অরেঞ্জ [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Orange

অরেঞ্জ
জানরাঃ ড্রামা, সাই-ফাই, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
ভলিউমঃ ৫
চ্যাপ্টারঃ ২৭
মাঙ্গাকাঃ তাকানো ইচিগো
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাঙ্কিং: ২৩
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৮২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০

অনুশোচনা-শব্দটি বলা যতটা সহজ অনুভব করা বোধ হয় ততটা সহজ নয়। প্রত্যেক মানুষই জীবনে ভুল করে। ছোট্ট একটা কর্ম বা সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের বড় একটা অংশ নির্ধারন করে ফেলতে পারে। কখনও তা হয় মঙ্গলজনক কখনও বা নিজের অজান্তেই আমরা জীবনটিকে অশুভ কিছুর দিকে ঠেলে দেই। তারপর অসহনীয় অনুশোচনার আগুনে পুড়ি। বারবার মনে হয়; যদি ফিরে যেতে পারতাম অতীতে, শুধরে নিতে পারতাম ভুলগুলো। দুঃখের বিষয় সময় একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। কিন্তু কেমন হত যদি আপনার অতীতের সত্তাকে আগেভাগে জানিয়ে দিতে পারতেন সামনে কি আসতে যাচ্ছে, কি করা উচিৎ? কিংবা বলা যাক, আপনার ভবিষ্যতের সত্তা আপনাকে হঠাৎই জানিয়ে দিল সামনে কি হবে এবং আপনার কি করা উচিৎ?

তাকামিয়া নাহোর জীবনে ঠিক এমনটিই ঘটে। হঠাৎ একদিন নাহো তার ১০ বছর পরের ভবিষ্যতের নাহোর কাছ থেকে একটি চিঠি পায়। স্বাভাবিকভাবেই সে ধরে নেয় কেউ তার সাথে ঠাট্টা করছে। কিন্তু নাহো অবাক হয়ে লক্ষ্য করে চিঠির কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে ফলছে। চিঠির কথা মতই তার ক্লাসে আসে একজন নতুন ছেলে, যার নাম নারুসে কাকেরু। এবং সে নাহোর পাশের সিটে বসে ঠিক যেমনটা চিঠিতে বলেছে। এরপর একের পর এক ঘটনা সাক্ষ্য দিয়ে দেয় যে আর যাইহোক চিঠিটিতে মিথ্যা কিছু বলা নেই। কিন্তু তবু নাহোর মন থেকে সন্দেহ আর দ্বিধা দূর হয় না। ভবিষ্যতের নাহোর অনুরোধ সে শুরুতে রাখতে পারে না। এই চিঠি যেহেতু তার ভাগ্যের কথাই বলে দেয় তাই তার মনে চিঠিটি পড়তে এক প্রকার ভয় তৈরী হয়। কিন্তু কাকেরু যখন স্কুলে আসে না অনেক দিন তখন নাহো ভাবে চিঠিতে হয়ত এর উত্তর পাওয়া যাবে। এরপর চিঠিতে পাওয়া অনুরোধগুলো মেনে চলে নাহো দেখল এতে বরং ভালো ফলাফল পাচ্ছে সে। এভাবে চিঠি পড়তে পড়তেই সে আবিষ্কার করল কেন ভবিষ্যৎ থেকে সে নিজেকে এভাবে লিখেছে। ১০ বছর পরে কাকেরু আর তাদের সাথে থাকবে না। চিরতরে সে চলে যায় পৃথিবী ছেড়ে। কাকেরুকে চিরতরে হারিয়ে ফেলাসহ জীবনের ছোট ছোট কিন্তু মূল্যবান অনেক মুহুর্ত হেলায় হারিয়ে ফেলে নাহো অনুতপ্ত বোধ করে। তাই সে অতীতে নিজের কাছে চিঠি লেখে যাতে অতীতের নাহো ভবিষ্যতের নাহোর মত একই ভুলগুলো না করে। নিজের কাছেই নাহোর একটাই অনুরোধ, জীবনের মূল্যবান সময়গুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মূল্য দিয়ে এবং কাকেরুকে রক্ষা করে নিজেকে অনুশোচনামুক্ত করা।

এ পর্যন্ত পড়ে যে কেউই বুঝতে পারবে অরেঞ্জ মাঙ্গাটির কেন এত সুনাম আর ভালো স্কোর। আর তা হল শৌজো মাঙ্গা হিসেবে এর গল্পে রয়েছে নতুনত্ব। আজব ধরণের মেয়ে সুন্দর ছেলের প্রেমে পড়বে কিংবা একটু দুঃখের অতীত, মানসিক আঘাত, বুলিং, বিষণ্ণতা ইত্যাদি হয়তোবা খুব অপরিচিত গল্প নয়। কিন্তু প্রধান চরিত্র ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে আগেভাগে সামনে কি হবে জেনে এরকম গল্প অহরহ দেখা যায় না। আর দেখে গেলেও এ ধরণের গল্পগুলো হয় খুব আকর্ষণীয়। অরেঞ্জও তার বাইরে নয়। এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল এর কাহিনীটি। একদম শুরু থেকেই আপনি গল্পে বুঁদ হয়ে যাবেন। আর সামনে কি হতে যাচ্ছে এই প্রশ্নটা আপনাকে একের পর এক চ্যাপ্টার টানা পড়ে যেতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে শেষের দিকের চ্যাপ্টারগুলো একটু বেশিই উত্তেজনাপূর্ণ। তাই শৌজো হলে কি হবে, অরেঞ্জকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে না পড়লে আপনি নিজেই পস্তাবেন। এই মাঙ্গাটি অনেক বেশি রোমাঞ্চকর।

তবে গল্পের কথাই যদি বলা হয় তো আমি কিছু কথা তুলতে চাই। মানুষকে শৌজো মাঙ্গা নিয়ে ‘শৌজো মাঙ্গায় কোন নতুনত্ব নেই’, ‘শৌজো মাঙ্গায় নাটকীয়তা বেশি’, ‘শৌজো মাঙ্গা একঘেয়ে”, শৌজো এই শৌজো সেই ইত্যাদি সমালোচনা করতে দেখা যায় খুব। শুধু অরেঞ্জের বেলায় সবার মুখে মুখে প্রশংসা শোনা যায়। ব্যাপারটা দেখে বরং আমার হাসিই পায়। কেন জানেন? কারণ অরেঞ্জ মোটেও নতুন কিছু না!! ভাবছেন কিভাবে এটা সম্ভব যখন একটু আগেও বললাম এটার গল্পে নতুনত্ব আছে? ব্যাখাটা এই যে এটার নতুনত্ব শুধু ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা এই অংশটুকু। বাদ বাকি নতুন কিছুই না। আপনি যদি যথেষ্ট পরিমাণ শৌজো মাঙ্গা পড়ে থাকেন তবেই এই কথাটার মর্ম বুঝবেন। কাকেরুর যে কাহিনী রয়েছে তা ইতিমধ্যেই আমার আও হারু রাইড, বকুরা গা ইতা, ওওকামি শৌজো তো কুরো ঔজি ইত্যাদি মাঙ্গায় পড়া শেষ। কাকেরুর পরিস্থিতি কৌ, ইয়ানো বা কিওয়ার থেকে একটুও আলাদা নয়। সে জনপ্রিয় শৌজো মাঙ্গার নায়কদের মতই ছকে বাঁধা। অন্য মাঙ্গায় এই অবস্থাটা মানিয়েছিল কিন্তু কাকেরুর গল্প যতটা রাশভারী ধরণের তাতে তার পেছনের গল্পটায় আরও গভীরতা থাকলে ভালো হত। তাই আপনি যদি হন শৌজো মাঙ্গার ভক্ত তবে একটু আশাহত হলেও হতে পারেন।

এই মাঙ্গার দ্বিতীয় বড় সমস্যাও এর গল্পে। পুরো কাহিনী শুরু হয় যেদিন নাহো প্রথম চিঠিটা পায়। ভবিষ্যতের নাহোর যদি এতটাই অনুশোচনা থাকে তবে কেন সে প্রথম দিনেই সবকিছু খোলাসা করে ঠিক মত যুক্তি দিয়ে বা জোর দিয়ে কাকুতিমিনতি করে অতীতের নাহোকে বোঝালো না যাতে সে তার কথা অনুযায়ী কাজ করে? শুরুতেই সব ঠিক করে দিলে হয়ত মাঙ্গার গল্পটাই আর থাকত না যেটা সত্য। কিন্তু তারপরেও ব্যাপারটা যুক্তিযুক্ত হত। তখন পুরোপুরি আলাদাভাবে অতীতের ঘটনাগুলো ঘটত যেটা মাঙ্গাটিকে আরও বেশি অনিশ্চিত আর রোমাঞ্চকর করে তুলত। এবং এই মাঙ্গার তৃতীয় ও সবচেয়ে বড় ত্রুটিও এর গল্পে!! চিঠিটা ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে আসল কিভাবে? অরেঞ্জ পড়ার আগেই আমার সন্দেহ ছিল একটি শৌজো মাঙ্গায় আদৌ এটার ভালো ব্যাখা থাকবে না। অত্যন্ত দুঃখের সাথেই জানাচ্ছি যে আমার সন্দেহ শতভাগ সত্যি হয়েছে! এটার সাই-ফাই ব্যাখাটি ছিল নিতান্তই হাস্যকর। আর সাই-ফাইই যদি বানাবে তবে মাঙ্গাকা মাঙ্গাটি সম্পূর্ণরূপে সাই-ফাই করলেই পারত। কিংবা বিষয়টা ফ্যান্টাসি বা সুপারন্যাচারাল বানালেও হত। কিন্তু কাহিনী বানাতে হবে বলে গাঁজাখুরি যাচ্ছেতাই ঢুকানো আমার মোটেও পছন্দ নয়। গোঁড়ায় গলদ না থাকলে মাঙ্গাটি প্রায় ত্রুটিহীন হত।

চরিত্রায়নের দিক থেকে কাকেরু সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যেহেতু পুরো গল্পটি তাকে ঘিরেই। তবে সেই গুরুত্ব এতই বেশি যে যত যাইহোক অন্যান্য চরিত্রদের অনেকটা উপেক্ষা করেই পুরো মনোযোগ তার উপরে দেওয়া হয়েছে। মাঝে মাঝে এতে একটু খারাপ লাগলেও কাকেরুকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টার কারণে বুঝাই যায় কেন বাকি চরিত্রগুলো গুরুত্ব পায়নি। চিনো, মুরাসাকা, হাগিতা প্রধান ফ্রেন্ড সার্কেলের অংশ হলেও এরা পার্শ্ব চরিত্র হিসেবেই ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এদের বন্ধুত্বটা সত্যিই খুব সুন্দর। ওদের দেখলে ক্ষণে ক্ষণেই আপনার মনে হবে ‘এত বেশি ভালো বন্ধু যদি আমার জীবনেও থাকত!’। তবে নাহোকে আমার নায়িকা হিসেবে অযোগ্য লেগেছে বেশ। নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির জীবন যখন মৃত্যুর মুখে তখন এই মেয়ে কিভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে আর প্রায়ই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে চুপচাপ থাকে তা আমি ভেবে পাই না।

এখন বলব এই মাঙ্গার সেই জিনিসটার কথা যেটা না বললেই নয়। কি সেটা? সুওয়া হিরোতো! সুওয়া হল এখানে তৃতীয় প্রধান চরিত্র এবং দ্বিতীয় নায়ক। তবে সেটা তার আসল পরিচয় না। তার আসল পরিচয় হল সে এই মাঙ্গার সেরা চরিত্র এবং খুব সম্ভবত শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসেও সেরা একজন চরিত্র। আপনি হয়ত উসুই(মেইড-সামা), কেই(স্পেশাল এ), কুরোসাকি(ডেনগেকি ডেইযি) ইত্যাদি অবাস্তবতার কাছাকাছি সুদর্শন সব তথাকথিত “মিস্টার পার্ফেক্ট” ছেলে দেখেছেন। কিন্তু যা দেখেননি তা হল সুওয়ার মত ছেলে। সে সুদর্শন কোন নিখুঁত ছেলে না। কিন্তু তার মন এবং হৃদয়টা অনেক বড়। কথাটা শুনে এখন আহামরি কিছু নাও মনে হতে পারে কিন্তু মাঙ্গাটা পড়ার সময় বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা আসলে কত বড়। সুওয়ার জন্য মেয়েরা হয়তবা সেই পরিমাণ পাগলামি করে না কিন্তু মন থেকে তার জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা চলে আসবে ঠিকই। আমি নিজে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যার জীবনে সুওয়ার মত মানুষ আছে তার কপালটা অনেক ভালো। সুওয়া এতটাই অসাধারণ! কাকেরুর জন্য নয় বরং সুওয়ার জন্যেই অরেঞ্জ পড়া উচিৎ।

অনেক কিছুই তো জানলেন অরেঞ্জ নিয়ে। এবার কি ভাবছেন এটা পড়বেন কি পড়বেন না? আপনি শৌজো ভক্ত হোন বা না হোন অরেঞ্জ অবশ্যই পড়বেন। কম হলেও খুঁত তো সবকিছুরই থাকে। অরেঞ্জের খুঁত এড়িয়ে যেতে পারলে মাঙ্গাটি অনেক উপভোগ করবেন। টাইম প্যারাডক্স, সুন্দর আর্ট, দারুণ বন্ধুত্ব, সুওয়ার মত চরিত্র, অল্প কিছু চ্যাপ্টার- আর কি লাগে?! সামনেই সামার ২০১৬ সিজনে আসছে এর আনিমে। আনিমে যে সাধারণত মাঙ্গার ধারের কাছেও যেতে পারে না তা তো এখন জানা কথা। তাই তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন মাঙ্গাটি। আর ২৭ চ্যাপ্টার হলেও ২২ চ্যাপ্টারেই মূল গল্প শেষ। বাকি ৫টি চ্যাপ্টার এখনো স্ক্যানলেশনের অপেক্ষায়। তবে শেষটা কেমন হবে তা জিজ্ঞেস করবেন না। ওটার জন্যেই না এত প্রতীক্ষা! অরেঞ্জ পড়ে চোখের কোণে অশ্রু আসতেও পারে নাও আসতে পারে। কিন্তু অন্যরকম বিষাদময় ভালোলাগার এক তৃপ্তি অনুভব করবেন। কেননা “অরেঞ্জ” নামেই তো লুকিয়ে আছে এর ভাবার্থ। কমলা-শত হতাশার মাঝেও হার না মেনে ঝুঁকি নিয়ে হলেও আশাবাদী হয়ে, আস্থার সাথে, উদ্দ্যমতা নিয়ে জীবনে এগিয়ে চলার প্রতীকী রঙ!

চরিত্র বিশ্লেষন এবং উৎস অনুসন্ধান -৪ – Saito Hajime — Shifat Mohiuddin

 

Saito Hajime 1

চরিত্রঃ Saito Hajime
এনিমে: Rurouni Kenshin, Rurouni Kenshin: Trust and Betrayal
ভূমিকাঃ মধ্যপন্থী
আসল নামঃ Yamaguchi Hajime/Saito Hajime
জন্মঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৪
মৃত্যুঃ ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯১৫
কর্মস্থলঃ শিনসেনগুমির তৃতীয় স্কোয়াড(জাপানিজ সামরিক সরকারের বিশেষ পুলিশ বাহিনী)
পদবিঃ ক্যাপ্টেন

 

¤
আমরা যারা রুরুনি কেনশিন এনিমেটা দেখেছি তারা সকলেই সাইটো চরিত্রটির সাথে পরিচিত।দুর্বিনীত,অহংকারী,অতি-আত্মবিশ্বাসী কিন্তু তলোয়ারবাজিতে অত্যন্ত দক্ষ;সর্বোপরি ব্যাডঅ্যাস এই চরিত্রটি আমাদের মনে ভালোই দাগ কেটেছে।গ্রুপের অধিকাংশ মেম্বারই বোধহয় জানেন যে সাইটো একটি ঐতিহাসিক চরিত্র হতে অনুপ্রানিত।কেনশিনের লেখক নবুহিরু ওয়াতসুকি একজন স্বঘোষিত শিনসেনগুমি ফ্যান এবং তাঁর অনেকগুলো চরিত্রই শিনসেনগুমির সদস্যদের হতে অনুপ্রানিত।সাইটোও তাদের মধ্যে একজন।এনিমের মতো বাস্তব জীবনের সাইটোও সেইরকম ব্যাডঅ্যাস ছিলেন এবং তার জীবন কোন অংশেই কেনশিনের চেয়ে কম বৈচিত্রপূর্ণ নয়।সাইটোই সেই অল্পসংখ্যক যোদ্ধাদের মধ্যে একজন যারা বাকুমাতসুর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম থেকে বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছিলেন।
¤
সাইটো বর্তমান টোকিওতে জন্মগ্রহন করেন।Saito Hajime 2 তার পিতার নাম Yamaguchi Yusuke যিনি কিনা একজন পদাতিক সৈন্য ছিলেন।তার আরও এক ভাই এবং এক বোন ছিল।পারিবারিক সূত্র হতে জানা যায় যে, দুর্ঘটনাবশত একজন যোদ্ধাকে হত্যা করায় সাইটোকে ১৮৬২ সালে গৃহত্যাগ করতে হয়।তিনি কিয়োটোতে চলে যান এবং yoshida নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে তলোয়ারবিদ্যার শিক্ষা নেন।তার পূর্বজীবন সম্পর্কে এর থেকে বেশি কিছু জানা যায় না।
¤
একজন দক্ষ তলোয়ারযোদ্ধা হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই সাইটো শিনসেনগুমিতে পদোন্নতি পান।সাইটো,Okita soji এবং todo heisuke এই তিনজন ছিলেন শিনসেনগুমির সবচেয়ে কম বয়স্ক এবং দক্ষ যোদ্ধা।১৮৬৪ সালে সাইটোকে শিনসেনগুমির চতুর্থ স্কোয়াডের প্রধান করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে ১৮৬৫ সালের এপ্রিলে তিনি তৃতীয় স্কোয়াডের প্রধান হন।তার দক্ষতা প্রথম স্কোয়াডের লিডার Okita soji[এই চরিত্রটিকে ট্রাস্ট এন্ড বিট্রেয়ালে দেখানো হয়েছে]এর সমকক্ষ ছিল এবং বলা হয় যে ওকিটা,সাইটোকে ভয় পেতেন।
¤
শিনসেমগুমিতে সাইটো মূলত ভাইস কমান্ডারের সহকারি হিসেবে কাজ করতেন।এছাড়াও তলোয়ারবিদ্যা শেখানোর কাজটাও তিনি করতেন।১৮৬৭ সালে সাইটো এবং তার শিনসেনগুমির অন্য সদস্যরা Hatamote(এমন সৈন্য যারা জাপান সামরিক সরকারের সরাসরি অধিনস্থ থাকতো)পদে পদোন্নতি পান।বুশিন ওয়ার(১৮৬৮-১৮৬৯) চলাকালিন সময়ে সাইটো Battle of toba-fusimi এবং battle of koshu-katsunuma তে অংশগ্রহন করেন।যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর সাইটো অবশিষ্ট যোদ্ধাদের নিয়ে জাপানের আইজু এলাকায় পলায়ন করেন।
¤
Utsunomiya দুর্গের লড়াইয়ে শিনসেনগুমির কমান্ডার Hijikata Toshizo মারাত্মক আহত হন।ফলশ্রুতিতে ১৮৬৮ সালের ২৬ মে তারিখে সাইটো আইজু শিনসেনগুমির কমান্ডার হন।Bonari pass এর লড়াইয়ের পর Hijikata আইজু হতে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিলেও সাইটো থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং আইজু আর্মিকে সঙ্গে নিয়ে battle of aizu এর শেষপর্যন্ত লড়াই করেন।(এই বিচ্ছেদের ব্যাপারে বিতর্ক আছে।অনেকের মতে সাইটো হিজিকাতার কাছ থেকে আলাদা হন নি।)
সাইটো এবং তার অনুসারিরা Nyorai-do টেম্পলে ইমপেরিয়াল বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন।যুদ্ধে তারা মারাত্মকভাবে outnumbered হন এবং সকলে ধরে নেয় যে এই যুদ্ধে সাইটো মৃত্যুবরণ করেছেন।কিন্তু সাইটো পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং আইজুতে ফিরে এসে আইজুর সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করেন।আইজু দুর্গের পতনের পর সাইটো কিছু সহযোদ্ধাদের নিয়ে takada এলাকায় যান কিন্তু সেখানে তারা যুদ্ধবন্দী হন।আটক হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকায় সাইটোকে Ichinose Denpachi নামে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
¤
মেইজি পুনরুত্থানের পর সাইটো,Fujita Goro ছদ্মনাম নিয়ে Tonami অঞ্চলে চলে যান।সেখানে তিনি তার এক পুরনো বন্ধু Kurasawa Heijiemon এর বাসায় অবস্থান করেন।সেখানে,সাইটোর সাথে শিনোদা ইয়াসো নামক এক নারীর পরিচয় হয়।কুরাসাওয়ার ঘটকালিতে ১৮৭১ সালে সাইটোর সাথে ইয়াসোর বিবাহ সম্পন্ন হয়।তারা কুরাসাওয়ার বাড়িতেই থাকতেন।ধারনা করা হয় তখনই সাইটো পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন।১৮৭৪ সালে সাইটো tonami ছেড়ে টোকিও চলে যান।দুই বছর পরে সাইটো fujita goro নাম নিয়েই টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
¤
এর পর সাইটো Takagi Tokio নামক আরেক নারীকে বিয়ে করেন।তোকিও এর পিতা আইজুর একজন সম্ভ্রান্ত পুরুষ ছিলেন।সাইটো এবং তোকিওর ঘরে Tsutomu,Tsuyoshi এবং Tatsuo নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়।Tsutomu এর সন্তানরা এখনও সাইটোর বংশধারা বজায় রেখেছেন।
¤
তিনি মেইজি সরকারের আমলে Satsuma বিদ্রোহ দমনে পুলিশ বাহিনীর হয়ে জাপানিজ সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেন।পুলিশ বাহিনীতে তিনি অত্যন্ত সুনামের সহিত কাজ করেন এবং বীরত্বসূচক অনেক পুরষ্কারও পান।১৮৯০ সালে তিনি পুলিশ বাহিনী হতে অবসর গ্রহন করেন।পরবর্তিতে এক বন্ধুর সহায়তায় Tokyo Education Museum এ তিনি গার্ডের দায়িত্ব পালন করেন।তারপর তিনি টোকিও নরমাল হাই স্কুলে সাত বছর চাকরি করেন।১৯০৯ সালে তিনি এই চাকরি হতে অবসর গ্রহন করেন।
¤
শিনসেনগুমির অন্যান্য সদস্যদের মতই সাইটো ছিলেন অর্ন্তমুখী এবং রহস্যময় স্বভাবের।তিনি খুবই কম কথা বলতেন এবং খেজুরে আলাপে তার কোন আগ্রহ ছিল না।সবসময় বিশেষ করে জীবনের শেষের দিকে তিনি অত্যন্ত গর্বিত ভাবে জীবনযাপন করতেন।অবসর সময়ে সর্বদাই তাকে সেইজা(জাপানিজদের হাঁটু ভেঙ্গে বসার স্টাইল)রত অবস্থায় দেখা যেত।মেইজি যুগে সাইটোই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে কাতানা বহনের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।সাইটোর উচ্চতা ছিল ৫’ ১১” অর্থ্যাৎ এনিমের মত বাস্তব জীবনেও তিনি অত্যন্ত লম্বা ছিলেন।তিনি সর্বদাই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় থাকতেন যেন যেকোন সময়ে যেকোন পরিস্হিতির মোকাবেলা করতে পারেন।
সাইটো অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন।তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধির কারণে শিনসেনগুমির অভ্যন্তরের গুপ্তচর ধরায় তার জুড়ি মেলা ভার ছিল।সদস্যরা সকলেই তাকে সমঝে চলতো।ফলে অনেকে তাকেই স্পাই মনে করতো।সাইটোর অন্যান্য সংস্হার ইন্টিলিজেন্স এবং গতিবিধির উপর নজর রাখাই ছিল তাদের সন্দেহের কারন।সাইটোর হাতে শিনসেনগুমির কতিপয় দুর্নীতিবাজ সদস্যের মৃত্যু তাকে আরোও বিতর্কিত করে তুলেছিল।
¤
সাইটোর তলোয়ারবাজির স্টাইলের নাম ছিল Mugai Ryu যার উৎপত্তি হয়েছিল তার পারিবারিক স্টাইল Yamaguchi Itto-ryu হতে।সাইটো প্রচুর sake পান করতেন এবং পানরত অবস্থায় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে তিনি তার পূর্বকথা বলতেন।সাইটো তার কোন স্মৃতিকথাই লিখে রাখতেন না।
¤
এনিমেতে সাইটো যে গাটুটসু টেকনিকের ব্যবহার করতেন সেটা তার আসল তলোয়ারবিদ্যার সাথে মিল থাকলেও পুরোপুরি কল্পিত।’Aku Soku Zan’ অর্থ্যাৎ “Slay Evil Immediatly” নামক যে নীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন তা কাল্পনিক হলেও বাকুমাতসুর সময়ের শিনসেনগুমির এক সাধারন চিন্তাভাবনাই ছিল।কেনশিন ব্যতিত আরো কিছু শিল্পমাধ্যমেও সাইটোর উপস্হিতি আছে।
¤
অতিরিক্ত সাকে পান করার কারণেই স্টমাক আলসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯১৫ সালে ৭২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মৃত্যুর সময়ও তিনি সেইজা অবস্হাতেই বসে ছিলেন।
¤
source:wikipediaB-)

লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ৩২তম পাঠ

আজকের কানজি “bright”এর কানজি …. উচ্চারণ “আকারুই/আকেরু/মেই”

Mei 2

১মে এই কানজি টা কিভাবে আসছে সেটা বলি..অনেক কানজি আছে বিভিন্ন কানজির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়..যারা কানজির লেসন ফলো করছে নিয়মিত তাদের চাঁদ আর সূর্যের কানজি মনে থাকার কথা..সূর্য আর চাঁদ এই ২ টা কানজি একসাথে লিখলে এই কানজি টা হয়..সূর্য আর চাঁদ ২ টাই আলো দেয়.. সেই থেকে bright এর কানজি এসছে..

 

Mei 1

এমনিতে “আকারুই” মানে bright…অনেক ক্ষেত্রে light ও বুঝায়..
“আকারুই” মানে cheerful ও হয় .. “আকারুই হিতো”-cheerful person..
“আকেরু” মানে “ভোর হওয়া”… “মেইহাকু”-obvious..

sun আর moon এর কানজি লিখতে শিখলে এটা লিখাও কোন ব্যপার না, মাতা নে 🙂

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫৬ তম পার্ট By অরিন শারমিন

জাপানিজ শিক্ষাকার্যক্রমের ৫৬ তম লেসন

আজকের লেসনে থাকছে “জাপানিজদের নাম” নিয়ে আলোচনা…

জাপানিজদের নামের মধ্যে বিভিন্ন কানজির সমাহার থাকে..এক কানজির সাথে আরেক কানজির কম্বিনেশনে একটা নাম হল তো অন্য আরেক কানজির সাথে কম্বিনেশনে নতুন আরেকটা নাম হল..কম্বিনেশন চেঞ্জ করে বিভিন্ন নাম বানান যায়..এসব নামের মিনিং যদি লিটারেলি করা যায় তাইলে শুনতে মজাই লাগে..জাপানিজদের কিছু সারনেম এবং তাদের নামের কানজি ও মিনিং নিয়ে আজকে কিছু আলোচনা করব..

১মে কিছু নাম বলি ইয়ামামোতো,ইয়ামাদা,ইয়ামাশিতা,ইয়ামাকাওয়া,কানেদা,তসুচিদা,তানাকা,কিমুরা,তাকেদা,কানেকো,তাকেশিতা…

ইয়ামামোতো…এই নামের মধ্যে আছে ২ টা কানজি …পাহাড়ের কানজি আর বই এর কানজি…পাহাড় আর বই একসাথে মিলে হয়ে গেল ইয়ামামোতো..

ইয়ামাদা…এর মধ্যে আছে পাহাড় আর মাঠের কানজি…পাহাড় আর মাঠ একসাথে মিলে হল ইয়ামাদা..

ইয়ামাশিতা…পাহাড়ের নিচে…পাহাড় আর down এর কানজি একসাথে মিলে হয় ইয়ামাশিতা…

ইয়ামাকাওয়া..এখানে আছে পাহাড় আর নদীর কানজি…পাহাড়,নদী একসাথে মিলে হল ইয়ামাকাওয়া…

নাম দেখে বুঝা যাচ্ছে পাহাড় দিয়ে জাপানে মানুষের নামের অভাব নাই…

কানেদা..এর মিনিং করলে kind of সোনার মাঠ হয়ে যায়..এর মধ্যে আছে সোনা আর মাঠের কানজি ..

তসুচিদা..মাটির কানজি আর মাঠের কানজি একসাথে মিলের হয় তসুচিদা…মাটির মাঠ ..

তানাকা…এর মিনিং করলে হয় মাঠের মধ্যে…মাঠের কানজি আর inside এর কানজি একসাথে বসে হয় তানাকা…

কিমুরা..গাছের গ্রাম..গাছের কানজি আর গ্রামের কানজি মিলে হল কিমুরা…

তাকেদা…বাঁশের মাঠ…বাঁশের কানজি আর মাঠের কানজি একসাথে মিলে হল তাকেদা..

কানেকো…সোনার বাচ্চা…সোনার কানজি আর কোদোমোর কানজি একসাথে মিলে হয় কানেকো…

তাকেশিতা..বাঁশের নিচে…বাঁশের কানজি আর down এর কানজি মিলে হয় তাকেশিতা…

আজকে অনেকগুলা নামই তো শিখালাম…নেক্সট দিন আরো কিছু নাম নিয়ে হাজির হব নে …(কতদিন পর যে আসব গ্যারান্টি নাই 😛 )..মাতা নে 🙂

Behind the Voices – 16

 

এগুচি তাকুয়া

এগুচি তাকুয়া এমন একজন সেইয়ূ যার রোল প্রায় সিংহভাগ সেইয়ূদের তুলনায় কম তবে তার কিছু কিছু রোল আছে যা হয়তো অনেক আনিমে ফ্যানের কাছেই সবসময় এক্সেপশনাল লাগবে । তার কণ্ঠটা ঠিক সাধারণ ধাঁচের কিন্তু তার ভেতর রয়েছে একটা এক্সেপশনাল টান । প্রায় সব ধরণের রোল করেছেন, যা করেছেন ওর মাঝে । সাধারণত কিশোর বয়সী চরিত্রদেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকেন তিনি ।

এগুচি তাকুয়ার ৩ টি রোল বেশ বহুলভাবে স্বীকৃত । এর মাঝে সবচেয়ে বেশি ভক্ত পেয়েছেন যে চরিত্রের জন্য তা হিকিগায়া হাচিমান । আনিমে জগতে এক্সেপশনাল চরিত্রগুলোর একজন তিনি এবং তার ভক্তও কম না, অনেকেই অনেকভাবে তাকে অনুসরণ করে । তবে যাই হোক, চরিত্রটির কথা বলার ধরণ বেশ আলাদা রকম এবং প্রত্যেক কথার সাথে ব্যবহৃত কণ্ঠটাও । এমন এক অসাধারণ এক রোলের জন্য তো প্রশংসারই প্রাপ্য তিনি । হিকিগায়ার পর তার আরেকটি এক্সেপশনাল রোল যাকে বলা হয়ে থাকে সে ওরে মোনোগাতারির গৌদা তাকেয়ো । আনিমেটি আমার দেখা নেই তাই জানি না পুরা সিরিজ যুরে কেমন করেছে তবে তার কম্পাইলেশন রোল্স এর এক ভিডিওতে যা দেখেছিলাম ওখানে বাকি রোলগুলার কণ্ঠ অভিনয়ের তুলনায় আসলেই আলাদা রকমের ছিল এই চরিত্রটি । আর বাকি রোলটি হল গসিকের কুজৌ, আনিমেটার বেশ সুনাম আছে তো বটেই এর সাথে ভিকটোরিকার মত এক চরিত্রের জন্য সঠিক এক মেইন লিড দরকার ছিল তা নিঃসন্দেহে কুজৌ এবং এই রোলটির এক নির্ভুল কণ্ঠ দিয়ে এভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য এগুচি তাকুয়ার কৃতিত্ব তো আছেই । কুরোকো নো বাস্কেটে কণ্ঠ দেওয়া তার কোগানেই শিন্জি চরিত্রটাও বেশ পরিচিত সবার কাছে, কিন্তু কণ্ঠের চেয়ে এখানে তার চেহারার সফলতাই বেশি :3 ।

Eguchi Takuya 1

 

তার করা প্রধান চরিত্রের রোল যেগুলা দেখেছি সবই মোটামোটি ভালো লেগেছে । এদের মাঝে সবচেয়ে প্রিয় রোলটা হল Gosick-এর কুজৌ কাযুয়া, তার করা সবচেয়ে প্রিয় রোলটাও এটি । এর ‘ভিক্টোরিকাআআআআআ’ ডাকটা শুনতেই অনেক ভাল্লাগতো । এছাড়া Oda Nobuna no Yabou-এর সাগারা, Inu x Boku SS-এর ওয়াতানুকি, Campione-এর ডনি সালভাটোরে, Kuroko no Basket-এর কোগানেই শিন্জি এই রোলগুলো বেশ প্রিয় সাথে Oregairu-এর হিকিগায়া হাচিমান তো আছেই ।

তার গাওয়া Inu x Boku-তে ওয়াতানুকির এন্ডিংটা আমার বেশ প্রিয় । Ixion Saga-এর ওপেনিং এবং Prince of Stride, Rainbow Days, Devils and Realists এই ৩ টা আনিমের এন্ডিংয়ে তার কণ্ঠ আছে । এছাড়া কিমুরা রিয়োহেই এবং সুবাসা ইয়োনাগার সাথে মিলে তাদের এক মিউজিক গ্রুপও আছে যার নাম ‘Trignal’ ।

তার জন্ম ২২ মার্চ, ১৯৮৭ । তার উচ্চতাও সাধারণ জাপানিদের তুলনায় বেশ লম্বা ( ৬ ফিট ১ ) । তার কণ্ঠ অভিনয় বরাবরই ভালো লাগে, সামনে আরো রোল পাবো তার তা অবশ্যই কামনা করি ।

Eguchi Takuya 2

 

উচিদা মায়া

উচিদা মায়া সুধু একজন কণ্ঠ অভিনেত্রীই নয় এর পাশাপাশি একজন অভিনেত্রী, গায়িকা, মডেল এবং গ্র্যাভিয়ুর মডেল । সে গত বছরে সবচেয়ে বেশি রোল করার ক্রেডিট কিন্তু তার, যদি এই সিজনে রোল মাত্র ২টা । সাধারণত অত আলাদা রকম টান নেই তার গলায়, বেশ সাধারণ কণ্ঠেই প্রায় সব ধরনের চরিত্রগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরেন তার রোলগুলি ।
২০১০ সালে তিনি কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে তার প্রবেশ, তার হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন (২০০৯) এর পরপরই । ২০১২ সালে সাঙ্কারেয়া আনিমেটিতে মূল চরিত্র রেয়ার রোল করে তিনি প্রথম বারের মত খ্যাতি অর্জন করে । এবং তার পরপরই তাকানাশি রিক্কার রোল করে তার নাম উঠে যায় । এখন পর্যন্ত সেটা তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল । ২০১৩ থেকে আস্তে আস্তে ভালো পরিমান রোল পেতে থাকেন তিনি এবং গত বছর এসে সেই বছরের সবচেয়ে বেশি রোল করেছে । তার বাকি জনপ্রিয় রোলগুলো হল ইকি হিয়োরি ( Noragami ), ইরিনা শিদৌ ( Highschool DXD ), ইচিনোসে হাজিমে ( Highschool DXD ), নিশিমোরি ইয়ুসা ( Charlotte ), ইয়োশিয়োকা ফুতাবা ( Ao Haru Ride ) এবং আলুকা যলডিক (Hunter x Hunter )।

Uchida Maaya 1

তার করা অনেক রোলই আমার বেশ পছন্দের । তার প্রিয় রোলগুলো হল Chuunibyou demo Koi ga Shitai-এর তাকানাশি রিক্কা, Highschool DXD-এর ইরিনা শিদৌ, Sankarea-এর রেয়া সাঙ্কা, Hunter x Hunter-এর আলুকা, Gate-এর কুরেবায়াশি শিনো, Noragami-এর হিয়োরি, Shokugeki no Souma-এর ইয়োশিনো ইয়ুকি এবং Gochuumon wa Usagi desu ka-এর শারো । এছাড়া Gatchaman Crowds-এর ইচিনোসে হাজিমে, Vividred Operation-এর কুরোকি রেই এবং Rail Wars-এর কৌমে হারুকা এই ৩টি রোলও ভালো ছিল ।

কণ্ঠ অভিনয়ের পাশাপাশি J-pop এর জগতেও অ্যাক্টিভ তিনি । এ পর্যন্ত ৩ টি সিঙ্গেল্স-এর পাশাপাশি রিলিজ করেছেন একটি অ্যালবাম । Akuma no Riddle, Ai Mai Mi, Ore Twin tails ni narimasu, IDOLM@STER Cinderella Girls (TV 2), Gochuumon wa Usagi Desu Ka, Robot Girls Z এই আনিমেগুলোর ওপেনিং এবং Chaos Dragon, Etotama, Gatchaman Crowds, Seiken Tsukai no World Break, Chuunibyou demo Koi ga Shitai! আনিমেগুলোর এন্ডিং, ব্যক্তিগতভাবে নাহলে কোন গ্রুপের সাথে গেয়েছেন । আরও কিছু আনিমেতে ইন্সার্ট সং তিনি গেয়েছেন । তার গাওয়া সৌশৌ ইনোসেন্স [ https://goo.gl/lpz5dj] এবং ইন্সাইড আইডেন্টিটি [https://goo.gl/tWe5Qn] ( তার পাশাপাশি উয়েসাকা সুমিরে, আকাসাকি চিনাৎসু এবং কুমিন সেনপাইয়ের সেইয়ূও ছিল ) এ দুটো গান আমার বেশ পছন্দের ।

তার জন্ম ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ । এত কিছুর পাশাপাশি তিনি কিন্তু একজন নারুটো ভক্ত । কণ্ঠ অভিনয় তার অসাধারণ এবং সামনের বছরগুলোতে যে মূলধারার কণ্ঠ অভিনেত্রিগুলোর একজন হবে তা খুব সহজেই বলা যায় ।

Uchida Maaya 2

হানাসাকু ইরোহা রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

tumblr_mb3x3lVTdH1qzd219o1_500

হানাসাকু ইরোহা দেখে শেষ করলাম। শুরু থেকেই আর্ট এবং ক্যারেক্টার ডিজাইন দেখে আমার তারি তারি অ্যানিমেটার কথা মনে পড়ছিল, ম্যাল ঘেটে দেখলাম যা ভেবেছি তাই; দুটো অ্যানিমে একই স্টুডিওর বানানো। পিএ ওয়ার্কস স্টুডিওটির জন্য মোট ৩৪ টি টাইটেলের এন্ট্রি পেলাম (সেকেন্ড সিজন, ওভিএ, মুভির হিসাব সহ) এর মাঝে এঞ্জেল বিটস, এনাদার, শার্লট, শিরোবাকো নামগুলো চোখে পড়ল। হানাসাকু ও তারি তারির আর্ট খুব সুন্দর লেগেছে আমার, কিন্তু শার্লট আর এঞ্জেল বিটস সে তুলনায় অনেক বেশি সুন্দর আর ঝকঝকে ছিল।

ohana

স্টুডিও বন্দনা শেষ, এখন আসি হানাসাকু ইরোহা অ্যানিমেটির কথায়।

Hanasaku_Iroha

ওহানা একজন হাইস্কুল স্টুডেন্ট, মায়ের সাথে টোকিওতে থাকে। ওহানার মা একজন সুন্দরী ও খুবই খামখেয়ালি ধরণের মানুষ, ওহানার ওপর ঘর সামলানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সারাক্ষণ নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এভাবেই চলছিল মা-মেয়ের সংসার, কিন্তু একদিন হঠাৎ বাধল বিপত্তি। ওহানার মা ও তার ছেলেবন্ধু একদিন ঠিক করলেন, চাঁদের আলোয় বাড়ি ছেড়ে পালাবেন তারা একজন আরেকজনের হাত ধরে। কারণ তাদের পেছনে লেগে আছে পাওনাদারেরা! ওহানাকে নিয়ে পালানো সম্ভব না, তাই ওহানার মা তাকে ধরিয়ে দেয় একটি “অনসেন ইন” এর ঠিকানা, যেটির মালিক ওহানার নানী। নিরূপায় ওহানা তার টোকিওর বন্ধুবান্ধব ও জীবনযাত্রা ছেড়ে রওনা দেয় ছোট শহরের সেই অনসেনের উদ্দেশ্যে।

অনসেনে যেতে যেতে ওহানা যা ভাবছিল, সেখানে গিয়ে তার কিছুই হল না। ওহানার নানী একজন কর্মপাগল মহিলা, কাজের বাইরে কোন কিছুই চোখে পড়েনা তার। ওহানার নতুন জীবন শুরু হল একজন অনসেন ওয়েইট্রেস হিসেবে, আর আস্তে আস্তে সে পৃথিবীটাকে নতুন রূপে দেখতে শিখল।

iroha

স্লাইস অফ লাইফ অ্যানিমের গতানুগতিক প্যাটার্নের চেয়ে এই অ্যানিমেটি অন্যরকম, এখানে শান্তিময় জীবনের ওপর ফোকাস করা হয়নি, বরং ওহানার জীবনের সংগ্রামগুলোর ওপর ফোকাস করা হয়েছে। শুরুটা বেশ সিরিয়াসভাবে হয় এই অ্যানিমের, কিন্তু পরে ওহানা কাজের মাঝে যেভাবে আনন্দ খুঁজে নেয় ও সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করে, তা দেখে খুব ভাল লাগে। হাসার মত অনেক ভাল ভাল মোমেন্ট আছে অ্যানিমেটিতে। ক্যারেক্টারগুলো খুব সহজেই আপন হয়ে যায়, কখন যে ওদের সাথে আপনিও কিসসুইসোর অংশ হয়ে গেছেন, টের পাবেন না।

আর্টের ব্যাপারে আগেই বলেছি, প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওএসটি মানানসই, অ্যানিমের বিভিন্ন মুডকে ফুটিয়ে তুলেছে। ভয়েস অ্যাক্টিং টা আমার অনেক ভাল লেগেছে, প্রতিটি ক্যারেক্টারের সাথে কণ্ঠ খুব সুন্দর মানিয়েছে।

অ্যানিমেটির এন্ডিং টা একটু আশাহত করতে পারে অনেককে, তবে রিয়েলিস্টিক এন্ডিং হিসেবে আমার ভাল লেগেছে। এছাড়া পুরো ২৬ পর্বে এত এত ছোট ছোট কিন্তু সুন্দর সব ঘটনা ঘটে, সেগুলো সবই অ্যানিমেটিকে মনে রাখার মত একটি সিরিজে পরিণত করেছে। তাই সবাইকে সাজেস্ট করব এই সুন্দর অ্যানিমেটি দেখতে।

Hanasaku.Iroha.full.837892

Studio Monogatari: Episode 04

Tezuka Productions

Tezuka Logo.ai

১৯৬৮ সালে মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে বের হয়ে এসে ওসামু তেজুকা প্রতিষ্ঠা করেন তেজুকা প্রোডাকশনস। মুশি প্রোডাকশন ছেড়ে দিয়ে তেজুকা প্রোডাকশন তৈরির কারণ কিন্তু এই না যে সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, বরং তেজুকা নিজের মত করে কাজ করবার জন্যে মুশি প্রোডাকশনের একটি স্পিন-অফ প্রতিষ্ঠান হিসাবে তেজুকা প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর দিকে স্টুডিওটি মুশি প্রোডাকশনের বিভিন্ন অ্যানিমেশন কাজের সাবকন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজ করতো। ১৯৭৩ সালে মুশি প্রোডাকশন দেউলিয়া হয়ে যাবার পর তেজুকা প্রোডাকশনের পূর্ণ উদ্যোমে ব্যবসা শুরু করে এবং মুশি প্রোডাকশনের আনিমে ও মাঙ্গার কপিরাইট নিয়ে নেয়।

তেজুকা প্রোডাকশনের একদম প্রথম দিকের নিজস্ব কাজের মধ্যে অন্যতম হল Fushigi na Merumo (Marvelous Melmo), যা সেই সময়ের অন্যতম বিতর্কিত টিভি সিরিজ ছিল। আনিমেতে “panchira” জিনিসটি নিয়ে আনার পিছনে যেসব আনিমের অবদান রয়েছে তার মধ্যে একদম শুরুর দিকে ছিল এই সিরিজটি, একই সাথে বাচ্চাদের উদ্দেশ্য করে বানানো হলেও ওসামু তেজুকার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সিরিজটিকে শিশুদের জন্যে introductory sex education হিসেবে নিয়ে আনা। বলার অপেক্ষা রাখে না সেই সময়ে সিরিজটি নিয়ে বাবা-মাদের মধ্যে অনেক ঝড় তুলে।

মুশি প্রোডাকশন অ্যাস্ট্রো বয় সিরিজটি নিয়ে আনলেও তাদের অ্যাস্ট্রো বয় মুভিটি নিয়ে ওসামু তেজুকা বেশ অসন্তুষ্ট ছিল, একারণে তেজুকা প্রোডাকশনের হয়ে ১৯৮০-১৯৮১ সালে নতুন করে আবার অ্যাস্ট্রো বয়-এর আনিমে নিয়ে আসে।

তেজুকা প্রোডাকশনের কিছু আনিমে-

  • ১৯৭০-১৯৮০: Marvelous Melmo, Jetter Mars
  • ১৯৮০-১৯৯০: Astro Boy, Aoi Blink, The New Adventures of Kimba the White Lion
  • ১৯৯০-২০০০: The Three-Eyed One, Oniisama e…, Black Jack OVA, Black Jack the Movie
  • ২০০০-২০১০: Astro Boy (2003-2004), Hi no Tori, Black Jack (TV)
  • ২০১০-বর্তমান: Sengoku Musou, Young Black Jack, The Life of Budori Gusuko, Kumi to Tulip

এছাড়াও Madhouse-এর সাথে যৌথভাবে Mokke, TMS Entertainment-এর সাথে Genji Monogatari Senneki এবং MAPPA এর সাথে Sakamichi no Apollon তৈরি করে তারা।

Tezuka Collage 3

 

 

Shin-Ei Animation (Shin-Ei Douga)

shinei

 

অনেক বেশি পর্বের কিছু আনিমের কথা কল্পনা করুন, যেগুলি অনেক অনেক বছর ধরে সব শ্রেণীর দর্শকের মন জয় করে আসছে… খুঁজে পেয়েছেন এমন কিছু সিরিজ?

 

ডোরেমন, নিঞ্জা হাতোরি, পারম্যান, হাগেমারু, আতাশিন’চি, ক্রেয়ন শিন-চান… আনিমে দর্শকদের একটা বড় অংশের ক্ষেত্রেই শৈশবকাল থেকে দেখে আসা এসব সিরিজ তৈরি করেছে যেই স্টুডিওটি তা হল শিন-এই দৌগা। ১৯৭৬ সালে তোয়েই অ্যানিমেশনের একজন প্রাক্তন অ্যানিমেটর, দাইকিচিরো কুসুবে শিন-এই দৌগা স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই ১৯৭৯ থেকে ডোরেমন এবং ১৯৯২ থেকে ক্রেয়ন শিন-চান যে চলা শুরু করেছে তা এখনও থামার নাম নেই। ডোরেমনের তো সিরিজের পাশাপাশি মুভিও বের হয় অনেক। আর শুধু এগুলোই নয়, বরং একের পর এক শতাধিক পর্বের সব বয়সী দর্শকের উপযোগী আনিমে বানিয়ে আসা এবং একই সাথে সেগুলি খুব জনপ্রিয় করে তুলতে পারার ক্ষমতা আসলেই বিশেষ কিছু!

 

শিন-এই দৌগার কিছু জনপ্রিয় আনিমে-

  • ১৯৭০-১৯৯০: Doraemon, Kaibutsu-kun, Ninja Hattori-kun, Fukuchan, Perman, Obake no Q-taro, Hagemaru-kun
  • ১৯৯০-২০০০: Crayon Shin-chan, Dororonpa!, Manmaru the Ninja Penguin, 21 Emon
  • ২০০০-বর্তমান: Atashin’chi, Ninja Hattori-kun (2004-2008), Ninja Hattori-kun (2013-বর্তমান), Tonari no Seki-kun, Denkigai no Honya-san, Kaitou Joker
  • মুভি: Summer Days with Coo, Crayon Shin-chan-এর ২৫টার মত মুভি এবং Doraemon-এর ২০-২৫টা মুভি

 

 

আর কিছু হোক না হোক, অনেকের শৈশবকাল গড়ে তুলার পিছনে শিন-এই দৌগার ভূমিকা কোনভাবেই অগ্রাহ্য করা যায় না। শিন-এই দৌগার তৈরিকৃত আনিমেগুলি দেখলে বুঝা যায় বাচ্চাদের টার্গেট করে তৈরি সিরিজই তাদের কাজের প্রধান অংশ। যদিও এসব সিরিজ এমনই যে বড়রাও তা উপভোগ করতে পারে [যেমন টম-এন্ড-জেরি, লুনি টুন্স সব বয়সী দর্শকদের জন্যেই, এগুলিও তেমনই]।

Shin-Ei Collage 3

 

 

এনিমে রিভিউ: Barakamon — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Barakamon 1

একজন সাধারন মানুষের জীবনে লক্ষ্য কি !? ছাত্রবস্থায় পরীক্ষায় ভালো করা , এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটে ভালো করা , ভালো কলেজে চান্স পাওয়া , ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া , মানে সবমিলিয়ে খ্যাতিমান হওয়া , অনেকের মাঝে স্ট্যান্ড আউট করা । কিন্তু এই অসংখ্য কিছু করার তাগিদে আপনার জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে যাচ্ছে না তো ?! হঠাত্‍ করে যদি কোন এক কারণে আপনি যদি উপলদ্ধি করেন যে আপনি কি হারাচ্ছেন , আপনি আপনার আশেপাশে লুকিয়ে থাকা রত্নগুলো , জীবনকে উপভোগ করার আসল রহস্য আপনার সামনে এসে পরে তাহলে কেমন হবে ? তেমনি এক যুবক হানদার হাসিখুশি জীবনের আসল মানে খুঁজে পাবার যাত্রা নিয়ে এনিমে বারাকামন ।
হানদা এক ২২বছর বয়সী বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার । বেশ কম বয়সেই সে ক্যালিগ্রাফির জন্য সুপরিচিত । বাপকা বেটা অর্থাত্‍ হানদা বাবার মতই ক্যালিগ্রাফার । তো একদিন এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বাধলো বিপত্তি । প্রদর্শনীর পরিচালক হানদার ক্যালিগ্রাফী দেখে বলে যে হানাদা তার বাবার স্টাইল কপি করে সাফল্য পাচ্ছে , তাতে নেই কোন নতুনত্ত্ব । তো হানদা বেশ রগচটা বা একটু রিএকশান বেশিই করে । বলা নেই কওয়া নেই , হানদা বুড়া পরিচালকের গালে বসিয়ে দিল বিরাশি সিক্কির ঘুষি । যথারিতী তার বাবা তাকে এক নির্জন দ্বীপে বনবাসে পাঠিয়ে দিল মাথাটা ঠান্ডা করার জন্য এবং আরও একটা গোপন কারনে যেটা হানদা জানেনা । তো শহুরে ছেলে হানাদা গ্রামে এসে ঠিক সুবিধে করে নিতে পারছিল না । কিন্তু নতুন বাড়িতে উঠতে গিয়ে পরিচয় হল গ্রামের দস্যি মেয়ে নারুর সাথে , মিষ্টি এই দস্যি মেয়ে অপরিচিত এই শহুরে শাট ইনকে কয়েকঘন্টার মধ্যেই আপন করে নেয় । এবং সাথে গ্রামের সকলে তার সাথে পরিচিত হতে আসে । প্রথমে হানাদা মন খারাপ করলেও পরে সে বলে “দিনগুলো মনে হয় খারাপ কাটবে না ,, । ডাকাতসর্দারের মেয়ে মিওয়া , অতিবুঝা শখের মাঙ্গাকা তামা , অতি কিউট হিনা আর গ্রামের চ্যাংড়া পিচ্চির দলের জ্বালাতনে কখোনো বিরক্ত , কখোনোবা নিজেই তাদের সাথে বাদরামিতে নেমে পরা । যেই হানদার জীবনে এক কাওয়াফুজি ছাড়া আর কোন বন্দ্ধু ছিল না আজে তার জীবন যেন এই দস্যিদের ছাড়া ফাঁকা হয়ে যাবে । নারুর কাছ থেকে , এই গ্রামের কাছ থেকেই সে ক্যালিগ্রাফিকে নিজের স্টাইলে করার চেষ্টা করে । হানাদা সেনসে কি পারবে তার জীবনের খারাপ মুহূর্তগুলোকে ভুলে নতুন একজন হয়ে উঠতে !?
বারাকামন আমার দেখা সেরা স্লাইস অফ লাইফ এনিমে । এই এনিমেতে রোমান্সের র ও নেই যা বিরল । এর আর্ট স্টাইল খুবই সুন্দর .আছে দম ফাটানো কমেডি এবং ক্যারেকটারগুলোও অস্থির । এর ওপেনিং গানটা একবারও স্কিপ করার না । এই এনিমে দেখার পর একটা কথাই মনে হবে
“দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া , ঘরের বাইরে দু পা ফেলিয়া ,,
হানাদার অবস্থা অনেকটা আরণ্যক গল্পের নায়কের মত , প্রথমে গ্রামে এসে ভাবছিল কেমন করে শহরে পালাবে আর ২বছর পর ভাবছে শহরের গন্ডগোল থেকে পালিয়ে কেমন করে গ্রামে ফিরে যাবে । হয়ত এই এনিমে দেখার পর আপনারও মনে হবে আমি কি কিছু হারাচ্ছি !?
তো এই এনিমে দেখুন এবং অসাধারন এক যাত্রায় সওয়ার হন এবং নারু নামক এক দস্যি মেয়ের ভক্ত হয়ে যান ।
রেটিং :১০/১০ ।

Barakamon 2

Claymore রিভিউ — Rafiul Alam

Claymore

আপনি কি এনিমে দেখায় অরুচিতে ভুগছেন? সহজ, কিন্তু অসাধারণ কোন গল্প সন্ধান করছেন? ডার্ক, ফ্যান্টাসি এবং মেডিভ্যাল‍ কিছুর জন্য ক্রেভিং হচ্ছে?
তাহলে উপরের সকল অসুখের ডোজ হিসেবে ২৬ এপিসোডের ক্লেইমোর (বা ক্লেমোর) সেবন করুন!
এর কার্যকরীতার প্রমাণ এই আমি নিজেই।
ক্লেইমোর একটি অসাধারণ সংগ্রাম, সাহসিকতা এবং মনুষ্যত্বের গল্প, যা তার স্বকীয় শৈল্পিকতা অর্জন করেছে দৃষ্টিকটু কিছু ব্যাপার থাকা সত্ত্বেও। ম্যাডহাউজ তৈরীকৃত আনিমেটি প্রচারিত হয় ২০০৭ সালে, মাংগার কাহিনী অসম্পূর্ণ রেখেই, ২৬ টি এপিসোডে।আমি সাব দেখেছি, ডাবও শুনেছি। সাব>ডাব মনে হয়েছে, তবে আপনার ব্যাক্তিগত পছন্দকে গুরত্ব দেয়ার অনুরোধ করব।
ক্লেইমোর শব্দ দিয়ে মূলত মধ্যযুগীয় স্কটিশ তলোয়ারকে বোঝায়। এনিমেতে ঠিক সেই তলোয়ারই দেখানো হয়েছে।

Synopsis : ঘটনার প্রেক্ষাপট মধ্যযুগের ইউরোপ। যেখানে মানুষের জীবন বিপন্ন ইয়োমার কারণে। ইয়োমা হল এক ধরনের নরখাদক রাক্ষস, যারা কিনা মানুষের রূপ ধারন করে মানুষের মাঝে মিলেমিশে থাকতে পারে। মহাবিপদ! এখন এই রাক্ষসের উপদ্রব থেকে মানুষজনের উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র সম্বল হল কয়েকজন নারীযোদ্ধা, যাদের সাধারণ মানুষজন ক্লেইমোর বলে ডাকে।
ঘটনার শুরুতে, এক জনপদে ইয়োমার আক্রমণে ৬ জন নিহত হয়। ফলে সেখানে ক্লেইমোর বাহিনীর আগমণ ঘটে। ক্লেইমোরদের ইয়োমাবিনাশী ক্ষমতা, শক্তিশালী দৈহিক গঠন, অতিরিক্ত ফ্যাকাশে ত্বক, এবং অস্বাভাবিক চোখের রঙের কারণে মানুষজন তাদের ভয়ের চোখে দেখে। কিন্তু ইয়োমার কাছে পরিবার হারানো অসহায় ছেলে রাকি ক্লেইমোরদের সাধারণ মানুষদের থেকে আলাদা নজরে দেখে না। ফলে রাকি, ক্লেয়ার নামের এক ক্লেইমোরের পিছু নেয়। ঘটনার আবর্তনে ক্লেয়ার আর রাকি নানামুখী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। ফলে চরিত্রগুলোর সাথে দর্শকদের বন্ধন তৈরী হওয়ার পাশাপাশি ঘটনার প্রবাহ ত্বরান্বিত হয়। একই সাথে দর্শকদের কাছে ক্লেইমোরদের উদ্দেশ্য, গাঠনিক নিয়মাবলী পরিষ্কার হয়। নামবিহীন ‘দ্যা অর্গানাইজেশন’ এর কলকাঠি নাড়াচাড়া স্ক্রিনে আসলে গল্পেটি আরেক দিক থেকে দেখার সু্যোগ হয়। কাহিনী যত এগোয়, নতুন নতুন চরিত্র ও তাদের উদ্দেশ্য উন্মোচিত হয়। গল্পের যে দিকটি নজর কেড়েছে , তা হল এখানে চরিত্রগুলোর উদ্দেশ্য খুবই সহজে বোঝা যায়, কিন্তু গভীরতার দিক থেকে কোন অংশেই কম না। এবং অসাধারণ পেসিং থাকার কারণে কাহিনীর সমাপ্তি না জেনেও এনিমের একটি ভাল সমাপ্তি আশা করতে পারেন।

Theme setup, Animation and Music : ইউরোপের প্রকৃতি, তুষার, মধ্যযুগের পাথরের স্থাপত্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস সবই বেশ বাস্তবিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আনিমেতে পরিমিত সূর্যের আলো দেখানোর ফলে গথিক একটা ভাইব তৈরী করতে পেরেছেন নির্মাতারা। যা আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অবচেতনভাবেই দর্শক মনে প্রভাব ফেলবে এর সিনগুলো। অসাধারণ আর্টওয়ার্ক যাকে আরও এম্প্লিফাই করেছে। তবে এনিমেশনের কিছু কিছু ব্যাপার দৃষ্টিকটু ছিল। বিশেষ করে একশন সিনগুলিতে রক্ত পড়াকে ফোয়ারার মত দেখানো হয়েছে। আবার অনেক সময় একশনগুলি বেশি অবাস্তব মনে হওয়াও অসম্ভব নয়। অবশ্য তামিল মুভির ভক্ত হলে অনুভূতি ভিন্ন হতে পারে।
এবার আসি মিউজিকে। এনিমেটির ঝাকানাকা অপেনিং খুবই মনোমুগ্ধকর লেগেছে আমার কাছে। ফোক মেটালের এন্ডিং আরও বেশি পারফেক্ট ছিল, পুরো এনিমেটির সাথে খুবই, খুবই ভালভাবে মানিয়ে যায়। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যাবহার অনেক সময় খাপছাড়া মনে হয়েছে। অনেক সময় দুটি ট্র‍্যাক গ্যাপ ছাড়া কন্টিনিউয়াসলি প্লে করা হয়েছে। এমন সাডেন চেঞ্জে কোন কোন দৃশ্যে দর্শকের ফিলিংস কনফিউজড হয়ে যায়। তবে আমি বলব, গ্লিচগুলিকে অভারলুক করা গেলে ক্লেইমোর আপনার জন্য নিঃসন্দেহে উপভোগ্য হবে।

Characters Setup : এনিমেটির ক্যারেক্টার বিল্ডআপ এর সবচেয়ে মুল্যবান দিকগুলোর একটি। কোন ফাইট শেষ হওয়ার পর তার আগের ফাইটকে খুবই নগণ্য মনে হয়েছে। ক্লেয়ার চরিত্রটি অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। চরিত্রগুলি বেশ জীবন্ত মনে লেগেছে। যদিও রাকি চরিত্রটি বিরক্তিকর লাগতে পারে অনেকের কাছে। কাহিনীতে তেরেসা, মিরিয়া, ডেনেভ, আইরিন, অফিলিয়াসহ প্রচুর চরিত্র আছে, কিন্তু তাদের স্টোরি ঠিক যতটুকু স্পটলাইট ডিসার্ভ করে, ততটুকুই দেয়া হয়েছে। একই সাথে চরিত্রগুলির স্বতন্ত্রতা বজায় ছিল, ফলে মনে রাখা সহজ হয়।

Overall Rating :
MyAnimeList.net : 7.95/10
IMDb Rating : 8.1/10
My Rating : 8.6/10

Opening:

https://www.youtube.com/watch?v=umgoE_SASK0

Ending:

 

Great Teacher Onizuka (GTO) রিভিউ — Mahbub Yusuf

GTO 1 GTO 2

Name: Great Teacher Onizuka (GTO)
Genres: Comedy, Drama, School, Slice of Life

মাত্রই দেখা শেষ করলাম Great Teacher Onizuka। এত সুন্দর আর সিম্পল কাহিনীর এনিম দেখব তা প্রথমে ভাবতে পারিনি । এনিমেতে মূলত আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যাবস্থার মধ্যে যে গলদ্গুলি আছে তাই বিভিন্ন কৌতুকপূর্ণ আর হাস্যরসাত্মকভাবে সবার সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
ছাত্র- শিক্ষকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত ?
শিক্ষকের কাজ কি শুধুই বইয়ের পাতা আর স্কুলের গন্ডির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত?
আমাদের অধিকাংশের অভিজ্ঞতাই বলে শিক্ষকরা আমাদের সেকেন্ড অভিভাবক তবে খুব কম শিক্ষককেই বন্ধু হিসেবে দেখা যায় যার পরিমান আসলেই অনেক কম। আর বইয়ের পাতা আর স্কুল কলেজের গন্ডির বাইরে শিক্ষকদের তেমন এক্টিভিটিও চোখে পড়ে না।

মূলত শিক্ষক- ছাত্রদের সম্পর্ক এই এনিমেতে নিখুতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছাত্র-শিক্ষকের খুনসুটি, একশন, বাইক রেসিং ,কার চেজিং, রোমান্স কমেডীর কমপ্লিট প্যাকেজ Great Teacher Onizuka।

GTO 3

Eikichi Onizuka যে কিনা ছাত্রজীবনে একজন গ্যাংস্টার বাইক রাইডার ছিল। যার স্বপ্ন জাপানের গ্রেটেস্ট টিচার হওয়ার। তবে তবে প্রথাগত ভাবে তার শিক্ষক হবার ইচ্ছা নেই, বরং প্রথার বাইরে থেকে Great Teacher Onizuka হবার স্বপ্ন তার। তবে সেই স্বপ্ন পুরনে শুরু থেকেই বাধার সম্মুখীন হতে থাকে । আর সেই সকল বাধাও সে তার বুদ্ধিমত্তার সাথে এক এক করে পার হতে থাকে আর সকলের কাছে ধীরে ধীরে Great Teacher Onizuka হিসেবে পরিচিত হতে থাকে।

Eikichi Onizuka কে নিয়ে বলতে গেলে শুরুতেই বলতে হয় সে একজন পারভার্ট যার টার্গেট শুধুমাত্র হাইস্কুলের সুন্দরী ছাত্রীদের পড়ানো। একজন ২২ বছর বয়সী ভার্জিন , মার্শাল আর্টিস্ট। সৎ, গ্রেট সেন্স অফ হিউমার, গ্রেট সেন্স অফ জাস্টিস এই গুনগুলো ভালভাবেই তার রপ্ত করা। তার ছাত্রছাত্রীরা কোন ধরনের সমস্যায় পড়লে সে সবার আগে এগিয়ে যায় , কখনও নিজের জীবন বাজি রেখে কখনও বা নিজের পেশা। ছাত্রছাত্রীদের বিপদের সময় কোন কিছুর পরোয়া করে না। এই ব্যাপারে বলতেই হয় সে তার সর্বোচ্চ ডেডিকেশন দেয়ার চেষ্টা করে। আর এটাই তার প্রধান শক্তিশালী পয়েন্ট। তাকে কখনও দেখা যায় তার স্টুডেন্টদের সাইকোলজিস্ট হিসেবে, কখনও বা বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে। কখনও হাতি কখনও বা ড্রাগন সেজে স্কুলে ঘুরে বেড়ায়। আবার ক্লাসের মাঝে সিগারেটের ধোয়া উড়াতে উড়াতে লেকচার দিতে দেখা ।

এই এনিমেটি ভাল লাগের আরেকটি GTO 4কারন পার্শ্ব চরিত্রগুলোর ডেভেলপমেন্ট। প্রতিটি ক্যারেক্টেরে ডেভেলপমেন্ট যথেষ্ট ভাল । প্রতিটি ক্যারেক্টারের আলাদা আলাদা বিশেষ গুণ আছে যা কিনা ভিউয়ারদের যথেষ্ট আকৃষ্ট করে। Yoshito Kikuchi , Urumi Kanzaki, Noboru Yoshikawa, Kunio Murai এদের কাউকেই কারও চাইতে কম বলা যায় না। সবার ইন্ডিভিজুয়ালি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এনিমএকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

আর এনিম দেখা শুরু করলে কখন শেষ হয়ে যায় তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন না । যদিও এনিম মাঙ্গার অর্ধেক কাভার করেছে , পুরো এডাপ্টেশন করেনি এটাই একমাত্র খারাপ লাগার কারন ।

MAL Rating : 8.8
Personal Rating : 9

হ্যাপি এনিম ওয়াচিং