Kimi no Na Wa [মুভি রিভিউ] — Rumman Raihan

Kimi no Na Wa 1

Kimi no Na Wa
ইংরেজি নামঃ Your Name
জনরাঃ রোম্যান্স, সাইফাই, সুপারন্যাচারাল, স্কুল, ড্রামা 
দৈর্ঘ্যঃ ১ ঘন্টা ৪৬ মিনিট
টাইপঃ মুভি, ১২+
সময়কালঃ ২০১৬

এইতো সেদিন ইউকে প্রিমিয়ারে দেখে আসলাম সাম্প্রতিক সময়ের বহুল জনপ্রিয় অ্যানিমে “কিমি নো না ওয়া”। ইংরেজিতে Your Name. মাইঅ্যানিমেলিস্ট ওয়েবসাইটে এখন পর্যন্ত ৩ নম্বরে থাকা এই অ্যানিমে নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। এটি কি আসলেই একটি মডার্ন অ্যানিমে মাস্টারপিস, যেমনটি অনেকে বলছে? নাকি মাস্টারপিস বলার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল অ্যানিমেটার মার্কেটিং সফল করা…
( স্পয়লার নেই )

কাহিনীঃ

ছোট্ট কান্ট্রিসাইডের সাদামাটা জীবনের সবকিছু হাইস্কুল ছাত্রী মিতসুহার কাছে একদম একঘেয়েমি লাগে। তার ছোটবোনকে নিয়ে সে তার নানীর সাথে থাকে। তার নানীর পরিবারের সাথে শিন্তো মন্দিরের সম্পর্ক আছে বলে তাকে এক প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে বিভিন্ন রিচুয়াল করতে হয়। এই ছোট শহরে সবাই সবাইকে চেনে, তাই সহপাঠীদের সামনে এসব নৃত্য, পার্থনা করতে তার খুব বিব্রত বোধ হয়। সে এই জীবন ছেড়ে টোকিয়ো চলে যেতে চায়।

একদিন সকালে মিতসুহা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পেল সে অন্য এক অচেনা বেডরুমে। আয়নায় নিজেকে দেখে সে যা দেখলো তাতে এটা নিছক স্বপ্ন মনে হল। টোকিও শহরে তাকি নামের একটা ছেলের সাথে তার শরীর বদল হয়ে গেছে। তাকি ও ঘুম থেকে উঠে নিজেকে মিতসুহার শরীরে আবিষ্কার করলো। পরদিন আবার তারা নিজেদের শরীর ফিরে পেলেও, এরপর থেকে তারা একদিন পরপর সকালে ঘুম থেকে উঠলেই একে অপরের শরীরে আবিষ্কার করা শুরু করলো। আর শুরু হল তাদের জীবনে যত গণ্ডগোল।

আপাতদৃষ্টিতে, চমৎকার অ্যানিমেশন আর সেমি রিয়েলিস্টিক ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যার্টের সাথে বলা একটি রোমানটিক গল্প হল কিমি নো না ওয়া । মাকোতো শিঙ্কাইয়ের সিগ্নেচার একগাদা ট্রেইন, সাইডসিন আর ডিস্ট্যান্ট লাভের গল্পে যখন সবাই মগ্ন ছিল তখন আমার মনে ছিল অন্য কিছু প্রশ্ন। এবং সেগুলোর উত্তরও আমি পেয়েছি।

দা ফল্ট ইন ইওর নেইমঃ

কেন তাদের শরীর অদল বদল হচ্ছে? আকাশে হাজার বছরে একবার দেখতে পাওয়া যায় এমন একটা ধুমকেতুর তাৎপর্য কি? বুড়ি নানির দার্শনিক সব কথার মানে কি? এগুলো আসল প্লটের সাথে কিভাবে যায়? এসব নিয়ে ভেবেছি, এবং উত্তরও পেয়েছি। এই অ্যানিমেতে সাটেলটি বলছে খুব জিনিষ আছে। তাই ওয়েস্টার্ন নতুন অ্যানিমে ফ্যানরা এগুলো সহজে হজম করতে পেরেছ। নিজের ঐতিহ্যকে বহন করার গুরুত্বের মেসেজটাও চোখের সামনে বার বার নাড়াচ্ছিল অ্যানিমেটা। যারা ধরতে পারেনি তারা শুধু রোমান্স গিলেছে। মানে সবার জন্যেই কিছু না কিছু ছিল এখানে। তাই এর জনপ্রিয়তা খুব তারাতারি বেড়েছে। আর হ্যা অবশ্যই, মার্কেটিঙএর জন্য ইন্টারনেট সাহায্য করেছে।
অ্যানিমেটাতে গার্ডেন অফ ওয়ার্ডস অ্যানিমের একটা চরিত্রকে দেখা যাবে। ক্রসভার করে কি শিনকাই তার নিজের ইউনিভার্স বানাতে চাচ্ছেন? জানিনা।

অ্যানিমের ওপেনিং সিন এবং মাঝখানের একটা দৃশ্যে মিউজিকের সাথে ট্রাঞ্জিশন করা হয়েছে। ঐ দৃশ্য দুটি চমৎকার লেগেছে। কিন্তু একটা সময়ে গিয়ে গানের ওভারস্যাচুরেশনে বিরক্ত হয়েছি। স্পেশালি একটা ইমোশনাল দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ডে গান গেয়েই চলছিল। সেখানে একটু নিরবতার দরকার ছিল।

মিতসুহা আর তাকির রোম্যান্সটা কেন জানি কিছুটা মেলোড্রামাটিক লেগেছে। যদিও ফ্যানেরা অজুহাত হিসেবে বলছে যে, একে অপরের শরীরে গিয়ে তারা দুজন দুজনাকে খুব ভালো ভাবে চিনতে পেরেছে বলেই এই রোম্যান্স তার পরেও আমি এটা মানতে পারবো না। কারন অ্যানিমেটাতে দুজনের জীবনের কঠিন সময়গুলো দেখানো হয় নি। দৈনন্দিন নিজ নিজ জীবনের প্রতিবন্ধকতাগুলো যদি তুলে ধরা হত তাহলে চরিত্রগুলি আরো ভালো করে ফুটে উঠতো। “নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বা্স, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস” – এই প্রবাদটির কথা অ্যানিমেটাতে ভালো মতই দেখানো যেত। কিন্তু তা দেখানো হয়নি। কেন তারা একে অপরকে অ্যাপ্রিশিয়েট করে তার ধারনাটা খুবই ইনার্ট লেগেছে।

অ্যানিমের আসল প্লট টুইস্টটা রিভিল হবার অনেক আগেই আমি বুঝতে পেরেছি। এটা অত কঠিন টুইস্ট না, কিন্তু আনকনভেনশনাল বটে। স্টেইক যখন মানবিক থেকে জাগতিক হয়ে গেছে, তখনই অ্যানিমের প্রতি আবেগ কিছুটা সরে যাবার আশঙ্কা করেছিলাম, কিন্তু সেটা ভালো ভাবেই এক্সেকিউট করা হয়েছে।
তবে মিতসুহার আর তার বাবার সম্পর্ক নিয়ে সাবপ্লটটা একদম কাঁচা রেখে দেয়া হয়েছে। যেটা আরেকটু ফুটিয়ে তুলতে পারলেই হত।

মুলত অনেকগুলো ভালো কন্সেপ্ট আছে মুভিটাতে কিন্তু সেগুলো আধাপাকা রেখেই মুভি এগিয়ে গেছে মেলোড্রামাটিক ডিস্ট্যান্ট-লাভ রোমান্সের দিকে।

ওয়েস্টার্ন টিনেজ দর্শকরা তাদের মুভিগুলোতে যেরকম ভালোবাসার গল্প দেখে অভ্যস্থ,তার থেকে ইয়োর নেইম এর গল্প আলাদা, তাই তাদের কাছে এই নতুন রোমান্স অবশ্যই ভালো লাগবে। কিন্তু, যারা অনেক অ্যানিমে দেখেছেন তাদের কাছে এটা তেমন স্পেশাল মনে হবে না। আমি নিজে রোম্যান্স অ্যানিমের ফ্যান না। কিন্তু তারপরেও আমি এরচে উত্তম সাইফাই রোম্যান্স এর নাম বলে দিতে পারবো। আর এ পর্যন্ত যত রিভিউ দেখেছি তাতে মনে হচ্ছে এর আগে কেউ মনে হয় জীবনেও bodyswap সাবজনরার মুভি কখনো দেখেনি।

থাক, হয়তো একটু হার্শ হয়ে যাচ্ছি, অ্যানিমেটার উপর। আসলে হয়েছে কি, অ্যানিমেটা আসলেই ভালো। কিন্তু যেভাবে এটার মার্কেটিং করা হয়েছে, আর অ্যানিমেলিস্ট গুলোতে রিভিউ দেয়া হয়েছে, তাতে অনেক বড় এক্সপেক্টেশন নিয়ে দেখলে আশাহত হতে হবে। অ্যানিমেটা ওভারহাইপড, এবং কিঞ্চিত ওভাররেটেড। মানুষের ভালো লাগা আমি বদলাতে চাচ্ছি না। আমারো ভালো লেগেছে। কিন্তু অতটা না যতটা সবাই দাবী করছে।

মাস্টারপিস না হলেও, এই মুভিটি সিনেমা হলে গিয়ে দেখার মত মুভি, তবে অস্কার নমিনেশনের যোগ্য না। এর এত জনপ্রিয়তার মূল কারণ এর গল্পটা না, বরং সহজলব্ধতা। আমি লন্ডনের একটি সিনেমায় গিয়ে দেখে এসেছি, সেখানে এর আগে জিবলি মুভি ছাড়া আর কোনো অ্যানিমে স্ক্রিনিং হয় নি। আর সেখানেই অ্যানাউন্স হবার কয়েক ঘন্টার মাঝেই অনলাইনে ফুল বুকড হয়ে গেছে। পরে যেখানে ২ দিন দেখানোর কথা ছিল, সেখানে একসপ্তাহ জুড়ে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইন হাইপ আর বিজ্ঞাপন এই অ্যানিমের বাণিজ্যিক সফলতার জন্য কতটা সাহায্য করেছে। আশা করি ভবিষ্যতে এরকম আরো অনেক অ্যানিমে মেইনস্ট্রিম সফলতার সুযোগ পাবে। কারণ এই নেটফ্লিক্স আর সিজিআই অ্যানিমের যুগে জাপানি স্টুডিওগুলির অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার জন্য কয়েকটি অসাধারণ অ্যানিমে মুভির বড়ই প্রয়োজন।

পার্সোনাল রেটিংঃ
গল্পঃ ৭.৫/১০
অ্যানিমেশনঃ ৯.৫/১০
সাউন্ডট্র্যাকঃ ৯/১০
ওভারঅলঃ ৮/১০
সিমিলার রেকমেন্ডেশনঃ The Girl Who Leapt Through Time, Garden of Words, A Silent Voice, Hotarubi no Mori e, Patema Inverted and other Makoto Shinkai movies.

স্পয়লারঃ মুভির কোথাও আমার নামটা খুঁজে পাইনি।

Kimi no Na Wa 2

Redline [মুভি রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

Redline 1

REDLINE
জনরা: সাইন্স-ফিকশন, কার-রেসিং 
স্টুডিও: ম্যাডহাউজ
সাল: ২০১০
দৈর্ঘ্য: ১০২ মিনিট

দেখে ফেললাম রেডলাইন। ২০১০ সালের মুভি তবে আলোচনা কমই হতে দেখেছি মুভিটা নিয়ে। মুভিটার খোঁজ কোন রিভিউ-ব্লগ থেকে পাই নি। পেয়েছিলাম এনিমে ইউটিউবার Gigguk এর একটা মজার ভিডিও থেকে। গিগাকের একটা ভিডিওতে দেখা যায় মিয়াজাকিরূপী স্টুডিও জিবলি ম্যাডহাউজকে ব্যঙ্গ করছে একটা goddamn মুভি বানানোর পেছনে সাত বছর পার করা নিয়ে। আমি তখনই ভাবলাম যে, ম্যাডহাউজের মত শক্তিশালী স্টুডিওকে সাত বছর ঘোরাতে পারে এমন কী জিনিস থাকতে পারে! নেট-টেট ঘেঁটে জানলাম সেই জিনিস হল ‘রেডলাইন’ আর মুভির পোস্টারের বাহার দেখেই চোখ কপালে উঠলো। অবশেষে দেখেই ফেললাম আর ম্যাডহাউজের সাত বছরের পরিশ্রম যে উশুল হয়েছে তা না বলে উপায় নাই। ‘রেডলাইন’ কোন মুভি নয় বরং একে একটা বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা বলা উচিত।

প্লট: রেডলাইনের দুনিয়াটা সুদূর ভবিষ্যতের যেখানে কার রেসিং খুব জনপ্রিয়। তবে সেখানকার রেসিং কারের সাথে আমাদের রেসিং কারের আকাশ-পাতাল তফাত। ভয়ানক রকমের দ্রুতগতিসম্পন্ন বিশাল বিশাল যান্ত্রিক দেহওয়ালা সেই রেসিং কারগুলোকে মানুষ-এলিয়েন সবাই সমানতালেই চালায়। আর সেই দুনিয়ার কার রেসিং এর সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের নাম হল ‘রেডলাইন’। গল্পের নায়ক
JP কে দেখা যায় সেই টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব ‘ইয়োলো লাইনে’ অংশগ্রহণ করতে। ভয়ানক রকমের বিপদজনক কিছু স্টান দেখিয়ে JP রেস জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌছে যায়। কিন্তু JP ইতোমধ্যেই মাফিয়া বসদের সাথে ম্যাচ পাতানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। তাই তাকে রেসে প্রথম স্থান বিসর্জন দিতে হয়। কিন্তু প্রথম না হওয়ার পরও JP রেডলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় দর্শকদের ভোটের কারণে! রেডলাইনের ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করা হয় ‘রোবোওয়ার্ল্ডকে’ যেখানকার সাইবর্গ সরকার আবার রেডলাইন রেসকে দুচোখে দেখতে পারে না। সেই সরকার তাই সচেষ্ট হয়ে উঠে রেস বানচাল করার জন্য কিন্তু এর মধ্যেই রেসে নেমে পড়ে রেসের আট প্রতিযোগী। JP এর সাথে রেসে আছে চারবারের রেডলাইন চ্যাম্পিয়ন ‘মেশিন হেড’ ও ইয়োলো লাইন চ্যাম্পিয়ন সুন্দরী ‘সোনোশি’। রেসটা একপর্যায়ে JP এর জন্য পরিণত হয় মাফিয়া, রোবট সেনাবাহিনী আর নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যকারের লড়াইয়ে।

আগেই একবার বলেছি রেডলাইন কোন এনিমের নাম নয়, এটি একটি ‘অভিজ্ঞতার’ নাম। মুভিটা দেখলে কথাটা আপনাদের একটুও অত্যুক্তি মনে হবে না। রেডলাইন ডিরেক্টর Takeshi Koike এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাজ। প্রথম কাজেই তিনি সৃজনশীলতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে দিলেন। রেডলাইনের অ্যানিমেশনের কথাই প্রথমে বলি। এমন অ্যানিমেশন যে জাপানে তৈরি হতে পারে তা সহজে বিশ্বাস হতে চাইবে না। রেডলাইনের পুরো দুনিয়াটা আশি আর নব্বইয়ের দশকের কমিকবুকের আদলে তৈরি। আকাশ-বাতাস, ল্যান্ডস্কেপ, পাহাড়-পর্বত সবকিছুতেই একটা অদ্ভুত তারল্য লক্ষ করা যায়। মনে হয় পিসির স্ক্রিনটা একটুখানি নড়ালেই সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে যাবে। পুরো এনিমের প্রতিটা ফ্রেমেই একটা কালচে আউটলাইনার ছিল অবজেক্টগুলার গায়ে যার ফলে সবকিছুকে অনেক জান্তব মনে হচ্ছিল। আসলে রেডলাইনের অ্যানিমেশনকে ব্যাখ্যা করতে গেলে হয়তো শব্দের অভাবেই ভুগতে হবে। পুরো এনিমেটাই ছিল ভয়ানক রকমের রঙিন। রেসিং কারগুলার বডির কালার ছিল চোখে পড়ার মত আর চরিত্রগুলোর দেহে নানা রঙের আউটফিট থাকায় একটা গ্রাফিটি গ্রাফিটি ভাব ছিল। গাড়িগুলো যখন রেস করতে থাকে তখন মনে হয় পেছনে একটা রঙের বন্যা বুঝি বয়ে গেছে। নিট্রো জিনিসটা গেইমে-টিভিতে অনেকবার দেখেছি কিন্তু রেডলাইনের নিট্রো দেখিয়ে দিল দেহের রক্তচাপ কিভাবে বাড়াতে হয়।

অ্যানিমেশনের ধারণা মানুষের মধ্যে কিভাবে এল? আমার মতে মানুষ যখন তার মনের আপাত অবাস্তব ও অসম্ভব ধারণাগুলো বাস্তব দুনিয়াতে বাস্তবায়ন/দৃশ্যায়ন করতে পারলো না তখনই অ্যানিমেশনের সাহায্য নিল। রেডলাইনকে এই হিসেবে অ্যানিমেশন জগতের অ্যানিমেশন বলা যায়। মানে একই সাথে এত এত পাগলাটে ঘটনার দৃশ্যায়ন ১০২ মিনিটে হয়েছে যে একে এনিমের মত অস্বাভাবিক জিনিসের মাপকাঠিতেও মাপা যাবে না। রেস বাদ দিয়েও স্পেইসশিপ ব্যাটল, প্রোজেক্টাইল ওয়েপনের মহড়া, ব্যাটলের ফলে পাহাড়-পর্বত কাগজের মত গুড়ো হয়ে যাওয়া, হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট এমনকি ঐতিহ্যবাহী কাইজু ব্যাটলও (Battle between monsters) ঠেসে ঢোকানো হল একটা রেসে। রেসের ল্যান্ডস্কেপ এত উল্টাপাল্টা রকমের ছিল যে পেইন ভার্সাস নারুতোর ফাইটের বিক্ষিপ্ত ল্যান্ডস্কেপও হার মানবে। গাড়ির স্পিড বাড়ানোর মুহূর্তগুলো এত উজ্জ্বল ছিল যে আলোর ঝলকানির কারণে চোখ পুরো ঝলসে যাওয়ার মত অবস্থা! নিট্রো দেওয়ার সময় চারপাশের স্পেইস মুভিতে এত ভয়ানকভাবে বেন্ড করছিল যে এক দৃশ্যের থেকে আরেক দৃশ্যে তাল মেলাতে পারছিলাম না। মেশিন হেডের সাথে ফাইনাল মুখোমুখির সময় দৃশ্যায়ন এত দ্রুত হয়েছিল যে কয়েকবার পজ করে স্ক্রিন আগুপিছু করিয়েছি শুধুমাত্র এটা বোঝার জন্য যে চারদিকে এসব ঘটছে! মুভি রেসিং কার নিয়ে তৈরি ঠিক আছে কিন্তু এর ফলে দৃশ্যায়নও যে রেসিং কারের গতিতে হবে তা কে জানতো! তাতামি গ্যালাক্সির মত এনিমেগুলাতে প্লেবেক স্পিড কমিয়ে দেখতে হয় সাবটাইটেল পড়ার জন্য, আর রেডলাইনে প্লেবেক স্পিড কমাতে হয়েছে জাস্ট what the hell is going on তা অনুধাবন করার জন্য।

এত দ্রুতলয়ের এনিমেতে যদি দ্রুতলয়ের মিউজিক না থাকে তাহলে তো উত্তেজনা ধরে রাখা সম্ভব না। সেই দিক দিয়েও হতাশ হই নি। টেকনো ধাঁচের দুর্দান্ত মিউজিক কম্পোজ করেছেন মিউজিক ডিরেক্টর James Shimoji. ইঞ্জিনের গর্জনকে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছে ট্র‍্যাকগুলো।Redline ও Yellow Line ট্র‍্যাকদুটো রেসের ইনটেনসিটির সাথে পুরোপুরি মানিয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশী অ্যাড্রেনালিন রাশ হয়েছিল ‘Machine Head’ ট্র‍্যাকটা শোনার পর। চারবারের চ্যাম্পিয়নের ভাবমূর্তির যথোপযুক্ত ট্র‍্যাক। চারটে দুর্দান্ত ইংরেজি গানও ছিল মুভির পশ্চিমাভাবের সাথে তাল মেলাতে। And it’s so beautiful গানটাতে আবেদনের মাত্রা বেশীই ছিল আর Redline Day গানটা যেন পুরো মুভির ভাবই বহন করছিল।

রেডলাইন মুভির যে জিনিসটা সবার চোখে পড়তে পারে তা হল এর গল্পের অগভীরতা। যদিও JP এর পাতানো খেলা সংক্রান্ত অন্ধকার অতীত ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার ব্যাপারগুলো আরো গভীরতা পেতে পারতো তবে মুভির দ্রুতলয়ের কারণে তা আর বোঝা যায় নি। মেশিনহেড মেইন রাইভাল হওয়ার পরেও তার দর্শনের একটু-আধটূ ইঙ্গিত পাওয়া যায় মাত্র। সোনোশি আর JP এর সম্পর্কটা আরেকটু বিস্তৃত হতে পারতো। রোবোওয়ার্ল্ডের সরকারের বিরোধিতার পেছনের ideology কে হয়তো ইচ্ছে করেই হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আসলে সিরিয়াস কোন রেসিং স্টোরি দেখতে চাইলে হয়তো রেডলাইন প্রথম চয়েস নাও হতে পারে। কিন্তু এন্টারটেইনমেন্টকে মাথায় রাখলে রেডলাইনই হবে এক নাম্বার রেসিং মুভি। হয়তো এসব জিনিস ডিটেইলে ব্যাখ্যা করা হলে মুভিটা এত উপভোগ্য হত না।

সাত বছর ধরে একটি মুভির পেছনে খাটাখাটির ফলাফল কী হতে পারে তা রেডলাইনের অ্যানিমেশন দেখে বুঝলাম। প্রায় ১০০০০০ এর মত হাতে আঁকা ফ্রেমের সমন্বয়ে রেডলাইকে পর্দায় আনা সম্ভব হয়েছে! যেখানে একটা ৪৫ মিনিটের মুভির জন্য চাহিদাভেদে ৯০০-১২০০ ফ্রেম লাগে। একদল অসম্ভব রকমের প্যাশন থাকা মানুষের কারণেই রেডলাইনের মহাকাব্যিক অ্যানিমেশন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। রেডলাইন আধুনিক অ্যানিমেশনের চূড়া সেই ২০১০ সালেই এঁকে দিয়েছে। যারা OPM এর সাইতামা ভার্সাস বোরোসের ফাইট দেখে চোখ কপালে তুলেছেন তারা রেডলাইন মুভিটা দেখে থাকলে পুরো ১০২ মিনিটই চোখ কপালে তুলে রাখবেন।

রেডলাইনের কিছু কিছু মুহূর্ত আজীবন মনে রাখার মত। নিট্রো দেওয়ার পর JP এর দাঁত-কপাটি লেগে যাওয়া চেহারা কে ভুলতে পারবে! রেডলাইন রেসের শেষমুহূর্তে JP এর বলা, I have got the goddess on my side” কথাটা চমৎকার ছিল। মেশিনহেডের বারবার ট্রান্সফর্ম হওয়া দেখে হালই ছেড়ে দিয়েছিলাম। ফ্রিসবি আর বুড়ো মোল আর অন্য সব চরিত্রের কৌতুকগুলাও ভাল ছিল। পুরো মুভিটাতেই একটা আবেদনময়ী ভাব প্রকট ছিল যা লক্ষ্য করেছিলাম কাউবয় বিবপ আর সামুরাই চ্যাম্পলুতে।

সবমিলিয়ে রেডলাইন যেন একটা বোমার মত এসে অ্যানিমেশন দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। তাই নিছক কোন মুভি নয়; বিস্ফোরক, রঙিন, আবেদনময়ী এবং ভয়ানক দ্রুতগতির এক অভিজ্ঞতার নাম রেডলাইন। চাদরে জড়সড়ো হয়ে থাকা যুবকের দেহে রেসিং কারের ইঞ্জিনের উন্মুক্ততা এনে দেওয়ার নাম রেডলাইন। দুর্দান্ত সব কার স্টান্টের মাধ্যমে দর্শকের চোখে স্বপ্ন এঁকে দেওয়ার নাম রেডলাইন।

MAL রেটিং: ৮.৩৩/১০ (জনগণের ভালই লেগেছে বোঝা গেল)
আমার রেটিং: ৯/১০

Redline 2

A Letter to Momo (Momo e no Tegami) [মুভি রিভিউ] — Torsha Fariha

A Letter to Momo

আর দশটা স্লাইস অফ লাইফ জানরার মতই শুরু হয় মুভিটা। প্রথম দৃশ্যে একটা ছোট্ট মেয়েকে দেখা যায় শীপের ডেকে দাঁড়িয়ে থাকতে। হাতে একটা সাদা কাগজ যেখানে শুধু লেখা “Dear Momo,” বুঝা যায় কারো শুরু করা চিঠি এটা। কিন্তু আর কিছুই লেখা নেই।
মোমো’র পাশে তার মা যখন এসে দাঁড়িয়ে দূরে তাদের গন্তব্য- ছোট্ট একটা দ্বীপ যখন দেখতে থাকে তখন থেকেই মোটামুটি একটা ক্লিশে স্লাইস অফ লাইফের শুরু আন্দাজ করা যায়।

কাহিনী খুব সংক্ষেপে বললে যেটা দাঁড়াবে সেটা হল অনেক দিন বাদে মোমো আর তার মা শহর থেকে ফিরছে মফস্বলে। বাবা ক’ দিন হল মারা গেছেন দুর্ঘটনায়। মা ভুগছেন অ্যাজমাতে। সবকিছু বেচাবিক্রি করে তারা তাই চলে এসেছে এখানে।

শহরের মেয়ে মোমো। জন্ম থেকে শুরু করে বড় হয়েছে সে সেখানে। তাই কৈশোর ছুঁইছুঁই বয়সটাতে সে কিছুটা গাল ফুলাতেই পারে এই হুট করে জায়গা পরিবর্তনে। এইজন্য শুরু থেকেই বেশ ঠান্ডা- চুপচাপ দেখা যায় মেয়েটাকে। জাহাজে যখন দাঁড়িয়ে ছিল তারা তখন হয়তো টুপ্টাপ বৃষ্টি পড়ছিল খানিকটা। আস্ত একটা পানির ফোঁটা যখন মাথায় পড়লো মেয়েটার সে চমকে তাকালো আকাশের দিকে।
কই বৃষ্টির নাম গন্ধ তো নেই!

পানির কণাগুলো এত সুন্দর করে প্রথমে দেখায় তাতে প্রাসঙ্গিকভাবেই মাকোতো শিনকাই এর কথা মনে পড়ে যায়। ভাবি, তার মুভিগুলার মত সুন্দর অ্যানিমেশন কি দেখতে পাচ্ছি তাহলে?

নাহ! আসলে সেরকম না মোটেও। তিনটা পানির ফোঁটা যখন ওদের পিছন পিছন টূকটুক করে বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে আসে তখনই বুঝি সুপারন্যাচারাল কিছু ব্যাপারস্যাপার আছে মুভিটাতে!

এভাবেই শুরু Letter to momo এর। গল্প এগুলে দেখতে পাব বাসায় অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডগুলো কেন হচ্ছে, মোমো’র বাবা কিভাবে মারা গেছেন, কেন মোমোর তার বাবাকে বলা শেষ কথা ছিল “I hate you, dad! You don’t have to come anymore”, কিংবা মোমো’র মা কি নতুন করে জীবন শুরু করতে চাচ্ছে কিনা… ইত্যাদি ইত্যাদি।

হাতে সময় থাকলে দেখে ফেলা যায় এমন একটা মুভি এটা। মোটে ২ ঘন্টার মত। শুরুটা একটু ধীর এগুলেও, একসময় কিন্তু ভালো দৌড়োতে থাকে কাহিনী। বিরক্ত লাগবে না একটুও! যেমনটা ভেবে বসা হয় মুভিটা দেখতে, শেষ করে উঠার সময় ভিন্ন থাকে অনুভূতিটা। অ্যাডভেঞ্চার, স্লাইস অফ লাইফ, কমেডি, সুপারন্যাচারালের বেশ ভালো একটা কম্বিনেশন।

বলছি না এটা বেশ আলাদা ধরনের কোন মুভি। বরং এটা আর দশটা প্রথম সারির স্লাইস অফ লাইফের সমান মজার। খুব বেশি জীবনবোধের কিছু নেই, দর্শক নিজের জীবনের সাথে মেলাবে এমন কিছু নেই। এই মুভিটা দেখা অনেকটা জানালা দিয়ে আরেকজনের জীবন দেখার মত।

Hope you guys will like it 

IMDB rating: 7.3
My Rating: 8

Fate Series Character Origin: Gilles de Montmorency Laval — Safayet Zafar

Caster 1

Full Name: Gilles de Montmorency Laval
Born: prob. c. September at France
Social standing: c (baron)

এই সেই ফেট জিরোর Gille de rais . Caster class, was a servant of Ryonnosuke

এই ব্যক্তি ছিলেন ফ্রান্সের একজন নোবেল ম্যান। ফান্সের ব্রিটানি (ফ্রান্সের উত্তর পূর্বে অবস্থিত) মিলিটারির সদস্য ছিলেন ১৫ শতাব্দীতে। তার ভাগ্য ছিল অনেক সু প্রসন্ন। তার জমা করা মোট সম্পত্তি এতোই বেশি ছিল তা ব্রিটানির ডিউকের মোট সম্পত্তিকে ছাড়িয়ে যায়। Hundred Years war এ তিনি অকল্পনীয় সাফল্য লাভ করেন যার কারণে তাকে মার্শাল অফ ফ্রান্স উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১৪৩৪/১৪৩৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মিলিটারি থেকে অবসর নেন এবং তার জমা করা সম্পদ বিপুল ভাবে খরচ করতে থাকেন। ১৪৩২ খ্রিষ্টাব্দে তার উপর সিরিয়াল কিলিং এর অভিযোগ আনা হয় যা ছিল ১০০ এর উপর বাচ্চা হত্যার।

Caster 2এর পর পর ই এক পাদ্রীর সাথে ভয়ংকর ঝগড়া হবার পর অভিযোগের তদন্ত যাযকীয় তন্দন্তে রূপ নেয় এবং ১৪৪০ খ্রিষ্টাব্দে তার অপরাধ সবার সামনে এসে পড়ে। তার বিচার কার্যে তিনি নিজের মুখে হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া বাচ্চাদের পরিবারের সামনে নিজের দোষ শিকার করেন।

তিনি ১ম হত্যা করেন জেউডন নামের ১২ বছর বয়সী এক ছেলেকে ( ১৪৩২-১৪৩৩) খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। এই জেউডন ছিল পশম প্রস্তুত কারী Gulliaume Hilairet এর সহকারী।

Gille de rais এর খালাতো ভাই Gilles de sille এবং Roge de Briqueville. সেই পশম প্রস্তুতকারী কে বলে জেউডেন কে নিয়ে যায় Machecoul এ একটি বার্তা পাঠাতে। যা ছিল পুরোই একটি মিথ্যা কথা এবং সেই বালক টি আর ফিরে আসেনি। তারা পরে অপহরনের কথা বলে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়।

Gilles de rais এর ১৯৭১ নং বায়োগ্রাফিতে Jean Benedetti বলেছেন যে বালকটি কিভাবে gille এর হাতে পড়ে ও মারা যায়।

“[The boy] was pampered and dressed in better clothes than he had ever known. The evening began with a large meal and heavy drinking, particularly hippocras, which acted as a stimulant. The boy was then taken to an upper room to which only Gilles and his immediate circle were admitted. There he was confronted with the true nature of his situation. The shock thus produced on the boy was an initial source of pleasure for Gilles.”

Gilles de rais এর দেহ ভৃত্য poitou যিনিও এসব নির্মম হত্যাকান্ডে সহায়তা করতেন তিনি স্বীকার করেছেন যে Gilles ১ম এ বাচ্চা দের কে উলঙ্গ করতো। তারপর তাদের একটি হুকের সাথে বেধে ঝুলিয়ে দিতো এবং তাদের গায়ের উপর বীর্যপাত করতো। এরপর তাদের আশস্ত করা হতো এই বলে যে সে তাদের সাথে কিছুক্ষণ খেলতে চায়। এরপর পরইর তাদের হত্যা করা হতো।

আর যেসব বাচ্চাদের Gilles এর পছন্দ হতো তাদের সে সোডোমাইজ (sodomize = kind of. sexually abuse like oral or anal sex).

সবশেষে তাদের পেট চিরে ফেলে তাদের ভিতরের অঙ্গপ্রতঙ্গ গুলো দেখতেন Gille, তাদের চুমু খেতেন ও পেটের উপর বসে মৃত্যুযন্ত্রনা দেখতেন। শেষে মৃতদেহ গুলো তার রুমের ফায়ার প্লেসে পুড়িয়ে ফেলা হতো।

সকল দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে ফাসির আদেশ দেওয়া হয় এবং ২৬ অক্টোবর, ১৪৪০ খ্রিষ্টাব্দে ৩৫ বছর বয়সে মারা যান। তাকে Church of the monastrey of Notre Dame des carmes যা Nantes এ অবস্থিত, সেখানে দাফন করা হয়। ধারণা করা হয় তার হাতে মারা যাওয়া বাচ্চার সংখ্যা ১৪০ জন।

Caster 3

Fullmetal Alchemist Brotherhood (FMAB) ফ্যান ফিকশন #2 — Rahat Rubayet

——– Fullmetal Alchemist Brotherhood (FMAB) ফ্যান ফিকশন ——–
Part 2:
———————–

দুঃস্বপ্নের রেশটুকু ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকলো সকাল হতে না হতেই। সেই সুন্দর মিষ্টি একটা আবহ ঘুরঘুর করছে যেন গোটা বাড়ি জুড়ে। উইনরি নিজের মনমত একটা ব্যখ্যা দাড় করিয়েছে অবশ্যএর পেছনে। এড বা শেলী যে কেউই কাছাকাছি থাকলে কিভাবে কিভাবে যেন বুঝে ফেলে ও। ওদের গায়ের গন্ধই আর ১০ জনের থেকে আলাদা আর আপন আপন লাগে উইনরির কাছে। যতক্ষণ ওরা কাছেপিঠে থাকে, ভালোলাগার অবসন্ন একটা ভাব ভর করে থাকে গোটা অস্তিত্ব জুড়েই। উইনরির কাছে মাঝেমাঝে ঘোরের মতন বোধ হয় গোটা ব্যপারটা। এতো প্রশান্তির এতো সুখের আর সাজানো গোছানো সংসার নিয়ে প্রতিনিয়তই কেন যেন ভীতি কাজ করে ইদানীং ওর।
এতো সুখ সইবে তো? এমন নির্ঝঞ্ঝাট সংসারের স্বপ্ন সবাই দেখে- সব্বাই। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘ সময়কাল ধরে তার প্রতিফলন কেমন যেন অস্বস্তির জন্ম দেয়। উইনরি অস্বস্তির ভাবটুকু কাধ ঝাঁকিয়ে ফেলে দেয়। রান্নার জন্য যে বাড়তি কাপরটা গলায় পেচিয়ে রাখে তা খুলতে খুলতেই মিষ্টি আর বহুল পরিচিত একটা গন্ধ এসে ধাক্কার মতন লাগলো নাকে।
এড পারফিউম ইউজ করছে। এডের সবকিছুই উইনরির ভালো লাগলেও, এই পারফিউমটার প্রতি কেন যেন ভালো লাগা বোধ টা অস্বাভাবিক মাত্রায় কাজ করে। উইনরির মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। স্মিত প্রশান্তির হাসি নিয়ে খাবার ঘরটা পার হয়ে বেডরুমের দরজার গায়ে হেলান দিয়ে দেখছে এড শেলীকে রেডি করিয়ে দিচ্ছে স্কুলের জন্য। শেলীর দিকে তাকিয়েই কেমন যেন বুকের একপাশটা হুহু করে উঠলো ওর। কাল রাতের দুঃস্বপ্ন টা হটাত যেন চোখের সামনে জীবন্ত দেখতে পাচ্ছে। জোর করে হাসিটা ধরে রেখে বাকি সব চিন্তা মাথা থেকে দূর করে দিতে চাইলো ওর।
শেলী ঘুরে তাকালো, সোনালী বড় বড় চুল আর মায়াকাড়া চোখে এড আর উইনরি ছাড়াও এডের মায়ের একটা ছাপ দেখা যায় কেমন যেন। উইনরি নিজের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এড আর শেলীকে বিদেয় দিয়েই বরাবরের মতন ঘরদোরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরে ও।
দেখতে দেখতে বেলা গড়িয়ে যায়। এ কাজ ও কাজ করতে করতে মনের আনন্দে প্রজাপতির মতন উড়তে থাকে যেন উইনরি। গুনগুন করতে করতেই ঘড়ির দিকে তাকায়।
আসার সময়ে হয়ে এসেছে ওদের। ভালো লাগার তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে, রোদের ভাবটা কমতে শুরু করায়। সামনের উঠোনের পারের স্মোক ট্রি গুলোর কাছে এসে বাতাস টা উপভোগ করতে থাকে উইনরি। উইনরির চিন্তার ডালপালা ক্রমশ বড় হতে থাকে। জীবনের বিভিন্ন সময়ের ঝড়ঝাপটা, আর শেষে এসে এডের সাথে থিতু হওয়া। সময়গুলোর ভেতরে জীবনের অপ্রাপ্তির কিছু খোজার চেষ্টা করে না উইনরি। একাএকা এই যে ওদের জন্য অপেক্ষা করছে, সে সময়টাও কি অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করতে থাকে ওর ভেতর।
ওদের দেরি দেখে উইনরি ঘরে ঢুকে সোফার ওপর বসে, মখমলের হাতলের ওপর এক কনুই ভাজ করে রেখে কাত হয়, সোনালি চুলগুলো একপাশে টেনে আনে। আচ্ছন্নবোধ টা কাটে দরজায় শব্দ শুনে। উইনরি উঠে গিয়ে দরজা খুলে শান্ত ছোট ছোট পা ফেলে। মুখে একগাল হাসি ধরে রেখেই কপট রাগ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে করতে দরজা খোলে।
এড দরজার বাইরে দারিয়ে আছে,দু হাতে পাজোকালো করে শেলীকে ধরে। শেলীরকানের পাশ দিয়ে রক্তের মোটা ধারা শুকিয়ে এসেছে। রক্তের দাগ স্কুল-ইউনিফর্ম জুড়েই। উইনরি এডের চোখের দিকে একবার তাকায়, আবার পরক্ষনেই শেলীর দিকে তাকায়। উইনরির কাছে গোটা ব্যাপারটাই দুঃস্বপ্নের মতন মনে হতে থাকে।

———————–

The Twelve Kingdoms [রিভিউ] — Krista King

Twelve Kingdoms 1

Anime name: JUNNI KOKUKI or JUNI KOKKI or THE TWELVE KINGDOMS
Genre: Wiki অনুযায়ী fantasy drama romance, MAL অনুযায়ী action adventure fantasy. আমার মতে historical fantasy adventure political and action.
Demographic: Shoujo (কোনো দিক দিয়েই মনে হয়নি), mature বস্তুও আছে।
Written by Fuyumi Ono
Illustrated by Akihiro Yamada
Aired: 2002 to 2003
Episode no: 45

এই আনিমেটা আমার ভালো লাগার সর্বমূল কারণ হল- এই আনিমের মহিলা কেন্দ্রীয় চরিত্রটি অন্যান্য shonen ও shoujo seriesএর মহিলা মূল চরিত্রের মত ভ্যাঁ-ভ্যাঁ করে কেঁদে নায়কের বুকে গড়াগড়ি দেয় না। যেখান সেখান থেকে অতিসুন্দর ক্ষমতাশালী কেউ এসে নায়িকাকে কোলে তুলে নেয়না। যেখানেই যায় সবাই তাকে ভালোবেসে ফেলে এমন ভাগ্যবান নায়িকা নয়।

প্রথম থেকেই সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় নায়িকাকে, অসহায় নায়িকা কোনোমতে সকলকে বাঁচালেও কেউ তাকে ভালোবাসে না বরং সকলেই ঠকানোর চেষ্টা করে। সৌরিয়, কেঈকী তাকে সাহায্য করলেও, তাকে উপদেশ দিয়েছে কিন্তু তার হয়ে লড়াইটা কেউ লড়ে দেয়নি। নিজেকেই নিজের অস্ত্র বানিয়ে শক্তিশালী হতে বাধ্য হতে হয়েছে তাকে।

Twelve Kingdoms 2রাজনীতি ও অ্যাকশন দেখানোর জায়গাগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে, এই আনিমে আকৃষ্ট হবার যেটা অন্যতম প্রধান কারণ।

কত ধরনের শাসক হয়ে, কেউ অত্যাচারী, কারোর রাজনীতিতে মন নেই, কেউ অপরাধ মুক্ত দেশ বানাতে গিয়ে নির্দয়ী হয়ে যায় আবার কেউ রাজ্য ও জনগণকে সম্পদের মত আগলে রাখে। রাজ্য চালনা, সাধারণ মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, অনাহার। তারই মধ্যে আবার মানুষের স্বার্থপরতা। শাসকের সামান্য ভুলে কীভাবে পুরো দেশকে ভুগতে হয়। শাসকের প্রতি দেশবাসীর প্রতিহিংসা, বিদ্রোহ। সেজেগুজে সিংহাসনে বসলেই যে কেউ রাজা বা রাণী হতে পারে না।
আরেকটি জিনিস যেটা দেখানো হয়েছে সেটা হল একটা বিশ্ব-গঠন। ঠিক কি নিয়মানুসারে এই জগৎ টা চলে। কীভাবে সন্তানের জন্ম হয়। কি করে শাসক নির্ধারণ হয়, মন্ত্রীত্ব, শাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা। সমস্ত তথ্য খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপিত।

রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী, গল্প বলার ধরনে কোনোরকম কথা হবে না, শুধু অসাধারণ। চিত্রাঙ্কন অতীব সুন্দর ও very classic, কোনো অতিরূপসী, overmuscled, অতিমিষ্টি ও লোলি-মুখো নেই…. সাধারণ অথচ আকর্ষক। এতটাই classic যে চোখ সরানো যায় না।

শুধু নায়িকারই অসামান্য লড়াই দেখার জন্য যখন মন উদ্বিগ্ন তখন অন্য চরিত্রদের কাহিনী শুনতে যেন bore লাগছিল, জানি এটা আমার ইচ্ছে মাত্র, আসলে লেখক সব চরিত্রকেই যথাযথ ভূমিকা দিয়েছে- এটা খুবই ভালো জিনিস। যুদ্ধের জায়গাগুলো যতটা দেখানোর ততটাই ঠিক দেখিয়েছে, তবুও আমার আরো যুদ্ধ দেখতে ইচ্ছে করছিল।

আসলে যতটুকু বলেছি কমই The Twelve Kingdom তারচেয়ে আরো অনেক বেশি।

Twelve Kingdoms 3

Love Live! Sunshine!! [রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

Love Live Sunshine 1

Love Live! Sunshine!! 
Episode: 13
Genres: Music, Slice of Life, School

লাভ লাইভ আনিমেটার জনপ্রিয়তা এখানে একেবারে নাই হলেও, জাপানের অন্যতম সফল ফ্র্যানচাইজগুলোর একটা হল লাভ লাইভ। আর কেন হবে আগের কাহিনী একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা পার্ফেক্ট স্টোরি বলতেই হবে এর সাথে এক অসাধারণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, শুধু তাই না মিউজ আইডোল গ্রুপটার প্রত্যেকটা চরিত্রই অনেক উইনিক এবং অনেকভাবেই দর্শকের মনকে আকর্ষণ করে, এই কারণগুলোর জন্যেই বাইরে এর ফ্যানবেজ এতটা ক্যানসারাস এবং সেরা চরিত্রকে এ নিয়ে বলতে গেলে ভক্তদের মাঝে মারামারি লেগে যাওয়ার মত। আসলে মানুষ ভালো জিনিশের কদর করবে এটাই স্বাভাবিক। যাই হোক, আগের সিরিজের এত সফলতা পেয়ে, সিরিজটার অন্য এক সেটিং-এর উপর এক স্পিন-অফ সিরিজ হিসেবে গত বছরে বের হয় সানশাইন।

কাহিনীর প্লট লাভ লাইভের মুভির পর পর সময়েরই, সেখানে মিউজ এখন অনেক জনপ্রিয় এক আইডোল গ্রুপ, যা মিউজের গন্তব্য ছিল আর কি। এদেরকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে সিরিজের প্রধান চরিত্র চিকা এবং নিজেদের স্কুলে এক স্কুল আইডোল গ্রুপ খুলতে চান তার বান্ধবী ইয়ৌকে নিয়ে। কিন্তু তাদের স্টুডেন্ট কাউন্সিলের ডাইয়া কোনমতেই তাদের মেনে নিবে না। এরপর তাদের উরানোহোশি গার্লস হাইস্কুলে ট্রান্সফার স্টুডেন্ট হিসেবে আসে সিরিজের আরেক প্রধান চরিত্র রিকো। কোনমতে তাকে রাজি করিয়ে ইয়ৌ, রিকো এবং চিকা এই ৩ চরিত্র মিলে তৈরি করে আইডোল গ্রুপ Aqours এবং এই গ্রুপ কিভাবে আরও বড় হয়, মূলত একটা পার্ফেক্ট শেপে আসে এ নিয়েই সানশাইনের মূল কাহিনী। কাহিনী অনেকটা আগের সিরিজটার মতই চলে, তবে সেটা আনিমেটার প্রথমার্ধ। পরের দিকে যেয় ঠিকই নিজের গতিতেই আগাতে থাকে সানশাইন। তবে আগের লাভ লাইভের প্রতিচ্ছায়া যে এই সিরিজে অনেক ভালোভাবে আছে, তা উপলব্ধি করতে পারবেন বিভিন্ন ধাপে ধাপে। কিন্তু তাও সব মিলায় উপভোগ করার মত এক কাহিনী সানশাইন।

Love Live Sunshine 2

সানশাইনের আর্ট অনেক বেশি সুন্দর। আগের সিরিজের তুলনায় ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যানিমেশন বহু গুণের সুন্দর করেছে আর সাথে সিজি বহু গুনের কম। সিরিজের প্লট যেহেতু টোকিয়ো থেকে অনেক দূরের এক এলাকায়, যেটা কি না একেবারেই সমুদ্রের পাশে, তাই আনিমেটায় সমুদ্র এবং বাকি নানা রকম প্রাকৃতিক দৃশ্যের অ্যানিমেশন অনেক সুন্দর এবং যত্ন করে বানানো হয়েছে, একেবারে তাকায় থাকতে মন চাবে এরকমই। বিভিন্ন মুহূর্তে চমৎকার এনিমেশনের কাজ দেখিয়েছে এই আনিমের অ্যানিমেটররা।

জন্রায় মিউজিক আছে, তো OST যে অনেক ভালো হবে এটাই স্বাভাবিক। OP-ED দুইটাই অনেক সুন্দর গান, আনিমের থিমের সাথে মানানসই এবং অনেক উপভোগ করার মতই আর কি। আর এছাড়া আইডোল গ্রুপগুলোর গানগুলো তো আছেই। তবে লাভ লাইভ সিরিজে কেন জানি রাইভাল গ্রুপগুলোর গানগুলো অনেক বেশি ভালো হয়। আগের সিরিজেও A-Rise-এর গানগুলো বেশি ভালো লাগছে এখানেও Saint Snow মাত্র একটা গান গেয়েছে কিন্তু ওটাই আমার কাছে সবচেয়ে সেরা ইনসার্ট সং লেগেছে। এছাড়া Aqours-এর গানগুলোও ভালো ছিল তবে তাদের যেই দুইটা গান সবচেয়ে ভালো লাগছে সেইটা সিরিজে ছিল না।

সিরিজের ৯ জন প্রধান চরিত্র এবং একেকজনের কাজকর্ম একেকরকম, কিন্তু সবার কাজকর্ম দেখেই বহু মজা পাওয়ার মত। এখানে প্রত্যেক চরিত্রের মাঝেই মিউজের একেকজনের ইনফ্লুয়েন্স অনেক বেশি রকমের ছিল। সানশাইন অনেকটা লাভ লাইভের প্রথম সিজনের মত ছিল, পুরো আইডোল গ্রুপটাকে একত্রে নিয়ে আসা নিয়ে। তাই আগের লাভ লাইভের মত সিরিজের চরিত্রগুলো সেরকম আপন হয়ে উঠবে না, যা হইছিল আগের সিরিজেরও দ্বিতীয় সিজনে। সানশাইন আরেক সিজন পাইলে তখন সিরিজটার চরিত্রগুলোর ইম্প্রুভমেন্ট আরও ভালোভাবে চোখে পরবে কেননা সিরিজ যেখানে শেষ করেছে এখন মাত্র তারা নিজেদের লক্ষ্যের দিকে আগানো শুরু করছে। আর সানশাইনের ভয়েস অ্যাক্টিং অনেক বেশি ভালো ছিল, সেইয়ুগুলো চরিত্রগুলোর ইউনিকনেস ফুটে তুলতে সক্ষম। আর আগের সিরিজের মত এখানেও সিরিজের মূল চরিত্রের সেইয়ু সব নবাগত সেইয়ু, কিন্তু তাদের কাজে এর একটুও প্রতিফলন ঘটে নাই যে তারা নবাগত।

লাভ লাইভের কাহিনী অনেক সুন্দর, তাই আমি বলবো এখনও না দেখে থাকলে দেখতে পারেন খারাপ লাগবে না। আর আগের সিরিজ দেখে থেকে সানশাইন এখনও শুরু না করলে বলবো সানশাইনও শুরু করে দিন, ভালো লাগবে।

Love Live Sunshine 3

Kekkai Sensen [রিভিউ] — নাফিস মুহাইমিন

এবং একদিন শহরে। কিছু প্রশ্নের খোঁজে। এলোমেলো পা ফেলে হেঁটে চলা রাস্তায়। সুন্দর ধূসর।

ফটোগ্রাফি? তাতে থিতু হতে পারা যেত। সর্বদর্শী চোখ দুটোর কাছে ক্যামেরার লেন্স নিরর্থক হয়ে না পড়লে।

বিভ্রান্ত নায়ক প্রাক্ নিউ ইয়র্কে, ভেতরে বাইরে উদভ্রান্ত জীবেদের ভিড়ে হারিয়ে। তার সাথেই সময় কাটালাম প্রহর দেড়েক। জানাতে এলাম সে খবর।

Kekkai Sensen 1

টাইটেল: কেক্কাই সেনসেন
পর্ব: ১২
জনরা: শৌনেন
ম্যাল রেটিং: ৭.৭

গল্পের চাষ ইয়াসুহিরো নাইতোর কালিতে, কলমে। অজানা থাকার কথা নয়। ট্রিগান বা গানগ্রেভের মতো কাহিনীর রূপকার তিনি। ম্যাঙ্গাকা ওয়েস্টার্ন সেটিং-এ গল্প রচনায় সিদ্ধহস্ত। বেছে নিলেন পোস্ট অ্যাপোক্যালিপ্টিক স্টোরিলাইন কেক্কাই সেনসেন-এ। ম্যাঙ্গা এখনো অনগোয়িং। ২০১৫ তে ওয়ান কু’র অ্যানিমে অ্যাডাপ্টেশন পায়। স্টুডিও বোনস্। হেলসালেম’স লটে বিচিত্র নির্ঘণ্টে চলতে থাকা ঘটনা দুর্ঘটনাগুলো দর্শকপ্রিয়তা পেতে দেরি করে না। মূল চরিত্রে সম্ভবত মিশরীয় সৌরদেবতা রা, হোরাসের অবতারণা করা হয়। একেবারে ডার্ক থিমড না হলেও সমালোচকরা ইতিবাচকভাবে এর মাঝে খুঁজে ফিরেছেন বাকানো!- এর ছায়া।

Kekkai Sensen 2

নরম রোদ গায়ে এসে পড়লে যেমনটা লাগে। তুলোট উষ্ণতা। অ্যানিমেশন অনুভূতি সৃষ্টি করে তেমনটাই। প্রথম দর্শনে মনে রেখাপাত করতে যথেষ্ট। ম্যাঙ্গার আর্টওয়ার্কে একরকম সারল্য ধরা পড়ে। সে তুলনায় স্ক্রিনে যারপরনাই ব্যস্ততা। অ্যাকশন সিন হোক বা সোফায় গা এলানো অলস মুড ― সূক্ষ্মতার সাথে বোনা হয়েছে প্রতিটা দৃশ্য। রঙের ব্যবহার অকৃপণ। আর্বান ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে আলো ছায়ার মিতালী। অনিয়মিত একটি পৃথিবীর গল্প বলতে উপযোগী বেদী আর কোনো কিছুতে হতো কি?

কোনো ছাঁচে ফেলে চরিত্রগুলো মাপতে যাওয়া বৃথা। অল্প কিছু প্যারামিটার ধরে রেখে কাহিনীকার তাদের ছেড়ে দিয়েছন ঘুরতে, ফিরতে। মানব প্রবৃত্তির অলিতে গলিতে। খামখেয়ালিপনাতে কমতি নেই কারো। টান পড়েনি স্বকীয়তায়। আর অসংলগ্নতায়। লিওনার্দো, সনিক, জ্যাপ। পর্দায় এই ত্রয়ী হাজির হলেই চমকে উঠতে হয়। গুর‍্যেন লা’গান দেখছি নাতো? ভিলেনদের তুলনায় কখনো কখনো প্রোটাগনিস্টদের পিছিয়ে পড়তে হয়, পিছিয়ে রাখতে হয়। ফেমট আগ্রহ ধরে রাখতে পারছে। সামনে কী নিয়ে অপেক্ষা করে আছে সে দেখার বিষয়। চরিত্রগুলোর বিকাশে সেইয়ুরা কম করেননি। কেক্কাই সেনসেন ভয়েস অ্যাক্টিং পর্ষদের বাকশিল্পীরা অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত। তাছাড়া ইংলিশ ডাবিংও খুব ভালো হয়েছে। সবরকম দর্শকের জন্য ব্যাপারটা স্বস্তির।

Kekkai Sensen 3

মোজার্টের ম্যাজিক ফ্লুটে ডুব দিয়েছি। তবু তার চেয়ে বেশি ভালোলাগা ব্ল্যাকের শিসে। শুনছি মোহিত হয়ে। অ্যানিমেতে ক্লাসিকাল মিউজিক অ্যাডাপ্ট করার প্রবণতা বেশ মজার। ইদানীংকালের অনেক শো’তে চোখে পড়ছে হঠাৎ হঠাৎই। ম্যাজিক ফ্লুট ওভার্চারের স্লো ভার্শনকে আশ্রয় করে তোলা শিসে উন্মনা না হয়ে পারা যায় না। কিং অব ডিসপেয়্যার চরিত্রের সব রহস্যময়তা ধরা দেয় যেন এই হুইসেলে।

আউটস্ট্যান্ডিং কিছু কাজের মাঝে কেক্কাই সেনসেন- এর সাউন্ডট্র্যাক স্থান করে নিতে পারে। কী অর্কেস্ট্রা, কী লাউঞ্জ। পপ বলুন বা ইডিএম। কাহিনীপট বিবেচনায় মিউজিক কম্পোজিশন অনবদ্য। পর্দার পেছনের শিল্পীরা নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। সময়ে সময়ে টের পাওয়া যায়। সাড়া জাগানো ট্র্যাকের কথা উঠলে ‘হোয়াইট গ্লাভস’, ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’, ‘ল্যান্ড অব নড’ এর নাম আগেভাগেই করে ফেলা যায়। আমার বেশ কিছু নির্ঘুম রাতের সঙ্গী ছিল ‘কীপ অন দ্য সানি সাইড’, ‘আর্লি ট্রেইন’ আর ‘স্টারবো’। নান্দনিকতা বিচারে ট্র্যাকগুলোর তুলনা চলতে পারে খুব কম কাজের সাথেই। চিত্তাকর্ষক মিউজিকের কারণে অ্যানিমেটা জায়গা করে নিবে দর্শকের মানসপটে।

কেক্কাই সেনসেন- এর এন্ডিং থিম নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করা যেতে পারে। শিল্পীরা সুযোগটা রেখেছেন। ইউনিসন স্কয়ার গার্ডেন ব্যান্ডের করা ‘সুগার সং তো বিটার স্টেপ’ গানটা কানে পৌঁছলে মন থেকে সব অন্ধকার দূর হয়ে যায়। সিজনসেরা ছিল থিমটা বলা বাহুল্য। সেই তুলনায় ওপেনিং থিম ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড! ‘ বেশ মিডিওকার।

Kekkai Sensen 4

শৈশবে সেইনেন আর ফিলসফি কপচে হঠাৎ হাতে পেলাম কেক্কাই সেনসেন। মনে হলো বেশতো, দেখে ফেলি। হতাশ হইনি। মানবহিতৈষা, বন্ধুত্ব, পরিবার, জগৎ উদ্ধার — এই আর কি। টুপ করে গল্পের মাঝখানে পড়ে যাওয়ার আনন্দ আছে। আনন্দ পাচ্ছি।

অপেক্ষায় আছি সেকেন্ড সিজনের।

Kekkai Sensen 5

Kotoura-san [রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

Kotoura-san 2

Kotoura-san
Genre: Comedy, Drama, Romance, School
Episode: 12

ছোট কিছুর মাঝে বেশ ভালো আনিমে খুজছেন তাহলে কোতোউরা-সান সেরা সাজেশনগুলোর মাঝে একটা। শুরু থেকে শেষ অত্যন্ত পার্ফেক্ট একটা জিনিস এই আনিমে।

অত্যন্ত হাসি-খুশি একটা আনিমে এটি কিন্তু কাহিনীর শুরুটা হয় বেশ ডার্কভাবে। কেননা সিরিজের প্রধাণ চরিত্র কোতোউরা হারুকা হল এমন একজন যিনি কি না আশে পাশে সবার মনে কি আছে তা শুনতে পারে। আমরা যতই এরকম কোন ক্ষমতার আশা করি না কেন, আসে পাশের মানুষ যখন এটা বুঝতে পারবে তখন আপনার থেকে দূরে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা এড়িয়ে যেতে পারেননি কোতোউরাও। যখন থেকে সবায় বুঝা শুরু করে তার এরকম অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা আছে, তার ক্লাসমেট, বন্ধুৃ-বান্ধব থেকে শুরু করে তাকে ছেড়ে চলে যান এমনকি তার পিতা-মাতাও। এভাবেই একা একা বড় হয়ে উঠে কোতোউরা তার মিড্ল স্কুল পর্যন্ত। তবে তার জীবনটা পরিবর্তন হতে থাকে হাইস্কুল থেকে, মানাবে নামক এক ছেলের সাথে দেখা হওয়ার পর। মানাবে অত্যন্ত সড়ল একজন চরিত্র যার মাথায় কি না সারাদিন পার্ভার্টেড চিন্তা-ভাবনা ছাড়া কিছু ঘুরে না। এ জিনিস নিয়ে কোতোউরারও কম জ্বালাতন সহ্য করতে হয় না, কিন্তু এরকম একজনই তার আপন হয়ে উঠছে যখন কি না সবায় তাকে উপেক্ষা করে তাই তাকে তো আর দূরে সরানো যায় না। এরপর ঘটনাক্রমে কোতোউরার সাথে খাতির হয় তার ক্লাবের সেনপাইদের সাথে মিফুনে এবং মুরোতো সাথে তার বন্ধু হয়ে উঠে মোরিতানি।

বেশ ডার্কভাবে শুরু হওয়া সিরিজটা বুঝার আগেই এক হাসি খুশি আমেজ নিয়ে আসে। কাহিনী কিছুটা গভীর হতে থাকলেও মুহুর্তের পর মুহুর্ত থাকে আকস্মিক কমেডি। তবে রোম্যান্স অংশটাও বেশ আকর্ষণপূর্ণ হতে থাকে এবং সাথে কাহিনী এভাবেই আগাতে থাকে যেন আপনাকে এরপর কি হবে সেটা দেখার জন্য বসিয়ে রাখবে। মানুষের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলা কোতোউরা কিভাবে আস্তে আস্তে তার হারানো মানুষ ফিরে পায় এটা নিয়েই আনিমের মূল কাহিনী।

সিরিজটার এক আকর্ষণীয় দিক হল এখানকার চরিত্রগুলো। প্রত্যেকটি চরিত্রই ব্যতিক্রমী এবং বেশ মজাদার। ঘটনার ক্রমে সবাইকে ভালো লেগে উঠার মত। এছাড়া চরিত্রের ডিজাইনটাও ছিল ব্যতিক্রমি তবে কোনভাবেই দৃষ্টিকটু নয়।

সিরিজের আর্টটা তেমন আহামোরি কিছু নয়। ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট অত্যন্ত সাধারণ। দেখেই যে চোখ ঝলসায় দিবে সেরকম কোন আর্টের ধারে কাছে নয় সিরিজটির আর্টটা তবে খারাপ যে লাগবে না তার গ্যারান্টি দিতে পারি। তবে আর্ট যেমনই হোক না কেন সিরিজটার ওপেনিং এবং এন্ডিং অনেক মিষ্টি। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকগুলো অতি সাধারণ ছিল। বলবো যে ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথেই মিশে গেছে আলাদা করে কানে এসে বাধেনি। কিন্তু ওপেনিং গানটা অনেক সুন্দর এবং এত কিউট যে পুরো ডায়াবেটিস ধরিয়ে দেওয়ার মত জিনিস। ওপেনিং গানটি মেগুমি নাকাজিমার গাওয়া (যিনি কি না কাঙ্কোলেতে গোয়া, ইবুয়া, মিকুমা এদের কণ্ঠ-অভিনেত্রী) তবে তিনি কোন চরিত্রের কণ্ঠ দেননি এখানে (অবশ্য একজন গায়িকা হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাতিমান)। এছাড়া এন্ডিং গানগুলোও ঠাণ্ডা মেজাজের এবং বেশ সুন্দর।

Kotoura-san 1

কোতোউরার কণ্ঠে কানেমোতো হিসাকোর কাজ অত্যন্ত শ্রুতিমধুর ছিল। তার সফ্ট টোনের চরিত্রেরগুলোর একটি কোতোউরা। এছাড়া মিফুনের কণ্ঠে কানা হানাজাওয়ার কাজ ছিল নিখুত । শিমোনো হিরো আর ফুকুশিমা জুনের জন্যও মানানসই রোল ছিল মুরোতো এবং মানাবে। আর কুবো ইয়ুরিকা মূলত লাভ লাইভের হানায়োর জন্য সবচেয়ে পরিচিত, তার শুনা সেরা রোলগুলোর একটা মোরিতানি। ইনৌয়ে কিকুকো (কুমিকো) এবং ওয়াতানবে আকেনো (সুকিনো) এদের কণ্ঠ অভিনয়ও ছিল অত্যন্ত নিখুত। এছাড়া সিরিজের এক-দুই লাইন পাওয়া চরিত্রগুলোর সেইয়ুদের নাম শুনলেও চোখ মাথায় উঠবে, এই তালিকায় ছিল তানেদা রিসা, উচিয়ামা ইয়ুমি, আকাসাকি চিনাৎসু, তাকাহাশি মিকাকো, ওনিশি সাওরি এদের মত সেইয়ুদের নাম । অবশ্য তখন তাকাহাশি মিকাকো ছাড়া আর কেউই তেমন কোন রোল পায় নাই।

সিরিজটার রোমান্সটা অনেক সুন্দর ছিল, বিল্ডাপটা অনেক পার্ফেক্ট ছিল, সব মিলায় কোন খুত নাই এরকম একটা সিরিজই হয়ে উঠেছে। এছাড়া আপনাকে যতই দূরে ঠেলে দেক না কেন অথবা যে কারণেই আপনার সাথে থাকুক না কেন, কিছু কিছু মানুষ যে কখনই আপনাকে মন থেকে দূরে ঠেলে দিবে না এ বিষয়টা অনেক সুন্দর করে তুলে ধরেছে। অতএব, কারো সাথে ঝগঢ়া এ নিয়ে মন খারাপ থাকলে আমার মতে ওই সময়ে দেখার জন্য পার্ফেক্ট আনিমে হল কোতোউরা-সান। তবে অন্য সময়ও বসে দেখলে আপনাকে একটুও নিরাশ করবে না আনিমেটি। তাই যত তারাতারি পারুন দেখে ফেলুন এই আনিমেটি।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৯.৫/১০

আন্ডারকারেন্ট [মাঙ্গা রিভিউ] — Rumman Raihan

Undercurrent

“সুকি নো ইউ” বাথহাউজের মালিক কানায়ে সেকিগুচির বয়স তেমন বেশি না। মাত্র চার বছর আগেই হাই স্কুল থেকে পাশ করে বেড়িয়ে সে বিয়ে করে ফেলে এক সহপাঠী যুবককে। তার কিছুদিন পর বাবার মৃত্যুর কারণে উত্তরাধিকার হিসেবে বাথহাউজের দায়িত্ব পড়ে কানায়ে আর তার স্বামীর উপরে। সেখানে দুজনে মিলে বাথহাউজের দেখাশোনা করে সংসার শুরু করে ফেললো। বেশ ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিল তাদের।
তারপর…

একদিন কানায়ের বর হারিয়ে গেল। অন্যসব দিনের মতই কাজের খাতিরে তাকে বাইরে যেতে হয়েছিল। কিন্তু সে আর ফিরে আসলো না। সবজায়গায় অনেক খোঁজ করা হল। কিন্তু সে কোথায় আছে, কেমন আছে তার কখনো হদিস পাওয়া যায়নি।

মাঝে মাঝে, লোকমুখে নানান আলাপ শোনা যায় কানায়ের বরের নিখোঁজ হবার রহস্য নিয়ে।
এখন কানায়ে আর তার এক মাসি মিলে ঐ বাথহাউজটার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কানায়ে কাজের মাঝেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায়। হারিয়ে যাওয়া মানুষের জন্যে জীবন থেমে থাকে না।
তবে গভীর দুঃখ যে বার বার দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে না, তা না। অতীতের ঘোলাটে স্মৃতিগুলোর কথা মনে করলেই রাগ, হতাশা, ঘৃণা, ভালোবাসা সব অনুভূতিগুলো একসাথে ভেতরে জট পাকিয়ে যায়। আর কতদিন একজনের অপেক্ষায় বসে থাকা যায়? প্রতিদিন টিভিতে, সংবাদপত্রে চোখ রেখে, দরজায় কান পেতে…

একদিন একজন লোক আসলো সেই বাথহাউজে কাজের সন্ধানে। কানায়ের বরের হারিয়ে যাওয়ার পর একজন কাজের লোকের দরকার পরেছিল বেশ কদিন ধরেই, হোরি নামের এই যুবকটি সেই অভাব পূরণ করে দিতে কাজে লেগে পড়লো। সে অনেক ভদ্র আর নিরব স্বভাবের মানুষ, যার কাছে মনের অনেক গোপন কথা অনায়াসে বলে দেয়া যায়। আচ্ছা, হোরি কানায়ের জীবনে ভালোবাসার মানুষের অভাবটাও পূরণ করে দিতে পারবে কি?
নাকি সেও একদিন তাকে কিছু না বলে উধাও হয়ে যাবে? কেউ যদি চলে যেতে চায় তাহলে তাকে আটকানো যাবে না।

কানায়ে কাউকে ধরে রাখতে চাওয়ার মত মেয়েও না। সে নিজে মানসিকভাবে অনেক শক্ত, অন্তত বাইরে থেকে তাই মনে হয়। কিন্তু তারপরেও তার মাঝে অনেক কিছু আছে যা কখনো কাউকে বলা সম্ভব না। অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ব্যাপার সে নিজের মাঝে অনেক দিন ধরে লুকিয়ে রেখেছে। তার কারো জন্য দুর্বল হলে চলবে না। নয়তো অনুভূতির উজান স্রোতে সেসব লুকানো স্মৃতি তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

তেতসুইয়া তোয়ওদার আন্ডারকারেন্ট মাঙ্গাটা আমার অনেক প্রিয় একটা মাঙ্গা হয়ে উঠেছে। অত্যন্ত সাদামাটা আর্টস্টাইলে একটা পরিপূর্ণ কাহিনীবিন্যাসে মাঙ্গার চরিত্রগুলো বেশ ভালো ভাবেই ফুটে উঠেছে। এবং তা সম্ভব হয়েছে কারণ চরিত্রগুলির চেহারা আর ভাবভঙ্গিতে কোনো অতিরঞ্জনের ছায়া নেই, নামের সাথে মিল রেখেই সেসব সূক্ষ্ম আকারে দেখানো হয়েছে। মূল চরিত্র কানায়ের অবসন্নতা, আর এলোমেলো অবস্থা তার চেহারায় বোঝা যায়। আর হোরির সারাক্ষণ ভাবলেশহীন মুখ নতুন রহস্যের জন্ম দেয়।

গল্পটা যেহেতু চরিত্রভিত্তিক, তাই এর প্রতিটি চরিত্রকে অনেক ম্যাচিউরিটির সাথে হ্যান্ডেল করা হয়েছে। সাধারণত সাইকোলজিক্যাল মাঙ্গাগুলোতে কিছু চরিত্র অসহ্য রকমের বিরক্তিকর কাজ কর্ম করে থাকে, যেন মূল চরিত্রের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়াই তাদের একমাত্র কাজ। সেসব চরিত্রগুলোকে তখন চরিত্র মনে হয় না, মনে হয় ক্যারিকেচার। আর মূল চরিত্রের স্ট্রাগল দেখে দেখে ব্যাপারটা আনরিয়েলিস্টিক পর্যায়ে চলে যায়। আন্ডারকারেন্ট মাঙ্গা তে সেসব পাবেন না। বরং তাদের কথা আর নিরবতার প্যানেলগুলোতে খেয়াল করলেই অনেক ইতিহাস ভেসে আসে। আর একেকটা চ্যাপ্টারে বেশ কিছু থিম দেখতে পাওয়া যাবে – মমতা, ক্ষমা, অপরাধবোধ, অতীত আর মানুষকে বুঝতে না পারা।

মাঙ্গাটা সম্পর্কে এখন আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। তার চেয়ে মাত্র ১১ চ্যাপ্টারের এই ছোট্ট মাঙ্গাটা পড়ে ফেলুন। অনেকটা ২০০০ এর দিকের টেলিফিল্মের মত লাগবে। মাঙ্গাটা বেরও হয়েছে ২০০৪-২০০৫ সালে। মাঙ্গার সমাপ্তিটা আমাকে অবাক করেছে। শুধু এটুকু বলবো, কিছু প্রশ্নের উত্তর জীবনে কখনো সোজাসুজি পাওয়া যায় না। আবার অনেক কিছুর অর্থ খুঁজতে সারা জগতও পাড়ি দিতে হয় না। অন্তঃপ্রবাহে আছে সব কিছুর মানে, কিন্তু সেই মানেটা বেশ তিক্তমধুর।

মাঙ্গাঃ Undercurrent, アンダーカレント
জনরাঃ Slice of life, seinen
মাঙ্গাকাঃ Tetsuya Toyoda
চ্যাপ্টারঃ ১১
স্ট্যাটাসঃ Completed
MAL স্কোরঃ ৭.৫৪
পার্সোনাল রেটিং: পড়ে ভালো লাগবে।
ইন্সার্ট সং: Down Town Boogie Woogie Band- The Traitor’s Journey:

https://youtu.be/kZB_psHZljM

By Hedeki Saijo:

https://youtu.be/rSM7xF8zhMU

Chara – Duca:

https://youtu.be/RnS8tPJmKtg