Coppelion anime review by Monirul Islam Munna

 

এনিমেটা শুরুর ২-১টা এপিসোড দেখে বেশ আশা নিয়ে এনিমেটা ফলো করেছি শেষ পর্যন্ত। কিন্তু সত্যি বলতে হতাশ হতে হয়েছে। এইরকম Post-apocalyptic ধরণের এনিমে আগে দেখিনি বলে একটু বেশী আগ্রহ ছিল, এনিমেটা কীভাবে আগাবে।

২০১৬ সালের টকিও শহরে পারমাণবিক এক দুর্ঘটনার কারণে যে পরিমান রেডিয়েশন চারদিকে ছড়িয়ে পরে তাতে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। শহরটি বসতি শুন্য হয়ে পড়লেও, ২০ বছর পরও মাঝে মাঝে কিছু রেডিও সিগন্যাল পাওয়া যায় যে এখনো কিছু মানুষ সেখানে বেঁচে আছে। কিন্তু রেডিয়েশনের পরিমান এতো বেশী হয়ে পরেছে যে, কোন সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসা সম্ভব না। এই রেডিয়েশনে অল্প কয়েক সেকেন্ড থাকলেই মৃত্যু নিশ্চিত!!! তাই তাদের ফিরে নিয়ে আসার লক্ষ্যে জেনেতিকালি কিছু মানুষ তৈরি করা হয়েছে যারা এই রেডিয়েশন সহ্য করতে সক্ষম, শুধু তাই নয় তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু ক্ষমতাও আছে।এদেরকেই বলা হয় ‘Coppelion’ 

এইটুকু কাহিনী দিয়ে আসলে অনেক সুন্দর একটা Post-apocalyptic এনিমে বানানো সম্ভব ছিল। কিন্তু ধিরে ধিরে কাহিনী আসলে এনিমেটাকে একদম ডুবায় দিছে  এনিমের মূল চরিত্র হাই স্কুলের ৩ মেয়ে,যাদের কাঁধে পড়েছে ঐ শহরের সকলকে উদ্ধার করে আনা!!! এইরকম একটা মিশনের দায়িত্ব দিছে হাই স্কুলের মেয়েদের কাঁধে  , তাও আবার সবাই হাই স্কুলের ড্রেস পরেই মিশনে থাকে সব সময় :S !! ভাবলাম এনিমেতে তো সবই সম্ভব, কাহিনী কীভাবে আগায় সেটা দেখি। ২-৩ এপিসোড দেখে ভালো লাগছিলো, কিন্তু এইরকম অল্প বয়সের মেয়েদের এমন দায়িত্ব দিছে যারা অল্প কিছুতেই ভ্যা ভ্যা শুরু করে দেখতে একটু বিরক্ত লাগছিলো। তাও চালায় গেলাম ভালো কিছু হবার আসায়। তেমন একটা একশন থাকবে আশা করিনি, তবে যা ছিল আসলে বেশ ভালোই ছিল। 

সাথে এনিমেটার গ্রাফিক্স/আর্ট/এনিমেশন যেটাই বলেন না কেন, Post-apocalyptic ভাবটা বেশ সুন্দর করে ধরে রাখছিল। শুধু ক্যারেক্টার বিলডাঁপ আর কাহিনীতে ধরা। যারা সব সময় একশন বা স্লাইস অফ লাইফ বা অন্য জনরা দেখে অভ্যস্ত তেমন একটা আশা না নিয়ে, সময় কাটানোর জন্য একটু আলাদা কিছু দেখতে চাইলে, একবার দেখতে পারেন এনিমেটা। দেখতে খুব একটা খারাপ লাগে না। তেমন আহামরি কোন কাহিনী নাই, এই যা।

MAL rating: 6.69
My rating 6.5

নারুতো (একটা প্রায় বায়াসড রিভিউ টাইপ লেখা) – Shafiul Munir

ফুটবল খেলায় হাফ টাইমে ৩-০ গোলে পিছিয়ে আছি, প্রতিপক্ষ একের পর এক আক্রমণ করছে, আমরা একটুও পেরে উঠছি না, সামনে হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। কি করব? হাল ছেড়ে দেব পরাজয় মেনে? নাকি অসম্ভবকে চ্যালেঞ্জ করে কোন বাধাকে পরোয়া না করে এগিয়ে যাব ‘হার না মানা’ মনোবল নিয়ে?

একের পর এক পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে, টিউশন পাওয়া যাচ্ছে না, যাকে খুব ভালো ফ্রেন্ড ভাবতেন সেও দূরে সরে যাচ্ছে, যেটা করছেন সেটাতেই লুজার হচ্ছেন, জীবনের প্রতিটি প্রান্তে কুয়াশা ঢাকা অশুভের ছায়ায় দিশেহারা। কি করব? কি করবেন? সবকিছু ছেড়ে বনে বাদাড়ে চলে যেতে পারেন, আত্মহত্যা করতে পারেন, হতাশ হয়ে মদ-গাজায় দুঃখ ভুলতে পারেন, কিংবা উজুমাকি নারুতোর মত নিয়তির নিষ্ঠুরতা আর চারপাশের প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলে উঠতে পারেন, “Give up trying to make me give up.”

শুধু মনোবলের দৃঢ়তা নয়, আছে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ট্যালেন্টের সুউচ্চ দেয়ালকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া, অসম্ভব টার্গেটকে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে বিশ্বাস করে প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া। একটা এনিমে ক্যারেক্টার এভাবেই আমাদের নিতান্ত তুচ্ছ অবমানবতা আর মানবতার সন্ধিস্থলে নিয়ে আসতে পারে অতিমানবীয় দৃঢ়তা, আর হয়ত সত্যিই বদলে দিতে পারে অনেকগুলো জীবন। আমার কাছে তাই নারুতো এনিমেটা শুধু একটা ফিকশন নয়, আর নারুতো একটা কাল্পনিক নিনজা নয়, আমার প্রতিদিনের জীবনে একটা বিশাল অনুপ্রেরণা আর আইডল। সামুরাই এক্স, ডিবিজেড আর পোকেমন দিয়ে শুরু করলেও আমার এনিমে জগতের প্রথম প্রেম নারুতো, এরপর দেখেছি আরো অনেক ভালো কিছু এনিমেও, কিন্তু প্রথম ভালবাসায় আজো কেউ ভাগ বসাতে পারে নি।

যদি ফাইটিং আর কাহিনীর ব্যাপকতা ও সৌন্দর্য্যের কথা বলা হয় তাহলে সবসময় আসবে বিগ থ্রির সবচেয়ে বেশি সমালোচিত এই এনিমেটি, সমালোচনাগুলো যথেষ্ট যোক্তিক, বর্তমান নারুতো শিপ্পুডেনের নাম এখন অনেকে বলে থাকেন ফিলার শিপ্পুডেন কিংবা উচিহা শিপ্পুডেন। মূল কারণ, একের পর এক বিশাল বিশাল সব ফিলার আর কাহিনী নিয়ে অদ্ভুতভাবে ক্রমাগত মোচরানো। মূল চরিত্র নারুতোর চাইতে যেন উচিহারাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে একটা সময় পর, আর একদম বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে সেটাকে অস্বীকার করারও উপায় নেই। তবে একদিকে যেমন সাসকে, মাদারা, ওবিতো কিংবা ইটাচির মত উচিহারা আছে, তেমনি ছিল/আছে কাকাশি, জিরাইয়া, গারা, হাশিরামা, বি, সুনাদে, শিকামারু বা অন্যান্যরা।, এই যে এত্তগুলো চরিত্র একসাথে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারাটাই, সম্ভবত এখানেই নারুতোর মূল সার্থকতা।

নারুতো ২০১৪ তে শেষ হতে যাচ্ছে। কিশি ফুরিয়ে গেছেন, তিনি এখন গাজা খেয়ে লিখেন, তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের ক্যারেক্টার স্টুপিড সাসকে, তার কাছে ভালো আর কি আশা করা যায়? তবে তারপর আমি এটাও ভাবি যে লোকটা এত্ত অসাধারণ সব প্লট সৃষ্টি করেছে, ইটাচি, জিরাইয়া, শিকামারু, মাদারা, কাকাশিদের মত অস্থির সব ক্যারেক্টার সৃষ্টি করেছেন, লি-গারা, নারুতো-নেজি, নারুতো-গারা, পেইন-নারুতো, ইটাচি-সাসকে সহ অসংখ্য অস্থির লেভেলের ফাইটিং সিন দেখেয়িছেন তার কাছ থেকে একটা ভয়ংকর সুন্দর আর অদ্ভুত সমাপ্তি আশা করাটা কি খুব বেশি আশা করা??

যাই হোক, আমি খুব খুশি এবং কৃতজ্ঞ যে এরকম একটা জিনিস আমি আমার জীবনে দেখে যেতে পেরেছি।

ব্যাটল রয়াল মাঙ্গা প্লাস মুভি রিভিউ – Torsha Fariha

মাঙ্গা- ব্যাটল রয়াল
ভলিউম- ১৫ (প্রতি ভলিউমে ৮ টা করে চ্যাপ্টার)
জানরা- Dystopian, thriller, horror Alternative history.
মুভি- ১১৩ মিনিট (অরিজিনাল রিলিজ)
ডিরেক্টর- কিনজি ফুকাসাকু।

১৯৯৬ সালে কউশুন তাকামি একটি নভেল লেখেন ‘ব্যাটল রয়াল’ নামে। যদিও সেটা ১৯৯৯ সালের আগে পাবলিশ করা যায় নি। যার পেছনে একটা কারণ ছিল এর কন্টেন্ট। এমনকি এই নভেলটা ১৯৯৭ সালে এক হরর বই কন্টেন্টের ফাইনাল রাউন্ড থেকে রিজেক্ট করা হয়। কারণ যেই একই- বই এর কন্টেন্ট। 

সবার আগ্রহ হতেই পারে কি সেই বিষয়বস্তু যা এত কন্ট্রোভার্সির জন্ম দিয়েছে সেই সময়।

সে এক কাল্পনিক সময়ের কথা। জাপান তখন রিপাবলিক অফ গ্রেটার ইস্ট এশিয়ার মেম্বার। Shiroiwa junior high school এর এক সেকশন ভর্তি ছেলে মেয়েকে স্টাডি ট্যুরের নাম করে স্কুল অথরিটি নিয়ে যায় একটা জনমানুষ শূন্য দ্বীপে। 

সেখানে পৌঁছে তারা জানতে পারে একটা মিলিটারি রিসার্চ প্রজেক্টে তাদের অংশগ্রহণ করতে হবে। রিসার্চের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া- যাতে তারা কোন ধরণের অর্গানাইজড বিদ্রোহের কথা মাথায় না আনতে পারে। প্রত্যেক বছর খুব গোপনীয়তার সাথে কোন স্কুলের কোন সেকশান এই প্রোগ্রামে অংশ নিবে সেটা ঠিক করা হয়। 

তো এই প্রজেক্টে (গেইম বলা বেশি যুক্তিযুক্ত) তাদেরকে এই দ্বীপের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। প্রত্যেকের মূল লক্ষ্য থাকবে সারভাইভাল। সেটা প্রতিকূল পরিবেশের জন্য না বরং তাদের এতদিনের ক্লাসমেটদের জন্য। কারণ তাদের প্রত্যেকের টাস্ক হচ্ছে – একে অপরকে খুন করা। ততক্ষণ পর্যন্ত- যতক্ষণ না শুধু একজন বেঁচে থাকে। 

এটা এমন একটা গেইম যেখান থেকে কোন এস্কেপ নেই- এমনকি কেউ যদি চায়ও সে আর তার ফ্রেন্ড শুধু বেঁচে থাকবে – সেটাও সম্ভব না। একটা ট্র্যাকিং ডিভাইস সবসময় তাদের গলায় মেটাল কলার হিসেবে লাগানো থাকে। আমাদের নায়ক Shuya nanahara আর নায়িকা noriko nakagawa. পুরো কাহিনীতে আমরা দেখতে পাব কিভাবে তারা এই জটিল পরিস্থিতির ভেতর নিজেদের রক্ষার করছে। সেই সাথে আছে ক্লাসের অন্যান্যদের কাহিনীও।

সংক্ষেপে এটাই ব্যাটল রয়ালের কাহিনী। কাহিনী পড়ে কি সাম্প্রতিক কালের হাঙ্গার গেইমসের কথা মনে পড়ছে? খুব স্বাভাবিক। উইকি পড়লে সহজেই জানতে পারবেন মুভিটা রিলিজ হওয়ার পর একটা জোর সমালোচনা উঠেছিল আইডিয়া নকলের অভিযোগে। যদিও লেখিকা বলেছেন সমালোচনার আগে তিনি ‘ব্যাটল রয়াল’ এর নামই জানতেন না।  

অবশ্য এটা নতুন না। ক্রিটিকরা এরকম আরো কিছু মুভির ভেতর ব্যাটল রয়ালের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষ্য করেন। যেমন- কিল থিওরি, দ্য টুর্নামেন্ট, গান্টজ আর একটা ভিডিও গেইম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড এন্ডস উইথ ইউ’। আসলে তাকামির বইয়ের আইডিয়া এত বেশি মৌলিক যে সেটা ক্রিটিকরা লক্ষ্য না করে পারেননি। (ব্যাটল রয়ালের সাথে কিঞ্চিৎ একটা সিমিলারটি আছে স্টিফেন কিং এর ‘লং রান’ এর। স্টিফেন কিং সেটা নিজে বলেন। অবশ্য মিলটা খুবই অল্প। বই এর কাহিনী পড়ে আমার তাই মনে হয়েছে। কিং নিজেও পরে বলেছেন এটা তেমন কোন ম্যাটার না।) 
এবার আসি জনপ্রিয়তার কথায়। এটা সেসময়ের একটা বেস্ট সেলার বই ছিল – তার এমন বিষয়বস্তু থাকার কারণেও। উইকিতে সেসব বিশদ আছে। সেই নভেল ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, ইটালিয়ান,হাঙ্গেরিয়ান, রাশিয়ান- এরকম বহু ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।

মাঙ্গা এডাপ্টেশনের কথায় আসি। এই নভেলের মাঙ্গা নভেলের লেখক নিজেই লিখেছেন। তিনি তার এ সম্পর্কে বলেছেন – নভেলের চেয়ে আরো বেশি বিস্তৃত মাঙ্গাটা। প্রত্যেকটি চরিত্রের উপর প্রায় সমান নজর দেয়া হয়েছে- তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে সারভাইভাল- সব। 
এটা সত্যি যে আমি মাঙ্গা পড়ি নাই। উইকি ঘেঁটে কথাগুলা বললাম।

এবার মুভির কথা। মুভি নিয়ে কথা বলার আগে আমি একটা জিনিস উল্লেখ করতে চাই। সেটা হল মুভিটা ঠিক নভেলের মতই সুন্দর। অনেক সময় মুভিতে যেটা হয় অনেক কাহিনী বাদ পড়ে যায় যেটা অনেকেই পছন্দ করেননা। এখানেও একই জিনিস হয়েছে তবে পার্থক্য আছে। মেকিংটা এত সুন্দর আর বাস্তবসম্মত যে কোন খুঁত ধরার অবকাশই থাকে না। (মুভির IMDb রেটিং ৭.৮)
মুভিটা আমি দেখেছি এবং এটা আমার খুব পছন্দের। আমি আনন্দের সাথে বলতে চাই এই মুভিটা বিখ্যাত ডিরেক্টর টারান্টিনোর খুব পছন্দের। তিনি এই মুভিটা সতেরো বার দেখেছেন এবং উল্লেখ করেছেন এই মুভির মেকিং এবং কাহিনী তাঁকে খুব ইন্সপায়ার করেছে।

তাই বলছি কেউ যদি মাঙ্গা নাও পড়েন অ্যাটলিস্ট মুভিটা দেইখেন। যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। 
কেন দেখবেন/পড়বেন- কারণটা হল কাহিনীটা খুবই মৌলিক। অনেকটা সেই মধ্যযুগের গ্রিক গ্ল্যাডিয়েটরদের গেইমের মত। পার্থক্য আছে অবশ্য। ওরা ছিল গ্ল্যাডিয়েটর যারা নিজেদের পেশাই করে নিয়েছিল সেটা। আর এদিকে কিছু টিনএজ ছেলেপিলে যারা একটু আগ পর্যন্তও বন্ধু ছিল একে অপরের। এবং এই কারণেই কাহিনীটা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর, কৌতূহল উদ্দীপক। একদিকে নিষ্ঠুরতা অপরদিকে ফ্রেন্ডশিপ, প্রেম – সবার উপরে এক অমোঘ নিয়তি- সব মিলিয়ে যেমন অস্বস্তিকর তেমনই খুব মানবিক এক কাহিনী। নিজেকে ওদের জায়গায় কল্পনা করে আপনার গা শিউরে উঠবে একই সাথে কৌতূহলও জাগবে ‘শেষে কি হল?’

কেন দেখবেন/পড়বেন না- সত্যি বলতে একটা সেইরকম হরর মুভিও আপনার মনে এতটা ছাপ ফেলবে না- যতটা ফেলবে ‘ব্যাটল রয়াল’। মুভিতে প্রচুর ভায়োলেন্স সীন আছে যেগুলো দেখলে সত্যি গা গুলায় আসে। manga is far more sexually graphic than the novel and film versions, but like them, is noted for its intense, gory violence. তাই যারা এসব সহ্য করতে পারেননা তাদের না দেখাই বা পড়াই ভালো।

ব্যাটল রয়াল নিয়ে আমার অনুভূতির কথা বলি। আমি এক সকালে মুভিটা দেখে মিশ্র একটা অনুভূতি হয়েছিল। একই সাথে রাগ, ঘৃণা, ভয় – এই তিনটা এক সাথে কাজ করেছিল আমার উপর। এবং শেষ হওয়ার পর সত্যি মনে হচ্ছিল আমি যেন এই মাত্র সেই দ্বীপ থেকে আমার বাসায় এসে পড়লাম। একটা মুভি কতটা গভীরেই না মানুষকে নিয়ে যেতে পারে! 

হুট করে আমাদের মত কাউকে যখন এরকম জীবন- মৃত্যুর একটা খেলায় নামিয়ে দেয়া হবে তখন আমাদের মধ্যে কিছু স্বাভাবিক রিফ্লেক্স কাজ করবে। এই রিফ্লেক্স পারসোনালিটি অনুযায়ী ভ্যারি করে। কেউ শুরু থেকেই পাগলের মত কাউকে মারা শুরু করবে, কেউ গা ঢাকা দেবে, কেউ অপেক্ষা করবে বাকিরা কখন শেষ হবে , কেউ এই চাপ সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করবে, কেউ কেউ যৌথ বাহিনীর গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে অবিশ্বাস আর প্যানিকের মধ্যে একজন আরেকজনকে খুন করবে আর কেউ হয়তো নিজের চরিত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা খুনিটাকে এক ঝটকায়বের করবে, আর কেউ হয়তো বিদ্রোহী হয়ে পালানোর চিন্তা করবে। হ্যা এরকমই হবে আমাদের ক্ষেত্রে। কারণ আমরা ট্রেইনড না, কারণ আমরা প্রস্তুত না। 

অনেকটা এরকম সাইকোলোজি নিয়েই একটা স্টাডি আছে বইটায়, মুভিটায়। না দেখলে বা পড়লে সত্যি একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস মিস করবেন। 

(ব্যাটল রয়ালের একটা সেকেন্ড সিজন এবং মুভি আছে। কিন্তু সেটা তাকামির লেখা না বলে রিভিউ দিলাম না। )

 

Animekhor topchart 2013 – Best action – Shingeki no Kyojin

অ্যাকশন এনিমে হিসেবে এনিমখোর টপচার্ট ২০১৩ এর সেরা এনিমে Shingeki No Kyojin (Attack On Titan) এর ৭৯.৩৮% ভোটে প্রথম হওয়া অবশ্যম্ভাবীই ছিল বলা চলে। দৈত্যাকায় টাইটান কর্তৃক মানবজাতির হত্যাকাণ্ডের মত লোম খাড়া হওয়া প্লটের সাথে ছিল তাদের ঠেকাতে ইউনিক থ্রিডি-গিয়ার ফাইটিং মেথড। এছাড়া টাইটানদের মারার জন্য একমাত্র দুর্বল স্পট, থ্রিডিগিয়ারের সাহায্যে ধারালো ব্লেডের অ্যাকশন, টাইটান বন্দির পদ্ধতি, অসংখ্য প্রাণবিনাশ আর ক্ষতির পরও দেয়ালের বন্দিত্ব ঘুচানোর জন্য মরিয়া আক্রমণ/অ্যাডভেঞ্চার ইত্যাদি এনিমেটিকে বছরের সেরা একশন এনিমে হিসেবে মজবুত ভিত প্রদান করে।

Animekhor top-chart 2013 – Best slice of life – Bakuman 3

এ ক্যাটেগরিতে অর্ধেকেরও বেশি ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে আছে বাকুমানের ফাইনাল সিজন। এ বছর Gin No Saji, Boku wa Tomodachi ga Sukunai Next, Yahari Ore no Seishun Love Comedy wa Machigatteiru, Watashi ga Motenai no wa Dou Kangaetemo Omaera ga Warui! এর মত বেশ কিছু ভালো স্লাইস অফ লাইফ থাকার পরেও বাকুমানের এই ল্যান্ডস্লাইড বিজয় অস্বাভাবিক কারও কাছেই ঠেকার কথা না। মাঙ্গাকাদের জীবন, তাদের স্বপ্ন নিয়ে তৈরি আনিমে বাকুমান। থার্ড সিজনে এসে আগের দুই সিজনের চেয়েও বেশি করে স্লাইস অফ লাইফ ব্যাটল জিনিসটাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে চলে গেছে। এবং অনেক ক্ষেত্রেই স্লাইস অফ লাইফের টিপিক্যাল ব্যারিয়ার ভেঙ্গে হার্ডকোর শৌনেন বা একশন ফ্যানদের, যারা হয়তো সাধারণত এই genre থেকে দূরে থাকে, তাদের কাছেও বেশ ভালো ভাবেই রিচ করেছে।

Animekhor top-chart 2013 – Best Comedy – Gintama’ Enchousen

গিন্তামা সিরিজের থার্ড ইনস্টলমেন্ট ছিল গিন্তামা’ এনচৌসেন। অনুমিতভাবেই অন্যান্য কমেডি অনিমেকে পিছনে ফেলে ৫০% এরও বেশি ভোট পেয়ে টিম ইওরোজুইয়া দেখিয়ে দিয়েছে, কমেডি জনরায় গিন্তামা এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দম ফাটানো আর পাগলামিভরা সব কমেডি সিকোয়েন্স এর কথা যতই বলা হোক না কেন, এই মাস্টারপিস আনিমে সম্পর্কে কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়.

Animekhor top-chart 2013 – Best psychological/mystery – Psycho-Pass

২০১৩ এর সেরা সাইকোলজিক্যাল/মিস্ট্রি আনিমে ক্যাটেগরিতে ৮৯.১৯% ভোট পেয়ে একাধিপত্য করে জিতেছে যে আনিমেটি, তার নাম সাইকোপাস (Psycho-Pass)। এই বিভাগে সেরা নির্বাচিত হওয়া এই আনিমেটির সাথে দ্বিতীয় স্থান অধিকারকারী আনিমের ভোটের পার্থক্য খেয়াল করলেই বুঝা যায় এই আনিমেটি দর্শকদের কি পরিমান আকর্ষণ করেছে। রোমাঞ্চকর কাহিনী, আকর্ষণীয় চরিত্র, দারুণ সব ওপেনিং আর এন্ডিং সং মিলিয়ে এই আনিমেটি ছিল সব দিক থেকে দারুণ একটি প্যাকেজ। যারা এখনো এই আনিমেটি দেখেননি, এই পোলের পর আশা করি দেখার জন্য বসে যাবেন। অল্প এপিসোডের এঞ্জয়েবল একটি সাইকোলজিক্যাল/মিস্ট্রি সিরিজ হিসেবে সবসময়ই এনিমখোরদের কাছে এই নামটি স্পেশাল হয়ে থাকবে বলে আশা করা যায়।

Animekhor top-chart – Best ecchi – High Shool D X D New

২০১৩ সাল এচি লাভারদের জন্য খুব একটা খারাপ বছর ছিল না. প্রচুর পরিমানে এচি আনিমে বের হয়েছে যথারীতি, মান কেমন ছিল তা অবশ্য বলাই বাহুল্য।তবে এর মধ্যেও যে আনিমেটা অন্য সবার চেয়ে পরিষ্কারভাবে আলাদা ছিল তা হলো হাইস্কুল ডি এক্স ডি নিউ.২০১২ সালে বের হওয়া হাইস্কুল ডি এক্স ডি আলোড়ন তুলেছিল ভিন্নধর্মী স্টোরিলাইন, প্লট আর আবেদনময়ী চরিত্র দিয়ে।তার সিকুয়েল হিসেবে এই বছর ডি এক্স ডি নিউ এর প্রতি সবার আগ্রহ ছিল দেখার মত.সেই আগ্রহ হাইস্কুল ডি এক্স ডি নিউ কতটা পূরণ করতে পেরেছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ, তবে এনিমখোরদের কাছে তা যে ২০১৩ এর সেরা এচি আনিমে ছিল তা সম্পূর্ণই প্রমান করে দেয় এর পক্ষে ৭৯.০৩% ভোট. তাই ২০১৩ এর সেরা এচি আনিমে হিসেবে হাইস্কুল ডি এক্স ডি নিউকে অভিনন্দন।

Animekhor topchart 2013 – Best sports – Chihayafuru 2

২০১৩ সাল স্পোর্টস এনিম লাভারদের জন্য পয়া এক্টি বছর। একের পর এক রক্ত গরম করা সিরিজ শুরু এবং শেষ হয়েছে এই বছর। এনিমখোররা তাদের সেরা নির্বাচন করতে গিয়ে তাই বিশাল হিমশিম খেয়েছেন। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ৫৫.৮৮% ভোট দিয়ে তারা বিজয়ী করেছেন Chihayafuru কেই !!! তবে এর পথ চলা খুব মসৃণ ছিল না। বিজয়ের পথে তাকে সাম্লাতে হয়েছে রক্ত গরম করা একশন আর ড্রিফটিং এ পূর্ণ শান্ত কিন্তু প্রতিভাবান রেসার তাকুমির সিরিজ ইনিশিয়াল ডি আর সম্মাননা পুরস্কার পাওয়া বাজারে আলোড়ন সৃষ্টিকারী; নারীদের অত্যন্ত প্রিয় এবং স্মার্ট ড্যাশিং কুল হ্যান্ডসাম একদল ছেলেকে নিয়ে সিরিজ ফ্রি এর রক্তচক্ষু; পাড়ি দিতে হয়েছে অনেকটা পথ। বিশ্লেষকদের ধারণা; ইন্টেন্স গেম সিন এর সাথে মাপা রোমান্স; চমৎকার গ্রাফিক্স এর কাজ; চোখ ধাঁধানো স্টাইলের বদলে প্রশান্তি এনে দেওয়া লুক এবং স্টাইল; সব মিলিয়ে একটা পুরনাঙ্গ প্যাকেজ হয়ে ওঠাতেই Chihayafuru র এই সাফল্য !!!

Chihayafuru-2-Soundtrack-Cover

 

Animekhor top-chart 2013 – Best ongoing shounen – Naruto Shippuden

ছোটখাট একটা আপসেটের জন্ম দিয়ে ‘নারুতো শিপ্পুডেন’ এবারের অনগোয়িং শোনেন এনিমে ক্যাটেগরীতে প্রথম স্থান অধিকার করে নেয়। নারুতোর ভোট ছিল ২৫, অপরদিকে নিকটতম কমপিটিটর নারুতোরই জ্ঞাতিভাই ‘হান্টার ইন্টু হান্টার’ ২০১১ পেয়েছে ২০ ভোট। আপসেট বলার মূল কারণ আসলে ২০১৩ সালে এই এনিমেগুলার পারফর্মেন্স।

নারুতো শিপ্পুডেন (মতান্তরে উচিহা কিংবা ফিলার শিপ্পুডেন) নামের প্রতি সুবিচার করে ২০১৩ সালের সূচনাটাও করেছিল একটা ফিলার দিয়ে, এরপর কবর থেকে উঠে আসা কিছু তরতাজা ভূতের দৃপ্ত পদচারণা, আরো বেশ কিছু ফিলার শেষে ধীরে ধীরে ট্র্যাকে ফিরে আসে। তবে বছরের শেষ দিকে বুড়ো উচিহার বুড়ো হাড়ের (সুসানো) ভেলকি আর কুলেস্ট ক্যারেক্টার ইতাচির ভাগ্যলিখন কৌশলের জৌলুসে শিরোপার দৌড়ে ব্যাপকভাবে ফেরত আসে ঐতিহ্যবাহী এনিমেটি।

অপরদিকে হান্টার-হান্টারে চলছিল অসাধারণ গ্রিড আইল্যান্ড আর্ক আর চিমেরা এন্ট আর্ক, পুরা বছর জুড়ে বেশিরভাগ এপিসোড ছিল উপভোগ্য আর টান টান উত্তেজনার, আর সমান তালে চলছিল তরিকোর খাওয়া দাওয়া। লাইভবেয়ারার, ফুড অনার আর ফোর বিস্ট আর্কের অস্থির সব পর্ব নিয়ে তরিকোর ভোটশূন্য থেকে যাওয়া খুবই হতাশাজনক। ওয়ান পিসে ছিল পাঙ্ক হেজার্ড আর্ক, অনেক ভালো ফাইটিং আর প্লট থাকা সত্ত্বেও অদ্ভুতভাবে এই অতি জনপ্রিয় এনিমেটি পেয়েছে মাত্র ৫ ভোট, সম্ভবত আর্কটির সমাপ্তি অতটা ডিসিসিভ না হবার কারণে।

বেশিরভাগ এনিমখোরের এনিমে ক্যারিয়ার এক্কেবারে শুরুর ভালবাসা নারুতো, কারো কারো হয়ত প্রথম প্রেম, এই পোলে নারুতোর জয়ের পিছনে এই ইমোশনের পাশাপাশি কাজ করেছে বছরের শেষদিকের খুব ভালো কিছু এপিসোড। আর সম্ভবত তরিকো আর হান্টার-হান্টারেররিগুলার ভিউয়ার কম হওয়াটাও অন্যতম কারণ। সবশেষে না বললেই নয়, আমি পারসোনালি খুব খুশি এই রেজাল্টে।

assistir-naruto-shippuuden-dublado-todos-os-episódios-online