্ট।

কিভাবে ডেকিম প্রভাবিত হল জানার জন্য এনিমটা দেখা শুরু করে দিন জলদি জলদি।

[মানুষকে কখনই একটা ঘটনার ভিত্তিতে জাজ করা উচিত না কারন কোন নিদৃষ্ট পরিস্থিতিতে মানুষ ভিন্ন রকম আচরন করে থাকে]

1