All Fiction 1: Random Topic

র‍্যান্ডম টপিক

স্পিরিচুয়াল সাকসেসর/Spiritual Successor

কোন সাহিত্যকর্ম বা কল্পকাহিনীর সাথে অপর একটি সাহিত্যকর্মের কাহিনিসুত্রে মিল না থাকা সত্ত্বেও উভয়েই একই ভাব বহন করে, অথবা অনেক কিছুতেই সাদৃশ্য থাকে , এরূপ একটি কাহিনীকে পূর্ববর্তী কাহিনীর স্পিরিচুয়াল সাকসেসর বলা হয়ে থাকে। একে স্পিরিচুয়াল সিক্যুয়ালও বলা হয়। দেখা যায় যে উভয় কাহিনীর সুপারন্যাচারাল ব্যাপারগুলো, অথবা কাহিনীর অগ্রগতিতে অনেকখানি মিল থাকে, কিন্তু তাকে সম্পূর্ণ এক বলা যায়না। গতানুগতিক সিক্যুয়ালগুলোতে যেমন একই কাহিনীধারাই বজায় রাখা হয়, এটা ঠিক সেরকম না।

এই ‘স্পিরিচুয়াল সাকসেসর’ টার্মটাতে বুঝানো হয় যে কোন সাহিত্যকর্মের স্পিরিট অপর কোন সাহিত্যকর্মে পরবর্তীতে সঞ্চালিত হয়, কিন্তু কাহিনীসূত্র হুবহু থাকেনা।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, জনপ্রিয় “প্রিন্স অফ পার্সিয়া” সিরিজের স্পিরিচুয়াল সাকসেসর হল “অ্যাসাসিন্স ক্রিড”। অ্যাসাসিনস ক্রিড গেমটিকে প্রিন্স অফ পার্সিয়ার গতানুতিক সিক্যুয়াল বানানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে তাকে একই ভাবধারার একটি গেম সিরিজ হিসেবে তৈরি করা হয়, সরাসরি সিক্যুয়াল নয়।

যুগে যুগে অনেক সাহিত্যকর্মই প্রকাশিত হয়েছে। হয়তোবা দেখা গেছে, এক প্রজন্মের সাহিত্যিকরা পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু সাহিত্য রচনা করেছেন, তাই তাতে পূর্বসুরির প্রভাব রয়ে গেছে।

অনেক জায়গাতেই দেখা যায়, মানুষজন তাদের প্রিয় সিরিজের ভাবধারার সাথে মিল থাকা অপর কোন সিরিজকে নকল বলছে। কিন্তু আদতে তা হল পূর্ববর্তী সিরিজটির স্পিরিচুয়াল সাকসেসর, নকল নয়।

All Fiction 1 – Character Spotlight: Kumagawa Misogi

ক্যারেক্টার স্পটলাইট –

কুমাগাওয়া মিসোগি / Kumagawa Misogi

মাঙ্গা : মেদাকা বক্স / Medaka Box

মেদাকা বক্স (Medaka Box) মাঙ্গার সবচেয়ে ডার্ক ক্যারেক্টার কুমাগাওয়া মিসোগি (Kumagawa Misogi)। ‘Born Loser’ বলতে যা বুঝা যায় , কুমাগাওয়া তার যথার্থ উদাহরণ। ভয়ংকর অ্যাবিলিটির অধিকারী বিকৃত মানসিকতার এই ক্যারেক্টারটি জীবনে সবকিছুতেই ব্যর্থ , সকলের কাছে সকল বিষয়ে হেরেছে , এমন একটি মানুষ।

মেদাকা বক্স মাঙ্গাতে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এবং ক্ষমতার(অ্যাবিলিটি) উপর ভিত্তি করে ক্যারেক্টার দের ‘Plus’, ‘Minus’, ‘Special’, ‘Normal’ ও ‘Not Equal’ এই কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যারা নেতিবাচক মানসিকতার ও ক্ষমতার অধিকারী , তাদের বলা হয় ‘Minus’। এবং এই মাইনাসদের মধ্যে সবচেয়ে মাইনাস , সবচেয়ে শক্তিশালী/নেতিবাচক হল কুমাগাওয়া। একজন মানুষের পক্ষে যতটা নেতিবাচক হওয়া সম্ভব , কুমাগাওয়া ঠিক ততটাই বিকৃত , নেতিবাচক মানসিকতার অধিকারী।

বলা হয় যে , কুমাগাওয়া জীবনে যত মানুষের সাথে মেলামেশা করেছে , তাদের সব নেতিবাচক দিকগুলোই সে নিজের করে নিয়েছে।

নাস্তিবাদি এই ক্যারেক্টারটির প্রধান ‘Ability’ হল ‘All Fiction’ , যার সাহায্যে সে যেকোনো কিছুর অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলতে পারে , নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে নিমেষেই । হাসতে খেলতে সে মানুষকে খুন করতে পারে। যেকোনো কিছুকে নাই করে দেওয়ার মত এই ক্ষমতার সৃষ্টি হয়েছে তার নেতিবাচক মানসিকতা থেকেই।

বিতর্কের খাতিরে বলতে গেলে, কুমাগাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী মাঙ্গা ক্যারেক্টার, কারণ তার রয়েছে যেকোনো কিছুর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দেবার ক্ষমতা।

তার কাছে মানুষের জন্মমৃত্যুর কোন মুল্য নেই। বেঁচে থাকার , জীবনকে উপভোগ করার অর্থ সে জানেনা। মাইনাসদের ছাড়া সে অন্য কোন মানুষকে বিশ্বাস করেনা , কারন শুধু মাইনাসরাই বুঝতে পারে অপর মাইনাস দের দুঃখ। মাইনাসদের সচরাচর অনুভূতি (emotion) প্রকাশ করতে দেখা যায়না , তারা হাসিমুখে সব অপমান , অপবাদকে অগ্রাহ্য করে।

স্বঘোষিত সবচেয়ে দুর্বল ক্যারেক্টার, কিন্তু আদতে শক্তিশালী , ভয়ংকর এবং আনপ্রেডিকটেবল ক্যারেক্টার কুমাগাওয়া মিসোগির হৃদয়েও রয়েছে নমনীয়তা। সে যাদের বিশ্বাস করে তাদের জন্য যেকোনো কিছুই করতে পারে। মাঙ্গার এক পর্যায়ে গিয়ে তার চরিত্রের নমনীয় এই দিকগুলোর পরিচয় পাওয়া যায়। তার নিজের ব্যর্থতা থেকে অন্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে মানুষকে সামনে অগ্রসর হবার কথা বলে সে…

কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে কুমাগাওয়ার দারুণ কিছু পান (Pun) যা পড়ে আপনারা না হেসে পারবেননা।

পারভার্টনেস তার অনন্য বৈশিষ্ট্য । পুরো মাঙ্গা জুড়েই রয়েছে তার এরোগিরি । কৌহাইদের নিয়ে সে গঠন করেছিল ‘Naked Apron Alliance’ নামক সংঘ। নাম শুনেই বুঝতে পারবেন সংঘটি কেমন :v ।

কিছু কিছু জায়গায় তার মাত্রাতিরিক্ত পারভার্টনেস নির্মল আনন্দের উৎস হিসেবে কাজ করবে।

তার অ্যাবিলিটিগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অ্যাবিলিটি হল ‘Hundred Gauntlet’ , যার মাধ্যমে কতগুলো বড় বড় স্ক্রু নিয়ে কুমাগাওয়া তার শত্রুদের আক্রমন করে। এই স্ক্রুগুলো কোন ক্ষতের সৃষ্টি করেনা , তবে যার গায়ে বিঁধে , তার মনটা কুমাগাওার মতই নেতিবাচক মানসিকতায় ভরে ওঠে। আর তার এই অ্যাবিলিটির মাধ্যমে শ্লেষাত্মকভাবে সে যেন মুণ্ডুপাত করে, স্ক্রুগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ (He sarcastically screws others with his large screws)।

মেদাকা বক্সের লেখক নিশিও ইশিন, যিনি মোনোগাতারি সিরিজের জন্য বিখ্যাত , সুপারন্যাচারাল কাহিনীসূত্র ও পাগলাটে ক্যারেক্টার সৃষ্টিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। আমার মতে কুমাগাওয়াই তাঁর সৃষ্ট সর্বোৎকৃষ্ট ক্যারেক্টার।

তাই পড়ুন মেদাকা বক্স মাঙ্গা , নিজেই উপভোগ করুন অসাধারণ, পাগলাটে ক্যারেক্টার কুমাগাওয়ার অবিশ্বাস্য সব কাণ্ডকারখানা।

All Fiction 1: Author Spotlight: Narita Ryohgo

লেখক সমাচার –

নারিটা রিয়োগো / Narita Ryohgo

ব্যক্তিগত তথ্য :

নারিটা রিয়োগো একজন নভেলিস্ট। তাঁর জন্ম ১৯৮০ সালের ৩০ই মে, জাপানের টোকিওতে। তিনি গিনতামা মাঙ্গার পাঁড়ভক্ত, তাঁর লেখার মধ্যেও গিনতামার প্রভাব রয়েছে ।

তাঁর দুটো লাইট নভেল ‘ডুরারারা’ এবং ‘বাকানো’র জন্য তিনি বিখ্যাত, কারণ এই দুটো নভেলই এনিমে অ্যাডাপশন পেয়েছে । ২০০৩ সালে যখন ‘বাকানো’র প্রথম ভলিউম প্রকাশিত হয়, তখন তাঁর বয়স মাত্র ২২ বছর। তার পরের বছরেই প্রকাশিত হয় তাঁর নভেল ‘ডুরারারা’র প্রথম ভলিউম ।

এর মধ্যে ‘বাকানো’ লাইট নভেলটির জন্য তিনি ‘9th Dengeki Novel Prize’ এ গোল্ডেন প্রাইজ পেয়েছেন।

লেখার ধরণ :

তাঁর লেখার স্টাইল একটু ভিন্নধাঁচের, মূলত স্যাটায়ার টাইপের(যদিও খুব কম মানুষই স্যাটায়ারিক স্টাইলের ব্যাপারটা ধরতে পারে)।

তিনি তাঁর গল্পের কাহিনীকে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে পুরো ভলিউমে ছড়িয়ে দেন। প্রতিটি অংশের কাহিনী এবং ক্যারেক্টারদের কার্যকলাপ স্বতঃস্ফূর্ত মনে হলেও শেষ পর্যন্ত দেখা যায় সবগুলো অংশই একসূত্রে বাঁধা। টুকরো টুকরো কাহিনীগুলো যেমন রসে ভরা, আনন্দদায়ক, তেমনি তার ভেতর লুকিয়ে থাকে সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের অজ্ঞতা ও বিকৃত মানসিকতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। ক্যারেক্টারগুলোকে মনে হবে হাস্যকর, পাগলাটে অথবা অতিসাধারণ। কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় তাদের মাহাত্ম্য কতোটুকু, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারবেন, হাস্যরসের আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোন অর্থ।

নারিটা সেন্সেইর লেখায় কাহিনীপ্রবাহ কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত থাকেনা, যার ফলে কেউ কেউ হয়তো পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। প্রত্যেকটা অংশের কাহিনী পুরোপুরি শেষ হবার আগেই তিনি অপর একটি অংশে কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাই প্রত্যেকটি অংশেরই সমাপ্তি জানতে হলে একেবারে শেষ পর্যন্ত না পড়ে উপায় থাকেনা।

শেষে যখন কাহিনীর প্রতিটা অংশ জোড়া লেগে যায়, তখন সবকিছু স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটাই নারিটা সেন্সেইর বিশেষত্ব।

নারিটা সেন্সেইর নভেল :

বাকানো ! /  Baccano!

ডুরারারা !! /  Durarara!!

ভাম্প ! /  Vamp!

তাঁর লেখা অন্যান্য সিরিজগুলোর ব্যাপারে জানতে-

http://en.wikipedia.org/wiki/Ryohgo_Narita

All Fiction 1- Durarara review

লাইট নভেল রিভিউ –

ডুরারারা / Durarara!!

লেখক : নারিটা রিয়োগো / Ryohgo Narita

জানরা : অ্যাকশন, সুপারন্যাচারাল, সাইকোলজিক্যাল, ড্রামা, মিস্টেরি, রোমান্স

ভলিউম : ১৩

সময়কাল : এপ্রিল ১০, ২০০৪ – জানুয়ারি ১১, ২০১৪

স্ট্যাটাস : কমপ্লিটেড

কাহিনীসূত্র :

ডুরারারার পটভূমি টোকিওর ইকেবুকুরো শহরে । ইকেবুকুরো, যেখানে জীবন কোন বিরাম জানেনা, ঘরে-বাহিরে, সড়কে-দপ্তরে, সবখানেই প্রানের জোয়ার বয়ে যায়।

ব্যস্ত এই শহরে রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্থান… বাতাসে নানারকম গুজবের ছড়াছড়ি, মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বিপদের গন্ধ। রয়েছে বিভিন্ন গুন্ডাবাহিনী, তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব… কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় এক শহুরে কিংবদন্তি। এই কিংবদন্তি এক মুণ্ডুবিহীন মোটরবাইকচালকের, যার আপাদমস্তক কুচকুচে কালো রাইডার স্যুটে ঢাকা, এমনকি তার হেডলাইটবিহীন বাইকটিও কালো। এতটাই কালো যে তাতে কোন আলো প্রতিফলিত হয়না।

কাহিনীর শুরু রিউগামিনে মিকাদোকে দিয়ে, যে তার বাল্যবন্ধু কিদা মাসাওমির আমন্ত্রণে ইকেবুকুরোতে আসে, হাইস্কুলে পড়ার জন্য। এবং ধীরে ধীরে সে মিশে যায় ইকেবুকুরোর ব্যস্ত নগরজীবনে, এর অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন ঘটনাক্রমে সে পরিচিত হয় ডুরারারার ক্যারেক্টারদের সাথে।

প্রথমদিকে স্কুললাইফ বেসড মনে হলেও দ্রুতই নভেলটি অ্যাকশন-সাইকোলজিক্যাল-সুপারন্যাচারাল-রোমান্স জানরায় পদার্পণ করে এবং অসাধারণ একটি নভেলে রুপ নেয়।

ক্যারেক্টার :

প্রধান ক্যারেক্টারদের মধ্যে রিউগামিনে মিকাদো, সোনোহারা আনরি, কিদা মাসাওমি, ওরিহারা ইযায়া, হেইওয়াজিমা শিজুও, সেলটি স্টারলুসন, শিনরা কিশিতানি, কাদোতা কিয়োহেই অন্যতম।

ডুরারারার ক্যারেক্টারদের প্রত্যেকেরই রয়েছে মৌলিক কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, যা তাদের বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রাণবন্ত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই জমে উঠেছে ডুরারারার কাহিনী । ইকেবুকুরোর ব্যস্ত জীবনে তাদের কর্মচাঞ্চল্য, ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ডগুলো শেষ পর্যন্ত একসুত্রে গেঁথে যায়, যা নভেলের কাহিনীকে নিয়ে যায় এক অনন্য মাত্রায়।

ডুরারারার প্রথম ৩ ভলিউম মূলত এই ক্যারেক্টারদের ঘিরেই । ভলিউম ৪ থেকে আরও বৈচিত্র্যময় নতুন ক্যারেক্টারদের আবির্ভাব ঘটে, আগের ক্যারেক্টারদেরও দারুণ ডেভেলপমেন্ট হয়।

নিজস্ব মতামত :

আর্ট ভালো নয়, ক্যারেক্টার ডিজাইন মোটামোটি। তবে নভেলে আর্টের তেমন একটা প্রভাব নেই। নারিটা সেন্সেইর কাহিনী বর্ণনায় অসাধারণ দক্ষতার কারনে প্রতিটি ভলিউমই একেবারে শেষ পর্যন্ত না পড়ে পারা যায়না। তবে যাদের বই পড়ে অভ্যাস নেই, তারা বিরক্ত বোধ করতে পারেন। কারণ কাহিনীর প্রতিটি অংশ কালানুক্রমিকভাবে সজ্জিত নেই, এক অংশের কাহিনী একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার পর অন্য একটি অংশের কাহিনী শুরু হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত না পড়লে প্রতিটি কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, ঘটনাগুলোর সমাপ্তি জানতে পারবেন না। পড়তে শুরু করলে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলবেন, না শেষ করে উঠতে পারবেননা,

এমনটাই মনোমুগ্ধকর ডুরারারার কাহিনীবিন্যাস।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, সুপারন্যাচারাল ক্যারেক্টারদের সাধারণ জীবনযাপন, নিখাদ অ্যাকশন, সাধারণ ক্যারেক্টারদের অসাধারণ কর্মকাণ্ড, কোন অংশেই কম নয় এমন একটি নভেল ডুরারারা।

তাই আমি বলব, দ্রুতই পড়া শুরু করুন। পড়লে পস্তাবেন না, অন্তত এটুকু আশ্বাস দিতে পারি।

কাহিনিসুত্র : ১০

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট : ৯.৭

আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন : ৭.৫

সর্বমোট : ৯.৫/১০

মাইএনিমেলিস্ট রেটিং : ৮.৬৭

All Fiction 1: Claymore Review

মাঙ্গা রিভিউ –

ক্লেমোর / Claymore

মাঙ্গাকা : ইয়াগি নোরিহিরো / Norihiro Yagi

জানরা : অ্যাকশন , ট্র্যাজেডি , সুপারন্যাচারাল , ডার্ক-ফ্যান্টাসি , হরর , ড্রামা

প্রকাশনা : Jump Square (former Monthly Shounen Jump)  

চ্যাপ্টার : ১৫২

স্ট্যাটাস : অনগোয়িং

কাহিনিসুত্র এবং ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট :

মানুষের ভিড়ে লুকিয়ে আছে মনুষ্যরূপী নরখাদক দানব, আর সেই দানব নিধনে বেরিয়ে পড়েছে তলোয়ারধারী এক রমণী। পিঠে বিশাল তলোয়ার, পরনে যুদ্ধের সাজপোশাক, রমণীর রণমূর্তিতে ত্রস্ত জনসাধারণ। কারণ সেই রমণীও যে অর্ধ-দানব, তাই দানবের মোকাবিলা করাও যে তাকেই মানায়। এগিয়ে যায় মানব-দানব সংকর যোদ্ধা, মুখোমুখি হয় নরখাদক বর্বর দানবের। অর্ধ-দানব হলেও মানবজাতির একমাত্র ত্রাতা এই যুদ্ধংদেহী রমণীরাই।

ক্লেমোরের পটভূমি রচিত হয়েছে একটি মধ্যযুগীয় দ্বীপে , যেখানে বসবাস করে “ইয়োমা” নামক এক ধরনের দানব। ইয়োমারা তাদের আকৃতি বদলে মানুষের রুপ ধারন করতে পারে এবং মানুষের মাঝেই বসবাস করে। যার দেহে ইয়োমা বসবাস করে , তার স্মৃতি এবং বিবেক বহন করে বলে ইয়োমারা মানুষের মাঝে সম্পূর্ণরুপে মিশে যেতে পারে , তাদের শনাক্ত করার কোন উপায় থাকেনা। ইয়োমারা মানুষের নাড়িভুঁড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে, দুই সপ্তাহের বেশি সময় না খেয়ে থাকতে পারেনা। তাই নাড়িভুঁড়ি খাওয়ার জন্য নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করতে হয় তাদের।

“দ্যা অর্গানাইজেশন” নামক এক রহস্যময় সংগঠন অর্ধ মানব-অর্ধ ইয়োমা নারীযোদ্ধা তৈরি করে। এই যোদ্ধারা অর্থের বিনিময়ে ইয়োমা মারে , সেই অর্থ অর্গানাইজেশন থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এই নারীযোদ্ধাদের বলা হয় “ক্লেমোর” , কারন তারা সবসময় পিঠে ক্লেমোর নামক বড় এবং ভারী তলোয়ার বহন করে এবং এই তলোয়ার দিয়ে ইয়োমা খুন করে। তাদের রুপালি বর্ণের চোখের জন্য লোকে তাদের “রুপালি চোখের ডাইনী” বলেও অভিহিত করে।

ইয়োমাদের মধ্যে একধরনের আসুরিক শক্তি বিদ্যমান , যাকে বলা হয় “ইয়োকি”। এই ইয়োকি তাদের অতিমানবীয় শক্তি এবং আকৃতি বদলের ক্ষমতা প্রদান করে। শুধু ক্লেমোররাই পারে মানুষের রূপধারণকারী ইয়োমাদের শনাক্ত করতে , কারন ইয়োমাদের মত ক্লেমোররাও ইয়োকি বহন করে। তবে ক্লেমোররা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই শক্তি ব্যবহার করতে পারে । এই নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে তারা তাদের মনুষ্যরুপ হারায় এবং “Awakened Being” নামক একধরনের উৎকৃষ্ট ইয়োমায় পরিণত হয়। এই ঘটনাকে বলা হয় “Awakening”।

ক্লেমোররা মানুষের হৃদয়, কিন্তু ইয়োমার শক্তি বহন করে। যখন তাদের মনুষ্যহৃদয় ইয়োমার শক্তি দমিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয় , তখনি তারা সীমা অতিক্রম করে এবং Awakened being এ পরিণত হয়।

নিয়ম রয়েছে যে, যদি কোন ক্লেমোর অর্গানাইজেশন পরিত্যাগ করে অথবা মানুষ খুন করে, অথবা Awakened Being এ পরিণত হয় , তবে অন্য ক্লেমোররা তাকে অবশ্যই মেরে ফেলবে।

ক্লেমোর মাঙ্গার দ্বীপটি ৪৭টি অঞ্চলে বিভক্ত। প্রত্যেকটি অঞ্চল অর্গানাইজেশনের একজন ক্লেমোরের দায়িত্বাধিন। মোটমাট ৪৭ জন ক্লেমোর তাদের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে পদমর্যাদা পেয়ে থাকে , তাদের পদমর্যাদা দিয়েই তাদের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

ক্লেমোর মাঙ্গার ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট অসাধারণ। মাঙ্গাটির কাহিনী শুরু হয় অর্গানাইজেশনের সবচেয়ে দুর্বল/নিম্ন পদমর্যাদার ক্লেমোর ক্লেয়ারের একটি ইয়োমা শিকারের মধ্য দিয়ে । ধীরে ধীরে জানা যায় ক্লেয়ারের হৃদয়বিদারক অতীত, তার বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য, ক্লেমোর হয়ে ওঠার মুল কারণ। সময়ের সাথে সাথে ক্লেয়ারের বেশ কিছু বন্ধু হয়, মরণপণ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা হয়। ক্যারেক্টাররা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে , নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে , নতুন রহস্যের সম্মুখীন হয়।

এক পর্যায়ে জানা যায় অর্গানাইজেশনের আসল পরিচয়, ইয়োমা উৎপত্তির রহস্য এবং আরও অনেক উত্তেজনাকর তথ্য। সবচেয়ে শক্তিশালী Awakened being – “The Abbysal Ones” এবং তাদের চেয়েও শক্তিশালী , প্রিসিলা… এদেরকে ঘিরেই বাড়তে থাকে উত্তেজনা।

প্রথমদিকে মাঙ্গাটিকে সাধারণ অ্যাকশন-সুপারন্যাচারাল মাঙ্গা মনে হলেও ধীরে ধীরে তা পাঠকের আগ্রহ বাড়াতে থাকবে। মাঙ্গাটির আসল আকর্ষণ এর মারমার-কাটকাট ব্যাটলের দৃশ্য এবং হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। সব ব্যাটলই “Survival of the fittest” এর নিদর্শন । মাঙ্গাটিতে প্রচুর রক্তপাত ও মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে , কিন্তু তা এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লেমোর মাঙ্গায় প্রচুর রিয়াল সোর্ডফাইটিং স্কিল ব্যবহৃত হয়েছে , সোর্ডফাইটিং টেকনিকগুলো বাস্তবে ব্যবহৃত হত একসময়।

তাই যারা সোর্ডফাইটিং এনিমে/মাঙ্গা পছন্দ করেন , তাদের জন্য ক্লেমোর মাঙ্গা বেশি রিকমেনডেড।

আর্ট :

ক্লেমোর মাঙ্গার আর্ট এর কাহিনীর মতই অসাধারণ। সব অ্যাকশন দৃশ্যই সুনিপুণভাবে আঁকা এবং স্পষ্ট । ক্লেমোরের দৃষ্টিনন্দন ব্যাকগ্রাউনড এর অন্যতম আকর্ষণ , কিছু কিছু জায়গায় ফটোগ্রাফিক স্কেচ মনে হবে , এতোটাই পারফেক্ট।

প্রথম দৃষ্টিতে ক্যারেক্টার ডিজাইন তেমন একটা চোখে লাগবেনা । কারো কারো কাছে খারাপ লাগতেও পারে , কিন্তু আমি আশ্বাস দিচ্ছি , ক্লেমোরের ক্যারেক্টার ডিজাইন আসলে খুবই ভালো।

সব ক্লেমোরেরই চুল এবং চোখ রুপালী , তাদের পোশাকও এক-অর্গানাইজেশন থেকে সরবরাহকৃত আর্মার। এইসব বাধ্যবাধকতা নিয়ে, চেহারা-হেয়ারস্টাইলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পার্থক্য রেখে এতগুলা ক্লেমোর ক্যারেক্টার আঁকা, এবং এতগুলো চ্যাপ্টারে তা অবিকৃতভাবে বজায় রাখার প্রায় অসম্ভব কাজটাই করেছেন মাঙ্গাকা ইয়াগি নোরিহিরো সেন্সেই। কাহিনীসূত্রানুসারে মাঙ্গায় যথেষ্ট রক্তপাত থাকলেও নোরিহিরো সেন্সেই অসাধারণ স্পষ্ট আর্টের দ্বারা গোরকে(Gore) শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

কেন পড়বেন :

চরম উত্তেজনাকর সোর্ডফাইটিং , ধুমধাড়াক্কা অ্যাকশন , দৃষ্টিনন্দন আর্ট এবং মনোমুগ্ধকর কাহিনী…

আমার মতে, ক্লেমোরের স্টোরিলাইন অনেক জনপ্রিয় নভেলের চেয়েও ভালো , তাই দেরি না করে পড়া শুরু করুন।

যথেষ্ট আন্ডাররেটেড , না পড়লে পস্তাবেন।

আমার রেটিং :–

স্টোরিলাইন: ১০

ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট: ১০

ক্যারেক্টার ডিজাইন: ৯.৮

আর্ট: ৯.৮

ওভারঅল: ১০/১০

মাইএনিমেলিস্ট রেটিং : ৮.৪৪

জাপানি আনিমে ( Anime ) ইতিহাস,বিস্তারিতসহ সেরা ১০০ লিষ্ট — লেখক – ব্লগার দীপ

মূল লেখা – http://somewhereinblog.net/blog/dipmama007/29531102

ইদানিং আমি জাপানিজ আনিমেগুলোর বেশ ফ্যান হয়ে গেছি। তাই এ বিষয়ে যাকিছু জানলাম শেয়ার করলাম। এবং জাপানের সবথেকে বিনোদনমুলক সাইটের করা সেরা ১০০ এর চার্ট শেয়ার করলাম। তথ্যসকল উইকি এবং ওই সাইট থেকে নেওয়া।

আনিমে

জাপানি アニメ আনিমে।
ইংরেজিভাষায়ঃ Anime অ্যানিমেই
বাংলা ভাষায়ঃ এনিমে।

সাধারণভাবে জাপানি আনিমশন চিত্রকেই আনিমে বলা হয়। কেননা এর বিকাশের লক্ষে এরাই। জাপান প্রথম আবিষ্কার থেকে শুরু করে যতপ্রকার উন্নতি সকল করেছে। এর দাবীদার নিশ্চিন্তে তারাই। এটাকে জাপানে মাঙ্গাও(কমিক) বলা হয় ।

জাপানের বাইরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আনিমে বলতে জাপানে নির্মিত আনিমেশনকেই বোঝায়। তবে পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গিতে আনিমে কিছটা অন্যরকম। ফলে সাধারনত আমরা আনিমে বলতে যা বুঝি, সেই সঙ্গায় সব জাপানি আনিমেশনই আনিমে হিসেবে আখ্যায়িত হতে পারে না। এক কথায় আনিমেকে আনিমেশনের একটি উপসেট ধরে নেয়া যেতে পারে।

কেননা আমরা আনিমে বলতে সাধারনত বাচ্চাদের কিছু মেসেজ ভিত্তিক ফিল্ম বুঝে থাকি। যদিও ধারনাটা ভুল, কিন্তু এটার প্রচলন অত্যাধিক বেশী। ফলে আমাদের ধারনা আলাদা একটা নিয়ম সৃষ্টি করেছে যে আনিমে হতে হলে বাচ্চাদের হতে হবে।

কিন্তু কিছু জাপানি আনিমেগুলো সে ধারা মানেনা। তারা অনেক এডাল্ট কন্টেন্ট ব্যবহার করে আনিমে ফিল্মগুলোতে। যা বাচ্চারা কেন বাচ্চার বাবাদের দেখতেও ঘামঝড়া অবস্থার সৃষ্টি করে। সাধারনত তারা রিয়েল একশনের থেকে এসব আনিমে বেশি বানিয়ে থাকেন।

প্রথাগতভাবে আনিমেগুলো হাতে নির্মিত হয়, তথাপি বর্তমানে অন্যান্য আনিমেশন চিত্রের মতো আনিমে নির্মাণেও কম্পিউটার সফ্‌টওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। আনিমের কাহিনী যেকোনও ধরণের সাহিত্য বা মিডিয়ার মত হতে পারে। চলচ্চিত্র, নাটক বা কল্পকাহিনীর যেকোনটি নিয়েই আনিমে নির্মাণ করা যেতে পারে। অন্যান্য মিডিয়ার মতোই ডিভিডি, টেলিভিশন সম্প্রচার, ভিডিও গেম্‌স, বিজ্ঞাপন, ভিএইচএস বা ভিসিডির মাধ্যমে আনিমে প্রচারিত এবং বণ্টিত হয়ে থাকে। মানে আনিমে মানেই ছোত পর্দা না। ঢাকঢোল পিটিয়ে সসম্মানে এগুলোকেও হলে রিলিজ করা হয়। পাশাপাশি ইংরেজিতে ডাবিং করে আন্তজাতিক ব্যবসা করা হয়।

আনিমে বা মাঙ্গা জাপানে খুবই জনপ্রিয় এবং তা বিশ্বব্যপী স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। দেখা যায় জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, এবং ইন্দোনেশিয়া এসকল এশীয় দেশগুলোতে আনিমে খুব জনপ্রিয়।এবং ইদানিং এগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে, রাশিয়া, সুইডেন সহ এসকল পাশ্চাত্য দেশগুলোতে অধিক প্রসারিত হয়েছে।

এবং দিন দিন মুভিলাভারদের ভিতরেও প্রভাব বিস্তার করছে এর নিজস্ব সক্রিয়তায়।

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আনিমে নির্মাণের ইতিহাস শুরু হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়াতে আনিমেশন চিত্র নির্মাণ শুরু হওয়ার পর জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাদের সংস্কৃতিতে এই পদ্ধতিটি প্রয়োগের চেষ্টা করে এবং তখন থেকেই আনিমের যাত্রা শুরু হয়।

সবচেয়ে প্রাচীন আনিমে নির্মিত হয়েছিল ১৯০৭ সালে।

১৯৩০-এর দশকে জাপানের তুলনামূলকভাবে অনুন্নত লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে সাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবর্তে আনিমের মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রকাশের বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কম খরচে যেকোনও ধরণের কাহিনী চিত্রায়িত করার এ ভিন্ন কোনও উপায় ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো জাপানের লাইভ-অ্যাকশন ইন্ডাস্ট্রি অর্থানুকূল্য পায় নি। সেখানে অর্থাভাব, বাজেট সমস্যা, স্থান সংকট এবং চরিত্র নির্মাণে সমস্যা ছিল। তাই এই বাজারটিও ছিল বেশ ছোট আকারের। জাপানে পশ্চিমা গড়নের কোনও মানুষ না থাকায় জাপান থেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র বা জাপানবিহীন কাল্পনিক বিশ্বের রূপায়ন এক প্রকার অসম্ভব ছিল। তাই আনিমেশন চিত্র শিল্পীদেরকে যেকোনও ধরণের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

স্নো হোয়াইট নির্মাণের মাধ্যমে ওয়াল্ট ডিজনি আনিমেশন চিত্রের মাধ্যমে যেকোনও ধরণের মিডিয়া নির্মাণকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ডিজনির জনপ্রিয়তা ও সফলতা দেখে জাপানের আনিমেশন শিল্পীরা উৎসাহিত হন।

ওসামু তেজুকা ডিজনির অনেকগুলো আনিমেশন কাহিনী জাপানি প্রেক্ষাপটে রূপায়িত করে সেখানে খরচের পরিমাণ বেশ কমিয়ে এনেছিলেন। অবশ্য তাকে অনেকটা অদক্ষ শিল্পী ও কুশলী নিয়ে প্রতি সপ্তাহে আনিমের একটি করে পর্ব নির্মাণ করতে হত। সে সময় বেশ কয়েকজন আনিমেশন শিল্পী ডিজনি বা তেজুকা ধরণের প্রচীন পদ্ধতি থেকে খানিকটা সরে গিয়ে নতুনত্ব আনেন এবং এভাবে নির্মাণ খরচ সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসেন।

১৯৭০-এর দশকে জাপানে ম্যাঙ্গা শিল্প ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ইংরেজি কমিক বইয়েরই জাপানি নাম ম্যাঙ্গা। এই ম্যাঙ্গাগুলোর কাহিনী নিয়েই তখন আনিমে নির্মিত হতে থাকে। বিশেষত ওআমু তেজুকার ম্যাঙ্গাগুলো চিত্রায়িত হয়েছিল। তেজুকাকে জাপানের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবে মেনে নেয়া হয় এবং তাকে বলা হয় “ম্যাঙ্গার প্রভু”।

তেজুকাসহ অন্যান্যদের চেষ্টায় আনিমের মধ্যে বৈশিষ্ট্যময়তা এবং সঠিক চরিত্রের পরিস্ফুটন সম্ভব হয়ে ওঠে। এ সময় জায়ান্ট রোবট ধরণের আনিমে এই শিল্পে বিপ্লব আনে। তেজুকা এই ধরণের আনিমে নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে গো নাগি এবং অন্যান্য। জাপানের বাইরে জায়ান্ট রোবট ধরণটি মেকা নামে পরিচিত। সেই দশকের শেষ দিকে ইওশিয়ুকি তোমিনো এই ধরণটিকে সফলতার পর্যায়ে নিয়ে যান। ৮০’র দশকে গুনডাম এবং মাকরসের মতো রোবট আনিমে সিরিজগুলো চিরায়ত শিল্পের মর্যাদা পেয়েছে। জাপান এবং বহির্বিশ্বে এখনও রোবট ধরণটি সবচেয়ে কঠিন। ১৯৮০’র দশকে আনিমে জাপানের মূলধারার শিল্পে স্থান করে নেয় এবং তখন থেকেই এর নির্মাণ শিল্পে প্রভূত সফলতা আসে। উল্লেখ্য আনিমের আগেই ম্যাঙ্গা জাপানের মূলধারায় স্থান করে নিয়েছিল। বিশ্ববাজারে ৯০ এবং ২০০০’র দশকে আনিমের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

যাইহোক এবার আসুন দেখি সেরা আনিমে কি !!!!

প্রথমে এখানে একটা লিষ্ট ছিল, যেটা অনেকের কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হয় নি। তাই হাইলি রেকমেন্ড করা একটা আনিমে সাইট থেকে, পোলের মাধ্যমের নির্বাচন করা সেরা ১০০ আনিমে দেওয়া হলো


এযাবতকালের সেরা ১০০ টি আনিমে।

Death Note
Naruto
Bleach
Code Geass
Full Metal Alchemist
Vampire Knight
One Piece
Inuyasha
Dragon Ball Z
Detective Conan (Case Closed)
Naruto Shippuuden
Dragonball
Ouran High School Host Club
Yu-Yu Hakusho
Fruits Basket
Elfen Lied
Avatar: The Last Airbender
Pokemon
Kyo Kara Maoh! (God! Save Our King)
Hunter x Hunter
Sailor Moon
D.N.Angel
Rurouni Kenshin (Samurai X)
Cowboy Bebop
Yu-gi-oh!
Blood+
Cardcaptor Sakura
Shugo Chara
CLANNAD
Gakuen Alice
Soul Eater
Trigun
Special A
Tsubasa Chronicle
Prince of Tennis
Samurai Champloo
The Melancholy of Haruhi Suzumiya
Full Metal Alchemist: Brotherhood
Chobits
Digimon
Hellsing
Full Metal Panic!
Karin (Chibi Vampire)
D. Gray-Man
Ranma 1/2
Claymore
Eureka 7
Rosario + Vampire
Neon Genesis Evangelion
Shaman King
Wolf’s Rain
Shakugan no Shana
Fooly Cooly (FLCL)
Black Cat
Lucky Star
Air Gear
Ghost in the Shell: Stand Alone Complex
Darker than Black
Fate/stay night
Dragon ball GT
Vampire Knight Guilty
Fairy Tail
Love Hina
School Rumble
Fushigi Yuugi
Yamato Nadeshiko (The Wallflower)
Shuffle
.hack// Sign
xxxHolic
Gundam Seed
Black Blood Brothers
Trinity Blood
Katekyo Hitman Reborn!
Zero no Tsukaima
Inuysaha: The Final Act
Tokyo Mew Mew Power
Devil May Cry
Gundam Wing
Skip Beat!
Michael & Yanci
Kaze no Stigm
La Corda D’Oro ~primo passo~
Loveless
Outlaw Star
GetBackers
Full Metal Panic The Secon Raid
Houshin Engi
Tenjou Tenge
Kaichou wa Maid-Sama!
Toradora!
Hellsing Ultimate
Transformers
Escaflowne
Azumanga Daioh
Myself;Yourself
Full Metal Panic Fumoffu
Zoids
Yu-Gi-Oh! GX
Kuroshitsuji (Black Butler)
Black Lagoon

সিঙ্গেল মুভি ভিতরে আমার পছন্দ এবং এগুলোকে নির্ধিদায় আমি মাষ্ট সি বলতে পারি।

Spirited Away (2001)
Princess Mononoke (1997)
Howl’s Moving Castle (2004)
Nausicaä of the Valley of the Wind (1984)
Ghost in the Shell
Cowboy Bebop: The Movie
Akira
Paprika
Millennium Actress
Sword of the Stranger
Grave Of The Fireflies
Whisper of the Heart
Wings of Honneamise
My Neighbor Totoro

এগুলো আমি দেখেছি। গোটা ১৫ টা টিভি সিরিজ ডাউনলোড চলছে। আগামী মাসে হয়তো হয়ে যাবে। তখন দেখা শুরু করবো।

Chihayafuru – রোমান্স, বন্ধুত্ব, চ্যালেঞ্জ, কমেডির মিশেলে একটি পরিপূর্ণ এনিম — লেখক মো আসিফুল হক

“Chihayafuru” কেন দেখবেন এই প্রশ্নের জবাব প্রথম ২ টা পর্ব দেখলেই পেয়ে যাবার কথা। অসাধারণ গল্প, সেই সাথে বন্ধুত্ব এবং হাল্কা রোমান্স ( আমি পার্সোনালি এনিমের রোমান্স খুবই অপছন্দ করি, সেই আমি এইটা রিকমেন্ড করতেছি :D ) – সব মিলিয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং একটি এনিম।

“কারুতা” জাপানের একটা কার্ড গেম, তবে জুয়া টাইপ না। এই খেলায় দুইজন খেলোয়াড় সামনাসামনি বসে, তাদের মাঝে ১০০ টা কার্ড থাকে। প্রত্তেক্টা কার্ডে একটা করে কবিতা লেখা থাকে। একজন “রিডার” রেন্ডম একটা একটা কবিতা পড়তে থাকে এবং প্রতিযোগীদের কাজ সেই কার্ডটা স্পর্শ করে নিজের করে নেওয়া। যে আগে অর্ধেকের বেশি কার্ড জোগাড় করতে পারবে সেই জয়ী।

চিহায়াফুরু খুব সরল একটা গল্প – আয়াসে চিহায়া একজন উঠতি মডেলের বোন – যার মন প্রাণ সব কিছুই কারুতার জন্য উৎসর্গীকৃত এবং এই মুহূর্তে তার এক্টাই লক্ষ্য – একটা কারুতা ক্লাব সেট করা। দুই বন্ধু আরাতা এবং তাইচির সাথে তার কারুতা খেলা শুরু এবং বিকাশ – যার মধ্যে আরাতা তার প্রথম কারুতা শিক্ষক। সেই জন্য আরাতার প্রতি চিহায়ার কিছু দুর্বলতা আছে।

কাহিনি কয়েক বছর এগিয়ে যায়। সবাই এখন হাই স্কুলে, পারিবারিক কিংবা অন্যান্য কারণে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং চিহায়া ছাড়া বাকি দুইজন কারুতা থেকে অনেক দূরে। তাইচি চিহায়ার স্কুলে ট্রান্সফার হয়ে আসে, তার এখন গার্লফ্রেন্ড আছে, ফ্যামিলির চাপে কারুতা থেকে অনেক দূরে। এইদিকে আরাতার দাদার মৃত্যুতে সে কারুতা খেলা ছেড়ে দিয়েছে। চিহায়ার পিড়াপীড়িতে তাইচি খেলা শুরু করে এবং স্কুলে কারুতা ক্লাব বানায়; আরাতাকে খুজে বের করে তাকে কারুতায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। এবং সেই সাথে কাহিনী এগিয়ে যায়।

চিহায়ার জীবনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য কুইন ( জাপানের সেরা মহিলা কারুতা প্লেয়ার) হওয়া। কারন, জাপানের বাইরে এই খেলার প্রচলন খুব কম, সুতরাং জাপানে শ্রেষ্ঠ হওয়া মানে পৃথিবীর ১ নাম্বার; জীবনের লক্ষ্য হিসেবে খুব খারাপ না; কি বলেন? :) :)

চিহায়াফুরু একটু অন্যরকম একটা এনিম। না ফুল রোমান্স, না ফুল স্পোর্টস। যদিও কারুতা খেলাটা খুব পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কি কি স্ট্রেটেজি দরকার, কিংবা কি কি এবিলিটি থাকলে ভাল কারুতা প্লেয়ার হওয়া যায়- সবই ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার সাথে বেশ কিছু ইন্টেন্স কারুতা ম্যাচও আছে; কিন্তু সব ছাপিয়ে চরিত্রগুলার পারস্পরিক সম্পর্ক এনিমে মুখ্য উপাদান।

কারুতা যেহেতু একটা টু প্লেয়ার গেম, তাই এনিমে চরিত্র খুব কম। হাতে গোনা ৬-৭ টা মুল চরিত্র, সেই জন্য চরিত্রগুলো বিকশিত হওয়ার এবং তাদের মাঝে সুক্ষ সম্পর্কগুলো বিকশিত হয়েছে খুব সুনিপুণবভাবে। মাত্র ২৫ পর্বে ১ম সিজন শেষ করে দেওয়া এই এনিমের ২য় সিজন কবে আসবে সেই অপেক্ষায় আছি। :) :)

এনিমের কাহিনীতো বোঝা গেল খুব ভাল, বাকি বিষয়গুলার কি অবস্থা? হ্যাঁ, এনিমটার আর্ট স্টাইল, পেস, সাউন্ড ট্র্যাক – সব কিছুই চমৎকার। দেখতে দেখতে কোথাও বোর হয়ে যাবেন না- সেইটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। :) :)

এই এনিমটি অনলাইনে দেখতে চাইলে এইখানে ক্লিক করতে পারেন। আর এনিম নিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে চলে আসতে পারেন এইখানে

তাহলে আর দেরি কেন? এখনই দেখা শুরু করে দিন এই ইন্টারেস্টিং এনিমটি।

হ্যাপি এনিমিং !!! :) :) :)

মাঙ্গা- এইটা আবার কি জিনিস? খায় না মাথায় দেয়? – একটি জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব ধরা পোষ্ট —লেখক মো আসিফুল হক

যারা পোস্টের শুরুতেই বানান ভুলের জন্য কইশা গালিগালাজের ধান্ধা করতেছেন, তারা একটু থামেন। বানান ভুল করি নাই,আমি মাঙ্গার কথাই কইতাছি, মঙ্গা না। :):):) মাঙ্গা হইল এক ধরনের জাপানিজ কার্টুন। যারা নিয়মিত এনিম দেখেন তারা এই শব্দটার সাথে বেশ ভালভাবেই পরিচিত।

যেহেতু ভাব ধরা পোষ্ট, শুরুতেই ওয়িকিপিডিয়া থেইকা “মাঙ্গার সংজ্ঞা” মাইরা দেই-
Manga are comics created in Japan, or by Japanese creators in the Japanese language, conforming to a style developed in Japan in the late 19th century.[1] They have a long, complex pre-history in earlier Japanese art.

ছোটবেলায় অনেকেই “চাচা চৌধুরী”, “টিনটিন” বা এই ধরণের কমিক্স গুলা পরছি। সহজ ভাষায় এগুলারই জাপানিজ ভার্শন হইল মাঙ্গা। জাপানে মোটামুটি সব বয়সের লোকজনই এগুলা পড়ে। এগুলার বিষয়বস্তুও নানা ধরণের। একশন- এডভেঞ্চার, রোমান্স, খেলাধুলা, ঐতিহাসিক, কমেডি, সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি, রহস্য- কি নাই !!!! আর এই মাঙ্গার বাজার কিন্তু খুব একটা খারাপ না। জাপানেই ২০০৯ সালে বাজার ছিল মাত্র ৫.৫ বিলিওন ডলারের মত !!!

মাঙ্গাগুলা হয় সাধারণত সাদা কাল কাগজে। রেয়ার কেইসে রঙ্গিন মাঙ্গাও দেখা যায়। সাধারণত এক বইয়ে এক পর্ব থাকে। আর মাঝে মাঝে কয়েকটা পর্ব নিয়া একটা বই বাইর হয়। সেই বইকে কি বলে জানেন – tankobon । সুন্দর নাম না? :P:P:P

অনলাইনে বহু মাঙ্গা পরার সাইট আছে। কঠিন লেভেলের এনিম
খোররা সাধারণত এনিম দেখার আগেই এনিমের মাঙ্গা পইরা ফেলে। আপনারা পড়তে চাইলে এইখানে অথবা এইখানে দেখতে পারেন।

আসেন এনিম দেখিঃ কি দেখবেন, কেন দেখবেন, কিভাবে দেখবেন- যারা এনিমের নামই কোনোদিন শোনেন নাই, কিংবা শুনলেও দেখেন নাই তাদের জন্য – ‘ A beginners guide to the magical world of anime’ লেখক- মো আসিফুল হক

২০১০ এর শুরুর দিকের কথা। ভার্সিটিতে ভর্তি শেষ কইরা আজাইররা ঘরে বইসা আছি। এক ফ্রেন্ড পেন্ড্রাইভ দিয়া কইল, “এইখানে একটা এনিম আছে। দেখিস।” কইলাম “এইসব পোলাপাইনের জিনিস দেইখা লাভ আছে? :|| :|| :|| ” ও কইল, ” কয়েক পর্ব দেইখা তারপর কইস।” এনিমটা ছিল “ডেথ নোট”।

যারা নিয়মিত এনিম দেখেন তারা তো বুঝতেই পারতেছেন তারপরের কাহিনী কি?!!! তারপর শুধুই ইতিহাস।:D:D:D:D এখনও ডেইলি বেসিসে এনিম দেখি। :):):)

প্রথমেই দেখা যাক এনিম কি?
এনিম, এনিমেশন, কার্টুন – সব গুলো অফিশিয়ালি মোটামুটি একই জিনিস মিন করে। তবে এদের ব্যাবহারে বেশ কিছু পার্থক্য আছে। নরমালি জাপানিজ এনিমেশনকে এনিম বলা হয়। এনিমেশন মুভি এবং কার্টুন এর সাথে এর মুল পার্থক্য বাকি দুইটা বেশ “childish” যেখানে এনিমের থিম এবং “target audience” বেশ বিস্তৃত।

এনিম নিয়া অনাগ্রহের কারন এবং জবাব-

এনিম নিয়া প্রথমেই যেই কথাটা শোনা যায় এইটা নাকি বাচ্চাদের জন্য তৈরি।শুরুতে আমারও এই ধারণা ছিল এবং প্রথম এনিম দেখার পর প্রবলভাবে সেই ধারণা পালটায়। সুতরাং যাদের এই ধারণা আছে তারা কষ্ট করে শুরুতে “ডেথ নোট” দেখেবেন। এইটা দেখার পরও যদি কেউ বলেন এনিম বাচ্চাদের জিনিস তাইলে একটাই কথা বলার আছে,” আপনার বড়দের জিনিস এখনও দুনিয়ায় তৈরি হয় নাই। অপেক্ষায় থাকেন।B-)B-)B-)

২য় আরেকটা সমস্যা ভাষা সমস্যা। এনিমে জাপানিজ ভাষায় কথা কয়। জাপানিজ তো বুঝি না। সমস্যা নাই। আমরা ৯৫% বাঙালি ইংলিশ মুভি সাবটাইটেল দিয়া দেখি। সাবটাইটেল ছাড়া একটা মুভিও দেখা হইত না। এইখানেও সেইম কেস। সাবটাইটেল আছে, সো নো চিন্তা।

এখন আসেন কি দেখবেন, কেন দেখবেন? :-& :-& :-& :-&
আপনি যদি এনিম জগতে একদম নতুন হন এবং “বাচ্চাদের জিনিস” জাতীয় বাজে ধারণা না থাকে তাইলে নারুতো দিয়া শুরু করতে পারেন। এইটার কাহিনীতে মোটামুটি কমেডি, ফাইট, রোমান্স থেইকা শুরু কইরা সবই আছে। দেখা শেষ হইলে অটোই পরের পার্ট মানে নারুতো শিপ্পুডেন দেখা শুরু করবেন এইটা সিউর।:P:P:P

কি কইলেন? নারুতো দেখছেন? এখন এই টাইপ অন্য কিছু খুজতাছেন? তাইলে মনের আনন্দে ওয়ান পিস, ব্লিচ দেখতে পারেন। কোন অংশেই হতাশ হইবেন না।

“ধুর মিয়া !!! খালি সুপার পাওয়ার জাতীয় এনিমের নাম কইতাছেন কেন? আর কোন টাইপ এনিম নাই?” থাকব না কেন? কি দেখবেন? “ধরেন গিয়া খেলাধুলা নিয়া কিছু নাই?” অবশ্যই আছে। সব রকম খেলা ধুলাই আছে। এখন তো ইউরো কাপ চলে, ফুটবল নিয়া দেখতে চাইলে “Aoki Densetsu Shoot!”, “Hungry Heart”,”Captain Tsubasa” দেখতে পারেন। “ধুর, ফুটবল ভাল লাগে না। অন্য কোন খেলা নাই?” টেনিস ভাল লাগ্লে “prince of tennis” , বাস্কেটবল ভাল লাগলে “Basquash” দেখেন।

“নারে ভাই !!! এগুলা দেখুম না, কার রেসিং এর মুভি দেইখা আর কিছু ভাল লাগে না। কার রেসিং নিয়া কিছু থাকলে ভাল হইত !!!/:)/:)/:)“। চিন্তার কিছু নাই। “initial D” দেখেন, আশা করি মুভিতে কি দেখছিলেন ভুইলা যাইবেন।

” আমি আবার বক্সিং ভালা পাই। আমার জন্য কিছু নাই?” থাকব না কেন? “hajime no ippo” দেখছেন? সবার জন্য সাজেশন রইল। খেলাধুলা ভাল লাগলে এইটা ভাল লাগবই।

“আমি আবার এইসব বাইরে বাইর হইয়া খেলাধুলা করি না। কার্ড খেলি দুর্দান্ত। ওই টাইপের কোন এনিম নিশ্চয়ই নাই?” হে হে, আছে আছে। “akagi” আর “saki” দেখছেন? যদিও কার্ড না, মাহজং নিয়া এনিম, তয় একই জিনিস। আমরা কার্ড খেলি আর জাপানিজরা মাহজং খেলে। দুইটা এনিমের গেম্বলিং পার্ট গুলা বেশী জোস।

“ধুর মিয়া !!! সেই কখন থেইকা খালি খেলাধুলা নিয়া আলোচনা করতাছেন !!!X(X(X( আর কিছু নাই নাকি? আমি মনে করেন সামুরাই বা সোরড ফাইট ভালা পাই। এইরকম কিছু আছে নাকি?” “Rurouni Kenshin” দেখেন, ভাল লাগবই।

“এত কিছু আছে রোমান্টিক টাইপ কোন এনিম নাই?” আছে আছে। এনিমের আলাদা সেকশনই আছে “হারেম” নামে। আমি অবশ্য এই টাইপ এনিম সতর্কতার সহিত এরাইয়া চলি। কেউ দেখতে চাইলে “harem anime” লেইখা গুগলে সার্চ দিলে দুনিয়ার এনিমের নাম পাইবেন।

“সবই তো কইলেন। ফ্যান্টাসি টাইপ জিনিসপত্র তো মাঝে মাঝে দেখতে মুঞ্চায়। কি করা?” “ah my goddes” আর “twelve Kingdoms” দেখেন।

” কয়দিন আগে শারলক হোমস টিভি সিরিজটা দেখলাম। খুব ভাল লাগছে। এই টাইপের কিছু আছে নাকি?” “Detective Conan” দেখেন, গোয়েন্দা টাইপ আছে, তবে ভুলেও শারলক হোমসের সাথে তুলনা করতে যাইয়েন না, ওইটা বেশী জোস জিনিস।

“সবই তো কইলেন, কিন্তু পামু কই সেইটা তো কইলেন না!!!” এইখানে বলা সব এনিমইএইখানে পাইবেন। আমি এইখান থেইকা আইডিএম দিয়া নামাইয়া দেখি।

বহুত টাইপই তো কইলাম। আরও বহু আছে। দেখা শুরু করেন, আস্তে আস্তে নিজেই জান্তে পারবেন। শুরু করাটাই কষ্ট, একবার শুরু করলে দেখবেন কি জোস জিনিস। :):):):)

হ্যাপি এনিমিং !!!!