Penguindrum-এ ট্রেনযাত্রাঃ হারানো দশক অথবা টোকিওর ত্রানকর্তা — Fahim Bin Selim

mawaru-penguindrum-large-end-card-characters-2091613238 (1)

Mawaru Penguindrum-এর অজনপ্রিয়তা সম্পর্কে সবচেয়ে বড় কারণ ধরা হয় এর দূর্বোধ্যতাকে – রূপক আর সাহিত্য-ঐতিহাসিক ঘটনার যোগসূত্র ব্যবহারে কুনিহিকো ইকুহারার স্বেচ্ছাচার। এক্ষেত্রে আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটাকে ইডিওসিনক্রেসির কাতারে ফেলা যায়। যা একই সাথে এই অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সমালোচনাগুলোর একটি। কিন্তু ইকুহারার Revolutionery Girl Utena-তেও তো রূপকের ছড়াছড়ি ছিলো, তারপরও কেন সেটাকে অবিসংবাদিতভাবে ধ্রুপদী অ্যনিমের কাতারে ফেলা হয়, Penguindrum-এর ক্ষেত্রে যা কেবল কাল্ট স্ট্যাটাসেই সীমাবদ্ধ? সম্ভবত পশ্চিম, তথা জাপানের বাইরের অ্যানিমে দর্শকদের আপ্রোচটাই ভুল। বার্থেসের “ডেথ অফ দ্য অথর”-এর অনুসারে বলা যায়, “একটি লেখার সঙ্গতি তার উৎসের – লেখকের উপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে তার গন্তব্য – পাঠকের উপর।” Mawaru Penguindrum কোন বৈশ্বিক গল্প না, তা পুরোপুরি জাপানের ইতিহাসের উপর ভর করা, এর মানুষ আর তাদের অতীত, তাদের পরিস্থিতি, তাদের দূর্দশার মনোসমীক্ষণ। Utena-তে থাকা ধর্ম, পরিবার, বেড়ে ওঠা, জেন্ডার-রোল নিয়ে দেওয়া সামাজিক-ভাষ্য এখানেও উপস্থিত, কিন্তু কনটেক্সটটা সেটার মত জেনারালাইজড না। স্থান, কাল আর পাত্রে সুনির্দিষ্ট।

grimripper_revolutionary_girl_utena_ep34_remastered_r2j_dual_audio_9f960d6f-mkv_snapshot_03-22_2014-02-08_18-10-15

Penguindrum-এর ট্রেন যাত্রায় সঙ্গী হতে হলে আপনার যাত্রা শুরুর প্রথম স্টেশন হবে ১৯৮০-এর শেষ ভাগের জাপান। বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্মৃতি, চার দশক পেছনে। জাপান দাঁড়িয়ে গেছে শক্তিশালী এক ভিত্তির উপর; সামাজিক, সংষ্কৃতিক আর অর্থনৈতিক – সব দিক থেকেই জাপানের বিস্তৃতি হতে লাগলো ক্রমাগত ফুলাতে থাকা এক বুদুবুদের মত। মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়তে থাকলো, তাদের চাহিদা বাড়তে থাকলো, সেই সাথে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋনও। এবং এক্ষেত্রে যা হওয়া স্বাভাবিক, পুরোটাই ঘটলো অদূরদর্শী পরিকল্পনায়। এর পরের ব্যাপারটা হয়তো অর্থনীতিতে বিশেষজ্ঞ কেউ ভালো বুঝাতে পারবে, কিন্তু সাহিত্য আর রূপকের ব্যবহারে বলা যায় জাপানের অর্থনীতির বুদবুদটা, আর সব বুদবুদের অনিবার্য সমাপ্তীর সাথে মিলিত হলো। আর সেই বুদবুদের ভেতর থাকা মানুষেরা নতুন এক বাস্তবতার সম্মুক্ষীন হল। পরিণামটা হলো ভয়াবহ। পরিবর্তনটা হল বিপরীত। চাকরীর সংখ্যা কমলো, মানুষের আয় কমে গেলো, ইয়েনের দাম গেলো তলানিতে – কিন্তু নির্দিষ্ট একটা জীবন-ধাঁচের সাথে পরিচিত হয়ে যাওয়া মানুষেগুলোর চাহিদা কমলো না, তাদের প্রত্যাশাও। এক্ষেত্রে সরাসরি প্রথম আঘাতটা লাগলো সামাজিকভাবে – পরিবারে।

gg_mawaru_penguindrum_-_01_b8c345e7-mkv_snapshot_06-34_2011-07-11_17-16-19

প্রথম যাত্রাবিরতি বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে – জাপানের ক্ষেত্রে এই সময়টার জন্য বেশ গালভরা একটা নাম আছে – লস্ট ডেকেইড, হারানো দশক। ঐতিহাসিকভাবে জাপানের পারিবারিক কাঠামোটা বেশ শক্ত গাঁথুনির ছিলো, একসাথে কয়েক প্রজন্মের বসবাস ছিলো প্রথাগত। আশির শেষ আর নব্বইয়ের শুরুতে এই প্রথায় ভাঙন ধরতে শুরু করলো, পারিবারিক সম্পর্কগুলোতেও। আর্থিক সামর্থ্য বজায় রাখার চেষ্টায় মা-বাবারা উভয়ই কর্মক্ষেত্রে যাওয়া শুরু করলো। এবং অনুমিতভাবেই পশ্চিমের অনুরূপ জাপানে পরিবার বিচ্ছেদের সংখ্যাটাও হঠাৎ করেই বেড়ে গেলো(অগিনোমে পরিবার)। সন্তানেরা শৈশব থেকেই অপরিচিত, একাকী একটা পরিবেশে বেড়ে উঠতে লাগলো। “সফল” হওয়ার একটা চাপ তাদের উপরে বর্তালো। মা-বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার চাপও(তাবুকি, ইউরি পরিবার) – তা নিজেদেরটা বিসর্জন দিয়ে হলেও। ডানা কেটে দেওয়ার পাখির মত, সাঁতার না পারা মাছের মত – অথবা দুটোই – স্থলে আটকে পড়া পেঙ্গুইনের মত! আর এই ধারণাটাকে এগিয়ে নিতে পরিবারের সাথে জোট বাঁধলো সমাজের নিষ্ক্রিয়তা আর ঘুনে ধরা এক শিক্ষাব্যবস্থা। ব্যাক্তিস্বাতন্ত্রবিহীন, যান্ত্রিক একটা জীবন। চাইল্ড ব্রয়লার!

ch

কিন্তু পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পর্কে যখন শর্ত জুড়ে দেওয়া হলো, তখন পরিবারের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটা সময় এসে পড়াটা স্বাভাবিক। জাপানের পদার্পন পোস্ট-মডার্নিস্ট এক জগতে। আর পোস্ট মডার্নিজমের কথা বলতে গেলে ট্রেনে নতুন এক যাত্রীর আসাটা জরুরী। হারুকি মুরাকামি।

দ্বিতীয় স্টেশন – জানুয়ারী, ১৯৯৫। জাপানে আঘাত হানলো ৬.৯ মাত্রার এক ভূমিকম্প – দ্য গ্রেট হানশিন আর্থকোয়াক। জাপানীদের মনোবলের ভিতটা নড়ে গেলো। আর মুরাকামি লিখলেন তার “after the quake” ছোটগল্প সংকলনের কালজয়ী গল্প “Super Frog Saves Tokyo”. গল্পের শুরুতেই আমরা মূলচরিত্র কাতাগিরিকে দেখি একদিন কাজ থেকে ফিরে নিজের ঘরে এক বিশাল বড় ব্যাঙকে আবিষ্কার করতে। “আমাকে ব্যাঙ বলবেন”, ব্যাঙটা বলে নিস্পৃহভাবে, ম্যাজিক রিয়ালিজমের ব্যাকরণ মেনে। কাতাগিরির উপর দায়িত্ব বর্তায় টোকিওকে রক্ষা করার। কাতাগিরি সারাজীবনই নিঃস্বার্থভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছে। তার পরিবারের বাকিদের জন্য নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়েছে, চাকরীর কঠিন দায়িত্ব নির্দ্বিধায় পালন করেছে। কিন্তু বদলে সে কখনোই কোন স্বীকৃতি পায়নি, তদ্বিপরীত, কাতাগিরির জীবনটা বরং একাকীত্বের। এখানেই যুক্তির ফাটল ধরে। পরিবার যদি তার সদস্যদের অসম্পূর্ণতাকে মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, আব্র একই সাথে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যতার পায়ে শিকল পরিয়ে দেয়, তাহলে তার কার্যকারিতা কোথায়? কেবলই রক্তের সম্পর্কে? আপনি কী জন্য আরেকজন ব্যক্তির জন্য নিজের ভালোকে বিসর্জন দিবেন? জৈবিক তাড়নায়, পার্থিব উন্নতির লক্ষ্যে? নাকি পুরো ব্যাপারটাতেই ঐশ্বরিক পুরষ্কারের আকাঙ্ক্ষা নিহিত?

Penguindrum-এ ইকুহারা এই ধারণাটাকে আমূল বদলে দিলেন। কাতাগিরির পরিবারের সম্পূর্ণ বিপরীত, আমরা তাকাকুরা পরিবারের তিন ভাই-বোনের সাথে পরিচিত হই, যারা প্রকৃতপক্ষে কেউ কারো সাথে সরাসরি রক্ত-সম্পর্কিত না! কিন্তু তাদের সম্পর্কের গভীরতা একটি “আসল পরিবার”-এর তুলনায় কোন অংশেই কম না। একজন আরেকজনের জন্য জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত!

vlcsnap-2016-06-08-14h28m50s130

ট্রেনের কামরায় নতুন একজনের অতিথির আগমন – কেনজি মিয়াজাওয়া। কেনজি মিয়াজাওয়া তার “Night on the Galactic Railroad” গল্পে এই আত্নত্যাগের বিষয়টা বারবার ফিরিয়ে এনেছেন। মিয়াজাওয়ার মতে জীবনের সব গুলো ঘটনাই সম্পর্কযুক্ত, তা যত ছোটই হোক না কেন। নিয়তির বিচারে সব অংকের যোগফল শুন্য। এবং আপনি কেবল বড় একটা নাটকের অংশ মাত্র, যার চিত্রনাট্য আপনার হাতে নেই; তার লাল-সুতায় সবাই বাঁধা, এবং এর থেকে মুক্ত হওয়ারও কোন উপায় নেই। ভালো সবসময়ই থাকবে, খারাপ সবসময়ই থাকবে। বৃশ্চিক হওয়ার নিয়তি যদি অনিবার্যও হয়, কিন্তু তার প্রক্রিয়া আর কার্যকারণ আপনার হাতে, তা কুয়োয় পরে জীবন হারাবেন, নাকি আকাশে নক্ষত্রমন্ডল হয়ে জ্বলতে থাকবেন। জীবনের সমাপ্তী কেবল বেঁচে থাকাতেই না।

vlcsnap-2016-06-08-14h25m19s100

কাতাগিরির যেমন দায়িত্ব পরে “ওয়ার্ম”-এর হাত থেকে টোকিওকে বাঁচানোর – যাকে ব্যাঙ বর্ণনা করে, “মানুষের মনের সব অন্ধকারের সমষ্টি” হিসেবে, কিন্তু “ওয়ার্ম”-কে সরাসরি ভালো-খারাপের মানদন্দে ফেলা যায় না। “ওয়ার্ম” বরং জাপানের মানুষের সমষ্টিগত চেতনার অনুরূপ। কেউই তার জন্য দায়ী নয়, এবং একই সাথে সবাই দায়ী।

ট্রেনের চেয়ারগুলোতে কি কতগুলো খেলনা ভাল্লুক দেখা যাচ্ছে? আমাদের যাত্রার শেষ গন্তব্য ২০ মার্চ, ১৯৯৫। জাপান যখন লস্ট ডেকেইড পার হচ্ছিল, তখন তার ছায়ায় বেড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর টেরোরিস্ট সংগঠন – ওম শিনরিকিও(পিং গ্রুপ!)। ওম শিনরিকিওর শুরুটা বুদ্ধিজম আর হিন্দুইজমের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টায়। কিন্তু এক পর্যায়ে সেটা হয়ে গেল তাদের নেতা শোকো আসাহারার ব্যক্তিগত এক কাল্ট, যখন সে নিজেকে দাবি করলো “ক্রাইস্ট” হিসেবে। এ ধরনের পাগলাটে সংগঠনে যোগ দেওয়ার মত বোকামি কে করবে! কিন্তু সেটা করলো জাপানের সেরা, সেরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, শিক্ষকরা, শিক্ষিত ব্যক্তিরাই! তাদের মতে জাপানকে এর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী নির্মোহ, নির্জীব অবস্থা থেকে বাঁচাতে একটা “ধাক্কা”-’র প্রয়োজন ছিলো। ধাক্কাটা হবে টোকিওর নিচ দিয়ে চলে যাওয়া সুদীর্ঘ পাতাল-রেলপথে। হয়তো এতে অনেক মানুষ মারা যাবে – কিন্তু জাপানের সামগ্রিক “শুদ্ধির” জন্য এই বিসর্জনটা মেনে নেওয়াই যায়।

vlcsnap-2016-06-08-14h34m37s72

Penguindrum-এ ইকুহারা ওম শিনরিকিও-’র চিন্তাধারাটা বোঝার চেষ্টা করেছেন।তিন মূলচরিত্রের বাবা-মা-ই ওম শিনরিকিওর সদস্য! মুরাকামিকেও এই ব্যাপারটা ভাবিয়েছে, তিনি কেবল থট এক্সপেরিমেন্ট দিয়ে ফিকশনের “ওয়ার্ম”-এই পরে থাকেননি, সারিন গ্যাস অ্যাাটাক দ্বারা প্রভাবিত মানুষদের গল্প শুনেছেন, ওম শিনরিকিওর সদস্যদেরও। তারপর ১৯৯৭ সালে লিখলেন প্রায় শ’খানেক মানুষের সাক্ষাৎকার সম্বলিত নন-ফিকশন “Underground”. এই বইয়ের সাক্ষাৎকারগুলোতে জাপানের সেই সময়কার মানুষদের মানসিক অবস্থার একটা ধারণা পাওয়া। কেউ কেউ ছিলো যারা সকালবেলা এই দূর্ঘটনার মুখে পরেও, পরবর্তীতে কর্মস্থলে গেছে যেন কিছুই হয়নি, নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে আটকে থাকা রোবটের মত। কারো কারো আবার জীবন বদলে গেছে, পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটেছে, সবকিছু নতুন করে দেখতে শিখায়(“after the quake”-এর “UFO in Kushiro” পড়তে পারেন)। মানুষের মূল্যবোধকে ভেতর থেকে খাওয়া অ্যাপ্যাথেটিক এক সমাজব্যবস্থা আর সরাসরি মানুষ হত্যা করতে প্রস্তুত এক ডুম’স ডে কাল্টের মধ্যে আপনি কীভাবে তুলনা করবেন?

“And the opposite of life is not death, it’s indifference.”
― Elie Wiesel

এই কাল্ট যখন আবার সেই সমাজব্যবস্থার কারণেই বেড়ে ওঠা, সেই সমাজেরই “সব অন্ধকারের সমষ্টি”? পাতালপথের নিচে বাড়তে থাকা “ওয়ার্ম”, কাধের পেছনে ভর করা এক ভূত, একটি অভিশাপ – “সানেতোশি”। কেউই তার জন্য দায়ী নয়, এবং একই সাথে সবাই দায়ী। এর ফলাফলটাও ভোগ করবে সবাই। “ওয়ার্ম” অথবা “সানেতোশি”-’র হাত থেকে টোকিওকে বাঁচানোর দায়িত্বটাও কাতাগিরি বা মোমোকোর একার নয়, কিন্তু কাতাগিরি এবং মোমোকোরও দায়িত্ব। তার বদলে কোন স্বীকৃতি না পেলেও। একটি ব্যাঙ অথবা একটি ডাইরী বাদে কেউ তাদের বীরত্বের কথা না জানলেও। শোকো আসাহারার মত কেবল ফাঁকা বুলিতেই না, ক্রুশেও যে বিঁধতে হবে একজন “ক্রাইস্ট”-কে।

চিরস্থায়ী ভালোর আশা করাটা বোকামি, কিন্তু খারাপের বিপক্ষে ভালোর লড়াইটাও চিরস্থায়ীই। বারবার ফিরে আসা – চাক্রিক। টোকিওর পাতালপথের রেললাইনের মত! তাই তো মোমোকোর পর আবার কানবা আর শৌমার জন্ম হয়। অংকের যোগফল শুন্য হলেও তা বের করার পথটা বদলে দেওয়াই যায়।

শুধু জাদুমন্ত্রটা মনে থাকলেই হবে।

mawaru_penguindrum_24_5

[১] কুনিহিকো ইকুহারা – অ্যানিমে পরিচালক; Penguindrum, Utena, Sailor Moon S, Yuri Kuma Arashi
[২] Revolutionary Girl Utena – ১৯৯৭ https://en.wikipedia.org/wiki/Revolutionary_Girl_Utena
[৩] লস্ট ডেকেইড – https://en.wikipedia.org/wiki/Lost_Decade_(Japan)
[৪] হারুকি মুরাকামি – জাপানী সাহিত্যিক; https://en.wikipedia.org/wiki/Murakami_Haruki
[৫] দ্য গ্রেট হানশিন আর্থকোয়াক – ১৯৯৫; https://en.wikipedia.org/wiki/Great_Hanshin_earthquake
[৬] after the quake – ২০০০, ছোটগল্প সংকলন; https://en.wikipedia.org/wiki/After_the_quake
[৭] কেনজি মিয়াজাওয়া – জাপানী সাহিত্যিক; https://en.wikipedia.org/wiki/Kenji_Miyazawa
[৮] টোকিও সাবওয়ে সারিন গ্যাস অ্যাটাক – ১৯৯৫; https://en.wikipedia.org/wiki/Tokyo_subway_sarin_attack
[৯] ওম শিনরিকিও – https://en.wikipedia.org/wiki/Aum_Shinrikyo
[১০] Underground – ১৯৯৭; https://en.wikipedia.org/wiki/Underground_(Murakami_book)

সামুরাই চ্যাম্পলু [রিভিউ] — Rafiul Alam

Samurai Champloo

“এইটা না এদো পিরিয়ডের কাহিনী? নামের মধ্যেই সামুরাই আছে যে জিনিসে সেটা কিভাবে ওয়েস্টার্ন হয়?”
ওয়েল টাইটেলেই ভেল্কিবাজি। চ্যাম্পলু শব্দের বাংলা অর্থ হল গুলানো । তাই এনিমেটি এদো পিরিয়ডের পটভূমির, কিন্তু মডার্ন কালচার আর হিপহপ ইনফ্লুয়েন্সড। বলা যায়, দা ভেরি ডেফিনিশন অফ ইউনিক এনিমে। চ্যাম্পলু এমন একটি এনিমে, যেখানে তরবারির কোপাকুপিতে লিটারেলি রক্তের বন্যা বয়ে যায়, কিন্তু তাতেও স্ক্রিনের থেকে চোখ সরাতে পারবেন না। ভায়োলেন্স, এক্সপ্লিসিটনেস ছাড়াও অনেক বেশি ম্যাচুর থিমের শো মনে হয়েছে। সামুরাই চ্যাম্পলু অনেক দিক থেকেই কাউবয় বিবপের অনেক কাছের আত্নীয়। যার মূল কারণ, উভয়েরই ডিরেক্টর ছিলেন ওয়াতানবে শিনোচিরো। আনিমেটি বর্তমানে বিলুপ্ত ম্যানগ্লোব স্টুডিও থেকে ২০০৪-৫ সালে এয়ার হয়। ২৪ মিনিটের মোট ২৬ টি এপিসোড। সম্পূর্ণ জাপানি সেটাপের গল্প হলেও সাবের চেয়ে ডাব বেশি ভালো লেগেছে।

Synopsis:
ঘটনার অন্যতম প্রোটাগনিস্ট ১৫ বছরের ফু কাসুমি একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করে। একদিন সেই রেস্টুরেন্টে গুন্ডা পান্ডার দল ইচ্ছামত পেটপূজা করতে আসে। অবস্থা খারাপ হয় যখন ভুলক্রমে ফু একজনের মুখের উপর চা ফেলে দেয়। গুন্ডার দল ফু এর উপর চড়াও হয়, তার আঙুল কেটে ফেলবে বলে!
এখন ফুকে ফ্রি ডাম্পলিংয়ের চুক্তিতে বাঁচাতে আসে তরবার গুরু মুগেন। ব্রেকডান্সের তালে একাই গুন্ডার দলকে “কুপিয়ে” রক্তারক্তি কান্ড ঘটিয়ে দেয় সে। সেখানে থাকা জমিদারের (গভর্নর) ছেলেকেও ভয় পায় না সে। কিন্তু মারামারি আরও খারাপ আকার ধারন করে যখন সেখানে ঢুকে আরেক তরবার গুরু সামুরাই জিন। মাঝখান দিয়ে এক গুন্ডা রেস্টুরেন্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগলে সবাই জানে বাঁচলেও মারা যায় সেই জমিদারের ছেলে। ফলে সরকারি লাঠিয়াল বাহিনী জিন ও মুগেনকে বন্দি করে পরদিন পাব্লিক এক্সিকিউশন করার জন্য। তো সেই রাতে, তাদের বন্দিশালায় ফু এর আগমন ঘটে। ফু চুক্তি করে যে সে তাদেরকে পালানোর জন্য সাহায্য করবে, বিনিময়ে তাদের একজন সামুরাইকে খুজে দিতে হবে। পরদিন লংকাকান্ড বাধিয়ে জিন আর মুগেন এক্সিকিউশন থেকে পালায়। কিন্তু ফু তাদের পিছু ছাড়ে না। সে তার চুক্তি অনুযায়ী সেই সামুরাইকে খুঁজার জন্য মুগেন আর জিনকে শক্ত করে ধরে। মজার ব্যাপার হল, ফু সেই সামুরাই সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। শুধু জানে যে সেই সামুরাই থেকে নাকি সূর্যমূখী ফুলের ঘ্রাণ বের হয়। কিন্তু জিন আর মুগেন নিজেদের ফাইট নিয়ে ব্যস্ত। কয়েন দিয়ে টস করে ফু তাদের মারামারি থামায়। এবং চুক্তি হয়, সেই সূর্যমুখী সামুরাই কে না পাওয়া পর্যন্ত জিন আর মুগেন নিজেদের মাঝে ফাইট করতে পারবে না। অগত্যা মুগেন আর জিন, ফু এর সূর্যমুখী সামুরাই খোঁজে তার সহযাত্রী হতে রাজি হয়। শুরু হয় সূর্যমুখী সামুরাই অভিযান। এরপরের ঘটনাগুলো মূলত এপিসোডিক, কিন্তু মূল কাহিনী ঠিকই ফোকাসে থেকে আগাতে থাকে। এক্সাইটিং একশন সিনের সাথে ক্যারেক্টার ব্যাকস্টোরি রিভিল হতে থাকে। ফলে কয়েক এপিসোড পর চাইলেও ড্রপ দেয়া যায় না।

Theme setup, Animation and Music:
পটভূমি কেমন? সেটার এক লাইনের উত্তর হবে, “শিনোচিরোর চোখে এদো পিরিওড।”
এমন এক জাপানকে দেখানো হয়েছে, যেখানের মানুষজন চালচলনে উনিশ-বিশ শতকের কিন্তু মনের দিক থেকে ২১ শতকের। খুব লক্ষ করলে মডার্ন মিউজকের ইস্টার এগ ধরতে পারবেন। চ্যাম্পলুর আর্টওয়ার্ক, এনিমেশন বেস্ট অফ ২০০৪-৫। ব্যক্তিগতভাবে সেই সময়ের নন আই ক্যান্ডি কিন্তু রিয়েলিস্টিক মুভমেন্টের এনিমেশন আমার অনেক প্রিয়। আর চ্যাম্পলু সেই ধরনের আনিমেশনের ব্রান্ড এম্বাসেডর। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিককে সব দিক থেকে এক্সপ্লয়েট করা হয়েছে। এবং অবশ্যই তাতে হিপহপের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষণীয় ছিল। তবে আমার প্রিয় হল এপিসোড ১৪ এর রিয়ুকিউয়ান মিউজিক, অবোকুরি ইউমি ট্র্যাকটি। মিউজিকের দায়িত্বে ছিলেন জাপানিজ হিপহপ গুরু, রেকর্ড প্রোডিউসার জুন সেবা (নুজাবেস)। তার করা এনিমের ওপেনিং ট্র্যাক, ব্যাটলক্রাই, আমার শোনা বেস্ট ওপেনিং গুলার একটি। মিনমির গাওয়া এন্ডিং গানটাও বার বার শোনার মত।

Characters setup:
১৫ বছরের হাসিখুশি মেয়ে ফু, রাফ এন্ড টাফ মুগেন এবং ঠান্ডা মাথার জিন, এই ত্রয়ীর এডভেঞ্চার নিয়েই সামুরাই চ্যাম্পলু। এপিসোডিক এনিমে বিধায় সাইড ক্যারেক্টরের অভাব নেই। “ব্যাড গাই” বা “গুড গাই”, যে যাই হোক না কেন, প্রতেকটি ক্যারেক্টার ডিজাইন ইউনিক। শুরুর থেকেই সবার আলাদা বৈশিষ্ট্যগুলো অনেক বেশি স্পষ্টভাবে নজরে আসবে। একই সাথে চরিত্রগুলোর একে অপরের সাথে সম্পর্কের বিল্ডাপ দেখানো হয়েছে।
ফাইনালি আমি বলব, সামুরাই চ্যাম্পলু সব দিক থেকেই ইউনিক একটি এনিমে যা সব রুচির দর্শকের কাছেই ভালো লাগবে। কারো দেখা মাস্টারপিস এনিমের লিস্টে চ্যাম্পলু না থাকার সবচাইতে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সম্ভবত “সে চ্যাম্পলু দেখে নি”।

Opening track:

https://www.youtube.com/watch?v=OobUV9q0aDA

OST Playlist:

https://www.youtube.com/watch?v=yS6uWWrjf8c&list=PL3E1DD4F30F9D8923

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 8.5/10
IMDb: 8.7/10
My Rating : 9.5/10

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিএকশন] — Abdullah Ar Rayhan

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

[স্পয়লার-ফ্রি প্রতিক্রিয়া]

অ্যানিমেটা ওয়াচলিস্টে ছিল আগে থেকেই। গ্রুপের কভার ফটো দেয়ার সাথে সাথেই দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম। শেষ করে মনে হলো কিছু অন্তত বলা উচিত।

এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩
জনরাঃ জোসেই, ড্রামা
MAL স্কোরঃ ৮.৬৫/১০
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

অ্যানিমেটি দেখার সময় যা মনে হচ্ছিলো, গ্রীষ্মের এ তপ্ত গরমে এ যেন এক পশলা ঠান্ডা বাতাস। এক্সাম শেষ করে মূড ঠিক করতে এমন পারফেক্ট একটা অ্যানিমে দরকার ছিল।

শুরুতে একটি গম্ভীর মনে হলেও হতে পারে; তবে তা বিরক্তি তো জাগায়ই না, বরং আরো ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। ৪৭ মিনিটের পাইলট এপিসোডটা প্লট সেটিং এর জন্য একদম যথার্থ। শুরুতেই দেখা যায় কারাগার থেকে বের হওয়া এক লোক যে কিনা ভেতরে থাকা অবস্থায় “শিনিগামি” নামে একটি রাকুগো শুনে এর পারফর্মার প্রবীণ ইয়াকুমো ইউরাকুতেই এর ভক্ত বনে যায় এবং তার শিষ্য হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইয়াকুমো, যিনি কিনা কখনো শিষ্য নেননি এবং নেবেন না বলে পণ করেছিলেন, কি মনে করে একে শিষ্য হিসেবে নিয়ে নেন এবং নাম দেন ‘ইয়োতারো’। মাস্টারের ওখানেই তার সাথে দেখা হয় ‘কোনাতসু’ এর যে কিনা আরেক নামী রাকুগো পারফর্মার ‘সুকেরোকু’র একমাত্র মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ইয়াকুমো’র কেয়ারে আছে কোনাতসু। ট্রেইনিং চলাকালে মাস্টার লক্ষ্য করেন সুকেরোকু’র স্টাইলের প্রতি ইয়োতারো’র ঝোঁক; আর সে সাথে আমরা দেখি কোনাতসু’র সাথে মাস্টারের শীতল সম্পর্ক যে তার বাবার মৃত্যুর জন্য ইয়াকুমো-কে দায়ী করে। এক রাতে মাস্টার ঠিক করেন দুজনকেই তাঁর আর সুকেরোকু’র অতীত শোনাবেন। এ হলো সংক্ষেপে পাইলট এর কাহিনী।
পরের এপিসোডেই আমরা চলে যাই অতীতে, মাস্টারের জবানিতে, যেখানে আমরা দেখি কিভাবে ইয়াকুমো আর সুকেরোকুর পরিচয় হয়, কিভাবে তারা একই মাস্টারের অধীনে বেড়ে ওঠে। মাঝে মাঝেই নাতিদীর্ঘ ‘রাকুগো’ পারফর্মেন্স। [রাকুগো এক প্রকার স্টোরিটেলিং যাতে একজন পারফর্মার স্টেজে বসে একা একা পারফর্ম করে যান। স্টোরিতে সবসময়ই একাধিক ক্যারেক্টার থাকে যা পারফর্মার নিজেই ভিন্ন ভয়েস আর অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন।]

এ অ্যানিমে কেবল দু’জন মানুষের গল্পই নয়। কেবল রাকুগোর গল্পই নয়। এতে আমরা দেখি কিভাবে ট্রানজিশন পিরিয়ডে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে একটা শিল্প (বিশেষ করে টেলিভিশন এর আবির্ভাবের কারণে রাকুগোর জনপ্রিয়তা নিয়ে শংকা দেখা দেয়)। আমরা দেখি শিল্পের চিরাচরিত দ্বন্ধ। কিকুহিকো-র (ভবিষ্যতের ইয়াকুমো) ট্রেডিশন আর পারফেকশনের প্রতি ঝোঁক, সিরিয়াস আর পরিশ্রমী মনোভাব; বিপরীতে সুকেরোকু’র ফান-লাভিং আর সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার প্রবণতা। একজন মাস্টারদের প্রিয়, আরেকজন দর্শকদের। সে সাথে এটি জীবনের গল্পও। আমরা দেখি কিভাবে বিপরীতমুখী দুটি চরিত্র বাধা পড়ে যায় একে অপরের সাথে, কিভাবে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আবেগময় গভীর বন্ধুত্ব (এপিসোড ৩ এর শেষের অংশটা পার্টিকুলারলি ইমোশনাল; চোখে পানি এনে দেয়)।

অ্যানিমের নামটা নিয়েই কিছু বলা যাক। Shouwa আর Genroku হচ্ছে দুইটা টাইম পিরিয়ড। Genroku ইরা (১৬৮৮-১৭০৩) থেকে রাকুগো জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে [সম্ভবত], আর Shouwa ইরা (১৯২৬-১৯৮৯) এর মাঝামাঝি এসে এসে ‘রাকুগো’ টার্মটি পরিচিতি পায়। Shinjuu বা ডাবল সুইসাইড দেখেই শেষটা অনুমান করে ফেলা যায় (বিশেষ করে এপিসোড ৭ এর দিকে); তবে এটাকে ঠিক প্রেডিক্টিবিলিটি বলা যায় না। যে নিপুণ দক্ষতায় অনিবার্য সমাপ্তির দিকে দর্শককে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তা-ই এ অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শুরুর দিকে কিছুটা স্লো। এ অংশগুলো কারেক্টার বিল্ডিং এ ব্যয় করা হয় এবং অ্যানিমেটি তাতে বেশ সফল হয় সন্দেহাতীতভাবেই। স্টোরি আর কারেক্টার বিল্ডিং এ অ্যানিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। এমন ইনটেন্স আর সলিড স্টোরি খুব একটা দেখা যায় না, সে সাথে কিছু মন হালকা করে দেয়ার মুহুর্ত যে নেই তা নয়। পুরো অ্যানিমেতেই স্ক্রিন থেকে মনোযোগ সরানো কঠিন, তবে এপিসোড ৭ এর দিকে এসে গতি বেড়ে যায়।

আর্ট নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ডিটেইলের দিকে বেশ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। যেমন একটা দৃশ্যে মুহুর্তের জন্য দেখা যায় লাইটবাল্বের মৃদু আলোতে কিভাবে পোকামাকড় ভিড় করে, আরেকটা দৃশ্যে আমরা পানিভর্তি গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখতে পাই কিকুহিকো আর মিয়োকিচি কে। ইনসিগনিফিক্যান্ট একেকটা দৃশ্য কিন্তু মনে ছাপ ফেলে যায়।

মিউজিক আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়ে গেছে এ অ্যানিমেতে। Shamisen এর চিয়ারফুল টুংটাং যতবারই শুনেছি ততবারই মনে হয়েছে শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে দূরে কোথাও চলে গিয়েছি, মন ভালো হয়ে গেছে প্রতিবারই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মন ভরিয়ে দেয়ার মত। একটা দৃশ্যের কথা বলতেই হয়। ‘টেনেসি’ নামক একটা বারের দৃশ্য। কিকুহিকো আর সুকেরোকু আলোচনা করছিলো ভবিষ্যত নিয়ে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে জ্যাজ মিউজিক। এ ছোট্ট দৃশ্যেও যে মনোযোগ দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
ওহ, যেটা ভুলে গিয়েছিলাম; ভয়েস অ্যাক্টিং নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাইনি কখনোই এবং তেমন কিছু জানিও না তবে আমার মনে হয়েছে অ্যানিমেটিতে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন ভয়েস অ্যাক্টররা। রাকুগো তে এমনিতেই একজনকে বেশ কয়েক ভয়েসে কথা বলতে হয়, এক্ষেত্রে ভয়েস অ্যাক্টররাও কম দেখাননি। কন্ঠে এত বৈচিত্র্য দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন অ্যাক্টর দিয়ে করানো হয়েছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম ইয়াকুমো’র বিশেষ অংশ ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক কারেক্টারে একজনই কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা সিরিজ। হয়তো বুক মোচড়ানো ইমোশন নেই, হার্ট অ্যাটাক করানোর মত ক্লাইম্যাক্স বা সারপ্রাইজ নেই, তবে ড্রামা হিসেবে একটা অ্যানিমের কাছে যা আশা করা যায় তার সবই আছে। হ্যাপি ওয়াচিং।

MM! [রিভিউ] — অনন্য রায়হান

mm 1

এক ফুতারো(Pig Boy) আর সেনপাই এর গল্প

Masochism শব্দটির সাথে অনেকেই পরিচিত, আবার অনেকে নন।
আমেরিকার সাইক্রিয়াটিক এসোসিয়েশনের Diagonstic & Statistical Manual অনুযায়ী Masochism একটি মানসিক রোগ– “which refers to the recurrent & intense sexual arousal from the act of being humiliated, beaten, bound, or otherwise made to suffer, as manifested by fantasies, urges or behaviors”

উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝানো যাক–
এক ছেলেকে অনবরত মারধর, অত্যাচার, গালিগালাজ করা হচ্ছে অথচ তার মুখে হাঁসি এবং সে এটা উপভোগ করছে। এমনকি তার এ আনন্দ থেকে সে আরো বেশি করে প্রহার কামনা করছে।

ব্যাপারটাকে অদ্ভুত মনে হলেও কিছু মানুষের মধ্যে এ অদ্ভুত মানসিক ব্যাধি দেখা যায়। আমেরিকা ও মেক্সিকোতে এ রোগের রোগীর সংখ্যা একটু বেশিই।

এনিমে: MM!
এপিসোড: 12
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৪

সাডো তারোউ–
এক ছেলে যাকে কোন সুন্দরী মেয়ে—
আগুনে ফুটন্ত পানিতে চোবালে
৩ পাউন্ডের বেসবল ব্যাট দিয়ে আঘাত করলে
শরীরের জায়গায় জায়গায় গরম মোম ঢাললে
অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে
সে অদ্ভুত আচরণ শুরু করে; সে উপভোগ করতে শুরু করে এই অত্যাচার। শুধু তাই নয় তখন সে নিজ জ্ঞানেও থাকে না। অর্থাৎ কোন মেয়ে তাকে আঘাত না করলে তার মাঝে এ সিম্পটম্পস দেখা যায় না……

এখন তো হেভি সমস্যা–
তো সমাধানের জন্য সেকেন্ড ভলান্টিয়ারিং ক্লাবের শরণাপন্ন হতে হয় তারৌকে। আর সে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হলেন স্বঘোষিত কামি-সামা ইসুরুগি মিও।

ইসুরুগি মিও একটি নচ্ছার, খুবই খারাপ একটা মেয়ে– এটা চরিত্রটির প্রথম বা ফার্স্ট ইম্প্রেশন …… [১০-১১ এপিসোডের দিকে খুব বেশি ভালো লেগে যাবে]
এই সেকেন্ড ভলান্টিয়ার ক্লাবের আরেক সদস্য ইউনো আরাশিকো……
এক কথায় ইনি আংশিক ইনামি মাহিরু [Working এর]
আরো বেশি বলতে গেলে Androphobic; ছেলে দেখলেই স্টার প্লাটিনাম বের হতে থাকে…… [স্টার প্লাটিনাম: রেফারেন্স জোজোর বিজার ভ্রমণ]
তারৌ এর ফ্রেন্ড তাতসুকিচি হায়ামা–
ইনি আবার ক্রসড্রেসিং পছন্দ করেন, গলাও মেয়েদের মত। আফটার অল সেইয়ুও সাতৌ রিনা……
কিন্ত এই চরিত্রটি আরো মজার হয়ে ওঠে Personality Interchange এর মাধ্যমে – সেটা আবার কি? সব বলে দিলে এনিমেটা দেখে কী লাভ?
আর তারৌ এর মা ও বোন পুরো আজব ও গুবলেটে – অপ্রধান চরিত্র আর অনেকেরই বিরক্তিকর লাগতে পারে… রিভিউদাতার কেমন লেগেছে তা রিভিউদাতা জানাতে চান না ………
আর চরিত্র যদি বলতেই হয় তবে আছেন মিচিরু অনিগাওয়ারা……
ফিমেইল Badass

তারৌ এর Masochism সারিয়ে তুলতে শুরু হয় অভিযান! MM! এর গল্প এই অভিযান নিয়েই!

:- এচ্চি ট্যাগ আছে যে?? -:
মাইএনিমেলিস্ট সর্বজ্ঞানী, পরাক্রমশালী এমন যেহেতু নয় সুতরাং তাদের ট্যাগানো বেদবাক্য বলে মেনে নেয়া যায় না। থাক ট্যাগের উল্টাপাল্টা কার্যক্রমের উদাহরণ না টেনে সোজা বাংলায় কিছু কথা বলি……

এচ্চি বলতে যা বোঝায় তার কিছুই নেই এর মধ্যে………
আই রিপিট কিছুই নেই, এখন কিছু নব্য ইংরেজি গালি যদি এচ্চি ট্যাগ পায় আর একটু ডারটি জোক [খুবই সীমিত] যদি এচ্চি বলার জন্য এনাফ হয় তবে এটা এচ্চিই………..
এচ্চি ট্যাগ দেয়া অথচ সমতুল্য রিকমেন্ডেশন লিস্টে MAL এই উল্লেখ আছে Working! আর Toradora-এর নাম। এখন আমি যতদূর জানি এ দুটো এচ্চি নয়। আর টাইগার মুখের ভাষা আর MM! এর মিও র মুখের ভাষায় উনিশ বিশ পার্থক্য। [নোট ইট]
আরো পরিষ্কার করা যাক……
Working! যারা দেখেছেন তাদের জন্য এই তুলনা মূলক চার্ট –
MM! চরিত্র == Working! চরিত্র
সাডো তারৌ == তাকানাশি সোউতা
ইউনো আরাশিকো == ইনামি মাহিরু
মিচিরু অনিগাওয়ারা == শিরাফুজি কিয়োকো
সো ওয়ার্কিং আর তোরাডোরার টাইগার কমবো MM! এনিমেকে বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না………

একটু ফ্রিলিই বলি –
Nudity মোটেও নেই, কোন ডাইরেক্ট নেক্সট টু H মোমেন্ট নেই……
তারৌ এর মা আর বোনের কান্ড দেখে একে Incest ট্যাগিয়ে ফেলতে পারেন [আমিও এই ভুল করেছিলাম] কিন্ত দিনশেষে ‪#‎ITS_NOWHERE_NEAR_INCEST

এনিমেটা শুরু এমনভাবে হয় যে মনে হবে বেশ মজাদার একটা সিরিজ হবে। প্লট দেখেই মনে হবে এতে নিশ্চয়ই সামনে এচ্চি থাকবে; কিন্ত সুখবর [আমার জন্য SADLY] সেরকম কিছু তো দূরে থাক, তার ধারকাছেও কোন ম্যাটেরিয়াল নেই……..

মাজখানের কিছুটা হারেম আর রোমান্স ভাইব আসে; কিন্ত তা মিলিয়ে যায় গল্পের সামনে আগানোয়…
আর এন্ডিং টা একে পিওর “স্লাইস অফ লাইফ” বলার জন্য এনাফ! অদৃষ্টের পরিহাস, সম্মানীয় MyAnimeList একে সল ট্যাগ দেননি……

:- ভয়েস এক্টিং ও OST -:
এনিমেটির সাউন্ড ডিপার্টমেন্ট এ কিছুতা আধিপত্য ই ছিল আয়ানা তাকেতাতসু’র। এনিমের অন্যতম প্রধান চরিত্র মিও’র ভয়েস এক্টিং ই কেবল নয়, ওপেনিং [দুটো ভারশন] আর শেষ এপিসোডের মন ঠাণ্ডা করে দেয়া এন্ডিং টিও তিনি গেয়েছেন…………
সেই সুন্দর এন্ডিং টি শুনে ফেলুন –
http://www.youtube.com/watch?v=rfX_Eot4Ya8

আর হেল্প! পু! পু! হচ্ছে এনিমেটির ওপেনিং –
দেয়া হল Hell’s Side আর Heaven’s Side দুই ভার্সনই

https://www.youtube.com/watch?v=TKH6d6PQv98

২য় হিভেন ভার্সন টিতে আয়ানা সানের সাথে কন্ঠ দিয়েছেন সাওরি হায়ামি, যিনি একইসাথে এনিমেটির ইউনো আরাশিকোর ও ভয়েস এক্ট্রেস।

আর নাতসুকো আসোউ এর “More! More! Lovers!” গানটা বেশ মজার! বেশ ভালো লেগেছে! কণ্ঠ অনেক অনেক ভাল!
লিংক :
https://www.youtube.com/watch?v=MMgFIAGTMso

:- পরিশেষে, হাসতে চাইলে কোন এক্সপেকটেশন ছাড়া বসে যান MM! দেখতে, উপভোগ করবেন আশা করি। আর এচ্চি বিতর্ক না হয় নিজে পরখ করেই দেখবেন; আর যদি আপনার কাছে এচ্চি মনে হয় তবে জানাবেন………

এটা নিয়ে রেটিং দিলাম না কারণ রেটিং অত্যন্ত সিরিয়াস ইস্যু আর এরকম গল্পের রেটিং দেয়া বোকামি; রেটিং এর মত ভারী জিনিসের জন্য বেশি লাইট আর কি……

mm 2

Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট — Mehedi Hasan Himel

Bungaku Shoujo 4

Bungaku shoujo প্রতিক্রিয়া এবং র‍্যান্ট (কোনো রিভিউ না)

এনিমের উপরঃ

  • Bungaku Shoujo Movie

সিরিয়ালওয়াইজ প্রথমে আসে এই মুভি, কোনোহা আর তোহকোর প্রথম পরিচয় থেকে শুরু, তারপর একে একে আসতে থাকে অন্যান্য চরিত্ররা। তোহকো হচ্ছে বুক গার্ল, সহজ কথায় সে বই খায়, বই খাবার মাধ্যমেই সে তার খাবারের প্রয়োজন মেটায়, সাধারণ খাবারের কোন স্বাদ সে নিতে পারে না। আর তার রাইটার হচ্ছে কোনোহা, প্রতিদিন ক্লাসের পর বুক ক্লাবের রুমে তাকে ৩ টি শব্দের উপর ভিত্তি করে ৫০ মিনিটের মধ্যে তোহকোর জন্য খাবার ( 😛 ) তৈরি করতে হয়, আর তোহকো তার পুরাটা খায়, যতই না খারাপ হোক। আর খাবার খাওয়ার সময় যা বর্ণণা দেয় তা আরেক জিনিস।

কোনোহার আরেকটা পরিচয় আছে, ২ বছর আগে সে ছিলো এক নভেল কন্টেস্টের বিজয়ী, মাত্র ১৪ বছর বয়সে সে জয়ী হয় এবং তার নোভেল অন্যতম বেস্ট সেলার হয়। যদিও তার নোভেল লেখার উদ্দেশ্য ছিলো অন্য একটা, তার বাল্যবন্ধু আসাকুরা মিউ এর প্রতি তার অনুভূতির কথা জানানো। যদিও তা তার উপর ব্যাকফায়ার করে। আসাকুরা মিউ এতই মানসিকভাবে নির্যাতিত হয় যে সে আর সহ্য করতে না পারে কোনোহার সামনের তাদের স্কুলের ছাদ থেকে লাফ দেয়। এই ঘটনা কোনোহাকে এতই বিপর্যস্ত করে যে সে এক বছরের জন্য আর ঘর থেকে বের হতে পারে নি।

হাইস্কুলে এসে তার জীবন অনেক চেঞ্জ হয়, বুক ক্লাবে যোগদান করে আর তোহকোর সাহায্যে সে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠে এবং আরেক সহপাঠী নানাসের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক ( -_- ) গড়ে উঠে।

এদিকে তারপর আগমন ঘটে মিউ এর, ২ বছর পর, কোনোহার সুখ ভাঙ্গার এবং কোনোহাকে নিজের করে নিতে সে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায়, অনেকাংশে সফল ও হয়।

বুঙ্গাকু শৌজো এর প্রতিটা ভলিউম ই একটি নির্দিষ্ট নোভেলকে ঘিরে আবর্তিত হয়, ঐ নোভেলের চরিত্র গুলোর সাথে সিরিজের চরিত্রগুলোর একটা মিল তৈরি করে কাহিনীকে পূর্ণতা দেয়া হয়। এই মুভির ভিত্তি ছিলো কেঞ্জি মিয়াকাওয়ার Night on the Galactic Railroad.

মুভিটার সবচেয়ে ভালো দিক ছিলো এনিমেশন, অসাধারণ এনিমেশন লেগেছে, ভাইব্র্যান্ট ছিলো, তারপর ট্রেনের সিনটা অনেক ভালোভাবে দেখিয়েছে। তারপর সাউন্ডট্র্যাক আর শেষের এন্ডিং সংটা। আর কানাজাওয়ার ভয়েস যা ছিলো <3 , তোহকোর সাথে কীবারে মিলে গিয়েসে, বোনাস হিসেবে ছিলো মিজুকি নানা।

এই মুভির অনেক কিছুই খাঁপছাড়া লাগবে। অনেক কিছুই হঠাৎ করে আনা হয়েছে বা করা হয়েছে, কিছু ব্যাখা যদিও Memoire তে দেয়া হয়েছে তাও আশানূরূপ নয়।

রেটিং: ৬.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 3

  • Bungaku Shoujo Kyou no Oyatsu: Hatsukoi

১৫ মিনিটের একটা অভিএ, মুভির সাথে শুধু একটি কাহিনীরই মিল আছে, এছাড়া তেমন গুরুত্বপূর্ন না, দেখার জন্য দেখা আর কি।

Bungaku Shoujo 1

রেটিং: ৬/১০

  • Bungaku Shoujo Memoire

৩ পর্বের সিরিজ, ৩ টি পর্ব ৩ জন ভিন্ন নায়িকার উপর। প্রথম পর্ব তোহকো, ২য় পর্ব মিউ আর ৩য় পর্ব নানাসেকে নিয়ে।

মুভির কাহিনী অনেকাংশেই ব্যাখা করেছে পর্বগুলো। তোহকোর যে কোনোহার অতীত জানতো, সে যে তার প্রথম ফ্যান ছিলো, তাকে বুক ক্লাবে যোগদানে বাধ্য করাতে সে নাটকও সাজায় :3 । তার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য ছিলো কোনোহাকে আবার নোভেল লিখাতে অনুপ্রাণিত করে এবং সে সার্থক হয়েছিলোও।

তারপর মিউ এর পর্ব। মিউ এর পারিবারিক দূর্দশা ই এখানেই প্রথম প্রকাশ পায়। তার বানোয়াট গল্পের প্রতি একমাত্র কোনোহাই আগ্রহ প্রকাশ করে, সে হয়ে উঠে কোনোহার প্রতি ওভারপ্রটেক্টিভ। কিন্তু যখন কোনোহা তাকে ছাড়িয়ে পুরস্কার জিতে নেয়, তখন সে চূড়ান্ত হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায়, শুধুমাত্র কোনোহাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সে নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।

রেটিং: ৭.৫ / ১০

Bungaku Shoujo 2
র‍্যান্ট — নভেলের ভিত্তিতে (স্পয়লার এলার্ট)

প্রথমেই সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়েছে মুভি করার সময়। ৮ ভলিউমের একটা সিরিজ। ২-৩ ভলিউম থেকে হয়তোবা শুরু করতে পারতো। নাহ একেবারে পঞ্চম ভলিউম!!!! জীবনেও দেখি নাই, অর্ধেক ম্যাটেরিয়াল পুরো স্কিপ। তাতে যা ক্ষতি হইলো প্রথম দিলের চরিত্রগুলোর। চিয়া ছিলো প্রথম ভলিউমের নায়িকা, তার কোনো ডেভেলপমেন্ট নাই, কিছু উল্লেখ ও করে নাই। অথচ এই হাসিখুশি মেয়েটাই নিজের বয়ফ্রেন্ডকে বুকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাও ভরা রাস্তায়, সিরিজের সবচেয়ে টুইস্টেড ক্যারেক্টারগুলোর একটা।

তারপর রিইউতো। সিরিজের অন্যতম মেইন চরিত্র, শেষ ৩ ভলিউমের ভিলেইন আর কোনো উল্লেখই নাই এ ব্যাপারে। তোহকোর বাবা মা র সুইসাইডের পিছনে যে ওর হাত আছে তাও কেউ জানলো না। ও আর মাকি সিরিজের সবচেয়ে অসাধারণ কাপল, ২ জনকে অন্তত একবার সামনাসামনি হইলেও দাঁড় করাইতো এনিমেতে। অনেক আশা ছিলো যে মাকি কে নিয়ে একটা পর্ব কি, কিসের কি। পুরা সিরিজে ৫ মিনিটের বেশি টাইম ই পায় নাই। মাকি যে দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছিলো শেষের দিকে, অন্তত একটি পর্ব তার পাওয়া উচিত ছিলো। টাইমলাইন তো এনিমে আগেই ধ্বংস করে দিয়েছে, আর একটু করতো।

সবচেয়ে খারাপ দিক ছিলো মুভির এন্ডিংটা। প্রথমে মিউ এর প্রতি কোনোহার কনফেশন পুরো বাদ। কোনোহা নোভেল এ এটা লিখছিলো যদিও ফাইনাল সিলেকশনে এই অংশ বাদ পড়ে যায়। কিন্তু তোহকো পুরো পার্টটা প্লানেটারিয়মে পরে শোনায়। আর এনিমতে শুধু শেষ ২ টা লাইন মনে হয় দেখালো।

তারপর হলো মুভির এন্ডিং। মুভি ছিলো ভলিউম ৫ এর, এরপর শেষ ৩ মিনিট মানে এণ্ডিং টা আসলো ভলিউম ৮ এর থেকে, এইটা অবিশ্বাস্য। ৩ ভলিউম স্কিপ করে এন্ডিং দেখানো!!!! ওয়াও। আর এই সময় কোনোহার সাথে তোহকোর কোন রিলেশন কি, কেউ কাউকে পছন্দ করার বিন্দুমাত্র চিহ্ন ছিলো না, কোনোহার তখন কোতোবুকির সাথে প্রেম করতেছিলো। পুরাতন ভালবাসাকে অনুভূতির কথা জানিয়ে বর্তমান প্রেমিকাকে ফেলে আরেকজন মেয়ের পিছনে দৌড়ানো। ওয়াও, ৩ ভলিউমের ডেভেলপমেন্ট ৫ মিনিটে বিসর্জন।

Bungaku Shoujo 5

গানগ্রেভ (Gungrave) [রিভিউ] — Barkat Hridoy

Gungrave

এনিমে: গানগ্রেভ (Gungrave)
জনরা:অ্যাকশন, ড্রামা, সাই-ফাই, সুপারন্যাচারাল, সেইনেন
পর্ব: ২৬
লেখক: ইয়াসুহিরো নাইতো (Trigun, Kekkai Sensen)
স্টুডিও: ম্যাডহাউস

‘বন্ধুত্ব ‘। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বন্ধনের মধ্যে একটি। এ বন্ধনটির গভীরতা বোঝাতে আমরা প্রায়ই বলে ফেলি যে, ” বন্ধুর জন্য জীবনও দিতে পারি।” কিন্তু আদতেই কি তা আমরা করতে পারি?

Synopsis: হ্যারি ম্যাকডয়েল ও ব্রান্ডন হিট শৈশবকালের দুই বন্ধু। তারা দুজন ও সাথের আরো তিন বন্ধু মিলে তাদের ছোট একটি গ্যাং যাদের কাজ শহরের মানুষের জিনিশপত্র চুরি করা এবং স্থানীয় অন্য গ্যাং এর সাথে মারামারি করা।কিন্তু ঘটনাচক্রে ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, এক রাতে তারা সম্মুখীন হয় পৃথিবীর নির্মমতার।এতে তাদের সকলের জীবন পাল্টে যায়। ঘটনাক্রমে হ্যারি ও ব্রান্ডন যুক্ত হয়ে যায় সেখানকার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাফিয়া ‘মিলেনিয়ন’ এর সাথে।যার মূলমন্ত্র “বিশ্বাঘাতকতা মানেই মৃত্যু “। হ্যারি যে কিনা উচ্চাভিলাষী, তার স্বপ্ন সে এই মাফিয়া গ্রুপের ‘বস’ হবে এবং সে তার বন্ধু ব্রান্ডনকেও এ স্বপ্নের সারথি হবার আহ্বান জানায়। ব্রান্ডন কি তার বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিবে? সে কি নিজের জীবন বন্ধু হ্যারি এর জন্য উৎসর্গ করবে?

গানগ্রেভ একই সাথে একটি বন্ধুত্বের গল্প, একটি ভালবাসার গল্প এবং একটি বিশ্বাসঘাতকতার গল্প….।

স্টোরি ডেভেলপমেন্ট:
গানগ্রেভ এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর শিহরণ জাগানো স্টোরি এবং স্টোরি টেলিং।পুরো এনিমের স্টোরিকে দুভাগে ভাগ করা যায়।প্রথম ভাগ(২-১৫)
এক কথায় দূর্দান্ত। গল্প শুরু হবার সাথে সাথেই গল্পের অসাধারন পেসিং ও গভীরতায় আপনি ডুবে যাবেন ।গল্পটি চুম্বকের মত আপনাকে স্ক্রিনের সাথে আটকে রাখবে।কিভাবে যে একের পর এক এপিসোড দেখে যাবেন টের ও পাবেন না।
তবে দ্বিতীয় ভাগ অর্থাৎ ১৬তম এপিসোডের পর এর পেসে কিছুটা ভাটা পড়ে।তাছাড়া সুপারন্যাচারাল কন্টেন্টগুলো একটু খাপছাড়া মনে হলেও শেষটুকু আপনাকে একধরনের অভাবনীয় তৃপ্তি দিতে বাধ্য।যা অনেকটা ‘Bittersweet’ এন্ডিং হিসেবেও ধরে নেওয়া যায়।

ক্যারেক্টার ও ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট:
এনিমেতে মূলচরিত্র দুজন হলো হ্যারি এবং ব্রান্ডন। চারিত্রিক বৈশিষ্টে্যর দিক দিয়ে দুজন দুই মেরুর।হ্যারি ধূর্ত, বাচাল,উচ্চাভিলাষী,নারীপ্রেমী।অসাধারন বুদ্ধিমত্তা, কুটিলতা এবং তার মাল্টিলেয়ারড পারসোনালিটি, তাকে করেছে অনন্য। অন্যদিকে, ব্রান্ডন স্বল্পভাষী,সৎ,সাহসী। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ব্রান্ডন হ্যারির বিপরীত হলেও তার চিন্তাধারা আপনাকে ভাবাতে বাধ্য করবে।

এছাড়াও এনিমেতে পার্শ্বচরিত্র হিসেবে অনেক চরিত্র দেখা যায়।মারিয়া,বিগ ড্যাডি,ব্যালার্ডবার্ড লি, বেয়ার ওয়াকেন, বব, বুনজি দের পার্শ্বচরিত্র হিসেবে দেখালেও এদের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা মূলচরিত্র হতে কোনো অংশেই কম ছিল না। এবং প্রত্যেকটি চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত।যা এনিমেটিকে করেছে আকর্ষনীয়।

আর্ট ও আ্যনিমেশন:
গানগ্রেভ স্টুডিও ম্যাডহাউসের নির্মিত হলেও এতে স্টুডিও ম্যাডহাউসের চকচকে আ্যনিমেশন নেই।বরং এতে রয়েছে ক্লাসিক ধাঁচের আ্যনিমেশন। ব্যাকগ্রাউন্ড ইউরোপীয় ধাঁচের।হয়ত অতটা আহামরি আ্যনিমেশন নয় তবে এনিমের সাথে মানানসই।তাছাড়া গান ফাইটিং সিনগুলো যথেষ্ট ভালো।

ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টের ক্ষেত্রেও একি কথা। ক্লাসিক ক্যারেক্টার ডিজাইন ও আর্টওয়ার্ক। তবে ফিমেইল ক্যারেক্টারদের তুলনায় মেইল ক্যারেক্টারদের বিশাল দেহ (মারিয়া বাদে) একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে।এছাড়া সুপিরিয়রদের ক্যারেক্টার ডিজাইনও অনেকটা উদ্ভট ছিল।

সাউন্ড ও মিউজিক:
গানগ্রেভে হয়ত সেরকম আহামরি মিউজিক নেই কিন্তু মিউজিকগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পুরো এনিমেতেই ওয়েস্টার্ন ধাঁচের মিউজিকের ব্যবহার দেখা যায়।ওপেনিং সং হিসেবে আছে সুনেও ইমাহোরি এর
“Family” যা এই ধরনের এনিমের জন্য উপযুক্ত।এন্ডিং সং হিসেবে আছে ‘Scoobie Do’ এর “Akaneiro ga Moerutoki “। কিন্তু এই এনিমের অসাধারন দিক এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো চমৎকার ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, স্পেশালি ইমোশনাল মুহূর্তগুলোতে ব্যবহৃত ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো আপনার মনে গেথেঁ যাবে।

এন্জয়মেন্ট:
পুরো এনিমেটা আমার কাছে অসাধারন লেগেছে। প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি।শিহরন জাগানো স্টোরি, দূর্দান্ত চরিএ, জোস ফাইটিং সিন, অসাধারন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, গল্পের উপস্থাপন এনিমেটিকে অন্য ৮-১০টি এনিমের তুলনায় করেছে অনন্য।’ট্রাইগান’ কিংবা মাফিয়া বেসড এনিমে পছন্দ হলে এটি মাস্ট ওয়াচ। তাছাড়া রোজকার স্কুল সেটআপ এনিমে থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অর্থাৎ একটু ম্যাচিউর (এচ্চি নেই) এনিমে দেখতে চাইলে ‘গানগ্রেভ ‘ আপনার জন্য আদর্শ এনিমে। তাহলে আর দেরী না করে দেখে ফেলুন ইয়াসুহিরো নাইতোর অসাধারন সৃষ্টি ‘গানগ্রেভ’!!

MyAnimelist Rating: 7.98
Personal Rating: 8.5

P.S: এনিমেটির প্রথম এপিসোড দেখবেন না!!! কেননা বিশাল স্পয়লার পেয়ে যাবেন।
তাই দ্বিতীয় এপিসোড থেকে দেখা শুরু করুন

Seirei no Moribito [রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Seirei no Moribito

এনিমে রিভিউ
নামঃ Seirei no Moribito / Guardian of the Spirit
Genre: Action, Adventure, Fantasy, Historical
MAL ranking: 8.25
personal rating: 9
Episode number : 26
Release year: 2007

শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস হল, প্রথম রাজা, সাথে আরও ৮ জন সৈনিক মিলে এক পানির অপদেবতাকে হারায় , রাজ্যকে ভবিষ্যতের খরা এর হাত থকে বাঁচাতে। এর পর এর ই উপর ভিত্তি করে এই রাজ্য গড়ে উঠে। কিন্তু, ইতিহাস অনুযায়ী, আরেকবার এই অপদেবতা আবার ফিরে আসবে এই রাজ্যে।
বর্তমান রাজা মিকাডোর ছোট ছেলে চাগুম। তার মধ্যে একদিন এই পানির অপদেবতা ভর করে অথবা বলা যায় এই অপদেবতার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই রাজপুত্রের মাঝে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। রাজা এবং রাজ্যের জ্ঞানী ব্যাক্তিরা ব্যাপারটা জানার পর রাজ্যের ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজপুত্রকে মেরে ফেলার নির্দেশ দেয়।

বালসা নামের এক রহস্যময়ি নারী ,যে মূলত একজন দেহরক্ষীর কাজ করে, ঘটনাক্রমে তাঁর দেখা হয় রাজপুত্র চাগুম এর সাথে, এক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে যেয়ে। পরবর্তীতে চাগুমের মা বা দ্বিতীয় রানী বালসাকে রাজপ্রাসাদে ডাকে এবং বলে তাঁর ছেলের বিপদের কথা। বালসাকে দায়িত্ব দেয় তাঁর ছেলের জান বাঁচানোর জন্য। বালসা প্রথমে না করলেও পরবর্তীতে বালসার নিজস্ব কিছু কারনে দায়িত্ত্ নিতে রাজি হয়।

এর পর শুরু হয় বালসা আর চাগুম এর কাহিনি। একে তো রাজ প্রাসাদের পক্ষ থেকে বিপদ আছেই, তাঁর উপর চাগুম এর কাছে বাইরের পৃথিবীর একদম নতুন। বালসা আর চাগুম একের পর এক বিপদ এর মোকাবেলা করতে থাকে, চাগুম শিখে পৃথিবীতে মানিয়ে চলতে। এর মধ্যে নতুন কতগুলো প্রশ্ন দেখা দেয়, আসলেই কি শিন ইয়োগো রাজ্যের ইতিহাস সঠিক? নাকি কাহিনি পুরই ভিন্ন বা বানানো? বালসা এর অতীত কি ? বালসা কেনই বা চাগুম এর দায়িত্ব নিতে রাজি হল?
কাহিনিতে বালসা আর চাগুম, এই ২জনের সম্পর্কের বেড়ে উঠা , তাঁদের যাত্রা আপনাকে টানবে এই গল্পের দিকে। সময়ে সময়ে উত্তেজনা কাজ করবে যা পরবর্তীতে কি হবে তা জানতে অনেকটা বাধ্য করে। পুরো এনিমে দেখে মনে হয়েছে এ এক সুন্দর ছোট কাহিনি যাতে ভালোবাসা, কল্পনা , প্রাচীন পৌরাণিক বিশ্বাস, ইতিহাস সব মিশে এক হয়ে গেছে।এছাড়া পুরো এনিমেতে দৃশ্য গুলো দেখার মত। গ্রাম থেকে শুরু করে পাহাড়ি এলাকা, নদী , বন সব নজরকারা দৃশ্য একরকম প্রশান্তি এনে দেয়।

যদি আপনি এই ধরনের গল্পের ভক্ত হন, তাহলে এই এনিমেটা দেখে ফেলুন।

দেনপা তেকি না কানোজো (Denpa Teki na Kanojo) রিভিউ — Rafiul Alam

Denpa Teki na Kanojo

এনিমেটির টাইটেল ইংরেজি করলে হয়, ‘electromagnetic girlfriend’. শুনতে অদ্ভুত শোনালে রাইটার সার্থক। অদ্ভুত ধরনের স্লাইস অফ লাইফ/ থ্রিলার জানরার এনিমে এটি। অনেকগুলো দিক থেকে আমার অনেক প্রিয়। তার একটি হল “ক্রাফটিং”। মাত্র ২ টা ৪৫ মিনিটের এপিসোডে যে চমৎকারভাবে গল্প সাজিয়ে একাধিক টুইস্ট ডেলিভারি করেছে, তা সত্যিই উঁচু মানের প্ল্যানিং এর ফসল। ব্রেইনস বেইস স্টুডিও থেকে ২০০৯ এর ফেব্রুয়ারিতে আসে প্রথম পর্ব, ডিসেম্বরে দ্বিতীয়টি।

Synopsis: বৃষ্টিভেজা রাত, চেহারায় রক্তের ছিটাসহ এক উভ্রান্ত তরুণ, *ফ্ল্যাশকার্ড*, একটি বৈশিষ্ট্যবিহীন ম্যানিকুইন। *ফ্ল্যাশকার্ড*। এবার কোন স্কুলের ছাদে মারামারি হচ্ছে। একাই দুইজনকে কুপোকাত করল যে রাগচটা ছেলেটি, তার নাম জু’উযাওয়া জু। জু তার লকারে একটি চিঠি পেল, একজন তার সাথে দেখা করতে চায়। চিঠির প্রেরক ওচিবানা আমে নামের চোখ ঢাকা চুলের অদ্ভুত এক মেয়ে। জুর সাথে দেখা হলে সে বললো আগের জন্মে জু রাজা ছিল এবং সে (আমে) ছিল তার নাইট। আমে বললো, সে জুর সার্ভেন্ট হিসেবে নিজেকে সমর্পণ করবে। স্বাভাবিকভাবেই জু অবাক এবং বিরক্ত হয়। কিন্তু আমে, জুর পিছু ছাড়ে না। একসময় মানসিক বিকারগ্রস্ত আমেকে জু মেনে নিতে বাধ্য হয়। এরপর ঘটনায় আসে সিরিয়াল কিলিং, জুর এক ক্লাসমেট যার শিকার হয়। পরে? বাকি অংশ বরং এনিমেতেই দেখুন।

Theme setup, Animation and Music: টিপিকাল জাপানের কোন শহর আর হাইস্কুল। দা ভেরি ডেফিনিশন অফ ক্লিশে। একই সেটাপে হাজারটা এনিমে থাকলেও দেনপা তেকি না কানোজো কে আলাদা বলার প্রধান কারণ এর সিনেমাটোগ্রাফি। এত্ত ফ্লুইডভাবে ঘটনার পরিস্থিতি ফ্রেম বাই ফ্রেম তুলে ধরা হয়েছে যে বিষয়টাকে নজর দিন বা না দিন, এর নান্দনিকতা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আরবিটারী কোন জিনিসের ইন্সার্ট শট, জলি শট এবং সময়মত কাটপেপার লেটারের ফ্ল্যাশকার্ড ইত্যাদি এর ব্যবহার কাহিনীর প্রতি দর্শকের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিয়েছে।আর্টওয়ার্ক, এনিমেশনে কোন কিছু অভারডু করার চেস্টা করা হয়নি। বরং এনভায়রনমেন্টকে জীবন্ত করার ক্ষেত্রে একটা চেষ্টা লক্ষণীয়। মিউজিকের ব্যাবহার ছিল ঝোপ বুঝে কোপ দেয়ার মত। সিনগুলোর ইমোশনাল পিককে হাইলাইট করেছে।

Characters setup: আপাত দৃষ্টিতে প্রত্যেকটি ক্যারেক্টারই খুবই সাধারণ মনে হবে। ক্যারেকটার ডিজাইনও অনেক কমন টেমপ্লেট কাটআউট। কিন্তু মূল আকর্ষণ হল এদের উদ্ভ্রান্ত সাইকোলজিক্যাল দশা। ফলে দর্শক সেন্টিমেন্ট তৈরী হবে, কিন্তু অভারল কোন চরিত্রের সবগুলো কাজকে নিজের যুক্তিতে জাস্টিফাই করতে পারবেন না। দেনপা তেকি না কানোজো এমন একটি গল্প, যেখানে সবাই মানসিকভাবে টার্বুলেন্সড, কিন্তু সেদিকে নজর দেয়ার কোন প্রয়োজনও তৈরী হয় না। বিষয়টি একটু কেমন জানি, অসুস্থ কিন্তু সুন্দর।

Overall Rating:
MyAnimeList.net: 7.82 / 10
My Rating: 9 / 10

One Punch Man [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

One Punch Man

এনিমেঃ One Punch man
Genre: অ্যাকশন,প্যারোডি,সুপারপাওয়ার,সেইনেন
এপিসোডঃ ১২+৭ OVA
স্টুডিওঃ Madhouse
উৎসঃ One punch man নামক ওয়েবকমিক
¤
ওয়ান পাঞ্চ ম্যান এনিমেটি গত বছরের ফল সিজনে মুক্তি পায়।সম্প্রচারের সাথে সাথেই ভক্তরা হাইপের বন্যায় ভাসতে শুরু করে।অসংখ্য OPM সম্পর্কিত মেমে ও পোস্টে গ্রুপের ওয়ালকে ছেয়ে যেতে দেখা যায়।আমিও দূর থেকে এই হাইপকে অনুসরণ করতে থাকি।অবশেষে দেখেও ফেললাম এবং স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি,এই হসচ পরীক্ষার প্যারার মধ্যে এর চেয়ে ভালো এন্টারটেইনিং এনিমে আর কিছু হতে পারে না।
¤
কাহিনীর পটভূমি একটা ফিউটারিস্টিক পৃথিবী যাতে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে নানা ধরনের দানবরা ক্রমান্বয়ে আক্রমন চালিয়েই যাচ্ছে।ফলে উদ্ভব ঘটেছে হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনের যাদের কাজ হল মানবজাতিকে হুমকির হাত থেকে রক্ষা করা।কাহিনীর নায়ক ২৫ বছরের বেকার যুবক সাইতামা যে কিনা হিরোইজমকে তার জীবনের পরমব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে।তবে সে হিরোগিরি শুধুমাত্র নিজ খেয়ালেরই বশে।কিন্তু নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিদের নিয়ে সাইতামা একদমই সন্তুষ্ট নয় কারণ তার মাত্র এক ঘুষিই সব ভিলেনকে হারানোর জন্য যথেষ্ট।ভাগ্যের ফেরে সাইতামার সাথে দেখা হয়ে যায় সাইবর্গ জেনোসের যে কিনা প্রতিশোধস্পৃহার আগুনে প্রজ্বলিত।সাইতামার অতিমানবিক শক্তির নমুনা পেয়ে জেনোস সাইতামার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে।পরে জেনোসের পরামর্শেই সাইতামা হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনে যোগদান করে।অতিব শক্তিশালী হওয়ার পরও খুব কম মানুষই সাইতামার প্রতিভা সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।বীরত্বসূচক কর্মকান্ডের অভাবে সাইতামাকে তার সহকর্মী এবং জনগণের সম্মান পেতে প্রচুর সংগ্রাম করতে হয়।এই C ক্লাস হিরো কি পারবে সাফল্যের চূড়ায় আরোহণ করতে?সাইতামা কি পারবে সকলের মন জয় করতে?
¤
মাত্র বারো পর্বের এনিমে হলেও OPM এ অসংখ্য চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে।একমাত্র শিষ্য জেনোস,আইনের সাইক্লিস্ট মুমেন রাইডার,প্রবীণ হিরো সিলভার ফ্যাং, tsundere টর্নেডো,গর্বিত তলোয়ারবাজ অ্যাটমিক সামুরাই,রহস্যময়ী মেটাল নাইট,আরো রহস্যময়ী ড্রাইভ নাইট,ঘাড়ত্যাড়া আমাই মাস্ক এবং হিরোজ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য হিরোরা যথেষ্ট বিনোদনদায়ক ছিল।তাদের ভিন্নধর্মী চরিত্র ও আদর্শ আমাদেরকে যথেষ্ট হাসির খোরাক জুগিয়েছে।আর ভিলেনদের কথা তো বলাই বাহুল্য।তাদের লেকচারের তুবড়ির মুখে সাইতামার হতাশাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আপনার মুখে হাসি আনবেই।তাছাড়া অনেক ভিলেনের মধ্যেই অন্য শৌনেন এনিমের ভিলেনদের প্রতি করা ব্যঙ্গ আপনি স্পষ্ট ধরতে পারবেন।মাত্র বারো এপিসোডে এতগুলো চরিত্রকে অবশ্য ভালো করে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় নি।আশা করি স্যিকুয়েলে এ ঘাটতিটা পূরণ করা হবে।
¤
এনিমেটার সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিকের একটি হলো ফাইট সিনগুলা।যদিও সাইতামার এক ঘুষিতেই ফাইটগুলা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।কিন্তু শেষের দিকের দুইটি বস ফাইট আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।শেষ ফাইটটিতে অসাধারন গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে।মুহুর্মুহু টুডি আর থ্রিডি গ্রাফিক্সের ছড়াছড়িতে চোখ ঝলসে যাওয়ার মত অবস্থা।এছাড়া জেনোসের ফাইটগুলো খুবই ফ্ল্যাশি এবং মেইনস্ট্রিম মনে হয়েছে আমার কাছে।এনিমেটাতে কেউই আজাইরা নীতিকথার বুলি কপচাবে না,ফ্ল্যাশব্যাকও নেই আর ফিলার তো নেই ই।ফাইটের মধ্যে সাইতামার ভাবলেশহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাটা প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হলেও আস্তে আস্তে মানিয়ে নিতে পারবেন।
¤
এনিমেটার সাউন্ডট্র্যাক অনেক ভালো ছিল।সাইতামা আর মুমেন রাইডারের অ্যাপিয়ারেন্সের সময় বাজা হেভি মেটাল মিউজিক আমার খুবই ভালো লেগেছে।আর জ্যাম প্রজেক্টের গাওয়া opening song ‘The Hero’ আপনার রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে বাধ্য করবে।মূলত ওপেনিং সংয়ের এই দুইটি লাইন “I don’t want applause, or people praising my name” যেন সাইতামার মাহাত্ম্যকে পুরোপরি ঘোষণা করে।এন্ডিং সংটা আশ্চর্যজনকভাবে অনেক soothing ছিল।লাস্ট ফাইটের সময় অস্থিরভাবে The hero এর ফুল ভার্সন বেজে উঠে আর আমিও পারলে লাফ দিয়ে উঠি।(লাস্ট ফাইটে গানের ফুল ভার্সন দেওয়া মেবি একটা ভালো ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে।)
¤
আপাতদৃষ্টিতে OPM কে একটি প্যারোডি শো ব্যতিত কোন কিছু আপনার মনে নাও হতে পারে।আমিও প্রথম পাঁচ-ছয় পর্বে রিভিউ লেখার মত কোন উপাদান খুঁজে পাচ্ছিলাম না।কিন্তু Deap sea king এর সাথে লড়াইয়ের পর সাইতামার স্বেচ্ছায় কৃতিত্ব বিসর্জনের জায়গাটা আমার অন্তরাত্মায় আঘাত করে।আমিও চিন্তা করতে শুরু করি, সাইতামা কি আসলেই মানুষের প্রতিক্রিয়াকে কেয়ার করে না?সেকি এতটাই ইস্পাতকঠিন স্নায়ুর অধিকারী?কৃতিত্ব দিবি না ভালো কথা তাই বলে প্রতারক বলে অপমান করবি?এইসব জিনিস এখনও আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।আমার কেন জানি মনে হয়,মানুষের এই প্রতিক্রিয়া সাইতামার মনে বিশাল দুঃখবোধের জন্ম দিচ্ছে।সাইতামা কিন্তু এই জেদকে সঙ্গী করেই সামনে এগিয়ে যায়।কিন্তু সাইতামা কি বাধ্য হবে মানুষের এই আবেগের সামনে হার মানতে?
¤
এখন এনিমের দ্বিতীয় সিজনের প্রতীক্ষায় আছি।সাইতামার best male character হওয়াতে এখন আর অত্যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।এখনই এটাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা বলাটা বোকামি হলেও একেবারে ফালতু সিরিজ বলাটাও হবে চরম বোকামি।তাই আবেগকে দমিয়ে রেখে এনিমে দেখুন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

Taro the Dragon Boy [মুভি রিভিউ] — Bashira Akter Anima

Taro 1

ফ্রেঞ্চ এনিমেশন মুভি খুঁজতে গিয়ে এটাকে পেয়ে গেলাম হঠাত করে। এটা যে জাপানিজ তাও বুঝি নি প্রথমে।
১৯৭৯ সালে নির্মিত মুভি “Taro the Dragon Boy” প্রথম থেকেই কিছুটা জিবিলি, বেয়ারফুট জেন বা প্রথমদিকের দেখা এনিমে গুলোর ভাইব দিচ্ছিলো। গ্রামের পরিবেশ, বা হেলতে দুলতে গান গাওয়া দেখে কেনো জানি “The Tale of the Princess Kaguya” এর কথাও মনে পড়লো। মুভিটি জাপানের এক বিখ্যাত লোকগাঁথা এর অবলম্বনে করা।
গল্পের মূল চরিত্র ছোট ছেলে তারো হলো সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমোনোর দলের লোক। বুড়ো নানী আর সে মিলেই তাদের ছোট্ট সংসার। জীবনে তার নেই কোনো লক্ষ্য নেই কোনো কাজ। সারাদিন হয় পড়ে পড়ে ঘুমোয় সে নয়তো উঠে নানান খাবার নিয়ে সে নিজে খায় এবং বনের পশুপাখিদের খাওয়ায়। তার সব বন্ধু হলো বনের পশুপাখি, তাদের সাথে খেলে বেড়ায়, সুমো রেসলিং করে। এর মাঝে সে একদিন এক বর পায়, যার কারণে সে একাই ১০০ জন মানুষের শক্তি অর্জন করে কিন্তু তা শুধু সে ব্যয় করতে পারবে মানুষের কল্যানেই নিজের জন্য নয়। পরিচয় হয় চমৎকার এক মেয়ের সাথে, খুব সুন্দর বাঁশী বাজায় সে, পাহাড়ের বনের সব পশুপাখি সে সুরে মোহিত হয়ে ছুটে আসে তার সাথে।

Taro 2
এভাবে ভালোই চলছিলো সবকিছু কিন্তু একরাতে সে এক তীব্র সত্যের সম্মুখীন হয়। জানতে পারে যে তার মা হয়তো বেঁচে আছে কোথাও, এই ই সব নয়। সে জানতে পারে তার মা কোনো এক অজ্ঞান কারণে ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তার জন্মের সময়ই। কিন্তু সে থাকতে পারে নি এখানে চলে গেছে বহুদূরে শুধু বৃদ্ধ মা কে বলে গেছে তার ছেলেকে দেখে রাখতে এবং সে চিরজীবন তারোর অপেক্ষা করবে। তারো এ শুনে আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারে না। কেনো তার মা ড্রাগন হলো, তার মাকে দেখার জন্য এবং ফিরিয়ে আনার জন্য সে ঘরছাড়া হয়।
তখনো সে বুঝে উঠতে পারে নি যে তার সামনে অপেক্ষা করছে এক দীর্ঘ এডভেঞ্চার। কিন্তু এই এডভেঞ্চার, একেকটা গ্রাম দেখা, নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হওয়ার মাধ্যমে তারো যেনো আরো বড় হয়ে উঠে, বুঝতে পারে তার জীবনের লক্ষ্য কি। আরো বুঝতে পারে যদি মনে আশা থাকে এবং তীব্র ইচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো বাঁধা পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। তারো আসলেই তার মা কে খুঁজে পায় কিনা বা কেনো তার মা ড্রাগনে পরিণত হয়েছিলো তা জানতে হলে দেখে ফেলুন মুভিটি।
মুভিটি হয়তো অনেকে বাচ্চাকাচ্চাদের জিনিস বলতে পারে কিন্তু আমার ভালো লেগেছে। আমার ধারণা যারা জিবিলী মুভি পছন্দ করে তাদের এটা ভালো লাগবে।

Taro 3