Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu [রিভিউ/রিঅ্যাকশন] — Tahsin Faruque Aninda

Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu
Tag: Psychological, Thriller, Groundhog Loop

2-1

Re:Zero, or more like Rem = Zero :))

Yeah I had to do it, sorry for that…

এই বছরের অন্যতম হাইপ পাওয়া সিরিজ, এবং সব জনপ্রিয় বা মেইনস্ট্রিম সিরিজের মতই একগাদা সাপোর্টারের পাশাপাশি একগাদা হেটারও জন্মেছে এটার। এটাই আসলে এই যুগের আনিমের ভাগ্যে জুটবার মত সবচাইতে স্বাভাবিক ঘটনা, হয় সিরিজটা মোটামুটি, নাইলে বেশিইইই ভাল+খারাপ, আর কিছু নাই।
এত সব আলোচনা, সমালোচনার ভীরে পক্ষে-বিপক্ষের কথা অনেক শুনা হয়ে গিয়েছে হয়তো, তাই আমি বরং পুরান কথা আবার আওড়ানোর বদলে নিরপেক্ষভাবে সিরিজটার ভাল-খারাপ কিংবা সিম্পল-স্পেশাল জিনিসগুলি নিয়ে আমার আলোচনা পোস্ট শুরু করি।

সিরিজটা নিয়ে অনেক অনেক আগেই যখন ঘোষণা আসে, তখনই এর সিনোপসিস পড়ে বুঝতে পারি সিরিজটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার মত একটা কিছু হবে, হয় সেটা ভাল কারণে না হয় খারাপ কারণে। গল্পের নায়ক কোন এক কারণে হঠাত বাস্তব জগত থেকে এক ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসে, যা কিনা এখনকার যুগের লাইট নোভেল আর আনিমের মধ্যে সবচাইতে কমন থিম। তবে গল্পের মূল আকর্ষণ হল এই যে, নায়কের মৃত্যু হয়ে থাকলে অতীতের কোন এক সময়ে ফেরত চলে যাবে সে। অর্থাৎ গ্রাউন্ডহগ লুপ, যার ট্রিগের হয় নায়কের মৃত্যুর মাধ্যমে – অনেকটা গেমের মত, যেখানি আপনি খেলার সময়ে মৃত্যুবরণ করলে এরপর আগের কোন এক সেইভ পয়েন্ট থেকে কন্টিনিউ করতে পারবেন। তবে এরকম থিম নিয়ে গল্প হলেও এটা আবার এই যুগের আরেক জনপ্রিয় জনরা গেম + ফ্যান্টাসির মধ্যে পরে না। আর এই আইডিয়াটাই গল্পটাকে জনপ্রিয় করার জন্যে একটা বড় উপাদান!

প্রথম পর্বটাই double episode করার মাধ্যমে বুঝা যায়, প্রস্তুতকারকেরা সিরিজটাকে একদম ঠিকমত দর্শকদের কাছে তুলে ধরার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছে। White Fox স্টুডিওকে কৃতিত্ব দিতে হবে সিরিজটাকে চমৎকারভাবে তৈরি করবার জন্যে। অ্যানিমেশন, মিউজিক, ক্যারেক্টার আর্ট — সবকিছুতেই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে তারা। অতএব, প্রোডাকশনের দিক থেকে বিন্দুমাত্র ঘাটতি নেই।

এবার আসি গল্পের কথায়। শুরুর দিকে দর্শকদের কাছে এটাকে “আরেকটি টিপিকাল ফ্যান্টাসি আনিমে” এরকম একটা আইডিয়া দিয়েই শুরু করেছে গল্পটি, তবে তার প্রধাণ কারণ যেন কয়েক পর্বের মধ্যেই সেই ভুল ভাংতে পারে। Travel to Fantasy World এই আইডিয়ার গল্পগুলার একটা Deconstruction সিরিজ হিসাবে Re:Zero বেশ ভাল ভূমিকা রেখেছে। এরকম গল্পে নায়ক যেমন সেরাদের সেরা, অদ্বিতীয় অপরাজেয়, এরকম ধারণা থেকে শুরুতেই বের হয়ে আসে যখন দেখা যায় গল্পের নায়কের প্রায় কোন ক্ষমতাই নাই কোন কিছু নিয়ে, একটা মাত্র জিনিস বাদে। তবে সেই একটা ক্ষমতাই অবশ্য সবচাইতে বড় Deus Ex Machina, আর তা হল Return by Death. Basically, নায়কের মৃত্যু হলে আগের একটা জায়গায় ফেরত আসবে, আর নায়কের মৃত্যুর আগের সব ঘটনা শুধু তারই মনে থাকবে, অন্য কেউ কিছু জানবে না। এই ক্ষমতাটাই বিশাল বড় একটা ব্যাপার হতে পারে, যদি সেটা ভালমত ব্যাবহার করতে পারা যায়। আর এইটা নিয়ে আমার প্রথম আপত্তিঃ শুধুমাত্র plot convenience-এর জন্যে আমরা দেখতে পাই “কী করবো, কেমন করবো” এরকম ধারণা নিয়ে চলা নায়ক বারবার মৃত্যুর পর যেবার বেঁচে থেকে পুরা একটা অধ্যায় শেষ করতে পারবে, সেই সময়ে অকল্পনীয়ভাবে মারাত্মক কঠিন সব সমস্যার সমাধান অনেক ভাল ভাল সমাধান দিতে পারে। অবশ্য গল্পের শেষের দিকে গিয়ে এই পরিস্থিতিতে একটু লাগাম পরানো হয়ে থাকে, তাই এইটুক ব্যাপার গল্পের শেষ পর্যন্ত আর বড় issue হয়ে উঠে নাই।

এখানে একটা জিনিস বলে রাখতে চাই, কোন সমস্যার সমাধান না হলে মৃত্যুর মাধ্যমে আবার পিছে ফিরে গিয়ে সেটা ঠিক করে দেওয়া যায় – এই ব্যাপারটাকে ছেলেখেলা হিসাবে দেখানো হয় নাই। মৃত্যু জিনিসটা অনেক কঠিন আর painful, আর সেটা নায়কের সাথে সাথে দর্শকও অনেক ভালভাবে বুঝে উঠতে পারবে। তাই Return by Death এই আইডিয়াটাকে অহেতুক স্প্যামিং করবে এরকম ভেবে থাকলে চিন্তামুক্ত হতে পারবেন যে যতটুকু দেখানো হয়, সেটা বেশ “বাস্তবসম্মত”ভাবেই দেখানো হয় [অর্থাৎ যদি বাস্তব হত আর কি! LOL KEK LOL]। আর মৃত্যুর ব্যাপারগুলি সেন্সরিং করে নাই, gore অনেক আছে, এইটার জন্যে White Foxকে আবার ধন্যবাদ দিতে হয়।

আনিমেটির এই সিজনে ৩টি আর্ক দেখানো হয়। গল্পের পেসিং শুরুর দিকে ভালমত আগাতে থাকলেও ২য় আর্কে এসে একটু ঝিমিয়ে পরে। অবশ্য ৩য় আর্ক থেকে সেটা আবার ভালভাবে আগাতে শুরু করে। আর প্রথম ২ আর্ক মোটামুটি হলেও ৩য় আর্ক বেশ চমৎকার হয়ে উঠে, এখানে দেখানো psychological aspect অনেক বেশি ভাল লেগেছে।

চরিত্রদের ব্যাপারে আসি এবার। প্রথমেই বলে রাখি, নায়ক Subaru বেশ বিরক্তিকর, এবং এটা আসলে গল্পের জন্যে ভাল মানিয়েছে। কারণ বিরক্তিকর একটা চরিত্র হবার কারণেই তার ক্যারেক্টার ডেভপমেন্ট খুব ভালমত হতে পেরেছে। বারবার মৃত্যুর ভয়াবহতা একটা irritating brat-কে কিভাবে শারীরিক আর মানসিকভাবে একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটা গল্পের ৩য় আর্কে গিয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। তবে সিরিজে সবচাইতে ভাল ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট যদি কারও হয়ে থাকে, সেটা এই মুহুর্তে আনিমে জগতের সবচাইতে জনপ্রিয় ক্যারেক্টার Rem-এর। Also, Rem is pretty much the MVP of this series. গল্পের আরেক প্রধাণ চরিত্র Emiliya-এর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট আরেকটু ভাল হতে পারতো। তার স্ক্রিনটাইম আরও কিছু বেশি হওয়া উচিত ছিল। বাকি চরিত্রদের উপস্থিতিও ভালভাবেই তুলে ধরা হয়েছে।

বেশ ভাল ভাল অনেকগুলি দিকের কথা তুলে ধরলাম, এবার তাহলে সিরিজটির কিছু short-coming নিয়ে কথা বলা যাক। ২৫টা পর্ব দেখার পর একটা প্রশ্নই মনে জাগবে, গল্পের আসল উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য কী? এরই মধ্যে অনেক অনেক নিউজের মাধ্যমে সিরিজটা না দেখা আনিমে দর্শকেরাও জেনে গিয়েছেন যে কাহিনী প্রথম সিজনে যেখানে শেষ হয়েছে তারপর গল্পে আরও অনেক অনেক কিছু আছে। প্রথম সিজনটা পুরা গল্পের অর্ধেকও না। অনেকে আবার একটু বাড়াবাড়ি করে বলে বসবে এটা প্রোলগ।
কথা হল, এটা প্রোলগ না। হ্যাঁ, গল্পের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র, কিন্তু প্রোলগ না। আর প্রোলগ হোক বা না হোক, যত বিশাল বিশাল গল্প আছে সেগুলির দিকে তাকালেও আপনি দেখতে পারবেন যে গল্পের মধ্যে অল্প কিছুদূর যাবার পরেই গল্পের শেষ পরিণতি বা মেইন ফোকাস কী তা জেনে গিয়েছেন। এরপর গল্প কিভাবে সেই লক্ষ্যের দিকে আগায় সেটা দেখার ব্যাপার। খুব বেশি খুঁজবার দরকার নাই, বিগ ৩-এর দিকেই তাকান, দেখবেন যে নারুতোর শুরুর দিকেই আমরা জেনে গিয়েছি গল্পের লক্ষ্য হল নারুতোর হোকাগে হওয়ার স্বপ্নপূরণ, ওয়ান পিসে লুফির পাইরেট কিং হওয়া, কিংবা ব্লিচের জন্যে ইচিগোর দলের লক্ষ্য আইজেনকে থামানো। রিঃজিরো এত বড় গল্প না, তারপরেও ২৫ পর্ব দেখে উঠার পরেও বুঝতে পারবেন না আসলে গল্পের ফোকাসটা কোথায়। সুবারুর প্রধাণ লক্ষ্য কী শুধুমাত্র নায়িকার মন জয় করা, নাকি ফ্যান্টাসি দুনিয়ায় নিজেকে অদ্বিতীয় এক “খেলোয়াড়” হিসাবে তুলে ধরা, নাকি নিজের বাস্তব জগতে ফিরে যাওয়া… এরকম অনেক অনেক প্রশ্ন জেগে উঠবে। হ্যাঁ, প্রথম সিজন বলে এখনই অনেক উত্তর অজানা থেকে যাবে এটাই স্বাভাবিক, পরের কোন সিজন [যদি বের হয়] আমাদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিবে, তবে গল্পের আসল উদ্দেশ্য কী এটা বুঝে উঠতে না পারা একটা বড় হতাশার কারণ হতে পারে।

আরেকটা বড় issue হল, সুবারু প্রথম পর্বের শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস্তব জগত থেকে হঠাত করে ফ্যান্টাসি জগতে চলে আসলো, এরপর তার রিএকশন দেখে অনেক বেশি অবাক হতে হয়। এক দুনিয়া থেকে তুলে এনে আরেক দুনিয়ায় ফেলে দেবার পর নতুন জগতে কেন আসলাম, পুরান জগতের কী হল, হঠাত এরকম উলটাপালটা হয়ে গেল কেন সবকিছু – এরকম মনে হওয়া যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে সুবারু যেন ব্যাপারটাকে ডালভাত গিলে ফেলার মতই স্বাভাবিকভাবে নেয়; বা জাপানিজ টার্ম অনুযায়ী, র‍্যামেন ঢকঢক করে গিলে ফেলার মত মেনে নেয় (যেটা কল্পনা করতে আপনার সুবিধা হয়)। আর গল্পের অনেকদূর পর্যন্ত গিয়েও নায়কের এইটা নিয়ে আর কোন ভাবনা করতে না দেখাটাও তাই একটু হতাশাজনক লাগে।

প্রথম সিজনের গল্পের এন্ডিং নিয়ে অনেকের অনেক মত থাকতে পারে, তবে আমার মতে, একটা ভাল এন্ডিং হয়েছে। “প্রথম” সিজন, বা ইনকমপ্লিট গল্প — এসব হয়ে থাকার পরেও ক্লিফহ্যাঙ্গার না টেনে বরং একটা ভাল সিজন ফিনালি দিতে পেরেছে। গল্প এখানেই পুরাপুরি শেষ করে দিলেও খুব বেশি চোখে লাগবে না হয়তো।

মিউজিক আর গানের কথা আলাদাভাবে বলি আবার। OST এর ব্যবহার যথোপযুক্ত হয়েছে, ED 1, OP 2 এই দুইটা এত বেশি ভাল হয়েছে যে বছরের সেরা গানের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে এ দুটি। MYTH & ROID এর জন্যে ২০১৬ সালটা Hit আর Hit দিয়েই ভরা!

এখন একটা কথা বলে রাখি, মেইন্সট্রিম বা অতিরিক্ত জনপ্রিয় হলেই সিরিজটার প্রতি বিরক্তি পোষণ না করার আহ্বান জানাই। মেইন্সট্রিম জিনিসকে ঘৃণা করাও কিন্তু অনেক বেশি মেইন্সট্রিম হয়ে গিয়েছে এখন। এটা সত্যি, যেকোন সিরিজের ফ্যানবেজের বাড়াবাড়ি আচরণের কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক দর্শকের জন্যে সেটা বিরক্তিকর লাগতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সেগুলি ইগনর করতে পারেন। কোনরকমের বদ্ধ ধারণা নিয়ে দেখতে না বসে বরং রিলাক্স মন নিয়ে নিজে সিরিজটি দেখুন, তাহলে অন্যদের দেওয়া মত বারবার না আওড়িয়ে বরং নিজেই নিজের মত দিতে পারবেন। ভাল লাগলো না খারাপ, নাকি মিডিওকর, নিজেই সেটা বিচার করতে পারবেন।

সিরিজটি নিয়ে আমার মতামত শেষ করি দুটি প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমেঃ

> Re:Zero কী Masterpiece?
– না। Masterpiece হবার জন্যে আরও অনেক কিছু দরকার। সবার আগে দরকার গল্পটা শেষ হবার। ইনকমপ্লিট গল্পকে মাস্টারপিস দাবী করার মানে নেই। গল্পের মাঝপথে অনেক কিছুই ভাল লাগতে পারে, শেষে গিয়ে ভরাডুবি হলে একদম মত উলটে যেতে পারে। তাই আগে নতুন সিজন আসুক, গল্প শেষ হোক, তখন এই প্রশ্ন তুলবার সত্যিকারের সময়, এখন নয়।
আর গল্পের লেখক আনিমের এই জনপ্রিয়তা দেখে বলেছেন যে যথাসম্ভব খাটুনি দিয়ে যাচ্ছেন, আর আশা করছেন যে সামনের চার বছরের মধ্যে গল্পটি শেষ হবে। চার বছর বেশি সময় না কিন্তু; Shingeki no Kyojin প্রথম সিজন শেষ হয়ে যাবার চার বছর পর দ্বিতীয় সিজন আসতে যাচ্ছে সামনের বছর। Re:Zero-এর ক্ষেত্রেও দেখতে দেখতেই সময় চলে যাবে দ্বিতীয় সিজন আসার আগে।

> মাস্টারপিস না হলে Re:Zero কি তাহলে ভাল হবে?
– শুধু কি সেরাদের সেরা হলেই একটা জিনিস দেখার উপযুক্ত হয়? কোন সিরিজ ভাল হবার জন্যে সেটাকে তো সর্বকালের সেরা হবার দরকার নেই। সব মিলিয়ে ভাল একটা সিরিজ হলেই সেটা অনেক উপভোগ্য হয়ে উঠবে। আর কোন সিরিজ যদি মেইন্সট্রিম হয়ে উঠে, নিশ্চয়ই সেটার মধ্যে এমন কিছু আছে যা “মেইন্সট্রিম” বা “বেশিরভাগ দর্শক”ই উপভোগ করতে পেরেছে, তাই না!?

অতএব সিরিজটি দেখুন। এই বছরের অন্যতম সেরা আর বিনোদনপূর্ণ সিরিজ। বছরের ১ নম্বর স্থান দখল করবে কি করবে না সেটা একেকজনের একেক মত, তবে সব কথার শেষ হল, আমরা মুভি, সিরিজ, আনিমে – এগুলি দেখি বিনোদন পাবার জন্যে। আর বিনোদনের জন্যে এই সিরিজটি অনেক ভাল একটি চয়েস হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে।

Comments