এফ এ সি ২৫

রান্ডম টপিক

 বহুভাষাবিদ মাঙ্গাকা

 

 

ব্যাটল মাঙ্গা পড়তে গেলেই বা ব্যাটল লাইট নভেল পড়তে গেলেই এখন একটা মহা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ক্যারেক্টাররা খুব ভাব নিয়ে একেকটা হিসসাতসু ওয়াযা[ফিনিশিং মুভ] ব্যবহার করে।তারা চেষ্টা করে মুভগুলোর দারুন কোন গাল্ভরা নাম দিতে, তবে ইদানীং ব্যবহার হচ্ছে খুব ক্লিশে কিছু ইংরেজি শব্দ। যেমন জিরো নো তসুকাইমার লুইসের স্পেশাল অ্যাটাক এর নাম হচ্ছে “এক্সপ্লোশন”, কুরোকো নো বাসকেতে মুভের নাম হচ্ছে ভাইস গ্রিপ, মিসডিরেকশন ইত্যাদি। ভাগ্য ভালো, সব মাঙ্গাকা এমন করেন না। কিশিমতো সেন্সেই এই ক্ষেত্রে খুব ট্র্যাডিশনাল, সব মুভের নাম জাপানি, আকিরা আমানো সেন্সেই ব্যবহার করেছেন ইতালিয়ান ভাষা, এইচিরো অদা ব্যবহার করেন জাপানি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, তগাশি ব্যবহার করেন জাপানি, ইংরেজি, ম্যাজাই এর মাঙ্গাকা শিনোবু অহতাকা ব্যবহার করেন আরবি। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিতে কুবো, ভদ্রলোক শিনিগামিদের জন্য ব্যবহার করেছেন জাপানি, বাউন্তডের জন্য পর্তুগীজ, আরাঙ্কারদের জন্য স্প্যানিশ, ফুলব্রিঙ্গারদের জন্য ইংরেজি, আর এখন কুইনশিদের জন্য জার্মান।  

 

 

আনিমে সাজেশন

আর ও ডি দ্য টিভি[ROD the TV]

 

 

বিখ্যাত লেখিকা নেনেনে সুমিরেগাওয়াকে যখন কিডন্যাপ করে নিয়ে গেল এক গোপন সংঘের সদস্যরা, তখন তারা ঘুনাক্ষরেও চিন্তা করেনি, নেনেনের সাথে থাকা সারাক্ষণ বইয়ের মধ্যে মুখ গুজে রাখা অগোছালো টাইপ মেয়ে তিনটা আসলে তার বডিগার্ড, যারা কিনা পরিচিত পেপার সিস্টার্স নামে। তারা বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য কতখানি মরিয়া হতে উঠতে পারে, সেটা ওই সংঘের লোকগুলো বুঝতে পারল, যখন তিন বোন নিজেরাই মিলে তাদের হেডকোয়ার্টার আক্রমণ করল। এরপর?

 

কেন দেখবেনঃ সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের সুপার পাওয়ার এর সাথে পরিচয় পাবেন এই আনিমেতে, পেপার মাস্টার, যারা কাগজকে ম্যানিপুলেট করতে পারে ইচ্ছেমত(যারা এ কথাটা পড়ার পরেই চিন্তা করছেন লাফ দিয়ে কোনানের নাম বলবেন, তাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে কোনানের ক্ষমতার কথা কিশিমতো বলার আগেই এই সিরিজ রিলিজ পেয়েছিল।)। কাহিনি খুব গ্রিপিং, সুপারপাওয়ার স্পাই থ্রিলার টাইপ একটা ভাইব আছে। সাউন্ডট্র্যাক খুব বেশি ভালো। আর ও ডি দ্য টিভির একটা প্রিকুয়েল মুভি আছে, ওটাও যথেষ্ট ভালো,

কেন দেখবেন নাঃ প্রথমদিকে একটু স্লো, মূলত স্লাইস অব লাইফ মনে হবে, পরে অবশ্য পুশিয়ে দেবে কড়ায় গণ্ডায়।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৭০

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ইওতসুবাতো[Yotsubato]

 

 

বাচ্চা মেয়ে ইওতসুবার কাছে পুরো পৃথিবীই হচ্ছে এক বিস্ময়। সে সবকিছুকেই তার ইউনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে, যেমনটা সাধারণত কেউ দেখে না। ইওতসুবার সাথে তার বাবা, আর প্রতিবেশীদের নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড নিয়েই এই মাঙ্গা।

 

কেন পড়বেনঃ পিউর স্লাইস অব লাইফ হিউমার, আজুমাঙ্গা দাইওহ, নিচিজৌ এই ধরনের। এই জন্রা যারা পছন্দ করেন, তাদের অবশ্যপাঠ্য।

কেন পড়বেন নাঃ যারা অ্যাকশান/রোমান্স/গ্যাগ(পড়ুন কাতুকুতু) উপাদান পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই মাঙ্গা না।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৯১

আমার রেটিং নেই, কারণ অনগোয়িং।

এফ এ সি ২৪

রান্ডম টপিক

 আই হোপ সেনপাই উইল নোটিস মি

 

অসাধারণ সুদর্শন এবং রমণীমোহন সেনপাইদের দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য অনেক শউজো মাঙ্গার মেইন ফিমেইল ক্যারেক্টার প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকে, তাদের মনে চিন্তা, “সেনপাই কি আদৌ আমার দিকে তাকাবে?” মূলত আনরিকুইটেড লাভ বোঝাতে এই ফ্রেজ ব্যবহার করা হয়. বর্তমানে ৪চানে আর টাম্ব্লারে এর ব্যবহার খুব বেশি। বহুল ব্যবহৃত হয়ে এই কনসেপ্টটা এখন এতই ক্লিশে হয়ে গেছে যে এখন এটা মিম হিসেবে আনিমেতেই ব্যবহৃত হচ্ছে, এছাড়া অতি উতসাহী আনিমে/মাঙ্গা ফ্যানরা তো নিয়মিত ছবি এডিট করছেই। কিছু স্যাম্পল দেখুন কমেন্টে।

 

 

আনিমে সাজেশন

 স্পিডগ্রাফার[Speed Grapher]

 

 

গোপন এক সংঘের প্রেতসাধনায় বাধ হানল এক দুর্ধর্ষ সাংবাদিক, আর সেই সাথে নিজের বিপদ ডেকে আনল নিজেই। এ থেকে বাঁচার সম্বল? শুধুই তাঁর সাংবাদিক জীবনের একমাত্র বন্ধু, তার ক্যামেরা, যা কিনা ”দেবদূতের” আশীর্বাদপ্রাপ্ত। এরপর?

 

কেন দেখবেনঃবেশ ভালো সেইনেন, যথেষ্ট রক্তপাত আছে, অলৌকিক ব্যাপারস্যাপারের সাথে সিরিয়াস প্লট এর কম্বিনেশন জমেছে ভালো। সাউন্ডট্র্যাকও চলনসই।

কেন দেখবেন নাঃভালো একটা কাহিনীর এন্ডিঙও  ভালো করা উচিত, আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৫২

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ওয়ানপাঞ্চ ম্যান[One Punch-Man]

 

 

সাইতামা কোন উপযুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পাচ্ছে না।পাবে কিভাবে, যেই তার সামনে আসে, সেই তার এক ঘুষিতে কাত হয়ে যায়, একের বেশি দুই ঘুসি দেয়া লাগে না।কি করবে এখন সাইতামা?

 

কেন পড়বেনঃ খুবই আকর্ষণীয় আঁকা, ভীষণ ডিটেলড, কাহিনীর প্রগ্রেস খুব ভালো, কোন জায়গায় হোঁচট খেতে হয় না। কমেডি আর শউনেন জন্রার দারুন এক কম্বিনেশন এই মাঙ্গা।

কেন পড়বেন নাঃ কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৮

আমার রেটিং নেই, কারণ অঙ্গয়িং.

 

এফ এ সি ২৩

রান্ডম টপিক

 আনিমিম ১- চিকোকু চিকোকু!

 

শউজো আনিমে বা মাঙ্গার খুব কমন সিন, মেইন ফিমেইল ক্যারেক্টার দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছে, তারপর প্যানিকড অবস্থায় দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে আর নাস্তা খাওয়ার সময় পায়নি। তাই এরা যা করে, ঝটপট একটা ব্রেড স্লাইস মুখে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করে, আর বলে “চিকোকু চিকোকু![I am going to be late!]” সাধারণত এর পরেই এরা মেইন মেইল ক্যারেক্টার এর সাথে ধাক্কা খায়, বাংলা সিনেমায় সাধারণত যা দেখায় আর কি। এই স্টেরিওটাইপিং এখন প্রচুর আনিমেতে ব্যবহার হচ্ছে, কিছু এগজাম্পল কমেন্টে।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

স্কেট ডান্স[Sket Dance]

 

আপনাকে কি কেউ নিয়মিত টিজ করছে? প্রেমঘটিত কোন সমস্যা? পড়াশুনা নিয়ে কোন ঝামেলা? কোন টিচারের ক্লাস ফলো করতে সমস্যা হচ্ছে? ক্লাবের সাথে মানিয়ে চলতে পারছেন না? বিড়াল হারানো গিয়েছে? সমস্যা যতই ট্রিভিয়াল হোক, বা যতই ঝামেলাযুক্ত হোক, চিন্তা নেই, বসসুন, হিমেকো, আর সুইচ স্কেট ডান্স ক্লাব গড়ে তুলেছে শুধুই আপনাকে সহায়তা করার জন্য।

 

 

কেন দেখবেন/দেখবেন না:স্কেট ডান্সকে বলা হয় গরিবের গিনতামা, কিছু ক্ষেত্রে গিন্তামার চিপ ইমিটেশন খুব ভালভাবে স্পষ্ট। চরিত্রের চিত্রায়নে গিন্তামার প্রভাব খুব বেশি। যদিও আনিমেটা পরবর্তীতে গিন্তামার প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। যদি আপনি গিন্তামা না দেখে থাকেন, তাহলে স্কেট ডান্স বেশ প্রান খুলে হাসার মত একটা আনিমে। ভাল সাউন্ডট্র্যাক, চমৎকার সব সুক্কমি, সব মিলিয়ে বেশ ভাল কমেডি প্যারোডি আনিমে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩৯

আমার রেটিং ৮

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

আইশিলড ২১[Eyeshield 21]

 

কবায়াকাওয়া সেনা ভারী শান্তশিষ্ট এক ছেলে। আর এদের ক্ষেত্রে যা হয়, নিয়মিয় বুলিং এর শিকার। তো একদিন বুলিদের খপ্পর থেকে বাঁচতে গিয়ে সে দেখিয়ে দিল তাঁর দৌড়ের কারিশমা, আর সেই সাথে নজরে পড়ে গেল তাঁর স্কুলের আমেরিকান ফুটবল ক্লাবের ক্যাপ্টেন হিরুমার। সেই থেকে শুরু হল তাদের সংগ্রাম। লক্ষ্য? রাইস বৌল!

 

 

কেন পড়বেনঃদারুন শউনেন স্পোর্টস আনিমে, বেশির ভাগ শউনেন স্পোর্টস এর ক্ষেত্রে যা হয় [হ্যাঁ, আমি কুরোকো নো বাসকে বা প্রিন্স অব টেনিসের কথা বলছি], খুব বেশি অতিরঞ্জিত করে ফেলা হয় পুরো ব্যাপারটাকে। আইশিলডে তা নেই, কিছু ক্ষেত্রে পুরো জিনিসটাকে সিম্বলাইজ করার জন্য রূপক কিছু দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তবে তা ক্ষমা করে দেয়া যায়। মোটের উপর, দারুন উপভোগ্য এক মাঙ্গা। আইশিলডের আনিমেও যথেষ্ট ভাল, তবে তাতে গল্প পুরো শেষ হয়নি।

 

কেন পড়বেন না:তেমন কোন কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৪

আমার রেটিং ৯

 

 

 

এফ এ সি ২২

রান্ডম টপিক

পকি গেম

 

পকি হল এক ধরনের জাপানি স্ন্যাক, মূলত কাঠি বিস্কিটকে চকলেটে ডুবিয়ে এটা তৈরি করা হয়, তবে এর আলমনড, দুধ, মধু, ইত্যাদি ফ্লেভারও আছে। খাবারটা অনেকটা আগে ইয়াম ইয়াম(বা নিয়াম নিয়াম, ঠিক মনে নেই) নামের একটা স্ন্যাক বিক্রি হত বাংলাদেশে, ওটার মত। তো এই পকি খাবারটা দিয়ে একটা বেশ রোমান্টিক খেলা আছে, একে বলা হয় পকি গেম। দুজন(সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের) তাদের মুখে একই সাথে পকির একটা স্তিক ধরবে, দুজন দুই প্রান্ত থেকে। এরপর কামড়ে কামড়ে মাঝখান পর্যন্ত যাবে আর কি। এরপর এক সময় তাদের ওষ্ঠ-অধর একীভূত হয়ে যাবে (হেহে), যে আগে এই বাঁধন ছাড়াবে, সে খেলায় হারবে।

আপনি চাইলে বাড়িতে পকি বানাতে পারেন, এই যে রেসিপি [ http://www.youtube.com/watch?v=XriYXND2xnw ], কিন্তু ওই পকি দিয়ে গেম খেলবেন নাকি ক্ষুধা নিবারন করবেন সেটা সম্পূর্ণ  আপনার ইচ্ছা।

 

 

আনিমে সাজেশন

কিনো নো তাবি[Kino no Tabi]

 

ভয়ঙ্কর অতীতকে পিছনে ফেলে হারমস নামের কথা বলা মোটর সাইকেলে চড়ে কিনো ঘুরে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর  পথে পথে। এই গল্প শুধু কিনোর ভ্রমণেরই নয়, এর চেয়ে অনেক গভীর এক কাহিনি ফুটে উঠেছে কেইচি সিগসাওয়ার লাইট নভেল থেকে এডাপট করা এই আনিমেতে।

 

কেন দেখবেনঃপুরোপুরি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, মুশিশির মত একটা ভাইব আছে, তবে কিনোর গল্প অনেক বেশি ডার্ক। গিনকোর মত সে মানুষের উপকার করে বেড়ায় না, গা বাঁচিয়ে চলাই তাঁর স্বভাব। বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ভ্রমণের গল্পে যে দার্শনিকতা এবং সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, নির্দ্বিধায় বলা যায় কিনো নো তাবি একটা রেয়ার জেম।

 

কেন দেখবেন না:শুধুই অ্যাকশান লাভারদের জন্য নয়, আবার শুধুই স্লাইস অব লাইফ লাভারদের জন্য নয়। কেউ  দেখতে চাইলে একটাই রিকোয়েস্ট, সময় নিয়ে ধীরে সুস্থে চিন্তা করে দেখবেন।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৫১

আমার রেটিং ৯

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

গান্তজ[Gantz]

 

 

এক ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর কুরোনো কেই নিজেকে আবিষ্কার  করল এক ভয়াবহ সারভাইভাল গেমের মাঝে, যার পদে পদে উঁকি দিচ্ছে দুঃস্বপ্ন। কুরোনো কি পারবে গান্তজের রহস্য ভেদ করে তাঁর আগের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে?

 

কেন পড়বেনঃদারুন সেইনেন স্টোরি, যথেষ্ট উত্তেজনায় ভরপুর, আঁকাও বেশ আকর্ষণীয়। ফাইটিং সিকোয়েন্সগুলো পরিষ্কার, সহজবোধ্য। সব মিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটা প্যাকেজ।

 

কেন পড়বেন না: প্রচুর গোর, এবং সেকচুয়াল কন্টেন্ট। কিছু রিভিউ পড়ে অবশ্যই বুঝে নেবেন মাঙ্গাটা আপনার জন্য কিনা। এন্ডিঙটা আমার খুব একটা ভাল লাগেনি, এরকম গল্পের একটা ট্র্যাজিক, রহস্যময় এন্ডিঙ কাম্য ছিল, তাই আমার আনিমে এন্ডিঙটাই বেশি পছন্দ।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩১

আমার রেটিং ৯

এফ এ সি ২১

এচি এফ এ সি

 

 

 

রান্ডম টপিক

সুকুমিজু [スク水]

 

 

তোরাদোরার পুল পর্বটা অনেকেরই মনে থাকার কথা[মূলত টাইগার এক্সিডেন্টের কারণে]. জাপানের স্কুলগুলোতে বাধ্যতামূলক সাঁতার প্রশিক্ষণের সময় ছেলেমেয়ে সবাইকে বিশেষ সুইমওয়ার পরতে হয়, একে বলে স্কুল মিজুগী[স্কুল সুইমসুট], সংক্ষেপে সুকুমিজু।সাধারণত সিনথেটিক ফাইবার থেকে সুকুমিজু তৈরী করা হয়. এর রং হয় গাড় নীল, আর বুকের কাছে নাম লেখা থাকে।

 

সুকুমিজু ট্রাডিশনাল ফ্যান্সার্ভিস আনিমেগুলোতে খুব চলে. এছাড়া গ্রাভিউর আইডলদের ফটোসেশনেও সুকুমিজু বেশ জনপ্রিয় একটা এটায়ার। হে হে.

 

 

 

আনিমে সাজেশন

সোরা নো অতশিমোনো[Sora no Otoshimono]

 

সাকুরাই তমোকি হলো টিপিকাল হাইস্কুল পারভার্ট। আর তার কাছেই হঠাত একদিন হাজির হলো সুন্দরী এক এঞ্জেল ইকারোস  এরপর?

 

কেন দেখবেনঃটিপিকাল ফ্যান্সার্ভিস এচি আনিমে না, যথেষ্ট ভালো কমেডি সিকোয়েন্স আছে, তমোকির চিবি ফর্মের মোমেন্টগুলো রীতিমত অট্টহাসি জাগাতে পারে মাঝে মাঝে।

কেন দেখবেন না:তেমন কোনো কারণ ছাড়াই একের পর এক সুন্দরী মেয়ের তমোকির প্রেমে পড়ে যাওয়া, হারেম আনিমেতে যা হয় আরকি.

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯০+৮.০৯

আমার রেটিং ৭+৭

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

আনে দোকি[Ane Doki]

 

ঘটনাচক্রে ১৩ বছরের কৌতা এক ছাদের নিচে থাকতে শুরু করলো ১৭ বছর বয়সী তন্বী সুন্দরী নাত্সুকির সাথে। অসম প্রেমের জন্ম কি হবে? আর তার পরিণতিই বা কি?

 

কেন পড়বেনঃইচিগো ১০০% এর মান্গাকার আঁকা, ভদ্রমহিলা সুন্দরী মেয়ে এবং আরো কিছু[যারা ইচিগো ১০০% আর বাকুমান পড়েছে তারা সঙ্গে সঙ্গেই বুঝবে] ভালই আঁকতে পারেন।প্রচুর ”কোয়ালিটি” ফ্যান্সার্ভিস আছে.

কেন পড়বেন না:শেষ পর্যন্ত এটা সেই এচি মান্গাই। পড়তে বেশ মজা, শেষ করার পর মনে হতে পারে খামোখা টাইম নষ্ট করলাম। 

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৭২

আমার রেটিং ৭

এফ এ সি ২০

রান্ডম টপিক

আই আই গাসা[相合傘]

 

 

বাংলাদেশে বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে দেখা যায় অনেকেই তাদের ভালবাসার কথা প্রকাশ করে আসেন, তবে তা খুব স্থূলভাবে। সরকারী সম্পত্তিতে বা গাছের গায়ে তারা তাদের নাম আর প্রেমিক/প্রেমিকার নাম সুন্দর করে একটা হার্ট শেপের মধ্যে আবদ্ধ করে যোগ চিন্হ দিয়ে রাখেন। তো জাপানেও এমন একটা কাস্টম আছে, সেটা হলো একটা ছাতার ছবি এঁকে তার নিচে জুটির দুজনের নাম লেখা। একে বলা হয় আই আই গাসা[Love-Love Umbrella]। আর সেজন্যই আনিমেতে বিপরীত লিঙ্গের দুজনের এক ছাতা শেয়ার করা খুব সিগনিফিকেন্ট একটা ব্যাপার ধরা হয়, আর মেয়েরা তাদের পছন্দের মানুষ ছাড়া অন্য কারো সাথে ছাতা শেয়ার করতে অস্বস্তি বোধ করে.

আপনার ভালোবাসার মানুষের নাম আর আপনার নাম এক ছাতার নিচে রেখে তাকে ইউনিক্ভাবে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন, চলে যান এই লিঙ্কে।

http://japan-cc.com/umbrella.htm

 

 

আনিমে সাজেশন

জোজো’স বিজার এডভেঞ্চারস[Jojo’s Bizarre Adventure]

 

 

১৯৮৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত থেকে প্রকাশিত হতে থাকা আরাকি হিরোহিকোর বিখ্যাত সিরিজের ফ্যান্টম ব্লাড আর ব্যাটল টেনডেনসির আনিমে এডাপটেশন, জোস্টার পরিবারের দুই সদস্যের বিভিন্ন অলৌকিক ক্ষমতা মোকাবেলা করা নিয়ে কাহিনী।

 

 

কেন দেখবেনঃপ্রথম অংশটার গল্প বেশ মিডিওকার, তবে পরের কাহিনী আপনার ধৈর্যকে পুষিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবে। সৌনেন+সেইনেন ঘরানার আনিমে, কাজেই যথেষ্ট আকর্ষনীয় সব বয়সের কাছেই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দারুন, কিছু ক্ষেত্রে একটা এনিগমা ভাইব পাওয়া যায়. ফাইটিং এবং ডায়লগ থ্রোইং কে একই সাথে সিরিয়াস এবং কমিকাল মনে হয়, সেই সাথে আছে এসেফেক্স সহ দারুন কিছু সিন. ভয়েস এক্টিং চমত্কার, বিশেষ করে দিও ব্র্যান্ডো আর কারস এর কন্ঠে জোজো নামটা উচ্চারিত হতে শোনা প্রতিবারেই একটা বড় ট্রিট, সেই সাথে আছে সুগিতা তমোকাজুর ভয়েসে জোসেফ জোস্টার, যে স্ক্রিনে থাকলে সব আলো নিজের দিকে নিয়ে নেবেই।সোজা কথায়, ভালো গল্পের সাথে ফ্ল্যাশি ফাইটিং যদি দেখতে চান, আর হাতে ১৫০-২০০ পর্ব দেখার মত সময় না থাকে, তাহলে এই সিরিজটা আপনার জন্য অন্যতম সেরা।

 

কেন দেখবেন না:একটু তামিল মুভি টাইপ ভাইব আছে.

 

ম্যাল রেটিং ৮.৫৬

আমার রেটিং ৯

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ফ্রানকেন ফ্রান[Franken Fran]

 

 

ফ্রান চায় মানুষের উপকার করতে, সেটা যেভাবেই হোক না কেন। কিন্তু এই ”যেভাবেই হোক না কেন” অংশটা যে আসলে সবার জন্য প্রযোজ্য না, সেটা বুঝতে পারে ফ্রান যাদেরকে সাহায্য করে তারা। কিন্তু যতক্ষণে বোঝে, ততক্ষণে দেরী হয়ে যায় অনেক।

 

 

কেন পড়বেনঃসিরিয়াস হরর কন্টেন্টকে এই মান্গায় হাস্যরসের সাথে দারুনভাবে ম্যাশআপ করা হয়েছে।

কেন পড়বেন না:বেশ কিছু গুরো কন্টেন্ট আছে. যারা অতিরিক্ত গ্রাফিক কন্টেন্ট সহ্য করতে পারেন না তারা অবশ্যই অবশ্যই এই মাঙ্গা পড়বেন না.

 

ম্যাল রেটিং ৮.০৬

আমার রেটিং ৯

 

Fate/Zero – Review by Farsim Ahmed

বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ বিসর্জন- এই দর্শন অনেক পুরনো, এবং বিতর্কিত। দুটো জাহাজে যদি ৩০০ আর ২০০ জন লোক থাকে, আর যদি কাউকে যদি বলা হয় এর মধ্যে যে কোন একটা জাহাজের মানুষ বাঁচতে পারবে, আর এই জাহাজ বেছে নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় তাঁর উপর, তাহলে তাঁর চয়েস কি হওয়া উচিত? ৩০০ জনের জাহাজ? কিন্তু সে কিভাবে ২০০ লোকের মৃত্যু পরোয়ানা লিখতে পারবে? ওই ২০০ লোকের জীবনও তাঁর হাতে ছিল, এই চিন্তাটা কি তাকে পীড়া দেবে? 

উড়োবুচি গেন এর ডাক নাম হয়ে গেছে উড়োবুচার। কারন ভদ্রলোক যে আনিমেরই স্ক্রিপ্ট লেখেন তার সবগুলোতেই শেষে ভয়াবহ একটা টুইস্ট থাকে, যা পুরো আনিমের ব্যাপারেই দর্শকের পার্সপেকটিভ পুরো ১৮০ ডিগ্রি চেঞ্জ করে দেয়[মাদোকা ম্যাজিকাতে উইচদের আসল পরিচয়, সাইকো পাসে সিবিল সিস্টেম এর পিছনের রহস্য বা সুইসেই নো গারগান্তিয়াতে হিদিয়াজদের অরিজিন]। তো এহেন উড়োবুচার যখন টাইপ মুনের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ভিজুয়াল নভেল ফেইট/স্টে নাইটের প্রিকুয়েল ফেইট/জিরোর লাইট নভেল নিখলেন, শেষমেশ ভয়াবহ কোন টুইস্ট থাকবে তা জানা ছিল, হয়েছেও তাই, তবে সমস্যাটা হল এই টুইস্ট সম্পর্কে যারা ফেইট/স্টে নাইট অলরেডি দেখে ফেলেছে তারা সবাই অবগত ছিলেন। এখানেই ফেইট/জিরোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, এর এন্ডিঙ সম্পর্কে সবাই জানে। এ যেন লুলুচ সবার লাস্ট পর্বে মারা যাবে জেনে কোড গিস দেখতে বসা। তাহলে এত বড় দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ফেইট/জিরো পরিণত হল ইনস্ট্যান্ট ক্লাসিকে? 

ফেইট/জিরোর প্লট এক কথায় দারুন ইনোভেটিভ, ৭ জন ম্যাজিশিয়ান[মাস্টার] ইতিহাসের পাতায় বিখ্যাত হয়ে থাকা চরিত্রদের[সারভেনট] জাদুর সাহায্যে ডেকে আনবে। এরা সাতটা ক্লাসে বিভক্ত, প্রতিটি ক্লাসের রয়েছে ডিফরেন্ট ট্রেইট। তাদের মধ্যে হবে ব্যাটল রয়্যাল, যাকে বলা হচ্ছে হলি গ্রেইল ওয়ার, আর এতে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা মাস্টার-সারভেনট জুটি হবে বিজয়ী। তাদের পুরস্কার? স্বয়ং হলি গ্রেইল, যা কিনা পুরন করবে তাদের যে কোন একটা ইচ্ছা। ৭+৭ জন নেমে পড়ল ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে, যে যুদ্ধের মধ্যে কোন সৌন্দর্য নেই, কোন মহত্ত্ব নেই, আছে শুধু জেতার তাগিদ, আর এর জন্য যা দরকার হয় তাই করা। আইঞ্জবারন পরিবারের প্রতিনিধি মেইজ কিলার এমিয়া কিরিতসুগু, অভিজাত আর্চিবোল্ড পরিবারের কেনেথ, তার আন্ডারএচিভিং ছাত্র ওয়েভার ভেলভেট, তোসাকা পরিবারের তকিয়মি, বিকৃত রুচির এক খুনি উরিউ রিউনোসকে, মাতউ পরিবারের কারিয়া, তকিওমির শিস্য কতোমিনে কিরেই-সবারই নীতি একটাই, বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী। 

ক্যারেক্টার ডিসাইন সম্ভবত আনিমেটার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। ২৫ পর্বের এমন খুব বেশি আনিমে দেখা যায় না যেখানে ৬-৭টা আইকনিক এবং প্রচণ্ড রকম জনপ্রিয় ক্যারেক্টার আছে, ফেইট/ জিরো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। যেখানে বাংলাদেশে খুব বিখ্যাত আনিমেগুলো ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট করতে ২৫ পর্বের বেশি নেয়, সেখানে ফেইট/জিরো নিপুণভাবে সবগুলো চরিত্রের এম্বিশন, তাদের মনের অন্ধকার জায়গাটুকু, তাদের আশা-আকাঙ্খা-অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এমিয়া আর কতোমিনের ইয়িন-ইয়াং পার্সোনালিটি, গিল্গামেশের এরোগেন্স, রাইডারের বক্তৃতা, সেবারের অতীতের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাওয়া, এই সব সবকিছুই ছোটখাটো কিন্তু শক্তিশালী সিকোয়েন্স, আর সেই সাথে উপযুক্ত ডায়লগ থ্রোইং দিয়ে দেখানো হয়েছে। 

ফেইট/জিরোর এনিমেশনে ইউফোটেবল যে কাজ দেখিয়েছে, এক কথায় আমার দেখা বেস্ট, এর কাছাকাছি কাজ দেখেছিলাম কারা নো কিওকাই(এটাও ইউফোটেবলের) আর কতোনোহা নি নিওয়াতে। অবশ্যই কমপক্ষে ৭২০ পিতে দেখবেন।

ওপেনিং আর এন্ডিং সংগুলো পারফর্ম করেছে কালাফিনা আর হারুনা লুনা, যথেষ্ট শ্রুতিমধুর কাজ, আর ব্যাকগ্রাউনড মিউজিকগুলো ইয়ুকি কাজিউরার করা। ভদ্রমহিলার কাজ নিয়ে আশলে বলার আর কিছু নেই, শুনলেই বোঝা যায় এগুলো তাঁর তৈরি, এবং যে কোন দৃশ্যকে মিউজিকগুলো কমপ্লিমেন্ট করে গেছে দারুনভাবে। কয়েকটা লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি-

http://www.youtube.com/watch?v=e499spqrIwU
http://www.youtube.com/watch?v=aHPXTnCSzJw
http://www.youtube.com/watch?v=mhK9Xt2rxes

ভয়েস একটিং হয়েছে অসাধারন, বিশেষ করে এমিয়া আর কতোমিনের। গিল্গামেশের রাজকীয় এক্সেনট শোনা বরাবরই খুব বড় ট্রিট ছিল, আর তকিওমির ভয়েস দিয়েছে স্বয়ং আইজেন, একদম কেইকাকু মত[আসলেই কি তাই?]

শুরু করেছিলাম ফেইট/জিরোর দুর্বলতা দিয়ে। সম্ভবত এন্ডিঙ এর সবচেয়ে দুর্বল দিক। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্যি, যেহেতু গেনকে মনে রাখতে হয়েছে যে এর পরে একটা সিকুয়েল আছে যেটা আগেই রিলিজ পেয়ে গেছে, উনি এর চেয়ে ভাল আর কোন ফিনিশিং টাচ দিতে সম্ভবত পারতেন না। 

ফেইট/জিরো আসলে কেন ইউনিক? এটা একটা পরিপূর্ণ প্যাকেজ, বিখ্যাত আনিমেগুলো যেখানে মাঝে মাঝে বিরক্তিকর মনে হয়[মনস্টার, ডেথ নোট(লাইটের স্মৃতি হারানোর পর) ইত্যাদি], সেখানে ফেইট/জিরোর প্রতিটি পর্ব প্রচুর ম্যাটেরিয়ালে ভরপুর, আর উত্তেজনায় ঠাসা। ক্যারেক্টারদের ফিলসফি, অসাধারণ সব ফাইটিং সিকোয়েন্স[সোরড ফাইট তো আছেই, সেই সাথে মোটরসাইকেলের সাথে রথের রেস, গানফাইট, জলপথে যুদ্ধ, এমনকি ডগফাইটও আছে], ঐতিহাসিক ক্যারেক্টারদের মোটামুটি একুরেট রেফারেন্স[পুরোপুরি একুরেট নয়], যথেষ্ট সিরিয়াস কাহিনি হওয়া সত্ত্বেও কাহিনি কোথাও অবোধ্য মনে হয়নি, যে কোন বয়সের দর্শক এটা উপভোগ করতে পারবে।

ফ্র্যাঙ্কলি, ইদানিং একটা বাজে ট্রেনড চালু হয়েছে, মাঙ্গার একটা চ্যাপ্টার বের হলেই বলা হচ্ছে এপিক চ্যাপ্টার, এর মাধ্যমে এপিক শব্দটা তাঁর আসল অর্থ হারিয়ে ফেলছে। আনিমে জগতে যদি লিটারালি কোন এপিক কাহিনি থাকে, তাহলে সেটা হচ্ছে বারসারক, আর ফেইট/জিরো। 

আর একটা কথা অবশ্যই পয়েন্ট আউট করতে হবে, ফেইট/ জিরো খুব ভাল টিভি সিরিয়াল ম্যাটেরিয়াল। গেম অব থ্রনস এর মত খরচ করলে আর পাকা অভিনেতা/অভিনেত্রি থাকলে এটা সর্বকালের সেরা সিরিয়ালগুলোর একটা হতে পারে। 

তো হাতে যদি কোন আনিমে থাকে, আপাতত সেটা অন হোলড রেখে ফেইট/জিরো দেখা শুরু করে দিন। যদি দেখা শেষ করে কমপক্ষে ৮ না দিতে পারেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনি এর চেয়ে অনেক বেশি ভাল কিছু আনিমে দেখেছেন, কষ্ট করে আমাকে মেসেজ করবেন বা এই পোস্টে কমেন্ট করে যাবেন। অনেক দিন ভাল আনিমে দেখা হচ্ছে না। আপনার সাজেশনগুলো দিয়ে আমাকে চিরকৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করবেন।

রিভিউর এখানেই শেষ, এবার আমার নিজস্ব কিছু রানটিং। 

আমি আসলে রিভিউ লিখতে পারি না, কারণ মূলত এত বড় কিছু লেখার মত তেল নেই। কিন্তু যখন কোন বাংলাদেশী আনিমে গ্রুপের থ্রেডে দেখি ১০ এ ১০ ম্যাটেরিয়াল আনিমে নিয়ে আলাপ চলছে, আর তাতে কোড গিস, মনস্টার, ডেথ নোট, ফুল্মেতাল আল্কেমিষ্ট এর রাজত্ম(কিছু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবার এখানেও লাফিয়ে এসে বলে নারুতো/ব্লিচ/ড্রাগনবল জি সর্বকালের সেরা, এবং আশঙ্কার কথা হল এদের সংখ্যাটা রীতিমত বড়), ফ/জ এর তেমন কোন উল্লেখ নেই(কোন এক অজানা কারনে ফ/জ বাংলাদেশে তুলনামুলকভাবে কম আলোচিত) তখন হতাশ দৃষ্টিতে মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তো তাদের জন্যই, Please do yourselves a favor, watch the epicness that is Fate/Zero, “epic” in both literal meaning and the meaning used in daily life these days.

fate zero

 

এফ এ সি ১৯

রান্ডম টপিক

এংকা[(演歌]

এংকাকে বলা হয় বক্তৃতা গীতি[স্পিচ সং]। মেইজি পিরিয়ডে মূলত এই জনরার গানের উত্পত্তি, রাজনৈতিক বক্তৃতাকে গানে রূপান্তর করে তাকে এংকা বলা হত. এর মধ্যে একটা ঐতিহ্যবাহী ছাপ থাকে। মূলত মহিলারাই এংকা পারফর্ম করেন, ইউকাতা পরে।

এংকা পারফরমারদের একটা সিলেবল উচ্চারণ করতে গেলে তার মধ্যে যথেষ্ট ফ্লাকচুয়েশন আনতে হয়, স্কেলের ব্যাপারে তাদের হতে হয় দারুন পারদর্শী।[এগুলো কি তা আমিও বুঝি না, আমি স্রেফ উইকি থেকে দেখে এগুলো জানাচ্ছি, আমি কোনো মিউজিক এক্সপার্ট না.]

আনিমেতেও এংকা ব্যবহার হয়েছে, এবং এংকাটা সম্ভবত যারা বিশেষ আনিমেটা দেখেছেন, তাদের সবারই পছন্দ।

 

আনিমে সাজেশন

হায়াতে নো গতোকু[Hayate no Gotoku]

 

 Hayate

কতখানি দুর্ভোগ পোহালে একজনকে আসলেই দুর্ভাগা বলা যায়? বেকার বাবা-মা তার  টাকায় চললে? ধার পরিশোধ করার জন্য তার কিডনি বেচে দেয়ার কন্ট্রাক্ট করলে? ১৫ কোটি ইয়েনের বোঝা মাথায় চেপে বসলে? অদ্ভুত এক ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে সান্জানিন নাগির বাটলার হলো এই মহা দুর্ভাগা আয়াসাকি হায়াতে। তবে দুর্ভাগা হলে কি হবে, সে কিন্তু বাটলার হিসাবে ওভার-কোয়ালিফাইড।তারপর?

কেন দেখবেনঃ খুব ভালো কমেডি+প্যারোডি আনিমে, টিপিকাল হারেম স্টোরি না, ফ্যানসার্ভিসও নেই তেমন। মান্গাকা গল্পের উপর জোর দিয়েছেন অনেক বেশি।

কেন দেখবেন না: প্রথম দুই সিজন দেখা উচিত, পরের দুটো না দেখলেও চলবে।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯১+৮.০৯+৭.০৮+৭.১৭

আমার রেটিং ৮+৯[মূলত হিনামাত্সুরি আর্কের জন্য]+৭+৭

 

মাঙ্গা সাজেশন

আজকে দুটো ওয়ান শট সাজেস্ট করব.

নেকোমরি কুন নো হিমিত্সু নো তোবিরা[Nekomori-kun no Himitsu no Tobira]

ম্যাল রেটিং ৭.৮২

আমার রেটিং ৯

 

মনস্টার এন্ড চাইল্ড[Monster and Child]

ম্যাল রেটিং ৭.৬৯

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ১৮

রান্ডম টপিক

কোতাত্সু

 

 

জাপানে শীতের সময় সবচেয়ে আরামদায়ক অভিজ্ঞতা সম্ভবত কোতাত্সুর নিচে আরাম করে বসে থাকা আর মিকান অরেঞ্জ খাওয়া। কোতাত্সু মূলত একটা টপলেস কাঠের টেবিল, যার টপ একটা ভারী কম্বল দিয়ে ঢাকা থাকে।এর সাথে একটা বিল্ট ইন ইলেকট্রিক হিটার থাকে, যদিও ঐতিহ্যবাহী কোতাত্সুতে হিটিং সিস্টেম কয়লার। কোতাত্সুর ব্যবহার অবশ্য শুধু জাপানে না, অন্য অনেক দেশেই আছে, তবে ভিন্ন নামে। বলা হয়ে থাকে, কোতাত্সুর সান্নিধ্যে সব দুশ্চিন্তা চলে যায়, ঘিরে ধরে এক আরামদায়ক উষ্ণতা, আর প্রশান্তিতে ভরে যায় মন.

 

তাহলে আর দেরী কেন, কিনে ফেলুন কোতাত্সু, ৭৫*৩৬*৭৫ সাইজের একটা কোতাত্সুর দাম পড়বে ১০০ ডলারের মত.

 

 

আনিমে সাজেশন

টাইগার এন্ড বানি[Tiger & Bunny]

 

হিরোদের কাজ হচ্ছে মানুষকে বাঁচানো। কিন্তু যখন এই মানুষ বাঁচানোর সাথে ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িয়ে যায়, পুরো ব্যাপারটা হয়ে পড়ে একটা রিয়ালিটি শো, যাতে অংশগ্রহনকারী হিরোদের থাকে বিভিন্ন স্পন্সর, আর তারা পয়েন্ট পায় মানুষকে বাঁচানোর জন্য, তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়াবে?

কেন দেখবেনঃবেশ নতুন ধরনের কনসেপ্ট, ডিসেন্ট অ্যাকশন, এবং সবচেয়ে ইম্পর্টান্ট পয়েন্ট হলো এখানের এক হিরোকে পেপসি স্পন্সর করে, প্রতি পর্বের মাঝে পেপসির বিজ্ঞাপন দেখায়।

কেন দেখবেন না: পরবর্তী সিজনের আভাস দিয়ে শেষ করেছে, কিন্তু এখনো তা রিলিজ করেনি। ক্লিফ্হ্যান্গারটা অনেকটা শার্লকের সিজন ৩ এর এপিসোড ৩ এর মত.

 

ম্যাল রেটিং ৮.২৬

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

ব্লাডি মানডে[Bloody Monday]

 

হাই স্কুলে পড়ুয়া জিনিয়াস হ্যাকার তাকাগিকে লড়াইয়ে নেমে পড়তে হলো ভয়াবহ এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে, যা কিনা মানুষের সংস্পর্শে আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মানুষের মৃত্যু ঘটবে। সংগঠিত ভয়াবহ শত্রুর বিরুদ্ধে কি করবে এখন তাকাগি?

 

কেন পড়বেনঃবেশ উত্তেজনাপূর্ণ, খানিকটা ওয়ান ম্যান শো-ই বলা যায়, সৌনেন+সেইনেন মাঙ্গার বেশ ভালো এগজাম্পল। এন্ডিংটাও যথেষ্ট স্যাটিসফ্যাক্টরি।

কেন পড়বেন না: না পড়ার তেমন কোনো কারণ নেই.

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.১১

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ১৭

রান্ডম টপিক

শিজু [四獣]

 

 

ফোর বিস্টের রেফারেন্স প্রচুর আনিমেতে পাবেন, ফুশিগি ইউগী, বেব্লেড, তরিকো, ইউ ইউ হাকুশো ইত্যাদি। তবে এর অরিজিন কিন্তু জাপানে না, চীনে। চাইনিজ মিথোলজিতে শিজু বা ফোর বিস্ট দিয়ে মূলত ৪টা প্রানীকে বোঝায়, যারা চাইনিজ সাম্রাজ্যকে রক্ষা করে. প্রতিটি প্রানী একটি করে দিক এবং একাধিক এলিমেন্ট রেপ্রেসেন্ট করে, যেমন সেইরিউ[ব্লু ড্রাগন]- পূর্ব-কাঠ, গেনবু[কৃষ্ণ কাছিম]-উত্তর-পানি, বিয়াককো[শ্বেত ব্যঘ্র]-পশ্চিম-ধাতু, সুযাকু[ফিনিক্স]-দক্ষিণ-অগ্নি। এছাড়া আরো একটি প্রাণী চাইনিজ সাম্রাজ্যকে রক্ষা করে সবার মাঝে থেকে, সেটি হচ্ছে ইয়েলো ড্রাগন। এগুলো মূলত এস্ট্রোলজিক্যাল ব্যাপারস্যাপার। এই ব্যাপারে আরো বেশি কিছু জানার আগ্রহ থাকলে এই লিঙ্কে যেতে পারেন, এছাড়া গুগল তো আছেই। http://www.onmarkproductions.com/html/ssu-ling.shtml

 

 

আনিমে সাজেশন

গোস্ট হান্ট[Ghost Hunt]

 

 

”দুর্ঘটনা”চক্রে সাধারণ মেয়ে তানিয়ামা মাই জড়িয়ে গেল পেশাদার এক্সরসিস্ট শিবুইয়া কাজুইয়ার সাথে। আস্তে আস্তে মাই বুঝতে পারল, বন্ধুদের সাথে ভূতের গল্প শেয়ার করা বেশ মজার হলেও আধিভৌতিক ব্যাপার-স্যাপার আসলে এত সহজ নয়, এতে পদে পদে আছে রক্তজল করা সব অভিজ্ঞতা।

 

কেন দেখবেনঃএটা রেয়ার সেসব হরর আনিমের একটা, যাতে হরর কন্টেন্টকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ভৌতিক সিকোয়েন্সগুলোর সাথে উপযুক্ত আবহ সঙ্গীত, আর সেই সাথে রোম খাড়া করে দেয়া ওপেনিং থিম. http://www.youtube.com/watch?v=eHaxcnHRJoc

কেন দেখবেন না:না দেখার তেমন কোনো কারণ নেই.

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.১৪

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

আজকে দুটো ওয়ান শট সাজেস্ট করব.

 

আদাবানা[Adabana]

 

ম্যাল রেটিং ৭.২৮

আমার রেটিং ৭

 

 

আকুমা গা কিতারিতে[Akuma ga Kitarite]

 

ম্যাল রেটিং ৭.৬৪

আমার রেটিং ৮

 

 

ওয়ান শট বলে আর ইউজুয়াল কাহিনী সংক্ষেপ ইত্যাদি বলছি না, অল্প ৩০-৪০ পেইজের, সাজেস্ট করব এখনি পড়ে এসে মতামত জানাতে।

আর এই দুটো ওয়ান শটের কাহিনীর সাথে খুবই জনপ্রিয় দুটো আনিমের মিল আছে.