জিগোকু শৌজো রিভিউ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

জিগোকু শৌজো / হেলগার্ল সিজন ১ দেখে শেষ করলাম। শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে, প্রায় আট নয়মাস হবে। শুরুর দিকে খুব ইন্টারেস্টিং লাগছিল, কারণ মানুষের মনের কদাকার রূপগুলোকে খুব বাস্তবসম্মত ভাবে তুলে আনা হয়েছিল, মনে কিছুটা চাপও পড়ছিল। কিন্তু ১০-১১ টা পর্যন্ত দেখার পর আবিষ্কার করলাম, জিনিষটা বেশ বোরিং হয়ে গেছে, কারণ প্রতি এপিসোডের কাহিনী একইরকম। ভয়াবহ রিপিটেশন দেখে বোর হয়ে তখন আপাতত বাদ দিয়েছিলাম, এতদিন পর অবশেষে বাকি এপিসোড গুলো দেখলাম। এবং দেখে স্বস্তি পেলাম যে, রিপিটেশন পুরোপুরি দূর না হলেও, শেষদিকে হাজিমে ও তার মেয়ে সুগুমির কাহিনী ইনক্লুড হওয়ার কারণে জিনিষটা অনেক ইন্টারেস্টিং ভাবে শেষ হয়েছে।

ভেবেছিলাম অল্প কথায় রিএকশন লিখে পোস্ট করব, এখন দেখছি বলার মত অনেক কথা মাথায় ঘুরছে। রিভিউ লিখেই ফেলি ছোট করে।

Enma.Ai.full.722587

পৃথিবীতে যতদিন মানুষ থাকবে, ততদিন অন্যায়, অত্যাচারও থাকবে। দুর্বলেরা নির্যাতিত হবে, তাদের অধিকার খর্ব করা হবে, আর সবলেরা অন্যায়ভাবে সুবিধা ভোগ করবে। ন্যায়বিচার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক দিবাস্বপ্ন; নির্যাতিতের মনে তাই জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। ক্লাসে আপনার পাশে বসা মেয়েটিই হয়ত আরেকটি মেয়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইচ্ছামত তাকে দিয়ে অন্যায় করিয়ে নিচ্ছে, আপনি টেরও পাচ্ছেন না। অথবা পাশের বাড়ির যে মহিলাটিকে কিছুদিন আগে দুশ্চরিত্রা অপবাদ দেয়া হল, কেউ খোঁজ নিয়েও দেখল না যে বাস্তবে সে কত বড় ষড়যন্ত্রের শিকার। কিংবা হাসিমুখে আপনাকে সাহায্য করতে আসা প্রতিবেশীটি হয়ত মনে মনে আপনার ক্ষতি করার প্ল্যান নিয়ে এসেছে, আপনি যখন জানবেন, ততক্ষণে সব শেষ, কিচ্ছু করার নেই।

এইসব মানুষ কি তাহলে কোনদিন ন্যায়ের দেখা পাবে না? এভাবে অত্যাচারিত হয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে তাদের?

তাদের জন্য রয়েছে হেল লিঙ্ক। এমন একটি ওয়েবসাইট, যা শুধুমাত্র রাত ১২ টায় একসেস করা যায়, আর যা শুধু অত্যাচারিত মানুষই একসেস করতে পারে। আপনার সাথে যে অন্যায় করেছে তার নামটা লিখে দিন সেখানে, নরক কন্যা এনমা আই আপনার হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে। কিন্তু সেজন্য মূল্য দিতে হবে আপনাকে। আপনার মৃত্যুর পর অনন্তকালের জন্য আপনার আত্মার ঠাঁই হবে নরকে।

অ্যানিমেটির যে দিকটা আমার ভাল লেগেছে, আপনার নৈতিকতা, বিবেকবোধ এবং মনুষত্ব্যের মাঝে একটা ছোটখাটো গৃহ যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে অ্যানিমেটি, যা হয়ত ডেথ নোট, কোড গিয়াসও করতে পারেনি। কিরকম? আপনাকে প্রথমে নির্যাতিতের কষ্টটা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হবে। নির্যাতিতের ক্ষোভ আপনি নিজে অনুভব করবেন। আর যখন ভাগ্যের সেই লাল সুতো টেনে খুলতে সে দ্বিধাবোধ করবে, আপনার নিজেরই ইচ্ছে হবে যে গিয়ে সুতোটা খুলে দিয়ে আসি।

কিন্তু যদি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করা হয়, তাহলে ব্যাপার টা কি দাড়াতে পারে? এভাবে নিজের আত্মাকে অনন্তকালের জন্য বিসর্জন দিয়ে ক্ষণিকের মুক্তির জন্য প্রতিশোধ নেয়াটা কতখানি যৌক্তিক? প্রতিশোধের এই মরণচক্র তো তাহলে কোনদিন শেষ হবে না! রিপোর্টার হাজিমে ও তার মেয়েকে এনে অ্যানিমেটার কাহিনী আরও জটিল হয়েছে, কিন্তু সেইসাথে আরেকটা দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকের সামনে উঠে এসেছে, তাই কাহিনীটা আরও ভাল লেগেছে।

অ্যানিমেটার আর্ট ভালই, ওএসটি অনেক সুন্দর। কাহিনীর পেসিং এ একটু সমস্যা আছে, এছাড়া ওভার অল এটি অবশ্যই সবার দেখার মত অ্যানিমে। শেষ দিকে জিগোকু শৌজোর লাইফ নিয়ে কিছু ঘটনা দেখানো হয়, এটা ভাল লেগেছে। সিজন টু দেখার জন্য আগ্রহ বেড়ে গেছে এখন।

jigoku_shoujo_sakura_kimono_girl_brunette_posture_29489_1920x1080

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon) [রিভিউ] — Fatiha Subah

Seishun Kouryakuhon

সেইশুন কৌরয়াকুহন (Seishun Kouryakuhon)
জানরাঃ শৌজো, স্লাইস অফ লাইফ
ভলিউমঃ ১
চ্যাপ্টারঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.০৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

শৌজো মাঙ্গাগুলোতে সাধারণত মেয়েরাই হয় প্রধান চরিত্র। মেয়েগুলোও আবার সব একই রকম ব্যক্তিত্বের। যে কারণে ঘুরেফিরে সবগুলো মাঙ্গাই একই রকম লাগে এবং অনেকেই, বিশেষ করে ছেলেরা পড়তে চায় না। তাই আপনাদের ছোট একটা শৌজো মাঙ্গার কথা জানাব যেটা শুধু ছেলেদেরকে নিয়েই। অনেকটা নিজীরো ডেইয ধাঁচের। নিজীরো ডেইযের তো ভালোই প্রশংসা শোনা যায়। তাই আশা করছি এটা পড়তেও আগ্রহী হবেন।

মাঙ্গাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ৪ জন বন্ধুকে নিয়ে। একেকটি চ্যাপ্টার এদের একেক জনকে নিয়ে বানানো। প্রথমে কাহিনী শুরু হয় যখন ইসেযাকি একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে পাশের মেয়েদের স্কুলের বিল্ডিংয়ের জানালায় একটা মেয়েকে পানি খেতে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি ইসেযাকিকে লক্ষ্য করে কঠোর দৃষ্টিতে তাকালে ইসেযাকি ভড়কে গিয়ে শুধু হাত নাড়ে। মেয়েটিও উত্তরে ইসেযাকির দিকে হাত নাড়ে। এরপর থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ইসেযাকি কাগজে লিখে লিখে মেয়েটির সাথে কথা বলে। নাগিসে, ইসেযাকি’র সিনিয়র মেয়েটি পড়ে মেয়েদের সাকুরানো হাই স্কুলে যেখানে মেয়েদের ছাত্রীনিবাসে থেকে পড়ালেখা করতে হয়। ইসেযাকি পড়ে ঠিক তার পাশের ছেলেদের কামিয়ামা প্রাইভেট হাই স্কুলে। কিন্তু এই দুই স্কুলের মাঝে বিশাল বড় দেয়াল তৈরি করে আলাদা করে রাখা। নাগিসের সঙ্গে ইসেযাকির দেখা করা সম্ভব না। এর উপর হঠাৎ করেই নাগিসের আর দেখা পাওয়া যায় না। সাকুরানোর আরেকটি নিয়ম হল সিনিয়ররা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ছাত্রীনিবাস ছেড়ে চলে যায় এবং স্কুলে আসে না। এটা আগে না জানা থাকায় ইসেযাকির মাথায় হাত! এখন সে কিভাবে তার ম্যাডোনার দেখা পাবে?! আর ১০টা ছেলে যেমন মরিয়া হয়ে উঠত ইসেযাকিরও ঠিক তাই হয়। সে বুদ্ধি করে আসছে গ্র্যাজুয়েশন সেরেমোনির সময় নাগিসে যখন প্রথম হেঁটে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরবে তখন ইসেযাকিও তার সঙ্গে হাঁটবে। কিন্তু ঠিক সেদিনই আবার তার পরীক্ষা পরে। পরীক্ষা দিয়ে বহু বাধা পেরিয়ে পৌঁছুতে পৌঁছুতে ততক্ষণে অনুষ্ঠানই শেষ হয়ে যাবে! ভাগ্য তার সহায় হয় না। তাই বলে ভালবাসার শক্তিকে অবমুল্যায়ন করা ঠিক না মোটেও! এই দুই স্কুলের মাঝে একমাত্র যোগসূত্র হল একটি কমন ইমার্জেন্সি হলওয়ে যেটা সবসময় বন্ধ রাখা। আরও আছে সাকুরানোর বিশাল গেট আর দেয়াল। এতকিছুর বাধা পেরোতে ইসেযাকি তার দুই বন্ধু নোগামি, উয়েমুরা আর ক্লাসমেট ইয়ুইয়ের সাহায্য চায়। কিন্তু কিভাবে কি করবে তারা…?

উত্তরটা আমি বলব না অবশ্যই। প্রথমে মনে হতে পারে এটার একটু বেশিই লুতুপুতু কাহিনী। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তেমন না। এরপরের চ্যাপ্টারগুলো কোনটা শুধু বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে আবার কোনটা আরেকটি প্রেমের গল্প নিয়ে। ইসেযাকি আর তার বন্ধুদের কান্ডকির্তী দেখে আমি হেসেছি পাগলের মত। পুরোটা পড়ার সময় শুধু একটা জিনিসই মাথায় ঘুরত। ছেলেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এরকম দৈনন্দিন জীবনের ঘটনাগুলো দেখা যে এত মজার তা কখনো ভাবিইনি। আর প্রেম কাহিনী হলে তো কথাই নেই! মেয়েরা সাধারণত ছেলেদের চিন্তাভাবনাগুলোর সাথে অত পরিচিত না। তাই আপনি যদি মেয়ে হয়ে থাকেন এবং এসব জানতে আগ্রহী হন তাহলে বলব অবশ্যই অবশ্যই এটা পড়তে। ছেলেরা প্রেমে পড়লে কি করে তা একদম দেখার মত জিনিস! আর ছেলে হলে তো ছোটবেলায় করে আসা কোন অকাম-কুকামের সাথে মিল খুঁজে পেলেও পেতে পারেন! ইসেযাকির দলটার পাগলামি দেখে মাঝে মাঝে মনে হবে আপনিও তাদের সাথে কোন অ্যাডভেঞ্চারে বেড়িয়ে পরেছেন। কিসমাঙ্গাতে আক্ষরিক অর্থেই এটার জন্য অ্যাডভেঞ্চার ট্যাগ মারা আছে! এরকম মজার আর অ্যাডভেঞ্চারাস হলে শৌজো মাঙ্গার মত কাহিনী যে কেউই চাবে তার জীবনে।

মাঙ্গাটির আর্টও বেশ সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আমি মাঙ্গাটি প্রথম পড়তে গিয়েছিলাম শুয়ে থাকা অবস্থায়। তারপরেও মাঙ্গার কভার দেখে মনে হল আমি উল্টায় গেলাম! হতে পারে সেটা ফ্যানগার্ল ফিলিং। কিন্তু ছবিগুলো আসলেই খুব সুন্দর। আর হবে নাই বা কেন? এ যে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মাঙ্গাকার আঁকা! যারা আকা-শিরা পরেছেন তারা তো আকিযুকি সোরাতার আর্ট আর গল্পের ধরণের সাথে পরিচিত। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন আমি এত এই মাঙ্গার প্রশংসা করছি। বিশেষ করে আর্টের দিক থেকে তার আঁকাআকির ছাপ স্পষ্ট। ইসেযাকিকে দেখে পুরো ‘যেন উইস্তালিয়া’র মত লাগে। আবার উয়েমুরা দেখতে পুরোই ওবির মত। ইয়ুই আর নোগামির মাঝেও এই ভাবটা কিছুটা হলেও আছে।

বেশির ভাগ স্লাইস অফ লাইফ গল্প বুলিং, দুঃখ, কষ্ট, সংগ্রাম ইত্যাদির কথা বলে। আর শৌজোগুলো শুধু সুদর্শন ছেলে x একটু অন্যরকম মেয়ের গল্প বলতে ব্যস্ত। সেখানে সেইশুন কৌরয়াকুহন কিশোর বয়সের ছেলেদের ছোট ছোট ঘটনার মাঝে খুঁজে পাওয়া উন্মাদনার চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এটার থিমটা যদি মনে ধরে কিংবা আপনি যদি নিজীরো ডেইয, কিমি তো বকু’র ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে এই মাঙ্গাটি পড়তে ভুলবেন না।

“Yowamushi Pedal : হে দুর্বল প্যাডাল ঘুরা” — Siam Maksud

ভূমিকা: কবি বলেছেন
‘ইচ্ছে করে লিখি একটা গান”
আমার ইচ্ছা করছে রিভিউ লেখতে। কাজেই লিখে ফেললাম। given below-
বিষয়বস্তু: একখানা স্পোর্টস এনিমে। নাম তাহার Yowamushi Pedal”
সিজন: 2 খানা।
খেলার নাম : রোড রেস( সাইকেল দিয়া যে আগে দাগ পার হইবে সে ভাব নিয়া জিতিতে পারিবে)

সাইকেল কি: ইহার বাংলা নাম দ্বিচক্রযান। দুই চাক্কার রিকশা। পেডেল ঘুড়াইয়া চালাইতে হয়।শিখিতে বহুত কসরত করিতে হইবে।মানুষ সাধারনত নিজে চালায় কেউবা আবার ড্রাইভার রাখিয়া পেছনে বসে। সুবিধা- তেলের খরচ নাই।

এনিমের প্লট : অনেক অনেক দিন আগের কথা( 2014 maybe). ওনাদা সাকামিচি নামের এক বিশিষ্ট ওতাকু বালক জাপানে বসবাস করত। তার কোনো বন্ধু ছিল না কারন সে এনিমে ভালবাসত আর মিডল স্কুলের পোলাপান এনিমে দেখত না। বহু কষ্টে মিডল স্কুল পাশ করিয়া সে সোউহোকু হাই স্কুলে ভর্তি হইয়াছে। প্রথমদিনে সে অতি খুশি মনে স্কুলে গেল। মনে বড় আশা সে এনিমে ক্লাবে জয়েন করিবে। এনিমে নিয়া গল্পগুজব করিবে( এনিমখোরের মেম্বার হইলে এই কষ্ট করতে হতো না) । কিন্তু হায় ‘ অভাগা যেদিকে চায়, বুড়িগঙ্গা ট্যানারি বর্জ্যে দূষিত হয়ে যায়।’ কাজেই হতভাগা ওনাদা এনিমে ক্লাবের সামনে গিয়া দেখিল এনিমে ক্লাব লোকস্বল্পতায় ভুগিয়া দেউলিয়া হইয়া গিয়াছে। হতাশ ওনাদার সাথে তখনই দেখা হইল নায়িকা( যার প্রেমিক বাইসাইকেল) মিকির। ওনাদা সাহেবের একখানা ব্যাক স্টোরি আছে। সে বাসের পয়সা বাচাইয়া প্রতি সপ্তাহে তাহার mommy bike নিয়া 45 km দূরের আকিহাবারায় যাতায়াত করিত আর পয়সা দিয়া তৈজসপত্র কেনাকাটা করিত( আক্ষরিকভাবেই ওতাকু) । কাজেই নিজের অজান্তেই দ্বিচক্রযানে অভিজ্ঞ হইয়া গিয়াছিল।ইহা সহ্য হয় না সিরিয়াস রেসার ইমাইজুমির ( ওরফে হটশট) । ওনাদার হাসিখুশি স্পিডিং তার অহমে আঘাত দেয়। সে তাকে রেসে আহবান করে। টিলার ঢালের রেস বাইসাইকেল ক্লাবের কর্তাব্যাক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষন করে। যাইহোক, ঘটনাবহুল রেসের পর ওনাদা বাইসাইকেল ক্লাবে যোগদিতে আগ্রহী হয়( সব বলনা কারন স্পয়লার খেতে পারেন।[মূল কথা টাইপ করা কষ্টকর কাজ।])তারপর দিন যায় রাত যায় ওনাদা এগিয়ে চলে। সৌহোকু এগিয়ে চলে। ইমাইজুমিরা এগিয়ে চলে……… তারপর আসে ইন্টার হাই চ্যাম্পিয়নশিপ…..
এই হইল মূল প্লট।

কেন দেখবেন:
আমার বর্ননা শুনে যতটা ক্লিশে হবে বা খ্যাত হবে ভাবছেন আসলে এনিমেটা ততটাই বেশি ইন্টারেস্টিং। লেখকের দোষে এনিমেটিকে বঞ্চিত করবেন না। একের পর এক টুইস্ট কাহিনীর মোড় ঘুরায়। আর আছে প্রতি এপিসোডের শেষের দিকের কয়েক মিনিটের হাস্যরস যা যথেষ্ট উপভোগ্য। বিপক্ষ দলের প্রতিটি রাইডারো অসাধারণ। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল এনিমেতে প্রতিটা চরিত্রের ব্যাক স্টোরি দেখানো হয়েছে। এমনকি মহাভিলেন মিদৌসুজি আকিরার ব্যাক স্টোরিটি চোখে পানি এনে দেবার মত। কাজেই রেসে কার পক্ষে থাকবেন এই
সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কষ্টকর হবে। থ্রিল, উপভোগ্য কাহিনী, মানানসই মিউজিক , অসাধারণ ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট সব মিলিয়ে এক টানে দেখে ফেলার মতYowamushi Pedal

 

মাঙ্গা রিভিউ: Kouishou Rajio, Fuan No Tane এবং Fuan No Tane plus — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

3

আমাদের প্রত্যেকের ছোটবেলার একটা চেনা চিত্র, চিত্রটা হল আম্মু বা বড়বোনের কাছে ভূতের গল্প শোনার আবদার করা এবং তাদের শত ওয়ার্নিং দেওয়া সত্ত্বেও ভূতের গল্প শোনা এবং সবশেষে গুটিশুটি মেরে অতি গরমেও চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়া। ভূতের গল্প না পড়লে রাতে ঘুম আসতেই চাইতো না এবং পড়ার পর ঘুম যে বেশ আরামের হত তা বলা যায় না। ভৌতিক গল্প বিশ্বের প্রতিটি লোকগাথার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের বাংলাদেশেও কম ভূত থুক্কু ভৌতিক সাহিত্য বা লোকগাথার অভাব নেই। নিশি ডাকা, জ্বীন, কল্লা কাটা, ভুলা ভুত, বোবায় ধরা গল্প প্রচুর চালু রয়েছে এবং এগুলো অনেকে এখোনো বিশ্বাস করে। এসব ভৌতিক অভিঙ্গতা গুলো শুনলেই গা ছমছম করে তো ইলাস্ট্রেটেড দেখলে কি হবে ভাবুন। ধরুন রাত একটায় ঘুম ভেঙ্গে গেল, হঠাত্‍ চোখ গেল জানালায়, একটি সুন্দরী মেয়ে আপনার জানালায় নক করছে কিন্তু আপনি থাকেন বিল্ডিংয়ের পাঁচ তালায়। তো এরকম ছোট ছোট লোকগাথা নিয়েই মাঙ্গাকা নাকাইয়ামি মাসাকির তিনখানা অসাধারন মাঙ্গা।

1
এ মাঙ্গাগুলোর বৈশিষ্ট্য হল এগুলোর সুনির্দিষ্ট কোন কাহিনী নেই, আমাদের আশেপাশে ঘটে যাওয়া আধিভৌতিক ঘটনা, কোন এলাকায় প্রচলিত ভৌতিক কাহিনী অথবা বিভিন্ন লোকের জীবনে ঘটে যাওয়া ভৌতিক ঘটনাগুলোই এ মাঙ্গাতে তিনি একে দেখিয়েছে। প্রত্যেকটা চ্যাপ্টারের সাইজ বহুত ছোট। মিনি গল্পের মতো মিনি মাঙ্গা। কোন কোনটার তো কাহিনী এক পৃষ্ঠাতেও শেষ। কিন্তু তা বলে এর মজা কিন্তু কমেনি। মাঙ্গাগুলোর কাহিনী জাপানের লৌকিক ভৌতিক গল্পের উপর বেস করে।
এই মাঙ্গার আর্ট খুবই ভালো এবং এর কভারগুলোও সেই ইন্টারেস্টিং। আর এ মাঙ্গাগুলো ভরদুপুরে অলস সময়ে পড়লে হবে না কিন্তু!! রাতে বেশ একটা ভালো রকমের হরর মুভি দেখে বেশ করে ঘুমটা চটকাবেন, এরপর সবাই ঘুমিয়ে গেলে, চারিদিক সুনসান। আপনার রুম অন্দ্ধকার, ঘড়িতে বিরক্তিকর টিক টিক শব্দ এবং আপনি পড়ছেন ফুয়ান নো তানে, তাহলেই এ মাঙ্গার ভাইব ভালো ভাবে পাওয়া যাবে!! বলা যায় না, রাতে হঠাত্‍ ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলে দেখলেন যে আপনার মুখের উপর একজোড়া নিষ্প্রাণ চোখ মেলে রয়েছে। তাহলে পড়ুন এবং ভয় পান।

রেটিং: ৩টাই ৭করে পাবে।

2
শেষটা বিশ্বের ছোট হররগল্প দিয়েই করি, গল্পটি স্টিফেন কিংয়ের।” বিশ্বের শেষ জীবিত মানব ঘরে বসে আছে, এমন সময় তার দরজায় কেউ নক করলো ,, ।

4

আন্নারাসুমানারা- স্বপ্নভঙ্গ, প্রত্যাশা ও বড় হওয়ার গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

আচ্ছা, বড় হওয়ার মানে আসলে কি? শরীরটা আকারে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে মানুষের মনটায় কি এমন পরিবর্তন আসে, যার কারণে একসময় তার কাছে যা খুব আকর্ষণীয় ও আরাধ্য মনে হত, তা হঠাৎ করে যুক্তিহীন ও হাস্যকর লাগতে থাকে? প্রাপ্তবয়স্ক হলেই কেন মানুষকে স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিতে হয়? নাকি স্বপ্ন দেখা ছাড়তে তাকে বাধ্য করা হয়! স্বপ্ন দেখলে যে সমাজ তোমাকে পাগল বলবে! তোমার দিকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বলবে, দেখ, সে এখনও বড় হতে পারল না! সে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হতে ব্যর্থ। কারণ সে সমাজের ঠিক করে দেয়া নিয়ম মেনে বড় হয়ে ওঠেনি। সে সাহস করেছিল তার জন্য সাজিয়ে রাখা চকচকে পথ ছেড়ে নেমে নতুন করে পৃথিবীটাকে দেখার।

ইউন আই মেয়েটিকে এই সত্যের মুখোমুখি হতে হয় খুব অল্পবয়সে। ঋণের বোঝায় জর্জরিত বাবাকে ছেড়ে চলে যায় তার মা, আর পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ায় তার বাবা। নিরুপায় আই তার এবং তার ছোটবোনের জীবন চালানোর জন্য তাই অমানুষিক পরিশ্রম করে। নিজে না খেয়ে থাকে, যেন ছোটবোন স্কুলে টিফিন নিয়ে যেতে পারে। স্কুল শেষ হওয়ার পর অনেক রাত পর্যন্ত একের পর এক পার্টটাইম জব করে, যেন বাড়িভাড়াটা সময়মত দিতে পারে। এতকিছুর সাথে সে কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশুনা করে নিজের গ্রেডটাও ঠিক রাখে, কারণ আই জানে, গ্রেড ভাল রাখলে একসময় হয়ত সে একটা ভাল চাকরি করে এই অভাবী জীবনটাকে পরিবর্তন করতে পারবে। ছোট্ট বয়সে বড় হয়ে ওঠা এই মেয়েটি জানে, তার কাছে যা বিলাসিতা, অন্যদের কাছে তা স্বাভাবিক জীবনের অংশ। আর সেই স্বাভাবিক জীবন পাওয়ার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আই সে সবই করবে।

profile_picture_by_no_hurry_to_shout-d6y3rlz

আই এর ক্লাসমেট ইল দং। সবকিছু আছে তার। ধনী পিতামাতা, বিলাসবহুল জীবন, স্কুলে ভাল গ্রেড – সবকিছু। আই এর আরাধ্য জীবন জন্মগত ভাবে পাওয়া ইল দং কখনো জীবনে না শব্দটি শোনেনি। এতকিছু থাকার পরেও কোন না কোন দিক দিয়ে ইল দং ও খুশি নয়। কারণ তার উপরে রয়েছে সীমাহীন প্রত্যাশার পাহাড়। ক্লাসে সবসময় ফার্স্ট হতে হবে, দেশের সেরা ল’ স্কুলে ভর্তি হতে হবে, বাবা-মায়ের মুখ সমাজের সামনে রক্ষা করতে হবে; এর অন্যথা হলে যে সে পরিণত মানুষ হতে ব্যর্থ হবে!

সমাজের সেট করে দেয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেদেরকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করা এই মানুষদের ভীড়েও রয়েছে কিছু অলস মস্তিস্কের স্বপ্নবাজ মানুষ। এরা এখনো স্বপ্ন দেখা ভোলেনি। এদের চোখে পৃথিবীটা এখনো রঙিন এক আনন্দময় ভুবন। সমাজ তাদের আখ্যায়িত করে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হিসেবে; তাতে তাদের থোড়াই কিছু আসে যায়! এমনই একজন মানুষ হল শহরের পরিত্যক্ত থিম পার্কে এক পুরনো তাবুতে বাস করা “ম্যাজিশিয়ান”। প্রতিটি মানুষের পরিত্যক্ত স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করা সত্যিকারের জাদু জানা এই ম্যাজিশিয়ান প্রথম দেখাতেই আইকে প্রশ্ন করে, “Do you believe in magic?”

tumblr_ngp0pu5g9Y1s2jureo1_1280

মানহোয়াটি পড়ার আগে এটির বেশ কিছু রিভিউ পড়েছিলাম, সেগুলো পড়ে আমার ধারণা হয়েছিল যে গরীব এবং খুব সিরিয়াস টাইপের একটি মেয়ে ও লেইড ব্যাক জাদুকরকে নিয়ে কাহিনী হবে, মাঝে থার্ড পার্টি হিসেবে বড়লোকের ছেলের উপস্থিতি থাকবে। আমি যে আসলে কতটা ভুল ধারণা করেছিলাম, সেটা কয়েক চ্যাপ্টার পড়েই বুঝতে পারি। শুরুর দিকে মজা লাগছিল, ইউন আই এর জীবনটা অনুভব করছিলাম, আর জাদুকরের প্রশ্নে আই এর মত আমারও মনে হচ্ছিল, জাদুবিদ্যা হল একধরণের ভ্রম। কিন্তু মানহোয়াটি যত এগিয়ে যেতে থাকে, কাহিনীটা যেন আরও গভীর হতে থাকে। প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা কাহিনী গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। কে জানত, এতদিন পরে একটা মানহোয়া পড়ে এভাবে নিজের সাথে মিল খুঁজে পেয়ে কাঁদব! ইল দং ও ম্যাজিশিয়ান এর পরিপূর্ণ রূপটা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম ও অনুভব করতে পারলাম। আর তাই শেষ দিকে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছিল, “I do believe in magic!”

মানহোয়াটি সম্পূর্ণ রঙিন, আর্টওয়ার্ক খুবই সুন্দর। পৃষ্ঠাগুলোতে রঙের কারুকাজের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। মানহোয়াটির আর্ট দেখে বারবার শ্যাফটের কথা মনে পড়ছিল। ক্যারেক্টার ডিজাইন বেশ সুন্দর, যদিও ইল দং ও তার বাবা-মাকে দেখে শুরুতে প্রচণ্ড হাসি পাচ্ছিল!! কাহিনীর পেসিং খুবই ভাল, একটার পর একটা পৃষ্ঠা উলটে গেছি বিরতিহীন ভাবে, একটুও ক্লান্ত বা বোরড না হয়ে। কাহিনী, এই আর্ট আর পেসিং এর পারফেক্ট কম্বিনেশন এই মানহোয়াটি; দেখে মনে হচ্ছিল কাহিনীটা যেন জীবিত হয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠছে। শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত একইরকম ভাবে মুগ্ধ করেছে এটি আমাকে।

সবমিলিয়ে মাত্র ২৭ চ্যাপ্টারের মাস্টারপিস লেভেলের এই মানহোয়াটি আমার খুব বেশি ভাল লেগেছে, তাই আমি রিকমেন্ড করছি, হাতে সময় নিয়ে টানা ২৭ টা চ্যাপ্টার শেষ করে ফেলুন, খুব ভাল সময় কাটবে আশা করি।

045

Gingitsune [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Gingitsune 3

Gingitsune

জনরা – স্লাইস অফ লাইফ, সুপারন্যাচুরাল

একটি পার্ফেক্ট রিফ্রেশিং আনিমে কাকে বলে, তার এক অন্যতম উদাহরণ গিঙ্গিৎসুনে । আনিমেটির কাহিনী মূলত একটি জিন্জা এবং তার আশে পাশের মানুষদের ঘিরে । আনিমের মূল চরিত্র প্রধানত মাকোতো, সাতোরু এবং গিনতারো তবে আনিমের কাহিনীটি প্রচলনে তাদের সমান ভূমিকা আনিমেটির বাকি সব পার্শ চরিত্রেরও । কেননা, কাহিনীতে মূলত এই ৩ জনের চারপাশের মানুষ সাধারণ জীবন যাপনই তুলে ধরেছে মূলত । এছাড়া ইনারি জিন্জা কাহিনীর মুল ফোকাস হলেও মাকোতোর স্কুল এবং শহরেও গরে উঠে কাহিনীর এক গুরুত্বপূর্ন অংশ । এছাড়া প্রায় সবগুলো পর্বের এক গুরুত্বপূর্ন অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে কোন না কোন চরিত্রের আগের কাহিনী । শেষে যা বলব, আনিমেটার কাহিনী কোন এক নির্ধারিত পথ নেই । পেসিং ধীর গতির তবে প্রতি পর্বে অপনার মনে শান্তি দিতে ব্যর্থ হবে না । আর এই চরিত্রগুলোর দিনকালের মাঝেই রয়েছে অতি প্রাকৃতিক এলিমেন্ট, কেননা জিন্জার মেসেন্জারগুলো সেই কাতারেই পরে এবং তারা সিরিজটির এক গুরুত্বপূর্ন অংশ ।

আনিমের আর্টটা বেশ সুন্দর । আনিমেটার আর্ট এবং চরিত্রের ডিজাইন যে কারো পছন্দ হবে । চারপাশের পরিবেশ বেশ উজ্জ্বল করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, এই আনিমের ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে তাকায় থাকলেও বেশ শান্তি পাবেন ।

Gingitsune 2

আর্টের সাথে আনিমের মিউজিকও আনিমের থিমের সাথে বেশ ভালোভাবে মানিয়েছে । আনিমের OST-এর মিউজিকগুলো অসম্ভব পর্যায়ের সূথিং । সাথে ওপেনিং-এন্ডিং দুটি গানই অনেক সুন্দর এবং আনিমের সাথে মানানসই । ওপেনিং গানটি ছিল fhana ব্যন্ডটির গাওয়া tiny lamp নামক গানটি । এর ইন্সট্রুমেন্টের কাজের সাথে towana-এর কণ্ঠ সাথে গানটির অর্থ, অন্য এক পর্যায়ের অসাধারণত্ব । এন্ডিংটা ছিল SCREEN mode-এর গাওয়া Gekkou STORY গানটি, একটি বেশ সুন্দর সফ্ট গান ।

আনিমেটির কাস্ট আমার দেখা অন্যতম সেরা কাস্টগুলার একটি । কানেমোতো হিসাকো যেইসব আনিমেতে মূল চরিত্রগুলোর কণ্ঠ দেয়, এই পর্যন্ত যা দেখসি সবগুলোরই কাহিনী এক্সেপশোনালি ভালো ছিল । গিঙ্গিৎসুনেও তার ব্যতিক্রম নয় এছাড়া মাকোতো রোলটি ছিল এনের্জেটিক ধাঁচের চরিত্রগুলোর একটি, এবং এই রোলটি বরাবরের মতই সে অসম্ভব সুন্দর করে করেছেন । সাতোরুর কণ্ঠ অভিনেতা ছিল কেনশো ওনো, বরাবরের মত ঠাণ্ডা মেজাজের চরিত্র সে বরাবরই অসাধারণ ভাবে তুলে ধরতে পারেন ( যেমনটা কুরোকো ), সাতোরুও তার ব্যতিক্রম নয় । গিনতারোর কণ্ঠে ছিল মিকি শিনিচিরো, বরাবরই ব্যডঅ্যাস চরিত্র করেন তিনি । গিনতারো চরিত্রটা ঠিক ঔ ধাঁচের না হলেও, লেইড ব্যক ব্যাডঅ্যাস টাইপ চরিত্র । সাথে সাইড ক্যরেক্টারগুলোর সেইয়ূরাও বেশ অসাধারণ ছিল এবং এর মাঝে ছিল আমার সেইয়ূগুলোর অনেকেই । কোশিমিজু আমি, ফুজিমুরা আয়ুমি, সেকি তোমোকাযু, হিরোইউকি ইয়োশিনো, সুগিতা তোমোকাযু, ওনো ইয়ূকি, তানাকা আৎসুকো, ওকুবো রুমি, আকাসাকি চিনাৎসু, কৌয়াই কোতোরি, নোজিমা হিরোফুমি এদের কথাই বলছি । ফুজিমুরা আয়ুমির হারু রোলটা দেখলে আপনার নিশ্চিৎ তেগামি বাচির নিচ্চির কথা মনে পরবে, দুজন প্রায় একই ধাঁচের চরিত্র সাথে একই সেইয়ূ । ফুনাবাশি হিওয়াকো এবং ইকেগামি ইয়ুমির রোলে কোশিমিজু আমি এবং আকাসাকি চিনাৎসুর কাজও বেশ ভালো ছিল । যদিও আকাসাকি চিনাৎসুর খুব বেশ একটা রোল শোনা হয় নাই, তেমন ভালোভাবে দেখেছি চুনিবিয়োর মোরি সামার এবং একটা ইতালিয়ান জাহাজ এই আর কি । কিনুকাওয়া তাইস্কে এবং কিরিশিমা সেইশিরৌ এই দুটি ওনো ইয়ুকি এবং সুগিতা তোমোকাযুর সাধারণ ধাঁচের রোলগুলোর কাতারেই ছিল । এছাড়া আমামোকো শৌহেই, কিনজিরো, তোয়োকুরা এৎসুকো, আমামোতো ফুজিনো, ফুকু এই চরিত্রগুলো বেশ কম সময় স্ক্রিনটাইম পেলেও এদের কণ্ঠে যারা ছিল সবই দক্ষ কণ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী ।

শেষমেশ, যদি কোন রিফ্রেশিং আনিমে খুজতে থাকেন তবে দেরী না করে ধরে ফেলুন ১২ পর্বের এই আনিমেটি ।

Gingitsune 1

অনন্য মাঙ্গা আসর – ৪ (Hideout)

নভেম্বর ৩০,২০১০……

কোন এক পাহাড়ের রাস্তায় এক দম্পতির গাড়ির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়।এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মেকানিক্যাল পাওয়া রীতিমত অসম্ভব।উপায় না দেখে গাড়ি থেকে নেমে পাহাড়ে রাত কাটানোর জায়গা অনুসন্ধান করছে তারা।তারপর হাটতে হাটতে কথার ফাকে তাদের স্মরণে আসে পাহাড়ের এই অংশ নিয়ে জনশ্রুতি আছে – “পর্যটকরা এ জায়গায় প্রায়শই হারিয়ে যায় এবং আর ফিরে আসে না।“ তো ২০১০ সালে এসব আজগুবি গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।হাটতে হাটতে একটি পুরোনো গাড়ি চোখে পরে তাদের।এ আমলের নয় তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।২৫-৩০ বৎসর আগের মদেল।গাড়ির পাশেই একটা ছেড়াবেড়া পুরনো নোটবুক।নোটবুকে লেখা ছিল—
“I wonder How much time has passed since the story started… 2 years? maybe 3? But Even with that,I still have trouble remembering…..
My name is Kirishima Seiichi.I am a writer in Profession,and for me,This Book will no doubt be my Last. My Only wish is to tell everything in this manuscript…. Before it is too late. I pray that someday,it will find itself in the hands of someone.
…………..
…………..
…………..
Hey You,The reader of this Book… If you happen to find the entrance to the cave,Don’t hesitate to come in.”
আর তারপরই তারা সামনে একটা অন্ধকার গুহা দেখতে পেল……

Hideout 1

 

স্বাগতম “অনন্য মাঙ্গা আসর” এ।আজকে যে মাঙ্গা নিয়ে কথা বলব তার জনরা কি? উপরের লেখাটুকু পড়েও বুঝতে পারছেন না? হরর,হুম ঠিক শুনলেন হরর।উপরের লেখাটুকু Masaumi Kakizake’রHideout মাঙ্গা থেকে। একটা প্রশ্ন – উপরের অংশটা মাঙ্গার প্রথম না শেষ অংশ?? রিভিউর শেষভাগে উত্তর জানিয়ে দেওয়া হবে…
কিরিশিমা সেইচি – একজন লেখক।স্ত্রী মিকি আর ছেলে জুন কে নিয়ে তার পরিবার।কিন্তু আচমকা বিপদাপন্ন হয়ে পরে সে,তার লেখা আর পছন্দই হচ্ছে না প্রোডাকশন হাউজগুলোর।এদিকে পরিবারের কাছ থেকে সে এ কথা গোপন করে যায়।কিন্ত একদিন সব ওলটপালট হয়ে যায়,বড় একটা ধাক্কা খায় সেইচির পরিবার যার দোষটুকু সেইচির ঘারে চাপিয়ে দেওয়া হয় যদিও তা ছিল একটি দুর্ঘটনা।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য এক দ্বীপ ভ্রমণে যায় সেইচি আর মিকি।পাহাড়ে গাড়ি চালাতে চালাতে এক জায়গায় এসে গাড়িটির ফুয়েল শেষ হয়ে যায়।আর তারপরই গল্প মোড় নেয় এক অন্য দিকে……… যা পাঠককে শোয়া থেকে বসানোর জন্য বা চেয়ার থেকে মনিটরের দূরত্ব কমানোর জন্য যথেষ্ট।

আঁকার কথা বলাটা আমার সাজে না – কারন আমার আঁকা খুব বেশি সুন্দর আর কি। :3
তাও বলি,আমার দেখা সেরা আর্ট এর মধ্যে একটা।বলে রাখা ভালো,সেইচি আর জুনের পাহাড়ে ভ্রমণের সময় বৃষ্টিপাত হচ্ছিল।আর সেই বৃষ্টিপাতের দৃশ্য এত ভালোভাবে আঁকা হয়েছে যে মনে হচ্ছিল যেন আমার কম্পিউটারে বৃষ্টি হচ্ছে।তবে চরিত্রগুলোর আঁকাও ভালো লেগেছে।আর রক্ত ও অন্যান্য Horror Material গুলো এত সুন্দরভাবে অঙ্কিত হয়েছে যে জীবন্ত আঁকা উপাধি দেওয়া যায়…

হরর মাঙ্গা হলেও বেশি ভয় পাওয়ার মত কিছু নেই… অর্থাৎ পড়ার পর আপনি ভয়ে রাতে ঘুমোতে পারবেন না তেমনটি হওয়ার কোন কারণ নেই।
আর মাত্র ৯ চাপ্টারে এত সুন্দরভাবে গল্পটা গুছিয়ে আনা হয়েছে যে পড়ার পর মনে হবে –“না,টাইম ওয়েস্ট হয়নি,ভালো কিছুই পড়লাম।“

এন্ডিং সংক্রান্ত—-
আমার মনে হয়েছে এই মাঙ্গার কোন এন্ডিং নেই।কারণটা মাঙ্গাটা পড়লেই বোঝার কথা।আর এরকম অসম্পূর্ণ প্রছন্ন এন্ডিং এর জন্যই এর জনরা ট্যাগে “হরর” শব্দটি সার্থকতা পেয়েছে।
উপরের অংশটা মাঙ্গার শেষভাগ ও প্রথমভাগের সংমিশ্রণ।সেগমেন্ট সম্পর্কে মতামত একান্তভাবে কাম্য…

মাঙ্গাঃ Hideout
মাঙ্গাকাঃ Masaumi Kakizake
চাপ্টারঃ ৯
জনরাঃ হরর,সেইনেন,সাইকোলজিক্যাল,একশন
রেটিং(ব্যক্তিগত): ৭.৭

মাঙ্গা পড়ুন,অন্যকেও পড়তে বলুন…

ট্যাঙ্ক, ললি এবং মোয়ে — Anirban Mukherjee

 

Girls & Panzer 1

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুনিয়া কাঁপানো ট্যাঙ্ক , আর একবিংশ শতকের দুনিয়া কাঁপানো মোয়ে এবং ললি চরিত্রগুলোর সংমিশ্রণ একটাই,গার্লস উন্দ পানজার । এম ফোর শের্মান,পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস এর মতো শক্তিশালী ট্যাঙ্ক গুলোর পাশাপাশি মিশো,সাউরি বা হানার মতো কাওয়ায়ি চরিত্রগুলো কল্পনা করতে হয়ত এতদিন বেমানান লাগতো , কিন্তু গার্লস উন্দ পানজারে নয়। এনিমখোরে যেহেতু রিভুর একটা ভালো রিভিউ আছে, সেজন্য সেদিকে না গিয়ে আমি এই লেখাতে ট্যাঙ্ক, ট্যাঙ্ক সম্পকে ব্যাবহৃত পরিভাষা এবং গার্লস উন্দ পানজারে ব্যাবহৃত ট্যাঙ্ক গুলোর বৈশিষ্ট্য এবং ইতিহাস সম্পকে আলোকপাত করবো।

Girls & Panzer 2

ইতিহাসের দিকে……….

যারা প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্টি ঘনাদা চরিত্রের একনিষ্ঠ ভক্ত তাদের বলতে হবে না ট্যাঙ্ক কার প্রথম আবিষ্কার ।ঘনাদা তখন বনমালী নস্কর লেনের মেসবাড়ির মজলিশ ছেড়ে লেকের ধারে জমিয়ে বসেছেন ।এখানে তিনি আর ঘনাদা নন,বরং ঘনশ্যাম বাবু ।এবং তার গল্পের বিষয় তার “তস্য তস্য পূর্বপুরুষ”গন ।সেইরকম এক পূর্বপুরুষ ঘনরাম দাস ওরফে গানাদো , বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিক প্রতিম “সূর্য কাঁদলে সোনা” উপন্যাসে ইনকা সভ্যতার আর রাজা আতাহুয়াল্পার পতনে যোগ দেওয়ার আগে ,একটা ছোট গল্প “দাস হলেন ঘনাদা”তে তার পরিচয় পায় ।সেখানে দেখি মায়ানদের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং টেনচটিটলান বিজয়ী এর্নান কোর্তেস গানদোর হাতে পায়ে ধরছে।আর গানদো তৈরি করল “মান্টা” ।”রথের মত মোটা তক্তায় তৈরি দোতলা সাঁজোয়া গাড়ি ।সে ঢাকা সাজোঁয়া গাড়ির তলাতেই বন্দুক নিয়ে থাকবে সৈনিকরা ।নিজেরা কাঠের দেওয়ালের আড়ালে তীর বল্লম আর ইট পাটকেলের ঘা বাঁচিয়ে নিরাপদে বন্দুক ছুড়তে পারবে শত্রুপক্ষের উপর ।” ঘনাদার দাবী এই মান্টাই হলো পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার সাহায্যে এর্নান কোর্তেস আর তার সৈনিকরা ,মায়ার দ্বীপ-নগরী টেনটচটিটলান থেকে জানে-প্রানে বেঁচেছিলো ।
কিন্তু ঘনাদা মানেই গুল,একেবারে শিল্পসম্মত গুল ।তাই ফিকশনের দুনিয়া ছেড়ে আমাদের খোঁজ করতে হবে বাস্তবের দুনিয়াতে । পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট সেই এর্নান কোর্তেস এর মেক্সিকো বিজয়ের কয়েক দশক আগেই আসে ।ইতালিয়ান পলিম্যাথ এবং মোনা লিসা বা লা জকোন্দা খ্যাত লিওনার্দো দা ভিঞ্চির নোটবই এ পাওয়া যায় তাঁবু বা ছুঁচলো ইএফও মতো এর কাঠের তৈরি এক ধরনের বাহনের নকশা ,সেটাই নাকী আদি ট্যাঙ্কের কনসেপ্ট ।

Tank 1

[লিওনার্দো দা ভিঞ্চির “আদি” ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]

আবার সায়েন্স ফিকশনের দুনিয়াতে গেলে পাবো 1903 খ্রিস্টাব্দে এইচ .জি ওয়েলসের লেখা ছোটগল্প “দ্যা ল্যান্ড আইরন ক্লাদ্স ” ,যেখানে বর্ননা দেওয়া আছে এমন একধরনের লোহার তৈরি ক্যানন আর মেশিনগান যুক্ত বাহনের ,যেটা লোহা আর ইস্পাতের শক্ত বর্ম দ্বারা আচ্ছাদিত ।

Tank 2

[এইচ.জি ওয়েলস এর গল্প অনুযায়ী ট্যাঙ্ক কনসেপ্ট]

তবে পৃথিবীকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো না ,এর তেরো চোদ্দ বছর পর ,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্রিটিশ মার্ক ওয়ান,টু ,থ্রি থেকে আরম্ভ করে টেন পযন্ত সিরিজের ট্যাঙ্কের লড়াই দেখলো পৃথিবী ।ব্রিটেনের শত্রু-মিত্র সবার কাছে ছিলো এই সিরিজের ট্যাঙ্ক । ব্রিটেনের কাছে ছিলো মার্ক ওয়ান থেকে টেন অবধি সব শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জার্মানের কাছে ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক , জাপানের কাছেও ছিলো মার্ক ফোর শ্রেণীর ট্যাঙ্ক ।তবে ফরাসি ট্যাঙ্ক রেনাউল্ট এফ টি হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম মর্ডান ট্যাঙ্ক ।এটাই পৃথিবীর প্রথম ট্যাঙ্ক ,যার মাথায় একটা 360○ ঘূর্ণমান উঁচু গান টারেট ছিলো ,যেখান থেকে 37 মিমি শর্ট ব্যারেলের একটা ক্যানন বন্দুক শত্রুর ঢেরা ছিন্নভিন্ন করে দিতো । রেনাউল্ট একটা হাল্কা শ্রেণীর ট্যাঙ্ক হলেও এটা ব্রিটেনের মার্ক সিরিজের ট্যাঙ্কগুলো থেকে একটা জায়গায় এগিয়ে ছিলো ,উঁচু গান টারেট ।

Tank 3[ব্রিটিশ মার্ক ওয়ান]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মান এ সেভেন ভি(A7V) সিরিজের ট্যাঙ্ক গুলো ছিলো একটা ছোটখাটো চলন্ত দূর্গ,এরও কোন উঁচু টারেট ছিলো না ।

Tank 4

[জার্মান এ সেভেন ভি, যেন একটা চলন্ত দূর্গ]

পরিভাষাসমূহ…….

1. ট্যাঙ্ক টারেট:-
টারেট বা গান টারেট হচ্ছে ট্যাঙ্কের প্রচন্ড প্রয়োজনীয় অংশ ।এই শব্দটার বাংলা অনুবাদ করলে পাবো চূড়া অথবা কামান রাখিবার ঘূর্ণিমান মঞ্চবিশেষ ।প্রধানত ট্যাঙ্কের উপরে যে উঁচু অংশটায় ট্যাঙ্কের প্রধান কামানটি থাকে তাকে ট্যাঙ্কের টারেট বলে,এটি 360○ ঘুরতে পারে,ফলে ট্যাঙ্কের গতিমুখের সমকোনে ঘুরে গোলা দাগতে সক্ষম হয় ।প্রথম যে ট্যাঙ্কে টারেট ব্যাবহৃত হয় সেটি ফ্রান্সের রেনাউল্ট এফ টি,সেটা আগেই বলেছি ।টারেট এর ওজনও ট্যাঙ্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যেমন আধুনিক কালের জার্মানের লেপার্ড টুএফোর (2A4) এর টারেটের ওজন 16 টন এবং আরও কিছু ফাংশান (বৈশিষ্ট্য )যোগ হওয়া লেপার্ড টুএসিক্স(2A6) এর ওজন 21 টন।

Tank 5

[পৃথিবীর প্রথম আধুনিক ট্যাঙ্ক ,ফ্রান্সের রেনাউল্ট]

টারেট একবার 360○ ঘুরতে যতটা সময় নেয় সেটাও যুদ্ধের ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ ।যেমন জার্মান লেপার্ড টু সিরিজের সমস্ত ট্যাঙ্কের টারেট একবার পূর্ণ 360○ ঘুরতে সময় নেয় নয় সেকেন্ড।

2. ট্যাঙ্ক আর্মর বা ট্যাঙ্কের বর্ম:-
ট্যাঙ্কের বর্ম ,ট্যাঙ্ককে বিভিন্ন গুলি,বোম ,শেলের হাত থেকে রক্ষা করে ।বিভিন্ন ধরনের বর্ম আবিষ্কার হয়েছে ট্যাঙ্ককে রক্ষা করার জন্য ।যেমন স্লোপেড আর্মর ,রিয়াকটিভ আর্মর , সল্ট আর্মর ইত্যাদি ।গোটা ট্যাঙ্ক আর্মর কে দুভাগে ভাগ করতে পারি,হুল আর্মর এবং টারেট আর্মর ।

3. হুল আর্মর :-
টারেট বাদে অন্য কাঠামোর আর্মর বা বর্ম ।যেমন পানজার ফোরের সামনে আর্মর আশি মিলিমিটার মোটা,দুপাশে ত্রিশ এবং পেছনে কুড়ি মিলিমিটার মোটা ।

4. টারেট আর্মর :-
শুধু টারেটকে আলাদা ভাবে বাঁচানোর জন্য একটা বর্ম আঁটানো হয় ।পানজার ফোরে সামনের টারেট আর্মরটা 50 মিলিমিটার ঘনত্বের এবং পাশের এবং পেছনের আর্মরের ঘনত্ব ত্রিশ মিলিমিটার ।

পানজারের ট্যাঙ্কসমূহ………
ভূমিকাতে কিছু আলোচনা করে এবার মূল বিষয়ে ফিরি । গার্লস উন্দ পানজারের জগতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ট্যাঙ্কগুলো এখন খেলা এবং প্রতিযোগিতার বিষয় ।একসময়ের বিভিষকা, বর্তমান সময়ে রোমাঞ্চ এবং উত্তেজনার বিষয় । গার্লস উন্দ পানজারে মোট আট ধরনের ট্যাঙ্ক, প্রধানত দেখা পেয়েছি ।নামগুলো হলো জার্মানের পানজার ফোর, পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”, পোর্সে টাইগার, স্তুগ ত্রি,জাপানের টাইপ এইটটি নাইনবি আই গো অতসু, টাইপ নাইনটিন সেভেন চি হা,আমেরিকার এম ফোর শের্মান, ফ্রান্সের রেনাউল্ট বি ওয়ান ।এছাড়া আছে আরও কিছু ট্যাঙ্ক, যেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা হবে ।

1. পানজার ফোর:-
পানজার ফোর বা পানজারক্যাম্পফাওগেন ফোর হচ্ছে জার্মান মাঝারি শ্রেনির ট্যাঙ্ক, যেটা 1930 থেকে 1945 অবধি বানানো হয়েছিলো ।এইসময় প্রায় 8569 টা পানজার ফোর বানানো হয়।এর মোট দশটা ভারসন ছিলো ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় এবং ফ্রান্সের যুদ্ধের সময় এই ট্যাঙ্ক প্রচন্ড ব্যাবহৃত হয় ।পোল্যান্ড আক্রমণের সময় 211 টা পানজার ফোর ব্যাবহার করে জার্মানি ।সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে কুর্স্কের যুদ্ধে 841 টা পানজার ফোর হারায় জার্মান ।সব মিলিয়ে পূর্ব সীমান্তে দুহাজারের উপর পানজার ফোর হারায় জার্মান ।

Tank 6

[পানজার ফোর]

2. পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট “মাউস”:-
পানজারক্যাম্পফাওগেন এইট মাউস হচ্ছে জার্মানির “সুপার হেভি ট্রাঙ্ক” ।অনেকে একে এখনও পযন্ত সবচেয়ে ভারী “আর্মর ফাইটিং ভেহিকলস” বলে ।কিন্তু এর মাত্র দুটো প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছিলো(v1 আর v2)।188 টন ওজন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কুড়ি কিলোমিটার গতিবেগে যেতে পারতো,গড়ে তেরো থেকে আঠরো কিলোমিটার ।এর আর্মরের ঘনত্বও ছিলো প্রচণ্ড ।হুল আর্মর আর টারেট আর্মরের সামনের দিকে ঘনত্ব ছিলো 220 মিলিমিটার ।

Tank 7

[অতিকায় “মাউস”]

3. পোর্সে টাইগার:-
আর একটা হেবি ট্যাঙ্ক যেটা জার্মানরা প্রোটোটাইপ অবধিই সীমাবদ্ধ রেখেছিলো সেটা হলো পোর্সে টাইগার ।এর সামনের হুল আর্মর আর টারেট আর্মর এর ঘনত্ব একশ মিলিমিটার ।

Tank 8

[অতিকায় “টাইগার”]

4. স্তুগ ত্রি:-
জার্মানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বেশি বানানো ট্যাঙ্ক হচ্ছে স্তুগ ত্রি ।এগারো হাজারের উপর বানানো হয় ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও ইজরায়েল আর মিশরের মধ্যে 1964 এ সংগঠিত ছয় দিনের যুদ্ধেও এটা ব্যাবহৃত হয় ।নাজি জার্মান ছাড়াও বুলগেরিয়া,কিংডম অফ রোমানিয়া, কিংডম অফ বুলগেরিয়া ,ফিনল্যান্ড,ইটালি,সিরিয়া ব্যাবহার করে ।সোভিয়েত এটা টেস্টিং এর জন্য ব্যাবহার করে ।এর এগারোটা ভারসন বানানো হয় ।যেহেতু এটা একটা ট্যাঙ্ক ডেসট্রয়ার ,সেজন্য এখানে টারেট ব্যাবহৃত হয়নি ,সেজন্য এটা ট্যাঙ্ক কম ,বড় আর্টিলারী বন্দুক বেশি মনে হয়।

Tank 9

[স্তুগ থ্রি]

5. টাইপ এইটটি নাইন বি আই গো অতসু:-
জাপান এই ট্যাঙ্কটা ডিজাইন করেছিলো 1928 এ ।এটা দ্বিতীয় সিনো জাপান যুদ্ধে চীনের বিরুদ্ধে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাবহৃত হয় ।এর দুটো ভারসন ছিলো ।

Tank 10

 

[টাইপ এটটি নাইন]

6. টাইপ নাইনটি সেভেন চি হা:-
এই ট্যাঙ্কটা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের জাপানের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ট্যাঙ্ক ।একটা মেন গান ছাড়াও দুটো মেশিনগান থাকতো ।1162 টা ট্যাঙ্ক প্রস্তুত করা হয় মোট ।

Tank 11

 

[টাইপ নাইনটি সেভেন]

এম ফোর শের্মান :-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রপক্ষের অন্যতম সেরা বাজি ছিলো এম ফোর শের্মান ।আসলে এটি পূর্বতন এম থ্রি লি এর উন্নত সংস্করন।এম থ্রি লি এর মাথার উপর একটা রোটিং টারেট বসিয়ে এবং সেখানে আরও উন্নত এম থ্রিফোর এ ওয়ান ক্যানন গান চরিয়ে তৈরি করা হয় এম ফোর শের্মান ।শুধু আমেরিকা নয়,ব্রিটিশরাও এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে ।তারা চাইছিলো শের্মান এর মত আমেরিকান ট্যাঙ্কের উপর ব্রিটিশ ট্যাঙ্ক গান বসাতে ।তো তৈরি হয়ে গেল এম ফোর শের্মান ফায়ার ফ্লাই ।এই ট্যাঙ্কের সবচেয়ে বিখ্যাত বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে এর ব্যাবহারকারী পরস্পরের শত্রু মিত্র দেশ ।যেমন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জাপান,ইতালি,বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেন,কানাডা,ফ্রান্স এমনকী নাজি জার্মান ।এছাড়া বাংলাদেশ,ভারত,পাকিস্তান, ইরাক,ইরান,ইজরায়েল, লেবানন,ভিয়েতনাম ।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াও এই ট্যাঙ্ক লড়েছে 1965 এর ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে,1971 এ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ এবং পশ্চিম ফ্রন্টে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধে ,ইজরায়েল এর সিক্স ডে ওয়ার বা বিখ্যাত ছদিনের যুদ্ধে,ইরান-ইরাক যুদ্ধে,কিউবান বিপ্লবে, সুয়েজ ক্যানেল ক্রাইসিসে ।

ইনফ্রানটি ট্যাঙ্ক মার্ক থ্রি মাটিলডা:-
সাধারনত ইনফ্রানটি বাহিনীর সহায়ক হিসাবে এই ট্যাঙ্ক তৈরি করে ব্রিটিশরা ।এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম দিকে জার্মান ট্যাঙ্ক যেমন পানজার থ্রির বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করেছিল ।এর এর 78 মিলিমিটার ঘনত্বের সামনের হুল আর্মর আর 75 মিলিমিটার ঘনত্বের টারেট আর্মর খুব মজবুত হলেও এটি কাছের টার্গেটের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্ম করতে পারতো না ।এর আর একটি নাম ছিলো,কুইন অফ ডেজার্ট বা মরুভূমির রানি ।প্রধানত 1940-41 এ আফ্রিকার অপারেশন এ ইটালিয়ান ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ভালো পারফর্মের জন্য ।

টি চৌত্রিশ /টি থারট্রি ফোর/T-34:-
শুধু সোভিয়েত রাশিয়া নয়,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি যে ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছিলো ।এই ট্যাঙ্কের মহিমা বহু কথাতেও শেষ করা যাবে না ।1930 সালে ডিজাইন করা এই ট্যাঙ্কটা আজও বহু দেশের আর্মিতে ব্যাবহার হয় ।টি সিরিজের অন্য ট্যাঙ্ক যেমন টি -62,টি-72 এবং টি-90 এর দিশারী ছিল এই টি-34 ট্যাঙ্ক ।সম্ভবত এখনও অবধি সবচেয়ে বেশি তৈরি করা ট্যাঙ্ক এই টি-34 ,এমনকী হালে 1996 অবধি এই ট্যাঙ্ক উৎপাদন করা হয়েছে ।তৈরি হয়েছে বহু ভারসন,উৎপাদন করা হয়েছে আশি হাজারেরও বেশি ।তখনকার দিনে তৈরি হলেও অনেক বিষয়ে এগিয়ে ছিলো এই ট্যাঙ্ক, এর আর্মর ছিলো প্রচণ্ড মজবুত ,পশ্চিম সীমান্তে নাৎসিদের সম্পূন ভাবে রুখে দিয়েছিলো এই ট্যাঙ্ক।নাৎসিদের বিভীষকা স্বরুপ এই ট্যাঙ্ক ব্যাবহার করেছে নাৎসি এবং ইটালিরাই ।এছাড়া অস্ট্রিয়া,বসনিয়া, লাউস,কিউবা,তৎালীন ইস্ট জার্মানি, লিবিয়া,পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া,গনচীন,প্যালেস্তাইন ।

এম থ্রি লি:-
পানজার সিরিজে যে কিউট পিঙক কালারের ট্যাঙ্ক টা ছিলো,যেটা দেখতে অনেকটা শের্মান এর মত ,সেটাই এম থ্রি লি ।আসলে একেই উন্নত করে তৈরি করাহয় শের্মান ।এটি কর্নেল রবার্ট. ই. লি এর সম্মানে নাম দেওয়া হয় ।ব্রিটিশরা এর নাম দেয় ইউনিয়ন জেনারেল এবং আঠোরো তম আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ইউলিসিস গ্রান্টের নামে,এম থ্রি গ্রান্ট ।

তথ্যসূত্র :- পানজারউইকি,ট্যাঙ্কগুরু

আইরিস জেরো (Iris Zero) [মাঙ্গা রিভিউ] — Zuhayer Anjun Dhruba

Iris Zero

২৭ বছর আগে, পৃথিবীতে কিছু শিশুরা বিশেষ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্মগ্রহন করে, যাকে বলে আইরিস (IRIS)। সবার আইরিসের যোগ্যতা ভিন্ন ভিন্ন। কারও আইরিস মানুষের মধ্যে ত্রুটি দেখতে পারে, তো আরেকজনেরটা মানুষের মধ্যে যোগ্যতা দেখতে পারে।

কাহিনী শুরু হয় Toru Mizushima কে নিয়ে, যার নীতি হলো Low Exposure; অর্থাৎ সবার নজরের আড়ালে থাকা, কারণ তার কোন আইরিস নেই। এই নিয়ে কাহিনী। আইরিস এর যোগ্যতা সম্পন্ন দেশে যাদের আইরিস নেই তাদের কেউ পছন্দ করে না। কিন্তু তার Low Exposure এর জীবনে বাঁধা আসে যখন স্কুলের আইডল সবার প্রিয় Koyuki Sasamori তাকে পুরো ক্লাসের সামনে কনফেস করে।

কোয়্যুকির আইরিসের ক্ষমতা হল কোনো কাজের জন্য সঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করা। সে সবার মাথার উপর ‘X’ আর ‘O’ চিহ্নটি দেখে বুঝতে পারে কোন একটা কাজের জন্য মানুষটি সঠিক কিনা। কোয়্যুকি আইরিস ব্যবহার করে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের জন্য যোগ্য প্রেসিডেন্ট খোঁজার ব্যাপারে তোরুর কাছে সাহায্য চায়। আর তোরু প্রথমে সাহায্য করতে রাজি না হলেও, পরে বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। কিভাবে করে, তা মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে। এভাবে তোরুর বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা দেখে আরো মজা পাওয়া যাবে।

পরে মাঙ্গায় দেখা হয় আরো কিছু নতুন চরিত্রের সাথে, যেমন, Asahi Yuki এবং Hijiri Shinozuka; যারা তোরুর ছোটবেলার ফ্রেন্ড, সেইসাথে Nanase Kuga এবং আরও অনেকের সাথে। সবার আইরিস তাদের চরিত্রকে আরো ইউনিক করে তোলে।

মাঙ্গাটির আর্ট অনেক সুন্দর। কোয়্যুকির মোয়ে মোয়ে স্বভাব। আর তোরুর বন্ধুদের অতীতের কাহিনী সবই ভাল। মাঝে তোরুকে নিয়ে মজার কিছু মুহূর্তও রয়েছে। আর একটা মজার বিষয় হলো এই মাঙ্গাটি পড়ে Hyouka-র Orekiর কথা মনে পড়বে। (⊙.⊙(☉̃ₒ☉)⊙.⊙)

মাঙ্গাকার হঠাৎ অসুস্থতার কারণে এখনো মাঙ্গাটির সম্পূর্ণ হয়নি। তারপরেও অবশ্যই সময় করে এই মাঙ্গাটা পড়ে ফেলবেন।

Status: Publishing
MyAnimeList Score: 8.13
My Score: 8
Genre: Mystery, Drama, Fantasy, Romance, School, Supernatural, Psychological, Seinen

Hanayamata [রিভিউ] — Santo Kun

Hanayamata 1

Anime name: HANAYAMATA

MAL Information:
Type: TV
Episodes: 12
Status: Finished Airing
Genres: Comedy, School, Seinen, Slice of Life
MAL Statistics:
Score: 7.45
Ranked: #1698
Popularity: #993
Personal score: 8.00 (অবশ্যই MAL থেকে একটু বেশি দেওয়া লাগে কারন আমার ফেভারেট। তেহে!! )

স্পেশাল এমন কি আছে আমাদের প্রধান চরিত্র নারু সেরকিয়ার মধ্যে? সবইতো সাধারণ, না আছে অন্যান্য এনিমে ক্যারেক্টারের মত সুন্দর চেহারা, না আছে ট্যালেন্ট।

Hanayamata 2

“Petals fluttering, the cherry blossoms are in full bloom. The encounter I had on that moonlit night changed my life”

এনিমের শুরুটা এইভাবেই। নারু সেকিয়া ১৪ বছর বয়সী একজন সাধারণ মেয়ে। তার জীবনটাও অনেক সাধারণ। প্রত্যেকদিন একই রকম কোন নতুনত্ব নেই। সবারই একটা লক্ষ থাকে কিন্তু নারুর বেলায় তা ভিন্ন। কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও প্রথম স্টেপটা নিতেই ভয় পায় সে। খুবই লাজুক ধর্মী। যেখানে তার বান্ধবীরা তাদের সর্বস্ব ঢেলে দিচ্ছে সেখানে নারু শুধু পিছনে থেকে তাদের প্রশংসা করে যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে তার মধ্যে।

“I was hoping something would change once I started middle school, but….”

Hanayamata 3

এই কিন্তুটাই ঘটে এক জ্যোৎস্না রাতে এক পরীর সাথে দেখা পেয়ে। পরী তাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে,তার সব ইচ্ছা পূরণ করবে। এসবই নারুর চিন্তা ভাবনা কারন ছোট বেলা থেকে ফেইরি টেইল পছন্দ ও বিশ্বাস করে। নিজের চিন্তার সাথে খাপ খায়িয়ে পরীকে বলতে থাকে তাকে অন্য জগতে নিয়ে যেতে। সেখানে কিছু ঘটনা ঘটে। এবং নারু শেষে সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসে।

সেই লম্বা হলদে চুল, টানা টানা চোখ , সুন্দরী পরীর মত দেখতে মেয়েটা হল “হানা”। পরের দিনেই স্কুলে তাদের দেখা হয়। হানা আমেরিকা থেকে এসেছে, ছোট বেলায় জাপানে থাকা অবস্থায় ইয়াসাকই নাচ দেখে মুগ্ধ হয়। সেখান থেকেই ইয়াসাকই নাচের লক্ষ ঠিক করে । এবং সেই জ্যোৎস্না রাতে সে ইয়াসাকই নাচই করছিল , ভাগ্য ক্রমে নারুর সাথে তার দেখা… নারুকেও নাচের জন্য আমন্ত্রন জানায় সে কিন্তু নারু সেখান থেকে পালিয়ে আসে এই ভেবে সে কোন কিছুই করতে পারে না। হানা নারুর কথা শুনে কিছু বুজেনি কিন্তু তাকে প্রমিস করে বসে সে তার জন্য ফিরে আসবে। তাই পরের দিনই নারুকে আবার আমন্ত্রন জানায় ইয়াসাকই নাচের জন্য।

Hanayamata 4

এছাড়া অনেক ইন্টারেস্টিং চরিত্রের সাথে পরিচয় হবে এনিমেতে। এনিমেতে দেখার বিষয় হল নারুর ক্যারেক্টার ডেভ্লপমেন্ট , ভিসুয়াল, ওএসটি, ওপেনিং এবং এন্ডিং । তাছাড়া এনিমেরে কাহিনীটা অনেক বাস্তবধর্মী । অনেক সুন্দর করে প্রতিটি ইমসন এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রত্যেকটি সিচুয়েসনে ওএসটি গুলো পারফেক্ট আর ওপেনিংটা অনেক জোস। আপনাদের পার্সনাল ফেভারিট হয়ে যেতে পারে। ওভার অল অনেক ভাল একটা এনিমে ।এনিমেটা দেখা শেষে মনে একপ্রকার শান্তি অনুভব করেছিলাম। এই ফিলিংস গুলো Slice Of Life এনিমে থেকে ভাল পাওয়া যায়।

ও আরেকটা কথা এনিমের নামটা আমার কাছে অনেক কুল লেগেছে(হানায়ামাতা)। নামের আসলে কোন অর্থ নেই এনিমের প্রধান ৫টি চরিত্রের নামের কম্বিনেসন এ নামকরন। হানার “হা” নারুর “না” মাচির “মা” ইয়ায়ার “ইয়া” আর তামির “তা” “হানায়ামাতা”

যারা এনিমেটা দেখেননি আসা করি দেখবেন।

ধন্যবাদ।

 Hanayamata 5