Miyori No Mori [আনিমে ও মাঙ্গা রিভিউ] — Krista King

Name: Miyori No Mori
Genre: fantasy, drama, spiritual (nature).
Demographic: All
Anime Duration: 1hr 47min
Manga: vol2, ch.8
Author: Hideji Oda
Director: Nizo Yamamoto
Aired: 2007

সারসংক্ষেপ–
একদা মিয়োরি নামক একটি মেয়ে শৈশবে খেলতে খেলতে অরণ্যের গভীরে হারিয়ে গিয়েছিল। সেখানে ডিভাইন ট্রী-এর স্পিরিট তাকে অরণ্যের রক্ষী হিসাবে নির্বাচন করে। এখন মা ও বাবার মধ্যে অনবরত কলহের মাঝে ছোট্ট মিয়োরি একা হয়ে যায়। বড় হওয়ার সাথে সাথে সে মানুষের চেয়ে প্রকৃতিকে বেশি আপন করে ফেলত। মা বাবার বিচ্ছেদের দরুন এগারো বছরের মিয়োরি থাকতে শুরু করে ঠাকুমা-ঠাকুরদার সাথে সেই অরণ্য সংলগ্ন গ্রামে। প্রথমে অসুবিধা হলেও পরে গ্রামের মানুষ ও অরণ্যের স্পিরিটদের সাথে মিশে যায়। ইতিমধ্যে গ্রামে একদল মানুষের আবির্ভাব হয় যারা সেখানকার নদীতে বাঁধ বানাতে চায় কিন্তু সেটা হলে গ্রামসহ অরণ্য ডুবে যেতে পারে। সমস্ত অরণ্যের স্পিরিটদের একত্রিত করে তাদের এমন চমকায়, যাতে তারা আর ফেরত না আসে। এইভাবেই ছোট্ট মিয়োরি সকলকে বাঁচিয়ে নেয়।

Miyori No Mori 1

My View-
অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলি। বেশ একটা গিবলি সিনেমাগুলোর মত অনুভব হয়। ক্যারেকটার ডিজাইন বাস্তবিক যেটা সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে আমার। মিয়োরির চরিত্রটি সবচেয়ে আকর্ষক। ছিচকাঁদনে অতিমিষ্টি চরম উৎসাহী নয় বরং শান্ত-শিষ্ট, নম্র অথচ দৃঢ়-মনস্কা, বাস্তবিক। শৈশব থেকে মা-বাবা, সহ-পাঠীদের কাছে তিরস্কৃত হওয়ার পরও, সবকিছু ভুলে মানসিকভাবে আরো দৃঢ় হয়ে ওঠার পরিণতিটি দেখার মত। মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রতি এত টান, কোথায় একটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বলাই”এর কথা মনে করিয়ে দেয়। সবমিলিয়ে গল্প শেষে বেশ একটা ভালো লাগা থেকে যায়।

(আপনি এর মাঙ্গাটাও পড়ে দেখতে পারেন, মাত্র আটটি চ্যাপ্টারের, সেখানেও চিত্রগুলো খুব সুন্দর ও বাস্তবিক, মাঙ্গাতে আরোকিছু details আছে ঘটনাতে।)

Miyori No Mori 2

Hisone & Maso-Tan [রিভিউ] — Md. Anik Hossain

কাহিনী সারসংক্ষেপঃ গল্পটা এমন এক কাল্পনিক পৃথিবীতে যেখানে ড্রাগনের অস্তিত্ব আছে। তবে প্রাচীনকাল থেকেই এগুলোকে সরকারিভাবে আমজনতার চোখ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়ে আসছে।তো একবিংশ শতকের এই আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ড্রাগনদের দেখাশোনা ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় বিমানবাহিনীর হাতে।সিরিজের মূল চরিত্র Hisone হচ্ছে বিমানবাহিনীতে কর্মরত এক অবুঝ(?) মেয়ে। মনের ভিতর কোনো প্যাঁচগোছ নেই। মেয়ে ৯৯% ফিটফাট…খালি একটু খুঁত আছে। মুখ পাতলা স্বভাবের। মনের অজান্তেই মুখের উপর মানুষের সমালোচনা করে দেয়। একদিন ভাগ্যক্রমে বিমানঘাঁটিতে গোপন হ্যাঙ্গারে থাকা একটা ড্রাগনের সাথে দেখা হয়ে যায়। এবং আরো কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সে এই ড্রাগনের পাইলট হয়ে উঠে। মূলত বিমানঘাঁটির লোকবল ও তার মতো অন্যান্য ড্রাগন পাইলটদের নিয়েই এনিমের কাহিনী আবর্তিত হয়।
Hisone & Maso-Tan
দেখাশেষে আমার প্রতিক্রিয়াঃ অনেক দিন ধরে নতুন একটা “Cute girls doing cute things with cute cute military toys” ধাঁচের সিরিজ খুঁজছিলাম। অবশেষে মজার কিছু পেয়ে আমিতো বেজায় খুশী! আর Studio Bones এর অন্ধভক্ত হিসেবে পুরো সিরিজটা একদম গোগ্রাসে গিলে খেয়েছি। Chibi(?) ক্যারেক্টার ডিজাইনগুলো বেশ অন্যরকম একটা মজাদার অভিজ্ঞতা দিল। টিভি তে বাচ্চা-কাচ্চাদের চিবি মার্কা বাদে আর কোনো এরকম এনিমে দেখা হয়ে উঠেনি আসলে। কাহিনীর কথা বললে তেমন বিশেষ কিছু পাইনি এবং পাবার আশাও করিনি প্রথম থেকে। তবে কিছুটা অন্যরকম কমেডি, স্লাইস অফ লাইফ মনে হয়েছে আমার নিকট। মোট কথা বললে, বিনোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে মোটেও আশাহত হইনি দেখা শেষে।

কিছু জিনিসে আমার মতে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভুল ধরতে যাওয়া বা সমালোচনা করা উচিত নয়। দেখবেন, হাসবেন, বিনোদিত হইবেন- ব্যাস। ভালো একটা শান্তিময় সময় কাটাবেন বাসার সব বয়সীদের নিয়ে। Hisone & Maso-Tan ঠিক সেরকম একটা এনিমে ছিল। Mind refreshing কিছু দেখতে চাইলে সবাইকে দেখতে বলবো সিরিজটা।

জানি না কেন সিরিজটা খুব একটা জনপ্রিয়তা পেল না। হয়ত এনিমেশন আর ক্যারেক্টার ডিজাইন সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শকের ভালো লাগেনি। মনে হয় বাজেট একটু কম ছিল। দু-একটা পর্ব দেখে অপছন্দ হলে ড্রপ মারবেন না হয়। আর আগেই যেমনটা বলেছিলাম যে কাহিনী বেশ সাদামাটা। মাথা একেবারে খালি করে দেখতে বসবেন।

হাবিজাবি রেটিং:
কাহিনী: ৩/৫
ক্যারেক্টার ডিজাইন: ৪/৫
এনিমেশন: ৩.৫/৫
সামগ্রিকভাবে: +-৩.৯/৫

And Yet The Town Moves/Circles [সাজেশন] — Prottoy Rahman

and yet the town moves circles

১৬৩৩। গালিলেও গালিলেইকে সদ্য বাধ্য করা হয়েছে তার অলক্ষুণে বাণী অস্বীকার করতে: পৃথিবী নাকি সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। তা সে জীবন বাঁচাতে নাহয় করল। কিন্তু পরে আসমানের দিকে অতঃপর জমিনের দিকে তাকিয়ে সে ঠিকই চিন্তামগ্ন স্বরে বলল “Eppur si muove”, ইংরেজিতে যা দাঁড়ায় “And yet it moves”। যেন সেই সুশীল সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জানায় ‘তোমরা যা খুশি বিশ্বাস করো, সত্যের এতে কিছু যায় আসে না’। তা এসব অনেক আগের কথা, তখন আমার দাদার দাদা, বা তার দাদারও জন্ম হয় নি। প্রত্যক্ষ না করায় এর শুদ্ধতা যাচাই করাও আমার সাধ্যের বাইরে।

সাল এবার ২০১০। এনিমে মিডিয়ামটা কৈশরের গন্ডি পেরিয়েছে অনেক আগেই। পরিপক্কভাবে ভিত গেঁথে কয়েক দশক থেকেই অনেক শিল্পকর্ম উপহার দিয়ে এসেছে যা বিশ্বসেরা গল্পগুলোকেও টেক্কা দিতে পারে। এমন সময় আবির্ভাব ঘটে ২০০৫ সাল থেকে চলে আসা এক মাঙ্গার অ্যাডাপটেশন, স্টুডিও হলো Bakemonogatari-এর টানে সদ্য উঠে আসা শ্যাফ্ট। নতুন এই এনিমের নামটি ছিল ‘সোরেদেমো মাচি ওয়া মাওয়াত্তেইরু’, যার ইংরেজি করলে দাঁড়ায় And Yet The Town Moves/Circles. কিন্তু এ যুগে তো কোনো ধর্মালয় এসে কোনো কিছুতে বাঁধা দিচ্ছিলো না। তবে কার উদ্দেশ্যে এই নগর ঘুরানো নামটি এল?

এনিমটির মূল চরিত্র কাজের জন্য গর্ধভ, অকাজের জন্য চতুর; এর কমেডি slapstick ধাঁচের, কৌতুকগুলো ক্লিশে, ঘটনাচক্র কোনো এক দুনিয়ার নিয়ম মানে না, একেক অংশ একেক রকমের গল্প ধারণ করে, আর সাথে আছে উদ্ভট সব ক্যামেরা দৃষ্টিকোণ। সূক্ষ্মদর্শীতার দৃষ্টিতে এসব ধর্মকে একটু নিচু চোখেই দেখা হয়, প্রস্তুতিতে অলসতার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত তা-ই বাস্তব। কিন্তু তা যে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য তা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারে না। সঠিকভাবে ও অনুরাগের সাথে বাস্তবায়ন করলে যেকোনো কিছুই শিল্পের পর্যায়ে অধিষ্ঠিত হতে পারে। এই নতুন এনিমটি সেটিই প্রমাণ করে অসাধারণ নৈপুণ্যের সাথে। প্রকৃতপক্ষে এটি কাঁচকলা দেখায় convention জিনিসটাকেই। এর সকল দিক যে শুধু চমৎকার কারুকর্মের নিদর্শন তাই না, সকলের সমষ্টিতে এর সৌন্দর্যের বহুগুণ বৃদ্ধিও লক্ষ্য করার মতো।

অবশ্য সে যুগের এনিমে দর্শক না হওয়ায় ও এর লেখক ও অন্যান্য প্রস্তুতকারকদের না চেনায় এর নামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে করা সকল উক্তিই আমার ব্যক্তিগতভাবে ধরে নেওয়া। যাই হোক, প্রচলিত ধারা ভঙ্গ করে ধারণা পাল্টানো এনিমের অভাব এসময় ছিলো না। বরং গত শতকেই বেশ কিছু ব্যাপক রকমের ভিন্ন ধাঁচের এনিমে পুরো ইন্ডাস্ট্রি কাঁপিয়েছে। কিন্তু সোরেমাচির মতো খাঁটি সোনা বেশ কমই পরখ করেছি গত ৬-৭ বছরের অভিজ্ঞতায়। তবুও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এটি খুব একটা দৃষ্টি আকর্ষণ করে নি। যদি আপনার সর্ব প্রকার কমেডি ও প্যারোডি একটি মোহনীয় ন্যারেটিভের ভেতর মজাদার ও প্রাণবন্ত চরিত্রের মধ্য দিয়ে অসম্ভব নৈপুণ্যের সাথে উপস্থাপনের প্রতি কৌতুহল থাকে… you know it.

চটপট দেখা শুরু করুন, শেষ না হওয়া পর্যন্ত থামতে পারবেন না। যদিও মাঙ্গা পুরো এডাপ্ট করে নি, থামার জন্য বেশ ভালো জায়গাই বেছে নিয়েছে। মাত্র ১২ পর্বের, তাই বেশি সময় লাগবে না।

Steins;Gate 0 [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Steins Gate 0

Steins;Gate 0
জনরা: সায়েন্স ফিকশন
পর্ব: ২৩
স্টুডিও: White Fox
ম্যাল রেটিং: ৮.৮

স্পয়লার অ্যালার্ট!!!
(যারা ২০১১ সালে বের হওয়া Steins;Gate সিরিজটি দেখেন নি তারা পোস্টটি এড়িয়ে চলুন)

স্টাইন্স গেইট দেখেছিলাম সেই ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে। অন্য সবার মতই দেখার সাথে সাথে এনিমেটা একেবারে সবচেয়ে প্রিয় এনিমের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঢুকে যায়৷ সে অবস্থান এখনও এনিমেটা দারুণ শক্তভাবে দখল করে আছে৷ স্টাইন্স গেইটের সিকুয়েল আসছে তার প্রথম খবর পাই ২০১৭ সালের প্রথম দিকে। সত্য কথা বলতে গেলে অত বেশী প্রত্যাশা ছিল না। ভেবেছিলাম মূল এনিমের এত ভাল একটা সমাপ্তি থাকার পরেও আরেকটা কিস্তি বানানোর কীইবা দরকার আছে! তাই এপ্রিলে যখন স্টাইন্স গেইট জিরো এনিমের সম্প্রচার শুরু হয় তখন অতটা পাত্তা দেই নি৷ টনক নড়ে 23বেটা এপিসোডটা দেখার পর৷ বেটা টাইমলাইনের ভয়াবহ ভবিষ্যতের আঁচ টের পাই পর্দার এপাশে বসেই। ম্যাড সায়েন্টিস্টের বদলে স্যাড সায়েন্টিস্ট হওয়িন কিয়োমাকে দেখে রীতিমত আঁতকে উঠি! তাই কালবিলম্ব না করে দেখে ফেললাম স্টাইন্স গেইট জিরো! দেরী করে দেখার আরেকটা কারণ ছিল অনগোয়িং দেখাটাকে এড়ানো৷ কারণ স্টাইন্স গেইটের মত এনিমে অনগোয়িং দেখার মত পেইনফুল কাজ করতে আমি মোটেই রাজী ছিলাম না! তো আজকে শেষ করে ফেললাম মহাকাব্যিক এই এনিমের সিকুয়েল৷ যা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশী ভাল জিনিস পেয়েছি এনিমেটার কাছ থেকে৷

প্লট:
স্টাইন্স গেইট জিরোর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে বেটা টাইমলাইনকে ঘিরে৷ যাদের বেটা টাইমলাইন কোনটি তা মনে নেই তাদের স্বার্থে বলছি, বেটা টাইমলাইন হল সেই টাইমলাইন যেখানে ওকাবে মাকিসে কুরিসেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়৷ বিনিময়ে মায়ুরি বেঁচে থাকে। অন্যদিকে আলফা টাইমলাইনে কুরিসু বেঁচে যাওয়ায় মায়ুরিকে প্রাণ দিতে হয়৷ এই দুই টাইমলাইনের মাঝেই অবস্থান করে স্টাইন্স গেইট টাইমলাইন যেখানে কুরিসু এবং মায়ুরি দুজনেই বেঁচে থাকে ও বিশ্বের পরাশক্তিগুলো টাইম মেশিনের দখল পাওয়ার জন্য বিশ্বযুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ে না।

স্টাইন্স গেইট এনিমে সিরিজে আমরা ওকাবেকে দেখি স্টাইন্স গেইট টাইমলাইনে সফলভাবে পৌছুতে। কিন্তু জিরো এনিমেটি জগতের বেটা টাইমলাইন দেখায়। জিরো প্রদর্শন করে বেটা টাইমলাইনের জগতের ভয়াবহতা যেখানে কুরিসুর বিনিময়ে মায়ুরিকে বাঁচালেও মানবজাতির উপর অশুভ শক্তির কালো ছায়া ঠিকই বিদ্যমান থাকে। ভবিষ্যত থেকে আসা সুজুহা বারবার ওকাবেকে মনে করিয়ে দেয় যে বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন। ৫-৭ বিলিয়ন মানুষের জীবন ওকাবের হাতে, সে একটু সাহস প্রদর্শন করতে পারলেই এত মানুষের জীবন বেঁচে যায়। ওকাবে দৃঢ়ভাবে আবার টাইম ট্রাভেল করতে অস্বীকৃতি জানায়, সে আবারও তার প্রিয় কারোর মৃত্য দেখার যন্ত্রণা ভোগ করতে চায় না। সে বলে স্টাইন্স গেইট টাইমলাইন বলতে কিছুই নেই, সবই তার অলীক কল্পনা ছিল। ম্যাড সায়েন্টিস্ট ওকাবে রিনতারো হয়ে যায় স্বল্পভাষী স্বাভাবিক যুবক যে কিনা নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় আর বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। ফিউচার গ্যাজেট ল্যাবরেটরির ০০১ নাম্বারধারী মেম্বারের আর পা পড়ে না ল্যাবে। যে মায়ুরির জন্য এতকিছু সে নিজেও ল্যাবে আসলে ফাঁকা ফাঁকা বোধ করে।

কাহিনীর মোড় ঘুরে যায় যখন এক সেমিনারে একটি AI (আর্টিফিশিয়াল ইনটিলিজেন্স) এর উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে ওকাবে হাজির হয়। সেখানে তরুণী বিজ্ঞানী হিয়াজো মাহো (আমাদের লিগাল ললি!) এবং অধ্যাপক লেনস্কিনের সাথে ওকাবের পরিচয় হয়। মাহো আর লেনস্কিন Amadeus নামের এক AI সিস্টেমের আবিষ্কর্তা। ওকাবে জানতে পারে যে মাহো আর কুরিসু একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল এবং তারা একই বিষয়ের উপর গবেষণা করেছে৷ ওকাবে এটা জেনে দারুণ অবাক হয় যে আমাডেউস সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে কুরিসুর মেমরির উপর ভিত্তি করে৷ কম্পিউটারের স্ক্রিনে জলজ্যান্ত কুরিসুকে দেখে ওকারিন তো প্রায় পাগলপ্রায়। প্রফেসর আর মাহো ওকাবেকে অনুমতি দেয় AI টির সাথে নিয়মিত কথাবার্তা বলে সিস্টেমটির উন্নতি ঘটাতে৷ ওকাবের ফোনে আমাডেউস ইনস্টল করে দেওয়া হয় আর সেখান থেকেই ওকাবে আবার টাইম ট্রাভেল জগতের ভয়ংকর বেড়াজালে আটকা পড়ে।

প্রতিক্রিয়া:
স্টাইন্স গেইট এনিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ নিঃসন্দেহে এর স্টোরি আর সেই স্টোরির টুইস্ট। জিরোর স্টোরিতে সেটা ভালভাবেই বিদ্যমান ছিল। আগের সিরিজের প্রথম কয়েকটা পর্ব ছিল বেশ ধীরগতির। ইউনিভার্স আর চরিত্রগুলাকে ব্যাখা করতে গিয়ে এরকম হয়েছিল বলে মনে করি৷

জিরোতে মোটামুটি ভালরকমভাবে সবকিছু আগে থেকে গোছানো থাকায় প্রথম পর্ব থেকেই পেসিং বেশ সুন্দর মনে হয়েছে। বেশ কয়েকটা নতুন চরিত্র ছিল, তাদেরকে বেশ ভালভাবেই কাহিনীতে জায়গা দেয়া হয়েছে৷ তাছাড়া পুরনো চরিত্রগুলোকেও নতুন ডেভেলপমেন্ট দেয়া হয়েছে৷ ওকাবের নতুন রূপকে কেন জানি একটু বেশীই ভাল লেগে গিয়েছে। সারাদিম আকাশ-কুসুম কল্পনা করার ওকাবের বদলে শান্ত-সৌম্য, ধীরস্থির, স্বাভাবিক ওকাবেকেই বেশী মনে ধরেছে।
তাই বলে হওয়িন কিয়োমার রিটার্নের জায়গাটা খারাপ ছিল এটা কোনভাবেই বলা যাবে না৷ মুহাহাহা করে সেই শয়তানি হাসিটা দেওয়ার পর তো গায়ের রোম পুরো খাড়া হয়ে গিয়েছিল, রক্ত চলাচলও সম্ভবত বেড়ে গিয়েছিল তিন বছর পর হাসিটা শোনার কারণে৷ পলকের মধ্যে শার্ট-প্যান্টের উপর ওকারিনের ল্যাবকোট গায়ে দেয়ার দৃশ্যটা সম্ভবত এনিমেটার সেরা জায়গা ছিল।

অন্য চরিত্রগুলার মধ্যে দারুণ উন্নতি হয়েছে দারু আর মায়ুশির৷ বিশেষ করে মাথাঠাণ্ডা দারুর এরকম দারুণ আকর্ষণীয় দিক আছে তা কে জানতো! আগের সিরিজে তো দারুর পার্ভার্টনেসটাকেই বেশী দেখিয়েছে। এখানে বোঝা গেছে কেন দারু ভবিষ্যতে টাইম মেশিন আবিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছে। সুজুহার ব্যাপারটা জানা থাকায় দারুর পিতৃসুলভ আচরণ অনেক দেখা গেছে যা অনেক নান্দনিক ছিল। ইউকির সাথে ডেইটের পর ছাদের উপর বিষণ্ণ দারুকে দেখে অনেক খারাপ লেগেছিল।

অন্যদিকে জিরোতে মায়ুশির কাজকর্মের পরিধি ছিল অনেক বিস্তৃত। মায়ুশির চিন্তাভাবনার অনেক গভীর দিক দেখিয়েছে সিরিজটা। আগের সিরিজে অনেকটাই সাক্ষী গোপাল থাকায় অনেকের হয়তো মায়ুশিকে মনে ধরে নি। এবার তাদের আগের চেয়ে মায়ুশিকে বেশী লাগবে আশা করি। আর এতদিন পর ‘তুত্তুরু’ শোনার আনন্দ তো আছেই।

সুজুহা চরিত্রটা এ সিরিজে আরো বেশী গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটা অ্যাকশন সিন দুর্দান্ত হয়েছে সুজুহা আর কাগারির কল্যাণে। আগের সিরিজে সেরকম কোন অ্যাকশনই ছিল না। এবার তো মিলিটারি অ্যাকশন দেখিয়ে আরো ডার্ক হয়ে উঠেছিল সিরিজটা।

নতুন চরিত্রগুলার মধ্যে কাগারিকে অতটা ভাল লাগে নি আমার৷ ওর ‘মমি’, ‘মমি’ শুনতে বেশ বিরক্তই হয়েছিলাম। তবে কাহিনীর সাথে চরিত্রটা বেশ মিশেছিল। আর মাকিসের মত চেহারা হওয়ায় তো রীতিমত বুকটা ধকই করে উঠেছিল প্রথমবার তাকে দেখে।

বেশী ভাল লেগেছে হিয়াজো মাহো চরিত্রটা। মেয়েটা এতই ছোট যে পাঁচ ফুটও লম্বা হবে কিনা সন্দেহ!মাহোর প্রতিনিয়ত নিজেকে মাকিসের সাথে তুলনা করার জায়গাগুলা well written ছিল। সালিয়েরি আর মোজার্টের তুলনাকে রূপক হিসেবে দেখানোটা দুর্দান্ত ছিল। স্টায়েন্স গেইট একটা কল্পবিজ্ঞান এনিমে হলেও এতে যেন জ্ঞানের সব শাখার ছোঁয়া থাকে একটু হলেও৷ তো মাহোর প্রসঙ্গে ফিরে আসি।
মাহোর সাথে ভাল একটা ডেভেলপমেন্টই দেখানো হল ওকাবের৷ আমি ভাবছিলাম ক্যানন লেভেলের একটা শিপিংই কি শুরু করেছি নাকি! জিনিসটার মীমাংসা যেভাবে হয়েছে সেটা আমার খারাপ লাগে নি। মাহো খুব সুন্দর করে মিশে গিয়েছিল ফিউচার গ্যাজেট ল্যাবরেটরির সাথে।

আগের সিরিজের মত রুকাকোর সাথে ভাল একটা মোমেন্ট ছিল ওকাবের৷ দেখে বেশ আবেগপ্রবণই হয়ে পড়েছিলাম। মাঝে মাঝে মনে হয় রুকাকোর সাথেই মনের মিল হোক ওকাবের! (সমস্যা নেই, ভিজুয়াল নভেলে একটা রুট শুধুমাত্র এই দুজনের জন্যই!)

আর যার কথা না বললেই নয় সে হল মাকিসে কুরিসু। কাহিনীতে সশরীরে উপস্থিত না থাকার পরেও প্রেতাত্মার মত আমাকে তাড়িয়ে বেরিয়েছে চরিত্রটা৷ ওকারিনের মতই সিরিজটার প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে মাকিসের অভাব অনুভূত করছিলাম। আবার আমাডেউসের স্ক্রিনে তাকে দেখে দুধের স্বাদ বিন্দুমাত্র ঘোলে মিটছিল না। উল্টো বারবার মনে পড়ছিল মাকিসে এখন মৃত৷ ভাল রকমের ইমোশানাল ব্ল্যাকমেইল করে ছেড়েছে মাকিসে আমাকে বলতে হবে। ওকারিন যে পর্বে কিছুক্ষণের জন্য আলফা টাইমলাইমে চলে যায় সে পর্বটা এত বেদনাবিধুর ছিল! মাকিসে যেভাবে বেটা টাইমলাইনের ওকাবেকে শান্ত করে ওকে ভবিষ্যতে কী করতে হবে তা বুঝিয়ে দিয়েছিল সেটা খুব ভাল লেগেছিল৷ এর মাধ্যমে মাকিসে কুরিসু আবারও বুঝিয়ে দিল সে কেন এত জনপ্রিয় হওয়ার যোগ্য। ভাল থাকুক আমাদের ওয়াইফু সে যেখানেই থাকুক না কেন!

স্পয়লার অ্যালার্ট 
*
*
*
*
*
জিরোর একটা ভাল দিক ছিল যেখানে স্টায়েন্স গেইটের দুনিয়াটা খুব বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে। ২০২৫ আর ২০৩৬ সালের দুনিয়াকে খুব ডিটেইলড দেখানোতে আমরা আরেকটা বিশ্বযুদ্ধের।ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরেছি। ওকারিনের ৩০০০ বার টাইম লিপের জায়গাটা অসাধারণ ছিল। সেই ২০৩৬ থেকে ২০১১ তে ফিরে আসা, তারপর আমাডেউসকে মুছে দিয়ে convergence মোচন করা, তারপর সফলভাবে টাইম মেশিনকে রক্ষা করা; সবই খুব দারুণভাবে দেখানো হয়েছে। আরেকটা চমৎকার দিক ছিল শেষে ওকাবে স্টাইন্স গেইট খুঁজে পেয়েছে কিনা তা পরিষ্কার না দেখানো। লেখকরা বেটা টাইমলাইনের দায়িত্ব দর্শকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। অবশ্য স্টাইন্স গেইটের মত এনিমের কাছ থেকে এমন সমাপ্তি আশা করাই যায়!

আর ম্যাড সায়েন্টিস্ট হওয়িন কিয়োমার পূর্ণাঙ্গ আগমন সমাপ্ত হয় ২৩ নং পর্বের শেষ দুই মিনিটে। স্পয়লার অ্যালার্ট থাকার পরেও কেউ যদি এই জায়গাটা পড়ে ফেলেন তাই কিছু লিখলাম না এই ব্যাপারে৷ শুধু বলবো 18000 B.C এর জায়গাটা আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা এনিমে মোমেন্ট ছিল।
*
*
*
স্পয়লার অ্যালার্ট সমাপ্ত

স্টাইন্স গেইটের ওএসটি নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। স্টাইন্স গেইট মানেই যেন Ito Kanko, এবারও একগাদা গান ছিল ভদ্রমহিলার। ওপেনিং সং Fatima দারুণ লেগেছে, পরে জানলাম লিরিকের দিক দিয়ে এটা Hacking to the Gate এর উত্তরসূরি। ভালই লেগেছে পুরো সিরিজ ধরে একটা মাত্র ওপেনিং সং রাখায়৷ এন্ডিং দুটোই ভাল ছিল। Last Game, Amadeus সবগুলা গানই ভাল ছিল।

আর নতুন সাউন্ডট্র‍্যাকগুলা অত খেয়াল করি নি তেমন। তবে বরাবরের মত Gate Of Steiner আর Christina ট্র‍্যাক দুটো শুনে শিহরিত হয়েছি৷ শেষের পর্বে আবার Hacking to the Gate ও বেজে উঠেছিল কিছুক্ষণের জন্য! লিরিকসহ Gate Of Steiner এর একটা ইংরেজি বোনাস ট্র‍্যাকও আছে৷ এখনো কানে বাজছে গানটা, লুপ সরাতে পারছি না একদম!

যদিও জানি জাপানি ভয়েস অ্যাক্টিং সবসময়েই উৎকৃষ্ট তারপরেও ২১ পর্ব পর্যন্ত ডাবেই দেখেছি এনিমেটা৷ ফলাফল আবারও কানা হানাজাওয়া আর মামোরু মিয়োনোর ভয়েস মিস! তবে সেটা কোন ব্যাপার না। যে গুটিকয়েক এনিমের ডাব, সাবের সাথে তুলনা করতে পারে তার মধ্যে স্টাইন্স গেইট একটা৷ আমার আবার মায়ুশির ইংরেজি ভয়েসটা বেশী ভাল লাগে কিনা! কানা হানাজাওয়ার ভক্তরা আমাকে মেরে বসবেন না কিন্তু!

রেটিং: ১০/১০

The Red Turtle [মুভি রিভিউ] — Torsha Fariha

Red Turtle 3

মুভির নামঃ Red Turtle
Production Company: স্টুডিও জিবলি ও ওয়াইল্ড বাঞ্চ। 
IMDb Rating: ৭.৬
Personal Rating: ৮

২০১৭ সালের অস্কারের best animation feature film এর ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পাওয়া।

খুব ছিমছাম সুন্দর ৮০ মিনিটের একটা মুভি। জটিল কোন কাহিনী না, স্নায়ুতে টান ধরানো কোন ক্লাইম্যাক্স না, খুব খুব খুব সাধারন একটা মুভি। এবং খুব চুপচাপ। হাসি আর কিছু চিল্লানো ছাড়া এখানে আর একটা কথাও নেই। মুভির সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং জিনিস মনে হয় এটাই। একটা কথাও না বলে কিভাবে এত সুন্দর একটা কাহিনী ফুটিয়ে তোলা যায়!

কাহিনী খুবই সরলরেখার। জাহাজভাঙ্গার পর এক লোকের জ্ঞান ফিরে নাম না জানা এক দ্বীপে। কয়দিন ধাতস্ত হওয়ার পর প্রথম সুযোগেই সে ভেলা বানায় দ্বীপ ছাড়তে যায়। কিন্তু প্রতিবারই একটু কিছুদূর যাওয়ার পর ভেঙ্গে যায় ভেলাটা। কয়েকবার চেষ্টার পর সে আবিষ্কার করে একটা লাল রঙের কচ্ছপের কাজ এটা।

গল্পটা বেশ ছোটই তাই আর বলতে গেলে এক-দুইটা যে টুইস্ট আছে সেগুলাও বলা হয়ে যায়। তাই বাকিটুকু জানতে দেখতে হবে মুভিটা।

Red Turtle 1

এবার আসি সৌন্দর্যের কথায়। মুভিটা এককথায় চোখের শান্তি। ধূ-ধূ সাগরতট, সবুজ বন, নানা শেডের নীল পানি, উঁচু উঁচু ঢেউ দেখতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু সাথে একটা একাকীত্বের অনুভূতি আসে। আমার দেখতে গিয়ে মনে হয়েছে, খাবার-পানি ছাড়া যেমন বাঁচা যায় না, তেমনি বি-শা-ল একটা জায়গায় একা থেকেও বাঁচা যায় না।

এবার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ডায়ালগের ঘাটতি আসলে এখানে অনেকখানিই মিটিয়ে দিয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। খুব সুদিং।

Red Turtle 2

এমনিতে ড্রব্যাকের কথা যদি খুঁজে খুঁজে বলতে হয়, তবে বলব মুভিটা একটু স্লো। যারা এক্সাইটিং কিছু খুঁজছেন তারা মনে হয় কিছুটা হতাশই হবে। তবে এটা ঠিক ড্রব্যাক না। মুভির জানরাই এমন। স্লাইস অফ লাইফ- সুপার ন্যাচারাল যাদের পছন্দ কিংবা বেশ কিছুদিন ধরে যারা একশন-থ্রিলার দেখছেন, অথবা আমার মত আনিমে দেখা থেকে প্রায় অবসর নিতে বসেছেন- মোট কথা সবারই এই মুভি পছন্দ হবে।

মুভিটা আমার কাছে অনেকটা ছুটি কাটানোর মত রিল্যাক্সিং লেগেছে।

তাই, না দেখে থাকলে দেখে ফেলতে পারেন। সময়টা সুন্দর কাটবে।

Red Turtle 4

Kokkoku [রিকমেন্ডেশন] — Towhid Chowdhury Faiaz

Kokkoku

এই এনিমেটির নাম এনিমে কমিউনিটির সবারই কমবেশি জানা আছে এবং এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এর এনিমে ওপেনিং। এই এক এনিমে ওপেনিং পুরো কমিউনিটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। ট্যাঙ্ক এবং এ ক্রুয়েল এঞ্জেলস থিসিসের পরে এই প্রথম মনে হয় আমি কোনো এনিমের ওপেনিং স্কিপ করিনি একবারও। কিন্তু খালি ওপেনিং ভালো হলেই সব হয় না। যদিও এনিমেটাকে চমৎকার কিংবা অসাধারণ বলা যাবে না তাও বলবো এর অসাধারণ কনসেপ্ট,কিছু চমৎকার কাহিনীগত উদ্ঘাটন রয়েছে যা আপনাকে ইমপ্রেস করবে।

কাহিনীটা যদিও অসম্ভব রকমের প্রিটেনশিয়াস এবং সুডো ভিত্তিক বিজ্ঞান কল্পকাহিনী কেন্দ্র করে লেখা।মাত্রই চাকরির এক ইন্টার্ভিউ দিয়ে আসা জুরিকে তার বড় বোন ফোন করে তার বড় বোনের ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার জন্য বলে।বাসায় এসে জুরি তার বেকার বড় ভাইকে এই কাজে পাঠায়। কিছুক্ষণ পরেই সে একটি ফোনকল পায় যে তার বড়ভাই এবং মাকোতোকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং তারা টাকা দাবি করে। এরকম সময়ে জুরির দাদা এমন একটি পাথর তাদের দেখায় যার মাধ্যমে সময় আঁটকে রাখা যায় পৃথিবীর। এই সময়ে কেবল যারা পাথরটা ব্যাবহার করেছে তারা ছাড়া অন্য কেউ চলাচল করতে পারবে না এবং তারা পাথরের মতো আঁটকে থাকবে কারণ সময় বন্ধ কিন্তু জুরি তার দাদা এবং বাবা যখন কিডন্যাপারদের হাত থেকে তার বড় ভাই এবং মাকোতোকে উদ্ধার করতে যায় তখন দেখে কিডন্যাপাররাও তাদের মতো চলাচল করতে পারছে এবং পুরো কিডন্যাপটাই একটা ট্র্যাপ ছিলো তাদের কাছ থেকে সেই বিশেষ পাথরটা নেবার জন্যই।এখান থেকেই শুরু হয় কক্কোকু এনিমের মূল কাহিনী। সিরিজের পুরোটা সময়ই তারা এই সময় থেমে থাকা স্ট্যানিস নামক এই পৃথিবীতে আটকিয়ে থাকে এবং বের হবার চেষ্টা করে।

সিরিজটা দেখে আমার নিকোলাস কেজের Knowing সিনেমাটার কথা মনে পড়ে গেলো। ওই সিনেমাটার সবই ঠিক থাকলেও শেষটা খুবই উদ্ভট এবং আধ্যাত্মিক রকমের ছিলো। কাহিনীগত দিক দিয়ে কক্কোকু এবং নোয়িং এর মিল না থাকলেও কাহিনীর সমাপ্তির প্রতি আমার মনোভাবটা একই।এন্ডিংটা একটু বেশি আধ্যাত্মিক হয়ে গেছে তা ছাড়া বাকি সবই ঠিক ছিলো।

সব মিলিয়ে এনিমেটা ভালোই। খুবই ভিন্নধর্মী একটি কনসেপ্ট এবং মোটামোটি ভালোই এক্সিকিউশন ছিলো ওই কনসেপ্টের। একটু ভিন্নধর্মী সাইয়েন্স ফিকশন কিংবা সুডো সাই-ফাই এর প্রতি আকর্ষণ থাকলে এটা রেকোমেন্ডেড।

Shiki [রিভিউ] — Amor Asad

Shiki

সোতোবা নামের গ্রামটা মোটামুটি নিরিবিলি, অল্প কিছু মানুষের বাস। দেশ উন্নত বলে সভ্যতার ছোঁয়া পৌঁছেছে, যতটুকু না হলেই নয়। তবুও সবুজ ঠিকরে বেরোয়। শহুরে জোম্বিদের আশ্রম, অনেকেই বায়ু পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আসে। চাষাবাদ করে গ্রামের অধিবাসীরা। অবসরে ভুড়ি এলিয়ে এর ওর নামে উড়ো কথা ছড়ায়।
শহুরে জোম্বিরা এরকম গ্রামে গেলে বিহবল হবে। প্রথমে আনন্দের আতিশয্যে, পরেরবার করার মত কাজ খুঁজে না পেয়ে।
কিন্তু সোতোবায় কেউ বসে নেই। গ্রামে মড়ক লেগেছে। একের পর এক গ্রামবাসী মারা যাচ্ছে। মৃত্যুর আগে সবার লক্ষণ এক।
মহামারী নয়তো? — স্থানীয় ডাক্তার ভাবে।
দু’চারজন মৃত ব্যক্তিকে আবার চলতে ফিরতে দেখা গেলো। এ কী করে সম্ভব? ডাক্তারের ব্যাখ্যার জন্যে বসে নেই স্থানীয় ওঝা। প্রচার করে বেড়ালো, গ্রামের এক কোণে বড় প্রাসাদ। নতুন অধিবাসী এসেছে শহর থেকে। ওরাই সব মৃত্যুর কারণ, ওরাই মৃতদের জাগিয়ে তুলছে।

মিস্টেরি/ভ্যাম্পায়ার ঘরানার এই সিরিজখানা নিজের বক্তব্যে নিশ্চিত না। খেলো দর্শন কপচানো বড় একটা অংশ জুড়ে। ভ্যাম্পায়ারদের মানুষ হত্যাকে বেচে থাকার জন্যে অত্যাবশ্যক হিসেবে দেখায় মানুষের পশু ভক্ষণের উদাহরণ দিয়ে। মিথোলজিতে ভ্যাম্পায়ার অশুভের প্রতীক, ইশ্বরবিমুখতার প্রতীক। শিকি সিরিজখানা মিথ এড়িয়ে প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান দিয়ে একটা দর্শনগত দোটানা তৈরী করতে চায়। কিন্তু এভাবে দেখলে, ভ্যাম্পায়ার আলাদা প্রজাতি না। বিদ্যমান প্রজাতিতে বিকৃতি। প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানে কোন প্রজাতির সদস্য বিকৃতির স্বীকার হলে অন্যেরা তাঁকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। পাখির ঝাক বা পিঁপড়া দিয়ে উদাহরণ দেয়া যাবে। মানুষেরাও এর বাইরে না।

সিরিজের গল্পকথন অবশ্য ভাবনার দাবীদার। অনেকাংশে ব্রুটাল। প্রচুর চরিত্রের সমাগম, স্ক্রিনে সময় নিয়ে আসীন হবার দাবীদারও অনেক। ফলে ঘটনা বেশ ধীর গতিতে এগোয়, কিন্তু গল্প সাজানোর ঢঙ্গ আকর্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম। এক বসায় দেখে ওটার মত গতিশীলও মনে হতে পারে।

৭.৫/১০

Petshop of Horrors [রিভিউ] — Krista King

Petshop of Horrors 1

Anime: Petshop of Horrors
Genre: Mystery, Philosophical, Psychological, Horror
Demographic: Josei
Episode: 4
Author: Matsuri Akino
Aired: 1999

 

 

 

সারসংক্ষেপ-
চায়না টাউন নামক একটি জায়গায় পোষ্য বিক্রয়ের দোকান, যার মালিক কাঊন্ট ডি। ক্রেতা নিজের একান্ত ইচ্ছার পোষ্যকে কিনতে আসে, কিন্তু এই পোষ্যগুলি সাধারণ নয়। কিছু শর্ত পালন করতে হয় পোষ্যগুলির জন্য, এই শর্ত ভঙ্গ করলেই বিপদ, এমনকি ক্রেতার মৃত্যুও সম্ভব। এইভাবেই বিভিন্ন ক্রেতার পোষ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা, তাদের রাগ, অভিমান, দুঃখ, হতাশা নিয়েই গল্প।

My view-
প্রতি পর্বের ঘটনা ভীষণই মর্মস্পর্শী। ঘটনাগুলোর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও দার্শনিকতা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, হিস্পানিক ও ভয়াবহ ভাব পরিবেশের সঙ্গে মানানসই। অনেকটা xxxholicএর ভাব খুঁজে পাবেন, কিন্তু তবুও অনেকটাই ভিন্ন।
তবে, সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো মাত্র চারটি পর্ব। আপনার মনে যখন রহস্য তুঙ্গে তখনই শেষ।
তবুও আমি বলব, দেখতে অসুবিধা হবে না বরং ভালোই লাগবে কারণ প্রতিটা পর্বে ভিন্ন গল্প। হয়তো এই animationটা বানানোই হয়েছে দর্শকদের mangaটার প্রতি আগ্রহী করে তোলার জন্যই।

Character-
Count D- এমনই এক পুরুষ, যার রুপকে শরবতের মতো পান করতে ইচ্ছে করবে। দার্শনিকতায় উত্তম চরিত্রটির প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে উপায় নেই।
এছাড়া নানান পর্বের নানান গল্পানুযায়ী বিভিন্ন মানসিকতার ভালো মন্দ tragic চরিত্রগুলি লক্ষ্যণীয়।

Petshop of Horrors 2

Dallos [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Dallos 1

এনিমে: Dallos
পর্ব সংখ্যা: ৪

একবিংশ শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে এতোই বৃদ্ধি পায় যে পৃথিবী মানুষদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এমনই সময় মানুষ বেঁচে থাকার জন্য চাঁদের খনিজ সম্পদকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। এভাবেই চাঁদে মানুষদের বসবাস শুরু হয় কিন্তু পুরনো প্রজন্মের যারা পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য চাঁদে এসেছে তাদের দৃষ্টি এবং নতুন প্রজন্মের যারা পৃথিবীকে কখনো না দেখা সত্তেও পৃথিবীর জন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছে তাদের দৃষ্টি কি কখনো এক হতে পারে? এটিই ড্যালাস গল্পের কাহিনীর মূল ভিত্তি।

ড্যালাস এনিমেটার নাম প্রথম আমি প্ল্যানেটস এবং রয়্যাল স্পেস ফোর্স এনিমের রেকোমেন্ডেশন ফরামে খুঁজে পাই। যেহেতু ওই দুটি এনিমে অনেক ভালো লাগে সেহেতু এই এনিমেটা দেখার জন্য অনেক আগ্রহ জন্মে। একটু ঘাঁটা-ঘাঁটি করার পর দেখি এই এনিমের পরিচালক গোস্ট ইন দ্যা শেল এর পরিচালক মামোরু অশী। এই কাজটা তার একদম প্রথম দিকের।

এই এনিমের সবচেয়ে শক্তিশালী জিনিসটি হলো এর কাহিনীর বিষয়বস্তু। চাঁদে মানুষের কলোনি হলে এক সময় ভবিষ্যৎ কীরকম হবে তার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি এই এনিমেটা প্রকাশ করে। কাহিনীর মূল অংশটুকু ভালো হলেও চিত্রনাট্যের অনেকটুকু অংশই খুবই দুর্বল ছিলো। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে এনিমেটার দুর্বল চরিত্রায়ন। কোনো চরিত্রকেই এই এনিমেতে বিশেষ মনে হয় নি আর এনিমে শেষ হবার আগেই আপনি চরিত্রগুলোর নাম ভুলে যাবেন। পরিচালনার দিক দিয়েও এনিমটা অসম্ভব রকমের হতাশ করেছে আমাকে। এই এনিমেটার ৩ বছর পর মামোরু অশী অ্যাঞ্জেল’স এগ পরিচালনা করেন যা আমার মতে কেবল এনিমে নয় বরং সিনেমা পরিচালনার সেরা কাজগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিটি মুহূর্ত এর চমৎকার দৃশ্য পরিচালনার জন্য স্মরণীয় কিন্তু ওই তুলনায় ড্যালাস একদম সাদা-মাটা। ড্যালাসের পরিচালনা এবং দৃশ্য পরিচালনা অনেক ভালো করা যেতো।

এনিমেটা যে খারাপ তা নয় কিন্তু এনিমেটার যেই কাহিনী এবং থিম-সেটিং ছিলো সেটা দিয়ে ২ ঘণ্টার একটি চমৎকার এনিমে ফিল্ম কিংবা ১২ পর্বের সিরিজ বানানো যেতো। হয়তবা অশীর প্রথম দিকের কাজ বলে এতো ভুল হয়েছে এনিমেটাতে। বর্তমান অশী যদি এখন এই এনিমেটা নিয়ে কাজ করে তাহলে আমি নিশ্চিত এটি কমপক্ষে ৮/১০ এর মতোই একটি সিরিজ হবে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে এই এনিমেটা ৫-৬/১০ এর মতো একটি সিরিজ।

Dallos 2

খুবই ভিন্ন এবং বাস্তব অনেকগুলো বিষয় এনিমেটা দেখিয়েছে এবং কাহিনীটাও বেশ ভালো যদিও এর দুর্বল চিত্রনাট্য এনিমেটার অনেক ক্ষতি করেছে। “দেখতেই হবে” এমন ধাঁচের কোনো এনিমে না কিন্তু আপনি যদি মামোরু অশীর ফ্যান হয়ে থাকেন তাহলে দেখতে পারেন।

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Safin Zaman

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

শৌয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু সিজন ১+২ 
Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu
[স্পয়লারবিহীন রিভিউ]

ভালো একটা গল্প শুনতে কেই-ই বা পছন্দ করে না? সেই ছোটবেলায় দাদী-নানিদের কাছ থেকে রুপকথার গল্প শোনা থেকে বড় হবার পর মুভি, সিরিজ, অ্যানিমেতে ঝোঁকা- সবই একটা ভালো গল্পের আশায়। এই গল্পের পেছনে ছোটার মাঝে হয়তো চোখেই পরে না মানুষের জীবনেও কতশত গল্প,অণুগল্প লুকিয়ে আছে। এই জিনিসটাই চোখে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয় Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu। একজন গল্পকথকের জীবনটা যে তার বলা গল্পগুলোর চেয়ে কোন অংশে কম নয় তাই এনিমটির উপজীব্য বিষয়। আর শৌগেন এই বিষয়টা এতটাই চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তার প্রশংসা না করলেই নয়।

রাকুগো। আক্ষরিক অনুবাদ করলে হয় ‘পড়ন্ত শব্দ’। জাপানের এক ঐতিহ্যবাহী গল্পকথন মাধ্যম। সাধারণত একজন গল্পকথক মঞ্চে বসে দর্শকদের অনবরত গল্প বলে যান। গল্প বলার মাঝে গল্পের চরিত্রগুলোর কথাবার্তাও কথককে অভিনয় করে দেখাতে হয় যা মোটেও সহজ কাজ নয়। রাকুগো মেইজি পিরিয়ড এর মাঝামাঝি শুরু হয়ে পূর্ণ জনপ্রিয়তা লাভ করে শৌয়া পিরিয়ডে। কালের বিবর্তনে অনেকটাই বিলুপ্ত আজ একসময়কার জনপ্রিয় এ বিনোদন মাধ্যম।

শৌগেনের গল্প শুরু হয় সদ্য জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ইয়োতারো এবং তার বিখ্যাত রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোর শিষ্য হিসেবে নিযুক্ত হবার মধ্য দিয়ে। ইয়োতারো আর কয়েকজন চরিত্রের সাথে পরিচয় হবার পরপরই গল্প চলে যায় ফ্ল্যাশব্যাকে যেখানে আমরা দেখতে পাই কিভাবে সামান্য এক কিকুহিকু জাপানের অন্যতম সেরা রাকুগো শিল্পী ইয়াকুমোতে পরিণত হয়। এর সাথে পরিচিত হই ইয়াকুমোর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মানুষ সুকেরোকো, মিয়োকিচি এবং আরো কিছু চরিত্রের সাথে যারা পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথম সিজন প্রায় সবটুকুই ফ্ল্যাশব্যাক। প্রথম সিজন শেষে দ্বিতীয় সিজনে শুরু হয় এনিমের একেবারে শুরুতে দেখা ইয়োতারোর গল্প। মডার্ন জাপান, যেখানে হাত বাড়ালেই টেলিভিশন,রেডিওর মত বিনোদন মাধ্যম সেখানে রাকুগোকে বাঁচিয়ে রাখার মত অসম্ভব দায়িত্ব নিয়ে ইয়োতারোর প্রচেষ্টা । হয়তো ইয়োতারোর তার মাস্টারের মত প্রতিভা নেই, কিন্তু তার যা আছে তা হলো রাকুগোর প্রতি ভালবাসা। এই ভালবাসা আর তার কমেডিক রাকুগো দিয়ে সে চায় দর্শকদের মনে রাকুগোর প্রতি ভালবাসা তৈরী করতে।

এখন আসি এই এনিম কেন দেখবেন। শৌগেন দেখবেন এর গল্পের স্বাচ্ছন্দ্যময়তার জন্য। এত ভালো পেসিং এনিমেতে খুব কমই দেখেছি। খুব দ্রুতও না, আবার ধীরে ধীরে যেয়ে দর্শকদের বোর করে দেওয়ার মতনও না। দুইয়ের মাঝামাঝি এক সুন্দর গতিতে এগিয়ে চলে গল্প, যা দর্শকদের সম্মোহনী শক্তিতে আবদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম। এমনো হয়েছে শৌগেন দেখে আমি এতটাই বুঁদ হয়ে গিয়েছি যে বৃষ্টির ঝাপটা খাতাপত্র ভিজিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আমি কানে হেডফোন দিয়ে কিকুহিকুর রাকুগো শুনছি।

এরপর আছে এর চরিত্র আর তাদের চরিত্রায়ন। শৌগেনের প্রত্যেকটা চরিত্রই তাদের নিজেদের দিক থেকে অনন্য। কাকে রেখে কার কথা বলব। কিকুহিকু, ছোটবেলা থেকেই যে তার বন্ধু সুকেরোকোর সহজাত রাকুগো প্রতিভা দেখে হীনম্মন্যতায় ভুগত নাকি মিয়োকিচি, ভুল সময়ে ভুল দেহে জন্ম নেওয়া এক নারী যে কিনা কোন তৎকালীন সময়ে কোন পুরুষের সাহায্য ছাড়াই স্বাধীন জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখে। এনিম দেখে এমন চরিত্র পাওয়া কঠিন যাদেরকে ভালো না বেসে পারা যায় না। এতটাই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাদের।
প্রথম সিজন আর দ্বিতীয় সিজন আলাদা আলাদা করে বিচার করলে শৌগেন ভাল একটা এনিমে, কিন্তু যখন দুইটা একত্রে বিচার করা হয় এইটা একটা মাস্টারপিস হয়ে উঠে। প্রথম সিজনের ক্যারেক্টারগুলো দ্বিতীয় সিজনে না থেকেও যে কত বিশাল প্রভাব ফেলে তা না দেখলে বোঝা সম্ভব না। দুই সময়ের, দুই জেনারেশনের কতকগুলো মানুষ রাকুগোর মধ্য দিয়ে যেন এক অবিচ্ছেদ্য সুতোয় বাধা। কিছু মানুষ সুতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পরেও যে সুতোয় হঠাৎ টান পড়ে।

সত্যিই এই এনিম নিয়ে বলার জন্য নেগেটিভ কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। যদি কিছু বলতেই হয় বলার স্বার্থে বলবো এর দীর্ঘ রাকুগো পারফরমেন্স গুলো। কিছুটা বোরিং হলেও আমার কাছে ওইগুলো অনেক ভাল লেগেছে এবং মনে হয়েছে প্রত্যেক চরিত্রের নিজস্ব রাকুগোর ধরণ দেখানোর জন্য জরুরী ছিল এইই পার্ফরমেন্সগুলো। এনিমটাই যেখানে রাকুগো নিয়ে সেখানে রাকুগো না থাকলে কিভাবে কি!
তবে সবারই যে একই মতামত থাকবে তা আশা করা বোকামি। তাই যদি শো এর মাঝে দীর্ঘ রাকুগো দেখে বোর হয়ে ড্রপ দেবার চিন্তা করেন তবে কি জিনিস মিস করতে যাচ্ছেন না ঘুনাক্ষরেও বুঝবেন না। আমার দেখা কিছু সেরা প্লট টুইস্ট এই এনিমেতেই আছে।

পরিশেষে, ভালো কিছু দেখবেন হা-হুতাশ করছেন কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেন না অথবা নতুন কোন এনিম দেখবেন ভাবছেন। এইক্ষেত্রে শৌগেন হাইলি রেকমেন্ডেড। এইরকম এনিম পাঁচ বছরে দুই একটা আসে। না দেখে ফেলে রাখলে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দেখে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই মাস্টারপিস।