‘Cross Game- স্লাইস অফ লাইফ এবং স্পোর্টস এর অসাধারন কেমিস্ট্রি’- By Gourab Roy

অনেক ধুন্ধুমার ফাইটিং সিন দেখে হয়ত আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন,মন চাইছে স্লাইস অফ লাইফের স্বাদ আস্বাদন করতে ,আবার একদম নিস্তরংগ জীবন ও তো ভাল লাগেনা।নিরমল বিনোদোনের জন্য দরকার হাল্কা পাতলা খেলাধুলা ।স্লাইস অফ লাইফ এবং স্পোর্টস এর অসাধারন কেমিস্ট্রি নিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ‘ক্রস গেম’।মুলত এটা বেসবল এর উপর বেস করে করা এনিমে।কিন্তু এটার পরতে পরতে মিশে আছে রোমান্টিসিজম।অন্য যে কোন স্পোর্টস এনিমে থেকে একটু আলাদা। খেলাধুলার পাশাপাশি মানুশের লাভ লাইফের উপরেও সমানে জোর দেওয়া হয়েছে।

আমাদের গল্পের নায়ক,কিতামুরা কো।গল্পের নায়িকা সুকিশিমা আওবা।আওবা একটু টম বয় টাইপের।ছোট বেলা থেকে সে বেস বল খেলে।নায়ক এর সামর্থ থাকা সত্ত্ব সে খেলার প্রতি সিরিয়াস না যতক্ষন না সে আওবার কাছে হেরে যায় (অনেক ছোটবেলায়)।এরপর থেকে তার বেস বল খেলার শুরু।তার ছোটবেলার ভালোবাসা ,আওবার বড়বোন ওয়াকাবার স্বপ্ন পূরণের জন্যই তার এই খেলা। সাধারনত দেখা যায় স্পোর্টস এনিমে তে হিরোরা থাকে ফার্স্ট ইয়ারে এবং ফাস্ট ইয়ারেই তারা সব কুপিয়ে লাল বানিয়ে ফেলে।এইখেত্রে হিরো থার্ড ইয়ারে না ওঠা পর্যন্ত ওই রকম কোপ দেওয়া হয়ে ওঠেনা।আস্তে আস্তে করে একটা টিমের বিল্ড আপ দেখান হয়েছে ৫০ পর্বের এই এনিমে তে।যদিও ‘এস অব ডায়ামন্ড’ এর এত ইন্টেন্স এনিমেশন নাই এখানে।কিন্তু খেলার উত্তেজনা ঠিক ই জায়গায় জায়গায় ক্রাইসিস ক্রিয়েট করে অনেক সাবলীল ভাবে দেখান হয়েছে।ত্রিভুজ ,চতুর্ভুজ প্রেম কাহিনি এর শেষ কিভাবে হবে সেটা শেষ না দেখে বোঝার কোন উপায় ছিলনা। বেশ মেলোড্রামাটিক সিচুয়েশনের ক্রিয়েট করা হয়েছে ক্ষণে ক্ষণে । প্রায় নামহীন একটা স্কুল কে কিতামুরা কো আর তার সহপাঠিরা কি পেরেছিল খ্যাতির শিখরে নিতে?কিতামুরা কো আসলে ভালবেসেছিল কাকে ? এসব প্রশ্নের উওর জানার জন্য আজ ই দেখে ফেলুন ‘ক্রস গেম’। প্রথম কয়েক পর্ব একটু ধৈর্য নিয়ে দেখে ফেললে এর পরে আর অন্য দিকে তাকানোর সুযোগ ও নেই

ওপেনিং আর এন্ডিং সং ও স্পোর্টস এনিমের মত ইন্টেন্স না, বরংচ স্লাইস অফ লাইফ টাইপের । শুনলে মনে হবে আপনি শুন্য আকাশে অপলক তাকিয়ে আছেন।অথবা নদী তীরের হিমেল বাতাস উপভোগ করছেন(বিশেষ করে Orange days )।
আমার রেটিং ,৮.৫। আর দেরি কেন ? হ্যাপি এনিমিং. 😀

 

যেসব এনিমে দেখে কখনোই পস্তাবেন না! – শাফিউল মুনীর

কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম বেস্ট ২০ কিংবা বেস্ট ২৫ টা এনিমের একটা লিস্ট বানাবো, কিন্তু সিলেক্ট করতে হিমশিম খেতে হয়, এই বিকটাকার এনিমে জগতকে এত ক্ষুদ্র পরিসরে নিয়ে আসা সাধারণ এনিমখোরদের জন্য বেশ কঠিন ব্যাপার। এই লিস্টটি বেসিকেলি আমার সবচেয়ে পছন্দের কিছু এনিমের লিস্ট, তবে এতটুকু গ্যারান্টি দিচ্ছি যে এর মধ্যে কোনটা দেখে কারো বেশি খারাপ লাগবে না, কিংবা ‘দেখে লস হয়েছে’ এমন ভাবনা আসবে না। তাই কেউ যদি কোনটা না দেখে থাকেন দ্রুত দেখে ফেলার আহবান রইল। যেহেতু আমি শৌনেন এনিমে বেশি দেখেছি, তাই লিস্টে বেশিরভাগ শৌনেন…আর এনিমেগুলোর রিভিউ কিংবা সিনোপ্সিস বলা আমার উদ্দেশ্য না, কিছুটা পাবলিসিটি করছি মাত্র। গ্রুপের ওয়েবসাইটে অনেকগুলোর রিভিউ পাওয়া যাবে, আর মাই এনিমে লিস্ট ত দেখে নিতে পারেনই, তারপরও কোন এনিমে সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চাইলে একটা কমেন্ট করতে পারেন। (এনিমেগুলো রেন্ডম সিরিয়ালে দেওয়া আছে).

১। ডেথনোটঃ অসাধারণ শ্বাসরুদ্ধকর একটা থ্রিলার, এনিমে জগতের প্রতিনিধি বলা যেতে পারে একে, যেকোন এনিমেহেটারও এটা দেখে পজিটিভ কিছু বলে যেতে বাধ্য, আপনি এনিমে দেখেন শুনলেই সবাই এর কথা প্রথমে জিজ্ঞেস করবে, মাস্ট সিন লিস্টে খুব উপরের দিকে… রেটিং- ৯/১০

২। ফুলমেটাল আলকেমিস্ট ব্রাদারহুডঃ আমার কাছে মনে হয়েছে এর থেকে পারফেক্ট কোন এনিমে হওয়া পসিবল না, যা যা থাকা দরকার সব আছে, রেটিং ১০/১০, সর্বকালের সেরা এনিমে বলে কিছু থাকলে এটাই।

৩। বাকুমানঃ আমার দেখা সেরা স্লাইস অব লাইফ, মাঙ্গাকাদের জীবন নিয়ে বানানো এই এনিমেটি দেখার পর চিন্তাভাবনার ধরণ অনেক পালটে গেছে, মাস্ট সিন একটা এনিমে, আর মাঙ্গাটা এনিমে থেকে ভালো। রেটিং – সাড়ে ৯/১০

৪। কোড গিয়াসঃ ডেথনোটের সেইম জেনারের এনিমে যেটাকে আমি পারসোনালি ডেথনোটের থেকেও এগিয়ে রাখব, কাহিনী, ক্যারেক্টার ডেভলাপমেন্ট, ফাইটিং, এন্ডিং সবই অস্থির। রেটিং- সাড়ে ৯/১০

৫। হিউকাঃ খুব সাধারণ মানের একটা সহজ সরল এনিমে, কিন্তু এর সাধারণত্বই একে অন্যরকম একটা লেভেলে নিয়ে গেছে, মিস্ট্রি, স্কুল লাইফ, স্লাইস অব লাইফ টাইপ জেনার, খুব নিরীহ, নিষ্কলুষ একটা এনিমে, একটু স্লো হলেও দেখতে খারাপ লাগবে না। রেটিং- ৯/১০

৬। স্ল্যাম ডাঙ্কঃ স্পোর্টস এনিমে অনেকেরই ভাল লাগে না, কিন্তু স্ল্যাম ডাঙ্ক সবার ভাল লাগতে বাধ্য, এটা দেখে হাসিতে গড়াগড়ি না খেয়ে কোন উপায় নেই, বাস্কেটবল গেমের পাশাপাশি অসাধারণ হিউমার, কাহিনি আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট একে অন্যতম সেরা স্পোর্টস এনিমে হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রেটিং- ৯/১০

৭। ডি গ্রে ম্যানঃ শৌনেন এনিমের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত, কিন্তু বেশ ভাল একটা এনিমে, কাহিনী, ফাইটিং, প্লট খুব ভাল, অনেক হিউমারাস স্ট্যান্ডার্ড ডায়লগ, তবে এন্ডিং পুরাপুরি না হওয়াতে কিছুটা কমে গেছে এর আপিল, তবু না দেখার কোন কারণ নেই। রেটিং- সাড়ে ৮/১০

৮। Nura Rise of Yokai Clan নুরারিহিয়ন নো ম্যাগোঃ সম্ভবত খুব আন্ডাররেটেড একটা এনিমে, এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুনি খুব কম। একটা খুব ভাল শৌনেন এনিমের সব ধরণের এলিমেন্ট ভালমত আছে এতে, সবাই দেখতে পারেন, তবে এখানেও দুই সিজন মিলে পুরাপুরি কাহিনীর শেষ হয় নাই, তবে একটা এন্ডিং আছে…রেটিং- সাড়ে ৮/১০

৯। মেজাইঃ দ্যা ল্যাবরিন্থ অব ম্যাজিক, কিংডম অব ম্যাজিকঃ আমার খুব পছন্দের একটা এনিমে, দুইটা সিজন হয়েছে, খুব ভাল কাহিনী, ফাইটিং, আর পটেনশিয়াল অনেক, মাঙ্গায় চলমান কাহিনী বেশি জটিল, হয়ত ভবিষ্যতে খুব ভাল কিছু একটা হবার সুযোগ রয়েছে। রেটিং – ৯/১০

১০। নারুতোঃ আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের এনিমে, নারুতো আমার সবথেকে ফেভারিট ক্যারেক্টার, ফিলার ছাড়া বিবেচনা করলে নারুতো আর নারুতো শিপ্পুডেনের মত অস্থির এনিমে খুব কমই আছে…এটা না দেখে থাকলে এনিমে জগতের অনেক বিশাল একটা অংশ মিস করবেন, এটা আপনাকে মন খুলে হাসাবে আর আপনার চোখের পানি বের করে ছাড়বে, এর বেশি আর কি প্রয়োজন? বায়াসড রেটিং- সাড়ে ৯/১০

১১। Silver Spoon (গিন নো সাজিঃ এফএমএবির রাইটারের আরেকটা অদ্ভুত ব্রিলিয়ান্ট কাজ, স্লাইস অব লাইফ, স্কুল লাইফ খুব ব্যতিক্রমধর্মী একটা কাহিনির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে, দুই সিজন এসেছে, খুব মজার আর ভাল, তবে শোনা যাচ্ছে আর এনিমে হবে না, মাঙ্গা এগিয়ে চলছে, না দেখলে এখনি শুরু করুন, খুব ভালো কয়টা দিন যাবে… রেটিং- ৯/১০

১২। সাইকো পাসঃ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের জগতে আরো একটি অসাধারণ এনিমে, খুবই চিত্তাকর্ষক প্লট, প্রথম সিজন শেষ করে দ্বিতীয় সিজনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, একটা পর্ব দেখলেই টেনে ভিতরে নিয়ে যাবে আপনাকে, শেষ করার আগে বেরুতেই পারবেন না। রেটিং- ৯/১০

১৩। স্টেইন্স গেটঃ খুব ভাল সাই-ফাই, থ্রিলার, মজাটা শুরু হতে একটু টাইম নেয়, কয়েকটা এপিসোড ধৈর্য্য ধরে বসে দেখতে হবে, একবার শুরু হলে আর উঠা লাগবে না। রেটিং- ৯/১০

১৪। ফেইট জিরো-ফেইট স্টে নাইটঃ বহুল আলোচিত এনিমে, ফেইট জিরো খুব বেশি ভাল, ফেইট স্টে নাইট ও অনেক ভাল লেগেছে আমার, ফাইটিং, ক্যারেক্টার আর ট্যাকটিক্স সবকিছুই আকর্ষণীয়। রেটিং- জিরো- ৯/১০, ফেইট স্টে নাইট- সাড়ে ৮/১০

১৫। এভাটারঃ দ্যা লাস্ট এয়ারবেন্ডার, এভাটারঃ কোরাঃ এটা এনিমে জগতে প্রবেশাধিকার পায় নি, একটা কার্টুন, কিন্তু কাউকে এনিমখোর বানাতে চাইলে সবার আগে এটা দেখতে পরামর্শ দিতে পারেন, প্রথম এনিমেটা এভাটার এং এর কাহিনী, ফাইটিং, ফান সবকিছু অতি উচ্চমানের। পরের এনিমেটা ভিন্ন এক এভাটারের কাহিনী, ভাল… রেটিং, প্রথমটা- সাড়ে ৯, পরেরটা সাড়ে ৮

১৬। গিনবান কেলাইডেস্কোপঃ মাত্র ১২ এপিসোডের ডিফারেন্ট টাইপ একটা স্পোর্টস এনিমে, আর সাথে ব্যতিক্রমধর্মী রোমান্স, অবশ্যই দেখা উচিত… রেটিং- ৯

১৭। The Garden of Sinners (কারা নো কিউকাইঃ থ্রিলার, মিস্ট্রি, হরর জেনারের একটা অসাধারণ উদাহরণ, মূলতঃ ৭ টি ভিন্ন ভিন্ন মুভি মিলে এই সাত পর্বের কালেকশনটা একটা মুহূর্তের জন্যও বোরিং লাগার কথা না। রেটিং- সাড়ে ৮

১৮। ফেয়ারি টেইলঃ অতি বিতর্কিত একটা এনিমে, কাহিনী-ফাইটিং-মিউজিক-ক্যারেক্টার খুব ভাল, তবে অনেক নেগেটিভ দিক রয়েছে, দেখে সিদ্ধান্ত নেন, কন্টিনিউ করবেন কিনা, শৌনেন লাভারদের অবশ্যই ভালো লাগবে,দেখবেন… রেটিং- সাড়ে ৮

১৯। ওয়ানপিসঃ একটা মাস্টারপিস, দিনের পর দিন শুধু ভাল থেকে ভালতর হচ্ছে এই এনিমেটা, অনেকেই শুরু করতে চান না বিশাল সাইজ দেখে, আবার প্রথমদিকের কিছু পর্ব দেখে অতি আকর্ষনীয় মনে না হওয়াতে অনেকে রেখে দেন, কিন্তু বিশ্বাস করুন, ‘একজন এনিমখোরের জন্য ওয়ানপিস ই যথেষ্ট’, শুধু কষ্ট করে দেখে ফেলেন ৩০০ টার মত এপিসোড, তারপর শুধু চোখ আটকেই থাকবে না, পুরো দুনিয়া ছেড়ে ওয়ানপিসের জগতে হারিয়ে যাবেন, ফেরত আসতে পারেন কিনা সন্দেহ আছে !…রেটিং- সাড়ে ৯

২০। ব্লিচঃ বিগ থ্রির গর্বিত সদস্য, সম্ভবত সবচেয়ে সেরা ফাইটিং এনিমে বলা চলে, এই এনিমেতেই আছে এনিমে জগতের অন্যতম সেরা ভিলেন, এক একটা ডায়লগ-ফিলসফি সুপার ক্লাস, না দেখে থাকলে আপনার এনিমে ক্যারিয়ার অবশ্যই অপূর্ণ। রেটিং-৯

২১। জায়ান্ট কিলিং– ফুটবল নিয়ে নির্মিত এই স্পোর্টস এনিমেটি অনেক ব্যতিক্রমধর্মি এর স্বজনদের থেকে, ফুটবল লাভাররা অবশ্যই দেখবেন, রিয়ালিস্টিক, উত্তেজনাপূর্ণ, গতিময় আর অনেক উপভোগ্য, দেখলেই বুঝবেন কেন দেখা উচিত…রেটিং ৯

২২। গোসিকঃ মিস্ট্রি-ডিটেক্টিভ জনরার একটা ছোটখাট এনিমে, তালিকার বাকিগুলোর মত হাই প্রোফাইল না, তবে মিস্ট্রিগুলা খুব ই ভালও, দেখতে অবশ্যই ভাল লাগবে…রেটীং – সাড়ে ৮

২৩। কাতেকিউ হিটম্যান রিবর্ন- আরো একটা আন্ডাররেটেড শোনেন, খুব ভালো কাহিনী, ফাইটিং, শুরুর দিকে বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্য্য ধরে দেখতে হবে, একটা বাচ্চা বাচ্চা টাইপ লাগতে পারে, কিন্তু মূল কাহিনী একবার শুরু হবার পর আটকে যাবেন পর্দায়, এনিমেতে একটা নির্দিষ্ট আর্ক পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, বাকিটা মাঙ্গা পড়তে পারেন। রেটিং- ৯

২৪। কেনিচিঃ হিস্টোরিস মাইটিয়েস্ট ডিসিপালঃ মার্শাল আর্ট, ফিস্ট ফাইট জেনারের আমার দেখা বেস্ট এনিমে, ডায়লগ খুব মজার, যদিও এনিমেতে মাত্র ৫০ এপিসোডে (মাঙ্গা চ্যাপ্টার ১৪০ এর মত) শেষ করে দিয়েছে, সেগুলোও বেশ উপভোগ্য, আর মাঙ্গাটা অনেক ভাল (চ্যাপ্টার ৫৭০ এন্ড অনগোয়িং)…রেটিং- ৮

২৫। দুরারারাঃ বেশ ব্যতিক্রমধর্মী একটা এনিমে, একশন-মিস্ট্রি জেনারের, কাহিনীর ডেভেলপমেন্ট বেশ ইন্টারেস্টিং, নেরেশন আর পেসটা ভালো লাগতে বাধ্য, বেশকিছু ভালো লাগার মত ক্যারেক্টার আছে এতে, অবশ্যই দেখতে হবে এমন আরো একটি এনিমে, সম্ভবত দ্বিতীয় সিজন শীঘ্রই আসছে, অপেক্ষায় আছি… রেটিং- ৯/১০

২৬। হান্টার* হান্টারঃ অনেকেই নারুতোর সাথে এর অনেক মিল খুঁজে পেতেন প্রথমদিকে, কিন্তু বর্তমান আর্কগুলো দেখে তাদের ধারণা পাল্টাতে বাধ্য, খুব অস্থির একটা শৌনেন এনিমে, কিছুদিন আগে শেষ হওয়া এর চিমেরা এন্ট আর্কটা সম্ভবত এনিমে দুনিয়ার অন্যতম সেরা আর্কগুলোর মধ্যে একটা, প্রথম থেকেই কাহিনী, ডায়লগ, ফাইটিং সবকিছু ভালো। রেটিং- ৯/১০

২৭। সামুরাই এক্স- রুরোনি খেনশিন- আমার দেখা প্রথম এনিমে, তখন এটার মর্ম বুঝতে পারি নি, একটা মাস্টারপিস- ক্লাসিক এনিমে, সামুরাই-সোর্ড ফাইটিং লাভার না হলেও মাস্ট সিন, খেনশিন হিমুরার মত ক্যারেক্টার দেখতে পারাটাই অনেক সৌভাগ্যের, এনিমে দুনিয়ার আরেক কুল ভিলেনও আছে এতে। রেটিং- সাড়ে ৯ ২৮। গিনতামাঃ এটা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, শুধু বলব এটা না দেখলে খুব বড় কিছু একটা মিস করবেন, বেশি বড়, তবে এটা দেখার আগে বেশকিছু এনিমে দেখে নেওয়া উচিত, তাহলে আসল মজাটা পাবেন, বিভিন্ন এনিমের নানাদিককে মাঝে মধ্যেই তুলে আনা হয়েছে এতে খুব ক্লাসিক হিউমার হিসাবে… রেটিং- ৯/১০

আরো কিছু এনিমে যা অবশ্যই দেখা উচিত- Kingdom, মনস্টার, কাউবয় বিবপ, সামুরাই চ্যাম্পলু, ব্ল্যাক ক্যাট, কিউ কারো মাউ, তরিকো, হানি এন্ড ক্লোভার, তোরাদোরা, ইউ ইউ হাকুশো, এডেন অব ইস্ট, তরিকো, মেলানকোলি অব হারুহি সুজুমিয়া, লগ হোরাইজন, স্পাইস এন্ড উলফ, ডিটেক্টিভ একাডেমি কিউ, সোল ইটার, শিনগেকি নো কিয়োজিন, নোডামে ক্যান্টিবেলে, ফ্যান্টমঃরিকোয়েম, মুশি শি, জোজোস বিজার এডভেঞ্চার, ইনিশিয়াল ডি, হাজিমে নো ইপ্পু, বার্সার্ক, ড্রাগন বল, ড্রাগন বল জি, ডিটেক্টিভ কোনান, ক্লানাড, চিহায়াফুরু, বকুরা ওয়া মিন্না কাওয়াইসো, এইস অব ডায়মন্ড, Cross Game, One Outs, Kuroko no Basuke… … শেষ নাই শেষ নাই, ভাল এনিমের শেষ নাই… !!!

Keep calm and watch Anime… And also don’t forget, life comes first, anime is only for recreational purpose, don’t be an Otaku, that’s seriously bad.

History’s Strongest Disciple: Kenichi মাঙ্গা রিভিউ লিখছেন তাওসিফ তান

 

historys-strongest-disciple-kenichi-4496349

হিষ্টোরিস স্ট্রংগেষ্ট ডিসাইপল : কেনিচি
(History’s Strongest Disciple: Kenichi)
( 2002-running )

GENRE: action, martial arts, comedy, romance, high school

মার্শাল আর্টস! মানবসৃষ্ট এবং যুগ যুগ ধরে চর্চাকৃত এমন এক শিল্প যা দ্বারা মানুষ চাইলে খালি হাতে যেকোন অস্ত্রধারী বা তারচে বেশি শক্তিশালী মানুষ থেকে নিজেকে ও নিজের আশপাশের মানুষদের রক্ষা যেমন করতে পারে…তেমনি চাইলে তা ব্যবহার করে সংঘটিত করতে পারে ভয়ঙ্কর সব অপরাধ! নিজেকে পরিণত করতে পারে একটি “মানব মারণাস্ত্রে”। নাড়িয়ে দিতে পারে মনুষ্যত্ব ও সভ্যতার ভিত! মার্শাল আর্টিষ্ট দের মাঝে যারা এক বা একাধিক মার্শাল আর্টে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেন তাঁদের বলা হয় “মাষ্টার ক্লাস”, আর যারা সেইসব মাষ্টারদের কাছে মার্শাল আর্ট শিক্ষা নেয় তাদের বলা হয় “ডিসাইপল ক্লাস” মার্শাল আর্টিষ্ট…

তো আমাদের কাহিনীর মূল চরিত্র কেনিচি শিরাহামা, একজন শীর্ণকায় ভীতুর ডিম সোশ্যালি অকওয়ার্ড জাপানী স্কুলছাত্র, যে কিনা প্রতি পদে পদে তার ক্লাসমেট এবং উচু ক্লাসের ছাত্রদের Bullying এর শিকার!! সে সবসময় চায় শক্তিশালি হতে, এসব অন্যায় bullying এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, নিজের ও তার আশেপাশের সকল তারমত ভুক্তভোগীদের রক্ষা করতে…. এবং পরিণতিতে আরো মার খায়!

সব দেখে শুনে কেনিচির রহস্যময়ী বান্ধবী মিউ ফুরিনজি একদিন কেনিচিকে নিয়ে যায় তার পরিবার, “রিওজানপাকু ডোজো” তে। এমন একটি মার্শাল আর্ট স্কুল যেখানে একত্রিত হয়েছেন বিশ্বের সেরা সেরা “গ্র্যান্ড মাষ্টার”গণ (এমন মাষ্টারক্লাস, যারা নিজেদের মার্শাল আর্ট স্কিলকে নিয়ে গেছেন প্রায় অতিমানবীয় পর্যায়ে ) ! রয়েছেন দার্শনিক জুজুৎসু মাষ্টার আকিসামে কোয়েৎসুজি, ১০০ ডিগ্রী কারাতে ব্ল্যাক বেল্ট শিও সাকাকি, সকল চাইনিজ মার্শাল আর্টের গুরু মা কেনসেই, আন্ডারগ্রাউন্ড মুয়ায় থাই এর “ডেথগড” খ্যাত আপাচাই হোপাচাই এবং সকল অস্ত্রনির্ভর মার্শাল আর্টের প্রডিজি কোসাকা শিগুরে! আরো আছেন বুড়ো হায়াতো ফুরিনজি, মিউর দাদা, যিনি কিনা “ইনভিন্সিবল সুপারম্যান” নামে মার্শাল আর্ট জগতে সুবিদিত একজন লেজেন্ড!
এদের খপ্পরে পড়ে কেনিচির দুনিয়াই পাল্টে যায়! কোনপ্রকার ন্যাচারাল ট্যালেন্টবিহীন কেনিচির দিনের একাংশ এখন কাটে তার পাঁচ মাষ্টারের উপর্যুপরি নারকীয় এবং অমানুষিক ট্রেনিং গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে এবং অন্য অংশ কাটে মিউর সাথে স্কুল এবং স্কুলের বাইরে Ragnarok নামক একটা ভয়ঙ্কর কিশোর অপরাধী দলের মার্শাল আর্টিষ্ট সদস্যদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে! এক সময় কেনিচি এতে সফলকামও হয় এবং দল থেকে তার অনেক বন্ধুবান্ধবও জুটে যায়…কিন্তু তারপরই সে জড়িয়ে পড়ে আরো ভয়ঙ্কর বিপদে!
কেনিচির মার্শাল আর্ট স্কিলের খ্যাতি শুনে তার উপর নজর পড়ে YAMI নামক বিশ্বের সবচে কুখ্যাত মার্শাল আর্ট সংস্থার এলিট গ্রুপ “ওয়ান শ্যাডো নাইন ফিষ্ট” এর! যাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের ডিসাইপলদের দিয়ে রিওজানপাকুর ডিসাইপলকে পরাজিত করা এবং রিওজানপাকুর পতন ঘটিয়ে শুধুমাত্র মার্শাল আর্ট দ্বারা বিশ্বে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটানো!

কেনিচি কি পারবে তার মাষ্টারগণ এবং বন্ধুদের সাথে মিলে ইয়ামিকে প্রতিহত করতে?? সে কি পারবে ইয়ামির ছাত্রদের হারিয়ে নিজের “ষ্ট্রংগেস্ট ডিসাইপল” খেতাবটি রক্ষা করতে??

সবিস্তারে এই হচ্ছে কেনিচির কাহিনী! মাঙ্গা মূল যেসব জিনিস আমার ভালো লেগেছে তা হল, এর সুন্দর গোছানো একটি কাহিনী, অসাধারণ সব চরিত্রের সমাবেশ, নাকামা পাওয়ার এবং মাথা ঘুরায় দেওয়া সব ফাইট, প্লট টুইষ্ট এবং ট্র্যাজেডি!! এই গল্পে বিভিন্ন দেশের মার্শাল আর্ট সম্পর্কে একেবারে খাঁটি তথ্য দেওয়া হয়েছে, এবং কোন মার্শাল আর্ট ফর্মকেই কোনটার চেয়ে দুর্বল দেখানো হয়নি!

এছাড়াও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গল্পের চরিত্রদের শক্তিসামর্থ্যকে একটা নির্দিষ্ট লিমিটের মাঝে রাখা হয়েছে… অন্যান্য কাহিনীতে যেমন দেখানো হয় যে শিক্ষানবিশ চরিত্ররা মাঝে মাঝে চেইতা টেইতা এমন পাওয়ার দেখায় যে তাদের চেয়ে শতগুন শক্তিশালী শিক্ষক লেভেলের অপনেন্ট কে কোপায় ফেলে! এখানে তা নাই! যত যাই হোক, ডিসাইপল সবসময়ই ডিসাইপল, মাষ্টার রা সবসময়ই মাষ্টার!!

মাত্রাতিরিক্ত নগ্নতা, শুরুর দিকে কাহিনীর স্লো পেস এবং বাজেটের অভাবে এর অ্যানিমে টা বেশিদিন চলে নি, কিন্তু ধৈর্য্য ধরে যদি কেউ মাঙ্গা টা পড়ে যান….বুঝতে পারবেন এই গল্পের “বিগ থ্রি বিগ ফোর” না হলেও তাদের কাছাকাছি আসার সামর্থ্য ছিল… মার্শাল আর্ট জেনারের আমার সবচে প্রিয় মাঙ্গা হল “হিষ্টোরিস স্ট্রংগেষ্ট ডিসাইপল : কেনিচি”!

MAL rating : 8.5/10
my rating : 8/10

kenichiova

 

All Fiction 1- Durarara review

লাইট নভেল রিভিউ –

ডুরারারা / Durarara!!

লেখক : নারিটা রিয়োগো / Ryohgo Narita

জানরা : অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, মিস্টেরি, রোমান্স

ভলিউম : ১৩

সময়কাল : এপ্রিল ১০, ২০০৪ – জানুয়ারি ১১, ২০১৪

স্ট্যাটাস : কমপ্লিটেড

কাহিনীসূত্র :

ডুরারারার পটভূমি টোকিওর ইকেবুকুরো শহরে । ইকেবুকুরো, যেখানে জীবন কোন বিরাম জানেনা, ঘরে-বাহিরে, সড়কে-দপ্তরে, সবখানেই প্রানের জোয়ার বয়ে যায়।

ব্যস্ত এই শহরে রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্থান… বাতাসে নানারকম গুজবের ছড়াছড়ি, মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বিপদের গন্ধ। রয়েছে বিভিন্ন গুন্ডাবাহিনী, তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব… কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় এক শহুরে কিংবদন্তি। এই কিংবদন্তি এক মুণ্ডুবিহীন মোটরবাইকচালকের, যার আপাদমস্তক কুচকুচে কালো রাইডার স্যুটে ঢাকা, এমনকি তার হেডলাইটবিহীন বাইকটিও কালো। এতটাই কালো যে তাতে কোন আলো প্রতিফলিত হয়না।

কাহিনীর শুরু রিউগামিনে মিকাদোকে দিয়ে, যে তার বাল্যবন্ধু কিদা মাসাওমির আমন্ত্রণে ইকেবুকুরোতে আসে, হাইস্কুলে পড়ার জন্য। এবং ধীরে ধীরে সে মিশে যায় ইকেবুকুরোর ব্যস্ত নগরজীবনে, এর অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন ঘটনাক্রমে সে পরিচিত হয় ডুরারারার ক্যারেক্টারদের সাথে।

প্রথমদিকে স্কুললাইফ বেসড মনে হলেও দ্রুতই নভেলটি অ্যাকশন-সাইকোলজিক্যাল-সুপারন্যাচারাল-রোমান্স জানরায় পদার্পণ করে এবং অসাধারণ একটি নভেলে রুপ নেয়।

ক্যারেক্টার :

প্রধান ক্যারেক্টারদের মধ্যে রিউগামিনে মিকাদো, সোনোহারা আনরি, কিদা মাসাওমি, ওরিহারা ইযায়া, হেইওয়াজিমা শিজুও, সেলটি স্টারলুসন, শিনরা কিশিতানি, কাদোতা কিয়োহেই অন্যতম।

ডুরারারার ক্যারেক্টারদের প্রত্যেকেরই রয়েছে মৌলিক কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তাদের বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রাণবন্ত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই জমে উঠেছে ডুরারারার কাহিনী । ইকেবুকুরোর ব্যস্ত জীবনে তাদের কর্মচাঞ্চল্য, ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ডগুলো শেষ পর্যন্ত একসুত্রে গেঁথে যায়, যা নভেলের কাহিনীকে নিয়ে যায় এক অনন্য মাত্রায়।

ডুরারারার প্রথম ৩ ভলিউম মূলত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই । ভলিউম ৪ থেকে আরও বৈচিত্র্যময় নতুন ক্যারেক্টারদের আবির্ভাব ঘটে, আগের ক্যারেক্টারদেরও দারুণ ডেভেলপমেন্ট হয়।

নিজস্ব মতামত :

আর্ট ভালো নয়, ক্যারেক্টার ডিজাইন মোটামোটি। তবে নভেলে আর্টের তেমন একটা প্রভাব নেই। নারিটা সেন্সেইর কাহিনী বর্ণনায় অসাধারণ দক্ষতার কারনে প্রতিটি ভলিউমই একেবারে শেষ পর্যন্ত না পড়ে পারা যায়না। তবে যাদের বই পড়ে অভ্যাস নেই, তারা বিরক্ত বোধ করতে পারেন। কারণ কাহিনীর প্রতিটি অংশ কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত নেই, এক অংশের কাহিনী একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার পর অন্য একটি অংশের কাহিনী শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত না পড়লে প্রতিটি কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, ঘটনাগুলোর সমাপ্তি জানতে পারবেন না। পড়তে শুরু করলে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলবেন, না শেষ করে উঠতে পারবেননা,

এমনটাই মনোমুগ্ধকর ডুরারারার কাহিনীবিন্যাস।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, সুপারন্যাচারাল ক্যারেক্টারদের সাধারণ জীবনযাপন, নিখাদ অ্যাকশন, সাধারণ ক্যারেক্টারদের অসাধারণ কর্মকাণ্ড, কোন অংশেই কম নয় এমন একটি নভেল ডুরারারা।

তাই আমি বলব, দ্রুতই পড়া শুরু করুন। পড়লে পস্তাবেন না, অন্তত এটুকু আশ্বাস দিতে পারি।

কাহিনিসুত্র : ১০

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট : ৯.৭

আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন : ৭.৫

সর্বমোট : ৯.৫/১০

মাইএনিমেলিস্ট রেটিং : ৮.৬৭

All Fiction 1: Claymore Review

মাঙ্গা রিভিউ –

ক্লেমোর / Claymore

মাঙ্গাকা : ইয়াগি নোরিহিরো / Norihiro Yagi

জানরা : অ্যাকশন , ট্র্যাজেডি , সুপারন্যাচারাল , ডার্ক-ফ্যান্টাসি , হরর , ড্রামা

প্রকাশনা : Jump Square (former Monthly Shounen Jump)  

চ্যাপ্টার : ১৫২

স্ট্যাটাস : অনগোয়িং

কাহিনিসুত্র এবং ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট :

মানুষের ভিড়ে লুকিয়ে আছে মনুষ্যরূপী নরখাদক দানব, আর সেই দানব নিধনে বেরিয়ে পড়েছে তলোয়ারধারী এক রমণী। পিঠে বিশাল তলোয়ার, পরনে যুদ্ধের সাজপোশাক, রমণীর রণমূর্তিতে ত্রস্ত জনসাধারণ। কারণ সেই রমণীও যে অর্ধ-দানব, তাই দানবের মোকাবিলা করাও যে তাকেই মানায়। এগিয়ে যায় মানব-দানব সংকর যোদ্ধা, মুখোমুখি হয় নরখাদক বর্বর দানবের। অর্ধ-দানব হলেও মানবজাতির একমাত্র ত্রাতা এই যুদ্ধংদেহী রমণীরাই।

ক্লেমোরের পটভূমি রচিত হয়েছে একটি মধ্যযুগীয় দ্বীপে , যেখানে বসবাস করে “ইয়োমা” নামক এক ধরনের দানব। ইয়োমারা তাদের আকৃতি বদলে মানুষের রুপ ধারন করতে পারে এবং মানুষের মাঝেই বসবাস করে। যার দেহে ইয়োমা বসবাস করে , তার স্মৃতি এবং বিবেক বহন করে বলে ইয়োমারা মানুষের মাঝে সম্পূর্ণরুপে মিশে যেতে পারে , তাদের শনাক্ত করার কোন উপায় থাকেনা। ইয়োমারা মানুষের নাড়িভুঁড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় না খেয়ে থাকতে পারেনা। তাই নাড়িভুঁড়ি খাওয়ার জন্য নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করতে হয় তাদের।

“দ্যা অর্গানাইজেশন” নামক এক রহস্যময় সংগঠন অর্ধ মানব-অর্ধ ইয়োমা নারীযোদ্ধা তৈরি করে। এই যোদ্ধারা অর্থের বিনিময়ে ইয়োমা মারে , সেই অর্থ অর্গানাইজেশন থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এই নারীযোদ্ধাদের বলা হয় “ক্লেমোর” , কারন তারা সবসময় পিঠে ক্লেমোর নামক বড় এবং ভারী তলোয়ার বহন করে এবং এই তলোয়ার দিয়ে ইয়োমা খুন করে। তাদের রুপালি বর্ণের চোখের জন্য লোকে তাদের “রুপালি চোখের ডাইনী” বলেও অভিহিত করে।

ইয়োমাদের মধ্যে একধরনের আসুরিক শক্তি বিদ্যমান , যাকে বলা হয় “ইয়োকি”। এই ইয়োকি তাদের অতিমানবীয় শক্তি এবং আকৃতি বদলের ক্ষমতা প্রদান করে। শুধু ক্লেমোররাই পারে মানুষের রূপধারণকারী ইয়োমাদের শনাক্ত করতে , কারন ইয়োমাদের মত ক্লেমোররাও ইয়োকি বহন করে। তবে ক্লেমোররা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই শক্তি ব্যবহার করতে পারে । এই নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে তারা তাদের মনুষ্যরুপ হারায় এবং “Awakened Being” নামক একধরনের উৎকৃষ্ট ইয়োমায় পরিণত হয়। এই ঘটনাকে বলা হয় “Awakening”।

ক্লেমোররা মানুষের হৃদয়, কিন্তু ইয়োমার শক্তি বহন করে। যখন তাদের মনুষ্যহৃদয় ইয়োমার শক্তি দমিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয় , তখনি তারা সীমা অতিক্রম করে এবং Awakened being এ পরিণত হয়।

নিয়ম রয়েছে যে, যদি কোন ক্লেমোর অর্গানাইজেশন পরিত্যাগ করে অথবা মানুষ খুন করে, অথবা Awakened Being এ পরিণত হয় , তবে অন্য ক্লেমোররা তাকে অবশ্যই মেরে ফেলবে।

ক্লেমোর মাঙ্গার দ্বীপটি ৪৭টি অঞ্চলে বিভক্ত। প্রত্যেকটি অঞ্চল অর্গানাইজেশনের একজন ক্লেমোরের দায়িত্বাধিন। মোটমাট ৪৭ জন ক্লেমোর তাদের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে পদমর্যাদা পেয়ে থাকে , তাদের পদমর্যাদা দিয়েই তাদের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

ক্লেমোর মাঙ্গার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অসাধারণ। মাঙ্গাটির কাহিনী শুরু হয় অর্গানাইজেশনের সবচেয়ে দুর্বল/নিম্ন পদমর্যাদার ক্লেমোর ক্লেয়ারের একটি ইয়োমা শিকারের মধ্য দিয়ে । ধীরে ধীরে জানা যায় ক্লেয়ারের হৃদয়বিদারক অতীত, তার বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য, ক্লেমোর হয়ে ওঠার মুল কারণ। সময়ের সাথে সাথে ক্লেয়ারের বেশ কিছু বন্ধু হয়, মরণপণ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা হয়। ক্যারেক্টাররা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে , নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে , নতুন রহস্যের সম্মুখীন হয়।

এক পর্যায়ে জানা যায় অর্গানাইজেশনের আসল পরিচয়, ইয়োমা উৎপত্তির রহস্য এবং আরও অনেক উত্তেজনাকর তথ্য। সবচেয়ে শক্তিশালী Awakened being – “The Abbysal Ones” এবং তাদের চেয়েও শক্তিশালী , প্রিসিলা… এদেরকে ঘিরেই বাড়তে থাকে উত্তেজনা।

প্রথমদিকে মাঙ্গাটিকে সাধারণ অ্যাকশন-সুপারন্যাচারাল মাঙ্গা মনে হলেও ধীরে ধীরে তা পাঠকের আগ্রহ বাড়াতে থাকবে। মাঙ্গাটির আসল আকর্ষণ এর মারমার-কাটকাট ব্যাটলের দৃশ্য এবং হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। সব ব্যাটলই “Survival of the fittest” এর নিদর্শন । মাঙ্গাটিতে প্রচুর রক্তপাত ও মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে , কিন্তু তা এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লেমোর মাঙ্গায় প্রচুর রিয়াল সোর্ডফাইটিং স্কিল ব্যবহৃত হয়েছে , সোর্ডফাইটিং টেকনিকগুলো বাস্তবে ব্যবহৃত হত একসময়।

তাই যারা সোর্ডফাইটিং এনিমে/মাঙ্গা পছন্দ করেন , তাদের জন্য ক্লেমোর মাঙ্গা বেশি রিকমেনডেড।

আর্ট :

ক্লেমোর মাঙ্গার আর্ট এর কাহিনীর মতই অসাধারণ। সব অ্যাকশন দৃশ্যই সুনিপুণভাবে আঁকা এবং স্পষ্ট । ক্লেমোরের দৃষ্টিনন্দন ব্যাকগ্রাউনড এর অন্যতম আকর্ষণ , কিছু কিছু জায়গায় ফটোগ্রাফিক স্কেচ মনে হবে , এতোটাই পারফেক্ট।

প্রথম দৃষ্টিতে ক্যারেক্টার ডিজাইন তেমন একটা চোখে লাগবেনা । কারো কারো কাছে খারাপ লাগতেও পারে , কিন্তু আমি আশ্বাস দিচ্ছি , ক্লেমোরের ক্যারেক্টার ডিজাইন আসলে খুবই ভালো।

সব ক্লেমোরেরই চুল এবং চোখ রুপালী , তাদের পোশাকও এক-অর্গানাইজেশন থেকে সরবরাহকৃত আর্মার। এইসব বাধ্যবাধকতা নিয়ে, চেহারা-হেয়ারস্টাইলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পার্থক্য রেখে এতগুলা ক্লেমোর ক্যারেক্টার আঁকা, এবং এতগুলো চ্যাপ্টারে তা অবিকৃতভাবে বজায় রাখার প্রায় অসম্ভব কাজটাই করেছেন মাঙ্গাকা ইয়াগি নোরিহিরো সেন্সেই। কাহিনীসূত্রানুসারে মাঙ্গায় যথেষ্ট রক্তপাত থাকলেও নোরিহিরো সেন্সেই অসাধারণ স্পষ্ট আর্টের দ্বারা গোরকে(Gore) শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

কেন পড়বেন :

চরম উত্তেজনাকর সোর্ডফাইটিং , ধুমধাড়াক্কা অ্যাকশন , দৃষ্টিনন্দন আর্ট এবং মনোমুগ্ধকর কাহিনী…

আমার মতে, ক্লেমোরের স্টোরিলাইন অনেক জনপ্রিয় নভেলের চেয়েও ভালো , তাই দেরি না করে পড়া শুরু করুন।

যথেষ্ট আন্ডাররেটেড , না পড়লে পস্তাবেন।

আমার রেটিং :–

স্টোরিলাইন: ১০

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট: ১০

ক্যারেক্টার ডিজাইন: ৯.৮

আর্ট: ৯.৮

ওভারঅল: ১০/১০

মাইএনিমেলিস্ট রেটিং : ৮.৪৪

All Fiction 1: Vinland Saga review

মাঙ্গা রিভিউ –

ভিনল্যান্ড সাগা / Vinland Saga

মাঙ্গাকা : মাকোতো ইয়ুকিমুরা / Makoto Yukimura

জানরা : হিস্টোরিকাল, অ্যাকশন, সেইনেন, অ্যাডভেঞ্চার

প্রকাশনা : Afternoon

চ্যাপ্টার : ১০৪

স্ট্যাটাস : অনগোয়িং

কাহিনী :

 

ভিনল্যান্ড সাগা জমজমাট-অ্যাকশন সম্বলিত ভাইকিংদের যুগের এক অসাধারণ কাহিনী, যাকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে বাস্তবতা, নাটক, দর্শন এবং চরিত্রের চরম উৎকর্ষতা। যুদ্ধ যেখানে জীবনের প্রতিশব্দ, যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করতে পারাই যেখানে একজন মানুষের জীবনের সার্থকতা, যুদ্ধবিগ্রহ, দাসত্ব, দুর্বলের উপর সবলের আগ্রাসন, নিপীড়ন, লুঠতরাজ, অরাজকতায় পরিপূর্ণ অন্ধকার এক যুগের সাথে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেবে ভিনল্যান্ড সাগা । এ যেন ‘বার্সার্ক’, ‘গেম অফ থ্রোন্স’ আর দুঃসাহসী ভাইকিংদের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ।

ভিনল্যান্ড সাগার পটভূমি রচিত ইংল্যান্ড-ডেনমার্কের যুদ্ধমধ্যবর্তী সময়ে। কাহিনীর শুরু প্রতিশোধ ও প্রায়শ্চিত্তের সন্ধানে ঘুরতে থাকা কিশোর থোরফিনকে নিয়ে, পিতার মৃত্যুর বদলা নিতে যে কাজ করে পিতার হন্তারক অ্যাসকেলাডের বাহিনিতে, আর মল্লযুদ্ধে অ্যাসকেলাডকে পরাজিত করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।

কাহিনী এগোতে থাকে, থোরফিন আর অ্যাসকেলাড জড়িয়ে পড়ে ডেনমার্কের ইংল্যান্ড দখলের যুদ্ধে, সঙ্গি হয় ডানিশ রাজপুত্র কানুটের। ধীরে ধীরে থোরফিনের প্রতিশোধবাসনা তীব্র হতে থাকে, আর সেই সাথে কাহিনী অভাবনীয় মোড় নিতে থাকে, ফলশ্রুতিতে রাজপরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যায় থোরফিন আর অ্যাস্কেলাড। যুদ্ধের মধ্যে থোরফিনের পরিচয় হয় পাগলাটে-খুনী থোরকেলের সাথে, অ্যাস্কেলাড আর থোরকেলের কাছ থেকে থোরফিন জানতে পারে তার পিতার অতীতসংগ্রাম আর আদর্শের কথা।

ভাইকিংদের বিশ্বাস ছিল যে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করলে যোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত পরলোকের পুণ্যস্থান ভালহালায় যেতে পারবে, আর এই আদর্শে তারা সর্বক্ষণ যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত থাকতো।কিন্তু সর্বকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাইকিং, থোরফিনের বাবা থোরস একসময় বুঝতে পারে, অস্ত্রচালনা আর রক্তপাতের মধ্যে নয়, বরং পৃথিবীতে শান্তির বানী ছড়িয়ে দিতে পারাই হল প্রকৃত জীবনযুদ্ধ, আর এই ব্যাপারটি উপলব্ধি করতে পারাই হল প্রকৃত যোদ্ধার পরিচয়। থোরফিন কি পারবে তার পিতার পথ অনুসরন করে প্রকৃত যোদ্ধার যোগ্যতা অর্জন করতে? অজ্ঞতা-অন্ধকারের যুগে শান্তির সন্ধান, এই আশা আর আদর্শ নিয়েই ভিনল্যান্ড সাগার যাত্রা।

বিশ্বাস করা কষ্টকর, কিন্তু সত্যি বলতে ভিনল্যান্ড সাগার ক্যারেক্টাররাই মাঙ্গাটির সর্বশ্রেষ্ঠ দিক। শুধু কাহিনিসুত্রের উৎকর্ষতায় নয়, বরং একটি কাহিনীর মুল আকর্ষণ তার ক্যারেক্টাররা, ইউকিমুরা সেন্সেই তা অসামান্য দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রধান ক্যারেক্টারদের জীবনের শত বাধা-বিপত্তি এবং সংগ্রামময় অতীত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এমনকি দ্বিতীয় সারির ক্যারেক্টারদেরও দারুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। থোরফিনের অপ্রতিরোধ্য প্রতিশোধবাসনা, অ্যাসকেলাডের অতীত ও বর্তমানের বোঝা বয়ে বেড়ানোর সংগ্রাম, নিপুণতার সাথে প্রত্যেকটি পদক্ষেপ গ্রহনের ক্ষমতা, থোরকেলের দুঃসাহসিক কার্যকলাপ আর অতুলনীয় শক্তিমত্তা, থোরসের আদর্শ আর জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার রহস্য, প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই পাঠককে মুগ্ধ করার যোগ্য। অসাধারণ কাহিনীনির্দেশনা আপনাকে এর সাথে আটকে রাখবে, আর আপনি দেখবেন কিভাবে প্রত্যেকটি ক্যারেক্টার সকল প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে অগ্রসর হয় ।

আর্ট :

দৃষ্টিনন্দন ক্যারেক্টার ডিজাইন থেকে শুরু করে মনোমুগ্ধকর ব্যাকগ্রাউন্ড, মাঙ্গাটির আর্ট আসলেই ফার্স্টক্লাস। দেখে বোঝা যায় যে মাঙ্গাকার অঙ্কন ক্ষমতা আগের চেয়ে(Planetes) অনেক ভালো হয়েছে । প্যানেলগুলো ভালভাবে সজ্জিত, এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ঝকঝকে। তলোয়ারের গতিপথও খুব স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে , যা খুবই বিরল ব্যাপার।

মাঙ্গার আর্টের ব্যাপারে সবারই যে বিষয়টি লক্ষ করা উচিৎ, তা হল আর্টের মাধ্যমে ক্যারেক্টারদের কার্যকলাপ এবং অনুভুতিগুলো যথার্থভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারা, এবং ভিনল্যান্ড সাগা তা অনায়াসেই উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আর যারা অ্যাকশনের জন্য মাঙ্গা পড়ছেন, তারা প্রথম চ্যাপ্টারগুলোতেই দেখতে পাবেন মধ্যযুগীয় যুদ্ধের বীভৎস নির্মমতা, যা আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য।

নিজস্ব মতামত :

 

মাঙ্গাটি স্ব-জানরার মাঙ্গাগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা এবং সবার জন্য অবশ্যই পঠনীয়। আগ্রহ জাগানিয়া কাহিনী, অসাধারণ সব ক্যারেক্টার আর মনোমুগ্ধকর আর্ট। অ্যাকশনের কোন কমতি নেই, নাটুকেপনাও দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। আর মাঙ্গাটিকে বাস্তবধর্মী করে তুলতে ইউকিমুরা সেন্সেই যে কি পরিমাণ গবেষণা করেছেন, তা যেন না বললেই নয়। প্রত্যেকটা ক্যারেক্টার, প্রত্যেকটা পেইজ, প্রত্যেকটা প্যানেলই কাহিনির গড়নে অবদান রেখেছে, যা মনোমুগ্ধকর। অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, হিস্টোরিকাল ড্রামা, সবকিছুর মিশেলে অপূর্ব এক কাহিনী।

যে কারনে আমি এনিমে দেখার চেয়ে মাঙ্গা পড়া বেশি পছন্দ করি, এই মাঙ্গাটিই তার যথার্থ উদাহরণ।

 

কাহিনী: এ+

ক্যারেক্টার : এ+

আর্ট : এ

সর্বমোট : এ++(৯.৬/১০)

Cardcaptor Sakura review – ইশমাম আনিকা

card-captor-sakura-anime-free_1465987

আনিমে রিভিউঃ ক্যার্ডক্যাপ্টর সাকুরা
জনরাঃ অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, ড্রামা, ম্যাজিক, রোম্যান্স, স্কুল, শৌজো
এপিসোড সংখ্যাঃ ৭০
ম্যাল স্কোরঃ ৮.১৯

বর্তমান অ্যানিম লাভারদের একটা ভালো অংশের অ্যানিমের সাথে পরিচয় ঘটেছে টুনামির মাধ্যমে। ২০০৩ সালের দিকে পোকেমন এবং কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা দিয়ে আমার অ্যানিম জগতে প্রবেশ ঘটে, যদিও তখন অ্যানিম কি এটাই জানতাম না। পোকেমনের অন্ধভক্ত ছিলাম তাই পরে গিয়ে আর কার্ডক্যাপ্টর সাকুরা দেখা হয়নি। পরে কলেজ শেষ করার পর ফ্রেন্ডের কাছ থেকে নিয়ে দেখেছিলাম এবং আফসোস করেছিলাম, আরও আগে কেন দেখলাম না।

এই অ্যানিমটির জাপানিজ ভার্সন এবং ইংরেজী ভার্সনে কিছুটা পার্থক্য আছে, জাপানিজ ভার্সনটা দেখা হয়নি তাই ইংরেজী ভার্সনটা নিয়েই লিখছি।

সাকুরা অ্যাভলন, রিডিংটন নামক শহরের এক চঞ্চল স্কুলপড়ুয়া বালিকা। হাসিখুশি, খেলাধুলায় পারদর্শী, প্রাণবন্ত সাকুরার একটাই সমস্যা, সে কখনোই ঘুম থেকে জলদি উঠতে পারেনা। তার ভাইয়ের সাথে এ নিয়ে প্রায়ই তার মধুর ঝগড়া হয়।

মা হারা সাকুরার দিনকাল বাবা, ভাই, বন্ধু ম্যাডিসন ও ভাইয়ের বন্ধু জুলিয়ানের সাথে ভালই চলছিল, এমন সময় একটা ঘটনা সাকুরার জীবন পাল্টে দেয়। একদিন সাকুরা বাসায় ফিরে দেখতে পায় তার বাবা ভাই এখনো ফেরেনি। তখন সে বাবার লাইব্রেরী থেকে আওয়াজ শুনতে পায়। আওয়াজের উৎস খুঁজতে গিয়ে সেখানে সে একটা বই খুঁজে পায়, যেটা তার বাবা আগেরদিন কর্মস্থল থেকে নিয়ে এসেছিল কেউ বইটা খুলতে পারেনি বলে। সাকুরা বইটা হাতে নিতেই সেটা খুলে যায় এবং সে ভেতরে অনেকগুলো কার্ড দেখতে পায়।

সে “Windy” লেখা কার্ডটা হাতে নিয়ে সেটার নাম বলতেই হঠাৎ ঝোড়ো বাতাস এসে বাকি সবগুলো কার্ড উড়িয়ে নিয়ে যায়, থেকে যায় শুধু উইনডি।

এরপরই সাকুরার জীবন পাল্টে যায়। কার্ডগুলোর গার্ডিয়ান বিস্ট কিরোবেরোস সাকুরাকে জানায় প্রতিটা কার্ডের আলাদা আলাদা পাওয়ার আছে এবং তাদেরকে খুঁজে ফেরত না আনলে তারা পুরো শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। কিরো সাকুরাকে দায়িত্ব দেয় প্রত্যেকটা কার্ড খুঁজে বের করে সেগুলোকে নিজের বশে নেয়ার। এরপর সাকুরা তার বন্ধুদের সাথে নেমে পড়ে কার্ড ক্যাপচার করার অভিযানে।

আমার খুব পছন্দের অ্যানিমের তালিকায় এই অ্যানিমটার জায়গা বেশ উপরের দিকে, ৭০ পর্ব একটানে দেখে শেষ করেছিলাম এবং এখনো সুযোগ পেলে মাঝেমধ্যেই রিভিশন দেই।

 

3.1

পূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist) – ইশমাম আনিকা

O9NOqgoপূর্ণধাতব রসায়নবিদ রিভিউ (FullMetal Alchemist)
[spoiler থাকতে পারে, আমি নিজে নিশ্চিত নই]

“Humankind cannot gain anything without first giving something in return. To obtain, something of equal value must be lost. That is alchemy’s First Law of Equivalent Exchange. In those days, we really believed that to be the world’s one, and only, truth.”

যদি আপনার সামনে এমন সুযোগ আসে যে আপনি আপনার মৃত প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন, যদিও সেটার কোন নিশ্চয়তা নেই, সেটার ফলাফল কি হবে কেউ জানেনা এবং এটা নিষিদ্ধ কাজ, তাহলে আপনি কি করবেন?

এডওয়ার্ড এলরিক এবং অ্যালফনস এলরিক দুই ভাই। দুজনের মাঝে বয়সের পার্থক্য ১ বছর। খুব ছোটবেলায় তাদের বাবা তাদের ছেড়ে কোথাও চলে যায় এবং এরপর তারা তাদের মায়ের সাথে জীবন কাটাতে থাকে। ছোট অবস্থাতেই দুজনেই “অ্যালকেমি” তে পারদর্শী হয়ে উঠতে থাকে। এমন সময় হঠাত তাদের মা মারা যায়। বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে এডওয়ার্ড ঠিক করে অ্যালকেমির সাহায্যে “হিউম্যান ট্র্যান্সমিউটেশন” এর মাধ্যমে তাদের মাকে ফিরিয়ে আনবে। প্রথমে ভয় পেলেও ভাই অন্তঃপ্রাণ অ্যালফনস ভাইকে ট্র্যান্সমিউটেশনে সাহায্য করে। কিন্তু ইক্যুইভ্যালেন্ট এক্সচেঞ্জ এর পরিনতি হিসেবে এড তার বাম পা হারায়, এবং অ্যাল তার শরীর হারায়। এই ট্র্যান্সমিউটেশনের ফল হিসেবে তৈরি হয় একটি হোমানকুলাই। অ্যাল এর আত্মাকে বাঁচানোর জন্যে এড সাথে সাথে একটা suit of Armour এর মাঝে চক্র আঁকে এবং নিজেকে উৎসর্গ করে, যেন নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও সে অ্যালকে ফেরত পায়। অবশেষে নিজের ডান হাতের বিনিময়ে সে অ্যালের আত্মা ফেরত পায় এবং অ্যাল suit of Armour এ বন্দী আত্মা হিসেবে জীবিত থেকে যায়। ওদের শরীর Gate of Alchemy র মাঝে আটকা পড়ে যায়। ডান হাত ও বাম পা হারানো এডকে নিয়ে অ্যাল দৌড়ে যায় তাদের প্রতিবেশী “রকবেল” দের কাছে যাদের অটোমেইল এর কারখানা আছে (কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বানানোর কারখানা), সেখানে এড কে মেকানিক্যাল হাত ও পা বানিয়ে দেয় উইনরি ও তার দাদি।

নিজের ভুলকে শোধরানোর জন্যে বদ্ধপরিকর এড ঠিক করে, যে করেই হোক, ফিলসফারস স্টোন খুঁজে বের করবে, এবং সেটার সাহায্যে সে যে ভুল করেছিল, সেটা শোধরাবে আর অ্যালকে তার আসল শরীরে ফিরিয়ে আনবে। এ জন্যে তার দরকার ছিল অনেক তথ্য, যেটা একমাত্র মিলিটারির লাইব্রেরীতে পাওয়া সম্ভব। তাই সে কর্নেল রয় মাসট্যাং এর পরামর্শে মিলিটারির অ্যালকেমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ও বিভিন্ন বাঁধা পেরিয়ে পরীক্ষা পাস করে “সর্বকনিষ্ঠ স্টেট অ্যালকেমিস্ট” হিসেবে যোগ দেয়। মিলিটারি থেকে সে বিভিন্ন জায়গায় অ্যাসাইনমেনট কমপ্লিট করতে যায় এবং একই সাথে খুঁজতে থাকে ফিলসফারস স্টোন।

ব্রাদারহুড এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি, কাজেই তুলনা করার প্রশ্নই আসেনা। তবে সবদিক মিলিয়ে আমার কাছে ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট খুবই ভালো লেগেছে এবং শেষ না করা পর্যন্ত নিঃশ্বাস নিতে পারিনি। এন্ডিংটা ভালো লেগেছে, খারাপ ও লেগেছে এডওয়ার্ড, অ্যালফনস এবং উইনরির জন্যে।

চরিত্র বিশ্লেষণে যাবনা, কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিটা চরিত্রই তার মর্যাদা রেখেছে। আর এডওয়ার্ড কে কেউ শর্ট বললে তার রিঅ্যাকশন, যতবার দেখি কখনো পুরনো হয়না! দুই ভাই এর মাঝে যে বন্ধন, সেটা দেখে অবাক হয়েছি অনেকবার ই।

প্রতিটা ওপেনিং আর এন্ডিং সুন্দর, তবে আমার কানে সবসময় বাজতে থাকে প্রথম ওপেনিং টা।

একই সাথে মজা, অ্যাকশন, রহস্য, ইমোশন আমার অল্প এনিম দেখা জীবনে আর পাইনি। কাজেই কেউ সাজেশন চাইলে একবাক্যে এটার নাম বলতে দ্বিধা করব না 

 

108065

Kino no Tabi anime review by Pasha Yap

Kino no Tabi(kino’s journey:the beautiful world)
নাম দেখেই বুঝা যাইতেসে এই আনিমে কিনো এর ভ্রমন নিয়া।কিনো বিভিন্ন দেশে তার মটোরাদ(কথা বলা মোটরসাইকেল  ) Hermes এ চড়ে ঘুরে বেরায়।কোনও দেশেই সে তিন দিনের বেশি থাকেনা কারন তার মতে তিন দিন একটা একটা জায়গা সম্পর্কে জানার জন্য যথেষ্ট।বিভিন্ন দেশে গিয়ে কিনো বিভিন্ন রকম মানুষ,সমাজ,প্রযুক্তি,কুসংস্কার এর সাথে পরিচিত হয়।যেমন এক দেশে মানুষ একজন আরেকজনের মনের কথা বুঝতে পারে,এক দেশের মানুষের কাজ করার প্রয়োজন নেই,এক দেশের কবিতার বই আরেক দেশের ধর্মগ্রন্থ,ইত্যাদি।মোটামুটি এই হলও এই আনিমে এর কাহিনী।এইতার প্রতিটা কাহিনী এর মাঝে আছে কোনও জীবনদর্শন,মানুষের স্বভাব,আচরণ বিশ্লেষণ,ধুত্তর,এইগুলা সব কঠিন কথা,মাথায় আসতাসে না।মানে সোজা কথায় slice of life আরকি।আমার দেখা সেরা sol গুলোর একটা এই আনিমে।মাত্র ১৩ পর্ব+দুইটা আধা ঘণ্টার মুভি।
Mal rating:8.51

কিছু নট সো পপুলার আনিমে মুভি – Movie suggestion by Pasha Yap

কিছু নট সো পপুলার আনিমে মুভি.এইগুলো ghibli,সাতশি কন বা মাকত শিনকাই এর মুভি এর মত খুব ভাল না তবে তাই বলে খারাপও না।


‪#‎Origin‬:spirits of the past
এক ব্যর্থ গবেষণার ফলে মানবজাতি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় বুদ্ধিমান গাছদের কারনে।অল্প কিছু মানুষ সংরাম করে বেঁচে থাকে।এক গ্রামের ছেলে আগিতো ঘটনাক্রমে জাগিয়ে তোলে বিশেষ যন্ত্রে ৩০০ বছর ঘুমিয়ে থাকা তুলাকে।তুলা পরে শুনাক এর কথায় বিভ্রান্ত হয়র যায় রাগ্নাক এ,যারা গাছদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে।এর পরিনাম বুঝতে পেরে তাদের থামাতে ছায় আগিতো।
Mal rating:7.39


‪#‎steamboy‬
রে এর দাদা একটা স্টিম বল তৈরি করেন যাতে প্রচুর পরিমান স্টিম অর্থাৎ শক্তি সঞ্চিত আছে।দুষ্টু লোকেরা চায় সেই শক্তি খারাপ কাজে ব্যবহার করতে।
Mal rating:7.51
‪#‎Bayonetta‬:bloody fate
সাধু(saint) আর ডাইনি(witch)দের মাঝে ছিল চরম শত্রুতা।এর মাঝে এক সাধু আর ডাইনি উলটো বিয়ে করে একটা মেয়ে জন্ম দিয়ে বসল।ঘটনাক্রমে মেয়েটাকে সিল করে দেয়া হলও।৫০০ বছর পর হঠাৎ জেগে উঠল সে।কিন্তু তার কিছুই মনে নেই।বায়নেত্তা নামে সে ঘুরে বেরায় নিজের হারানো স্মৃতি এর খোঁজে।কিন্তু তাকে নিয়ে সাধুরা কি পরিকল্পনা করসে?কি চায় তারা?


‪#‎Brave‬ story
১১ বছর বয়স এর ওয়াতারু এর বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে গেসে,মা হাসপাতাল এ।সে ঠিক করলো নিজের ভাগ্য বদলাবে,বন্ধু এর দেখান দরজা দিয়ে এক জাদুর জগতে প্রবেশ করলো সে।সেখানে তাকে বিভিন্ন বিপদ কাটিয়ে খুজতে হবে ভাগ্যের দেবীকে।
Mal rating:7.63