Ajin [রিভিউ] — Nazmus Sakib Oyon

Ajin

আনিমের নাম : Ajin
এপিসোড : ১৩
ম্যাল রেটিং- ৭.৮৯
ব্যক্তিগত রেটিং- ৮.৪
জনরা – Seinen, Action, Horror, Mystery, Supernatural

সিনপ্সিস : আজিন নামক এক ধরনের বিশেষ প্রজাতি আবিষ্কৃত হয় আফ্রিকাতে সতের বছর আগে। এর পর পুরো দুনিয়া জুড়ে আরও বেশ কিছু সংখ্যক আজিন আবিষ্কৃত হয়। আজিনরা অমর এবং অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী। আনিমের প্রধান চরিত্র কেই, একজন সাধারণ হাই-স্কুলের ছাত্র। অবশ্য একটি ঘটনা তার পুরো জীবন কে পাল্টে দেয়।

চরিত্রসমূহ: কেই নাগাই নামের একজন ছাত্র আনিমেটার প্রধান চরিত্র। এছাড়াও কেই এর বাল্যবন্ধু কাইতো, বোন এরিকো, হেলথ মিনিস্ট্রি এর অফিসার তোসাকি, আজিন সাতউ ইত্যাদি চরিত্র সহকারী রুপে থাকে এবং কাহিনীর এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

আর্ট এন্ড এনিমেশন : আনিমেটার আর্ট বেশ পরিচ্ছন্ন ও সাবলীল। চরিত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এনিমেশন এর ক্ষেত্রে CGI এনিমেশন ব্যবহার করা হয়েছে।

সাউন্ড : আনিমেটার ওপেনিং সং ভালো। এন্ডিং মোটামুটি। কিন্তু এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। আনিমের হরর এবং সুপারন্যাচারাল আবহ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর মাধ্যমে খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে।

আনিমেটার যে দিকগুলো ভালো লেগেছে :

১। প্রধান চরিত্র ” I have done nothing wrong” ঘরানার হলেও এই ধরনের অন্য চরিত্রগূলো হতে বেশ আলাদা। যেখানে এই ধরনের চরিত্রসমূহ সহজে নিজেদের পরিবর্তনের
সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না, কেই সেদিক দিয়ে অনেকটাই ভিন্ম। সে বেশ চালাক এবং সহজেই খাপ খাইয়ে নেয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও সে নিজ বুদ্ধি খাটিয়ে বেরিয়ে আসে।

২। CGI এনিমেশনের ব্যবহারের ফলে আনিমেটার ভূতুড়ে আবহ বেশ ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

৩। অসাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরো আনিমেটাকেই ভিন্মমাত্রা দিয়েছে।

আনিমের যে দিকগুলো খারাপ লেগেছে :

১। CGI এনিমেশনের ফলে চরিত্রগুলোর চলাফেরা কিছুটা আড়ষ্ট এবং ধীরগতির মনে হয়েছে। ফলে এর বেশ ভালো একশন দৃশ্যগুলো পুরোপুরিভাবে ফুটে উঠেনি।

সবশেষে একটা কথাই বলবো, আনিমেটা বেশ ভালো। দেখে টাইম ওয়েস্ট বলে মনে হবে না।

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ১৯

ইফ ইউ লাইকড ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru’

Madoka 1

আপনার কাছে ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica‘ ভালো লাগলে ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru‘ ও ভালো লাগতে পারে
কারণ-
‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ও ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru’ এর মধ্যে মিল-
* সেইম কনসেপ্ট।
* মাহৌ শৌজোদের (ম্যাজিকাল গার্ল) নিয়ে কাহিনি।
* ড্রামা আর ম্যাজিক জনরার মিল।
* পৃথিবীর মানুষকে বিভিন্ন ক্ষতিকর ক্রিয়েচারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একদল মেয়ের এইসব ক্রিয়েচারের বিরুদ্ধে ফাইট করা নিয়ে কাহিনি।
* ফাইট করতে করতে অবশেষে সত্যি জানতে পারা।
* ম্যাজিকাল গার্ল হওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে ক্যারেক্টারদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।
* দুই অ্যানিমের ক্যারেক্টারদের মাঝে মিল।
* সিমিলার ভাইব।
* কাহিনি আগানোর সাথে প্লট ডার্ক হতে থাকা।
* ভালো OST.
Yuki Yuna
‘Mahou Shoujo Madoka★Magica‘ ও ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru‘ এর মধ্যে অমিল-
* Mahou Shoujo Madoka★Magica তুলনামূলকভাবে বেশি ডার্ক আর সাইকোলজিক্যাল জনরার ম্যাটেরিয়াল বেশি।
* Mahou Shoujo Madoka★Magica এর সিকুয়েল হিসেবে মুভি আছে, Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru শুধু ১২ এপিসোড এর সিরিস।
* Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru এর এন্ডিং Mahou Shoujo Madoka★Magica এর এন্ডিং এর তুলনায় লাইট।
* Mahou Shoujo Madoka★Magica, Shaft studio এর করা। Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru, Studio Gokumi এর করা।
Yuuki Yuuna Madoka MagicaYuuki YuunaMadoka 2

 

 

Behind the Voices – 22

 

Hirakawa Daisuke

আনিমে জগতের সবচেয়ে কুখ্যাত চরিত্রগুলোর একজন হল School Days-এর প্রধাণ চরিত্র মাকোতো এবং এই চরিত্রের কণ্ঠের পিছনে যে কাজ করেছেন সে হল হিরাকাওয়া দাইস্কে । সাধারণত হিরাকাওয়া দাইস্কে তার আনিমের রোলগুলোর তুলনায় বরং হলিউড এবং কোরিয়ান মুভিগুলোর জাপানি ডাব ভার্শনের রোলগুলোর জন্য পরিচিত বেশি । ওর্ল্যান্ডো ব্লূমের সব জনপ্রিয় রোলগুলো এবং মার্ভেল ইউনিভার্স-এর লোকির জাপানি ডাবে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি ।

তার কণ্ঠটা বেশ গম্ভীর এবং সাধারণত সিরিয়াস স্বভাবের চরিত্রের রোলই বেশি করে । মাকোতো বাদে তার আরও জনপ্রিয় রোলগুলো হল রিয়ুগাজাকি রেই (Free!), নাওকি ইরিয়ে (Itazura na Kiss), কাকিয়োইন নোরিয়াকি (JJBASC) । আমার কাছে তার সবচেয়ে পছন্দের রোল কাকিয়োইন (JJBA) এছাড়া রেই (Free!), আকাবা হায়াতো (ES 21) , রেন হাকুয়ূ (Magi) , মুনেয়াকিরা ইয়াগিয়ু (Samurai Girls) , তানাকা সেন্সেই (Ao Haru Ride), সেনবনজাকুরা (Bleach), নোরিকি (Kyoukai Senjou no Horizon) । তিনি Assassin’s Creed Syndicate-এর প্রধাণ চরিত্র জাকব ফ্রায়ের কণ্ঠও দিয়েছেন, গেমটির জাপানি ডাবে আর কি । তিনি Brothers Conflict, Free!, Dance with Devils, Prince of Stride এই আনিমেগুলোর এন্ডিং সেই আনিমেগুলোর সেইয়ূ ইউনিটের সাথে এবং Omamori Himari-র শেষ পর্বের এন্ডিং”Sakamichi no Hate” গানটা নিজে গেয়েছেন ।

তার জন্ম ৪ জুন, ১৯৭৩ । TV আনিমেতে তার কণ্ঠ দেওয়া শুরু ২০০৩ সাল থেকে । তার নাম নিয়ে একটি মজার ব্যাপার হল, তার নামের সাথে নামিকাওয়া দাইস্কের নাম ওনেকেই গোলমাল করে ফেলে কেননা দুইজনের নামের মাঝে মাত্র একটা কান্জির পার্থক্য । JJBASC-এর আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্রের কণ্ঠ অভিনেতা তিনি, তার আরও রোল সামনে দেখবো তা অবশ্যই আশা করি ।

Hirakawa Daisuke

 

Kotobuki Minako

কোতোবুকি নামটা শুনলেই সবার আগে যে চরিত্রটার কথা মনে আসে সে হল K-On-এর কোতোবুকি সুমুগি, মজার ব্যাপার হল চরিত্রটির কণ্ঠ দিয়েছেন যিনি তার নামটাও চরিত্রটির নামের সাথে ব্যপক মিল কেননা দুইজনেরই ফ্যামিলি নেম কোতোবুকি । তিনি সাধারণত ওজৌ-সামা গোছের চরিত্রদেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকেন তবে কিছু বয়িশ চরিত্র করেও ভালো নাম কুড়িয়েছেন তিনি । সে তার কানসাই অ্যাক্সেন্টের জন্যও বেশ পরিচিত এবং অনেকের মতেই শিরাইশি রিয়োকোর পরে তিনি এই অ্যাক্সেন্টে কথা বলে এমন সব চরিত্র নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে পারেন ।

তার ক্যারিয়ার শুরু হয় একজন অভিনেত্রী হিসেবে ২০০৫ সালে ‘Hibi’ নামক এই লাইভ-অ্যাকশন ফিল্মটি দিয়ে । তবে তার পরের বছরই তিনি Red Garden নামক আনিমেটিতে তার প্রথম কণ্ঠ অভিনয়ের রোল পায় । ২০০৬ সালে অভিষেক হলেও কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে তার সফলতা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও ৩ বছর । ২০০৯ সালে সে তার প্রথম বড় মাপের রোল পায় এবং সেটা K-On!-এর মুগি । মুগি বাদেও তার বাকি উল্লেখযোগ্য রোলগুলো হল নেকোমি নাবেশিমা (Medaka Box), মিৎসুকো কঙ্গো (Index/Railgun), কারিনা লাইল (Tiger & Bunny), মিজুকি কানজাকি (Aikatsu), আসুকা তানাকা (Hibike Euphonium), ভিভিয়ান (Nanatsu no Taizai) এবং নাৎসু তাকাসাকি (Baby Steps) । সাধারণত আকি তোয়োসাকির সাথে সে বেশির ভাগ সময় একই আনিমেতেই কাজ করে, যদিও Sphere-এর বাকি সদশ্যদের সাথেও তার একই আনিমেতে ভালো পরিমাণ রোল আছে । বেশ কিছু আনিমে মুভি এবং লাইভ অ্যাকশন মুভিতেও তার রোল আছে । এছাড়া How to Train your Dragon মুভিটির জাপানি ডাবে তিনি অ্যাস্ট্রিডের কণ্ঠও দিয়েছিলেন । তার করা আমার পছন্দের রোলগুলো হল মুগি (K-On!), নাৎসুমি (Natsu-iro Kiseki), তাচিবানা গিন (Kyoukai Senjou no Horizon), নেকোমি সেনপাই (Medaka Box), হিকিওতানি ইতো (Punchline), ইয়ূকো নিশি (A-Channel), তোকুগাওয়া সেন (Samurai Girls) এবং দাইদাই (Otome Youkai Zakuro) ।

HTT-এর বাকি সব মেম্বারদের মত তারও গানের ক্যারিয়ার শুরু ২০০৯ সালে K-On!-এর ওপেনিং ‘Kagayake Girls’ গানটা দিয়ে । এরপর তিনি এখন পর্যন্ত এককভাবে ১০ টি সিঙ্গেল এবং ২টি অ্যালবাম বের করেছেন । Sphere-এর হয়ে ৪টি অ্যালবাম এবং ১৮টি সিঙ্গেল । Sphere-এর গানগুলো বাদে সে A-Channel!, Samurai Girls, Chuu-Bra! এই আনিমেগুলোর এন্ডিং-এ তার কণ্ঠ ছিল, আনিমেগুলোর কাস্টের বাকি সেইয়ূদের সাথে ।

তার জন্ম ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ । তার এবং মাৎসুওকা ইয়োশিৎসুগুর জন্মদিন একই দিনেই কিন্তু সে ৫ (মিনাকো) বছরের ছোট । Sphere গ্রুপটির সর্ব কনিষ্ঠ সদশ্য হলেও তার আচারণ বেশ পরিপক্ব এবং বলা হয় যে ব্যক্তিগত জীবনে সে নাকি অনেক সার্কাস্টিক একজন মানুষ । তার কণ্ঠ-অভিনয় খুবই অসাধারণ । তার যত রোল পাওয়া দরকার সে তুলনায় কম রোলই পেয়েছেন তিনি, সামনে আরও রোল পাবে এই আশা রইলো ।

Kotobuki Minako

One Outs [রিভিউ] — MD Fahim Iftekhar

 

One Outs 3

আনিমেঃ এক আউট
জনরাঃ সাইকোলজিকাল, সেইনেন, স্পোর্টস
পর্বঃ ২৫

প্লটঃ ONE OUTS তথা এক আউট এর কাহিনি তোউয়া তোকুচি নামক একজন চরমপন্থী জুয়াড়িকে নিয়ে যার যুদ্ধ জাপানি প্যাসিফিক বেসবল লীগে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করা এবং সম্ভবত কম গুরুত্বপূর্ণভাবে একটি নিরেট বেতন উপার্জন করা।

গল্পের শুরু ওকিনাওয়া দ্বীপে, লাইকাওনস এর তারকা খেলোয়াড় কোজিমা হিরোমিচি এর অনুশীলন দিয়ে, যার ইচ্ছা আসন্ন মৌসুমে অন্ধকারময় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতানোর। এখানে প্রকাশিত হয় যে খেলাটি মূলত ব্যাটার ও পিচার এর মধ্যে বাজির খেলা যেখানে দুই পক্ষই একে অপরকে দমনের প্রচেষ্টা চালায়। তোকুচি এই খেলার অবিসংবাদিত রাজা যে কিনা লাইকাওনস এর তারকা খেলোয়াড় কোজিমা হিরোমিচির অনুরোধে লাইকাওনস এ যোগদান করে।

লাইকাওনস এর মালিক, সাইকাওয়া প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশিত হন যে কিনা কেবল মাত্র অর্থের ব্যাপারে তৎপর, দলের ব্যাপারে না। তোকুচি ও সাইকাওয়া এর মধ্যে এক আউট চুক্তি গঠিত হয় এবং একটি যুদ্ধের মঞ্চ তৈরি হয় যেখানে তোকুচিকে লীগের অন্য দলের সাথে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি জয় লাভের জন্য মোকাবিলা করতে হয়েছে। একটি মজার ব্যাপার হল প্রতিটি গেমের পর তোকুচির বর্তমান বেতন দেখানো যা দ্বারা দর্শক বুঝতে পারেন ঠিক কতটা সৈনাপত্যের সাথে সে পালাচ্ছে।

One Outs 2

এখানে দেখানো হয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জিতার বিভিন্ন উপায়, দেখানো হয় তারকা খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের গভীর পরিকল্পনা, দেখানো হয় কিভাবে প্রতারনার কৌশল অবলম্বন করে এবং কিভাবে তা ধ্বংস হয়। যেহেতু প্রতিটি দলেরই ছিল তাদের জয়ের বহু রাস্তা, তাই তিন ম্যাচ এর সিরিজ কখনই তাড়াতাড়ি শেষ হতো না বরং দেখা যেত উভয় দলের ক্রমাগত একে অপরকে ফাঁদে ফেলার প্রয়াস। অর্থাৎ বলা যায় খেলাগুলা সাইকোলজিক্যালি গ্যাম্বলিং এর মতো করে দেখানো হয়েছে, আর দেখানো হয়েছে প্রোফেশনাল খেলার জগতের কিছু নেগেটিভ দিক।

বলা বাহুল্য সিরিজ পুরোটাই একজনকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। স্পট লাইট ফেলা হয় এমন এক জনের উপর যে কিনা মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, ঠাণ্ডা মাথায় যে কিনা প্রতিপক্ষ দলকে নিজ ফাঁদে ফেলে। আপনি তখনই ভুল হবেন যখনই ভাববেন যে তোকুচি হেরে যাবে-এতে শর্ত যাই হোক না কেন।

২৫ পর্বের এই সিরিজটি তাই প্রদান করে একজন দর্শক একটি মানসিক এবং / অথবা জুয়া ভিত্তিক সিরিজ এ যা চান। সিরিজটির আর্টওয়ার্ক এবং অডিও উভয়ই ভালো।
আশা করি সবার সিরিজটি ভালো লাগবে।

One Outs 1

Behind the Voices – 21

 

Okamoto Nobuhiko

ওকামোতো নোবুহিকো সাধারণত একটু গরম মেজাজের আর চিল্লাচিল্লি করে এরকম চরিত্র অথবা একেবারে ঠাণ্ডা স্বভাবের নাহলে বেশ ভাব মারে এরকম চরিত্রগুলোর কণ্ঠ দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত । A Certain Magical Index আনিমেটায় অ্যাক্সেলারেটর চরিত্রটি দিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন, Third Seiyuu Awards-এ Best New Actor Award এবং Fifth Seiyuu Awards-এ Best Supporting Actor এই দুইটা অ্যাওয়ার্ডেই অন্য কয়েকটা চরিত্রের পাশাপাশি এই চরিত্রটার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন ।

তার কণ্ঠ-অভিনায়ক হিসেবে অভিষেক ২০০৬ সালে এবং সেই বছরেই তার প্রথম মেজর রোল পেয়ে যান, Ghost Hunt আনিমেটিতে জন ব্রাউন চরিত্রটি । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল উসুই তাকুমি (Maid-Sama), ওকুমুরা রিন (Blue Exorcist), নিজুমা এইজি (Bakuman) এবং আকাবানে কার্মা (Assasination Classroom) । আমার কাছে তার কণ্ঠ দেওয়া পছন্দের রোলগুলো হল কার্মা (Assassination Classroom), উসুই (Maid-Sama), মিকোশিবা (Gekkan Shoujo Nozak-kun), নিজুমা এইজি (Bakuman), রিন (Blue Exorcist), কোমিনাতো রিয়োস্কে (Ace of Diamond), হিসায়া মিকি (Beelzebub), কুরোকিবা (Shokugeki no Souma), মিজুকি (Kamisama Hajimemashitae), ওগামি রেই (Code Breaker), নিশিনয়া (Haikyuu!), অন্দৌ জুলাই (Inou Battle wa Nichijou-kei no Naka de) এবং শিন-আহ (Akatsuki no Yona) ।

কণ্ঠ-অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন গায়কও । তার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু ২০১২ সাল থেকে, Acchi Kocchi আনিমেটির ওপেনিং দিয়ে । যদিও সেটায় তার সাথে ওকুবো রুমি, নাবাতামে হিতোমি, আসানুমা শিনতারো এবং ফুকুহারা কাওরি এই ৪ জন সেইয়ূও কণ্ঠ দিয়েছিলেন । Brothers Conflict, Assassination Classroom, Pretty Rhythm, Aoi Sekai no Chuushin de এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং সে গেয়েছিলেন তবে অন্য সেইয়ূদের সাথে মিলে । তার পুরো ক্যারিয়ার নিজের ব্যক্তিগতভাবে গাওয়া গান এখন পর্যন্ত একটাই, “Shunkan Beat” নামক এই গানটি ।

তার জন্ম ২৪ অক্টোবর, ১৯৮৬ । অত্যন্ত ভালো কণ্ঠ অভিনয় করেন তিনি এবং সামনে আরো বেশি রোল পাবেন এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় ।

Okamoto Nobuhiko

 

Toyosaki Aki

‘হিরাসাওয়া ইয়ুই’ এই নামটা যারা রেগুলার আনিমে দর্শক তাদের কাছে নিশ্চয়ই পরিচিত একটি নাম । মোয়ে আনিমের জগৎে অন্যতম জনপ্রিয় একটি চরিত্র তিনি এবং তার কণ্ঠ দেওয়ার জন্যই সবচেয়ে বেশি পরিচিত তোয়োসাকি আকি । তার কণ্ঠটা বেশ হাই পিচ্ড অনেকটা এবং সে নিজেই তার স্কুল জীবনে নিজের স্বরটা কেন জানি অপছন্দ করতেন । সাধারণত সহজ-সরল স্বভাবের চরিত্রদেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকেন তিনি কিন্তু কিছু অন্য গোছের চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েও বেশ সফলতা পেয়েছেন তিনি ।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল রোল ছিল ইয়ুই, এই রোলটা আর Kanamemo আনিমেটির কানা নাকামাচি এই দুইটি রোলের জন্যে তিনি 4th seiyuu awards-এ “Best New Actress” হিসেবে জিতেছিলেন তিনি । এছাড়া তিনি 5th Seiyu Awards-এ “Best Lead Actress” এবং “Best Personality” এই দুই অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন, এখানেও সে মূলত ইয়ুই চরিত্রটির জন্য জিতেছিলেন । তার আরও কিছু জনপ্রিয় রোল হল কুনিয়েদা আয়োই (Beelzebub), কুরোকামি মেদাকা (Medaka Box), কোফুকু (Noragami) এবং মোমো (To-Love-Ru) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল হিরাসাওয়া ইয়ুই (K-On!), কুনিয়েদা আয়োই (Beelzebub), চিহায়া মেগুমি (Servant x Service), কন (Tokyo Ravens), কুরোকামি মেদাকা (Medaka Box), ওতোহিমে(Ookami-san to Shichinin no Nakamatachi), ইয়োরি(Kokoro Connect), উইহারু(Index/Railgun), কোফুকু (Noragami), ওগিনোমে মোমোকা (Mawaru Penguindrum), নাগাসে জুন(Kami nomi zo Shiru Sekai), রিঙ্কো(Natsuiro Kiseki) এবং মোমো (To-Love-Ru) ।

তার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু হয় K-On!-এর ওপেনিং এবং এন্ডিং গাওয়ার মাধ্যমেই । ঠিক একই বছর (২০০৯), সে এবং আরও ৩ জন সেইয়ূ মিলে Sphere নামক এই আইডল গ্রুপটি খুলেন এবং এর প্রথম গানটি রিলিজ হয় ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসেই এবং গানটির নাম ছিল “Future Stream” । Sphere-এ তার পাশাপাশি বাকি ৩ জন মেম্বার হল কোতোবুকি মিনাকো, তাকাগাকি আয়াহি এবং তোমাৎসু হারুকা । তাদেরকে একসাথে অনেক আনিমের কাস্টেই পাওয়া গিয়েছে এবং K-On! আনিমেটিতেও তোয়োসাকি আকির পাশাপাশি ছিল কোতোবুকি মিনাকো যিনি মুগির কণ্ঠ দিয়েছিলেন । তার প্রথম সোলো সিঙ্গেলটিও রিলিজ পায় ২০০৯ সাল, love your life নামক এই গানটি । Sphere-এর হয়ে ১৮টি সিঙ্গেল এবং ৫টি অ্যালবাম, HTT-এর হয়ে দুইটি এবং ব্যক্তিগতভাবে ১৩টি সিঙ্গেল এবং ৩টি অ্যালবাম । গ্রুপ অথবা ব্যক্তিগত সব মিলিয়ে তার Bakuman s3, Cat Planet Cuties, D-Frag, Demon King Daimao, Hanasaku Iroha, Hatsukoi Limited, K-On!, Kanamemo, Koiken, Ken to Mahou to Gakuen Mono s2, Medaka Box, Ryuugajou Nanana no Maizoukin, Natsuiro Kiseki, Seikon no Qwaser, The Sacred Blacksmith, Servant x Service, Shugo Chara, Shinryaku Ika Musume s2, Otome Youkai Zakuro, Sora no Manami, Kami-nomi zo Shiru Sekai s2 এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সং গেয়েছিলেন ।

তার জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৮৬। কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক তার ২০০৭ সালে, Kenkou Zenrakei Suieibu Umishou-এর আমুরো নিনাগাওয়া এবং Shugo Chara!-এর সু এই ২ চরিত্র দিয়ে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কানায়ে ইতৌর বেশ ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং বেশ কয়েকটা আনিমেতেই তাদের একত্রে রোল ছিল। তার কণ্ঠটা আমার কাছে খুব কিউট লাগে এবং খুব সহজেই ধরতে পারি। আমি প্রথম প্রথম যখন কিছু সেইয়ূদের চেনা শুরু করি তখনকার দিকের অন্যতম প্রিয়দের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি, এখনও আছেন । সে সামনে আরো ভালো রোল পাবে তা আশা।

Toyosaki Aki

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ১৮

 

ইফ ইউ লাইকড ‘Working!!’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Servant x Service’

Working 1

আপনার কাছে ‘Working!!’ ভালো লাগলে ‘Servant x Service’ ও ভালো লাগতে পারে
কারণ-
‘Working!!’ ও ‘Servant x Service’ এর মধ্যে মিল-
* দুইটাই একই মাঙ্গাকার (Takatsu, Karino) লেখা মাঙ্গা।
* একই স্টুডিও, A-1 Pictures, এডাপশন করেছে।
* একই আর্ট স্টাইল।
* কাজের জায়গায় (work-based setting) নিত্যদিনের ঘটা মজার কাহিনি নিয়ে অ্যানিমেই।
* মজার এবং ইউনিক ক্যারেক্টার।
* সেইম জনরার- Comedy, Slice of Life.
* হালকা রোমান্স জনরা এর ভাইব।
Servant x Service 1
‘Working!!’ ও ‘Servant x Service’ এর মধ্যে অমিল-
* ‘Working!!’ এর সেটিংস রেস্টুরেন্ট এ, ‘Servant x Service’ এর সেটিংস সরকারী অফিসে।
Working Wagnaria

Chirin no Suzu (Ringing Bell) [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chirin no Suzu

Chirin no Suzu (Ringing Bell)- ১৯৭৪ সালে স্টুডিও Sanrio থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি কন্ট্রোভার্শাল মুভি। এই মুভি ছোটদের জন্য টার্গেট করা হলেও এর কন্টেন্ট অনেক পাওয়ারফুল যার কারণে অনেক দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কড়া বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এই মুভিতে যা হয়ত ছোট বাচ্চাদের মনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

এর প্রধান চরিত্র হল চিরিন নামের ছোট্ট ও দুষ্টু এক ভেড়ার ছানা, ঘুরে-বেড়ানো ছিল যার অন্যতম শখ। সে তার চঞ্চলতায় আশেপাশের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এ কারণে তার মা’র তাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। একদিন কিছু সময়ের জন্য চিরিনকে খুঁজে না পাওয়ায় তার মা’র উৎকন্ঠা আমাদেরকে মা ও সন্তানের মধ্যে যে নাড়ির টান ও পবিত্র আত্মার বাঁধন রয়েছে তা নতুনভাবে জানিয়ে দেয়। ভেড়াগুলির চারণক্ষেত্র একটি বেড়ায় বেষ্টিত। বেড়ার অপরদিকে দূরের এক পাহাড়ের দিকে ইংগিত করে মা চিরিনকে একদিন বলেন ওখানে এক ভয়ংকর নেকড়ে বাস করে। ভুলেও এই বেড়ার বাইরে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করায় চিরিনকে। চিরিনও তার মা’র কথা অবজ্ঞা করেনা। এক গভীর রাতে ঐ দূর পাহাড়ের নেকড়েরাজা ‘Woe’ ভেড়ার খামারে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে চিরিনকে রক্ষা করার জন্য তার মা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আগলে ধরে রাখে। এরই মধ্যে মা-ভেড়া জখম হয় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চিরিন যখন বুঝতে পারে তার মা আর এ পৃথাবীতে নেই তখন তার হৃদয়বিদারক কান্না সত্যিই বুকে বিঁধে। এরপর চিরিনের মধ্যে পরিবর্তন আসে। সে তার মনে ঠিক করে ফেলে সে শক্তিশালী হবে। নিজের জীবন এমন সহজে বিলিয়ে দেবেনা আর। তার জন্য সে ঐ নেকড়ের কাছে যায়। নেকড়েকে শিক্ষা দিতে বলে, তাকে শিক্ষানবিশ বানানোর অনুরোধ করে। প্রথমে নেকড়ে ‘Woe’ তাকে একটুও পরোয়া না করলেও যখন সে চিরিনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সাহসী মনোভাব দেখে, তখন রাজি হয়ে যায়। তাদের মধ্যে একটি প্যাক্ট হয়। চিরিন একদিন নেকড়ের চেয়েও শক্তিশালী হবে এবং তখন সে তার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবে। নেকড়ে Woe চিরিনকে নিয়মিত ট্রেইনিং দিতে থাকে। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য ভয়ংকর সব সত্যের মুখোমুখি হয় চিরিন। এই সত্যি উপলদ্ধি করে চিরিনের মানসিকতার পরিবর্তন এবং তার জন্য অনুশোচনা আমাদেরকে ভাবায় আমাদের জীবন কী তুচ্ছ।

‘Someone has to die so that someone else can live.’ এই চরম সত্যটি আমরা কখনই হয়ত মেনে নিতে পারব না। কিন্তু আমাদের সার্ভাইভালের জন্য এটা মেনে নিতে আমরা বাধ্য। আমাদের অস্তিত্ব প্রতিদিনই সংকটের মুখে। জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়। তাই আমরা কতটুকু স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তুত তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ যেখানে আফসোসের কোন অবকাশ থাকবেনা। থাকবেনা কোন পিছুটান।। প্রকৃতির এসব নিষ্ঠুর নিয়ম মেনে নিয়ে বেঁচে থাকার সার্থকতার কথাই জানান দেয় এই মুভি।

এই মুভির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কারণ এই মুভির মেসেজগুলি এত বেশি পাওয়ারফুল যা আপনাকে বারবার রিপিট করে দেখতে বাধ্য করবে। চারপাশের কিছু সুন্দর দৃশ্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। তার সাথে সুন্দর কিন্তু করুণ ওপেনিং সং এবং ভয়েস এ্যাকটরদের নৈপুণ্যতায় আপনি মিশে যাবেন এর কাহিনীতে। এটা অবশ্যই ‘Must Watch’ লিস্টে রাখার যোগ্যতা রাখে।

Yowamushi Pedal, Season 1 [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

এনিমেঃ Yowamushi pedal সিজন ১
জনরাঃ স্পোর্টস(সাইক্লিং/রোড রেসিং)
এপিসোডঃ ৩৮
স্টুডিওঃ TMS
উৎসঃ Yowamushi pedal মাঙ্গা
¤
Yowamushi pedal শব্দটির শাব্দিক অর্থ weakling pedal.যার সুন্দর বঙ্গানুবাদ করেছিল আমার বন্ধু Siam Maksud,’হে দুর্বল,প্যাডাল ঘুরা।’তো এনিমের প্রধান চরিত্র যে অতি দুর্বল দেখামাত্রই আপনি তা স্বীকার করবেন।প্রধান চরিত্র,ওনোদা সাকামিচি একজন এক্সট্রিম লেভেলের এনিমখোর অর্থ্যাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে ‘ওতাকু’।তো বেশিরভাগ ওতাকুদের মত সেও লিকলিকে শরীর এবং গোল কাঁচের চশমার অধিকারী।আশ্চর্যজনক ভাবে সমগ্র মিডল স্কুল লাইফে সে একজন এনিমখোর বন্ধুও খুঁজে পায়নি।তাই হাইস্কুলে একটি এনিমে ক্লাব প্রতিষ্ঠার ধণুকভাঙ্গা পণ নিয়ে সে তার বাইসাইকেল সহ স্কুলের দিকে রওনা দেয়।পথিমধ্যে তার সামনে পড়ে দুই কিলোমিটার ব্যপ্তি বিশিষ্ট এক ঢাল যা সে তার ‘মমা বাইক’ অর্থ্যাৎ সাধারন সাইকেল চালিয়েই গুণগুণ করে গান গেয়ে অনায়াসেই পাড়ি দিতে থাকে।এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে অবাক হয় ‘ইমাইজুমি’ ওরফে ‘হটশট’ যে কিনা মিডল স্কুল রোড রেসিং কম্পিটিশনে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে এই সোহোকু হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছে।তাই অনেকটা হিংসার বশবর্তী হয়েই সে ওনোদাকে রেসের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।অপ্রস্তুত ওনোদা,ইমাইজুমির বিপক্ষে অসাধারন ভালো ফলাফলের কারণে স্কুলের বাইসাইকেল ক্লাবের সিনিয়রদের সুনজরে পড়ে।ওনোদা আর ইমাইজুমি দুজনেই বাইসাইকেল ক্লাবে জয়েন করে।তারা কি পারবে সিনিয়রদের সাথে লড়াই করে ক্লাবে টিকে থাকতে?তারা কি পারবে ইন্টার হাই রোড রেসিং টুর্নামেন্টের মত মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করতে?
¤
Yowamushi pedal এর সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক সম্পর্কে বলতে গেলে সবার আগে বলতে হবে এর ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্টের কথা।যেহেতু রোড রেসিং একটি দলগত খেলা তাই এখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সম্পূর্ণ একটি রেস জেতা সম্ভব না।সোহোকো রেসিং ক্লাবের ছয়জন সদস্যের উপরেই স্পটলাইটের আলো সমান ভাবে পড়েছে।খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ,মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব,একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সুন্দর করেই তুলে ধরা হয়েছে।বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের উপরও সমান আলোকপাত করা হয়েছে।প্রধান খল চরিত্র ‘মিডৌসুজি আকিরা’ এর চালচলন এবং সিদ্ধান্তগুলো পুরোপরি আনপ্রেডিক্টেবল মনে হবে আপনার কাছে।সোহোকু একাডেমির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হাকোনে একাডেমির রেসারদের সিরিজের মাঝপথে দেখলে আপনি ধন্দে পড়ে যাবেন যে এরাই নায়ক কিনা।পক্ষ-বিপক্ষ প্রতিটি দলের খেলোয়াড়েরই রয়েছে অম্লমধুর অতীত যা আপনার হৃদয়কে নাড়া দেবে।দলগত খেলা হওয়ার পরও সোহোকু আর হাকোনে একাডেমির সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যকার খন্ড লড়াই আপনাকে অন্যরকম একটা থ্রিল এনে দেবে।
¤
অ্যানিমেশন কোয়ালিটির কথা বলতে গেলে একে গড়পড়তার মধ্যেই ফেলা যায়।আর এনিমের বেশির ভাগ স্ক্রিনটাইম রেসিং ট্র্যাকের ওপর হওয়ায় অ্যানিমেশনের কোয়ালিটির অতটা গুরুত্বও ছিল না।তবে পাহাড়,গাছ-পালা ও রেসিং ট্র্যাকের আশেপাশের পরিবেশের গ্রাফিক্স আরেকটু ভালো হওয়া দরকার ছিল।
¤
এনিমেটির সাউন্ডট্র্যাক যথেষ্ট থ্রিলিং ছিল।বিশেষ করে সোহোকুর রেসারদের রেসে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় অসাধারন কিছু সাউন্ডট্র্যাক ব্যবহার করা হয়েছে।চারটি ওপেনিং সংয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Rookiez Is PunkD এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং ‘reclimb’.এছাড়া এন্ডিং সংগুলোও ভালোমানের ছিল।
¤
Yowamushi Pedal দেখলে আপনি একটা জিনিস নিশ্চিত জানতে পারবেন তা হল সাইক্লিংয়ের নিয়মকানুন ও খুঁটিনাটি।বাংলাদেশে অনেকে শখ করে সাইকেল চালালেও নেশা হিসেবে সাইক্লিংকে খুব কম মানুষই বেছে নেন।তার উপর ট্র্যাকের অপ্রতুলতা এবং এসএ গেমসে চিটিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুণ্ণ। কিন্তু Yowamushi pedal সাইক্লিংয়ের প্রতি আপনার পুরনো ভালোবাসাকে জাগিয়ে তুলবে।এনিমেটা দেখে থাকলে পরিচিত হবেন gear shifting, dancing, climbing, sprinting, cadence, king of the mountain ইত্যাদি সাইক্লিং বিষয়ক টার্মের সাথে।এছাড়া সাইকেল চালানোর সময় চালকরা যে মুক্ত বিহঙ্গ মার্কা অনুভূতি পেয়ে থাকে তার সাথেও পুনরায় সুপরিচিত হবেন।তাই যারা জীবনে একবার হলেও সাইকেল চালানো শিখেছেন তাদের প্রত্যেকেরই উচিত এনিমেটা দেখা।
¤
পুরোটা এনিমে দেখে আমি একটা বিষয় খুব ভালোভাবেই বুঝেছি যে,যতদিন পর্যন্ত না এদেশের যুবসমাজ গিয়ার সাইকেল চালানোকে পার্ট ধরার সরঞ্জাম হিসেব গণ্য করা বন্ধ না করবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সাইক্লিংয়ের ভবিষ্যত অন্ধকার।(এটাকে অনেকে ধৃষ্টতা হিসেবে নিতে পারেন কিন্তু ইহাই বাস্তব সত্য।)
¤
খুবই টানটান উত্তেজনাময় এক মূহূর্তে এনিমেটার প্রথম সিজন হয়ে যাই।তাই আজকে দ্বিতীয় সিজন নামানোর খুশিতে এই লেখা।ধন্যবাদ Siam Maksud ও M.M Rezwan কে এই অসাধারন এনিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।

Tamayura – Let’s Photo!! রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, ফটোগ্রাফি জিনিসটা আপনাদের কেমন লাগে? কয়েক হাজার মেগাপিক্সেলের মোবাইল ক্যামেরা বা কয়েক কোটি টাকা দামের ডিএসএলআর এর যুগে ছবি তোলা ব্যাপারটা অনেক মামুলি হয়ে গেছে এখন, কিন্তু সেই সময়টার কথা একবার মনে করুন, যখন ফিল্ম ক্যামেরা প্রচলিত ছিল। একটা ফিল্মের লিমিট মাত্র ৩৬ টা ছবি, তাও ছবিগুলো দেখতে হলে আপনাকে টাকা খরচ করে প্রিন্ট করাতে হবে! তখন ছবি তোলার একটা চার্ম ছিল, কারণ মানুষ তখন শুধুমাত্র তাদের জীবনের বিশেষ মুহূর্তগুলোই বন্দী করত ক্যামেরায়। একেকটা ছবি হয়ে থাকত একেকটা গল্পের সাক্ষী।

যে অ্যানিমেটার কথা বলছি, সেটার মূল থিমও তাই, ছবির মাধ্যমে সকলের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়া।

Screenshot_2016-04-12-07-58-42

তামাইউরা- অ্যানিমেটির নামটি বেশ অদ্ভুত। কিন্তু এই নামের পেছনে রয়েছে সুন্দর একটা অর্থ। বলা হয়ে থাকে, যখন কোন ছবিতে মানুষের মনের উষ্ণতা, তাদের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ধরা পড়ে, তখন ছবিতে অনেকগুলো সাদা স্ফটিক দেখা যায়। একেই বলে তামাইউরা। আমাদের গল্পের মূল চরিত্র ফু-চান চায়, তার তোলা ছবিগুলোতে যেন এই তামাইউরা ধরা পড়ে।

Screenshot_2016-04-22-13-29-45

ফু-চান একজন হাইস্কুল ফ্রেশম্যান। বাবাকে হারিয়ে অনেকদিন পর্যন্ত সে শকের মধ্যে ছিল, যে কারণে সে তার বাবার কথা মনে করায় এমন সব জিনিস নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, এমনকি তার বাবার পছন্দের ক্যামেরাটাও।

কিন্তু একদিন বাবার তোলা ছবিগুলো দেখে ফু উপলব্ধি করে, শোক করে নয়, বরং বাবার সাথে কাটানো সুন্দর সময়গুলোকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলাটাই হল বাবার প্রতি সন্মান দেখানোর সঠিক উপায়। তাই ফু-চান ঝেড়ে ফেলে সব দুঃখ, আর বাবার প্রিয় ফিল্ম ক্যামেরাটাকে সঙ্গী করে চলে আসে তাকেহারাতে; যেখানে তার বাবার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

Screenshot_2016-04-22-13-32-04

তামাইউরা অ্যানিমেটিকে বলা যায় আরেকটি টিপিকাল কিউট গার্লস ডুয়িং কিউট থিংস অ্যানিমে, যেখানে মূল থিম হল ফটোগ্রাফি। কিন্তু এখানে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির দিকে তেমন একটা ফোকাস করা হয়নি, বরং ছবির সাথে আবেগের সম্পর্কটাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেকারণে ডিজিটাল ক্যামেরার যুগেও ফু-চান ব্যবহার করে ফিল্মের ক্যামেরা, কারণ এটাই তার বাবার সবচেয়ে সুন্দর মেমেন্টো। হাইস্কুল বালিকাদের মজার জীবন, একেকজনের জীবনের লক্ষ্য, হাসিকান্নার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে এগিয়ে চলে ফু-চানের ফটোগ্রাফি, যে ছবিগুলোতে প্রায়ই সন্ধান পাওয়া যায় তামাইউরার।

অ্যানিমেটির থিম যেহেতু ফটোগ্রাফি, সেই অনুযায়ী সেটিং তৈরি করা হয়েছে খুব সুন্দর দৃশ্য আর উৎসবমুখর পরিবেশ দিয়ে। পর্বের পর পর্ব ওরা শুধু মজা করে যাবে, সেগুলো দেখে আপনারও ইচ্ছে হবে ওদের দলে ভীড়ে যেতে। ফু-চানের তোলা ছবিগুলো দেখানোর সময়টার অ্যানিমেশন অনেক সুন্দর। আর এই অ্যানিমের প্রতিটা ওপেনিং এন্ডিং এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার খুবই ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার একগাদা পার্ট আছে, তাই সকলের সুবিধার্থে আমি সিকোয়েন্সটা লিখে দিচ্ছি-

Tamayura OVA- ৪ টি পর্ব
Tamayura Hitotose- ১২ টি পর্ব
Tamayura Hitotose OVA- ১ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive- ১২ টি পর্ব
Tamayura More Aggressive OVA- ১ টি পর্ব

এছাড়া এই অ্যানিমের ৪ টি মুভি আছে।

যদি মনকে শান্তি দেয়া কোন হাসিখুশি দৈনন্দিন জীবন ফোকাস করা অ্যানিমে দেখতে চান, তামাইউরাকে সুযোগ দিতে পারেন।

Screenshot_2016-04-22-18-23-29

Shouwa Genroku-তে আত্নহত্যা, আর রাকুগোর মঞ্চায়ন — Fahim Bin Selim

 

[Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu স্পয়লার সতর্কতা]

ShouwaGen 2

রাকুগো [落語, Rakugo] – আক্ষরিক অর্থ “পড়ন্ত শব্দ(Falling Words)”। মূলতঃ মঞ্চে বসে কেবল এক-দুটো সরঞ্জাম দিয়ে(অধিকাংশ সময়ই একটা কাগজের পাখা একটা ছোট কাপড়ের টুকরো) গল্পবর্ণনার বাচনিক শিল্পমাধ্যম। যদিও এই ধারা বেশ আগে থেকেই জাপানে চলে আসছিলো, তবে মেইজি এরাতে এসে প্রথম “রাকুগো” শব্দটার প্রচলন হয় আর শৌয়া পিরিয়ডে এসে সাধারণের বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। যদিও শেষ পর্যন্ত রাকুগো একটি নিশ(Niche) বিনোদন মাধ্যমই থেকে গেছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে। একাকীই পুরো অভিনয়টা করতে হয় বলেই রাকুগো করার জন্য প্রয়োজন বেশ বড় পরিসরের কন্ঠবৈচিত্রতা আর বডি-ফেস এক্সপ্রেশনের ছোটখাটো পরিবর্তন দিয়ে বড় ধরনের ভাব আদানের দক্ষতা। এই রাকুগো পারফর্মারদের – যাদের ডাকা হয় “Deshi” বলে – বড় থিয়েটারগুলোতে, বড় উপলক্ষগুলোতে সুযোগ পাওয়ার জন্য পার হয়ে আসতে হয় বেশ কয়েকটি ধাপ। পেতে হয় কমিটির অন্যান্য রাকুগো মাস্টারদের সমর্থন। বিভিন্ন ঘরানার রাকুগো দেখা গেলেও একে সাধারণভাবে ভাগ করা যায় কমেডি, হরর(কাইদান) আর ট্র্যাজেডিতে।

আর Shouwa Genroku-’র গল্পটাতে যে ট্র্যাজিক-ড্রামা তা প্রথম পর্বেই ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা লাফিয়ে বেড়ায় শৌয়া পিরিয়ডের সময়টাতেই, একই সাথে অতীত(চল্লিশের দশক) আর বর্তমানে(সত্তরের দশক)। গল্পের শুরুটা উদীয়মান রাকুগো “অভিনেতা” ইয়োতারোকে দিয়ে ‘৭০ এ হলেও, অন্তত অ্যানিমের প্রথম সিজনের অধিকাংশ সময়টাই তার গুরু কিকুহিকোর সাথে কাটানো, ‘৪০ এর যুদ্ধকালীন আর যুদ্ধপরবর্তী জাপানে। Shouwa Genroku-’র প্রথম পর্বটা, যেটা আগে বেরোনো দুটো OAD-’র পুনর্বণনা আর ৪০ মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ, একটা আদর্শ “পাইলট” এপিসোড, পুরো অ্যানিমেটারই একটা খন্ডচিত্র; তা এসথেটিক দিক দিয়েও, গল্পের মেজাজ আর গতির দিক দিয়েও। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এর সমাপ্তী, যা আগে থেকেই বলে দেওয়া; বারবার শোনা কোন রাকুগোর মত যেন। আর একারণেই Shouwa Genroku-’র মূল বিশেষত্ব “কী হবে” তাতে নয়, বরং “কীভাবে হবে”-তে আবদ্ধ। মাঙ্গার প্যানেল-বাই-প্যানেল থেকে বেরিয়ে অ্যানিমেশন/সিনেমা মাধ্যমে গল্পের মঞ্চায়নে পরিচালকের নিজস্বতার শুরুটা এখান থেকেই। অনেকটা পার্থক্য তুলে ধরার চেষ্টাতেই যেন, “ভার্বাল স্টোরিটেলিং”-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত এক গল্পে তার চরিত্ররা প্রথম থেকেই ভাব প্রদানে ব্যবহার করেছে খুবই কম শব্দ। রহস্য আর নাটকীয় মুহূর্তে সংলাপগুলোকে দমিয়ে দিয়ে বরং মনোযোগ দেওয়া হয়েছে ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং আর নুয়ান্সের উপর।

vlcsnap-2016-04-20-21h11m08s220

vlcsnap-2016-04-20-21h11m14s20

 

পিরিয়ড ড্রামা হিসেবে Shouwa Genroku-’র অর্ধেক আকর্ষন যুগ পরিবর্তনের সাথে সময় রাকুগোর টিকে থাকা, তার সাথে জড়িত মানুষদের টিকে থাকার গল্প; প্রতিভা, সাফল্য, ব্যর্থতা, ভালোবাসা, তাদের টানাপোড়েনের গল্প। আগের থেকেই জনপ্রিয়তা নিয়ে ধুঁকতে থাকা এই মাধ্যম বড় একটা ধাক্কা খায় টেলিভিশন, রেডিও আর সিনেমার মত নতুন বিনোদন মাধ্যমগুলোর আবির্ভাবে। আরও একটা বড় কারণ সম্ভবত এর ঐতিহ্য আর প্রচলিত ধারার বাইরে যাওয়ার বিপক্ষে একগুঁয়েমি। অ্যানিমের পুরোটা জুড়েই শিল্পের এই চিরচেনা অন্তর্দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। দুই মূলচরিত্র সুকেরেকু আর কিকুহিকোর রাকুগো পরিবেশনার বৈপরীত্যটা সামগ্রিক রাকুগো জগতের অবস্থার সাথেই সমান্তরাল টানার চেষ্টা। কিকুহিকো, একজন সহজাত অভিনেতা; সূক্ষ্ণ আর নিখুঁত, ক্রিটিকালি অ্যাক্লেইমড, পিয়ার(peer)-দের ঈর্ষা আর অগ্রজদের প্রশংসার পাত্র; কিন্তু দর্শকদের সাথে তার সংযোগটা, যেটা আর যেকোনো মঞ্চপ্রদর্শনের মতই রাকুগো পারফর্মেন্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কখনোই তার কাছে সহজাত ছিলো না। সুকেরেকুর অবস্থানটা পুরো বিপরীত। তাকে বলা যায় জনগণের রাকুগো পারফর্মার। কমেডি ধারাতেই তার বিচরণ, আর দর্শকদের বিনোদনের জন্য, তাদের সখ্যতা পাওয়ার জন্য কমেডির চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! কিন্তু প্রতিভা থাকলেও তা টিকিয়ে রাখার চাপ সামলাতে সুকেরেকু বারবার ব্যর্থ হয়।

sho Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu 09.mkv_snapshot_11.52_[2016.03.10_17.08.26]

Shouwa Genroku বেশ বড় একটা সময় মঞ্চের বাইরের জীবনের নাটকীয়তা নিয়ে কাটালেও, এর বাকি সময়টা কেবলই মঞ্চের রাকুগো নিয়ে। রাকুগো, এমন একটা শিল্পমাধ্যম যা ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেয় বেশ ভালোভাবেই – তা যেমন তার পারফর্মারের, তেমনি এর শ্রোতারও। আর Shouwa Genroku প্রথম থেকেই আমাদের থিয়েটারের ভেতর বসিয়ে দেয়, বেশ কয়েকটি রাকুগো পারফর্মেন্সের পুরোটা দেখিয়ে, যার সবচেয়ে বড়টি প্রায় ১৫ মিনিট।

গঠনগতভাবে, রাকুগো শুরুটা হয় বড় একটা বিল্ডআপের নিয়ে, আর তার শেষটা হয় হঠাৎ কোন সমাপ্তী নিয়ে – কমেডির ক্ষেত্রে কোন রানিং জোক অথবা ওয়ার্ডপ্লে আর ট্র্যাজেডির ক্ষেত্রে পতনের অনিবার্যতার নিয়ে। বিল্ড-আপের মূহুর্তটা ধীরে ধীরে শ্রোতাকে গল্পের ভেতর টেনে আনার প্রচেষ্টা। বক্তা, কেবল শব্দের মাধ্যমেই যে কিনা সকল শ্রোতার কল্পনাশক্তিকে একসাথে চালিত করে ইনডিভিজুয়াল কনশাসনেসকে ছড়িয়ে দিবে সবার মাঝে। Shouwa Genroku-’র পারফর্মেন্সের দৃশ্যগুলোকে এক্ষেত্রে নিখুঁতই।

shogen

পারফর্মেন্সগুলো আমরা দেখতে পাই বক্তা-শ্রোতা দুই পরিপ্রেক্ষিত থেকেই। রাকুগো পারফর্মারকে দূর থেকে দেখা যায়, দর্শকের চোখ দিয়ে, আসন গেড়ে বসা, বিচলিত অথবা আত্নবিশ্বাসী, স্পটলাইটের কেন্দ্রবিন্দুতে। দর্শকের দেখা যায়, বক্তার চোখ দিয়ে, অনিশ্চয়তা অথবা আগ্রহ নিয়ে তাকানো, আধো আলো-ছায়ায়। কিন্তু যতই গল্প এগোতে থাকে, আর যতই গল্পের আবহ আচ্ছন্ন করা শুরু করে, ততই বাস্তবতা বিলীন হয় আর প্রবেশ ঘটে পরাবাস্তবতার জগতে। আমাদের চোখের সামনেই দর্শকরা হারিয়ে যায় অন্ধকারে। অথবা বক্তার নিয়মিত বদলে যাওয়া গলা আর বৈচিত্র্যতা থাকা অঙ্গভঙ্গিগুলো প্রাণ নিয়ে যেন মঞ্চে হাজির হ্য় আলাদা আলাদা সব চরিত্র হিসেবে। শৌয়া পিরিয়ডের টোকিওর কোন থিয়েটারের মঞ্চ রুপান্তরিত হয় এডোর কোন পতিতালয়ের ঘরে। আমরা শ্বাসবন্ধ করে বসে থাকি, দর্শকদের সাথেই, তার যখন হঠাৎ কোন কৌতুকে হেসে ঊঠে তখন আমরাও হাসি। অথবা আঁতকে উঠি শিনিগামির আগমনে।

vlcsnap-2016-04-20-21h10m34s128

কিন্তু কেবল রাকুগোর নিখুঁত মঞ্চায়নই না, তার চেয়েও বেশি কিছু, Shouwa Genroku এক অনবদ্য সিনেমাও। সামনে থেকে না দেখতে পাওয়া পারফর্মারের দেহের অঙ্গভঙ্গিগুলো আমরা দেখি, পারফর্মারের পাশে বসে, আসলেই মিশে একাকার হই, শুধু রাকুগোগুলোর গল্পের সাথেই না, তার পেছনের মানুষটার গল্পগুলোতেও। কোন মোনোলোগ না, কোন আলাদা সংলাপ না – কিন্তু পারফর্মারের মনের ভেতর ঢুকে যেতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না। হয়তো ছোট একটা শট-ফ্রেমিং – পায়ের আড়ষ্টতা বা ঠোটের কোনের সূক্ষ্ণ হাসি – Shouwa Genroku-’র ছোট ছোট দৃশ্যগুলোই হাজার শব্দের একটা ভাব বহন করে।

Shouwa Genroku-’র মূল গল্পের পুরোটাতেও আমরা বসে থাকি অধীর আগ্রহে, এর অনিবার্য ট্র্যাজেডির জন্য। তার চিরচেনা ভাব-গাম্ভীর্য নিয়েই কিকুহিকো যখন বলে যায় আত্নহত্যা অথবা পতনের গল্প – সুকেরেকু, মিয়োকিচি আর…রাকুগোর।