NARUTO review by S K Siddiq Ahmed

আমার দেখা এখন পর্যন্ত অন্যতম দুর্দান্ত সুন্দর ANIME SERIES । 
গল্প শুরু হয়েছে ১২ বছর আগে এক ঘটনা থেকে যখন নিনজা গ্রাম কোনোহা একটা বিশালাকায় নয় লেজ ওয়ালা শেয়াল দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন গ্রামের সেরা নিনজা চতুর্থ হকাগে তার গ্রাম বাঁচাতে শেয়ালটিকে একটি নবজাতকের পেটে সীল করে দেয় এবং এর ফল স্বরূপ নিজেও মারা যায় ।
সেই ছেলেটিই বড় হয়ে হয় NARUTO । গ্রামের ছেলেরা তার সাথে মেশে না কারন তার ভেতরে রয়েছে ধ্বংসের দেবতা সেই নয় লেজ ওয়ালা শেয়াল । তাই একা একা মানুষ হওয়া NARUTO তার উপস্থিতি জানান দিতে বিভিন্ন রকম শয়তানি করে বেড়ায় ।
এক সময় সে নিনজা স্কুলে ভর্তী হয় কিন্তু দুবার অকৃতকার্য হয় তখন তার class Teacher এর এক বন্ধু তাকে জানায় গ্রামের বর্তমান প্রধান তৃতীয় হকাগের কাছে একটি স্ক্রল আছে, যে টেকনিকটি সে আয়ত্ত না করবার জন্য সে ফেল করছে সেই টেকনিকটিই তাতে লেখা আছে । NARUTO সেটি চুরি করে এবং জানতে পারে আসলে স্ক্রলটি তার ভেতরের শেয়ালকে জাগানোর মন্ত্র লেখা রয়েছে । NARUTO স্ক্রলটি রক্ষা করে এবং জীবনের প্রথম বন্ধু তৈরি করে এবং একই সাথে নিনজা পরীক্ষায় পাশ করে যায় ।
এরপরই আসলে আসল কাহিনী শুরু হয়, আস্তে আস্তে NARUTO বন্ধু তৈরি করতে থাকে এবং একই সাথে শত্রুও । আকাতসুকি নামক এক গ্রুপ NARUTO এর গ্রাম ধংস করে দিতে চায় এবং তার ভেতরের শেয়ালকে অধিকার করতে চায় কিন্তু NARUTO সব রুখে দাড়ায় এবং গ্রামের সকল মানুষের প্রীয়িপাত্র হয়ে উঠে ।
এটি মূলত দুই পর্বের প্রথমটি NARUTO এর বাল্যকালের গল্প যার নাম শুধু NARUTO পরেরটি NARUTO SHIPPUDEN যেটা তার কৈশর নিয়ে ।
এই ANIMATION এর বিশেষত্ব হল এটির EMOTIONAL জায়গাগুলা অনেক STRONG । বন্ধুত্বকে অনেক বড় করে দেখানো হয়েছে আর এর SUSPENSE অসাধারন । 
দূঃখের কথা হল SERIES টি এখনো চলছে তবে এটি প্রায় শেষের পথে বলেই মনে হচ্ছে 
এর জেনেরা হল Action, Adventure, Comedy, Drama, Fantasy, Martial Arts, Shounen, Supernatural 
যারা Animation দেখবেন তাদের লিঙ্ক 
Directed by Hayato Date 
Written by Katsuyuki Sumisawa/Junki Takegami
Music by Musashi Project/Toshio Masuda
Studio Studio Pierrot

Written by Masashi Kishimoto Published by Shueisha

অ্যানিমের ইতিহাস – দ্বিতীয় পর্বঃ জনাব ওয়াল্টারের এম্পায়ার বিজনেস, ব্রেকিং সাইলেন্স এবং ফ-অ্যানি-লা – ফাহিম বিন সেলিম

কিতায়ামা সেইতারোর কথা মনে আছে?
জাপানিমেশনের একের দশকের তিন পথিকৃৎদের মধ্যে একজন। নিজের ব্যাক্তিগত স্টুডিও থেকে তিনি ১৯১৮ সালে মুক্তি দিয়েছিলেন Urashima Tarou. কিন্তু দুইয়ের দশকের প্রথমেই বড় একটা বিপর্যয় ঘটে গেল ― ১৯২৩ সালের টোকিও মহাভূমিকম্প। আর এতে তার স্টুডিওর অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে যায়। যার কারণে এসময়ে তাঁর অধীনে থাকা শিষ্যরা চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে নিজেরাই আলাদা আলাদা স্টুডিও খোলা শুরু করল।

১৯২৩ সালে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল, প্রায় সাত হাজার মাইল পশ্চিমে ― শিকাগোর ২২ বছর বয়সী এক যুবকের হাত ধরে। The Walt Disney Company-র সূচনা।

ডিজনীর বড় বাজেটের উন্নতমানের অ্যানিমেটেড সিনেমা শুধু আমেরিকা নয় বরং সারাবিশ্বেই একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলল। জাপানও তার ব্যাতক্রম ছিল না। আর ডিজনীর অ্যানিমেটেড সিনেমাগুলোর সাথে জাপানের অ্যানিমেটররা রীতিমত হিমশিম খেতে শুরু করল। একদিকে ডিজনীর ফিল্মগুলো ইতোমধ্যেই বাইরে থেকে প্রচুর লাভ করে আসায়, শুধু আসল উশুল করতে পারলেই হত বলে, জাপানে বেশ স্বল্পমূল্যের টিকেটে থিয়েটারগুলোতে চলা শুরু করল। তার উপর তাদের তুলনামুলক বিশাল কোম্পানীর শব্দের কারুকাজ, সেলুলয়েডে ফ্রেমে রঙ্গিন অ্যানিমেশন আর পরিচালনার কাজ ছিলো বেশ উন্নতমানের। তাই শুধু লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলেই জাপানের নির্মাতাদের কম বাজেটে সিনেমা তৈরী করে আরো কম মূল্যে বাজারে ছাড়তে হত।

স্বল্প আয়ের ফলাফল হত পরবর্তীতে আবারো স্বল্প বাজেট। আর তা দিয়ে সাধারণ কাট-আউট ব্যাকগ্রাউন্ড আর হাতে আঁকা ছবির অ্যানিমেশনে আবারো তৈরী হত নিম্নমানের ফিল্ম(ব্যায়বহুল সেলুলয়েডের ফিল্মের তুলনায়)। স্বল্প বাজেট-নিম্নমান-স্বল্প আয়-স্বল্প বাজেটঃ ব্যার্থতার এই চক্র থেকে বের হতেই পারছিল না জাপানের নির্মাতারা।

২০ আর ৩০-এর শুধু ব্যার্থতার হাজারো গল্পের মধ্যেও দুজন নির্মাতার নাম উল্লেখ না করলেই নয়। কেনজো মাসাওকা আর মিৎসুয়ো সেও।
মাসাওকা ১৯৩৩ সালে তৈরী করেন Chikarato Onna no Yo no Nako, সর্বপ্রথম সবাক অ্যানিমে! এর পরের বছরই বের হয় সম্পূর্ণ সেল অ্যানিমেশনে তৈরী প্রথম অ্যানিমে Dance of the Chigamas.
আর ১৯৪১ সালে মিৎসুয়ো মাল্টিপ্লেন ক্যামেরা ব্যাবহার করে বানান Ari-chan.

তবে ব্যাতিক্রম অবশ্যই উদাহরণ নয়। আর্থিক সমর্থনের অভাবে এধরনের মান বজায় রাখা সম্ভব ছিলো না। আর সে কারণেই হলে বের হওয়া দেশীয় অ্যানিমেটেড সিনেমার সংখ্যা অনেকটা কমে গেলো। বরঞ্চ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, রাজনৈতিক আর শিক্ষা-জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ভিডিওর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল অ্যানিমে। এক্ষেত্রে জাপানের শিক্ষা বিভাগ একটা উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছিল।

দুই দশকের ক্রান্তিকাল শেষে ততদিনে অবশ্য আবার বদলের মুখোমুখি এসে পড়েছিলো অ্যানিমে।
শুধু অ্যানিমে না, পুরো পৃথিবীতেই বিরাট এক পালা বদল ঘটবে।
আর তা শুরু হবে চারের দশকের সূচনাতেই।
আর তাতে অবদান রাখবে ― দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! 

/দুঃখিত অনেক খুঁজেও এই তিনটার কোন ভিডিও লিঙ্ক খুঁজে পেলাম না, কয়েকটা স্ক্রিনশট বাদে – ছবিটি Chikarato Onna no Yo no Nako-এর/

 

1901900_721282971236856_868206932_n

অ্যানিমের ইতিহাস প্রথম পর্ব – ফাহিম বিন সেলিম

পশ্চিমের অ্যানিমেশন যখন বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই যাত্রা শুরু করেছে, তখন জাপানও খুব একটা পিছিয়ে ছিলো না। Katshudou Shashin[Moving Picture] (১৯০৭) কে ধরা হয় প্রথম অ্যানিমে ফিল্ম, সম্ভবত ব্যাক্তিগত অথবা পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের লক্ষ্যে যা তৈরী হয়েছিল। কার তৈরী, তা অবশ্য অজানা। মাত্র ৩ সেকেন্ডের।

রাজনৈতিক ক্যারিকেচারিস্ট/কার্টুনিস্ট ওতেন শিমোকাওয়া, জাপানিজ অ্যানিমেশনের অন্যতম অগ্রদূত, একের দশকে ৫ টি অ্যানিমেটেড ফিল্ম তৈরী করেন তেনকাৎসু কোম্পানীর প্রযোজনায়। এর মধ্যে ছিলো Imokawa Mukuzo Genkanban no Maki (১৯১৭), প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তৈরী অ্যানিমে, ২০০৫ সালে Katshudou Shahsin আবিষ্কারের পূর্বে যেটাকে ধরা হত সর্বপ্রথম অ্যানিমে।

একের দশকের আরো দুই পথিকৃৎ জুনিচি কৌইচি এবং সেন্তারো কিতায়ামা।

কার্টুনিস্ট এবং জলরঙ্গে দক্ষ আঁকিয়ে কৌইচি ১৯১৬ সালে কোবায়াশি শোকাই-এ যোগ দিয়ে একে একে তৈরী করেন প্রায় ১৫ টি মুভি। তাকে বলা যায় এই সময়ের সবচেয়ে কুশলী অ্যানিমেটর।

শিমোকাওয়া বা কৌইচির মত কিতায়ামা অবশ্য কোন বাণিজ্যিক স্টুডিওর হয়ে কাজ করতো না। বরং নিজের ব্যাক্তিগত স্টুডিওতেই চকবোর্ড পেইন্টিং আর পেপার পেইন্টিঙ্গের কলাকৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি বেশ কিছু অ্যানিমে তৈরী করেন। 

কৌইচির Namakura Gatana(১৯১৭)-র সাথে তার Urashima Tarou(১৯১৮) ২০০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় এক অ্যান্টিক মার্কেটে।

প্রথম দিককার মাত্র কয়েক মিনিটের নির্বাক এসব অ্যানিমে দিয়ে জাপান যখন অ্যানিমেশন জগতে যাত্রা শুরু করেছে, সীমিত সামর্থের মধ্যে শত বাঁধা বিপত্তি কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে – দুইয়ের দশকে পা রাখতেই তখন বাণিজ্যিকভাবে তাদের সামনে এসে পরলো আরেক বিশাল বাঁধা। আন্তর্জাতিক এক মহা প্রতিদ্বন্দ্বী।

ডিজনি!

Katshudou Shashin – THE First Ever Anime: 

www.youtube.com/watch?v=i1bUwGkdBrU&desktop_uri=%2Fwatch%3Fv%3Di1bUwGkdBrU

এফ এ সি ২৩

রান্ডম টপিক

 আনিমিম ১- চিকোকু চিকোকু!

 

শউজো আনিমে বা মাঙ্গার খুব কমন সিন, মেইন ফিমেইল ক্যারেক্টার দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছে, তারপর প্যানিকড অবস্থায় দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে আর নাস্তা খাওয়ার সময় পায়নি। তাই এরা যা করে, ঝটপট একটা ব্রেড স্লাইস মুখে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করে, আর বলে “চিকোকু চিকোকু![I am going to be late!]” সাধারণত এর পরেই এরা মেইন মেইল ক্যারেক্টার এর সাথে ধাক্কা খায়, বাংলা সিনেমায় সাধারণত যা দেখায় আর কি। এই স্টেরিওটাইপিং এখন প্রচুর আনিমেতে ব্যবহার হচ্ছে, কিছু এগজাম্পল কমেন্টে।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

স্কেট ডান্স[Sket Dance]

 

আপনাকে কি কেউ নিয়মিত টিজ করছে? প্রেমঘটিত কোন সমস্যা? পড়াশুনা নিয়ে কোন ঝামেলা? কোন টিচারের ক্লাস ফলো করতে সমস্যা হচ্ছে? ক্লাবের সাথে মানিয়ে চলতে পারছেন না? বিড়াল হারানো গিয়েছে? সমস্যা যতই ট্রিভিয়াল হোক, বা যতই ঝামেলাযুক্ত হোক, চিন্তা নেই, বসসুন, হিমেকো, আর সুইচ স্কেট ডান্স ক্লাব গড়ে তুলেছে শুধুই আপনাকে সহায়তা করার জন্য।

 

 

কেন দেখবেন/দেখবেন না:স্কেট ডান্সকে বলা হয় গরিবের গিনতামা, কিছু ক্ষেত্রে গিন্তামার চিপ ইমিটেশন খুব ভালভাবে স্পষ্ট। চরিত্রের চিত্রায়নে গিন্তামার প্রভাব খুব বেশি। যদিও আনিমেটা পরবর্তীতে গিন্তামার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। যদি আপনি গিন্তামা না দেখে থাকেন, তাহলে স্কেট ডান্স বেশ প্রান খুলে হাসার মত একটা আনিমে। ভাল সাউন্ডট্র্যাক, চমৎকার সব সুক্কমি, সব মিলিয়ে বেশ ভাল কমেডি প্যারোডি আনিমে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩৯

আমার রেটিং ৮

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

আইশিলড ২১[Eyeshield 21]

 

কবায়াকাওয়া সেনা ভারী শান্তশিষ্ট এক ছেলে। আর এদের ক্ষেত্রে যা হয়, নিয়মিয় বুলিং এর শিকার। তো একদিন বুলিদের খপ্পর থেকে বাঁচতে গিয়ে সে দেখিয়ে দিল তাঁর দৌড়ের কারিশমা, আর সেই সাথে নজরে পড়ে গেল তাঁর স্কুলের আমেরিকান ফুটবল ক্লাবের ক্যাপ্টেন হিরুমার। সেই থেকে শুরু হল তাদের সংগ্রাম। লক্ষ্য? রাইস বৌল!

 

 

কেন পড়বেনঃদারুন শউনেন স্পোর্টস আনিমে, বেশির ভাগ শউনেন স্পোর্টস এর ক্ষেত্রে যা হয় [হ্যাঁ, আমি কুরোকো নো বাসকে বা প্রিন্স অব টেনিসের কথা বলছি], খুব বেশি অতিরঞ্জিত করে ফেলা হয় পুরো ব্যাপারটাকে। আইশিলডে তা নেই, কিছু ক্ষেত্রে পুরো জিনিসটাকে সিম্বলাইজ করার জন্য রূপক কিছু দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তবে তা ক্ষমা করে দেয়া যায়। মোটের উপর, দারুন উপভোগ্য এক মাঙ্গা। আইশিলডের আনিমেও যথেষ্ট ভাল, তবে তাতে গল্প পুরো শেষ হয়নি।

 

কেন পড়বেন না:তেমন কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৪

আমার রেটিং ৯

 

 

 

এফ এ সি ২২

রান্ডম টপিক

পকি গেম

 

পকি হল এক ধরনের জাপানি স্ন্যাক, মূলত কাঠি বিস্কিটকে চকলেটে ডুবিয়ে এটা তৈরি করা হয়, তবে এর আলমনড, দুধ, মধু, ইত্যাদি ফ্লেভারও আছে। খাবারটা অনেকটা আগে ইয়াম ইয়াম(বা নিয়াম নিয়াম, ঠিক মনে নেই) নামের একটা স্ন্যাক বিক্রি হত বাংলাদেশে, ওটার মত। তো এই পকি খাবারটা দিয়ে একটা বেশ রোমান্টিক খেলা আছে, একে বলা হয় পকি গেম। দুজন(সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের) তাদের মুখে একই সাথে পকির একটা স্তিক ধরবে, দুজন দুই প্রান্ত থেকে। এরপর কামড়ে কামড়ে মাঝখান পর্যন্ত যাবে আর কি। এরপর এক সময় তাদের ওষ্ঠ-অধর একীভূত হয়ে যাবে (হেহে), যে আগে এই বাঁধন ছাড়াবে, সে খেলায় হারবে।

আপনি চাইলে বাড়িতে পকি বানাতে পারেন, এই যে রেসিপি [ http://www.youtube.com/watch?v=XriYXND2xnw ], কিন্তু ওই পকি দিয়ে গেম খেলবেন নাকি ক্ষুধা নিবারন করবেন সেটা সম্পূর্ণ  আপনার ইচ্ছা।

 

 

আনিমে সাজেশন

কিনো নো তাবি[Kino no Tabi]

 

ভয়ঙ্কর অতীতকে পিছনে ফেলে হারমস নামের কথা বলা মোটর সাইকেলে চড়ে কিনো ঘুরে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর  পথে পথে। এই গল্প শুধু কিনোর ভ্রমণেরই নয়, এর চেয়ে অনেক গভীর এক কাহিনি ফুটে উঠেছে কেইচি সিগসাওয়ার লাইট নভেল থেকে এডাপট করা এই আনিমেতে।

 

কেন দেখবেনঃপুরোপুরি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, মুশিশির মত একটা ভাইব আছে, তবে কিনোর গল্প অনেক বেশি ডার্ক। গিনকোর মত সে মানুষের উপকার করে বেড়ায় না, গা বাঁচিয়ে চলাই তাঁর স্বভাব। বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ভ্রমণের গল্পে যে দার্শনিকতা এবং সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, নির্দ্বিধায় বলা যায় কিনো নো তাবি একটা রেয়ার জেম।

 

কেন দেখবেন না:শুধুই অ্যাকশান লাভারদের জন্য নয়, আবার শুধুই স্লাইস অব লাইফ লাভারদের জন্য নয়। কেউ  দেখতে চাইলে একটাই রিকোয়েস্ট, সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে চিন্তা করে দেখবেন।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৫১

আমার রেটিং ৯

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

গান্তজ[Gantz]

 

 

এক ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর কুরোনো কেই নিজেকে আবিষ্কার  করল এক ভয়াবহ সারভাইভাল গেমের মাঝে, যার পদে পদে উঁকি দিচ্ছে দুঃস্বপ্ন। কুরোনো কি পারবে গান্তজের রহস্য ভেদ করে তাঁর আগের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?

 

কেন পড়বেনঃদারুন সেইনেন স্টোরি, যথেষ্ট উত্তেজনায় ভরপুর, আঁকাও বেশ আকর্ষণীয়। ফাইটিং সিকোয়েন্সগুলো পরিষ্কার, সহজবোধ্য। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটা প্যাকেজ।

 

কেন পড়বেন না: প্রচুর গোর, এবং সেকচুয়াল কন্টেন্ট। কিছু রিভিউ পড়ে অবশ্যই বুঝে নেবেন মাঙ্গাটা আপনার জন্য কিনা। এন্ডিঙটা আমার খুব একটা ভাল লাগেনি, এরকম গল্পের একটা ট্র্যাজিক, রহস্যময় এন্ডিঙ কাম্য ছিল, তাই আমার আনিমে এন্ডিঙটাই বেশি পছন্দ।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩১

আমার রেটিং ৯

Mawaru Penguindrum review by Fahim Bin Selim

অ্যানিমে রিভিউঃ মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম(২০১১)
পর্বঃ ২৪
প্রযোজকঃ ব্রেইন্স বেস, সেনতাই ফ্রেমওয়ার্কস
জনরাঃ কমেডি, রহস্য, সাইকোলজিকাল, ড্রামা
লেখক ও পরিচালকঃ কুনিহিকো ইকুহারা
ব্যপ্তিঃ ২৪ মিনিট/পর্ব
সেন্সরঃ আর ১৭+ ভায়োলেন্স ও প্রোফ্যানিটি

২০১১-র কথা বললে আপনার কোন অ্যানিমেটার কথা মনে পড়বে? স্টাইন্স;গেট? আনো হানা? মাদোকা ম্যজিকা? অনেকে হয়ত মিরাই নিকির কথাও বলবেন। মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম এর কথা কি কারো মাথায় আসবে? অনেকে হয়ত নামটাই আজ প্রথম শুনলেন।

পরিণতি(ফেইট) বলে কী আসলেই কিছু আছে? আপনি জীবনের যাই করেন, শুধু আপনিই নন;আপনার আসেপাশে যা ঘটছে, জগতের সকল সকল ঘটনা, সকল বাছাই(চয়েস) আর তার কার্যকারণের(কনসিকুয়েন্স) সকল সরলরেখাই কি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুগামী?
নাকি নিয়তি(ডেসটিনি) বিকৃত করা যায়, বদলানো যায়? চক্রাকারে ফিরে আসা যায় অথবা পালটে দেওয়া যায় গন্তব্য বিন্দুটাই?

শৌমা আর কানবা তাকাকুরা শুধু চেয়েছিল তাদের বোন হিমারির সুস্থতা, যার মৃত্যু কিনা সময়ের ব্যাপারমাত্র। অপেক্ষার দিন গোনা কোন বিকেলে তিন ভাইবোন অ্যাক্যুরিয়ামে ঘুরতে গেলে, এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে সেখানেই যখন অবশেষে অনিবার্যের মুখোমুখি হতে হল, তখন হিমারির সদ্য কেনা পেঙ্গুইনের হ্যাটটা যেন ত্রানকর্তারুপে হাজির হল। কোন জাদুবলে তাকে মৃত্যু থেকে ফিরিয়ে আনল সেটা। তবে তা কেবলই সাময়িকের জন্য। এবং অবশ্যই শর্তসাপেক্ষে।
শৌমা আর কানবা জানতে পারল যে হিমারিকে বাচিয়ে রাখতে হলে তাদের খুঁজে বের করতে হবে রহস্যময় “পেঙ্গুইনড্রাম”। কিন্তু তারা যা জানে না তা হল – জাপানের পাতালপথে আক্ষরিক ট্রেন যাত্রার পাশাপাশি, তাদের জীবনেরও এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনের এই যাত্রায় তারা মুখোমুখি হবে একটি রহস্যময় ডাইরীর, একেক পর এক অদ্ভুত সব চরিত্র, যাদের প্রত্যেকেরই আছে ভিন্ন ভিন্ন জীবন অভিপ্রায় আর ঘটনাবহুল অতীত। আর তারা এটাও জানে না যে, এসব কিছুর সাথে তাদের অতীতটাও বেশ ভালোভাবে দলা পাকানো।

পেঙ্গুইনড্রাম হল নিয়তি, পরিণতি আর ভালোবাসার গল্প। একটি রহস্য গল্প যার রহস্য একেবারে শেষ পর্ব পর্যন্ত আবৃত থাকবে, এবং শেষ হওয়ার পরও কিছু রহস্য আপনার জন্য বাকি রেখে যাবে। পরিচালনার চাতুর্যতাপুর্ণ, শৌল্পিক এবং কুনিহিকো ইকুহারার পুর্ববর্তী অন্যান্য কাজগুলোর(রেভুল্যুশনারী গার্ল উতেনা, সেইলর মুন এস) মতই ― অতিমাত্রায় প্রতীকি(সিম্বোলিক)। মাঝে মাঝেই আপনি হারিয়ে যাবেন বাস্তব আর কল্পনার মাঝে, বুঝতে পারবেন না আপনার চোখের সামনে দিয়ে ঘটে যাওয়া দৃশ্যগুলো কি সত্যিই চরিত্রগুলোর সাথে ঘটছে নাকি তা কেবলই মেটাফোরিকাল।
প্রতিটি দৃশ্যেই(এমনকি ওপেনিং এবং এন্ডিং গান চলার সময়গুলোতেও) লুকিয়ে থাকা ― তার ফোকাসিং, মুভমেন্ট অথবা ব্যাকগ্রাউন্ডের ― হাজারো সাংকেতিক অভিব্যক্তি, ট্রেন যাত্রাগুলো, এমনকি পর্ব বা চরিত্রগুলোর নামও কোন না কোনভাবে মুল আখ্যানের সাথে সম্পর্কযুক্ত কোন অর্থবহন করে। আর এর মুল কাহিনীর কনসেপ্ট, ফেট-ডেসটিনি-স্যাক্রিফাইস আবার দুটি গল্প ― কেনজি মিয়াজাওয়ার “নাইট অন দ্য গ্যালাকটিক রেইলরোড” আর হারুকি মুরাকামির “সুপার-ফ্রগ সেভস টোকিও” দ্বারা অনুপ্রানিত।
এর চমৎকার, দুর্বোধ্য কিন্তু একই সাথে তুলনামুলক “বাস্তবিক”(একই গোত্রীয় ইভাঞ্জেলিয়ওন, এরগো প্রক্সি অথবা সিরিয়াল এক্সপেরিমেন্ট লেইনের তুলনায়) প্লট, অসাধারণ সব চরিত্র, ওপি-ইডি-বিজিএম আর নিখুঁত(অন্তত আমার কাছে) একটা সমাপ্তির পর ― কাহিনী যদিও আপনার মাথার উপর দিয়ে যায় ― রহস্য আর জটিল প্যাচে মোড়ানো কাহিনীর ভক্তদের তবুও ভালো লাগার অনুভুতিটা পাবার কথা।ইভাঞ্জেলিয়ন, প্রক্সি যেখানে ২০ পর্বের আপাত সাজানো গল্প, শেষের দুইতিনটা পর্বে তাসের ঘরের মত দুমড়ে ফেলে, কচি কচি করে কেটে, তা তুলে পুরিয়ে, মাটি চাপা দিয়ে আসে; সেখানে পেঙ্গুইনড্রামের নবম পর্ব থেকেই এই “অত্যাচার” শুরু হয়। অনেকে হয়ত সেখানেই থেমে যাবেন।
আবার পুরোটা শেষ করার পরও মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম চরম বৈপরিত্যপুর্ণ অ্যানিমে। কারো দেখার শেষে অনেক ভালো লেগে যাবে(আমার মত), আবার কারো কাছে মনে হবে সময়ের-সম্পুর্ণ-অপচয়।
আর এ সবকিছু নিয়েই তৈরী মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রামকে মাস্টারপিস বললে বেশি বলা হবে না। হয়ত কিছুটা আন্ডাররেটেড, এবং অনেক অনেক আন্ডারএপ্রিশিয়েটেড। তবে অবশ্যই সবার প্লেটের খাবার নয়।যদি আকর্ষনীয়, ভিন্নধাচের আর মাথাঘুরিয়ে দেওয়া কোন অ্যানিমে দেখতে চান, তাহলে এখনই টিকেট কেটে চড়ে বসুন নিয়তির এই উথাল পাতাল যাত্রায়।

মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিং: ৮.১৯(#২৮৫)
আমার রেটিং: ৯.৪৭

এফ এ সি ২১

এচি এফ এ সি

 

 

 

রান্ডম টপিক

সুকুমিজু [スク水]

 

 

তোরাদোরার পুল পর্বটা অনেকেরই মনে থাকার কথা[মূলত টাইগার এক্সিডেন্টের কারণে]. জাপানের স্কুলগুলোতে বাধ্যতামূলক সাঁতার প্রশিক্ষণের সময় ছেলেমেয়ে সবাইকে বিশেষ সুইমওয়ার পরতে হয়, একে বলে স্কুল মিজুগী[স্কুল সুইমসুট], সংক্ষেপে সুকুমিজু।সাধারণত সিনথেটিক ফাইবার থেকে সুকুমিজু তৈরী করা হয়. এর রং হয় গাড় নীল, আর বুকের কাছে নাম লেখা থাকে।

 

সুকুমিজু ট্রাডিশনাল ফ্যান্সার্ভিস আনিমেগুলোতে খুব চলে. এছাড়া গ্রাভিউর আইডলদের ফটোসেশনেও সুকুমিজু বেশ জনপ্রিয় একটা এটায়ার। হে হে.

 

 

 

আনিমে সাজেশন

সোরা নো অতশিমোনো[Sora no Otoshimono]

 

সাকুরাই তমোকি হলো টিপিকাল হাইস্কুল পারভার্ট। আর তার কাছেই হঠাত একদিন হাজির হলো সুন্দরী এক এঞ্জেল ইকারোস  এরপর?

 

কেন দেখবেনঃটিপিকাল ফ্যান্সার্ভিস এচি আনিমে না, যথেষ্ট ভালো কমেডি সিকোয়েন্স আছে, তমোকির চিবি ফর্মের মোমেন্টগুলো রীতিমত অট্টহাসি জাগাতে পারে মাঝে মাঝে।

কেন দেখবেন না:তেমন কোনো কারণ ছাড়াই একের পর এক সুন্দরী মেয়ের তমোকির প্রেমে পড়ে যাওয়া, হারেম আনিমেতে যা হয় আরকি.

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯০+৮.০৯

আমার রেটিং ৭+৭

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

আনে দোকি[Ane Doki]

 

ঘটনাচক্রে ১৩ বছরের কৌতা এক ছাদের নিচে থাকতে শুরু করলো ১৭ বছর বয়সী তন্বী সুন্দরী নাত্সুকির সাথে। অসম প্রেমের জন্ম কি হবে? আর তার পরিণতিই বা কি?

 

কেন পড়বেনঃইচিগো ১০০% এর মান্গাকার আঁকা, ভদ্রমহিলা সুন্দরী মেয়ে এবং আরো কিছু[যারা ইচিগো ১০০% আর বাকুমান পড়েছে তারা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝবে] ভালই আঁকতে পারেন।প্রচুর ”কোয়ালিটি” ফ্যান্সার্ভিস আছে.

কেন পড়বেন না:শেষ পর্যন্ত এটা সেই এচি মান্গাই। পড়তে বেশ মজা, শেষ করার পর মনে হতে পারে খামোখা টাইম নষ্ট করলাম। 

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৭২

আমার রেটিং ৭

Anime OST Facts! by Tahsin Faruque Aninda

“You Raise Me Up”

একজন আনিমে দর্শক যার কাছে আনিমে ছাড়া বাইরের দুনিয়ার গান নিয়ে আগ্রহ বা জ্ঞান খুব বেশি না থেকে থাকে, তার কাছে হয়তো এই নামটি শুনে চোখে [mainly কানে ] ভেশে উঠবে Romeo x Juliet আনিমেটির Opening Track হিসেবে জাপানিজ ভার্শনটি এবং 3rd Ending Track হিসেবে ইংলিশ ভার্শনটি। এই আনিমে সিরিজটির শেষ এপিসোডের জন্যে বিশেষভাবে এই গানটি ইংলিশ ভার্শনে এন্ডিং সং হিসাবে থাকে।

কোরিয়ান গায়িকা Lena Park এর কন্ঠে সুমধুর সুরের এবং হৃদয়ছোঁয়া লিরিক্সের গানটি অনেকেরই বেশ প্রিয়। রোমান্টিক গান হিসেবে এটি যে কারও পছন্দের তালিকায় ঢুকে যাবার যোগ্য একটি গান

এখন, কেউ যদি আনিমে জগতের বাইরের দুনিয়ার গানবাজনা নিয়েও কিছু খেয়াল রাখে, তাহলে যা হবে, “You Raise Me Up” এইটুকু শুনেই বুঝে যাবে যে আইরিশ বয় ব্যান্ড Westlife-এর সবচেয়ে বিখ্যাত গান এটি! তাদের গানের এই ভার্শনটি UK Singles Chart-এ ১ নম্বরে উঠে এসেছিল

দুইটি বেশ বিখ্যাত ভার্শনের ব্যাপারে জানলাম। তবে দুঃখের বিষয়, গানটির সবচেয়ে সুন্দর ভার্শনটি হয়তো খুবই কম মানুষ শুনে থেকেছে, যে ভার্শনটি শুনে চোখেও পানি চলে আসতে পারে। [আমার চোখে আসে এইটুক বলতে পারবো, এত বেশি সুন্দর লেগেছে আমার! :’D ]

আর সবচেয়ে সুন্দর এ ভার্শনটি হল অরিজিনাল গানটি, যা Irish-Norwegian duo Secret Garden এর চতুর্থ এলবাম Once in a Red Moon-এ এসেছে। গানটি রিলিজ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০-এরও বেশি গায়ক/গায়িকা গানটি পারফর্ম করে এসেছেন। গানটি নিয়ে খুব বেশি কিছু বলার ভাষা আমার নাই! নিচে লিংক দেওয়া আছে, সম্ভব হলে অন্তত একবার করে হলেও গানটি শুনে দেখুন।

You Raise Me Up
i) Romeo x Juliet ~ Inori [Japanese] by Leena Park, link: http://www.youtube.com/watch?v=Ey0PZRsyPg4
ii) Romeo x Juliet ~ Inori [English] by Leena Park, link: http://www.youtube.com/watch?v=BcE0nAzKjD4
iii) Westlife’s “You Raise Me Up”, link: http://www.youtube.com/watch?v=Rkkw8RhH9ck
iv) Secret Garden’s “You Raise Me Up”, link: http://www.youtube.com/watch?v=AfMBICeX3sg

এফ এ সি ২০

রান্ডম টপিক

আই আই গাসা[相合傘]

 

 

বাংলাদেশে বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে দেখা যায় অনেকেই তাদের ভালবাসার কথা প্রকাশ করে আসেন, তবে তা খুব স্থূলভাবে। সরকারী সম্পত্তিতে বা গাছের গায়ে তারা তাদের নাম আর প্রেমিক/প্রেমিকার নাম সুন্দর করে একটা হার্ট শেপের মধ্যে আবদ্ধ করে যোগ চিন্হ দিয়ে রাখেন। তো জাপানেও এমন একটা কাস্টম আছে, সেটা হলো একটা ছাতার ছবি এঁকে তার নিচে জুটির দুজনের নাম লেখা। একে বলা হয় আই আই গাসা[Love-Love Umbrella]। আর সেজন্যই আনিমেতে বিপরীত লিঙ্গের দুজনের এক ছাতা শেয়ার করা খুব সিগনিফিকেন্ট একটা ব্যাপার ধরা হয়, আর মেয়েরা তাদের পছন্দের মানুষ ছাড়া অন্য কারো সাথে ছাতা শেয়ার করতে অস্বস্তি বোধ করে.

আপনার ভালোবাসার মানুষের নাম আর আপনার নাম এক ছাতার নিচে রেখে তাকে ইউনিক্ভাবে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন, চলে যান এই লিঙ্কে।

http://japan-cc.com/umbrella.htm

 

 

আনিমে সাজেশন

জোজো’স বিজার এডভেঞ্চারস[Jojo’s Bizarre Adventure]

 

 

১৯৮৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত থেকে প্রকাশিত হতে থাকা আরাকি হিরোহিকোর বিখ্যাত সিরিজের ফ্যান্টম ব্লাড আর ব্যাটল টেনডেনসির আনিমে এডাপটেশন, জোস্টার পরিবারের দুই সদস্যের বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতা মোকাবেলা করা নিয়ে কাহিনী।

 

 

কেন দেখবেনঃপ্রথম অংশটার গল্প বেশ মিডিওকার, তবে পরের কাহিনী আপনার ধৈর্যকে পুষিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবে। সৌনেন+সেইনেন ঘরানার আনিমে, কাজেই যথেষ্ট আকর্ষনীয় সব বয়সের কাছেই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দারুন, কিছু ক্ষেত্রে একটা এনিগমা ভাইব পাওয়া যায়. ফাইটিং এবং ডায়লগ থ্রোইং কে একই সাথে সিরিয়াস এবং কমিকাল মনে হয়, সেই সাথে আছে এসেফেক্স সহ দারুন কিছু সিন. ভয়েস এক্টিং চমত্কার, বিশেষ করে দিও ব্র্যান্ডো আর কারস এর কন্ঠে জোজো নামটা উচ্চারিত হতে শোনা প্রতিবারেই একটা বড় ট্রিট, সেই সাথে আছে সুগিতা তমোকাজুর ভয়েসে জোসেফ জোস্টার, যে স্ক্রিনে থাকলে সব আলো নিজের দিকে নিয়ে নেবেই।সোজা কথায়, ভালো গল্পের সাথে ফ্ল্যাশি ফাইটিং যদি দেখতে চান, আর হাতে ১৫০-২০০ পর্ব দেখার মত সময় না থাকে, তাহলে এই সিরিজটা আপনার জন্য অন্যতম সেরা।

 

কেন দেখবেন না:একটু তামিল মুভি টাইপ ভাইব আছে.

 

ম্যাল রেটিং ৮.৫৬

আমার রেটিং ৯

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ফ্রানকেন ফ্রান[Franken Fran]

 

 

ফ্রান চায় মানুষের উপকার করতে, সেটা যেভাবেই হোক না কেন। কিন্তু এই ”যেভাবেই হোক না কেন” অংশটা যে আসলে সবার জন্য প্রযোজ্য না, সেটা বুঝতে পারে ফ্রান যাদেরকে সাহায্য করে তারা। কিন্তু যতক্ষণে বোঝে, ততক্ষণে দেরী হয়ে যায় অনেক।

 

 

কেন পড়বেনঃসিরিয়াস হরর কন্টেন্টকে এই মান্গায় হাস্যরসের সাথে দারুনভাবে ম্যাশআপ করা হয়েছে।

কেন পড়বেন না:বেশ কিছু গুরো কন্টেন্ট আছে. যারা অতিরিক্ত গ্রাফিক কন্টেন্ট সহ্য করতে পারেন না তারা অবশ্যই অবশ্যই এই মাঙ্গা পড়বেন না.

 

ম্যাল রেটিং ৮.০৬

আমার রেটিং ৯

 

Fate/Zero – Review by Farsim Ahmed

বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ বিসর্জন- এই দর্শন অনেক পুরনো, এবং বিতর্কিত। দুটো জাহাজে যদি ৩০০ আর ২০০ জন লোক থাকে, আর যদি কাউকে যদি বলা হয় এর মধ্যে যে কোন একটা জাহাজের মানুষ বাঁচতে পারবে, আর এই জাহাজ বেছে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় তাঁর উপর, তাহলে তাঁর চয়েস কি হওয়া উচিত? ৩০০ জনের জাহাজ? কিন্তু সে কিভাবে ২০০ লোকের মৃত্যু পরোয়ানা লিখতে পারবে? ওই ২০০ লোকের জীবনও তাঁর হাতে ছিল, এই চিন্তাটা কি তাকে পীড়া দেবে? 

উড়োবুচি গেন এর ডাক নাম হয়ে গেছে উড়োবুচার। কারন ভদ্রলোক যে আনিমেরই স্ক্রিপ্ট লেখেন তার সবগুলোতেই শেষে ভয়াবহ একটা টুইস্ট থাকে, যা পুরো আনিমের ব্যাপারেই দর্শকের পার্সপেকটিভ পুরো ১৮০ ডিগ্রি চেঞ্জ করে দেয়[মাদোকা ম্যাজিকাতে উইচদের আসল পরিচয়, সাইকো পাসে সিবিল সিস্টেম এর পিছনের রহস্য বা সুইসেই নো গারগান্তিয়াতে হিদিয়াজদের অরিজিন]। তো এহেন উড়োবুচার যখন টাইপ মুনের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ভিজুয়াল নভেল ফেইট/স্টে নাইটের প্রিকুয়েল ফেইট/জিরোর লাইট নভেল নিখলেন, শেষমেশ ভয়াবহ কোন টুইস্ট থাকবে তা জানা ছিল, হয়েছেও তাই, তবে সমস্যাটা হল এই টুইস্ট সম্পর্কে যারা ফেইট/স্টে নাইট অলরেডি দেখে ফেলেছে তারা সবাই অবগত ছিলেন। এখানেই ফেইট/জিরোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, এর এন্ডিঙ সম্পর্কে সবাই জানে। এ যেন লুলুচ সবার লাস্ট পর্বে মারা যাবে জেনে কোড গিস দেখতে বসা। তাহলে এত বড় দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ফেইট/জিরো পরিণত হল ইনস্ট্যান্ট ক্লাসিকে? 

ফেইট/জিরোর প্লট এক কথায় দারুন ইনোভেটিভ, ৭ জন ম্যাজিশিয়ান[মাস্টার] ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত হয়ে থাকা চরিত্রদের[সারভেনট] জাদুর সাহায্যে ডেকে আনবে। এরা সাতটা ক্লাসে বিভক্ত, প্রতিটি ক্লাসের রয়েছে ডিফরেন্ট ট্রেইট। তাদের মধ্যে হবে ব্যাটল রয়্যাল, যাকে বলা হচ্ছে হলি গ্রেইল ওয়ার, আর এতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা মাস্টার-সারভেনট জুটি হবে বিজয়ী। তাদের পুরস্কার? স্বয়ং হলি গ্রেইল, যা কিনা পুরন করবে তাদের যে কোন একটা ইচ্ছা। ৭+৭ জন নেমে পড়ল ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে, যে যুদ্ধের মধ্যে কোন সৌন্দর্য নেই, কোন মহত্ত্ব নেই, আছে শুধু জেতার তাগিদ, আর এর জন্য যা দরকার হয় তাই করা। আইঞ্জবারন পরিবারের প্রতিনিধি মেইজ কিলার এমিয়া কিরিতসুগু, অভিজাত আর্চিবোল্ড পরিবারের কেনেথ, তার আন্ডারএচিভিং ছাত্র ওয়েভার ভেলভেট, তোসাকা পরিবারের তকিয়মি, বিকৃত রুচির এক খুনি উরিউ রিউনোসকে, মাতউ পরিবারের কারিয়া, তকিওমির শিস্য কতোমিনে কিরেই-সবারই নীতি একটাই, বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী। 

ক্যারেক্টার ডিসাইন সম্ভবত আনিমেটার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। ২৫ পর্বের এমন খুব বেশি আনিমে দেখা যায় না যেখানে ৬-৭টা আইকনিক এবং প্রচণ্ড রকম জনপ্রিয় ক্যারেক্টার আছে, ফেইট/ জিরো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। যেখানে বাংলাদেশে খুব বিখ্যাত আনিমেগুলো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট করতে ২৫ পর্বের বেশি নেয়, সেখানে ফেইট/জিরো নিপুণভাবে সবগুলো চরিত্রের এম্বিশন, তাদের মনের অন্ধকার জায়গাটুকু, তাদের আশা-আকাঙ্খা-অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এমিয়া আর কতোমিনের ইয়িন-ইয়াং পার্সোনালিটি, গিল্গামেশের এরোগেন্স, রাইডারের বক্তৃতা, সেবারের অতীতের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাওয়া, এই সব সবকিছুই ছোটখাটো কিন্তু শক্তিশালী সিকোয়েন্স, আর সেই সাথে উপযুক্ত ডায়লগ থ্রোইং দিয়ে দেখানো হয়েছে। 

ফেইট/জিরোর এনিমেশনে ইউফোটেবল যে কাজ দেখিয়েছে, এক কথায় আমার দেখা বেস্ট, এর কাছাকাছি কাজ দেখেছিলাম কারা নো কিওকাই(এটাও ইউফোটেবলের) আর কতোনোহা নি নিওয়াতে। অবশ্যই কমপক্ষে ৭২০ পিতে দেখবেন।

ওপেনিং আর এন্ডিং সংগুলো পারফর্ম করেছে কালাফিনা আর হারুনা লুনা, যথেষ্ট শ্রুতিমধুর কাজ, আর ব্যাকগ্রাউনড মিউজিকগুলো ইয়ুকি কাজিউরার করা। ভদ্রমহিলার কাজ নিয়ে আশলে বলার আর কিছু নেই, শুনলেই বোঝা যায় এগুলো তাঁর তৈরি, এবং যে কোন দৃশ্যকে মিউজিকগুলো কমপ্লিমেন্ট করে গেছে দারুনভাবে। কয়েকটা লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি-

http://www.youtube.com/watch?v=e499spqrIwU
http://www.youtube.com/watch?v=aHPXTnCSzJw
http://www.youtube.com/watch?v=mhK9Xt2rxes

ভয়েস একটিং হয়েছে অসাধারন, বিশেষ করে এমিয়া আর কতোমিনের। গিল্গামেশের রাজকীয় এক্সেনট শোনা বরাবরই খুব বড় ট্রিট ছিল, আর তকিওমির ভয়েস দিয়েছে স্বয়ং আইজেন, একদম কেইকাকু মত[আসলেই কি তাই?]

শুরু করেছিলাম ফেইট/জিরোর দুর্বলতা দিয়ে। সম্ভবত এন্ডিঙ এর সবচেয়ে দুর্বল দিক। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্যি, যেহেতু গেনকে মনে রাখতে হয়েছে যে এর পরে একটা সিকুয়েল আছে যেটা আগেই রিলিজ পেয়ে গেছে, উনি এর চেয়ে ভাল আর কোন ফিনিশিং টাচ দিতে সম্ভবত পারতেন না। 

ফেইট/জিরো আসলে কেন ইউনিক? এটা একটা পরিপূর্ণ প্যাকেজ, বিখ্যাত আনিমেগুলো যেখানে মাঝে মাঝে বিরক্তিকর মনে হয়[মনস্টার, ডেথ নোট(লাইটের স্মৃতি হারানোর পর) ইত্যাদি], সেখানে ফেইট/জিরোর প্রতিটি পর্ব প্রচুর ম্যাটেরিয়ালে ভরপুর, আর উত্তেজনায় ঠাসা। ক্যারেক্টারদের ফিলসফি, অসাধারণ সব ফাইটিং সিকোয়েন্স[সোরড ফাইট তো আছেই, সেই সাথে মোটরসাইকেলের সাথে রথের রেস, গানফাইট, জলপথে যুদ্ধ, এমনকি ডগফাইটও আছে], ঐতিহাসিক ক্যারেক্টারদের মোটামুটি একুরেট রেফারেন্স[পুরোপুরি একুরেট নয়], যথেষ্ট সিরিয়াস কাহিনি হওয়া সত্ত্বেও কাহিনি কোথাও অবোধ্য মনে হয়নি, যে কোন বয়সের দর্শক এটা উপভোগ করতে পারবে।

ফ্র্যাঙ্কলি, ইদানিং একটা বাজে ট্রেনড চালু হয়েছে, মাঙ্গার একটা চ্যাপ্টার বের হলেই বলা হচ্ছে এপিক চ্যাপ্টার, এর মাধ্যমে এপিক শব্দটা তাঁর আসল অর্থ হারিয়ে ফেলছে। আনিমে জগতে যদি লিটারালি কোন এপিক কাহিনি থাকে, তাহলে সেটা হচ্ছে বারসারক, আর ফেইট/জিরো। 

আর একটা কথা অবশ্যই পয়েন্ট আউট করতে হবে, ফেইট/ জিরো খুব ভাল টিভি সিরিয়াল ম্যাটেরিয়াল। গেম অব থ্রনস এর মত খরচ করলে আর পাকা অভিনেতা/অভিনেত্রি থাকলে এটা সর্বকালের সেরা সিরিয়ালগুলোর একটা হতে পারে। 

তো হাতে যদি কোন আনিমে থাকে, আপাতত সেটা অন হোলড রেখে ফেইট/জিরো দেখা শুরু করে দিন। যদি দেখা শেষ করে কমপক্ষে ৮ না দিতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি এর চেয়ে অনেক বেশি ভাল কিছু আনিমে দেখেছেন, কষ্ট করে আমাকে মেসেজ করবেন বা এই পোস্টে কমেন্ট করে যাবেন। অনেক দিন ভাল আনিমে দেখা হচ্ছে না। আপনার সাজেশনগুলো দিয়ে আমাকে চিরকৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করবেন।

রিভিউর এখানেই শেষ, এবার আমার নিজস্ব কিছু রানটিং। 

আমি আসলে রিভিউ লিখতে পারি না, কারণ মূলত এত বড় কিছু লেখার মত তেল নেই। কিন্তু যখন কোন বাংলাদেশী আনিমে গ্রুপের থ্রেডে দেখি ১০ এ ১০ ম্যাটেরিয়াল আনিমে নিয়ে আলাপ চলছে, আর তাতে কোড গিস, মনস্টার, ডেথ নোট, ফুল্মেতাল আল্কেমিষ্ট এর রাজত্ম(কিছু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবার এখানেও লাফিয়ে এসে বলে নারুতো/ব্লিচ/ড্রাগনবল জি সর্বকালের সেরা, এবং আশঙ্কার কথা হল এদের সংখ্যাটা রীতিমত বড়), ফ/জ এর তেমন কোন উল্লেখ নেই(কোন এক অজানা কারনে ফ/জ বাংলাদেশে তুলনামুলকভাবে কম আলোচিত) তখন হতাশ দৃষ্টিতে মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তো তাদের জন্যই, Please do yourselves a favor, watch the epicness that is Fate/Zero, “epic” in both literal meaning and the meaning used in daily life these days.

fate zero