Best Male Character (2014) – Archer [Fate/Stay Night: Unlimited Blade Works]

২০১৪ এর অন্যতম হাইপ সৃষ্টিকারী আনিমে ছিল ইউফোটেবলের ফেট/স্টে নাইটঃ আনলিমিটেড ব্লেডওয়ার্ক্স পার্ট ১। ২০০৬ সালে প্রচার সম্পন্ন হওয়া আনিমের রিমেক ছিল এটি আর এই আনিমের এবারের প্রধান আকর্ষণ ছিল আর্চার। প্রথম পর্ব থেকেই এবার আর্চার নিজের খেল দেখাতে থাকে। আর তার আইডিয়ার এবং আনিমের মূল চরিত্র শিরোর সাথে তার আচরণ শুধু রহস্যেরই অবতারণা করেছে। আর তার সাথে তার অস্ত্র Caladbolg তো ছিলই। তাতেই মাত্র ১২ পর্বের সীমিত স্ক্রিনটাইম সত্ত্বেও হাচিকেন ইউগোকে পিছে ফেলে সেই এবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেইল ক্যারেক্টার।ঐদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা হাচিকেন হয়তো এমন কোন ফ্ল্যাশি, ক্যারিজমাটিক, ড্যাশিং চরিত্র না। কিন্তু অসম্ভব প্রেরণার উৎস এই চরিত্রও গিন নো সাজি আনিমের দুই সিজনে জয় করে নিয়েছে অনেকের মন।

16-best-male-char

 

Best Slice of Life Anime (2014) – Barakamon

শহুরে ইটকাঠের মধ্যে ক্যালিগ্রাফার হান্দার মন বিষিয়ে উঠলো যখন, প্রকৃতির কাছে সে খুঁজে নিল আশ্রয়। গ্রামের সহজ সরল শিশু, আর দিলখোলা মানুষের সাথে অসামাজিক, রূঢ় হান্দার মিথস্ক্রিয়া, ব্যস, সহজ সরল প্লট বারাকামনের। বলতেই হবে, চমত্কার ভয়েস এক্টিং এর সাথে জীবনের ছবি যেন ক্যালিগ্রাফির তুলি দিয়েই আঁকা হয়েছে, তবে তা রঙিন, জীবন্ত। ইনস্ট্যান্ট হিট বারাকামন যদিও বহুল প্রচলিত ফর্মুলা ব্যবহার করেছে বেশিরভাগ গ্যাগ এলিমেন্টের ক্ষেত্রে, কিন্তু শেষমেষ অসমবয়সী দুজনের এই জুটি সম্ভবত আরো বছরখানেক ফ্যানদের মনে থাকবেই।

অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গিন নো সাজি সিজন টু ছিল একাধিকহতাশাজনক মাঙ্গা এডাপ্টেশনের বছরে একটি চমৎকার মাঙ্গা থেকে বানানো ততোধিক চমৎকার একটিআনিমে। কৃষিভিত্তিক স্কুল ইউজো হাই-এ হাচিকেন ইউগো ও তার সঙ্গী-সাথীদের গল্প নিয়েদুই সিজনের এই আনিমে সম্ভবত চলে যাবে ক্লাসিক স্লাইস অফ লাইফ আনিমের লিস্টে।

2-best-slice-of-life

 

গিন নো সাজি- রূপার চামচের গল্প; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

000

কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “অ্যানিমে কেন দেখ?” অনেক ধরণের উত্তরের মাঝে সবচেয়ে বেশি যে উত্তরটা পাওয়া যায়, তা হল, “অ্যানিমে / মাঙ্গা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।” এই উত্তরটা আমাকে সবসময় খুব অবাক করত, কারণ আমি অ্যানিমে / মাঙ্গাকে সবসময় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু অন্তত এই একটি অ্যানিমে আমার ধারণার ব্যতিক্রম ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই অ্যানিমেটা শেষ করার পর আমি মাঙ্গাটাও পড়ে ফেলি। তাই এই রিভিউটি গিন নো সাজির অ্যানিমে এবং মাঙ্গা দুটিই কভার করবে।

প্রথমে মাঙ্গা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেই-
Genres: Comedy, Drama, School, Shounen
Authors: Arakawa, Hiromu (Story & Art)
Status: Publishing
Score: 8.26
Ranked: 428

Gin-no-Saji-Ep-2-Img-0016-1024x576

হাচিকেন ইয়্যুগো একজন শহুরে কিশোর। বলতে গেলে তার সারাজীবন কেটেছে চার দেয়ালের মাঝে। বাসা, স্কুল এবং পড়াশোনা ছাড়া তার জীবনে আর কিছুই ছিল না। এই শহুরে ছেলেটা হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয়, সে কোন শহুরে হাইস্কুলে পড়বে না; বরং টোকিও থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত একটি অ্যাগ্রিকালচারাল স্কুলে পড়বে, এবং সেখানে ডর্মিটরিতে থাকবে।

স্কুলের প্রথম দিন থেকেই হাচিকেন একের পর এক উদ্ভট পরিস্থিতির সামনে পড়ে! তার সহপাঠীরা সবাই খামারের কাজে ওস্তাদ; তারা সবাই এই স্কুলে এসেছে, কারণ তারা কৃষিকাজে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের পরিবারকে ব্যাবসায় সাহায্য করতে চায়। সেখানে হাচিকেন জীবনে কোনদিন কাছ থেকে গবাদি পশুও চোখে দেখেনি; অন্যদের কাছে যা স্বাভাবিক ঘটনা, হাচিকেনের কাছে সেগুলোই একেকটা নতুন চ্যালেঞ্জ!

1

জীবনের টুকরা জনরার বিরূদ্ধে একটা সাধারণ অভিযোগ, এগুলো নাকি বোরিং। কিন্তু রূপার চামচের বিরূদ্ধে আমার অভিযোগ, এটা দেখতে বসলে খিদে পায়! আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে কাজগুলো শুধু করার জন্য করি, সেগুলো যে আনন্দ নিয়েও করা যায়, তা গিন নো সাজি থেকে শিখেছি। একজন শহুরে ছাত্রের অ্যাগ্রিকালচার স্কুলে পড়তে যাওয়া, সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে টিকে থাকার প্রচেষ্টা, বন্ধুত্ব এবং বাস্তব জীবনের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক কিছু কথা- সব মিলিয়ে এই গল্পটি রূপার চামচের মতই এক টুকরো সম্পদ। সামান্য ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনারও যে কতটা উপভোগ্য হতে পারে, আমরা যে পিজা দোকানে গিয়ে কিনে খাই, তা সবাই মিলে বানিয়ে খাওয়া কতটা মজার হতে পারে… একটা পশুকে নিজে হাতে যত্ন করে বড় করার পর তাকে খাদ্যে পরিণত হতে দেয়াটা একইসাথে কত কষ্টের এবং আনন্দের হতে পারে- জীবনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলোর গুরুত্ব এই গল্পটি আমাকে মনে করিয়েছে। সেইসাথে খামার বা কৃষিকাজ করে যারা জীবন যাপন করে, তাদের জীবনের সুখদুঃখটা খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন মাঙ্গাকা, আর তা পারবেনই বা না কেন! এর আগে তিনিই যে আমাদের উপহার দিয়েছিলেন ফুলমেটাল অ্যালকেমিস্টের মত অসাধারণ এক গল্প!

014

মাঙ্গাটি আরাকাওয়া সেনসেই এর কাজ, কাজেই আর্ট এবং গল্প বলার স্টাইলের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই, প্রতিটা পৃষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা হয়। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তিনি হালকা হাস্যরস তৈরি করেছেন, পড়ার সময় তা মনটাকে হালকা করে তোলে। সেইসাথে অ্যানিমেটিও কম যায়না, এর ঝকঝকে মন ভাল করা আর্ট এবং অসাধারণ ওএসটির কারণে।

একজন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মাঝে গল্প উপন্যাসকেও হার মানায়! সেই চ্যালেঞ্জ পার করতে “ও পারলে আমি পারব” ধরণের মানিসকতা কাজে দেয়না; বরং নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে সেখান থেকেই যা করা সম্ভব তা করতে হয়। নাকামা পাওয়ার নয়, এনিথিং ফর মাই নাকামা নয়, সাধ্যমত সাহায্য করা এবং না পারলে নিজের অক্ষমতা মেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। গিন নো সাজিতে এই বার্তাটি খুব সুন্দর একটা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

তাই, পারলে আজই পড়া শুরু করে দিন মাঙ্গাটি এবং আবিষ্কার করুন স্লাইস অফ লাইফ জনরার একটি অমূল্য রত্ন!

10847473_407429682754877_2032844622808354923_o

গিন নো সাজি ২ এর অ্যানিমে প্রিভিউ/ফাহিম বিন সেলিম

 

গিন নো সাজি ২
জনরাঃ স্লাইস অফ লাইফ, শৌনেন, কমেডি,
স্কুল
প্রযোজকঃ অ্যানিপ্লেক্স
ব্যাপ্তিঃ ২৪ মিনিট/পর্ব
পর্ব সংখ্যাঃ ১১
প্রচার শুরু: ১০ জানুয়ারী, ২০১৪

এফএমএ-খ্যাত হিরুমো আরাকাওয়া-সেনসের অসাধারন এই জীবনধর্মী অ্যানিমের দ্বিতীয়(এবং শেষ?) সিজন। ৩ মাস বিরতির পর আবার ফিরে আসছে ইয়ুগো হাচিকেন আর তার ইয়েজো এগ্রিকালচারাল স্কুলের বন্ধুরা। ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাব, পোর্ক বোল, কাকডাকা ভোরের প্রাক্টিকাম, জাপানের কান্ট্রি-জীবন…হাচিকেন, মিকাগে-সান  আর অনেক, অনেক লাইফ লেসন। 

প্রত্যাশা: ৯+ 
টায়ার: পোটেনশিয়াল বেস্ট স্লাইস অফ লাইফ অফ দ্যা সিজন( ইয়ার টু মেবি?), সিকুয়াল