One Outs review by সাদিয়া হুমায়রা মৌনতা

‘ওয়ান আউটস’ আনিমেটা পুরাই ওয়ান ম্যান শো। যদিও বেসবল ভিত্তিক এই অন্যান্য আনিমেতে যা আছে, যেমন দলের ইন্সপিরেশন, সিনিয়রদের লিগেসি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া,টিম স্পিরিট রক্ষা, ব্যাটারীর (পিচার-ক্যাচার কম্বিনেশন) কেমিস্ট্রি, এগুলা কিছুই নাই কিন্তু এই আনিমেটা পুরাই গেম এর অন্য একটা দিক দেখানো হয়েছে। খেলাগুলা সাইকোলজিক্যালি গ্যাম্বলিং এর মতো করে দেখানো হয়েছে, আর দেখানো হয়েছে প্রোফেশনাল খেলার জগতের কিছু নেগেটিভ দিক।
আমি আনিমেটা বেশি এনজয় করিনি, কারণ-
-একটা দলীয় খেলায় ওয়ান ম্যান শো
-খেলোয়াড় স্পিরিট এর পুরা বারোটা বাজানো হইসে
-খেলা হিসেবে কোন টান্টান উত্তেজনা কম ছিল, কারণ প্রতিবার কিছু হলে জানতাম, তকুচি বাজিমাত করবে শেষে
-কোন ডেভেলপমেন্ট নাই প্লটে বা ক্যারেক্টারে, কারণ এই ওয়ান ম্যান অলরেডি অতিরিক্ত ডেভেলপড ছিল।
-খেলোয়াড়দের ব্যাক্তিগত শক্তির কোন মূল্যই নাই

সবকিছুর পরেও এর রেটিং আমি হাই দিব, কারণ-
-প্লট অন্যরকম। অন্য পারস্পেকটিভ থেকে দেখানো
-বাজিমাত করবে কিভাবে এটাই দেখার বিষয় এবং পর্বর্তীতে ব্যাখ্যাগুলাও অসাধারণ ছিল
-ফ্যান সার্ভিসের বাহুল্য ছিল না 

বিদ্রঃ এমন আন-কুল ক্যাচার আমি এখন পর্যন্ত দেখি নাই 
বিবিদ্রঃ স্টার্টিং সং- প্রতিবার শুন্তাম এবং মনে হতো এটা কোন মেলাঙ্কোলি ছেলেকে নিয়ে স্লাইস অফ লাইফ আনিমে।

বি উপদেশঃ যারা স্পোর্টস আনিমে দেখতে পছন্দ করেন, এই আনিমেটা আগেই দেখে নেয়া ভালো, ‘মেজর’ পরে দেখা ভালো। 

“শিনরেই তানতে ইয়াকুমো” – Psychic Detective Yakumo review by Shafiul Munir

 

shinrei 1

কেউ যদি বলে সে ভূত দেখতে পায়, তাদের সাথে কথা বলতে পারে, বিশ্বাস করবেন তাকে? নিশ্চয়ই কোন ভাওতাবাজি করে মানুষ ঠকানোর পায়তারা! আপনার সবচেয়ে আপনজন, আদরের ছোট্ট মেয়েটা না ফেরার দেশে চলে গেছে, কেউ যদি এসে বলে তার আত্মাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে সে, কিন্তু তার জন্য একটা কমপেটিবল মিডিয়াম দরকার, তাই খুন করতে হবে তার বয়সী মেয়েদের… কি করবেন? এভাবেই অলৌকিকতার মোকাবেলায় বিভ্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ…

ইয়াকুমো অদ্ভুত এক ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে, তার একটা চোখ রক্তলাল রঙের, ঐ চোখ দিয়ে সে দেখতে পায় মৃত মানুষের আত্মা, কথা বলতে পারে তাদের সাথে। এটা কোন আশীর্বাদ না, একটা অভিশাপ, যেখানেই যায় মৃত আর অতৃপ্ত আত্মাদের দুর্দশা দেখতে পায়, শুনতে পায় তাদের হাহাকার। The essence of dead soul is darkness…কিন্তু ইয়াকুমো এক্সরসিসম পছন্দ করে না, তার মনে হয় এই মৃতের আত্মাগুলো যেন মানুষগুলোর রেখে যাওয়া স্মৃতি, সে তাদের সাথে কথা বলে, তাদের কষ্ট আর অনুভূতির কথা শুনে বিভিন্ন অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সমাধান করতে থাকে একের পর এক। আর সাইকিকদের দুনিয়ায় এই চোখ শুধু ইয়াকুমোর একার নয়, এই লালচোখের রহস্যটা আসলে কি? মৃত আর অশুভের অন্ধকার জগত থেকে এই রক্তচক্ষু কি ইয়াকুমোকে আলোর পথে নিয়ে আসবে, নাকি ঠেলে দিবে আরো গাঢ় অমানিশায়?

মিস্ট্রি আর সুপারন্যাচারাল জনরার মিক্সচার একটা বেশ মজার একটা এনিমে। মাত্র ১৩ পর্বের, কাহিনী বেশ ভাল, মিস্ট্রিগুলো বেশ স্ট্যান্ডার্ড, ডায়ালগ বেশ চমৎকার, স্মার্ট হিউমার আছে। গানগুলাও ভালো, না দেখার কোন কারণ নেই।
আমার রেটিং সাড়ে ৮…

shinrei 2

shinrei 3

shinrei 4

 

 

 

Children Who Chase Lost Voices – Anime movie review by Torsha Fariha

ডিরেকটর- মাকোতো শিনকাই
আইএমডিবি রেটিং- ৭.৩/১০

যারা মাকোতো শিনকাই এর নাম শুনেই ৫ সিএম পার সেকেন্ড কিংবা কোতোনোহা নো নিওয়া’র মত ম্যাচিউরড অ্যানিমেশন মুভি আশা করছেন তাদের বলছি এই মুভিটা ফিকশনাল( অনেকটা মিয়াজাকির ঘিবলি মুভিগুলার মত)। তাঁর নরমাল কাজের তুলনায় বেশি লাইভলি, অ্যাডভেঞ্চারাস। তবে একেবারে বাচ্চাদের কাহিনী এটা না। বোঝার, ফীল করার, কষ্ট পাবার, শূন্যতা অনুভব করার সব উপকরণই আছে। 

এই কাহিনীর নায়িকা আসুনা নামের একটা মিডল স্কুলে পড়া মেয়ে। আসুনার বাবা মারা যায় ছোট থাকতেই আর মা নার্স। যেহেতু কাজের চাপে মা খুব একটা সময় দিতে পারে না আসুনাকে। তাই দিনের অনেকটা সময়ই সে একা একা তার বাবার দেয়া ক্রিস্টাল রেডিও শুনে কাটায়। মাঝে মাঝেই সে খুব অদ্ভুদ সুর শুনতে পেত রেডিওতে। খুব সুরেলা কিন্তু কেমন যেন মনকে বিষাদ করে দেয়া একটা ভিনদেশী গান।
একদিন ক্লাব হাউজে যাবার পথে আসুনাকে হঠাৎই একটা অদ্ভুত জন্তু আক্রমন করে বসে। এবং তাকে বাঁচায় শুন নামের এক রহস্যময় ছেলে। এভাবেই দেখা হয় শুন আর আসুনার।
পর পর দুইদিন দেখা হয় তাদের। আসুনা শুনকে তার হাইড আউটে নিয়ে আসে, তার ক্ষত পরিষ্কার করে দেয়, তাকে ক্রিস্টাল রেডিওতে সেই অদ্ভুত গান শুনায়।

শুন জানায় সে আগার্থা নামের এক দেশ থেকে এসেছে একটা জিনিস খুঁজতে। শেষ দিন শুন বিদায় নেয়ার সময় আসুনার কপালে কিস করে ব্লেসিং হিসেবে। আসুনা তো লজ্জায় লাল হয়ে কোন মতে পরের দিন আসবে বলে পালিয়ে আসে।

কিন্তু পরের দিন তার মা তাকে জানায় পাহাড়ের কাছে এক ছেলের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এবং দেখা গেল সেটা শুনের মৃতদেহ ছিল। আসুনা কোনভাবেই বিশ্বাস করে না শুন মারা গেছে। 
সে এরপর একদিন ক্লাসে আগার্থা নামে দেশের কথা জানতে পারে তাদের নতুন টিচারের কাছ থেকে। আগার্থা হল মৃতদের দেশ। এর কিছুদিন পর তার সাথে শুনের জমজ ভাইয়ের সাথে দেখা হয় যে শুনকে খুঁজতে এসেছিল।

যাহোক ঘটনাক্রমে আসুনা জানতে পারে তাদের নতুন টিচার মুরাসাকি আগার্থায় যেতে চায় তার মৃতা স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। এভাবেই আসুনা, শুনের যমজ ভাই আর মুরাসাকি সেন্সেই এর আগার্থা অভিযান শুরু হল। একদিকে সেই গানের রহস্য অন্যদিকে শুনের অন্তর্ধানের রহস্য- সব কিছুর সমাধানে বিপদ সংকুল পথে পা বাড়ায় আসুনা।

মোটামুটি এটাই হল কাহিনী। চমৎকার একটা মুভি। যদিও আমি প্রথমে বলেছি ঘিবলির হাসিখুশি মুভির মত এটা । প্রথমে হয়তো যে কারোই সেরকম মনে হবে। কিন্তু দেখা শুরু করলে বোঝা যাবে মাকোতো শিনকাই এর হাতের কাজ কতটা ইউনিক… কতটা অন্যরকম!

Planetes anime reaction post by Fahim Bin Selim

অনেক জায়গায় লেখা দেখলাম মাঙ্গাটা নাকি মাস্টারপিস, অ্যানিমে অ্যাডাপটেশন নাকি খুবি খারাপ। তাই অ্যানিমে দেখা শেষে উইকি থেকে মাঙ্গার সিনোপসিস দ্রুত পড়ে নিলাম। আমার মনে হয় গল্পটা অ্যানিমেতে টিউনিং করে আরো ভালোভাবে শেষ করা হয়েছে।

অ্যানিমের ভিতরের কথা বললে, এতো বড় পরিসরে, এতগুলো চরিত্র নিয়ে এইটাই সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে ইমোশোনালী রিয়েলস্টিক অ্যানিমে। হাচিমাকিকে শেষের দিকে খুবি বিরক্তিকর লাগা শুরু হলেও সেইনেন অ্যানিমেতে ফেইরিটেল রোমান্স আশা করাটাও হয়তো বোকামি।

ড্রামা, প্রেম, রাজনীতি আর সাইন্স-ফিকশন; কিন্তু ফিকশনটা ডালপালা ছড়ানো অবাস্তব না, নিকট ভবিষ্যত বলাই ভালো। অসাধারন কাহিনী, অসাধারন আর্ট আর এন্ডিংটাও চিরদিন মনে থাকার মত। খুব সহজেই আমার সেরা পাঁচে ঢুকে গেল।

সেরা হার্ড সাই-ফাই অ্যানিমে এবং খুবই, খুবই আন্ডাররেটেড।

“Every ship needs a homeport to get back to.” :’)

Corpse Part: Tortured Sould anime suggestion by Kazi Rafi

রাত ১টার পরে, রুমের দরজা ভিড়িয়ে, বাতি নিভিয়ে, কানে হেডফোন লাগিয়ে দেখার মতন ৪ পর্বের দম ফাটানো হাসির আর বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুকে ভরপুর এক এনিমে Corpse Part: Tortured Soul. এইযে নাম শুনে আপনি হতভম্ব হয়ে গেলেন, এনিমের নির্মাতারা ঠিক এইটাই আশা করছে আপনার পক্ষ থেকে। কিভাবে একটা কমেডি এনিমের নাম এরকম উদ্ভট আর কিছুটা ভীতিকর হতে পারে এই প্রশ্ন নিয়ে আপনি এনিমেটি দেখা শুরু করবেন, এইটাই তাদের মূল লক্ষ্য কারন এই ৪ পর্ব ধরে এই বিষয়টি নিয়েই এই এনিমের কাহিনিটি মূলত গড়ে উঠেছে। এনিমের কাহিনী নিয়ে আর বেশী কথা বাড়ালাম নাহ, কিন্তু একটা কথা নাহ বলে পারছি নাহ, যদিও এটি মূলত খুবই হালকা মেজাজের একটি এনিমে কিন্তু প্রতি পর্বে রয়েছে বেশ গতি আর টুইস্ট যা আপনি অনেক কাছ থেকেও প্রেডিক্ট করতে পারবেন নাহ। 
ওহ হ্যাঁ, বলতে একদমই ভুলে গেছি, এই এনিমে The Association of Japanese Animations (AJA) দ্বারা ‘Kid-Friendly’ সার্টিফাইড, সো গ্রুপে বাচ্চা কাচ্চা কেও থেকে থাকে এই এনিমে তাদেরো দেখার আমন্ত্রন রইল। আর অন্যরা, আপনারা আর সময় নষ্ট নাহ করে নামিয়ে দেখে ফেলুন ভয়াবহ হাসির এই এনিমেটি !!!

Detroit Metal City [Anime Review] by Tahsin Faruque Aninda

Detroit Metal City (2008)

 

[Warning! এই আনিমেটিতে অনেক আক্রমণাত্মক, অপমানজনক, সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কথাবার্তা রয়েছে এবং একই ধরণের লিরিক্সসম্বলিত গান আছে। যদিও সকল কথাবার্তা ও গানের লিরিক্স শুধুই হাস্যকর অর্থে বিনোদন দেবার মত দৃশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, তারপরেও লেখক আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছে এধরনের কথাবার্তা নিয়ে এই রিভিউতে আলোচনা করার জন্যে। লেখক কোনভাবেই বাস্তব কিংবা কাল্পনিক জীবনে এধরণের বিকৃত রুচির কথাবার্তা/গানকে সাপোর্ট করে না]

 

ধরে নিন আপনি একজন অসম্ভব মারামারি-কোপাকুপি মুভির ফ্যান, কাহিনী দ্রুত এগিয়ে না গেলে আপনার মুভি দেখার আগ্রহ হারিয়ে যায়। ধীর গতিতে আগানো মুভি দেখতে গেলে অধৈর্য হয়ে যান, ঘুমিয়ে কূল পান না! এখন দুর্ভাগ্যক্রমে আপনার জীবনটা এমন হয়ে গেলো যে, প্রচন্ড আতেলি কিংবা আর্টিস্টিক কিংবা ঘন্টায় ১ মিটার গতিতে আগানো ধীর মুভি দেখে দেখেই বাকি জীবন পাড়ি দিতে হবে, কেমন লাগবে আপনার? কিংবা বিপরীত অবস্থা ভাবুন, আপনি ভদ্র, ধীরস্থির জীবন কাটাতে পছন্দ করেন। শাস্ত্রীয় গান কিংবা ভাবুক আলোচনা, ৫ মিনিটে শেষ করে দেওয়া ঘটনা নিয়ে তৈরি ৫ ঘন্টার সিনেমা শান্ত মনে উপভোগ করতে পারা আপনার সবচেয়ে পছন্দের কাজ। এর বাইরে তথাকথিত নতুন যুগের গানাবাজনা, আর্ট, সিনেমা, আলোচনা ইত্যাদি আপনার শরীরে আগুন জ্বালিয়ে দেয় রীতিমত!! হঠাত করে আবিষ্কার করলেন বাকি জীবনটা র্যা প গান গেয়েই কাটিয়ে দিতে হবে, দুনিয়া আপনাকে শ্রেষ্ট র্যাবপ গায়কদের একজন হিসেবে মেনে নিয়েছে। শাস্ত্রীয় গানের প্রসঙ্গে গেলে রীতিমত অপমানিত হতে হয় আপনাকে। জীবনটা কিরকম লাগবে আপনার?

ঠিক এরকমই ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দুষ্টু-মিষ্টি প্রেমের গানের গায়ক হবার স্বপ্ন দেখা নেগিশি সৌইচি একদিন জাপানের আন্ডারগ্রাউন্ড গানের জগতে সবচেয়ে বিখ্যাত, প্রচন্ড ভায়োলেন্ট একটি ডেথ মেটাল ব্যান্ড “ডেট্রয়েট মেটাল সিটি”-এর লিড ভোকাল হয়ে যায়। সারা দেশে তার অসংখ্য মেটালহেড ভক্ত, যাদের উদ্যম প্রেরণা আর সাপোর্ট দেখে মেটাল গান ঘৃণা করা নেগিশি চরম অনিচ্ছা স্বত্বেও নিজে থেকে গেয়ে যেতে থাকে ডেথ মেটাল গান আর সবাইকে উপহার দিতে থাকে একের পর এক সুপারডুপারহিট সব ভয়াবহ অশ্লীল কথার পাগল করে দেওয়া ইতিহাস সৃষ্টি করা জিনিস!!

 

ডেট্রয়েট মেটাল সিটি আনিমেটি প্রথম দৃষ্টিতে দেখে শুধু গান কিংবা পাগলামির আনিমে মনে হলেও, এটি আসলে এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু দিবে। খুব কম আনিমে আছে যা দেখতে গিয়ে আমি অসম্ভব হেসেছি, সেখানে এই ১৩ মিনিট করে মোট ১২টি এপিসোড দেখার সময়ে হাসতে গিয়ে মোটে ৫-৬বার চেয়ার থেকে পরে গিয়েছি [সত্যি সত্যি চেয়ার থেকে পরে গিয়েছি, একবার হাতে ব্যাথাও পেয়েছি! -_- ]। এই আনিমেতে পাগলামি নেই, আছে পৈশাচিক লেভেলের পাগলামি! আছে কথায় কথায় গালাগালি, F অক্ষরে শুরু হওয়া বিখ্যাত শব্দটির ব্যবহার, অপব্যবহার, সুব্যবহার, কুব্যবহার! আর আছে “ধর্ষণ” শব্দটির কিছু লেজেন্ডারি ব্যবহার!

 

ঘটনা সংক্ষেপ: নেগিশি সৌইচি টোকিও শহরে আসে পড়াশুনার উদ্দেশ্যে, এবং একই সাথে স্বপ্ন দেখে টোকিওতে এসে ফ্যাশনেবল একটা পপ-ব্যান্ড গড়বে। কিন্তু গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর কিভাবে যেন ঢুকে গেলো এক ইন্ডি ডেথ মেটাল জনরার ব্যান্ড ডেট্রয়েট মেটাল সিটিতে, যা সবার কাছে DMC বলেই বেশি পরিচিত! হয়ে গেলো জাপানের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড মিউজিকের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং ভায়োলেন্ট ডেথ মেটাল ব্যান্ডের লিড ভোকাল, ছদ্ম নাম নিল “ক্রওজার-২”। মিষ্টি-রোম্যান্টিক গান পছন্দ করা ও সারাক্ষন দুষ্টুমিষ্টি প্রেমের গান লেখা-গাওয়া নেগিশির জীবন এখন কাটে খুনখারাবি, ধর্ষণ, পৈশাচিক অপকর্মের গান গেয়ে গেয়ে!!

কাহিনী: ডেট্রয়েট মেটাল সিটির কাহিনী এর বড় শক্তি নয়, তবে দুর্বলতাও নয়। ১৩ মিনিটের একেকটি পর্বকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়। দুইটি অংশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুটি ভিন্ন ঘটনা দেখায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, ৬-৭ মিনিটের একেকটি অংশ একেকটি গ্যাগ। তবে শুধু হাস্যরসাত্মক গ্যাগ নয়, একদম উন্মত্ত-পাগলামির গ্যাগ।

 

অ্যানিমেশন: আনিমেটির অ্যানিমেশন অন্যান্য আনিমে থেকে বেশ আলাদা। মাঙ্গার প্যানেলের মত ভাগ থাকে মাঝে মাঝে, আবার 16×9 রেজল্যুশনের ভিডিও হলেও প্রায়শ দেখা যায় লম্বাটে বিশাল একটা প্যানেলেই শুধু অ্যানিমেশন চলছে। তবে সবকিছু মিলিয়ে সিরিজটির জন্যে আদর্শ অ্যানিমেশন। হঠাত হঠাত চলে আসা হাস্যকর ডায়লগ, ইমোশনের বহিঃপ্রকাশ, কিংবা একেকজনের নড়াচড়া – এসবকিছু আনিমেটির পাগলামিকে ঠিকভাবে তুলে ধরার জন্যে আদর্শ অ্যানিমেশন রয়েছে ডেট্রয়েট মেটাল সিটির।

সাউন্ডট্র্যাক: ডেথ মেটাল ব্যান্ডকে নিয়ে আনিমে, সুতরাং বুঝতেই পারছেন সাউন্ডট্র্যাক হিসাবে কি অপেক্ষা করছে আপনার জন্যে। ডেথ মেটাল পছন্দ এমন দর্শকের জন্যে এই আনিমের প্রতিটি এপিসোডে রয়েছে রক্ত-গরম-করা কিছু ডেথ মেটাল ট্র্যাক। যেহেতু আনিমের মধ্যেই গান চলতে থাকবে অনেক জায়গাতে, তাই গানের লিরিক্সও ইংলিশ সাবটেইটেল হিসাবে দেখা যেতে পারে – যেটা খুব একটা ভাল এক্সপেরিয়েন্স হবে না অনেকের জন্যেই। একদম “সেইরকম” লিরিক্স। তবে সব মিলিয়ে অসাধারণ পাওয়ারফুল কিছু ট্র্যাক। এর মধ্যে ওপেনিং ট্র্যাকটি সত্যিকার অর্থে অসাধারণ একটি ডেথ মেটাল গান [আবারও বলি, লিরিক্স দেখে অস্বস্তি লাগতে পারে]। আর নেগিশি নিজে যেহেতু ঠান্ডা আর মিষ্টি প্রেমের গান পছন্দ করে, তার নিজের কম্পোজ করা এরকম একটি গানও আছে। সেই হোপলেস-রোম্যান্টিক গানটিও মাঝেমধ্যে শুনা যাবে, আরও শুনা যাবে আনিমেটির এন্ডিং ট্র্যাক হিসাবে।

 

ক্যারেক্টার: আনিমেটির সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি পয়েন্টের একটি হল এর ক্যারেক্টারগুলি। প্রায় সব চরিত্রই বিভিন্ন মুহুর্তের হাস্যকর দৃশ্যগুলি ফুটিয়ে তুলবার জন্যে দারুণ ভূমিকা রেখেছে, এমন কি যেসব চরিত্র শুধু ১ পর্বের জন্যে হাজির হয়েছিল তারাও। তবে মূল ক্যারেক্টার নেগিশি এবং তার অল্টার-ইগো ক্রওজার-এর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট সবচেয়ে বেশি হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তার দুটি ভিন্ন রূপ ও সেই অনুযায়ী আচার-আচরণ পুরো সিরিজটির সবচেয়ে মজার অংশগুলি উপহার দিয়েছে। আরও রয়েছে তার ব্যান্ডের ড্রামার কামুস [নিশিদা তেরুমিচি] এবং গ্ল্যাম রক গান গেতে চাইলেও অবশেষে DMC তে যোগ দেওয়া জাগি [ওয়াদা মাসাইয়ুকি]। যদিও তারা তাদের DMC জীবনের সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছে, নেগিশি তার ব্যান্ড জীবন আর স্বপ্নের পপ গানের জীবনের মধ্যে দোটানাতে রয়ে গিয়েছে। সিরিজটির অন্যতম বড় আকর্ষন অসম্ভব রকমের বাজে কথার জন্যে বিখ্যাত ব্যান্ডটির ম্যানেজার। “প্রেসিডেন্ট” বা “বস” বলে পরিচিত এই মহিলার চোখে কোন জিনিস সার্থক বা সফল শুধু তখনই হবে যখন সেই জিনিস দেখে বা উপভোগ করে তাকে … … … থাক, কি হবে সেটি তার মুখেই আপনারা শুনে নিয়েন। তবে একটা জিনিস বলা যায়, F**k শব্দটিকে প্রেসিডেন্ট প্রায় আর্টের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। কথায় কথায় ইংলিশগুলি বলার এক্সপ্রেশন এত বেশি মজা দিয়েছে যে, মারাত্মক অশ্লীল শব্দ হওয়ার পরেও সেগুলি বারবার রিপিট করে শুনার ইচ্ছা হয়েছিল!!!

 

একদম সুস্থ-স্বাভাবিক চিন্তাভাবনার, গ্ল্যামারাস ম্যাগাজিন লেখিকা ও নেগিশির স্বপ্নকন্যা আইকাওয়া ইয়ুরি কিংবা DMC ব্যান্ডের স্টেজ পার্ফরম্যান্সের সময়ে থাকা Pig of Capitalism নাসিমোতো কেইসকে সিরিজটির আরও দুটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র। আইকাওয়াও নেগিশির মত শুধু মিষ্টি মিষ্টি পপ গানের ভক্ত, আর মেটাল গান সম্পর্কে বলতে গেলে একদমই অজ্ঞ। অন্যদিকে নাসিমোতো হল একজন মধ্যবয়স্ক ম্যাসোকিস্ট। এছাড়া বাকি চরিত্রগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল DMC এর ভক্তরা। DMC বা ক্রওজারের বিভিন্ন ঘটন-অঘটনকে দর্শকের কাছে তুলে ধরবার জন্যে DMC ভক্তদের একেকজনের দেওয়া উক্তি, ব্যাখ্যা মারাত্মক হাস্যকর হয়েছে।

ভয়েস এক্টিং: আনিমেটির আরেকটি শক্তিশালী দিক হল এর অসাধারণ ভয়েস এক্টিং। নেগিশি/ক্রওজার এর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইমোশন দেওয়ার জন্যে সেইয়ু উয়েদা ইয়ুজি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। মুখ-খারাপের জন্যে বিখ্যাত ম্যানেজার বা প্রেসিডেন্টকে চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সেইয়ু কোবায়াসি আই। নেগেশির স্বপ্নকন্যা আইকাওয়া ইয়ুরির সেইয়ু নাগাসাওয়া মাসামিও চমৎকার ভয়েস এক্টিং করেছেন। আর DMC ভক্তদের একেকজনের ভয়েস এক্টিং-এর কোন তুলনাই হয় না!

এবার আসা যাক সিরিজটির বিখ্যাত কিছু উক্তি ও মুহুর্ত নিয়ে, তাই এগুলি হালকা ধরণের স্পয়লার মনে হতে পারে। কেউ স্পয়লার বলে ভয় পেয়ে থাকলে, একদম শেষের প্যারাতে চলে যান।]

বিখ্যাত একটি উক্তি রয়েছে, “Fall seven times, Stand up eight” – কথাটিকে DMC ভক্তরা এক পর্যায়ে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করে দেয়: “Fall down seven times, rape on the eighth time” :V

স্টেজে এক পর্যায়ে গানের যুদ্ধে থুতু ছিটানো শুরু করে ক্রওজার আর তার প্রতিপক্ষ। ভক্তরা তা দেখে মুগ্ধ হয়ে আরও একটি বিখ্যাত ডায়লগ দেয়: “They’re spitting into the fourth dimension!!!”

আর সিরিজটির সবচেয়ে অসাধারণ ডায়লগগুলির একটি হল: “Krauser-sama won by half a F**k!!!”

পরিশেষে বলবো, আনিমেটি সব দর্শকের জন্যে নয়। অনেকেই এটা দেখে মজা পাবে না। তবে নিখাদ পাগলামি দেখতে চাইলে এই আনিমেটি অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন। ডেথ মেটাল গানের ভক্ত হলে তো কথাই নাই! উড়াধুড়া একটার পর একটা গান রয়েছে এই আনিমেতে। সম্ভব হলে এর সাউন্ডট্র্যাক ডাউনলোড করে শুনে নিতে পারেন।

MyAnimeList Score: 8.37/10

আমার স্কোর: 10/10

কমেডি/মিউজিক/পাগলামির জন্যে আদর্শ একটি সিরিজ! অবশ্যই দেখার চেষ্টা করবেন এটি।

 

Cowboy Bebop review – Monirul Islam Munna

ভালো সব এনিমের এক বা একাধিক স্ত্রোং সাইড থাকে। কোনটার কাহিনী বিলডআপ অস্থির, কোনটার ক্যারেক্টার বিলডআপ মাথা নষ্ট করা,কোনটার OST ভুবন ভুলানো আবার কোনটার আর্টওয়ার্ক আর এনিমেশন দেখে চোখ জুড়ে যায়। কিন্তু কয়টা এনিমে দেখেছেন প্রতিটা সেক্টরে মুগ্ধ করবে আপনাকে?? বিরল সেই লিস্টের অন্যতম দাবিদার Cowboy Bebop!!

একটা অন্যরকম স্বাদ আছে এনিমেটাতে। প্রতিদিনের ডালভাত খেয়ে বেশ বিরক্ত হয়ে মাঝে মাঝে বিরিয়ানি খেলেও, ভিন্ন স্বাদের সাধারণ খাবারই মনে হয়। cowboy bebop দেখার সময় মনে হলে, সেই চিরচেনা স্বাদ বিসাদের খাবার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কলকাতার কাচ্চি আর রয়ালের বাদাম শরবত এক সাথে খেয়ে শেষ করলাম। মুখে যেন অতুলনীয় স্বর্গীয় এক স্বাদ ভর করছে, ৩-৪ দিন সেই স্বাদ যেন ভুলানো সম্ভব না।

action,adventure, Sci-fi genre ২৬ পর্বের এনিমে cowboy bebop। Adventure genre দেখে আন্দাজই করা যায়, এনিমেটার প্রতি এপিসোডেই ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী নিয়ে। কিন্তু এই প্রতি এপিসোডের মধ্যে ছোট কিছু গল্প জোড়া লেগে লেগে আর প্রতি চরিত্রের পূর্বজীবনের কিছু কিছু ফ্ল্যাশব্যাক দেখিয়ে এক অনন্য সুন্দর গল্পের উপহার দেয়।

এনিমের মূল চরিত্রদের মধ্যে ৩ জন Spike Spiegel, Jet Black আর Faye Valentine bounty hunter! মহাশূন্যের বিভিন্ন গ্রহের নাম করা বিশাল bountyওয়ালা ক্রিমিনালদের খুজে বেড়ানো আর সেই bounty দিয়ে আয়েশ করাই মূল উদ্দেশ্য তাদের। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য কখনও মোড় নে হাস্যকর আবার কখনও দুঃখের কোন দিকে। আর এই সব বড় বড় ক্রিমিনালদের খুজে বের করতে তাদের কাজে সাহায্য করে পিচ্চি হ্যাকার Edward Wong। ক্যারেক্টার বিলডআপ অসাধারণ এনিমেটার, সাথে তাদের অতীত জীবন কীভাবে বর্তমানে তাদের উপর প্রভাব ফেলেছে, তা বেশ স্পষ্ট।

এনিমেটার অসাধারণ একটা দিক হচ্ছে, এটার আর্টওয়ার্ক আর এনিমেশনগুলো!!! ১৯৯৮~১৯৯৯ সালে বানানো এই এনিমেটার এনিমেশনে মহাশূন্যকে, সিনারিগুলোকে, স্পেসশিপগুলকে সব কিছুকে এতো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই!!! প্রতিটা এপিসোডেই একটা চমৎকার লাইন দিয়ে শেষ হয়।

cowboy bebopএর প্রান বলা যেতে পারে এর এনিমেশন আর sound tracksগুলা। এক এক এপিসোডে প্লে করা ভিন্ন ভিন্ন sound tracksগুলোর সবগুলই মন ছুঁয়ে যাবে আপনার। মন চাবে বার বার ব্যাক করে, ostটা আরেকবার শুনে নিতে। এনিমেটা শেষ হলে, বিশাল একটা soundtrack আর OST এর কালেকশন পাবেন লিখে দিলাম 

ক্লাসিক জিনিস কখনও হতাশ করে না। প্রাই ১৫বছর হয়ে গেছে এনিমেটার। এনিমের স্বাদ ১৫ বছরে অনেক বদলে গেছে মানুষের । কিন্তু এতো বছর পরও এখনো দর্শকদের একটুও হতাশ করেনি, বরং মনোযোগ সম্পূর্ণ ধরে রেখে মুগ্ধ করেছে প্রতিটি সেকেন্ড।

MAL rank #21
MAL rating 8.83
My rating: 9.2

এফ এ সি ২০

রান্ডম টপিক

আই আই গাসা[相合傘]

 

 

বাংলাদেশে বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে দেখা যায় অনেকেই তাদের ভালবাসার কথা প্রকাশ করে আসেন, তবে তা খুব স্থূলভাবে। সরকারী সম্পত্তিতে বা গাছের গায়ে তারা তাদের নাম আর প্রেমিক/প্রেমিকার নাম সুন্দর করে একটা হার্ট শেপের মধ্যে আবদ্ধ করে যোগ চিন্হ দিয়ে রাখেন। তো জাপানেও এমন একটা কাস্টম আছে, সেটা হলো একটা ছাতার ছবি এঁকে তার নিচে জুটির দুজনের নাম লেখা। একে বলা হয় আই আই গাসা[Love-Love Umbrella]। আর সেজন্যই আনিমেতে বিপরীত লিঙ্গের দুজনের এক ছাতা শেয়ার করা খুব সিগনিফিকেন্ট একটা ব্যাপার ধরা হয়, আর মেয়েরা তাদের পছন্দের মানুষ ছাড়া অন্য কারো সাথে ছাতা শেয়ার করতে অস্বস্তি বোধ করে.

আপনার ভালোবাসার মানুষের নাম আর আপনার নাম এক ছাতার নিচে রেখে তাকে ইউনিক্ভাবে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন, চলে যান এই লিঙ্কে।

http://japan-cc.com/umbrella.htm

 

 

আনিমে সাজেশন

জোজো’স বিজার এডভেঞ্চারস[Jojo’s Bizarre Adventure]

 

 

১৯৮৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত থেকে প্রকাশিত হতে থাকা আরাকি হিরোহিকোর বিখ্যাত সিরিজের ফ্যান্টম ব্লাড আর ব্যাটল টেনডেনসির আনিমে এডাপটেশন, জোস্টার পরিবারের দুই সদস্যের বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতা মোকাবেলা করা নিয়ে কাহিনী।

 

 

কেন দেখবেনঃপ্রথম অংশটার গল্প বেশ মিডিওকার, তবে পরের কাহিনী আপনার ধৈর্যকে পুষিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবে। সৌনেন+সেইনেন ঘরানার আনিমে, কাজেই যথেষ্ট আকর্ষনীয় সব বয়সের কাছেই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দারুন, কিছু ক্ষেত্রে একটা এনিগমা ভাইব পাওয়া যায়. ফাইটিং এবং ডায়লগ থ্রোইং কে একই সাথে সিরিয়াস এবং কমিকাল মনে হয়, সেই সাথে আছে এসেফেক্স সহ দারুন কিছু সিন. ভয়েস এক্টিং চমত্কার, বিশেষ করে দিও ব্র্যান্ডো আর কারস এর কন্ঠে জোজো নামটা উচ্চারিত হতে শোনা প্রতিবারেই একটা বড় ট্রিট, সেই সাথে আছে সুগিতা তমোকাজুর ভয়েসে জোসেফ জোস্টার, যে স্ক্রিনে থাকলে সব আলো নিজের দিকে নিয়ে নেবেই।সোজা কথায়, ভালো গল্পের সাথে ফ্ল্যাশি ফাইটিং যদি দেখতে চান, আর হাতে ১৫০-২০০ পর্ব দেখার মত সময় না থাকে, তাহলে এই সিরিজটা আপনার জন্য অন্যতম সেরা।

 

কেন দেখবেন না:একটু তামিল মুভি টাইপ ভাইব আছে.

 

ম্যাল রেটিং ৮.৫৬

আমার রেটিং ৯

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ফ্রানকেন ফ্রান[Franken Fran]

 

 

ফ্রান চায় মানুষের উপকার করতে, সেটা যেভাবেই হোক না কেন। কিন্তু এই ”যেভাবেই হোক না কেন” অংশটা যে আসলে সবার জন্য প্রযোজ্য না, সেটা বুঝতে পারে ফ্রান যাদেরকে সাহায্য করে তারা। কিন্তু যতক্ষণে বোঝে, ততক্ষণে দেরী হয়ে যায় অনেক।

 

 

কেন পড়বেনঃসিরিয়াস হরর কন্টেন্টকে এই মান্গায় হাস্যরসের সাথে দারুনভাবে ম্যাশআপ করা হয়েছে।

কেন পড়বেন না:বেশ কিছু গুরো কন্টেন্ট আছে. যারা অতিরিক্ত গ্রাফিক কন্টেন্ট সহ্য করতে পারেন না তারা অবশ্যই অবশ্যই এই মাঙ্গা পড়বেন না.

 

ম্যাল রেটিং ৮.০৬

আমার রেটিং ৯

 

Fate/Zero – Review by Farsim Ahmed

বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ বিসর্জন- এই দর্শন অনেক পুরনো, এবং বিতর্কিত। দুটো জাহাজে যদি ৩০০ আর ২০০ জন লোক থাকে, আর যদি কাউকে যদি বলা হয় এর মধ্যে যে কোন একটা জাহাজের মানুষ বাঁচতে পারবে, আর এই জাহাজ বেছে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় তাঁর উপর, তাহলে তাঁর চয়েস কি হওয়া উচিত? ৩০০ জনের জাহাজ? কিন্তু সে কিভাবে ২০০ লোকের মৃত্যু পরোয়ানা লিখতে পারবে? ওই ২০০ লোকের জীবনও তাঁর হাতে ছিল, এই চিন্তাটা কি তাকে পীড়া দেবে? 

উড়োবুচি গেন এর ডাক নাম হয়ে গেছে উড়োবুচার। কারন ভদ্রলোক যে আনিমেরই স্ক্রিপ্ট লেখেন তার সবগুলোতেই শেষে ভয়াবহ একটা টুইস্ট থাকে, যা পুরো আনিমের ব্যাপারেই দর্শকের পার্সপেকটিভ পুরো ১৮০ ডিগ্রি চেঞ্জ করে দেয়[মাদোকা ম্যাজিকাতে উইচদের আসল পরিচয়, সাইকো পাসে সিবিল সিস্টেম এর পিছনের রহস্য বা সুইসেই নো গারগান্তিয়াতে হিদিয়াজদের অরিজিন]। তো এহেন উড়োবুচার যখন টাইপ মুনের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ভিজুয়াল নভেল ফেইট/স্টে নাইটের প্রিকুয়েল ফেইট/জিরোর লাইট নভেল নিখলেন, শেষমেশ ভয়াবহ কোন টুইস্ট থাকবে তা জানা ছিল, হয়েছেও তাই, তবে সমস্যাটা হল এই টুইস্ট সম্পর্কে যারা ফেইট/স্টে নাইট অলরেডি দেখে ফেলেছে তারা সবাই অবগত ছিলেন। এখানেই ফেইট/জিরোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, এর এন্ডিঙ সম্পর্কে সবাই জানে। এ যেন লুলুচ সবার লাস্ট পর্বে মারা যাবে জেনে কোড গিস দেখতে বসা। তাহলে এত বড় দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ফেইট/জিরো পরিণত হল ইনস্ট্যান্ট ক্লাসিকে? 

ফেইট/জিরোর প্লট এক কথায় দারুন ইনোভেটিভ, ৭ জন ম্যাজিশিয়ান[মাস্টার] ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত হয়ে থাকা চরিত্রদের[সারভেনট] জাদুর সাহায্যে ডেকে আনবে। এরা সাতটা ক্লাসে বিভক্ত, প্রতিটি ক্লাসের রয়েছে ডিফরেন্ট ট্রেইট। তাদের মধ্যে হবে ব্যাটল রয়্যাল, যাকে বলা হচ্ছে হলি গ্রেইল ওয়ার, আর এতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা মাস্টার-সারভেনট জুটি হবে বিজয়ী। তাদের পুরস্কার? স্বয়ং হলি গ্রেইল, যা কিনা পুরন করবে তাদের যে কোন একটা ইচ্ছা। ৭+৭ জন নেমে পড়ল ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে, যে যুদ্ধের মধ্যে কোন সৌন্দর্য নেই, কোন মহত্ত্ব নেই, আছে শুধু জেতার তাগিদ, আর এর জন্য যা দরকার হয় তাই করা। আইঞ্জবারন পরিবারের প্রতিনিধি মেইজ কিলার এমিয়া কিরিতসুগু, অভিজাত আর্চিবোল্ড পরিবারের কেনেথ, তার আন্ডারএচিভিং ছাত্র ওয়েভার ভেলভেট, তোসাকা পরিবারের তকিয়মি, বিকৃত রুচির এক খুনি উরিউ রিউনোসকে, মাতউ পরিবারের কারিয়া, তকিওমির শিস্য কতোমিনে কিরেই-সবারই নীতি একটাই, বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী। 

ক্যারেক্টার ডিসাইন সম্ভবত আনিমেটার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। ২৫ পর্বের এমন খুব বেশি আনিমে দেখা যায় না যেখানে ৬-৭টা আইকনিক এবং প্রচণ্ড রকম জনপ্রিয় ক্যারেক্টার আছে, ফেইট/ জিরো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। যেখানে বাংলাদেশে খুব বিখ্যাত আনিমেগুলো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট করতে ২৫ পর্বের বেশি নেয়, সেখানে ফেইট/জিরো নিপুণভাবে সবগুলো চরিত্রের এম্বিশন, তাদের মনের অন্ধকার জায়গাটুকু, তাদের আশা-আকাঙ্খা-অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এমিয়া আর কতোমিনের ইয়িন-ইয়াং পার্সোনালিটি, গিল্গামেশের এরোগেন্স, রাইডারের বক্তৃতা, সেবারের অতীতের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাওয়া, এই সব সবকিছুই ছোটখাটো কিন্তু শক্তিশালী সিকোয়েন্স, আর সেই সাথে উপযুক্ত ডায়লগ থ্রোইং দিয়ে দেখানো হয়েছে। 

ফেইট/জিরোর এনিমেশনে ইউফোটেবল যে কাজ দেখিয়েছে, এক কথায় আমার দেখা বেস্ট, এর কাছাকাছি কাজ দেখেছিলাম কারা নো কিওকাই(এটাও ইউফোটেবলের) আর কতোনোহা নি নিওয়াতে। অবশ্যই কমপক্ষে ৭২০ পিতে দেখবেন।

ওপেনিং আর এন্ডিং সংগুলো পারফর্ম করেছে কালাফিনা আর হারুনা লুনা, যথেষ্ট শ্রুতিমধুর কাজ, আর ব্যাকগ্রাউনড মিউজিকগুলো ইয়ুকি কাজিউরার করা। ভদ্রমহিলার কাজ নিয়ে আশলে বলার আর কিছু নেই, শুনলেই বোঝা যায় এগুলো তাঁর তৈরি, এবং যে কোন দৃশ্যকে মিউজিকগুলো কমপ্লিমেন্ট করে গেছে দারুনভাবে। কয়েকটা লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি-

http://www.youtube.com/watch?v=e499spqrIwU
http://www.youtube.com/watch?v=aHPXTnCSzJw
http://www.youtube.com/watch?v=mhK9Xt2rxes

ভয়েস একটিং হয়েছে অসাধারন, বিশেষ করে এমিয়া আর কতোমিনের। গিল্গামেশের রাজকীয় এক্সেনট শোনা বরাবরই খুব বড় ট্রিট ছিল, আর তকিওমির ভয়েস দিয়েছে স্বয়ং আইজেন, একদম কেইকাকু মত[আসলেই কি তাই?]

শুরু করেছিলাম ফেইট/জিরোর দুর্বলতা দিয়ে। সম্ভবত এন্ডিঙ এর সবচেয়ে দুর্বল দিক। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্যি, যেহেতু গেনকে মনে রাখতে হয়েছে যে এর পরে একটা সিকুয়েল আছে যেটা আগেই রিলিজ পেয়ে গেছে, উনি এর চেয়ে ভাল আর কোন ফিনিশিং টাচ দিতে সম্ভবত পারতেন না। 

ফেইট/জিরো আসলে কেন ইউনিক? এটা একটা পরিপূর্ণ প্যাকেজ, বিখ্যাত আনিমেগুলো যেখানে মাঝে মাঝে বিরক্তিকর মনে হয়[মনস্টার, ডেথ নোট(লাইটের স্মৃতি হারানোর পর) ইত্যাদি], সেখানে ফেইট/জিরোর প্রতিটি পর্ব প্রচুর ম্যাটেরিয়ালে ভরপুর, আর উত্তেজনায় ঠাসা। ক্যারেক্টারদের ফিলসফি, অসাধারণ সব ফাইটিং সিকোয়েন্স[সোরড ফাইট তো আছেই, সেই সাথে মোটরসাইকেলের সাথে রথের রেস, গানফাইট, জলপথে যুদ্ধ, এমনকি ডগফাইটও আছে], ঐতিহাসিক ক্যারেক্টারদের মোটামুটি একুরেট রেফারেন্স[পুরোপুরি একুরেট নয়], যথেষ্ট সিরিয়াস কাহিনি হওয়া সত্ত্বেও কাহিনি কোথাও অবোধ্য মনে হয়নি, যে কোন বয়সের দর্শক এটা উপভোগ করতে পারবে।

ফ্র্যাঙ্কলি, ইদানিং একটা বাজে ট্রেনড চালু হয়েছে, মাঙ্গার একটা চ্যাপ্টার বের হলেই বলা হচ্ছে এপিক চ্যাপ্টার, এর মাধ্যমে এপিক শব্দটা তাঁর আসল অর্থ হারিয়ে ফেলছে। আনিমে জগতে যদি লিটারালি কোন এপিক কাহিনি থাকে, তাহলে সেটা হচ্ছে বারসারক, আর ফেইট/জিরো। 

আর একটা কথা অবশ্যই পয়েন্ট আউট করতে হবে, ফেইট/ জিরো খুব ভাল টিভি সিরিয়াল ম্যাটেরিয়াল। গেম অব থ্রনস এর মত খরচ করলে আর পাকা অভিনেতা/অভিনেত্রি থাকলে এটা সর্বকালের সেরা সিরিয়ালগুলোর একটা হতে পারে। 

তো হাতে যদি কোন আনিমে থাকে, আপাতত সেটা অন হোলড রেখে ফেইট/জিরো দেখা শুরু করে দিন। যদি দেখা শেষ করে কমপক্ষে ৮ না দিতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি এর চেয়ে অনেক বেশি ভাল কিছু আনিমে দেখেছেন, কষ্ট করে আমাকে মেসেজ করবেন বা এই পোস্টে কমেন্ট করে যাবেন। অনেক দিন ভাল আনিমে দেখা হচ্ছে না। আপনার সাজেশনগুলো দিয়ে আমাকে চিরকৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করবেন।

রিভিউর এখানেই শেষ, এবার আমার নিজস্ব কিছু রানটিং। 

আমি আসলে রিভিউ লিখতে পারি না, কারণ মূলত এত বড় কিছু লেখার মত তেল নেই। কিন্তু যখন কোন বাংলাদেশী আনিমে গ্রুপের থ্রেডে দেখি ১০ এ ১০ ম্যাটেরিয়াল আনিমে নিয়ে আলাপ চলছে, আর তাতে কোড গিস, মনস্টার, ডেথ নোট, ফুল্মেতাল আল্কেমিষ্ট এর রাজত্ম(কিছু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবার এখানেও লাফিয়ে এসে বলে নারুতো/ব্লিচ/ড্রাগনবল জি সর্বকালের সেরা, এবং আশঙ্কার কথা হল এদের সংখ্যাটা রীতিমত বড়), ফ/জ এর তেমন কোন উল্লেখ নেই(কোন এক অজানা কারনে ফ/জ বাংলাদেশে তুলনামুলকভাবে কম আলোচিত) তখন হতাশ দৃষ্টিতে মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তো তাদের জন্যই, Please do yourselves a favor, watch the epicness that is Fate/Zero, “epic” in both literal meaning and the meaning used in daily life these days.

fate zero

 

Grave of the Fireflies – Reactional Post by Monirul Islam Munna

এনিমে দেখেও মন খারাপ হয়ে যাবে, এমনটা হয়তো সাধারণত কেউ চিন্তা করে না। কিন্তু প্রচুর এমন অনেক মুহূর্ত রয়েছে মনটা যেন ভালো হতেই চায় না। মনে ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন জাগে, একটু ভিন্ন কিছু না হয় হতো। এমন একটা অনুভূতির মধ্যে ফেলে দেওয়ার মত একটা মুভি ‘Grave of fireflies’

স্টুডিও গিব্লির মুভি ‘গ্রেভ অফ ফায়ার ফ্লাইস’, এমন একটা স্টুডিওর নাম শুনলেও ১ম এই আমরা ধরেই নি, ভালো কিছু একটা আছে। হ্যাঁ, এই মুভিটাতেও আছে, শুধু আছেই যে তা নয়, হয়তো আপনার চোখ দিয়ে নিজের অজান্তে ছলছল করে পানি পরবে!!!

২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে বসবাসরত ২ ভাই বোন ‘সেতস্কু’ and ‘সেইতা’কে নিয়ে মুভিটা। যুদ্ধের দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে মাকে হারিয়ে, আর সৈনিক বাবার কোন খোঁজ না পেয়ে এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় ঠাই নে ২জন। কিন্তু সেই আত্মীয়ের কাছে বেশ অবহেলিত হল ২ ভাই বোন। সৈনিকের ছেলে বলে, সেতস্কু অবহেলা মেনে না নিয়ে বোনকে নিয়ে পরিত্যক্ত এক স্থানে আশ্রয় নেয়। কিন্তু নিজের কাছে সম্বল বলতে কিছু নেই, কোন মতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করার চেষ্টায় লিপ্ত সেতস্কু আর সেইতা। আর সাথে রাতের তারার মত আলো ছড়ানো জোনাকি পোকাগুলা যেন ছোট প্রান ২টাকে আবার সতেজ আর সজিব করে তুলে। 

সেই ১৯৮৮ সালের মুভি কিন্তু মুভিটার আর্ট দেখে সত্যিই মুগ্ধ। এতো ভালো লেগেছে শুধু আর্টওয়ার্কের জন্য ১০ এ ১০ দিয়ে দিতে ইচ্ছে করবে। সাথে ভয়েস অ্যাক্টরগুলোর অ্যাক্টইং আর ওএসটিগুলোও বেশ ভালো। মাঝে মাঝে এনিমের কাল্পনিক জগত থেকে বাস্তব জগত যে কতটা কঠিন বা কষ্টের হতে পারে, সেই অনুভূতি সৃষ্টির জন্য ভিন্ন কিছুর মধ্যে খুজতে যেতে হবে না, এমন একটা এনিমে দেখেই সেটা ফীল করতে পারবেন।

Grave of the Fireflies