আমাদের মানুষদের মধ্যে একটা এরোগ্যান্ট ভাব আছে যে , মানুষ ছাড়া অন্য কোন কিছু ইমোশন অনুভব করতে পারবে না । মানুষ হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরী করতে পারবে এবং মনে করতে পারে যে এই বুদ্ধিমত্তাকেও আমারা নিয়ন্ত্রনও করতে পারবে । কিন্তু সবসময় সবকিছু প্ল্যান অনুয়ায়ী হয় না । এখন এই এনিমের কাহিনী আগায় ভবিষ্যত নিয়ে যেখান এন্ড্রয়েড রোবট প্রাত্যহিক জীবনে সহজলভ্য ,এন্ড্রয়েড থেকে মানুষকে আলাদা করা যায় শুধু তাদের মাথার উপরকার হলোগ্রাফিক রিং দেখে । এদের মধ্যকার অজানা অনুভূতি নিয়েই এনিমের কাহিনী ।
এই এনিমের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে রিকোও সাকিসাকা । সে একজন মেধাবী ছাত্র এবং ট্যালেন্টেড পিয়ানোবাদক । কিন্তু এক অনুষ্ঠানে একটি রোবটের পিয়ানো বাজানো শুনে সে একই সাথে মুগ্দ্ধ এবং বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে । তার বাসায় অন্যসবার মতোও একটি এন্ড্রয়েড কাজ করে । এই এন্ড্রয়েড এর প্রত্যেকদিনকার কর্মকান্ড চেক করতে গিয়ে একদিন সে খাপছাড়া কিছু লক্ষ্য করে । একটি নির্দিষ্ট টাইমের জন্য তাদের স্যামি নামের এন্ড্রয়েড রোবটটি অনুপস্থিত ছিল এবং সে সময়কার জাগায় একটি অদ্ভুত কথা লেখা ” Are you enjoying the time of eve ? ,, এবং তার বন্দ্ধুকে নিয়ে খুজে বের করে এক ক্যাফে যার নাম ” Time of eve ,, এবং সেখানের নিয়ম হচ্ছে মানুষ এবং রোবটের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না । সেখানে গিয়ে সে আবিষ্কার করে যে রোবটদের মধ্যেও মনুষ্য আবেগ আছে এবং রোবোটিক্সের ৩ আইনের মধ্যকার কয়েকটি ফাকাফোকড় এর ফলে রোবটরাও মালিকের কাছ থেকে মিথ্যা বলে তথ্য গোপন রাখতে পারে ।রিকোও এটা প্রথমে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না । কেননা রিকোওর আশংকা রোবটরা মানুষকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাবে । কিন্তু তা কি সত্যিই , নাকি রোবটরা শুধু চায় একটু স্নেহ , ভালবাসা পেতে ? কি হয় সামনে ?
এটি একটি অসাধারন সায়েন্স ফিকশন স্লাইস অফ লাইফ । এটার মাত্র ৬টি এপিসোড এবং একেকটি ১৫মিনিটের । এটাকে আবার মুভি হিসেবেও রিলিজ দেওয়া হয়েছে । এই এনিমের আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর এবং বেশ ঠান্ডা ধরনের এনিমে । যদিও এন্ডিংটা কিছু প্রশ্ন রেখে যায় মনে ।সময় থাকলে এবং মাথা ঠান্ডা করা নরমাল কিছু দেখতে চাইলে শুরু করে দিন দেখা Time of Eve !
আমার রেটিং: 7/10
you guys do not notice
that we are gifted just
by being humans,
we are absolute predator
এনিমের ওপেনিং যদি এইরকম লাইন দিয়ে শুরু হয় তাহলে আপনা আপনিই এই এনিমে দেখার জন্য আপনার মন ছটফট করা শুরু করবে । এই ওপেনিং শুরুই হয়েছে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষনা দিয়ে । আমরা অন টপ অফ দা ফুড চেইন । এই নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই । কিন্তু সত্যিই কি আমরা শ্রেষ্ঠ ? এখন আমরা যদি পৃথিবীকে একটি জীবন্ত বস্তু বলে বিবেচনা করি তাহলে আমরা পৃথিবীর কাছে কি ? ভাইরাস , ব্যাকটেরিয়সহ আরও নানা ধরনের পরজীবি জীব কোন প্রাণীর শরীরে বাসা বাধে , বংশবৃদ্ধি করে লক্ষ লক্ষ হারে শরীরে ছড়িয়ে পরে এবং পোষকদেহকে রোগাক্রান্ত করে ফেলে । তাহলে দেখা যায় যে মানুষরাও একধরনের পরজীবিই । আমাদের পৃথিবীকে রোগাক্রান্ত করে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছি । কিন্তু প্রকৃতি কি প্রতিরোধ করবে না ?
এখন আসি এনিমের কাহিনীতে । প্যারাসাইটের মূল নায়ক ইজুমি শিনচি একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট । প্রত্যেকদিনের মতোই ঘুম থেকে উঠে স্কুলে গেলেন , কিন্তু খেয়াল হলো তার ডান হাত কিছুটা অবশ । তো অসুস্থ বোধ করে বাসায় ফেরার পথে চোখের সামনে দেখতে পেলেন একটি বাচ্চা গাড়ির নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছে । কিছু বোঝার আগেই ইজুমি বাচ্চাটাকে আগলে ডান হাত দিয়ে গাড়ি থামিয়ে দিল এবং আবিষ্কার করল তার ডান হাত আসলে ডান হাত নেই । পরিনত হয়েছে আরেকটি জীবন্ত সত্ত্বায় । এই প্যারসিটিক সত্ত্বার নাম সে দিল মিগি যার অর্থ ডান হাত । এবং এই মিগির কাছ থেকে জানতে পারলো যে মিগির উদ্দেশ্য ছিল তার ব্রেইন দখল করা যা করতে মিগি ব্যার্থ হয়েছে এবং মিগি শুধু একলাই নয় , আরও প্যারাসাইট আছে যাদের জন্মমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ হত্যা । কে এই প্যারাসাইটদের পাঠিয়েছে ? এদের উদ্দেশ্য কি ? এরাই কি প্রকৃতির ডিফেন্স মেকানিজম । এবং শিনচির জীবনে কি নারকীয় কান্ড ঘটতে যাচ্ছে ? জানতে হলে দেখা শুরু করুন।
প্যারাসাইটের পর্ব সংখ্যা ২৪টি । এর ওপিনেং সং ই বলতে গেলে এর ৫০% আকর্ষন । পাঙ্ক মেটালকোর টাইপের ব্যান্ড Fear and lothin in lusvegas এর ট্র্যাক Let me hear গানটি একবারও কেটে যেতে পারবেন না বলে আমি মনে করি । আর্ট এবং গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর । তবে কাহিনী শেষের দিকে কিছুটা ইনকম্প্লিট লেগেছে । এর সাইড ক্যারেকটারগুলোও আকর্ষনীয় যেমন : তামুরা রিওকো , কানা এবং গৌটো । এই সাইকোলজিকাল হরর আপনাকে নিরাশ করবে না বলে দিতে পারি ।
আমার রেটিং : 8/10
Op:
–নাইলে কি? আমি মাত্র কুইজ দিয়া বাসায় আসছি। এখন আমার মরা দাদা কবর ফেড়ে বাইর হইলেও এই সোফা থেকে নড়তেছি না।
–ওই,ওই,(চুল টানারত) এত্ত ঘাড়ামি কইরো না… ওই! ওই!
–আরে ধুর,আনতেসি……
এটা হল আমার আর আমার ছোট বোনের ক্লান্ত বিকেলের কথোপকথন। জ্বালাতন বললেও বলতে পারেন তবে দিনশেষে অসুস্থ হলে ঘুমের ঘোরে কোমল হাতে ঠিকই জলপট্টি দিতে তাকে দেখা যায়।যদিও সুস্থ হবার পরে তার বক্তব্য — “হুহ! ঠেকা পড়ছে তোমার মাথায় পানি দিতে আমার”
যাদের ছোট বোন নেই,তারা হয়ত সেন্টিমেন্টটা ধরতে নাও পারেন।কিন্তু ছোট বোন আর ভাইয়ের সম্পর্কের কেমিস্ট্রি Maze Box এর চেয়েও অস্পষ্ট।
এত্তগুলা কথা বললাম ১২ পর্বের এক এনিমে সিরিজ এর কথা বলার জন্য।মাশাহিকো ওহতা পরিচালিত “Himouto! Umaru-Chan”,যা ইতোমধ্যেই বছরের সেরা কমেডি সিরিজের খেতাবের বেশ ভালো দাবিদারে পরিণত হয়েছে। পুরো গল্পটা প্রিয় উমারু দোমা কে নিয়ে। সুশীলা,সুন্দরী,মেধাবী আর পরিপাটি মেয়ে হিসেবে স্কুলে,ঘরে ,বাহিরে তার নাম-ডাক। কিন্তু চারদেয়ালের ভেতর মানুষের আসল চেহারা বোঝা যায় তো……
উমারুর কথা
১২ এপিসোডের হাস্যরসাত্নক,পাগলাটে এই এনিমেটা নিয়ে লিখতে গেলে বলতে হয় উমারু চ্যান এর কথোপকথন আর কাজ-কারবার,তার এহেন সব কান্ড কারখানাই দর্শক জমিয়ে রাখতে যথেষ্ট।আরেক চরিত্র তাইহেই দোমা,উমারুর (হতভাগা নাকি ভাগ্যবান) ওনি-চ্যান।গল্প শুরু হয় উমারুর বিখ্যাত প্রত্যাবরতন(স্কুল থেকে বাসায়)।কিভাবে সেকেন্ডের মধ্যে দীপ্তিময়ী পারফেক্ট হাইস্কুল আইডল গুটি গুটি হাত পা আর ডিম্বাকার মুখ নিয়ে পরিণত হয় অন্যরকম এক চরিত্রে।উমারুর কম্পিউটারের কীবোর্ডের জন্য বড্ড মায়া হয়- কেননা এ ব্যাটার ওপর দিয়ে সবচেয়ে বেশি অত্যাচার যায়।আর কোকা-কোলা,পেপসি কোম্পানিগুলোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তো উমারু-চ্যান নিজেই।উমারু চ্যানের সাথে সাক্ষাত পেতে চটজলদি শুরু করে দিন উমারু-চ্যান।
উমারু ছাড়া আর কি কেউ নাই??
“উমারু ছাড়া কি আর কোন চরিত্র নাই?” না,আছে।অবশ্যই আছে,আমাদের মধ্যে যারা ওয়াইফুখোর(এচ্চিখোর আর হারেমখোর) আছেন তারা এবিনা নানা চরিত্রটির সাথে অবশ্যই পরিচিত।গ্রাম থেকে টোকিও তে পড়ালেখার জন্য আসা,সর্বক্ষণ ভুলত্রুটির চিন্তায় ব্যস্ত,ঠিকমত কথা গুছিয়ে উঠতে না পারা,Dialect বা উপভাষা পাছে মুখ ফসকে বেরিয়ে না যায় সেজন্য সর্বদা তটস্থ থাকা— এমন দিকগুলোর কারণে চরিত্রটি চোখে লাগার মত।
তবে উমারুর পরপরই আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র হল মতোবা বোম্বার।বিশেষত তার চুলের স্টাইলটাই বেশি ভালো লেগেছে।আর কথায় কথায় তার মুখভঙ্গি আর সংলাপের তো কথাই নেই……
আর বিরক্তিকর লেগেছে তাচিবানা সিলফিনফোরডকে।তার চোখের আইরিস,কথাবার্তা,মনে হয় এখনই লাফ দিয়া পানিতে পড়বে এমন উদ্ভট-চাঞ্চল্য থাকায় যতক্ষণ এনিমেটা দেখেছি,এই চরিত্রটি আসলেই— “দরকার ছিল এই চরিত্রটার!! -_-
আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল,উমারু-চ্যান আবার অতিমাত্রায় অলরাউন্ডার,দিনরাত গেইম,এনিমে,মুভি আর খাওয়া নিয়ে পরে থাকলেও এনিমু লজিক অনুসারে তিনি ১০০ তে ১০০ বরাবরই পান।আর প্যারোডির কথা বলতেই হয়।জুন পিস মাঙ্গার বড় ভক্ত উমারু তাই স্ট্র হ্যাট পরা অবস্থায়ও দেখা গেছে তাকে। আর উমারু-চ্যানের গেমিং স্কিল তো লাজবাব।
OST
ওপেনিং টা নিয়ে বলতে গেলে—-
“এনিমেটা দেখার সময় একটা এপিসোডেও ওপেনিং স্কিপ করা হয়নি”
অর্থাৎ ওপেনিং টা না দেখলে চলেই না। দেখে ফেলুন ওপেনিংটা—
এন্ডিং টাও বেশ ভালো।
https://www.youtube.com/watch?v=H-5L6Ffp2Ko
উমারুপাখ্যান ও কিছু কথা—
সাম্প্রতিক সময়ে উমারু নিয়ে এনিমখোরে কিছু মন্তব্য—
“আমি তাইহেই এর জায়গায় থাকলে থাপরাইয়া উমারুর গাল ফাটায়া দিতাম”
“উমারু ইজ লাভ,উমারু ইজ লাইফ”
“উমারু চ্যান হল Double-Bladed Sword”
“উমারুকে ঘৃণা করা মানে যে নিজের এক সত্ত্বাকে ঘৃণা করা তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন??”
“উমারু-চ্যান সারক্ষণ গেইম খেইলাও ১০০ পায় আর আমি।হায়রে!!”
এখন কাজের কথায় আসা যাক,উমারু-চ্যানের ভক্তের অভাব নেই,আমি নিজেই তাদের মধ্যে একজন। আর উমারুর প্রতি বিরক্ত আর উমারু-হেটারও আছেন অনেকে।আমরা গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাস করি(যদিও সরকার হয় ভোট ছাড়া) তাই সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই কিছু কথা বলা যাক।আপনার যদি ছোট বোন না থাকে তাহলে আপনার কাছে উমারু বিরক্তিকর লাগতেই পারে।কারণটা শুরুতে বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে।যারা ছোট বোন আছেন,এবং বড় ভাই আছেন তাদের ব্যপারে উমারু খারাপ লাগার কারন—
১।ভাইয়ের কাছে ইচ্ছামত আবদার ………
২।আমি আমার ভাইরে জ্বালাতন করে কিছু আদায় করতে পারলাম না সারাজীবন আর এই উমারু কিনা………
৩।অসামাজিক বা ঘরকুনো জীবনযাপন পছন্দ করেন না
৪।অজানা কারণ –“কেন জানি উমারুকে ভালো লাগে নাই” এই কারণ
উমারু নিয়ে এত কথা বললাম কেন,হ্যা কেন……
ছোট বোন বড় ভাইকে জ্বালাবে বা আবদার করবে সেটা সহজাত ব্যাপার।এটাকে সহজভাবে নিতে না পারাটা ব্যরথতা,আর উমারু-চ্যান এনিমের শেষের দিকের কয়েকটা এপিসোড দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন উমারু চ্যান এতটাও খারাপ না যতটা ভাবছেন।
রেটিং-(ব্যক্তিগত) ৭.৮
গল্প- ৭.২ চরিত্র- ৮.৮
সাধারণত রুক্ষ এবং বড় ভাই টাইপ চরিত্র অসাধারণভাবে তুলে ধরতে পারার খ্যাতি হয়তো নাকামুরা ইয়ূইচিরই সবচেয়ে বেশি । একজন কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিনি দক্ষ এবং তার চরিত্রগুলিও ভক্তদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।
তার করা রোলগুলো প্রায় সবসময় এক ধাঁচের দেখালেও কিছু ব্যতিক্রমী চরিত্রও তিনি করেছেন । এই রকম দুইটি চরিত্র হল গেক্কান শৌজো নোযাকি-কুনের নোযাকি এবং হিওকার ওরেকি হৌতারো, আর এই দুইটা চরিত্র তিনি এত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন যে হয়তো তার জায়গা অন্য কারও পক্ষেই কাজটা বেশ কঠিন হতো । তার রেগুলার ধাঁচের চরিত্রগুলোর মধ্যেও অনেক পছন্দের রোল আছে । সেগুলো হল দুরারারার দোতাচিন, ফেইরি টেইলের গ্রে ফুলবাস্টার ( পুরা সিরিজের হয়তো এই একটা চরিত্ররেই খুব বেশি ভাল্লাগসে ), ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্ট ব্রাদারহুডের গ্রিড, মাহৌকা কৌকৌ নো রেত্তোসেই-এর শিবা তাৎসুয়া, ম্যাজাই-এর রেন কৌয়েন, ওয়ারি নো সেরাফের ইচিনোসে গুরেন এই চরিত্রগুলো । তার আরেকটি জনপ্রিয় রোল হল ক্লানাডের ওকাযাকি তোমোয়া, কিন্তু ক্লানাড না দেখার কারণে ঠিক বলতে পারছি না এই রোলটি তিনি কিভাবে তুলে ধরেছেন। আনিমের ওএসটিতে তুলনামুলকভাবে তার কাজ কম।
তার জন্ম ১৯৮০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি । তিনি সুগিতা তোমোকাযুর খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ভয়েস এক্টিং ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিষেক ২০০১ সালে, তবে বড় কোন রোলের জন্য তার ২০০৭ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে । এখন হয়তো সেরা কণ্ঠ অভিনেতাদের তালিকায় তিনি একজন । এই বছরও তিনি অনেক রোল পেয়েছেন এবং সামনেও আরো পাবেন আপাতত এই আশা করা যাক।
নাকাহারা মাই
নাকাহারা মাই এমন একজন যিনি তার শ্রুতিমধুর কণ্ঠ দিয়ে যে কোন ধরণের চরিত্রের সাথে সুন্দরভাবে মানিয়ে নিতে পারেন । তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত কণ্ঠ-অভিনেত্রী এবং তার রোলের সংখ্যাও ৮০+।
তার এত্তগুলো রোলের মধ্যে অনেকগুলো রোলই আমার ভালো লেগেছে। পছন্দের রোলগুলো হল ওরেগাইরুর ইউকিনোশিতা হারুনো, সার্ভেন্ট এক্স সার্ভিসের মিয়োশি সায়া, গেক্কান শৌজোর কাশিমা ইঊ, কাতানাগাতারির নানামি, মেকাকু সিটি এক্টর্সের তাতেয়ামা আয়ানো এবং স্পাইস এন্ড উল্ফের নোরা । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি রোল হল ক্লানাডের নাগিসা এবং ফেইরি টেইলের জুভিয়া । বিভিন্ন আনিমের ওএসটিতেও তার কাজ রয়েছে ।
তার জন্ম ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ । তার কণ্ঠ অভিনয় বরাবরের মতই সুন্দর এবং ২০০৩ থেকে এই পর্যন্ত কোন বছরেই ৪ টির নিচে রোল পায় নাই । আনিমে জগতে তার অভিষেক ২০০২ সালে এবং সেই বছরও ৩ টি রোল পেয়েছেন। তার দক্ষতা এবং মেধা দিয়ে বলা যায় সামনেও সে অনেক রোল পাবেন আর তার রোলের হিসাবে সেঞ্চুরি করতে আর বেশি দিন বাকি নেই । শেষে বলব তার MAL-এর ছবিটা দেখতে অনেকটা নিকি মিনাজের মত লাগে।
টোকিওর মুশাশিনো রেডক্রস হাসপাতালে সাতোশি কনের মৃত্যুপাঠ পড়ে শোনানো হল। সাথে ড্রিমিং মেশিন-এরও – স্ক্রিপ্ট আর ১৫০০ এর মধ্যে ৬০০ শট সম্পূর্ণ হওয়ার পরও – কারণ কাপ্তান কন তখন আর তার হাল ধরে থাকার মত অবস্থায় ছিলেন না – তাঁর দর্শন নিয়ে, নির্দেশনাশৈলী নিয়ে – যে জাহাজ একমাত্র তিনিই সৈকতে ভেড়াতে পারতেন। তিনি যদিও আরও ৩ মাস বেঁচে থাকবেন, কখনো হাসপাতাল বিছানায়, কখনো নিজের বাসার; ক্যান্সারের আক্রমনে ক্রমাগত হার মানতে থাকা অগ্ন্যাশয় নিয়ে। একেবারে কাছের আত্নীয় আর সহকর্মী ব্যতীত বাকিদের কাছ থেকে এ খবর অজানা থাকবে একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত।
এই টোকিওর মুশাশিনো আর্ট ইউনিভার্সিটিতেই সাতোশি কনের হাতেখড়ি, গ্রাফিক ডিজাইনিং এর উপর। যদিও তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা হোক্কাইদোর সাপ্পোরোতে। ছোটবেলায় কনের সময় কাটতো ফিলিপ কে. ডিক(Blade Runner) আর ইয়াসুতাকা সুতসুই(The Girl Who Leapt Through Time, Paprika) এর সাই-ফাই উপন্যাস পড়ে, আর দেশী-বিদেশী চলচ্চিত্র দেখে – বিদেশীই বেশি। ১৯৭৪ সালে, কন খুঁজে পেলেন তাঁর পছন্দের দুইটি জিনিসের সংমিশ্রণ – সাইন্স ফিকশনের অবাধ্য কল্পনাশক্তি আর তার সাথে অ্যানিমেশনের চলচ্চৈত্রিক স্বাচ্ছন্দ্যতা, একই কাপে – স্পেস ব্যাটলশীপ ইয়ামাতোতে। সাতোশি কন অ্যানিমের প্রেমে পড়ে গেলেন।
অবশ্য তাঁর পেশাদারিত্বের শুরুটা হয়েছিলো মাঙ্গা দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই কনের প্রথম মাঙ্গা – Toriko(১৯৮৪) – কোদানশার তেৎসুয়া চিবা অ্যাওয়ার্ডে রানারআপের পুরস্কার পেয়ে গেল। সাথে তাঁর সুযোগ মিলল কাৎসুহিরো ওতোমোর(Akira, Patlabor, Memories) সহকারী হয়ে যাওয়ার। কন পরবর্তীতে শুধু মাঙ্গাতেই না, স্ক্রিপ্টরাইটার, অ্যানিমেশন ডিরেক্টর হিসেবে ওতোমোর বেশ কয়েকটি অ্যানিমে চলচ্চিত্রের কাজেও সহযোগী ছিলেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ১৯৯৫ এর তিনখন্ডের ওভিএ Memories-এর Magnetic Rose অংশ। কন তার প্রথম সিরিয়ালাইজড মাঙ্গা প্রকাশ করে্ন ১৯৯০ তে; Kaikisen – এর কাগজে কাগজে, সাদাকালোর কালির আঁচড়েও তার অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফির পরিচয় পাওয়া যাবে, যা পরবর্তীতে তার অ্যানিমে চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে পরিচিতি পায়।
আর এর প্রথমটি ১৯৯৭ এর Perfect Blue। ইয়োশিকাজু তাকেউরার উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী এ চলচ্চিত্র প্রথমে হওয়ার কথা ছিলো লাইভ-অ্যাকশনে। পরে কনের হাতে দায়িত্ব পরে ম্যাডহাউজের হয়ে এর অ্যানিমেটেড ওভিএ তৈরি করার। কন দায়িত্ব নিলেন ঠিকই, কিন্তু কাহিনীর মূল অংশ – আইডল, স্টকার আর হ্যালুশিনেশন – কেবল ঠিক রেখে গল্পের পুরো কাঠামোই বদলে নিলেন নিজের মত। যাতে যোগ হল সেসময়কার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা পেতে থাকা ইন্টারনেট। নিজের প্রিয় Slaughterhouse-Five বই থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে Perfect Blue-র গল্প কন বললেন অনেকটা অসংযুক্ত আখ্যানে। যেখানে সময় কেবল সরলরৈখিক না, আর এতে দেখানো ঘটনাও ধ্রুবসত্য না। তা ব্যক্তি আপেক্ষিক। কল্পনা, স্বপ্ন, অবচেতন – সবই ব্যক্তির সময়ের অংশ, বর্তমান-এর অংশ। পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোতেও যা ঘুরেফিরে এসেছে।
ওভিএ হিসেবে না, ম্যাডহাউজ Perfect Blue-কে মুক্তি দিলো প্রেক্ষাগৃহেই। প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই কন পেয়ে গেলেন দেশি-বিদেশি সমালোচকদের প্রশংসা, । Perfect Blue ডাক পেল বিভিন্ন দেশের ফিল্ম-ফেস্টিভ্যালগুলোয় – পেল তাৎক্ষনিক কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা আর চিরদিনের জন্য কালজয়ী সব সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মুভিদের পাশে স্থান।
চলচ্চিত্র-প্রেমিক কনের প্রথম মুভিতেই তুলে আনলেন বিনোদন-জগতের অন্ধকার দিক। যদিও ঠিক সামাজিক-ভাষ্য প্রদান বা সমালোচনা কখনোই তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো না। Perfect Blue নিয়ে কনের চিন্তাভাবনা, আর মূলচরিত্র মি্মা কিরিগোয়ের পতন নিয়ে বরং সমান্তরাল টানা যায় । গল্পে মিমা সাধারন এক পপ-আইডল থেকে যতই বিনোদন জগতের উপরের তলায় আরোহণ করতে থাকে – মানসিক আর শারীরিক বিভিন্ন ত্যাগ সহ্য করে – ততই তার কাছে চেতন আর অবচেতনের বিভেদ ভাঙ্গতে শুরু করে। তার আকাংক্ষিত স্বপ্নালোক বিভীষিকায় রুপ নেয়।
আমি যখন Perfect Blue এর কাজ শুরু করি তখন আমার উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক কিছু বানানো। কিন্তু আমি যতই সামনে আগাতে থাকলাম, ততই গল্পটা আরো নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছিলো, আর গম্ভীর হয়ে যাচ্ছিলো। একদিক দিয়ে এটা নিয়ে আমি বেশ অসন্তুষ্ট ছিলাম। [১]
চলচ্চিত্রের প্রতি কনের ভালোবাসার প্রকাশ তার অন্য মুভিগুলোতেও বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে(Tokyo Godfathers একমাত্র ব্যতীক্রম)। Paprika(2005)-‘র স্বপ্ন আর বাস্তবতা একাকার হওয়ার গল্পে নায়ক কানোকাওয়া পেশায় গোয়েন্দা হলেও, ছিলো ফিল্মস্কুলের ছাত্র। তাই তো তার ঘুমের মাঝে হানা দেয় যৌবনের অপূর্ণ বাসনা – নিজেকে সে আবিষ্কার করে তার প্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর নায়কের ভূমিকায় – কখনো Tarzan-এ, From Russia With Love-এ, অথবা Roman Holiday-তে; কখনো বা আবার পরিচালক হওয়ার প্রচেষ্টায় ব্যার্থ কানোকাওয়া নিজেকে কল্পনা করে স্ব্য়ং আকিরা কুরোসাওয়ার জায়গায়!
তবে চলচ্চিত্রের প্রতি কনের অকৃত্রিম ভালোবাসার সবচেয়ে বড় নিদর্শন তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র, তার সবচেয়ে সমালোচক-প্রশংসিত-ও, ২০০১ সালের Millennium Actress।
Perfect Blue নিয়ে কনের যে অসন্তুষ্টি ছিলো, তা দূর করার উদ্দেশ্যেই Millennium Actress-এর আগমন। এ দুটো মুভিকে যেন এক জোড়া, একই মুদ্রার দুই পিঠ। সাতোশি কন ফিরিয়ে আনলেন তার পুরোনো সেই মূল থিম – আইডল আর অ্যাডমায়ারার-এর গল্প – কিন্তু এবার সম্পর্কটা অবশেসন এর না, বরং প্রকৃত ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার। কনের আকাংক্ষিত ইতিবাচক এক ছবি।
আমি যখন প্রযোজকের সাথে Millennium Actress এর কাজ হাতে নিলাম, তখনই আমার লক্ষ্য ছিল আইডল-অ্যাডমায়ারার নিয়ে আরেকটি গল্প বলা। যেন এদুটি সহোদর চলচ্চিত্র হবে।
শুধু গল্পের দিক দিয়েই না, আখ্যানেও Millennium Actress ছিলো Paprika আর Perfect Blue-‘র মত আনঅর্থডক্স(Tokyo Godfathers এখানেও ব্যতীক্রম!)। পাশাপাশি ভিজুয়ালেও কন নিয়ে আসলেন সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক সিনেমাটিক টেকনিক – Trompe-l’œil. দ্বিমাত্রিক চলমান ছবি দিয়ে ত্রিমাত্রিক বিভ্রম তৈরী করার এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরন হয়তো বড় পর্দায় আর খুব বেশি পাওয়া যাবে না। Millennium Actress তার ৮৭ মিনিটের ব্যপ্তীকাল জুড়ে এক অনবদ্য ট্যুর-ডি-ফোর্স। চিয়োকো ভেসে বেড়ায় স্থান-কাল আর বাস্তব-রুপালী পর্দার রেখার উপর দিয়ে – কুরোসাওয়ার[২] এডোতে, মাঞ্চুরিয়ার প্রোপাগান্ডায়, যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া শহরে, ওযুর[৩] কোন প্রথম-গ্রীষ্ম অথবা বসন্ত-শেষের টোকিওতে, আবার অনেক অনেক দূরের কোন ভবিষ্যতের এক মহাকাশযাত্রায়।
Millennium Actress, সেতসুকো হারা[৪] আর হিদেকো তাকেমিনে[৫] – জাপানের দ্বিতীয় সহস্রাব্দের কালজয়ী সব নায়িকাদের প্রতি সশ্রদ্ধ-স্বীকৃতি, একই সাথে জাপানের ইতিহাস, তার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের প্রতি “অ্যাডমায়ার” কনের প্রেমপত্র। সাতোশি কনের আর বাকি সব চলচ্চিত্রগুলো মতই তাতে লজিক গুরুত্বপূর্ণ না, ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মধ্য থেকে কোন বার্তা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ না – এখানে যাত্রাটাই মুখ্য বিষয়। আর এ যাত্রা এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা – যা বইয়ের পাতায় পাওয়া সম্ভব না, গানের সুরে পাওয়া সম্ভব না, মানব অভিনীত চলচ্চিত্রেও পাওয়া সম্ভব না।
নিশ্চিতভাবেই এই ধারা Dreaming Machine-এও বজায় থাকতো – যেমন কন তার দর্শকদের আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন Paprika-‘র শেষ দৃশ্যে।
কিন্তু সেই সাতোশি কন কিনা ২০১০ এর আগষ্টে মারা গেলেন মাত্র ৪৭ বছর বয়সে!
Dreaming Machine বের হওয়ার স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু স্বপ্নই বা খারাপ কী? একটা জিনিস যদি সাতোশি কনের মুভিগুলো শিখিয়ে দিয়ে থাকে, তবে তা হল: স্বপ্ন আর বাস্তবতা মিশে যেতে খুব বেশি কিছু লাগে না। তাই এখনই মাথায় স্বপ্ন-যন্ত্র চাপিয়ে বসুন আর ঝাঁপিয়ে পরুন কল্পনার জগতে; কে জানে, হয়তো আপনার স্বপ্নের সাথে কনের স্বপ্ন একাকার হয়ে বাস্তবে হানা দিবে টোকিওর রাস্তায় হাঁটতে থাকা কোন টেলিভিশনের পর্দায়।
স্টোরি: গার্লস উন্দ পানযারের কভারটা দেখলে অনেকেই ধারণা করতে পারেন হয়তো ললি দিয়ে ভরা সাধারণ কোন মোয়ে আনিমে। যদি তা ভেবে থাকুন, তাইলে বলব আপনার ধারণা কিছুটা ভুল । আনিমেটার কাহিনী মূলত ন্যাশনাল ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই । বেশ সাধারণ কাহিনী, তবে বিস্ময়কর বিষয়গুলো হল ম্যাচের মাঝে মূল চরিত্রের ব্যবহার করা ট্যাকটিক্সগুলো । ম্যাচ যখন তাদের প্রতিকুলে তখন বেশ অসাধারণ ভাবে ম্যাচকে নিজেদের অনুকুলে নিয়ে আসার উপায়গুলো সত্যি অসাধারণ ছিল। আর বেশি কিছু বলব না, মাত্র ১২ পর্বের বেশ ভালো আনিমে আর বাকিটুকু আপনার দেখে নেওয়ার দায়িত্ব।
আর্ট: আনিমেটার আর্ট বেশ ভালোই । কিছু কিছু জায়গায় CG এফেক্টের কাজও ছিল, সাধারণত CG এফেক্ট একটুও ভাল্লাগে না । তবে আমার এই পর্যন্ত দেখা কোন আনিমের মধ্যে এই আনিমেটায় সবচেয়ে অসাধারণ CG এফেক্টের কাজ ছিল এই আনিমেতে । এই CG এফেক্টের ব্যবহারের জন্যই হয়তো এই ট্যাঙ্কগুলোর চলাচল নির্ভুলভাবে আনিমেটিতে তুলে ধরতে পেরেছে ।
সাউন্ড: আনিমেটার ওএসটি অত্যন্ত সুন্দর । ওপেনিং-এন্ডিংগুলাও বেশ ভালো । এন্ডিং-এর ‘Enter Enter MISSION!’ গানটা বেশ ভালো লেগেছে । এছাড়া ইন্সার্ট মিউজিকগুলাও অসম্ভব রকমের ভালো । আনিমেটায় ট্যাঙ্কের মাঝে লড়াইয়ের সময় যুদ্ধের থিম ব্যবহার করেছে, যা একেবারেই পরিস্থিতির সঙ্গে বেশ মানানসই ছিল । ইন্সার্ট মিউজিকের মধ্যে ‘কাৎয়ুশা’ (https://goo.gl/rH32AY) বেশ ভালো লেগেছিল । আর এই ভিডিওটি দেখার পর বলে দেওয়া লাগবে না যে ভুলেও আনিমেটির ইংরেজি ডাব্ড ভার্সন ধরতে না । আনিমেটার ভয়েস আক্টিং বেশ ভালো ছিল । বিশেষ করে কায়ানো আই, ইগুচি ইয়ূকা, কানেমোতো হিসাকো, তানাকা রিয়ে, নাবাতামে হিতোমি, কাওয়াসুমি আয়াকো, কিতামুরা এরি এদের কণ্ঠ-অভিনয় অসম্ভব রকমের ভালো ছিল আনিমেটিতে । এছাড়া আরও অনেক ভালো কণ্ঠ-অভিনেত্রীরাও আনিমেটিতে ছিল, যেমন ফুকুয়েন মিসাতো,আয়া হিরানো, উয়েসাকা সুমিরে, উয়েদা কানা । আকেসাকা সাতোমি, কোমাৎসু মিকাকো এবং ইসে মারিয়াও ছিল কিন্তু বেশ মাইনোর রোলে অবশ্য ।
চরিত্র: আনিমেটাতে অনেক রকমের চরিত্র ছিল । বিশেষ করে অনেক চরিত্র-ই দ্বীতিয় বিশ্ব যুদ্ধের রণ নায়কদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন । আনিমেটার ন্যাশনাল ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপে একেক স্কুল একেক জাতিকেই প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আপনি আনিমেটি দেখলে সহজেই বিষয়টি ধরতে পারবেন এবং কারা কোন জাতির প্রতিনিধি তাও বুঝতে পারবেন। ওয়ারাই গার্ল্স হাইস্কুলের চরিত্রদের মধ্যে বেশ ভালো রকমের ক্যারাক্টার ডেভেলপমেন্ট ঘটেছে, যদিও তা অন্য চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না অবশ্য তারা মূল চরিত্রও না । এত্তগুলো চরিত্রর মাধে কেউ কে না কেউ আপনার ভালো লাগবেই, আমার ব্যক্তিগত পছন্দ কাৎয়ুশা, নিশিযুমি মাহো এবং তাকেবে সাওরি এই তিনটি চরিত্র।
শেষে যা বলব, সবমিলিয়ে আনিমেটি বহুত উপভোগ করেছি । ট্যাঙ্ক ফাইটের মাঝে ব্যবহার করা ট্যাকটিক্সগুলো বেশ ভালো লেগেছিলও । প্রাভডা গার্ল্স হাইস্কুলের বিপক্ষে সেমি-ফাইনাল ম্যাচটা আমার মতে সেরা ম্যাচ ছিল । আনিমেটি দেখার সময় কেন জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে কিছু ফার্স্ট পার্সন শুটিং গেমের ভাইব পেয়েছি, যদিও আনিমের আক্শনগুলো পুরোটাই ট্যাঙ্কের মধ্যে লড়াইয়ের উপর ভিত্তি করে । ম্যাচের টুইস্টগুলো দেখে অনেকটা আইশিল্ড ২১-এর কথাও মনে পরেছিল । আনিমেটায় অনেক শিক্ষণীয় জিনিশপত্র ছিল । ট্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন যুদ্ধ সম্পর্কে প্রচুর ধারণা পাবেন আনিমেটি দেখলে। আমার যেই বিষয়টি বিস্ময়কর লেগেছিল তা হল, এত দিন জানতাম পোর্শে একটি গাড়ির কোম্পানি কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে তারা অনেক ভয়ানক ট্যাঙ্কও তৈরি করেছে তা হয়তো এই আনিমেটি না দেখলে জানতামও না। ট্যাঙ্কয়োন্দো চ্যাম্পিয়নশিপের প্রত্যেকটি ম্যাচই অনেক প্রতিযোগিতামূলক ছিল । মাত্র ১২ পর্বের আনিমে কিন্তু অনেক ভালো । মিলিটারি জনরার কথা উঠলেই মানুষ সাধারণত কানতাই কালেকশনের কথা মাথায় আনে তবে বলতে পারবো যে কানতাই কালেকশন এবং স্ট্রাইক উইচেসের চেয়ে তুলনামূলক-ভাবে এই আনিমেটি বেশি ভালো । আনিমেটির ৩ টি পর্ব ধৈর্য ধরে দেখুন, যদি ভালো লেগে যায় তাইলে বলতে পারবো এক টানে শেষ না করে উঠতে পারবেন না । আর ট্যাঙ্কয়োন্দো যদি ভালো লেগে থাকে তাইলে ওভিএটিও দেখতে পারুন ওইখানেও আরেকটি স্কুলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আছে আর একটি সিকুয়েল মুভিও আছে আনিমেটির কিন্তু মুভিটির সাব এখনও বাইর হয় নি। যাই হোক, আশা করি সময় নিয়ে আনিমেটি দেখবেন এবং হয়তো ভালোও লাগবে।
আনিমে মুভি যারা মোটামুটি দেখেন, তাদের কাছে মাকোতো শিনকাই নামটি অজানা নয়। এই ডিরেক্টর মূলত কোতোনোহা নো নিওয়া, ৫ সেমি / সেকেন্ড সহ তার পরিচালিত ভারী বাজেটের আনিমে মুভিগুলোর জন্যে সুপরিচিত। তার মুভিগুলোতে যে ব্যাপারগুলো খুব অহরহ পাওয়া যায়, তা হল উজ্জ্বল চোখ ধাঁধাঁনো অ্যানিমেশন, খুব সুন্দর ওএসটি আর ভালবাসার সম্পর্কের টানাপড়েন। আজ আমি এই পরিচালকের কয়েকটি ব্যতিক্রমধর্মী কাজের কথা তুলে ধরছি আপনাদের সামনে। দুই থেকে সাত মিনিট দৈর্ঘ্যের ছোট ছোট এই অ্যানিমেশন গুলোর মাঝে প্রথম দুটি মাকোতো শিনকাই এর সিগনেচার আর্টস্টাইল ফলো করে, যা দেখলে এই এই ডিরেক্টরের কাজের সাথে পরিচিত যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবে এটি কার কাজ। আর মানবিক সম্পর্কের খুব সূক্ষ্ম দিকগুলো এই অল্প সময়ের মাঝে খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে তিনটি অ্যানিমেতেই।
Dareka No Manazashi
বলা হয়ে থাকে, একটি পরিবার সম্পূর্ণ হয়, যখন সেই পরিবারে সন্তানের জন্ম হয়। বাবা-মা ও সন্তাতানেরা সবাই একসাথে থেকে একে অপরকে জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তারপর হয়ত একটা সময় আসে, যখন সন্তানেরা নিজেদের পথ নিজেরা বেছে নিয়ে একাই সে পথে রওনা হয়ে যায়, পিছনে পড়ে থাকে সেই পুরোনো পরিবার। কিন্তু এভাবে কি সবসময় সুখ খুঁজে পাওয়া যায়? মাত্র ৬ মিনিট সময়ের মাঝে বেশ মনকাড়া অ্যানিমেশনের মধ্য দিয়ে এই সুন্দর গল্পটি দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
এটি থেকে আসলে তেমন কিছু আশা করার নেই, কারণ এটি আসলে একটি কোম্পানির হাই বাজেট বিজ্ঞাপন। তারপরেও এটি সাজেস্ট করার কারণ, ২ মিনিটের মাঝে শিনকাই এর উজ্জ্বল আর্টওয়ার্ক দেখার সুযোগ ও খুব হাসিখুশি একটি স্লাইস অফ লাইফ মুভি হওয়ার পটেনশিয়াল সমৃদ্ধ একটি ট্রেলার দেখা, যা শিনকাই এর জন্য বেশ বিরল।
অ্যানিমেটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৫ মিনিট, আর পুরো অ্যানিমেটিতে শুধুমাত্র দুটো রং ব্যবহার করা হয়েছে, সাদা ও কালো। কিন্তু এই অল্প সময়ের মাঝে একটি বেশ মনকে ছুঁয়ে যাওয়া কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, শুধুমাত্র দুটো চরিত্রের মাধ্যমে! একটি মেয়ে ও তার পোষা বিড়াল, এই দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একই ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। স্টোরিতে হয়ত তেমন গভীরতা নেই, তারপরেও বেশ উপভোগ্য একটি ওভিয়ে এটি।
এটি এই সেগমেন্টের শেষ পর্ব। অনেক ধন্যবাদ এতদিন ধরে যারা নিয়মিত সেগমেন্টটি ফলো করেছেন তাদের, সেইসাথে এনিমখোরের সকল মেম্বারকেও ধন্যবাদ আমাকে এতদিন সাপোর্ট করার জন্যে। এবং সেইসাথে শেষবারের মত- সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!
Name: The Case of Hana & Alice / Hana to Alice: Satsujin Jiken
Duration: 1 hr. 38 min.
MAL Score: 7.42
Ranked: 1787
Genre: Drama
যেকোন স্কুলের জন্য একটা চিত্র বোধহয় একইরকম হবে, ট্রান্সফার স্টুডেন্টের সবার সাথে মানিয়ে নেয়ার যুদ্ধ। পুরাতন স্টুডেন্টরা মনে করবে, কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসতে চেষ্টা করছে! আর ট্রান্সফার স্টুডেন্টকে বুলিইং করতে চেষ্টা করবে।
কিন্তু আরিসুজাওয়া এসবের থোড়াই পরোয়া করে। সে বুলিইংকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মত ঘুরে বেড়ায়, সবাইকে সাহায্য করতে চেষ্টা করে।
এরই মাঝে সে জানতে পারে ক্লাসের এক অদ্ভুত গল্প। বাইবেলের জুডাস ও তার চার স্ত্রী, অ্যানাফাইলেক্সিস, মৃত আত্মা ও সারাবছর অ্যাবসেন্ট থাকা স্টুডেন্ট- সবমিলিয়ে কাহিনীর আগামাথা কিছুই বুঝতে পারে না আরিসুজাওয়া। কিন্তু দমে না গিয়ে সে আস্তে আস্তে খোঁজ করতে থাকে। আর বেরিয়ে আসে এতসব আজগুবি কথার পেছনের গল্প।
মুভিটির গল্পটি বেশ ইন্টারেস্টিং, আমার বেশ ভাল লেগেছে। কাহিনীটা ঠিকমত বুঝতে হলে পুরো মুভিটিই শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়, এই ব্যাপারটা ভাল লেগেছে। পেসিং শুরুতে একটু স্লো হলেও পরবর্তীতে ঠিক হয়ে যায়। আর্টওয়ার্ক মোটামুটি, চরিত্রগুলোর নড়াচড়া করার ধরণটা আমার ভাল লাগেনি। সাউন্ডট্র্যাক মনে রাখার মত না হলেও ভাল।
মুভিটি এ বছরই মুক্তি পেয়েছে একটি লাইভ একশনের প্রিক্যুয়াল হিসেবে, তাই দেরি না করে এখনই দেখে ফেলুন, আর ভাল লাগলে টপচার্টে একে সাপোর্ট করুন!!
Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!
Name: Giovanni’s Island / Giovanni no Shima.
Duration: 1 hr. 42 min.
MAL Score: 7.89
Ranked: 680
Genres: Drama, Historical
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের কথা। জাপানের এক প্রান্তে একটি শান্ত, সুন্দর অচেনা দ্বীপে হঠাৎ আগমন ঘটে রাশিয়ান সৈন্যবাহিনীর। দ্বীপের বাসিন্দারা নিরীহ মৎস্যশিকারী, সেনাবাহিনীর আগ্রাসন মাথা পেতে মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকে না।
এই গ্রামেই বাস করে জুনপেই ও কান্তা নামের দুই কিশোর। মিয়াজাওয়া কেনজির একটি বিখ্যাত উপন্যাসের দুই চরিত্র জিওভান্নী ও ক্যাম্পানেলার নাম থেকে তাদের নাম অনুপ্রাণিত। এ কারণেই হয়ত এই দুই ভাইয়ের “নাইট অন দ্য গ্যালাকটিক রেইলরোড” উপন্যাসটি অনেক প্রিয়। তারা স্বপ্ন দেখে, একদিন গ্যালাকটিক রেইলরোডের দেখা পাবে তারাও, আর সেই রেইলরোড অনুসরণ করে তারা পৌছে যাবে এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে কোন ভিনদেশী সৈন্য এসে তাদের ঘরছাড়া করবে না, পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনেক সুন্দর জীবন যাপন করবে তারা।
জিওভান্নী নো শিমা মুভিটি যুদ্ধের গল্প, নিরূপায় মানুষদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প, শত কষ্টের মাঝেও আপনজনদের কাছে পাওয়ার আকুতির গল্প, ভাষা ও সংস্কৃতির বাঁধা অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার গল্প। মিয়াজাওয়া কেনজির গল্পের বিভিন্ন লাইন ব্যবহার করে কল্পনা ও বাস্তবতার মিশেলে অনেক হৃদয়স্পর্শী একটি গল্প তুলে ধরা হয়েছে। জুনপেই এর স্মৃতিগুলো যেন ছড়িয়ে রয়েছে দ্বীপটির কোনায় কোনায়, এত বছর পরেও তা এখনো তাজা!
মুভিটির আর্টওয়ার্ক অতিরিক্ত বেশি সুন্দর, অনেক বেশি ফ্লুইড অ্যানিমেশন, যা চোখকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। ক্যারেক্টারগুলো নিজের অজান্তেই কখন যে আপন হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। কাছে টেনে নেওয়ার অদ্ভুত এক ক্ষমতা আছে মুভিটির। সাউন্ডট্র্যাক পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব মানানসই, বাচ্চাদের অপরিণত গলায় গাওয়া গানগুলো মনটাকে জুড়িয়ে দেয়। আর এ মুভিটির এন্ডিংটা অতিরিক্ত সুন্দর, আমার খুব বেশি পছন্দ হয়েছে কাহিনীটা; সর্বোপরি এর বর্ণনাশৈলী।
Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!
Horror মানে আসলে কি? ভূত-প্রেতাত্মা, খুন, রক্তারক্তি? আমার মনে হয় হরর সেটাই, যখন মানুষের কিছু কাজ ট্রাজেডি সৃষ্টি করে, আর সেটা দেখে আপনার মুখ দিয়ে আপনা-আপনা বেরিয়ে আসবে – “Truly horrific.” এই সিরিজের দ্বিতীয় কাহিনী দেখে সেটাই মনে পড়ে গেল।
Mononoke আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি সিরিজ। Ayakashi, Mononoke এর প্রিকুয়েল জেনে আমি এটা আজকে দেখে শেষ করলাম। ১১ টা পর্ব ৩ টা স্টোরি আর্কে ভাগ করা। প্রথম, দ্বিতীয় কাহিনী জাপানিজ ক্লাসিক হরর। ৩য় কাহিনীতে Mononoke এর সেই medicine-seller আছে। ১ম কাহিনী Tenshu Monogatari। এটাকে আসলে আমার কাছে হররের বদলে অনেকটা একটা রোমান্টিক কাহিনীই মনে হয়েছে। ২য় কাহিনী Yotsuya Kaidan। এটা সম্পর্কে প্রথমেই বলেছি। প্রায় দু’শ বছর আগের একটা কাবুকি নাটকের কাহিনী এটি। তবে মূল কাহিনী থেকে এনিমেটি একটু ভিন্ন। ৩য় কাহিনী Bake Neko। Mononoke এর তুলনায় এটাতেই বরং আমি medicine-seller এর চেহারায় বেশি এক্সপ্রেশন দেখতে পেয়েছি। হয়ত এই চরিত্রকে দর্শকদের কাছে আরো বেশি intriguing করে তোলার জন্য পরে Mononoke তে তাকে আগের তুলনায় ভাবলেশহীন দেখানো হয়েছে। অথবা কাহিনীর কারণেও হতে পারে।
Mononke তে আমি বিভিন্ন জায়গায় যে ost শুনেছি এখানেও সেগুলো পেয়েছি। Creepy when creepy, touchy when touchy. Ost আমার কাছে ভাল লেগেছে। ওপেনিং সংটা র্যাপ। আমি ঠিক র্যাপের ভক্ত না হলেও এটা চলার সময় খারাপ লাগেনি। তবে এন্ডিং সংটা আসলেই ভাল লেগেছে। লিরিকস আহামরি মনে না হলেও ভয়েসটা খুব soothing. Natsume Yuujinchou ১ম সিজনের এন্ডিংটাও এই ধরনের স্টাইলে গাওয়া।
Bake Neko এর আর্ট স্টাইল Mononoke এর। এর আগের পর্বগুলোতে এই ইউনিক স্টাইলটি ব্যবহার করা হয়নি, তবে খারাপ না।
যারা আমার মত Mononoke দেখে শেষ করে এটাকে মিস করছেন তারা নিশ্চিন্তে এই সিরিজ দেখে ফেলতে পারেন, এটা পুরোপুরি Mononoke এর মত না হলেও হতাশ হবে না। আর যারা কোনোটিই দেখেননি তাদের আমি আগে আয়াকাশি দেখে পরে মনোনকে দেখতে সাজেস্ট করব।
কেন দেখবেন এই সিরিজ? সহজ কথা, যদি horrified হতে চান তাহলে দেখুন। আমি অনেক হরর মুভি, এনিমে, হ্যান-ত্যান দেখেছি। ভালগুলো scary, বাকিগুলো boring. একমাত্র এটি এবং Mononoke আমার কাছে horrific মনে হয়েছে।