চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান – ৬ — কেইরন ও অ্যাকিলিস (ফেইট/অ্যাপোক্রিফা) — Shifat Mohiuddin

আচ্ছা, এবার আমি দুটো চরিত্রকে একসাথে উঠিয়ে আনতে চাচ্ছি লেখাতে। চরিত্র দুটোই গ্রীক মিথের অন্তর্ভুক্ত। ফেইট/অ্যাপোক্রিফা যেহেতু এখন খুব হাইপড মোমেন্টে আছে তাই ভাবলাম এখনই সময় দুইজনকে নিয়ে আলোচনা করার।

প্রতিটি ফেইট সিরিজেই একজন আরেকজনের সাথে পূর্ব পরিচিত এমন একাধিক সারভেন্টের দেখা পাওয়া যায়। ফেইট জিরোতে ছিল আর্থুরিয়া-ল্যান্সেলট, স্টে নাইট আর UBW তে ছিল গিলগামেশ-আর্থুরিয়া। অ্যাপোক্রিফাতেও এর ব্যতিক্রম হল না। হ্যাঁ, আজকের পোস্ট পূর্ব পরিচিত গুরু-শিষ্য যুগল কেইরন আর অ্যাকিলিসকে নিয়ে। দুইজনের কাহিনীই গ্রীক সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে। দুইজনই দেবতাদের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন, যুগে যুগে তাদের নিয়ে অসংখ্য কাব্য, নাটক ও চিত্রকর্ম রচিত হয়েছে। আধুনিক সাহিত্য ও অন্যান্য শিল্পকর্মেও তাদের নিয়মিত আবির্ভাব দেখা যায়। যেহেতু মিথ এবং এনিমে দুই জায়গাতেই তারা খুব ডিপলি কানেক্টেড তাই এক পোস্টেই তাদের অতীত নিয়ে আলোচনা করবো।

শুরুর আগে বলে রাখি, কেইরন আর অ্যাকিলিস দুজনই সম্পূর্ণ মিথিকাল চরিত্র। তাদের ঐতিহাসিক সত্যতা নেই বললেই চলে। কেইরন তো মানুষ নন তাই তার অস্তিত্ব থাকার প্রশ্নই উঠে না। অ্যাকিলিসও কাল্পনিক চরিত্র তবে ট্রয় যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রমাণাদি থাকায় অ্যাকিলিসের মত বড় কোন বীরের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ধারণা করা হয় একাধিক বীরের বীরত্বগাথা যোগ করে গ্রীক কবিরা অ্যাকিলিসের গুণকীর্তন করেছেন।

Fate Apo Chiron Achilles 1

চরিত্র: কেইরন (Chiron)
এনিমে: Fate/Apocrypha 
ভূমিকা: মধ্যমপন্থী
জাতীয়তা: ? (পেলিয়ন নামক এক পর্বতে বাস করতেন)
জন্মস্থান: জানা যায় নি
জন্ম ও মৃত্যুসাল: জানা যায় নি

চরিত্র: অ্যাকিলিস (Achilles)
এনিমে: Fate/Apocrypha 
ভূমিকা: মধ্যমপন্থী
জাতীয়তা: গ্রীক (থেসেলিয়ান)
জন্মস্থান: থেসেলি, গ্রীস
জন্ম ও মৃত্যুসাল: জানা যায় নি

যেহেতু শিক্ষক তাই কেইরনকে দিয়েই শুরু করি। সবাই জানি কেইরন মানুষ নন, তিনি একজন সেন্টর। সেন্টররা এক ধরণের পৌরাণিক প্রাণী যাদের শরীরের অর্ধেক ঘোড়া আর অর্ধেক মানুষের মতন। সেন্টররা মারাত্মক অশিক্ষিত, উশৃঙ্খল, মদ্যপ, ধর্ষকামী জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু কেইরন অন্যান্য সেন্টরদের চেয়ে আলাদা ছিলেন। এর কারণ জানতে চাইলে সেন্টরদের উৎপত্তি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

সেন্টরদের জন্ম হয়েছিল খুব অদ্ভুতভাবে। ইক্সিওন নামের একজন রাজা একবার দেবী হেরার (জিউসের স্ত্রী) প্রতি খুব প্রলুব্ধ হয়ে পড়েছিল। জিউস তাই ইক্সিওনের সাথে একটু কৌতুক করে বলা যায়। জিউস ধুলা আর মেঘের সমন্বয়ে হেরার মত দেখতে একটি আকৃতি তৈরি করে। ইক্সিওনের সাথে এই আকৃতির মিলনের ফলে যেসব প্রাণীর জন্ম হয় তাদের শরীরের নিচের অংশ ঘোড়ার মত আর উপরের অংশ মানুষের মত ছিল। এদের বংশধরেরাই পরে সেন্টর নামে পরিচিতি লাভ করে।

কেইরনের জন্ম এসব সেন্টরদের মত হয় নি। আসলে সেন্টরদের জন্মের অনেক আগেই কেইরনের জন্ম হয়েছিল। টাইটানদের শাসক ক্রোনোস (জিউসের বাবা) একবার ফিলাইয়া নামের এক মৎসকন্যার সাথে ঘোড়ার রূপ ধরে জোর করে মিলিত হন। (এইসব অস্বাভাবিক সম্পর্ক গ্রীক মিথে স্বাভাবিকই বলা যায়!) ফিলাইয়ার গর্ভেই কেইরনের জন্ম হয়। আর কেইরনের দেহের নিম্নাংশের আকার হয় ঘোড়ার মত। টাইটানের ঔরসে জন্ম নেওয়ায় কেইরনের বুদ্ধিমত্তা উচ্চপর্যায়ের ছিল। গ্রীক মিথে খুব কম সংখ্যক বুদ্ধিমান সেন্টরের অস্তিত্ব পাওয়া যায় আর কেইরন ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান। কেইরনের দৈহিক আকৃতিও অন্য সেন্টরদের চেয়ে ভিন্ন ছিল। বিভিন্ন চিত্রকর্মে দেখা যায় যে, কেইরনের সামনের পা দুটো মানুষের যেখানে অন্য সেন্টরদের চারপাই ঘোড়ার মত ছিল।

কেইরনের শৈশব-কৈশোর সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় নি। শৈশবে অ্যাপোলো ও আর্টেমিসের সঙ্গ কেইরনের শান্তিপ্রিয় ও যৌক্তিক চরিত্র গড়ে তোলার পেছনে ভূমিকা রাখে। কেইরন সেন্টর-মানুষ উভয়ের কাছেই শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। সেন্টরদের সাথেই তিনি বসবাস করতেন এবং মাউন্ট পেলিয়নে তিনি অন্য অসভ্য সেন্টরদের সাথে বিতাড়িত হয়ে আসেন। কেইরন অন্য সেন্টরদের সভ্য করার চেষ্টা চালাতেন। বর্ষীয়ান হওয়ায় মানুষের সাথে কেইরনের পরিচয় কিভাবে হয়েছিল তা জানা যায় না। কয়েক পুরুষ ধরে অসংখ্য বীর কেইরনের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছে তাই তার বয়স ও কালও আন্দাজ করা যায় না।

একজন দক্ষ সমরবিদ, জ্যোতিষী ও চিকিৎসক হলেও কেইরনের মূল পরিচিতি ছিল শিক্ষক হিসেবে। অসংখ্য মানুষ তার কাছে যুদ্ধবিদ্যার শিক্ষা নিয়েছিল। পার্সিয়াস, থিসিয়াস, ইনিয়াস, অ্যাজাক্স, জ্যাসন (স্টে নাইটের মিডিয়ার স্বামী), হেরাক্লস (হারকিউলিস), অ্যাকতিওন সহ অনেক বড় বড় বীর কেইরনের নিজের হাতে গড়া। এছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্রের একজন আদি পথপ্রদর্শক হিসেবে কেইরনকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।

Fate Apo Chiron Achilles 2

অ্যাকিলিসের কাছে আসা যাক। এই শিক্ষকতার সুবাদে অ্যাকিলিসের সাথে কেইরনের পরিচয়ের সূত্রপাত ঘটে। অ্যাকিলিসকে চেনে না এমন কেউ গ্রুপে মনে হয় না আছে। ট্রয় সিনেমার ব্র‍্যাড পিটের দুর্দান্ত অভিনয় কে ভুলতে পেরেছে! অ্যাকিলিসকে সহজেই গ্রীক মিথের সবচেয়ে জনপ্রিয় বীর বলা যায়। অ্যাকিলিসের মত সুদক্ষ যোদ্ধা, বক্তা ও নেতা কমই আছে গ্রীক সাহিত্যে। শৌর্য-বীর্যে অ্যাকিলিস অনন্য আর সবচেয়ে সুদর্শন বীর হিসেবেও অ্যাকিলিস স্বীকৃত। এনিমেতে অ্যাকিলিসের বিশৌনেন হওয়াটা তাই খুবই যৌক্তিক। এখন অ্যাকিলিসকে নিয়ে কিছুক্ষণ আলোচনা করা যাক।

অ্যাকিলিসের জন্ম থেসেলিতে, তার পিতার নাম পেলেয়ুস, মাতার নাম থেটিস। অ্যাকিলিসের জন্ম নিয়ে বিশাল একটা কাহিনী আছে। সংক্ষেপে বর্ণনা করছি:

অ্যাকিলিসের মা থেটিস ছিল একজন সমুদ্রদেবী। প্রধান দুই দেবতা জিউস আর পোসাইডন দুজনেই থেটিসের পাণিপ্রার্থী ছিল। কিন্তু ভবিষ্যৎবাণী আসে যে থেটিসের গর্ভে জন্মানো সন্তান তার পিতার চেয়েও শক্তিশালী হবে। তাই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে দুজনেই পিছিয়ে আসে। থেসেলির শাসক বীর পেলেয়ুসের সাথে থেটিসের বিয়ে ঠিক করা হয়। বলা যায় এই বিয়েতে ঘটিকালির কাজটা কেইরনই করেন। এখানেও একটা বিশাল কাহিনী আছে তবে সেটা অন্যদিনের জন্য তোলা থাকুক। তো এভাবে জন্মের আগেই অ্যাকিলিসের সাথে কেইরনের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।

বিখ্যাত ‘অ্যাকিলিস হিল’ প্রসঙ্গে আসা যাক। মানুষ হওয়ার পরও অ্যাকিলিস প্রায় অমর ছিলেন, শুধুমাত্র বাম পায়ের গোড়ালিই তার একমাত্র মরণশীল জায়গা ছিল। ‘অ্যাকিলিস হিল’ তৈরি হওয়া নিয়ে দুটো কাহিনী প্রচলিত:

১। থেটিস সমুদ্রদেবী হওয়ায় পাতালের নদী স্টিক্সের অবস্থান জানতেন। শিশু অ্যাকিলিসকে তিনি সেই নদীর পানিতে গোসল করাতেন নিয়মিত। শিশু অ্যাকিলিসকে বাম পায়ে ধরে উল্টো করে স্টিক্সের পানিতে ডোবানো হত। ফলে অ্যাকিলিসের সারা দেহই অমর হয়ে যায়। পায়ের গোড়ালি হাতে ধরা থাকতো বলে সেই স্থানে পানি লাগে নি। এ কারণেই বাম পায়ের গোড়ালিই অ্যাকিলিসের একমাত্র দুর্বল জায়গা ছিল। এই কাহিনীটিই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

Fate Apo Chiron Achilles 4
থেটিস শিশু অ্যাকিলিসকে স্টিক্স নদীতে স্নান করাচ্ছেন

২। অন্য আরেকটি কাহিনী অনুসারে থেটিস নিজ পুত্রের সারাদেহ অ্যামব্রোসিয়া (দেবতাদের খাদ্য- সহজ ভাষায় অমৃত) দ্বারা আবৃত করে অ্যাকিলিসের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এর ফলে অ্যাকিলিসের ভেতরের মরণশীল অংশ পুড়ে যায়। পেলেয়ুস এই ঘটনা দেখতে পেরে নিজ স্ত্রীকে বাঁধা দেন। অ্যাকিলিসের বাম পা শুধুমাত্র আগুনের স্পর্শ পায় নি তাই এই জায়গাটাই তার একমাত্র মরণশীল জায়গা হিসেবে রয়ে যায়। পেলেয়ুস বাঁধা দেওয়ায় থেটিস ক্রোধান্বিত হয়ে পরিবার ত্যাগ করেন এবং সমুদ্রে চলে যান।

‘অ্যাকিলিস হিল’ প্রবাদটি দিয়ে এখন কোন শক্তিশালী জিনিসের দুর্বল জায়গাকে ইঙ্গিত করা হয়।

কেইরনের কাছে অ্যাকিলিসের শিক্ষা গ্রহণের প্রসঙ্গে আসা যাক। হোমারের ‘ইলিয়াডে’ এ প্রসঙ্গে কোন তথ্য নেই। কবি Statius এর কাব্য ‘অ্যাকিলিডে’ এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ আছে।

অ্যাকিলিসের পিতা পেলেয়ুস নিজেই কেইরনের ছাত্র ছিলেন। থেটিস চলে যাওয়ার পর পেলেয়ুস নিজের ছেলেকে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য কেইরনের কাছে নিয়ে আসেন। কেইরনের কাছে অ্যাকিলিস নয় বছর অধ্যয়ন করেন। কেইরন অ্যাকিলিসকে তলোয়ারবিদ্যা, রথচালনা, বর্শাচালনা, তীরন্দাজি সহ যুদ্ধবিদ্যার সকল শাখায় পারদর্শী করে তোলেন। হিলিং মেডিসিনেও অ্যাকিলিস তার কাছ থেকে বিশেষ জ্ঞান লাভ করেন যা ট্রোজান যুদ্ধে কাজে এসেছিল। শরীর সম্পর্কিত এসব বিদ্যা ছাড়াও সুস্থ মানসিকতা তৈরির শিক্ষাও তিনি কেইরনের কাছে পান। অ্যাকিলিসের ভাষ্যে,

“তিনিই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ন্যায়ের ধারণার সাথে।” (অ্যাকিলিড- 2.163-4).

কেইরনের সামনে পেলেয়ুস, কোলে শিশু অ্যাকিলিস
কেইরনের সামনে পেলেয়ুস, কোলে শিশু অ্যাকিলিস

এইসব শিক্ষা কোন আরামদায়ক উপায়ে আসে নি। কেইরন অ্যাকিলিসকে সিংহের নাঁড়িভুঁড়ি, স্ত্রী নেকড়ের মজ্জা ও বন্য শুয়োরের মাংস খাওয়াতেন। এই ভয়ানক খাদ্যাভাসের সাথে চলতো কঠোর সাধনা। দয়ালু হলেও বকাঝকার বেলায় কেইরন কোন কার্পণ্য করতেন না। অ্যাকিলিসের ভাষ্যে,

“আমি শক্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম কিন্তু নদীর প্রবল স্রোত আর তার ক্রমাগত তাড়া দেওয়ার কারণে আমি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে ভয়ানক হুমকি দিলেন এবং বকাঝকা করে ধুয়ে দিলেন। আমি ভয়ে জায়গা ছেড়ে নড়তে পারলাম না।” (অ্যাকিলিড- 2.146-150).

Fate Apo Chiron Achilles 5
কেইরনের কাছে অ্যাকিলিসের তীরন্দাজি শিক্ষা। সাথে শাসনও চলছে সমানে

এইধরণের অম্লমধুর আচরণের কারণে অ্যাকিলিস আর কেইরনের সম্পর্কটা ছাত্র-শিক্ষকের গণ্ডি পেরিয়ে অনেকটা পিতা-পুত্রের মত হয়ে যায়। অ্যাকিলিস কয়েকবার কাব্যে কেইরনকে পিতৃস্থানীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। কেইরন যখন অ্যাকিলিসকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন তখন অ্যাকিলিস তাকে পিতা হিসেবেই মনে করতেন। এক সন্ধ্যায় থেটিস তাকে দেখার জন্য কেইরনের আস্তানায় আসলে অ্যাকিলিস মাকে ছেড়ে কেইরনের উপরেই গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকে। কবির ভাষ্যে:

“রাত গভীর থেকে গভীরতর হয়। দীর্ঘদেহী সেন্টর পাথরের উপর এলিয়ে পড়েন আর ছোট্ট অ্যাকিলিস তার কাঁধে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে পড়ে। যদিও তার মা এখানেই আছেন কিন্তু অ্যাকিলিসের কাছে পারিবারিক টানের চেয়ে এটাই বেশী পছন্দনীয়।” (অ্যাকিলিড- 1.195-97).

এখানে কেইরনকেও কোন সেন্টর মনে হচ্ছে না। কেইরনের দেহ পশুর হলেও অন্তরে যে কোন পশুত্ব নেই তা এখান থেকে বোঝা যায়। দয়ালু কেইরন এর এই ভালবাসা অ্যাপোক্রাইফায় কেইরনের মাস্টার ফিয়োরেও পেয়েছে। আমি খুব আবেগান্বিত হয়ে গিয়েছিলাম যখন কেইরন, ফিয়োরের হাতের উল্টোপিঠে চুমু খেয়ে বিদায় নেয়।

কেইরনের পিঠে কিশোর অ্যাকিলিস!
কেইরনের পিঠে কিশোর অ্যাকিলিস!

অ্যাকিলিসে ফেরা যাক। প্রশিক্ষণ শেষে অ্যাকিলিস নিজ রাজ্যে ফিরে আসে। গ্রীসের সবচেয়ে সুন্দরী নারী হেলেনের স্বয়ংবর সভায় অ্যাকিলিসও অংশ নেয়। পরে হেলেন, প্যারিস কর্তৃক ট্রয় নগরীতে অপহৃত হলে অন্যান্য বীরদের মত অ্যাকিলিসও ট্রয় অভিযানে যোগ দেন। যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে মা থেটিস অ্যাকিলিসের সাথে দেখা করেন। থেটিস বলেন যে দেবতার আশীর্বাদে তিনি অ্যাকিলিসের জন্য দুটো গন্তব্য নিয়ে এসেছেন:
১। অ্যাকিলিস কোন যুদ্ধে যোগদান করতে পারবে না। তবে এর বিনিময়ে অ্যাকিলিস একটি দীর্ঘ, সুখী জীবন পাবে।
২। যুদ্ধে যোগদান করলে অ্যাকিলিস অনেক বড় বীর হবে কিন্তু বেশীদিন বাঁচতে পারবে না।

রোমাঞ্চপ্রিয় অ্যাকিলিস দ্বিতীয় জীবনটাই বেছে নেন। ৫০ জাহাজ বোঝাই ২৫০০ সৈনিক নিয়ে অ্যাকিলিস ট্রয় অভিমুখে যাত্রা করেন। অ্যাকিলিসের বাহিনীর সৈন্যদের মিরমিডিয়ন বলা হয়। (মিরমিডিয়নরা আগে পিঁপড়া ছিল)
এরপরের কাহিনী সবার জানা। যুদ্ধের সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ছিল অ্যাকিলিস। ট্রয়ের সবচেয়ে বড় বীর হেক্টরকে পরাজিত করে অ্যাকিলিস। অবশেষে দেবতা অ্যাপোলোর পথনির্দেশনায় কাপুরুষ প্যারিসের তীর আঘাত করে অ্যাকিলিসের বাম পায়ের গোড়ালিতে। অ্যাকিলিস সেখানেই মারা যান। বন্ধু প্যাট্রোক্লাসের ছাইয়ের সাথে তার ছাই মিশিয়ে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।

কেইরন, অ্যাকিলিসকে lyre বাজানো শেখাচ্ছেন
কেইরন, অ্যাকিলিসকে lyre বাজানো শেখাচ্ছেন

এনিমেতে অ্যাকিলিসের দুটো নোবেল ফ্যান্টাজম দেখা গেছে। দুটোই কিছুটা রিয়েলিটি মার্বেল ঘরানার। Diatrekhōn Astēr Lonkhē অ্যাকিলিস ব্যবহার করেছিল কেইরনের বিপক্ষের ফাইটে। প্রতিপক্ষের পেছনে বর্শা ছুঁড়ে মেরে এটা অ্যাক্টিভেট করতে হয়। মজার ব্যাপার হল এই বর্শাটা কেইরন তৈরি করে পেলেয়ুসকে দিয়েছিলেন, পেলেয়ুস পরে নিজ পুত্রকে উপহার দেন। বর্শাটি কেইরনের বাসস্থান মাউন্ট পেলিয়নের গাছ থেকে তৈরি।

Akhilleus Kosmos নোবেল ফ্যান্টাজমটা অ্যাস্টোলফো অসাধারণভাবে ব্যবহার করেছিল কর্ণের বিপক্ষে। দুর্দান্ত এই নোবেল ফ্যান্টাজমের পেছনেও একটা কাহিনী আছে। মনে হয় সবাই কাহিনীটা জানেন তারপরও বলি:
ট্রয়ের যুদ্ধের এক পর্যায়ে অ্যাকিলিস যুদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে গ্রীক বাহিনী পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে। অ্যাকিলিসের বন্ধুবর প্যাট্রোক্লাস তাই অ্যাকিলিসের বর্ম আর ঢাল ধার নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ে। সবাই ভাবে অ্যাকিলিস নিজেই যুদ্ধে নেমে এসেছে তাই গ্রীক বাহিনী তার হারানো উদ্যম ফিরে পায়। সারাদিন বীরের মত যুদ্ধ করলেও ট্রোজান বীর হেক্টরের হাতে প্যাট্রোক্লাস নিহত হয়। হেক্টর, প্যাট্রোক্লাসের গা থেকে বর্ম আর ঢাল খুলে নিজের কাছে রেখে দেয়।

প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অ্যাকিলিস যেন আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠে। লৌহশিল্প ও অগ্নির দেবতা হেফাস্টাস, অ্যাকিলিসকে নতুন একটা ঢাল বানিয়ে দেন। এটাই সেই বিখ্যাত ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’। ঢালটি অপূর্ব কারুকার্যময় ছিল। হোমার তাঁর ইলিয়াডের আঠারো নাম্বার অধ্যায়ে প্রায় ১০০ শ্লোক ধরে এই ঢালের গায়ে আঁকা কারুকাজের বর্ণনা করেন। ঢালটিতে গ্রীক নগর সভ্যতার একটা মিনিয়েচার আঁকা ছিল। তাই অ্যাকিলিসের নোবেল ফ্যান্টাজমে আমরা একটা গ্রীক সভ্যতার অনুরূপ রিয়েলিটি মার্বেল দেখি। এই জায়গায় হিগাশিদার কল্পনাশক্তির তারিফ করতেই হবে, A-1 পিকচারসও দুর্দান্ত ফ্লুয়িড অ্যানিমেশন ঢেলেছে। ভাসাবি শক্তিকে প্রতিহত করার জায়গাটা চমৎকার ছিল। এইসব ছোটখাটো ডিটেইলের জন্য অ্যাপোক্রাইফার ২২ নম্বর পর্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শিল্পীর কল্পনায় অ্যাকিলিসের শিল্ড
শিল্পীর কল্পনায় অ্যাকিলিসের শিল্ড

অ্যাকিলিসের একটি মাত্র সন্তানই ছিল। সেই ছেলের নাম ছিল নিওপতেলেমাস। নিওপতেলেমাস পরে ‘অ্যাকিলিস শিল্ডের’ মালিক হয়। ট্রয় যুদ্ধের পরে আগামেমননের ছেলে ওরেস্তেসের হাতে নিওপতেলেমাস নিহত হয়। বাবা-ছেলে দুজনের মৃত্যুই ট্র‍্যাজিক।

গুরু কেইরনের মৃত্যুও আর দশজনের মত হয় নি। টাইটানের ঘরে জন্ম নেওয়ার কারণে কেইরন অমর ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নিজের ছাত্র হেরাক্লসের কারণেই কেইরন মারা পড়ে। হেরাক্লস একবার গুরুর আস্তানায় ওয়াইনের বোতল খুললে সেই ওয়াইনের গন্ধে মদ্যপ সেন্টররা ভীষণ গোলমাল শুরু করে। এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়ে যায় এবং তাদের থামানোর জন্য হেরাক্লস হাইড্রার রক্তমাখা তীর ছুঁড়তে থাকেন। কেইরন তখন কী গোলমাল হল তা দেখার জন্য নিজের আস্তানার দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত একটা রক্তমাখা তীর কেইরনের গায়ে এসে লাগে।

কেইরন যিনি কিনা নিজে ঔষধ নির্মাণে ওস্তাদ, নিজ ব্যথার কোন ঔষধ তৈরি করতে পারছিলেন না। হাইড্রার রক্ত অব্যর্থ বিষ, দেহে স্পর্শ হলেই মৃত্যু নিশ্চিত। অমর হওয়ায় কেইরনের মৃত্যু হচ্ছিল না কিন্তু অসহনীয় যন্ত্রণা ঠিকই পাচ্ছিলেন। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে তিনি নিজের অমরত্ব সরিয়ে নেওয়ার প্রার্থনা জানান দেবতাদের কাছে। তার সৎ ভাই জিউস এই প্রার্থনা মঞ্জুর করেন এবং কেইরনকে আকাশের একটা নক্ষত্রপুঞ্জ বানিয়ে দেন। সেই নক্ষত্রপুঞ্জটিই Sagittarius বা ধনু নামে পরিচিত। দেখলে মনে হয় কোন সেন্টর হাতে তীর-ধনুক তাক করে রেখেছে।

কেইরনের নোবেল ফ্যান্টাজম ‘Antares Snipe’ এর আন্তারেস শব্দটি একটি নক্ষত্রকে নির্দেশ করে। নক্ষত্রটি স্যাজিটেরিয়াসের পাশের স্করপিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত। স্যাজিটেরিয়াসের দিকে তাকালে মনে হয় এর ডান দিকের শেষ প্রান্ত অর্থাৎ ধনুক সামনের ‘আন্তারেসের’ দিকে তাক করা আছে। এজন্যই কেইরনের নোবেল ফ্যান্টাজম সবসময়ই চালু থাকে।

২১ পর্বে কেইরন আর অ্যাকিলিস নিজেদের মধ্যে যে মার্শাল আর্টসটা চর্চা করেছিল সেটার নাম Pankration. প্যানক্রেইশন সর্বাধিক প্রাচীন মার্শাল আর্ট হিসেবে স্বীকৃত। প্যানক্রেইশনের নির্দিষ্ট কোন নিয়ম ও টাইম লিমিট ছিল না। বক্সিই, রেসলিং, কিকিং, সাবমিশন হোল্ডিং সবকিছুই গ্রহণযোগ্য ছিল, একমাত্র নিষিদ্ধ ছিল প্রতিপক্ষের চোখ খোঁচানো ও কামড়াকামড়ি। লড়াইয়ে অনেক সময়ই অংশগ্রহণকারীদের মৃত্যু হত।

Fate Apo Chiron Achilles 9
প্যানক্রেইশন ম্যাচ

প্রাচীন অলিম্পিকে প্যানক্রেইশন একটা ডিসিপ্লিন হিসেবে ছিল। তবে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকেই গ্রীসে প্যানক্রেইশন চর্চা হয়ে আসছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়। স্পার্টান সেনাবাহিনী এবং আলেকজান্ডারের সৈন্যরা প্যানক্রেইশনে দক্ষ ছিল। আলেকজান্ডারের পিতা ফিলিপের প্যানক্রেইশনে অংশ নেয়ার নজির আছে।
মিথলজিতে হেরাক্লস ও থিসিয়াসকে প্যানক্রেইশনের আবিষ্কারক হিসেবে পাওয়া যায়। কেইরনই সম্ভবত ঐ সময়েই প্যানক্রেইশন শেখেন তারপর অ্যাকিলিসকে সেই বিদ্যায় দক্ষ করে তোলেন। আধুনিক যুগে আবার প্যানক্রেইশনের পুনর্জন্ম ঘটেছে। ইউটিউবে বেশ কিছু ভিডিও দেখেছিলাম। নিয়ম-কানুনের কারণে এখন মরণের গন্ধ নেই খেলাটাতে। কেইরন ভার্সাস অ্যাকিলিস পর্যায়ের ভয়ানক গতিময় জিনিসের ছিটেফোঁটাও নেই। তবে এরপরও বেশ উপভোগ্য একটা মিক্সড মার্শাল আর্টস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ডিসিপ্লিনটা।
(Now just imagine a pankration match between Iskander and Achilles. Also imagine Iskander performing a submission hold on our lovely Gilgamesh. )

বিশেষ দ্রষ্টব্য: একটা মতবাদ আছে, আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের সময় প্যানক্রেইশন ভারতে প্রবেশ করে। পরে ভারত ঘুরে এই প্যানক্রেইশনই দূরপ্রাচ্যে গিয়ে কুংফু-যুযুৎসুতে পরিণত হয়েছে। কুংফুর প্রচারক বোধিধর্মাকে ‘নীল চোখের দানব’ হিসেবে অভিহিত করা হত। হতে পারে তিনি আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনীর লোক ছিলেন, পরে ভারতবর্ষে থেকে যান। (মতবাদটি অতটা শক্তিশালী নয়)

অ্যাকিলিস আর কেইরনের সম্পর্ক প্রাচীন ভারতের গুরু-শিষ্যদের নিয়ে যেসব কিংবদন্তী রয়েছে তার সমতুল্য। ভারতীয় পুরাণে ছাত্রকে শিক্ষকের আস্তানায় অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নানা বিষয়ে দীক্ষিত হতে দেখা যায়। অ্যাকিলিসও সেই প্রক্রিয়া পার হয়ে এসেছে। অ্যাকিলিসের জীবনে কেইরনের ভূমিকা পিতার চেয়ে কোন অংশ কম নয়। এজন্যই অ্যাপোক্রাইফা শুরু হওয়ার পর আমি সবচেয়ে বেশী হাইপড ছিলাম এই দুইজনকে নিয়ে। অ্যাকিলিস জানতো যে ব্ল্যাক ফ্যাকশনের কেউ তাকে ঠেকাতে পারবে না। আর্চার অফ ব্ল্যাকের পরিচয় জানার পর অ্যাকিলিসের সেই আত্মবিশ্বাস অনেক কমে যায়। কারণ অ্যাকিলিসের সকল কৌশল কেইরনের চেয়ে ভাল কেউ জানে না। কেইরনও নিজ শিষ্যের উন্নতি কেমন হয়েছে তা দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। অ্যাকিলিস নিজের যুদ্ধলব্ধ বিদ্যা দিয়ে কেইরনকে হতাশ করে নি। পরাজিত হয়ে কেইরন নিজেই আসলে জয়ী হলেন। এই জয় মহান শিক্ষকব্রতের জয়। এনিমের একটা বড় অংশে দুইজনের দ্বন্দ্বকে একটুও ফোকাস করা হয় নি, তবে সব পুষিয়ে দিয়েছে একটা পর্বই। ইডিওলজিকাল কোন ক্ল্যাশ না থাকার পরও শুধুমাত্র দুর্দান্ত একটা অতীতের জোরে দুজনের মধ্যের লড়াইটা চমৎকারিত্ব পেয়েছে। অ্যাকিলিস ‘গুরু মারা বিদ্যা’ প্র‍য়োগ করলেও আন্তারেস স্নাইপের মাধ্যমে কেইরন দেখিয়ে দিলেন যে ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে”। 

রেফারেন্স:

  • britannica.com
  • greekmythology.com
  • history.com
  • Percy Jackson and Greek Gods- Rick Riordan
  • গ্রীক বীরদের আখ্যান- রজার ল্যান্সেলিন গ্রীন
  • মিথলজি- এডিথ হ্যামিল্টন
  • Wikipedia

Lovely Complex [সাজেশন] — Ahmed Fahmida Mou

Lovely Complex

এনিমেঃ Lovely Complex 
হাইস্কুল রোমান্টিক কমেডি
.
শিরোনাম আকর্ষণীয় না হলে সচারচর আমি সেসব দেখিনা বা পড়িনা।
স্বাভাবিকভাবেই এই আনিমুর টাইটেলও একদম ভাল্লাগেনাই  এক পিচ্চি জোরাজুরি না করলে এই চুইট আনিমুটা দেখাই হতোনা।

প্রথম দেখায় যেটা বলা যায়, এনিমেটা একেবারেই সিম্পল।
কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে,
এই বিশেষত্বহীন এনিমেটা দারুন ভালো লেগেছে।
এইখানে তেমন কোনো প্লট টুইস্ট নাই ,তাই হালকাভাবে আমি গল্পটা বলছি।

তিন বান্ধবী যার মাঝে দুজনেরই বয়ফ্রেন্ড আছে। নাই একমাত্র কোয়াইজুমি রিসা’র।
কেনো??
কারণ রিসার স্বাভাবিকের তুলনায় হাইট অনেক। সঠিক উচ্চতার কোনো বয়ফ্রেন্ড হয়না তার।
কিন্তু রিসা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যেভাবেই হোক হাইস্কুল শেষ করবার আগে সে বয়ফ্রেন্ড অর্জন করবেই! 
এদিকে ওদের ক্লাসমেট (বন্ধুও বলা যায়) ওতানি ছেলেদের স্বাভাবিক হাইটের চেয়ে ছোটো।
তাই বেচারাকে নানান অকওয়ার্ড পরিস্থিতিতে পড়তে হয় এবং যার একটা কোনো গার্লফ্রেন্ড জোটেনা 
ওতানি আর রিসাকে ক্লাসের সবাই কমেডি-ডুয়ো বলে কারণ যখনই দেখা যায় ওরা মারামারি, জগড়াঝাটিই করতেসে, পুরা উত্তরমেরু আর দক্ষিণমেরু ধরণের!
এইরকম এক পর্যায়ে দুজনে চুক্তি করে যে,
রিসা একটা বয়ফ্রেন্ড আর ওতানি একটা গার্লফ্রেন্ড জোগাড় করবে।
যে আগে সফল হবে সে অপরজনকে ট্রিট দিবে।
এইভাবে খুনসুঁটির মাঝে রিসা অযৌক্তিকভাবে ওতানির প্রেমেই পড়ে যায়!
আর বুঝতেই পারছেন,
(১৭০cm এর মেয়ের বয়ফ্রেন্ড ১৫৪cm এর এক ছেলে) এই সম্পর্কের ডিজাস্টার কল্পনা করে বেচারি একদম মিইয়ে যায়!
কিন্তু তার বাকি দুই বান্ধবী এটা জেনে উল্টা প্রচন্ড খুশি হয় এবং দুই বান্ধবী ও তাদের দুজনের বয়ফ্রেন্ড সহ ৪জনে মিলে ওতানি আর রিসাকে মিলাবার মিশন-ইম্পসিবল এর দায়িত্ব নেয়।
.
এখানে একটা ডায়লগ দেই,
রিসা যখন উপলব্ধি করে ওতানির প্রেমে পড়সে তারপর একদিন ক্লাসের সবার হাইট মাপা হলে দেখা যায় রিসা আরো ২cm বেড়ে গেসে (আর ওতানি বাড়সে 2mm ) তাই দেখে ওর বান্ধবীরা বলে
:This is no time for growing taller Risa!! 
: Am I doing it on purpose!!! 
.
প্রথম দিকে থাকে শুধু কমেডি মাঝে এসে কমেডি-ট্র‍্যাজেডি আর শেষে রোমান্টিক , এই নিয়ে ২৪ পর্বের সাদামাটা কিন্তু ভীন্নধর্মী থিমে দারুনভাবে গড়ে ওঠা এনিমেটা ভাল্লাগবে আপনারও 
কমেডিতে জোর করে কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা নাই। কমেডিগুলা পিউর।
বাস্তবতার সাথে মিল রেখে বানানো এনিমেটা অনায়াসেই পছন্দের তালিকায় জায়গা পেয়ে গেছে।
.
[বিঃদ্রঃ
এইটা দেখার পর মনে হইসে “গোল্ডেন টাইম” নামটা এই এনিমের হওয়া উচিৎ
আর
“লাভলি কমপ্লেক্স” নামটা অই গোল্ডেন-টাইম (পছন্ডো ফালতু একটা এনিমে) এর নাম হওয়া উচিৎ ছিলো ]

ইতাচি কেন আসামী (প্যারোডি ফ্যানফিক) — Rahat Rubayet

——————————————————————

রাউন্ড টেবিলে টুকটাক কথাবার্তার সাথে সাথে হালকা চা নাশতার আয়োজন চলছে। প্রাউড কিং এর কপালে চিন্তার ভাজ লক্ষ্য করছে সবাই। আর চিন্তা করবেন না-ই বা কেন কিং আরতুরিয়া পেন্ড্রাগন? স্বয়ং ইতাচি উচিহার মামলার রায়ের শুনানী আজ। অবশ্য বেডিভিয়ার আর হোয়াইট নাইট আর কারোর মতন বিচলিত হয় না খুব সহজে। কিং অব নাইটস মানে আরতুরিয়া যতক্ষণ জীবিত আছেন, অবিচার দ্যুলোক-ভুলোক কোথাওই হবার উপায় নেই।
ওদিকে কোর্টরূমে ততক্ষণে লোকজনের কোন কমতি দেখা যাচ্ছে ন। সাধারন দর্শকের আসনে জনাকয়েক ব্যক্তি বসতে বসতেই নিজেদের মাঝের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কথার ঝুলি উগলে দিচ্ছে। এদের মধ্যে একজন বলতে থাকে, “এ আবার কেমন কতা, বল দেকিনি? হ্যা? নিজের ভক্তকেই শেষমেষ আমাতেরাসু মেরে দিলো?”
-“আরে, রিল্যাক্স। এত সিরিয়াসনেস দেখানোর কি আছে? এটা জাস্ট একটা ট্রায়াল। আমাদের কি আমরা ‘পোটেটো চিপ্স’ খাবো আর এঞ্জয় করবো এইসব নিয়ে অফেন্ডেড ফিল করা কি আর আমাদের সাজে? মজা নিতে আসছি, চুপচাপ মজা নিয়ে যাই।”
ওদিকে জুরিবক্সে বসে আছে পাকুন, তাকামুরা মামুরো, গিলগামেশ আর ৯ জন ‘সাকুরা’। আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জগতবিখ্যাত ইতাচি উচিহা যার অগ্নিদৃষ্টির সামনে নষ্যি সবকিছু। বিচারকের আসন গ্রহন করলো গিন্তোকি। বাদী পক্ষের উকিল হিসেবে আছে ইজাইয়া অরিহারা আর আসামী পক্ষে আছে ফুউরা কাফকা।
বিচারকের ইশারায় গুঞ্জন স্থিমিত হয়ে আসতেই উকিল আর আসামী, বাদী সবাই প্রস্তত হতে থাকে। আসামী পক্ষের উকিলের কথা বলার বা নিজেদের ডিফেন্ড করার পালা আসলো। ফুউরা কাফকা তার পোশাক আশাক ঠিক করে বিচারকের সামনে দাড়িয়েই যেন ঘোষণা করলো,
“মহামান্য বিচারক, বাদী পক্ষের উকিল যে অভিযোগ করেছেন তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন”, বিচার দেখতে আসা ‘সাধারন’ মানুষদের গুঞ্জন উস্কে দেবার জন্যই যেন বলতে থাকে “কারণ একজন মানুষের চোখ দিয়ে আগুন বের হবে আর তা দিয়ে আরেকজন মানুষ ভস্মীভূত হবে, এ কথা মাঙ্গা আর এনিমেতে সম্ভব বাস্তবে না।
আর তাছাড়াও একজন মানুষ কখনোই এই সুন্দর বসন্তকালে আরেকজন মানুষকে খুন করতে পারে না।”
-“তাহলে?” স্বভাবজাত প্রশ্ন
“আমাদের বাদীপক্ষের গায়ে শীত শীত ভাব হচ্ছিল, তাই আমার মক্কেল তার শীত নিবারনের চেষ্টা করেছেন মাত্র। আপনিই বলুন মহামান্য বিচারপতি, এই সুন্দর পৃথিবীতে কি কেউ কাউকে প্রানে মেরে ফেলতে পারে?”
আর থাকতে না পেরে বাদীপক্ষের উকিলের প্রশ্ন-
“তাহলে কি খুনটাই হয়নি?”
-“খুন? কিসের খুন? ভদ্রলোক তো sword art online খেলছেন। বিচারপতি, আপনি নিশ্চয়ই সর্বকালের সেরা গেম (এনিমে) SAO এর নাম শুনেছেন”
ফুউরা কাফকা কথা শেষ করতে পারল না, তার আগেই হইচই পরে গেলো যেন কোরটরুমে।
জুরি বক্সে বসে বসে নাক খোঁচাতে খোঁচাতে “কোনটা সেরা তা নিয়ে কি এদের কামড়াকামড়ি কোনদিন শেষ হবে না? এতো সেই কবে থেকেই প্রতিষ্ঠিত সত্য যে হাজিমে নো তাকামুরা সবার সেরা।”
গিলগামেশ বাকা হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে। কিছু বলতে গিয়েও বলল না, ইন্তারেস্টিং কিছু একটা দেখার লোভে ইনভাইটেশান প্রত্যাখ্যান করতে পারে নি। আরো কিছুক্ষণ ব্যাপারটা দেখবে বলে ঠিক করেছে ইতিমধ্যে।
প্রায় আধাঘন্টা যাবত উকিলদ্বয়ের বাক্যালাপ চলতে থাকলো, মজার ব্যাপার হলো, কিভাবে কিভাবে যেন বাদী পক্ষের প্রতিটি যুক্তিই স্রেফ ধোপে টিকলো না ফুউরা কাফকার প্রত্যয়ী বিশ্লেষণ এর কাছে। একটা পর্যায়ে ধীরে ধীরে কোর্ট রুমের ভেতরে সবার কাছেই পরিস্কার হয়ে গেলো রায় কোনদিকে যাচ্ছে।
কিন্তু বিচারক গিন্তোকিকে কেন যেন বিরক্ত লাগছে।
আর কেউ না জানুক, ফ্যানফিকের লেখক নিজে জানে, গিন্তোকি আসামী পক্ষকে ফাঁসি দেয়ার সুযোগ খুঁজে না পেয়ে যারপরনাই বিরক্ত।
আর তাই কিং অব দা কিংস এর সামনে বসেও দিব্যি কানি আংগুল দিয়ে কান চুলকোতে চুলকোতে প্রশ্ন করে বসে,
“তা শিতাচি , থুক্কু ইতাচি উচিহা, হাশিরামার থেকে বেটার শিনোবি বলার জন্য আপনি আপনার এক ভক্তকে খুন করেছেন- এই অভিযোগের শুনানি হবে।
তার আগে, একটা প্রশ্নের উত্তর যে দিতে হয়”, জলজল চোখে যোগ করে, “তা আপনি কি কে পপ শুনেন?”
উত্তর দিতে এক মুহূর্ত দ্বিধাবোধ করলো ‘সর্বকালের সেরা এই ফিকশনাল ক্যারেকটার’, চোখের সামনে অন্তত ডজনখানেক মেকাপ মাখা মায়াকাড়া চেহারা স্লাইডের মতন চলে গেলো সামনে দিয়ে। বুকে পাথর চাপা দিয়ে বলে ইতাচি, তার জলদগম্ভীর কন্ঠে “না”
ক্রুঢ় হাসি ফুটে উঠে, হাতুড়ির বারি হাকিয়ে ঘোষণা করতে থাকে রায়, “বিজ্ঞ আদালত আসামী ইতাচি উচিহাকে ফাঁসির দন্ডে দণ্ডিত করলো, কারণ যারা কেপপ শুনে না, তারা শুধু ছাগল ক্ল্যানের এক নম্বর বাচ্চাই না, এ দুনিয়ায় বেঁচে থাকার কোন অধিকারই তাদের নেই।”
পুরো কোর্টরুম যেন ফুসে উঠলো, সবথেকে উত্তেজিত হয়ে উঠলো, ইতাচির আদরের ছোট ভাই, ‘নিসান উচিহা’।
-‘বাকা, মানে বোকা! চক্ষুলজ্জা হাহ! নিসান যে কেপপের মিউজিক ভিডিও আর লাইভ কন্সার্ট মাংগে কিয়্যু শারিংগান দিয়ে দেখতে দেখতেই চোখের এই হাল করেছে, তা বললে কি আর ক্ষতি হত, প্রানটা তো খোয়াতে হতো না।
আমি এই বিচার মানি না, আমি হিডেন লিফ ধ্বংস করবো আর খুন করবো ৫ কাগে কে।” বলে নিজের শারিংগানে চাক্রা রিলোড করে নিতে নিতেই, পাশে হটাত হাজির হয় শিশুই উচিহা।
সাস্কের পিঠে হাত রেখে বডি ফ্লিকার দিয়ে তাকে নিয়ে যাবার আগে আগে বলতে থাকে, “এতো মন খারাপ করার কিছু নেই সাস্কে, যারা কে-পপ শুনে তারা মরে না তারা অমর …….”

Duty After Schools [মানহোয়া রিভিউ] — Ahmed Samira Niha

Duty After School 1

বেগুনি রঙ্গের কিছু পদার্থ হঠাত করেই আকাশ থেকে নেমে এসে পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করলো। এরা তিন সাইজের হয়ে থাকে, বড়, মাঝারি আর ছোট। ছোট বেগুনী স্ফিয়ারগুলি নিজে থেকে মুভ করে যেয়ে মানুষকে আক্রমন করে মেরে ফেলে। মাঝারি স্ফিয়ারগুলি আদতে দেখতে নিরীহ হলেও তাদের ২ মিটারের কাছাকাছি গেলে ধারালো টেনটাকল দিয়ে নিমিষেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে যে কাউকে। আর বড় গুলো চুপচাপ থাকে, কারো আগেপিছে নাই।

তো এ অবস্থায় কোরিয়ান আর্মিরা ঠিক করলো যে হাইস্কুল স্টুডেন্টদের মিলিটারি ট্রেইনিং দেওয়াবে যাতে এদের ফ্রন্টলাইনে কাজ করানোর জন্য পাঠানো যেতে পারে, কারন আর্মিদের ম্যানপাওয়ার খুবই কম। বিনিময়ে বলা হলো যে যে যত বেশি কন্ট্রিবিউট করবে, তাকে বোনাস পয়েন্ট দেওয়া হবে, যেটার সুবাদে ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় তারা বিশেষ এডভান্ট্যাজ পাবে, নিজের পছন্দমত ভার্সিটিতে ইচ্ছামত এপ্লাই করতে পারবে এক্সট্রা নাম্বারের দরুন।

খুবই লোভনীয় প্রস্তাব। এ সুযোগ আর কে হাতছাড়া করে। হেলাফেলা করে শয়তানি করে দিন কাটাতে থাকে, তারপরে একদিন টনক নড়ে সবার, যেদিন একজন সত্যি করে সবার চোখের সামনে মারা যায়।
এবং স্টুডেন্টরা বুঝতে পারে ঘটনার আসল ভয়াবহতা। শুরু হয়ে যায় সারভাইভালের জন্য এক আদিম প্রতিযোগিতা। সিওলের এক হাইস্কুলের কিছু ছাত্রছাত্রীদের ভালবাসা, ঘৃণা, স্বার্থপরতা, হাসি কান্না মিলিয়ে এক মানহোয়ার কাহিনি, নাম Duty After School.
চ্যাপ্টার সংখ্যা ৫০, কমপ্লিটেড।
ক্রিয়েটর: Ilkwon ha

Duty After School 2

এরকম সুন্দর আর অদ্ভুতুড়ে মাঙ্গা খুব কমই পড়েছি। আন্নারাসুমানারা’র মাঙ্গাকার কাছ থেকে আসলে এমনটা এক্সপেক্ট করাই যায়। গল্প বলার স্টাইলটাও অনেক সুন্দর। তার আঁকায় এক বিশেষ সম্মোহনী এক ক্ষমতা আছে, যার কারনে এক প্যানেল পড়া শেষ হলেও কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকতে হয়, আবার পড়তেও বেশিক্ষন লাগেনা। আর ভিজ্যুয়ালের কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই, পুরো মাঙ্গায় কালো আর আর ডার্ক বেগুনী একটা হ্যিউ কাজ করেছে, যা এই টাইপের মাঙ্গার ডিপ্রেসিভ পরিবেশের সাথে একেবারে চমতকার ভাবে মানিয়ে গেছে।

কেন পড়বেন: আপনার জীবনে পড়া/দেখা সারভাইভাল জন্রার বেস্ট কাহিনি হতে যাবে। আমি একরাতে শেষ করেছি। রাত ৯টায় পড়তে ধরে সকাল ৭:৩০টায় শেষ করেছি। মাঝে পড়াশোনা না করলে আরো আগেই শেষ হতো।

Duty After School 5

সারভাইভাল জন্রার কাহিনি যেহেতু, তাই ক্যারেক্টারদের ধপাধপ মরে যাওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে, যেগুলির প্রত্যেকটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন। এই মানহোয়ার ব্রিলিয়ান্ট অথচ আনএক্সপেক্টেড এন্ডিং আপনাকে কিছুক্ষনের জন্য হতভম্ব করে দিতে বাধ্য।

পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০
*মানহোয়াটি line webtoon app-এ পড়া ভাল।

Duty After School 3

অনন্য মাঙ্গা আসর – ৯ (Hoshi Mamoru Inu inc. Zoku Sequel)

একটি অনিয়মিত সেগমেন্ট তাদের জন্য যারা পড়ার মত মাঙ্গা খুজছেন কেবল তাদেরই জন্য …
একটি গল্পের শুরু বা শেষ থাকতেই হবে – এটা কোন ধর্মগ্রন্থ প্রদত্ত বিধান নয়। ঠিক তেমনি একটি মাঙ্গা হোশি মামোরু ইনু – যার ইংরেজি প্রতিশব্দ দাঁড়ায় Star Protector Dog…
বিভিন্ন ধর্মে একটি প্রাণী হিসেবে কুকুরকে একটু খাটো করে দেখার প্রবণতা দেখা যায় . কিন্ত আমার ধ্যানধারণা ঠিক উল্টো। যেখানে মানুষ বিড়ালকে পোষা প্রাণী হিসেবে বেশি Prefer করে থাকে সেখানে আমার কাছে কুকুরের চেয়ে বড় সহযোগী/বন্ধু আর কিছু নেই। এর পেছনে একটি ব্যাক্তিগত কারণও আছে বৈকি – ছোটবেলায় আমার এক খালুর মারা যাওয়ার পর তার পোষা কুকুরটি ৪ দিন টানা তার কবরের সামনে বসে অনাহারে প্রাণত্যাগ করে ওকে ঠিক খালুর পাশেই কবর দেয়া হয়।
সুতরাং বলে রাখা ভালো, কুকুরের প্রতি ভালোবাসা বা আসক্তি থাকলে এই মাঙ্গাটি আপনার কাছে আদতপক্ষেই মাস্টারপিস মনে হবে.যেমনটি আমার ক্ষেত্রে হয়েছে …
Hoshiro Mamoru Inu 1

তাকাশি মুরাকামি নামটি দেখে প্রিয় লেখক হারুকি মুরাকামির সাথে যোগসূত্র আছে কি না ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে দেখা মিললো আর্ট এর ব্যাপারে এই শিল্পীর পারদর্শিতা দেখে – কিছু Abstract আর Metaphoric পেইন্টিং দেখে রীতিমত অবাক হয়েছিলাম। মাঙ্গাটি ভালো লাগার একটি অন্যতম কারণ হলা আর্ট – না এখানে আর্ট মানে মিউরা কেন্তারৌ র মত চোখ ধাঁধানো আর্ট নয় বরং খুবই সহজাত শীতল আর্ট। প্রথম নজরে দেখে মনে হবে এ আর এমন কি এতো আমিই আঁকতে পারি কিন্ত পরমুহূরতে উপলব্ধি হয় যে না প্রতিটি স্কেচের মাঝে Message লুকিয়ে আছে – আর যত আগাতে থাকবেন সামনে বুঝতে পারবেন মাঙ্গাটির আর্ট কতটা অসামান্য….
এই মাঙ্গাটিতে মানুষের সংলাপের অবদান ক্ষীণ বা গৌণ – সমস্ত সংলাপ গুলো অবলা জীব কুকুরের। একটি প্রানী মানুষের ভাষা বোঝে না কিন্ত তার ভাবাবেগ মানুষের চেয়ে কম সূক্ষ্ম নয় – যেটা তাকাশি মুরাকামি পুরো মাঙ্গাটা জুড়ে আমাদের বোঝাতে চেয়েছেন….
কতগুলো কুকুরের জীবনকাহিনীর সাথে তাদের পালক মানুষের কমপ্লেক্সিটি; পালক বদল, ঘটনাচক্র, সমাজের কিছু দৃশ্যকল্প আর তার মাঝে ড্রামা – ট্রাজেডি। একসাথে এত কিছু একটি উপন্যাসে ফুটিয়ে তোলা মাঙ্গার চেয়ে বেশ সহজ কিন্ত ছবি এঁকে এঁকে এক ছবি দিয়ে হাজার লাইনের অভিব্যাক্তির প্রকাশ ঘটানো দুঃসাধ্য। প্রথম অংশে পুরোপুরি সফল না হলেও Zoku তথা সিকুয়েল মাঙ্গাটির জন্য তাকাশি মুরাকামি পেরেছেন সেটা করতে; এজন্য MyAnimeList এ Zoku কে ১০/১০ দিতে বাধ্য হয়েছি।
Hoshiro Mamoru Inu 2গল্পের মাঝে একজন চরিত্র এসেছে; তার পরিবার আর পরিপার্শ্ব ও তার সাথে একটি কুকুরের সম্পর্ক বা বলা যেতে পারে কুকুরের চোখে সেই মানুষের জীবনযাত্রা বা পরিবার কিরকম তার বর্ণনা দিয়ে শুরু। কুকুরের ভাবনা হয়ত সহজ সরল এবং কিছুটা নির্বুদ্ধিতা কিন্ত তাতে কোন দোষ নেই; কারণ কুকুর বোঝেনা কেন বাচ্চারা টিনেজার হয়ে গেলে বাবা মাকে মধ্যাঙ্গুলি দেখায়; সে বোঝেনা কেন ভালোবাসা আর মায়ার পরও Unemployed বলে একটি দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়. আর তাই কুকুরের কাছে তার পালকের জীবনের ব্যাখাটা অনেকটা সহজ ভাষ্য – “হুম সে এটা করে তারপর এটা হয় আর তারপর থেকে এটা রোজই হয়”
আর এটাই এই মাঙ্গার সৌন্দর্য – কুকুরের বুদ্ধিবৃত্তি ইতর প্রাণীর পর্যায়ে থাকায় যে বাস্তবিক অনুভুতি একজন পাঠক হিসেবে পাওয়া সম্ভব তা পাওয়া গেছে।
এক মুহূর্তের জন্যও ফিকশন বা রূপকথার মত টিপিক্যাল হয়ে যায় নি ব্যাপারটা।
আবেগে আঘাত হানতেও ছাড়েননি তাকাশি মুরাকামি; প্রয়োজনে হিউম্যান Perspective থেকেও সংলাপ আর ভাবনাকে তুলে ধরেছেন।
আর বারেবারে মনে করিয়ে দিয়েছেন “Ignoring Dogs is a CRIME”.
Hoshiro Mamoru Inu 3
তারপর আসা যাক গল্পের ফিনিশিং নিয়ে – এখানে প্রথমে অনেকগুলো কুকুরের জীবনকাহিনী বিচ্ছিন্ন ভাবে উপস্থাপিত হলেও শেষে এসে লেখক ঘটনাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে রীতিমত চোখ বড় বড় করে শেষ দুই চাপ্টার গল্ধঃকরন করেছি ই বলা শ্রেয়।
মাত্র ৯ চাপ্টারের এই মাঙ্গাটি যতটা আর্টিস্টিক আর ইমোশনাল ছিল হয়তো অনেক দীর্ঘকায় মাঙ্গাতেই তা নেই; মাঙ্গাটি সবার পড়া উচিত; বিশেষ করে আপনি যদি প্রাণীপ্রেমী হন – মাঙ্গাটি পড়ার পর হলেও মনে কুকুরদের প্রতি একটু সফট কর্নার তৈরি হবে বলে আমার বিশ্বাস। আর চিৎকার চেচামেচির আগেই বলে রাখা ভাল উপরের কোন ছবিই স্পয়লার নয় সুতরাং ঘাবড়ে যাবার কোন কারণ নেই।
পরিশেষে একটাই কথা বলবো, যদি ব্যস্ততার কারণে পোষা প্রাণীকে সময় দিতে না পারেন তবে অন্য কাউকে দিয়ে দিন বা ঘরে দেখাশোনা করার জন্য লোক রাখুন। ফেলে রাখবেন না বা অবহেলা করবেন না; কারণ সে আপনার অবহেলা বুঝবে না – আর তখন তার চেয়ে বড় পাপ আর কিছু থাকে না…..

The Promised Neverland (Yakosokou no Neverland) [মাঙ্গা রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

The Promised Neverland 1

মাঙ্গা: The Promised Neverland (Yakosokou no Neverland)
চ্যাপ্টার: ৭৩ 
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং
রচয়িতা: কাইয়ু শিরাই
ইলাস্ট্রেটর: পোসুকা দেমিজু
জনরা: থ্রিলার, মিস্ট্রি, অ্যাডভেঞ্চার, ফ্যান্টাসি

সাধারণত আমি একেবারে নতুন কোন মাঙ্গা পড়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ পোষণ করি না। যে মাঙ্গার এনিমে নেই আরকি। অর্ধসমাপ্ত এনিমেগুলার মাঙ্গা পড়ে কৌতূহল মিটিয়েই কূল পাই না। তাছাড়া এতদিন পরেও মাঙ্গা পড়ার অভ্যাসটা গড়ে উঠে নি পুরোপুরি। তাই মাঝেমাঝেই দেখতাম Arafin Shanto কে একটা ফ্রেশ মাঙ্গা নিয়ে চেঁচামেচি করতে। অতটা পাত্তা দেই নি প্রথমে, ‘কোন একদিন পড়বোর’ লিস্টে ফেলে রেখেছিলাম অন্য অনেক সিরিজের মত। একদিন Rezwan Shuvo তাই ক্যাঁক করে ধরলো মাঙ্গা পড়ার ব্যাপারে। আমতা আমতা করে উত্তর দিলাম এই তো এটা-সেটা পড়ছি! সুযোগ বুঝে আরেফিনের সাজেস্ট করা সেই মাঙ্গার ফার্স্ট চ্যাপ্টারের পুরোটা কাহিনী মাথায় ঢুকিয়ে দিল সে। বাসায় এসে প্রথম ভলিউম শুরু করার সময় ভাবলাম প্রথম চ্যাপ্টারের পুরো কাহিনী যখন জেনে গেছি, মাঙ্গাটা কি আর ভাল লাগবে? প্রথম চ্যাপ্টারের শকিং ফ্যাক্টরের স্পয়লার খাওয়ার পরও কমিক রিডারের পেজ উল্টাতে উল্টাতে হুট করে খেয়াল করলাম যে নিমিষেই সাত চ্যাপ্টার শেষ করে ফেলেছি। পরের ৬৬ চ্যাপ্টার যে রোলার-কোস্টার রাইড উপহার দিয়েছে তার জন্য আগে থেকেই দুজনকে ধন্যবাদ দিয়ে রাখি। মধু হই হই পুরো বিষ খাইয়ে দিল তারা! ওহ, এতক্ষণ ধরে তো মাঙ্গার নামটাই বলা হল না! পিটার প্যানের স্রষ্টা জে.এম ব্যারির কল্পিত দেশ ‘নেভারল্যান্ডের’ সাথে মিলিয়ে মাঙ্গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্যা প্রমিজড নেভারল্যান্ড’। নামকরণটা যে কেন এত ভয়াবহভাবে যথার্থ তা নিয়ে অন্য কোন পোস্টেই আলোচনা করা যাবে।

প্লট: (স্পয়লার অ্যালার্ট তবে এই স্পয়লার জরুরী)
‘Grace Field Orphanage’ এ থাকে তিন এতিম শিশু এমা, নরম্যান আর রেই। তাদের তিনজনেরই বয়স ১১. তাদের সাথে থাকে বিভিন্ন বয়সের আরো ৩৩ জন শিশু। এতিমখানার দেখাশোনা করেন ‘মাদার ইসাবেলা’। ইসাবেলাকেই তারা জন্মের পর থেকে অভিভাবক জেনে এসেছে, আর এতিমখানার বাকী শিশুদের আপন ভাই-বোন। ইসাবেলার যত্ন-আত্তিতে ভালই কেটে যাচ্ছিল এমা-নরম্যান-রেইদের দিন। মাঝেমাঝেই তাদের এতিমখানা থেকে বাচ্চাদের দত্তক নিয়ে যায় বিভিন্ন পরিবার। এমাদের মনে অনেক দুঃখ যে পরিবার পাওয়ার পর তাদের সঙ্গীরা তাদের আর খোঁজ-খবর রাখে না। এ পর্যন্ত তাদের কেউই সময় করে একটা চিঠিও পাঠায় নি। একদিন ছয় বছরের ‘কনিকে’ দেখাশোনা করার জন্য অভিভাবক পাওয়া যায়। সাজগোজ করা কনিকে অশ্রসজল চোখে বিদায় জানায় এমা-নরম্যানরা। রাতে ঘুমানোর সময় হুট করে এমা টের পায় যে কনি তার প্রিয় পুতুলটাকে ভুলে ফেলে গেছে। রেই জানায় যে হয়তোবা অরফানেজের বাইরে কনিরা এখনো আছে, তাড়াতাড়ি করলে হয়তোবা পুতুলটা দেওয়া সম্ভব হবে। এমা আর নরম্যান গেটের দিকে দৌড় লাগায়। গেটের কাছে গিয়ে দেখে চারদিক শুনশান, একটা বড় ট্রাক দেখতে পায় তারা শুধু। এমা ভাবে হয়তোবা ট্রাকের ভেতরেই পুতুলটা রেখে দিলে সেটা কনির কাছে পৌছে দেওয়া হবে। ট্রাকের পেছনে উঁকি দেওয়ার পর এমা এক অকল্পনীয় বীভৎস দৃশ্য দেখে মূর্তি হয়ে যায়। নরম্যান এগিয়ে এসে দেখার পরে আঁতকে উঠে।

ট্রাকের ভেতরে রাখা আছে সুন্দর পোশাক পরা বেচারা কনির মৃতদেহ, রক্তের সাগরে সুন্দর করে ভাসছে সে। চোখে লেগে আছে ভয়াবহ আতংক। সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপার হল কে জানি কনির বুকে একটা শস্যের গাছ গেঁথে রেখেছে। তখনই কথাবার্তার আওয়াজ শুনে তারা দ্রুত ট্রাকের নিচে লুকিয়ে পড়ে। ভয়ানক আতংক নিয়ে তারা দেখতে পায় যে পৈশাচিক আর বীভৎস দুই দানব কথা বলছে অরফানেজের ব্যাপারে। আড়ি পেতে তারা জানতে পারে যে এই অরফানেজ আসলে একটা হাই-ক্লাস ফার্ম। এখানে মানুষের বাচ্চার দেখভাল করা হয় সম্ভ্রান্ত দানবদের খাবার হিসেবে! ছয় বছর বয়স থেকেই বাচ্চাদের খাবার হিসেবে রপ্তানি করা হয়। দানবদের প্রিয় খাবার হল মানুষের মগজ। আর ‘মাদার ইসাবেলার’ কাজ হচ্ছে চাহিদামত সেবাযত্ন করে বাচ্চাদের ব্রেইনকে পরিপূর্ণ করে তোলা।

The Promised Neverland 2

এসব শুনে মুহূর্তের মধ্যে এমা আর নরম্যানের চেনা জগতটা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়ে। সদা স্নেহশীল মাদার হয়ে যায় তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। ঘনিষ্ঠ বন্ধু রেইকে তারা পুরো ঘটনাটা জানায়। তিনজন মিলে পুরো অরফানেজের সবাইকে নিয়ে পালানোর অসম্ভব পরিকল্পনা আঁটে। সম্বল শুধু তাদের তিনজনের তীক্ষ্ণবুদ্ধি আর জ্ঞান। বিপক্ষে আছে ভয়ানক নিষ্ঠুর মাদার, বাইরের মানুষখেকো দানবঘেরা দুনিয়া আর অরফানেজের বিশাল দেওয়াল। তারপরও খাবার না হওয়ার তীব্র তাড়না আর বাইরের দুনিয়াকে জানার বাসনা তাদের শক্তি যোগায় অসম্ভব এক অভিযানের সঙ্গী হতে।

চরিত্র:
মাঙ্গার ক্যারেকটারগুলা এক কথায় দুর্দান্ত। অরফানেজের আইকিউ টেস্টে সবসময় যৌথভাবে সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়া এমা-নরম্যান-রেই তিনজনেরই আছে স্বকীয়তা। এমা খুব চঞ্চলমতি আর তার হৃদয়টা বিশাল। সে সব পরিকল্পনাই আঁটে সবার নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে। তাই ভয়ানক ঝুঁকি নিতে সে পিছপা হয় না। কঠিন অনেক সমস্যার সরল সমাধানও করে দিতে পারে সে। এক কথায় নায়কোচিত সব গুণাবলি আছে এমার।

এমা প্রদীপের আলো হলে রেই হলো তার অন্যপাশের অন্ধকার। কিছুটা স্বার্থপরই বলা যায় রেইকে। তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার অধিকারী রেই সবসময়ই নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। এ কারণে এমার সাথে তার একচোট বাঁধে নিয়মিতই। রেইয়ের নিপুণ দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বিপদ থেকে বাঁচায় তাদের। তাছাড়া প্রতিপক্ষের গতিপ্রকৃতি যাচাই করার অসাধারণ জ্ঞান আছে রেইয়ের।

তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র নরম্যানের বৈশিষ্ট্য হল ইস্পাত-কঠিন স্নায়ু আর চমৎকার দূরদর্শী ক্ষমতা। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার নরম্যানকে দেখে বোঝার উপায় নেই তার মনে কী চলছে। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতে কিন্তু আবার প্রয়োজনে অন্যের জীবন হাসিমুখে নিতেও তার বিন্দুমাত্র হাত কাঁপবে না। প্রতিপক্ষের চাল আন্দাজ করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজানোর বেলায় নরম্যান সিদ্ধহস্ত। ভয়-ডর বলে সম্ভবত কিছু নেই নরম্যানের। তার হাসিমুখে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করা দেখলে গায়ের রোম খাঁড়া না হয়েই পারে না। Monster এর ইয়োহান লিবার্টের ভদ্র সংস্করণ হল নরম্যান আমার মতে।

এছাড়া ডন, গিল্ডা, মাদার, সিস্টার ক্রোন এবং সামিনের চ্যাপ্টারগুলাতে আসা চরিত্র ও ভিলেনরাও সমান আকর্ষণীয়।

The Promised Neverland 3

প্রতিক্রিয়া:
আমার মতে প্রমিজড নেভারল্যান্ড মাঙ্গার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল এর টুইস্ট আর কাহিনী লুকিয়ে রাখার প্রবণতা। টুইস্টটা যেন দুই পক্ষের দিক থেকেই আসে, দুই পক্ষই প্লট টুইস্টের শিকার হয় সমানতালে। এমা-নরম্যান-রেইরা প্ল্যান আঁটার পরে দেখা যায় যে, মাদার এসে মুহূর্তে তা নস্যাৎ করে দিচ্ছে। আবার তারাও মাদারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বারবার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছে নিরলসভাবে। দুই পক্ষই যখন ভাবছে তাদের প্রতিপক্ষের খেল খতম তখনই অপর পক্ষ তুরুপের তাস বের করে পাশার দান উল্টে দিচ্ছে। এ যেন এক নিরন্তর ইঁদুর-বিড়াল খেলা। শুধু বিড়ালের জায়গা দখল করে নিয়েছে নিষ্ঠুর চতুর এক মহিলা আর ইঁদুরের জায়গায় আছে সুযোগসন্ধানী তিন কিশোর-কিশোরী।

এই ইঁদুর-বিড়াল খেলাকে জমিয়ে দিয়েছে মাথার লড়াই। এমা-নরম্যান-রেইদের শারীরিক সক্ষমতা অল্পই তবে তারা সেটা পুষিয়ে নিয়েছে মাথা খাটানোর ক্ষমতা দিয়ে। হাসিমুখ মাদারের সাথে দৈনন্দিন সময় অতিবাহিত করলেও তাদের মগজের ধূসর কোষগুলো সচল থাকে চব্বিশ ঘন্টা। প্রতিপক্ষের কথাবার্তার পাশাপাশি চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ও মুখভঙ্গি দেখে ভবিষ্যৎ চাল আন্দাজ করে নেয় তারা। এগারো বছরের তিনজন শিশুর এরকম বুদ্ধিমত্তা দেখেকে অবাক হতে হয়। সাথে সাথে চলতে থাকে ভয়ানক ঝুঁকি নিয়ে আড়ি পাতা, গোপনে সরঞ্জাম সংগ্রহ করা ও বাইরের দুনিয়ার খবর নেওয়ার প্রচেষ্টা। সমান সেয়ানা প্রতিপক্ষও তাদের মানসিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। মাথার উপর মৃত্যু পরোয়ানা ঝুলিয়ে রেখে এরকম রিস্কি কাজের বাহার মাঙ্গাটাকে করে তুলেছে আরো উত্তেজক।

মাঙ্গাটার কাহিনী লুকিয়ে রাখার ক্ষমতা অতুলনীয়। যখনই মনে হবে তীরে এসে তরী ডুবছে তখনই ভয়ানক একটা সত্য উন্মোচন করে পাঠককে নাড়িয়ে দেবেন মাঙ্গাকারা। মাঙ্গাকারা যেন পাঠককে আশা আর নিরাশার দুটো নৌকায় পা দিতে বাধ্য করেছেন। একদিকের নৌকা হেলে পড়লেও তা পুরোপুরি ডুবে না, তাই আশার বাতিও নেভে না পুরোপুরি। এ কারণেই মাঙ্গার চরিত্রগুলাকে আরো বেশী আপন মনে হয়, তাদের কাজকর্মের উত্তেজনাটাও অন্য মাত্রায় অনুভব করা যায়। একটার পর একটা ক্লু রেখে দেওয়া হয় গল্পে যার সূত্রে চরিত্রগুলার আশার আলো জিইয়ে থাকে। সাথে সাথে আমরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। মাঝেমাঝে হতাশা চরম মাত্রায় পৌছে গেলেই ভয়াবহ কোন প্লট টুইস্ট এসে কাঁপিয়ে দিয়ে যায় সবকিছু। একঘেয়ে ভাবে কথাগুলো বলতে হচ্ছে কারণ চ্যাপ্টার আর ঘটনার কথা বিন্দুমাত্র উল্লেখ করলেই স্পয়লার হয়ে যাবে।

প্রমিজড নেভারল্যান্ড মাঙ্গাকে আসলে অ্যাটাক ইন টাইটান ও মেইড ইন অ্যাবিসের শংকর বলা যায়। AOT এর মধ্যে যে বেঁচে থাকার তাড়না ও মানবজাতির টিকে থাকার প্রেরণাটা রয়েছে তা ভালভাবেই আছে নেভারল্যান্ড মাঙ্গায়। আবার MIA এর অপূর্ব ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং আর ইকোসিস্টেম এর বর্ণনাও আছে মাঙ্গাটাতে। AOT ও MIA এর মধ্যে অজানাকে জানার যে থ্রিলটা অপেক্ষা করে দর্শকদের জন্য তা সমানভাবেই আছে নেভারল্যান্ড মাঙ্গায়। বরংচ তা প্রদর্শিত হয়েছে আরো ভিন্ন আঙ্গিকে ও ভিন্ন পরিস্থিতিতে। আবার নারুতো শিপ্পুডেনের মত পরিবারের রহস্য-ক্ষমতার দ্বন্দ্ব-চক্রান্ত-অতীতের পাপ-নিয়ম ভাঙ্গা-সৃষ্টির অরিজিন ইত্যাদি জিনিসের ব্যাপক আভাস পাওয়া যাচ্ছে নতুন চ্যাপ্টারগুলাতে। অরফানেজের সীমাবদ্ধ জায়গায় কাহিনী শুরু হলেও দ্রুতই মাঙ্গাকারা পাঠকদের একটা নিজস্ব ইউনিভার্স উপহার দিয়েছেন। সেটা নিয়ে এখন ইন্টারনেটে তুমুল আলোচনাও চলছে।

মাঙ্গার আর্ট বেশ ভাল। ইলাস্ট্রেটর সাহেব খুব ভালভাবেই চরিত্রগুলার মুখভঙ্গি উঠিয়ে এনেছেন কাগজে। দানবগুলার ডিজাইন খুবই ভয়াবহ। কিছুটা এলিয়েন আর কিছুটা পশু মনে হয় তাদের। তুরুপের তাসগুলা বের করার সময় নরম্যান-এমা-রেইদের চেহারা হয় দেখার মতো, এই জায়গাগুলাতে ডার্ক লাইনের ব্যবহার খুব ভাল লাগে। অসহায় চেহারাও আঁকতেও অনেক ওস্তাদ ইলাস্ট্রেটর। আর রাগ-ক্রোধের দৃশ্যগুলা তো রীতিমত দুর্দান্ত। গাছপালা, ঝর্ণা, ভূগর্ভ, মরুভূমি আর অদ্ভুত সব জীবজন্তুর আঁকাও ভাল ছিল অনেক। নরম্যানের স্মিত চেহারা আর এমার হাসিমুখ দেখলে ব্যাপক প্রশান্তি অনুভূত হয়।

সম্ভবত আর কোন কিশোর সাহিত্য আমাকে এত থ্রিল দেয় নি দ্যা প্রমিজড নেভারল্যান্ডের মত। ২৯-৩০ এর দিকে গাঢ় হতাশা আমাকে ঘিরে ধরেছিল চারপাশ থেকে। ৩২-৩৩ এ যখন চমক আসলো তখন গা রীতিমত কাঁপছিল আমার। চ্যাপ্টার ৩৬ এর সময় তো আমি আনন্দে প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম। বেঁচে থাকার প্রেরণা যে কত আনন্দের হতে পারে তা AOT এর পরে আরেকটা সিরিজে এত অনুভব করতে পারলাম। চ্যাপ্টার ৩৬-৩৭ এর ক্লাইমেটিক ঘটনাগুলো ঘটার সময় গায়ের রক্ত যেন টগবগ করে ফুটছিল। নিজের চেহারা নিজে দেখা যায় না, হয়তো আয়নাতে তখনকার সময়ের চেহারা দেখলে নিজেই আঁৎকে উঠতাম। এরপরে একটানে চ্যাপ্টার ৩৮-৬২ পর্যন্ত পড়ে গেছি কাহিনী এত দ্রুতগতিতে রোলার-কোস্টারের মত এগিয়েছে যে দম ফেলার ফুরসত ছিল না। নতুন চ্যাপ্টারে যে বোমা ফাটলো তাতে তো ফ্যান থিওরি দাঁড়া করাতে করাতে ফ্যানবেসের কাহিল হওয়ার যোগাড়। আসলে একটানে মাঙ্গাটা শেষ করে ফেলাই ভুল হয়েছে। এখন আবার প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে অপেক্ষা করতে হবে। 

প্রথম থেকেই এরকম ডার্ক আর ম্যাচিউরড কাহিনীওয়ালা সিরিজ উইকলি শৌনেন জাম্পে ছাপানো হচ্ছে তা বিশ্বাস করতে কষ্টই হচ্ছে। জাম্প এডিটর সম্ভবত এই মাঙ্গা নিয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী। আর মাঙ্গাকারাও ইতোমধ্যে কাহিনী অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন। উইকলি মাঙ্গা হওয়ায় প্রতি চ্যাপ্টারে মাত্র বিশটা করে পেইজ, তাই পড়তে একদমই সময় লাগে না। এই ২০১৬ সালের আগস্টে শুরু হওয়া এই সিরিজটার মাঙ্গা অলরেডি ২.১ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন এর এনিমে আসা সময়ের ব্যাপার। হয়তোবা FMAB এর মত একসাথে পুরো গল্প অ্যাডাপ্ট করা হবে। শৌনেন জাম্পের নতুন প্রজন্ম বেশ ভালই করছে বলতে হবে।

Devilman Lady [রিভিউ] — Krista King

Devilman Lady 4

Anime Name: The Devil-Lady or Devilman Lady.
Written: Go Nagai (manga), Chiaki J Kanaka (anime)
Illustrator: Go Nagai
Genre: Action, Horror, Psychological, Drama.
Episode: 26
Demographic: Seinen
Original Run: 1998 to 1999
Magazine: weekly morning
Studio: Toei Animation

Character:
জুন ফুডো- নম্র, ভদ্র সুন্দরী ও সাধারণ মহিলা। অন্য devilmanদের ভিন্ন, শক্তি ও যৌনতা দুটোরই লালসা নেই। অমানবিক মানুষ ও devil দুইকেই ঘৃনা করে। মানব রক্ষার্থে চরমতম হিংস্র হতে পারে। বন্ধু ও ভক্ত কাসুমির কাছে দিদির মতো। কোনো devil তাকে মা বললে নিশ্চয়ই সে বুকে টেনে নেবে। প্রথমে লান তাকে জোর করেই কাজ করাচ্ছিল বলে মনে হলেও, পরে বোঝা যায় সে স্বেচ্ছায়ই মানুষ রক্ষার্থে কাজ করেছে।
লান আসুকা- ইনি জুন ফুডোর ঠিক বিপরীত। শক্ত, সামর্থ, কঠিন মানসিকতার। নিজেকে প্রমান করতে যেকোনো অমানবিক কাজ করতে পারে। তবুও তার মতামতকে সম্পূর্ণ ভুল বলা যায় না।

Devilman Lady 2

My View:
Claymore দেখার অনেকদিন বাদে এমন action, horror series দেখলাম। Devilmanর plot প্রায় একই typeর হলেও এটাতে বেশ sensitive একটা গল্প আছে। action, suspense আর জুনকে দেখার মত। আর সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হল- suspense making, charecter design আর musicগুলোতে একটা DCএর মতো Feel আসে। suspense sceneএ musicগুলো কেমন Batman Animationর tune বলেই মনে হয়। এছাড়া হাল্কা yuri ও নগ্নতার দৃশ্য আছে। সবমিলিয়ে DEVIL-LADY বেশ একটা entertaining ও attractive animation series. পারলে mangaটা ও পরতে পারেন সেটা নাকি animeর চেয়ে অনেক বেশি gore.
(Some Info — Devil-ladyর মাঙ্গাকা-ই হল Dvillman(1972) seriesর ও সৃষ্টিকর্তা। শুধু devilman হল shounen series আর devil-lady হল seinen series.)

Devilman Lady 3

B: The Beginning [রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

B The Beginning

অ্যানিমে জগতে নেটফ্লিক্স বড় ধরণের এক বিপ্লবই ঘটিয়ে ফেলতে যাচ্ছে বলে আমার ধার‍ণা। এই অ্যানিমেটা নিয়ে আগে থেকে কোন ধারণা ছিলো না। গত পরশু টরেন্ট সার্ফ করতে গিয়ে পোস্টারে নেটফ্লিক্স দেখেই নামিয়ে দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম।

MAL আর IMDb তে দেয়া সিনোপ্সিস খুবই অস্পষ্ট মনে হলো। যা হোক, শুরু থেকেই কেমন যেন একটা এলোমেলো ভাব ছিলো স্টোরিতে। ফলো করা কষ্টকর। সিরিজের মাঝামাঝি এসে পাজলগুলোকে কিছুটা জোড়া লাগানোতে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্পেশালি B এর ব্যাকস্টোরি আর কারেক্টারদের seemingly মোটিভহীনতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

জনরায় সায়েন্স ফিকশন দেয়া থাকলেও এটা অনেকটাই ফ্যান্টাসি ধাঁচের। কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর পাশাপাশি অনেক পার্শ্বচরিত্র থাকাতেই কিনা চরিত্র নির্মাণটা অতটা পোক্ত হয়নি। ডিটেক্টিভ ওয়র্ক কিছু জায়গায় overly done লাগতে পারে। ২৫ এপিসোডে করা গেলে দারুণ একটা অ্যানিমে পাওয়া যেতো।

পুলিশ ওয়ার্ক আর ডিটেক্টিভ এলিমেন্ট দেখে এটায় কিছুটা Psycho-Pass ভাইব পাওয়া গেলেও সাইকোলিজক্যাল যে দ্বন্দ্ব দেখা যায় তা কিছুটা Death Note এর কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। তবে অ্যানিমেটা এ দুটোর কোনটার দিকেই ঘেঁষেনি।

গল্পবিচারে প্লটটাকে ইউনিকই বলা চলে, তবে অনেক fast paced. সাবপ্লটগুলো ঠিকভাবে সিকোয়েন্স করা হয়নি বলেই আমার ধারণা। অ্যানিমের সবচেয়ে পজিটিভ যে দিকটি ছিলো তা হলো এটি intriguing. আপনার মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করতে পারে তবে বোরড হবেন না। আর এন্ডিংটাও যথেষ্ট মানানসই ছিলো।

অ্যানিমেশন, বিশেষ করে ফাইটিং স্যিনগুলো টপ নচ ছিলো। সাউন্ডট্র‍্যাক মোটামুটি। আর আমি অবশ্যই dubbed ভার্সন দেখতে বলবো। ভয়েস বেশি lively লেগেছে dubbed ভার্সনে। আর যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে নেটফ্লিক্স দিয়ে রিলিজ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে dubbed ভালো হওয়াই স্বাভাবিক।

Overall, it’s a good watch. Doesn’t quite win your heart but keeps you guessing. I’d rate it 7.5 out 10.

Holyland [মাঙ্গা রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Holyland

Holyland
জনরাঃ অ্যাকশন-ড্রামা, মার্শাল আর্ট, সেইনেন

চ্যাপ্টারঃ ১৮২
MAL Link: Holyland

আমি সব সময়ই বড় অ্যাকশন মাঙ্গা এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করি কারণ গ্রাফিক নভেলের মতো মাঙ্গার চিত্র একটি ফাইটের উত্তেজনা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। বার্সারক, ভিনল্যান্ড সাগার মতো মাঙ্গা গুলোর অ্যাকশনের চিত্র গুলো দেখতে সুন্দর কিন্তু সেখানে চরিত্রগুলোর মনোভাব বা তাদের মানসিক অবস্থা ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এইটাই এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় অর্জন। মাঙ্গাকা চমৎকার ভাবে প্রতিটি লড়াই ফুটিয়ে তুলেছে।

কাহিনীঃ ৯/১০
কাহিনীটি খুব সাদামাটা ভাবে শুরু হয়। কামিশিরো একজন সাধারণ হাই স্কুল ছাত্র যে জীবনে নিজের জায়গা খুজে বের করার চেষ্টা করছে। সারাজীবন তাকে স্কুলের ছাত্রদের বহু অত্যাচার এবং আপমান সইতে হয়েছে। বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাবার জন্য সে বিভিন্ন মারামারিতে জড়িয়ে পরে। এখান থেকেই শুরু হয় হলিল্যান্ড মাঙ্গার যাত্রা। মাঙ্গার প্রতিটি পাতার সাথে সাথে এর কাহিনী জটিলতা বৃদ্ধি পায়। কামিশিরোর মারামারির জন্য সে জড়িয়ে পরে অনেক ভয়ংকর গ্যাং যুদ্ধে। এখন তাকে তার প্রিয় মানুষগুলোকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করতে হবে। প্রথম দেখায় মনে হয় যে,কাহিনীতে নতুনত্বের কিংবা ভিন্নতার কোন সুযোগ নেই কিন্তু মাঙ্গাটি দুর্দান্ত ভাবে নিজের চরিত্র এবং তাদের কাহিনীগুলোকে সাজিয়ে নেয়।লড়াই গুলো থেকে এখানে প্রতিটি চরিত্রের জীবনযাত্রা এবং তাদের লড়াইয়ের পেছনের অনুভূতি মাঙ্গার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই বলতে যে লড়াই গুলো গুরুত্বপূর্ণ কিংবা আকর্ষণীয় নয় সেরকম না। আমি আগেই বলেছি যে, এই মাঙ্গাকে অ্যাকশনের দিক থেকে হারানো খুবই কষ্টকর হবে অন্য যেকোন মাঙ্গার জন্য। এটা কিছুটা ইভাঙ্গেলিওনের মতো।ইভাঙ্গেলিওনে যেমন দুর্দান্ত ম্যাকা ব্যাটল আছে কিন্তু এটা কাহিনীর শুধুমাত্র একটি ছোট অংশ। এই মাঙ্গাটিও ঠিক সেরকম। মাঙ্গাকা লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে মাঙ্গা লেখার আগে গবেষণা করেছেন। মার্শাল আর্ট, তাইকনডু কিংবা জুডো সব ধরনের লড়াইয়ের কৌশল দুর্দান্ত ভাবে মাঙ্গাতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

চরিত্রায়নঃ ৯/১০
মাঙ্গাটির প্রতিটি চরিত্র কাহিনীর সঙ্গে বেড়ে উঠে। বড় মাঙ্গাগুলোতে সবসময় চরিত্রের পরিচালনা নিয়ে সমস্যা থাকে। মাঙ্গার কাহিনী বড় হওয়ায় অনেক সময় দেখা যায় মাঙ্গা নতুন চরিত্র যখন যোগ করে তখন সেই চরিত্রগুলোর কাজ শেষ হবার পর তাদেরকে আর ব্যাবহার করা হয় না।ভাগ্যিস Holyland মাঙ্গাটি এই রোগটিতে ভুগে নি। এই মাঙ্গা প্রতিটি চরিত্রকে যেমন তাদের নিজেদের আর্কের সময় সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাবহার করে তেমনি তাদের আর্ক শেষ হবার পর তাদেরকে আবার কাহিনিতে এনে তাদের সম্পূর্ণ সামর্থ্যের পূর্ণ ব্যাবহার করে। এই মাঙ্গাটি নাওকি উরাসাওয়ার মতো চরিত্রের পরিচালনা করে।সকল চরিত্রকেই তাদের সামর্থ্যের সম্পূর্ণ প্রয়োগ করে এই মাঙ্গা। মাঙ্গার কাহিনী যত আগায় আমরা ততই প্রতিটি চরিত্রের সাইকোলোজি বিশ্লেষণ করা হয়। আমরা পাঠক হিসেবে কামিশিরোকে একটি ভীত ছেলে হতে সবচেয়ে ভীতিজনক ফাইটার হতে দেখি।কামিশিরোর জীবন যাত্রা এবং কিভাবে তার জীবনকে তার প্রতিপক্ষরা প্রভাবিত করেছে এটি মাঙ্গাটির মূল ভিত্তি।

চিত্রঃ ৯/১০
মাঙ্গাটির চিত্রায়ন অন্যান্য অ্যাকশন মাঙ্গার তুলনায় ভিন্ন।লড়াইয়ের সময় লড়াই কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডের পরিবর্তে চরিত্রগুলোর মনোভূতি, তাদের সাইকোলোজি এবং তাদের পরিকল্পনাকেই ফুটিয়ে তলেছে। মাঙ্গাটির ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চরিত্রগুলোর জন্য ব্যাবহার করা গাড় কালার শ্যাডিং মাঙ্গাটিকে দুর্দান্ত মানিয়েছে।

প্রতিটি লড়াইয়ের পেছনে লুকিয়ে থাকে অনেক অনুভুতি,ইতিহাস এবং তাদের কারণ। নিজেদের বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাবার জন্য আমরা সবাই নিজেদেরকে বন্দি করে রাখি নিজেদের তৈরি খাঁচার মধ্যে। Holyland মাঙ্গাটি এই খাঁচা থেকে বেরিয়ে জীবনের অগ্রগতির গল্প নিয়েই।আমার পড়া সেরা অ্যাকশন মাঙ্গা। আশা করি মাঙ্গাটি পড়ার জন্যে আপনাকে মানাতে পেরেছি।না পারলেও আশা করি আপনি একটু বিশ্বাস নিয়ে মাঙ্গাটির প্রথম চ্যাপ্টারটি পড়ে দেখবেন।

আমার রেটিংঃ ১০/১০

Ping Pong The Animation [রিভিউ] — Safin Zaman

Ping Pong

Ping Pong The Animation
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
জনরাঃ সাইকোলজিকাল, সেইনেন, স্পোর্টস

“৯ ফিট বাই ৫ ফিট একটা টেবিল। টেবিলের দুই পাশে ঘর্মাক্ত দুই বালক। হাতে তাদের টেবিল টেনিস র‍্যাকেট। অনবরত বলটাকে এক পাশ থেকে আরেক পাশে সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করছে তারা। ঠাস, ঠাস, ঠাস, ঠাস। অদ্ভুত এক ছন্দ তৈরী হয়েছে খেলার মধ্যে। দর্শকদের চাহনী একবার এই পাশে, তো আরেকবার অপর পাশে। বলার উপায় নেই দুইজনের মধ্যে কে জিতবে। একি! একজন বালকের চোখে পানি কেন? চোখে পানি নিয়েও এত নিখুঁতভাবে খেলছে যেন সে জানেই বল কোথায় এসে পড়বে। ঠোঁটের কোনে খানিকটা হাসিও যেন দেখা যাচ্ছে তার!”
..
..
..

সুকিমতো মাকোতো। ভাঙ্গা পরিবার থেকে আসা এক ইন্ট্রোভার্টেড বালক। চুপচাপ,কখনো না হাসা, কোন কিছুতেই অভিব্যক্তি না দেখানোর কারণে রোবট,স্মাইল বিভিন্ন ধরণের ডাকনাম পেয়েও নির্বিক সে। জগতের কোন কিছুতেই যেন তার কোনরকম আগ্রহ নেই।
অপরদিকে ইয়োতাকা হোশিনো ওরফে পেকো এক হাসিখুসি উচ্ছল বালক। টেবিল টেনিসে দারুণ ট্যালেন্টেড। ছোট বয়সেই বড় বড় পিংপং টুর্নামেন্টে খেলে পুরষ্কারের ঝুলি ভারী করা এই বালক তার সহপাঠিদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।
দুইজন সম্পুর্ণ ভিন্ন পার্সোনালিটির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব হতো না যদি টেবিল টেনিসের প্রতি দুইজনের ভালবাসা না থাকত। সেই ছোটবেলায় পেকোর সুকিমতোকে টেবিল টেনিসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার পর থেকে তাদের বন্ধুত্ব হাইস্কুল পর্যন্ত চলে আসছে। হাইস্কুল এ উঠার পর পুরো টিমের কাছে তারা দুজন এক অপরাজেয় ট্যালেন্টেড ডুয়ো হিসেবেই পরিচিত।
কিন্তু আসলেই কি তাই? এই জগতের এক অলিখিত নিয়মই হলো একজন যত ট্যালেন্টেডই হোক না কেন, তার চেয়ে ট্যালেন্টেড আরেকজন অবশ্যই আছে। আর এই নিয়ম প্রমাণ করার জন্য আছে কং ওয়েং, কাজামা রিয়ুইচি, সাকুমা মানাবোর মতো খেলোয়াড় যাদের খেলা এই ডুয়োকে বহুগুণে ছাপিয়ে যায়। এতসব ‘মন্সটার’ দের ভীড়ে সামান্য পেকো আর স্মাইল কিই বা করতে পারবে?

পিংপং দি এনিমেশন হলো এক বন্ধুত্বের গল্প, গুটিকয়েক মানুষের জীবনের টানাপোড়েনের গল্প, স্মাইল আর পেকো কিভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে সামনে আগানোর পথ বাতলে দেয় তার গল্প। মাত্র ১১ পর্বের এই গল্পে যেই পরিমাণ চরিত্রের গাঁথুনি আর তাদের গভীরতা দেখানো হয়েছে তা অবিশ্বাস্য রকমের ভাল। এনিমের প্রত্যেকটা চরিত্র আর পিংপং নিয়ে তাদের মনোভাব দর্শকদের কাছে সুন্দরভাবে পৌছাতে পেরেছে যার জন্য ‘তাতামি গ্যালাক্সি’খ্যাত ডিরেক্টর ইউয়াসা মাসাকি একটা বড় ধরণের ধন্যবাদ প্রাপ্ত ।

এনিমের আর্টস্টাইল বেশখানিকটাই ‘অন্যরকম’। এতটাই যে আর্টস্টাইল দেখেও ড্রপ দেবার কথা মনে আসতে পারে। কিন্তু ড্রপ দিলে কি মাস্টারপিস মিস করবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই আর্টস্টাইলের চিন্তা বাদ দিয়ে দেখা শুরু করে দিন । কয়েক মিনিটের মধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে যাবেন আর্টস্টাইলের সাথে।
তাই যদি এমন কোন এনিমে চান যা একই সাথে স্পোর্টস আর সাইকোলজিকাল অ্যাস্পেক্ট গুলোর উপর গুরুত্ব দেয় তাহলে পিংপং দি এনিমেশন হাইলি রেকমেন্ডেড। এই এনিম শেষে আমি হা-হুতাশ করেছি যে মাত্র ১১ পর্বে শেষ হয়ে গেল। ১০০ পর্ব হলেও দেখতে বিনা ক্লান্তিতে দেখতে পারতাম এই মাস্টারপিস।

ম্যাল রেটিংঃ ৮.৬৬/১০
আমার রেটিংঃ ৯.৭/১০