এফ এ সি ১৬– Farsim Ahmed

লাস্ট উইকে বলা ফ্যাশনেবল কথাটা নিয়ে বেশ কিছু স্পেকুলেশন দেখেছিলাম। আসলে আজকের সবগুলো সেগমেন্টই ফ্যাশন নিয়ে।

 

 

রান্ডম টপিক

সেরাফুকু

 

জাপানি স্কুলের সেইলর ইউনিফর্ম(Sailor Uniform—>Serafuku[fuku=dress/uniform]) এর আইডিয়া এসেছে মূলত ইউরোপের অভিজাত পরিবারগুলোর বাচ্চাদের ইউনিফর্ম থেকে। এই আইডিয়া এডাপ্ট করার কারণ হলো, সেরাফুকুর ডিজাইন বেশ সুন্দর, আর সেই সাথে এগুলো সেলাই করাও সহজ। ঋতুভেদে সেরাফুকুর মেজারমেন্ট পাল্টে যায়। মোটামুটি ৫০% জুনিয়র হাইস্কুলে আর ২০% সিনিয়র হাইস্কুলে সেরাফুকু পরা হচ্ছে। তবে সেরাফুকুর ব্যাপারটা জাপানের একচেটিয়া নয়, সাউথ কোরিয়া আর চীনেও এর ব্যবহার আছে।

 

বি.দ্র.(শুধু ছেলেদের জন্য)জাপানের বিভিন্ন এলাকায় সেরাফুকুতে ব্যবহৃত স্কার্টের দৈর্ঘ্য বিভিন্ন রকম. কাজেই জাপানে ইমিগ্র্যান্ট হতে চাইলে কোন এলাকায় থাকবেন তার একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসাবে এটাকে কনসিডার করতেই পারেন।হেহেহে।

 

 

আনিমে সাজেশন

প্যারাডাইস কিস(Paradise Kiss)

ইউকারীর একঘেয়ে হাইস্কুল লাইফের মধ্যে ধুমকেতুর মত এসে হাজির হলো “প্যারাডাইস কিস”, কয়েকজন ফ্যাশন ডিজাইনিং স্টুডেন্টের গড়ে তোলা একটা প্রতিষ্ঠান। ইউকারীকে মডেল হবার প্রস্তাব দিল তারা। আমতা আমতা করে রাজিও গেল ইউকারী। তাদের সাথে ইউকারীর রসায়ন হলো চমত্কার, বুঝতে পারল, সে আসলে এমন রোমাঞ্চকর ঝলমলে জীবন চেয়েছিল, সাধারণ ম্যাড়মেড়ে জীবন নয়।ঘটনা মোড় নিল অন্যদিকে, যখন ইউকারী প্রেমে পড়ে গেল প্যারাডাইস কিসের নেতা জর্জের সাথে। ইউকারীর প্রাধান্য কি হবে, তার প্রেম, নাকি তার মডেলিং ক্যারিয়ার?

 

 

কেন দেখবেনঃম্যাচিউর স্লাইস অব লাইফ, অনেকটা হানি এন্ড ক্লোভার এর মত। যারা হাইস্কুল স্লাইস অব লাইফ(পড়ুন ফ্যানসার্ভিস) দেখতে গিয়ে ক্লান্ত, তারা টেস্ট বদল করতে পারেন এটা দেখে।ঝলমলে এবং ডিফরেন্ট ধরনের ভিজুয়াল, ওপেনিং সংটা প্রচন্ড ক্যাচি, শুনলে আপনাআপনি পা নাচা শুরু হয়ে যায়। http://www.youtube.com/watch?v=1nQJgzF6g6M

 

ইন্টারেষ্টিং এন্ডিং, আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.০১

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

দ্য ওয়ান(The One)

 

 

সুপার মডেল মা-বাবা যদি প্লেন ক্র্যাশে মারা যায় তাহলে নিশ্চই তাদের মেয়ের ফ্যাশন জগতে আসার আগ্রহ থাকে না। কিন্তু কেইন লেলেকে তার আন্টি বুঝিয়ে শুনিয়ে শেষ পর্যন্ত একটা ফটোশুটের জন্য রাজি করাতে পারলেন।দেখা হয়ে গেল তার জনপ্রিয় মডেল আঙ্গাস এর সাথে। কিন্তু সে তখন জানত না, আঙ্গাস এর জমজ ভাই এরোস ঘুরঘুর করছে আশেপাশেই। সুদর্শন দুই তরুণ, আর ফ্যাশন জগতে নবাগতা এক তরুণী- ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের জন্য আর কি মশলা লাগে?

 

 

কেন পড়বেনঃরীতিমত আকর্ষনীয় আঁকা, প্লটটা বহুল ব্যবহৃত মনে হতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় টুইস্ট আছে, ক্যারেক্টারদের ভালো ডেপথ আছে, সব মিলিয়ে বেশ ভালো প্যাকেজ।আর এর একটা সাইড স্টোরি আছে, ইটারনাল টেম্পটেশন, ওটা যদি শুধু একটা ওয়ান শট হত তাহলে আমি প্রবাবলি ওটাকে ১০ এ ৯ দিতাম। লিংক দিয়ে দিচ্ছি, আগে এটা পড়ে তারপর ঠিক করতে পারেন মূল কাহিনী পড়বেন কিনা।

 

http://mangafox.me/manga/the_one/v03/c017.5/3.html

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪২

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।

 

 

 

কেন দেখবেন না/পড়বেন না: আজকের সাজেস্ট করা দুটো সিরিজই মূলত স্লাইস অব লাইফ জোসেই। অ্যাকশন/কমেডির হার্ডকোর ফ্যানদের না দেখা/পড়াই ভালো।

 

এফ এ সি ১৫ – Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

সেন্পাই-কোউহাই

সেন্পাই-কোউহাই মূলত রিলেশনশিপসূচক শব্দ, যা ব্যবহার করা হয় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে, যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, চাকরিতে সহকর্মীর সাথে বা কোনো ক্লাবে সতীর্থদের সাথে।সহজ কথায়,  সেন্পাই দিয়ে বোঝানো হয় সিনিয়র, আর কোউহাই দিয়ে জুনিয়র। তবে সেন্পাই বা কোউহাই সম্বোধন করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে এটা যথাযথ হচ্ছে কিনা। একই প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সিনিয়র বা জুনিয়রের ক্ষেত্রে এই পন্থা অনুসরণ করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানের মানুষের সাথে এসব কেইগো(সম্মানসূচক শব্দ) পরিহার করাটাই শ্রেয়। যেমন বাংলাদেশে ভাই, ভাইয়া ইত্যাদি টার্ম ব্যবহার করা হয়।

 

 

আনিমে সাজেশন

নাত্সুমে ইউজিন চো (Natsume Yuujinchou)

 

ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা হারা নাত্সুমে তাকাশি ইওকাইদের(ভুতপ্রেত) দেখতে পেত, এই অস্বাভাবিক ক্ষমতার কারণে সবাই তাকে এড়িয়ে চলত। আত্মীয়রা কেউই তার ভার নিতে চাইলেন না, সবাই তাকে চাপিয়ে দিলেন অন্যদের ঘাড়ে। একের পর এক আত্মীয়ের বাড়ি ঘুরে ঘুরে যখন নাত্সুমে এক জায়গায় থিতু হলো, তখন সে খুঁজে পেল একটা বই, যে বইয়ে লেখা আছে হাজারখানেক ইওকাই এর নাম। ইওকাই মাদারার মাধ্যমে সে পারল, এই বইটা তার দাদী নাত্সুমে রেইকোর, যিনি ছিলেন অসাধারণ আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী। ইওকাইদের হারিয়ে তাদের আনুগত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি এই নামগুলো যোগাড় করেছিলেন।তাকাশি ঠিক করলো সে এই ইওকাইদের মুক্ত করে দেবে, তার সাথী হলো মহা পরিক্রমশালী মাদারা।

 

কেন দেখবেনঃঅসাধারণ স্লাইস অব লাইফ।

কিছু আনিমে আছে, যেগুলো দেখলে মন ভীষণ শান্ত হয়ে যায়, কাম এন্ড সিরিন একটা ভাব আসে, আমি এই পর্যন্ত এমন  দুটো আনিমে দেখেছি, তার মধ্যে এটা একটা। ৪টা সিজন বেরিয়েছে, একটার চেয়ে এর পরেরটার রেটিং বেশি, তার মানে বোঝাই যাচ্ছে প্রতি সিকুয়েলেই আনিমেটা দর্শকদের মন ভরাতে সক্ষম হয়েছে।

 

কেন দেখবেন না:স্লো পেসিং, যেটা স্লাইস অব লাইফে মাস্ট। কাজেই ঘোর অ্যাকশনপ্রেমীর না দেখাই ভালো।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৬+৮.৬৮+৮.৭০+৮.৮০

আমার রেটিং ৯+৯+৯+৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

গুড এন্ডিং(Good Ending)

টেনিস ক্লাবের সিনিয়র ইকেতানি শো-কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলো উত্সুমি সেইজি। মন ভেঙ্গে গেল তার।তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এলো একই ক্লাবের সদস্য, রহস্যময়ী এক সুন্দরী, কুরোকাওয়া ইউকি।চমত্কার বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো তাদের মধ্যে। সেই বন্ধুত্ব গড়ালো প্রেমে। কিন্তু একদিন সেইজি দেখতে পেল বিধ্বস্ত শো-কে, তার প্রেমিক তার সাথে করেছে প্রতারণা। পুরনো অনুভূতিগুলো সব বাঁধ ভেঙ্গে ছুটে এলো সেইজির মাঝে। কি করবে এখন সে?

 

কেন পড়বেনঃবেশ ভালো রোমান্টিক গল্প, ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী এগিয়েছে ভালোভাবেই, গুড এন্ডিং নামটা মানানসই।বলে রাখা ভালো, গুড এন্ডিং প্রথমে ছিল ওয়ানশট, পরে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তায় কাহিনীটা নিয়ে পুরো ১৬ ভলিউমের মাঙ্গা বানিয়ে ফেলা হয়।

 

কেন পড়বেন নাঃ **স্পয়লার** সেইজি অনেকটা স্কুল ডেইস এর মাকোতোর মত, এটুকু বলাই যথেষ্ট। তার কিছু অ্যাকশন আমি কখনোই ক্ষমা করতে পারব না।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯১

আমার রেটিং ৮

 

 

 

পরের সপ্তাহে এই বছরের শেষ এফ এ সি, আর তা হবে ফ্যাশনেবল। রেডি থাকুন।

এফ এ সি ১৪ – Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

হাচিকো

 

 

হিদেসাবুরো উয়েনো ছিলেন টোকিও ভার্সিটির এগ্রিকালচারাল ডিপার্টমেন্টএর প্রফেসর। প্রতিদিন উনি যখন বাড়ির পথে রওনা হয়ে শিবুইয়া স্টেশনে নামতেন, তখন তার প্রিয় কুকুর হাচিকো তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকত। কিন্তু ১৯২৫ সালের মে মাসে প্রফেসর উয়েনো আর বাড়ি ফিরতে পারলেন না, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। কিন্তু তাঁর প্রিয় কুকুর এর পরের নয় বছরের প্রতি দিন ঠিক ট্রেন আসার মুহুর্তে স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করত। বিশ্বস্ততার এই পরম নিদর্শন দেখানোর জন্য হাচিকো পরিনত হলো জাপানের অন্যতম জাতীয় প্রতীকে। তাকে নিয়ে বাঁধা হলো গান, আঁকা হলো ছবি, সে স্থান পেল পাঠ্যপুস্তকে। হাচিকো পরবর্তীতে ক্যান্সার আর ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

 

হাচিকো শিবুইয়া স্টেশনের যে জায়গাতে দাঁড়াত, সেই জায়গাটা স্থায়ীভাবে চিন্হিত করা আছে, এখনো কেউ চাইলে দেখে আসতে পারেন।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

আরাকাওয়া আন্ডার দ্য ব্রিজ(Arakawa Under The Bridge) 

 

 

ইচিনোমিয়া পরিবারের নীতি হলো ”কখনোই ঋণগ্রস্ত থাকবে না”। কিন্তু এই পরিবারের বর্তমান উত্তরাধিকারী ইচিনোমিয়া কো-কে যখন নিনো নামের এক মেয়ে আরাকাওয়া নদীতে হাবুডুবু খাওয়া থেকে বাঁচালো, তখন কো ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে ফেঁসে গেল। নিনো তার কাছ থেকে একটাই জিনিস চায়, আর তা হচ্ছে ভালবাসা কি, সেটা বোঝা। কাজেই কো আরাকাওয়া নদীর ব্রিজের নিচে নিনোর সাথে থাকতে শুরু করলো। কিন্তু এই জীবনযাপনে তার সঙ্গী শুধু ”ভেনাস গ্রহের অধিবাসী” নিনোই নয়, তার প্রতিবেশী হিসেবে আছে সবসময় মুখোশ পরে থাকা হোশি, কাকাতুয়া বিলি,  লাস্ট সামুরাই, ”সিস্টার”, আর এই সমাজের মোড়ল হিসেবে আছে রহস্যময় এক ”কাপ্পা”। কো এর জীবন কিভাবে বদলে যাচ্ছে? আর সে-ই বা কিভাবে বদলে দিচ্ছে আরাকাওয়ার অধিবাসীদের জীবন?

 

কেন দেখবেনঃ চমত্কার স্লাইস অব লাইফ আনিমে, সেই সাথে এটা সেরা হিউমারাস আনিমেগুলোর একটা। তেমন দুর্দান্ত কোনো প্লট নেই, কিন্তু  রীতিমত অদ্ভুত সেটিং, আর পিকুলিয়ার ক্যারেক্টারাইজেশন চেখে দেখার জন্য হলেও এই আনিমেটা দেখতে হবে।

 

কেন দেখবেন না: যদিও এটা খুব ভালো কমেডি আনিমে, কিন্তু সেই গ্যাগ এলিমেন্টগুলোতে ভাড়ামি  নেই, কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা নেই, কাজেই স্রেফ প্রানখুলে হাসার মত আনিমে, এটা ভেবে দেখতে বসবেন না। ক্যারেক্টারগুলোর সাথে একাত্ত হয়ে গেলেই এখানের মজাগুলো পুরোপুরি বোঝা যাবে।

 

 

ম্যাল রেটিং ৭.৮০+৭.৯৪

আমার রেটিং ৯+৯

 

 

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

লায়ার গেম(Liar Game)

 

কানজাকি নাও প্রচন্ড রকম সৎ একটা মেয়ে। এতই সৎ যে তাকে বর্তমান সমাজের মূল্যবোধের যে অবস্থা তাতে প্রশংসা না করে বোকাই বলা যায়। তো এমন সৎ ভালোমানুষ এক মেয়েকে যদি লায়ার গেইম নামের এমন একটা খেলায় অংশ নিতে হয়, যে খেলার মূল কথায় হচ্ছে অন্য প্রতিযোগীদের ধোঁকা দেয়া, তাহলে কেমন হবে? যা হবার, তাই হলো।  নাও প্রথম রাউন্ডেই তার প্রাথমিক পুঁজি একশ মিলিয়ন ইয়েন হারালো। পেনাল্টি হিসেবে দুইশ মিলিয়ন ইয়েনের খাঁড়া যখন ঝুলছে তার উপর, সেই অবস্থায় অসহায় নাও খোঁজ পেল এক জিনিয়াস প্রতারকের, নাম তার আকিয়ামা শিনিচি। এই দুই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষ যখন জুটি বাঁধলো, তার পরিনতি কি হবে? তারা কি পারবে লোভ আর প্রতারণা যার পরতে পরতে মেশানো, সেই লায়ার গেমের ভয়াবহ জগতকে জয় করতে?

 

কেন পড়বেনঃঅসাধারণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, যারা ওয়ান আউটস বা আকাগি এর মত ওয়ান ম্যান শো গুলো উপভোগ করেছেন, তাদের জন্য মাস্ট রিড।

 

কেন পড়বেন নাঃতেমন কোনো কারণ নেই।

 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৪

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।

এফ এ সি ১৩ by Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

হানাকো-সান

hanako

জাপানের স্কুলে থার্ড ফ্লোরে মেয়েদের টয়লেটের থার্ড স্টলে যদি তিন বার নক করে বলেন, ”হানাকো-সান, তুমি কি ওখানে আছ?” জবাব পাওয়া যাবে, ”হ্যা।” স্টলে ঢুকলে আপনি দেখতে পাবেন লাল স্কার্ট পরা এক ছোটো মেয়েকে, যে কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মারা গেছে।

জাপানের সবচেয়ে সেলিব্রেটেড ভূতগুলোর মধ্যে একটা হলো হানাকো সান। একে নিয়ে মাঙ্গা হয়েছে, আনিমে হয়েছে, মুভিও হয়েছে। ফ্র্যান্কলি, সবচেয়ে পিকুলিয়ার ভূতের গুজব আছে সম্ভবত মালয়েশিয়াতে, এরপরে জাপানে। জাপানের ভুত্গুলোকে নিয়ে আরো জানতে চলে যান এই লিঙ্কে।http://www.cracked.com/funny-7186-8-scary-japanese-urban-legends/

 

 

 

আনিমে সাজেশন

শিনসেকাই ইওরী(Shinsekai Yori)

shinsekai yori

বর্তমান সময়  থেকে এক মিলেনিয়াম পরে জাপানে এক সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থায় শাসক শ্রেণী হলো কান্তাস(এক ধরনের সাইকিক পাওয়ার) ব্যবহার করতে পারদর্শী মানুষ, আর শাসিত শ্রেণী হচ্ছে বাকেনেজুমি(ইঁদুরমুখো দু-পেয়ে এক প্রজাতি )। কাহিনীর নায়িকা সাকি তার কান্তাসকে আরো ভালোভাবে ব্যবহার করতে শেখার জন্য ট্রেনিং স্কুলে গেল তার বন্ধুদের সাথে। এই অবস্থায় তারা এক যন্ত্রের কাছ থেকে আবিষ্কার করলো, তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে ১০০০ বছরের রহস্যময় ইতিহাস, যা প্রকাশ পেলে পাল্টে ফেলতে পারে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই। সাকির দুই বন্ধু নৃশংসভাবে খুন হলো, আরেক বন্ধু রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেল। কি করবে এখন সাকি?

কেন দেখবেনঃ সাইকোলজিক্যাল-হরর ঘরানার এই আনিমের সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট হলো এর প্লট, এটা বলে দেয়া যায়, এরকম ইউনিক প্লট খুব কম পাবেন। অসাধারণ সাউন্ডট্র্যাক সঠিক সব জায়গায়, সেই সাথে ভয়াবহ শকিং লাস্ট এপিসোড, এক কথায় ২০১৩ এর টপ ১০ এ থাকার মত এই আনিমে। এর প্রশংসা একটু বেশিই করছি, কারণ আনিমেটা বাংলাদেশে রীতিমত আন্ডার এপ্রিশিয়েটেড।

কেন দেখবেন না: বিল্ডিং আপ একটু স্লো, আর খানিকটা ইয়াওই এবং ইউরি এলিমেন্ট আছে, তবে সবই কাহিনীর প্রয়োজনে, এবং কখনোই মাত্রাতিরিক্ত নয়।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৬

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

নব্লেস(Noblesse)

노블레스2-1표지.indd

হান শিনউর হঠাত দেখা হয়ে গেল বোকাসোকা রাইয়ের সাথে। তার স্কুলের হেডমাস্টার ফ্র্যান্কেনস্টাইনের কথামত রাইকে সে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করলো, চমত্কার বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো তাদের মধ্যে। কিন্তু শিনউ কি জানত, রাই আসলে ৮২০ বছরের দীর্ঘ নিদ্রাভঙ্গ করে কফিন থেকে উঠে আসা এক ভয়াবহ অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাশালী নোবেল, কাদিস এত্রামা ডি রাইজেল? আর সে হচ্ছে সব নোবেলদের রক্ষক, সবচেয়ে শক্তিশালী নোবেল, ”নব্লেস”?

 

কেন পড়বেনঃদারুন কাহিনী, কোথাও ঠেকে যাবার জো নেই, চমত্কার সব ফাইটিং সিন, প্রয়োজনে জায়গামত কোয়ালিটি গ্যাগ এলিমেন্ট আছে। ওয়েবটুন্, তাই পুরোটাই রঙিন, আনিমে দেখার স্বাদ মাঙ্গা পড়ে পাওয়া যায়। এছাড়া টিপিক্যাল সৌনেন মাঙ্গাতে যেমন নায়ককে যথেষ্ঠ স্ট্রাগল আর ট্রেনিং করে শক্তিশালী হতে হয়, এখানে নায়ক অলরেডি সবচেয়ে শক্তিশালী, কাজেই অন্য রকম একটা টেস্ট পাওয়া যাবে।

 

কেন পড়বেন নাঃনা পড়ার কোনো কারণ নেই। 

 

ম্যাল রেটিং ৮.৬৯

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।

এফ এ সি ১২ By Farsim Ahmed


রান্ডম টপিক

আইডল

http://www.youtube.com/watch?v=6SwiSpudKWI

জাপানে টিন এজে মেয়েরা যদি আকর্ষনীয় চেহারা ও গড়নের অধিকারী হয়, সেই সাথে কিছু অভিনয় বা গানের প্রতিভা থাকে, তাহলে ট্যালেন্ট এজেন্সি দ্বারা তারা রিক্রুটেড হয়ে যায়। এদেরকে বলা হয় আইডল। খুব পপুলার কিছু আইডল গ্রুপের মধ্যে আছে একেবি০৪৮, মোমোইরো ক্লোভার জি, মর্নিং মুসুমে, পারফিউম ইত্যাদি। আইডল বলতেই বোঝানো হয় ভীষণ কিউট, চার্মিং, শুদ্ধতা ও শুভ্রতার প্রতীক। সেজন্য যারা একটু বিদ্রোহী টাইপ ভাবমূর্তি গড়তে চায়, তাদেরকে আইডল বলা হয় না, যেমন, স্ক্যান্ডাল। আইডল গ্রুপগুলোকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য বেশ বড়সড় ফ্যানবেইস থাকে, যারা একটা বড় অংশ বেকার ওতাকু। আইডলদেরকে নিয়ে প্রচুর আনিমে তৈরী হয়েছে, যেমন লাভ লাইভ স্কুল আইডল প্রজেক্ট, দ্য আইডলমাস্টার ইত্যাদি।আমি এসেনেসডি, ওয়ান্ডার গার্লস, ব্রাউন আইড গার্লস, এদেরকে দেখলেই আফসোস করতে থাকি, আহারে, আমার চেহারাটা আরেকটু সুন্দর কেন হলো না আর আমি কেন কোরিয়ান কোনো বান্ধবী পেলাম না। তারা আসলেই খুবই সুন্দরী, আর ফিগারও সুপার মডেলদের মত।

আইডলরা সাধারণত পড়াশোনায় খুব একটা সুবিধায় হয় না,  হ্যা, তারা হাই স্কুল শেষ করার পরেই জবে ঢুকে যেতে পারে। তারা সেভাবেই কোয়ালিফাইড। আর কারো হায়ার স্টাডিস এর ইচ্ছা থাকলে ভার্সিটিতে যায়। এন্ট্রান্স এগ্জাম বেশ কঠিন, অনেকে দুইতিনবার চেষ্টা করেও টোকিও ভার্সিটিতে চান্স পায় না।

 

 

আনিমে সাজেশন

মিচিকো তো হাচ্চিন

 

জেল থেকে পালানো ফেরারী আসামী মিচিকো পালক পরিবারের নির্যাতন থেকে উদ্ধার করলো হানাকে। হানার শরীরের উল্কি দেখে চমকে উঠলো মিচিকো, তার গায়েও যে আছে এই একই নকশার উল্কি। এই দুইএর অদ্ভুত জুটি নেমে পড়ল অভিযানে। এই অভিযান হানার বাবাকে খুঁজে পাবার জন্য, যে কিনা ছিল মিচিকোর এক সময়ের প্রেমিক। তারপর?

 কেন দেখবেনঃ মিউজিকে শিনিচিরো ওয়াতানাবে, ওপেনিং দেখলেই বুঝে যাবেন, আর সেই সাথে সামুরাই চাম্পলু ভাইব। আর কি লাগে।

http://www.youtube.com/watch?v=FQf-NkWz7Yo

কেন দেখবেন না:তেমন কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

ম্যাল রেটিং ৭.৯০

আমার রেটিং ৮

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 এপোক্যালিপ্স নো তোরিদে

 ইওশিয়াকি মায়দাকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে জেলে পাঠানো হলো। ওর ইনমেটরা সব ভয়ঙ্কর খুনী। মায়্দার সৌভাগ্য এখানেই থেমে থাকলো না, জেলে হামলা করলো জোম্বিরা। বাহ, বেশ বেশ।

 কেন পড়বেনঃ আপনি কি হাইস্কুল অব দ্য ডেড এর ফ্যান সার্ভিস এবং হায়াটাসে বিরক্তা? দ্য ওয়াকিং ডেড এর মত একটা প্রপার জোম্বি স্টোরি খুঁজছেনা? তাহলে এই মান্গাটা আপনার জন্য। আর আঁকাটাও দারুন।কেন পড়বেন নাঃ এটা অন্গয়িং মাঙ্গা, অনেকদিন পরপর আপডেট হয়।

 

ম্যাল রেটিং ৮

আমার রেটিং নেই, যেহেতু কমপ্লিট হয়নি।

এফ এ সি ১১ By Farsim Ahmed

 

 

আনিমে সাজেশন

 সায়ুনকোকু মনোগাতারি(Saiunkoku Monogatari/Colourcloud Palace)

 

 

সায়ুনকোকুর অকর্মা রাজাকে রাজকার্যে ট্রেনিং দেয়ার জন্য রাজার কনকুবাইন হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো অভিজাত কৌ পরিবারের মেয়ে শুরেকে। কাজে যোগ দিয়েই শুরে বুঝলো, রাজকার্য পরিচালনা করা মানে স্রেফ সিংহাসনে পায়ের উপর পা তুলে বসে আদেশ করা না। ক্ষমতার মোহে অন্ধ ভয়াবহ ষড়যন্ত্রীরা যখন রাজনীতির মারপ্যাঁচ কষে বসল, পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়ালো ভয়াবহ।শুরে কিভাবে সাহায্য করবে রাজা রিউকিকে?

 

কেন দেখবেনঃ রীতিমত ডিফরেন্ট টাইপ এর কাহিনী, চমত্কার বাঁধুনি, বোর্ড হবার সম্ভাবনা খুব কম। সেই সাথে আছে এর দারুন সাউন্ডট্র্যাক, আর ওপেনিং থিম এর সিকোয়েন্সগুলোও ভারী সুন্দর।

 

কেন দেখবেন না: সেকেন্ড সিজনে এসে কোয়ালিটি ড্রপ করে, ফার্স্ট সিজনের একটা বিশেষ ক্যারেক্টারকে আমি প্রচন্ড মিস করেছি। তার প্রেসেন্স খুব স্ট্রং ছিল, সেকেন্ড সিজনে সেই ভাইবটা আর পাইনি।

 

ম্যাল রেটিং ৮.১২+৮.২৮

আমার রেটিং ৯+৮

http://www.youtube.com/watch?v=CBpaT5koCYM

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

করোশিয়া ইচি(Koroshiya Ichi/Ichi the Killer)

 

 

প্রথম দর্শনে ইচিকে মনে হয় ভারী গোবেচারা। কিন্তু মানসিক অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন ঘটলে সে হয়ে যায় ভয়াবহ এক মার্শাল আর্টিস্ট, বুটের নিচে লাগানো ব্লেড দিয়ে যে ফালাফালা করে ফেলে তার শত্রুদের চোখের নিমেষে। এই সাইকোটিক ম্যানিয়াক তার জুটির দেখা পেল, যখন তার কাছে এসে হাজির হলো ইয়াকুজা বস কাকিহারা, যে অন্যকে এবং নিজেকে শারীরিক নির্যাতন করে পায় বিকৃত সুখ। কে জিতবে তাদের লড়াইয়ে? সহজ জবাব, যে বেশি বিকৃত মানসিকতার, সে।

 

কেন পড়বেনঃ পারফেক্ট সেইনেন, জমাট কাহিনী, প্রথম চ্যাপ্টার থেকেই চমক শুরু।

কেন পড়বেন নাঃ প্রচুর গ্রাফিক ভায়োলেন্স, ব্লাডবাথ, এবং সেকচুয়াল কন্টেন্ট।

 

ম্যাল রেটিং ৮.০৩

আমার রেটিং ৮

 

 

 

 

 

 

এফ এ সি ১০ By Farsim Ahmed

রান্ডম টপিক

 তোকুসাত্সু

 

 

জাপানে স্পেশাল ইফেক্ট ব্যবহার করে বানানো কাইজু মুভি (যারা প্যাসিফিক রিম দেখেছেন তাদের কাইজু সম্পর্কে আইডিয়া হয়ে যাবার কথা) বা সুপারহিরো শো(আল্ট্রাম্যান, কামেন রাইডার) ভীষণ রকম জনপ্রিয়। এই সুপারহিরো শোগুলোর লাইভ ভার্সন আনিমেতে প্রায়ই দেখা যায়।লাইভ অ্যাকশন হিরো শো গুলোর ফর্মুলা মোটামুটি একই, দর্শকসারি থেকে কয়েকটা বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়া হয়, কয়েকজন অভিনেতা ভিলেনের কস্টিউম পরে আসে, সুন্দরী উপস্থাপিকা দর্শকদের আহ্বান জানায় হিরোকে ডাকার জন্য, এবং সাথেসাথেই হিরো হাজির হয়ে গিয়ে দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করে।হিরো শো জাপানি সংস্কৃতির সাথে এমনই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

১৯৭০ সালের একটা ক্লিপ পাওয়া যাবে এই লিঙ্কে গেলে। কামেন রাইডার এর জাম্পগুলো দারুন।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

 ডেট্রয়েট মেটাল সিটি(Detroit Metal City)

 

 

নেগিশি সোইচি – লাজুক, বিনয়ী, ভদ্র এক তরুণ, যে ভালবাসে রোমান্টিক সব গান, দু চোখ ভরা স্বপ্ন তার, সে হবে বড় মিউজিশিয়ান।

দ্বিতীয় জোহান্নেস ক্রোসার- নরক থেকে উঠে আসা ভয়াবহ সন্ত্রাসী, বিখ্যাত(এবং কুখ্যাত) মেটাল ব্যান্ড ডেট্রয়েট মেটাল সিটির গিটারিস্ট এবং ভোকালিস্ট।

কেমন হবে, যদি এই দুজন আসলে হয় একই ব্যক্তি?

 

 

কেন দেখবেনঃ অবশ্যই দেখবেন।

কেন দেখবেন না: অবশ্যই দেখবেন।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৩৭

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

 চায়না গার্ল(China Girl)

 

 

কামিজো হলো মিস্টার পারফেক্ট, অফিসের সব কাজ সে করছে নিপুণভাবে, মেয়েরা সবাই তার জন্য পাগল। কিন্তু কামিজো তার মন দিয়েছে একজনকেই, হঠাৎ একদিন রেস্টুরেন্টে দেখা ওয়েট্রেস জিয়াংলানকে। কিন্তু তাহলে কি হবে, জিয়াংলান কামিজোর সাথে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়তে মতেই আগ্রহী না। কামিজো কি পারবে জিয়াংলানকে আপন করে পেতে? নাকি তার সব চেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে?

 

 

কেন পড়বেনঃ চমত্কার গল্প, আকর্ষনীয় উপস্থাপনা, আঁকাও বেশ ভালো। রোমান্টিক গল্পের ফ্যানদের ভালো লাগার কথা।

কেন পড়বেন নাঃ পুরোই রোমান্টিক ধাঁচের কাহিনী, ঠান্ডা মেজাজের, কাজেই যারা উত্তেজনা পছন্দ করেন মান্গাটা তাদের জন্য না।

 

ম্যাল রেটিং ৭.০৭

আমার রেটিং ৮

 

এফ এ সি ৯ By Farsim Ahmed

 

রান্ডম টপিক

ইয়ামাতো নাদেশিকো

 

 

কয়েকদিন আগে দ্য ওলভারিন মুভিটা দেখতে গিয়ে কিমোনো পরা তাও ওকামতোকে দেখে যে কথাটা মাথায় আসল, সেটা হচ্ছে ইয়ামাতো নাদেশিকো। এই টার্মটা মূলত ব্যবহার করা হয় সেসব জাপানি মহিলাকে বর্ণনা করতে, যারা হচ্ছে নারীত্বের শিখরে, অর্থাৎ অসাধারণ সুন্দরী, সব ধরনের আদব-কায়দা জানা, রুচিশীল, সংসার সামলাতে পটু, সেই সাথে ঘরের বাইরের কাজেও সিদ্ধহস্ত, অর্থাৎ, এরা হলো পারফেক্ট ওয়াইফু ম্যাটেরিয়াল।তবে এখনকার সময়ে এমন পারফেক্ট নারী রেয়ার, তাই জাপানেও এই টার্মটা তার প্রচলিত অর্থ হারিয়েছে। নাদেশিকো এখন জাপানি মহিলা ফুটবল টিমকে ডেসক্রাইব করতে ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশে এরা আছে কিনা, সেই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। এই গ্রুপে কেউ থাকলে প্লিজ এই পোস্টে একটা কমেন্ট করে যাবেন।

 

 

 

আনিমে সাজেশন

আরিয়া (Aria)

 

 

মিজুনাশি আকারি উন্ডিনে হিসেবে কাজ করে মঙ্গল গ্রহের নিও ভেনেজিয়া শহরের এক টুরিস্ট গাইড কোম্পানি আরিয়াতে। নিও-ভেনেজিয়া হচ্ছে পৃথিবীর ভেনিস নগরের রেপ্লিকা। নিও ভেনেজিয়ার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে বহু পর্যটক, তাদের জন্য ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করে এই উন্ডিনেরা, গনদোলায় চড়িয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে আসে পর্যটকদের। আরিয়া আনিমের গল্প এই আকারিকে ঘিরে, আকারির মেন্টর, তার বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, নিও ভেনেজিয়ার অধিবাসীদের সাথে আকারির ইন্টারঅ্যাকশন, এই হলো আরিয়ার মূল কাহিনী।

 

কেন দেখবেনঃ আরিয়া নিঃসন্দেহে পিউরেস্ট স্লাইস অব লাইফ আনিমেগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা, সেই সাথে এটা কামিং অব এইজ জনরাকেও কভার করে চমত্কারভাবে। চরিত্রগুলো এত আকর্ষনীয়, এদের সবাইকেই খুব আপন মনে হয়। ৩ সিজন দেখার ক্রম: অ্যানিমেশন, ন্যাচারাল, অরিজিনেশন।

 

কেন দেখবেন না:কোনো ধরনের উত্তেজনা নেই, স্লো পেসে কাহিনী এগিয়েছে, যেটা আনিমেটার জন্য জরুরী, কিন্তু শুধু অ্যাকশন আনিমে ফ্যান যারা তাদের সহ্য করার মত নয়।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৯০+৮.৩৯+৮.৭৩

আমার রেটিং ৮+৮+৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

চিকান ওতোকো (Chikan Otoko/Molester Man)

 

 

মলেস্টার ম্যান মহা সমস্যায় পড়ে গেল, যখন মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং তাকে স্টকার ভেবে ভুল বুঝলো। এরপর?টুচ্যানারে পোস্ট হওয়া এক সত্যি কাহিনী নিয়ে এই দৌজিন।

 

কেন পড়বেনঃবেশ ভালো কাহিনী, জায়গামত চমত্কার গ্যাগ এলিমেন্ট আছে, ফিনিশিংটাও ভালো।

 

কেন পড়বেন নাঃআর্ট খুব একটা সুবিধার না।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৮৯

আমার রেটিং ৮

এফ এ সি ৮ by Farsim Ahmed

Farsim Ahmed's photo.

 

 

রান্ডম টপিক

 ইয়ায়বা(Yaeba)

 

 

অন্য দেশের মহিলারা যেখানে দাঁত সামান্য আঁকাবাঁকা হলেই ব্রেইস নিয়ে টানাটানি শুরু করে, এবং এই ফ্যাক্টটা যতটা সম্ভব লুকিয়ে রাখার  চেষ্টা করে,সেখানে কিছু জাপানি মহিলা কৃত্তিমভাবে তাদের দাঁত বাঁকিয়ে নেয়। কারণ তারা মনে করে এতে তাদেরকে ”কাওয়াই” মনে হয়। তারা আরেকটা কাজ করে, কৃত্তিম শ্বদন্ত স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে লাগিয়ে নেয়। এই ফ্যাশন ট্রেন্ডটা ইদানিং খুব জনপ্রিয়। আনিমেতেও এমন কিছু ফিমেইল ক্যারেক্টার আছে যাদের শ্বদন্ত স্পষ্ট, এদেরকে বলা হয় ফ্যাং-তান,যেমন কৌসাকা কিরিনো বা ইন্ডেক্স। এখন যদি বলেন ২ ডি  ভালো নাকি ৩ ডি ভালো, সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার আপনার উপরে, প্রথম কমেন্টে দুটোরই ছবি দেয়া আছে।

 

 

আনিমে সাজেশন

শিকি(Shiki)

 

সতোবা ছিল চমকার একটা গ্রাম, ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়। কিন্তু এসবি পাল্টে গেল, যখন গ্রামে অদ্ভুত এক পরিবার পরিত্যক্ত ম্যানশনে থাকতে এলো।লোকজন হারিয়ে যেতে শুরু করলো খুব দ্রুত, পাওয়া যেতে লাগলো রক্তশুন্য লাশ।তদন্তে নামল নাত্সুনো ইউকি।

কেন দেখবেনঃ এখনকার মিডিয়ায় ভ্যাম্পায়ারদের মত ভালো মানুষ আর হয় না। তারা খুবই সামাজিক, ভীষণ আকর্ষনীয় চেহারা ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী, তারা মানুষের ক্ষতি একদমই করতে চায় না, টমেটো জুস খায় নাহলে আইরন ট্যাবলেট আর হিমোগ্লোবিন খায়, নাহলে ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত কিনে আনে। কেউ বা অল্প বয়সী মেয়েদেরকে স্টক করে, হীরার মত জ্বলতে থাকে। কেউ সানস্ক্রিন মেখে বাইরে বেরোতে পারে। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন ভ্যাম্পায়ার ছিল আতঙ্কের আরেক নাম। তাদেরকে মারা যেত শুধু বুকে গজাল ঢুকিয়ে দিয়ে। শিকি সেই ট্রাডিশনাল কনসেপ্টকে ফুটিয়ে তুলেছে অসাধারনভাবে। সেই সাথে আছে সময়োপযোগী মুগ্ধ করা সাউন্ডট্র্যাক, যেগুলো শুনলে আপনি অবশ্যই মিউজিকগুলো কালেকশনে রাখতে চাবেন।

কেন দেখবেন না:ইন্ডেফিনিট এন্ডিং, ভিজুয়াল একটু অন্যরকম, সবাইকে সুট নাও করতে পারে।

 

ম্যাল রেটিং ৮.১৯

আমার রেটিং ৯

 

 

মাঙ্গা সাজেশন

সরা ওয়া আকাই কাওয়া নো হতোরি(Sora wa Akai Kawa no Hotori/Red River)

 

 

ইউরি ছিল সাধারণ এক জাপানি মেয়ে। তার দৈনন্দিন জীবন বদলে গেল যখন আনাতোলিয়া, বা প্রাচীন তুরস্ক এর এক রাণী তাকে জাদুবলে টাইম ট্রাভেল করিয়ে নিয়ে আসল, উদ্দেশ্য, তার ছেলে বাদে সিংহাসনের সব উত্তরাধিকারকে জাদুবলে  খুন করা।ইউরি এই প্রক্রিয়ার বলি। ঘটনাচক্রে ইউরির দেখা হলো সুদর্শন রাজপুত্র কাইল এর সাথে। ক্ষমতার লড়াইয়ে আরো দানা বাঁধলো, যখন ইউরি মর্যাদা পেল যুদ্ধের দেবী, ইউরি ইস্টারের।

কেন পড়বেনঃচমত্কার কাহিনীর বুনোট, কোথাও ঝুলে যায়নি, আর ভীষণ আকর্ষনীয়। একবার শুরু করলে শেষ না করে উঠা মুশকিল। এন্ডিংও

দারুন সন্তোষজনক।

কেন পড়বেন নাঃ না পড়ার কোনো কারণ নেই।

 

ম্যাল রেটিং ৮.৪৭

আমার রেটিং ৯

এফ এ সি ৬ By Farsim Ahmed

 

রান্ডম টপিক

গানে গানে বিশ্বায়ন

 

 

আনিমের অরিজিন জাপানে, কিন্তু তারমানে এই না যে তারা যেসব গান আনিমেতে ইউজ করে তার সবই জাপানি। আনিমেতে ইংলিশ গান আছে(ইংরিশ নয়), যেমন তমোকো তানের ব্রোকেন উইংস, ল্যাটিন গান আছে, যেমন কুমিক নোমার লিলিয়াম, জার্মান গান আছে, যেমন মিকা কোবায়াশির বিয়ক। তবে আপনি কি জানতেন আনিমেতে একটা  পুরো ৩মিনিটের হিন্দি গানও আছে? চলে যান এই লিঙ্কে। http://www.youtube.com/watch?v=z9gFeeIanr8

 

আশা করা যায় অচিরেই বাংলা গানও আনিমেতে ব্যবহৃত হবে।

 

আনিমে সাজেশন

গিন্গা এইয়ু দেন্সেত্সু (Ginga Eiyuu Densetsu/Legend of the Glactic Heroes)

 

 

বছরের পর বছর ধরে গ্যালাক্টিক এম্পায়ার এর সাথে যুদ্ধ চলছে ফ্রি প্লানেট্স এলায়েন্সের।উভয় পক্ষেরই প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে গ্যালাক্টিক এম্পায়ার কিছুটা হলেও আপার হ্যান্ড পেয়েছে। এমনি অবস্থায় দৃশ্যপটে নতুন রং লাগলো, যখন উভয় পক্ষ পেল নতুন কমান্ডার, রাইনহার্ড ফন লোহেন্গ্রাম এবং ইয়াং ওয়েনলি। দুই অসাধারণ ধূর্ত নেতা বসলো দাবা বোর্ডের দুই পাশে, যেখানে দাবার বোর্ড হচ্ছে ইউনিভার্সাল স্কেলের, আর সৈন্য সামন্ত হচ্ছে মহাভারতের অক্ষৌহিনী স্কেলের। তাহলে শুরু হোক খেলা।

কেন দেখবেনঃএটা অনেকটা ডেথ নোটের মত, একজন চাল দিচ্ছে, আরেকজন কাউন্টার চাল দিচ্ছে সমান মাপের।

কেন দেখবেন না:একটু লম্বা আনিমে, ১১০ পর্বের, কিছু কিছু জায়গা বোরিং লাগতে পারে।

 

ম্যাল রেটিং ৯.০৯

আমার রেটিং ৯

 

মাঙ্গা সাজেশন

জোম্বি পাউডার (Zombie Powder)

 

 

মৃতকে বাঁচানোর অদ্ভুত এক উপাদান, জোম্বি পাউডার। এটা যে শুধু মৃতকেই বাঁচাতে পারে তা নয়, এটা জীবিত লোককে করে দিতে পারে অমর। এর সন্ধানে নামল জন এলউড, লক্ষ্য তার মৃত বোনকে বাঁচানো। পথে দেখা হয়ে গেল সোর্ড ফাইটিং এর বিশেষ স্টাইল এর মাস্টার আকুতাবি গামার সাথে, সঙ্গে যোগ দিল ওস্তাদ গানম্যান সিটি স্মিথ, যাদের উদ্দেশ্য এবং অতীত রহস্যাবৃত। তারা কি পারবে জোম্বি পাউডার এর উত্স, ১২টি মৃতের আংটি উদ্ধার করতে?

কেন পড়বেনঃএটা তিতে কুবোর প্রথম দিকের মাঙ্গা, প্রচুর ব্লিচ ভাইব, এবং ইনটেনস অ্যাকশন পাবেন।

কেন পড়বেন নাঃকাহিনী শেষ হয়নি, ওপেন এন্ডিং। বানিজ্যিকভাবে অসফল হওয়ায় মান্গাটা ক্যানসেল করা হয়েছিল।

 

ম্যাল রেটিং ৭.৪৪

আমার রেটিং ৭

 

এফ এ সি প্রচারিত হচ্ছে প্রতি সোমবার।

 

 

এফ এ সির অন্য পর্বগুলো পাওয়া যাবে এখানে-http://www.animeloversbd.com/tag/%E0%A6%8F%E0%A6%AB-%E0%A6%8F-%E0%A6%B8%E0%A6%BF/