Giant Killing [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Giant Killing 1

Anime – Giant Killing
Genre – Sports, Seinen,Drama
Episodes – 26
জায়ান্ট কিলিং বেশির ভাগ স্পোর্টস জনরার আনিমেগুলোর তুলনায় যে দিক থেকে একে উপরে রাখবো তা হল কাহিনীটা বেশ বাস্তবধর্মী । সাধারণত, স্পোর্টস আনিমেগুলো জমজমাট করে তুলে ধরার জন্য সুপারন্যাচুরাল উপাদানের আশ্রয় নেয়, অনেকেই তা নেতিবাচক দিক হিসেবে ধরে নেয় । যদিও আমার এ নিয়ে কোন অভিযোগ নেই । ঠিক তাদের জন্যই আসল স্পোর্টসের উত্তেজনা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই আনিমেটি মূলত, তবে এ বিষয়ে কিছু দিক থেকে আনিমেটি সফল আবার কিছু দিক থেকে ব্যর্থ ।
কাহিনী মূলত তাৎসুমি তাকেশি চরিত্রটিকে ঘিরে । বেশিরভাগ স্পোর্টসে যেখানে খেলোয়াড়রাই মূল চরিত্র, এখান থেকে আনিমেটা ব্যতিক্রমী । কেননা মূল চরিত্র হল, দলে কোচ যারাই ঠিক ম্যাচটা নিয়ন্ত্রন করে খেলোয়াড়দের নিজেদের দাবার গুটির মত । যাই হোক, তাৎসুমি তাকেশি একজন নামকরা খেলোয়াড় ছিলেন যে কি না এসে জোগ হয় ETU ( East Tokyo United ) নামক এক ছোট দলের ম্যানেজার হিসেবে । তার ঘাড়ের উপর চেপে পরে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তা হল ETU-কে ঠিক জাপানি লিগের এক ভালো অবস্থান করানোর জন্য । তার এ যাত্রাটাই মূলত তুলে ধরে পুরা আনিমেটিতে ।
আনিমের আর্টটি তেমন আহামরি কিছু নয়, তবে খুব খারাপ যে তাও না । একেবারে অতি সাধারণ মানের । চরিত্রের ডিজাইনটা ঠিক বলব চেহারাগুলো বেশ চোখ্যা করে বানানো নাইলে বেশ গোলগাল করে । তবে যে জিনিশটা খুব একটা চোখে বাঁধবে তা না । আর ইনসার্ট মিউজিকগুলা বেশ দারুন । জমজমাট মুহূর্তগুলো আরও জমজমাট করে তুলে । ওপেনিং-এন্ডিংটা ছিল মোটামোটি, এটা ভালো লাগতেও পারে আবার না-ও পারে বিষয়টা সম্পূর্নভাবে আপনার রুচির উপর নির্ভর করবে জিনিশটা । জাপানির পাশাপাশি জার্মান, পর্তুগিজ এবং ফরাসি ভাষার প্রয়োগ পাবেন আনিমেটাতে অবশ্য তা ব্যবহার করবে সুধু সে জাতির চরিত্ররাই । এ এক ভালো দিক ছিল, অ্যাক্সেন্টটাও সুন্দর ছিল আর সাধারণ আনিমের মত সব জাতিরাই জাপানিতে কথা বলে এই পথ অনুসরন করে নাই । আনিমের প্রথমেই ইংরেজি শুনতে পাবেন তবে বুঝবেন না, সাবটাইটেলের সাহাজ্য নিতে হবে কারণ ইংরিশ ।

Giant Killing 2
এখানে চরিত্র অনেক থাকলেও সে তুলনায় ভালো লাগার মত চরিত্র কম । মূল চরিত্র হিসেবে তাৎসুমি মনে রাখার মত চরিত্র । সবসময় সে অনেক রিলযাক্সড মুডে থাকে । দেখলে মনে হবে যে দলের ব্যপারে তার কোন চিন্তা নেই কিন্তু আসল বিষয় ঠিক উলটো । আর এরকম এক ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরার ক্রেডিট সেকি তোমোকাজুর । সেইয়ূ হিসেবে সে যে বেশ অসাধারণ এর পরিচয় তিনি অনেক আগেই দিয়েছেন । আসলে তিনি অহংকারী, সিরিয়াস, অলস, প্রায় সব রকমের চরিত্রের সেরা কণ্ঠটাই দিতে পারেন বেশ সহজেই, তার কণ্ঠ দেওয়া চরিত্রগুলোর লিস্টের দিক তাকালেই বিষয়টা সম্পর্কে এক পরিষ্কার ধারণা হয়ে যাবে আপনার । একটা ফুটবল দলে ১১ জন থাকলেও ETU থেকে সবচেয়ে বেশি স্ক্রিনটাইম পেয়েছে জিনো, সুবাকি, সেরা, কুরোদা এবং মুরাকোশি । কম বেশি ৫ জনকে আপনার বেশ ভালো লাগবে । জিনোর ঠিক ভাব নেওয়া চরিত্রটি নির্ভুলভাবে ওনো দাইস্কে তুলে ধরেছেন । এসাথে সুবাকির মত চরিত্র তুলে ধরাই হল মিজুশিমা তাকাহিরোর সেরা দিক তাই এর কণ্ঠ অভিনয় নিঃসন্দেহে ভালো ছিল । কুরোদার মত চিল্লাপাল্লা করে এমন চরিত্র ইতৌ কেন্তারোকে নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে আগেও দেখেছি, এখানেও দেখলাম । ওকিয়ায়ূ রেন্তারোও সুন্দরভাবে মুরাকোশির রোলটা করেছেন । আর সব মিলিয়ে আনিমের সেরা চরিত্রটা ছিল সেরা (Sera, セラ) আমার মতে । তার কণ্ঠতেও কায়ানো তাকেতোশি বেশ ভালো কাজ করেছেন, যদিও এর সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই । সিরিজে মিলবে আরও ক্লাবের ভক্ত এবং অনেক রকম চরিত্র । ঠিক একটা ক্লাবকে ঘিরে যেরকম চরিত্র থাকে, প্রায় সবারই দেখা পাবেন আনিমেটায় ।
কোন আনিমেই নিঁখুত নয়, সে বিষয় এই আনিমেটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । আনিমেটির নেতিবাচক দিকগুলো (আমার কাছে), মূলত পুরা লিগে তাদের যাত্রার কাহিনী নিয়ে হলেও তেমনভাবে ভালো পরিমান স্ক্রিনটাইম পেয়েছে মাত্র ৩টি ম্যাচ । বাকি ম্যাচগুলো অনেকটা পর্বের মাঝেই দেখায় চলে গিয়েছে । পেসিংটা বেশ বেখাপ্পা ছিল, কিছু সময় অধিক তারাতারি কাহিনী আগায় আবার কিছু সময় অনেক ধীর গতিতে । কাহিনী মূলত তাদের জাপান লিগের যাত্রা তুলে ধরা নিয়ে হলেও কাহিনীর সারাংশ হল ‘ ক্লাব প্রথমে খারাপ খেলে, সবায় তাৎসুমির উপর আশা হারায়ে ফেলতে গিয়েও ফেলে না । এরপর ঠিক লিগের মাঝে তাদের এক অসাভাবিক পূর্ণ জাগরম ‘ । অবশ্য এ বিষয়টা নেতিবাচক-ইতিবাচক দুই ভাবেই নেওয়া যায় । শেষমেশ, কাহিনীর সমাপ্তিটা ছিল অসমাপ্ত ।
সবমিলিয়ে ভালো লাগার মত এক আনিমে । ম্যাচগুলোর মাঝে থ্রিল পাবেন । অনেক ভালো আনিমে, দেখে ফেলুন ।
[ সমাপ্তি ]

আমার নিজের স্পোর্টস জনরার মাঝে ইয়োমুশি পেডাল আর গার্লস উন্ড পান্জার (স্পোর্টস ট্যাগ নেই, তবুও এক হিসেবে ধরা যায়), এ দুটো আনিমের পর এটায় সবচেয়ে বেশি থ্রিল পেয়েছি ।

Giant Killing 3

Tsuritama অ্যানিমে রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Tsuritama.full.1107613

জনরাঃ কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ, স্পোর্টস, সাই-ফাই

“Even if the world ends tomorrow, I just want to fish!”

আচ্ছা, আপনারা কেউ কখনো বড়শি দিয়ে মাছ ধরেছেন? কেমন লাগে ব্যাপারটা? কাঠির গায়ে সুতো বেঁধে পানিতে টোপ ফেলে চুপ করে বসে বোরিং সময় কাটানোর মাঝে কি এমন থাকতে পারে, যা নিয়ে হারু আর কোকো এত হাইপড? কিংবা বড়শিতে মাছ গাঁথার পর সেটাকে খেলিয়ে ডাঙায় তোলা কি এমন কঠিন কাজ, যার জন্যে নাতসুকিকে “প্রিন্স” উপাধি দেয়া হয়েছে?কি এমন রয়েছে এই মাছধরাতে, যে দুনিয়া উল্টে গেলেও কিছু যায় আসে না??

কিংবা মনে করুন, আপনি একজন ট্রান্সফার স্টুডেন্ট। কিন্তু অনেক লোকজনের সামনে আপনি অত্যন্ত অকওয়ার্ড ফিল করেন। তাও কষ্টেসৃষ্টে ফার্স্ট ইমপ্রেশনটা ঠিক রাখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে গেলেন। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটানোর শব্দ শুনতে শুনতে আপনি স্পীচ দেয়া শেষ করে কেবল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন, এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে এসে উদয় হল রাস্তায় দেখা হওয়া সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন ছেলেটি! কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজেকে আবিষ্কার করলেন পুরো ক্লাসের সামনে, হাত নেড়ে এনোশিমা ডান্স করা অবস্থায়!! গেল আপনার সাধের ফার্স্ট ইম্প্রেশন!

HorribleSubs_Tsuritama_-_10_720p.mkv_snapshot_04.04_2012.06.16_13.44.05
অথবা, সবসময় একটা হাঁস বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাদার আসল উদ্দেশ্যটা কি? হারুর ব্যাপারে সে এত সতর্ক কেন? ইউকি আর নাতসুকিকে জোর করে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার মত পাগলামি ছাড়া তো আর তেমন কিছুই করেনা সে। কিংবা হারুই বা সমুদ্রে মাছ ধরতে এত আগ্রহী কেন? এনোশিমার প্রাচীন লোকগাঁথার সাথে কি ওদের কোন সম্পর্ক আছে?

অ্যানিমেটার শুরুটা এমনই ওলট পালট মার্কা, কোথা থেকে কি হচ্ছে আমি কিছু ঠাহর করে উঠতে পারছিলাম না। মাথায় মাছের জার নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সেলফ প্রোক্লেইমড এলিয়েন হারুর কাজকর্ম দেখে হাসি পাচ্ছিল, আবার ওর সরলতা দেখে মায়াও লাগছিল। কিন্তু যত এগোলাম, তত যেন কাহিনীটা আমাকে ভেতরে টানতে থাকল! ভেবেছিলাম কি, আর শেষে হলটা কি! সিম্পল একটা মনকে খুশি করে দেয়া হাসিখুশি স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমে হঠাৎ হয়ে গেল একটি জমজমাট রূদ্ধশ্বাস সাইফাই অ্যানিমে! এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপারটি হল, এতকিছুর মধ্যেও অ্যানিমেটা আমার মুখ থেকে একবারের জন্যেও হাসিটা মুছতে দেয়নি!
tsuritama_by_squ_chan-d56d05l
অ্যানিমেটার আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত সুন্দর। উজ্জ্বল, ঝলমলে রঙ ব্যবহার করে এনোশিমা নামক সমুদ্র উপকূলের শহরটিকে খুব মনোমুগ্ধকর উপায়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে; দেখে যে কারও মনে হতে বাধ্য, একবার যদি এনোশিমায় যেতে পারতাম! ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ উদ্ভট, আর এই উদ্ভট ডিজাইনের কারণেই যেন অ্যানিমেটা প্রাণ পেয়েছে। নাতসুকির মাছধরা বিষয়ক জ্ঞান, ইউকি ও হারুর এ বিষয়ে অজ্ঞানতা, শুধুমাত্র এই ফিশিং এর কারণে চারটা ছেলের জীবনে পরিবর্তন, তাদের মানুষ হিসেবে পরিণত হয়ে উঠতে দেখলে নিজের অজান্তেই তাদেরকে আপন মনে হতে থাকবে!

অ্যানিমেটার ওএসটি খুবই চমৎকার, ওপেনিং এন্ডিং একটাও স্কিপ করার মত না। আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্রতিটা সিচুয়েশনে পার্ফেক্টভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মাছধরা থেকে শুরু করে ক্লাইম্যাক্স, সবখানেই নিখুঁত আবহ তৈরি করেছে এর ওএসটি।

সবমিলিয়ে অ্যানিমেটা আবার খুবই ভাল লেগেছে, ভিন্নধাঁচের স্লাইস অফ লাইফ ও সাই-ফাইয়ের মিশ্রণ দেখে আরও বেশি ভাল লেগেছে। অনেকদিন পরেও তাপিওকার “ডাক” মনে করে আমি হাসব, নাতসুকি, ইউকি, হারু আর ইয়ামাদার বন্ধুত্বের কথা মনে করে আনন্দ পাব। আর ক্লাইম্যাক্সের সেই লোম খাড়া করা মূহুর্তগুলো তো কখনোই পুরনো হবার নয়!

tsuritama_wallpaper_by_chatlantic-d5974r8

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #৩২: Cross Game — Nehal Hasnaeen

“এনিমখোর রিভিউ কন্টেস্ট [২০১৫] – বিশেষ পুরস্কার অধিকারী এন্ট্রি”

————————————————————————————————————-

রিভিউ – ক্রস গেইম (আনিমে)

আনিমের ক্ষেত্রে যে কয়টা জনরার জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি তাদের মধ্যে স্কুল আর স্পোর্টস একদম প্রথম সারির দিকে থাকবে। সমস্ত স্পোর্টস আনিমের কাহিনী-ই কম বেশি গৎবাঁধা, স্কুলে নতুন এইসের আগমন, তার হাত ধরে ক্লাবের পুনর্জীবন, প্রথম টুনার্মেন্টে হেরে পরেরটায় বিক্রমের সাথে জয়লাভ – এসব প্রায় সব এনিমখোরেরই দেখা হয়ে গেছে। তারপরেও স্পোর্টস আনিমের উত্তেজনায় আমরা বুঁদ হয়ে থাকি, এর সাসপেন্স একেবারেই দুর্বল হৃদয়ের দর্শকদের জন্যে নয়। প্রতিটা পর্বের জন্য এক সপ্তাহ বসে থাকাটাও অনেক কষ্টের। কিন্তু আমার এই রিভিউ টা এমন একটা আনিমে নিয়ে, যেটা কিনা একই সাথে উত্তেজনাপূর্ণ এবং শান্ত। সাধারণ স্পোর্টস-স্কুল আনিমের আভাস থাকলেও এটা যেন তার চেয়েও বেশি কিছু। বলছিলাম “ক্রস গেইম” এর কথা।

৫০ পর্বের এই আনিমের প্রধান চরিত্র কোউ কিতামুরা, যার পরিবারের খেলাধুলার সামগ্রির ব্যাবসা আছে। একই এলাকায় সুকিশিমা পরিবারের বাস, যাদের একটা ব্যাটিং সেন্টার ও কফি শপ আছে। তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে দুই পরিবারের মাঝে একটি গভীর বন্ধন সৃষ্টি হয়, দুই পরিবারের সন্তানরা আপনজনের মতই ছোটবেলা থেকে মেলামেশা করে। সুকিশিমা ওয়াকাবা আর কোউ সমবয়সী হওয়ায় তারা সবসময় একসাথে থাকত, যা সুকিশিমা আওবার একদম পছন্দ ছিলনা। সে তার বোনের সাথে সময় কাটাতে পারত না বলে কোউ কে হিংসা করত। আওবা মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও ভাল পিচিং পারত, তার পিচিং ফর্মও ছোটবেলা থেকেই নিখুঁত ছিল। এদিকে কোউ ছিল সুকিশিমা ব্যাটিং সেন্টারের হোমরান রেকর্ডধারী। আওবার কাছে একবার হারার পর ওয়াকাবা কোউ কে আওবার চেয়ে ভালোভাবে পিচ করার জন্য উৎসাহ যোগায়, তাকে আওবার মতই নিয়মিত ট্রেনিং এর পরামর্শ দেয়। তারপর থেকে কোউ ৩ বছর ধরে প্রত্যেক দিন সেই একই ট্রেনিং করে। ক্রস গেইম তারই একজন বেসবল খেলোয়াড় হয়ে উঠার কাহিনী।

স্টোরি – ৯/১০

ক্রস গেইম তার জনরার অন্য আনিমে থেকে এইদিক থেকে আলাদা, যে এইখানে প্রধান চরিত্রকে কেবল একজন এইস খেলোয়াড় হিসেবে দেখানো হয়না, মাঠের বাইরের রক্ত মাংসের মানুষটাকেও তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাকেই না, অন্যান্য চরিত্রদেরও যথেষ্ঠ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এখানে। তারা কি করে, কি চায়, কেন, তাদের আত্মোপলব্ধি, সবকিছুই বিশ্বাসযোগ্যভাবে উঠে এসেছে। আনিমেটা বেসবল কেন্দ্রিক হলেও এতে স্লাইস অফ লাইফ-ট্র্যাজেডি ইত্যাদি উপাদানের ভাল সংমিশ্রন ঘটেছে। বলা যায়, কাহিনী কখনো সুথিং, আবার কখনো উত্তেজনাময়। মাঝে বেশ কিছু সময় খেলার উপর প্রাধান্য না দিয়ে চরিত্রদের প্রাত্যহিক জীবন তুলে ধরেছে আনিমেটি। মাঝের কিছু জায়গার ফ্ল্যাশব্যাকগুলো বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সবাই কিসের জন্য এত হন্যে হয়ে সামনের দিকে ছুটছে, জীবনে সামনের দিকে তাকানোর রসদ তারা কিভাবে পায়। আনিমের কাহিনীর বিকাশে ট্র্যাজেডি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেটা স্পোর্টস আনিমেতে তেমন একটা দেখা যায়না। এত কিছু আনিমেটি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে খুবই সহজ ও সাবলীলভাবে, কখনোই এতে জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয় নাই, দর্শককে বিনোদন দিতে আনিমেটির কোন সময়ই অতিমাত্রায় চেষ্টা করতে হয়নি। বেসবল অংশগুলা ভাল হলেও তা ক্যারেকটারদের কছে প্রাধান্য কিছুটা হলেও হারায়, তবে যতটা দরকার ঠিক ততটুকুই আছে। কমেডিও নজরকাড়া, জোক্সগুলোর টাইমিং একদম ঠিকঠাক। কাহিনী কোন জায়গাতেই মুখ থুবড়ে পড়েনি, এর পেসিংও ৫০ পর্বের একটি আনিমের জন্য উপযুক্ত ছিল। এন্ডিং ও আমার মতে বেশ হয়েছে।

আর্ট – ৮/১০

আনিমেটি প্রোডিউস করেছে সিনার্জি এসপি, যারা আরেক বিখ্যাত বেসবল আনিমে মেজর সিরিজেরও প্রোডিউসার। ক্যারেকটার ডিজাইন কিছুটা ক্লাসিক ধাঁচের, আমার দেখে ‘৯০ দশকের আনিমেগুলার কথা মনে পড়েছে। বেশ সুথিং হলেও একটা সমস্যা, আওবা আর কোউ এর মাঝে পার্থক্য করতে প্রায়ই কষ্ট হয়েছে। ২০০৯ এর এই আনিমের এনিমেশানও যথেষ্ঠ ভাল, তবে তা গতানুগতিকের খুব একটা ব্যতিক্রম না। তবে তা তেমন কোন সমস্যা সৃষ্টি করেনা, বরং ক্যারেকটার ডিজাইন এর কাহিনী ও সেটাপের জন্য যথোপযুক্ত ও মানানসই।

চরিত্র –১০/১০

স্পোর্টস জনরার মধ্যে অন্যতম সেরা ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট দেখিয়েছে এটি। যেখানে একই ধরণের অন্যান্য আনিমেগুলা খেলার দিকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেয়, খেলার টগবগে উত্তেজনাপূর্ণ সিনগুলোকে দেখাতে গিয়ে স্বয়ং খেলোয়াড়দের কথা বেমালুম ভুলে যায়। কিন্তু এই আনিমের শক্তি হল এর চরিত্রগুলো, টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলো নয়। এখানে প্রত্যেক চরিত্রকে যথেষ্ঠ সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে করে এরা প্রথাগত ক্লিশের বেড়াজালে আবদ্ধ না থেকে নিজের স্বকীয়তা প্রকাশ করতে পারে। সিরিয়াস ক্যাপ্টেন আকাইশি, গুরুগম্ভীর জিনিয়াস আজুমা ইয়ুহেই, বেস্ট ফ্রেন্ড নাকানিশি, চঞ্চল সেনডা, সুকিশিমা পরিবারের বড় মেয়ে ইচিয়ো, ছোট্ট মোমিজি, বেসবল প্রেমী কোচ মায়েনো, এরা সবাই যেনো নিজ নিজ চরিত্রের খোলস থেকে বেরিয়ে আরো ভালোভাবে নিজেদের বিকশিত করেছে। শুরুর প্রোলোগ এবং মাঝে বেশ কিছু ফ্ল্যাশব্যাক দর্শকদের চরিত্রগুলো সম্পর্কে আরো ভাল ধারণা দিতে সাহায্য করে। আরেকটা মজার বিষয় হল অন্যান্য আনিমের মত এখানে চরিত্রগুলো ম্যাচের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহুর্তগুলোয় কি ভাবছে, তা বলে দিতে হয়না, এত শক্তিশালী ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের পর দর্শকদের আসলে তা বলার কোন প্রয়োজনই হয়না! চরিত্রদের প্রতি অদ্ভুত এক ভাললাগায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে দর্শক।

সাউন্ড – ৯/১০

আনিমেটির ওপেনিং আর এন্ডিং থিমগুলো বেশ সুথিং, ঠিক যেন এর কাহিনীর মত। একমাত্র ওপেনিং “সামার রেইন” ৫০ পর্ব জুড়েই আনিমের মুড এবং সেটাপ অনুযায়ী যথেষ্ঠ উপযোগী ছিল। আমার সবচেয়ে প্রিয় প্রথম এন্ডিং কোই কাগারেতে মিতা ইয়ুমে। আর সাউন্ডট্র্যাকও বেশ শান্ত ছিল, আবার কমেডি সিন গুলোর জন্য একটু চঞ্চল, ম্যাচের সময় একটু ড্রামাটিক, অর্থাৎ সব পরিস্থিতির জন্য মানানসই। সেইয়ুদের কাজ বেশ ভাল ছিল, কেউ সেইভাবে নজর না কাড়লেও প্রধান দুই চরিত্রে থাকা ইরিনো মিয়ু(কোউ) এবং তোমাতসু হারুকার(আওবা) জুটি চমৎকার ছিল। ওএসটি এর সবটুকু ভালভাবে ব্যাবহার করা হয়নি কারণ বেশ কিছু চমৎকার ট্র্যাক শেষের দিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিনগুলোর জন্যই বরাদ্দ ছিল।

এঞ্জয়মেন্ট – ১০/১০

অতিরিক্ত ভাল ক্যরেকটার ডেভেলপমেণ্ট, উত্তেজনাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ কাহিনী, সুথিং আর্ট ও সাউন্ডট্র্যাক – উপভোগের সব রসদই মজুদ আছে এই আনিমেটায়। আমার মতে এটা মাস্ট ওয়াচ।

সুতরাং আমার মোট রেটিং ৯.২/১০, এবং এটি অবশ্যই একটি দেখার মত আনিমে। এখানকার উপজীব্য কোন জাঁকজমকপুর্ণ, বাস্তবতা বিবর্জিত, টানটান উত্তেজনাপূর্ণ খেলার স্কিল নয়, এমনকি আজকালকার স্লাইস অফ লাইফ আনিমেগুলাতে যা অনেক বেশি চোখে পড়ে, সেইসব অকারণ হাস্যকর ভুল বুঝাবুঝি কিংবা কোন রোমান্টিক টেনসন ও নয়, বরং জীবনের সকল বাঁধা-বিপত্তি, হাসি-কান্নার মাঝে লক্ষ্য অটুট রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাই এর মূল আকর্ষণ। আসলে আনিমেটির স্বরূপ বোঝানোর জন্য এত কথা না বললেও চলে, কোচ মায়েনোর একটা উক্তিই যথেষ্ঠ – “সিম্পল ইজ বেস্ট।”

32 Cross Game

Anime Recommendation: Yowamushi Pedal — Rezo D. Skylight

>>>>>>>>>>>>>>>এনিমে Recommendation<<<<<<<<<<<<<<<
Anime: Yowamushi Pedal
Episodes: 1st season- 38ep (Complete) ; 2nd season- 24ep (Complete)
Genres: Comedy, Drama, Shounen, Sports.
MAL Score: 8.24 (1st season); 8.20 (2nd season)
My Score: 9/10

Yowamushi Pedal
আগে থেকেই বলে নেই এনিমেটা মূলত সাইকেলিং নিয়ে। অনেকের কাছে সাইকেলিং থিমটা লেম বলে মনে হতে পারে, কিন্তুু এনিমেটা মোটেই লেম না। Yowamushi Pedal-এ সাইকেলিংকে এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে যে এনিমেটা দেখার সময় আপনার নিজেরও সাইকেল চালাতে ইচ্ছা করবে। 😀

এখন আসল কথায় আসি। এনিমেটার মূল নায়ক ওনদা সাকামিচি। সে এতটাই এনিমের ভক্ত যে তার mommy bike (নরমাল সাইকেল) নিয়ে প্রতি সপ্তহে তার বাড়ি থেকে ৯০কিমি. পথ পাড়ি দিয়ে আকিহাবারা যেত এনিমের accessories কিনার জন্য। তার ইচ্ছা ছিল সে হাইস্কুলে উঠে ওটাকু ক্লাবে যোগ দিবে। কিন্তুু দুর্ভাগ্যক্রমে মেম্বার না থাকার কারনে ওটাকু ক্লাবকে ব্যান করা হয়। পরবর্তীতে ওনদার পরিচয় হয় ইমাইজুমি শুন্সুকির সাথে। এরপরেই ঘটনাক্রমে ওনদা যোগ দেয় সাইকেলিং ক্লাবে যা তার জীবনে নিয়ে আসে এক নতুন পরিবর্তন। এভাবেই শুরু হয় এনিমেটার কাহিনী।

পুরা এনিমেতেই রয়েছে টানটান উত্তেজনা। এনিমের প্রতিটা চরিত্রই অসাধরন। OST এবং BGM-গুলাও চমৎকার। একবার দেখা শুরু করলে আর থামতে পারবেন না। আর আপনি নিজে যদি সাইকেলিস্ট হন তাহলেতো কথাই নেই। আপনি এনিমেটাকে বেশ উপভোগ করতে পারবেন। আর আশা করি যারা সাইকেলিং এর ভক্ত না তারাও Yowamushi Pedal দেখার পর সাইকেলিং এর প্রেমে পড়ে যাবেন।
সুতরাং, দেরি না করে এখনই দেখা শুরু করুন। 🙂

Coffee With Asif (CWA) -পর্ব ১০ – “চরম ফাকিবাজি” Corner – Haikyuu

Haikyuu

Genre: Sports
Status: Ongoing (১২ টা এপি এয়ার হয়েছে)

কিছুদিন ধরেই নতুন স্পোর্টস এনিমের রিকমেন্ডেশন দেওয়ার জন্য লোকজনের রিকুয়েস্ট পাচ্ছি। আর CWA নিয়েও কিছু মেম্বার রিকুয়েস্ট করছিলেন মাঝে। কিন্তু আমার চরম আলসেমির কারণে আসলে কিছুই হচ্ছে না(এর জন্য আমি আসলেই অত্যন্ত দুঃখিত)। গত দুই তিন দিন Haikyuu দেখছিলাম; বেশ ভাল। ভাবলাম; একসাথে রথ দেখে কলাগুলোও বেচে ফেলি। তাই মুলত এই রিভিউর মত কিছু একটা লেখার অপচেষ্টা; বরাবরের মতনই।

Haikyuu সিরিজটা মুলত ভলিবল নিয়ে; এই খেলা নিয়ে আমার দেখা প্রথম সিরিজ। সত্যি বলতে খেলা বা সিরিজ – কোনটা নিয়েই খুব একটা উৎসাহ বা আগ্রহ ছিল না তেমন। প্রথম পর্বেই শক্তিমত্তায় অনেক নিচে থাকা মুল চরিত্রের তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোন রকম provocation ছাড়াই “খেয়ে ফেলব; হারিয়ে দিব” টাইপ অতিরিক্ত হুমকি ধামকি (মনে রাখা ভাল; স্পোর্টস এনিম কম বেশি এইরকম ইমোশনের ডিব্বা হয়ে থাকে; সেই স্ট্যান্ডার্ডেই বেশি চোখে লেগেছে) আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছিল অনেকটাই। তবে দ্বিতীয় এপিসোড দেখার পর বেশ খানিকটাই আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল। ১২ এপিসোডেও এসে সেই ভাবটা পুরোপুরি দূরীভূত না হলেও বেশ চলনসই একটা জায়গায় পৌছে গেসে সিরিজটা।

দ্বিতীয় আরেকটা সমালোচনার জায়গা বোধহয় কার শক্তিমত্তা কেমন; সে সম্পর্কে কোন সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা না থাকা; অনেকটা আমার ফেইরি টেইল এর কিছু এপিসোড দেখার অভিজ্ঞতার মতন। নাতসুর শক্তি এবং গিল্ডে পজিশন যা-ই হোক; প্রতিপক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালীকে হারিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সবসময়েই তার কাধেই এসে পড়ে; ব্যাপারটা অনেকটা সেই রকম। অবশ্য খেলাটা নিয়ে আমার জ্ঞানের প্রবল অভাবও এর পিছনে কিছুটা দায়ী হতে পারে।

এই ব্যাপারগুলো বাদ দিলে সিরিজটা বেশ ডিসেন্ট; যদি আপনি মোটামুটি বাজারে নাম শোনা স্পোর্টস এনিমগুলোকে ডিসেন্ট হিসেবে কাউন্ট করেন আর কি ! কমেডিক এলিমেন্ট, এড্রেনালিন রাশ মোমেন্টস, মোটামুটি ফাস্ট পেস, সমানে সমানে ব্যাটেল – কোন কিছুই আহামরি না হলেও মোটেও খারাপ না। আর ইদানিং একটা ট্রেইট বোধহয় ভালই চালু হয়ে যাচ্ছে; Ace of diamond এর কল্যাণে; বিপক্ষ দল ছাড়াও নিজের দলের মধ্যে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মোটামুটি একটা স্ট্রং তিমের পারস্পেক্টিভ থেকে পুরো সিরিজটাকে দেখা – সেই এলিমেন্টটাও আছে কিছু পরিমাণে; যেটা বেশ রিফ্রেশিং।

মিউজিক নিয়ে আমি খানিকটা হতাশ; বিশেষত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। দুর্দান্ত কোন মুভ বা স্পেশাল মোমেন্টে চমৎকার একটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মুহূর্তটার আবেদন বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকখানি; যেইটা এই সিরিজে কিছুটা ঘাটতি আছে বলে মনে হয়েছে।

সব মিলিয়ে; “এ+” নাম্বার হয়ত দেওয়া যাবে না সিরিজটাকে; কিন্তু “এ” গ্রেড না দেবার কোনই কারণ নাই। আমার দেখে বেশ ভাল লেগেছে; সুতরাং স্পোর্টস জেনার লাভারদের জন্য অবশ্যই রিকমেন্ডেড। বাকিরা না দেখলে অবশ্য এমন কোন মাস্টারপিস মিস করবেন না, হয়ত।

– CWA প্রচারিত হচ্ছে কালে ভদ্রে; বৃহস্পতি শুক্রবারের দিকে ; এনিমখোরে !! আমাদের আর কোথাও কোন শাখা নেই !!! স্পোর্টস এনিম নিয়ে আপনার যে কোন আবদার; আবেদন; আহ্লাদ; হুমকি; জিজ্ঞাসা – সব কিছুই জানাতে পারেন আমাদের; আমরা তার সমাধান দেবার চেষ্টা করব কোন না কোন সময় ইনশাল্লাহ !!! আমাদের সাথেই থাকুন !!!

One Outs review by সাদিয়া হুমায়রা মৌনতা

‘ওয়ান আউটস’ আনিমেটা পুরাই ওয়ান ম্যান শো। যদিও বেসবল ভিত্তিক এই অন্যান্য আনিমেতে যা আছে, যেমন দলের ইন্সপিরেশন, সিনিয়রদের লিগেসি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া,টিম স্পিরিট রক্ষা, ব্যাটারীর (পিচার-ক্যাচার কম্বিনেশন) কেমিস্ট্রি, এগুলা কিছুই নাই কিন্তু এই আনিমেটা পুরাই গেম এর অন্য একটা দিক দেখানো হয়েছে। খেলাগুলা সাইকোলজিক্যালি গ্যাম্বলিং এর মতো করে দেখানো হয়েছে, আর দেখানো হয়েছে প্রোফেশনাল খেলার জগতের কিছু নেগেটিভ দিক।
আমি আনিমেটা বেশি এনজয় করিনি, কারণ-
-একটা দলীয় খেলায় ওয়ান ম্যান শো
-খেলোয়াড় স্পিরিট এর পুরা বারোটা বাজানো হইসে
-খেলা হিসেবে কোন টান্টান উত্তেজনা কম ছিল, কারণ প্রতিবার কিছু হলে জানতাম, তকুচি বাজিমাত করবে শেষে
-কোন ডেভেলপমেন্ট নাই প্লটে বা ক্যারেক্টারে, কারণ এই ওয়ান ম্যান অলরেডি অতিরিক্ত ডেভেলপড ছিল।
-খেলোয়াড়দের ব্যাক্তিগত শক্তির কোন মূল্যই নাই

সবকিছুর পরেও এর রেটিং আমি হাই দিব, কারণ-
-প্লট অন্যরকম। অন্য পারস্পেকটিভ থেকে দেখানো
-বাজিমাত করবে কিভাবে এটাই দেখার বিষয় এবং পর্বর্তীতে ব্যাখ্যাগুলাও অসাধারণ ছিল
-ফ্যান সার্ভিসের বাহুল্য ছিল না 

বিদ্রঃ এমন আন-কুল ক্যাচার আমি এখন পর্যন্ত দেখি নাই 
বিবিদ্রঃ স্টার্টিং সং- প্রতিবার শুন্তাম এবং মনে হতো এটা কোন মেলাঙ্কোলি ছেলেকে নিয়ে স্লাইস অফ লাইফ আনিমে।

বি উপদেশঃ যারা স্পোর্টস আনিমে দেখতে পছন্দ করেন, এই আনিমেটা আগেই দেখে নেয়া ভালো, ‘মেজর’ পরে দেখা ভালো। 

অ্যানিমেঃ ট্রাপিজ- কুচু বুরাঙ্কো by Fahim Bin Selim

ড. ইরাবু হল “ইরাবু জেনারেল হসপিটাল”-এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং মনোচিকিত্সক। অদ্ভুত অদ্ভুত সব সমস্যা নিয়ে লোক আসে তার কাছেঃ একজন ছাত্র যে মোবাইল ছাড়া এক মিনিটও থাকতে পারে না, একজন বিখ্যাত বেসবল খেলোয়ার যে হঠাৎ করে সাধারণ থ্রো করতেও ভুলে যায়, আরেকজন মনোচিকিত্সক যে কিনা নিজেই প্যারানয়ায় আক্রান্ত! আর এ সব সমস্যার সমাধান হল ইরাবুর লাস্যময়ী সহকারী মায়ুমী-র দেওয়া এক সিরিঞ্জ ভিটামিন ইঞ্জেকশন! ইরাবুর আচরন যতই বাচ্চাদের মত হোক, তার প্রক্রিয়া যতই উদ্ভট হোক, সবশেষে ঠিকই সবাই তাদের সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যায়।

এগারোটি পর্ব, এগারটী ভিন্ন কাহিনী। আবার সবগুলোই একটা আরেকটার সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত। বেশিরভাগ মানুষই হয়ত এটা দেখবেন না, অথবা এক পর্ব দেখে রেখে দিবেন। কারণঃ
১। প্রচন্ড রঙ্গিন কিন্তু বেসিক ব্যাকগ্রাউন্ড কালারিং (অনেকটা মাওয়ারু পেঙ্গুইন্ড্রামের মত)।
২। চরিত্রগুলো হোক আর কাহিনী হোক – সবই আপনার দেখা যেকোনো অ্যানিমে থেকে আলাদা।
৩। জনড়া সাইকোলজিক্যাল আবার তার সাথে কমেডি!
৪। সত্যিকারের ফুটেজ আর অ্যানিমেশনের মিশ্রনে উদ্ভট সব ফেস এক্সপ্রেশন।
৫। আর্ট স্টাইল।
৬। আর্ট স্টাইল!

তবে যারা ভিন্নধর্মী অ্যানিমে পছন্দ করেন, বা কোনমতে কয়েকটা পর্ব দেখে ফেলবেন, তাদের কাছে ভালো না লাগার কোন কারণ দেখি না।

পর্বঃ ১১
প্রচারকালঃ ২০০৯
প্রযোজকঃ তোয়েই অ্যানিমেশন
জনড়াঃ সাইকোলজিক্যাল, সেইনেন, ড্রামা, কমেডি
এমএএল রেটিং: ৮.১৯ (#২৮২)
http://myanimelist.net/anime/6774/Kuuchuu_Buranko
আমার রেটিং: ৮.৬

Legendary anime!!! slam dunk!! review by Monirul Islam Munna

 

সেমিস্টার ব্র্যাকের বন্ধটা এর চেয়ে ভালো ভাবে কাঁটাতে মনে হয় না পারতাম, যতটা ‘স্লাম ডাঙ্ক’ দেখে কেটেছে।!!  এমন একটা এনিমে, কোনটা ছেড়ে যে কোনটা যে আগে বলবো!!!

১৯৯৩ সালের এনিমে তাই animation বা গ্রাফিক্সের অনেক লো এক্সপেকটেশন নিয়েই দেখা শুরু করি, কিন্তু এতো পুরনো একটা এনিম দেখতে একদমই খারাপ লাগে নি। এমনকি কেউ এইরকম স্পোর্টস এনিমে প্রথম দেখলে গায়ের লোম খাঁড়া হয়ে যাবে নিশ্চিত!!! আমি নিজে ‘কুরকোনো নো বাসুকে’ আগে দেখছি বলে একটু আমার চোখে একশন একটু কম ফীল করসি, কিন্তু স্লাম ডাঙ্ক অনেক বেশী রিয়ালেস্তিক!!! গল্পের সব চেয়ে বড় কেন্দ্র বিন্দু ‘হানামিচি সাকুরাগি’ ফিজিক্যালই হয়তো অমানুষের মত শক্তিশালী সে, কিন্তু একজন শুন্য থেকে কীভাবে পূর্ণ বাস্কেট বল প্লেয়ার হয়ে উঠে খুব সুন্দর করে তুলে ধরছে এই এনিমে! তাই বলে বাকিরা যে কম তা কিন্তু না, মেইন ৫~৬ প্লেয়ারের এক জন থেকে একজন সেরা,সবাই নিজের দলগত ভূমিকায় সেইরকম পারদর্শী!!!! 

আরেকটা ব্যাপার যেটা ভালো লাগসে, যে বাস্কেট বল কিছুই বুঝে না তাদের জন্য ছোট খাটো ২-১ মিনিটের একটা পার্ট আছে, তাই এনিমে বুঝতে একদমই সমস্যা হয় না!!! 

এই এনিমেটাকে রেটিং দিতে গেলে অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ২ পয়ন্ত মনে হয় এটার কমেডির জন্য। একটা এনিমে দেখে এতো হাসি নাই মনে হয় কোন দিন!!! মাঝে তো বাসায় পাগল হয়ে গেছে মা এটা কয়েকবার জিজ্ঞেস করসে!!  ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, চিবি গুলার এক্সপ্রেশন , অঙ্গ ভঙ্গি, বিভিন্ন সময় ব্যাক গ্রাউন্দ মিউজিক,আঞ্জাই সেন্সেইর হাসি(হ হ হ হ), রিয়োকোর ‘আয়া চান’ বলার স্টাইল, রুকাওার ‘দুয়াহ বলার ভঙ্গি’, গরিলার ঘুষি, কোনটা দেখে যে হাসি নাই, নিজেও জানি না!!!! যে কোন বয়সই, যে কারও ভালো লাগার মত একটা এনিমে!!! 

অনেকেই বলসে এই এনিমেটার ডাব অনেক ভালো, আবার অনেকেই সাব দেখার জন্য অনুরোধ করসে। প্রথমে ডাব দিয়েই শুরু করি, ডাব আসলেই ভালো কিন্তু সাবের ‘হানামিচি আর বাকিদের যা ভয়েস!!! অনেক বড় একটা মিস করতাম। অনেক অনেক ধন্যবাদ যারা আমাকে সাব দেখার জন্য এতবার বলছে  আর কেউ এনিমেটা দেখলে অবশ্যই সাব দেখবেন 

অনেক কিছুই বলার আছে, লিখলে হয়ত শেষ হবে না, তাই আর কিছু লিখলাম না  একটা এনিমে দেখার পর এতো ভালো লাগলে, দেখা সার্থক হয়।  টুপী খুলে সম্মান এই মাঙ্গাকা , যারা এনিমেসন বানাইসে, যারা ভইস একটর, যারা OST গুলা তৈরি করছে। স্যালুট সবাইকে!! বিশাল আরিগাত আমার পক্ষ থেকে 
#Legendary anime!!! slam dunk!! 
আমার রেটিং ৯!!! 

 

 

 

Coffee With Asif (CWA): Sports Corner – পর্ব ২ – Giant Killing By Md Asiful Haque

Giant Killing

এনিম – Giant Killing

রিলেটেড স্পোর্টস – Football/ Soccer
অবস্থা – Completed
টোটাল এপি সংখ্যা – ২৬
রিলেটেড এনিম – Inazuma 11; Captain Tsubasa; Ginga e kickoff; Whistle!, Aoki Densetsu Shoot, Area no kishi Etc.

 স্টোরি লাইন –

East Tokyo United (ETU) – জাপানের টপ ফুটবল লীগে টিকে থাকার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। এই সংগ্রামে অনেকটা জুয়ার চালেই তারা নতুন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয় তাতসুমি তাকেশিকে। তাতসুমি এককালে এই দলেরই স্টার প্লেয়ার ছিল; পরে অবশ্য দল ফেলে বিদেশ পাড়ি দেয়; সেই থেকেই মুলত দলের পতনের শুরু!!! সেই জন্য ভক্তদের কাছে যথেষ্ট অজনপ্রিয় সে; এছাড়াও তার অদ্ভুত জীবন জাপন; কোচিং স্টাইল; চাঁছাছোলা কথাবার্তা – সব মিলিয়ে সে নিজ দলেই বেশ বিরাগভাজন। তার সাম্নের চ্যালেঞ্জ মোটেও সহজ নয়; একটা ভাঙ্গাচোরা; স্পন্সর হারাতে হারাতে বাজেট শূন্যর কোটায় চলে আসা একটা দলকে জাগিয়ে তোলা !!! তাতসুমির পথচলাটা কেমন ছিল; কি করে একটা সাধারণ দল নিয়ে “Giant” টিম গুলোকে একের পর এক “বধ” করে তারই গল্প – giant killing !!!

কেন দেখবেন –

 এই এনিমে আর যা-ই হোক বলে কিক করলে বল থেইকা আগুন বের হয় না !! যারা সুপার পাওয়ার ধরণের শোনেন তাইপ স্পোর্টস এনিম দেখে খানিকটা হতাশ; এই এনিমটা হতে পারে তার জন্য পারফেক্ট রিলিফ !!! একদম বাস্তবধর্মী; প্লেইন স্ট্র্যাটেজিক এনিম !!! আর ম্যানেজারকে কেন্দ্র করে ঘটনা আবর্তিত হয় বলে ফোকাস শুধু প্লেয়ারদের উপরই না; বরং প্লেয়ার; কোচ; ম্যানেজার; টিম ওনার; ফ্যান – সবাইকেই যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখানো হইসে। টিমের মেম্বাররা সবাই এডাল্ট; সুতরাং আরও রিএলিস্টিক ফিল পাওয়া যাবে।

AMV লিঙ্ক –

https://www.youtube.com/watch?v=YMZLj1CrjAI

স্পয়লারের ভয় না করে এইটা দেইখেন; আশা করি দেখার পরার কিছু বলা লাগবে না !!!

 

 

পাব্লিক রিএকশনঃ (ফাহিম বিন সেলিম) –

Started watching Giant Killing. Finally an anime about Football not with Superpowers or about highschool school team, real proffessional Football! Loving it! And the best thing about sports anime are, they are hardly boring and almost every episode ends witha cliffhanger.

আমার রিএকশনঃ 

ফুটবল ভক্ত কাউকে স্পোর্টস এনিমে এডিক্টেড করে দিতে হইলে এইটা হাতে ধরায় দেওয়াই এনাফ !! এর পর নিজ দায়িত্বে অন্য সাজেশনের জন্য মাথা খারাপ করে ফেলবে ইনশাল্লাহ !!!

 

ছায়া অবলম্বনেঃ  

One Outs – রিএলিস্টিক; এডাল্ট প্লেয়ার; স্বল্প দৈর্ঘ্য।

 

Giant Killing ট্রিভিয়াঃ 

 

# ETU এর দুটি ম্যাচ কিট রয়েছে। তাদের মুল জার্সির কালার লাল কালো; away ম্যাচে সাধারণত সাদা জার্সি ব্যাবহার করে থাকে তারা। 

#ETU এর মাস্কট Pakka (১২ নম্বর জার্সি)

# জাতীয় দলে ETU এর একজন খেলোয়াড় রয়েছেন। তিনি akasaki. পজিশন – গোলকিপার (ফিকশনাল ক্যারেক্টার অবশ্যই )

 

– CWA প্রচারিত হচ্ছে প্রতি শুক্রবার; এনিমখোরে!! আমাদের আর কোথাও কোন শাখা নেই !!! স্পোর্টস এনিম নিয়ে আপনার যে কোন আবদার; আবেদন; আহ্লাদ; হুমকি; জিজ্ঞাসা – সব কিছুই জানাতে পারেন আমাদের; আমরা তার সমাধান দেবার চেষ্টা করব কোন না কোন সময় ইনশাল্লাহ !!! আমাদের সাথেই থাকুন !!!

Midori No Hibi (English: Midori Days) by Monirul Islam Munna

@[104794279589828:274:Midori No Hibi] (English:  @[104046669632808:274:Midori Days]) শেষ করলাম!<br /><br />
১৩ এপিসোডের ছোট সিরিজ<br /><br />
এই এনিমের নায়ক 'সেইজি সাওামারু।' স্কুলের অন্যতম ব্যাডআস!! মারামারিতে তার সঙ্গে জিততে পারবে এমন কেউ নেই। সাথে তার ডান হাত, যেটা 'ডিমন রাইট হ্যান্ড' নামে শহর জুড়ে খ্যাত! যেমন ভঙ্কর গ্রুপই আসতো না কেন, সেইজির সাথে জিততে পারত নে কেউ!<br /><br />
কিন্তু মেয়েদের সাথে খুব ভাগ্য খারাপ ছিল, সেইজির! ২০জন মেয়ের কাছে রিজেক্তেড সে!!<br /><br />
অন্য দিকে এনিমের নাইয়িকা 'মিদরি কাসুগানো' অনেক বেশী লাজুক কিউট একটা মেয়ে!<br /><br />
কিন্তু সেইজির প্রতি প্রচণ্ড ক্রাশ ছিল তার। একদিন হটাৎ ঘুম উঠে দেখে সে সেইজির ডান হাত হচ্ছে মিদরি.........!!! আর এখান থেকেই কাহিনী অগ্রসর হতে থাকে....</p><br />
<p>প্রথমে ব্যাপারটা উইয়ারড লাগছিলো। চিন্তা করছিলাম, কীভাবে আগাবে কাহিনী! কিন্তু নিউডিটি গুলা বাদ দিলে (বর্তমান এনিমের চেয়ে ভালো ভাবে দেখাইসে!! :v ) মোটামুটি ভালো একটা রোম্যান্টিক কমেডি। যদিও কমেডি পার্টটা বেশী । ওভারঅল খারাপ না :)<br /><br />
আমার রেটিং ৭.৫/১০
Midori No Hibi (English: Midori Days) শেষ করলাম!
১৩ এপিসোডের ছোট সিরিজ
এই এনিমের নায়ক ‘সেইজি সাওামারু।’ স্কুলের অন্যতম ব্যাডআস!! মারামারিতে তার সঙ্গে জিততে পারবে এমন কেউ নেই। সাথে তার ডান হাত, যেটা ‘ডিমন রাইট হ্যান্ড’ নামে শহর জুড়ে খ্যাত! যেমন ভঙ্কর গ্রুপই আসতো না কেন, সেইজির সাথে জিততে পারত নে কেউ!
কিন্তু মেয়েদের সাথে খুব ভাগ্য খারাপ ছিল, সেইজির! ২০জন মেয়ের কাছে রিজেক্তেড সে!!
অন্য দিকে এনিমের নাইয়িকা ‘মিদরি কাসুগানো’ অনেক বেশী লাজুক কিউট একটা মেয়ে!
কিন্তু সেইজির প্রতি প্রচণ্ড ক্রাশ ছিল তার। একদিন হটাৎ ঘুম উঠে দেখে সে সেইজির ডান হাত হচ্ছে মিদরি………!!! আর এখান থেকেই কাহিনী অগ্রসর হতে থাকে….

প্রথমে ব্যাপারটা উইয়ারড লাগছিলো। চিন্তা করছিলাম, কীভাবে আগাবে কাহিনী! কিন্তু নিউডিটি গুলা বাদ দিলে (বর্তমান এনিমের চেয়ে ভালো ভাবে দেখাইসে!!  ) মোটামুটি ভালো একটা রোম্যান্টিক কমেডি। যদিও কমেডি পার্টটা বেশী । ওভারঅল খারাপ না  
আমার রেটিং ৭.৫/১০

@[104794279589828:274:Midori No Hibi] (English:  @[104046669632808:274:Midori Days]) শেষ করলাম!<br /><br />
১৩ এপিসোডের ছোট সিরিজ<br /><br />
এই এনিমের নায়ক 'সেইজি সাওামারু।' স্কুলের অন্যতম ব্যাডআস!! মারামারিতে তার সঙ্গে জিততে পারবে এমন কেউ নেই। সাথে তার ডান হাত, যেটা 'ডিমন রাইট হ্যান্ড' নামে শহর জুড়ে খ্যাত! যেমন ভঙ্কর গ্রুপই আসতো না কেন, সেইজির সাথে জিততে পারত নে কেউ!<br /><br />
কিন্তু মেয়েদের সাথে খুব ভাগ্য খারাপ ছিল, সেইজির! ২০জন মেয়ের কাছে রিজেক্তেড সে!!<br /><br />
অন্য দিকে এনিমের নাইয়িকা 'মিদরি কাসুগানো' অনেক বেশী লাজুক কিউট একটা মেয়ে!<br /><br />
কিন্তু সেইজির প্রতি প্রচণ্ড ক্রাশ ছিল তার। একদিন হটাৎ ঘুম উঠে দেখে সে সেইজির ডান হাত হচ্ছে মিদরি.........!!! আর এখান থেকেই কাহিনী অগ্রসর হতে থাকে....</p><br />
<p>প্রথমে ব্যাপারটা উইয়ারড লাগছিলো। চিন্তা করছিলাম, কীভাবে আগাবে কাহিনী! কিন্তু নিউডিটি গুলা বাদ দিলে (বর্তমান এনিমের চেয়ে ভালো ভাবে দেখাইসে!! :v ) মোটামুটি ভালো একটা রোম্যান্টিক কমেডি। যদিও কমেডি পার্টটা বেশী । ওভারঅল খারাপ না :)<br /><br />
আমার রেটিং ৭.৫/১০